৬৫/১/১. অধ্যায়ঃ
সূরাতুল ফাতিহা (ফাতিহাতুল কিতাব) প্রসঙ্গে
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৭৪
হাদিস নং ৪৪৭৪
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ قَالَ حَدَّثَنِيْ خُبَيْبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُعَلَّى قَالَ كُنْتُ أُصَلِّيْ فِي الْمَسْجِدِ فَدَعَانِيْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ أُجِبْهُ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّيْ كُنْتُ أُصَلِّيْ فَقَالَ أَلَمْ يَقُلْ اللهُ {اسْتَجِيْبُوْا لِلهِ وَلِلرَّسُوْلِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيْكُمْ} ثُمَّ قَالَ لِيْ لَأُعَلِّمَنَّكَ سُوْرَةً هِيَ أَعْظَمُ السُّوَرِ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ تَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِيْ فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ قُلْتُ لَهُ أَلَمْ تَقُلْ لَأُعَلِّمَنَّكَ سُوْرَةً هِيَ أَعْظَمُ سُوْرَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَالَ {الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ}هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِيْ وَالْقُرْآنُ الْعَظِيْمُ الَّذِيْ أُوْتِيْتُهُ
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ ইবনু মু‘আল্লা (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি একদা মাসজিদে নাববীতে সলাত আদায় করছিলাম, এমন সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ডাকেন। কিন্তু ডাকে আমি সাড়া দেইনি। পরে আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আমি সলাত আদায় করছিলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ কি বলেননি যে, ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা সাড়া দেবে আল্লাহ্ ও রসূলের ডাকে, যখন তিনি তোমাদেরকে ডাক দেন (সূরাহ আনফাল ৮/২৪)। তারপর তিনি আমাকে বললেন, তুমি মাসজিদ থেকে বের হওয়ার আগেই তোমাকে আমি কুরআনের এক অতি মহান সূরাহ্ শিক্ষা দিব। তারপর তিনি আমার হাত ধরেন। এরপর যখন তিনি মাসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করেন তখন আমি তাঁকে বললাম, আপনি কি বলেননি যে আমাকে কুরআনের অতি মহান সূরাহ্ শিক্ষা দিবেন? তিনি বললেন, الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য যিনি বিশ্ব জগতের প্রতিপালক, এটা বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন যা কেবল আমাকেই দেয়া হয়েছে। [৪৬৪৭, ৪৭০৩, ৫০০৬] (আ.প্র. ৪১১৬, ই.ফা. ৪১১৯)
[১] সূরাতুল ফাতিহা জ্ঞান লাভের, হিদায়াত গ্রহণের জন্য প্রতিটি মানুষের নিজের পরিবারের, দেশ, জাতি তথা সারা বিশ্ববাসীর জন্য অতীব কল্যাণকর এক মহাসাগর। উক্ত কল্যাণের এই অথৈ পারাবার হতে স্বীয় আগ্রহে তাড়িত হয়ে এক সার্বিক পথ নির্দেশনা গ্রহণ করার অবারিত ও উন্মুক্ত সুযোগ মানব জাতির জন্য উজ্জ্বল ও ভাস্বর হয়ে আছে। যে কারণে উক্ত সূরাখানি মহাপবিত্র কুরআনের ভূমিকা হিসেবে কুরআনের শুরুতেই সন্নিবেশ করা হয়েছে। সুতরাং এর গভীর ও তাত্ত্বিক আলোচনা করতে গিয়ে তাফসীরকারগণ বলেছেনঃ মানবজাতির হিদায়াতের জন্য কেবল এই একটি মাত্র সূরাই যথেষ্ট, যদি সে নিরপেক্ষ অনাবিল মন মানসিকতা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে। সুতরাং ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আববাস (রাঃ) সহ অন্যান্য সহাবায়ি কিরাম (y) আলোচ্য সূরাটিকে আল্লাহ তা‘আলার শ্রেষ্ঠ দান ও অপূর্ব নি‘মাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সূরা ফাতিহা দু’বার নাযিলকৃত সূরা বটে। প্রথমবার মাক্কাহ্য় ওয়াহী নাযিলের প্রাথমিক অবস্থায় এবং দ্বিতীয়বার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদিনায় হিজরাতের পরবর্তী সময়ে নাযিল হয়। যথা সহীহ হাদীসভিত্তিক তাফসীরের গ্রন্থসমূহে সনদ সহকারে উপরোক্ত বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায়। যেমন তাফসীরে ‘ফাতহুল ক্বাদীর’ ১ম খন্ড, ১৩-১৪ পৃষ্ঠায় আছেঃ وكان ذلك قبل الهجرة واخرج ابو بكر بن الانباري في المصاحف عن عبادة قال : فاتحة الكتاب نزلت المكة فهذا جملة ما استدل به من قال انها نزلت بمكة : واستدل من قال انها نزلت بالمدينة بما اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف وأبو سعيد ابن الْأعرابي في معجمه والطبراني في الْأوسط من طرق مجاهد عن أبي هريرة رن ابليس حين انزلت فاتحة الكتاب وانزلت بالمدينت واخرج ابن أبي شيبت في المصنف وعبد بن حميد وابن المنذر وأبو نعيم في الحليت وغيرهم من طرق عن مجاهد قال : نزلت فاتحت الكتاب بالمدينت وقيل إنها نزلت مرتين مرت بمكت ومرت بالمدينت جمعًا بين هذه الروايات প্রকাশ থাকে যে, ইমাম ইবনু কাসীর তাঁর বিখ্যাত তাফসীর ইবনু কাসীর ১ম খন্ড, ৮ম পৃষ্ঠায়ও সূরা ফাতিহা দু’বার নাযিল হওয়ার কথা সমর্থন করে ভিন্ন আসমাউর রিজাল সম্বলিত এক শক্তিশালী তথ্য উপস্থাপন করেছেনঃ وهي مكية : قال ابن عباس (رض) وقتادة وأبو العالية وقيل مدنية قاله أبو هريرة (رض) ومجاهد وعطاء بن يسار والزهري ويقال نزلت مرتين : مرة بمكة ومرة بالمدينة والأول اشبه لقوله تعالى : وَلَقَدْ آتَيْنَكَ سَبْعًا مِنَ الْمَثَانِيْ والله تعالى اعلم منهاউল্লেখ্য, সূরায়ে ফাতিহা দু’ দু’বার নাযিল হওয়ার কারণে সূরাখানির গুরুত্ব, মহত্ব, আবশ্যকতা ও প্রয়োজনীয়তা অন্যান্য সূরা হতে এক স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করেছে, যা খুব সহজেই অনুমেয় বটে। এতদ্ব্যতীত উক্ত সূরার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে স্বয়ং নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ سورة ما انزل في التوراة ولا في الانجيل ولا في الفرقان مثلهاঅর্থাৎ এটা এমন একটি সূরা যা তাওরাত, ইঞ্জিল ও ফুরকানেও নাযিল করা হয়নি। অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কেই বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন উক্ত সূরাখানি প্রদান করা হয়েছে। (ফাতহুল ক্বাদীর ১ম খন্ড, ১৫ পৃষ্ঠা)এখানে একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় এই যে, উক্ত সূরাখানির স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্যের আর একটি দিক এই যে, আলোচ্য সূরাখানির গুরুত্ব মানব জীবনের সব দিকে এতই বেশী পরিব্যপ্ত যে, স্থান বিশেষ ব্যাখ্যায় সম্মানিত তাফসীরকারগণ আলোচ্য সূরাখানির প্রায় ৪২টি নাম দিয়েছেন। যে নামগুলো তাফসীর ইবনু কাসীর, ইবনু জারীর, রুহুল মায়ানী, তাফসীর কবীর, তাফসীর খাযিন, তাফসীরে ফাতহুল ক্বাদীর, তাফসীরে কুরতুবী সহ নির্ভরযোগ্য তাফসীরাতের কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে এতদ সমূদয় হতে মাত্র কয়েকটি নাম চয়ন করা হলো। যথাক্রমেঃ (১) سورة مفتاح القرآنকুরআনের কুঞ্জিকা, (২) سورة أم القرآن কুরআনের মা বা আসল, (৩) سورة الدعاء দু‘আর সূরা, (৪) سورة الشفاءরোগ মুক্তির সূরা, (৫) سورة الحمد প্রশংসার সূরা, (৬) أساس القرآن কুরআনের ভিত্তি, (৭) سورة الرحمة রাহমাতের সূরা, (৮) سورة البركة বারকাতের সূরা, (৯) سورة النعمة নি‘আমাতের সূরা, (১০) سورة العبادة ‘ইবাদাতের সূরা, (১১) سورة الهداية হিদায়াত প্রাপ্তির সূরা, (১২) سورة الإسةقامة দৃঢ়তার সূরা, (১৩) سورة الإسةعانة সাহায্য প্রার্থনার সূরা, (১৪) سورة الكافية অত্যধিক ও বিপুলতা দানকারী সূরা, (১৫) سورة الوافية পূর্ণত্ব প্রাপ্ত সূরা, (১৬) سورة الكنـز খণির সূরা (জ্ঞানের খনি, রাহমাত, বারাকাত, নি‘আমাত ও যাবতীয় সাফল্যের খণি বলে এ সূরাকে আখ্যায়িত করা হয়েছে), (১৭) سورة الشكر শুকর করার সূরা বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সূরা (১৮) سورة الصبر সবরের উৎসাহ দানকারী সূরা, (১৯) سورة التكرار বার বার পঠিতব্য সূরা, (২০) سورة التعلق مع الله আল্লাহর সাথে বান্দার গভীর সম্পর্ক স্থাপনের সূরা, (২১) سورة الصراط المستقيم সরল সঠিক পথ লাভের সূরা, (২২) سورة الربوبية প্রভুত্ব সনাক্ত করণের সূরা, (২৩) سورة الوحدانية আল্লাহ তা‘আলার একত্ববাদের প্রতি স্বীকৃতি প্রকাশের সূরা, (২৪) سورة الاجةناب الغضب والضلالة আল্লাহর গযব ও গোমরাহী হতে আত্মরক্ষা করার সূরা, (২৫) سورة الصلاة সলাতে একান্তই পঠিতব্য সূরা। উল্লেখ্য, সর্বশেষ নামকরণ সলাত আদায়ে একান্তই পঠিতব্য সূরা নামকরণ থেকেও মনে হয়, উক্ত সূরা পাঠ ব্যতীত সলাত পূর্ণ হয় না। ইমাম মুক্তাদী সকলের জন্যই উক্ত সূরা পাঠ করা ওয়াজিব বটে। এ বিষয়ে চার মাযহাবের নিকট গ্রহণযোগ্য তাফসীরের কিতাব ইবনু কাসীর ১ম খন্ড ১১ পৃষ্ঠার যা বিবৃত হয়েছে তা সত্যিই প্রণিধানযোগ্য। هل ةجب قرأة الفاةحة على المأموم ؟ فيه ثلاثة أقوال للعلماء أحدها أنه ةجب عليه قرأةها كما ةجب على امامه لعموم الْأحاديث المةقدمة- প্রকাশ থাকে যে, উলামায়ে কিরামদের ৩টি قول এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী (أرجح)সিদ্ধান্ত যা তা-ই প্রথম সিদ্ধান্ত বলে ইবনু কাসীর (রহ.) স্বীয় তাফসীরে উদ্ধৃত করেছেন। অতঃপর দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.)-এর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। যেমন বলা হয়েছে, والثاني لا تجب على المأموم قرأة بالكلية للفاتحة ولا غيرها ولا في صلاة الجهرية ولا في صلاة السرية لـما رواه الإمام أحمد بن حنبل (رح) في سنده عن جابر بن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال من كان له إمام فقرأة الإمام له قرأة ولكن في اسناده ضعيف ورواه مالك (رح) عن وهب ابن كسان عن جابر من كلامه وقد رواي هذا الحديث من طرق ولا يصح منها شيء عن النبي صلى الله عليه وسلم অর্থাৎ দ্বিতীয় এই যে, সূরায়ে ফাতিহার পাঠ মুক্তাদীর উপর ওয়াজিব হবে না বা অন্য কিছু পাঠ করাও ওয়াজিব হবে না, তা জাহরী (প্রকাশ্য) ক্বিরাআতেই হোক, বা গোপন (سري) ক্বিরাআতেই হোক, যা আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.) স্বীয় কিতাব মুসনাদে আহমাদে রিওয়ায়াতে করেছেন জাবির বিন আবদুল্লাহ হতে, আর তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের ইক্তিদায় আছে, ইমামের ক্বিরাআতই তার ক্বিরাআত বলে গণ্য হবে। এখানে ইমাম ইবনু কাসীর (রহ.) বলেছেন, উক্ত রিওয়ায়াতের সনদ যঈফ। ইমাম মালিক (রহ.) উক্ত হাদীস সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে উল্লেখ করেন যে, জাবির (রাঃ) উক্ত বাক্য দ্বারা নিজের মত পোষণ করেছেন, এ বাক্যটি রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী বা নির্দেশ এ কথা মোটেই সহীহ নয়। والثالث أنه ةجب القرأة على الـماموم في السرية لـما ةقدم ولايحب ذلك في الجهرية- তৃতীয় মত এই যে, সিররী (চুপি চুপি) সলাতে ফাতিহা পড়া ওয়াজিব হবে, প্রকাশ্য সলাতে ওয়াজিব হবে না। সূরায়ে ফাতিহার বিষয়ে নিম্নোক্ত হাদীসটি আমাদের যাবতীয় তর্কের মীগোশতা করে দিয়েছে যা আবূ দাউদ, নাসায়ী, তিরমিযীর ক্বিরাআত অধ্যায়ে নির্ভরযোগ্য রিওয়ায়াতে দেখা যায় যে, রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ফাজ্রের সলাতের ক্বিরাআত আদায় করছেন, পেছনে সহাবায়ে কিরামদের অনেকেই রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহিত সমস্ত ক্বিরাআত পাঠ করছিলেন। অতঃপর সলাত শেষে রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ لا تفعلو إلَّا بأم القرأن فإنه لا صلاة لـمن لـم يقرأبها-তোমরা সূরায়ে ফাতিহা ব্যতীত আর কোন সূরা পড়বে না। কেননা যে তা পড়ে না তার সলাত হয় না। এখানে ফাজরের ক্বিরাআত উচ্চ আওয়াজে পড়া হয়েছিল, এখানে নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া গেল। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহাবায়ে কিরাম, অতঃপর ইমাম হাসান বাসরী, ইমাম জুহরী, ইমাম আওজা‘ঈ, ইমাম ইবরাহীম নাখ‘ঈ, ইমাম মালিক, ইমাম আবদুল্লাহ বিন আল মুবারক, ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম তিরমিযী, ইমাম নাসায়ী, ইবনু হাজার আসক্বালানী, হাফিয আস সাখাবী, ইমাম শাফি‘ঈ (রহ.), ইমাম নাবাবী, ইমাম শওকানী, হাফিয ইবনু কাসীর, ইমাম গাযযালী, বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (রহিমাহুমুল্লাহ আজমা‘ঈন) প্রমুখাত মনীষী সহ হিজাজ, নজদ, ‘আসির, ইয়ামান, সিরিয়া, মিশর, মরক্কো, আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মাক্কাহ ও মাদীনাহর লক্ষ লক্ষ উলামায়ে কিরাম শতাব্দীর পর শতাব্দী এমন কি আজ পর্যন্ত ইমামের পিছনে সর্বাবস্থায় সূরা ফাতিহা পাঠ করে এসেছেন এবং বর্তমানেও পাঠ করে থাকেন, উপরে যেসব মনীষীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের বদৌলতেই রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসশাস্ত্র, পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে অদ্যাবধি টিকে আছে। তাঁদের প্রত্যেকেই ইমাম মুক্তাদী উভয়ের জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ অত্যাবশ্যক বলে মনে করেন, তাই আমরাও অবশ্য পঠিতব্য বলে মনে করছি। ইমামের পিছনে ফাতিহা পাঠকারীদেরকে যদি গোমরাহ মনে করা হয়, তবে নাউযুবিল্লাহ, উল্লেখিত ইসলামের মহামনীষীদেরকেও তো এই দৃষ্টিতে তারা প্রকারান্তরে গোমরাহ বলেই মনে করছে। তাঁদের রিওয়ায়াতকে অমান্য করে, উক্ত রিওয়ায়াত পালনকারীদের বিভ্রান্ত ও গোমরাহ বলেই মনে করে কেবল উক্ত মনীষীদের নামের শেষে (রহ.) বলে ভক্তি জাহির করা কি স্ববিরোধিতা নয়? অন্য কারো ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা, ইজতিহাদ মানতে গিয়ে যেন রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এবং তাঁর রেখে যাওয়া সহীহ হাদীসকে অগ্রাহ্য করা না হয়, সে দিকে আমাদের সকলের যত্নবান হওয়া আবশ্যক।
৬৫/১/২. অধ্যায়ঃ
যারা ক্রোধে পতিত নয়।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৭৫
হাদিস নং ৪৪৭৫
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ سُمَيٍّ عَنْ أَبِيْ صَالِحٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا قَالَ الإِمَامُ {غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّآلِّيْنَ} فَقُوْلُوْا آمِيْنَ فَمَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যখন ইমাম বলবে غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ তখন তোমরা বলবে آمِينَ আল্লাহ আপনি কবূল করুন। যার পড়া মালায়িকাদের পড়ার সময় হবে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। [৭৮২] (আ.প্র. ৪১১৭, ই.ফা. ৪১২০)
[১] সলাতের ভেতরে, সলাতের বাইরে যে কোন অবস্থায় সূরা ফাতিহা শেষ করে آمِيْنَ বলতে হবে। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তদীয় সহাবায়ে কিরাম (রাঃ) وَلَا الضَّالِّيْنَ বলার পরে آمِيْنَ বলতেন। ফাতিহা চুপে চুপে পড়লে আ-মীনও চুপে চুপে বলতেন। আর উক্ত সূরাটি যখন তাঁরা জোরে জোরে ও সশব্দে পাঠ করতেন, তখন আ-মীনও সশব্দে পাঠ করতেন, তা সলাত আদায়কালীন সময় হোক, কি সলাতের বাইরে। উক্ত পদ্ধতি নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে পরবর্তী কালের তাবিঈনদের যুগ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল। পরবর্তীকালে ইসলামের ফিক্বহ শাস্ত্রবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হওয়ার কারণে তাদের একদল সলাত আদায়কালে সশব্দে আ-মীন বলাকে অপছন্দ করতেন এবং অপর জামা‘আত উচ্চ আওয়াজে আ-মীন বলাকেই সহীহ হাদীসের সঠিক অনুশীলন বলে মনে করে থাকেন। এখন পর্যালোচনা করে দেখা দরকার যে, উপরোক্ত দু’টি নিয়মের কোনটি সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে বেশী গ্রহণযোগ্য। যেহেতু ‘কিতাবুত তাফসীর’ অধ্যায় আলোচনা করা যাচ্ছে বিধায় চার মাযহাবের নিকট বেশী গ্রহণযোগ্য তাফসীরের কিতাব ইবনু কাসীরের উদ্ধৃতি দেয়া যেতে পারে। তাফসীরে ইবনু কাসীর ১ম খন্ড, ২৭ পৃষ্ঠায় আছে- والدليل على استحباب التأمين ما رواه الإمام أحمد وأبو داود والترمذي عن وائل بن حجر قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم قرأ "غير المغضوب عليهم ولا الضالين" فقال "آمين" مد بها صوته ولأبي داود رفع بها صوته وقال الترمذي هذا حديث حسن ورُوي عن علي وابن مسعود وغيرهم. وعن أبي هريرة قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا تلا "غير المغضوب عليهم ولا الضالين" قال "آمين" حتى يسمع من يليه من الصف الْأول رواه أبو داود وابن ماجه وزاد فيه: فيرتج بها المسجد. والدارقطني وقال: هذا إسناد حسن. অর্থাৎ সূরায়ে ফাতিহার শেষে উচ্চ আওয়াজে আ-মীন বলা মুস্তাহাব- এ কথার দলীল এই যে, এ বিষয়ে মহামতি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, আবূ দাউদ, তিরমিযী (রহ.) ওয়ায়িল বিন হুজর থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেছি, যখন তিনি غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ পর্যন্ত পাঠ করলেন, তখন বললেন, আ-মীন ও স্বীয় আওয়াজকে বাড়িয়ে দিলেন (সশব্দে) এবং ইমাম আবূ দাউদ (রহ.) বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় আওয়াজকে উচ্চ করেই আ-মীন বলেছিলেন। ইমাম তিরমিযী (রহ.) বলেন, উক্ত হাদীসটি হাসান বটে। অতঃপর একই বিষয়ে একই রকম বর্ণনা করেছেন ইবনু মাস‘ঊদ ও ‘আলী (রাঃ) এবং আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ বলতেন, তখন আ-মীন বলতেন, যা এক কাতার পেছন থেকে শোনা যেত। আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ একটু বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তদীয় সহাবায়ে কিরামদের আ-মীন বলার কারণে মাসজিদ কেঁপে উঠত। দারাকুতনী বলেন, এ হাদীসের সনদও হাসান পর্যায়েভুক্ত বটে। উল্লেখ্য, উক্ত সহীহুল বুখারীর ১ম খন্ডে ‘কিতাবুস সলাত’-এর মধ্যে ইমাম বুখারী (রহ.) সহীহ সনদের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেনঃ إذا أمن الإمام فأمنوا ইমাম যখন আ-মীন বলবে, তোমরা তখন আ-মীন বল। ইমাম যদি চুপে চুপে আ-মীন বলে তাহলে মুক্তাদীরা কীভাবে আ-মীন বলবে? সুতরাং فأمنوا শব্দটিকে ব্যাখ্যা করলেই দেখা যাচ্ছে যে, আ-মীন সশব্দেই বলতে হবে। অন্যথায় ইমাম যখন বলবে তখন মুক্তাদীদের আ-মীন বলা সম্ভব হবে না। বিস্তারিত জানার জন্য বুখারীর ১ম খন্ডের সলাত অধ্যায়ের টীকাটি পড়ে দেখুন। সহীহ হাদীস অনুযায়ী সলাত আদায় করলে মানুষ যদি গোমরাহ-বিভ্রান্ত হয়, তাহলে নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য লোকদের মনগড়া ব্যাখ্যা মত ‘আমাল করলে হিদায়াত পাওয়া কী করে সম্ভব?
৬৫/২/১. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আর তিনি শিখালেন আদমকে সব কিছুর নাম। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/৩১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৭৬
হাদিস নং ৪৪৭৬
مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح و قَالَ لِيْ خَلِيْفَةُ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا سَعِيْدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَجْتَمِعُ الْمُؤْمِنُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُوْلُوْنَ لَوْ اسْتَشْفَعْنَا إِلَى رَبِّنَا فَيَأْتُوْنَ آدَمَ فَيَقُوْلُوْنَ أَنْتَ أَبُو النَّاسِ خَلَقَكَ اللهُ بِيَدِهِ وَأَسْجَدَ لَكَ مَلَائِكَتَهُ وَعَلَّمَكَ أَسْمَاءَ كُلِّ شَيْءٍ فَاشْفَعْ لَنَا عِنْدَ رَبِّكَ حَتَّى يُرِيْحَنَا مِنْ مَكَانِنَا هَذَا فَيَقُوْلُ لَسْتُ هُنَاكُمْ وَيَذْكُرُ ذَنْبَهُ فَيَسْتَحِي ائْتُوْا نُوْحًا فَإِنَّهُ أَوَّلُ رَسُوْلٍ بَعَثَهُ اللهُ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ فَيَأْتُوْنَهُ فَيَقُوْلُ لَسْتُ هُنَاكُمْ وَيَذْكُرُ سُؤَالَهُ رَبَّهُ مَا لَيْسَ لَهُ بِهِ عِلْمٌ فَيَسْتَحِيْ فَيَقُوْلُ ائْتُوْا خَلِيْلَ الرَّحْمَنِ فَيَأْتُوْنَهُ فَيَقُوْلُ لَسْتُ هُنَاكُمْ ائْتُوْا مُوْسَى عَبْدًا كَلَّمَهُ اللهُ وَأَعْطَاهُ التَّوْرَاةَ فَيَأْتُوْنَهُ فَيَقُوْلُ لَسْتُ هُنَاكُمْ وَيَذْكُرُ قَتْلَ النَّفْسِ بِغَيْرِ نَفْسٍ فَيَسْتَحِيْ مِنْ رَبِّهِ فَيَقُوْلُ ائْتُوْا عِيْسَى عَبْدَ اللهِ وَرَسُوْلَهُ وَكَلِمَةَ اللهِ وَرُوْحَهُ فَيَقُوْلُ لَسْتُ هُنَاكُمْ ائْتُوْا مُحَمَّدًا عَبْدًا غَفَرَ اللهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ فَيَأْتُوْنِيْ فَأَنْطَلِقُ حَتَّى أَسْتَأْذِنَ عَلَى رَبِّيْ فَيُؤْذَنَ لِيْ فَإِذَا رَأَيْتُ رَبِّيْ وَقَعْتُ سَاجِدًا فَيَدَعُنِيْ مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ يُقَالُ ارْفَعْ رَأْسَكَ وَسَلْ تُعْطَهْ وَقُلْ يُسْمَعْ وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ فَأَرْفَعُ رَأْسِيْ فَأَحْمَدُهُ بِتَحْمِيْدٍ يُعَلِّمُنِيْهِ ثُمَّ أَشْفَعُ فَيَحُدُّ لِيْ حَدًّا فَأُدْخِلُهُمْ الْجَنَّةَ ثُمَّ أَعُوْدُ إِلَيْهِ فَإِذَا رَأَيْتُ رَبِّيْ مِثْلَهُ ثُمَّ أَشْفَعُ فَيَحُدُّ لِيْ حَدًّا فَأُدْخِلُهُمْ الْجَنَّةَ ثُمَّ أَعُوْدُ الرَّابِعَةَ فَأَقُوْلُ مَا بَقِيَ فِي النَّارِ إِلَّا مَنْ حَبَسَهُ الْقُرْآنُ وَوَجَبَ عَلَيْهِ الْخُلُوْدُقَالَ أَبُوْ عَبْد اللهِ إِلَّا مَنْ حَبَسَهُ الْقُرْآنُ يَعْنِيْ قَوْلَ اللهِ تَعَالَى {خَالِدِيْنَ فِيْهَا}
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, ক্বিয়ামাতের দিন মু’মিনগণ একত্রিত হবে এবং তারা বলবে, আমরা যদি আমাদের রবের কাছে আমাদের জন্য একজন সুপারিশকারী পেতাম। এরপর তারা আদম (‘আ.)-এর কাছে আসবে এবং তাঁকে বলবে, আপনি মানব জাতির পিতা। আপনাকে আল্লাহ তা‘আলা নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর মালায়িকাহ দ্বারা আপনাকে সাজদাহ্ করিয়েছেন এবং যাবতীয় বস্তুর নাম আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন। অতএব আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন, যেন আমাদের কঠিন স্থান থেকে আরাম দিতে পারেন। তিনি বলবেন, আমি এ কাজের যোগ্য নই। তিনি নিজ ভুলের কথা স্মরণ করে লজ্জাবোধ করবেন। (তিনি বলবেন) তোমরা নূহ (‘আ.)-এর কাছে যাও। তিনিই প্রথম রসূল (‘আ.) যাকে আল্লাহ জগৎবাসীর কাছে পাঠিয়েছেন। তখন তারা তাঁর কাছে আসবে। তিনিও বলবেন, এ কাজ আমার দ্বারা হওয়ার নয়। তিনি তাঁর রবের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন এমন বিষয়ে যা তাঁর জানা ছিল না। সে কথা স্মরণ করে তিনি লজ্জাবোধ করবেন এবং বলবেন বরং তোমরা আল্লাহ্র খলীল (ইব্রাহীম) (‘আ.)-এর কাছে যাও। তারা তখন তাঁর কাছে আসবে, তখন তিনি বলবেন, এ কাজ আমার দ্বারা হওয়ার নয়। তোমরা মূসা (‘আ.)-এর কাছে যাও। তিনি এমন বান্দা যে, তাঁর সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং তাঁকে তাওরাত গ্রন্থ দান করেছেন। তখন তারা তাঁর কাছে আসবে। তিনি বলবেন, তোমাদের এ কাজের জন্য আমার সাহস হচ্ছে না এবং তিনি এক কিবতীকে বিনা দোষে হত্যা করার কথা স্মরণ করে তাঁর রবের নিকট লজ্জাবোধ করবেন। তিনি বলবেন, তোমরা ঈসা (‘আ.)-এর কাছে যাও। তিনি আল্লাহ্র বান্দা ও রসূল এবং আল্লাহ্র বাণী ও রূহ্। (তারা সেখানে যাবে) তিনি বলবেন, এ কাজ আমার দ্বারা হওয়ার নয়। তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে যাও। তিনি এমন এক বান্দা যার পূর্ব ও পরের ভুলত্র“টি আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তখন তারা আমার কাছে আসবে। তখন আমি আমার রবের কাছে যাব এবং অনুমতি চাব, আমাকে অনুমতি প্রদান করা হবে। আর আমি যখন আমার রবকে দেখব, তখন আমি সাজদাহ্য় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ যতক্ষণ চান এ অবস্থায় আমাকে রাখবেন। তারপর বলা হবে, আপনার মাথা উঠান এবং চান দেয়া হবে, বলুন শোনা হবে, সুপারিশ করুন কবূল করা হবে। তখন আমি আমার মাথা উঠাব এবং আমাকে যে প্রশংসাসূচক বাক্য শিক্ষা দিবেন তা দ্বারা আমি তাঁর প্রশংসা করব। তারপর সুপারিশ করব। আমাকে একটি সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। (সেই সীমিত সংখ্যায়) আমি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাব। আমি পুনরায় রবের সমীপে ফিরে আসব। যখন আমি আমার রবকে দেখব তখন আগের মত সবকিছু করব। তারপর আমি সুপারিশ করব। আর আমাকে একটি সীমারেখা নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। তদনুসারে আমি তাদের জান্নাতে দাখিল করাব। (তারপর তৃতীয়বার) আমি আবার রবের দরবারে উপস্থিত হয়ে অনুরূপ করব। এরপর আমি চতুর্থবার ফিরে আসব এবং আরয করব এখন তারাই কেবল জাহান্নামে অবশিষ্ট রয়ে গেছে যারা কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী অনেক আছে যাদের উপর জাহান্নামে চিরবাস অবধারিত হয়ে গেছে।আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, কুরআনের যে ঘোষণায় তারা জাহান্নামে আবদ্ধ রয়েছে তা হল মহান আল্লাহ্র বাণী ঃ “তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।” [৪৪; মুসলিম ১/৮৪, হাঃ ১৯৩, আহমাদ ১২১৫৩] (আ.প্র. ৪১১৮, ই.ফা. ৪১২১)
৬৫/২/২. অধ্যায়ঃ
-
৬৫/২/৩. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ অতএব, তোমরা জেনে-বুঝে কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করো না। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৭৭
হাদিস নং ৪৪৭৭
عُثْمَانُ بْنُ أَبِيْ شَيْبَةَ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ عَنْ مَنْصُوْرٍ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيْلَ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الذَّنْبِ أَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ قَالَ أَنْ تَجْعَلَ لِلهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ قُلْتُ إِنَّ ذَلِكَ لَعَظِيْمٌ قُلْتُ ثُمَّ أَيُّ قَالَ وَأَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ تَخَافُ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ قُلْتُ ثُمَّ أَيُّ قَالَ أَنْ تُزَانِيَ حَلِيْلَةَ جَارِكَ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, কোন্ গুনাহ আল্লাহ্র কাছে সবচেয়ে বড়? তিনি বললেন, আল্লাহ্র জন্য অংশীদার দাঁড় করান। অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, এতো সত্যিই বড় গুনাহ। আমি বললাম, তারপর কোন্ গুনাহ? তিনি উত্তর দিলেন, তুমি তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করবে যে, সে তোমার সঙ্গে আহার করবে। আমি আরয করলাম, এরপর কোন্টি? তিনি উত্তর দিলেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে তোমার ব্যভিচার করা। [৪৭৬১, ৬০০১, ৬৮১১, ৬৮৬১, ৭৫২০, ৭৫৩২; মুসলিম ১/৩৭, হাঃ ৮৬০] (আ.প্র. ৪১১৯, ই.ফা. ৪১২২)
৬৫/২/৪. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৭৮
হাদিস নং ৪৪৭৮
أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ وَمَاؤُهَا شِفَاءٌ لِلْعَيْنِ
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ ...... আল কামাআত (ব্যাঙের ছাতা) মান্ন জাতীয়। আর তার পানি চোখের রোগের প্রতিষেধক। [৪৬৩৯, ৫৭০৮; মুসলিম ৩৬/২৮, হাঃ ২০৪৯, আহমাদ ১৬২৫] (আ.প্র. ৪১২০, ই.ফা. ৪১২৩)
৬৫/২/৫. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৭৯
হাদিস নং ৪৪৭৯
مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قِيْلَ لِبَنِيْ إِسْرَائِيْلَ {ادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَقُوْلُوْا حِطَّةٌ} فَدَخَلُوْا يَزْحَفُوْنَ عَلَى أَسْتَاهِهِمْ فَبَدَّلُوْا وَقَالُوْا حِطَّةٌ حَبَّةٌ فِيْ شَعَرَةٍ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, বানী ইসরাঈলকে বলা হয়েছিল যে, তোমরা সাজদাহ্ অবস্থায় নগর দ্বারে প্রবেশ কর এবং বল حِطَّةٌ (ক্ষমা চাই) কিন্তু তারা প্রবেশ করল নিতম্ব হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে এবং শব্দকে পরিবর্তন করে তদস্থলে বলল, গম ও যবের দানা। [৩৪০৩] (আ.প্র. ৪১২১, ই.ফা. ৪১২৪)
৬৫/২/৬. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৮০
হাদিস নং ৪৪৮০
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُنِيْرٍ سَمِعَ عَبْدَ اللهِ بْنَ بَكْرٍ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ سَمِعَ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ بِقُدُوْمِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهْوَ فِيْ أَرْضٍ يَخْتَرِفُ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّيْ سَائِلُكَ عَنْ ثَلَاثٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا نَبِيٌّ فَمَا أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ وَمَا أَوَّلُ طَعَامِ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَمَا يَنْزِعُ الْوَلَدُ إِلَى أَبِيْهِ أَوْ إِلَى أُمِّهِ قَالَ أَخْبَرَنِيْ بِهِنَّ جِبْرِيْلُ آنِفًا قَالَ جِبْرِيْلُ قَالَ نَعَمْ قَالَ ذَاكَ عَدُوُّ الْيَهُوْدِ مِنَ الْمَلَائِكَةِ فَقَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ {مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِيْلَ فَإِنَّه” نَزَّلَه” عَلٰى قَلْبِكَ} بِإِذْنِ اللهِ أَمَّا أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ فَنَارٌ تَحْشُرُ النَّاسَ مِنَ الْمَشْرِقِ إِلَى الْمَغْرِبِ وَأَمَّا أَوَّلُ طَعَامٍ يَأْكُلُهُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فَزِيَادَةُ كَبِدِ حُوْتٍ وَإِذَا سَبَقَ مَاءُ الرَّجُلِ مَاءَ الْمَرْأَةِ نَزَعَ الْوَلَدَ وَإِذَا سَبَقَ مَاءُ الْمَرْأَةِ نَزَعَتْ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُوْلُ اللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ الْيَهُوْدَ قَوْمٌ بُهُتٌ وَإِنَّهُمْ إِنْ يَعْلَمُوْا بِإِسْلَامِيْ قَبْلَ أَنْ تَسْأَلَهُمْ يَبْهَتُوْنِيْ فَجَاءَتْ الْيَهُوْدُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَيُّ رَجُلٍ عَبْدُ اللهِ فِيْكُمْ قَالُوْا خَيْرُنَا وَابْنُ خَيْرِنَا وَسَيِّدُنَا وَابْنُ سَيِّدِنَا قَالَ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَسْلَمَ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ فَقَالُوْا أَعَاذَهُ اللهُ مِنْ ذَلِكَ فَخَرَجَ عَبْدُ اللهِ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللهِ فَقَالُوْا شَرُّنَا وَابْنُ شَرِّنَا وَانْتَقَصُوْهُ قَالَ فَهَذَا الَّذِيْ كُنْتُ أَخَافُ يَا رَسُوْلَ اللهِ.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শুভাগমনের খবর পেলেন। তখন তিনি (‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম) বাগানে ফল সংগ্রহ করছিলেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন, আমি আপনাকে তিনটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করব যা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য কেউ জানেন না। তা হল ক্বিয়ামাতের প্রথম আলামাত কী? জান্নাতীদের প্রথম খাদ্য কী হবে? এবং সন্তান কখন পিতার মত হয় আর কখন মাতার মত হয়? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমাকে জিব্রীল (‘আ.) এখনই এসব ব্যাপারে জানিয়ে গেলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম বললেন, জিবরীল? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলল, হ্যাঁ। ইবনু সালাম বললেন, সে তো মালায়িকাদের মধ্যে ইয়াহূদীদের শত্র“। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই আয়াত পাঠ করলেন, আপনি বলে দিন ঃ যে কেউ জিবরাঈলের শত্র“ এ কারণে যে, সে আল্লাহ্র নির্দেশে আপনার অন্তরে কুরআন অবতীর্ণ করেছে (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/৯৭)। ক্বিয়ামাতের প্রথম আলামাত হল, এক রকম আগুন মানুষদেরকে পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত একত্রিত করবে। আর জান্নাতীরা প্রথমে যা খাবেন তা হল মাছের কলিজার টুকরা। আর যখন পুরুষের বীর্য স্ত্রীর উপর প্রাধান্য লাভ করে তখন সন্তান পিতার আকৃতি পায় এবং যখন স্ত্রীর বীর্য পুরুষের উপর প্রাধান্য লাভ করে তখন সন্তান মাতার আকৃতি পায়। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহ্র রসূল। হে আল্লাহ্র রসূল! ইয়াহূদরা চরম মিথ্যারোপকারী। যদি তারা আপনার প্রশ্ন করার পূর্বেই আমার ইসলাম গ্রহণের সংবাদ জেনে যায় তবে তারা আমার প্রতি অপবাদ আরোপ করবে। ইতোমধ্যে ইয়াহূদীরা এসে গেল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইয়াহূদীদের জিজ্ঞেস করলেন, আবদুল্লাহ তোমাদের মধ্যে কেমন লোক? তারা উত্তর দিল, তিনি আমাদের মধ্যে উত্তম এবং আমাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পুত্র। তিনি আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার ছেলে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যদি ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম ইসলাম গ্রহণ করেন, তাহলে তোমাদের অভিমত কী? তারা বলল, আল্লাহ তাকে এর থেকে রক্ষা করুন। তখন [‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)] বের হয়ে এসে বললেন, আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবশ্যই আল্লাহ্র প্রেরিত রসূল। তখন তারা বলল, সে আমাদের মধ্যে মন্দ ব্যক্তি ও মন্দ ব্যক্তির ছেলে। তারপর তারা ইবনু সালাম (রাঃ)-কে দোষী সাব্যস্ত করে সমালোচনা করতে লাগল। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! এটাই আমি আশঙ্কা করছিলাম। [৩৩২৯] (আ.প্র. ৪১২২, ই.ফা. ৪১২৫)
৬৫/২/৭. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা ভুলিয়ে দিলে। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১০৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৮১
হাদিস নং ৪৪৮১
عَمْرُوْ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَبِيْبٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَقْرَؤُنَا أُبَيٌّ وَأَقْضَانَا عَلِيٌّ وَإِنَّا لَنَدَعُ مِنْ قَوْلِ أُبَيٍّ وَذَاكَ أَنَّ أُبَيًّا يَقُوْلُ لَا أَدَعُ شَيْئًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالَى {مَا نَنْسَخْ مِنْ اٰيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا}
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) বলেন, উবাই (রাঃ) আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ক্বারী, আর ‘আলী (রাঃ) আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক। কিন্তু আমরা উবাই (রাঃ)-এর কিছু কথা বাদ দেই। কারণ উবাই (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা শুনেছি তার কিছুই ছাড়ব না। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি যে আয়াত রহিত করি অথবা ভুলিয়ে দেই ........ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১০৬)। [৫০০৫] (আ.প্র. ৪১২৩, ই.ফা. ৪১২৬)
৬৫/২/৮. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ আর তারা বলেঃ ‘আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি অতি পবিত্র। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১১৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৮২
হাদিস নং ৪৪৮২
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِيْ حُسَيْنٍ حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ اللهُ كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ وَشَتَمَنِيْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ فَأَمَّا تَكْذِيْبُهُ إِيَّايَ فَزَعَمَ أَنِّيْ لَا أَقْدِرُ أَنْ أُعِيْدَهُ كَمَا كَانَ وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ لِيْ وَلَدٌ فَسُبْحَانِيْ أَنْ أَتَّخِذَ صَاحِبَةً أَوْ وَلَدًا
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আদম সন্তান আমার ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলে। অথচ তার এ কাজ ঠিক নয়। আমাকে গালি দিয়েছে অথচ তার জন্য এটা ঠিক নয়। তার আমার প্রতি মিথ্যারোপ হল, সে বলে যে, আমি তাকে (মৃত্যুর) পূর্বের মত পুনরায় জীবিত করতে সক্ষম নই। আর আমাকে তার গালি দেয়া হলতার এ কথা যে, আমার সন্তান আছে অথচ আমি স্ত্রী ও সন্তান গ্রহণ থেকে পবিত্র। (আ.প্র. ৪১২৩, ই.ফা. ৪১১৭)
৬৫/২/৯. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর জায়গাকে সলাতের জায়গারূপে গ্রহণ কর। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১২৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৮৩
হাদিস নং ৪৪৮৩
مُسَدَّدٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيْدٍ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ وَافَقْتُ اللهَ فِيْ ثَلَاثٍ أَوْ وَافَقَنِيْ رَبِّيْ فِيْ ثَلَاثٍ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ لَوْ اتَّخَذْتَ مَقَامَ إِبْرَاهِيْمَ مُصَلًّى وَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ يَدْخُلُ عَلَيْكَ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ فَلَوْ أَمَرْتَ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ بِالْحِجَابِ فَأَنْزَلَ اللهُ آيَةَ الْحِجَابِ قَالَ وَبَلَغَنِيْ مُعَاتَبَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَعْضَ نِسَائِهِ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِنَّ قُلْتُ إِنْ انْتَهَيْتُنَّ أَوْ لَيُبَدِّلَنَّ اللهُ رَسُوْلَهُ صلى الله عليه وسلم خَيْرًا مِنْكُنَّ حَتَّى أَتَيْتُ إِحْدَى نِسَائِهِ قَالَتْ يَا عُمَرُ أَمَا فِيْ رَسُوْلِ اللهِ مَا يَعِظُ نِسَاءَهُ حَتَّى تَعِظَهُنَّ أَنْتَ فَأَنْزَلَ اللهُ : {عَسٰى رَبُّه” إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُّبَدِّلَه” أَزْوَاجًا خَيْرًا مِّنْكُنَّ مُسْلِمٰتٍ}وَقَالَ ابْنُ أَبِيْ مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوْبَ حَدَّثَنِيْ حُمَيْدٌ سَمِعْتُ أَنَسًا عَنْ عُمَرَ
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, তিনটি বিষয়ে আমার মতামত আল্লাহ্র ওয়াহীর অনুরূপ হয়েছে অথবা (তিনি বলেছেন) তিনটি বিষয়ে আমার মতামতের অনুকূলে আল্লাহ ওয়াহী অবতীর্ণ করেছেন। তা হল, আমি বলেছিলাম হে আল্লাহ্র রসূল! যদি আপনি মাকামে ইব্রাহীমকে সলাতের স্থান হিসাবে গ্রহণ করতেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন ....... তোমরা ইবরাহীমের দাঁড়ানোর জায়গাকে সলাতের জায়গারূপে গ্রহণ কর (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১২৫)। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনার কাছে ভাল ও মন্দ উভয় প্রকারের লোক আসে। কাজেই আপনি যদি উম্মাহাতুল মু’মিনীনদেরকে পর্দা করার আদেশ করবেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা পর্দার আয়াত অবতীর্ণ করেন। তিনি আরো বলেন, আমি জানতে পেরেছিলাম যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কতক স্ত্রীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তখন আমি তাদের কাছে উপস্থিত হই এবং বলি যে, আপনারা এর থেকে বিরত থাকুন নচেৎ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আপনাদের পরিবর্তে উত্তম স্ত্রী দান করবেন। এরপর আমি তাঁর কোন স্ত্রীর কাছে আসি, তখন তিনি বললেন, হে ‘উমার! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারেও নাক গলাতে শুরু করেছ। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্ত্রীগণকে নাসীহাত করে থাকেন আর এখন তুমি তাদের নাসীহাত করতে আরম্ভ করেছ? তখন আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন ঃ عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبَدِّلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ مُسْلِمَاتٍ “যদি নাবী তোমাদের সবাইকে তালাক দেন, তবে তাঁর রব অচিরেই তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী তাঁকে দিবেন, যারা হবে আজ্ঞাবহ, ঈমানদার, অনুগত, তাওবাহকারিণী, ‘ইবাদাতকারিণী, সিয়াম পালনকারী, অকুমারী ও কুমারী” (সূরাহ আত্-তাহরীম ৬৬/৫)।ইবনু আবী মারইয়াম (রহ.) বলেন, আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, ‘উমার (রাঃ) আমার কাছে এরূপ বলেছেন। [৪০২] (আ.প্র. ৪১২৫, ই.ফা. ৪১২৮)
৬৫/২/১০. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৮৪
হাদিস নং ৪৪৮৪
إِسْمَاعِيْلُ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِيْ بَكْرٍ أَخْبَرَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَلَمْ تَرَيْ أَنْ قَوْمَكِ بَنَوْا الْكَعْبَةَ وَاقْتَصَرُوْا عَنْ قَوَاعِدِ إِبْرَاهِيْمَ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَلَا تَرُدُّهَا عَلَى قَوَاعِدِ إِبْرَاهِيْمَ قَالَ لَوْلَا حِدْثَانُ قَوْمِكِ بِالْكُفْرِ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ لَئِنْ كَانَتْ عَائِشَةُ سَمِعَتْ هَذَا مِنْ رَسُوْلِ اللهِ مَا أُرَى رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَرَكَ اسْتِلَامَ الرُّكْنَيْنِ اللَّذَيْنِ يَلِيَانِ الْحِجْرَ إِلَّا أَنَّ الْبَيْتَ لَمْ يُتَمَّمْ عَلَى قَوَاعِدِ إِبْرَاهِيْمَ
বর্ণনাকারী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমার কি জানা নেই যে, তোমার সম্প্রদায় কুরাইশ কা‘বা তৈরী করেছে এবং ইবরাহীম (‘আ.)-এর ভিত্তির থেকে ছোট নির্মাণ করেছে? [‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন] আমি তখন বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি কি ইবরাহীম (‘আ.)-এর ভিত্তির উপর কা‘বাকে আবার নির্মাণ করবেন না? তিনি বললেন, যদি তোমার গোত্রের কুফরীর যুগ নিকট অতীতে না হত। এ কথা শুনে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, যদি ‘আয়িশাহ (রাঃ) এ কথা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে শুনে থাকেন, তবে আমার মনে হয় যে এ কারণেই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাজরে আসওয়াদ সংলগ্ন দু’ রুকনকে চুম্বন করতেন না, বর্জন করেছেন, যেহেতু বাইতুল্লাহ্র নির্মাণ কাজ ইবরাহীম (‘আ.)-এর ভিতের উপর সম্পূর্ণ করা হয়নি। [১২৬] (আ.প্র. ৪১২৬, ই.ফা. ৪১২৯)
৬৫/২/১১. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৩৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৮৫
হাদিস নং ৪৪৮৫
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِيْ كَثِيْرٍ عَنْ أَبِيْ سَلَمَةَ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ أَهْلُ الْكِتَابِ يَقْرَءُوْنَ التَّوْرَاةَ بِالْعِبْرَانِيَّةِ وَيُفَسِّرُوْنَهَا بِالْعَرَبِيَّةِ لِأَهْلِ الإِسْلَامِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا تُصَدِّقُوْا أَهْلَ الْكِتَابِ وَلَا تُكَذِّبُوْهُمْ وَقُوْلُوْا {اٰٰمَنَّا بِاللهِ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْنَا}
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আহলে কিতাব (ইয়াহূদী) ইবরানী ভাষায় তাওরাত পাঠ করে মুসলিমদের কাছে তা আরবী ভাষায় ব্যাখ্যা করত। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা আহলে কিতাবকে বিশ্বাসও কর না আর অবিশ্বাসও কর না এবং (আল্লাহ্র বাণী) “তোমরা বল, আমরা আল্লাহ্তে ঈমান এনেছি এবং যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে . . . .” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৩৬)। [৭৩৬২, ৭৫৪২] (আ.প্র. ৪১২৭, ই.ফা. ৪১৩০)
৬৫/২/১২. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৮৬
হাদিস নং ৪৪৮৬
أَبُوْ نُعَيْمٍ سَمِعَ زُهَيْرًا عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا أَوْ سَبْعَةَ عَشَرَ شَهْرًا وَكَانَ يُعْجِبُهُ أَنْ تَكُوْنَ قِبْلَتُهُ قِبَلَ الْبَيْتِ وَأَنَّهُ صَلَّى أَوْ صَلَّاهَا صَلَاةَ الْعَصْرِ وَصَلَّى مَعَهُ قَوْمٌ فَخَرَجَ رَجُلٌ مِمَّنْ كَانَ صَلَّى مَعَهُ فَمَرَّ عَلَى أَهْلِ الْمَسْجِدِ وَهُمْ رَاكِعُوْنَ قَالَ أَشْهَدُ بِاللهِ لَقَدْ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قِبَلَ مَكَّةَ فَدَارُوْا كَمَا هُمْ قِبَلَ الْبَيْتِ وَكَانَ الَّذِيْ مَاتَ عَلَى الْقِبْلَةِ قَبْلَ أَنْ تُحَوَّلَ قِبَلَ الْبَيْتِ رِجَالٌ قُتِلُوْا لَمْ نَدْرِ مَا نَقُوْلُ فِيْهِمْ فَأَنْزَلَ اللهُ {وَمَا كَانَ اللهُ لِيُضِيْعَ إِيْمَانَكُمْ إِنَّ اللهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوْفٌ رَّحِيْمٌ}
বর্ণনাকারী বারাআ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাদীনাহ্তে ষোল অথবা সতের মাস যাবৎ বাইতুল মাকদাসের দিকে মুখ করে সলাত আদায় করেন। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাইতুল্লাহ্র দিকে তার কিবলা হওয়াকে পছন্দ করতেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘আসর এর সলাত (কা‘বার দিকে মুখ করে) আদায় করেন এবং লোকেরাও তাঁর সঙ্গে সলাত আদায় করেন। এরপর তাঁর সঙ্গে সলাত আদায়কারী একজন বের হন এবং তিনি একটি মাসজিদের লোকেদের পার্শ্ব দিয়ে গেলেন তখন তারা রুকু অবস্থায় ছিলেন। তিনি বললেন, আমি আল্লাহ্কে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে মাক্কাহ্র দিকে মুখ করে সলাত আদায় করেছি। এ কথা শোনার পর তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন, সে অবস্থায় বাইতুল্লাহ্র দিকে ফিরে গেলেন। আর যারা কিবলা বাইতুল্লাহর দিকে পরিবর্তনের পূর্বে বাইতুল মাকদাসের দিকে সলাত আদায় অবস্থায় মারা গিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, তাদের সম্পর্কে আমরা কী বলব তা আমাদের জানা ছিল না। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন “আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান ব্যর্থ করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম মমতাময়, পরম দয়ালু” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৪৩)। [৪০] (আ.প্র. ৪১২৮, ই.ফা. ৪১৩১)
৬৫/২/১৩. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৮৭
হাদিস নং ৪৪৮৭
يُوْسُفُ بْنُ رَاشِدٍ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ وَأَبُوْ أُسَامَةَ وَاللَّفْظُ لِجَرِيْرٍ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِيْ صَالِحٍ وَقَالَ أَبُوْ أُسَامَةَ حَدَّثَنَا أَبُوْ صَالِحٍ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُدْعَى نُوْحٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُوْلُ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ يَا رَبِّ فَيَقُوْلُ هَلْ بَلَّغْتَ فَيَقُوْلُ نَعَمْ فَيُقَالُ لِأُمَّتِهِ هَلْ بَلَّغَكُمْ فَيَقُوْلُوْنَ مَا أَتَانَا مِنْ نَذِيْرٍ فَيَقُوْلُ مَنْ يَشْهَدُ لَكَ فَيَقُوْلُ مُحَمَّدٌ وَأُمَّتُهُ فَتَشْهَدُوْنَ أَنَّهُ قَدْ بَلَّغَ وَيَكُوْنَ الرَّسُوْلُ عَلَيْكُمْ شَهِيْدًا فَذَلِكَ قَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ : {وَكَذٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَّسَطًا لِّتَكُوْنُوْا شُهَدَآءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُوْنَ الرَّسُوْلُ عَلَيْكُمْ شَهِيْدً} وَالْوَسَطُ الْعَدْلُز.
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ক্বিয়ামাতের দিন নূহ্ (‘আ.)-কে ডাকা হবে। তখন তিনি বলবেন ঃ হে আমাদের রব! আমি আপনার পবিত্র দরবারে হাযির (তখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন) তুমি কি (আল্লাহ্র বাণী) পৌঁছে দিয়েছিলে? তিনি বলবেন, হ্যাঁ। এরপর তার উম্মতকে জিজ্ঞেস করা হবে, [নূহ (‘আ.) কি] তোমাদের নিকট (আল্লাহ্র বাণী) পৌঁছে দিয়েছে? তারা তখন বলবে, আমাদের কাছে কোন ভয়প্রদর্শনকারী আসেনি। তখন আল্লাহ তা‘আলা [নূহ (‘আ.)-কে] বলবেন, তোমার পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে? তিনি বলবেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর উম্মতগণ। তখন তারা সাক্ষ্য দেবে যে, নূহ (‘আ.) তাঁর উম্মতের নিকট আল্লাহ্র বাণী পৌঁছে দিয়েছেন এবং রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদের জন্য সাক্ষী হবেন। এটাই মহান আল্লাহ্র বাণী “আর এ ভাবেই আমি তোমাদেরকে একটি মধ্যপন্থী উম্মাত করেছি যাতে তোমরা মানবজাতির সাক্ষী হতে পার আর রসূল তোমাদের সাক্ষী হন।” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৪৩) ‘ওয়াসাত’ ন্যায়নিষ্ঠ। [৩৩৩৯] (আ.প্র. ৪১২৯, ই.ফা. ৪১৩২)
৬৫/২/১৪. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৮৮
হাদিস নং ৪৪৮৮
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِيْنَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا بَيْنَا النَّاسُ يُصَلُّوْنَ الصُّبْحَ فِيْ مَسْجِدِ قُبَاءٍ إِذْ جَاءَ جَاءٍ فَقَالَ أَنْزَلَ اللهُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قُرْآنًا أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْكَعْبَةَ فَاسْتَقْبِلُوْهَا فَتَوَجَّهُوْا إِلَى الْكَعْبَةِ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
একদিন লোকেরা কূবা মাসজিদে ফাজ্রের সলাত আদায় করছিলেন। এমন সময় এক আগন্তুক এসে বলল, আল্লাহ তা‘আলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ করেছেন যে, তিনি যেন (সলাতে) কা‘বার দিকে মুখ করেন। কাজেই আপনারাও কা‘বার দিকে মুখ করুন। তখন লোকেরা কা‘বার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন। [৪০৩] (আ.প্র. ৪১৩০, ই.ফা. ৪১৩৩)
৬৫/২/১৫. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৮৯
হাদিস নং ৪৪৮৯
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمْ يَبْقَ مِمَّنْ صَلَّى الْقِبْلَتَيْنِ غَيْرِي
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, যারা উভয় কিবলার (বাইতুল মাকদাস কা‘বা-এর) দিকে মুখ করে সলাত আদায় করেছেন তাদের মধ্যে আমি ব্যতীত আর কেউ বেঁচে নেই। (আ.প্র. ৪১৩১, ই.ফা. ৪১৩৪)
৬৫/২/১৬. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৯০
হাদিস নং ৪৪৯০
دَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ حَدَّثَنِيْ عَبْدُ اللهِ بْنُ دِيْنَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا بَيْنَمَا النَّاسُ فِي الصُّبْحِ بِقُبَاءٍ جَاءَهُمْ رَجُلٌ فَقَالَ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ اللَّيْلَةَ قُرْآنٌ وَأُمِرَ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْكَعْبَةَ أَلَا فَاسْتَقْبِلُوْهَا وَكَانَ وَجْهُ النَّاسِ إِلَى الشَّأْمِ فَاسْتَدَارُوْا بِوُجُوْهِهِمْ إِلَى الْكَعْبَةِ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
একদা লোকেরা মাসজিদে কুবায় ফাজ্রের সলাত আদায় করছিলেন। এমন সময় তাদের কাছে একজন লোক এসে বলল, এ রাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে এবং কা‘বার দিকে মুখ করে সলাত আদায় করার জন্য তিনি নির্দেশিত হয়েছেন। অতএব আপনারা কা‘বার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিন। আর তখন লোকেদের চেহারা শামের দিকে ছিল। তখন তারা তাদের চেহারা কা‘বার দিকে ঘুরিয়ে নিলেন। [৪০৩] (আ.প্র. ৪১৩২, ই.ফা. ৪১৩৫)
৬৫/২/১৭. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৯১
হাদিস নং ৪৪৯১
يَحْيَى بْنُ قَزَعَةَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِيْنَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ بَيْنَا النَّاسُ بِقُبَاءٍ فِيْ صَلَاةِ الصُّبْحِ إِذْ جَاءَهُمْ آتٍ فَقَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ اللَّيْلَةَ قُرْآنٌ وَقَدْ أُمِرَ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْكَعْبَةَ فَاسْتَقْبِلُوْهَا وَكَانَتْ وُجُوْهُهُمْ إِلَى الشَّأْمِ فَاسْتَدَارُوْا إِلَى الْكَعْبَةِ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, একদা লোকেরা কুবা মাসজিদে ফাজ্রের সলাতে ছিলেন, তখন তাদের কাছে একজন আগন্তুক এসে বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি এ রাতে কুরআন (এর আয়াত) অবতীর্ণ করা হয়েছে, আর এতে তিনি কা‘বার দিকে মুখ ফিরানোর জন্য নির্দেশিত হয়েছেন। কাজেই আপনারা কা’বার দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিন। আর তখন তাদের মুখ শামের দিকে ছিল। তখন তারা কা‘বার দিকে ঘুরে গেলেন। [৪০৩] (আ.প্র. ৪১৩৩, ই.ফা. ৪১৩৬)
৬৫/২/১৮. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৯২
হাদিস নং ৪৪৯২
مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِيْ أَبُوْ إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ صَلَّيْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ أَوْ سَبْعَةَ عَشَرَ شَهْرًا ثُمَّ صَرَفَهُ نَحْوَ الْقِبْلَةِ
বর্ণনাকারী বারাআ (ইবনু ‘আযিব) (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ষোল অথবা সতের মাস ব্যাপী (মাদীনাহ্তে) বাইতুল মাকদাসের দিকে মুখ করে সলাত আদায় করেছি। তারপর আল্লাহ তাঁকে কা‘বার পানে ফিরিয়ে দেন। [৪০] (আ.প্র. ৪১৩৪, ই.ফা. ৪১৩৭)
৬৫/২/১৯. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৯৩
হাদিস নং ৪৪৯৩
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دِيْنَارٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا يَقُوْلُ بَيْنَا النَّاسُ فِي الصُّبْحِ بِقُبَاءٍ إِذْ جَاءَهُمْ رَجُلٌ فَقَالَ أُنْزِلَ اللَّيْلَةَ قُرْآنٌ فَأُمِرَ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْكَعْبَةَ فَاسْتَقْبِلُوْهَا وَاسْتَدَارُوْا كَهَيْئَتِهِمْ فَتَوَجَّهُوْا إِلَى الْكَعْبَةِ وَكَانَ وَجْهُ النَّاس إِلَى الشَّأْمِ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, একদা কূবা মাসজিদে সহাবীগণ ফাজ্রের সলাত সম্পাদন করছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, আজ রাতে [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি] কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে কা‘বার দিকে মুখ ফিরানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজেই আপনারা সেদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিন। তখন তারা আপন আপন অবস্থায় মুখ ঘুরিয়ে নেন এবং কা‘বার দিকে মুখ করেন। তখন তাদের মুখ সিরিয়ার দিকে ছিল। [৪০৩] (আ.প্র. ৪১৩৫, ই.ফা. ৪১৩৮)
৬৫/২/২০. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৯৪
হাদিস নং ৪৪৯৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ بَيْنَمَا النَّاسُ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ بِقُبَاءٍ إِذْ جَاءَهُمْ آتٍ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ اللَّيْلَةَ، وَقَدْ أُمِرَ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْكَعْبَةَ، فَاسْتَقْبِلُوهَا. وَكَانَتْ وُجُوهُهُمْ إِلَى الشَّأْمِ فَاسْتَدَارُوا إِلَى الْقِبْلَةِ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, একদা কূবাতে সহাবীগণ ফাজ্রের সলাত সম্পাদন করছিলেন এমন সময় এক আগন্তুক এসে বলল, রসূলুল্লাহ -এর প্রতি আজ রাতে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি কা‘বার দিকে মুখ ফিরানোর নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছেন। অতএব আপনারাও সেদিকে মুখ ফিরিয়ে নিন। তাদের মুখ তখন ছিল সিরিয়ার দিকে। তখন তারা কা‘বার দিকে ফিরে গেলেন। [৪০৩] (আ.প্র. ৪১৩৬, ই.ফা. ৪১৩৯)
৬৫/২/২১. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৯৫
হাদিস নং ৪৪৯৫
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّهُ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا يَوْمَئِذٍ حَدِيْثُ السِّنِّ أَرَأَيْتِ قَوْلَ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللهِ ج فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَّطَّوَّفَ بِهِمَا} فَمَا أُرَى عَلَى أَحَدٍ شَيْئًا أَنْ لَا يَطَّوَّفَ بِهِمَا فَقَالَتْ عَائِشَةُ كَلَّا لَوْ كَانَتْ كَمَا تَقُوْلُ كَانَتْ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لَا يَطَّوَّفَ بِهِمَا إِنَّمَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِي الْأَنْصَارِ كَانُوْا يُهِلُّوْنَ لِمَنَاةَ وَكَانَتْ مَنَاةُ حَذْوَ قُدَيْدٍ وَكَانُوْا يَتَحَرَّجُوْنَ أَنْ يَطُوْفُوْا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَلَمَّا جَاءَ الإِسْلَامُ سَأَلُوْا رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللهُ {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللهِ ج فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَّطَّوَّفَ بِهِمَا}.
বর্ণনাকারী ‘উরওয়াহ (রহ.)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম আর তখন আমি অল্প বয়সের ছিলাম।মহান আল্লাহ্র বাণী ঃ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ এ আয়াত সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? “নিশ্চয় সাফা ও মারওয়াহ হল আল্লাহ্র নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কেউ কা‘বা ঘরে হাজ্জ বা ‘উমরাহ পালন করে তার পক্ষে এ দু‘টির মধ্যে প্রদক্ষিণ করাতে কোন পাপ নেই” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৫৮)। আমি মনে করি উক্ত দুই পর্বত সায়ী না করলে কোন ব্যক্তির উপর গুনাহ বর্তাবে না। তখন ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, কক্ষনো তা নয়। তুমি যা বলছ যদি তাই হত তাহলে বলা হত এভাবে فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ “উভয় পর্বত তাওয়াফ না করাতে কোন গুনাহ বর্তাবে না। বস্তুতঃ এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে আনসারদের ব্যাপারে। তারা ‘মানাত’-এর পূজা করত। আর ‘মানাত’ ছিল কুদায়েদের পথে অবস্থিত। আনসারগণ সাফা এবং মারওয়াহ্র মধ্যে সায়ী করা খারাপ জানত। ইসলামের আগমনের পর তারা এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করল। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوْ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا। [১৬৪৩] (আ.প্র. ৪১৩৭, ই.ফা. ৪১৪০)
৬৫/২/২১. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৯৬
হাদিস নং ৪৪৯৬
مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَاصِمِ بْنِ سُلَيْمَانَ قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَقَالَ كُنَّا نَرَى أَنَّهُمَا مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا كَانَ الإِسْلَامُ أَمْسَكْنَا عَنْهُمَا فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللهِ ج فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَّطَّوَّفَ بِهِمَا}.
বর্ণনাকারী ‘আসিম ইবনু সুলাইমান (রহ.)
তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে সাফা ও মারওয়াহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা ঐ দু’টিকে জাহিলী যুগের কাজ বলে মনে করতাম। যখন ইসলাম আসল, তখন আমরা এ দু’টির মধ্যে সায়ী করা থেকে বিরত থাকি। তখন আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেন إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ থেকে أَنْ يَطَّوَّفَ পর্যন্ত। [১৬৪৮] (আ.প্র. ৪১৩৮, ই.ফা. ৪১৪১)
৬৫/২/২২. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৯৭
হাদিস নং ৪৪৯৭
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি কথা বললেন, আর আমি একটি বললাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে তাঁর সমকক্ষ হিসেবে আহ্বান করা অবস্থায় মারা যায়, সে জাহান্নামে যাবে। আর আমি বললাম, যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সঙ্গে কাউকে সমকক্ষ হিসেবে আহ্বান না করা অবস্থায় মারা যায়? (তিনি বললেন) সে জান্নাতে যাবে। [১২৩৮] (আ.প্র. ৪১৩৯, ই.ফা. ৪১৪২)
৬৫/২/২৩. অধ্যায়ঃ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য নিহতদের ব্যাপারে কিসাসের১ বিধান দেয়া হল, স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস এবং নারীর বদলে নারী। তবে তার ভাইয়ের তরফ থেকে কাউকে কিছু ক্ষমা করে দেয়া হলে যথাযথ বিধির অনুসরণ করতে হবে এবং সততার সঙ্গে তা তাকে প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের প্রতিপালকের তরফ থেকে ভার লাঘব ও বিশেষ রাহমাত। এরপরও যে কেউ বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৭৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৯৮
হাদিস নং ৪৪৯৮
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَمْرٌو قَالَ سَمِعْتُ مُجَاهِدًا قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا يَقُوْلُ كَانَ فِيْ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ الْقِصَاصُ وَلَمْ تَكُنْ فِيْهِمْ الدِّيَةُ فَقَالَ اللهُ تَعَالَى لِهَذِهِ الْأُمَّةِ {يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلٰى ط اَلْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنْثٰى بِالْأُنْثٰى ط فَمَنْ عُفِيَ لَه”مِنْ أَخِيْهِ شَيْءٌ} فَالْعَفْوُ أَنْ يَقْبَلَ الدِّيَةَ فِي الْعَمْدِ. {فَاتِّبَاعٌم بِالْمَعْرُوْفِ وَأَدَآءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ} يَتَّبِعُ بِالْمَعْرُوْفِ وَيُؤَدِّيْ بِإِحْسَانٍ {ذٰلِكَ تَخْفِيْفٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَرَحْمَة} مِمَّا كُتِبَ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ {فَمَنِ اعْتَدٰى بَعْدَ ذٰلِكَ فَلَه”عَذَابٌ أَلِيْمٌ} قَتَلَ بَعْدَ قَبُوْلِ الدِّيَةِ
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, বানী ইসরাঈল সম্প্রদায়ের কিসাস প্রথা চালু ছিল কিন্তু দিয়াত১ তাদের মধ্যে চালু ছিল না। অনন্তর আল্লাহ তা‘আলা এ উম্মতের জন্য এ আয়াত অবতীর্ণ করেন ঃ হত্যার ক্ষেত্রে কিসাস বা খুনের বদলে খুন তোমাদের জন্য ফরয করা হয়েছে। স্বাধীন মানুষের বদলে স্বাধীন মানুষ, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস এবং স্ত্রীলোকের বদলে স্ত্রীলোকের কিসাস নেয়া হবে। হাঁ, কোন হত্যাকারীর সঙ্গে তার কোন (মুসলিম) ভাই নম্রতা দেখাতে চাইলে। উল্লিখিত আয়াতে আলআফুব فَالْعَفْوُ -এর অর্থ ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে দিয়াত গ্রহণ করতঃ কিসাস ক্ষমা করে দেয়া। فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ অর্থাৎ এ ব্যাপারে যথাযথ বিধি মেনে চলবে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দিয়াত আদায় করে দেবে। তোমাদের পূর্বের লোকেদের উপরে আরোপিত কিসাস হতে তোমাদের প্রতি দিয়াত ব্যবস্থা আল্লাহ্র পক্ষ হতে তোমাদের প্রতি শাস্তি হ্রাস ও বিশেষ অনুগ্রহ। দিয়াত কবূল করার পরও যদি হত্যা করে তাহলে তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে। [৬৮৮১] (আ.প্র. ৪১৪০, ই.ফা. ৪১৪৩)
৬৫/২/২৩. অধ্যায়ঃ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য নিহতদের ব্যাপারে কিসাসের১ বিধান দেয়া হল, স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস এবং নারীর বদলে নারী। তবে তার ভাইয়ের তরফ থেকে কাউকে কিছু ক্ষমা করে দেয়া হলে যথাযথ বিধির অনুসরণ করতে হবে এবং সততার সঙ্গে তা তাকে প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের প্রতিপালকের তরফ থেকে ভার লাঘব ও বিশেষ রাহমাত। এরপরও যে কেউ বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৭৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৪৯৯
হাদিস নং ৪৪৯৯
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْأَنْصَارِيُّ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ أَنَّ أَنَسًا حَدَّثَهُمْ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ كِتَابُ اللهِ الْقِصَاصُ.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তাদের কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ্র কিতাবের নির্দেশ হল কিসাস। [২৭০৩] (আ.প্র. ৪১৪৩, ই.ফা. ৪১৪৪)
৬৫/২/২৩. অধ্যায়ঃ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য নিহতদের ব্যাপারে কিসাসের১ বিধান দেয়া হল, স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তি, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস এবং নারীর বদলে নারী। তবে তার ভাইয়ের তরফ থেকে কাউকে কিছু ক্ষমা করে দেয়া হলে যথাযথ বিধির অনুসরণ করতে হবে এবং সততার সঙ্গে তা তাকে প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের প্রতিপালকের তরফ থেকে ভার লাঘব ও বিশেষ রাহমাত। এরপরও যে কেউ বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৭৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫০০
হাদিস নং ৪৫০০
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُنِيْرٍ سَمِعَ عَبْدَ اللهِ بْنَ بَكْرٍ السَّهْمِيَّ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ الرُّبَيِّعَ عَمَّتَهُ كَسَرَتْ ثَنِيَّةَ جَارِيَةٍ فَطَلَبُوْا إِلَيْهَا الْعَفْوَ فَأَبَوْا فَعَرَضُوا الْأَرْشَ فَأَبَوْا فَأَتَوْا رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبَوْا إِلَّا الْقِصَاصَ فَأَمَرَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالْقِصَاصِ فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَتُكْسَرُ ثَنِيَّةُ الرُّبَيِّعِ لَا وَالَّذِيْ بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا تُكْسَرُ ثَنِيَّتُهَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَا أَنَسُ كِتَابُ اللهِ الْقِصَاصُ فَرَضِيَ الْقَوْمُ فَعَفَوْا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللهِ لَأَبَرَّهُ.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
আনাসের ফুফু রুবাঈ এক বাঁদির সম্মুখ দাঁত ভেঙ্গে ফেলে। এরপর বাঁদির কাছে রুবাঈয়ের লোকজন ক্ষমা চাইলে বাঁদির লোকেরা অস্বীকার করে। তখন তাদের কাছে দিয়াত পেশ করা হল, তখন তা তারা গ্রহণ করল না। অগত্যা তারা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমীপে এসে ঘটনা জানাল। কিন্তু কিসাস ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করতে তারা অস্বীকার করল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কিসাসের নির্দেশ দিলেন। তখন আনাস ইবনু নযর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! রুবাঈদের সামনের দাঁত ভাঙ্গা হবে? না, যে সত্তা আপনাকে সত্য সহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ, তাঁর দাঁত ভাঙ্গা হবে না। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে আনাস! আল্লাহ্র কিতাব তো কিসাসের নির্দেশ দেয়। এরপর বাঁদির লোকেরা রাযী হয়ে যায় এবং রুবাঈ‘কে ক্ষমা করে দেয়। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন ঃ আল্লাহ্র বান্দাদের মাঝে এমন মানুষও আছে যিনি আল্লাহ্র নামে শপথ করলে আল্লাহ তা পূরণ করেন। [২৭০৩] (আ.প্র. ৪১৪২, ই.ফা. ৪১৪৫)
৬৫/২/২৪. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫০১
হাদিস নং ৪৫০১
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللهِ قَالَ أَخْبَرَنِيْ نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ عَاشُوْرَاءُ يَصُوْمُهُ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ قَالَ مَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ لَمْ يَصُمْهُ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, জাহিলী যুগের লোকেরা আশুরার সওম পালন করত। এরপর যখন রমাযানের সওমের বিধান অবতীর্ণ হল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যার ইচ্ছা সে আশুরার সওম পালন করবে আর যার ইচ্ছা সে তার সওম পালন করবে না। [১৮৯২; মুসলিম ১৩/১৯, হাঃ ১১২৬, আহমাদ ৬৩০০] (আ.প্র. ৪১৪৩, ই.ফা. ৪১৪৬)
৬৫/২/২৪. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫০২
হাদিস নং ৪৫০২
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا كَانَ عَاشُوْرَاءُ يُصَامُ قَبْلَ رَمَضَانَ فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ قَالَ مَنْ شَاءَ صَامَ وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রমাযানের সওমের (আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার) পূর্বে আশুরার সওম পালন করা হত। এরপর যখন রমাযানের (সম্পর্কিত বিধান) অবতীর্ণ হল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যে ইচ্ছা করে (আশুরার) সওম পালন করবে, আর যে চায় সে সওম পালন করবে না। [১৫৯২] (আ.প্র. ৪১৪৪, ই.ফা. ৪১৪৭)
৬৫/২/২৪. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫০৩
হাদিস নং ৪৫০৩
مَحْمُوْدٌ أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللهِ عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ مَنْصُوْرٍ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ دَخَلَ عَلَيْهِ الْأَشْعَثُ وَهْوَ يَطْعَمُ فَقَالَ الْيَوْمُ عَاشُوْرَاءُ فَقَالَ كَانَ يُصَامُ قَبْلَ أَنْ يَنْزِلَ رَمَضَانُ فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ تُرِكَ فَادْنُ فَكُلْ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ (রহ.) (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ)
তিনি বলেন, তাঁর নিকট ‘আশ‘আস (রাঃ) আসেন। এ সময় ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) পানাহার করছিলেন। তখন আশ‘আস (রাঃ) বললেন, আজ তো ‘আশুরা। তিনি বললেন, রমাযানের (এর সওমের বিধান) অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ‘আশুরার সওম পালন করা হত। যখন রমাযানের (এর সওমের বিধান) অবতীর্ণ হল তখন তা পরিত্যাগ করা হয়েছে। এসো, তুমিও খাও। [মুসলিম ১৩/১৯, হাঃ ১১২৭] (আ.প্র. ৪১৪৫, ই.ফা. ৪১৪৮)
৬৫/২/২৪. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫০৪
হাদিস নং ৪৫০৪
مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا هِشَامٌ قَالَ أَخْبَرَنِيْ أَبِيْ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ يَوْمُ عَاشُوْرَاءَ تَصُوْمُهُ قُرَيْشٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصُوْمُهُ فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِيْنَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ كَانَ رَمَضَانُ الْفَرِيْضَةَ وَتُرِكَ عَاشُوْرَاءُ فَكَانَ مَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ لَمْ يَصُمْهُ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, জাহিলী যুগে কুরাইশগণ আশুরার দিন সওম পালন করত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও সে সওম পালন করতেন। যখন তিনি মদিনায় হিজরাত করলেন তখনও তিনি সে সওম পালন করতেন এবং অন্যদের পালনের নির্দেশ দিতেন। এরপর যখন রমাযান (সম্পর্কিত আয়াত) অবতীর্ণ হলে রমাযানের সওম ফরয হল এবং আশুরার সওম বাদ গেল। এরপর যে চাইত সে উক্ত সওম পালন করত আর যে চাইত তা পালন করত না। [১৫৯২] (আ.প্র. ৪১৪৬, ই.ফা. ৪১৪৯)
৬৫/২/২৫. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
৬৫/২/২৬. অধ্যায়ঃ
‘‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে সওম করে ।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৮৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫০৬
হাদিস নং ৪৫০৬
عَيَّاشُ بْنُ الْوَلِيْدِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ قَرَأَ {فِدْيَةٌ طَعَامُ مَسَاكِيْنَ} قَالَ هِيَ مَنْسُوْخَةٌ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি পাঠ করতেন فِدْيَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ রাবী বলেন, এ আয়াত (فَمَنْ شَهِدَ الخ আয়াত দ্বারা) রহিত হয়ে গেছে। [১৯৪৯] (আ.প্র. ৪১৪৮, ই.ফা. ৪১৫১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫০৭
হাদিস নং ৪৫০৭
قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ يَزِيْدَ مَوْلَى سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ عَنْ سَلَمَةَ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ {وَعَلَى الَّذِيْنَ يُطَوَّقُوْنَه”” فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِيْنٍ} كَانَ مَنْ أَرَادَ أَنْ يُفْطِرَ وَيَفْتَدِيَ حَتَّى نَزَلَتْ الْآيَةُ الَّتِيْ بَعْدَهَا فَنَسَخَتْهَا.قَالَ أَبُوْ عَبْد اللهِ مَاتَ بُكَيْرٌ قَبْلَ يَزِيْدَ.
বর্ণনাকারী সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাঃ)
তিনি বলেন, وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ এ আয়াত অবতীর্ণ হল এবং যারা সওম পালনের সামর্থ্য রাখে তারা একজন মিসকীনকে ফিদ্য়া স্বরূপ আহার্য দান করবে। তখন যে ইচ্ছা সওম ভঙ্গ করত এবং তার পরিবর্তে ফিদ্য়া প্রদান করত। এরপর পরবর্তী আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং পূর্বোক্ত আয়াতের হুকুম রহিত করে দেয়।আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, ইয়াযীদের পূর্বে বুকায়র মারা যান। [মুসলিম ১৩/২৫, হাঃ ১১৪৫] (আ.প্র. ৪১৪৯, ই.ফা. ৪১৫২)
৬৫/২/২৭. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫০৮
হাদিস নং ৪৫০৮
عُبَيْدُ اللهِ عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ ح و حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ حَدَّثَنَا شُرَيْحُ بْنُ مَسْلَمَةَ قَالَ حَدَّثَنِيْ إِبْرَاهِيْمُ بْنُ يُوْسُفَ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ لَمَّا نَزَلَ صَوْمُ رَمَضَانَ كَانُوْا لَا يَقْرَبُوْنَ النِّسَاءَ رَمَضَانَ كُلَّهُ وَكَانَ رِجَالٌ يَخُوْنُوْنَ أَنْفُسَهُمْ فَأَنْزَلَ اللهُ {عَلِمَ اللهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُوْنَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ}.
বর্ণনাকারী বারাআ (রাঃ)
তিনি বলেন, যখন রমাযানের সওমের হুকুম অবতীর্ণ হল তখন মুসলিমরা গোটা রমাযান মাস স্ত্রীদের নিকটবর্তী হতেন না আর কিছু সংখ্যক লোক এ ব্যাপারে নিজেদের উপর (স্ত্রী-সম্ভোগ করে) অবিচার করে বসে। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন عَلِمَ اللهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ “আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা নিজেদের সঙ্গে প্রতারণা করছিলে। সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করলেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিলেন। অতএব, এখন থেকে তোমরা তাদের সঙ্গে সহবাস করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু বিধিবদ্ধ করেছেন তা লাভ কর” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৮৭)। [১৯১৬] (আ.প্র. ৪১৫১, ই.ফা. ৪১৫৩)
৬৫/২/২৮. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫০৯
হাদিস নং ৪৫০৯
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ عَدِيٍّ قَالَ أَخَذَ عَدِيٌّ عِقَالًا أَبْيَضَ وَعِقَالًا أَسْوَدَ حَتَّى كَانَ بَعْضُ اللَّيْلِ نَظَرَ فَلَمْ يَسْتَبِيْنَا فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ جَعَلْتُ تَحْتَ وِسَادِيْ عِقَالَيْنِ قَالَ إِنَّ وِسَادَكَ إِذًا لَعَرِيْضٌ أَنْ كَانَ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ وَالأَسْوَدُ تَحْتَ وِسَادَتِكَ.
বর্ণনাকারী আদী (রাঃ)
তিনি (আদী) একটি সাদা ও একটি কালো সুতা সঙ্গে রাখলেন। কিন্তু রাত অতিবাহিত হলে খুলে দেখলেন কিন্তু তার কাছে সাদা কালোর কোন পার্থক্য নিরূপিত হল না। যখন সকাল হল তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমি আমার বালিশের নিচে (সাদা ও কালো রংয়ের দু’টি সুতা) রেখেছিলাম (এবং তিনি রাতের ঘটনাটি বললেন)। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার বালিশ তো খুবই বড় দেখছি, যদি কালো ও সাদা সুতা (সুবহি কাযিব ও সুবহি সাদিক) তোমার বালিশের নিচে থেকে থাকে। (রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘আদী (রা.)-এর বর্ণনা শুনে কৌতুক করে বলেছেন যে, গোটা পূর্বাকাশ যদি তোমার বালিশের নিচে রেখে থাক তাহলে সে বালিশ তো খুব বড়ই দেখছি) [১৯১৬] (আ.প্র. ৪১৫২, ই.ফা. ৪১৫৪)
৬৫/২/২৮. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫১০
হাদিস নং ৪৫১০
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ أَهُمَا الْخَيْطَانِ قَالَ إِنَّكَ لَعَرِيْضُ الْقَفَا إِنْ أَبْصَرْتَ الْخَيْطَيْنِ ثُمَّ قَالَ لَا بَلْ هُوَ سَوَادُ اللَّيْلِ وَبَيَاضُ النَّهَارِ
বর্ণনাকারী আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! (আল্লাহ্র বাণীতে) الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ সাদা সুতা কালো সুতা থেকে বের হয়ে আসার অর্থ কী? আসলে কি ঐ দু’টি সুতা? তিনি উত্তর দিলেন, তুমি আজব লোক দেখছি যে, সূতা দু’টি তুমি দেখতে পেয়েছ। তারপর তিনি বললেন, তা নয় বরং এ হল রাতের কৃষ্ণতা ও দিনের শুভ্রতা। [১৯১৬] (আ.প্র. ৪১৫৩, ই.ফা. ৪১৫৫)
৬৫/২/২৯. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫১১
হাদিস নং ৪৫১১
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِيْ مَرْيَمَ حَدَّثَنَا أَبُوْ غَسَّانَ مُحَمَّدُ بْنُ مُطَرِّفٍ حَدَّثَنِيْ أَبُوْ حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ وَأُنْزِلَتْ {وَكُلُوْا وَاشْرَبُوْا حَتّٰى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ} وَلَمْ يُنْزَلْ {مِنَ الْفَجْرِ} وَكَانَ رِجَالٌ إِذَا أَرَادُوا الصَّوْمَ رَبَطَ أَحَدُهُمْ فِيْ رِجْلَيْهِ الْخَيْطَ الْأَبْيَضَ وَالْخَيْطَ الْأَسْوَدَ وَلَا يَزَالُ يَأْكُلُ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُ رُؤْيَتُهُمَا فَأَنْزَلَ اللهُ بَعْدَهُ {مِنَ الْفَجْرِ} فَعَلِمُوْا أَنَّمَا يَعْنِي اللَّيْلَ مِنْ النَّهَارِ
বর্ণনাকারী সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ)
তিনি বলেন, وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمْ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হয় তখন مِنَ الْفَجْرِ ‘ফজর হতে’ কথাটি অবতীর্ণ হয়নি। তাই লোকেরা সওম পালনের ইচ্ছা করলে তখন তাদের কেউ কেউ দুই পায়ে সাদা ও কালো রঙের সূতা বেঁধে রাখত। এরপর ঐ দু’টি সুতা পরিষ্কারভাবে দেখা না যাওয়া পর্যন্ত তারা পানাহার করত। তখন আল্লাহ তা‘আলা পরে مِنَ الْفَجْرِ শব্দটি অবতীর্ণ করেন। এতে লোকেরা জানতে পারেন যে, এ দ্বারা উদ্দেশ্য হল দিন হতে রাত্রির স্পষ্টতা। [১৯১৭] (আ.প্র. ৪১৫৪, ই.ফা. ৪১৫৬)
৬৫/২/৩০. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫১২
হাদিস নং ৪৫১২
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوْسَى عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ كَانُوْا إِذَا أَحْرَمُوْا فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَتَوْا الْبَيْتَ مِنْ ظَهْرِهِ فَأَنْزَلَ اللهُ {وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوا الْبُيُوْتَ مِنْ ظُهُوْرِهَا وَلٰكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقٰى ج وَأْتُوا الْبُيُوْتَ مِنْ أَبْوٰبِهَا}
বর্ণনাকারী বারাআ (রাঃ)
তিনি বলেন, জাহিলী যুগে যখন লোকেরা ইহ্রাম বাঁধত, তারা পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করত। তখন আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন “আর পেছনের দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করাতে কোন পুণ্য নেই, বরং পুণ্য আছে কেউ তাকওয়া অবলম্বন করলে। সুতরাং তোমরা দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ কর” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৮৯)। [১৮০৩] (আ.প্র. ৪১৫৫, ই.ফা. ৪১৫৭)
৬৫/২/৩১. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫১৩
হাদিস নং ৪৫১৩
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَتَاهُ رَجُلَانِ فِيْ فِتْنَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ فَقَالَا إِنَّ النَّاسَ صَنَعُوْا وَأَنْتَ ابْنُ عُمَرَ وَصَاحِبُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَمَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَخْرُجَ فَقَالَ يَمْنَعُنِيْ أَنَّ اللهَ حَرَّمَ دَمَ أَخِيْ فَقَالَا أَلَمْ يَقُلْ اللهُ : {وَقٰتِلُوْهُمْ حَتّٰى لَا تَكُوْنَ فِتْنَةٌ} : فَقَالَ قَاتَلْنَا حَتَّى لَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ وَكَانَ الدِّيْنُ لِلهِ وَأَنْتُمْ تُرِيْدُوْنَ أَنْ تُقَاتِلُوْا حَتَّى تَكُوْنَ فِتْنَةٌ وَيَكُوْنَ الدِّيْنُ لِغَيْرِ اللهِ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তাঁর কাছে দুই ব্যক্তি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়রের যুগে সৃষ্ট ফিতনার সময় আগমন করল এবং বলল, লোকেরা সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আর আপনি ‘‘উমার (রাঃ)-এর পুত্র এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহাবী! কী কারণে আপনি বের হন না? তিনি উত্তর দিলেন আমাকে নিষেধ করেছে এই কথা‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আমার ভাইয়ের রক্ত হারাম করেছে। তারা দু’জন বললেন, আল্লাহ কি এ কথা বলেননি যে, তোমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর যাবৎ না ফিতনার অবসান ঘটে। তখন ইবনু ‘‘উমার (রাঃ) বললেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি যাবৎ না ফিতনার অবসান ঘটেছে এবং দ্বীনও আল্লাহ্র জন্য হয়ে গেছে। আর তোমরা ফিতনা প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করার ইচ্ছা করছ আর যেন আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য দ্বীন হয়ে গেছে। [৩১৩০] (আ.প্র. ৪১৫৬, ই.ফা. ৪১৫৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫১৪
হাদিস নং ৪৫১৪
وَزَادَ عُثْمَانُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ فُلَانٌ وَحَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَمْرٍو الْمَعَافِرِيِّ أَنَّ بُكَيْرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَهُ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ رَجُلًا أَتَى ابْنَ عُمَرَ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ مَا حَمَلَكَ عَلَى أَنْ تَحُجَّ عَامًا وَتَعْتَمِرَ عَامًا وَتَتْرُكَ الْجِهَادَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَقَدْ عَلِمْتَ مَا رَغَّبَ اللهُ فِيْهِ قَالَ يَا ابْنَ أَخِيْ بُنِيَ الإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ إِيْمَانٍ بِاللهِ وَرَسُوْلِهِ وَالصَّلَاةِ الْخَمْسِ وَصِيَامِ رَمَضَانَ وَأَدَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجِّ الْبَيْتِ قَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَلَا تَسْمَعُ مَا ذَكَرَ اللهُ فِيْ كِتَابِهِ {وَإِنْ طَآئِفَتٰنِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ اقْتَتَلُوْا فَأَصْلِحُوْا بَيْنَهُمَا ج فَإِنْمبَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرٰى فَقَاتِلُوا الَّتِيْ تَبْغِيْ حَتّٰى تَفِيْٓءَ إِلٰٓى أَمْرِ اللهِ} وَ{قَاتِلُوْهُمْ حَتّٰى لَا تَكُوْنَ فِتْنَةٌ} قَالَ فَعَلْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ الإِسْلَامُ قَلِيْلًا فَكَانَ الرَّجُلُ يُفْتَنُ فِيْ دِيْنِهِ إِمَّا قَتَلُوْهُ وَإِمَّا يُعَذِّبُوْنَهُ حَتَّى كَثُرَ الإِسْلَامُ فَلَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ
বর্ণনাকারী নাফি’ (রহ.)
এক ব্যক্তি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! কী কারণে আপনি এক বছর হাজ্জ করেন এবং এক বছর ‘উমরাহ করেন অথচ আল্লাহ্র পথে জিহাদ ত্যাগ করেছেন? আপনি পরিজ্ঞাত আছেন যে, আল্লাহ এ বিষয়ে জিহাদ সম্পর্কে কীভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে ভাতিজা! ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে পাঁচটি বস্তুর উপর ঃ আল্লাহ ও তাঁর রসূল (সঃ)-এর প্রতি ঈমান আনা, পাঁচ ওয়াক্ত সলাত প্রতিষ্ঠা, রমাযানের সওম পালন, যাকাত প্রদান এবং বাইতুল্লাহ্র হাজ্জ পালন। তখন সে ব্যক্তি বলল, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবে কী বর্ণনা করেছেন তা কি আপনি শুনেননি? وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللهِ “আর যদি মু‘মিনদের দু’টি দল পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করে দিবে। অতঃপর যদি তাদের একদল অন্য দলের উপর বাড়াবাড়ি করে, তবে তোমরা যারা বাড়াবাড়ি করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহ্র হুকুমের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে, তবে তোমরা উভয় দলের মধ্যে ন্যায়ের সঙ্গে সন্ধি করে দিবে এবং ইনসাফ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফ কায়িমকারীদেরকে ভালবাসেন।” (সূরাহ আল-হুজরাত ৪৯/৯)قَاتِلُوهُمْ حَتَّى لاَ تَكُونَ فِتْنَةٌ (এ আয়াতগুলো শ্রবণ করার পর) ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমরা এ কাজ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে করেছি এবং তখন ইসলামের অনুসারীর দল স্বল্প সংখ্যক ছিল। যদি কোন লোক দ্বীন সম্পর্কে ফিতনায় নিপতিত হত তখন হয় তাকে হত্যা করা হত অথবা শাস্তি প্রদান করা হত। এভাবে ইসলামের অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে গেল। তখন আর কোন ফিতনা রইল না। [৮, ৩১৩০] (আ.প্র. ৪১৫৭, ই.ফা. ৪১৫৮ শেষাংশ)
৬৫/২/৩২. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের মধ্যে যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা মাথায় কোন কষ্ট থাকে তবে সওম কিংবা সদাকাহ অথবা কুরবানী দিয়ে তার ফিদ্ইয়া দিবে। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৯৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫১৭
হাদিস নং ৪৫১৭
آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَصْبَهَانِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ مَعْقِلٍ قَالَ قَعَدْتُ إِلَى كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ فِيْ هَذَا الْمَسْجِدِ يَعْنِيْ مَسْجِدَ الْكُوْفَةِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ فِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ فَقَالَ حُمِلْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالْقَمْلُ يَتَنَاثَرُ عَلَى وَجْهِيْ فَقَالَ مَا كُنْتُ أُرَى أَنَّ الْجَهْدَ قَدْ بَلَغَ بِكَ هَذَا أَمَا تَجِدُ شَاةً قُلْتُ لَا قَالَ صُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَطْعِمْ سِتَّةَ مَسَاكِيْنَ لِكُلِّ مِسْكِيْنٍ نِصْفُ صَاعٍ مِنْ طَعَامٍ وَاحْلِقْ رَأْسَكَ فَنَزَلَتْ فِيَّ خَاصَّةً وَهْيَ لَكُمْ عَامَّةً.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মা‘কিল (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি কা‘ব ইবনু উজরা-এর নিকট এই কূফার মাসজিদে বসে থাকাকালে সওমের ফিদ্য়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমার চেহারায় উকুন ছড়িয়ে পড়া অবস্থায় আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আনা হয়। তিনি তখন বললেন, আমি মনে করি যে, এতে তোমার কষ্ট হচ্ছে। তুমি কি একটি বকরী সংগ্রহ করতে পার? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তুমি তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন দরিদ্রকে খাদ্য দান কর। প্রতিটি দরিদ্রকে অর্ধ সা‘ খাদ্য দান করতে হবে এবং তোমার মাথার চুল কামিয়ে ফেল। তখন আমার ব্যাপারে বিশেষভাবে আয়াত অবতীর্ণ হয়। তবে তোমাদের সকলের জন্য এই হুকুম। [১৮১৪] (আ.প্র. ৪১৫৯, ই.ফা. ৪১৬০)
৬৫/২/৩৩. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ যখন তোমরা নিরাপদ হবে, তখন তোমাদের মধ্যে যে কেউ হাজ্জ ও ‘উমরাহ একত্রে পালন করতে চায়, সে যা কিছু সহজলভ্য তা দিয়ে কুরবানী করবে। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৯৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫১৮
হাদিস নং ৪৫১৮
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عِمْرَانَ أَبِيْ بَكْرٍ حَدَّثَنَا أَبُوْ رَجَاءٍ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أُنْزِلَتْ آيَةُ الْمُتْعَةِ فِيْ كِتَابِ اللهِ فَفَعَلْنَاهَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يُنْزَلْ قُرْآنٌ يُحَرِّمُهُ وَلَمْ يَنْهَ عَنْهَا حَتَّى مَاتَ قَالَ رَجُلٌ بِرَأْيِهِ مَا شَاءَ.
বর্ণনাকারী ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)
তিনি বলেন, তামাত্তুর (‘উমরাহ ও হাজ্জ একসঙ্গে করে লাভবাব হওয়ার) আয়াত আল্লাহ্র কিতাবে অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে তা) করেছি এবং এর নিষিদ্ধতা ঘোষণা করে কুরআনের কোন আয়াত অবতীর্ণ হয়নি এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তিকাল পর্যন্ত তা থেকে নিষেধও করেনি। এ ব্যাপারে এক ব্যক্তি নিজের ইচ্ছানুযায়ী মতামত ব্যক্ত করেছেন। [১৫৭১; মুসলিম ১৫/২৩, হাঃ ১২২৬, আহমাদ ১৯৮৭১] (আ.প্র. ৪১৬০, ই.ফা. ৪১৬১)
৬৫/২/৩৪. অধ্যায়ঃ
‘‘তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় তোমাদের কোন পাপ নেই।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৯৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫১৯
হাদিস নং ৪৫১৯
مُحَمَّدٌ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَتْ عُكَاظُ وَمَجَنَّةُ وَذُو الْمَجَازِ أَسْوَاقًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَتَأَثَّمُوْا أَنْ يَتَّجِرُوْا فِي الْمَوَاسِمِ فَنَزَلَتْ : {لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوْا فَضْلًا مِّنْ رَّبِّكُ} فِيْ مَوَاسِمِ الْحَجِّ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, উকায, মাজান্না এবং যুল-মাজায নামক স্থানে জাহিলী যুগে বাজার ছিল। মুসলিমগণ সেখানে হাজ্জ মওসুমে ব্যবসা করতে যাওয়া দূষণীয় মনে করত। তাই অবতীর্ণ হল ঃ “তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অনে¦ষণ করায় তোমাদের কোন পাপ নেই” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৯৮)। [১৭৭০] (আ.প্র. ৪১৬১, ই.ফা. ৪১৬২)
৬৫/২/৩৫. অধ্যায়ঃ
‘‘তারপর তোমরা দ্রুতগতিতে সেখান থেকে ফিরে আস যেখান থেকে সবাই ফিরে।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৯৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫২০
হাদিস নং ৪৫২০
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا كَانَتْ قُرَيْشٌ وَمَنْ دَانَ دِيْنَهَا يَقِفُوْنَ بِالْمُزْدَلِفَةِ وَكَانُوْا يُسَمَّوْنَ الْحُمْسَ وَكَانَ سَائِرُ الْعَرَبِ يَقِفُوْنَ بِعَرَفَاتٍ فَلَمَّا جَاءَ الإِسْلَامُ أَمَرَ اللهُ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَأْتِيَ عَرَفَاتٍ ثُمَّ يَقِفَ بِهَا ثُمَّ يُفِيْضَ مِنْهَا فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى {ثُمَّ أَفِيْضُوْا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ}
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
কুরাইশ এবং যারা তাদের দ্বীনের অনুসারী ছিল তারা (হাজ্জের সময়) মুযদালাফাহতে অবস্থান করত। আর কুরাইশগণ নিজেদের ‘হুকুম’ ও (ধর্মে অটল) বলে অভিহিত করত এবং অপরাপর আরবগণ আরাফাতে অবস্থান করত। অতঃপর ইসলামের আগমন ঘটলে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ‘আরাফাতে আসার, সেখানে ওকুফের এবং এরপর সেখান থেকে ফেরার নির্দেশ দিলেন। ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ আয়াত আল্লাহ এ সম্পর্কেই ব্যক্ত করেছেন। [১৬৬৫] (আ.প্র. ৪১৬২, ই.ফা. ৪১৬৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫২১
হাদিস নং ৪৫২১
مُحَمَّدُ بْنُ أَبِيْ بَكْرٍ حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا مُوْسَى بْنُ عُقْبَةَ أَخْبَرَنِيْ كُرَيْبٌ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ يَطَّوَّفُ الرَّجُلُ بِالْبَيْتِ مَا كَانَ حَلَالًا حَتَّى يُهِلَّ بِالْحَجِّ فَإِذَا رَكِبَ إِلَى عَرَفَةَ فَمَنْ تَيَسَّرَ لَهُ هَدِيَّةٌ مِنَ الإِبِلِ أَوِ الْبَقَرِ أَوِ الْغَنَمِ مَا تَيَسَّرَ لَهُ مِنْ ذَلِكَ أَيَّ ذَلِكَ شَاءَ غَيْرَ أَنَّهُ إِنْ لَمْ يَتَيَسَّرْ لَهُ فَعَلَيْهِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَذَلِكَ قَبْلَ يَوْمِ عَرَفَةَ فَإِنْ كَانَ آخِرُ يَوْمٍ مِنَ الْأَيَّامِ الثَلَاثَةِ يَوْمَ عَرَفَةَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ ثُمَّ لِيَنْطَلِقْ حَتَّى يَقِفَ بِعَرَفَاتٍ مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى أَنْ يَكُوْنَ الظَّلَامُ ثُمَّ لِيَدْفَعُوْا مِنْ عَرَفَاتٍ إِذَا أَفَاضُوْا مِنْهَا حَتَّى يَبْلُغُوْا جَمْعًا الَّذِيْ يَبِيْتُوْنَ بِهِ ثُمَّ لِيَذْكُرُوا اللهَ كَثِيْرًا وَأَكْثِرُوا التَّكْبِيْرَ وَالتَّهْلِيْلَ قَبْلَ أَنْ تُصْبِحُوْا ثُمَّ أَفِيْضُوْا فَإِنَّ النَّاسَ كَانُوْا يُفِيْضُوْنَ وَقَالَ اللهُ تَعَالَى {ثُمَّ أَفِيْضُوْا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُوا اللهَ إِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ} حَتَّى تَرْمُوا الْجَمْرَةَ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, তামাত্তু আদায়কারী ‘উমরাহ আদায়ের পর যদ্দিন হালাল অবস্থায় থাকবে তদ্দিন বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবে। তারপর হাজ্জের জন্য ইহ্রাম বাঁধবে। এরপর যখন ‘আরাফাতে যাবে তখন উট, গরু, ছাগল ইত্যাদি যা মুহ্রিমের জন্য সহজলভ্য হয় তা মীনাতে কুরবানী করবে। আর যে কুরবানীর সঙ্গতি রাখে না সে হাজ্জের দিনসমূহের মধ্যে তিনদিন সওম পালন করবে। আর তা ‘আরাফার দিনের আগে হতে হবে। আর তিনদিনের শেষ দিন যদি ‘আরাফার দিন হয়, তবে তাতে কোন দোষ নেই। তারপর ‘আরাফাত ময়দানে যাবে এবং সেখানে ‘আসরের সলাত হতে সূর্যাস্তের অন্ধকার পর্যন্ত ‘ওকুফ (অবস্থান) করবে। এরপর ‘আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করে মুযদালাফায় পৌঁছে সেখানে পুণ্য অর্জনের কাজ করতে থাকবে আর সেখানে আল্লাহ্কে অধিক অথবা (রাবীর সন্দেহ) সবচেয়ে অধিক স্মরণ করবে। সেখানে ফাজ্র হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাকবীর ও তাহলীল পাঠ করবে। এরপর (মীনার দিকে) প্রত্যাবর্তন করবে যেভাবে অন্যান্য লোক প্রত্যাবর্তন করে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “এরপর প্রত্যাবর্তন কর সেখান হতে, যেখান হতে লোকজন প্রত্যাবর্তন করে এবং আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমাশীল, দয়াময়।” তারপর জামরায় প্রস্তর নিক্ষেপ করবে। (আ.প্র. ৪১৬৩, ই.ফা. ৪১৬৪)
৬৫/২/৩৬. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫২২
হাদিস নং ৪৫২২
أَبُوْ مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيْزِ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ {اللّٰهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ}
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বলে দু‘আ করতেন ঃ اللهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ “হে আমাদের প্রভু! এ দুনিয়াতেও আমাদের কল্যাণ দান কর এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান কর এবং দোজখের ‘আযাব থেকে আমাদের রক্ষা কর” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২০১)। (আ.প্র. ৪১৬৪, ই.ফা. ৪১৬৫)
[১] উপরোক্ত আয়াতটিকে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় পঠিতব্য দু‘আ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কারণ উক্ত দু‘আ ও আয়াতের দ্বারা বান্দা আল্লাহর নিকট দুনিয়ার সামগ্রিক কল্যাণ ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ কামনা করে থাকে। আখিরাতের অনন্ত জীবনকে ভুলে গিয়ে যারা কেবল পার্থিব জীবনকে নিয়ে ব্যস্ত, তাদেরকে এই বস্ত্তজগতের মোহ-মমতার প্রতি এত বিপুল পরিমাণে আকর্ষণ করে যে, শেষ পর্যন্ত এই শ্রেণীর মানুষ আল্লাহকে ভুলে গিয়ে সীমাহীনভাবে পাপাসক্তিতে লিপ্ত হয়, স্বীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রয়োজনে অন্যায়-অত্যাচার, অবিচার, ব্যভিচার ও লুণ্ঠনসহ যাবতীয় নৃশংসতা, নিষ্ঠুরতার সীমা ছাড়িয়ে এক হিংস্র পশুতে পরিণত হয়। অবলীলায় সৃষ্টি জগতের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বার্থপরতা, ভোগবাদিতা, লোলুপতা ও লাম্পট্য তাকে আল্লাহ বিমুখ করে দেয়। ফলে এই শ্রেণীর মানুষদের মধ্য হতেই নাস্তিক্যবাদ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত নাস্তিক হয়ে তাকে দুনিয়া ত্যাগ করতে হয়। পক্ষান্তরে আল্লাহয় বিশ্বাসী আর এক শ্রেণীর মানুষ দুনিয়ার প্রতি এতই ত্যক্ত, বিরক্ত যে তারা বিবাহ-শাদীতে অনাগ্রহী ব্যবসা-বাণিজ্যে অমনোযোগী, ঘর-সংসারের কাজে-কর্মে অনুৎসাহী হয়ে এক ধরনের বৈরাগ্য জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে কালাতিপাত করতে থাকে। বলা বাহুল্য, এই শ্রেণীর মানুষ সমাজ, দেশ, জাতি ও বিশ্ব সভ্যতার উপরে দুর্বহ বোঝার ন্যায় বিচরণ করছে। উল্লেখ্য, উপরোক্ত উভয় শ্রেণীর মানুষই মানবতা, সভ্যতা ও বিশ্ব বিবেকের বিচারে অবাঞ্ছিত, অনাকাঙ্ক্ষিত বটে। অতএব আলোচ্য প্রার্থনামূলক আয়াত দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা এতদুভয়কেই এক নৈতিক, আধ্যাত্মিক, ব্যবহারিক তথা মানুষের প্রাত্যহিক জীবনকে পরিমার্জিত ও সুষমামন্ডিত করার জন্য এক অভূতপূর্ব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। আলোচ্য দু‘আর আয়াতে উভয় শ্রেণীকে এক সুসমন্বয় ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় উন্নীত করার সুচিন্তিত ব্যবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আর এ বিষয়ের সংক্ষিপ্ত কথা এই যে, কেবল দুনিয়া দুনিয়া করে মহামূল্যবান জীবনকে শেষ করলে চলবে না, আখিরাত অবশ্যম্ভাবী। আবার আখিরাতের প্রতি মনোযোগ দিতে গিয়ে কেউ যেন সংসারবিরাগী হয়ে না যায়। কৃচ্ছ্র সাধনায়, বৈরাগ্য সাধনায় ইহ-পরকালের কোন কল্যাণ নেই, আল্লাহ প্রেমিক যেন এ কথাটিকে শিরোধার্য করে নেয়। উক্ত আয়াতের একান্ত ও মৌল লক্ষ্য এটাই। দুনিয়ার প্রতি আসক্তি আসার প্রয়োজন আছে, অতটুকু যতটুকু উপায়-উপকরণ ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবন যাপনে আবশ্যক। যেমন কবির ভাষায় প্রতিভাত হয়েছেঃ آب اندر در هلاك كشتى است - آب اندر زير كشتى ﭘشتى است (رومي رح) নৌকা চলতে পানির আবশ্যকতা অনস্বীকার্য। কিন্তু সেই পানি নৌকায় বেশী পরিমাণে প্রবেশ করলে নৌকার ধ্বংস ও নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। সুতরাং এ দুনিয়ার সাথে একজন মু’মিনের সম্পর্ক তেমন, যেমন নৌকার সাথে পানির সম্পর্ক। একজন মু’মিনের জন্য দুনিয়ায় সতর্কতা আবশ্যক। যাতে সে এ ভব সাগরে চিরতরেই ডুবে না যায়। আসুন! এখন এ বিষয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অমিয় বাণী থেকে হিদায়াত গ্রহণে মনোনিবেশ করি। সহীহুল বুখারীর বর্ণনায় নিম্নোক্ত সহীহ হাদীস, আহমাদ বিন হাম্বলের বর্ণনায় ও অন্যান্য গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারীদের রিওয়ায়াতে আছে। فقال البخاري: حدثنا معمر حدثنا عبد الوارث عن عبد العزيز عن أنس بن مالك قال: كان النبي - صلى الله عليه وسلم - يقول "اللهم ربنا آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار" وقال أحمد: حدثنا إسماعيل بن إبراهيم حدثنا عبد العزيز بن صهيب قال: سأل قتادة أنسا أي دعوة كان أكثر ما يدعوها النبي صلى الله عليه وسلم قال: يقول "اللهم ربنا آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار" وكان أنس إذا أراد أن يدعو بدعوة دعا بها وإذا أراد أن يدعو بدعاء دعا بها فيه ورواه مسلم وقال ابن أبي حاتم: حدثنا أبي حدثنا أبو نعيم حدثنا عبدالسلام بن شداد يعني أبا طالوت قال: كنت عند أنس بن مالك فقال له ثابت إن إخوانك يحبون أن تدعو لهم فقال: اللهم آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار وتحدثوا ساعة حتى إذا أرادوا القيام قال أبا حمزة: إن إخوانك يريدون القيام فادع الله لهم فقال: أتريدون أن أشقق لكم الْأمور إذا آتاكم الله في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة ووقاكم عذاب النار فقد آتاكم الخير كله. وقال أحمد أيضا: حدثنا محمد بن أبي عدي عن حميد عن ثابت عن أنس أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - عاد رجلا من المسلمين قد صار مثل الفرخ فقال له رسول الله - صلى الله عليه وسلم - "هل تدعو الله بشيء أو تسأله إياه" قال نعم: كنت أقول اللهم ما كنت معاقبي به في الآخرة فعجله لي في الدنيا. فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - "سبحان الله لا تطيقه أو لا تستطيعه فهلا قلت "ربنا آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار" قال فدعا الله فشفاه অর্থঃ ইমাম বুখারী (রহ.) পরপর কয়েকজন বর্ণনাকারীর উল্লেখ করে আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে দু‘আ করতেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাদের দুনিয়ার যাবতীয় কল্যাণ দান কর এবং আখিরাতের সমস্ত কল্যাণও দান কর এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে বাঁচাও। অতঃপর ইমাম আহমাদ বলেন, ক্বাতাদাহ আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দু‘আটি বেশী বেশী করতেন? তিনি (উত্তরে) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘রাববানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া . . . . . . . . ওয়াক্বিনা ‘আযাবান নার’ এই দু‘আই বেশী বেশী করতেন। অতঃপর ইমাম মুসলিম বলেন, আনাস (রাঃ) দু‘আ করার ইচ্ছা করলে তিনিও উক্ত দু‘আ করতেন। আনাস বিন মালিক (রাঃ)-এর অন্য বর্ণনায় দেখা যায় তাঁকে ‘সাবিত’ নামক জনৈক তাবিয়ী বলেন যে, আপনার ভাইয়েরা কামনা করছে, আপনি তাদের জন্য একটু দু‘আ করুন, তখন তিনি উপরোক্ত দু‘আই করেন। আনাস হতে আর একটি ঘটনার উল্লেখ দেখা যায়, তা এই যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুসলিম রোগীকে ডাকলেন; যে স্বীয় রোগব্যাধির কারণে অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েছিল। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কি আল্লাহর কাছে দু‘আর মাধ্যমে কোন কিছু চাও? লোকটি বলল, হ্যাঁ চাই। আর তা এই যে, আমি আল্লাহ তা‘আলার নিকট দু‘আ করছি, তিনি যেন আমাকে আখিরাতে শাস্তি না দিয়ে তাড়াতাড়ি এই দুনিয়াতেই শাস্তি দেন। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুবহানাল্লাহ! ওহে! তোমার তা সহ্য করার ক্ষমতা নেই। কেন তুমি ‘রাববানা আতিনা . . . . . ওয়াক্বিনা ‘আযাবান্ নার’- এই দু‘আটি আল্লাহর নিকট করছ না? রাবী বলেন, অতঃপর এই দু‘আর ওয়াসীলায় আল্লাহ তা‘আলা উক্ত লোকটিকে রোগ-যন্ত্রণা হতে মুক্তি দেন ও সুস্থ করেন। সুবহানাল্লাহ! আলোচ্য আয়াত ও উল্লেখিত হাদীসসমূহ দ্বারা নিশ্চিতভাবেই প্রমাণিত হচ্ছে নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া আখিরাত উভয়টিকেই মানুষের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিধায় স্বীয় মুবারক দু‘আর মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য দু‘আ করতেন এবং আল্লাহ তা‘আলার বিধান ও মর্জি এ বিষয়ে এমন বলেই তিনি কুরআন মাজীদের দ্বারা তদীয় নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সমস্ত মু’মিনদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ, আখিরাতের কল্যাণ ও জাহান্নাম হতে মুক্তির জন্য প্রার্থনা বাক্য শিক্ষা দিয়েছেন। যাতে একটা করতে গিয়ে আর একটা হালকা হয়ে না যায়। সুতরাং এ বিষয়টির উপসংহার করতে গিয়ে ফারসী ভাষায় রচিত আল্লাহর ওয়ালীর কবিতাখানি এখানে যথার্থই প্রণিধানযোগ্য। কবি বলেনঃ نمردانست كه دينا دوست دارد ু اكر دارد برائ دوست دارد (سعدي رح) এ দুনিয়া আমার প্রকৃত বন্ধু নয়, তবে আমার পরম বন্ধু আল্লাহর কাজ করতে গিয়ে দুনিয়ার সাহায্য নিতে হয়। এজন্য যতটুকু একান্ত প্রয়োজন, হালাল-হারামের সীমার মধ্যে অবস্থান করে ঠিক ততটুকু দুনিয়াদারী করা দূষণীয় নয়। বরং আবশ্যক বটে।
৬৫/২/৩৭. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ প্রকৃতপক্ষে সে কিন্তু ঘোর বিরোধী। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২০৪) وَقَالَ عَطَاءٌ النَّسْلُ الْحَيَوَانُ.
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫২৩
হাদিস নং ৪৫২৩
قَبِيْصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ تَرْفَعُهُ قَالَ أَبْغَضُ الرِّجَالِ إِلَى اللهِ الْأَلَدُّ الْخَصِمُ.وَقَالَ عَبْدُ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহ্র নিকট অতিশয় ঘৃণিত মানুষ হচ্ছে অতিরিক্ত ঝগড়াটে ব্যক্তি। [২৪৫৭]‘আবদুল্লাহ বলেন, আমার কাছে সুফ্ইয়ান হাদীস বর্ণনা করেন, সুফ্ইয়ান বলেন, আমার কাছে ইবনু জুরায়জ ইবনু আবূ মুলাইকাহ হতে ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এই মর্মে বর্ণনা করেছেন। (আ.প্র. ৪১৬৫, ই.ফা. ৪১৬৬)
৬৫/২/৩৮. অধ্যায়ঃ
‘তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা বেহেশতে চলে যাবে, যদিও এখনও তোমরা তাদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে গত হয়েছে? তাদের উপর পতিত হয়েছিল অর্থ-সংকট ও দুঃখ-ক্লেশ। তারা এমনভাবে ভীত-শিহরিত হয়েছিল যে, রসূল এবং তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তাদের বলতে হয়েছিলঃ কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য? হাঁ, আল্লাহর সাহায্য একান্তই কাছে।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২১৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫২৪
হাদিস নং ৪৫২৪
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِيْ مُلَيْكَةَ يَقُوْلُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا {حَتّٰى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوْآ أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوْا} خَفِيْفَةً ذَهَبَ بِهَا هُنَاكَ وَتَلَا : {حَتّٰى يَقُوْلَ الرَّسُوْلُ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا مَعَه” مَتٰى نَصْرُ اللهِ أَلَآ إِنَّ نَصْرَ اللهِ قَرِيْبٌ} فَلَقِيْتُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ فَذَكَرْتُ لَهُ ذَلِكَ
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, আল্লাহ্র বাণী ঃ এমনকি যখন রসূলগণ নিরাশ হয়ে পড়ল এবং ভাবতে লাগল যে, তাদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দেয়া হয়েছে (সূরাহ ইউসুফ ১২/১১০)। তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এই আয়াতসহ সূরাহ আল-বাকারাহ্র আয়াতের শরণাপন্ন হন ও তিলাওয়াত করেন, যেমন ঃ حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللهِ أَلاَ إِنَّ نَصْرَ اللهِ قَرِيبٌ এমনকি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সঙ্গে ঈমান আনয়নকারীগণ বলে উঠেছিলআল্লাহ্র সাহায্য কখন আসবে? হ্যাঁ, হ্যাঁ, আল্লাহ্র সাহায্য নিকটেই (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২১৪)।
৬৫/২/৩৮. অধ্যায়ঃ
‘তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা বেহেশতে চলে যাবে, যদিও এখনও তোমরা তাদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে গত হয়েছে? তাদের উপর পতিত হয়েছিল অর্থ-সংকট ও দুঃখ-ক্লেশ। তারা এমনভাবে ভীত-শিহরিত হয়েছিল যে, রসূল এবং তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তাদের বলতে হয়েছিলঃ কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য? হাঁ, আল্লাহর সাহায্য একান্তই কাছে।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২১৪)
৬৫/২/৩৯. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের স্ত্রীরা হল তোমাদের শস্যক্ষেত্র। যেভাবে ইচ্ছা তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে গমন করতে পার। তবে তোমরা নিজেদের জন্য কিছু আগামী দিনের ব্যবস্থা করবে এবং আল্লাহ্কে ভয় করবে। আর জেনে রেখ যে, আল্লাহর সঙ্গে তোমাদের সাক্ষাৎ হবেই এবং মু’মিনদের সুসংবাদ দাও। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২২৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫২৬
হাদিস নং ৪৫২৬
إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ نَافِعٍ قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا إِذَا قَرَأَ الْقُرْآنَ لَمْ يَتَكَلَّمْ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْهُ فَأَخَذْتُ عَلَيْهِ يَوْمًا فَقَرَأَ سُوْرَةَ الْبَقَرَةِ حَتَّى انْتَهَى إِلَى مَكَانٍ قَالَ تَدْرِيْ فِيْمَ أُنْزِلَتْ قُلْتُ لَا قَالَ أُنْزِلَتْ فِيْ كَذَا وَكَذَا ثُمَّ مَضَى
বর্ণনাকারী নাফি‘ (রহ.)
তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) যখন কুরআন তিলাওয়াত করতেন তখন কুরআন তিলাওয়াত হতে অবসর না হয়ে কোন কথা বলতেন না। একদা আমি সূরাহ আল-বাকারাহ পাঠরত অবস্থায় তাঁকে পেলাম। পড়তে পড়তে এক স্থানে তিনি পৌঁছলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি জান, কী ব্যাপারে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে? আমি বললাম, না। তিনি তখন বললেন, অমুক অমুক ব্যাপারে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর আবার পাঠে অগ্রসর হলেন। [৪৫২৭] (আ.প্র. ৪১৬৭, ই.ফা. ৪১৬৮)
৬৫/২/৩৯. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের স্ত্রীরা হল তোমাদের শস্যক্ষেত্র। যেভাবে ইচ্ছা তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে গমন করতে পার। তবে তোমরা নিজেদের জন্য কিছু আগামী দিনের ব্যবস্থা করবে এবং আল্লাহ্কে ভয় করবে। আর জেনে রেখ যে, আল্লাহর সঙ্গে তোমাদের সাক্ষাৎ হবেই এবং মু’মিনদের সুসংবাদ দাও। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২২৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫২৭
হাদিস নং ৪৫২৭
وَعَنْ عَبْدِ الصَّمَدِ حَدَّثَنِيْ أَبِيْ حَدَّثَنِيْ أَيُّوْبُ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ {فَأْتُوْا حَرْثَكُمْ أَنّٰى شِئْتُم} قَالَ يَأْتِيْهَا فِيْ رَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيْدٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুস সামাদ
তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেন, আমার পিতা, তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেন আইয়ুব, তিনি নাফি‘ থেকে আর নাফি‘ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে। فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ “অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২২৩)। রাবী বলেন, স্ত্রীলোকের পশ্চাৎদিক দিয়ে সহবাস করতে পারে। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি ‘উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি নাফি‘ থেকে এবং তিনি ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। [৪৫২৬] (আ.প্র. ৪১৬৭, ই.ফা. ৪১৬৮)
৬৫/২/২৮. অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫২৮
হাদিস নং ৪৫২৮
أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ سَمِعْتُ جَابِرًا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَتْ الْيَهُوْدُ تَقُوْلُ إِذَا جَامَعَهَا مِنْ وَرَائِهَا جَاءَ الْوَلَدُ أَحْوَلَ فَنَزَلَتْ {نِسَآؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوْا حَرْثَكُمْ أَنّٰى شِئْتُمْ وَقَدِّمُوْا لِأَنْفُسِكُم}
বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)
তিনি বলেন, ইয়াহূদীরা বলত যে, যদি কেউ স্ত্রীর পেছন দিক থেকে সহবাস করে তাহলে সন্তান টেরা চোখের হয়। তখন (এর প্রতিবাদে) نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ আয়াত অবতীর্ণ হয়। [মুসলিম ত্বলাক/১৮, হাঃ ১৪৩৫] (আ.প্র. ৪১৬৮, ই.ফা. ৪১৬৯)
৬৫/২/৪০. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আর যখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের তালাক দিয়ে দাও এবং তারা তাদের ‘ইদ্দাত’কাল পূর্ণ করতে থাকে তখন যদি তারা পরস্পর সম্মত হয়ে নিজেদের স্বামীদের বিধিমত বিয়ে করতে চায় তাহলে তোমরা তাদের বাধা দিবে না। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৩২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫২৯
হাদিস নং ৪৫২৯
عُبَيْدُ اللهِ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا أَبُوْ عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ رَاشِدٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَعْقِلُ بْنُ يَسَارٍ قَالَ كَانَتْ لِيْ أُخْتٌ تُخْطَبُ إِلَيَّ.وَقَالَ إِبْرَاهِيْمُ عَنْ يُوْنُسَ عَنِ الْحَسَنِ حَدَّثَنِيْ مَعْقِلُ بْنُ يَسَارٍ ح حَدَّثَنَا أَبُوْ مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا يُوْنُسُ عَنِ الْحَسَنِ أَنَّ أُخْتَ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا فَتَرَكَهَا حَتَّى انْقَضَتْ عِدَّتُهَا فَخَطَبَهَا فَأَبَى مَعْقِلٌ فَنَزَلَتْ {فَلَا تَعْضُلُوْهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ}.
বর্ণনাকারী মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ)
তিনি বলেন, আমার এক বোনের বিয়ের পয়গাম আমার নিকট পেশ করা হয়। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন যে, ইবরাহীম (রহ.) ইউনুস (রহ.) থেকে, তিনি হাসান বসরী (রহ.) থেকে এবং তিনি মা‘কির ইবনু ইয়াসার (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন।আবূ মা‘মার (রহ.) ....... হাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ)-এর বোনকে তার স্বামী তালাক দিয়ে আলাদা করে রাখে। যখন ইদ্দত কাল পূর্ণ হয় তখন তার স্বামী তাকে আবার পয়গাম পাঠায়। মা‘কিল (রাঃ) অমত করে পুনর্বিবাহে তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ “তখন যদি তারা পরস্পর সম্মত হয়ে নিজেদের স্বামীদের বিধিমত বিয়ে করতে চায় তাহলে তোমরা তাদের বাধা দিবে না” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৩২)। [৫১৩০, ৫৩৩০, ৫৩৩১] (আ.প্র. ৪১৬৯, ই.ফা. ৪১৭০)
৬৫/২/৪১. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৩০
হাদিস নং ৪৫৩০
أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ حَبِيْبٍ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ قُلْتُ لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ {وَالَّذِيْنَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُوْنَ أَزْوَاجًا} قَالَ قَدْ نَسَخَتْهَا الآيَةُ الْأُخْرَى فَلِمَ تَكْتُبُهَا أَوْ تَدَعُهَا قَالَ يَا ابْنَ أَخِيْ لَا أُغَيِّرُ شَيْئًا مِنْهُ مِنْ مَكَانِهِ.
বর্ণনাকারী . ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘উসমান ইবনু ‘আফ্ফান (রাঃ)-কে উক্ত আয়াত সম্পর্কে বললাম যে, এ আয়াত তো অন্য আয়াত দ্বারা মানসূখ (রহিত) হয়ে গেছে। অতএব উক্ত আয়াত আপনি মুসহাফে কেন লিখেছেন, (অথবা রাবী বলেন) কেন বর্জন করছেন না, তখন তিনি [‘উসমান (রাঃ)] বললেন, হে ভাতিজা! আমি মুসহাফের স্থান থেকে কোন জিনিস পরিবর্তন করব না। [৪৫৩৬] (আ.প্র. ৪১৭০, ই.ফা. ৪১৭১)
৬৫/২/৪১. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৩১
হাদিস নং ৪৫৩১
إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا شِبْلٌ عَنْ ابْنِ أَبِيْ نَجِيْحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ : {وَالَّذِيْنَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُوْنَ أَزْوَاجًا} قَالَ كَانَتْ هَذِهِ الْعِدَّةُ تَعْتَدُّ عِنْدَ أَهْلِ زَوْجِهَا وَاجِبٌ فَأَنْزَلَ اللهُ : {وَالَّذِيْنَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُوْنَ أَزْوَاجًا ﺻﻠﮯج وَّصِيَّةً لِّأَزْوَاجِهِمْ مَّتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ ج فَإِنْ خَرَجْنَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيْ مَا فَعَلْنَ فِيْٓ أَنْفُسِهِنَّ مِنْ مَّعْرُوْفٍ ط وَاللهُ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ}. قَالَ : جَعَلَ اللهُ لَهَا تَمَامَ السَّنَةِ سَبْعَةَ أَشْهُرٍ وَعِشْرِيْنَ لَيْلَةً وَصِيَّةً إِنْ شَاءَتْ سَكَنَتْ فِيْ وَصِيَّتِهَا وَإِنْ شَاءَتْ خَرَجَتْ وَهْوَ قَوْلُ اللهِ تَعَالَى : {غَيْرَ إِخْرَاجٍ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ} فَالْعِدَّةُ كَمَا هِيَ وَاجِبٌ عَلَيْهَا زَعَمَ ذَلِكَ عَنْ مُجَاهِدٍ وَقَالَ عَطَاءٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ نَسَخَتْ هَذِهِ الْآيَةُ عِدَّتَهَا عِنْدَ أَهْلِهَا فَتَعْتَدُّ حَيْثُ شَاءَتْ وَهْوَ قَوْلُ اللهِ تَعَالَى : {غَيْرَ إِخْرَاجٍ}.قَالَ عَطَاءٌ إِنْ شَاءَتْ اعْتَدَّتْ عِنْدَ أَهْلِهِ وَسَكَنَتْ فِيْ وَصِيَّتِهَا وَإِنْ شَاءَتْ خَرَجَتْ لِقَوْلِ اللهِ تَعَالَى {فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيْمَا فَعَلْنَ} قَالَ عَطَاءٌ ثُمَّ جَاءَ الْمِيْرَاثُ فَنَسَخَ السُّكْنَى فَتَعْتَدُّ حَيْثُ شَاءَتْ وَلَا سُكْنَى لَهَا وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ عَنْ ابْنِ أَبِيْ نَجِيْحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ بِهَذَا.وَعَنْ ابْنِ أَبِيْ نَجِيْحٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَسَخَتْ هَذِهِ الْآيَةُ عِدَّتَهَا فِيْ أَهْلِهَا فَتَعْتَدُّ حَيْثُ شَاءَتْ لِقَوْلِ اللهِ {غَيْرَ إِخْرَاجٍ} نَحْوَهُ.
বর্ণনাকারী মুজাহিদ (রহ.)
তিনি বলেন, وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا আয়াতে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর পরিবারে থেকে ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। আয়াতে উল্লিখিত يَعْفُوْنَ শব্দের অর্থيَهَبْنَ দান করে। অনন্তর আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন ঃ وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لِأَزْوَاجِهِمْ مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِي أَنْفُسِهِنَّ مِنْ مَعْرُوفٍ وَاللهُ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ “আর তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুমুখে পতিত হবে, তারা (মৃত্যুর পূর্বে) স্ত্রীদের ঘর থেকে বের না করে দিয়ে তাদের জন্য এক বছরের ভরণপোষণের অসিয়াত করে যাবে। কিন্তু যদি তারা নিজেরা বেরিয়ে যায় তবে বিধিমত তারা নিজেদের ব্যাপারে যা করবে তাতে তোমাদের কোন পাপ হবে না। আর আল্লাহ হলেন পরাক্রমশালী, মহাবিজ্ঞ” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৪০)। রাবী বলেন, আল্লাহ তা‘আলা স্ত্রীর জন্য পূর্ণ বছর পূর্ণ করার জন্য সাত মাস এবং বিশ রজনী নির্ধারিত করেছেন ওসীয়ত হিসেবে। সে ইচ্ছা করলে তার ওসীয়তে থাকতে পারে, ইচ্ছা করলে বের হয়েও যেতে পারে। এ কথারই ইঙ্গিত করে আল্লাহ্র বাণী ঃ غَيْرَ إِخْرَاجٍ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ মোটকথা যেভাবেই হোক স্ত্রীর উপর ‘ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। মুজাহিদ থেকে এরূপই জানা গেছে। কিন্তু ইমাম ‘আত্বা বলেন যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এই আয়াত স্ত্রীর প্রতি তার স্বামীর বাড়িতে ‘ইদ্দত পালন করার হুকুম রহিত করে দিয়েছে। সুতরাং স্ত্রী যথেচ্ছা ‘ইদ্দত পালন করতে পারে। আল্লাহ্র এই বাণীর দলীল বলে ঃ غَيْرَ إِخْرَاجٍ ইমাম ‘আত্বা বলেন, স্ত্রী ইচ্ছা করলে স্বামীর পরিবারে থেকে ‘ইদ্দত পালন করতে পারে এবং তার ওসীয়ত থাকতে পারে অথবা তথা হতে চলেও যেতে পারে। فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيْمَا فَعَلْنَ এর আয়াতের মর্ম মুতাবিক।ইমাম ‘আত্বা (রহ.) বলেন, তারপর মিরাস বা উত্তরাধিকারের হুকুম فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হল। সুতরাং ঘর ও বাসস্থানের নির্দেশ রহিত হয়ে যায়। কাজেই যথেচ্ছা স্ত্রী ‘ইদ্দত পালন করত পারে। আর তার জন্য ঘরের বা বাসস্থানের দাবী অগ্রাহ্য।মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাদীস বর্ণনা করেন আমার নিকট ওরাকা’ ইবনু আবী নাজীহ্ থেকে আর তিনি মুজাহিদ থেকে এ সম্পর্কে এবং আরও আবূ নাজীহ্ ‘আত্বা থেকে এবং তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এই আয়াত স্ত্রীর ‘ইদ্দত স্বামীর বাড়িতে পালন করার হুকুম রহিত করে দেয়। সুতরাং স্ত্রী যথেচ্ছা ‘ইদ্দত পালন করতে পারে। আল্লাহ্র এই বাণী ঃ غَيْرَ إِخْرَاجٍ এবং অনুরূপ আয়াত এর দলীল অনুসারে। [৫৩৪৪] (আ.প্র. ৪১৭১, ই.ফা. ৪১৭২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৩২
হাদিস নং ৪৫৩২
حِبَّانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيْرِيْنَ قَالَ جَلَسْتُ إِلَى مَجْلِسٍ فِيْهِ عُظْمٌ مِنَ الْأَنْصَارِ وَفِيْهِمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِيْ لَيْلَى فَذَكَرْتُ حَدِيْثَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ فِيْ شَأْنِ سُبَيْعَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَلَكِنَّ عَمَّهُ كَانَ لَا يَقُوْلُ ذَلِكَ فَقُلْتُ إِنِّيْ لَجَرِيْءٌ إِنْ كَذَبْتُ عَلَى رَجُلٍ فِيْ جَانِبِ الْكُوْفَةِ وَرَفَعَ صَوْتَهُ قَالَ ثُمَّ خَرَجْتُ فَلَقِيْتُ مَالِكَ بْنَ عَامِرٍ أَوْ مَالِكَ بْنَ عَوْفٍ قُلْتُ كَيْفَ كَانَ قَوْلُ ابْنِ مَسْعُوْدٍ فِي الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا وَهْيَ حَامِلٌ فَقَالَ قَالَ ابْنُ مَسْعُوْدٍ أَتَجْعَلُوْنَ عَلَيْهَا التَّغْلِيْظَ وَلَا تَجْعَلُوْنَ لَهَا الرُّخْصَةَ لَنَزَلَتْ سُوْرَةُ النِّسَاءِ الْقُصْرَى بَعْدَ الطُّوْلَى.وَقَالَ أَيُّوْبُ عَنْ مُحَمَّدٍ لَقِيْتُ أَبَا عَطِيَّةَ مَالِكَ بْنَ عَامِرٍ.
বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি এমন একটি মজলিসে উপবিষ্ট ছিলাম যেখানে নেতৃস্থানীয় আনসারদের কতক ছিলেন এবং তাঁদের মাঝে ‘আবদুর রহমান বিন আবূ লাইলা (রহ.)-ও ছিলেন। এরপর সুরাইয়া বিনতে হারিস (রহ.) প্রসঙ্গে বর্ণিত ‘আবদুল্লাহ বিন উত্বা (রহ.)-এর হাদীসটি নিয়ে আলোচনা করলাম, এরপর ‘আবদুর রহমান (রহ.) বললেন, “পক্ষান্তরে তাঁর চাচা এ রকম বলতেন না” অনন্তর আমি বললাম, কূফায় বসবাসরত ব্যক্তিটি সম্পর্কে যদি আমি মিথ্যা বলি তবে আমি হব চরম ধৃষ্ট এবং তিনি তাঁর স্বর উঁচু করলেন, তিনি বললেন, তারপর আমি বের হলাম এবং মালিক বিন ‘আমির (রাঃ) মালিক ইবনু ‘আওফ (রহ.)-এর সঙ্গে আমি বললাম, গর্ভাবস্থায় বিধবা রমণীর ব্যাপারে ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর মন্তব্য কী ছিল, বললেন যে ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেছেন, তোমরা কি তার উপর কঠোরতা অবলম্বন করছ আর তার জন্য সহজ বিধানটি অবলম্বন করছ না, সংক্ষিপ্ত সূরাহ নাসটি (সূরাহ ত্বালাক) দীর্ঘটি পরে অবতীর্ণ হয়েছে। আইয়ুব (রহ.) মুহাম্মাদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, আবূ আতিয়াহ মালিক বিন ‘আমির (রহ.)-এর সঙ্গে আমি সাক্ষাৎ করেছিলাম। [৪৯১০] (আ.প্র. ৪১৭২, ই.ফা. ৪১৭৩)
৬৫/২/৪২. অধ্যায়ঃ
‘‘তোমরা সলাতের প্রতি যত্নবান হবে বিশেষত মধ্যবর্তী সলাতের।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৩৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৩৩
হাদিস নং ৪৫৩৩
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبِيْدَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ح و حَدَّثَنِيْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ عَنْ عَبِيْدَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ حَبَسُوْنَا عَنْ صَلَاةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَابَتْ الشَّمْسُ مَلَا اللهُ قُبُوْرَهُمْ وَبُيُوْتَهُمْ أَوْ أَجْوَافَهُمْ شَكَّ يَحْيَى نَارًا
বর্ণনাকারী ‘আলী (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আবদুর রহমান ....... ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, খন্দক যুদ্ধের দিন কাফিরগণ আমাদেরকে মধ্যবর্তী সলাত থেকে বিরত রাখে এমনকি এ অবস্থায় সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়। আল্লাহ তাদের কবর ও তাদের ঘরকে অথবা (রাবীর সন্দেহ) পেটকে আগুন দ্বারা পূর্ণ করুক। [২৯৩১] (আ.প্র. ৪১৭৩, ই.ফা. ৪১৭৪)
৬৫/২/৪৩. অধ্যায়ঃ
‘‘এবং আল্লাহর উদ্দেশে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াবে।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৩৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৩৪
হাদিস নং ৪৫৩৪
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ إِسْمَاعِيْلَ بْنِ أَبِيْ خَالِدٍ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ شُبَيْلٍ عَنْ أَبِيْ عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ كُنَّا نَتَكَلَّمُ فِي الصَّلَاةِ يُكَلِّمُ أَحَدُنَا أَخَاهُ فِيْ حَاجَتِهِ حَتَّى نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {حَافِظُوْا عَلَى الصَّلَوٰتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطٰى وَقُوْمُوْا لِلهِ قَانِتِيْنَ} فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوْتِ
বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা সলাতের মধ্যে কথাবার্তা বলতাম আর আমাদের কেউ অন্য ভাইয়ের প্রয়োজন নিয়ে কথা বলতেন। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় ঃحَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ তখন আমাদেরকে চুপ থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। [১২০০] (আ.প্র. ৪১৭৪, ই.ফা. ৪১৭৫)
৬৫/২/৪৪. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৩৫
হাদিস নং ৪৫৩৫
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا كَانَ إِذَا سُئِلَ عَنْ صَلَاةِ الْخَوْفِ قَالَ يَتَقَدَّمُ الإِمَامُ وَطَائِفَةٌ مِنْ النَّاسِ فَيُصَلِّيْ بِهِمْ الإِمَامُ رَكْعَةً وَتَكُوْنُ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْعَدُوِّ لَمْ يُصَلُّوْا فَإِذَا صَلَّى الَّذِيْنَ مَعَهُ رَكْعَةً اسْتَأْخَرُوْا مَكَانَ الَّذِيْنَ لَمْ يُصَلُّوْا وَلَا يُسَلِّمُوْنَ وَيَتَقَدَّمُ الَّذِيْنَ لَمْ يُصَلُّوْا فَيُصَلُّوْنَ مَعَهُ رَكْعَةً ثُمَّ يَنْصَرِفُ الإِمَامُ وَقَدْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَيَقُوْمُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْ الطَّائِفَتَيْنِ فَيُصَلُّوْنَ لِأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً بَعْدَ أَنْ يَنْصَرِفَ الإِمَامُ فَيَكُوْنُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْ الطَّائِفَتَيْنِ قَدْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَإِنْ كَانَ خَوْفٌ هُوَ أَشَدَّ مِنْ ذَلِكَ صَلَّوْا رِجَالًا قِيَامًا عَلَى أَقْدَامِهِمْ أَوْ رُكْبَانًا مُسْتَقْبِلِي الْقِبْلَةِ أَوْ غَيْرَ مُسْتَقْبِلِيْهَا قَالَ مَالِكٌ قَالَ نَافِعٌ لَا أُرَى عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ ذَكَرَ ذَلِكَ إِلَّا عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم
বর্ণনাকারী নাফি‘ (রহ.)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে যখন সলাতুল খাওফ (যুদ্ধক্ষেত্রে শত্র“র ভয় থাকা অবস্থায় সলাত) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হত তখন তিনি বলতেন, ইমাম সামনে যাবেন এবং একদল লোকও জামা‘আতে শামিল হবে। তিনি তাদের সঙ্গে এক রাক‘আত সলাত আদায় করবেন এবং তাদের আর একদল জামা‘আতে শামিল না হয়ে তাদের ও শত্র“র মাঝখানে থেকে যারা সলাত আদায় করেনি তাদের পাহারা দিবে। ইমামের সঙ্গে যারা এক রাক‘আত সলাত আদায় করেছে তারা পেছনে গিয়ে যারা এখনও সলাত আদায় করেনি তাদের স্থানে দাঁড়াবে কিন্তু সালাম ফেরাবে না। যারা সলাত আদায় করেনি তারা আগে বাড়বে এবং ইমামের সঙ্গে এক রাক‘আত আদায় করবে। তারপর ইমাম সলাত হতে নিষ্ক্রান্ত হবেন। কেননা তিনি দু’ রাক‘আত সলাত আদায় করেছেন। এরপর উভয় দল দাঁড়িয়ে নিজে নিজে বাকি এক রাক‘আত ইমামের সলাত শেষে আদায় করে নেবে। তাহলে প্রত্যেক জনেরই দু’ রাক‘আত সলাত আদায় হয়ে যাবে। ভয়-ভীতি এর চেয়েও অধিক হলে নিজে নিজে দাঁড়িয়ে অথবা যানবাহনে আরোহী অবস্থায় কিবলার দিকে মুখ করে বা যেদিকে সম্ভব মুখ করে সলাত আদায় করবে। ইমাম মালিক (রহ.) বলেন, ইমাম নাফি‘ (রহ.) বলেন, আমি অবশ্য মনে করি ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেই এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। [৯৪২] (আ.প্র. ৪১৭৫, ই.ফা. ৪১৭৬)
৬৫/২/৪৫. অধ্যায়ঃ
আর তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মৃত্যুমুখে পতিত হবে, .....(সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৪০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৩৬
হাদিস নং ৪৫৩৬
عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي الْأَسْوَدِ حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ الْأَسْوَدِ وَيَزِيْدُ بْنُ زُرَيْعٍ قَالَا حَدَّثَنَا حَبِيْبُ بْنُ الشَّهِيْدِ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ قَالَ قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ قُلْتُ لِعُثْمَانَ هَذِهِ الْآيَةُ الَّتِيْ فِي الْبَقَرَةِ {وَالَّذِيْنَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُوْنَ أَزْوَاجًا} إِلَى قَوْلِهِ {غَيْرَ إِخْرَاجٍ} قَدْ نَسَخَتْهَا الْأُخْرَى فَلِمَ تَكْتُبُهَا قَالَ تَدَعُهَا يَا ابْنَ أَخِيْ لَا أُغَيِّرُ شَيْئًا مِنْهُ مِنْ مَكَانِهِ قَالَ حُمَيْدٌ أَوْ نَحْوَ هَذَا
বর্ণনাকারী ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রাঃ)
বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু যুবায়র (রাঃ) বললেন, আমি ‘উসমান (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, সূরাহ আল-বাকারাহ্র এ আয়াতটি وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا কে তো অন্য একটি আয়াত রহিত করে দিয়েছে। তারপরও আপনি তা কেন লিখছেন? জবাবে ‘উসমান (রাঃ) বললেন, ভ্রাতুষ্পুত্র। আমরা তা যথাস্থানে রেখে দিয়েছি। আপন স্থান থেকে কোন কিছুই আমরা সরিয়ে ফেলিনি। হুমাইদ (রহ.) বললেন, অথবা প্রায় এ রকমই উত্তর দিয়ে দিলেন। [৪৫৩০] (আ.প্র. ৪১৭৬, ই.ফা. ৪১৭৭)
৬৫/২/৪৬. অধ্যায়ঃ
আর স্মরণ কর যখন ইবরাহীম বললঃ হে আমার পালনকর্তা! আমাকে দেখাও কীভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৬০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৩৭
হাদিস নং ৪৫৩৭
أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِيْ يُوْنُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِيْ سَلَمَةَ وَسَعِيْدٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَحْنُ أَحَقُّ بِالشَّكِّ مِنْ إِبْرَاهِيْمَ إِذْ قَالَ {رَبِّ أَرِنِيْ كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتٰى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلٰى وَلٰكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِيْ}.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, ইবরাহীম (‘আ.) যখন رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে দেখাও কেমন করে তুমি মৃতকে জীবিত কর? তখন ইবরাহীম (‘আ.)-এর তুলনায় সন্দেহ করার ব্যাপারে আমিই অগ্রসর ছিলাম । [৩৩৭২] (আ.প্র. ৪১৭৭, ই.ফা. ৪১৭৮)
৬৫/২/৪৭. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ {أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَنْ تَكُوْنَ لَه” جَنَّةٌ مِّنْ نَخِيْلٍ وَّأَعْنَابٍ} إِلَى قَوْلِهِ {لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُوْنَ}.
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৩৮
হাদিস নং ৪৫৩৮
إِبْرَاهِيْمُ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِيْ مُلَيْكَةَ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ وَسَمِعْتُ أَخَاهُ أَبَا بَكْرِ بْنَ أَبِيْ مُلَيْكَةَ يُحَدِّثُ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَوْمًا لِأَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيْمَ تَرَوْنَ هَذِهِ الْآيَةَ نَزَلَتْ {أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَنْ تَكُوْنَ لَه” جَنَّةٌ} قَالُوا اللهُ أَعْلَمُ فَغَضِبَ عُمَرُ فَقَالَ قُوْلُوْا نَعْلَمُ أَوْ لَا نَعْلَمُ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِيْ نَفْسِيْ مِنْهَا شَيْءٌ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ قَالَ عُمَرُ يَا ابْنَ أَخِيْ قُلْ وَلَا تَحْقِرْ نَفْسَكَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ضُرِبَتْ مَثَلًا لِعَمَلٍ قَالَ عُمَرُ أَيُّ عَمَلٍ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لِعَمَلٍ قَالَ عُمَرُ لِرَجُلٍ غَنِيٍّ يَعْمَلُ بِطَاعَةِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ بَعَثَ اللهُ لَهُ الشَّيْطَانَ فَعَمِلَ بِالْمَعَاصِيْ حَتَّى أَغْرَقَ أَعْمَالَهُ
বর্ণনাকারী ‘উবায়দ ইবনু ‘উমায়র (রাঃ)
একদা ‘উমার (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন যে, أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَنْ تَكُونَ لَهُ جَنَّةٌ এ আয়াতটি যে উপলক্ষে অবতীর্ণ হয়েছে, সে ব্যাপারে আপনাদের মতামত কী? তখন তারা বললেন, আল্লাহই জানেন। ‘উমার (রাঃ) এতে রেগে গিয়ে বললেন, বল আমরা জানি অথবা আমরা জানি না। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ ব্যাপারে আমার অন্তরে কিছুটা ধারণা আছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, বৎস! বলে ফেল এবং নিজেকে তুচ্ছ ভেবো না। তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, এটা কর্মের দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করা হয়েছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, কোন্ কর্মের? ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, একটি কর্মের। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এটি উদাহরণ হচ্ছে সেই ধনবান ব্যক্তির, যে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ্র ‘ইবাদাত করতে থাকে, এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রতি শায়ত্বকে প্রেরণ করেন। অতঃপর সে কাজ করে শেষ পর্যন্ত তাঁর সকল সৎকর্ম বরবাদ করে ফেলে। (আ.প্র. ৪১৭৮, ই.ফা. ৪১৭৯)
৬৫/২/৪৮. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ কাকুতি-মিনতি করে তারা মানুষের কাছে ভিক্ষা চায় না। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৭৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৩৯
হাদিস নং ৪৫৩৯
ابْنُ أَبِيْ مَرْيَمَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ شَرِيْكُ بْنُ أَبِيْ نَمِرٍ أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِيْ عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيَّ قَالَا سَمِعْنَا أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُوْلُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ الْمِسْكِيْنُ الَّذِيْ تَرُدُّهُ التَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ وَلَا اللُّقْمَةُ وَلَا اللُّقْمَتَانِ إِنَّمَا الْمِسْكِيْنُ الَّذِيْ يَتَعَفَّفُ وَاقْرَءُوْا إِنْ شِئْتُمْ يَعْنِيْ قَوْلَهُ {لَا يَسْأَلُوْنَ النَّاسَ إِلْحَافًا}
বর্ণনাকারী ‘আত্বা ইবনু ইয়াসার এবং আবূ ‘আম্র আনসারী (রাঃ)
তাঁরা উভয়ে বলেন যে, আমরা আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, একটি খেজুর কি দু’টি খেজুর আর এক গ্রাস কি দু’ গ্রাস খাদ্য যাকে দ্বারে দ্বারে ঘোরাতে থাকে সে প্রকৃত মিসকীন নয়। মিসকীন তো সে, যে ভিক্ষা করা থেকে বেঁচে থাকে। তোমরা (মিসকীন অর্থ) জানতে চাইলে আল্লাহ্র বাণী পাঠ করতে পার لاَ يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا । [১৪৭৬] (আ.প্র. ৪১৭৯, ই.ফা. ৪১৮০)
৬৫/২/৪৯. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ এবং সুদকে অবৈধ করেছেন- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৭৫)।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৪০
হাদিস নং ৪৫৪০
عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ لَمَّا نَزَلَتْ الآيَاتُ مِنْ آخِرِ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ فِي الرِّبَا قَرَأَهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى النَّاسِ ثُمَّ حَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي الْخَمْرِ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, সুদ সম্পর্কে সূরাহ আল-বাকারাহ্র শেষ আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হল তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকেদের নিকট তা পাঠ করে শোনালেন। তারপর মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ করে দিলেন। [৪৫৯] (আ.প্র. ৪১৮০, ই.ফা. ৪১৮১)
৬৫/২/৫০. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৭৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৪১
হাদিস নং ৪৫৪১
بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ سَمِعْتُ أَبَا الضُّحَى يُحَدِّثُ عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ لَمَّا أُنْزِلَتْ الْآيَاتُ الْأَوَاخِرُ مِنْ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ خَرَجَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَتَلَاهُنَّ فِي الْمَسْجِدِ فَحَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي الْخَمْرِ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, সূরাহ আল-বাকারাহ্র শেষ আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হল, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘর থেকে বের হলেন এবং মাসজিদে লোকেদেরকে তা পড়ে শোনালেন। এরপর মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ করে দিলেন। [৪৫৯] (আ.প্র. ৪১৮১, ই.ফা. ৪১৮২)
৬৫/২/৫১. অধ্যায়ঃ
‘‘তারপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে তৈরি হয়ে যাও’’- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৭৯)।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৪২
হাদিস নং ৪৫৪২
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مَنْصُوْرٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا أُنْزِلَتْ الآيَاتُ مِنْ آخِرِ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ قَرَأَهُنَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِمْ فِي الْمَسْجِدِ وَحَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي الْخَمْرِ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, সূরাহ আল-বাকারাহ্র শেষ আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হল, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাসজিদে তা পাঠ করে শুনান এবং মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ করে দেন। (আ.প্র. ৪১৮২, ই.ফা. ৪১৮৩)
৬৫/২/৫২. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ খাতক (ঋণী) যদি অভাবগ্রস্ত হয় তবে তার সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দেয়া উচিত। আর যদি তোমরা ক্ষমা করে দাও, তা হবে তোমাদের জন্য অতি উত্তম কাজ, যদি তোমরা জানতে। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৮০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৪৩
হাদিস নং ৪৫৪৩
وَ قَالَ لَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُوْرٍ وَالأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا أُنْزِلَتْ الآيَاتُ مِنْ آخِرِ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ قَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَهُنَّ عَلَيْنَا ثُمَّ حَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي الْخَمْرِ
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, সূরাহ আল-বাকারার শেষ দিকের আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হল, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং আমাদের সামনে তা পাঠ করলেন। তারপর মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ করে দিলেন। [৪৫৯] (আ.প্র. ৪১৮৩, ই.ফা. ৪১৮৪)
৬৫/২/৫৩. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আর সেদিনকে ভয় কর, যেদিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৮১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৪৪
হাদিস নং ৪৫৪৪
قَبِيْصَةُ بْنُ عُقْبَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ آخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم آيَةُ الرِّبَا
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর অবতীর্ণ কৃত শেষ আয়াতটি হল সুদ সম্পর্কিত। (আ.প্র. ৪১৮৪, ই.ফা. ৪১৮৫)
৬৫/২/৫৪. অধ্যায়ঃ
"তোমাদের মনে যা আছে তা তোমরা প্রকাশ কর কিংবা গোপন রাখ আল্লাহ তোমাদের নিকট হতে তার হিসাব নেবেন। তারপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৮৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৪৫
হাদিস নং ৪৫৪৫
مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ حَدَّثَنَا مِسْكِيْنٌ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ مَرْوَانَ الْأَصْفَرِ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهْوَ ابْنُ عُمَرَ أَنَّهَا قَدْ نُسِخَتْ {وَإِنْ تُبْدُوْا مَا فِىْٓ أَنْفُسِكُمْ أَو تُخْفُوْهُ} الآيَةَ.
বর্ণনাকারী মারওয়ান আল আসফার (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহাবীদের কোন একজন থেকে বর্ণনা করেন, আর তিনি হচ্ছেন ইবনু ‘উমার (রাঃ) যে, وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ (তোমাদের অন্তরের কথা প্রকাশ কর আর গোপন কর তার হিসাব আল্লাহ তোমাদের থেকে নেবেন) আয়াতটি রহিত হয়ে গেছে। [৪৫৪৬] (আ.প্র. ৪১৮৫, ই.ফা. ৪১৮৬)
৬৫/২/৫৫. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ রসূল ঈমান এনেছেন ঐ সব বিষয়ের উপর যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে এবং মু’মিনরাও ঈমান এনেছে। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/২৮৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৪৬
হাদিস নং ৪৫৪৬
إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُوْرٍ أَخْبَرَنَا رَوْحٌ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ مَرْوَانَ الْأَصْفَرِ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَحْسِبُهُ ابْنَ عُمَرَ {وَإِنْ تُبْدُوْا مَا فِىْٓ أَنْفُسِكُمْ أَو تُخْفُوْهُ}قَالَ : نَسَخَتْهَا الْآيَةُ الَّتِيْ بَعْدَهَا.
বর্ণনাকারী মারওয়ানুল আসফার (রাঃ)
একজন সহাবী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন আর তিনি ধারণা করেন যে, তিনি ইবনু ‘উমার (রাঃ) হবেন। وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ আয়াতটি মানসুখ হয়ে গেছে। [৪৫৪৫] (আ.প্র. ৪১৮৬, ই.ফা. ৪১৮৭)
৬৫/৩/১. অধ্যায়ঃ
...... যার কতক আয়াত সুস্পষ্ট দ্ব্যর্থহীন।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৪৭
হাদিস নং ৪৫৪৭
عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ التُّسْتَرِيُّ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ تَلَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هَذِهِ الْآيَةَ {هُوَ الَّذِيْٓ أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتٰبَ مِنْهُ اٰيٰتٌ مُّحْكَمٰتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتٰبِ وَأُخَرُ مُتَشٰبِهٰتٌ ط فَأَمَّا الَّذِيْنَ فِىْ قُلُوْبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُوْنَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَآءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَآءَ تَأْوِيْلِهٰ ﺻ ج وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيْلَه”ٓ إِلَّا اللهُ ﺻ ﻣ وَالرَّاسِخُوْنَ فِى الْعِلْمِ يَقُوْلُوْنَ اٰمَنَّا بِهٰ لا كُلٌّ مِّنْ عِنْدِ رَبِّنَا ج وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّآ أُولُوا الْأَلْبَابِ (7)} قَالَتْ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : فَإِذَا رَأَيْتِ الَّذِيْنَ يَتَّبِعُوْنَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ فَأُوْلَئِكِ الَّذِيْنَ سَمَّى اللهُ فَاحْذَرُوْهُمْ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়াতটি هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ ............ إِلاَّ أُولُو الأَلْبَابِ “তিনিই তোমার প্রতি এ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার কতক আয়াত সুস্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন। এগুলো কিতাবের মূল অংশ; আর অন্যগুলো রূপক; যাদের অন্তরে সত্য-লঙ্ঘন প্রবণতা রয়েছে শুধু তারাই ফিতনা এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশে যা রূপক তার অনুসরণ করে। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তাঁরা বলেন, আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে ঃ আমরা এতে ঈমান এনেছি, এসবই আমাদের প্রভুর তরফ থেকে এসেছে। জ্ঞানবানরা ব্যতীত কেউ নাসীহাত গ্রহণ করে না” (সূরাহ আলু ইমরান ৩/৭) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোষণা করেছেন যে, যারা মুতাশাবাহাত আয়াতের পেছনে ছুটে তাদের যখন তুমি দেখবে তখন মনে করবে যে, তাদের কথাই আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে বলেছেন। সুতরাং তাদের ব্যাপারে সাবধান থাকবে। [মুসলিম ৪৭/১, হাঃ ২৬৬৫, আহমাদ ২৬২৫৭] (আ.প্র. ৪১৮৭, ই.ফা. ৪১৮৮)
৬৫/৩/২. অধ্যায়ঃ
‘‘তাঁকে ও তার সন্তানদের তোমার আশ্রয়ে সোপর্দ করছি বিতাড়িত শয়তানের কবল থেকে বাঁচার জন্য।’’ (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/৩৬)(আ.প্র. ৪১৮৭, ই.ফা. ৪১৮৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৪৮
হাদিস নং ৪৫৪৮
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا مِنْ مَوْلُوْدٍ يُوْلَدُ إِلَّا وَالشَّيْطَانُ يَمَسُّهُ حِيْنَ يُوْلَدُ فَيَسْتَهِلُّ صَارِخًا مِنْ مَسِّ الشَّيْطَانِ إِيَّاهُ إِلَّا مَرْيَمَ وَابْنَهَا ثُمَّ يَقُوْلُ أَبُوْ هُرَيْرَةَ وَاقْرَءُوْا إِنْ شِئْتُمْ. {وَإِنِّيْ أُعِيْذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ}.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, প্রত্যেক নবপ্রসূত বাচ্চার জন্মের সময় শয়তান অবশ্যই তাকে স্পর্শ করে। ফলে শয়তানের স্পর্শমাত্র সে চীৎকার করে উঠে। কিন্তু মারইয়াম (‘আ.) ও তাঁর পুত্র ঈসা (‘আ.)-কে পারেনি। তারপর আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলতেন, যদি তোমরা (এটা জানতে) ইচ্ছা কর তাহলে পড় ঃ وَإِنِّي أُعِيذ ُهَا بِكَ وَذ ُرِّيَّتَهَا مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ। [৩২৮৬] (আ.প্র. ৪১৮৮, ই.ফা. ৪১৮৯)
৬৫/৩/৩. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৫১
হাদিস নং ৪৫৫১
عَلِيٌّ هُوَ ابْنُ أَبِيْ هَاشِمٍ سَمِعَ هُشَيْمًا أَخْبَرَنَا الْعَوَّامُ بْنُ حَوْشَبٍ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِيْ أَوْفَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَجُلًا أَقَامَ سِلْعَةً فِي السُّوْقِ فَحَلَفَ فِيْهَا لَقَدْ أَعْطَى بِهَا مَا لَمْ يُعْطِهِ لِيُوْقِعَ فِيْهَا رَجُلًا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ فَنَزَلَتْ {إِنَّ الَّذِيْنَ يَشْتَرُوْنَ بِعَهْدِ اللهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيْلًا} إِلَى آخِرِ الآيَةِ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আউফা (রাঃ)
এক ব্যক্তি বিক্রি করার জন্য বাজারে কিছু জিনিস আনলো এবং কসম করে বলতে শুরু করলো যে, লোকে এ জিনিসের এতো এতো মূল্য দিচ্ছে। অথচ কেউ তা দেয়নি। এ মিথ্যা বলার উদ্দেশ্য হলো, মুসলিমরা যাতে তার এ কথা বিশ্বাস করে তার নিকট থেকে জিনিসটা ক্রয় করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত অবতীর্ণ হল ঃ “যারা আল্লাহ্র প্রতিকৃত প্রতিশ্র“তি ও কসম নগণ্য মূল্যে বিক্রি করে, আখিরাতে তাদের অংশে কিছুই অবশিষ্ট থাকলো না। ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে কঠিন কষ্টদায়ক শাস্তি” (সূরাহ আলু ইমরান ৩/৭৭)। [২০৮৮] (আ.প্র. ৪১৯০, ই.ফা. ৪১৯১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৫২
হাদিস নং ৪৫৫২
نَصْرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ نَصْرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دَاوُدَ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ أَنَّ امْرَأَتَيْنِ كَانَتَا تَخْرِزَانِ فِيْ بَيْتٍ أَوْ فِي الْحُجْرَةِ فَخَرَجَتْ إِحْدَاهُمَا وَقَدْ أُنْفِذَ بِإِشْفَى فِيْ كَفِّهَا فَادَّعَتْ عَلَى الْأُخْرَى فَرُفِعَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : لَوْ يُعْطَى النَّاسُ بِدَعْوَاهُمْ لذَهَبَ دِمَاءُ قَوْمٍ وَأَمْوَالُهُمْ ذَكِّرُوْهَا بِاللهِ وَاقْرَءُوْا عَلَيْهَا : {إِنَّ الَّذِيْنَ يَشْتَرُوْنَ بِعَهْدِ اللهِ} فَذَكَّرُوْهَا فَاعْتَرَفَتْ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : الْيَمِيْنُ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِز.
বর্ণনাকারী ইবনু আবূ মুলাইকাহ্ (রাঃ)
দু’জন মহিলা একটি ঘর কিংবা একটি কক্ষে সেলাই করছিল। হাতের তালুতে সুই বিদ্ধ হয়ে তাদের একজন বেরিয়ে পড়ল এবং অপরজনের বিরুদ্ধে সুই ফুটিয়ে দেয়ার অভিযোগ করল। এই ব্যাপারটি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট পেশ করা হলে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যদি শুধুমাত্র দাবীর উপর ভিত্তি করে মানুষের দাবী পূরণ করা হয়, তাহলে তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা থাকবে না। সুতরাং তোমরা বিবাদীদের আল্লাহ্র নামে শপথ করাও এবং এ আয়াত তার সম্মুখে পাঠ কর। এরপর তারা তাকে শপথ করাল এবং সে নিজ দোষ স্বীকার করল। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, শপথ বিবাদীকে করতে হবে। [২৫১৪; মুসলিম ৩০/১, হাঃ ১৭১১] (আ.প্র. ৪১৯১, ই.ফা. ৪১৯২)
৬৫/৩/৪. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আপনি বলে দিনঃ হে আহলে কিতাব! এসো সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এক ও অভিন্ন। তা হল, আমরা যেন আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদাত না করি- (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/৬৪)।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৫৩
হাদিস নং ৪৫৫৩
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى عَنْ هِشَامٍ عَنْ مَعْمَرٍ ح وحَدَّثَنِيْ عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ أَبُوْ سُفْيَانَ مِنْ فِيْهِ إِلَى فِيَّ قَالَ انْطَلَقْتُ فِي الْمُدَّةِ الَّتِيْ كَانَتْ بَيْنِيْ وَبَيْنَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَبَيْنَا أَنَا بِالشَّأْمِ إِذْ جِيْءَ بِكِتَابٍ مِنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى هِرَقْلَ قَالَ وَكَانَ دَحْيَةُ الْكَلْبِيُّ جَاءَ بِهِ فَدَفَعَهُ إِلَى عَظِيْمِ بُصْرَى فَدَفَعَهُ عَظِيْمُ بُصْرَى إِلَى هِرَقْلَ قَالَ فَقَالَ هِرَقْلُ هَلْ هَا هُنَا أَحَدٌ مِنْ قَوْمِ هَذَا الرَّجُلِ الَّذِيْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ فَقَالُوْا نَعَمْ قَالَ فَدُعِيْتُ فِيْ نَفَرٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَدَخَلْنَا عَلَى هِرَقْلَ فَأُجْلِسْنَا بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ أَيُّكُمْ أَقْرَبُ نَسَبًا مِنْ هَذَا الرَّجُلِ الَّذِيْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ فَقَالَ أَبُوْ سُفْيَانَ فَقُلْتُ أَنَا فَأَجْلَسُوْنِيْ بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَجْلَسُوْا أَصْحَابِيْ خَلْفِيْ ثُمَّ دَعَا بِتَرْجُمَانِهِ فَقَالَ قُلْ لَهُمْ إِنِّيْ سَائِلٌ هَذَا عَنْ هَذَا الرَّجُلِ الَّذِيْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ فَإِنْ كَذَبَنِيْ فَكَذِّبُوْهُ قَالَ أَبُوْ سُفْيَانَ وَايْمُ اللهِ لَوْلَا أَنْ يُؤْثِرُوْا عَلَيَّ الْكَذِبَ لَكَذَبْتُ ثُمَّ قَالَ لِتَرْجُمَانِهِ سَلْهُ كَيْفَ حَسَبُهُ فِيْكُمْ قَالَ قُلْتُ هُوَ فِيْنَا ذُوْ حَسَبٍ قَالَ فَهَلْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مَلِكٌ قَالَ قُلْتُ لَا قَالَ فَهَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُوْنَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُوْلَ مَا قَالَ قُلْتُ لَا قَالَ أَيَتَّبِعُهُ أَشْرَافُ النَّاسِ أَمْ ضُعَفَاؤُهُمْ قَالَ قُلْتُ بَلْ ضُعَفَاؤُهُمْ قَالَ يَزِيْدُوْنَ أَوْ يَنْقُصُوْنَ قَالَ قُلْتُ لَا بَلْ يَزِيْدُوْنَ قَالَ هَلْ يَرْتَدُّ أَحَدٌ مِنْهُمْ عَنْ دِيْنِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيْهِ سَخْطَةً لَهُ قَالَ قُلْتُ لَا قَالَ فَهَلْ قَاتَلْتُمُوْهُ قَالَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ فَكَيْفَ كَانَ قِتَالُكُمْ إِيَّاهُ قَالَ قُلْتُ تَكُوْنُ الْحَرْبُ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ سِجَالًا يُصِيْبُ مِنَّا وَنُصِيْبُ مِنْهُ قَالَ فَهَلْ يَغْدِرُ قَالَ قُلْتُ لَا وَنَحْنُ مِنْهُ فِيْ هَذِهِ الْمُدَّةِ لَا نَدْرِيْ مَا هُوَ صَانِعٌ فِيْهَا قَالَ وَاللهِ مَا أَمْكَنَنِيْ مِنْ كَلِمَةٍ أُدْخِلُ فِيْهَا شَيْئًا غَيْرَ هَذِهِ قَالَ فَهَلْ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ أَحَدٌ قَبْلَهُ قُلْتُ لَا.ثُمَّ قَالَ لِتُرْجُمَانِهِ قُلْ لَهُ إِنِّيْ سَأَلْتُكَ عَنْ حَسَبِهِ فِيْكُمْ فَزَعَمْتَ أَنَّهُ فِيْكُمْ ذُوْ حَسَبٍ وَكَذَلِكَ الرُّسُلُ تُبْعَثُ فِيْ أَحْسَابِ قَوْمِهَا وَسَأَلْتُكَ هَلْ كَانَ فِيْ آبَائِهِ مَلِكٌ فَزَعَمْتَ أَنْ لَا فَقُلْتُ لَوْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مَلِكٌ قُلْتُ رَجُلٌ يَطْلُبُ مُلْكَ آبَائِهِ وَسَأَلْتُكَ عَنْ أَتْبَاعِهِ أَضُعَفَاؤُهُمْ أَمْ أَشْرَافُهُمْ فَقُلْتَ بَلْ ضُعَفَاؤُهُمْ وَهُمْ أَتْبَاعُ الرُّسُلِ وَسَأَلْتُكَ هَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُوْنَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُوْلَ مَا قَالَ فَزَعَمْتَ أَنْ لَا فَعَرَفْتُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لِيَدَعَ الْكَذِبَ عَلَى النَّاسِ ثُمَّ يَذْهَبَ فَيَكْذِبَ عَلَى اللهِ وَسَأَلْتُكَ هَلْ يَرْتَدُّ أَحَدٌ مِنْهُمْ عَنْ دِيْنِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيْهِ سَخْطَةً لَهُ فَزَعَمْتَ أَنْ لَا وَكَذَلِكَ الإِيْمَانُ إِذَا خَالَطَ بَشَاشَةَ الْقُلُوْبِ وَسَأَلْتُكَ هَلْ يَزِيْدُوْنَ أَمْ يَنْقُصُوْنَ فَزَعَمْتَ أَنَّهُمْ يُزِيْدُوْنَ وَكَذَلِكَ الإِيْمَانُ حَتَّى يَتِمَّ وَسَأَلْتُكَ هَلْ قَاتَلْتُمُوْهُ فَزَعَمْتَ أَنَّكُمْ قَاتَلْتُمُوْهُ فَتَكُوْنُ الْحَرْبُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ سِجَالًا يَنَالُ مِنْكُمْ وَتَنَالُوْنَ مِنْهُ وَكَذَلِكَ الرُّسُلُ تُبْتَلَى ثُمَّ تَكُوْنُ لَهُمْ الْعَاقِبَةُ وَسَأَلْتُكَ هَلْ يَغْدِرُ فَزَعَمْتَ أَنَّهُ لَا يَغْدِرُ وَكَذَلِكَ الرُّسُلُ لَا تَغْدِرُ وَسَأَلْتُكَ هَلْ قَالَ أَحَدٌ هَذَا الْقَوْلَ قَبْلَهُ فَزَعَمْتَ أَنْ لَا فَقُلْتُ لَوْ كَانَ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ أَحَدٌ قَبْلَهُ قُلْتُ رَجُلٌ ائْتَمَّ بِقَوْلٍ قِيْلَ قَبْلَهُ قَالَ ثُمَّ قَالَ بِمَ يَأْمُرُكُمْ قَالَ قُلْتُ يَأْمُرُنَا بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالصِّلَةِ وَالْعَفَافِ قَالَ إِنْ يَكُ مَا تَقُوْلُ فِيْهِ حَقًّا فَإِنَّهُ نَبِيٌّ وَقَدْ كُنْتُ أَعْلَمُ أَنَّهُ خَارِجٌ وَلَمْ أَكُ أَظُنُّهُ مِنْكُمْ وَلَوْ أَنِّيْ أَعْلَمُ أَنِّيْ أَخْلُصُ إِلَيْهِ لَأَحْبَبْتُ لِقَاءَهُ وَلَوْ كُنْتُ عِنْدَهُ لَغَسَلْتُ عَنْ قَدَمَيْهِ وَلَيَبْلُغَنَّ مُلْكُهُ مَا تَحْتَ قَدَمَيَّ.قَالَ ثُمَّ دَعَا بِكِتَابِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَهُ فَإِذَا فِيْهِ.بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُوْلِ اللهِ إِلَى هِرَقْلَ عَظِيْمِ الرُّوْمِ سَلَامٌ عَلَى مَنْ اتَّبَعَ الْهُدَى أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّيْ أَدْعُوْكَ بِدِعَايَةِ الإِسْلَامِ أَسْلِمْ تَسْلَمْ وَأَسْلِمْ يُؤْتِكَ اللهُ أَجْرَكَ مَرَّتَيْنِ فَإِنْ تَوَلَّيْتَ فَإِنَّ عَلَيْكَ إِثْمَ الْأَرِيْسِيِّيْنَ وَ {قُلْ يٰٓأَهْلَ الْكِتٰبِ تَعَالَوْا إِلٰى كَلِمَةٍ سَوَآءٍم بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللهَ} إِلَى قَوْلِهِ {اشْهَدُوْا بِأَنَّا مُسْلِمُوْنَ} فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ قِرَاءَةِ الْكِتَابِ ارْتَفَعَتْ الْأَصْوَاتُ عِنْدَهُ وَكَثُرَ اللَّغَطُ وَأُمِرَ بِنَا فَأُخْرِجْنَا قَالَ فَقُلْتُ لِأَصْحَابِيْ حِيْنَ خَرَجْنَا لَقَدْ أَمِرَ أَمْرُ ابْنِ أَبِيْ كَبْشَةَ إِنَّهُ لَيَخَافُهُ مَلِكُ بَنِي الْأَصْفَرِ فَمَا زِلْتُ مُوْقِنًا بِأَمْرِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سَيَظْهَرُ حَتَّى أَدْخَلَ اللهُ عَلَيَّ الإِسْلَامَ قَالَ الزُّهْرِيُّ فَدَعَا هِرَقْلُ عُظَمَاءَ الرُّوْمِ فَجَمَعَهُمْ فِيْ دَارٍ لَهُ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ الرُّوْمِ هَلْ لَكُمْ فِي الْفَلَاحِ وَالرَّشَدِ آخِرَ الْأَبَدِ وَأَنْ يَثْبُتَ لَكُمْ مُلْكُكُمْ قَالَ فَحَاصُوْا حَيْصَةَ حُمُرِ الْوَحْشِ إِلَى الْأَبْوَابِ فَوَجَدُوْهَا قَدْ غُلِّقَتْ فَقَالَ عَلَيَّ بِهِمْ فَدَعَا بِهِمْ فَقَالَ إِنِّيْ إِنَّمَا اخْتَبَرْتُ شِدَّتَكُمْ عَلَى دِيْنِكُمْ فَقَدْ رَأَيْتُ مِنْكُمْ الَّذِيْ أَحْبَبْتُ فَسَجَدُوْا لَهُ وَرَضُوْا عَنْهُ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) আমাকে সামনাসামনি হাদীস শুনিয়েছেন। আবূ সুফ্ইয়ান বলেন, আমাদের আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদকালে আমি ভ্রমণে বের হয়েছিলাম। আমি তখন সিরিয়ায় অবস্থান করছিলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে হিরাক্লিয়াসের নিকট একখানা পত্র পৌঁছান হল। দাহ্্ইয়াতুল কালবী এ চিঠিটা বসরার শাসককে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি হিরাক্লিয়াসের নিকট পৌঁছিয়ে দিলেন। পত্র পেয়ে হিরাক্লিয়াস বললেন, নাবীর দাবীদার ব্যক্তির গোত্রের কেউ এখানে আছে কি? তারা বলল, হ্যাঁ আছে। কয়েকজন কুরাইশীসহ আমাকে ডাকা হলে আমরা হিরাক্লিয়াসের নিকট গেলাম এবং আমাদেরকে তাঁর সম্মুখে বসানো হল। এরপর তিনি বললেন, নাবীর দাবীদার ব্যক্তির তোমাদের মধ্যে নিকটতম আত্মীয় কে? আবূ সুফ্ইয়ান বলেন, উত্তরে বললাম, আমিই। তারা আমাকে তার সম্মুখে এবং আমার সাথীদেরকে আমার পেছনে বসালেন। তারপর দোভাষীকে ডাকলেন এবং বললেন, এদেরকে জানিয়ে দাও যে, আমি নাবীর দাবীদার ব্যক্তিটি সম্পর্কে (আবূ সুফ্ইয়ানকে) কিছু জিজ্ঞেস করলে সে যদি আমার নিকট মিথ্যা বলে তোমরা তার মিথ্যা বলা সম্পর্কে ধরবে। আবূ সুফ্ইয়ান বলেন, যদি তাদের পক্ষ থেকে আমাকে মিথ্যুক প্রমাণের আশঙ্কা না থাকত তাহলে আমি অবশ্যই মিথ্যা বলতাম। এরপর দোভাষীকে বললেন, একে জিজ্ঞেস কর যে, তোমাদের মধ্যে এ ব্যক্তির বংশ মর্যাদা কেমন? আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, তিনি আমাদের মধ্যে অভিজাত বংশের অধিকারী। তিনি জিজ্ঞেস করলেন যে, তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ কি রাজা-বাদশাহ ছিলেন? আমি বললাম, না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তাঁর বর্তমানের কথাবার্তার পূর্বে তোমরা তাঁকে কখনো মিথ্যাচারের অপবাদ দিয়েছ কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা তাঁর অনুসরণ করছে, না দুর্বলগণ? আমি বললাম, বরং দুর্বলগণ। তিনি বললেন, তাদের সংখ্যা বাড়ছে না কমছে। আমি বললাম, বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বললেন, তাঁর ধর্মে প্রবিষ্ট হওয়ার পর তাঁর প্রতি বিতৃষ্ণাবশতঃ কেউ কি ধর্ম ত্যাগ করে? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তোমরা তাঁর বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধ করেছ কি? বললাম, জ্বী হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলাফল কী হয়েছে? আমি বললাম, আমাদের ও তাদের মধ্যে যুদ্ধের ফলাফল হল ঃ একবার তিনি জয়ী হন, আর একবার আমরা জয়ী হই। তিনি বললেন, তিনি প্রতিশ্রতি ভঙ্গ করেননি? বললাম, না। তবে বর্তমানে আমরা একটি সন্ধির মেয়াদে আছি। দেখি এতে তিনি কী করেন। আবূ সুফ্ইয়ান বলেন, আল্লাহ্র শপথ! এটি ব্যতীত অন্য কোন কথা ঢুকিয়ে দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। বললেন, তাঁর পূর্বে এমন কথা কেউ বলেছে কি? বললাম, না। তারপর তিনি তাঁর দোভাষীকে বললেন যে, একে জানিয়ে দাও যে, আমি তোমাকে তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তির বংশমর্যাদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তারপর তুমি বলেছ যে, সে আমাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত। তদ্রƒপ রসূলগণ শ্রেষ্ঠ বংশেই জন্মলাভ করে থাকেন। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তাঁর পূর্বপুরুষের কেউ রাজা-বাদশাহ ছিলেন কিনা? তুমি বলেছ ‘না’। তাই আমি বলছি যে, যদি তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ রাজা-বাদশাহ থাকতেন তাহলে বলতাম, তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের রাজত্ব ফিরে পেতে চাচ্ছেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, দুর্বলগণ তাঁর অনুসারী, না সম্ভ্রান্তগণ? তুমি বলেছ, দুর্বলগণই। আমি বলেছি যে, যুগে যুগে দুর্বলগণই রসূলদের অনুসারী হয়ে থাকে। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, এ দাবীর পূর্বে তোমরা কখনও তাঁকে মিথ্যাবাদিতার অপবাদ দিয়েছিলে কি? তুমি উত্তরে বলেছ যে, না। তাতে আমি বুঝেছি যে, যে ব্যক্তি প্রথমে মানুষদের সঙ্গে মিথ্যাচার ত্যাগ করেন, তারপর আল্লাহ্র সঙ্গে মিথ্যাচারিতা করবেন, তা হতে পারে না। আমি তোমাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তাঁর ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর তাঁর প্রতি বিরক্ত হয়ে কেউ ধর্ম ত্যাগ করে কিনা? তুমি বলেছ, ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি বলছি, ঈমান এভাবেই পূর্ণতা লাভ করে। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তোমরা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছ কি? তুমি বলেছ যে, যুদ্ধ করেছ এবং তাঁর ফলাফল হচ্ছে পানি তোলার বালতির মত। কখনো তোমাদের বিরুদ্ধে তারা জয়লাভ করে আবার কখনো তাদের বিরুদ্ধে তোমরা জয়লাভ কর। এমনিভাবেই রসূলদের পরীক্ষা করা হয়, তারপর চূড়ান্ত বিজয় তাদেরই হয়ে থাকে। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেন কিনা? তুমি বলেছ, না। তদ্রƒপ রসূলগণ প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেন না। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, তাঁর পূর্বে কেউ এ দাবী উত্থাপন করেছিল কিনা? তুমি বলেছ, না। আমি বলি যদি কেউ তাঁর পূর্বে এ ধরনের দাবী করে থাকত তাহলে আমি মনে করতাম এ ব্যক্তি পূর্ববর্তী দাবীর অনুসরণ করছে। আবূ সুফ্ইয়ান বলেন, তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তিনি তোমাদের কী কাজের হুকুম দেন? আমি বললাম, সলাত কায়িম করতে, যাকাত প্রদান করতে, আত্মীয়তা রক্ষা করতে এবং পাপকাজ থেকে পবিত্র থাকার হুকুম দেন। হিরাক্লিয়াস বললেন, তাঁর সম্পর্কে তোমার বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে তিনি ঠিকই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তিনি আবির্ভূত হবেন তা আমি জানতাম বটে তবে তোমাদের মধ্যে আবির্ভূত হবেন তা মনে করিনি। যদি আমি তাঁর সান্নিধ্যে পৌঁছার সুযোগ পেতাম তাহলে আমি তাঁর সাক্ষাৎকে অগ্রাধিকার দিতাম। যদি আমি তাঁর নিকট অবস্থান করতাম তাহলে আমি তাঁর পদযুগল ধুয়ে দিতাম। আমার পায়ের নিচের জমিন পর্যন্ত তাঁর রাজত্ব সীমা পৌঁছে যাবে।আবূ সুফ্ইয়ান বলেন, তারপর হিরাক্লিয়াস রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পত্রখানি আনতে বললেন। এরপর পাঠ করতে বললেন। তাতে লেখা ছিল ঃদয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহ্র নামে, আল্লাহ্র রসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে রোমের অধিপতি হিরাক্লিয়াসের প্রতি। হিদায়াতের অনুসারীর প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। এরপর আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি, ইসলাম গ্রহণ করুন, মুক্তি পাবেন। ইসলাম গ্রহণ করুন, আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দেবেন। আর যদি মুখ ফিরিয়ে থাকেন তাহলে সকল প্রজার পাপরাশিও আপনার উপর নিপতিত হবে। “হে কিতাবীগণ! এসো সে কথায়, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই যে, আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ‘ইবাদাত করব না, কোন কিছুতেই তাঁর সঙ্গে শরীক করব না। আর আমাদের একে অন্যকে আল্লাহ ব্যতীত প্রতিপালকরূপে গ্রহণ করব না। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বল, তোমরা সাক্ষী থাক, আমরা মুসলিম।”যখন তিনি পত্র পাঠ সমাপ্ত করলেন চতুর্দিকে উচ্চ রব উঠল এবং গুঞ্জন বৃদ্ধি পেল। তারপর তাঁর নির্দেশে আমাদের বাইরে নিয়ে আসা হল। আবূ সুফ্ইয়ান বলেন, আমরা বেরিয়ে আসার পর আমি আমার সাথীদের বললাম যে, আবূ কাবশার সন্তানের তো বিস্তার ঘটেছে। রোমের রাষ্ট্রনায়ক পর্যন্ত তাঁকে ভয় পায়। তখন থেকে আমার মনে এ দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বীন অতি সত্বর বিজয় লাভ করবে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা আমাকে ইসলামে দীক্ষিত করলেন। ইমাম যুহরী (রহ.) বলেন, তারপর হিরাক্লিয়াস রোমের নেতৃবৃন্দকে ডেকে একটি কক্ষে একত্রিত করলেন এবং বললেন, হে রোমবাসী! তোমরা কি আজীবন সৎপথ ও সফলতার প্রত্যাশী এবং তোমরা কি চাও তোমাদের রাজত্ব অটুট থাকুক? এতে তারা বন্য-গর্দভের মত প্রাণপণে পলায়নরত হল। কিন্তু দরজাগুলো সবই বন্ধ পেল। এরপর বাদশাহ নির্দেশ দিলেন যে, তাদের সবাইকে আমার নিকট নিয়ে এসো। তিনি তাদের সবাইকে ডাকলেন এবং বললেন, তোমাদের ধর্মের উপর তোমাদের দৃঢ়তা আমি পরীক্ষা করলাম। আমি যা আশা করেছিলাম তা তোমাদের থেকে পেয়েছি। তখন সবাই তাঁকে সাজদাহ্ করল এবং তাঁর উপর সন্তুষ্ট রইল। [৭] (আ.প্র. ৪১৯২, ই.ফা. ৪১৯৩)
৬৫/৩/৫. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করবে না যে পর্যন্ত না নিজেদের প্রিয়বস্তু থেকে ব্যয় করবে, আর যা কিছু তোমরা ব্যয় কর, আল্লাহ্ তো তা খুব জানেন।’’ (সূরাহ আলু ইমরান ৩/৯২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৫৪
হাদিস নং ৪৫৫৪
إِسْمَاعِيْلُ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَالِكٌ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِيْ طَلْحَةَ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُوْلُ كَانَ أَبُوْ طَلْحَةَ أَكْثَرَ أَنْصَارِيٍّ بِالْمَدِيْنَةِ نَخْلًا وَكَانَ أَحَبَّ أَمْوَالِهِ إِلَيْهِ بَيْرُحَاءَ وَكَانَتْ مُسْتَقْبِلَةَ الْمَسْجِدِ وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُهَا وَيَشْرَبُ مِنْ مَاءٍ فِيْهَا طَيِّبٍ فَلَمَّا أُنْزِلَتْ {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰى تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ} قَامَ أَبُوْ طَلْحَةَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ اللهَ يَقُوْلُ : {لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰى تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ} وَإِنَّ أَحَبَّ أَمْوَالِيْ إِلَيَّ بَيْرُحَاءَ وَإِنَّهَا صَدَقَةٌ لِلهِ أَرْجُوْ بِرَّهَا وَذُخْرَهَا عِنْدَ اللهِ فَضَعْهَا يَا رَسُوْلَ اللهِ حَيْثُ أَرَاكَ اللهُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَخْ ذَلِكَ مَالٌ رَايِحٌ ذَلِكَ مَالٌ رَايِحٌ وَقَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ وَإِنِّيْ أَرَى أَنْ تَجْعَلَهَا فِي الْأَقْرَبِيْنَ قَالَ أَبُوْ طَلْحَةَ أَفْعَلُ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَقَسَمَهَا أَبُوْ طَلْحَةَ فِيْ أَقَارِبِهِ وَفِيْ بَنِيْ عَمِّهِ قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ وَرَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ ذَلِكَ مَالٌ رَابِحٌ
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
মদিনায় আবূ ত্বলহা (রাঃ)-ই অধিক সংখ্যক খেজুর গাছের মালিক ছিলেন। তাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয় সম্পদ ছিল “বাইরুহা” নামক বাগানটি। এটা ছিল মাসজিদের সম্মুখে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে আসতেন এবং সেখানকার (কূপের) সুমিষ্ট পানি পান করতেন। যখন لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ আয়াতটি অবতীর্ণ হল, তখন আবূ ত্বলহা (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আল্লাহ বলছেন, “তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করবে না যে পর্যন্ত না নিজেদের প্রিয়বস্তু থেকে ব্যয় করবে” (সূরাহ আলু ইমরান ৩/৯২)। আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ বাইরুহা। এটা আল্লাহ্র রাস্তায় আমি দান করে দিলাম। আমি আল্লাহ্র নিকট পুণ্য ও তার ভাণ্ডার চাই। আল্লাহ আপনাকে যেভাবে নির্দেশ দেন সেভাবে তা ব্যয় করুন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, বাহ! ওটি তো অস্থায়ী সম্পদ, ওটা তো অস্থায়ী সম্পদ, তুমি যা বলেছ আমি শুনেছি। তুমি তা তোমার নিকটাত্মীয়কে দিয়ে দাও, আমি এ সিদ্ধান্ত দিচ্ছি। আবূ ত্বলহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমি তা করব। তারপর আবূ ত্বলহা (রাঃ) সেটা তাঁর চাচাত ভাই-বোন ও আত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ ও ইবনু ‘উবাদাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণনায় “ওটা তো লাভজনক সম্পত্তি” বলে উল্লেখিত হয়েছে। [১৪৬১] (আ.প্র. ৪১৯৩, ই.ফা. ৪১৯৪)ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেন, আমি মালিক (রহ.)-এর নিকট مَالٌ رَابِحٌ এর অর্থ পড়েছি ‘অস্থায়ী সম্পদ’। [১৪৬১] (আ.প্র. নাই, ই.ফা. ৪১৯৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৫৫
হাদিস নং ৪৫৫৫
يَحْيَى بْنُ يَحْيَى قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ مَالٌ رَايِحٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ حَدَّثَنِيْ أَبِيْ عَنْ ثُمَامَةَ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ فَجَعَلَهَا لِحَسَّانَ وَأُبَيٍّ وَأَنَا أَقْرَبُ إِلَيْهِ وَلَمْ يَجْعَلْ لِيْ مِنْهَا شَيْئًا.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, এরপর আবূ ত্বলহা (রাঃ) হাস্সান ইবনু সাবিত এবং উবাই ইবনু কা‘বের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। আমি তাঁর নিকটাত্মীয় ছিলাম। কিন্তু আমাকে তা হতে কিছুই দেননি। [১৪৬১] (আ.প্র. ৪১৯৪, ই.ফা. ৪১৯৬)
৬৫/৩/৬. অধ্যায়ঃ
‘‘বলুন, তাওরাত নিয়ে এস এবং তা পাঠ কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’’ (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/৯৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৫৬
হাদিস নং ৪৫৫৬
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا أَبُوْ ضَمْرَةَ حَدَّثَنَا مُوْسَى بْنُ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ الْيَهُوْدَ جَاءُوْا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِرَجُلٍ مِنْهُمْ وَامْرَأَةٍ قَدْ زَنَيَا فَقَالَ لَهُمْ كَيْفَ تَفْعَلُوْنَ بِمَنْ زَنَى مِنْكُمْ قَالُوْا نُحَمِّمُهُمَا وَنَضْرِبُهُمَا فَقَالَ لَا تَجِدُوْنَ فِي التَّوْرَاةِ الرَّجْمَ فَقَالُوْا لَا نَجِدُ فِيْهَا شَيْئًا فَقَالَ لَهُمْ عَبْدُ اللهِ بْنُ سَلَامٍ: كَذَبْتُمْ {فَأْتُوْا بِالتَّوْرَاةِ فَاتْلُوْهَآ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِيْنَ} فَوَضَعَ مِدْرَاسُهَا الَّذِيْ يُدَرِّسُهَا مِنْهُمْ كَفَّهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ فَطَفِقَ يَقْرَأُ مَا دُوْنَ يَدِهِ وَمَا وَرَاءَهَا وَلَا يَقْرَأُ آيَةَ الرَّجْمِ فَنَزَعَ يَدَهُ عَنْ آيَةِ الرَّجْمِ فَقَالَ مَا هَذِهِ فَلَمَّا رَأَوْا ذَلِكَ قَالُوْا هِيَ آيَةُ الرَّجْمِ فَأَمَرَ بِهِمَا فَرُجِمَا قَرِيْبًا مِنْ حَيْثُ مَوْضِعُ الْجَنَائِزِ عِنْدَ الْمَسْجِدِ فَرَأَيْتُ صَاحِبَهَا يَحْنِيْ عَلَيْهَا يَقِيْهَا الْحِجَارَةَ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
ব্যভিচার করেছে এমন এক পুরুষ ও এক মহিলা নিয়ে ইয়াহূদীগণ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরবারে উপস্থিত হল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বললেন, তোমাদের ব্যভিচারীদেরকে তোমরা কীভাবে শাস্তি দাও? তারা বলল, আমরা তাদের দু’জনের চেহারা কালিমালিপ্ত করি এবং তাদের প্রহার করি। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা তাওরাতে কি প্রস্তর নিক্ষেপের বিধান পাও না? তারা বলল, আমরা তাতে এ ব্যাপারে কিছুই পাই না। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তাদের বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তাওরাত আন এবং তা পাঠ কর। এরপর তাওরাত পাঠের সময় তাদের তাওরাত-শিক্ষক প্রস্তর নিক্ষেপ সম্পর্কিত আয়াতের উপর স্বীয় হস্ত রেখে তার উপর নীচের অংশ পড়তে লাগল। রজমের কথা লিখা আয়াতটি পড়ছিল না। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তার হাতটি রজমের আয়াতের উপর থেকে সরিয়ে দিয়ে বললেন, এটা কী? যখন তারা এ অবস্থা দেখল তখন বলল, এটি রজমের আয়াত। অনন্তর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে রজম করার নির্দেশ দিলেন এবং মাসজিদের পার্শ্বে জানাযার স্থানের নিকটে উভয়কে ‘রজম’ করা হল।ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি সেই পুরুষটিকে দেখলাম তার সঙ্গীনীর উপরে ঝুঁকে পড়ে তাকে প্রস্তরাঘাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। [১৩২৯] (আ.প্র. ৪১৯৫, ই.ফা. ৪১৯৭)
৬৫/৩/৭. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তোমরা হলে শ্রেষ্ঠ উম্মাত, মানুষের হিতের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটান হয়েছে। (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/১১০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৫৭
হাদিস নং ৪৫৫৭
مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَيْسَرَةَ عَنْ أَبِيْ حَازِمٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} قَالَ خَيْرَ النَّاسِ لِلنَّاسِ تَأْتُوْنَ بِهِمْ فِي السَّلَاسِلِ فِيْ أَعْنَاقِهِمْ حَتَّى يَدْخُلُوْا فِي الإِسْلَامِ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ আয়াত সম্পর্কে বলেন, মানুষের জন্য মানুষ কল্যাণকর তখনই হয় যখন তাদের গ্রীবাদেশে (আল্লাহ্র আনুগত্যের) শিকল লাগিয়ে নিয়ে আসে। অতঃপর তারা ইসলামে প্রবেশ করে। [৩০১০] (আ.প্র. ৪১৯৬, ই.ফা. ৪১৯৮)
৬৫/৩/৮. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ যখন তোমাদের মধ্যের দু’টি দল সাহস হারাতে বসল, অথচ আল্লাহ তাদের সহায়ক ছিলেন। (সূরাহ আলু ইমরান ৩/১২২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৫৮
হাদিস নং ৪৫৫৮
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا يَقُوْلُ فِيْنَا نَزَلَتْ {إِذْ هَمَّتْ طَّآئِفَتَانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلَا وَاللهُ وَلِيُّهُمَا} : قَالَ : نَحْنُ الطَّائِفَتَانِ بَنُوْ حَارِثَةَ وَبَنُوْ سَلِمَةَ وَمَا نُحِبُّ وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً وَمَا يَسُرُّنِيْ أَنَّهَا لَمْ تُنْزَلْ لِقَوْلِ اللهِ : {وَاللهُ وَلِيُّهُمَا}.
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, إِذْ هَمَّتْ طَائِفَتَانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلاَ وَاللهُ وَلِيُّهُمَا আয়াতটি আমাদের ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা দু’দল বানী হারিসা আর বানী সালিমা। যেহেতু এ আয়াতে وَاللهُ وَلِيُّهُمَا “আল্লাহ উভয়ের অভিভাবক” উল্লেখ আছে, সেহেতু এটা অবতীর্ণ না হওয়া আমরা পছন্দ করতাম না। সুফ্ইয়ান (রহ.)-এর এক বর্ণনায় আছে وَمَا يَسُرُّنِي ‘আমাকে ভাল লাগেনি’। [৪০৫১] (আ.প্র. ৪১৯৭, ই.ফা. ৪১৯৯)
৬৫/৩/৯. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ এই বিষয়ে আপনার করণীয় কিছুই নেই। (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/১২৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৫৯
হাদিস নং ৪৫৫৯
حِبَّانُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنِيْ سَالِمٌ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوْعِ فِي الرَّكْعَةِ الْآخِرَةِ مِنَ الْفَجْرِ يَقُوْلُ : اللهُمَّ الْعَنْ فُلَانًا وَفُلَانًا وَفُلَانًا بَعْدَ مَا يَقُوْلُ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ فَأَنْزَلَ اللهُ {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} إِلَى قَوْلِهِ {فَإِنَّهُمْ ظَالِمُوْنَ} رَوَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ رَاشِدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ.
বর্ণনাকারী সালিম (রহ.)
তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন যে, তিনি ফাজ্রের সলাতের শেষ রাকআতে রুকূ‘ থেকে মাথা তুলে ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ্ (আল্লাহ তাঁর প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন। হে আমাদের প্রতিালক! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা)’, ‘রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ’ বলার পর এটা বলতেন ঃ হে আল্লাহ! অমুক, অমুক এবং অমুককে লানত করুন। তখন আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন ঃ لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ ..... فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ “তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন, এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছুই নেই। কারণ তারা যালিম।” ইসহাক ইবনু রাশিদ (রহ.) ইমাম যুহরী (রহ.) থেকে এটা বর্ণনা করেছেন। [৪০৬৯] (আ.প্র. ৪১৯৮, ই.ফা. ৪২০০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৬০
হাদিস নং ৪৫৬০
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِيْ سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ عَلَى أَحَدٍ أَوْ يَدْعُوَ لِأَحَدٍ قَنَتَ بَعْدَ الرُّكُوْعِ فَرُبَّمَا قَالَ إِذَا قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ اللهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيْدَ بْنَ الْوَلِيْدِ وَسَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِيْ رَبِيْعَةَ اللهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ وَاجْعَلْهَا سِنِيْنَ كَسِنِيْ يُوْسُفَ يَجْهَرُ بِذَلِكَ وَكَانَ يَقُوْلُ فِيْ بَعْضِ صَلَاتِهِ فِيْ صَلَاةِ الْفَجْرِ اللهُمَّ الْعَنْ فُلَانًا وَفُلَانًا لِأَحْيَاءٍ مِنَ الْعَرَبِ حَتَّى أَنْزَلَ اللهُ {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} الآيَةَ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কারো জন্যে বদদু‘আ অথবা দু‘আ করার মনস্থ করতেন, তখন সলাতের রুকূর পরেই কুনূতে নাযিলা (বদ্দু‘আ ও হিফাযাতের জন্য অবতারিত দু‘আ) পড়তেন। কখনো কখনো سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ, اللهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ ’ বলার পর বলতেন, হে আল্লাহ! ওয়ালিদ ইবনু ওয়ালিদ, সালামাহ ইবনু হিশাম এবং আইয়াশ ইবনু আবূ রাবিয়াহ্কে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের উপর শাস্তি কঠোর করুন। এ শাস্তিকে ইউসুফ (‘আ.)-এর যুগের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষে পরিণত করুন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ কথাগুলোকে উচ্চৈঃস্বরে বলতেন। কখনো কখনো তিনি কয়েকটি গোত্রের ব্যাপারে ফাজ্রের সলাতে বলতেন, হে আল্লাহ! অমুক এবং অমুককে লা‘নাত দিন। অবশেষে আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন ঃ لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ । [৭৯৭] (আ.প্র. ৪১৯৯, ই.ফা. ৪২০১)
৬৫/৩/১০. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের পেছনের দিক থেকে আহবান করছিলেন। (সূরাহ আলু ইমরান ৩/১৫৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৬১
হাদিস নং ৪৫৬১
عَمْرُوْ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا أَبُوْ إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ جَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الرَّجَّالَةِ يَوْمَ أُحُدٍ عَبْدَ اللهِ بْنَ جُبَيْرٍ وَأَقْبَلُوْا مُنْهَزِمِيْنَ فَذَاكَ إِذْ يَدْعُوْهُمْ الرَّسُوْلُ فِيْ أُخْرَاهُمْ وَلَمْ يَبْقَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ اثْنَيْ عَشَرَ رَجُلًا.
বর্ণনাকারী বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ)
তিনি বলেন, উহূদ যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু পদাতিক সৈন্যের উপর ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করেন। এরপর তাদের কতক পরাজিত হলে পালাতে লাগল, এটাই হল, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তোমাদের পেছন দিক থেকে ডাকছিলেন। মাত্র বারোজন লোক ব্যতীত আর কেউ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলেন না। [৩০৩৯] (আ.প্র. ৪২০০, ই.ফা. ৪২০২)
৬৫/৩/১১. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ‘‘প্রশান্তিময় তন্দ্রা।’’
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৬২
হাদিস নং ৪৫৬২
إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُوْ يَعْقُوْبَ حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ قَتَادَةَ حَدَّثَنَا أَنَسٌ أَنَّ أَبَا طَلْحَةَ قَالَ غَشِيَنَا النُّعَاسُ وَنَحْنُ فِيْ مَصَافِّنَا يَوْمَ أُحُدٍ قَالَ فَجَعَلَ سَيْفِيْ يَسْقُطُ مِنْ يَدِيْ وَآخُذُهُ وَيَسْقُطُ وَآخُذُهُ.
বর্ণনাকারী আবূ ত্বলহা (রাঃ)
আমরা উহূদ যুদ্ধের দিন সারিবদ্ধ অবস্থায় ছিলাম যখন তন্দ্রা আমাদের আচ্ছাদিত করে ফেলেছিল। তিনি বলেন, আমার তরবারি আমার হাত থেকে পড়ে যাচ্ছিল, আমি তা উঠাচ্ছিলাম, আবার পড়ে যাচ্ছিল, আবার তা উঠাচ্ছিলাম। [৪০৬৮] (আ.প্র. ৪২০১, ই.ফা. ৪২০৩)
৬৫/৩/১২. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
৬৫/৩/১৩. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হয়েছে। (সূরাহ আলু ইমরান ৩/১৭৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৬৩
হাদিস নং ৪৫৬৩
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ ـ أُرَاهُ قَالَ ـ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، {حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ} قَالَهَا إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ حِينَ أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَقَالَهَا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَالُوا {إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ}
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
বর্ণিত। حَسْبُنَااللهُوَنِعْمَالْوَكِيلُ কথাটি ইবরাহীম (‘আ.) বলেছিলেন, যখন তিনি আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন যখন লোকেরা বলল, “নিশ্চয় তোমাদের বিরুদ্ধে কাফিররা বিরাট সাজ-সরঞ্জামের সমাবেশ করেছে, সুতরাং তোমরা তাদের ভয় কর। এ কথা তাদের ঈমানের তেজ বাড়িয়ে দিল এবং তারা বলল ঃ আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম কার্যনির্বাহক” (সূরাহ আলু ইমরান ৩/১৭৩)। [৪৫৬৪] (আ.প্র. ৪২০২, ই.ফা. ৪২০৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৬৪
হাদিস নং ৪৫৬৪
مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيْلُ عَنْ أَبِيْ حَصِيْنٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ آخِرَ قَوْلِ إِبْرَاهِيْمَ حِيْنَ أُلْقِيَ فِي النَّارِ {حَسْبِيَ اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيْلُ}.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেছেন, ইবরাহীম (‘আ.) যখন আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তখন তাঁর শেষ কথা ছিল ঃ حَسْبِيَاللهُوَنِعْمَالْوَكِيلُ অর্থাৎ “আল্লাহ্ই যথেষ্ট” তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক! [৪৫৬৩] (আ.প্র. ৪২০৩, ই.ফা. ৪২০৫)
৬৫/৩/১৪
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৬৫
হাদিস নং ৪৫৬৫
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُنِيْرٍ سَمِعَ أَبَا النَّضْرِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ هُوَ ابْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِيْنَارٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ أَبِيْ صَالِحٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ آتَاهُ اللهُ مَالًا فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهُ مُثِّلَ لَهُ مَالُهُ شُجَاعًا أَقْرَعَ لَهُ زَبِيْبَتَانِ يُطَوَّقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَأْخُذُ بِلِهْزِمَتَيْهِ يَعْنِيْ بِشِدْقَيْهِ يَقُوْلُ أَنَا مَالُكَ أَنَا كَنْزُكَ ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ {وَلَا يَحْسِبَنَّ الَّذِيْنَ يَبْخَلُوْنَ بِمَآ اٰتَاهُمْ اللهُ مِنْ فَضْلِهٰ} إِلَى آخِرِ الْآيَةِ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যাকে আল্লাহ তা‘আলা ধন-সম্পদ দেন, তারপর সে তার যাকাত আদায় করে না ক্বিয়ামাতের দিন তার ধন-সম্পদকে তার জন্যে লোমবিহীন কালো-চিহ্ন যুক্ত সর্পে রূপ দেয়া হবে এবং তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে। মুখের দু’দিক দিয়ে সে তাকে দংশন করতে থাকবে এবং বলবে, ‘আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চয়’। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন ঃ وَلاَيَحْسِبَنَّالَّذِينَيَبْخَلُونَبِمَاآتَاهُمْاللهُمِنْفَضْلِهِ “এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তাদের জন্য তা মঙ্গলজনক এটা যেন তারা কিছুতেই মনে না করে ......” আয়াতের শেষ অংশ। [১৪০৩] (আ.প্র. ৪২০৪, ই.ফা. ৪২০৬)
৬৫/৩/১৫. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৬৬
হাদিস নং ৪৫৬৬
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَكِبَ عَلَى حِمَارٍ عَلَى قَطِيْفَةٍ فَدَكِيَّةٍ وَأَرْدَفَ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ وَرَاءَهُ يَعُوْدُ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ فِيْ بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ قَبْلَ وَقْعَةِ بَدْرٍ قَالَ حَتَّى مَرَّ بِمَجْلِسٍ فِيْهِ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ ابْنُ سَلُوْلَ وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ فَإِذَا فِي الْمَجْلِسِ أَخْلَاطٌ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُشْرِكِيْنَ عَبَدَةِ الْأَوْثَانِ وَالْيَهُوْدِ وَالْمُسْلِمِيْنَ وَفِي الْمَجْلِسِ عَبْدُ اللهِ بْنُ رَوَاحَةَ فَلَمَّا غَشِيَتْ الْمَجْلِسَ عَجَاجَةُ الدَّابَّةِ خَمَّرَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ أَنْفَهُ بِرِدَائِهِ ثُمَّ قَالَ لَا تُغَبِّرُوْا عَلَيْنَا فَسَلَّمَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِمْ ثُمَّ وَقَفَ فَنَزَلَ فَدَعَاهُمْ إِلَى اللهِ وَقَرَأَ عَلَيْهِمْ الْقُرْآنَ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ ابْنُ سَلُوْلَ أَيُّهَا الْمَرْءُ إِنَّهُ لَا أَحْسَنَ مِمَّا تَقُوْلُ إِنْ كَانَ حَقًّا فَلَا تُؤْذِنَا بِهِ فِيْ مَجْلِسِنَا ارْجِعْ إِلَى رَحْلِكَ فَمَنْ جَاءَكَ فَاقْصُصْ عَلَيْهِ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ رَوَاحَةَ بَلَى يَا رَسُوْلَ اللهِ فَاغْشَنَا بِهِ فِيْ مَجَالِسِنَا فَإِنَّا نُحِبُّ ذَلِكَ فَاسْتَبَّ الْمُسْلِمُوْنَ وَالْمُشْرِكُوْنَ وَالْيَهُوْدُ حَتَّى كَادُوْا يَتَثَاوَرُوْنَ فَلَمْ يَزَلْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُخَفِّضُهُمْ حَتَّى سَكَنُوْا ثُمَّ رَكِبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دَابَّتَهُ فَسَارَ حَتَّى دَخَلَ عَلَى سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَا سَعْدُ أَلَمْ تَسْمَعْ مَا قَالَ أَبُوْ حُبَابٍ يُرِيْدُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أُبَيٍّ قَالَ كَذَا وَكَذَا قَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ يَا رَسُوْلَ اللهِ اعْفُ عَنْهُ وَاصْفَحْ عَنْهُ فَوَالَّذِيْ أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ لَقَدْ جَاءَ اللهُ بِالْحَقِّ الَّذِيْ أَنْزَلَ عَلَيْكَ لَقَدْ اصْطَلَحَ أَهْلُ هَذِهِ الْبُحَيْرَةِ عَلَى أَنْ يُتَوِّجُوْهُ فَيُعَصِّبُوْهُ بِالْعِصَابَةِ فَلَمَّا أَبَى اللهُ ذَلِكَ بِالْحَقِّ الَّذِيْ أَعْطَاكَ اللهُ شَرِقَ بِذَلِكَ فَذَلِكَ فَعَلَ بِهِ مَا رَأَيْتَ فَعَفَا عَنْهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ يَعْفُوْنَ عَنِ الْمُشْرِكِيْنَ وَأَهْلِ الْكِتَابِ كَمَا أَمَرَهُمْ اللهُ وَيَصْبِرُوْنَ عَلَى الْأَذَى قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ : {وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِيْنَ أُوْتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِيْنَ أَشْرَكُوْآ أَذًى كَثِيْرًا} الْآيَةَ. وَقَالَ اللهُ : {وَدَّ كَثِيْرٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتٰبِ لَوْ يَرُدُّوْنَكُمْ مِّنْم بَعْدِ إِيْمَانِكُمْ كُفَّارًا ج حَسَدًا مِّنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ} إِلَى آخِرِ الْآيَةِ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَأَوَّلُ الْعَفْوَ مَا أَمَرَهُ اللهُ بِهِ حَتَّى أَذِنَ اللهُ فِيْهِمْ فَلَمَّا غَزَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَدْرًا فَقَتَلَ اللهُ بِهِ صَنَادِيْدَ كُفَّارِ قُرَيْشٍ قَالَ ابْنُ أُبَيٍّ ابْنُ سَلُوْلَ وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ وَعَبَدَةِ الْأَوْثَانِ هَذَا أَمْرٌ قَدْ تَوَجَّهَ فَبَايَعُوا الرَّسُوْلَ صلى الله عليه وسلم عَلَى الإِسْلَامِ فَأَسْلَمُوْا.
বর্ণনাকারী উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)
তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি গাধার পিঠে আরোহণ করেছিলেন, একটি ফদকী চাদর তাঁর পরনে ছিল। উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)-কে তাঁর পেছনে বসিয়েছিলেন। তিনি বানী হারিস ইবনু খাযরায গোত্রে অসুস্থ সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ)-কে দেখতে যাচ্ছিলেন। এটা ছিল বদর যুদ্ধের পূর্বেকার ঘটনা। বর্ণনাকারী বলেন যে, যেতে যেতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন একটি মজলিসের কাছে পৌঁছলেন, যেখানে ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই বিন সালুলও ছিলসে তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি। সে মজলিসে মুসলিম, মুশরিক, প্রতিমাপূজারী এবং ইয়াহূদী সকল প্রকারের লোক ছিল এবং তথায় ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-ও ছিলেন। জন্তুর পদধূলি যখন মজলিসকে আচ্ছন্ন করল, তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই আপন চাদরে নাক ঢেকে ফেলল। তারপর বলল, আমাদের এখানে ধূলো উড়িয়ো না। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এদেরকে সালাম করলেন। তারপর বাহন থেকে অবতরণ করলেন এবং তাদেরকে আল্লাহ্র প্রতি দাওয়াত দিলেন এবং তাদের কাছে কুরআন মাজীদ পাঠ করলেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই বলল, এই লোকটি! তুমি যা বলছ তা যদি সত্য হয় তাহলে এর চেয়ে উত্তম কিছুই নেই। তবে আমাদের মজলিসে আমাদেরকে জ্বালাতন করবে না। তুমি তোমার তাঁবুতে যাও। যে তোমার কাছে যাবে যাকে তুমি তোমার কথা বলবে। অনন্তর ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি আমাদের মজলিসে এগুলো আমাদের কাছে বলবেন, কারণ আমরা তা পছন্দ করি। এতে মুসলিম, মুশরিক এবং ইয়াহূদীরা পরস্পর গালাগালি শুরু করল। এমনকি তারা মারামারিতে লিপ্ত হওয়ার পর্যায়ে উপনীত হল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে থামাচ্ছিলেন। অবশেষে তারা থামল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পশুটির পিঠে চড়ে রওয়ানা দিলেন এবং সা‘দ ইবনু উবাদাহ (রাঃ)-এর কাছে গেলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, হে সা‘দ! আবূ হুবাব অর্থাৎ ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই কী বলেছে, তুমি শুনেছ কি? সে এমন বলেছে। সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ্ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! তাকে ক্ষমা করে দিন। তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করবেন না। যিনি আপনার উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহ আপনার উপর যা অবতীর্ণ করেছেন তা সত্য। এতদঞ্চলের অধিবাসীগণ চুক্তি সম্পাদন করেছিল যে, তাকে শাহী টুপী পরাবে এবং নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করবে। যখন আল্লাহ তা‘আলা সত্য প্রদানের মাধ্যমে এ পরিকল্পনা অস্বীকার করলেন তখন সে ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং আপনার সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে যা আপনি দেখেছেন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ক্ষমা করে দিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সহাবীগণ (রাঃ) মুশরিক এবং কিতাবীদেরকে ক্ষমা করে দিতেন এবং তাদের জ্বালাতনে ধৈর্য ধারণ করতেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “আর অবশ্যই তোমরা শুনতে পাবে পূর্ববর্তী আহ্লে কিতাবের এবং মুশরিকদের নিকট হতে অনেক কষ্টদায়ক কথা” (সূরাহ আলু ইমরান ৩/১৮৬)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন, “কিতাবীদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরও তাদের অনেকেই ঈর্ষা বশতঃ তোমাদের ঈমান আনার পর আবার তোমাদের কাফিররূপে ফিরে পাওয়ার আকাক্সক্ষা করে। যতক্ষণ না আল্লাহ্র কোন নির্দেশ আসে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা ক্ষমা কর ও উপেক্ষা কর। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান” (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১০৯)।আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশ মোতাবেক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ক্ষমার দিকেই ফিরে যেতেন। শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা অনুমতি দিলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বাদ্রের যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা কাফির কুরায়শ নেতাদেরকে হত্যা করলেন তখন ইবনু উবাই ইবনু সালূল তার সঙ্গী মুশরিক এবং প্রতীমা পূজারীরা বলল, এটাতো এমন একটি ব্যাপার যা বিজয় লাভ করেছে। এরপর তারা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ইসলামের বাই‘আত করে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করল। [২৯৮৭] (আ.প্র. ৪২০৫, ই.ফা. ৪২০৭)
৬৫/৩/১৬. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তুমি কখনও মনে কর না যে, যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আনন্দিত হয় এবং নিজেরা যা করেনি তার জন্য প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা আযাব থেকে পরিত্রাণ পাবে। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/১৮৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৬৭
হাদিস নং ৪৫৬৭
سَعِيْدُ بْنُ أَبِيْ مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رِجَالًا مِنَ الْمُنَافِقِيْنَ عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا خَرَجَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْغَزْوِ تَخَلَّفُوْا عَنْهُ وَفَرِحُوْا بِمَقْعَدِهِمْ خِلَافَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا قَدِمَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم اعْتَذَرُوْا إِلَيْهِ وَحَلَفُوْا وَأَحَبُّوْا أَنْ يُحْمَدُوْا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوْا فَنَزَلَتْ : {لَا يَحْسِبَنَّ الَّذِيْنَ يَفْرَحُوْنَ بِمَآ أَتَوْا وَّيُحِبُّوْنَ أَنْ يُّحْمَدُوْا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوْا}الآيَةَ.
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে তিনি যখন যুদ্ধে বের হতেন তখন কিছু সংখ্যক মুনাফিক ঘরে বসে থাকত এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেরিয়ে যাওয়ার পর বসে থাকতে পারায় আনন্দ প্রকাশ করত। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিরে আসলে তাঁর কাছে শপথ করে ওজর পেশ করত এবং যে কাজ করেনি সে কাজের জন্য প্রশংসিত হতে পছন্দ করত। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল ঃ لاَيَحْسِبَنَّالَّذِينَيَفْرَحُونَ ...... “তুমি কখনও মনে কর না যে, যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আনন্দিত হয় এবং নিজেরা যা করেনি তার জন্য প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা আযাব থেকে পরিত্রাণ পাবে। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি” (সূরাহ আলু ইমরান ৩/১৮৮)। [মুসলিম ৫০/হাঃ ২৭৭৭] (আ.প্র. ৪২০৬, ই.ফা. ৪২০৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৬৮
হাদিস নং ৪৫৬৮
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا هِشَامٌ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُمْ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ أَنَّ عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ مَرْوَانَ قَالَ لِبَوَّابِهِ اذْهَبْ يَا رَافِعُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقُلْ لَئِنْ كَانَ كُلُّ امْرِئٍ فَرِحَ بِمَا أُوْتِيَ وَأَحَبَّ أَنْ يُحْمَدَ بِمَا لَمْ يَفْعَلْ مُعَذَّبًا لَنُعَذَّبَنَّ أَجْمَعُوْنَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَمَا لَكُمْ وَلِهَذِهِ إِنَّمَا دَعَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَهُوْدَ فَسَأَلَهُمْ عَنْ شَيْءٍ فَكَتَمُوْهُ إِيَّاهُ وَأَخْبَرُوْهُ بِغَيْرِهِ فَأَرَوْهُ أَنْ قَدْ اسْتَحْمَدُوْا إِلَيْهِ بِمَا أَخْبَرُوْهُ عَنْهُ فِيْمَا سَأَلَهُمْ وَفَرِحُوْا بِمَا أُوْتُوْا مِنْ كِتْمَانِهِمْ ثُمَّ قَرَأَ ابْنُ عَبَّاسٍ : {وَإِذْ أَخَذَ اللهُ مِيْثَاقَ الَّذِيْنَ أُوْتُوا الْكِتَابَ} كَذَلِكَ حَتَّى قَوْلِهِ : {يَفْرَحُوْنَ بِمَآ أَتَوْا وَّيُحِبُّوْنَ أَنْ يُّحْمَدُوْا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوْا} تَابَعَهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ ححَدَّثَنَا ابْنُ مُقَاتِلٍ أَخْبَرَنَا الْحَجَّاجُ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِيْ مُلَيْكَةَ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ مَرْوَانَ بِهَذَا.
বর্ণনাকারী ‘আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস
মারওয়ান (রহ.) তাঁর দারোয়ানকে বললেন, হে নাফি‘! তুমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে বল, যদি প্রাপ্ত বস্তুতে আনন্দিত এবং করেনি এমন কাজ সম্পর্কে প্রশংসিত হতে আশাবাদী প্রত্যেক ব্যক্তিরই শাস্তি প্রাপ্য হয় তাহলে সকল মানুষই শাস্তিপ্রাপ্ত হবে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, এটা তোমাদের মাথা ঘামানোর বিষয় নয়। একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইয়াহূদীদেরকে ডেকে একটা বিষয় জিজ্ঞেস করেছিলেন, তাতে তারা সত্য গোপন করে বিপরীত তথ্য দিয়েছিল। এতদসত্ত্বেও তারা তাদের দেয়া উত্তরের বিনিময়ে প্রশংসা অর্জনের আশা করেছিল এবং তাদের সত্য গোপনের জন্যে আনন্দিত হয়েছিল। তারপর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) পাঠ করলেন- يَفْرَحُونَبِمَاأَتَوْاوَيُحِبُّونَأَنْيُحْمَدُوابِمَالَمْيَفْعَلُوا ....... وَإِذْأَخَذَاللهُمِيثَاقَالَّذِينَأُوتُواالْكِتَابَ “স্মরণ কর, যখন আল্লাহ্ প্রতিশ্র“তি নিয়েছিলেন আহ্লে কিতাবের, তোমরা মানুষের কাছে কিতাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না। কিন্তু তারা সে প্রতিশ্র“তি নিজেদের পেছনে ফেলে রাখল এবং তার পরিবর্তে নগণ্য বিনিময় গ্রহণ করল। সুতরাং তারা যা বিনিময় গ্রহণ করল কত নিকৃষ্ট তা! তুমি কখনও মনে কর না যে, যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আনন্দিত হয় এবং নিজেরা যা করেনি তার জন্য প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা আযাব থেকে পরিত্রাণ পাবে। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি” (সূরাহ আলু ইমরান ৩/১৮৭-১৮৮)। বর্ণনাকারী ‘আবদুর রায্যাক (রহ.) ইবনু জুরাইজ (রহ.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (আ.প্র. ৪২০৭, ই.ফা. ৪২০৯)ইবনু মুকাতিল (রহ.) ........... হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) অবহিত করেছেন যে, মারওয়ান এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। [মুসলিম ৫০/হাঃ ২৭৭৮, আহমাদ ২৭১২] (আ.প্র. নাই, ই.ফা. ৪২১০)
৬৫/৩/১৭. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৬৯
হাদিস নং ৪৫৬৯
سَعِيْدُ بْنُ أَبِيْ مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ شَرِيْكُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِيْ نَمِرٍ عَنْ كُرَيْبٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ بِتُّ عِنْدَ خَالَتِيْ مَيْمُوْنَةَ فَتَحَدَّثَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ أَهْلِهِ سَاعَةً ثُمَّ رَقَدَ فَلَمَّا كَانَ ثُلُثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ قَعَدَ فَنَظَرَ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ : {إِنَّ فِيْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَاٰيَاتٍ لِأُوْلِي الْأَلْبَابِ} ثُمَّ قَامَ فَتَوَضَّأَ وَاسْتَنَّ فَصَلَّى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ أَذَّنَ بِلَالٌ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেছেন, আমি আমার খালা মাইমূনাহ (রাঃ)-এর কাছে রাত কাটিয়েছিলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরিবারবর্গের সঙ্গে কিছুক্ষণ আলাপ-আলোচনা করে শুয়ে পড়লেন। তারপর রাত্রির শেষ তৃতীয়াংশে তিনি উঠলেন এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে পাঠ করলেন- إِنَّفِيخَلْقِالسَّمَوَاتِوَالأَرْضِوَاخْتِلاَفِاللَّيْلِوَالنَّهَارِلَآيَاتٍلِأُولِيالأَلْبَابِ। এরপর দাঁড়ালেন এবং উযূ করে মিসওয়াক করে এগার রাক‘আত সলাত আদায় করলেন। এরপর বিলাল (রাঃ) আযান দিলে তিনি দু’ রাক‘আত সলাত আদায় করলেন। তারপর বের হলেন এবং ফাজ্রের সলাত আদায় করলেন। [১১৭] (আ.প্র. ৪২০৮, ই.ফা. ৪২১১)
৬৫/৩/১৮. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৭০
হাদিস নং ৪৫৭০
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنْ كُرَيْبٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ بِتُّ عِنْدَ خَالَتِيْ مَيْمُوْنَةَ فَقُلْتُ لَأَنْظُرَنَّ إِلَى صَلَاةِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَطُرِحَتْ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وِسَادَةٌ فَنَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيْ طُوْلِهَا فَجَعَلَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ ثُمَّ قَرَأَ الْآيَاتِ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ آلِ عِمْرَانَ حَتَّى خَتَمَ ثُمَّ أَتَى شَنًّا مُعَلَّقًا فَأَخَذَهُ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّيْ فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ ثُمَّ جِئْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِيْ ثُمَّ أَخَذَ بِأُذُنِيْ فَجَعَلَ يَفْتِلُهَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَوْتَرَ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি আমার খালা মাইমূনাহ (রাঃ)-এর নিকট রাত কাটিয়েছিলাম। আমি স্থির করলাম যে, অবশ্যই আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সলাত আদায় করা দেখব। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য একটি বিছানা বিছানো হল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেটার লম্বালম্বি দিকে ঘুমালেন। এরপর জাগ্রত হয়ে মুখমণ্ডল থেকে ঘুমের প্রভাব মুছতে লাগলেন এবং সূরাহ আলু ‘ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করে শেষ করলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের পানিপাত্রের নিকটে এসে তা ধরলেন এবং উযূ করে সলাতে দাঁড়ালেন, আমি দাঁড়িয়ে তিনি যা যা করছিলেন তা তা করলাম। তারপর আমি এসে তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। তিনি আমার মাথায় হাত রাখলেন, তারপর আমার কানে ধরে মলতে লাগলেন। তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত সলাত আদায় করলেন এবং তারপর বিতরের সলাত আদায় করলেন। [১১৭] (আ.প্র. ৪২০৯, ই.ফা. ৪২১২)
৬৫/৩/১৯. অধ্যায়ঃ
‘‘হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয় তুমি যাকে দোযখে দাখিল করলে তাকে লাঞ্ছিত করলে; আর যালিমদের জন্য তো কোন সাহায্যকারী নেই।’’ (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/১৯২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৭১
হাদিস নং ৪৫৭১
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيْسَى حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ بَاتَ عِنْدَ مَيْمُوْنَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهْيَ خَالَتُهُ قَالَ فَاضْطَجَعْتُ فِيْ عَرْضِ الْوِسَادَةِ وَاضْطَجَعَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُهُ فِيْ طُوْلِهَا فَنَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى انْتَصَفَ اللَّيْلُ أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيْلٍ أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيْلٍ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدَيْهِ ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ الْآيَاتِ الْخَوَاتِمَ مِنْ سُوْرَةِ آلِ عِمْرَانَ ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا فَأَحْسَنَ وُضُوْءَهُ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّيْ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَوَضَعَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِيْ وَأَخَذَ بِأُذُنِيْ بِيَدِهِ الْيُمْنَى يَفْتِلُهَا فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَوْتَرَ ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى جَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيْفَتَيْنِ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন যে, তিনি মাইমূনাহ (রাঃ)-এর নিকট রাত্রি যাপন করেন, তিনি হলেন তাঁর খালা। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়েছিলাম আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর পরিবারবর্গ লম্বালম্বির দিকে শুয়েছিলাম। অর্ধরাত্রি কিংবা এর সামান্য পূর্ব অথবা সামান্য পর পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমালেন। তারপর তিনি জাগ্রত হলেন। এরপর দু’হাত দিয়ে মুখ থেকে ঘুমের রেশ মুছতে লাগলেন। তারপর সূরাহ আলু ‘ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের কাছে গেলেন এবং সুন্দরভাবে ‘উযু করলেন। এরপর সলাতে দণ্ডায়মান হলেন। তিনি যা যা করেছিলেন আমিও ঠিক তা করলাম। তারপর গিয়ে তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ডান হাত আমার মাথায় রেখে আমার ডান কান ধরে মলতে লাগলেন। এরপর তিনি দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত তারপর দু’রাক‘আত সলাত আদায় করলেন এবং তারপর বিতরের সলাত আদায় করলেন। তারপর তিনি একটু শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়াযযিন আসল, তিনি হালকাভাবে দু’রাক‘আত সলাত আদায় করলেন। অতঃপর বের হলেন এবং ফাজ্রের সলাত আদায় করলেন। [১১৭] (আ.প্র. ৪২১০, ই.ফা. ৪২১৩)
৬৫/৩/২০. অধ্যায়ঃ
‘‘হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয় আমরা শুনেছি এক আহবানকারীকে ঈমান আনার জন্য আহবান করতেঃ ‘‘তোমরা ঈমান আন তোমাদের রবের প্রতি।’’ সুতরাং আমরা ঈমান এনেছি। (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/১৯৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৭২
হাদিস নং ৪৫৭২
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَخْبَرَهُ أَنَّهُ بَاتَ عِنْدَ مَيْمُوْنَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهْيَ خَالَتُهُ قَالَ فَاضْطَجَعْتُ فِيْ عَرْضِ الْوِسَادَةِ وَاضْطَجَعَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُهُ فِيْ طُوْلِهَا فَنَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا انْتَصَفَ اللَّيْلُ أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيْلٍ أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيْلٍ اسْتَيْقَظَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ الْآيَاتِ الْخَوَاتِمَ مِنْ سُوْرَةِ آلِ عِمْرَانَ ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا فَأَحْسَنَ وُضُوْءَهُ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّيْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَوَضَعَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِيْ وَأَخَذَ بِأُذُنِي الْيُمْنَى يَفْتِلُهَا فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَوْتَرَ ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى جَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيْفَتَيْنِ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ.
বর্ণনাকারী কুরায়ব (রহ.)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহধর্মিণী মাইমূনাহ (রাঃ)-এর নিকট রাত্রি যাপন করেছিলেন। মাইমূনাহ (রাঃ) হলেন তাঁর খালা। তিনি বলেন, আমি বিছানায় আড়াআড়ি শুয়ে পড়লাম এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর পরিবার লম্বা দিকে শয়ন করলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিদ্রামগ্ন হলেন। অর্ধরাত্রি কিংবা এর সামান্য আগে কিংবা সামান্য পরক্ষণে তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং মুখ থেকে ঘুমের ভাব মুছতে মুছতে বসলেন। তারপর সূরা আলু ‘ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের নিকট গিয়ে তাত্থেকে উত্তমরূপে উযূ করলেন। এরপর সলাতে দণ্ডায়মান হলেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমিও দাঁড়ালাম এবং তিনি যা করেছেন আমিও তা করলাম। তারপর আমি গিয়ে তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ডান হাত আমার মাথায় রেখে আমার ডান কান মলতে শুরু করলেন। তারপর তিনি দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর তিনি বিতরের সলাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি শুয়ে পড়লেন। শেষে মুয়াযযিন ফাজ্রের আযান দিলে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাক‘আত সলাত আদায় করলেন। তারপর বের হলেন এবং ফাজ্রের সলাত আদায় করলেন। [১১৭] (আ.প্র. ৪২১১, ই.ফা. ৪২১৪)
৬৫/৪/১. অধ্যায়ঃ
‘‘আর যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের ব্যাপারে সুবিচার করতে পারবে না, তবে বিয়ে করে নাও অন্য নারীদের মধ্য থেকে যাকে তোমাদের মনঃপুত হয়।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৭৩
হাদিস নং ৪৫৭৩
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ رَجُلًا كَانَتْ لَهُ يَتِيْمَةٌ فَنَكَحَهَا وَكَانَ لَهَا عَذْقٌ وَكَانَ يُمْسِكُهَا عَلَيْهِ وَلَمْ يَكُنْ لَهَا مِنْ نَفْسِهِ شَيْءٌ فَنَزَلَتْ فِيْهِ : {وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لَّا تُقْسِطُوْا فِي الْيَتَامٰى} أَحْسِبُهُ قَالَ كَانَتْ شَرِيْكَتَهُ فِيْ ذَلِكَ الْعَذْقِ وَفِيْ مَالِهِ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে একজন ইয়াতীম বালিকা ছিল। অতঃপর সে তাকে বিয়ে করল। সে বালিকার একটি বাগান ছিল। তার অন্তরে ঐ বালিকার প্রতি কোন আকর্ষণ না থাকা সত্ত্বেও বাগানের কারণে সে ঐ বালিকাটিকে বিবাহ করে রেখে দিতে চায়। এ সম্পর্কে আয়াত অবতীর্ণ হয় আর যদি আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না। আমার ধারণা যে, ‘উরওয়াহ বলেন, ইয়াতীম বালিকাটি সে বাগান ও মালের অংশীদার ছিল। [২৪৯৪] (আ.প্র. ৪২১২, ই.ফা. ৪২১৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৭৪
হাদিস নং ৪৫৭৪
عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ قَوْلِ اللهِ تَعَالَى : {وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لَّا تُقْسِطُوْا فِي الْيَتَامٰى} فَقَالَتْ يَا ابْنَ أُخْتِيْ هَذِهِ الْيَتِيْمَةُ تَكُوْنُ فِيْ حَجْرِ وَلِيِّهَا تَشْرَكُهُ فِيْ مَالِهِ وَيُعْجِبُهُ مَالُهَا وَجَمَالُهَا فَيُرِيْدُ وَلِيُّهَا أَنْ يَتَزَوَّجَهَا بِغَيْرِ أَنْ يُقْسِطَ فِيْ صَدَاقِهَا فَيُعْطِيَهَا مِثْلَ مَا يُعْطِيْهَا غَيْرُهُ فَنُهُوْا عَنْ أَنْ يَنْكِحُوْهُنَّ إِلَّا أَنْ يُقْسِطُوْا لَهُنَّ وَيَبْلُغُوْا لَهُنَّ أَعْلَى سُنَّتِهِنَّ فِي الصَّدَاقِ فَأُمِرُوْا أَنْ يَنْكِحُوْا مَا طَابَ لَهُمْ مِنْ النِّسَاءِ سِوَاهُنَّ قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ وَإِنَّ النَّاسَ اسْتَفْتَوْا رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ هَذِهِ الْآيَةِ فَأَنْزَلَ اللهُ : {وَيَسْتَفْتُوْنَكَ فِي النِّسَآءِ} قَالَتْ عَائِشَةُ : وَقَوْلُ اللهِ تَعَالَى فِيْ آيَةٍ أُخْرَى : {وَتَرْغَبُوْنَ أَنْ تَنْكِحُوْهُنَّ} رَغْبَةُ أَحَدِكُمْ عَنْ يَتِيْمَتِهِ حِيْنَ تَكُوْنُ قَلِيْلَةَ الْمَالِ وَالْجَمَالِ قَالَتْ فَنُهُوْا أَنْ يَنْكِحُوْا عَنْ مَنْ رَغِبُوْا فِيْ مَالِهِ وَجَمَالِهِ فِيْ يَتَامَى النِّسَاءِ إِلَّا بِالْقِسْطِ مِنْ أَجْلِ رَغْبَتِهِمْ عَنْهُنَّ إِذَا كُنَّ قَلِيْلَاتِ الْمَالِ وَالْجَمَالِ.
বর্ণনাকারী ‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহ.)
বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন মহান আল্লাহ্র বাণী وَإِنْخِفْتُمْأَنْلاَتُقْسِطُوافِيالْيَتَامَى সম্পর্কে। তিনি উত্তরে বললেন, হে ভাগ্নে! সে হচ্ছে পিতৃহীনা বালিকা, অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে থাকে এবং তার সম্পত্তিতে অংশীদার হয় এবং তার রূপ ও সম্পদ তাকে (অভিভাবককে) আকৃষ্ট করে। এরপর সেই অভিভাবক উপযুক্ত মাহ্র না দিয়ে তাকে বিবাহ করতে চায়। তদুপরি অন্য ব্যক্তি যে পরিমাণ মাহ্র দেয় তা না দিয়ে এবং তার প্রতি ন্যায়বিচার না করে তাকে বিয়ে করতে চায়। এরপর তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মাহ্র এবং ন্যায় ও সমুচিত মাহ্র প্রদান ব্যতীত তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং তদ্ব্যতীত যে সকল মহিলা পছন্দ হয় তাদেরকে বিয়ে করতে অনুমতি দেয়া হয়েছে। ‘উরওয়া (রহ.) বলেন যে, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর লোকেরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে মহিলাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন وَيَسْتَفْتُونَكَفِيالنِّسَاءِ “এবং লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে জানতে চান......”। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র বাণী অন্য এক আয়াতেতোমরা তাদেরকে বিয়ে করতে আগ্রহ প্রকাশ কর। ইয়াতীম বালিকার ধন-সম্পদ কম হলে এবং সুন্দরী না হলে তাকে বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করো না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তাই ইয়াতীম বালিকাদের মাল ও সৌন্দর্যের আকর্ষণে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে ন্যায়বিচার করলে ভিন্ন কথা। কেননা তারা সম্পদের অধিকারী না হলে এবং সুন্দরী না হলে তাদেরকেও বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। [২৪৯৪] (আ.প্র. ৪২১৩, ই.ফা. ৪২১৬)
৬৫/৪/২. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৭৫
হাদিস নং ৪৫৭৫
إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا فِيْ قَوْلِهِ تَعَالَى {وَمَنْ كَانَ غَنِيًّا فَلْيَسْتَعْفِفْ وَمَنْ كَانَ فَقِيْرًا فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوْفِ} أَنَّهَا نَزَلَتْ فِيْ وَالِي الْيَتِيْمِ إِذَا كَانَ فَقِيْرًا أَنَّهُ يَأْكُلُ مِنْهُ مَكَانَ قِيَامِهِ عَلَيْهِ بِمَعْرُوْفٍ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
আল্লাহ্র বাণী وَمَنْكَانَغَنِيًّافَلْيَسْتَعْفِفْوَمَنْكَانَفَقِيرًافَلْيَأْكُلْبِالْمَعْرُوفِ সম্পদশালী গ্রহণ করবে না অবতীর্ণ হয়েছে ইয়াতীমের সম্পদ উপলক্ষে, যদি তত্ত্বাবধায়ক দরিদ্র হয় তাহলে তত্ত্বাবধানের বিনিময়ে ন্যায্য পরিমাণে তা থেকে ভোগ করবে। [২২১২] (আ.প্র. ৪২১৪, ই.ফা. ৪২১৭)
৬৫/৪/৩. অধ্যায়ঃ
‘‘আর যদি সম্পত্তি বণ্টনকালে (উত্তরাধিকারী নয় এমন) আত্মীয় ইয়াতীম ও মিসকীন উপস্থিত হয়, তবে তা থেকে তাদের কিছু দিবে এবং তাদের সঙ্গে সদালাপ করবে।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৭৬
হাদিস নং ৪৫৭৬
أَحْمَدُ بْنُ حُمَيْدٍ أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللهِ الْأَشْجَعِيُّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا {وَإِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ أُولُو الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنُ} قَالَ هِيَ مُحْكَمَةٌ وَلَيْسَتْ بِمَنْسُوْخَةٍ تَابَعَهُ سَعِيْدٌ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, আয়াতটি সুস্পষ্ট, মানসুখ নয়। সা‘ঈদ (রাঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে ইকরামাহ (রাঃ)-এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ্র বাণী ঃ وَإِذَاحَضَرَالْقِسْمَةَأُولُوالْقُرْبَىوَالْيَتَامَىوَالْمَسَاكِينُ “আর যদি সম্পত্তি বণ্টনকালে আত্মীয়, ইয়াতীম ও মিসকীন উপস্থিত হয়”। (সূরাহ আন্-নিসা ৪/১১)। [২৭৫৯] (আ.প্র. ৪২১৫, ই.ফা. ৪২১৮)
৬৫/৪/৫. অধ্যায়ঃ
‘‘আর তোমরা পাবে অর্ধেক তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/১২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৭৮
হাদিস নং ৪৫৭৮
مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ عَنْ وَرْقَاءَ عَنْ ابْنِ أَبِيْ نَجِيْحٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ الْمَالُ لِلْوَلَدِ وَكَانَتْ الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ فَنَسَخَ اللهُ مِنْ ذَلِكَ مَا أَحَبَّ فَجَعَلَ لِلذَّكَرِ مِثْلَ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ وَجَعَلَ لِلْأَبَوَيْنِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسَ وَالثُّلُثَ وَجَعَلَ لِلْمَرْأَةِ الثُّمُنَ وَالرُّبُعَ وَللزَّوْجِ الشَّطْرَ وَالرُّبُعَ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তির সম্পদ লাভ করত সন্তানরা, আর ওয়াসীয়াত ছিল পিতামাতার জন্য। অতঃপর তাত্থেকে আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় পছন্দ অনুযায়ী কিছু রহিত করলেন এবং পুরুষদের জন্য মহিলার দ্বিগুণ নির্দিষ্ট করলেন। পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য ষষ্ঠাংশ ও তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করলেন, স্ত্রীদের জন্য অষ্টমাংশ ও চতুর্থাংশ নির্ধারণ করলেন এবং স্বামীর জন্য অর্ধাংশ ও চতুর্থাংশ নির্ধারণ করলেন। [২৭৪৭] (আ.প্র. ৪২১৭, ই.ফা. ৪২২০)
৬৫/৪/৬. অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৭৯
হাদিস নং ৪৫৭৯
مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الشَّيْبَانِيُّ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ الشَّيْبَانِيُّ وَذَكَرَهُ أَبُو الْحَسَنِ السُّوَائِيُّ وَلَا أَظُنُّهُ ذَكَرَهُ إِلَّا عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ {لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَآءَ كَرْهًا ط وَلَا تَعْضُلُوْهُنَّ لِتَذْهَبُوْا بِبَعْضِ مَآ اٰتَيْتُمُوْهُنَّ} قَالَ كَانُوْا إِذَا مَاتَ الرَّجُلُ كَانَ أَوْلِيَاؤُهُ أَحَقَّ بِامْرَأَتِهِ إِنْ شَاءَ بَعْضُهُمْ تَزَوَّجَهَا وَإِنْ شَاءُوْا زَوَّجُوْهَا وَإِنْ شَاءُوْا لَمْ يُزَوِّجُوْهَا فَهُمْ أَحَقُّ بِهَا مِنْ أَهْلِهَا فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِيْ ذَلِكَ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, يَاأَيُّهَاالَّذِينَآمَنُوالاَيَحِلُّلَكُمْأَنْتَرِثُواالنِّسَاءَكَرْهًاوَلاَتَعْضُلُوهُنَّلِتَذْهَبُوابِبَعْضِمَاآتَيْتُمُوهُنَّ ইসলামের প্রথম যুগে অবস্থা এমন ছিল যে, কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার অভিভাবকগণ তার স্ত্রীর মালিক হয়ে বসত। তারা ইচ্ছা করলে নিজেরা ঐ মহিলাকে বিয়ে করত। ইচ্ছা করলে অন্যের কাছে দিত। কিংবা তাকে মৃত্যু পর্যন্ত আটকে রাখত। কারও কাছে বিয়ে দিত না। মহিলার পরিবারের চেয়ে এরা অধিক হকদার হয়ে বসত। এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হল। [৬৯৪৮] (আ.প্র. ৪২১৮, ই.ফা. ৪২২১)
৬৫/৪/৭. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি সে সম্পত্তির যা ছেড়ে যায় পিতা-মাতা ও নিকট- আত্মীয়রা। আর যাদের সঙ্গে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের দিয়ে দাও তাদের প্রাপ্য অংশ। নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা। (সূরাহ আন-নিসা ৪/৩৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৮০
হাদিস নং ৪৫৮০
الصَّلْتُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أَبُوْ أُسَامَةَ عَنْ إِدْرِيْسَ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا {وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ} قَالَ وَرَثَةً {وَالَّذِيْنَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ} كَانَ الْمُهَاجِرُوْنَ لَمَّا قَدِمُوا الْمَدِيْنَةَ يَرِثُ الْمُهَاجِرِيُّ الْأَنْصَارِيَّ دُوْنَ ذَوِيْ رَحِمِهِ لِلْأُخُوَّةِ الَّتِيْ آخَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمْ فَلَمَّا نَزَلَتْ : {وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ} نُسِخَتْ ثُمَّ قَالَ : {وَالَّذِيْنَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ}مِنْ النَّصْرِ وَالرِّفَادَةِ وَالنَّصِيْحَةِ وَقَدْ ذَهَبَ الْمِيْرَاثُ وَيُوْصَي لَهُ سَمِعَ أَبُوْ أُسَامَةَ إِدْرِيْسَ وَسَمِعَ إِدْرِيْسُ طَلْحَةَ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, وَلِكُلٍّجَعَلْنَامَوَالِيَ হচ্ছে বংশীয় উত্তরাধিকারী, وَالَّذِينَعَاقَدَتْأَيْمَانُكُمْ হচ্ছে মুহাজিরগণ যখন মদিনায় এসেছিলেন তখন তারা আনসারদের উত্তরাধিকারী হতেন। আত্মীয়তার জন্য নয় বরং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক তাঁদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের কারণে। যখন وَلِكُلٍّجَعَلْنَامَوَالِيَ অবতীর্ণ হল, তখন এ হুকুম রহিত হয়ে গেল। তারপর বললেন, যাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তি করে থাক সাহায্য-সহযোগিতা ও পরস্পরের উপকার করার। আগের উত্তরাধিকার ব্যবস্থা রহিত হল এবং এদের জন্য ওয়াসীয়াত বৈধ করা হল।হাদীসটি আবূ উসামাহ ইদরীসের কাছে থেকে এবং ইদরীস ত্বলহার নিকট হতে শুনেছেন। [২২৯২] (আ.প্র. ৪২১৯, ই.ফা. ৪২২২)
৬৫/৪/৯. অধ্যায়ঃ
‘‘আর তখন কী অবস্থা হবে যখন আমি উপস্থিত করব প্রত্যেক উম্মাত থেকে একজন সাক্ষী এবং আপনাকে তাদের উপর উপস্থিত করব সাক্ষী রূপে?’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৪১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৮২
হাদিস নং ৪৫৮২
صَدَقَةُ أَخْبَرَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَبِيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ يَحْيَى بَعْضُ الْحَدِيْثِ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ قَالَ قَالَ لِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اقْرَأْ عَلَيَّ قُلْتُ آقْرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ فَإِنِّيْ أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِيْ فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ سُوْرَةَ النِّسَاءِ حَتَّى بَلَغْتُ {فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍم بِشَهِيْدٍ وَّجِئْنَا بِكَ عَلٰى هٰٓؤُلَآءِ شَهِيْدًا} قَالَ : أَمْسِكْ فَإِذَا عَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ.
বর্ণনাকারী ‘আম্র ইবনু মুররা
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, আমার কাছে কুরআন পাঠ কর। আমি বললাম, আমি আপনার কাছে পাঠ করব? অথচ আপনার কাছেই তা অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, অন্যের মুখ থেকে শুনতে আমি পছন্দ করি। এরপর আমি তাঁর নিকট সূরাহ ‘নিসা’ পাঠ করলাম, যখন আমি فَكَيْفَإِذَاجِئْنَامِنْكُلِّأُمَّةٍبِشَهِيدٍوَجِئْنَابِكَعَلَىهَؤُلَاءِشَهِيدً পর্যন্ত পাঠ করলাম, তিনি বললেন, থাম, থাম, তখন তাঁর দু’চোখ হতে টপ টপ করে অশ্র“ ঝরছিল। [৫০৪৯, ৫০৫০, ৫০৫৫, ৫০৫৬] (আ.প্র. ৪২২১, ই.ফা. ৪২২৪)
৬৫/৪/১০. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আর যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচ স্থান থেকে আসে ..........।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৪৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৮৩
হাদিস নং ৪৫৮৩
مُحَمَّدٌ أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ هَلَكَتْ قِلَادَةٌ لِأَسْمَاءَ فَبَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِيْ طَلَبِهَا رِجَالًا فَحَضَرَتْ الصَّلَاةُ وَلَيْسُوْا عَلَى وُضُوْءٍ وَلَمْ يَجِدُوْا مَاءً فَصَلَّوْا وَهُمْ عَلَى غَيْرِ وُضُوْءٍ فَأَنْزَلَ اللهُ يَعْنِيْ آيَةَ التَّيَمُّمِ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমার কাছ থেকে আসমা (রাঃ)-এর একটি হার হারিয়ে গিয়েছিল। সেটা খোঁজার জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কয়েকজন লোক পাঠিয়েছিলেন। তখন সলাতের সময় হল, তাদের কাছে পানি ছিল না। তারা উযূর অবস্থায় ছিলেন না আবার পানিও পেলেন না। এরপর বিনা অযুতে সলাত আদায় করে ফেললেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা তায়াম্মুমের নিয়মবিধি অবতীর্ণ করলেন। [৩৩৪] (আ.প্র. ৪২২২, ই.ফা. ৪২২৫)
৬৫/৪/১১. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর এবং আনুগত্য কর রাসূলের এবং তাদের যারা তোমাদের মধ্যে ফায়সালার অধিকারী। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে মতভেদ কর, তবে তা প্রত্যর্পণ কর আল্লাহ্ ও রাসূলের প্রতি-যদি তোমরা ঈমান এনে থাক আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি। আর এটাই উত্তম এবং পরিণামে কল্যাণকর। (সূরাহ আন-নিসা ৪/৫৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৮৪
হাদিস নং ৪৫৮৪
صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ يَعْلَى بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا {أَطِيْعُوا اللهَ وَأَطِيْعُوا الرَّسُوْلَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} قَالَ نَزَلَتْ فِيْ عَبْدِ اللهِ بْنِ حُذَافَةَ بْنِ قَيْسِ بْنِ عَدِيٍّ إِذْ بَعَثَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِيْ سَرِيَّةٍ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেছেন যে, أَطِيعُوااللهَوَأَطِيعُواالرَّسُولَوَأُولِيالأَمْرِمِنْكُمْ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে ‘আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফাহ ইবনু ক্বায়স ইবনু আদী সম্পর্কে যখন তাঁকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি সৈন্য দলের দলনায়ক করে প্রেরণ করেছিলেন। [মুসলিম ৩৩/৮, হাঃ ১৮৩৪] (আ.প্র. ৪২২৩, ই.ফা. ৪২২৬)
৬৫/৪/১২. অধ্যায়ঃ
‘‘তবে না; আপনার রবের কসম! তারা মু’মিন হবে না যে পর্যন্ত না তারা আপনার উপর বিচারের ভার অর্পণ করে সেসব বিবাদ-বিসম্বাদের যা তাদের মধ্যে সংঘটিত হয়, তারপর তারা নিজেদের মনে কোনরূপ দ্বিধা-সংকোচ বোধ না করে আপনার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে এবং সর্বান্তঃকরণে তা মেনে নেয়।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৬৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৮৫
হাদিস নং ৪৫৮৫
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ قَالَ خَاصَمَ الزُّبَيْرُ رَجُلًا مِنْ الْأَنْصَارِ فِيْ شَرِيْجٍ مِنْ الْحَرَّةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ أَرْسِلْ الْمَاءَ إِلَى جَارِكَ فَقَالَ الْأَنْصَارِيُّ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ احْبِسْ الْمَاءَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْجَدْرِ ثُمَّ أَرْسِلْ الْمَاءَ إِلَى جَارِكَ وَاسْتَوْعَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلزُّبَيْرِ حَقَّهُ فِيْ صَرِيْحِ الْحُكْمِ حِيْنَ أَحْفَظَهُ الْأَنْصَارِيُّ كَانَ أَشَارَ عَلَيْهِمَا بِأَمْرٍ لَهُمَا فِيْهِ سَعَةٌ قَالَ الزُّبَيْرُ فَمَا أَحْسِبُ هَذِهِ الْآيَاتِ إِلَّا نَزَلَتْ فِيْ ذَلِكَ {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُوْنَ حَتّٰى يُحَكِّمُوْكَ فِيْمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ}.
বর্ণনাকারী ‘উরওয়াহ
তিনি বলেছেন, হাররা বা মাদীনাহ্র কঙ্করময় ভূমিতে একটি পানির নালাকে কেন্দ্র করে একজন আনসার যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে ঝগড়া করেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে যুবায়র! প্রথমত তুমি তোমার জমিতে পানি দাও, তারপর তুমি প্রতিবেশীর জমিতে পানি ছেড়ে দেবে। আনসারী বললেন, হে আল্লাহ্ররসূল! সে আপনার ফুফাত ভাই, তাই এই ফয়সালা। এতে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারা রক্তিম হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, হে যুবায়র! তুমি তোমার জমিতে পানি দাও। তারপর সেচ নালা ভর্তি করে পানি রাখো, অতঃপর তোমার প্রতিবেশিকে পানি দাও।আনসারী যখন রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে রাগানি¦ত করলেন তখন তিনি তার হক পুরোপুরি যুবায়র (রাঃ)-কে প্রদানের জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে প্রথমে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন একটি নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে প্রশস্ততা ছিল।যুবায়র (রাঃ) বলেন, فَلاَوَرَبِّكَلاَيُؤْمِنُونَحَتَّىيُحَكِّمُوكَفِيمَاشَجَرَبَيْنَهُمْ আয়াতটি এ উপলক্ষে অবতীর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি। [২৩৬০] (আ.প্র. ৪২২৪, ই.ফা. ৪২২৭)
৬৫/৪/১৩. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ কেউ আল্লাহ এবং রসূলের আনুগত্য করে ........ যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন। (সূরাহ আন-নিসা ৪/৬৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৮৬
হাদিস নং ৪৫৮৬
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ حَوْشَبٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ مَا مِنْ نَبِيٍّ يَمْرَضُ إِلَّا خُيِّرَ بَيْنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَكَانَ فِيْ شَكْوَاهُ الَّذِيْ قُبِضَ فِيْهِ أَخَذَتْهُ بُحَّةٌ شَدِيْدَةٌ فَسَمِعْتُهُ يَقُوْلُ : {مَعَ الَّذِيْنَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّيْنَ وَالصِّدِّيْقِيْنَ وَالشُّهَدَآءِ وَالصَّالِحِيْنَ} فَعَلِمْتُ أَنَّهُ خُيِّرَ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেছেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, প্রত্যেক নাবী অন্তিম সময়ে পীড়িত হলে তাঁকে দুনিয়া ও আখিরাতের যে কোন একটি গ্রহণ করতে বলা হয়। যে অসুখে তাঁকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে সে অসুখে তাঁর ভীষণ শ্বাসকষ্ট আরম্ভ হয়েছিল। সে সময় আমি তাঁকে مَعَالَّذِينَأَنْعَمَاللهُعَلَيْهِمْمِنْالنَّبِيِّينَوَالصِّدِّيقِينَوَالشُّهَدَاءِوَالصَّالِحِينَ তাঁরা নাবীগণ, সত্যপরায়ণ, শহীদ ও সৎকর্মশীল যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ বর্ষণ করেছেন, তাঁদের সঙ্গী হবেন (সূরাহ আন-নিসা ৪/৬৯) বলতে শুনেছি। এরপর আমি বুঝে নিয়েছি যে, তাঁকে (দুনিয়া বা আখিরাতে) যে কোন একটি বেছে নেয়ার অবকাশ দেয়া হয়েছে। [৪৪৩৫] (আ.প্র. ৪২২৫, ই.ফা. ৪২২৮)
৬৫/৪/১৪. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তোমাদের কী হল যে, তোমরা যুদ্ধ করবে না আল্লাহর পথে এবং অসহায় নর-নারী ও শিশুগণের জন্য ........ যার অধিবাসী যালিম।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৭৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৮৭
হাদিস নং ৪৫৮৭
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ كُنْتُ أَنَا وَأُمِّيْ مِنْ الْمُسْتَضْعَفِيْنَ مِنْ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ.
বর্ণনাকারী ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.)
তিনি বলেছেন যে, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন যে, আমি এবং আমার আম্মা (আয়াতে বর্ণিত) অসহায়দের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। [১৩৫৭] (আ.প্র. ৪২২৬, ই.ফা. ৪২২৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৮৮
হাদিস নং ৪৫৮৮
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوْبَ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ تَلَا : {إِلَّا الْمُسْتَضْعَفِيْنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَآءِ وَالْوِلْدَانِ} قَالَ : كُنْتُ أَنَا وَأُمِّيْ مِمَّنْ عَذَرَ اللهُ. وَيُذْكَرُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ {حَصِرَتْ} ضَاقَتْ. {تَلْوُوْا} أَلْسِنَتَكُمْ بِالشَّهَادَةِ وَقَالَ غَيْرُهُ {الْمُرَاغَمُ} الْمُهَاجَرُ رَاغَمْتُ هَاجَرْتُ قَوْمِي. {مَوْقُوْتًا}: مُوَقَّتًا وَقْتَهُ عَلَيْهِمْ.
বর্ণনাকারী ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহ.)
তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) إِلاَّالْمُسْتَضْعَفِينَمِنْالرِّجَالِوَالنِّسَاءِوَالْوِلْدَانِ “তবে যেসব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশু .......” (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৮) আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন এবং বললেন, আল্লাহ যাদের অক্ষমতাকে অনুমোদন করেছেন আমি এবং আমার আম্মা তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত حَصِرَتْসংকুচিত হয়েছে। تَلْوُواأَلْسِنَتَكُمْبِالشَّهَادَةِসাক্ষ্য দিতে তাদের জিহ্বা বক্র হয়। الْمُهَاجَرُالْمُرَاغَمُ হিজরাতের স্থান, رَاغَمْتُقَوْمِيআমার গোত্রকে ত্যাগ করেছি, مَوْقُوتًا এবং مُوَقَّتًاতাদের উপর সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। [১৩৫৭] (আ.প্র. ৪২২৭, ই.ফা. ৪২৩০)
৬৫/৪/১৫. অধ্যায়ঃ
‘‘তোমাদের কী হল যে, তোমরা মুনাফিকদের সম্বন্ধে দু’দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহ্ তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন তাদের কৃতকর্মের দরুন।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৮৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৮৯
হাদিস নং ৪৫৮৯
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَدِيٍّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ يَزِيْدَ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ {فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِيْنَ فِئَتَيْنِ} رَجَعَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ أُحُدٍ وَكَانَ النَّاسُ فِيْهِمْ فِرْقَتَيْنِ فَرِيْقٌ يَقُوْلُ اقْتُلْهُمْ وَفَرِيْقٌ يَقُوْلُ : لَا فَنَزَلَتْ : {فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِيْنَ فِئَتَيْنِ} وَقَالَ : إِنَّهَا طَيْبَةُ، تَنْفِي الْخَبَثَ كَمَا تَنْفِي النَّارُ خَبَثَ الْفِضَّةِ.
বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)
فَمَالَكُمْفِيالْمُنَافِقِينَفِئَتَيْنِ উহূদের যুদ্ধ থেকে একদল লোক দলত্যাগ করে ফিরে এসেছিল, এরপর তাদের ব্যাপারে লোকেরা দু’দল হয়ে গেল, একদল বলছে তাদেরকে হত্যা করে ফেল; অপরদল বলছে তাদেরকে হত্যা করো না, তখন অবতীর্ণ হল ঃ فَمَالَكُمْفِيالْمُنَافِقِينَفِئَتَيْنِ অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এই মাদীনাহ হল পবিত্র স্থান, আগুন যেভাবে রৌপ্যের কালিমা দূর করে এটাও অপবিত্রতা দূর করে দেয়। [১৮৮৪; মুসলিম ১৫/৮৮, হাঃ ১৩৮৪, আহমাদ ২১৬৫৫] (আ.প্র. ৪২২৮, ই.ফা. ৪২৩১)
৬৫/৪/১৬. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আর যখন তাদের কাছে পৌঁছে কোন সংবাদ নিরাপত্তা কিংবা ভয় সংক্রান্ত, তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। (সূরাহ আন-নিসা ৪/৮৩)
৬৫/৪/১৭. অধ্যায়ঃ
‘‘কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৯০
হাদিস নং ৪৫৯০
آدَمُ بْنُ أَبِيْ إِيَاسٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا مُغِيْرَةُ بْنُ النُّعْمَانِ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيْدَ بْنَ جُبَيْرٍ قَالَ آيَةٌ اخْتَلَفَ فِيْهَا أَهْلُ الْكُوْفَةِ فَرَحَلْتُ فِيْهَا إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَسَأَلْتُهُ عَنْهَا فَقَالَ نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضٰى أَوْ عَلٰى سَفَرٍ أَوْ جَآءَ أَحَدٌ مِّنْكُمْ مِّنَ الْغَآئِطِ} هِيَ آخِرُ مَا نَزَلَ وَمَا نَسَخَهَا شَيْءٌ.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ)
তিনি বলেছেন যে, এই আয়াত সম্পর্কে কূফাবাসীগণ ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করল। (কেউ বলেন মানসূখ, কেউ বলেন মানসূখ নয়। এ ব্যাপারে আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, উত্তরে তিনি বললেন, وَمَنْيَقْتُلْمُؤْمِنًامُتَعَمِّدًافَجَزَاؤُهُجَهَنَّمُ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে এবং এটি শেষের দিকে অবতীর্ণ আয়াত; এটাকে কোন কিছু রহিত করেনি। [৩৮৫৫; মুসলিম ৫৪/হাঃ ৩০২৩] (আ.প্র. ৪২২৯, ই.ফা. ৪২৩২)
৬৫/৪/১৮. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ কেউ তোমাদের সালাম করলে তাকে বল নাঃ ‘‘তুমি তো মু’মিন নও’’। (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৯১
হাদিস নং ৪৫৯১
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا {وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا} قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : كَانَ رَجُلٌ فِيْ غُنَيْمَةٍ لَهُ فَلَحِقَهُ الْمُسْلِمُوْنَ فَقَالَ : السَّلَامُ عَلَيْكُمْ فَقَتَلُوْهُ، وَأَخَذُوْا غُنَيْمَتَهُ فَأَنْزَلَ اللهُ فِيْ ذَلِكَ إِلَى قَوْلِهِ : {عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} تِلْكَ الْغُنَيْمَةُ. قَالَ : قَرَأَ ابْنُ عَبَّاسٍ السَّلَامَ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেছেন যে, وَلاَتَقُولُوالِمَنْأَلْقَىإِلَيْكُمْالسَّلاَمَلَسْتَمُؤْمِنًا আয়াতের ঘটনা হচ্ছে এই যে, এক ব্যক্তির কিছু ছাগল ছিল, মুসলিমদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হলে সে তাঁদেরকে বলল “আস্সালামু আলাইকুম”, মুসলিমরা তাকে হত্যা করল এবং তার ছাগলগুলো নিয়ে নিল, এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন عَرَضَالْحَيَاةِالدُّنْيَا পার্থিব সম্পদের লালসায়আর সে সম্পদ হচ্ছে এ ছাগল পাল।‘আত্বা (রহ.) বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) السَّلاَمَ পড়েছেন। (আ.প্র. ৪২৩০, ই.ফা. ৪২৩৩)
৬৫/৪/১৯. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ সমান নয় সেসব মু’মিন যারা বিনা ওজরে ঘরে বসে থাকে এবং ঐসব মু’মিন যারা আল্লাহর পথে নিজেদের জানমাল দিয়ে জিহাদ করে।(সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৯২
হাদিস নং ৪৫৯২
إِسْمَاعِيْلُ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِيْ إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ السَّاعِدِيُّ أَنَّهُ رَأَى مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ فِي الْمَسْجِدِ فَأَقْبَلْتُ حَتَّى جَلَسْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَأَخْبَرَنَا أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَمْلَى عَلَيْهِ {لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ} و {وَالْمُجَاهِدُوْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ} فَجَاءَهُ ابْنُ أُمِّ مَكْتُوْمٍ وَهْوَ يُمِلُّهَا عَلَيَّ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَاللهِ لَوْ أَسْتَطِيْعُ الْجِهَادَ لَجَاهَدْتُ وَكَانَ أَعْمَى فَأَنْزَلَ اللهُ عَلَى رَسُوْلِهِ صلى الله عليه وسلم وَفَخِذُهُ عَلَى فَخِذِيْ فَثَقُلَتْ عَلَيَّ حَتَّى خِفْتُ أَنْ تَرُضَّ فَخِذِيْ ثُمَّ سُرِّيَ عَنْهُ فَأَنْزَلَ اللهُ {غَيْرَ أُولِي الضَّرَرِ}.
বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)
তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে لاَيَسْتَوِيالْقَاعِدُونَمِنَالْمُؤْمِنِينَوَالْمُجَاهِدُونَفِيسَبِيلِاللهِ আয়াতটি লেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে বলছিলেন এমন সময় ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ) তাঁর কাছে আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আল্লাহ্র শপথ, যদি আমার জিহাদ করার ক্ষমতা থাকত তা হলে অবশ্যই জিহাদ করতাম। তিনি অন্ধ ছিলেন। এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর ওয়াহী নাযিল করলেন, এমন অবস্থায় যে তাঁর উরু আমার উরুর উপর ছিল তা আমার কাছে এতই ভারী লাগছিল যে, আমি আমার উরু ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলাম। তারপর তাঁর থেকে এই অবস্থা কেটে গেল, আর আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন ঃ غَيْرَأُولِيالضَّرَرِঅক্ষম ব্যক্তিরা ব্যতীত (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৫)। [২৮৩২] (আ.প্র. ৪২৩১, ই.ফা. ৪২৩৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৯৩
হাদিস নং ৪৫৯৩
حَفْصُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ دَعَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم زَيْدًا فَكَتَبَهَا فَجَاءَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُوْمٍ فَشَكَا ضَرَارَتَهُ فَأَنْزَلَ اللهُ غَيْرَ أُوْلِي الضَّرَرِ.
বর্ণনাকারী বারাআ (রাঃ)
তিনি বললেন, যখন لاَيَسْتَوِيالْقَاعِدُونَمِنَالْمُؤْمِنِينَ..... আয়াতটি অবতীর্ণ হল, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যায়দ (রাঃ)-কে ডাকলেন। তিনি তা লিখে নিলেন। ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ) তাঁর অক্ষমতার ওযর পেশ করলেন, আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন ঃ غَيْرَأُولِيالضَّرَرِ অক্ষম ব্যক্তিরা ব্যতীত (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৫)। [২৮৩১] (আ.প্র. ৪২৩২, ই.ফা. ৪২৩৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৯৪
হাদিস নং ৪৫৯৪
مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ {لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ} قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ادْعُوْا فُلَانًا فَجَاءَهُ وَمَعَهُ الدَّوَاةُ وَاللَّوْحُ أَوِ الْكَتِفُ فَقَالَ اكْتُبْ {لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُجَاهِدُوْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ} وَخَلْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ابْنُ أُمِّ مَكْتُوْمٍ فَقَالَ : يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنَا ضَرِيْرٌ فَنَزَلَتْ مَكَانَهَا {لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ غَيْرَ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُوْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ}.
বর্ণনাকারী বারাআ (রাঃ)
তিনি বলেছেন যে, لاَيَسْتَوِيالْقَاعِدُونَمِنَالْمُؤْمِنِينَوَالْمُجَاهِدُونَفِيسَبِيلِاللهِ আয়াতটি যখন অবতীর্ণ হল, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন অমুককে ডেকে আন। এরপর দোয়াত, কাঠ অথবা হাড় খণ্ড নিয়ে তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলেন। তিনি বললেন, লিখে নাও ঃ لاَيَسْتَوِيالْقَاعِدُونَمِنَالْمُؤْمِنِينَوَالْمُجَاهِدُونَ ..... فِيسَبِيلِاللهِরসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পেছনে ছিলেন ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ)। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমি অক্ষম ব্যক্তি। এরপর তখনই অবতীর্ণ হল ঃ لاَيَسْتَوِيالْقَاعِدُونَمِنَالْمُؤْمِنِينَغَيْرَأُولِيالضَّرَرِوَالْمُجَاهِدُونَفِيسَبِيلِاللهِ অর্থাৎ “যারা কোন প্রকার ওযর ব্যতীত বাড়িতে বসে থাকে তারা এবং আল্লাহ্র পথে জিহাদকারীগণ সমান হতে পারে না।” [২৮৩১] (আ.প্র. ৪২৩৩, ই.ফা. ৪২৩৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৯৫
হাদিস নং ৪৫৯৫
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا هِشَامٌ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُمْ ح و حَدَّثَنِيْ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِيْ عَبْدُ الْكَرِيْمِ أَنَّ مِقْسَمًا مَوْلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَارِثِ أَخْبَرَهُ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَخْبَرَهُ {لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ} عَنْ بَدْرٍ وَالْخَارِجُوْنَ إِلَى بَدْرٍ
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
বাদ্রের যুদ্ধে যোগদানকারী আর বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত মু’মিনগণ সমান নয়। [৩৯৫৪] (আ.প্র. ৪২৩৪, ই.ফা. ৪২৩৭)
৬৫/৪/২০. অধ্যায়ঃ
‘‘নিশ্চয় যারা নিজেদের উপর যুল্ম করে, মালায়িকাহ তাদের জান কবজের সময় বলবেঃ তোমরা কী অবস্থায় ছিলে? তারা বলবেঃ আমরা দুনিয়ায় অসহায় অবস্থায় ছিলাম। মালায়িকাহ বলবেঃ আল্লাহর দুনিয়া কি এমন প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা সেখানে হিজরাত করে চলে যেতে?’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৯৬
হাদিস নং ৪৫৯৬
عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيْدَ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ وَغَيْرُهُ قَالَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو الْأَسْوَدِ قَالَ قُطِعَ عَلَى أَهْلِ الْمَدِيْنَةِ بَعْثٌ فَاكْتُتِبْتُ فِيْهِ فَلَقِيْتُ عِكْرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَأَخْبَرْتُهُ فَنَهَانِيْ عَنْ ذَلِكَ أَشَدَّ النَّهْيِ ثُمَّ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ نَاسًا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ كَانُوْا مَعَ الْمُشْرِكِيْنَ يُكَثِّرُوْنَ سَوَادَ الْمُشْرِكِيْنَ عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِي السَّهْمُ فَيُرْمَى بِهِ فَيُصِيْبُ أَحَدَهُمْ فَيَقْتُلُهُ أَوْ يُضْرَبُ فَيُقْتَلُ فَأَنْزَلَ اللهُ : {إِنَّ الَّذِيْنَ تَوَفّٰهُمُ الْمَلٰٓئِكَةُ ظَالِمِيْٓ أَنْفُسِهِمْ}الآيَةَ رَوَاهُ اللَّيْثُ عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ.
বর্ণনাকারী আবুল আসওয়াদ মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.)
তিনি বলেছেন যে, একদল সৈন্য পাঠানোর জন্যে মাদীনাহ্বাসীদের উপর নির্দেশ দেয়া হলে আমাকেও তাতে অন্তর্ভুক্ত করা হল। আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর মুক্ত গোলাম ইকরামাহ্র সঙ্গে দেখা করলাম এবং তাঁকে এ ব্যাপারে জানালাম। তিনি আমাকে এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করলেন, তারপর বললেন কিছু সংখ্যক মুসলিম মুশরিকদের সঙ্গে থেকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে মুশরিকদের দল ভারী করেছিল, তীর এসে তাদের কারো উপর পড়ত এবং তাকে মেরে ফেলত অথবা তাদের কেউ মার খেত এবং নিহত হত তখন আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন ঃ إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّاهُمْ الْمَلاَئِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ আবুল আসওয়াদ থেকে লাইস এটা বর্ণনা করেছেন। [৭০৮৫] (আ.প্র. ৪২৩৫, ই.ফা. ৪২৩৮)
৬৫/৪/২১. অধ্যায়ঃ
‘‘তবে সেসব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশু যারা কোন উপায় অবলম্বন করতে পারে না এবং কোন পথেরও সন্ধান জানে না।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৯৭
হাদিস নং ৪৫৯৭
أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ أَيُّوْبَ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا {إِلَّا الْمُسْتَضْعَفِيْنَ} قَالَ : كَانَتْ أُمِّيْ مِمَّنْ عَذَرَ اللهُ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
إِلاَّ الْمُسْتَضْعَفِينَ সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, আল্লাহ তা‘আলা যাদের অক্ষমতা কবূল করেছেন আমার মাতা তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। [১৩৫৭] (আ.প্র. ৪২৩৬, ই.ফা. ৪২৩৯)
৬৫/৪/২২. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ্ এদের ক্ষমা করবেন। কারণ আল্লাহ্ অতিশয় মার্জনাকারী, পরম ক্ষমাশীল। (সূরাহ আন-নিসা ৪/৯৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৯৮
হাদিস নং ৪৫৯৮
أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِيْ سَلَمَةَ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيْ الْعِشَاءَ إِذْ قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ثُمَّ قَالَ قَبْلَ أَنْ يَسْجُدَ اللهُمَّ نَجِّ عَيَّاشَ بْنَ أَبِيْ رَبِيْعَةَ اللهُمَّ نَجِّ سَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ اللهُمَّ نَجِّ الْوَلِيْدَ بْنَ الْوَلِيْدِ اللهُمَّ نَجِّ الْمُسْتَضْعَفِيْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ اللهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ اللهُمَّ اجْعَلْهَا سِنِيْنَ كَسِنِيْ يُوْسُفَ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘ইশার সলাত আদায় করছিলেন, তিনি সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বললেন, তারপর সাজদাহ্ করার পূর্বে বললেন, হে আল্লাহ! আয়্যাশ ইবনু আবূ রাবিয়াকে মুক্ত করুন। হে আল্লাহ! সালামাহ ইবনু হিশামকে মুক্ত করুন। হে ‘আল্লাহ! ওয়ালিদ ইবনু ওয়ালিদকে মুক্ত করুন। হে আল্লাহ! অক্ষম মু’মিনদেরকে মুক্ত করুন। হে আল্লাহ! মুযার গোত্রের উপর কঠিন শাস্তি অবতীর্ণ করুন। হে আল্লাহ! তাদের উপর ইউসুফ (‘আ.)-এর যুগের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিন। [৭৯৭] (আ.প্র. ৪২৩৭, ই.ফা. ৪২৪০)
৬৫/৪/২৩. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৫৯৯
হাদিস নং ৪৫৯৯
مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ أَبُو الْحَسَنِ أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ يَعْلَى عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : {وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِنْ كَانَ بِكُمْ أَذًى مِّنْ مَطَرٍ أَوْ كُنْتُمْ مَرْضٰى} قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ وَكَانَ جَرِيْحًا.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আববাস (রাঃ)
إِنْ كَانَ بِكُمْ أَذًى مِنْ مَطَرٍ أَوْ كُنْتُمْ مَرْضَى আয়াতটি নাযিল হয়েছিল যখন ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) আহত হয়েছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৩৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৪২৪১)
৬৫/৪/২৪. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আর লোকেরা আপনার কাছে নারীদের সম্বন্ধে বিধান জানতে চায়। বলুনঃ আল্লাহ্ তাদের সম্বন্ধে তোমাদের ব্যবস্থা দিচ্ছেন এবং যা তোমাদের তিলাওয়াত করে শুনান হয় কুরআনে তা ঐসব ইয়াতিম নারীদের সম্পর্কে যাদের তোমরা তাদের নির্ধারিত প্রাপ্য প্রদান কর না অথচ তোমরা তাদের বিবাহ করতে চাও এবং অসহায় শিশুদের সম্বন্ধে, আর ইয়াতিমদের ব্যাপারে ইনসাফের সঙ্গে কার্য নির্বাহ করবে। (সূরাহ আন-নিসা ৪/১২৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬০০
হাদিস নং ৪৬০০
عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا أَبُوْ أُسَامَةَ قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ أَخْبَرَنِيْ أَبِيْ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا : {يَسْتَفْتُوْنَكَ فِي النِّسَآءِ قُلْ اللهُ يُفْتِيْكُمْ فِيْهِنَّ} إِلَى قَوْلِهِ : {وَتَرْغَبُوْنَ أَنْ تَنْكِحُوْهُنَّ} قَالَتْ عَائِشَةُ : هُوَ الرَّجُلُ تَكُوْنُ عِنْدَهُ الْيَتِيْمَةُ هُوَ وَلِيُّهَا وَوَارِثُهَا فَأَشْرَكَتْهُ فِيْ مَالِهِ حَتَّى فِي الْعَذْقِ فَيَرْغَبُ أَنْ يَنْكِحَهَا وَيَكْرَهُ أَنْ يُزَوِّجَهَا رَجُلًا فَيَشْرَكُهُ فِيْ مَالِهِ بِمَا شَرِكَتْهُ فَيَعْضُلُهَا فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
বর্ণিত। وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ يَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ قُلْ اللهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ আয়াত সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যার নিকট ইয়াতীম বালিকা থাকে সে তার অভিভাবক এবং তার মুরুব্বী, এরপর সেই বালিকা সেই অভিভাবকের সম্পদের অংশীদার হয়ে যায়, এমনকি খেজুর বাগানেও। সে ব্যক্তি তাকে বিয়েও করে না এবং অন্য কারো নিকট বিয়ে দিতেও অপছন্দ করে এ আশঙ্কায় যে, তার যেই সম্পদে বালিকা অংশীদার সেই সম্পদে অন্য ব্যক্তি অংশীদার হয়ে যাবে। এভাবে সেই ব্যক্তি ঐ বালিকাকে আটকে রাখে। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। [২৪৯৪] (আ.প্র. ৪২৩৯, ই.ফা. ৪২৪২)
৬৫/৪/২৫. অধ্যায়ঃ
‘‘আর যদি কোন স্ত্রী তার স্বামীর পক্ষ থেকে অসদাচরণ কিংবা উপেক্ষার আশংকা করে।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/১২৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬০১
হাদিস নং ৪৬০১
مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا : {وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْمبَعْلِهَا نُشُوْزًا أَوْ إِعْرَاضًا} قَالَتْ الرَّجُلُ تَكُوْنُ عِنْدَهُ الْمَرْأَةُ لَيْسَ بِمُسْتَكْثِرٍ مِنْهَا يُرِيْدُ أَنْ يُفَارِقَهَا فَتَقُوْلُ أَجْعَلُكَ مِنْ شَأْنِيْ فِيْ حِلٍّ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِيْ ذَلِكَ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
وَإِنْ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا আয়াত সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, কোন ব্যক্তির বিবাহ বন্ধনে কোন মহিলা থাকে কিন্তু স্বামী তার প্রতি আকৃষ্ট নয় বরং তাকে আলাদা করে দিতে চায়, তখন স্ত্রী বলে আমার এই দাবী থেকে আমি তোমাকে অব্যাহতি দিচ্ছি, এ সম্পর্কে এ আয়াত অবতীর্ণ হল। [২৪৫০] (আ.প্র. ৪২৪০, ই.ফা. ৪২৪৩)
৬৫/৪/২৬. অধ্যায়ঃ
‘‘ নিঃসন্দেহে মুনাফিকরা থাকবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।’’ (সূরাহ আন-নিসা ৪/১৪৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬০২
হাদিস নং ৪৬০২
عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ قَالَ حَدَّثَنِيْ إِبْرَاهِيْمُ عَنِ الْأَسْوَدِ قَالَ كُنَّا فِيْ حَلْقَةِ عَبْدِ اللهِ فَجَاءَ حُذَيْفَةُ حَتَّى قَامَ عَلَيْنَا فَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ لَقَدْ أُنْزِلَ النِّفَاقُ عَلَى قَوْمٍ خَيْرٍ مِنْكُمْ قَالَ الْأَسْوَدُ سُبْحَانَ اللهِ إِنَّ اللهَ يَقُوْلُ : {إِنَّ الْمُنَافِقِيْنَ فِي اَلدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ} فَتَبَسَّمَ عَبْدُ اللهِ وَجَلَسَ حُذَيْفَةُ فِيْ نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ فَقَامَ عَبْدُ اللهِ فَتَفَرَّقَ أَصْحَابُهُ فَرَمَانِيْ بِالْحَصَا فَأَتَيْتُهُ فَقَالَ حُذَيْفَةُ عَجِبْتُ مِنْ ضَحِكِهِ وَقَدْ عَرَفَ مَا قُلْتُ لَقَدْ أُنْزِلَ النِّفَاقُ عَلَى قَوْمٍ كَانُوْا خَيْرًا مِنْكُمْ ثُمَّ تَابُوْا فَتَابَ اللهُ عَلَيْهِمْ.
বর্ণনাকারী আসওয়াদ (রহ.)
আমরা ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ)-এর মজলিসে ছিলাম, সেখানে হুযাইফাহ আসলেন এবং আমাদের সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়ে সালাম দিলেন। এরপর বললেন, তোমাদের চেয়ে উত্তম গোত্রের উপরও মুনাফিকী এসেছিল। আসওয়াদ বললেন, সুবহানাল্লাহ! অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “মুনাফিকগণ জাহান্নামের নিুতম স্তরে থাকবে”। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) হেসে উঠলেন। হুযাইফাহ (রাঃ) মসজিদের এক কোণে গিয়ে বসলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) উঠে গেলে তাঁর শিষ্যবর্গও চলে গেলেন। এরপর হুযাইফাহ (রাঃ) আমার দিকে একটি পাথর টুকরো নিক্ষেপ করে আমাকে ডাকলেন। আমি তার নিকট গেলে তিনি বললেন, আমি তার হাসিতে বিস্মিত হলাম অথচ আমি যা বলেছি তা তিনি বুঝেছেন। এমন এক গোত্র যারা তোমাদের চেয়ে উত্তম তাদের মধ্যেও মুনাফিকী সৃষ্টি করা হয়েছিল। তারপর তারা তাওবাহ করেছে এবং আল্লাহ তা‘আলা তাদের তাওবাহ গ্রহণ করেছেন। (আ.প্র. ৪২৪১, ই.ফা. ৪২৪৪)
৬৫/৪/২৭. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তোমার নিকট ওয়াহী প্রেরণ করেছি যেমন ইউনুস, হারূন এবং সুলাইমান (আঃ)-এর নিকট ওয়াহী প্রেরণ করেছিলাম। (সূরাহ আন-নিসা ৪/১৬৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬০৩
হাদিস নং ৪৬০৩
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ قَالَ حَدَّثَنِي الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا يَنْبَغِيْ لِأَحَدٍ أَنْ يَقُوْلَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُوْنُسَ بْنِ مَتَّى.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, “আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা (‘আ.) থেকে উত্তম” এটা বলা কারো জন্য শোভনীয় নয়। [৩৪১২] (আ.প্র. ৪২৪২, ই.ফা. ৪২৪৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬০৪
হাদিস নং ৪৬০৪
مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ حَدَّثَنَا هِلَالٌ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُوْنُسَ بْنِ مَتَّى فَقَدْ كَذَبَ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি বলে “আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম” সে মিথ্যা বলে। [৩৪১৫] (আ.প্র. ৪২৪৩, ই.ফা. ৪২৪৬)
৬৫/৪/২৮. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ লোকেরা আপনার কাছে বিধান জানতে চায়। আপনি বলুনঃ আল্লাহ্ তোমাদের বিধান দিচ্ছেন ‘‘কালালা’’- (পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি) সম্বন্ধে। যদি কোন ব্যক্তি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায়। (পিতা-মাতা না থাকে) এবং তার এক বোন থাকে তবে সে পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ পাবে; সে যদি সন্তানহীনা হয় তবে তার ভাই তার ওয়ারিস হবে। (সূরাহ আন-নিসা ৪/১৭৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬০৫
হাদিস নং ৪৬০৫
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ، سَمِعْتُ الْبَرَاءَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : آخِرُ سُوْرَةٍ نَزَلَتْ بَرَاءَةَ وَآخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ : {يَسْتَفْتُوْنَكَ}.
বর্ণনাকারী আবূ ইসহাক (রহ.)
আমি বারাআ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, সর্বশেষ নাযিলকৃত সূরাহ হচ্ছে “বারাআত” এবং সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াত হচ্ছে يَسْتَفْتُونَكَ قُلْ اللهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ। [৪৩৬৪; মুসলিম ২৩/৩, হাঃ ১৬১৮] (আ.প্র. ৪২৪৪, ই.ফা. ৪২৪৭)
৬৫/৫/১. অধ্যায়ঃ
তাফসীর
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬০৬
হাদিস নং ৪৬০৬
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ قَيْسٍ عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ قَالَتْ الْيَهُوْدُ لِعُمَرَ إِنَّكُمْ تَقْرَءُوْنَ آيَةً لَوْ نَزَلَتْ فِيْنَا لَاتَّخَذْنَاهَا عِيْدًا فَقَالَ عُمَرُ إِنِّيْ لَأَعْلَمُ حَيْثُ أُنْزِلَتْ وَأَيْنَ أُنْزِلَتْ وَأَيْنَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حِيْنَ أُنْزِلَتْ يَوْمَ عَرَفَةَ وَإِنَّا وَاللهِ بِعَرَفَةَ قَالَ سُفْيَانُ وَأَشُكُّ كَانَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَمْ لَا {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ}.
বর্ণনাকারী ত্বরিক ইবনু শিহাব
ইয়াহূদীগণ ‘উমার ফারূক (রাঃ)-কে বলল যে, আপনারা এমন একটি আয়াত পড়ে থাকেন তা যদি আমাদের মধ্যে নাযিল হত, তবে আমরা সেটাকে “ঈদ” হিসেবে গ্রহণ করতাম। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি জানি এটা কখন নাযিল হয়েছে, কোথায় নাযিল হয়েছে এবং নাযিলের সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোথায় ছিলেন, আয়াতটি আরাফাতের দিন নাযিল হয়েছিল। আল্লাহ্র শপথ আমরা সবাই ‘আরাফাতে ছিলাম, সেই আয়াতটি হল الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম। সুফ্ইয়ান সাওরী বলেন, এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে । [৪৫] (আ.প্র. ৪২৪৫, ই.ফা. ৪২৪৮)
৬৫/৫/৩. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬০৭
হাদিস নং ৪৬০৭
إِسْمَاعِيْلُ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيْ بَعْضِ أَسْفَارِهِ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ أَوْ بِذَاتِ الْجَيْشِ انْقَطَعَ عِقْدٌ لِيْ فَأَقَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْتِمَاسِهِ وَأَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ وَلَيْسُوْا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ فَأَتَى النَّاسُ إِلَى أَبِيْ بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ فَقَالُوْا أَلَا تَرَى مَا صَنَعَتْ عَائِشَةُ أَقَامَتْ بِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَبِالنَّاسِ وَلَيْسُوْا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ فَجَاءَ أَبُوْ بَكْرٍ وَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَاضِعٌ رَأْسَهُ عَلَى فَخِذِيْ قَدْ نَامَ فَقَالَ حَبَسْتِ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسَ وَلَيْسُوْا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ قَالَتْ عَائِشَةُ فَعَاتَبَنِيْ أَبُوْ بَكْرٍ وَقَالَ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَقُوْلَ وَجَعَلَ يَطْعُنُنِيْ بِيَدِهِ فِيْ خَاصِرَتِيْ وَلَا يَمْنَعُنِيْ مِنْ التَّحَرُّكِ إِلَّا مَكَانُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى فَخِذِيْ فَقَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَصْبَحَ عَلَى غَيْرِ مَاءٍ فَأَنْزَلَ اللهُ آيَةَ التَّيَمُّمِ فَتَيَمَّمُوْا فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ مَا هِيَ بِأَوَّلِ بَرَكَتِكُمْ يَا آلَ أَبِيْ بَكْرٍ قَالَتْ فَبَعَثْنَا الْبَعِيْرَ الَّذِيْ كُنْتُ عَلَيْهِ فَإِذَا الْعِقْدُ تَحْتَهُ.
বর্ণনাকারী নাবী-পত্নী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে এক সফরে বের হলাম, বাইদা কিংবা যাতুল জাইশ নামক স্থানে পৌঁছার পর আমার গলার হার হারিয়ে গেল। তা খোঁজার জন্যে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে অবস্থান করলেন এবং লোকেরাও তাঁর সঙ্গে অবস্থান করল। সেখানেও কোন পানি ছিল না এবং তাদের সঙ্গেও পানি ছিল না। এরপর লোকেরা আবূ বাক্র (রাঃ)-এর কাছে আসল এবং বলল, ‘আয়িশাহ (রাঃ) যা করেছেন আপনি তা দেখেছেন কি? রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং সকল লোকটি আটকিয়ে রেখেছেন, অথচ সেখানেও পানি নেই আবার তাদের সঙ্গেও পানি নেই। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার উরুতে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় আবূ বাক্র (রাঃ) এলেন এবং বললেন, তুমি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং সকল লোককে আটকে রেখেছো অথচ সেখানেও পানি নেই আবার তাদের সঙ্গেও পানি নেই। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন যে, আবূ বাক্র (রাঃ) আমাকে দোষারোপ করলেন এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন তা বলেছেন এবং তাঁর অঙ্গুলি দিয়ে আমার কোমরে ধাক্কা দিতে লাগলেন, আমার কোলে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবস্থানই আমাকে নড়াচড়া করতে বাধা দিল। পানিবিহীন অবস্থায় ভোরে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুম থেকে উঠলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন, তখন সবাই তায়াম্মুম করল। তখন উসাইদ ইবনু হুযাইর বললেন, হে আবূ বাক্র-এর বংশধর! এটাই আপনাদের কারণে পাওয়া প্রথম বারাকাত নয়।‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, যে উটের উপর আমি ছিলাম, তাকে আমরা উঠালাম তখন দেখি হারটি তার নিচে। [৩৩৪] (আ.প্র. ৪২৪৬, ই.ফা. ৪২৪৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬০৮
হাদিস নং ৪৬০৮
يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عَمْرٌو أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا سَقَطَتْ قِلَادَةٌ لِيْ بِالْبَيْدَاءِ وَنَحْنُ دَاخِلُوْنَ الْمَدِيْنَةَ فَأَنَاخَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَنَزَلَ فَثَنَى رَأْسَهُ فِيْ حَجْرِيْ رَاقِدًا أَقْبَلَ أَبُوْ بَكْرٍ فَلَكَزَنِيْ لَكْزَةً شَدِيْدَةً وَقَالَ حَبَسْتِ النَّاسَ فِيْ قِلَادَةٍ فَبِي الْمَوْتُ لِمَكَانِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ أَوْجَعَنِيْ ثُمَّ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَيْقَظَ وَحَضَرَتْ الصُّبْحُ فَالْتَمِسَ الْمَاءُ فَلَمْ يُوْجَدْ فَنَزَلَتْ {يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْآ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ} الآيَةَ فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ لَقَدْ بَارَكَ اللهُ لِلنَّاسِ فِيْكُمْ يَا آلَ أَبِيْ بَكْرٍ مَا أَنْتُمْ إِلَّا بَرَكَةٌ لَهُمْ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
মদিনায় প্রবেশের পথে বাইদা নামক স্থানে আমার গলার হারটি পড়ে গেল। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে উট বসিয়ে অবস্থান করলেন। তিনি আমার কোলে মাথা রেখে শুয়েছিলেন। আবূ বাক্র (রাঃ) এসে আমাকে জোরে থাপ্পড় লাগালেন এবং বললেন একটি হার হারিয়ে তুমি সকল লোককে আটকে রেখেছো। এদিকে তিনি আমাকে ব্যথা দিয়েছেন, অপরদিকে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ অবস্থায় আছেন, এতে আমি মৃত্যু যাতনা ভোগ করছিলাম। তারপর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাগ্রত হলেন, ফাজ্র সলাতের সময় হল এবং পানি খোঁজ করে পাওয়া গেল না, তখন অবতীর্ণ হল ঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ فَاغسْلُوْا وَجُوْهكُم ..... ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা যখন সলাতের জন্য দাঁড়াতে চাও তখন ধৌত করে নিবে নিজেদের মুখমণ্ডল এবং হাত কনুই পর্যন্ত। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৬)এরপর উসায়দ ইবনু হুযায়র বললেন, হে আবূ বাক্রের বংশধর! আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কারণে মানুষের জন্যে বারাকাত অবতীর্ণ করেছেন। মানুষের জন্য তোমরা হলে কল্যাণ আর কল্যাণ। [৩৩৪] (আ.প্র. ৪২৪৭, ই.ফা. ৪২৫০)
৬৫/৫/৪. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ অতএব আপনি ও আপনার রব যান এবং উভয়ে যুদ্ধ করুন, আমরা তো এখানেই বসলাম। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/২৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬০৯
হাদিস নং ৪৬০৯
أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيْلُ عَنْ مُخَارِقٍ عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ شَهِدْتُ مِنَ الْمِقْدَادِ ح و حَدَّثَنِيْ حَمْدَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ حَدَّثَنَا الْأَشْجَعِيُّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُخَارِقٍ عَنْ طَارِقٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ الْمِقْدَادُ يَوْمَ بَدْرٍ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّا لَا نَقُوْلُ لَكَ كَمَا قَالَتْ بَنُوْ إِسْرَائِيْلَ لِمُوْسَى {فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَآ إِنَّا هَا هُنَا قَاعِدُوْنَ} وَلَكِنْ امْضِ وَنَحْنُ مَعَكَ فَكَأَنَّهُ سُرِّيَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ وَرَوَاهُ وَكِيْعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُخَارِقٍ عَنْ طَارِقٍ أَنَّ الْمِقْدَادَ قَالَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ
বদর যুদ্ধের দিন মিক্দাদ (রাঃ) বলেছিলেন, হে আল্লাহ্র রসূল! ইসরাঈলীরা মূসা (‘আ.)-কে যেমন বলেছিল, “যাও তুমি ও তোমার প্রতিপালক যুদ্ধ কর, আমরা এখানে বসে থাকব” আমরা আপনাকে সে রকম বলব না বরং আপনি এগিয়ে যান, আমরা আপনার সঙ্গেই আছি, তখন যেন রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেল। এই হাদীসটি ওয়াকা-সুফ্ইয়ান থেকে, তিনি মুখারিক থেকে এবং তিনি (মুখারিক) তারিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মিক্দাদ এটা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিলেন। [৩৯৫২] (আ.প্র. ৪২৪৮, ই.ফা. ৪২৫১)
৬৫/৫/৫. অধ্যায়ঃ
‘‘যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে হাঙ্গামা সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হল-তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা হবে অথবা দেশ থেকে তাদের নির্বাসিত করা হবে। এ হল তাদের জন্য দুনিয়ায় লাঞ্ছনা আর আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।’’ (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৩৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬১০
হাদিস নং ৪৬১০
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْأَنْصَارِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ سَلْمَانُ أَبُوْ رَجَاءٍ مَوْلَى أَبِيْ قِلَابَةَ عَنْ أَبِيْ قِلَابَةَ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا خَلْفَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيْزِ فَذَكَرُوْا وَذَكَرُوْا فَقَالُوْا وَقَالُوْا قَدْ أَقَادَتْ بِهَا الْخُلَفَاءُ فَالْتَفَتَ إِلَى أَبِيْ قِلَابَةَ وَهْوَ خَلْفَ ظَهْرِهِ فَقَالَ مَا تَقُوْلُ يَا عَبْدَ اللهِ بْنَ زَيْدٍ أَوْ قَالَ مَا تَقُوْلُ يَا أَبَا قِلَابَةَ قُلْتُ مَا عَلِمْتُ نَفْسًا حَلَّ قَتْلُهَا فِي الإِسْلَامِ إِلَّا رَجُلٌ زَنَى بَعْدَ إِحْصَانٍ أَوْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ حَارَبَ اللهَ وَرَسُوْلَهُ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عَنْبَسَةُ حَدَّثَنَا أَنَسٌ بِكَذَا وَكَذَا قُلْتُ إِيَّايَ حَدَّثَ أَنَسٌ قَالَ قَدِمَ قَوْمٌ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَلَّمُوْهُ فَقَالُوْا قَدْ اسْتَوْخَمْنَا هَذِهِ الْأَرْضَ فَقَالَ هَذِهِ نَعَمٌ لَنَا تَخْرُجُ فَاخْرُجُوْا فِيْهَا فَاشْرَبُوْا مِنَ الْبَانِهَا وَأَبْوَالِهَا فَخَرَجُوْا فِيْهَا فَشَرِبُوْا مِنْ أَبْوَالِهَا وَأَلْبَانِهَا وَاسْتَصَحُّوْا وَمَالُوْا عَلَى الرَّاعِيْ فَقَتَلُوْهُ وَاطَّرَدُوا النَّعَمَ فَمَا يُسْتَبْطَأُ مِنْ هَؤُلَاءِ قَتَلُوا النَّفْسَ وَحَارَبُوا اللهَ وَرَسُوْلَهُ وَخَوَّفُوْا رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سُبْحَانَ اللهِ فَقُلْتُ تَتَّهِمُنِيْ قَالَ حَدَّثَنَا بِهَذَا أَنَسٌ قَالَ وَقَالَ يَا أَهْلَ كَذَا إِنَّكُمْ لَنْ تَزَالُوْا بِخَيْرٍ مَا أُبْقِيَ هَذَا فِيْكُمْ أَوْ مِثْلُ هَذَا.
বর্ণনাকারী আবূ ক্বিলাবাহ (রহ.)
বর্ণিত। তিনি ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.)-এর পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। তাঁরা কাসামাত দণ্ড সম্পর্কিত হাদীসটি আলোচনা করলেন এবং এর অবস্থা সম্পর্কে আলাপ করলেন, তাঁরা মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে বললেন এবং এও বললেন যে, খুলাফায়ে রাশিদীন এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছেন। এরপর তিনি আবূ কিলাবার প্রতি তাকালেন, আবূ কিলাবাহ তাঁর পেছনে ছিলেন। তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ নামে কিংবা আবূ কিলাবাহ নামে ডেকে বললেন, এই ব্যাপারে তোমার মতামত কী? আমি বললাম, বিয়ের পর ব্যভিচার, কিসাস ব্যতীত খুন এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার কোন একটি ব্যতীত অন্য কোন কারণে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া ইসলামে বৈধ বলে আমার জানা নেই।আনবাসা বললেন, আনাস (রাঃ) আমাদেরকে হাদীস এভাবে বর্ণনা করেছেন (অর্থাৎ হাদীসে আরনিন)। আমি (আবূ ক্বিলাবাহ) বললাম, আমাকেও আনাস (রাঃ) এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদল লোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরবারে এসে তাঁর সঙ্গে আলাপ করল, তারা বলল, আমরা এ দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদেরকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এগুলো আমার উট, ঘাস খাওয়ার জন্যে বের হচ্ছে, তোমরা এগুলোর সঙ্গে যাও এবং এদের দুধ ও পেশাব পান কর। তারা ওগুলোর সঙ্গে বেরিয়ে গেল এবং দুধ ও প্রস্রাব পান করে সুস্থ হয়ে উঠল, এরপর রাখালের উপর আক্রমণ করে তাকে হত্যা করে পশুগুলো লুট করে নিয়ে গেল। এখন তাদেরকে হত্যা না করার পক্ষে আর কোন যুক্তিই থাকল না। তারা নরহত্যা করেছে, আল্লাহ ও তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ভয় দেখিয়েছে। ‘আনবাসা আশ্চর্য হয়ে বলল, সুবহানাল্লাহ! আমি বললাম, আমার এই হাদীস সম্পর্কে তুমি কি আমাকে মিথ্যা অপবাদ দেবে? ‘আনবাসা বলল, আনাস (রাঃ) আমাদেরকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবূ কিলাবাহ বললেন, তখন ‘আনবাসা বলল, হে এই দেশবাসী (অর্থাৎ সিরিয়াবাসী) এ রকম ব্যক্তিবর্গ যতদিন তোমাদের মধ্যে থাকবে ততদিন তোমরা কল্যাণের মধ্যে থাকবে। [২৩৩] (আ.প্র. ৪২৪৯, ই.ফা. ৪২৫২)
৬৫/৫/৬. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ এবং যখমের বদল অনুরূপ যখম। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৪৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬১১
হাদিস নং ৪৬১১
مُحَمَّدُ بْنُ سَلَامٍ أَخْبَرَنَا الْفَزَارِيُّ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَسَرَتْ الرُّبَيِّعُ وَهْيَ عَمَّةُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ثَنِيَّةَ جَارِيَةٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَطَلَبَ الْقَوْمُ الْقِصَاصَ فَأَتَوْا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْقِصَاصِ فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ عَمُّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ لَا وَاللهِ لَا تُكْسَرُ سِنُّهَا يَا رَسُوْلَ اللهِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَا أَنَسُ كِتَابُ اللهِ الْقِصَاصُ فَرَضِيَ الْقَوْمُ وَقَبِلُوا الْأَرْشَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللهِ لَأَبَرَّهُ.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেছেন, রুবাঈ যিনি আনাস (রাঃ)-এ ফুফু, এক আনসার মহিলার সামনের একটি বড় দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিল। এরপর আহত মহিলার গোত্র এর কিসাস দাবী করে। তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এলো, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিসাসের নির্দেশ দিলেন, আনাস ইবনু মালিকের চাচা আনাস ইবনু নযর বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আল্লাহ্র শপথ রুবাঈ-এর দাঁত ভাঙ্গা হবে না। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে আনাস! আল্লাহ্র কিতাব তো “বদলা”র বিধান দেয়। পরবর্তীতে বিরোধীপক্ষ রাযী হয়ে মুক্তিপণ বা দিয়ত গ্রহণ করল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ্র কতক বান্দা আছে যারা আল্লাহ্র নামে কসম করলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের কসম সত্যে পরিণত করেন। [২৭০৩] (আ.প্র. ৪২৫০, ই.ফা. ৪২৫৩)
৬৫/৫/৭. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ হে রসূল! আপনি তা পৌঁছে দিন যা আপনার প্রতি আপনার রবের তরফ থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছে। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৬৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬১২
হাদিস নং ৪৬১২
مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ إِسْمَاعِيْلَ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم كَتَمَ شَيْئًا مِمَّا أَنْزَلَ اللهُ عَلَيْهِ فَقَدْ كَذَبَ وَاللهُ يَقُوْلُ : {يٰٓأَيُّهَا الرَّسُوْلُ بَلِّغْ مَآ أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَّبِّكَ}الْآيَةَ
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেছেন যে, যদি কেউ তোমাকে বলে যে, তাঁর অবতীর্ণ বিষয়ের সামান্য কিছুও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গোপন করেছেন তা হলে অবশ্যই, সে মিথ্যা বলেছে। আল্লাহ বলেছেন, “হে রসূল! আপনি তা পৌঁছে দিন যা আপনার প্রতি আপনার রবের তরফ থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছে।” [৩২৩৪] (আ.প্র. ৪২৫১, ই.ফা. ৪২৫৪)
৬৫/৫/৮.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ তোমাদের পাকড়াও করবেন না তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৮৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬১৩
হাদিস নং ৪৬১৩
عَلِيُّ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ سُعَيْرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللهُ بِاللَّغْوِ فِيْٓ أَيْمَانِكُمْ} فِيْ قَوْلِ الرَّجُلِ لَا وَاللهِ وَبَلَى وَاللهِ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
لاَ يُؤَاخِذُكُمْ اللهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে মানুষের উদ্দেশ্যবিহীন উক্তিلاَ وَاللهِ না আল্লাহ্র শপথ, بَلَى وَاللهِ হ্যাঁ আল্লাহ্র শপথ ইত্যাদি উপলক্ষে। [৬৬৬৩] (আ.প্র. ৪২৫২, ই.ফা. ৪২৫৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬১৪
হাদিস নং ৪৬১৪
أَحْمَدُ ابْنُ أَبِيْ رَجَاءٍ حَدَّثَنَا النَّضْرُ عَنْ هِشَامٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ أَبِيْ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ أَبَاهَا كَانَ لَا يَحْنَثُ فِيْ يَمِيْنٍ حَتَّى أَنْزَلَ اللهُ كَفَّارَةَ الْيَمِيْنِ قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ لَا أَرَى يَمِيْنًا أُرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا إِلَّا قَبِلْتُ رُخْصَةَ اللهِ وَفَعَلْتُ الَّذِيْ هُوَ خَيْرٌ
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তাঁর পিতা শপথই ভঙ্গ করতেন না। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা শপথ ভঙ্গের কাফ্ফারার বিধান অবতীর্ণ করলেন। আবূ বাক্র (রাঃ) বলেছেন, শপথকৃত কাজের উল্টোটি যদি আমি উত্তম ধারণা করি তবে আমি আল্লাহ প্রদত্ত সুযোগটি গ্রহণ করি এবং উত্তম কাজটি সম্পাদন করি। [৬৬২১] (আ.প্র. ৪২৫৩, ই.ফা. ৪২৫৬)
৬৫/৫/৯.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা হারাম করো না সেসব উৎকৃষ্ট বস্তু যা আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করেছেন এবং সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালবাসেন না। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৮৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬১৫
হাদিস নং ৪৬১৫
عَمْرُوْ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ إِسْمَاعِيْلَ عَنْ قَيْسٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا نَغْزُوْ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَيْسَ مَعَنَا نِسَاءٌ فَقُلْنَا أَلَا نَخْتَصِيْ فَنَهَانَا عَنْ ذَلِكَ فَرَخَّصَ لَنَا بَعْدَ ذَلِكَ أَنْ نَتَزَوَّجَ الْمَرْأَةَ بِالثَّوْبِ ثُمَّ قَرَأَ {يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تُحَرِّمُوْا طَيِّبٰتِ مَآ أَحَلَّ اللهُ لَكُمْ}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)
তিনি বলেছেন যে, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে যুদ্ধে বের হতাম, তখন আমাদের সঙ্গে স্ত্রীগণ থাকত না, তখন আমরা বলতাম আমরা কি খাসি হয়ে যাব না? তিনি আমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করলেন এবং কাপড়ের বিনিময়ে হলেও মহিলাদেরকে বিয়ে করার অর্থাৎ নিকাহে মুত‘আর অনুমতি দিলেন এবং পাঠ করলেন ঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللهُ لَكُمْ। [৫০৭১, ৫০৭৫; মুসলিম ১৬/২, হাঃ ১৪০৪, আহমাদ ৪১১৩] (আ.প্র. ৪২৫৪, ই.ফা. ৪২৫৭)
[১] প্রকাশ থাকে যে, মুতআ বিবাহ খায়বারের যুদ্ধে চিরতরে হারাম করা হয়েছে।
৬৫/৫/১০.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ! মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ণায়ক শর-এসব নোংরা-অপবিত্র, শয়তানের কাজ ব্যতীত আর কিছু নয়। সুতরাং তোমরা এসব থেকে বেঁচে থাক যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৯০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬১৬
হাদিস নং ৪৬১৬
إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيْزِ قَالَ حَدَّثَنِيْ نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ نَزَلَ تَحْرِيْمُ الْخَمْرِ وَإِنَّ فِي الْمَدِيْنَةِ يَوْمَئِذٍ لَخَمْسَةَ أَشْرِبَةٍ مَا فِيْهَا شَرَابُ الْعِنَبِ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেছেন, মদ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান যখন নাযিল হল, তখন মাদীনাহ্তে পাঁচ প্রকারের মদের রেওয়াজ ছিল, আঙ্গুরের পানিগুলো এর মধ্যে গণ্য ছিল না। [৫৫৭৯] (আ.প্র. ৪২৫৫, ই.ফা. ৪২৫৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬১৭
হাদিস নং ৪৬১৭
يَعْقُوْبُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ صُهَيْبٍ قَالَ قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ مَا كَانَ لَنَا خَمْرٌ غَيْرُ فَضِيخِكُمْ هَذَا الَّذِيْ تُسَمُّوْنَهُ الْفَضِيخَ فَإِنِّيْ لَقَائِمٌ أَسْقِيْ أَبَا طَلْحَةَ وَفُلَانًا وَفُلَانًا إِذْ جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ وَهَلْ بَلَغَكُمْ الْخَبَرُ فَقَالُوْا وَمَا ذَاكَ قَالَ حُرِّمَتْ الْخَمْرُ قَالُوْا أَهْرِقْ هَذِهِ الْقِلَالَ يَا أَنَسُ قَالَ فَمَا سَأَلُوْا عَنْهَا وَلَا رَاجَعُوْهَا بَعْدَ خَبَرِ الرَّجُلِ.
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন যে, তোমরা যেটাকে ফাযীখ অর্থাৎ কাঁচা খুরমা ভিজানো পানি নাম রেখেছ সেই ফাযীখ ব্যতীত আমাদের অন্য কোন মদ ছিল না। একদিন আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আবূ ত্বলহা, অমুক এবং অমুককে তা পান করাচ্ছিলাম। তখনই এক ব্যক্তি এসে বলল, আপনাদের কাছে এ সংবাদ এসেছে কি? তাঁরা বললেন, ঐ সংবাদ কী? সে বলল, মদ হারাম করে দেয়া হয়েছে, তাঁরা বললেন, হে আনাস! এই বড় বড় মটকাগুলো থেকে মদ ঢেলে ফেলে দাও। আনাস (রাঃ) বললেন যে, এই ব্যক্তির সংবাদের পর তাঁরা এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেসও করেননি এবং দ্বিতীয়বার পানও করেননি। [২৪৬৪] (আ.প্র. ৪২৫৬, ই.ফা. ৪২৫৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬১৮
হাদিস নং ৪৬১৮
صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ جَابِرٍ قَالَ صَبَّحَ أُنَاسٌ غَدَاةَ أُحُدٍ الْخَمْرَ فَقُتِلُوْا مِنْ يَوْمِهِمْ جَمِيْعًا شُهَدَاءَ وَذَلِكَ قَبْلَ تَحْرِيْمِهَا.
বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)
উহূদের যুদ্ধের দিন ভোরে কিছু লোক মদ পান করেছিলেন এবং সেদিন তাঁরা সবাই শহীদ হয়েছেন। এই মদ্যপানের ঘটনা ছিল তা হারাম হওয়ার আগের ঘটনা। [২৮১৫] (আ.প্র. ৪২৫৭, ই.ফা. ৪২৬০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬১৯
হাদিস নং ৪৬১৯
إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ الْحَنْظَلِيُّ أَخْبَرَنَا عِيْسَى وَابْنُ إِدْرِيْسَ عَنْ أَبِيْ حَيَّانَ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَلَى مِنْبَرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ أَمَّا بَعْدُ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ نَزَلَ تَحْرِيْمُ الْخَمْرِ وَهْيَ مِنْ خَمْسَةٍ مِنْ الْعِنَبِ وَالتَّمْرِ وَالْعَسَلِ وَالْحِنْطَةِ وَالشَّعِيْرِ وَالْخَمْرُ مَا خَامَرَ الْعَقْلَ
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেছেন যে, আমি ‘‘উমার (রাঃ)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মিম্বরে বসে বলতে শুনেছি যে, এরপর হে লোক সকল! মদপানের নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হয়েছে আর তা হচ্ছে পাঁচ প্রকার, খুরমা থেকে, আঙ্গুর থেকে, মধু থেকে, গম থেকে এবং যব থেকে আর মদ হচ্ছে যা সুস্থ বিবেককে আচ্ছন্ন করে ফেলে। [৫৫৮১, ৫৫৮৮, ৫৫৮৯, ৭৩৩৭] (আ.প্র. ৪২৫৮, ই.ফা. ৪২৬১)
৬৫/৫/১১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের কোন গুনাহ নেই পূর্বে তারা যা খেয়েছে সেজন্য, যখন তারা সাবধান হয়েছে, ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে। তারপর সাবধান হয় ও ঈমান দৃঢ় থাকে। তারপর সাবধান হয় ও নেক কাজ করে। আর আল্লাহ নেককারদের ভালবাসেন। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/৯৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬২০
হাদিস নং ৪৬২০
أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ الْخَمْرَ الَّتِيْ أُهْرِيْقَتْ الْفَضِيخُ وَزَادَنِيْ مُحَمَّدٌ الْبِيْكَنْدِيُّ عَنْ أَبِي النُّعْمَانِ قَالَ كُنْتُ سَاقِيَ الْقَوْمِ فِيْ مَنْزِلِ أَبِيْ طَلْحَةَ فَنَزَلَ تَحْرِيْمُ الْخَمْرِ فَأَمَرَ مُنَادِيًا فَنَادَى فَقَالَ أَبُوْ طَلْحَةَ اخْرُجْ فَانْظُرْ مَا هَذَا الصَّوْتُ قَالَ فَخَرَجْتُ فَقُلْتُ هَذَا مُنَادٍ يُنَادِيْ أَلَا إِنَّ الْخَمْرَ قَدْ حُرِّمَتْ فَقَالَ لِي اذْهَبْ فَأَهْرِقْهَا قَالَ فَجَرَتْ فِيْ سِكَكِ الْمَدِيْنَةِ قَالَ وَكَانَتْ خَمْرُهُمْ يَوْمَئِذٍ الْفَضِيخَ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ قُتِلَ قَوْمٌ وَهْيَ فِيْ بُطُوْنِهِمْ قَالَ فَأَنْزَلَا للهُ: {لَيْسَ عَلَى الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جُنَاحٌ فِيْمَا طَعِمُوْآ}.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
ঢেলে দেয়া মদগুলো ছিল ফাযীখ। আবূ নু‘মান থেকে মুহাম্মাদ ইবনু সাল্লাম আরও অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, আনাস (রাঃ) বলেছেন, আমি আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর ঘরে লোকেদেরকে মদ পান করাচ্ছিলাম, তখনই মদের নিষেধাজ্ঞা অবতীর্ণ হল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন ঘোষককে তা প্রচারের নির্র্দেশ দিলেন। এরপর সে ঘোষণা দিল। আবূ ত্বল্হা বললেন, বেরিয়ে দেখ তো শব্দ কিসের? আনাস (রাঃ) বলেন, আমি বেরুলাম এবং বললাম যে, একজন ঘোষক ঘোষণা দিচ্ছে যে, জেনে রাখ মদ হারাম করে দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি আমাকে বললেন যাও, এগুলো সব ঢেলে দাও। আনাস (রাঃ) বলেন, সেদিন মাদীনাহ মনোওয়ারার রাস্তায় রাস্তায় মদের স্রোত প্রবাহিত হয়েছিল। তিনি বলেন, সে যুগে তাদের মদ ছিল ফাযীখ, তখন একজন বললেন, যাঁরা পেটে মদ নিয়ে শহীদ হয়েছেন তাঁদের কী অবস্থা হবে? তিনি বলেন, এরপর আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا। [২৪৬৪] (আ.প্র. ৪২৫৯, ই.ফা. ৪২৬২)
৬৫/৫/১২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা এমন বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/১০১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬২১
হাদিস নং ৪৬২১
مُنْذِرُ بْنُ الْوَلِيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَارُوْدِيُّ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُوْسَى بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ خَطَبَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم خُطْبَةً مَا سَمِعْتُ مِثْلَهَا قَطُّ قَالَ لَوْ تَعْلَمُوْنَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيْلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيْرًا قَالَ فَغَطَّى أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وُجُوْهَهُمْ لَهُمْ خَنِيْنٌ فَقَالَ رَجُلٌ مَنْ أَبِيْ قَالَ فُلَانٌ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ : {لَا تَسْأَلُوْا عَنْ أَشْيَآءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ} رَوَاهُ النَّضْرُ وَرَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ عَنْ شُعْبَةَ.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন একটি খুতবা দিলেন যেমনটি আমি আর কখনো শুনিনি। তিনি বলেছেন, “আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তবে তোমরা হাসতে খুব কমই এবং অধিক অধিক করে কাঁদতে”। তিনি বলেন, সহাবায়ে কিরাম (রাঃ) নিজ নিজ চেহারা আবৃত করে গুনগুন করে কাঁদতে শুরু করলেন, এরপর এক ব্যক্তি (‘আবদুল্লাহ ইবনু হুযাইফাহ বা অন্য কেউ) বলল, আমার পিতা কে? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “অমুক”। তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হল لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ এই হাদীসটি শু’বাহ থেকে নযর এবং রাওহ ইবনু ‘উবাদাহ বর্ণনা করেছেন। [৯৩; মুসলিম ৪৩/৩৭, হাঃ ২৩৫৯] (আ.প্র. ৪২৬০, ই.ফা. ৪২৬৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬২২
হাদিস নং ৪৬২২
الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ حَدَّثَنَا أَبُوْ خَيْثَمَةَ حَدَّثَنَا أَبُو الْجُوَيْرِيَةِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ قَوْمٌ يَسْأَلُوْنَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم اسْتِهْزَاءً فَيَقُوْلُ الرَّجُلُ مَنْ أَبِيْ وَيَقُوْلُ الرَّجُلُ تَضِلُّ نَاقَتُهُ أَيْنَ نَاقَتِيْ فَأَنْزَلَ اللهُ فِيْهِمْ هَذِهِ الْآيَةَ : {يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْالَا تَسْأَلُوْا عَنْ أَشْيَآءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ} حَتَّى فَرَغَ مِنَ الآيَةِ كُلِّهَا.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
কিছু লোক ছিল তারা ঠাট্টা করে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রশ্ন করত, কেউ বলত আমার পিতা কে? আবার কেউ বলত আমার উষ্ট্রী হারিয়ে গেছে তা কোথায়? তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেছেন ..... يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ। (আ.প্র. ৪২৬১, ই.ফা. ৪২৬৪)
৬৫/৫/১৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ বাহীরা, সাইবা, ওয়াসীলা এবং হামী-এর প্রচলন করেননি। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/১০৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬২৩
হাদিস নং ৪৬২৩
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ الْبَحِيْرَةُ الَّتِيْ يُمْنَعُ دَرُّهَا لِلطَّوَاغِيْتِ فَلَا يَحْلُبُهَا أَحَدٌ مِنْ النَّاسِ وَالسَّائِبَةُ كَانُوْا يُسَيِّبُوْنَهَا لِآلِهَتِهِمْ لَا يُحْمَلُ عَلَيْهَا شَيْءٌ قَالَ وَقَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ عَامِرٍ الْخُزَاعِيَّ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ كَانَ أَوَّلَ مَنْ سَيَّبَ السَّوَائِبَ وَالْوَصِيْلَةُ النَّاقَةُ الْبِكْرُ تُبَكِّرُ فِيْ أَوَّلِ نِتَاجِ الإِبِلِ ثُمَّ تُثَنِّيْ بَعْدُ بِأُنْثَى وَكَانُوْا يُسَيِّبُوْنَهَا لِطَوَاغِيْتِهِمْ إِنْ وَصَلَتْ إِحْدَاهُمَا بِالْأُخْرَى لَيْسَ بَيْنَهُمَا ذَكَرٌ وَالْحَامِ فَحْلُ الإِبِلِ يَضْرِبُ الضِّرَابَ الْمَعْدُوْدَ فَإِذَا قَضَى ضِرَابَهُ وَدَعُوْهُ لِلطَّوَاغِيْتِ وَأَعْفَوْهُ مِنَ الْحَمْلِ فَلَمْ يُحْمَلْ عَلَيْهِ شَيْءٌ وَسَمَّوْهُ الْحَامِيَ و قَالَ لِيْ أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ سَمِعْتُ سَعِيْدًا قَالَ يُخْبِرُهُ بِهَذَا قَالَ وَقَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَرَوَاهُ ابْنُ الْهَادِ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيْدٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহ.)
الْبَحِيرَةُবাহীরা জন্তুর স্তন প্রতিমার উদ্দেশে সংরক্ষিত থাকে কেউ তা দোহন করে না। السَّائِبَةُসাইবা, যে জন্তু তারা তাদের উপাস্যের নামে ছেড়ে দিত এবং তা দিয়ে বোঝা বহন করা হত না। তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, আমি ‘আমর ইবনু আমির খুযায়ীকে জাহান্নামের মধ্যে দেখেছি সে তার নাড়িভুঁড়ি টানছে, সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে সায়িবা প্রথা প্রথম চালু করে। وَالْوَصِيلَةُওয়াসীলাহ্, যে উষ্ট্রী প্রথমবারে মাদী বাচ্চা প্রসব করে এবং দ্বিতীয়বারেও মাদী বাচ্চা প্রসব করে, ঐ উষ্ট্রীকে তারা তাদের তাগূতের উদ্দেশে ছেড়ে দিত। وَالْحَامِহাম, নর উট যা দ্বারা কয়েকবার প্রজনন কার্য নেয়া হয়, প্রজনন কার্য সমাপ্ত হলে সেটাকে তারা তাদের প্রতিমার জন্যে ছেড়ে দেয় এবং বোঝা বহন থেকে ওটাকে মুক্তি দেয়। সেটির উপর কিছু বহন করা হয় না। এটাকে তারা ‘হাম’ নামে অভিহিত করত।আমাকে আবুল ইয়ামান বলেছেন যে, শু‘আয়ব, ইমাম যুহরী (রহ.) থেকে আমাদেরকে অবহিত করেছেন, যুহরী বলেন, আমি সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব (রহ.) থেকে শুনেছি, তিনি তাকে এ ব্যাপারে অবহিত করেছেন। সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব বলেছেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এই রকম শুনেছি। ইবনু হাদ এটা বর্ণনা করেছেন ইবনু শিহাব থেকে। আর তিনি সা‘ঈদ থেকে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে যে, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি। [৩৫২১] (আ.প্র. ৪২৬২, ই.ফা. ৪২৬৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬২৪
হাদিস নং ৪৬২৪
مُحَمَّدُ بْنُ أَبِيْ يَعْقُوْبَ أَبُوْ عَبْدِ اللهِ الْكَرْمَانِيُّ حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا يُوْنُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَأَيْتُ جَهَنَّمَ يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا وَرَأَيْتُ عَمْرًا يَجُرُّ قُصْبَهُ وَهْوَ أَوَّلُ مَنْ سَيَّبَ السَّوَائِبَ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমি জাহান্নামকে দেখেছি যে, তার একাংশ অন্য অংশকে ভেঙ্গে ফেলছে বা আক্রমণ করছে, ‘আমরকে দেখেছি সে তার নাড়িভুঁড়ি টেনে নিয়ে হাঁটছে, সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে ‘সায়ীবা’র রেওয়াজ চালু করেছিল। [১০৪৪] (আ.প্র. ৪২৬৩, ই.ফা. ৪২৬৬)
৬৫/৫/১৪.অধ্যায়ঃ
-
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬২৫
হাদিস নং ৪৬২৫
أَبُو الْوَلِيْدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنَا الْمُغِيْرَةُ بْنُ النُّعْمَانِ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيْدَ بْنَ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ خَطَبَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ مَحْشُوْرُوْنَ إِلَى اللهِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا ثُمَّ قَالَ : {كَمَا بَدَأْنَآ أَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِيْدُه” ط وَعْدًا عَلَيْنَا ط إِنَّا كُنَّا فٰعِلِيْنَ} إِلَى آخِرِ الْآيَةِ ثُمَّ قَالَ : أَلَا وَإِنَّ أَوَّلَ الْخَلَائِقِ يُكْسَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِبْرَاهِيْمُ أَلَا وَإِنَّهُ يُجَاءُ بِرِجَالٍ مِنْ أُمَّتِيْ فَيُؤْخَذُ بِهِمْ ذَاتَ الشِّمَالِ فَأَقُوْلُ يَا رَبِّ أُصَيْحَابِيْ فَيُقَالُ إِنَّكَ لَا تَدْرِيْ مَا أَحْدَثُوْا بَعْدَكَ فَأَقُوْلُ كَمَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ : {وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيْدًا مَّا دُمْتُ فِيْهِمْ جفَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِيْ كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيْبَ عَلَيْهِمْ} فَيُقَالُ : إِنَّ هَؤُلَاءِ لَمْ يَزَالُوْا مُرْتَدِّيْنَ عَلَى أَعْقَابِهِمْ مُنْذُ فَارَقْتَهُمْ
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক দিন খুতবা দিলেন, বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নগ্ন পদ, উলঙ্গ এবং খতনাবিহীন অবস্থায় আল্লাহ্র নিকট একত্রিত হবে, তারপর তিনি পড়লেন, كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব, প্রতিশ্র“তি পালন আমার কর্তব্য, আমি তা পালন করবই। আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (সূরাহ আম্বিয়া ২১/১০৪)তারপর তিনি বললেন, ক্বিয়ামাতের দিন সর্বপ্রথম যাকে বস্ত্র পরিধান করানো হবে তিনি হচ্ছেন ইবরাহীম (‘আ.)। তোমরা জেনে রাখ, আমার উম্মতের কতগুলো লোককে হাজির করা হবে এবং তাদেরকে বামদিকে অর্থাৎ জাহান্নামের দিকে দেয়া হবে। আমি তখন বলব, প্রভু হে! এগুলো তো আমার কতক সহাবী, তখন বলা হবে যে, আপনার পর তারা কী নবোদ্ভাবিত কাজ করেছে তা আপনি জানেন না।এরপর পুণ্যবান বান্দা যেমন বলেছিলেন আমি তেমন বলব ঃ كُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ “আমি যতদিন তাদের ছিলাম ততদিন তাদের খোঁজখবর নিয়েছি, অতঃপর আপনি যখন আমাকে উঠিয়ে নিয়েছেন তখন থেকে আপনিই তাদের রক্ষক”।এরপর বলা হবে আপনি তাদেরকে ছেড়ে আসার পর থেকে তারা পেছনে ফিরে গিয়ে ধর্মত্যাগী হয়েছে। [৩৩৪৯] (আ.প্র. ৪২৬৪, ই.ফা. ৪২৬৭)
৬৫/৫/১৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আপনি যদি তাদের শাস্তি দেন তবে তারা তো আপনারই বান্দা, আর যদি তাদের ক্ষমা করে দেন তবে আপনি তো পরাক্রমশালী, হিকমাতওয়ালা। (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/১১৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬২৬
হাদিস নং ৪৬২৬
مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيْرٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا الْمُغِيْرَةُ بْنُ النُّعْمَانِ قَالَ حَدَّثَنِيْ سَعِيْدُ بْنُ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّكُمْ مَحْشُوْرُوْنَ وَإِنَّ نَاسًا يُؤْخَذُ بِهِمْ ذَاتَ الشِّمَالِ فَأَقُوْلُ كَمَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ. {وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيْدًا مَّا دُمْتُ فِيْهِمْ} إِلَى قَوْلِهِ {الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ}
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, তোমাদের উঠিয়ে একত্রিত করা হবে এবং কিছু সংখ্যক লোককে বাম দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন আমি নেককার বান্দার অর্থাৎ মূসা (‘আ.)-এর মতো বলব, وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيداً مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ - إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ “আমি যতদিন তাদের মাঝে ছিলাম, ততদিন তাদের খোঁজখবর নিয়েছি, তারপর যখন আপনি আমাকে উঠিয়ে নিয়েছেন তখন থেকে আপনিই তাদের তত্ত্বাবধায়ক। আপনি সব কিছুর ওপরে ক্ষমতাবান। আপনি যদি তাদেরকে শাস্তি দেন তাহলে তারা তো আপনার বান্দা। আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন তাহলে আপনি পরাক্রমশালী ও সুবিজ্ঞ।” [৩৩৪৯] (আ.প্র. ৪২৬৫, ই.ফা. ৪২৬৮)
৬৫/৬/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তাঁরই কাছে আছে অদৃশ্যের চাবি; তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা জানে না। (সূরাহ আল-আন‘আম ৬/৫৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬২৭
হাদিস নং ৪৬২৭
عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ {إِنَّ اللهَ عِنْدَه” عِلْمُ السَّاعَةِ ج وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ ج وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ ط وَمَا تَدْرِيْ نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا ط وَمَا تَدْرِيْ نَفْسٌمبِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوْتُ إِنَّ اللهَ عَلِيْمٌ خَبِيْرٌ }.
বর্ণনাকারী সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, অদৃশ্যের চাবি পাঁচটি “নিশ্চয় আল্লাহ্রই কাছে রয়েছে ক্বিয়ামাত সম্বন্ধীয় জ্ঞান এবং তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, আর তিনিই জানেন যা কিছু আছে গর্ভাধারে। কেউ জানে না আগামীকল্য সে কী উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোথায় তার মৃত্যু ঘটবে। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু জানেন, সব খবর রাখেন” (সূরাহ লুকমান ৩১/৩৪)। [১০৩৯] (আ.প্র. ৪২৬৬, ই.ফা. ৪২৬৯)
৬৫/৬/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ বলুনঃ তিনিই সক্ষম তোমাদের উপর শাস্তি প্রেরণ করতে তোমাদের উপর দিক থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে কিংবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে এবং এক দলকে অন্য দলের যুদ্ধের স্বাদ গ্রহণ করাতে। দেখ, আমি কীরূপে বিভিন্নভাবে আয়াতসমূহ বর্ণনা করি, যাতে তারা বুঝে নেয়। (সূরাহ আল-আন‘আম ৬/৬৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬২৮
হাদিস নং ৪৬২৮
أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِيْنَارٍ عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلٰى أَنْ يَّبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِّنْ فَوْقِكُمْ} قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَعُوْذُ بِوَجْهِكَ قَالَ {أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ} قَالَ أَعُوْذُ بِوَجْهِكَ {أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَّيُذِيْقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ} قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا أَهْوَنُ أَوْ هَذَا أَيْسَرُ.
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
যখন এই আয়াত قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ অবতীর্ণ হল তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, আবার যখন أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ অবতীর্ণ হল, তখনও বললেন, আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি এবং যখন أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ অবতীর্ণ হল তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটা অপেক্ষাকৃত হালকা, তিনি هَذَا أَهْوَنُ কিংবা هَذَا أَيْسَرُ বলেছেন। [৭৩১৩, ৭৪০৬] (আ.প্র. ৪২৬৭, ই.ফা. ৪২৭০)
৬৫/৬/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ এবং নিজেদের ঈমানকে শিরকের সঙ্গে মিশ্রিত করেনি। (সূরাহ আল-আন‘আম ৬/৮২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬২৯
হাদিস নং ৪৬২৯
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِيْ عَدِيٍّ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ {وَلَمْ يَلْبِسُوْآ إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} قَالَ أَصْحَابُهُ وَأَيُّنَا لَمْ يَظْلِمْ فَنَزَلَتْ {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيْمٌ}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ)
যখন وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন তাঁর সহাবাগণ বললেন, “যুল্ম করেনি আমাদের মধ্যে এমন কোন্ ব্যক্তি আছে?” এরপর অবতীর্ণ হল إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ “নিশ্চয় র্শিক মহা যুল্ম” (সূরাহ লুক্বমান ৩১/১৩)। [৩২] (আ.প্র. ৪২৬৮, ই.ফা. ৪২৭১)
৬৫/৬/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ইউনুস ও লূতকেও হিদায়াত দান করেছিলাম। আমি প্রত্যেককেই সারা জাহানের উপর ফাযীলাত দান করেছিলাম। (সূরাহ আল-আন‘আম ৬/৮৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৩০
হাদিস নং ৪৬৩০
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ عَمِّ نَبِيِّكُمْ يَعْنِي ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا يَنْبَغِيْ لِعَبْدٍ أَنْ يَقُوْلَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُوْنُسَ بْنِ مَتَّى.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম” এমন কথা বলা কারও জন্যে শোভনীয় নয়। [৩৩৯৫] (আ.প্র. ৪২৬৯, ই.ফা. ৪২৭২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৩১
হাদিস নং ৪৬৩১
آدَمُ بْنُ أَبِيْ إِيَاسٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنَا سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ قَالَ سَمِعْتُ حُمَيْدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا يَنْبَغِيْ لِعَبْدٍ أَنْ يَقُوْلَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُوْنُسَ بْنِ مَتَّى.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা (‘আ.) থেকে উত্তম”, এমন কথা বলা কারো জন্য শোভনীয় নয়। [৩৪১৫] (আ.প্র. ৪২৭০, ই.ফা. ৪২৭৩)
৬৫/৬/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তারা ছিলেন এমন যাদেরকে আল্লাহ্ হিদায়াত দান করেছিলেন। অতএব, আপনিও তাদেরই পথে চলুন। (সূরাহ আল-আন‘আম ৬/৯০)
৬৫/৬/৬.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৩৩
হাদিস নং ৪৬৩৩
عَمْرُوْ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ يَزِيْدَ بْنِ أَبِيْ حَبِيْبٍ قَالَ عَطَاءٌ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَاتَلَ اللهُ الْيَهُوْدَ لَمَّا حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِمْ شُحُوْمَهَا جَمَلُوْهُ ثُمَّ بَاعُوْهُ فَأَكَلُوْهَا وَقَالَ أَبُوْ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيْدِ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ كَتَبَ إِلَيَّ عَطَاءٌ سَمِعْتُ جَابِرًا عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদেরকে অভিসম্পাত করেছেন, যখন তিনি তাদের উপর চর্বি নিষিদ্ধ করেছেন তখন তারা ওটাকে তরল করে জমা করেছে, তারপর বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করেছে। আবূ আসিম (রহ.) ......... হাদীস বর্ণনা করেছেন জাবির (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে। [২২৩৬] (আ.প্র. ৪২৭২, ই.ফা. ৪২৭৫)
৬৫/৬/৭.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ অশ্লীল আচরণের কাছেও যেয়োনা তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন হোক। (সূরাহ আল-আন‘আম ৬/১৫১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৩৪
হাদিস নং ৪৬৩৪
حَفْصُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَا أَحَدَ أَغْيَرُ مِنْ اللهِ وَلِذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلَا شَيْءَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْمَدْحُ مِنْ اللهِ وَلِذَلِكَ مَدَحَ نَفْسَهُ قُلْتُ سَمِعْتَهُ مِنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ وَرَفَعَهُ قَالَ نَعَمْ
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ)
নিষিদ্ধ কার্যে মু’মিনদেরকে বাধা দানকারী আল্লাহ্র চেয়ে অধিক কেউ নেই, এজন্যই প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য যাবতীয় অশ্লীলতা নিষিদ্ধ করেছেন, আল্লাহ্র প্রশংসা প্রকাশ করার চেয়ে প্রিয় তাঁর কাছে অন্য কিছু নেই, সেজন্যেই আল্লাহ আপন প্রশংসা নিজেই করেছেন।‘আম্র ইবনু মুররাহ্ (রহ.) বলেন, আমি আবূ ওয়ায়িলকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি তা ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, এটাকে কি তিনি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। [৪৬৩৭, ৫২২০, ৭৪০৩; মুসলিম ৪৯/৬, হাঃ ২৭৬০, আহমাদ ৩৬১৬] (আ.প্র. ৪২৭৩, ই.ফা. ৪২৭৬)
৬৫/৬/৮.অধ্যায়ঃ
অধ্যায়:
৬৫/৬/৯.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ সাক্ষীদেরকে হাযির কর। (সূরাহ আল-আম‘আম ৬/১৫০)
৬৫/৬/১০.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ যেদিন আপনার রবের কোন নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোন ব্যক্তির ঈমান কাজে আসবে না যে ব্যক্তি নেক কাজ করেনি। (সূরাহ আল-আন‘আম ৬/১৫৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৩৫
হাদিস নং ৪৬৩৫
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا عُمَارَةُ حَدَّثَنَا أَبُوْ زُرْعَةَ حَدَّثَنَا أَبُوْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا رَآهَا النَّاسُ آمَنَ مَنْ عَلَيْهَا فَذَاكَ حِيْنَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত ক্বিয়ামাত অনুষ্ঠিত হবে না। লোকেরা যখন তা দেখবে, তখন পৃথিবীর সকলে ঈমান আনবে এবং সেটি হচ্ছে এমন সময় “পূর্বে ঈমান আনেনি এমন ব্যক্তির ঈমান তার কাজে আসবে না”। [৮৫; মুসলিম ৪/৭২, হাঃ ১৫৭, আহমাদ ৭১৬৪] (আ.প্র. ৪২৭৪, ই.ফা. ৪২৭৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৩৬
হাদিস নং ৪৬৩৬
إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنُوْا أَجْمَعُوْنَ وَذَلِكَ حِيْنَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا ثُمَّ قَرَأَ الآيَةَ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যতক্ষণ না পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় ঘটবে ততক্ষণ ক্বিয়ামাত হবে না, যখন সেদিক থেকে সূর্য উদিত হবে এবং লোকেরা তা দেখবে তখন সবাই ঈমান গ্রহণ করবে, এটাই সময় যখন কোন ব্যক্তিকে তার ঈমান কল্যাণ সাধন করবে না। তারপর তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। [৮৫] (আ.প্র. ৪২৭৫, ই.ফা. ৪২৭৮)
৬৫/৭/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ বলুনঃ আমার রব হারাম করেছেন যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা। (সূরাহ আল-‘আরাফ ৭/৩৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৩৭
হাদিস নং ৪৬৩৭
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ أَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ نَعَمْ وَرَفَعَهُ قَالَ لَا أَحَدَ أَغْيَرُ مِنْ اللهِ فَلِذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلَا أَحَدَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْمِدْحَةُ مِنْ اللهِ فَلِذَلِكَ مَدَحَ نَفْسَهُ.
বর্ণনাকারী ‘আম্র ইবনু মুররাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি আবূ ওয়ায়িলকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি এটা ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং তিনি এটাকে মারফু‘ হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, অন্যায়কে ঘৃণাকারী আল্লাহ্র তুলনায় অন্য কেউ নেই, এজন্যেই তিনি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য যাবতীয় অশ্লীলতা নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন, আবার আল্লাহ্র চেয়ে প্রশংসা-প্রীতি অন্য কারো নেই, তাই তিনি নিজে নিজের প্রশংসা করেছেন। [৪৬৩৪] (আ.প্র. ৪২৭৬, ই.ফা. ৪২৭৯)
৬৫/৭/২.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৩৮
হাদিস নং ৪৬৩৮
مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْيَهُوْدِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَدْ لُطِمَ وَجْهُهُ وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِكَ مِنَ الْأَنْصَارِ لَطَمَ فِيْ وَجْهِيْ قَالَ ادْعُوْهُ فَدَعَوْهُ قَالَ لِمَ لَطَمْتَ وَجْهَهُ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّيْ مَرَرْتُ بِالْيَهُوْدِ فَسَمِعْتُهُ يَقُوْلُ وَالَّذِي اصْطَفَى مُوْسَى عَلَى الْبَشَرِ فَقُلْتُ وَعَلَى مُحَمَّدٍ وَأَخَذَتْنِيْ غَضْبَةٌ فَلَطَمْتُهُ قَالَ لَا تُخَيِّرُوْنِيْ مِنْ بَيْنِ الْأَنْبِيَاءِ فَإِنَّ النَّاسَ يَصْعَقُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَكُوْنُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيْقُ فَإِذَا أَنَا بِمُوْسَى آخِذٌ بِقَائِمَةٍ مِنْ قَوَائِمِ الْعَرْشِ فَلَا أَدْرِيْ أَفَاقَ قَبْلِيْ أَمْ جُزِيَ بِصَعْقَةِ الطُّوْرِ
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)
এক ইয়াহূদী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরবারে উপস্থিত হল। তার মুখমণ্ডলে চপেটাঘাত খেয়ে সে বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনার এক আনসারী সহাবী আমার মুখমণ্ডলে চপেটাঘাত করেছে। তিনি বললেন, তাকে ডেকে আন। তারা ওকে ডেকে আনল, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “একে চপেটাঘাত করেছ কেন?” সে বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! আমি এই ইয়াহূদীর পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। তখন শুনলাম সে বলছে তাঁরই শপথ যিনি মূসা (‘আ.)-কে মানবজাতির উপর মনোনীত করেছেন, আমি বললাম মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপরও মনোনীত করেছেন কি? এরপর আমার রাগ চেপে গিয়েছিল, তাই তাকে চপেটাঘাত করেছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা আমাকে অন্যান্য নাবীর থেকে উত্তম বলো না। কারণ ক্বিয়ামাত দিবসে সব মানুষই জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়বে, সর্বপ্রথম আমিই জ্ঞান ফিরে পাব। তিনি বলেন, তখন আমি দেখব যে, মূসা (‘আ.) আকাশের খুঁটি ধরে আছেন, আমি বুঝতে পারব না যে, তিনি কি আমার পূর্বে জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন নাকি তূর পর্বতের জ্ঞানশূন্যতার পুরস্কার হিসেবে তাঁকে পুনরায় জ্ঞানশূন্য করা হয়নি। [২৪১২] (আ.প্র. ৪২৭৭, ই.ফা. ৪২৮০)
৬৫/৭/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ মান্না এবং সালওয়া। (সূরাহ আল-‘আরাফ ৪/১৬০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৩৯
হাদিস নং ৪৬৩৯
مُسْلِمٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ وَمَاؤُهَا شِفَاءُ الِلْعَيْنِ.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, الْكَمْأَةُ জাতীয় উদ্ভিদ মান্না-এর মতো এবং এর পানি চক্ষুরোগ আরোগ্যকারী। [৪৪৭৮] (আ.প্র. ৪২৭৮, ই.ফা. ৪২৮১)
৬৫/৭/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি সেই আল্লাহর রসূল, যিনি সমগ্র আসমান ও যমীনের মালিক, যিনি ব্যতীত অন্য কোন মা‘বুদ নেই, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর নিরক্ষর নাবীর প্রতি এবং তাঁর বাণীতে। তোমরা তাঁর অনুসরণ কর যাতে হিদায়াত প্রাপ্ত হও। (সূরাহ আল-‘আরাফ ৭/১৫৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৪০
হাদিস নং ৪৬৪০
عَبْدُ اللهِ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَمُوْسَى بْنُ هَارُوْنَ قَالَا حَدَّثَنَا الْوَلِيْدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْعَلَاءِ بْنِ زَبْرٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ بُسْرُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِيْ أَبُوْ إِدْرِيْسَ الْخَوْلَانِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ يَقُوْلُ كَانَتْ بَيْنَ أَبِيْ بَكْرٍ وَعُمَرَ مُحَاوَرَةٌ فَأَغْضَبَ أَبُوْ بَكْرٍ عُمَرَ فَانْصَرَفَ عَنْهُ عُمَرُ مُغْضَبًا فَاتَّبَعَهُ أَبُوْ بَكْرٍ يَسْأَلُهُ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لَهُ فَلَمْ يَفْعَلْ حَتَّى أَغْلَقَ بَابَهُ فِيْ وَجْهِهِ فَأَقْبَلَ أَبُوْ بَكْرٍ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ وَنَحْنُ عِنْدَهُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَمَّا صَاحِبُكُمْ هَذَا فَقَدْ غَامَرَ قَالَ وَنَدِمَ عُمَرُ عَلَى مَا كَانَ مِنْهُ فَأَقْبَلَ حَتَّى سَلَّمَ وَجَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَصَّ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْخَبَرَ قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ وَغَضِبَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَجَعَلَ أَبُوْ بَكْرٍ يَقُوْلُ وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ لَأَنَا كُنْتُ أَظْلَمَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هَلْ أَنْتُمْ تَارِكُوْنَ لِيْ صَاحِبِيْ هَلْ أَنْتُمْ تَارِكُوْنَ لِيْ صَاحِبِيْ إِنِّيْ قُلْتُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّيْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْكُمْ جَمِيْعًا فَقُلْتُمْ كَذَبْتَ وَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ صَدَقْتَقَالَ أَبُوْ عَبْد اللهِ غَامَرَ سَبَقَ بِالْخَيْرِ
বর্ণনাকারী আবূ দারদা (রাঃ)
তিনি বলেন, একদা আবূ বাক্র (রাঃ) ও ‘উমার (রাঃ)-এর মধ্যে বিতর্ক হল, আবূ বাক্র (রাঃ) ‘উমার (রাঃ)-কে রাগিয়ে দিয়েছিলেন, এরপর রাগানি¦ত অবস্থায় ‘উমার (রাঃ) সেখান থেকে চলে গেলেন, আবূ বাক্র (রাঃ) তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে তাঁর পিছু নিলেন কিন্তু ‘উমার (রাঃ) ক্ষমা করলেন না, বরং তাঁর সম্মুখের দরজা বন্ধ করে দিলেন। এরপর আবূ বাক্র (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরবারে আসলেন। আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, আমরা তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ছিলাম, ঘটনা শোনার পর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমাদের এই সঙ্গী আবূ বাক্র আগে কল্যাণ লাভ করেছে। তিনি বলেন, এতে ‘উমার লজ্জিত হলেন এবং সালাম করে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পাশে বসে পড়লেন ও সবকথা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বর্ণনা করলেন। আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, এতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসন্তুষ্ট হলেন। আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাঃ) বারবার বলছিলেন, হে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমি অধিক দোষী ছিলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা আমার খাতিরে আমার সাথীর ত্র“টি উপেক্ষা করবে কি? তোমরা আমার খাতিরে আমার সঙ্গীর ত্র“টি উপেক্ষা করবে কি? এমন একদিন ছিল যখন আমি বলেছিলাম, “হে মানুষেরা! আমি তোমাদের সকলের জন্য রসূল, তখন তোমরা বলেছিলে, “তুমি মিথ্যা বলেছ” আর আবূ বাক্র (রাঃ) বলেছিল, “আপনি সত্য বলেছেন”।ইমাম আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, غَامَرَআগে কল্যাণ লাভ করেছে। [৩৬৬১] (আ.প্র. ৪২৭৯, ই.ফা. ৪২৮২)
৬৫/৭/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তোমরা বল ক্ষমা চাই। (সূরাহ আল-‘আরাফ ৭/১৬১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৪১
হাদিস নং ৪৬৪১
إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قِيْلَ لِبَنِيْ إِسْرَائِيْلَ {وَّادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَّقُوْلُوْا حِطَّةٌ نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطٰيٰكُمْ} فَبَدَّلُوْا فَدَخَلُوْا يَزْحَفُوْنَ عَلَى أَسْتَاهِهِمْ وَقَالُوْا حَبَّةٌ فِيْ شَعَرَةٍ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ইসরাঈলীদেরকে আদেশ করা হয়েছিল যে, “নতশিরে প্রবেশ কর এবং বল, ক্ষমা চাই, আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করব” (সূরাহ আল-‘আরাফ ১৫৮)। এরপর তারা তার উল্টো করল, তারা নিজেদের নিতম্বে ভর দিয়ে মাটিতে বসে বসে প্রবেশ করল এবং বলল, حَبَّةٌ فِي شَعَرَةٍ যবের ভিতর বিচি চাই। [৩৪০৩) (আ.প্র. ৪২৮০, ই.ফা. ৪২৮৩)
৬৫/৭/৬
আল্লাহর বাণীঃ তুমি ক্ষমা করার অভ্যাস কর, ভাল কাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞ-মূর্খদের থেকে দূরে সরে থাক। (সূরাহ আল-‘আরাফ ৭/১৯৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৪২
হাদিস নং ৪৬৪২
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَدِمَ عُيَيْنَةُ بْنُ حِصْنِ بْنِ حُذَيْفَةَ فَنَزَلَ عَلَى ابْنِ أَخِيْهِ الْحُرِّ بْنِ قَيْسٍ وَكَانَ مِنْ النَّفَرِ الَّذِيْنَ يُدْنِيْهِمْ عُمَرُ وَكَانَ الْقُرَّاءُ أَصْحَابَ مَجَالِسِ عُمَرَ وَمُشَاوَرَتِهِ كُهُوْلًا كَانُوْا أَوْ شُبَّانًا فَقَالَ عُيَيْنَةُ لِابْنِ أَخِيْهِ يَا ابْنَ أَخِيْ هَلْ لَكَ وَجْهٌ عِنْدَ هَذَا الْأَمِيْرِ فَاسْتَأْذِنْ لِيْ عَلَيْهِ قَالَ سَأَسْتَأْذِنُ لَكَ عَلَيْهِ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَاسْتَأْذَنَ الْحُرُّ لِعُيَيْنَةَ فَأَذِنَ لَهُ عُمَرُ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ قَالَ هِيْ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ فَوَاللهِ مَا تُعْطِيْنَا الْجَزْلَ وَلَا تَحْكُمُ بَيْنَنَا بِالْعَدْلِ فَغَضِبَ عُمَرُ حَتَّى هَمَّ أَنْ يُوْقِعَ بِهِ فَقَالَ لَهُ الْحُرُّ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ إِنَّ اللهَ تَعَالَى قَالَ لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِيْنَ}وَإِنَّ هَذَا مِنَ الْجَاهِلِيْنَ وَاللهِ مَا جَاوَزَهَا عُمَرُ حِيْنَ تَلَاهَا عَلَيْهِ وَكَانَ وَقَّافًا عِنْدَ كِتَابِ اللهِ
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেছেন, “উয়াইনাহ ইবনু হিস্ন ইবনু হুযাইফাহ এসে তাঁর ভাতিজা হুর ইবনু কাইসের কাছে অবস্থান করলেন। ‘উমার (রাঃ) যাদেরকে পার্শ্বে রাখতেন হুর ছিলেন তাদের একজন। কারীগণ, যুবক-বৃদ্ধ সকলেই ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মজলিসের সদস্য এবং উপদেষ্টা ছিলেন। এরপর ‘উয়াইনাহ তাঁর ভাতিজাকে ডেকে বললেন, এই আমীরের কাছে তো তোমার একটা মর্যাদা আছে, সুতরাং তুমি আমার জন্য তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে দাও। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি তাঁর কাছে আপনার প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করব।ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এরপর হুর অনুমতি প্রার্থনা করলেন উয়াইনাহ্র জন্যে এবং ‘উমার (রাঃ) অনুমতি দিলেন। উয়াইনাহ ‘উমারের কাছে গিয়ে বললেন, হ্যাঁ আপনি তো আমাদেরকে অধিক অধিক দানও করেন না এবং আমাদের মাঝে সুবিচারও করেন না। ‘উমার (রাঃ) রাগানি¦ত হলেন এবং তাঁকে কিছু একটা করতে উদ্যত হলেন। তখন হুর বললেন, হে আমিরুল মু’মিনীন! আল্লাহ তা‘আলা তো তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছেন, “ক্ষমা অবলম্বন কর, সৎকাজের আদেশ দাও এবং মূর্খদেরকে উপেক্ষা কর” আর এই ব্যক্তি তো অবশ্যই মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্র কসম ‘উমার (রাঃ) আয়াতের নির্দেশ অমান্য করেননি। ‘উমার আল্লাহ্র কিতাবের বিধানের সামনে চুপ হয়ে যেতেন। [৭২৮৬] (আ.প্র. ৪২৮১, ই.ফা. ৪২৮৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৪৩
হাদিস নং ৪৬৪৩
يَحْيَى حَدَّثَنَا وَكِيْعٌ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ} قَالَ مَا أَنْزَلَ اللهُ إِلَّا فِيْ أَخْلَاقِ النَّاسِ
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)
خُذْ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ আয়াতটি আল্লাহ তা‘আলা মানুষের চরিত্র সম্পর্কেই অবতীর্ণ করেছেন। [৪৬৪৪] (আ.প্র. ৪২৮২, ই.ফা. ৪২৮৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৪৪
হাদিস নং ৪৬৪৪
وَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ بَرَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُوْ أُسَامَةَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ أَمَرَ اللهُ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَأْخُذَ الْعَفْوَ مِنْ أَخْلَاقِ النَّاسِ أَوْ كَمَا قَالَ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মানুষের আচরণের ব্যাপারে ক্ষমা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন। [৪৬৪৩] (আ.প্র. ৪২৮৩, ই.ফা. ৪২৮৫ শেষাংশ)
৬৫/৮/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে যুদ্ধলব্ধ মাল সম্বন্ধে আপনি বলে দিনঃ যুদ্ধলব্ধ মাল আল্লাহর এবং রাসূলের। অতএব, তোমরা ভয় কর আল্লাহ্কে এবং নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক ঠিক করে নাও। (সূরাহ আনফাল ৮/১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৪৫
হাদিস নং ৪৬৪৫
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيْمِ حَدَّثَنَا سَعِيْدُ بْنُ سُلَيْمَانَ أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا أَبُوْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا سُوْرَةُ الْأَنْفَالِ قَالَ نَزَلَتْ فِيْ بَدْرٍ {الشَّوْكَةُ} الْحَدُّ {مُرْدَفِيْنَ} فَوْجًا بَعْدَ فَوْجٍ رَدِفَنِيْ وَأَرْدَفَنِيْ جَاءَ بَعْدِيْ {ذُوْقُوْا} بَاشِرُوْا وَجَرِّبُوْا وَلَيْسَ هَذَا مِنْ ذَوْقِ الْفَمِ {فَيَرْكُمَهُ} يَجْمَعَهُ {شَرِّدْ} فَرِّقْ {وَإِنْ جَنَحُوْا} طَلَبُوا السِّلْمُ وَالسَّلْمُ وَالسَّلَامُ وَاحِدٌ {يُثْخِنَ} يَغْلِبَ وَقَالَ مُجَاهِدٌ {مُكَاءً} إِدْخَالُ أَصَابِعِهِمْ فِيْ أَفْوَاهِهِمْ {وَتَصْدِيَةً} الصَّفِيْرُ {لِيُثْبِتُوْكَ} لِيَحْبِسُوْكَ.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ)
আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম সূরাহ আল-আনফাল সম্পর্কে, তিনি বললেন, বাদ্রের যুদ্ধ সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।الشَّوْكَةُ-الْحَدُّশক্তি, مُرْدَفِينَএকদল সৈন্যের পর আরেক দল, رَدِفَنِي এবং أَرْدَفَنِي আমার পেছন পেছন এসেছে, ذُوقُواসরাসরি জড়িয়ে পড় এবং অভিজ্ঞতা অর্জন কর, মুখে আস্বাদন করা হয়, فَيَرْكُمَهُএরপর তাকে একত্রিত করবেন, شَرِّدْবিচ্ছিন্ন করে দাও, وَإِنْ جَنَحُواযদি তারা চায়, السِّلْمُ، السِّلْمُ এবং السَّلاَمُএকই অর্থ সন্ধি, يُثْخِنَজয়ী হওয়া, মুফাস্সির মুজাহিদ বলেন, مُكَاءًতাদের অঙ্গুলিসমূহ মুখে ঢুকিয়ে দেয়া, শিস দেয়া, تَصْدِيَةًকরতালি, لِيُثْبِتُوكَতোমাকে আটকে রাখার জন্যে। [৪০২৯] (আ.প্র. ৪২৮৪, ই.ফা. ৪২৮৬)
৬৫/৮/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয় নিকৃষ্টতম জীব আল্লাহর কাছে ঐসব বধির ও মূক যারা অনুধাবন করে না। (সূরাহ আনফাল ৮/২২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৪৬
হাদিস নং ৪৬৪৬
مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ عَنْ ابْنِ أَبِيْ نَجِيْحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ {إِنَّ شَرَّ الدَّوَآبِّ عِنْدَ اللهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِيْنَ لَا يَعْقِلُوْنَ} قَالَ هُمْ نَفَرٌ مِنْ بَنِيْ عَبْدِ الدَّارِ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لاَ يَعْقِلُونَ সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, তারা হচ্ছে বানী আবদুদ্দার গোষ্ঠীর একটি দল। (আ.প্র. ৪২৮৫, ই.ফা. ৪২৮৭)
৬৫/৮/৩.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৪৭
হাদিস নং ৪৬৪৭
إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ سَمِعْتُ حَفْصَ بْنَ عَاصِمٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُعَلَّى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ أُصَلِّيْ فَمَرَّ بِيْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَدَعَانِيْ فَلَمْ آتِهِ حَتَّى صَلَّيْتُ ثُمَّ أَتَيْتُهُ فَقَالَ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَأْتِيَ أَلَمْ يَقُلْ اللهُ {يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اسْتَجِيْبُوْا لِلهِ وَلِلرَّسُوْلِ إِذَا دَعَاكُمْ} ثُمَّ قَالَ لَأُعَلِّمَنَّكَ أَعْظَمَ سُوْرَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ فَذَهَبَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِيَخْرُجَ فَذَكَرْتُ لَهُ.وَقَالَ مُعَاذٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ سَمِعَ حَفْصًا سَمِعَ أَبَا سَعِيْدٍ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا وَقَالَ هِيَ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ السَّبْعُ الْمَثَانِي.
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ ইবনু মুয়াল্লা (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি একদা সলাতে রত ছিলাম, এমন সময় রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পাশ দিয়ে গেলেন এবং আমাকে ডাকলেন। সলাত শেষ না করা পর্যন্ত আমি তাঁর কাছে যাইনি, তারপর গেলাম। তিনি বললেন, তোমাকে আসতে বাধা দিল কিসে? আল্লাহ কি বলেননি “রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদেরকে ডাকলে। আল্লাহ ও রসূলের ডাকে সাড়া দেবে?” তারপর তিনি বললেন, আমি মাসজিদ থেকে বের হবার পূর্বে তোমাকে একটি অতি সওয়াবযুক্ত সূরাহ শিক্ষা দেব। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আমি তাঁর নিকট প্রতিশ্র“তির কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম।মু‘আয বললেন, ...... হাফ্স শুনেছেন একজন সহাবী আবূ সা‘ঈদ ইবনুল মু‘আল্লাকে এই হাদীস বর্ণনা করতে, রসূল বললেনসেই সূরাটি হচ্ছে الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ সাত আয়াতবিশিষ্ট ও পুনঃ পুনঃ পঠিত। [৪৪৭৪] (আ.প্র. ৪২৮৬, ই.ফা. ৪২৮৮)
৬৫/৮/৪.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৪৮
হাদিস নং ৪৬৪৮
أَحْمَدُ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيْدِ هُوَ ابْنُ كُرْدِيْدٍ صَاحِبُ الزِّيَادِيِّ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَبُوْ جَهْلٍ {اللّٰهُمَّ إِنْ كَانَ هٰذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِنْدِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِّنَ السَّمَآءِ أَوِ ائْتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيْمٍ} فَنَزَلَتْ {وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيْهِمْ ط وَمَا كَانَ اللهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُوْنَ (33) وَمَا لَهُمْ أَلَّا يُعَذِّبَهُمُ اللهُ وَهُمْ يَصُدُّوْنَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} الْآيَةَ.
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আবূ জাহ্ল বলেছিল, “হে আল্লাহ! এটা যদি তোমার পক্ষ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের উপর আকাশ হতে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি দাও।” তখনই অবতীর্ণ হল وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ وَمَا لَهُمْ أَنْ لاَ يُعَذِّبَهُمْ اللهُ وَهُمْ يَصُدُّونَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ الْآيَةَ “আর আল্লাহ্ তো এরূপ নন যে, তিনি তাদের শাস্তি দেবেন অথচ আপনি তাদের মধ্যে থাকবেন এবং আল্লাহ্ এমনও নন যে, তিনি তাদের শাস্তি দেবেন অথচ তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর তাদের এমন কী আছে যে জন্য আল্লাহ্ তাদের শাস্তি দেবেন না, অথচ তারা মাসজিদে হারামে যেতে বাধা প্রদান করে? আর তারা সে মাসজিদের তত্ত্বাবধায়কও নয়। তার তত্ত্বাবধায়ক তো মুত্তাকীরা ব্যতীত আর কেউ নয়। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না” (সূরাহ আনফাল ৮/৩৩-৩৪)। [৪৬৪৯; মুসলিম ৫০/৫, হাঃ ২৭৯৬] (আ.প্র. ৪২৮৭, ই.ফা. ৪২৮৯)
৬৫/৮/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৪৯
হাদিস নং ৪৬৪৯
مُحَمَّدُ بْنُ النَّضْرِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيْدِ صَاحِبِ الزِّيَادِيِّ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ قَالَ قَالَ أَبُوْ جَهْلٍ {اللّٰهُمَّ إِنْ كَانَ هٰذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِنْدِكَ فَأَمْطِرْ عَلَيْنَا حِجَارَةً مِّنَ السَّمَآءِ أَوِ ائْتِنَا بِعَذَابٍ أَلِيْمٍ} فَنَزَلَتْ {وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيْهِمْ ط وَمَا كَانَ اللهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُوْنَ (33) وَمَا لَهُمْ أَلَّا يُعَذِّبَهُمُ اللهُ وَهُمْ يَصُدُّوْنَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} الْآيَةَ.
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আবূ জাহল বলেছিল। এরপর অবতীর্ণ হল وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ وَمَا لَهُمْ أَنْ لاَ يُعَذِّبَهُمْ اللهُ وَهُمْ يَصُدُّونَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ الْآيَةَ “হে আল্লাহ! যদি এ কুরআন তোমার পক্ষ থেকে সত্য হয় তাহলে আমাদের উপর আসমান থেকে প্রস্তর বর্ষণ কর অথবা দাও আমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর আল্লাহ্ তো এরূপ নন যে, তিনি তাদের শাস্তি দেবেন অথচ আপনি তাদের মধ্যে থাকবেন এবং আল্লাহ্ এমনও নন যে, তিনি তাদের শাস্তি দেবেন অথচ তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর তাদের এমন কী আছে যে জন্য আল্লাহ্ তাদের শাস্তি দেবেন না, অথচ তারা মাসজিদে হারামে যেতে বাধা প্রদান করে?” (সূরা আনফাল ৮/৩২-৩৪) [৪৬৪৮] (আ.প্র. ৪২৮৮, ই.ফা. ৪২৯০)
৬৫/৮/৬.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আর তোমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ফিতনা শেষ হয়ে যায় এবং দ্বীন সামগ্রিকভাবে আল্লাহর জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তবে যদি তারা বিরত হয়, তাহলে তারা যা করে আল্লাহ্ তা উত্তমরূপে দেখেন। (সূরাহ আনফাল ৮/৩৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৫০
হাদিস নং ৪৬৫০
الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيْزِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا حَيْوَةُ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ بُكَيْرٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَجُلًا جَاءَهُ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَلَا تَسْمَعُ مَا ذَكَرَ اللهُ فِيْ كِتَابِهِ {وَإِنْ طَآئِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ اقْتَتَلُوْا} إِلَى آخِرِ الآيَةِ فَمَا يَمْنَعُكَ أَنْ لَا تُقَاتِلَ كَمَا ذَكَرَ اللهُ فِيْ كِتَابِهِ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِيْ أَغْتَرُّ بِهَذِهِ الْآيَةِ وَلَا أُقَاتِلُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَغْتَرَّ بِهَذِهِ الْآيَةِ الَّتِيْ يَقُوْلُ اللهُ تَعَالَى {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا} إِلَى آخِرِهَا قَالَ فَإِنَّ اللهَ يَقُوْلُ{وَقَاتِلُوْهُمْ حَتّٰى لَا تَكُوْنَ فِتْنَةٌ} قَالَ ابْنُ عُمَرَ قَدْ فَعَلْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ كَانَ الإِسْلَامُ قَلِيْلًا فَكَانَ الرَّجُلُ يُفْتَنُ فِيْ دِيْنِهِ إِمَّا يَقْتُلُوْنَهُ وَإِمَّا يُوْثِقُوْنَهُ حَتَّى كَثُرَ الإِسْلَامُ فَلَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ فَلَمَّا رَأَى أَنَّهُ لَا يُوَافِقُهُ فِيْمَا يُرِيْدُ قَالَ فَمَا قَوْلُكَ فِيْ عَلِيٍّ وَعُثْمَانَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ مَا قَوْلِيْ فِيْ عَلِيٍّ وَعُثْمَانَ أَمَّا عُثْمَانُ فَكَانَ اللهُ قَدْ عَفَا عَنْهُ فَكَرِهْتُمْ أَنْ يَعْفُوَ عَنْهُ وَأَمَّا عَلِيٌّ فَابْنُ عَمِّ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَخَتَنُهُ وَأَشَارَ بِيَدِهِ وَهَذِهِ ابْنَتُهُ أَوْ بِنْتُهُ حَيْثُ تَرَوْنَ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন আপনি কি তা শোনেন না? وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا.....মু’মিনদের দু’দল দ্বন্দে¡ লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে ......... সুতরাং আল্লাহ্র কিতাবের নির্দেশ মুতাবিক যুদ্ধ করতে কোন্ বস্তু আপনাকে নিষেধ করছে? এরপর তিনি বললেন, হে ভাতিজা! এই আয়াতের তাবীল বা ব্যাখ্যা করে যুদ্ধ না করা আমার কাছে অধিক প্রিয় ........ وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا “যে স্বেচ্ছায় মু’মিন খুন করে” আয়াত তাবীল করার তুলনায়। সে ব্যক্তি বলল, আল্লাহ বলেছেন, وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لاَ تَكُونَ فِتْنَةٌ “তোমরা ফিতনা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করবে”, ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে আমরা তা করেছি যখন ইসলাম দুর্বল ছিল। ফলে লোক তার দ্বীন নিয়ে ফিতনায় পড়ত, হয়ত কাফিররা তাকে হত্যা করত নতুবা বেঁধে রাখত, ক্রমে ক্রমে ইসলামের প্রসার ঘটল এবং ফিতনা থাকল না। সে লোকটি যখন দেখল যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তার উদ্দেশ্যের অনুকূল নন তখন সে বলল যে, ‘আলী (রাঃ) এবং ‘উসমান (রাঃ) সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন যে, ‘আলী (রাঃ) এবং ‘উসমান (রাঃ) সম্পর্কে আমার কোন কথা নেই, তবে ‘উসমান (রাঃ)-কে আল্লাহ তা‘আলা নিজেই ক্ষমা করে দিয়েছেন কিন্তু তোমরা তাঁকে ক্ষমা করতে রাযী নও। আর ‘আলী (রাঃ), তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাচাত ভাই এবং জামাতা, তিনি অঙ্গুলি নির্দেশ করে বললেন, ঐ উনি হচ্ছেন রসূলের কন্যা, যেথায় তোমরা তাঁর ঘর দেখছ, هذِهِ ابْنَتُهُ বলেছেন কিংবা هذِهِ بْنَتُهُ বলেছেন। [৩১৩০] (আ.প্র. ৪২৮৯, ই.ফা. ৪২৯১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৫১
হাদিস নং ৪৬৫১
أَحْمَدُ بْنُ يُوْنُسَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا بَيَانٌ أَنَّ وَبَرَةَ حَدَّثَهُ قَالَ حَدَّثَنِيْ سَعِيْدُ بْنُ جُبَيْرٍ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا أَوْ إِلَيْنَا ابْنُ عُمَرَ فَقَالَ رَجُلٌ كَيْفَ تَرَى فِيْ قِتَالِ الْفِتْنَةِ فَقَالَ وَهَلْ تَدْرِيْ مَا الْفِتْنَةُ كَانَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم يُقَاتِلُ الْمُشْرِكِيْنَ وَكَانَ الدُّخُوْلُ عَلَيْهِمْ فِتْنَةً وَلَيْسَ كَقِتَالِكُمْ عَلَى الْمُلْكِ.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইবনু জুবায়র (রাঃ)
তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাদের কাছে এলেন। বর্ণনাকারী إِلَيْنَا অথবা عَلَيْنَا শব্দ বলেছেন। এরপর এক ব্যক্তি বলল, ফিতনা সম্পর্কিত যুদ্ধের ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, ফিতনা কী তা তুমি জান? মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে অভিযান ছিল ফিতনা। আর তা তোমাদের রাজত্বের জন্য যুদ্ধ করার মতো নয়। [৩১৩০] (আ.প্র. ৪২৯০, ই.ফা. ৪২৯২)
৬৫/৮/৭.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৫২
হাদিস নং ৪৬৫২
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا لَمَّا نَزَلَتْ {إِنْ يَّكُنْ مِّنْكُمْ عِشْرُوْنَ صٰبِرُوْنَ يَغْلِبُوْا مِائَتَيْنِ} وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ فَكُتِبَ عَلَيْهِمْ أَنْ لَا يَفِرَّ وَاحِدٌ مِنْ عَشَرَةٍ فَقَالَ سُفْيَانُ غَيْرَ مَرَّةٍ أَنْ لَا يَفِرَّ عِشْرُوْنَ مِنْ مِائَتَيْنِ ثُمَّ نَزَلَتْ {الْاٰنَ خَفَّفَ اللهُ عَنْكُمْ} الْآيَةَ فَكَتَبَ أَنْ لَا يَفِرَّ مِائَةٌ مِنْ مِائَتَيْنِ وَزَادَ سُفْيَانُ مَرَّةً نَزَلَتْ {حَرِّضْ الْمُؤْمِنِيْنَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ يَّكُنْ مِّنْكُمْ عِشْرُوْنَ صَابِرُوْنَ} قَالَ سُفْيَانُ وَقَالَ ابْنُ شُبْرُمَةَ وَأُرَى الْأَمْرَ بِالْمَعْرُوْفِ وَالنَّهْيَ عَنِ الْمُنْكَرِ مِثْلَ هَذَا.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
(আল্লাহ্র বাণী ঃ) إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ যখন অবতীর্ণ হল। এরপর দশজন কাফিরের বিপরীত একজন মুসলিম থাকলেও পলায়ন না করা ফরয করে দেয়া হল। সুফ্ইয়ান ইবনু ‘উয়াইনাহ (রাঃ) আবার বর্ণনা করেন, দু’শ জন কাফিরের বিপক্ষে ২০ জন মুসলিম থাকলেও পলায়ন করা যাবে না। তারপর অবতীর্ণ হল الْآنَ خَفَّفَ اللهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضَعْفاً فَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ صَابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ أَلْفٌ يَغْلِبُوا أَلْفَيْنِ بِإِذْنِ اللهِ وَاللهُ مَعَ الصَّابِرِينَল্ল আল্লাহ এখন তোমাদের বোঝা হালকা করে দিয়েছেন এবং তিনি জানেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে। সুতরাং যদি তোমাদের মধ্যে একশ’ জন দৃঢ়পদ লোক থাকে তবে তারা দু’শ জনের উপর জয়লাভ করবে, আর তোমাদের মধ্যে এক হাজার থাকলে আল্লাহ্র হুকুমে তারা দু’হাজারের উপর জয়লাভ করবে। আর আল্লাহ আছেন দৃঢ়পদ লোকদের সঙ্গে। (সূরাহ আল-আনফাল ৮/৬৬) এরপর দু’শ কাফিরের বিপক্ষে একশ’জন মুসলিম থাকলে পালিয়ে না যাওয়া (আল্লাহ) ফরয করে দিলেন। সুফ্ইয়ান ইবনু উয়াইনাহ (রহ.) একবার বর্ণনা করেছেন যে, (তাতে কিছু অতিরিক্ত আছে যেমন,) حَرِّضْ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ অবতীর্ণ হল, সুফ্ইয়ান বলেন, ইবনু শুবরুমাহ বলেছেন, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধএর ব্যাপারটাও আমি এমনই মনে করি। [৪৬৫৩] (আ.প্র. ৪২৯১, ই.ফা. ৪২৯৩)
৬৫/৮/৮.অধ্যায়ঃ
‘‘আল্লাহ এখন তোমাদের ভার লাঘব করলেন। তিনি অবগত আছেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে। ....... আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন।’’ (সূরাহ আনফাল ৮/৬৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৫৩
হাদিস নং ৪৬৫৩
يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللهِ السُّلَمِيُّ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا جَرِيْرُ بْنُ حَازِمٍ قَالَ أَخْبَرَنِي الزُّبَيْرُ بْنُ خِرِّيْتٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ {إِنْ يَّكُنْ مِّنْكُمْ عِشْرُوْنَ صٰبِرُوْنَ يَغْلِبُوْا مِائَتَيْنِ} شَقَّ ذَلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِيْنَ حِيْنَ فُرِضَ عَلَيْهِمْ أَنْ لَا يَفِرَّ وَاحِدٌ مِنْ عَشَرَةٍ فَجَاءَ التَّخْفِيْفُ فَقَالَ {اَلْئٰنَ خَفَّفَ اللهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيْكُمْ ضَعْفًا ط فَإِنْ يَّكُنْ مِّنْكُمْ مِّائَةٌ صَابِرَةٌ يَّغْلِبُوْا مِائَتَيْنِ} قَالَ فَلَمَّا خَفَّفَ اللهُ عَنْهُمْ مِنَ الْعِدَّةِ نَقَصَ مِنْ الصَّبْرِ بِقَدْرِ مَا خُفِّفَ عَنْهُمْ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
যখন إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ আয়াতটি অবতীর্ণ হল তখন দশ জনের বিপরীতে একজনের পলায়নও নিষিদ্ধ করা হল, তখন এটা মুসলিমদের উপর দুঃসাধ্য মনে হল তারপর তা লাঘবের বিধান এলো الْآنَ خَفَّفَ اللهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضُعْفًا فَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ صَابِرَةٌ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তাদেরকে সংখ্যার দিক থেকে যখন হালকা করে দিলেন, সেই সংখ্যা হ্রাসের সমপরিমাণ তাদের ধৈর্র্যও হ্রাস পেল। [৪৬৫২] (আ.প্র. ৪২৯২, ই.ফা. ৪২৯৪)
৬৫/৯/১.অধ্যায়ঃ
অধ্যায়: আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে দায়মুক্তির ঘোষণা সেসব মুশরিকের সম্পর্কে যাদের সঙ্গে তোমরা সন্ধিচুক্তি করেছিলে। (সূরাহ বারাআত ৯/১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৫৪
হাদিস নং ৪৬৫৪
أَبُو الْوَلِيْدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُوْلُ آخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ {يَسْتَفْتُوْنَكَ قُلِ اللهُ يُفْتِيْكُمْ فِي الْكَلَالَةِ} وَآخِرُ سُوْرَةٍ نَزَلَتْ بَرَاءَةٌ
বর্ণনাকারী বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ)
সর্বশেষে যে আয়াত অবতীর্ণ হয়, তা হল يَسْتَفْتُونَكَ قُلْ اللهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِলোকেরা আপনার কাছে বিধান জানতে চায়। আপনি বলুন ঃ আল্লাহ্ তোমাদের বিধান দিচ্ছেন “কালালা” (পিতা-মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি) সম্বন্ধে (সূরাহ আন-নিসা ৪/১৭৬)। এবং সর্বশেষে যে সূরাটি অবতীর্ণ হয়, তা হল সূরায়ে বারাআত। [৪৩৬৪] (আ.প্র. ৪২৯৩, ই.ফা. ৪২৯৫)
৬৫/৯/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর তা‘আলার বাণীঃ {فَسِيْحُوْا فِي الْأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَّاعْلَمُوْآ أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِي اللهِ لاوَأَنَّ اللهَ مُخْزِي الْكٰفِرِيْنَ}
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৫৫
হাদিস নং ৪৬৫৫
سَعِيْدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ وَأَخْبَرَنِيْ حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَعَثَنِيْ أَبُوْ بَكْرٍ فِيْ تِلْكَ الْحَجَّةِ فِيْ مُؤَذِّنِيْنَ بَعَثَهُمْ يَوْمَ النَّحْرِ يُؤَذِّنُوْنَ بِمِنًى أَنْ لَا يَحُجَّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ وَلَا يَطُوْفَ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ قَالَ حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ثُمَّ أَرْدَفَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِعَلِيِّ بْنِ أَبِيْ طَالِبٍ وَأَمَرَهُ أَنْ يُؤَذِّنَ بِبَرَاءَةَ قَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ فَأَذَّنَ مَعَنَا عَلِيٌّ يَوْمَ النَّحْرِ فِيْ أَهْلِ مِنًى بِبَرَاءَةَ وَأَنْ لَا يَحُجَّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ وَلَا يَطُوْفَ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আবূ বাক্র (রাঃ) নবম হিজরীর হাজ্জে আমাকে এ আদেশ দিয়ে পাঠিয়ে দেন যে, আমি কুরবানীর দিন ঘোষণাকারীদের সঙ্গে মিনায় (সমবেত লোকদের) এ ঘোষণা করে দেই যে, এ বছরের পর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না। আল্লাহ্র ঘর নগ্নদেহে তাওয়াফ করবে না।হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রাঃ) বলেন ঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘আলী (রাঃ)-কে পুনরায় এ নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করলেন যে, তুমি সূরায়ে বারাআতের বিধানসমূহ ঘোষণা করে দাও। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, মীনায় অবস্থানকারীদের মাঝে (কুরবানীর পর) ‘আলী (রাঃ) আমাদের সঙ্গে ছিলেন এবং সূরায়ে বারাআতের বিধানসমূহ ঘোষণা করলেন, এ বছরের পর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না। কেউ নগ্ন অবস্থায় ঘর তওয়াফ করবে না। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন ঃ اَذَنَهُمْ অর্থ, তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। [৩৬৯] (আ.প্র. ৪২৯৪, ই.ফা. ৪২৯৬)
৬৫/৯/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৫৬
হাদিস নং ৪৬৫৬
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ حَدَّثَنِيْ عُقَيْلٌ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِيْ حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ بَعَثَنِيْ أَبُوْ بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِيْ تِلْكَ الْحَجَّةِ فِي الْمُؤَذِّنِيْنَ بَعَثَهُمْ يَوْمَ النَّحْرِ يُؤَذِّنُوْنَ بِمِنًى أَنْ لَا يَحُجَّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ وَلَا يَطُوْفَ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ قَالَ حُمَيْدٌ ثُمَّ أَرْدَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِعَلِيِّ بْنِ أَبِيْ طَالِبٍ فَأَمَرَهُ أَنْ يُؤَذِّنَ بِبَرَاءَةَ قَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ فَأَذَّنَ مَعَنَا عَلِيٌّ فِيْ أَهْلِ مِنًى يَوْمَ النَّحْرِ بِبَرَاءَةَ وَأَنْ لَا يَحُجَّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ وَلَا يَطُوْفَ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
আবূ বাক্র (রাঃ) আমাকে সে কুরবানীর দিন ঘোষণাকারীদের সঙ্গে মিনায় এ (কথা) ঘোষণা করার জন্য পাঠালেন যে, এ বছরের পরে আর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না। আল্লাহ্র ঘর নগ্ন অবস্থায় কাউকে তওয়াফ করতে দেয়া হবে না। হুমাইদ (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরে পুনরায় ‘আলী ইবনু আবূ ত্বলিবকে পাঠালেন এবং বললেন ঃ সূরায়ে বারাআতের নির্দেশাবলী ঘোষণা করে দাও। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, ‘আলী (রাঃ) আমাদের সঙ্গেই মীনাবাসীদের মধ্যে সূরায়ে বারাআত কুরবানীর দিন ঘোষণা করলেন এ বছরের পরে কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না এবং নগ্নদেহে আল্লাহ্র ঘরের তাওয়াফ করবে না। [৩৬৯] (আ.প্র. ৪২৯৫, ই.ফা. ৪২৯৭)
৬৫/৯/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ অতএব, তোমরা পূর্ণ করবে তাদের সঙ্গে কৃত চুক্তিকে তাদের মেয়াদ পর্যন্ত। (সূরাহ বারাআত ৯/৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৫৭
হাদিস নং ৪৬৫৭
إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا يَعْقُوْبُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا أَبِيْ عَنْ صَالِحٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ حُمَيْدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ بَعَثَهُ فِي الْحَجَّةِ الَّتِيْ أَمَّرَهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهَا قَبْلَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فِيْ رَهْطٍ يُؤَذِّنُوْنَ فِي النَّاسِ أَنْ لَا يَحُجَّنَّ بَعْدَ الْعَامِ مُشْرِكٌ وَلَا يَطُوْفَ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ فَكَانَ حُمَيْدٌ يَقُوْلُ يَوْمُ النَّحْرِ يَوْمُ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ مِنْ أَجْلِ حَدِيْثِ أَبِيْ هُرَيْرَةَ.
বর্ণনাকারী ইসহাক (রহ.)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হাজ্জের পূর্বের বছর আবূ বাক্র (রাঃ)-কে যে হাজ্জের আমীর বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন, সেই হাজ্জে তিনি যেন লোকেদের মধ্যে ঘোষণা দেন, এ বছরের পর কোন মুশরিক হাজ্জ করতে পারবে না এবং নগ্নদেহে কেউ আল্লাহ্র ঘর তাওয়াফ করতে পারবে না।হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান বলেন, [আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)]’র হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, হাজ্জুল আকবারের দিন হল কুরবানীর দিন। [৩৬৯] (আ.প্র. ৪২৯৬, ই.ফা. ৪২৯৮)
৬৫/৯/৫
আল্লাহর তা‘আলার বাণীঃ তবে তোমরা যুদ্ধ করবে কাফিরদের প্রধানদের বিরুদ্ধে। কেননা তাদের কোন অঙ্গীকারই বহাল নেই।(সূরাহ বারাআত ৯/১২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৫৮
হাদিস নং ৪৬৫৮
مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيْلُ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ قَالَ كُنَّا عِنْدَ حُذَيْفَةَ فَقَالَ مَا بَقِيَ مِنْ أَصْحَابِ هَذِهِ الْآيَةِ إِلَّا ثَلَاثَةٌ وَلَا مِنَ الْمُنَافِقِيْنَ إِلَّا أَرْبَعَةٌ فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ إِنَّكُمْ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم تُخْبِرُوْنَا فَلَا نَدْرِيْ فَمَا بَالُ هَؤُلَاءِ الَّذِيْنَ يَبْقُرُوْنَ بُيُوْتَنَا وَيَسْرِقُوْنَ أَعْلَاقَنَا قَالَ أُوْلَئِكَ الْفُسَّاقُ أَجَلْ لَمْ يَبْقَ مِنْهُمْ إِلَّا أَرْبَعَةٌ أَحَدُهُمْ شَيْخٌ كَبِيْرٌ لَوْ شَرِبَ الْمَاءَ الْبَارِدَ لَمَا وَجَدَ بَرْدَهُ
বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু ওয়াহ্ব (রহ.)
তিনি বলেন, একদা আমরা হুযাইফাহ (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম, তখন তিনি বলেন, এ আয়াতের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের মধ্যে শুধু তিনজন মুসলিম এবং চারজন মুনাফিক বেঁচে আছে। এমন সময় একজন বেদুঈন বলেন, আপনারা সকলে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহাবী। আমাদের এমন লোকদের অবস্থা সম্পর্কে খবর দিন যারা আমাদের ঘরে সিঁদ কেটে ঘরের অতি মূল্যবান জিনিসগুলো চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, কেননা তাদের অবস্থা সম্পর্কে আমরা জানি না। হুযাইফাহ (রাঃ) বলেন, তারা সবাই ফাসিক। হ্যাঁ, তাদের মধ্য হতে চার ব্যক্তি এখনও জীবিততাদের মধ্যে একজন এতই বৃদ্ধ যে, শীতল পানি পান করার পর তার শীতলতা অনুভব করতে পারে না। (আ.প্র. ৪২৯৭, ই.ফা. ৪২৯৯)
৬৫/৯/৬
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ {وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُوْنَهَا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيْمٍ}.
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৫৯
হাদিস নং ৪৬৫৯
الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجَ حَدَّثَهُ أَنَّهُ قَالَ حَدَّثَنِيْ أَبُوْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ يَكُوْنُ كَنْزُ أَحَدِكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন, তোমাদের মধ্যে কারো জমাকৃত সম্পদ (যার যাকাত আদায় করা হয় না) ক্বিয়ামাতের দিন বিষাক্ত সর্পের রূপ ধারণ করবে। [১৪০৩] (আ.প্র. ৪২৯৮, ই.ফা. ৪৩০০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৬০
হাদিস নং ৪৬৬০
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ قَالَ مَرَرْتُ عَلَى أَبِيْ ذَرٍّ بِالرَّبَذَةِ فَقُلْتُ مَا أَنْزَلَكَ بِهَذِهِ الْأَرْضِ قَالَ كُنَّا بِالشَّأْمِ فَقَرَأْتُ {وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُوْنَهَا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيْمٍ} قَالَ مُعَاوِيَةُ مَا هَذِهِ فِيْنَا مَا هَذِهِ إِلَّا فِيْ أَهْلِ الْكِتَابِ قَالَ قُلْتُ إِنَّهَا لَفِيْنَا وَفِيْهِمْ.
বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু ওয়াহ্ব (রহ.)
তিনি বলেন, আমি একদা রাবাযা নামক স্থানে আবূ যার (রাঃ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমি (তাকে) জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কেন এ ভূমিতে এসেছেন? তিনি বললেন, আমি সিরিয়ায় ছিলাম, তখন আমি [মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর সামনে] এ আয়াত পাঠ করে শোনালাম। وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلاَ يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ “আর যারা জমা করে রাখে স্বর্ণ ও রৌপ্য এবং তা আল্লাহ্র পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে আপনি শুনিয়ে দিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ।” (সূরাহ বারাআত ৯/৩৪)মু‘আবিয়াহ (রাঃ) এ আয়াত শুনে বললেন, এ আয়াত আমাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়নি। বরং আহলে কিতাবদের (ইয়াহূদী ও নাসারাদের) ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম, এ আয়াত আমাদের ও তাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। (এ তর্কবিতর্কের কারণে চলে এসেছি।) [১৪০৬] (আ.প্র. ৪২৯৯, ই.ফা. ৪৩০১)
৬৫/৯/৭
আল্লাহর বাণীঃ {يَّوْمَ يُحْمٰى عَلَيْهَا فِيْ نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوٰى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوْبُهُمْ وَظُهُوْرُهُمْ طهٰذَا مَا كَنَزْتُمْ لِاَنْفُسِكُمْ فَذُوْقُوْا مَا كُنْتُمْ تَكْنِزُوْنَ}.
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৬১
হাদিস নং ৪৬৬১
وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ شَبِيْبِ بْنِ سَعِيْدٍ أَبِيْ عَنْ يُوْنُسَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ أَسْلَمَ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ فَقَالَ هَذَا قَبْلَ أَنْ تُنْزَلَ الزَّكَاةُ فَلَمَّا أُنْزِلَتْ جَعَلَهَا اللهُ طُهْرًا لِلْأَمْوَالِ.
বর্ণনাকারী খালিদ ইবনু আসলাম (রহ.)
তিনি বলেন, আমরা ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে বের হলাম। তখন তিনি বললেন, এ আয়াতটি যাকাতের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের। এরপর যাকাতের বিধান অবতীর্ণ হলে আল্লাহ তা সম্পদের পরিশুদ্ধকারী করেন। [১৪০৪] (আ.প্র. ৪৩০০, ই.ফা. ৪৩০২)
৬৫/৯/৮
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ নিশ্চয় মাসসমূহের সংখ্যা আল্লাহর কাছে বার মাস, সুনির্দিষ্ট রয়েছে আল্লাহর কিতাবে সেদিন থেকে যেদিন তিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান ও যমীন, এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত ধর্মপথ। (সূরাহ বারাআত ৯/৩৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৬২
হাদিস নং ৪৬৬২
عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوْبَ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ ابْنِ أَبِيْ بَكْرَةَ عَنْ أَبِيْ بَكْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ الزَّمَانَ قَدْ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللهُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ثَلَاثٌ مُتَوَالِيَاتٌ ذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ وَرَجَبُ مُضَرَ الَّذِيْ بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ.
বর্ণনাকারী আবূ বাক্র (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, আল্লাহ যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেন সেদিন যেভাবে যামানা ছিল তা আজও তেমনি আছে। বারমাসে এক বছর, তার মধ্যে চার মাস পবিত্র। যার তিন মাস ধারাবাহিক যথা যিলকাদ, যিলহাজ্জ ও মুর্হারম আর মুযার গোত্রের রাজব যা জামাদিউস্সানী ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী। [৬৭] (আ.প্র. ৪৩০১, ই.ফা. ৪৩০২)
৬৫/৯/৯.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ {ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُوْلُ لِصَاحِبِهٰ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللهَ مَعَنَا}
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৬৩
হাদিস নং ৪৬৬৩
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا حَبَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ حَدَّثَنَا أَنَسٌ قَالَ حَدَّثَنِيْ أَبُوْ بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْغَارِ فَرَأَيْتُ آثَارَ الْمُشْرِكِيْنَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ رَفَعَ قَدَمَهُ رَآنَا قَالَ مَا ظَنُّكَ بِاثْنَيْنِ اللهُ ثَالِثُهُمَا.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, আবূ বাক্র (রাঃ) আমার কাছে বলেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে (সওর) গুহায় ছিলাম। তখন আমি মুশরিকদের পদচিহ্ন দেখতে পেয়ে [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে] বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! যদি তাদের কেউ পা উঠায় তাহলে আমাদের দেখে ফেলবে। তখন তিনি বললেন, এমন দু’জন সম্পর্কে তোমার কী ধারণা, যাদের তৃতীয় জন হলেন আল্লাহ। [৩৬৫৩] (আ. প্র. ৪৩০২, ই.ফা. ৪৩০৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৬৪
হাদিস নং ৪৬৬৪
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ قَالَ حِيْنَ وَقَعَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ ابْنِ الزُّبَيْرِ قُلْتُ أَبُوْهُ الزُّبَيْرُ وَأُمُّهُ أَسْمَاءُ وَخَالَتُهُ عَائِشَةُ وَجَدُّهُ أَبُوْ بَكْرٍ وَجَدَّتُهُ صَفِيَّةُ فَقُلْتُ لِسُفْيَانَ إِسْنَادُهُ فَقَالَ حَدَّثَنَا فَشَغَلَهُ إِنْسَانٌ وَلَمْ يَقُلْ ابْنُ جُرَيْجٍ
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, যখন তার ও ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর মধ্যে (বাইআত নিয়ে) মতভেদ ঘটল, তখন আমি বললাম, তার পিতা যুবায়র, তার মাতা আসমা (রাঃ) ও তার খালা ‘আয়িশাহ (রাঃ), তার নানা আবূ বাক্র (রাঃ) ও তার নানী সুফিয়া (রাঃ)। আমি সুফ্ইয়ানকে বললাম, এর সানাদ বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, حَدَّثَنَا এবং ইবনু জুরাইজ (রহ.) বলার আগেই অন্য এক ব্যক্তি তাকে ব্যস্ত করে ফেললেন। [৪৬৬৫, ৪৬৬৬] (আ.প্র. ৪৩০৩, ই.ফা. ৪৩০৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৬৫
হাদিস নং ৪৬৬৫
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ يَحْيَى بْنُ مَعِيْنٍ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ ابْنُ أَبِيْ مُلَيْكَةَ وَكَانَ بَيْنَهُمَا شَيْءٌ فَغَدَوْتُ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقُلْتُ أَتُرِيْدُ أَنْ تُقَاتِلَ ابْنَ الزُّبَيْرِ فَتُحِلَّ حَرَمَ اللهِ فَقَالَ مَعَاذَ اللهِ إِنَّ اللهَ كَتَبَ ابْنَ الزُّبَيْرِ وَبَنِيْ أُمَيَّةَ مُحِلِّيْنَ وَإِنِّيْ وَاللهِ لَا أُحِلُّهُ أَبَدًا قَالَ قَالَ النَّاسُ بَايِعْ لِابْنِ الزُّبَيْرِ فَقُلْتُ وَأَيْنَ بِهَذَا الْأَمْرِ عَنْهُ أَمَّا أَبُوْهُ فَحَوَارِيُّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُرِيْدُ الزُّبَيْرَ وَأَمَّا جَدُّهُ فَصَاحِبُ الْغَارِ يُرِيْدُ أَبَا بَكْرٍ وَأُمُّهُ فَذَاتُ النِّطَاقِ يُرِيْدُ أَسْمَاءَ وَأَمَّا خَالَتُهُ فَأُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ يُرِيْدُ عَائِشَةَ وَأَمَّا عَمَّتُهُ فَزَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُرِيْدُ خَدِيْجَةَ وَأَمَّا عَمَّةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَجَدَّتُهُ يُرِيْدُ صَفِيَّةَ ثُمَّ عَفِيْفٌ فِي الإِسْلَامِ قَارِئٌ لِلْقُرْآنِ وَاللهِ إِنْ وَصَلُوْنِيْ وَصَلُوْنِيْ مِنْ قَرِيْبٍ وَإِنْ رَبُّوْنِيْ رَبُّوْنِيْ أَكْفَاءٌ كِرَامٌ فَآثَرَ التُّوَيْتَاتِ وَالْأُسَامَاتِ وَالْحُمَيْدَاتِ يُرِيْدُ أَبْطُنًا مِنْ بَنِيْ أَسَدٍ بَنِيْ تُوَيْتٍ وَبَنِيْ أُسَامَةَ وَبَنِيْ أَسَدٍ إِنَّ ابْنَ أَبِي الْعَاصِ بَرَزَ يَمْشِي الْقُدَمِيَّةَ يَعْنِيْ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ وَإِنَّهُ لَوَّى ذَنَبَهُ يَعْنِي ابْنَ الزُّبَيْرِ.
বর্ণনাকারী ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহ.)
তিনি বলেন, যখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ও ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর মধ্যে বাই‘আত নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হল, তখন আমি ইবনু ‘আব্বাসের কাছে গিয়ে বললাম, আপনি কি আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তা হালাল করে ইবনু যুবায়রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান? তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্র কাছে পানাহ্ চাচ্ছি, এ কাজ তো ইবনু যুবায়র ও বানী ‘উমাইয়াহ্র জন্যই আল্লাহ লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। আল্লাহ্র কসম! কখনও তা আমি হালাল মনে করব না, (আবূ মুলাইকাহ বলেন) তখন লোকজন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলল, আপনি ইবনু যুবায়রের পক্ষে বাই‘আত গ্রহণ করুন। তখন ইবনু ‘আব্বাস বললেন, তাতে ক্ষতির কী আছে? তিনি এটার জন্য যোগ্যতম ব্যক্তি। তাঁর পিতা যুবায়র তো নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহায্যকারী ছিলেন, তার নানা আবূ বাক্র (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সওর গুহার সঙ্গী ছিলেন। তার মা আসমা, যার উপাধি ছিল যাতুন নেতাক। তার খালা ‘আয়িশাহ (রাঃ) উম্মুল মু’মিনীন ছিলেন, তার ফুফু খাদীজাহ (রাঃ) রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী ছিলেন, আর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ফুফু সফীয়্যাহ ছিলেন তাঁর দাদী। এ ব্যতীত তিনি (ইবনু যুবায়র) তো ইসলামী জগতে নিষ্কলুষ ব্যক্তি ও কুরআনের ক্বারী। আল্লাহ্র কসম! যদি তারা (বানী ‘উমাইয়াহ) আমার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখে তবে তারা আমার নিকটাত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখল। আর যদি তারা আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করে তবে তারা সমকক্ষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরই রক্ষণাবেক্ষণ করল। ইবনু যুবায়র, বানী আসাদ, বানী তুয়াইত, বানী উসামাএসব গোত্রকে আমার চেয়ে নিকটতম করে নিয়েছেন। নিশ্চয়ই আবিল আস্-এর পুত্র অর্থাৎ ‘আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান অহঙ্কারী চালচলন আরম্ভ করেছে। নিশ্চয়ই তিনি অর্থাৎ ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) তার লেজ গুটিয়ে নিয়েছেন। [৪৬৬৪] (আ.প্র. ৪৩০৪, ই.ফা. ৪৩০৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৬৬
হাদিস নং ৪৬৬৬
مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ مَيْمُوْنٍ حَدَّثَنَا عِيْسَى بْنُ يُوْنُسَ عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيْدٍ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِيْ مُلَيْكَةَ دَخَلْنَا عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ أَلَا تَعْجَبُوْنَ لِابْنِ الزُّبَيْرِ قَامَ فِيْ أَمْرِهِ هَذَا فَقُلْتُ لَأُحَاسِبَنَّ نَفْسِيْ لَهُ مَا حَاسَبْتُهَا لِأَبِيْ بَكْرٍ وَلَا لِعُمَرَ وَلَهُمَا كَانَا أَوْلَى بِكُلِّ خَيْرٍ مِنْهُ وَقُلْتُ ابْنُ عَمَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَابْنُ الزُّبَيْرِ وَابْنُ أَبِيْ بَكْرٍ وَابْنُ أَخِيْ خَدِيْجَةَ وَابْنُ أُخْتِ عَائِشَةَ فَإِذَا هُوَ يَتَعَلَّى عَنِّيْ وَلَا يُرِيْدُ ذَلِكَ فَقُلْتُ مَا كُنْتُ أَظُنُّ أَنِّيْ أَعْرِضُ هَذَا مِنْ نَفْسِيْ فَيَدَعُهُ وَمَا أُرَاهُ يُرِيْدُ خَيْرًا وَإِنْ كَانَ لَا بُدَّ لَأَنْ يَرُبَّنِيْ بَنُوْ عَمِّيْ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يَرُبَّنِيْ غَيْرُهُمْ.
বর্ণনাকারী ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহ.)
আমরা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন, তোমরা কি ইবনু যুবায়রের বিষয়ে বিস্মিত হবে না? তিনি তো তার এ কাজে (খিলাফতের কাজে) দাঁড়িয়েছেন। [ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন] আমি বললাম, আমি অবশ্য মনে মনে তার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করি, কিন্তু আবূ বাক্র (রাঃ) কিংবা ‘উমার (রাঃ)-এর ব্যাপারে এতটুকু চিন্তা-ভাবনা করিনি। সব দিক থেকে তাঁর চেয়ে তারা উভয়ে উত্তম ছিলেন। আমি বললাম, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ফুফু সফীয়্যাহ (রাঃ)-এর সন্তান, যুবায়রের ছেলে, আবূ বাক্র (রাঃ)-এর নাতি। খাদীজাহ (রাঃ)-এর ভাতিজা, ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর বোন আসমার ছেলে। কিন্তু তিনি (নিজেকে বড় মনে করে) আমার থেকে দূরে সরে থাকেন এবং তিনি আমার সহযোগিতা কামনা করেন না। আমি বললাম, আমি নিজে থেকে এজন্য তা প্রকাশ করি না যে, হয়ত তিনি তা প্রত্যাখ্যান করবেন এবং আমি মনে করি না যে, তিনি এটা ভাল করছেন। কারণ অন্য কোন ব্যক্তি দেশের শাসক হওয়ার চেয়ে আমার চাচার ছেলে অর্থাৎ আমার আপনজন শাসক হওয়া আমার নিকট উত্তম। [৪৬৬৪] (আ.প্র. ৪৩০৪, ই.ফা. ৪৩০৬)
৬৫/৯/১০
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ এবং যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য। (সূরাহ বারাআত ৯/৬০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৬৭
হাদিস নং ৪৬৬৭
مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيْرٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ ابْنِ أَبِيْ نُعْمٍ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بُعِثَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِشَيْءٍ فَقَسَمَهُ بَيْنَ أَرْبَعَةٍ وَقَالَ أَتَأَلَّفُهُمْ فَقَالَ رَجُلٌ مَا عَدَلْتَ فَقَالَ يَخْرُجُ مِنْ ضِئْضِئِ هَذَا قَوْمٌ يَمْرُقُوْنَ مِنْ الدِّيْنِ.
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে কিছু জিনিস প্রেরণ করা হল। এরপর তিনি সেগুলো চারজনের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। আর বললেন, তাদেরকে (এর দ্বারা) আকৃষ্ট করছি। তখন এক ব্যক্তি বলল, আপনি সুবিচার করেননি। (এটা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)) বললেন, এ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন সব লোক জন্ম নেবে যারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে। [৩৩৪৪] (আ.প্র. ৪৩০৫, ই.ফা. ৪৩০৭)
৬৫/৯/১১
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ {الَّذِيْنَ يَلْمِزُوْنَ الْمُطَّوِّعِيْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ فِي الصَّدَقَاتِ}
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৬৮
হাদিস নং ৪৬৬৮
بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ أَبُوْ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ أَبِيْ مَسْعُوْدٍ قَالَ لَمَّا أُمِرْنَا بِالصَّدَقَةِ كُنَّا نَتَحَامَلُ فَجَاءَ أَبُوْ عَقِيْلٍ بِنِصْفِ صَاعٍ وَجَاءَ إِنْسَانٌ بِأَكْثَرَ مِنْهُ فَقَالَ الْمُنَافِقُوْنَ إِنَّ اللهَ لَغَنِيٌّ عَنْ صَدَقَةِ هَذَا وَمَا فَعَلَ هَذَا الآخَرُ إِلَّا رِئَاءً فَنَزَلَتْ {الَّذِيْنَ يَلْمِزُوْنَ الْمُطَّوِّعِيْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِيْنَ لَا يَجِدُوْنَ إِلَّا جُهْدَهُمْ} الآيَةَ.
বর্ণনাকারী আবূ মাস‘উদ (রাঃ)
তিনি বলেন, যখন আমাদের সদাকাহ দানের আদেশ দেয়া হল, তখন আমরা মজুরীর বিনিময়ে বোঝা বহন করতাম। একদিন আবূ ‘আকীল (রাঃ) অর্ধ সা’ খেজুর (দান করার উদ্দেশে) নিয়ে আসলেন এবং অন্য এক ব্যক্তি (‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ) তার চেয়ে অধিক মালামাল নিয়ে উপস্থিত হলেন। মুনাফিকরা বলতে লাগল, আল্লাহ এ ব্যক্তির সদাকাহ্র মুখাপেক্ষী নন। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি [‘আবদুর রহমান ইবন ‘আওফ (রাঃ)] শুধু মানুষ দেখানোর জন্য অধিক মালামাল দান করেছে। এ সময় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় “মু‘মিনদের মধ্যে যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সদাকাহ দেয় এবং যারা নিজেদের পরিশ্রমলব্ধ বস্তু ব্যতীত ব্যয় করার কিছুই পায় না, তাদেরকে যারা দোষারোপ করে ও ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করে, আল্লাহ তাদের বিদ্রƒপ করেন। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি” (সূরাহ বারাআত ৯/৭৯)। [১৪১৫] (আ.প্র. ৪৩০৭, ই.ফা. ৪৩০৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৬৯
হাদিস নং ৪৬৬৯
إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ قَالَ قُلْتُ لِأَبِيْ أُسَامَةَ أَحَدَّثَكُمْ زَائِدَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ شَقِيْقٍ عَنْ أَبِيْ مَسْعُوْدٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُ بِالصَّدَقَةِ فَيَحْتَالُ أَحَدُنَا حَتَّى يَجِيْءَ بِالْمُدِّ وَإِنَّ لِأَحَدِهِمْ الْيَوْمَ مِائَةَ أَلْفٍ كَأَنَّهُ يُعَرِّضُ بِنَفْسِهِ.
বর্ণনাকারী আবূ মাস‘ঊদ আনসারী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সদাকাহ করার নির্দেশ দিলে আমাদের মধ্য হতে কেউ কেউ অত্যন্ত পরিশ্রম করে, (গম অথবা খেজুর ইত্যাদি) এক মুদ্দ আনতে পারত কিন্তু এখন আমাদের মধ্যে কারো কারো এক লাখ পরিমাণ (দিরহাম) রয়েছে। আবূ মাস‘ঊদ (রাঃ) যেন (এ কথা বলে) নিজের দিকে ইশারা করলেন। [১৪১৫] (আ.প্র. ৪৩০৮, ই.ফা. ৪৩০৯)
৬৫/৯/১২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ {اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِيْنَ مَرَّةً فَلَنْ يَغْفِرَ اللهُ لَهُمْ}. আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন অথবা নাই করেন (উভয়ই সমান)। যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা তো কুফরী করেছে আল্লাহর সঙ্গে এবং তাঁর রাসূলের সঙ্গেও। আল্লাহ ফাসিক লোকদেরকে হিদায়াত দান করেন না। (সূরাহ বারাআত ৯/৮০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৭০
হাদিস নং ৪৬৭০
عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيْلَ عَنْ أَبِيْ أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ جَاءَ ابْنُهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ أَنْ يُعْطِيَهُ قَمِيْصَهُ يُكَفِّنُ فِيْهِ أَبَاهُ فَأَعْطَاهُ ثُمَّ سَأَلَهُ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَامَ عُمَرُ فَأَخَذَ بِثَوْبِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ تُصَلِّيْ عَلَيْهِ وَقَدْ نَهَاكَ رَبُّكَ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا خَيَّرَنِي اللهُ فَقَالَ {اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِيْنَ مَرَّةً} وَسَأَزِيْدُهُ عَلَى السَّبْعِيْنَ قَالَ إِنَّهُ مُنَافِقٌ قَالَ فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللهُ {وَلَا تُصَلِّ عَلٰٓى أَحَدٍ مِّنْهُمْ مَّاتَ أَبَدًا وَّلَا تَقُمْ عَلٰى قَبْرِهٰ}.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেল, তখন তার ছেলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরবারে আসলেন এবং তার পিতাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জামাটি দিয়ে কাফন দেবার আবেদন করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জামা প্রদান করলেন, এরপর তিনি জানাযার সলাত আদায়ের জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আবেদন জানালেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানাযার সলাত পড়ানোর জন্য (বসা থেকে) উঠে দাঁড়ালেন, ইত্যবসরে ‘উমার (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাপড় টেনে ধরে আবেদন করলেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি কি তার জানাযার সলাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ আপনার রব আপনাকে তার জন্য দু‘আ করতে নিষেধ করেছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তা‘আলা এ ব্যাপারে আমাকে (দু‘আ) করা বা না করার সুযোগ দিয়েছেন। আর আল্লাহ তো ইরশাদ করেছেন, “তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর; যদি সত্তরবারও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর তবু আমি তাদের ক্ষমা করব না”। সুতরাং আমি তার জন্য সত্তরবারের চেয়েও বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করব। ‘উমার (রাঃ) বললেন, সে তো মুনাফিক, শেষ পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জানাযার সলাত আদায় করলেন, এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। “তাদের (মুনাফিকদের) কেউ মারা গেলে আপনি কক্ষণো তাদের জানাযাহ্র সলাত আদায় করবেন না এবং তাদের কবরের কাছেও দাঁড়াবেন না। [১২৬৯; মুসলিম ৪৪/২, হাঃ ২৪০০, আহমাদ ৯৫] (আ.প্র. ৪৩০৯, ই.ফা. ৪৩১০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৭১
হাদিস নং ৪৬৭১
يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ و قَالَ غَيْرُهُ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِيْ عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ لَمَّا مَاتَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ ابْنُ سَلُوْلَ دُعِيَ لَهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَلَمَّا قَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَثَبْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَتُصَلِّيْ عَلَى ابْنِ أُبَيٍّ وَقَدْ قَالَ يَوْمَ كَذَا كَذَا وَكَذَا قَالَ أُعَدِّدُ عَلَيْهِ قَوْلَهُ فَتَبَسَّمَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ أَخِّرْ عَنِّيْ يَا عُمَرُ فَلَمَّا أَكْثَرْتُ عَلَيْهِ قَالَ إِنِّيْ خُيِّرْتُ فَاخْتَرْتُ لَوْ أَعْلَمُ أَنِّيْ إِنْ زِدْتُ عَلَى السَّبْعِيْنَ يُغْفَرْ لَهُ لَزِدْتُ عَلَيْهَا قَالَ فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ انْصَرَفَ فَلَمْ يَمْكُثْ إِلَّا يَسِيْرًا حَتَّى نَزَلَتْ الْآيَتَانِ مِنْ بَرَاءَةَ{وَلَا تُصَلِّ عَلٰى أَحَدٍ مِّنْهُمْ مَّاتَ أَبَدً}ا إِلَى قَوْلِهِ{وَهُمْ فَاسِقُوْنَ} قَالَ فَعَجِبْتُ بَعْدُ مِنْ جُرْأَتِيْ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَاللهُ وَرَسُوْلُهُ أَعْلَمُ
বর্ণনাকারী ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)
তিনি বলেন, যখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূল মারা গেল, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তার জানাযাহ্র সলাত আদায়ের জন্য আহ্বান করা হল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন (জানাযার জন্য) উঠে দাঁড়ালেন, আমি তাঁর কাছে গিয়ে আরয করলাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি ইবনু উবাই-এর জানাযার সলাত পড়াবেন? অথচ সে লোক অমুক দিন অমুক অমুক কথা বলেছে। ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলেন, আমি তার কথাগুলো রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে এক একটি করে উল্লেখ করছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুচকি হাসি দিয়ে আমাকে বললেন, হে ‘উমার! আমাকে যেতে দাও। আমি বারবার বলাতে তিনি বললেন, আল্লাহ আমাকে করা বা না করার অবকাশ দিয়েছেন। আমি তা গ্রহণ করেছি। আমি যদি জানতে পারি যে, সত্তরবারের চেয়েও বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করে দেবেন, তবে আমি সত্তরবারের অধিক ক্ষমা প্রার্থনা করব। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জানাযার সলাত আদায় করলেন এবং (জানাযাহ) থেকে ফিরে আসার পরই সূরাহ বারাআতের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়, “তাদের কেউ মারা গেলে কখনও তার জানাযাহ্র সলাত আদায় করবে না। এরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি অবিশ্বাস করেছে এবং ফাসিক অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। (সূরাহ বারাআত ৯/৮৪)‘উমার (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে আমার এ দুঃসাহসের জন্য পরে আমি আশ্চর্য হতাম। বস্তুতঃ আল্লাহ ও তার রসূল অধিক জ্ঞাত। [১৩৬৬] (আ.প্র. ৪৩১০, ই.ফা. ৪৩১১)
৬৫/৯/১৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ মুনাফিকদের মধ্য থেকে কারো মৃত্যু হলে তার জন্য আপনি জানাযার সলাত কখনও পড়বেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না। (সূরাহ বারাআত ৯/৮৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৭২
হাদিস নং ৪৬৭২
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ جَاءَ ابْنُهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَعْطَاهُ قَمِيْصَهُ وَأَمَرَهُ أَنْ يُكَفِّنَهُ فِيْهِ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّيْ عَلَيْهِ فَأَخَذَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بِثَوْبِهِ فَقَالَ تُصَلِّيْ عَلَيْهِ وَهُوَ مُنَافِقٌ وَقَدْ نَهَاكَ اللهُ أَنْ تَسْتَغْفِرَ لَهُمْ قَالَ إِنَّمَا خَيَّرَنِي اللهُ أَوْ أَخْبَرَنِي اللهُ فَقَالَ {اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِيْنَ مَرَّةً فَلَنْ يَّغْفِرَ اللهُ} فَقَالَ سَأَزِيْدُهُ عَلَى سَبْعِيْنَ قَالَ فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَصَلَّيْنَا مَعَهُ ثُمَّ أَنْزَلَ اللهُ عَلَيْهِ {وَلَا تُصَلِّ عَلٰٓى أَحَدٍ مِّنْهُمْ مَّاتَ أَبَدًا وَّلَا تَقُمْ عَلٰى قَبْرِهٰإِنَّهُمْ كَفَرُوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهٰ وَمَاتُوْا وَهُمْ فَاسِقُوْنَ}.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, যখন (মুনাফিক) ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেল, তখন তার ছেলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলেন। তিনি [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] তার নিজ জামাটি তাকে দিয়ে দিলেন এবং এর দ্বারা তার পিতার কাফনের ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জানাযার সলাত আদায়ের জন্য উঠে দাঁড়ালেন। তখন ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাপড় ধরে নিবেদন করলেন, [হে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] আপনি কি তার (‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই)-এর জানাযাহ্র সলাত আদায় করবেন? সে তো মুনাফিক, অথচ আল্লাহ তা‘আলা তাদের (মুনাফিকদের) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে আপনাকে নিষেধ করেছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (হে ‘উমার!) আল্লাহ আমাকে করা বা না করার অবকাশ দিয়েছেন, অথবা বলেছেন, আল্লাহ আমাকে অবহিত করেছেন এবং বলেছেন, “আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন অথবা নাই করেন (উভয়ই সমান)। যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না।” (সূরাহ বারাআত ৯/৮০)রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমি সত্তরবারের চেয়েও অধিকবার ক্ষমা প্রার্থনা করব। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জানাযাহ্র সলাত আদায় করলেন। আমরাও তার সঙ্গে জানাযাহ্র সলাত আদায় করলাম। এরপর এ আয়াত অবতীর্ণ হল, “তাদের (মুনাফিকদের) কেউ মারা গেলে আপনি তার জানাযাহ্র সলাত কখনও আদায় করবেন না এবং তার কবরের পার্শ্বে দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহ ও তার রসূলকে অস্বীকার করেছে এবং ফাসিক অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করেছে” (সূরাহ বারাআত ৯/৮৪)। [১২৬৯] (আ.প্র. ৪৩১১, ই.ফা. ৪৩১২)
৬৫/৯/১৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ {سَيَحْلِفُوْنَ بِاللهِ لَكُمْ إِذَا انْقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوْا عَنْهُمْ طفَأَعْرِضُوْا عَنْهُمْ جإِنَّهُمْ رِجْسٌ زوَّمَأْوٰﯨهُمْ جَهَنَّمُ ججَزَآءًم بِمَا كَانُوْا يَكْسِبُوْنَ}.
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৭৩
হাদিস নং ৪৬৭৩
يَحْيَى حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ حِيْنَ تَخَلَّفَ عَنْ تَبُوْكَ وَاللهِ مَا أَنْعَمَ اللهُ عَلَيَّ مِنْ نِعْمَةٍ بَعْدَ إِذْ هَدَانِيْ أَعْظَمَ مِنْ صِدْقِيْ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ لَا أَكُوْنَ كَذَبْتُهُ فَأَهْلِكَ كَمَا هَلَكَ الَّذِيْنَ كَذَبُوْا حِيْنَ أُنْزِلَ الْوَحْيُ {سَيَحْلِفُوْنَ بِاللهِ لَكُمْ إِذَا انْقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ} إِلَى قَوْلِهِ {الْفَاسِقِيْنَ}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রহ.)
বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি যখন তাবূকের যুদ্ধে পিছনে রয়ে গেলেন, আল্লাহ্র কসম! তখন আল্লাহ আমাকে এমন এক নিয়ামত দান করেন যে মুসলিম হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এত বড় নিয়ামত পাইনি। তা হল রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে সত্য কথা প্রকাশ করা। আমি তাঁর কাছে মিথ্যা বলিনি। যদি মিথ্যা বলতাম, তবে অন্যান্য (মুনাফিক ও) মিথ্যাচারী যেভাবে ধ্বংস হয়েছে, আমিও সেভাবে ধ্বংস হয়ে যেতাম। যে সময় ওয়াহী অবতীর্ণ হল “তারা তোমাদের সামনে কসম করবে যাতে তোমরা তাদের প্রতি রাজি হও। যদি তোমরা তাদের প্রতি রাজি হয়ে যাও তবুও আল্লাহ এসব ফাসিক লোকদের প্রতি রাজি হবেন না” (সূরাহ বারাআত ৯/৯৬)। [২৭৫৭] (আ.প্র. ৪৩১২, ই.ফা. ৪৩১৩)
৬৫/৯/১৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ তারা তোমাদের সামনে কসম করবে যাতে তোমরা তাদের প্রতি রাজি হও। যদি তোমরা তাদের প্রতি রাজি হয়ে যাও তবুও আল্লাহ এসব ফাসিক লোকদের প্রতি রাজি হবেন না। (সূরাহ বারাআত ৯/৯৬)
৬৫/৯/১৬
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ {وَاٰخَرُوْنَ اعْتَرَفُوْا بِذُنُوْبِهِمْ خَلَطُوْا عَمَلًا صَالِحًا وَّاٰخَرَ سَيِّئًا طعَسَى اللهُ أَنْ يَّتُوْبَ عَلَيْهِمْ طإِنَّ اللهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ}.
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৭৪
হাদিস নং ৪৬৭৪
مُؤَمَّلٌ هُوَ ابْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيْلُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا عَوْفٌ حَدَّثَنَا أَبُوْ رَجَاءٍ حَدَّثَنَا سَمُرَةُ بْنُ جُنْدَبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَنَا أَتَانِي اللَّيْلَةَ آتِيَانِ فَابْتَعَثَانِيْ فَانْتَهَيْنَا إِلَى مَدِيْنَةٍ مَبْنِيَّةٍ بِلَبِنِ ذَهَبٍ وَلَبِنِ فِضَّةٍ فَتَلَقَّانَا رِجَالٌ شَطْرٌ مِنْ خَلْقِهِمْ كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ وَشَطْرٌ كَأَقْبَحِ مَا أَنْتَ رَاءٍ قَالَا لَهُمْ اذْهَبُوْا فَقَعُوْا فِيْ ذَلِكَ النَّهْرِ فَوَقَعُوْا فِيْهِ ثُمَّ رَجَعُوْا إِلَيْنَا قَدْ ذَهَبَ ذَلِكَ السُّوْءُ عَنْهُمْ فَصَارُوْا فِيْ أَحْسَنِ صُوْرَةٍ قَالَا لِيْ هَذِهِ جَنَّةُ عَدْنٍ وَهَذَاكَ مَنْزِلُكَ قَالَا أَمَّا الْقَوْمُ الَّذِيْنَ كَانُوْا شَطْرٌ مِنْهُمْ حَسَنٌ وَشَطْرٌ مِنْهُمْ قَبِيْحٌ فَإِنَّهُمْ خَلَطُوْا عَمَلًا صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّئًا تَجَاوَزَ اللهُ عَنْهُمْ
বর্ণনাকারী সামূরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বলেছেন, রাতে দু’জন মালাক এসে আমাকে নিদ্রা থেকে জাগ্রত করলেন। এরপর আমরা এমন এক শহরে পৌঁছলাম, যা স্বর্ণ ও রৌপ্যের ইট দ্বারা নির্মিত। সেখানে এমন কিছু সংখ্যক লোকের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ ঘটল, যাদের শরীরের অর্ধেক খুবই সুশ্রী যা তোমরা কখনও দেখনি এবং আর এক অর্ধেক এত কুৎসিত যা তোমরা কখনও দেখনি। মালাক দু’জন তাদেরকে বললেন, তোমরা ঐ নহরে গিয়ে ডুব দাও। তারা সেখানে গিয়ে ডুব দিয়ে আমাদের নিকট ফিরে আসল। তখন তাদের বিশ্রী চেহারা সম্পূর্ণ দূর হয়ে গেল এবং তারা সুশ্রী চেহারা লাভ করল। মালাকদ্বয় আমাকে বললেন, এটা হল ‘জান্নাতে আদন’ এটাই হল আপনার আসল ঠিকানা। মালাকদ্বয় বললেন, (আপনি) যেসব লোকের দেহের অর্ধেক সুশ্রী এবং অর্ধেক বিশ্রী (দেখেছেন), তারা ঐ সকল লোক যারা দুনিয়াতে সৎকর্মের সঙ্গে অসৎকর্ম মিশিয়ে ফেলেছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। [৮৪৫] (আ.প্র. ৪৩১৩, ই.ফা. ৪৩১৪)
৬৫/৯/১৭.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ নাবী ও মু’মিনদের পক্ষে উচিত নয় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে মুশরিকদের জন্য। (সূরাহ বারাআত ৯/১১৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৭৫
হাদিস নং ৪৬৭৫
إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ لَمَّا حَضَرَتْ أَبَا طَالِبٍ الْوَفَاةُ دَخَلَ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ أَبُوْ جَهْلٍ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِيْ أُمَيَّةَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَيْ عَمِّ قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ أُحَاجُّ لَكَ بِهَا عِنْدَ اللهِ فَقَالَ أَبُوْ جَهْلٍ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِيْ أُمَيَّةَ يَا أَبَا طَالِبٍ أَتَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ مَا لَمْ أُنْهَ عَنْكَ فَنَزَلَتْ {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِيْنَ آمَنُوْا أَنْ يَسْتَغْفِرُوْا لِلْمُشْرِكِيْنَ وَلَوْ كَانُوْا أُوْلِيْ قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيْمِ}.
বর্ণনাকারী মুসাইয়্যাব (রাঃ)
তিনি বলেন, আবূ ত্বলিবের মৃত্যু ঘনিয়ে আসলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার কাছে গেলেন। এ সময় আবূ জাহ্ল এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়াহ্ও সেখানে বসা ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে চাচা! আপনি পড়–ন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। আপনার মুক্তির জন্য আল্লাহ্র নিকট এটা দলীল হিসেবে পেশ করব। এ কথা শুনে আবূ জাহ্ল ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমাইয়াহ বলল, হে আবূ ত্বলিব! তুমি কি ‘আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করে দিবে? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে চাচা! আমি আপনার জন্য আল্লাহ্র তরফ থেকে যতক্ষণ আমাকে নিষেধ না করা হবে ততক্ষণ ক্ষমা চাইতে থাকব। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় “নাবী ও মুমিনদের পক্ষে উচিত নয় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে মুশরিকদের জন্য যদি তারা নিকটাত্মীয়ও হয় যখন তাদের কাছে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামী।” (সূরাহ বারাআত ৯/১১৩) [১৩৬০] (আ.প্র. ৪৩১৪, ই.ফা. ৪৩১৫)
৬৫/৯/১৮.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আল্লাহ কৃপাদৃষ্টি করলেন নাবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতিও, যারা তার অনুসরণ করেছিল অতি কঠিন মুহূর্তে এমনকি যখন তাদের এক দলের অন্তর বক্রতার পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। তারপর আল্লাহ তাদের তাওবা ক্ববূল করলেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাদের প্রতি পরম মমতাময়, পরম দয়ালু। (সূরাহ বারাআত ৯/১১৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৭৬
হাদিস নং ৪৬৭৬
أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ يُوْنُسُ ح قَالَ أَحْمَدُ وَحَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ حَدَّثَنَا يُوْنُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عَبْدُ اللهِ بْنُ كَعْبٍ وَكَانَ قَائِدَ كَعْبٍ مِنْ بَنِيْهِ حِيْنَ عَمِيَ قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ فِيْ حَدِيْثِهِ وَعَلَى الثَلَاثَةِ الَّذِيْنَ خُلِّفُوْا قَالَ فِيْ آخِرِ حَدِيْثِهِ إِنَّ مِنْ تَوْبَتِيْ أَنْ أَنْخَلِعَ مِنْ مَالِيْ صَدَقَةً إِلَى اللهِ وَإِلَى رَسُوْلِهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَمْسِكْ بَعْضَ مَالِكَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ
বর্ণনাকারী ‘আবদুর রহমান ইবনু কা‘ব (রাঃ)
কা‘ব (রাঃ) যখন অন্ধ হয়ে পড়লেন, তখন তার ছেলেদের মধ্যে যার সাহায্যে তিনি চলাফেরা করতেন, সেই ‘আবদুল্লাহ বিন কা‘ব বলেন, আমি (আমার পিতা) কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ)-এর কাছে وَعَلَى الثَلاَثَةِ এ আয়াত- সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি তার ঘটনা বর্ণনার সর্বশেষে বলতেন, আমি আমার তওবা কবূল হওয়ার খুশীতে আমার সকল মাল আল্লাহ ও তার রসূলের পথে দান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কিছু মাল নিজের জন্য রেখে দাও। এটাই তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। [২৭৫৭] (আ.প্র. ৪৩১৫, ই.ফা. ৪৩১৬)
৬৫/৯/১৯
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ আর ঐ তিন ব্যক্তির প্রতিও তিনি কৃপাদৃষ্টি করলেন যাদের ব্যাপার (তাওবাহ) স্থগিত রাখা হয়েছিল। এমনকি যখন যমীন প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের উপর সংকুচিত হয়ে গেল এবং তাদের জীবনও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ল। আর তারা বুঝতে পারল যে, আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া ব্যতীত কোন আশ্রয় পাওয়ার উপায় নেই, তখন তিনি তাদের প্রতি কৃপাদৃষ্টি করলেন, যাতে তারা তাওবাহ করে। নিশ্চয় আল্লাহই মহান তাওবাহ ক্ববূলকারী, পরম দয়ালু। (সূরাহ বারাআত ৯/১১৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৭৭
হাদিস নং ৪৬৭৭
مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ ابْنُ أَبِيْ شُعَيْبٍ حَدَّثَنَا مُوْسَى بْنُ أَعْيَنَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ رَاشِدٍ أَنَّ الزُّهْرِيَّ حَدَّثَهُ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ سَمِعْتُ أَبِيْ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ وَهُوَ أَحَدُ الثَلَاثَةِ الَّذِيْنَ تِيْبَ عَلَيْهِمْ أَنَّهُ لَمْ يَتَخَلَّفْ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيْ غَزْوَةٍ غَزَاهَا قَطُّ غَيْرَ غَزْوَتَيْنِ غَزْوَةِ الْعُسْرَةِ وَغَزْوَةِ بَدْرٍ قَالَ فَأَجْمَعْتُ صِدْقِيْ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ضُحًى وَكَانَ قَلَّمَا يَقْدَمُ مِنْ سَفَرٍ سَافَرَهُ إِلَّا ضُحًى وَكَانَ يَبْدَأُ بِالْمَسْجِدِ فَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ وَنَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ كَلَامِيْ وَكَلَامِ صَاحِبَيَّ وَلَمْ يَنْهَ عَنْ كَلَامِ أَحَدٍ مِنَ الْمُتَخَلِّفِيْنَ غَيْرِنَا فَاجْتَنَبَ النَّاسُ كَلَامَنَا فَلَبِثْتُ كَذَلِكَ حَتَّى طَالَ عَلَيَّ الْأَمْرُ وَمَا مِنْ شَيْءٍ أَهَمُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَمُوْتَ فَلَا يُصَلِّيْ عَلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَوْ يَمُوْتَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَكُوْنَ مِنْ النَّاسِ بِتِلْكَ الْمَنْزِلَةِ فَلَا يُكَلِّمُنِيْ أَحَدٌ مِنْهُمْ وَلَا يُصَلِّيْ وَلَا يُسَلِّمُ عَلَيَّ فَأَنْزَلَ اللهُ تَوْبَتَنَا عَلَى نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم حِيْنَ بَقِيَ الثُّلُثُ الْآخِرُ مِنْ اللَّيْلِ وَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ أُمِّ سَلَمَةَ وَكَانَتْ أُمُّ سَلَمَةَ مُحْسِنَةً فِيْ شَأْنِيْ مَعْنِيَّةً فِيْ أَمْرِيْ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَا أُمَّ سَلَمَةَ تِيْبَ عَلَى كَعْبٍ قَالَتْ أَفَلَا أُرْسِلُ إِلَيْهِ فَأُبَشِّرَهُ قَالَ إِذًا يَحْطِمَكُمْ النَّاسُ فَيَمْنَعُوْنَكُمْ النَّوْمَ سَائِرَ اللَّيْلَةِ حَتَّى إِذَا صَلَّى رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلَاةَ الْفَجْرِ آذَنَ بِتَوْبَةِ اللهِ عَلَيْنَا وَكَانَ إِذَا اسْتَبْشَرَ اسْتَنَارَ وَجْهُهُ حَتَّى كَأَنَّهُ قِطْعَةٌ مِنَ الْقَمَرِ وَكُنَّا أَيُّهَا الثَلَاثَةُ الَّذِيْنَ خُلِّفُوْا عَنِ الْأَمْرِ الَّذِيْ قُبِلَ مِنْ هَؤُلَاءِ الَّذِيْنَ اعْتَذَرُوْا حِيْنَ أَنْزَلَ اللهُ لَنَا التَّوْبَةَ فَلَمَّا ذُكِرَ الَّذِيْنَ كَذَبُوْا رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمُتَخَلِّفِيْنَ وَاعْتَذَرُوْا بِالْبَاطِلِ ذُكِرُوْا بِشَرِّ مَا ذُكِرَ بِهِ أَحَدٌ قَالَ اللهُ سُبْحَانَهُ {يَعْتَذِرُوْنَ إِلَيْكُمْ إِذَا رَجَعْتُمْ إِلَيْهِمْ طقُلْ لَّا تَعْتَذِرُوْا لَنْ نُّؤْمِنَ لَكُمْ قَدْ نَبَّأَنَا اللهُ مِنْ أَخْبَارِكُمْ طوَسَيَرَى اللهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُوْلُه”} الْآيَةَ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রহ.)
তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি আমার পিতা কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে শুনেছি, যে তিনজনের তাওবাহ কবূল হয়েছিল, তার মধ্যে তিনি একজন। তিনি বাদ্রের যুদ্ধ ও তাবূকের যুদ্ধ এ দু’টি ব্যতীত অন্য কোন যুদ্ধে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পশ্চাতে থাকেননি। কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাবূক যুদ্ধ হতে সূর্যোদয়ের সময় মদিনায় ফিরে আসলে আমি (মিথ্যার পরিবর্তে) সত্য প্রকাশের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করলাম। তিনি [রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] যে কোন সফর হতে সাধারণত সূর্যোদয়ের সময় ফিরে আসতেন এবং সর্বপ্রথম মাসজিদে গিয়ে দু’রাক‘আত নাফল সলাত আদায় করতেন। (তাবূকের যুদ্ধ থেকে এসে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার সঙ্গে এবং আমার সঙ্গীদের সঙ্গে কথা বলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন, অথচ আমাদের ব্যতীত অন্য যারা যুদ্ধে যাওয়া থেকে বিরত ছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলায় কোন প্রকার বাধা প্রদান করলেন না। সুতরাং লোকেরা আমাদের সঙ্গে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে লাগলেন। আমার কাছে সবচেয়ে বড় ব্যাপার ছিল যে, যদি এ অবস্থায় আমার মৃত্যু এসে যায়, আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার জানাযাহ্র সলাত আদায় না করেন, অথবা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাত হলে আমি মানুষের কাছে এই অবস্থায় থেকে যাব তারা কেউ আমার সঙ্গে কথাও বলবে না, আর আমার জানাযার সলাতও আদায় করবে না। এরপর (পঞ্চাশ দিন পর) আল্লাহ তা‘আলা আমার তওবা কবূল করে তাঁর [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর] প্রতি আয়াত অবতীর্ণ করেন। তখন রাতের শেষ-তৃতীয়াংশ বাকী ছিল। সে রাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর কাছে ছিলেন, উম্মু সালামাহ (রাঃ) আমার প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল ছিলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে উম্মু সালামাহ! কা‘বের তাওবাহ কবূল করা হয়েছে। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, তাকে সুসংবাদ দেয়ার জন্য কাউকে তার কাছে পাঠাব? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এখন খবর পেলে সব লোক এসে জমা হয়ে যাবে। তারা তোমাদের ঘুম নষ্ট করে দিবে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফাজ্রের সলাত আদায়ের পর আমাদের তওবা কবূল হওয়ার কথা ঘোষণা করে দিলেন। এ সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারা খুশীতে এমন চমকাচ্ছিল যেন চাঁদের টুকরা।যেসব মুনাফিক মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে [রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসন্তুষ্টি থেকে] রেহাই পেয়েছিল, তাদের চেয়ে তাওবাহ কবূলের ব্যাপারে আমরা তিনজন পিছনে পড়ে গিয়েছিলাম, এরপর আল্লাহ তা‘আলা আমাদের তওবা কবূল করে আয়াত অবতীর্ণ করেন।(তাবূকের যুদ্ধে) অনুপস্থিতদের মধ্যে যারা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে মিথ্যা কথা বলেছে এবং যারা মিথ্যা অজুহাত দেখিয়েছে তাদের জঘন্যভাবে নিন্দাবাদ করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, “তারা তোমাদের কাছে ওযর পেশ করবে যখন তোমরা তাদের কাছে ফিরে আসবে। আপনি বলে দিন ঃ তোমরা ওযর পেশ করো না, আমরা কখনও তোমাদের বিশ্বাস করব না; আল্লাহ তো আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন তোমাদের খবর; আর ভবিষ্যতেও আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য রাখবেন এবং তাঁর রসূলও” (সূরাহ বারাআত ৯/৯৪)। [২৭৫৭] (আ.প্র. ৪৩১৬, ই.ফা. ৪৩১৭)
৬৫/৯/২০.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথী হয়ে যাও। (সূরাহ বারাআত ৯/১১৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৭৮
হাদিস নং ৪৬৭৮
يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ وَكَانَ قَائِدَ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍ يُحَدِّثُ حِيْنَ تَخَلَّفَ عَنْ قِصَّةِ تَبُوْكَ فَوَاللهِ مَا أَعْلَمُ أَحَدًا أَبْلَاهُ اللهُ فِيْ صِدْقِ الْحَدِيْثِ أَحْسَنَ مِمَّا أَبْلَانِيْ مَا تَعَمَّدْتُ مُنْذُ ذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى يَوْمِيْ هَذَا كَذِبًا وَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رَسُوْلِهِ صلى الله عليه وسلم لَقَدْ تَابَ اللهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِيْنَ وَالأَنْصَارِ إِلَى قَوْلِهِ وَكُوْنُوْا مَعَ الصَّادِقِيْنَ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রহ.)
যিনি কা‘ব ইবনু মালিক (দৃষ্টিহীন হওয়ার পরে)-এর পথপ্রদর্শক হিসেবে ছিলেন। তিনি (‘আবদুল্লাহ) বলেন, আমি কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ)-কে, তাবূক যুদ্ধে যারা পশ্চাতে থেকে গিয়েছিলেন তাদের ঘটনা বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ্র কসম! হয়ত আল্লাহ (রসূলুল্লাহর কাছে) সত্য কথা প্রকাশের কারণে, অন্য কাউকে এত বড় সুন্দর পরীক্ষা করেননি যতটুকু আমাকে পরীক্ষা করেছেন।যখন আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে তাবূক যুদ্ধে না যাওয়ার সঠিক কারণ বর্ণনা করেছি তখন থেকে আজ পর্যন্ত মিথ্যা বলার ইচ্ছাও করিনি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এ আয়াতটি নাযিল করেন لَقَدْ تَابَ اللهُ.... وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ “আল্লাহ অনুগ্রহপরায়ণ হলেন নাবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি ........... এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।” (সূরাহ বারাআত ৯/১১৭-১১৯) (আ.প্র. ৪৩১৭, ই.ফা. ৪৩১৮)
৬৫/৯/২১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ তোমাদের কাছে এসেছেন তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রসূল। তার পক্ষে অতি দুঃসহ-দুর্বহ সেসব বিষয় যা তোমাদেরকে বিপন্ন করে, তিনি তোমাদের প্রতি অতিশয় হিতকামী, মু‘মিনদের প্রতি বড়ই স্নেহশীল, খুবই দয়ালু। (সূরাহ বারাআত ৯/১২৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৭৯
হাদিস নং ৪৬৭৯
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ السَّبَّاقِ أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيَّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ وَكَانَ مِمَّنْ يَكْتُبُ الْوَحْيَ قَالَ أَرْسَلَ إِلَيَّ أَبُوْ بَكْرٍ مَقْتَلَ أَهْلِ الْيَمَامَةِ وَعِنْدَهُ عُمَرُ فَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ إِنَّ عُمَرَ أَتَانِيْ فَقَالَ إِنَّ الْقَتْلَ قَدْ اسْتَحَرَّ يَوْمَ الْيَمَامَةِ بِالنَّاسِ وَإِنِّيْ أَخْشَى أَنْ يَسْتَحِرَّ الْقَتْلُ بِالْقُرَّاءِ فِي الْمَوَاطِنِ فَيَذْهَبَ كَثِيْرٌ مِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا أَنْ تَجْمَعُوْهُ وَإِنِّيْ لَأَرَى أَنْ تَجْمَعَ الْقُرْآنَ قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ قُلْتُ لِعُمَرَ كَيْفَ أَفْعَلُ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عُمَرُ هُوَ وَاللهِ خَيْرٌ فَلَمْ يَزَلْ عُمَرُ يُرَاجِعُنِيْ فِيْهِ حَتَّى شَرَحَ اللهُ لِذَلِكَ صَدْرِيْ وَرَأَيْتُ الَّذِيْ رَأَى عُمَرُ قَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَعُمَرُ عِنْدَهُ جَالِسٌ لَا يَتَكَلَّمُ.فَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ إِنَّكَ رَجُلٌ شَابٌّ عَاقِلٌ وَلَا نَتَّهِمُكَ كُنْتَ تَكْتُبُ الْوَحْيَ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَتَتَبَّعُ الْقُرْآنَ فَاجْمَعْهُ فَوَاللهِ لَوْ كَلَّفَنِيْ نَقْلَ جَبَلٍ مِنَ الْجِبَالِ مَا كَانَ أَثْقَلَ عَلَيَّ مِمَّا أَمَرَنِيْ بِهِ مِنْ جَمْعِ الْقُرْآنِ قُلْتُ كَيْفَ تَفْعَلَانِ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ هُوَ وَاللهِ خَيْرٌ فَلَمْ أَزَلْ أُرَاجِعُهُ حَتَّى شَرَحَ اللهُ صَدْرِيْ لِلَّذِيْ شَرَحَ اللهُ لَهُ صَدْرَ أَبِيْ بَكْرٍ وَعُمَرَ فَقُمْتُ فَتَتَبَّعْتُ الْقُرْآنَ أَجْمَعُهُ مِنْ الرِّقَاعِ وَالأَكْتَافِ وَالْعُسُبِ وَصُدُوْرِ الرِّجَالِ حَتَّى وَجَدْتُ مِنْ سُوْرَةِ التَّوْبَةِ آيَتَيْنِ مَعَ خُزَيْمَةَ الْأَنْصَارِيِّ لَمْ أَجِدْهُمَا مَعَ أَحَدٍ غَيْرِهِ {لَقَدْ جَآءَكُمْ رَسُوْلٌ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيْزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيْصٌ} إِلَى آخِرِهِمَا وَكَانَتْ الصُّحُفُ الَّتِيْ جُمِعَ فِيْهَا الْقُرْآنُ عِنْدَ أَبِيْ بَكْرٍ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللهُ ثُمَّ عِنْدَ عُمَرَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللهُ ثُمَّ عِنْدَ حَفْصَةَ بِنْتِ عُمَرَ تَابَعَهُ عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ وَاللَّيْثُ عَنْ يُوْنُسَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِيْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَالِدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ وَقَالَ مَعَ أَبِيْ خُزَيْمَةَ الْأَنْصَارِيِّ وَقَالَ مُوْسَى عَنْ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ مَعَ أَبِيْ خُزَيْمَةَ وَتَابَعَهُ يَعْقُوْبُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ أَبِيْهِ وَقَالَ أَبُوْ ثَابِتٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ وَقَالَ مَعَ خُزَيْمَةَ أَوْ أَبِيْ خُزَيْمَةَ.
বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)
যিনি ওয়াহী লেখকদের মধ্যে একজন ছিলেন, তিনি বলেন, আবূ বাক্র (রাঃ) (তার খিলাফাতের সময়) এক ব্যক্তিকে আমার কাছে ইয়ামামার যুদ্ধক্ষেত্রে প্রেরণ করলেন। (আমি তার কাছে চলে আসলাম) তখন তার কাছে ‘উমার (রাঃ) বসা ছিলেন। তিনি [আবূ বাক্র (রাঃ) আমাকে] বললেন, ‘উমার (রাঃ) আমার কাছে এসে বললেন যে, ইয়ামামার যুদ্ধ তীব্র গতিতে চলছে, আমার ভয় হচ্ছে, কুরআনের অভিজ্ঞগণ (হাফিযগণ) ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হয়ে যান নাকি! যদি আপনারা তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করেন তবে কুরআনের অনেক অংশ চলে যেতে পারে এবং কুরআনকে একত্রিত সংরক্ষণ করা ভাল মনে করি। আবূ বাক্র (রাঃ) বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বললাম, আমি এ কাজ কীভাবে করতে পারি, যা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করে যাননি। কিন্তু ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র কসম! এটা কল্যাণকর। ‘উমার (রাঃ) তাঁর এ কথার পুনরুক্তি করতে থাকেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা এ কাজ করার জন্য আমার অন্তর খুলে দিলেন এবং আমিও ‘উমার (রাঃ)-এর মতোই মতামত পেশ করলাম। যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ) সেখানে নীরবে বসা ছিলেন, কোন কথা বলছিলেন না। এরপর আবূ বাক্র (রাঃ) আমাকে বললেন, দেখ, তুমি যুবক এবং জ্ঞানী ব্যক্তি। আমরা তোমার প্রতি কোনরূপ খারাপ ধারণা রাখি না। কেননা, তুমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সময়ে ওয়াহী লিপিবদ্ধ করতে। সুতরাং তুমি কুরআনের আয়াত সংগ্রহ করে একত্রিত কর। আল্লাহ্র কসম! তিনি কুরআন একত্রিত করার যে নির্দেশ আমাকে দিলেন সেটি আমার কাছে এত ভারী মনে হল যে, তিনি যদি কোন একটি পর্বত স্থানান্তর করার আদেশ দিতেন তাও আমার কাছে এমন ভারী মনে হত না। আমি বললাম, যে কাজটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করে যাননি, সে কাজটি আপনারা কীভাবে করবেন? তখন আবূ বাক্র (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র কসম! এটাই কল্যাণকর। এরপর আমিও আমার কথার উপর বারবার জোর দিতে লাগলাম। শেষে আল্লাহ যেটা বুঝার জন্য আবূ বাক্র (রাঃ) ও ‘উমার (রাঃ)-এর অন্তর খুলে দিয়েছিলেন, আমার অন্তরকেও তা বুঝার জন্য খুলে দিলেন। এরপর আমি কুরআন সংগ্রহে লেগে গেলাম এবং হাড়, চামড়া, খেজুর ডাল ও বাকল এবং মানুষের স্মৃতি থেকে তা সংগ্রহ করলাম। অবশেষে খুযাইমাহ আনসারীর কাছে সূরায়ে তাওবার দু’টি আয়াত পেয়ে গেলাম, যা অন্য কারও নিকট হতে সংগ্রহ করতে পারিনি। لَقَدْ جَاءَكُمْ থেকে শেষ পর্যন্ত।এরপর এ একত্রিত কুরআন আবূ বাক্র (রাঃ)-এর ওফাত পর্যন্ত তাঁর কাছেই জমা ছিল। তারপর ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে। তার ওফাত পর্যন্ত এটি তার কাছেই ছিল। তারপর ছিল হাফসাহ বিনত ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে। ‘উসমান এবং লাইস (রহ.) خُزَيْمَةَ শব্দের বর্ণনায় শু‘আয়ব-এর অনুসরণ করেছেন।অন্য এক সনদেও ইবনু শিহাব থেকে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তাতে খুযাইমার স্থলে আবূ খুযাইমাহ আনসারী বলা হয়েছে। মূসা-এর সনদে عَنْ ابْنِ شِهَابٍ এর স্থলে حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ এবং আবূ খুযাইমাহ বলা হয়েছে। ইয়াকূব ইবনু ইব্রাহীম এর অনুসরণ করেছেন।অন্য এক সনদে সাবিত (রহ.)-এর عَنْ إِبْرَاهِيمَ এর পরিবর্তে حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ বলেছেন এবং খুযাইমা অথবা আবূ খুযাইমা নিয়ে সন্দেহ আছে।আয়াতটির অর্থ হল ঃ “এতদসত্ত্বেও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে আপনি বলে দিন আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নেই। তাঁরই উপর আমি ভরসা করি এবং তিনি বিরাট আরশের অধিপতি” (সূরাহ বারাআত ৯/১২৯)। [২৮০৭] (আ.প্র. ৪৩১৮, ই.ফা. ৪৩১৯)
৬৫/১০/১.অধ্যায়ঃ
.
৬৫/১০/২.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৮০
হাদিস নং ৪৬৮০
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِيْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِيْنَةَ وَالْيَهُوْدُ تَصُوْمُ عَاشُوْرَاءَ فَقَالُوْا هَذَا يَوْمٌ ظَهَرَ فِيْهِ مُوْسَى عَلَى فِرْعَوْنَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِأَصْحَابِهِ أَنْتُمْ أَحَقُّ بِمُوْسَى مِنْهُمْ فَصُوْمُوْا.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাদীনাহ্তে এলেন, তখন ইয়াহূদীগণ আশুরার দিন সওম পালন করত। তারা জানাল, এ দিন মূসা (‘আ.) ফিরাউন-এর উপর বিজয় লাভ করেছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সহাবীদের বললেন, মূসা (‘আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে তাদের চেয়ে তোমরাই অধিক হাকদার। কাজেই তোমরা সওম পালন কর। [২০০৪] (আ.প্র. ৪৩১৯, ই.ফা. ৪৩২০)
৬৫/১১/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৮১
হাদিস নং ৪৬৮১
الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَبَّاحٍ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِيْ مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقْرَأُ{أَلَآ إِنَّهُمْ تَثْنَوْنِيْ صُدُوْرُهُمْ} قَالَ سَأَلْتُهُ عَنْهَا فَقَالَ أُنَاسٌ كَانُوْا يَسْتَحْيُوْنَ أَنْ يَتَخَلَّوْا فَيُفْضُوْا إِلَى السَّمَاءِ وَأَنْ يُجَامِعُوْا نِسَاءَهُمْ فَيُفْضُوْا إِلَى السَّمَاءِ فَنَزَلَ ذَلِكَ فِيْهِمْ
বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ ইবনু জা‘ফর (রাঃ)
তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে এমনিভাবে পড়তে শুনেছেন, أَلاَ إِنَّهُمْ تَثْنَوْنِي صُدُورُهُمْ মুহাম্মাদ ইবনু ‘আব্বাদ বলেন, আমি তাঁকে এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, কিছু লোক উন্মুক্ত আকাশের দিকে নগ্ন হওয়ার ভয়ে পেশাব-পায়খানা অথবা স্ত্রী সহবাস করতে লজ্জা করতে লাগল। তখন তাদের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল হয়। [৪৬৮২, ৪৬৮৩] (আ.প্র. ৪৩২০, ই.ফা. ৪৩২১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৮২
হাদিস নং ৪৬৮২
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ وَأَخْبَرَنِيْ مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ قَرَأَ {أَلَآ إِنَّهُمْ تَثْنَوْنِيْ صُدُوْرُهُمْ} قُلْتُ يَا أَبَا الْعَبَّاسِ مَا تَثْنَوْنِيْ صُدُوْرُهُمْ قَالَ كَانَ الرَّجُلُ يُجَامِعُ امْرَأَتَهُ فَيَسْتَحِيْ أَوْ يَتَخَلَّى فَيَسْتَحِيْ فَنَزَلَتْ {أَلَآ إِنَّهُمْ تَثْنَوْنِيْ صُدُوْرُهُمْ}.
বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু ‘আব্বাদ ইবনু জা‘ফর (রহ.)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) أَلاَ إِنَّهُمْ تَثْنَوْنِي صُدُورُهُمْ পাঠ করলেন। আমি বললাম, যে আবুল ‘আব্বাস تَثْنَوْنِي صُدُورُهُمْ দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে? তিনি বললেন, কতক লোক স্বীয় স্ত্রী সহবাসের সময় অথবা পেশাব-পায়খানার সময় (নগ্ন হতে) লজ্জাবোধ করত, তখন أَلاَ إِنَّهُمْ تَثْنَوْنِي صُدُورُهُمْ আয়াত নাযিল হয়। [৪৬৮১] (আ.প্র. ৪৩২১, ই.ফা. ৪৩২২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৮৩
হাদিস নং ৪৬৮৩
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَمْرٌو قَالَ قَرَأَ ابْنُ عَبَّاسٍ {أَلَآ إِنَّهُمْ يَثْنُوْنَ صُدُوْرَهُمْ لِيَسْتَخْفُوْا مِنْهُ أَلَا حِيْنَ يَسْتَغْشُوْنَ ثِيَابَهُمْ} و قَالَ غَيْرُهُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْتَغْشُوْنَ يُغَطُّوْنَ رُءُوْسَهُمْ {سِيْٓءَ بِهِمْ} سَاءَ ظَنُّهُ بِقَوْمِهِ وَضَاقَ بِهِمْ بِأَضْيَافِهِ {بِقِطْعٍ مِّنْ اللَّيْلِ} بِسَوَادٍ وَقَالَ مُجَاهِدٌ إِلَيْهِ {أُنِيْبُ} أَرْجِعُ.{سِجِّيْلٌ} الشَّدِيْدُ الكَبِيْرُ. سجِّيْلٌ وَسِجينٌ وَاللامُ وَالنُّوْنُ أُخْتانِ.وَرَجْلَةٍ يَضْرِبُوْنَ البِيْضَ ضَاحِيَةً ضَرْبًا تَوَاصَى بِهِ الْأبْطالُ سِجْينا{وَيَقُوْلُ الْأَشْهَادُ هٰؤُلَآءِ الَّذِيْنَ كَذَبُوْا عَلٰى رَبِّهِمْ أَلَا لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الظَّالِمِيْنَ} واحدُ الْأشْهادِ شاهِدٌ مِثْلُ صاحِبٍ وأصْحابٍ.
বর্ণনাকারী ‘আম্র (রাঃ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এ আয়াত এভাবে পাঠ করলেন, إِنَّهُمْ يَثْنُونَ صُدُورَهُمْ ..... حِينَ يَسْتَغْشُونَ ثِيَابَهُمْ আমর ব্যতীত অন্যরা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন يَسْتَغْشُونَ তারা তাদের মস্তক আবৃত করত। سِيءَ بِهِمْতাঁর সম্প্রদায় সম্পর্কে খারাপ ধারণা রাখত এবং وَضَاقَ অর্থাৎ নিজ অতিথিকে দেখে শঙ্কিত হলেন। بِقِطْعٍ مِنْ اللَّيْلِরাতের আঁধারে। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, أُنِيبُআমি তাঁরই অভিমুখী। [৪৬৮১] (আ.প্র. ৪৩২২, ই.ফা. ৪৩২৩)
৬৫/১১/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ এবং তাঁর ‘আরশ ছিল পানির ওপরে। (সূরাহ হূদ ১১/৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৮৪
হাদিস নং ৪৬৮৪
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْفِقْ أُنْفِقْ عَلَيْكَ وَقَالَ يَدُ اللهِ مَلْأَى لَا تَغِيْضُهَا نَفَقَةٌ سَحَّاءُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَقَالَ أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْفَقَ مُنْذُ خَلَقَ السَّمَاءَ وَالأَرْضَ فَإِنَّهُ لَمْ يَغِضْ مَا فِيْ يَدِهِ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ وَبِيَدِهِ الْمِيْزَانُ يَخْفِضُ وَيَرْفَعُ {اعْتَرَاكَ} افْتَعَلَكَ مِنْ عَرَوْتُهُ أَيْ أَصَبْتُهُ وَمِنْهُ يَعْرُوْهُ وَاعْتَرَانِيْ {اٰخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا} أَيْ فِيْ مِلْكِهِ وَسُلْطَانِهِ عَنِيْدٌ وَعَنُوْدٌ وَعَانِدٌ وَاحِدٌ هُوَ تَأْكِيْدُ التَّجَبُّرِ اسْتَعْمَرَكُمْ جَعَلَكُمْ عُمَّارًا أَعْمَرْتُهُ الدَّارَ فَهِيَ عُمْرَى جَعَلْتُهَا لَهُ نَكِرَهُمْ وَأَنْكَرَهُمْ وَاسْتَنْكَرَهُمْ وَاحِدٌ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ كَأَنَّهُ فَعِيْلٌ مِنْ مَاجِدٍ مَحْمُوْدٌ مِنْ حَمِدَ سِجِّيْلٌ الشَّدِيْدُ الْكَبِيْرُ سِجِّيْلٌ وَسِجِّيْنٌ وَاللَّامُ وَالنُّوْنُ أُخْتَانِ وَقَالَ تَمِيْمُ بْنُ مُقْبِلٍ وَرَجْلَةٍ يَضْرِبُوْنَ الْبَيْضَ ضَاحِيَةً ضَرْبًا تَوَاصَى بِهِ الْأَبْطَالُ سِجِّيْنَا.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তুমি খরচ কর। আমি তোমার উপর খরচ করব এবং [রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] বললেন, আল্লাহ তা‘আলার হাত পরিপূর্ণ। রাতদিন অনবরত খরচেও তা কমবে না। তিনি বলেন, তোমরা কি দেখ না, যখন থেকে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকে কী পরিমাণ খরচ করেছেন? কিন্তু এত খরচ করার পরও তাঁর হাতের সম্পদ কমে যায়নি। আর আল্লাহ তা‘আলার ‘আরশ পানির উপর ছিল। তাঁর হাতেই রয়েছে দাঁড়িপাল্লা। তিনি নিচু করেন, তিনি উপরে তোলেন। اعْتَرَاكَ افْتَعَلَتَ-এর বাব থেকে। عَرَوْتُهُ-এ অর্থে বলা হয়, তাকে পেয়েছি। তা থেকে يَعْرُوهُ (তার উপর ঘটেছে) ও اعْتَرَانِي (আমার উপর ঘটেছে) ব্যবহার হয়। آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا অর্থাৎ তাঁর রাজত্ব এবং عَنِيدٌ-عَنُودٌ-عَانِدٌ সবগুলোর একই অর্থ স্বেচ্ছাচারী।ওটি দাম্ভিকতা অর্থের প্রতি জোর দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। اسْتَعْمَرَكُمْতোমাদের বসতি দান করলেন। আরবগণ বলত أَعْمَرْتُهُ الدَّارَ فَهِيَ عُمْرَىআমি এ ঘর তাকে জীবন ধারণের জন্য দিলাম। نَكِرَهُمْ وَأَنْكَرَهُمْ এবং اسْتَنْكَرَهُمْ সবগুলো একই অর্থে ব্যবহৃত। فَعِيلٌ-مَجِبْدٌ-حَمِيدٌ-مَجِيدٌ-এর ওযনে مَاجِدٌ (মর্যাদা সম্পন্ন) থেকে حَمِيدٌ (প্রশংসিত) এর অর্থে مَحْمُوْدٌ থেকে سِجِّيلٌঅতি কঠিন বা শক্ত। سِجِّيلٌ এবং سِجِّينٌ উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়। لاَمُ এবং نُوْنٌ যেন দুই বোন। তামীম ইবনু মুকবেল বলেন, “বহু পদাতিক বাহিনী মধ্যাহ্নে স্কন্ধে শুভ্র ধারালো তলোয়ার দ্বারা আঘাত হানে। কঠিন প্রস্তর দ্বারা তার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বিপক্ষের বীর পুরুষগণ পরস্পরকে ওসীয়ত করে থাকে।” [৫৩৫২, ৭৪১১, ৭৪১৯, ৭৪৯৬] (আ.প্র. ৪৩২৩, ই.ফা. ৪৩২৪)
৬৫/১১/৩.অধ্যায়ঃ
মহান আল্লাহর বাণীঃ মাদইয়ানবাসীদের কাছে তাদের ভ্রাতা শু‘আয়ব (আঃ)-কে পাঠালাম। (সূরা হূদ ১১/৮৪)
৬৫/১১/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৮৫
হাদিস নং ৪৬৮৫
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا سَعِيْدٌ وَهِشَامٌ قَالَا حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ قَالَ بَيْنَا ابْنُ عُمَرَ يَطُوْفُ إِذْ عَرَضَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَوْ قَالَ يَا ابْنَ عُمَرَ سَمِعْتَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي النَّجْوَى فَقَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ يُدْنَى الْمُؤْمِنُ مِنْ رَبِّهِ وَقَالَ هِشَامٌ يَدْنُو الْمُؤْمِنُ حَتَّى يَضَعَ عَلَيْهِ كَنَفَهُ فَيُقَرِّرُهُ بِذُنُوْبِهِ تَعْرِفُ ذَنْبَ كَذَا يَقُوْلُ أَعْرِفُ يَقُوْلُ رَبِّ أَعْرِفُ مَرَّتَيْنِ فَيَقُوْلُ سَتَرْتُهَا فِي الدُّنْيَا وَأَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ ثُمَّ تُطْوَى صَحِيْفَةُ حَسَنَاتِهِ وَأَمَّا الآخَرُوْنَ أَوِ الْكُفَّارُ فَيُنَادَى عَلَى رُءُوْسِ الْأَشْهَادِ هَؤُلَاءِ الَّذِيْنَ كَذَبُوْا عَلَى رَبِّهِمْ أَلَا لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الظَّالِمِيْنَ وَقَالَ شَيْبَانُ عَنْ قَتَادَةَ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ
বর্ণনাকারী সফওয়ান ইবনু মুহ্রিয (রহ.)
তিনি বলেন, একদা ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাওয়াফ করছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি তার সম্মুখে এসে বলল, হে আবূ ‘আবদুর রহমান অথবা বলল, হে ইবনু ‘উমার (রাঃ)! আপনি কি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে (ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা‘আলা এবং মু’মিনদের মধ্যকার) গোপন আলোচনা সম্পর্কে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, (ক্বিয়ামাতের দিন) মু’মিনকে তাঁর নৈকট্য দান করা হবে। হিশাম বলেন, মু’মিন নিকটবর্তী হবে, এমনকি আল্লাহ তা‘আলা তাকে স্বীয় পর্দায় ঢেকে নেবেন এবং তার নিকট হতে তার গুনাহসমূহের স্বীকারোক্তি নেবেন। (আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন) অমুক গুনাহ সম্পর্কে তুমি জান কি? বান্দা বলবে, হে আমার রব! আমি জানি, আমি জানি। এভাবে দু’বার বলবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, আমি দুনিয়ায় তোমার পাপ গোপন রেখেছিলাম। আর আজ তোমার সে পাপ ক্ষমা করে দিচ্ছি। তারপর তার নেক ‘আমালনামা গুটিয়ে নেয়া হবে।আর অন্যদলকে অথবা (রাবী বলেছেন) কাফিরদের সকলের সামনে ডেকে বলা হবে, এরাই সে লোক যারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল এবং শায়বান حَدَّثَنَا قَتَادَةُ-এর পরিবর্তে قَتَادَةُ عَنْ এবং عَنْ صَفْوَانُ -এর পরিবর্তে حَدَّثَنَا صَفْوَانُ বর্ণনা করেছেন। [২৪৪১] (আ.প্র. ৪৩২৪, ই.ফা. ৪৩২৫)
৬৫/১১/৫
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ আর এরূপই বটে আপনার রবের পাকড়াও, যখন তিনি কোন জনপদবাসীকে পাকড়াও করেন তাদের যুলমর দরুন। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও বড় যন্ত্রণাদায়ক, অত্যন্ত কঠিন। (সূরাহ হূদ ১১/১০২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৮৬
হাদিস নং ৪৬৮৬
صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ أَخْبَرَنَا أَبُوْ مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا بُرَيْدُ بْنُ أَبِيْ بُرْدَةَ عَنْ أَبِيْ بُرْدَةَ عَنْ أَبِيْ مُوْسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللهَ لَيُمْلِيْ لِلظَّالِمِ حَتَّى إِذَا أَخَذَهُ لَمْ يُفْلِتْهُ قَالَ ثُمَّ قَرَأَ {وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيْمٌ شَدِيْدٌ}.
বর্ণনাকারী আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা যালিমদের ঢিল দিয়ে থাকেন। অবশেষে যখন তাকে ধরেন, তখন আর ছাড়েন না। (বর্ণনাকারী বলেন) এরপর তিনি [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] এ আয়াত পাঠ করেন “আর এরকমই বটে আপনার রবের পাকড়াও, যখন তিনি কোন জনপদবাসীকে পাকড়াও করেন তাদের যুল্মের দরুন। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও বড় যন্ত্রণাদায়ক, অত্যন্ত কঠিন” (সূরাহ হূদ ১১/১০২)। (আ.প্র. ৪৩২৫, ই.ফা. ৪৩২৬)
৬৫/১১/৬.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ {وَأَقِمْ الصَّلَاةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِيْنَ}
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৮৭
হাদিস নং ৪৬৮৭
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ هُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ عَنْ أَبِيْ عُثْمَانَ عَنْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلًا أَصَابَ مِنْ امْرَأَةٍ قُبْلَةً فَأَتَى رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَأُنْزِلَتْ عَلَيْهِ {وَأَقِمْ الصَّلَاةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِيْنَ}قَالَ الرَّجُلُ أَلِيَ هَذِهِ قَالَ لِمَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ أُمَّتِي.
বর্ণনাকারী ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)
তিনি বলেন, একবার এক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুমু দিলেন। তারপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে এ ঘটনা বললেন, তখন (এ ঘটনা উপলক্ষে) এ আয়াত নাযিল হয়। وَأَقِمْ الصَّلاَةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ“সলাত কায়িম করবে দিনের দু’ প্রান্তে এবং রাতের প্রথমভাগে । পুণ্য অবশ্যই মুছে ফেলে বদ কাজ। যারা নাসীহাত গ্রহণ করে তাদের জন্য এটি এক নাসীহাত” (সূরাহ হূদ ১১/১১৪)। তখন সে লোকটি বলল, এ নির্দেশ কি কেবল আমার জন্য? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমার উম্মাতের যেই এর ‘আমাল করবে তার জন্য। [৫২৬] (আ.প্র. ৪৩২৬, ই.ফা. ৪৩২৭)
[১] দিবসের প্রথমভাগে ফাজ্র সলাত, দ্বিতীয়ভাগে যুহ্র ও ‘আসরের সলাত এবং রাতের প্রথমভাগে মাগরিব ও ‘ইশার সলাত।
৬৫/১২/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৮৮
হাদিস নং ৪৬৮৮
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِيْنَارٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْكَرِيْمُ ابْنُ الْكَرِيْمِ ابْنِ الْكَرِيْمِ ابْنِ الْكَرِيْمِ يُوْسُفُ بْنُ يَعْقُوْبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيْمَ
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমার (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ সম্মানিত ব্যক্তির পুত্র সম্মানিত এবং তাঁর পিতাও সম্মানিত ব্যক্তির পুত্র সম্মানিত। তিনি হলেন ইউসুফ (‘আ.) যাঁর পিতা ইয়াকুব (‘আ.), যাঁর পিতা ইসহাক (‘আ.) যাঁর পিতা ইব্রাহীম (‘আ.)। [৩৩৮২] (আ.প্র. ৪৩২৭, ই.ফা. ৮ম/৪৩২৭)
৬৫/১২/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ইউসুফ ও তার ভাইদের কাহিনীতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে জিজ্ঞাসুদের জন্য। (সূরাহ ইউসুফ ১২/৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৮৯
হাদিস নং ৪৬৮৯
مُحَمَّدٌ أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ أَبِيْ سَعِيْدٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّ النَّاسِ أَكْرَمُ قَالَ أَكْرَمُهُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقَاهُمْ قَالُوْا لَيْسَ عَنْ هَذَا نَسْأَلُكَ قَالَ فَأَكْرَمُ النَّاسِ يُوْسُفُ نَبِيُّ اللهِ ابْنُ نَبِيِّ اللهِ ابْنِ نَبِيِّ اللهِ ابْنِ خَلِيْلِ اللهِ قَالُوْا لَيْسَ عَنْ هَذَا نَسْأَلُكَ قَالَ فَعَنْ مَعَادِنِ الْعَرَبِ تَسْأَلُوْنِيْ قَالُوْا نَعَمْ قَالَ فَخِيَارُكُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ خِيَارُكُمْ فِي الإِسْلَامِ إِذَا فَقِهُوْا تَابَعَهُ أَبُوْ أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন্ ব্যক্তি বেশি সম্মানিত? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে সে-ই আল্লাহ্র নিকট অধিক সম্মানিত, যে তাদের মধ্যে সবচাইতে অধিক আল্লাহ্ভীরু। লোকেরা বলল, আমরা এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন, সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি হলেন আল্লাহ্র নাবী ইউসুফ (‘আ.)। তিনি নাবীর পুত্র, (তাঁর পিতাও) নাবীর পুত্র এবং (তাঁর পিতার পিতা) খালীলুল্লাহ্ (‘আ.)-এর পুত্র। লোকেরা বলল, আপনাকে আমরা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করিনি। তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা আরব বংশ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করেছ। তারা বলল, হ্যাঁ।রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যারা জাহিলিয়্যাতে তোমাদের মাঝে উত্তম ছিল, ইসলামেও তারা উত্তম যদি তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানের অধিকারী হয়। আবূ উসামাহ (রাঃ) ‘উবাইদুল্লাহ্র সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন। [৩৩৫৩] (আ.প্র. ৪৩২৮, ই.ফা. ৪৩২৮)
৬৫/১২/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ (না, ইউসুফকে বাঘে খায়নি) বরং তোমরা নিজেদের মন থেকে একটি কাহিনী সাজিয়ে নিয়েছ। ধৈর্য ধারণ করাই উত্তম।’’ (সূরাহ ইউসুফ ১২/১৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৯০
হাদিস নং ৪৬৯০
عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ صَالِحٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ ح و حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ النُّمَيْرِيُّ حَدَّثَنَا يُوْنُسُ بْنُ يَزِيْدَ الْأَيْلِيُّ قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ سَمِعْتُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ وَسَعِيْدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَعَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ وَعُبَيْدَ اللهِ بْنَ عَبْدِ اللهِ عَنْ حَدِيْثِ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِيْنَ قَالَ لَهَا أَهْلُ الإِفْكِ مَا قَالُوْا فَبَرَّأَهَا اللهُ كُلٌّ حَدَّثَنِيْ طَائِفَةً مِنَ الْحَدِيْثِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنْ كُنْتِ بَرِيئَةً فَسَيُبَرِّئُكِ اللهُ وَإِنْ كُنْتِ أَلْمَمْتِ بِذَنْبٍ فَاسْتَغْفِرِي اللهَ وَتُوْبِيْ إِلَيْهِ قُلْتُ إِنِّيْ وَاللهِ لَا أَجِدُ مَثَلًا إِلَّا أَبَا يُوْسُفَ فَصَبْرٌ جَمِيْلٌ وَاللهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُوْنَ وَأَنْزَلَ اللهُ {إِنَّ الَّذِيْنَ جَاءُوْا بِالإِفْكِ عُصْبَةٌ مِنْكُمْ} الْعَشْرَ الْآيَاتِ
বর্ণনাকারী যুহ্রী (রহ.)
‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র, সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব, ‘আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস এবং ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) “ইফ্ক সম্পর্কে أَهْلُ الإِفْكِ যা বলেছেন, তা শুনেছি। অতঃপর আল্লাহ তাকে সবকিছু থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। (বর্ণনাকারীদের) একদল থেকে আমি হাদীসটির কিছু অংশ শুনেছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) [‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে] বললেন, যদি তুমি নির্দোষ হয়ে থাক তবে অতিশীঘ্র আল্লাহ্ তোমার নির্দোষিতা প্রকাশ করে দিবেন; আর যদি তোমার দ্বারা এ গুনাহ্ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাওবাহ কর। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র কসম! এ সময় আমি ইউসুফ (‘আ.)-এর পিতা [ইয়াকুব (‘আ.)]-এর উদাহরণ ব্যতীত আর কিছুই জবাব দেয়ার মতো খুঁজে পাচ্ছি না। (আমিও তাঁর মত বলছি) ঃ সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই আমার সাহায্যস্থল। অবশেষে আল্লাহ্ তা‘আলা (আমার নির্দোষিতা ঘোষণা করে) إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالإِفْكِ সহ দশটি আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। [২৫৯৩] (আ.প্র. ৪৩২৯, ই.ফা. ৪৩২৯)
[১] রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনা সম্পর্কিত।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৯১
হাদিস নং ৪৬৯১
مُوْسَى حَدَّثَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَسْرُوْقُ بْنُ الْأَجْدَعِ قَالَ حَدَّثَتْنِيْ أُمُّ رُوْمَانَ وَهْيَ أُمُّ عَائِشَةَ قَالَتْ بَيْنَا أَنَا وَعَائِشَةُ أَخَذَتْهَا الْحُمَّى فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَعَلَّ فِيْ حَدِيْثٍ تُحُدِّثَ قَالَتْ نَعَمْ وَقَعَدَتْ عَائِشَةُ قَالَتْ مَثَلِيْ وَمَثَلُكُمْ كَيَعْقُوْبَ وَبَنِيْهِ {بَلْ سَوَّلَتْ لَكُمْ أَنْفُسُكُمْ أَمْرًا طفَصَبْرٌ جَمِيْلٌ طوَاللهُ الْمُسْتَعَانُ عَلٰى مَا تَصِفُوْنَ}.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মাতা উম্মু রূমান (রাঃ)
তিনি বলেন, (অপবাদ রটনার সময়) ‘আয়িশাহ (রাঃ) আমাদের ঘরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সম্ভবত এ অপবাদের কারণে জ্বর হয়েছে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তিনি উঠে বসলেন এবং বললেন, আমার এবং আপনাদের দৃষ্টান্ত হল ইয়াকুব (‘আ.) এবং তাঁর পুত্র ইউসুফ (‘আ.)-এর ন্যায়। [ইয়াকুব (‘আ.) তাঁর ছেলেদেরকে বললেন] বরং তোমরা এক মনগড়া কাহিনী সাজিয়ে নিয়ে এসেছ কাজেই “ধৈর্যই শ্রেয়। তোমরা যা বলছ, সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই আমার সাহায্যস্থল।” [৩৩৮৮] (আ.প্র. ৪৩৩০, ইা.ফা. ৪৩৩০)
৬৫/১২/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ الَّتِيْ هُوَ فِيْ بَيْتِهَا عَنْ نَّفْسِهٰ وَغَلَّقَتِ الْأَبْوَابَ وَقَالَتْ هَيْتَ لَكَ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৯২
হাদিস নং ৪৬৯২
أَحْمَدُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ هَيْتَ لَكَ قَالَ وَإِنَّمَا نَقْرَؤُهَا كَمَا عُلِّمْنَاهَا {مَثْوَاهُ} مُقَامُهُ {وَأَلْفَيَا} وَجَدَا أَلْفَوْا آبَاءَهُمْ أَلْفَيْنَا وَعَنْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ {بَلْ عَجِبْتُ وَيَسْخَرُوْنَ}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস‘ঊদ (রাঃ)
তিনি বলেন, هَيْتَ لَكَ আমরা সেভাবেই পড়তাম, যেভাবে আমাদের শিখানো হয়েছে। مَثْوَاهُ স্থান এবং أَلْفَيَا তারা দু’জনে পেল। এ থেকে أَلْفَوْا آبَاءَهُمْ হয়েছে। এমনিভাবে ইব্নু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে بَلْ عَجِبْتُ وَيَسْخَرُونَ এর মধ্যে ت-কে পেশযুক্ত করে বর্ণনা করা হয়েছে। (তিনি এভাবে পড়তেন)। (আ.প্র. ৪৩৩১, ই.ফা. ৪৩৩১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৯৩
হাদিস নং ৪৬৯৩
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ قُرَيْشًا لَمَّا أَبْطَئُوْا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالإِسْلَامِ قَالَ اللهُمَّ اكْفِنِيْهِمْ بِسَبْعٍ كَسَبْعِ يُوْسُفَ فَأَصَابَتْهُمْ سَنَةٌ حَصَّتْ كُلَّ شَيْءٍ حَتَّى أَكَلُوا الْعِظَامَ حَتَّى جَعَلَ الرَّجُلُ يَنْظُرُ إِلَى السَّمَاءِ فَيَرَى بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا مِثْلَ الدُّخَانِ قَالَ اللهُ {فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ} قَالَ اللهُ {إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيْلًا إِنَّكُمْ عَائِدُوْنَ} أَفَيُكْشَفُ عَنْهُمْ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَقَدْ مَضَى الدُّخَانُ وَمَضَتْ الْبَطْشَةُ
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্
যখন কুরাইশগণ রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইসলামের দা’ওয়াত অস্বীকার করল, তখন তিনি আল্লাহ্র দরবারে আরয করলেন, হে আল্লাহ্! যেমনিভাবে আপনি ইউসুফ (‘আ.)-এর সময় সাত বছর ধরে দুর্ভিক্ষ দিয়েছিলেন, তেমনিভাবে ওদের ওপর দুর্ভিক্ষ অবতীর্ণ করুন। তারপর কুরাইশগণ এক বছর পর্যন্ত এমন দুর্ভিক্ষের মধ্যে আপতিত হল যে, সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেল; এমনকি তারা হাড় পর্যন্ত খেতে শুরু করল; যখন কোন ব্যক্তি আকাশের দিকে নজর করত, তখন আকাশ ও তার মধ্যে শুধু ধোঁয়া দেখত।আল্লাহ্ বলেন, فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ “সেদিনের অপেক্ষায় থাক, যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে।” (সূরাহ দুখান ৪৪/১০)আল্লাহ্ আরও বলেন ঃ إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيلاً إِنَّكُمْ عَائِدُونَ “আমি শাস্তি কিছুটা সরিয়ে নিব, যেন তোমরা (পূর্বাবস্থায়) ফিরে আস” (সূরাহ দুখান ৪৪/১৫)। ক্বিয়ামাতের দিন তাদের থেকে আযাব দূর করা হবে কি? এবং دُخَانُ ও بَطْشَةُ এর ব্যাখ্যা আগে বলা হয়েছে। [১০০৭] (আ.প্র. ৪৩৩২, ই.ফা. ৪৩৩২)
৬৫/১২/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ {فَلَمَّا جَآءَهُ الرَّسُوْلُ قَالَ ارْجِعْ إِلٰى رَبِّكَ فاسْأَلْهُ مَا بَالُ النِّسْوَةِ الّٰتِيْ قَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ طإِنَّ رَبِّيْ بِكَيْدِهِنَّ عَلِيْمٌ قَالَ مَا خَطْبُكُنَّ إِذْ رَاوَدْتُّنَّ يُوْسُفَ عَنْ نَّفْسِهٰطقُلْنَ حَاشَ لِلهِ}
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৯৪
হাদিস নং ৪৬৯৪
سَعِيْدُ بْنُ تَلِيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ عَنْ بَكْرِ بْنِ مُضَرَ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ يُوْنُسَ بْنِ يَزِيْدَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِيْ سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَرْحَمُ اللهُ لُوْطًا لَقَدْ كَانَ يَأْوِيْ إِلَى رُكْنٍ شَدِيْدٍ وَلَوْ لَبِثْتُ فِي السِّجْنِ مَا لَبِثَ يُوْسُفُ لَأَجَبْتُ الدَّاعِيَ وَنَحْنُ أَحَقُّ مِنْ إِبْرَاهِيْمَ إِذْ قَالَ لَهُ {أَوَلَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلٰى وَلٰكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِيْ}.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা লূত (‘আ.)-এর উপর রহম করুন। তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের চরম শত্র“তায় বাধ্য হয়ে, নিজের নিরাপত্তার জন্য শক্ত খুঁটি অর্থাৎ আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। যতদিন পর্যন্ত ইউসুফ (‘আ.) (বন্দীখানায়) ছিলেন, আমি যদি এভাবে বন্দীখানায় থাকতাম, তবে মুক্তি পাবার ডাকে অবশ্যই সাড়া দিতাম । আমরা (সন্দেহভঞ্জন করার ব্যাপারে) ইব্রাহীম (‘আ.)-এর চেয়েও আগে বেড়ে যেতাম যখন আল্লাহ্ তাঁকে বললেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না? জবাবে তিনি বললেন, হাঁ। তবে আমার মনের প্রশান্তির জন্য। [৩৩৭২] (আ.প্র. ৪৩৩৩, ই.ফা. ৪৩৩৩)
[১] মুক্তি পাওয়ার জন্য তৎক্ষণাৎ আহবানকারীর আহবানে সাড়া দিতাম। কিন্তু ইউসুফ (‘আ.) তাঁর নির্দোষিতা ঘোষিত হওয়ার পূর্বে জেল থেকে মুক্ত হতে চাননি। [2] এর দ্বারা রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বশ্রেষ্ঠ নাবীসুলভ বিনয়-নম্রতার প্রকাশ ঘটেছে।
৬৫/১২/৬.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ এমনকি যখন রসূলগণ নিরাশ হয়ে গেলেন। (সূরা ইউসুফ ১২/১১০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৯৫
হাদিস নং ৪৬৯৫
عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ صَالِحٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ لَهُ وَهُوَ يَسْأَلُهَا عَنْ قَوْلِ اللهِ تَعَالَى {حَتّٰىٓإِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ} قَالَ قُلْتُ أَكُذِبُوْا أَمْ كُذِّبُوْا قَالَتْ عَائِشَةُ كُذِّبُوْا قُلْتُ فَقَدْ اسْتَيْقَنُوْا أَنَّ قَوْمَهُمْ كَذَّبُوْهُمْ فَمَا هُوَ بِالظَّنِّ قَالَتْ أَجَلْ لَعَمْرِيْ لَقَدْ اسْتَيْقَنُوْا بِذَلِكَ فَقُلْتُ لَهَا وَظَنُّوْا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوْا قَالَتْ مَعَاذَ اللهِ لَمْ تَكُنْ الرُّسُلُ تَظُنُّ ذَلِكَ بِرَبِّهَا قُلْتُ فَمَا هَذِهِ الْآيَةُ قَالَتْ هُمْ أَتْبَاعُ الرُّسُلِ الَّذِيْنَ آمَنُوْا بِرَبِّهِمْ وَصَدَّقُوْهُمْ فَطَالَ عَلَيْهِمْ الْبَلَاءُ وَاسْتَأْخَرَ عَنْهُمْ النَّصْرُ حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ مِمَّنْ كَذَّبَهُمْ مِنْ قَوْمِهِمْ وَظَنَّتْ الرُّسُلُ أَنَّ أَتْبَاعَهُمْ قَدْ كَذَّبُوْهُمْ جَاءَهُمْ نَصْرُ اللهِ عِنْدَ ذَلِكَ.
বর্ণনাকারী ‘উরওয়াহ ইব্নু যুবায়র (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে আল্লাহ্ তা‘আলার বাণী ঃ حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, এ আয়াতে শব্দটা أَكُذِبُوا ‘না’ كُذِّبُوا ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, اَكُذِّبُوا আমি জিজ্ঞেস করলাম, যখন আম্বিয়ায়ে কিরাম পূর্ণ বিশ্বাস করে নিলেন, এখন তাদের সম্প্রদায় তাদের প্রতি মিথ্যারোপ করবে, তখন الظَّن ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, আমার জীবনের কসম! তারা পূর্ণ বিশ্বাস করেই নিয়েছিলেন। আমি তাঁকে বললাম ظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا অর্থ কী দাঁড়ায়? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, মা‘আযাল্লাহ! রসূলগণ কখনও আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা করতে পারেন না। আমি বললাম, তবে আযাতের অর্থ কী হবে? তিনি বললেন, তারা রসূলদের অনুসারী, যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছে এবং রসূলদের সত্য বলে স্বীকার করেছে, তারপর তাদের প্রতি দীর্ঘকাল ধরে (কাফেরদের) নির্যাতন চলেছে এবং আল্লাহ্র সাহায্য আসতেও অনেক দেরী হয়েছে, এমনকি যখন রসূলগণ তাঁদের সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে তাঁদের প্রতি মিথ্যারোপকারীদের ঈমান আনা সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছেন এবং রসূলদের এ ধারণা জন্মেছে যে, এখন তাঁদের অনুসারীরাও তাদের প্রতি মিথ্যারোপ করতে শুরু করবে, এমন সময় তাঁদের কাছে আল্লাহ্র সাহায্য এল। [৩৩৮৯] (আ.প্র. ৪৩৩৪, ই.ফা. ৪৩৩৪)
[১]كُذِّبُوْا তাশ্দীদসহ না তাশ্দীদ ব্যতীত।[2] তাঁরা ধারণা করলেন অথবা ভাবলেন।[3]আল্লাহর নিকট পরিত্রাণ চাই।[4] যারা ঈমান এনেছিল।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৯৬
হাদিস নং ৪৬৯৬
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ فَقُلْتُ لَعَلَّهَا كُذِبُوْا مُخَفَّفَةً قَالَتْ مَعَاذَ اللهِ نَحْوَهُ
বর্ণনাকারী ‘উরওয়াহ (রাঃ)
তিনি বলেন ঃ আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বললাম সম্ভবত كُذِبُوا (তাখফীফ সহ)। তিনি বললেন, মা‘আযাল্লাহ! ঐরূপ (كُذُّبُوْا)। [৩৩৮৯] (আ.প্র. ৪৩৩৫, ই.ফা. ৪৩৩৫)
৬৫/১৩/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আল্লাহ জানেন প্রত্যেক স্ত্রীলোক যা গর্ভে ধারণ করে এবং জরায়ুর মধ্যে যা কিছু কম ও বেশী হয়ে থাকে তাও তিনি জানেন।(সূরাহ আর-রাদ ১৩/৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৯৭
হাদিস নং ৪৬৯৭
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا مَعْنٌ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِيْنَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا اللهُ لَا يَعْلَمُ مَا فِيْ غَدٍ إِلَّا اللهُ وَلَا يَعْلَمُ مَا تَغِيْضُ الْأَرْحَامُ إِلَّا اللهُ وَلَا يَعْلَمُ مَتَى يَأْتِي الْمَطَرُ أَحَدٌ إِلَّا اللهُ وَلَا تَدْرِيْ نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوْتُ وَلَا يَعْلَمُ مَتَى تَقُوْمُ السَّاعَةُ إِلَّا اللهُ
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘উমার (রাঃ)
নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘ইল্ম গায়েব-এর চাবিকাঠি পাঁচটি, যা আল্লাহ্ ভিন্ন কেউ জানে না। তা হলো ঃ আগামী দিন কী হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। মায়ের জরায়ুতে কী আছে, তা আল্লাহ্ ভিন্ন আর কেউ জানে না। বৃষ্টি কখন আসবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। কোন ব্যক্তি জানে না তার মৃত্যু কোথায় হবে এবং ক্বিয়ামাত কবে সংঘটিত হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। [১০৩৯] (আ.প্র. ৪৩৩৬, ই.ফা. ৪৩৩৬)
[১] মাদীনাহর পূর্বদিকে অবস্থিত একটি উপত্যকা।
৬৫/১৪/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ সূরাহ (১৪) : ইবরাহীম
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৯৮
হাদিস নং ৪৬৯৮
حَدَّثَنِي عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَخْبِرُونِي بِشَجَرَةٍ تُشْبِهُ أَوْ كَالرَّجُلِ الْمُسْلِمِ لاَ يَتَحَاتُّ وَرَقُهَا وَلاَ وَلاَ وَلاَ، تُؤْتِي أُكْلَهَا كُلَّ حِينٍ ". قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَوَقَعَ فِي نَفْسِي أَنَّهَا النَّخْلَةُ، وَرَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ لاَ يَتَكَلَّمَانِ، فَكَرِهْتُ أَنْ أَتَكَلَّمَ، فَلَمَّا لَمْ يَقُولُوا شَيْئًا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هِيَ النَّخْلَةُ ". فَلَمَّا قُمْنَا قُلْتُ لِعُمَرَ يَا أَبَتَاهُ وَاللَّهِ لَقَدْ كَانَ وَقَعَ فِي نَفْسِي أَنَّهَا النَّخْلَةُ فَقَالَ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَكَلَّمَ قَالَ لَمْ أَرَكُمْ تَكَلَّمُونَ، فَكَرِهْتُ أَنْ أَتَكَلَّمَ أَوْ أَقُولَ شَيْئًا. قَالَ عُمَرُ لأَنْ تَكُونَ قُلْتَهَا أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ كَذَا وَكَذَا.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, বল তো সেটা কোন বৃক্ষ, যা কোন মুসলিম ব্যক্তির মত, যার পাতা ঝরে না, এরূপ নয়, এরূপ নয় এবং এরূপও নয় যা সর্বদা খাদ্য প্রদান করে। ইব্নু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমার মনে হল, এটা খেজুর বৃক্ষ। কিন্তু আমি দেখলাম আবূ বাক্র (রাঃ) ও ‘উমার (রাঃ) কথা বলছেন না। তাই আমি এ ব্যাপারে বলা পছন্দ করিনি। শেষে যখন কেউ কিছু বললেন না, তখন রসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সেটা খেজুর গাছ। পরে যখন আমরা উঠে গেলাম, তখন আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বললাম, হে আব্বা! আল্লাহ্র কসম! আমার মনেও হয়েছিল, তা খেজুর বৃক্ষ। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এ কথাা বলতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? বললেন, আমি আপনাদেরকে কথা বলতে দেখলাম না, তাই আমি কথা বলতে এবং আমার মত ব্যক্ত করতে অঅপছন্দ করি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, অবশ্য যদি তুমি বলতে, তবে তা আমার নিকট এত এত থেকে অধিক প্রিয় হত। [৬১] (আ.প্র. ৪৩৩৭, ই.ফা. ৪৩৩৭)
[১] বৃক্ষের বৈশিষ্ট্য তিন প্রকারের- সর্বদা ফল ধরে থাকে, যার বীজ নষ্ট হয় না এবং যা দ্বারা সর্বদা উপকৃত হওয়া যায়। [2]كَذَا وَكَذَا (এত এত) দ্বারা অনেক অনেক মূল্যবান বস্তু বুঝালেন।
৬৫/১৪/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ যারা শাশ্বত বাণী কালিমায়ে তাইয়্যিবায় ঈমান রাখে, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে এবং আখিরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন। (সূরাহ ইবরাহীম ১৪/২৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৬৯৯
হাদিস নং ৪৬৯৯
أَبُو الْوَلِيْدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عَلْقَمَةُ بْنُ مَرْثَدٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ عُبَيْدَةَ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمُسْلِمُ إِذَا سُئِلَ فِي الْقَبْرِ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللهِ فَذَلِكَ قَوْلُهُ {يُثَبِّتُ اللهُ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْاٰخِرَةِ}.
বর্ণনাকারী বারাআ ইব্নু ‘আযিব (রাঃ)
নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কবরে মুসলিমকে যখন প্রশ্ন করা হবে, তখন সে সাক্ষ্য দিবে ঃ “লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াআন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ্” আল্লাহ্র বাণীতে এর প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাণীটি হলো এই ঃ “যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন” (সূরা ইবরাহীম ১৪/২৭)। [১৩৬৯] (আ.প্র. ৪৩৩৮, ই.ফা. ৪৩৩৮)
৬৫/১৪/৩
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ তুমি কি তাদেরকে দেখনি যারা আল্লাহর নিয়ামাতের বদলে কুফরী করেছে। (সূরাহ ইবরাহীম ১৪/২৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭০০
হাদিস নং ৪৭০০
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ بَدَّلُوْا نِعْمَةَ اللهِ كُفْرًا} قَالَ هُمْ كُفَّارُ أَهْلِ مَكَّةَ.
বর্ণনাকারী ‘আত্বা (রাঃ)
তিনি ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُوا نِعْمَةَ اللهِ كُفْرًا তারা হল মাক্কাহ্র কাফিরগণ। [৩৯৭৭] (আ.প্র. ৪৩৩৯, ই.ফা. ৪৩৩৯)
৬৫/১৫/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আর কেউ চুপিচুপি সংবাদ শুনতে চাইলে তার পিছনে ছুটে জ্বলন্ত শিখা।* (সূরাহ হিজর ১৫/১৮) সূরাহ (১৫) : হিজর
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭০১
হাদিস নং ৪৭০১
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَضَى اللَّهُ الأَمْرَ فِي السَّمَاءِ ضَرَبَتِ الْمَلاَئِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا خُضْعَانًا لِقَوْلِهِ كَالسِّلْسِلَةِ عَلَى صَفْوَانٍ ـ قَالَ عَلِيٌّ وَقَالَ غَيْرُهُ صَفْوَانٍ ـ يَنْفُذُهُمْ ذَلِكَ فَإِذَا فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ، قَالُوا لِلَّذِي قَالَ الْحَقَّ وَهْوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ، فَيَسْمَعُهَا مُسْتَرِقُو السَّمْعِ، وَمُسْتَرِقُو السَّمْعِ هَكَذَا وَاحِدٌ فَوْقَ آخَرَ ـ وَوَصَفَ سُفْيَانُ بِيَدِهِ، وَفَرَّجَ بَيْنَ أَصَابِعِ يَدِهِ الْيُمْنَى، نَصَبَهَا بَعْضَهَا فَوْقَ بَعْضٍ ـ فَرُبَّمَا أَدْرَكَ الشِّهَابُ الْمُسْتَمِعَ، قَبْلَ أَنْ يَرْمِيَ بِهَا إِلَى صَاحِبِهِ، فَيُحْرِقَهُ وَرُبَّمَا لَمْ يُدْرِكْهُ حَتَّى يَرْمِيَ بِهَا إِلَى الَّذِي يَلِيهِ إِلَى الَّذِي هُوَ أَسْفَلُ مِنْهُ حَتَّى يُلْقُوهَا إِلَى الأَرْضِ ـ وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ حَتَّى تَنْتَهِيَ إِلَى الأَرْضِ ـ فَتُلْقَى عَلَى فَمِ السَّاحِرِ، فَيَكْذِبُ مَعَهَا مِائَةَ كَذْبَةٍ فَيَصْدُقُ، فَيَقُولُونَ أَلَمْ يُخْبِرْنَا يَوْمَ كَذَا وَكَذَا يَكُونُ كَذَا وَكَذَا، فَوَجَدْنَاهُ حَقًّا لِلْكَلِمَةِ الَّتِي سُمِعَتْ مِنَ السَّمَاءِ ".حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، إِذَا قَضَى اللَّهُ الأَمْرَ. وَزَادَ الْكَاهِنِ. وَحَدَّثَنَا سُفْيَانُ فَقَالَ قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ إِذَا قَضَى اللَّهُ الأَمْرَ وَقَالَ عَلَى فَمِ السَّاحِرِ. قُلْتُ لِسُفْيَانَ قَالَ سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ. قَالَ نَعَمْ. قُلْتُ لِسُفْيَانَ إِنَّ إِنْسَانًا رَوَى عَنْكَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَيَرْفَعُهُ أَنَّهُ قَرَأَ فُزِّعَ. قَالَ سُفْيَانُ هَكَذَا قَرَأَ عَمْرٌو. فَلاَ أَدْرِي سَمِعَهُ هَكَذَا أَمْ لاَ. قَالَ سُفْيَانُ وَهْىَ قِرَاءَتُنَا.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা আকাশে কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন মালায়িকাহ তাঁর কথা শোনার জন্য অতি বিনয়ের সঙ্গে নিজ নিজ পালক ঝাড়তে থাকে মসৃণ পাথরের উপর জিঞ্জিরের শব্দের মত। ‘আলী (রাঃ) বলেন, صَفْوَانِ এর মধ্যে فَا সাকিন যুক্ত এবং অন্যরা বলেন, فَا ফাতাহ্ যুক্ত। এভাবে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর বাণী মালায়িকাহ্কে পৌঁছান। “যখন মালায়িকাহ্র অন্তর থেকে ভয় দূর হয়, তখন তারা একে অপররে জিজ্ঞেস করে, তোমাদের প্রভু কী বলেছেন? তখন তারা বলে, যা সত্য তিনি তাই বলেছেন, এবং তিনি অতি উচ্চ মহান।” চুরি করে কান লাগিয়ে (শায়ত্বনরা) তা শুনে নেয়। শোনার জন্য শায়ত্বনগুলো একের ওপর এক এভাবে থাকে। সুফ্ইয়ান ডান হাতের আঙ্গুলের ওপর অন্য আঙ্গুল রেখে হাতের ইশারায় ব্যাপারটি প্রকাশ করলেন। তারপর কখনও অগ্নি স্ফুলিঙ্গ শ্রবণকারীকে তার সাথীর কাছে এ কথাটি পৌঁছানোর আগেই আঘাত করে এবং তাকে জ্বালিয়ে দেয়। আবার কখনও সে ফুলকি প্রথম শ্রবণকারী শয়তান পর্যন্ত পৌঁছার পূর্বেই সে তার নিচের সাথীকে খবরটি জানিয়ে দেয়। এমনি করে এ কথা পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়। কখনও সুফ্ইয়ান বলেছেন, এমনি করে পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারপর তা জাদুকরের মুখে ঢেলে দেয়া হয় এবং সে তার সঙ্গে শত মিথ্যা মিশিয়ে প্রচার করে। তাই তার কথা সত্য হয়ে যায়। তখন লোকেরা বলতে থাকে, এ জাদুকর আমাদের কাছে অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কথা বলেছিল;। বস্তুত আসমান থেকে শুনে নেয়ার কারণেই আমরা তা সত্যরূপে পেয়েছি। (আ.প্র. ৪৩৪০, ই.ফা. ৪৩৪০)আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখন আল্লাহ্র তা‘আলা কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন....এ বর্ণনায় كَاهِنِ (জ্যোতির্বিদ কথাটি) অতিরিক্ত। ..... আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ বর্ণনায় عَلَى فَمِ السَّاحِرِ (জাদুকরের মুখের ওপর) উল্লেখ করেছেন। ‘আলী ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ বলেন, আমি সুফ্ইয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি ‘আম্র থেকে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি ইকরামাহ থেকে শুনে এবং তিনি (ইকরামাহ) বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে শুনেছি। সুফ্ইয়ান বলেন, হ্যাঁ। ‘আলী বলেন, আমি সুফ্ইয়ানকে জিজ্ঞেস করলাম, এক ব্যক্তি আপনার থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন, ‘আম্র ইকরামাহ থেকে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করেছেন। সুফ্ইয়ান বললেন, আমি ‘আম্রকে এভাবে পড়তে শুনেছি। তবে আমি জানি না, তিনি এভাবেই শুনেছেন কিনা; তবে এ-ই আমাদের পাঠ। [৪৮০০, ৭৪৮১] (আ.প্র. ৪৩৪১, ই.ফা. ৪৩৪১)
৬৫/১৫/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ নিশ্চয় ‘হিজরের’ অধিবাসীও রাসূলের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। (সূরাহ হিজর ১৫/৮০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭০২
হাদিস নং ৪৭০২
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا مَعْنٌ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِيْنَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِأَصْحَابِ الْحِجْرِ لَا تَدْخُلُوْا عَلَى هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ إِلَّا أَنْ تَكُوْنُوْا بَاكِيْنَ فَإِنْ لَمْ تَكُوْنُوْا بَاكِيْنَ فَلَا تَدْخُلُوْا عَلَيْهِمْ أَنْ يُصِيْبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَهُمْ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমার (রাঃ)
নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরবাসীগণ সম্পর্কে সহাবায়ে কিরামদের বললেন, তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতিরেকে এ জাতির এলাকায় প্রবেশ করবে না। যদি তোমাদের ক্রন্দন না আসে, তবে তোমরা তাদের এলাকায় প্রবেশই করবে না। হয়ত, তাদের ওপর যা ঘটেছিল তা তোমাদের ওপরও ঘটতে পারে। [৪৩৩] (আ.প্র. ৪৩৪২, ই.ফা. ৪৩৪২)
[১] ‘হিজর’ একটি উপত্যকা যেখানে ‘সামুদ’ সম্প্রদায় বাস করত।
৬৫/১৫/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আর আমি তো আপনাকে দিয়েছি সাতটি আয়াত যা বারবার পাঠ করা হয় এবং দিয়েছি মহা কুরআন। (সূরাহ হিজর ১৫/৮৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭০৩
হাদিস নং ৪৭০৩
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُعَلَّى قَالَ مَرَّ بِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أُصَلِّيْ فَدَعَانِيْ فَلَمْ آتِهِ حَتَّى صَلَّيْتُ ثُمَّ أَتَيْتُ فَقَالَ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَأْتِيَنِيْ فَقُلْتُ كُنْتُ أُصَلِّيْ فَقَالَ أَلَمْ يَقُلْ اللهُ {يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اسْتَجِيْبُوْا لِلهِ وَلِلرَّسُوْلِ} إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيْكُمْ ثُمَّ قَالَ أَلَا أُعَلِّمُكَ أَعْظَمَ سُوْرَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ فَذَهَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ فَذَكَّرْتُهُ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِيْ وَالْقُرْآنُ الْعَظِيْمُ الَّذِيْ أُوْتِيْتُهُ.
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ ইব্নু মু‘য়াল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পার্শ্ব দিয়ে গেলেন, তখন আমি সলাত আদায় করছিলাম। তিনি আমাকে ডাক দিলেন। আমি সলাত শেষ না করে আসিনি। তারপর আমি বললাম। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, আমার কাছে আসতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল। আমি আসলাম, আমি সলাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা কি এ কথা বলেননি, “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্ এবং রাসূলের ডাকে সাড়া দাও?” তারপর তিনি বললেন, আমি মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগেই কি তোমাকে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরাটি শিখিয়ে দেব না। তারপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মসজিদ থেকে বের হতে উদ্যত হলেন, আমি তাকে কথাটি মনে করিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, সে সূরাটি হল, “আল্ হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।” এটি হল, বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহা কুরআন যা আমাকে দেয়া হয়েছে। [৪৪৭৪] (আ.প্র. ৪৩৪৩, ই.ফা. ৪৩৪৩)
[১] সূরায়ে ফাতিহাকে ‘মহা কুরআন’ বলা হয়েছে। কারণ, কুরআনের সকল বিষয়বস্তুর মূল কথা এর মধ্যে রয়েছে।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭০৪
হাদিস নং ৪৭০৪
آدَمُ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِيْ ذِئْبٍ حَدَّثَنَا سَعِيْدٌ الْمَقْبُرِيُّ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أُمُّ الْقُرْآنِ هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِيْ وَالْقُرْآنُ الْعَظِيْمُ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, উম্মুল কুরআন (সূরাহ ফাতিহা) হচ্ছে বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহা কুরআন। (আ.প্র. ৪৩৪৪, ই.ফা. ৪৩৪৪)
[১] ‘উম্মুল কুরআন’ বলা হয় সূরাহ ফাতিহাকে। কুরআন মাজীদের সকল বিষয়বস্তু এর মধ্যে সংক্ষেপে রয়েছে বলে ‘উম্মুল কুরআন’ অর্থাৎ ‘কুরআনের মা’ বলা হয়।[2] পূর্বে হাদীসের টীকা দ্র.।
৬৫/১৫/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ যারা নানাভাবে কুরআনকে বিভক্ত করেছে। (সূরাহ হিজর ১৫/৯১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭০৫
হাদিস নং ৪৭০৫
يَعْقُوْبُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا أَبُوْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا {الَّذِيْنَ جَعَلُوا الْقُرْاٰنَ عِضِيْنَ} قَالَ هُمْ أَهْلُ الْكِتَابِ جَزَّءُوْهُ أَجْزَاءً فَآمَنُوْا بِبَعْضِهِ وَكَفَرُوْا بِبَعْضِهِ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
“যারা কুরআনকে ভাগ করে ফেলেছে।”এরা হল আহ্লে কিতাব (ইয়াহূদী-নাসারা)। তারা কুরআনকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে ফেলেছে। তারা কোন অংশের ওপর বিশ্বাস এনেছে এবং কোন অংশকে অস্বীকার করেছে। [৩৯৪৫] (আ.প্র. ৪৩৪৫, ই.ফা. ৪৩৪৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭০৬
হাদিস নং ৪৭০৬
عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوْسَى عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِيْ ظَبْيَانَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا {كَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى الْمُقْتَسِمِيْنَ} قَالَ آمَنُوْا بِبَعْضٍ وَكَفَرُوْا بِبَعْضٍ الْيَهُوْدُ وَالنَّصَارَى.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
كَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى الْمُقْتَسِمِينَ-এর ব্যাখ্যায় বলেন, তারা কিছু অংশের উপর ঈমান আনে আর কিছু অংশ অস্বীকার করে। এরা হল ইয়াহুদী ও নাসারা। [৩৯৪৫] (আ.প্র. ৪৩৪৬, ই.ফা. ৪৩৪৬)
৬৫/১৫/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আর আপনার রবের ‘ইবাদাত করতে থাকুন যে পর্যন্ত না আপনার কাছে মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়। (সূরা হিজর ১৫/৯৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭০৭
হাদিস নং ৪৭০৭
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا هَارُوْنُ بْنُ مُوْسَى أَبُوْ عَبْدِ اللهِ الْأَعْوَرُ عَنْ شُعَيْبٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُوْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَالْكَسَلِ وَأَرْذَلِ الْعُمُرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَفِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
বর্ণনাকারী আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ দু‘আ করতেন (হে আল্লাহ্!) আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে, অলসতা থেকে, চলৎশক্তিহীন বয়স থেকে, কবরের আযাব থেকে, দাজ্জালের ফিত্না থেকে এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিত্না থেকে। [২৮২৩] (আ.প্র. ৪৩৪৭, ই.ফা. ৪৩৪৭)
أَنْعَام (আন‘আম) দ্বারা উট, গরু, মেষ, ছাগল ইত্যাদি অহিংস্র জন্তুকে বোঝায়।
৬৫/১৭/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭০৮
হাদিস নং ৪৭০৮
آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَزِيْدَ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ فِيْ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ وَالْكَهْفِ وَمَرْيَمَ إِنَّهُنَّ مِنَ الْعِتَاقِ الْأُوَلِ وَهُنَّ مِنْ تِلَادِيْ فَسَيُنْغِضُوْنَ إِلَيْكَ رُءُوْسَهُمْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَهُزُّوْنَ وَقَالَ غَيْرُهُ نَغَضَتْ سِنُّكَ أَيْ تَحَرَّكَتْ
বর্ণনাকারী ইব্নু মাস‘উদ (রাঃ)
তিনি বলেছেন, সূরাহ বানী ইসরাঈল, কাহাফ এবং মারইয়াম প্রথমে নাযিল হওয়া অতি উত্তম সূরা। এগুলো আমার পুরানো রক্ষিত সম্পদ। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন,فَسَيُنْغِضُونَ তারা তাদের মাথা নাড়াবে। অন্য হতে বর্ণিত- نَغَضَتْ তোমার দাঁত নড়ে গেছে। (আ.প্র. নাই, ই.ফা. ৪৩৪৮ প্রথমাংশ)
৬৫/১৭/২.অধ্যায়ঃ
অধ্যায়:
৬৫/১৭/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ যিনি স্বীয় বান্দাকে রাতের বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মাসজিদুল হারাম থেকে। (সূরাহ বানী ইসরাঈল ১৭/১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭০৯
হাদিস নং ৪৭০৯
عَبْدَانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا يُوْنُسُ ح و حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ حَدَّثَنَا يُوْنُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ قَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ أُتِيَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ بِإِيْلِيَاءَ بِقَدَحَيْنِ مِنْ خَمْرٍ وَلَبَنٍ فَنَظَرَ إِلَيْهِمَا فَأَخَذَ اللَّبَنَ قَالَ جِبْرِيْلُ الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِيْ هَدَاكَ لِلْفِطْرَةِ لَوْ أَخَذْتَ الْخَمْرَ غَوَتْ أُمَّتُكَ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, যে রাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বাইতুল মাকদাসে ভ্রমণ করানো হয়, সে রাতে তাঁর সামনে দু’টি পেয়ালা রাখা হয়েছিল। তার একটিতে ছিল শরাব এবং আরেকটিতে ছিল দুধ। তিনি উভয়টির দিকে তাকালেন এবং দুধ বেছে নিলেন। তখন জিবরীল (‘আ.) বললেন, সমস্ত প্রশংসা সে আল্লাহ্র, যিনি আপনাকে স্বাভাবিক পথ দেখিয়েছেন। যদি আপনি শরাব বেছে নিতেন, তাহলে আপনার উম্মাত অবাধ্য হয়ে যেত। [৩৩৯৪] (আ.প্র. ৪৩৪৮, ই.ফা. ৪৩৪৯)
আবদান-উপাধি। পূর্ণাঙ্গ-আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উসমান।
৬৫/১৭/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আর যখন আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করতে চাই তখন তার বিত্তশালী লোকেদেরকে নেক কাজ করতে আদেশ করি। (সূরাহ বানী ইসরাঈল ১৭/১৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭১১
হাদিস নং ৪৭১১
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ أَخْبَرَنَا مَنْصُوْرٌ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ كُنَّا نَقُوْلُ لِلْحَيِّ إِذَا كَثُرُوْا فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَمِرَ بَنُوْ فُلَانٍ حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَقَالَ أَمَرَ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, জাহিলীয়াতের যুগে কোন গোত্রের লোকসংখ্যা বেড়ে গেলে আমরা বলতাম- اَمِرَبَنُوْفُلاَنٍ অমুক গোত্রের সংখ্যা বেড়ে গেছে। (আ.প্র. ৪৩৫০, ই.ফা. ৪৩৫১)হুমাইদী সুফ্ইয়ান থেকে বর্ণনা করেন বলেন, اَمِرَ (মীম কাস্রাহ্ যুক্ত)। (আ.প্র. ৪৩৫০, ই.ফা. ৪৩৫২)
ذَقَنٌঅর্থ থুতনি-এখানে ‘থুতনি’ বোঝানো হয়েছে।
৬৫/১৭/৬.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ তোমরা তো তাদের সন্তান যাদের আমি নূহের (আঃ) সঙ্গে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম। নিশ্চয় নূহ (আঃ) ছিল শোকরগুজার বান্দা। (সূরাহ বানী ইসরাঈল ১৭/৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭১২
হাদিস নং ৪৭১২
مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا أَبُوْ حَيَّانَ التَّيْمِيُّ عَنْ أَبِيْ زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيْرٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِلَحْمٍ فَرُفِعَ إِلَيْهِ الذِّرَاعُ وَكَانَتْ تُعْجِبُهُ فَنَهَشَ مِنْهَا نَهْشَةً ثُمَّ قَالَ أَنَا سَيِّدُ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهَلْ تَدْرُوْنَ مِمَّ ذَلِكَ يَجْمَعُ اللهُ النَّاسَ الْأَوَّلِيْنَ وَالْآخِرِيْنَ فِيْ صَعِيْدٍ وَاحِدٍ يُسْمِعُهُمْ الدَّاعِيْ وَيَنْفُذُهُمْ الْبَصَرُ وَتَدْنُو الشَّمْسُ فَيَبْلُغُ النَّاسَ مِنَ الْغَمِّ وَالْكَرْبِ مَا لَا يُطِيْقُوْنَ وَلَا يَحْتَمِلُوْنَ فَيَقُوْلُ النَّاسُ أَلَا تَرَوْنَ مَا قَدْ بَلَغَكُمْ أَلَا تَنْظُرُوْنَ مَنْ يَشْفَعُ لَكُمْ إِلَى رَبِّكُمْ فَيَقُوْلُ بَعْضُ النَّاسِ لِبَعْضٍ عَلَيْكُمْ بِآدَمَ فَيَأْتُوْنَ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلَام فَيَقُوْلُوْنَ لَهُ أَنْتَ أَبُو الْبَشَرِ خَلَقَكَ اللهُ بِيَدِهِ وَنَفَخَ فِيْكَ مِنْ رُوْحِهِ وَأَمَرَ الْمَلَائِكَةَ فَسَجَدُوْا لَكَ اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ أَلَا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيْهِ أَلَا تَرَى إِلَى مَا قَدْ بَلَغَنَا فَيَقُوْلُ آدَمُ إِنَّ رَبِّيْ قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ وَإِنَّهُ قَدْ نَهَانِيْ عَنْ الشَّجَرَةِ فَعَصَيْتُهُ نَفْسِيْ نَفْسِيْ نَفْسِي اذْهَبُوْا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوْا إِلَى نُوْحٍ فَيَأْتُوْنَ نُوْحًا فَيَقُوْلُوْنَ يَا نُوْحُ إِنَّكَ أَنْتَ أَوَّلُ الرُّسُلِ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ وَقَدْ سَمَّاكَ اللهُ عَبْدًا شَكُوْرًا اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ أَلَا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيْهِ فَيَقُوْلُ إِنَّ رَبِّيْ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ وَإِنَّهُ قَدْ كَانَتْ لِيْ دَعْوَةٌ دَعَوْتُهَا عَلَى قَوْمِيْ نَفْسِيْ نَفْسِيْ نَفْسِي اذْهَبُوْا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوْا إِلَى إِبْرَاهِيْمَ فَيَأْتُوْنَ إِبْرَاهِيْمَ فَيَقُوْلُوْنَ يَا إِبْرَاهِيْمُ أَنْتَ نَبِيُّ اللهِ وَخَلِيْلُهُ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ أَلَا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيْهِ فَيَقُوْلُ لَهُمْ إِنَّ رَبِّيْ قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ وَإِنِّيْ قَدْ كُنْتُ كَذَبْتُ ثَلَاثَ كَذِبَاتٍ فَذَكَرَهُنَّ أَبُوْ حَيَّانَ فِي الْحَدِيْثِ نَفْسِيْ نَفْسِيْ نَفْسِي اذْهَبُوْا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوْا إِلَى مُوْسَى فَيَأْتُوْنَ مُوْسَى فَيَقُوْلُوْنَ يَا مُوْسَى أَنْتَ رَسُوْلُ اللهِ فَضَّلَكَ اللهُ بِرِسَالَتِهِ وَبِكَلَامِهِ عَلَى النَّاسِ اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ أَلَا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيْهِ فَيَقُوْلُ إِنَّ رَبِّيْ قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ وَإِنِّيْ قَدْ قَتَلْتُ نَفْسًا لَمْ أُوْمَرْ بِقَتْلِهَا نَفْسِيْ نَفْسِيْ نَفْسِي اذْهَبُوْا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوْا إِلَى عِيْسَى ابْنِ مَرْيَمَ فَيَأْتُوْنَ عِيْسَى فَيَقُوْلُوْنَ يَا عِيْسَى أَنْتَ رَسُوْلُ اللهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوْحٌ مِنْهُ وَكَلَّمْتَ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ أَلَا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيْهِ فَيَقُوْلُ عِيْسَى إِنَّ رَبِّيْ قَدْ غَضِبَ الْيَوْمَ غَضَبًا لَمْ يَغْضَبْ قَبْلَهُ مِثْلَهُ قَطُّ وَلَنْ يَغْضَبَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ ذَنْبًا نَفْسِيْ نَفْسِيْ نَفْسِي اذْهَبُوْا إِلَى غَيْرِي اذْهَبُوْا إِلَى مُحَمَّدٍ فَيَأْتُوْنَ مُحَمَّدًا فَيَقُوْلُوْنَ يَا مُحَمَّدُ أَنْتَ رَسُوْلُ اللهِ وَخَاتِمُ الْأَنْبِيَاءِ وَقَدْ غَفَرَ اللهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ اشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ أَلَا تَرَى إِلَى مَا نَحْنُ فِيْهِ فَأَنْطَلِقُ فَآتِيْ تَحْتَ الْعَرْشِ فَأَقَعُ سَاجِدًا لِرَبِّيْ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ يَفْتَحُ اللهُ عَلَيَّ مِنْ مَحَامِدِهِ وَحُسْنِ الثَّنَاءِ عَلَيْهِ شَيْئًا لَمْ يَفْتَحْهُ عَلَى أَحَدٍ قَبْلِيْ ثُمَّ يُقَالُ يَا مُحَمَّدُ ارْفَعْ رَأْسَكَ سَلْ تُعْطَهْ وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ فَأَرْفَعُ رَأْسِيْ فَأَقُوْلُ أُمَّتِيْ يَا رَبِّ أُمَّتِيْ يَا رَبِّ أُمَّتِيْ يَا رَبِّ فَيُقَالُ يَا مُحَمَّدُ أَدْخِلْ مِنْ أُمَّتِكَ مَنْ لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ مِنَ الْبَابِ الْأَيْمَنِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ وَهُمْ شُرَكَاءُ النَّاسِ فِيْمَا سِوَى ذَلِكَ مِنَ الْأَبْوَابِ ثُمَّ قَالَ وَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِهِ إِنَّ مَا بَيْنَ الْمِصْرَاعَيْنِ مِنْ مَصَارِيْعِ الْجَنَّةِ كَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَحِمْيَرَ أَوْ كَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَبُصْرَى.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
একদা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে গোশ্ত আনা হল এবং তাঁকে সামনের রান পরিবেশন করা হল। তিনি এটা পছন্দ করতেন। তিনি তার থেকে কামড়ে খেলেন। এরপর বললেন, আমি হব ক্বিয়ামাতের দিন মানবকুলের নেতা। তোমাদের কি জানা আছে তা কেন? ক্বিয়ামাতের দিন আগের ও পরের সকল মানুষ এমন এক ময়দানে জমায়েত হবে, যেখানে একজন আহ্বানকারীর আহ্বান সকলে শুনতে পাবে এবং সকলেই এক সঙ্গে দৃষ্টিগোচর করবে। সূর্য নিকটে এসে যাবে। মানুষ এমনি কষ্ট-ক্লেশের সম্মুখীন হবে যা অসহনীয় ও অসহ্যকর হয়ে পড়বে। তখন লোকেরা বলবে, তোমরা কী বিপদের সম্মুখীন হয়েছ, তা কি দেখতে পাচ্ছ না? তোমরা কি এমন কাউকে খুঁজে বের করবে না, যিনি তোমাদের রবের কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশকারী হবেন? কেউ কেউ অন্যদের বলবে যে, আদামের কাছে চল। তখন সকলে তার কাছে এসে তাঁকে বলবে, আপনি আবুল বাশার । আল্লাহ্ তা‘আলা আপনাকে নিজ হস্ত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর রূহ আপনার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন এবং মালায়িকাহ্কে হুকুম দিলে তাঁরা আপনাকে সাজদাহ করেন। আপনি আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি? আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কী অবস্থায় পৌঁছেছি। তখন আদাম (‘আ.) বলবেন, আজ আমার রব এত রাগানি¦ত হয়েছেন যার আগেও কোনদিন এরূপ রাগানি¦ত হননি আর পরেও এরূপ রাগানি¦ত হবেন না। তিনি আমাকে একটি গাছের নিকট যেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি অমান্য করেছি, নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী, (আমি নিজেই সুপারিশ প্রার্থী) তোমরা অন্যের কাছে যাও, তোমরা নূহ (‘আ.)-এর কাছে যাও। তখন সকলে নূহ্ (‘আ.)-এর কাছে এসে বলবে, হে নূহ্ (‘আ.)! নিশ্চয়ই আপনি পৃথিবীর মানুষের প্রতি প্রথম রসূল। আর আল্লাহ্ তা‘আলা আপনাকে পরম কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আমার রব আজ এত ভীষণ রাগানি¦ত যে, আগেও এমন রাগানি¦ত হননি আর পরে কখনো এমন রাগানি¦ত হবেন না। আমার একটি গ্রহণযোগ্য দু‘আ ছিল, যা আমি আমার কওমের ব্যাপারে করে ফেলেছি, (এখন) নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী। তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও তোমরা ইব্রাহীম (‘আ.)-এর কাছে। তখন তারা ইব্রাহীম (‘আ.)-এর কাছে এসে বলবে, হে ইব্রাহীম (‘আ.)! আপনি আল্লাহ্র নাবী এবং পৃথিবীর মানুষের মধ্যে আপনি আল্লাহ্র বন্ধু । আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি তাদের বলবেন, আমার রব আজ ভীষণ রাগানি¦ত, যার আগেও কোন দিন এরূপ রাগানি¦ত হননি, আর পরেও কোনদিন এরূপ রাগানি¦ত হবেন না। আর আমি তো তিনটি মিথ্যা বলে ফেলেছিলাম। রাবী আবূ হাইয়ান তাঁর বর্ণনায় এগুলোর উল্লেখ করেছেন- (এখন) নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী, তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও মূসার কাছে। তারা মূসার কাছে এসে বলবে, হে মূসা (‘আ.)! আপনি আল্লাহ্র রসূল। আল্লাহ্ আপনাকে রিসালাতের সম্মান দিয়েছেন এবং আপনার সঙ্গে কথা বলে সমস্ত মানবকূলের উপর মর্যাদা দান করেছেন। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বললেন, আজ আমার রব ভীষণ রাগানি¦ত আছেন, এরূপ রাগানি¦ত আগেও হননি এবং পরেও এরূপ রাগানি¦ত হবেন না। আর আমি তো এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম, যাকে হত্যা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়নি। এখন নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী। তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও ঈসা (‘আ.)-এর কাছে। তখন তারা ঈসা (‘আ.)-এর কাছে এসে বলবে, হে ঈসা (‘আ.)! আপনি আল্লাহ্র ররসূল এবং কালিমাহ , যা তিনি মারইয়াম (‘আ.)-এর উপর ঢেলে দিয়েছিলেন। আপনি ‘রূহ’ । আপনি দোলনায় থেকে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। আজ আপনি আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না, আমরা কিসের মধ্যে আছি? তখন ঈসা (‘আ.) বলবেন, আজ আমার রব এত রাগানি¦ত যে, এর আগে এরূপ রাগানি¦ত হননি এবং এর পরেও এরূপ রাগানি¦ত হবেন না। তিনি নিজের কোন গুনাহ্র কথা বলবেন না। নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী, তোমরা অন্য কারও কাছে যাও- যাও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে। তারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলবে, হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি আল্লাহ্র রসূল এবং শেষ নাবী। আল্লাহ্ তা‘আলা আপনার আগের, পরের সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তখন আমি আরশের নিচে এসে আমার রবের সামনে সাজদাহ দিয়ে পড়ব। তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর প্রশংসা ও গুণগানের এমন সুন্দর নিয়ম আমার সামনে খুলে দিবেন, যা এর পূর্বে অন্য কারও জন্য খোলেননি। এরপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! তোমার মাথা উঠাও। তুমি যা চাও, তোমাকে দেয়া হবে। তুমি সুপারিশ কর, তোমার সুপারিশ কবূল করা হবে। এরপর আমি আমার মাথা উঠিয়ে বলব, হে আমার রব! আমার উম্মত। হে আমার রব! আমার উম্মত। হে আমার রব! আমার উম্মত। তখন বলা হবে, হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনার উম্মাতের মধ্যে যাদের কোন হিসাব-নিকাশ হবে না, তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহের ডান পার্শ্বের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। এ দরজা ব্যতীত অন্যদের সঙ্গে অন্য দরজায় ও তাদের প্রবেশের অধিকার থাকবে। তারপর তিনি বলবেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, সে সত্তার শপথ! জান্নাতের এক দরজার দুই পার্শ্বের মধ্যবর্তী স্থানের প্রশস্ততা যেমন মাক্কাহ ও হামীরের মধ্যবর্তী দূরত্ব, অথবা মক্কা ও বস্রার মাঝে দূরত্বের সমতুল্য। [৩৩৪০] (আ.প্র. ৪৩৫১, ই.ফা. ৪৩৫৩)
[১] ‘আবুল বাশার’ অর্থ মানব জাতির পিতা। [2] প্রথম নাবী হচ্ছেন আদাম (আঃ) আর প্রথম রসূল হচ্ছেন নূহ (আঃ) [3] ‘খালীলুল্লাহ’ উপাধি একমাত্র আপনার। [4] ‘কালিমাহ’-এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে, كن শব্দ। যেহেতু এ শব্দটি বলার সঙ্গে সঙ্গে ঈসা (আঃ) আল্লাহর কুদরাতে মাতৃগর্ভে আসেন। তাই তাকে ‘তার কালিমাহ’ (আল্লাহর কালিমাহ) বলা হয়। [5]যেহেতু আল্লাহর নির্দেশে তার মাতৃগর্ভে এসেছিলেন সেহেতু তাকে রুহুল্লাহ বলা হয়।
৬৫/১৭/৭.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আর দাঊদকে দান করেছি যাবূর। (সূরাহ বানী ইসরাঈল ১৭/৫৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭১৩
হাদিস নং ৪৭১৩
إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ خُفِّفَ عَلَى دَاوُدَ الْقِرَاءَةُ فَكَانَ يَأْمُرُ بِدَابَّتِهِ لِتُسْرَجَ فَكَانَ يَقْرَأُ قَبْلَ أَنْ يَفْرُغَ يَعْنِي الْقُرْآنَ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, দাঊদ (‘আ.)-এর ওপর (যাবূর) পড়া এত সহজ করে দেয়া হয়েছিল যে, তিনি তার সওয়ারীর উপর জিন বাঁধার জন্য আদেশ দিতেন; জিন বাঁধা শেষ হওয়ার পূর্বেই তিনি তার উপর যা অবতীর্ণ তা পড়ে ফেলতেন। [২০৭৩] (আ.প্র. ৪৩৫২, ই.ফা. ৪৩৫৪)
৬৫/১৭/৮.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ বলুনঃ তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে মা’বূদ মনে কর, তাদেরকে ডাক, অথচ তারা তোমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করার ক্ষমতা রাখে না এবং তা পরিবর্তনও করতে পারে না। (সূরাহ বানী ইসরাঈল ১৭/৫৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭১৪
হাদিস নং ৪৭১৪
عَمْرُوْ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنِيْ سُلَيْمَانُ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ أَبِيْ مَعْمَرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ {إِلٰى رَبِّهِمُ الْوَسِيْلَةَ}قَالَ كَانَ نَاسٌ مِنَ الإِنْسِ يَعْبُدُوْنَ نَاسًا مِنَ الْجِنِّ فَأَسْلَمَ الْجِنُّ وَتَمَسَّكَ هَؤُلَاءِ بِدِيْنِهِمْ زَادَ الْأَشْجَعِيُّ عَنْ سُفْيَانَ عَنِ الْأَعْمَشِ {قُلِ ادْعُوا الَّذِيْنَ زَعَمْتُمْ}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
إِلَى رَبِّهِمْ الْوَسِيلَةَ তিনি আয়াতটি সম্পর্কে বলেন, কিছু মানুষ কিছু জিনের ‘ইবাদাত করত। সেই জিনেরা তো ইসলাম গ্রহণ করে ফেলল। আর ঐ লোকজন তাদের (পুরাতন) ধর্ম আঁকড়ে রইল। আশজা‘য়ী সুফ্ইয়ানের সূত্রে আ’মাশ (রাঃ) থেকে قُلْ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ আয়াতটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেন। [৪৭১৫, মুসলিম ৫৪/৪, হাঃ ৩০৩০] (আ.প্র. ৪৩৫৩, ই.ফা. ৪৩৫৫)
৬৫/১৭/৯.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ তারা যাদেরকে আহবান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের রবের নৈকট্য অর্জনের উপায় তালাশ করে। (সূরাহ বানী ইসরাঈল ১৭/৫৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭১৫
হাদিস নং ৪৭১৫
بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ أَبِيْ مَعْمَرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِيْ هَذِهِ الآيَةِ {الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ يَبْتَغُوْنَ إِلٰى رَبِّهِمُ الْوَسِيْلَةَ} قَالَ : نَاسٌ مِنَ الْجِنِّ يُعْبَدُوْنَ فَأَسْلَمُوْا.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمْ الْوَسِيلَةَ এ আয়াতটি সম্পর্কে বলেন, কিছু লোক জিনের পূজা করত। পরে জিনগুলো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করল। তাদের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। [৪৭১৪] (আ.প্র. ৪৩৫৪, ই.ফা. ৪৩৫৬)
৬৫/১৭/১০.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আমি আপনাকে যে দৃশ্য দেখিয়েছি তা (এবং কুরআনে উল্লেখিত অভিশপ্ত বৃক্ষটিও) শুধু মানুষের পরীক্ষার জন্য। (সূরাহ বানী ইসরাঈল ১৭/৬০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭১৬
হাদিস নং ৪৭১৬
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ {وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِيْٓ أَرَيْنَاكَ إِلَّا فِتْنَةً لِّلنَّاسِ} قَالَ هِيَ رُؤْيَا عَيْنٍ أُرِيَهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ {وَالشَّجَرَةَ الْمَلْعُوْنَةَ} شَجَرَةُ الزَّقُّوْمِ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْنَاكَ إِلاَّ فِتْنَةً لِلنَّاسِ এ আয়াত সম্পর্কে বলেন, এ আয়াতে رُؤْيَا (স্বপ্নে দেখা নয়, বরং) চোখ দ্বারা সরাসরি দেখা বোঝানো হয়েছে, যা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মি‘রাজের রাতে সরাসরি দেখানো হয়েছিল। আর এখানে الشَّجَرَةَ الْمَلْعُونَةَ (অভিশপ্ত বৃক্ষ) বলতে ‘যাক্কুম’ বৃক্ষ বোঝানো হয়েছে। [৩৮৮৮] (আ.প্র. ৪৩৫৫, ই.ফা. ৪৩৫৭)
[১] ‘যাক্কুম; বৃক্ষ, যা জাহান্নামীদের খাদ্য হবে। আল্লাহর বাণী ‘‘নিশ্চয়ই ‘যাক্কুম’ বৃক্ষ হবে পাপীদের খাদ্য। গলিত তাম্রের ক্ষত, তা তাদের উদরে ফুটতে থাকবে’’- (সূরাহ আল-ফুরকান ২৫/৪৩-৪৫)। জাহান্নামের এ বৃক্ষ এবং ‘মি’রাজ উভয়ই অলৌকিক ব্যাপার। আল্লাহ্ পরীক্ষা করেন। কে এটা বিশ্বাস করে, আর কে করে না।
৬৫/১৭/১১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ নিশ্চয় ফাজরের সলাতে (মালায়িকার উপস্থিতির সময়) কুরআন পাঠ সাক্ষ্য হিসেবে পেশ করা হয়। (সূরাহ বানী ইসরাঈল ১৭/৭৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭১৭
হাদিস নং ৪৭১৭
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِيْ سَلَمَةَ وَابْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَضْلُ صَلَاةِ الْجَمِيْعِ عَلَى صَلَاةِ الْوَاحِدِ خَمْسٌ وَعِشْرُوْنَ دَرَجَةً وَتَجْتَمِعُ مَلَائِكَةُ اللَّيْلِ وَمَلَائِكَةُ النَّهَارِ فِيْ صَلَاةِ الصُّبْحِ يَقُوْلُ أَبُوْ هُرَيْرَةَ اقْرَءُوْا إِنْ شِئْتُمْ {وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُوْدًا}.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, জামা‘আতের সঙ্গে সলাত আদায় করার ফাযীলাত একাকী সলাত পড়ার চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশী। আর ফাজ্রের সলাতে রাতের মালায়িকা এবং দিনের মালায়িকা সমবেত হয় (এ প্রসঙ্গে) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, তোমরা ইচ্ছা করলে এ আয়াতটি পড়ে নিতে পার। وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا (নিশ্চয় কায়িম করবে) “ফাজ্রের সলাত, ফাজ্রের সলাত” সাক্ষ্য হিসেবে পেশ করা হয়। [১৭৬] (আ.প্র. ৪৩৫৪, ই.ফা. ৪৩৫৮)
৬৫/১৭/১২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আশা করা যায়, আপনার রব আপনাকে মাকামে মাহমূদে প্রতিষ্ঠিত করবেন। (সূরাহ বানী ইসরাঈল ১৭/৭৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭১৮
হাদিস নং ৪৭১৮
إِسْمَاعِيْلُ بْنُ أَبَانَ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ آدَمَ بْنِ عَلِيٍّ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا يَقُوْلُ إِنَّ النَّاسَ يَصِيْرُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ جُثًا كُلُّ أُمَّةٍ تَتْبَعُ نَبِيَّهَا يَقُوْلُوْنَ يَا فُلَانُ اشْفَعْ يَا فُلَانُ اشْفَعْ حَتَّى تَنْتَهِيَ الشَّفَاعَةُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَلِكَ يَوْمَ يَبْعَثُهُ اللهُ الْمَقَامَ الْمَحْمُوْدَ
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, নিশ্চয়ই ক্বিয়ামাতের দিন লোকেরা ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। প্রত্যেক নাবীর উম্মাত স্বীয় নাবীর অনুসরণ করবে। তারা বলবে ঃ হে অমুক (নাবী)! আপনি সুপারিশ করুন। হে অমুক (নাবী)! আপনি সুপারিশ করুন। (কেউ সুপারিশ করতে চাইবেন না)। শেষ পর্যন্ত সুপারিশের দায়িত্ব নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর পড়বে। আর এ দিনেই আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁকে মাকামে মাহমূদ -এ পৌঁছাবেন। [১৪৭৫] (আ.প্র. ৪৩৫৭, ই.ফা. ৪৩৫৮)
[১] ‘মাকামে মাহ্মূদ’ হচ্ছে একমাত্র রাসূলুল্লাহ এর জন্য জান্নাতে এক বিশেষ মর্যাদার স্থান যা আর কাউকে দেয়া হবে না। মাকামে মাহমূদ এর অনুবাদ প্রশংসিত স্থান করলে এর পূর্ণ ভাব আদায় হয় না বিধায় একে মাকামে মাহমূদ নামেই বলা যথাযোগ্য।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭১৯
হাদিস নং ৪৭১৯
عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِيْ حَمْزَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ قَالَ حِيْنَ يَسْمَعُ النِّدَاءَ اللهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيْلَةَ وَالْفَضِيْلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُوْدًا الَّذِيْ وَعَدْتَهُ حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتِيْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَوَاهُ حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ اللهِ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
বর্ণনাকারী জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আযান শোনার পর এ দু‘আ পড়বে, “হে আল্লাহ্! এ পরিপূর্ণ আহ্বানের এবং প্রতিষ্ঠিত সলাতের রব, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ওয়াসীলা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান কর, প্রতিষ্ঠিত কর তাঁকে মাকামে মাহমূদে, যার ওয়াদা তুমি করেছ” ক্বিয়ামাতের দিন তার জন্য আমার শাফা‘আত অবধারিত হয়ে যাবে। এ হাদীসটি হামযা ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ তাঁর পিতা থেকে, তিনি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। [৬১৪] (আ.প্র. ৪৩৫৮, ই.ফা. ৪৩৬০)
৬৫/১৭/১৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ অতঃপর বলুনঃ সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা তো বিলুপ্ত হয়েই থাকে। (সূরাহ বানী ইসরাঈল ১৭/৮১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭২০
হাদিস নং ৪৭২০
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ أَبِيْ نَجِيْحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِيْ مَعْمَرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ وَحَوْلَ الْبَيْتِ سِتُّوْنَ وَثَلَاثُ مِائَةِ نُصُبٍ فَجَعَلَ يَطْعُنُهَا بِعُوْدٍ فِيْ يَدِهِ وَيَقُوْلُ {جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوْقًا} جَاءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَمَا يُعِيْدُ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাসউদ (রাঃ)
(মাক্কাহ বিজয়ের দিন) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মাক্কাহ্য় প্রবেশ করলেন, তখন কা‘বা ঘরের চারপাশে তিনশ’ ষাটটি মূর্তি ছিল। তখন তিনি তাঁর হাতের ছড়ি দিয়ে এগুলোকে ঠোকা দিতে লাগলেন এবং বলতে থাকলেন, “সত্য এসেছে আর এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই” (সূরাহ ইসরাঈল ১৭/৮১)। “সত্য এসেছে আর অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে এবং না পারে পুনরাবৃত্তি করতে।” [২৪৭৮] (আ.প্র. ৪৩৫৯, ই.ফা. ৪৩৬১)
৬৫/১৭/১৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলা বাণীঃ আর তারা আপনাকে ‘‘রূহ’’ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। (সূরাহ বানী ইসরাঈল ১৭/৮৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭২১
হাদিস নং ৪৭২১
عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ قَالَ حَدَّثَنِيْ إِبْرَاهِيْمُ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَا أَنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيْ حَرْثٍ وَهُوَ مُتَّكِئٌ عَلَى عَسِيْبٍ إِذْ مَرَّ الْيَهُوْدُ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ سَلُوْهُ عَنْ الرُّوْحِ فَقَالَ مَا رَأْيُكُمْ إِلَيْهِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَا يَسْتَقْبِلُكُمْ بِشَيْءٍ تَكْرَهُوْنَهُ فَقَالُوْا سَلُوْهُ فَسَأَلُوْهُ عَنْ الرُّوْحِ فَأَمْسَكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِمْ شَيْئًا فَعَلِمْتُ أَنَّهُ يُوْحَى إِلَيْهِ فَقُمْتُ مَقَامِيْ فَلَمَّا نَزَلَ الْوَحْيُ قَالَ {وَيَسْئَلُوْنَكَ عَنِ الرُّوْحِ ط قُلِ الرُّوْحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّيْ وَمَآ أُوْتِيْتُمْ مِّنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيْلًا}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ বিন মাস‘ঊদ (রাঃ)
তিনি বলেন, একদা আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে একটি ক্ষেতের মাঝে উপস্থিত ছিলাম। তিনি একটি খেজুরের লাঠিতে ভর করে দাঁড়িয়েছিলেন। এমন সময় কিছু সংখ্যক ইয়াহূদী যাচ্ছিল। তারা একে অন্যকে বলতে লাগল, তাঁকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। কেউ বলল, কেন তাকে জিজ্ঞেস করতে চাইছ? আবার কেউ বলল, তিনি এমন উত্তর দিবেন না, যা তোমরা অপছন্দ কর। তারপর তারা বলল যে, তাঁকে প্রশ্ন কর। এরপরে তাঁকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (উত্তরদানে) বিরত থাকলেন, এ সম্পর্কে তাদের কোন উত্তর দিলেন না। (বর্ণনাকারী বলছেন) আমি বুঝতে পারলাম, তাঁর ওপর ওয়াহী অবতীর্ণ হবে। আমি আমার জাযগায় দাঁড়িয়ে রইলাম। তারপর যখন ওয়াহী অবতীর্ণ হল, তখন তিনি [রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] বললেন, وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ الرُّوحِ قُلْ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلاَّ قَلِيلًا “আর তারা আপনাকে ‘রূহ’ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। আপনি বলে দিন ঃ রূহ আমার রবের আদেশঘটিত। এ বিষয়ে তোমাদেরকে খুব সামান্যই জ্ঞান দেয়া হয়েছে” (সূরাহ বানী ইসরাঈল ১৭/৮৫)। [১২৫] (আ.প্র. ৪৩৬০, ই.ফা. ৪৩৬২)
৬৫/১৭/১৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আর স্বীয় সলাতের কিরাআত খুব উচ্চৈঃস্বরেও পড়বে না এবং খুব ক্ষীণ স্বরেও পড়বে না। (সূরাহ বানী ইসরাঈল ১৭/১১০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭২২
হাদিস নং ৪৭২২
يَعْقُوْبُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا أَبُوْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فِيْ قَوْلِهِ تَعَالَى {وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا} قَالَ نَزَلَتْ وَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مُخْتَفٍ بِمَكَّةَ كَانَ إِذَا صَلَّى بِأَصْحَابِهِ رَفَعَ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ فَإِذَا سَمِعَهُ الْمُشْرِكُوْنَ سَبُّوا الْقُرْآنَ وَمَنْ أَنْزَلَهُ وَمَنْ جَاءَ بِهِ فَقَالَ اللهُ تَعَالَى لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم{وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ}أَيْ بِقِرَاءَتِكَ فَيَسْمَعَ الْمُشْرِكُوْنَ فَيَسُبُّوا الْقُرْآنَ {وَلَا تُخَافِتْ بِهَا}عَنْ أَصْحَابِكَ فَلَا تُسْمِعُهُمْ وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيْلًا
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, ‘সালাতে স্বর উঁচু করবে না এবং অতিশয় নিচুও করবে না। এ আয়াতটি এমন সময় নাযিল হয়, যখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাক্কাহ্য় অপ্রকাশ্যে অবস্থান করছিলেন। তিনি যখন তাঁর সাহাবাদের নিয়ে সলাত আদায় করতেন তখন তিনি উচ্চেঃস্বরে কুরআন পাঠ করতেন। মুশরিকরা তা শুনে কুরআনকে গালি দিত। আর গালি দিত যিনি তা অবতীর্ণ করেছেন তাঁকে (আল্লাহ্কে) এবং যিনি তা নিয়ে এসেছেন তাকে (জিব্রীল)। এজন্য আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিলেন, “তুমি তোমার সলাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পড়বে না, যাতে মুশরিকরা শুনে কুরআনকে গালি দেয় এবং তা এত নিচু স্বরেও পড়বে না, যাতে তোমার সহাবীরা শুনতে না পায়, বরং এ দুয়ের মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন কর।” [৭৪৯০, ৭৫২৫, ৭৫৪৭; মুসলিম ৪/৩১, হাঃ ৪৪৬, আহমাদ ১৮৫৩] (আ.প্র. ৪৩৬১, ই.ফা. ৪৩৬৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭২৩
হাদিস নং ৪৭২৩
طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ أُنْزِلَ ذَلِكَ فِي الدُّعَاءِ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا এ আয়াতটি দু‘আ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। [৬৩২৭, ৭৫২৬] (আ.প্র. ৪৩৬২, ই.ফা. ৪৩৬৪)
৬৫/১৮/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ কিন্তু মানুষ অতিরিক্ত কলহপ্রিয়। (সূরাহ কাহাফ ১৮/৫৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭২৪
হাদিস নং ৪৭২৪
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا يَعْقُوْبُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ عَنْ صَالِحٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ أَنَّ حُسَيْنَ بْنَ عَلِيٍّ أَخْبَرَهُ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم طَرَقَهُ وَفَاطِمَةَ قَالَ أَلَا تُصَلِّيَانِ.{رَجْمًامبِالْغَيْبِ} لَمْ يَسْتَبِنْ {فُرُطًا} يُقَالُ نَدَمًا {سُرَادِقُهَا} مِثْلُ السُّرَادِقِ وَالْحُجْرَةِ الَّتِيْ تُطِيْفُ بِالْفَسَاطِيْطِ {يُحَاوِرُه”} مِنَ الْمُحَاوَرَةِ [أشار به قوله تعالى : {وَكَانَ لَه” ثَمَرٌ فَقَالَ لِصَاحِبِهٰ وَهُوَ يُحَاوِرُه”} الآية قوله : من المحاورة يعني : لفظ يحاوره مشتق من المحاورة وهي المراجعة، وفي التفسير : يحاوره، أي : يجاوبه]. {لٰكِنَّا هُوَ اللهُ رَبِّيْ} أَيْ لَكِنْ أَنَا هُوَ اللهُ رَبِّيْ ثُمَّ حَذَفَ الْأَلِفَ وَأَدْغَمَ إِحْدَى النُّوْنَيْنِ فِي الْأُخْرَى {وَفَجَّرْنَا خِلَالَهُمَا نَهَرًا} يَقُوْلُ بَيْنَهُمَا {زَلَقًا} لَا يَثْبُتُ فِيْهِ قَدَمٌ {هُنَالِكَالْوِلَايَةُ} مَصْدَرُ الْوَلِيِّ {عُقُبًا} عَاقِبَةً وَعُقْبَى وَعُقْبَةً وَاحِدٌ وَهِيَ الْآخِرَةُ {قِبَلًا} وَقُبُلًا وَقَبَلًا اسْتِئْنَافًا {لِيُدْحِضُوْا} لِيُزِيْلُوا الدَّحْضُ الزَّلَقُ.
বর্ণনাকারী ‘আলী (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা রাতের বেলা তাঁর ও ফাতেমাহ (রাঃ)-এর কাছে এসে বললেন, তোমরা কি সলাত আদায় করছ না? رَجْمًا بِالْغَيْبِ ব্যাপারটি অস্পষ্ট ছিল। فُرُطًا লজ্জিত। سُرَادِقُهَا তার বেষ্টনীর মত। অর্থাৎ ক্ষুদ্র কক্ষসমূহ, যা তাঁবু পরিবেষ্টন করে রেখেছে। يُحَاوِرُهُ শব্দটি مُحَاوَرَةِ থেকে গঠিত। অর্থ কথার-আদান-প্রদান। لَكِنَّا هُوَ اللهُ رَبِّي (কিন্তু আল্লাহ্ই আমার প্রতিপালক।) এখানে আসলে ছিল لَكِنَّ أَنَا هُوَ اللهُ رَبِّي কিন্তু ‘হামযাহ’ লোপ করে একটা ‘নুন’ আর একটি ‘নুনের’ সঙ্গে এদ্গাম যুক্ত করে দেয়া হয়েছে زَلَقًا অর্থ, যার ওপর পা টিকে থাকে না। هُنَالِكَ الْوِلاَيَةُ (এ ক্ষেত্রে সাহায্য করার অধিকার) الْوِلاَيَةُ এটি وَلِيِّ শব্দের মাসদার عُقْبَةً-عُقْبَى-عَاقِبَةً-عُقُبًا সবগুলো এই অর্থে ব্যবহৃত। এর অর্থ আখিরাত। قَبْلاً-قُبُلاً-قِبْلاً সম্মুখ لِيُدْحِضُوا (সূচনা করা) الدَّحْضُ থেকে গঠিত। দূরীভূত করা, অর্থ পদস্খলন। [১১২৭] (আ.প্র. ৪৩৬৩, ই.ফা. ৪৩৬৫)
[১]رَّقِيْمُ লিখিত ফলক। গুহাবাসীর পরিচিতি এতে খোদাই করা ছিল।[১] সলাত-এর মর্ম ‘তাহাজ্জুদের সলাত’ (পরবর্তীতে) ‘আলী (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ আমাদের জেগে তাহাজ্জুদের সলাত আদায়ের তাওফীক দান করেননি। তখন রসূলুল্লাহ্ وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا এ আয়াত পড়ে চলে গেলেন। (বুখারী, ১ম খন্ড, তাহাজ্জুদ অধ্যায়)।[2]هُنَالِكَ الْوِلَايَةُ لُلّه الحق অর্থ, এ ক্ষেত্রে সাহায্য করার অধিকার একমাত্র আল্লাহরই। (সূরাহ হিজর ১৫/৪৪)
৬৫/১৮/২.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭২৫
হাদিস নং ৪৭২৫
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَمْرُوْ بْنُ دِيْنَارٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ سَعِيْدُ بْنُ جُبَيْرٍ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ إِنَّ نَوْفًا الْبِكَالِيَّ يَزْعُمُ أَنَّ مُوْسَى صَاحِبَ الْخَضِرِ لَيْسَ هُوَ مُوْسَى صَاحِبَ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَذَبَ عَدُوُّ اللهِ حَدَّثَنِيْ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ إِنَّ مُوْسَى قَامَ خَطِيْبًا فِيْ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ فَسُئِلَ أَيُّ النَّاسِ أَعْلَمُ فَقَالَ أَنَا فَعَتَبَ اللهُ عَلَيْهِ إِذْ لَمْ يَرُدَّ الْعِلْمَ إِلَيْهِ فَأَوْحَى اللهُ إِلَيْهِ إِنَّ لِيْ عَبْدًا بِمَجْمَعِ الْبَحْرَيْنِ هُوَ أَعْلَمُ مِنْكَ قَالَ مُوْسَى يَا رَبِّ فَكَيْفَ لِيْ بِهِ قَالَ تَأْخُذُ مَعَكَ حُوْتًا فَتَجْعَلُهُ فِيْ مِكْتَلٍ فَحَيْثُمَا فَقَدْتَ الْحُوْتَ فَهُوَ ثَمَّ فَأَخَذَ حُوْتًا فَجَعَلَهُ فِيْ مِكْتَلٍ ثُمَّ انْطَلَقَ وَانْطَلَقَ مَعَهُ بِفَتَاهُ يُوْشَعَ بْنِ نُوْنٍ حَتَّى إِذَا أَتَيَا الصَّخْرَةَ وَضَعَا رُءُوْسَهُمَا فَنَامَا وَاضْطَرَبَ الْحُوْتُ فِي الْمِكْتَلِ فَخَرَجَ مِنْهُ فَسَقَطَ فِي الْبَحْرِ فَاتَّخَذَ سَبِيْلَهُ فِي الْبَحْرِ سَرَبًا وَأَمْسَكَ اللهُ عَنِ الْحُوْتِ جِرْيَةَ الْمَاءِ فَصَارَ عَلَيْهِ مِثْلَ الطَّاقِ فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ نَسِيَ صَاحِبُهُ أَنْ يُخْبِرَهُ بِالْحُوْتِ فَانْطَلَقَا بَقِيَّةَ يَوْمِهِمَا وَلَيْلَتَهُمَا حَتَّى إِذَا كَانَ مِنَ الْغَدِ قَالَ مُوْسَى لِفَتَاهُ آتِنَا غَدَاءَنَا لَقَدْ لَقِيْنَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا قَالَ وَلَمْ يَجِدْ مُوْسَى النَّصَبَ حَتَّى جَاوَزَا الْمَكَانَ الَّذِيْ أَمَرَ اللهُ بِهِ فَقَالَ لَهُ فَتَاهُ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّيْ نَسِيْتُ الْحُوْتَ وَمَا أَنْسَانِيْهِ إِلَّا الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ وَاتَّخَذَ سَبِيْلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا قَالَ فَكَانَ لِلْحُوْتِ سَرَبًا وَلِمُوْسَى وَلِفَتَاهُ عَجَبًا فَقَالَ مُوْسَى ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِيْ فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا قَالَ رَجَعَا يَقُصَّانِ آثَارَهُمَا حَتَّى انْتَهَيَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِذَا رَجُلٌ مُسَجًّى ثَوْبًا فَسَلَّمَ عَلَيْهِ مُوْسَى فَقَالَ الْخَضِرُ وَأَنَّى بِأَرْضِكَ السَّلَامُ قَالَ أَنَا مُوْسَى قَالَ مُوْسَى بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ قَالَ نَعَمْ أَتَيْتُكَ لِتُعَلِّمَنِيْ مِمَّا عُلِّمْتَ رَشَدًا قَالَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيْعَ مَعِيْ صَبْرًا يَا مُوْسَى إِنِّيْ عَلَى عِلْمٍ مِنْ عِلْمِ اللهِ عَلَّمَنِيْهِ لَا تَعْلَمُهُ أَنْتَ وَأَنْتَ عَلَى عِلْمٍ مِنْ عِلْمِ اللهِ عَلَّمَكَهُ اللهُ لَا أَعْلَمُهُ فَقَالَ مُوْسَى سَتَجِدُنِيْ إِنْ شَاءَ اللهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِيْ لَكَ أَمْرًا فَقَالَ لَهُ الْخَضِرُ فَإِنْ اتَّبَعْتَنِيْ فَلَا تَسْأَلْنِيْ عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا فَانْطَلَقَا يَمْشِيَانِ عَلَى سَاحِلِ الْبَحْرِ فَمَرَّتْ سَفِيْنَةٌ فَكَلَّمُوْهُمْ أَنْ يَحْمِلُوْهُمْ فَعَرَفُوا الْخَضِرَ فَحَمَلُوْهُمْ بِغَيْرِ نَوْلٍ فَلَمَّا رَكِبَا فِي السَّفِيْنَةِ لَمْ يَفْجَأْ إِلَّا وَالْخَضِرُ قَدْ قَلَعَ لَوْحًا مِنَ الْوَاحِ السَّفِيْنَةِ بِالْقَدُوْمِ فَقَالَ لَهُ مُوْسَى قَوْمٌ قَدْ حَمَلُوْنَا بِغَيْرِ نَوْلٍ عَمَدْتَ إِلَى سَفِيْنَتِهِمْ فَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيْعَ مَعِيْ صَبْرًا قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِيْ بِمَا نَسِيْتُ وَلَا تُرْهِقْنِيْ مِنْ أَمْرِيْ عُسْرًا.قَالَ : وَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَتْ الْأُوْلَى مِنْ مُوْسَى نِسْيَانًا قَالَ وَجَاءَ عُصْفُوْرٌ فَوَقَعَ عَلَى حَرْفِ السَّفِيْنَةِ فَنَقَرَ فِي الْبَحْرِ نَقْرَةً فَقَالَ لَهُ الْخَضِرُ مَا عِلْمِيْ وَعِلْمُكَ مِنْ عِلْمِ اللهِ إِلَّا مِثْلُ مَا نَقَصَ هَذَا الْعُصْفُوْرُ مِنْ هَذَا الْبَحْرِ ثُمَّ خَرَجَا مِنْ السَّفِيْنَةِ فَبَيْنَا هُمَا يَمْشِيَانِ عَلَى السَّاحِلِ إِذْ أَبْصَرَ الْخَضِرُ غُلَامًا يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ فَأَخَذَ الْخَضِرُ رَأْسَهُ بِيَدِهِ فَاقْتَلَعَهُ بِيَدِهِ فَقَتَلَهُ فَقَالَ لَهُ مُوْسَى أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَاكِيَةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيْعَ مَعِيْ صَبْرًا قَالَ وَهَذِهِ أَشَدُّ مِنَ الْأُوْلَى قَالَ إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلَا تُصَاحِبْنِيْ قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَدُنِّيْ عُذْرًا فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوْهُمَا فَوَجَدَا فِيْهَا جِدَارًا يُرِيْدُ أَنْ يَنْقَضَّ قَالَ مَائِلٌ فَقَامَ الْخَضِرُ فَأَقَامَهُ بِيَدِهِ فَقَالَ مُوْسَى قَوْمٌ أَتَيْنَاهُمْ فَلَمْ يُطْعِمُوْنَا وَلَمْ يُضَيِّفُوْنَا لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا قَالَ {هٰذَا فِرَاقُ بَيْنِيْ وَبَيْنِكَ} إِلَى قَوْلِهِ {ذٰلِكَ تَأْوِيْلُ مَا لَمْ تَسْطِعْ عَّلَيْهِ صَبْرًا} فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَدِدْنَا أَنَّ مُوْسَى كَانَ صَبَرَ حَتَّى يَقُصَّ اللهُ عَلَيْنَا مِنْ خَبَرِهِمَا.قَالَ سَعِيْدُ بْنُ جُبَيْرٍ فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقْرَأُ وَكَانَ أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِيْنَةٍ صَالِحَةٍ غَصْبًا وَكَانَ يَقْرَأُ {وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ كَافِرًا وَّكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ}.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি ইব্নু ‘আব্বাসকে বললাম, নওফ আল-বাক্কালীর ধারণা, খাযিরের সাথী মূসা, তিনি বানী ইসরাঈলের নাবী মূসা (‘আ.) ছিলেন না। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র দুশমন মিথ্যা কথা বলেছে। [ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন] উবাই ইব্নু কা‘আব (রাঃ) আমাকে বলেছেন, তিনি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন, মূসা (‘আ.) একবার বানী ইসরাঈলের সম্মুখে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হল, কোন্ ব্যক্তি সবচেয়ে জ্ঞানী? তিনি বললেন, আমি। এতে আল্লাহ্ তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা এ জ্ঞানের ব্যাপারটিকে তিনি আল্লাহ্র সঙ্গে সম্পৃক্ত করেননি। আল্লাহ্ তাঁর প্রতি ওয়াহী পাঠালেন, দু-সমুদ্রের সংযোগস্থলে আমার এক বান্দা রয়েছে, সে তোমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। মূসা (‘আ.) বললেন, ইয়া রব, আমি কীভাবে তাঁর সাক্ষাৎ পেতে পারি? আল্লাহ্ বললেন, তোমার সঙ্গে একটি মাছ নাও এবং সেটা থলের মধ্যে রাখ, যেখানে মাছটি হারিয়ে যাবে সেখানেই। তারপর তিনি একটি মাছ নিলেন এবং সেটাকে থলের মধ্যে রাখলেন। অতঃপর রওনা দিলেন। আর সঙ্গে চললেন তাঁর খাদেম ‘ইউশা’ ইব্নু নূন। তাঁরা যখন সমুদ্রের ধারে একটি বড় পাথরের কাছে এসে হাজির হলেন, তখন তারা উভয়েই তার ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। এ সময় মাছটি থলের ভিতর লাফিয়ে উঠল এবং থলে থেকে বের হয়ে সমুদ্রে চলে গেল। “মাছটি সুড়ঙ্গের মত পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল।” আর মাছটি যেখান দিয়ে চলে গিয়েছিল, আল্লাহ্ সেখান থেকে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দিলেন এবং সেখানে একটি সুড়ঙ্গের মত হয় গেল। যখন তিনি জাগ্রত হলেন, তাঁর সাথী তাঁকে মাছটির সংবাদ দিতে ভুলে গিয়েছিলেন। সেদিনের বাকী সময় ও পরবর্তী রাত তাঁরা চললেন। যখন ভোর হল, মূসা (‘আ.) তাঁর খাদিমকে বললেন ‘আমাদের সকালের আহার আন, আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।” রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহ্ যে স্থানের নির্দেশ করেছিলেন, সে স্থান অতিক্রম করার পূর্বে মূসা (‘আ.) ক্লান্ত হননি। তখন তাঁর খাদিম তাঁকে বলল, “আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখণ্ডে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শায়ত্বনই এ কথা বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মাছটি বিস্ময়করভাবে নিজের পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল ।”রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, মাছটি তার পথ করে সমুদ্রে নেমে গিয়েছিল এবং মূসা (‘আ.) ও তাঁর খাদেমকে তা আশ্চর্যানি¦ত করে দিয়েছিল। মূসা (‘আ.) বললেন ঃ “আমরা তো সে স্থানটিরই খোঁজ করছিলাম। তারপর তাঁরা নিজদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চলল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তারা উভয়ে তাঁদের পদচিহ্ন ধরে সে শিলাখণ্ডের কাছে ফিরে আসলেন। সেখানে এক ব্যক্তিকে কাপড়ে জড়ানো অবস্থায় পেলেন। মূসা (‘আ.) তাকে সালাম দিলেন। খাযির (‘আ.) বললেন, তোমাদের এ স্থলে ‘সালাম’ আসলো কোত্থেকে? তিনি বললেন, আমি মূসা। খাযির (‘আ.) জিজ্ঞেস করলেন, বানী ইসরাঈলের মূসা? তিনি বললেন, হাঁ, আমি আপনার কাছে এসেছি এ জন্য যে, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন। তিনি বললেন, তুমি কিছুতেই আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করতে পারবে না।” হে মূসা! আল্লাহ্র জ্ঞান থেকে আমাকে এমন কিছু জ্ঞান দান করা হয়েছে যা তুমি জান না আর তোমাকে আল্লাহ্ তাঁর জ্ঞান থেকে যে জ্ঞান দান করেছেন, তা আমি জানি না। মূসা (‘আ.) বললেন, “ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করব না।” তখন খাযির (‘আ.) তাঁকে বললেন, “আচ্ছা, তুমি যদি আমার অনুসরণ করই, তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবে না, যতক্ষণ আমি তোমাকে সে সম্পর্কে না বলি। তারপর উভয়ে চললেন।” তাঁরা সুমদ্রের পাড় ধরে চলতে লাগলেন, তখন একটি নৌকা যাচ্ছিল। তাঁরা তাদের নৌকায় উঠিয়ে নেয়ার ব্যাপারে নৌকার চালকদের সঙ্গে আলাপ করলেন। তারা খাযির (‘আ.)-কে চিনে ফেলল। তাই তাদেরকে বিনা পারিশ্রমিকে নৌকায় উঠিয়ে নিল। “যখন তাঁরা উভয়ে নৌকায় উঠলেন” খাযির (‘আ.) কুড়াল দিয়ে নৌকার একটি তক্তা ছিদ্র করে দিলেন। মূসা (‘আ.) তাঁকে বললেন, এ লোকেরা তো বিনা মজুরিতে আমাদের বহন করছে, অথচ আপনি এদের নৌকাটি নষ্ট করছেন। আপনি নৌকাটি ছিদ্র করে ফেললেন, যাতে আরোহীরা ডুবে যায়। আপনি তো এক অন্যায় কাজ করলেন, (খাযির বললেন) আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবে না। মূসা বললেন, আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না ও আমার ব্যাপারে অতিরিক্ত কঠোরতা করবেন না।” রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মূসা (‘আ.)-এর প্রথম এ অপরাধটি ভুল করে হয়েছিল। তিনি বললেন, এরপরে একটি চড়–ই পাখি এসে নৌকার পার্শ্বে বসে ঠোঁট দিয়ে সমুদ্রে এক ঠোকর মারল। খাযির (‘আ.) মূসা (‘আ.)-কে বললেন, এ সমুদ্র হতে চড়–ই পাখিটি যতটুকু পানি ঠোঁটে নিল, আমার ও তোমার জ্ঞান আল্লাহ্র জ্ঞানের তুলনায় ততটুকু। তারপর তাঁরা নৌকা থেকে নেমে সমুদ্রের পাড় ধরে চলতে লাগলেন। এমতাবস্থায় খাযির (‘আ.) একটি বালককে অন্য বালকদের সঙ্গে খেলতে দেখলেন। খাযির (‘আ.) হাত দিয়ে ছেলেটির মাথা ধরে তাকে হত্যা করলেন। মূসা (‘আ.) খাযির (‘আ.)-কে বললেন, “আপনি কি প্রাণের বদলা ব্যতিরেকেই নিষ্পাপ একটি প্রাণকে হত্যা করলেন? আপনি তো চরম এক অন্যায় কাজ করলেন। তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করে থাকতে পারবে না।” নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ অভিযোগটি ছিল প্রথমটির অপেক্ষাও মারাত্মক। [মূসা (‘আ.) বললেন] এরপর যদি আমি আপনাকে কোন ব্যাপারে প্রশ্ন করি তবে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখবেন না; আপনার কাছে আমার ওযর আপত্তি চূড়ান্তে পৌঁছেছে। তারপর উভয়ে চলতে লাগলেন। শেষে তারা এক বসতির কাছে পৌঁছে তার বাসিন্দাদের কাছে খাদ্য চাইলেন। কিন্তু তারা তাদের আতিথেয়তা করতে অস্বীকৃতি জানাল। তারপর সেখানে তারা এক পতনোন্মুখ দেয়াল দেখতে পেলেন। বর্ণনাকারী বলেন, সেটি ঝুঁকে পড়েছিল। খাযির (‘আ.) নিজ হাতে সেটি সোজা করে দিলেন। মূসা (‘আ.) বললেন, এ লোকদের কাছে আমরা এলাম, তারা আমাদের খাদ্য দিল না এবং আমাদের আতিথেয়তাও করল না। “আপনি তো ইচ্ছা করলে এর জন্য পারিশ্রমিক নিতে পারতেন। তিনি বললেন, এখানেই তোমার এবং আমার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটল। .....যে বিষয়ে তুমি ধৈর্যধারণ করতে পারনি, এ তার ব্যাখ্যা।”রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমার মনের বাসনা যে, যদি মূসা (‘আ.) আর একটু ধৈর্যধারণ করতেন, তাহলে আল্লাহ্ তাঁদের আরও ঘটনা আমাদের জানাতেন। সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রাঃ) বলেন, ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) এভাবে এ আয়াত পাঠ করতেন- وَكَانَ اَمَا مَهُمْ مَلِكٌ يَّاخُذُ كُلَّ سَفِيْنَةٍ صَالِحَةً غَصْبًاনিচের আয়াতটি এভাবে পাঠ করলেন- وَأَمَّا الْغُلاَمُ فَكَانَ كَافِرًا وَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ। [৭৪] (আ.প্র. ৪৩৬৪, ই.ফা. ৪৩৬৬)
[১] নওফ আল-বাককালী- সে একজন মুসলিম। ইব্নু ‘আববাস তাকে আল্লাহর দুশমন বলেছেন রাগান্বিত অবস্থায়।[2] স্থানঃ যেখানে মাছটি হারিয়ে যাবে।
৬৫/১৮/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তারপর যখন তারা চলতে চলতে দুই সাগরের সংযোগস্থলে পৌঁছলেন, তখন তারা তাদের মাছের কথা ভুলে গেলেন। আর মাছটি সুড়ঙ্গের মত পথ করে সাগরের মধ্যে চলে গেল। (সূরাহ আল-কাহাফ ১৮/৬১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭২৬
হাদিস নং ৪৭২৬
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ يُوْسُفَ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنِيْ يَعْلَى بْنُ مُسْلِمٍ وَعَمْرُوْ بْنُ دِيْنَارٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ يَزِيْدُ أَحَدُهُمَا عَلَى صَاحِبِهِ وَغَيْرُهُمَا قَدْ سَمِعْتُهُ يُحَدِّثُهُ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ إِنَّا لَعِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيْ بَيْتِهِ إِذْ قَالَ سَلُوْنِيْ قُلْتُ أَيْ أَبَا عَبَّاسٍ جَعَلَنِي اللهُ فِدَاءَكَ بِالْكُوْفَةِ رَجُلٌ قَاصٌّ يُقَالُ لَهُ نَوْفٌ يَزْعُمُ أَنَّهُ لَيْسَ بِمُوْسَى بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ أَمَّا عَمْرٌو فَقَالَ لِيْ قَالَ قَدْ كَذَبَ عَدُوُّ اللهِ وَأَمَّا يَعْلَى فَقَالَ لِيْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِيْ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مُوْسَى رَسُوْلُ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَام قَالَ ذَكَّرَ النَّاسَ يَوْمًا حَتَّى إِذَا فَاضَتْ الْعُيُوْنُ وَرَقَّتْ الْقُلُوْبُ وَلَّى فَأَدْرَكَهُ رَجُلٌ فَقَالَ أَيْ رَسُوْلَ اللهِ هَلْ فِي الْأَرْضِ أَحَدٌ أَعْلَمُ مِنْكَ قَالَ لَا فَعَتَبَ عَلَيْهِ إِذْ لَمْ يَرُدَّ الْعِلْمَ إِلَى اللهِ قِيْلَ بَلَى قَالَ أَيْ رَبِّ فَأَيْنَ قَالَ بِمَجْمَعِ الْبَحْرَيْنِ قَالَ أَيْ رَبِّ اجْعَلْ لِيْ عَلَمًا أَعْلَمُ ذَلِكَ بِهِ فَقَالَ لِيْ عَمْرٌو قَالَ حَيْثُ يُفَارِقُكَ الْحُوْتُ وَقَالَ لِيْ يَعْلَى قَالَ خُذْ نُوْنًا مَيِّتًا حَيْثُ يُنْفَخُ فِيْهِ الرُّوْحُ فَأَخَذَ حُوْتًا فَجَعَلَهُ فِيْ مِكْتَلٍ فَقَالَ لِفَتَاهُ لَا أُكَلِّفُكَ إِلَّا أَنْ تُخْبِرَنِيْ بِحَيْثُ يُفَارِقُكَ الْحُوْتُ قَالَ مَا كَلَّفْتَ كَثِيْرًا فَذَلِكَ قَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ {وَإِذْ قَالَ مُوْسٰى} لِفَتَاهُ يُوْشَعَ بْنِ نُوْنٍ لَيْسَتْ عَنْ سَعِيْدٍ قَالَ فَبَيْنَمَا هُوَ فِيْ ظِلِّ صَخْرَةٍ فِيْ مَكَانٍ ثَرْيَانَ إِذْ تَضَرَّبَ الْحُوْتُ وَمُوْسَى نَائِمٌ فَقَالَ فَتَاهُ لَا أُوْقِظُهُ حَتَّى إِذَا اسْتَيْقَظَ نَسِيَ أَنْ يُخْبِرَهُ وَتَضَرَّبَ الْحُوْتُ حَتَّى دَخَلَ الْبَحْرَ فَأَمْسَكَ اللهُ عَنْهُ جِرْيَةَ الْبَحْرِ حَتَّى كَأَنَّ أَثَرَهُ فِيْ حَجَرٍ قَالَ لِيْ عَمْرٌو هَكَذَا كَأَنَّ أَثَرَهُ فِيْ حَجَرٍ وَحَلَّقَ بَيْنَ إِبْهَامَيْهِ وَاللَّتَيْنِ تَلِيَانِهِمَا لَقَدْ لَقِيْنَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا قَالَ قَدْ قَطَعَ اللهُ عَنْكَ النَّصَبَ لَيْسَتْ هَذِهِ عَنْ سَعِيْدٍ أَخْبَرَهُ فَرَجَعَا فَوَجَدَا خَضِرًا قَالَ لِيْ عُثْمَانُ بْنُ أَبِيْ سُلَيْمَانَ عَلَى طِنْفِسَةٍ خَضْرَاءَ عَلَى كَبِدِ الْبَحْرِ قَالَ سَعِيْدُ بْنُ جُبَيْرٍ مُسَجًّى بِثَوْبِهِ قَدْ جَعَلَ طَرَفَهُ تَحْتَ رِجْلَيْهِ وَطَرَفَهُ تَحْتَ رَأْسِهِ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ مُوْسَى فَكَشَفَ عَنْ وَجْهِهِ وَقَالَ هَلْ بِأَرْضِيْ مِنْ سَلَامٍ مَنْ أَنْتَ قَالَ أَنَا مُوْسَى قَالَ مُوْسَى بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَمَا شَأْنُكَ قَالَ جِئْتُ لِتُعَلِّمَنِيْ مِمَّا عُلِّمْتَ رَشَدًا قَالَ أَمَا يَكْفِيْكَ أَنَّ التَّوْرَاةَ بِيَدَيْكَ وَأَنَّ الْوَحْيَ يَأْتِيْكَ يَا مُوْسَى إِنَّ لِيْ عِلْمًا لَا يَنْبَغِيْ لَكَ أَنْ تَعْلَمَهُ وَإِنَّ لَكَ عِلْمًا لَا يَنْبَغِيْ لِيْ أَنْ أَعْلَمَهُ فَأَخَذَ طَائِرٌ بِمِنْقَارِهِ مِنَ الْبَحْرِ وَقَالَ وَاللهِ مَا عِلْمِيْ وَمَا عِلْمُكَ فِيْ جَنْبِ عِلْمِ اللهِ إِلَّا كَمَا أَخَذَ هَذَا الطَّائِرُ بِمِنْقَارِهِ مِنَ الْبَحْرِ {حَتّٰىٓ إِذَا رَكِبَا فِي السَّفِيْنَةِ} وَجَدَا مَعَابِرَ صِغَارًا تَحْمِلُ أَهْلَ هَذَا السَّاحِلِ إِلَى أَهْلِ هَذَا السَّاحِلِ الْآخَرِ عَرَفُوْهُ فَقَالُوْا عَبْدُ اللهِ الصَّالِحُ قَالَ قُلْنَا لِسَعِيْدٍ خَضِرٌ قَالَ نَعَمْ لَا نَحْمِلُهُ بِأَجْرٍ فَخَرَقَهَا وَوَتَدَ فِيْهَا وَتِدًا قَالَ مُوْسَى {أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا} قَالَ مُجَاهِدٌ مُنْكَرًا {قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيْعَ مَعِيْ صَبْرًا} كَانَتْ الْأُوْلَى نِسْيَانًا وَالْوُسْطَى شَرْطًا وَالثَّالِثَةُ عَمْدًا {قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِيْ بِمَا نَسِيْتُ وَلَا تُرْهِقْنِيْ مِنْ أَمْرِيْ عُسْرًا لَقِيَا غُلَامًا فَقَتَلَهُ} قَالَ يَعْلَى قَالَ سَعِيْدٌ وَجَدَ غِلْمَانًا يَلْعَبُوْنَ فَأَخَذَ غُلَامًا كَافِرًا ظَرِيْفًا فَأَضْجَعَهُ ثُمَّ ذَبَحَهُ بِالسِّكِّيْنِ قَالَ {أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةًمبِغَيْرِ نَفْسٍ} لَمْ تَعْمَلْ بِالْحِنْثِ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَرَأَهَا زَكِيَّةً زَاكِيَةً مُسْلِمَةً كَقَوْلِكَ غُلَامًا زَكِيًّا فَانْطَلَقَا فَوَجَدَا جِدَارًا يُرِيْدُ أَنْ يَنْقَضَّ فَأَقَامَهُ قَالَ سَعِيْدٌ بِيَدِهِ هَكَذَا وَرَفَعَ يَدَهُ فَاسْتَقَامَ قَالَ يَعْلَى حَسِبْتُ أَنَّ سَعِيْدًا قَالَ فَمَسَحَهُ بِيَدِهِ فَاسْتَقَامَ {لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا}قَالَ سَعِيْدٌ أَجْرًا نَأْكُلُهُ {وَكَانَ وَرَآءَهُمْ} وَكَانَ أَمَامَهُمْ قَرَأَهَا ابْنُ عَبَّاسٍ أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَزْعُمُوْنَ عَنْ غَيْرِ سَعِيْدٍ أَنَّهُ هُدَدُ بْنُ بُدَدَ وَالْغُلَامُ الْمَقْتُوْلُ اسْمُهُ يَزْعُمُوْنَ جَيْسُوْرٌ {مَلِكٌ يَّأْخُذُ كُلَّ سَفِيْنَةٍ غَصْبًا فَأَرَدْتُ} إِذَا هِيَ مَرَّتْ بِهِ أَنْ يَدَعَهَا لِعَيْبِهَا فَإِذَا جَاوَزُوْا أَصْلَحُوْهَا فَانْتَفَعُوْا بِهَا وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُوْلُ سَدُّوْهَا بِقَارُوْرَةٍ وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُوْلُ بِالْقَارِ كَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ وَكَانَ كَافِرًا فَخَشِيْنَا أَنْ يُرْهِقَهُمَا طُغْيَانًا وَكُفْرًا أَنْ يَحْمِلَهُمَا حُبُّهُ عَلَى أَنْ يُتَابِعَاهُ عَلَى دِيْنِهِ فَأَرَدْنَا أَنْ يُبَدِّلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِنْهُ زَكَاةً وأقْرَبَ رُحْمًا لِقَوْلِهِ {قَالَ أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً} وَأَقْرَبَ رُحْمًا هُمَا بِهِ أَرْحَمُ مِنْهُمَا بِالأَوَّلِ الَّذِيْ قَتَلَ خَضِرٌ وَزَعَمَ غَيْرُ سَعِيْدٍ أَنَّهُمَا أُبْدِلَا جَارِيَةً وَأَمَّا دَاوُدُ بْنُ أَبِيْ عَاصِمٍ فَقَالَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ إِنَّهَا جَارِيَةٌ.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে তাঁর ঘরে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, ইচ্ছা হলে আমার কাছে প্রশ্ন কর। আমি বললাম, হে আবূ ‘আব্বাস! আল্লাহ্ আমাকে আপনার উপর উৎসর্গ করুন। কূফায় নওফ নামক একজন কিচ্ছাকার আছে। সে বলছে যে, খাযির (‘আ.)-এর সঙ্গে যে মূসার সাক্ষাৎ হয়েছিল, তিনি বানী ইসরাঈলের (প্রতি প্রেরিত) মূসা নন। তবে, ‘আম্র ইব্নু দীনার আমাকে বলেছেন যে, ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) এ কথা শুনে বললেন, আল্লাহ্র দুশমন মিথ্যা কথা বলেছে। কিন্তু ইয়ালা (একজন বর্ণনাকারী) আমাকে বলেছেন যে, ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) এ কথা শুনে বললেন, উবাই ইব্নু কা‘ব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্র রসূল মূসা (‘আ.) একদিন লোকেদের সামনে নসীহত করছিলেন। অবশেষে যখন তাদের অশ্র“ ঝরতে লাগল এবং তাদের অন্তর গলে গেল, তখন তিনি ওয়ায সমাপ্ত করলেন। এক ব্যক্তি তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্র রসূল! এ পৃথিবীতে আপনার চেয়ে বেশি জ্ঞানী আর কেউ আছে কি? তিনি বললেন, না। এতে আল্লাহ্ তার উপর অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা, তিনি এ কথাটি আল্লাহ্র সঙ্গে সম্পর্কিত করেনি। তখন তাকে বলা হল, নিশ্চয় আছে। মূসা (‘আ.) বললেন, হে রব! তিনি কোথায়? আল্লাহ্ বললেন, তিনি দু’ সমুদ্রের সংযোগস্থলে। মূসা (‘আ.) বললেন, হে রব! আপনি আমাকে এমন নিদর্শন বলুন, যার সাহায্যে আমি তার পরিচয় পেতে পারি। বর্ণনাকারী ইব্নু জুরাইজ বলেন, আম্র আমাকে এভাবে বলেছেন যে, তাকে (পাওয়া যাবে), যেখানে মাছটি তোমার নিকট হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর ইয়ালা আমাকে এভাবে বলেছেন, একটি মরা মাছ লও, যেখানে মাছটির মধ্যে প্রাণ দেয়া হবে (সেখানেই তাকে পাবে)। তারপর মূসা (‘আ.) একটি মাছ নিলেন এবং তা থলের ভিতর রাখলেন। তিনি তার খাদেমকে বললেন, আমি তোমাকে শুধু এ দায়িত্ব দিচ্ছি যে, মাছটি যেখানে তোমার থেকে চলে যাবে, সে জায়গার কথা আমাকে বলবে। খাদেম বলল, এ তো তেমন বড় দায়িত্ব নয়। এরই বিবরণ রয়েছে আল্লাহ্ তা‘আলার এ বাণীতে ঃ “আর যখন মূসা বললেন তাঁর খাদেমকে অর্থাৎ ইউশা ইব্নু নূনকে”। সা‘ঈদ (বর্ণনাকারী) এর বর্ণনায় নামের উল্লেখ নেই। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যখন তিনি একটি বড় পাথরের ছায়ায় ভিজা মাটির কাছে অবস্থান করছিলেন, তখন মাছটি লাফিয়ে উঠল। মূসা (‘আ.) তখন নিদ্রায় ছিলেন। তাঁর খাদেম মনে মনে বললেন, তাঁকে এখন জাগবে না। অবশেষে যখন তিনি জাগালেন, তখন তাকে মাছের কথা বলতে ভুলে গেলেন। আর মাছটি লাফিয়ে সমুদ্রে চলে গেল। আল্লাহ্ তা‘আলা মাছটির চলার পথে পানি সরিয়ে নিলেন যাতে পাথরের উপর চিহ্ন পড়ে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, আমর আমাকে বলেছেন যে, যেন পাথরের মধ্যে চিহ্ন এরূপ হয়ে রইল, বলে তিনি তাঁর দু’টি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার পাশের আঙ্গুলগুলো এক সঙ্গে মিলিয়ে বৃত্তাকার বানিয়ে দেখালেন। [মূসা (‘আ.) বললেন] “আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।” ইউশা বললেন, আল্লাহ্ আপনার থেকে ক্লান্তি দূর করে দিয়েছেন। সা‘ঈদের বর্ণনায় এ কথার উল্লেখ নেই। খাদেম তাঁকে মাছটির চলে যাবার খবর দিলেন। তারপর তাঁরা উভয়ে ফিরে এলেন এবং খাযির (‘আ.)-কে পেলেন। বর্ণনাকারী ইব্নু যুরাইজ বলেন, ‘উসমান ইব্নু আবূ সুলায়মান আমাকে বলেছেন যে, মূসা (‘আ.) খাযির (‘আ.)-কে পেলেন সমুদ্রের বুকে সবুজ বিছানার ওপর। সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রাঃ) বলেন, তিনি চাদর জড়িয়ে ছিলেন। চাদরের এক পার্শ্ব ছিল তাঁর দু’পায়ের নিচে এবং অন্য পার্শ্ব ছিল তাঁর মাথার ওপর। মূসা (‘আ.) তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি তাঁর চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে বললেন, আমার এ অঞ্চলে কোত্থেকে সালাম আসলো? কে তুমি? তিনি বললেন, আমি মূসা! খাযির (‘আ.) বললেন, বানী ইসরাঈলের মূসা? উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমার খবর কী? মূসা (‘আ.) বললেন, আমি এসেছি, “সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দেয়া হয়েছে, তাত্থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন।” তিনি বললেন, তোমার কাছে যে তাওরাত আছে, তা কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? তোমার কাছে তো ওয়াহী আসে। হে মূসা! আমার কাছে যে জ্ঞান আছে তা তোমার জানা ঠিক নয়। আর তোমার কাছে যে জ্ঞান আছে তা আমার জনা উচিত নয়। এ সময় একটি পাখি এসে তার ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে পানি নিল। খাযির (‘আ.) বললেন, আল্লাহ্র কসম, আল্লাহ্র জ্ঞানের কাছে আমার ও তোমার জ্ঞান এতটুকু, যতটুকু এ পাখিটি সমুদ্র হতে তার ঠোঁটে করে নিয়েছে। অবশেষে তাঁরা উভয়ে নৌকায় উঠলেন, তাঁরা ছোট খেয়া নৌকা পেলেন, যা এ-পারের লোকেদের ও-পারে এবং ও-পারের লোকেদের এ-পারে নিয়ে যেত। নৌকার লোকেরা খাযিরকে চিনতে পারল। তারা বলল, আল্লাহ্র নেক বান্দা। ইয়ালা বলেন, আমরা সা‘ঈদকে জিজ্ঞেস করলাম, তারা কি খাযির সম্পর্কে এ মন্তব্য করেছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, (তারা বলল) আমরা তাঁকে বহন করতে পারিশ্রমিক নিব না। এরপর খাযির (‘আ.) তাদের নৌকা ছিদ্র করে দিলেন এবং একটি গোঁজ দিয়ে তা বন্ধ করে দিলেন। মূসা (‘আ.) বললেন, আপনি কি যাত্রীদেরকে ডুবিয়ে মারার জন্য নৌকাটি ছিদ্র করলেন? আপনি তো মারাত্মক কাজ করলেন। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, اِمْرًا অর্থাৎ নিষিদ্ধ কাজ। “তিনি (খাযির) বললেন, আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবে না।” প্রথমটি ছিল মূসা (‘আ.)-এর পক্ষ থেকে ভুল, দ্বিতীয়টি শর্তস্বরূপ এবং তৃতীয় ইচ্ছাকৃত বলে গণ্য। “মূসা (‘আ.) বললেন, আমার ভুলের জন্য আমাকে দায়ী করবেন না ও আমার ব্যাপারে অতিরিক্ত কঠোরতা করবেন না।” (এরপর) তাঁরা এক বালকের দেখা পেলেন, খাযির তাকে হত্যা করে ফেললেন। ইয়ালা বলেন, সা‘ঈদ বলেছেন, খাযির (‘আ.) বালকদের খেলাধূলা করতে দেখতে পেলেন। তিনি একটি বুদ্ধিমান কাফের বালককে ধরলেন এবং তাকে পার্শ্বে শুইয়ে যবহ করে ফেললেন। মূসা (‘আ.) বললেন, “আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন জীবনের বদলা অপরাধ ব্যতীতই? “সে তো কোন গুনাহ্র কাজ করেনি। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) এখানে زَاكِيَّةً পড়তেন। زَاكِيَةً ভাল মুসলিম। যেমন তুমি পড় غُلاَمً زَكِيَّا তারপর তারা দু’জন চলতে লাগল এবং একটি পতনোদ্যত প্রাচীর পেল। খাযির (‘আ.) সেটাকে সোজা করে দিলেন। সা‘ঈদ তাঁর হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন এরূপ এবং তিনি তাঁর হাত উঠিয়ে সোজা করলেন। ইয়ালা বলেন, আমার মনে হয় সা‘ঈদ বলেছিলেন, খাযির (‘আ.) প্রাচীরের ওপর দু’হাত দ্বারা স্পর্শ করলেন এবং প্রাচীর দাঁড়িয়ে গেল। মূসা (‘আ.) বললেন, لَوْ شِئْتَ لاَتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا আপনি ইচ্ছা করলে এ জন্য পারিশ্রমিক নিতে পারতেন। সা‘ঈদ বলেন, أَجْرًا দ্বারা এখানে খাদ্যদ্রব্য বোঝানো হয়েছে। وَكَانَ وَرَاءَهُمْ তাদের সামনে। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতে أَمَامَهُمْ (তাদের সম্মুখে ছিল এক রাজা) পড়েন। সা‘ঈদ ছাড়া অন্য বর্ণনাকারীরা সে রাজার নাম বলেছেন “হুদাদ ইব্নু বুদাদ” আর হত্যাকৃত বালকটির নাম ছিল “জাইসুর’। সে রাজা প্রত্যেকটি (ভাল) নৌকা জোর করে ছিনিয়ে নিত। খিযির (‘আ.)-এর নৌকা ছিদ্র করার উদ্দেশ্য ছিল, (সে অত্যাচারী রাজা) ত্র“টিযুক্ত নৌকা দেখলে তা ছিনিয়ে নেবে না। তারপর যখন অতিক্রম করে গেল, তখন তাদের নৌকা মেরামত করে নিল এবং তা ব্যবহার উপযোগী করল। কেউ বলে, নৌকার ছিদ্রটা মেরামত করেছিল সীসা গলিয়ে, আবার কেউ বলে, আলকাত্রা মিলিয়ে নৌকা মেরামত করছিল। “তার পিতা-মাতা ছিল মু’মিন।” আর সে বালকটি ছিল কাফের। আমি শংকা করলাম যে, সে অবাধ্য আচরণ ও কুফরী করে তাদের জ্বালাতন করবে। অর্থাৎ তারা তার প্রতি মুহাব্বতের কারণে তার দ্বীনের অনুসারী হয়ে যাবে। “এরপর আমি চাইলাম যে, তাদের প্রতিপালক যেন তাদেরকে তার বদলে এক সন্তান দান করেন, যে হবে অধিক পবিত্র ও ভক্তি শ্রদ্ধায় নিকটতর।” খাযির (‘আ.) যে বালকটিকে হত্যা করেছিলেন সে বালকটির চেয়ে পরবর্তী বালকটির প্রতি তার পিতামাতা অধিক øেহশীল ও দয়াশীল হবেন। (ইব্নু জুরাইজ বলেন) সা‘ঈদ ব্যতীত অন্য সকল বর্ণনাকারী বলেছেন যে, এর অর্থ হল, সে বালকটির পরিবর্তে আল্লাহ্ তাদের একটি কন্যা সন্তান দান করেন। দাউদ ইব্নু আবূ আসিম বলেন, একাধিক বর্ণনাকারী থেকে উল্লেখ করেছেন, সন্তানটি ছিল কন্যা। [৭৪] (আ.প্র. ৪৩৬৫, ই.ফা. ৪৩৬৭)
[১] অর্থাৎ তিনি বলেননি যে, এ ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
৬৫/১৮/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ جَاوَزَا قَالَ لِفَتَاهُ اٰتِنَا غَدَآءَنَا ز لَقَدْ لَقِيْنَا مِنْ سَفَرِنَا هٰذَا نَصَبًا - قَالَ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَآ إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّيْ نَسِيْتُ الْحُوْتَ} إِلَى قَوْلِهِ {عَجَبًا}
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭২৭
হাদিস নং ৪৭২৭
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِيْنَارٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ إِنَّ نَوْفًا الْبَكَالِيَّ يَزْعُمُ أَنَّ مُوْسَى بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ لَيْسَ بِمُوْسَى الْخَضِرِ فَقَالَ كَذَبَ عَدُوُّ اللهِ حَدَّثَنَا أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَامَ مُوْسَى خَطِيْبًا فِيْ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ فَقِيْلَ لَهُ أَيُّ النَّاسِ أَعْلَمُ قَالَ أَنَا فَعَتَبَ اللهُ عَلَيْهِ إِذْ لَمْ يَرُدَّ الْعِلْمَ إِلَيْهِ وَأَوْحَى إِلَيْهِ بَلَى عَبْدٌ مِنْ عِبَادِيْ بِمَجْمَعِ الْبَحْرَيْنِ هُوَ أَعْلَمُ مِنْكَ قَالَ أَيْ رَبِّ كَيْفَ السَّبِيْلُ إِلَيْهِ قَالَ تَأْخُذُ حُوْتًا فِيْ مِكْتَلٍ فَحَيْثُمَا فَقَدْتَ الْحُوْتَ فَاتَّبِعْهُ قَالَ فَخَرَجَ مُوْسَى وَمَعَهُ فَتَاهُ يُوْشَعُ بْنُ نُوْنٍ وَمَعَهُمَا الْحُوْتُ حَتَّى انْتَهَيَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَنَزَلَا عِنْدَهَا قَالَ فَوَضَعَ مُوْسَى رَأْسَهُ فَنَامَ قَالَ سُفْيَانُ وَفِيْ حَدِيْثِ غَيْرِ عَمْرٍو قَالَ وَفِيْ أَصْلِ الصَّخْرَةِ عَيْنٌ يُقَالُ لَهَا الْحَيَاةُ لَا يُصِيْبُ مِنْ مَائِهَا شَيْءٌ إِلَّا حَيِيَ فَأَصَابَ الْحُوْتَ مِنْ مَاءِ تِلْكَ الْعَيْنِ قَالَ فَتَحَرَّكَ وَانْسَلَّ مِنَ الْمِكْتَلِ فَدَخَلَ الْبَحْرَ فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ مُوْسَى قَالَ لِفَتَاهُ {اٰتِنَا غَدَآءَنَا} الْآيَةَ قَالَ وَلَمْ يَجِدْ النَّصَبَ حَتَّى جَاوَزَ مَا أُمِرَ بِهِ قَالَ لَهُ فَتَاهُ يُوْشَعُ بْنُ نُوْنٍ {أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَآ إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّيْ نَسِيْتُ الْحُوْتَ} الْآيَةَ قَالَ فَرَجَعَا يَقُصَّانِ فِيْ آثَارِهِمَا فَوَجَدَا فِي الْبَحْرِ كَالطَّاقِ مَمَرَّ الْحُوْتِ فَكَانَ لِفَتَاهُ عَجَبًا وَلِلْحُوْتِ سَرَبًا قَالَ فَلَمَّا انْتَهَيَا إِلَى الصَّخْرَةِ إِذْ هُمَا بِرَجُلٍ مُسَجًّى بِثَوْبٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ مُوْسَى قَالَ وَأَنَّى بِأَرْضِكَ السَّلَامُ فَقَالَ أَنَا مُوْسَى قَالَ مُوْسَى بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ قَالَ نَعَمْ قَالَ هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِيْ مِمَّا عُلِّمْتَ رَشَدًا قَالَ لَهُ الْخَضِرُ يَا مُوْسَى إِنَّكَ عَلَى عِلْمٍ مِنْ عِلْمِ اللهِ عَلَّمَكَهُ اللهُ لَا أَعْلَمُهُ وَأَنَا عَلَى عِلْمٍ مِنْ عِلْمِ اللهِ عَلَّمَنِيْهِ اللهُ لَا تَعْلَمُهُ قَالَ بَلْ أَتَّبِعُكَ قَالَ فَإِنْ اتَّبَعْتَنِيْ فَلَا تَسْأَلْنِيْ عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا فَانْطَلَقَا يَمْشِيَانِ عَلَى السَّاحِلِ فَمَرَّتْ بِهِمْ سَفِيْنَةٌ فَعُرِفَ الْخَضِرُ فَحَمَلُوْهُمْ فِيْ سَفِيْنَتِهِمْ بِغَيْرِ نَوْلٍ يَقُوْلُ بِغَيْرِ أَجْرٍ فَرَكِبَا السَّفِيْنَةَ قَالَ وَوَقَعَ عُصْفُوْرٌ عَلَى حَرْفِ السَّفِيْنَةِ فَغَمَسَ مِنْقَارَهُ فِي الْبَحْرِ فَقَالَ الْخَضِرُ لِمُوْسَى مَا عِلْمُكَ وَعِلْمِيْ وَعِلْمُ الْخَلَائِقِ فِيْ عِلْمِ اللهِ إِلَّا مِقْدَارُ مَا غَمَسَ هَذَا الْعُصْفُوْرُ مِنْقَارَهُ قَالَ فَلَمْ يَفْجَأْ مُوْسَى إِذْ عَمَدَ الْخَضِرُ إِلَى قَدُوْمٍ فَخَرَقَ السَّفِيْنَةَ فَقَالَ لَهُ مُوْسَى قَوْمٌ حَمَلُوْنَا بِغَيْرِ نَوْلٍ عَمَدْتَ إِلَى سَفِيْنَتِهِمْ فَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ الْآيَةَ فَانْطَلَقَا إِذَا هُمَا بِغُلَامٍ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ فَأَخَذَ الْخَضِرُ بِرَأْسِهِ فَقَطَعَهُ قَالَ لَهُ مُوْسَى {أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةًمبِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَّكَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيْعَ مَعِيْ صَبْرًا} إِلَى قَوْلِهِ فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوْهُمَا فَوَجَدَا فِيْهَا جِدَارًا يُرِيْدُ أَنْ يَنْقَضَّ فَقَالَ بِيَدِهِ هَكَذَا فَأَقَامَهُ فَقَالَ لَهُ مُوْسَى إِنَّا دَخَلْنَا هَذِهِ الْقَرْيَةَ فَلَمْ يُضَيِّفُوْنَا وَلَمْ يُطْعِمُوْنَا لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا {قَالَ هٰذَا فِرَاقُ بَيْنِيْ وَبَيْنِكَ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيْلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَّلَيْهِ صَبْرًا} فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَدِدْنَا أَنَّ مُوْسَى صَبَرَ حَتَّى يُقَصَّ عَلَيْنَا مِنْ أَمْرِهِمَا قَالَ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقْرَأُ وَكَانَ أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِيْنَةٍ صَالِحَةٍ غَصْبًا وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ كَافِرًا.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি ইব্ুনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম, নওফূর বাক্কালীর ধারণা, বানী ইসরাঈলের মূসা আর খাযির (‘আ.)-এর সাথী মূসা একই ব্যক্তি নয়। এ কথা শুনে ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র শত্র“ মিথ্যা বলেছে। উবাই ইব্নু কা‘ব রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, মূসা (‘আ.) বানী ইসরাঈলের সামনে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, আমি। আল্লাহ্ তাঁর এ কথায় অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা, তিনি এ কথাটি আল্লাহ্র দিকে সম্পর্কিত করেননি। আল্লাহ্ তাঁর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করে বললেন, (হে মূসা!) দু’ সমুদ্রের সংযোগস্থলে আমার এক বান্দা আছে, সে তোমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। মূসা (‘আ.) বললেন, হে রব! আমি তাঁর কাছে কীভাবে যেতে পারি? আল্লাহ্ বললেন, থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে রওয়ানা হও। যেখানে মাছটি হারিয়ে যাবে, সেখানেই তার অনুসরণ করবে। মূসা (‘আ.) রওয়ানা হলেন এবং তার সঙ্গে ছিল তাঁর খাদেম ইউশা ইব্নু নূন। তারা মাছ সঙ্গে নিলেন। তারা চলতে চলতে সমুদ্রের পাড়ে একটি বিরাট শিলাখণ্ডের কাছে পৌঁছে গেলেন। সেখানে তারা বিশ্রামের জন্য থামলেন। বর্ণনাকারী বলেন, মূসা (‘আ.) শিলাখণ্ডের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। সুফ্ইয়ান বলেন, আমর ইব্নু দীনার ব্যতীত সকল বর্ণনাকারী বলেছেন, শিলাখণ্ডটির তলদেশে একটি ঝরণা ছিল, তাঁকে হায়াত বলা হত। কেননা, যে মৃতের ওপর তার পানি পতিত হয়, সে অমনি জীবিত হয়ে ওঠে। সে মাছটির ওপরও ঐ ঝরণার পানি পড়ল এবং সঙ্গে সঙ্গে সে লাফিয়ে উঠল। তারপর মাছটি বের হয়ে সমুদ্রে ঢুকে গেল। এরপরে মূসা (‘আ.) যখন ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। মূসা তাঁর খাদেমকে বললেন, ‘আমাদের নাস্তা আন, আমরা তো আমাদের এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে স্থান সম্পর্কে তাঁকে বলা হয়েছিল সে স্থান অতিক্রম করার পর থেকেই তিনি ক্লান্তি অনুভব করছিলেন। তাঁর খাদেম ইউশা ইব্নু নূন তাঁকে বললেন, “আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখণ্ডে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তাঁরা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে আসলেন। তারা সমুদ্রে মাছটির চলে যাওয়ার জায়গায় সুড়ঙ্গের মত দেখতে পেলেন, যা মূসা (‘আ.)-এর সাথী যুবককে বিস্মিত করে দিল। যখন তাঁরা শিলাখণ্ডের কাছে পৌঁছলেন, সেখানে এ ব্যক্তিকে কাপড় জড়ানো অবস্থায় দেখতে পেলেন। মূসা (‘আ.) তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি বললেন, তোমাদের এলাকায় সালাম কীভাবে এল? মূসা (‘আ.) বললেন, আমি মূসা। তিনি [খাযির (‘আ.)] বললেন, বানী ইসরাঈলের মূসা (‘আ.)? মূসা (‘আ.) উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। তারপর বললেন, “সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা থেকে আমাকে শিক্ষা দিবেন- এ শর্তে আমি আপনার অনুসরণ করব কি? খাযির (‘আ.) বললেন, হে মূসা! তুমি আল্লাহ্ থেকে যে জ্ঞান পেয়েছ, তা আমি জানি, না। আর আমি আল্লাহ্র থেকে যে ‘ইলম’ প্রাপ্ত হয়েছি তাও তুমি জান না। মূসা (‘আ.) বললেন, আমি আপনার অনুসরণ করব। খাযির (‘আ.) বললেন, আচ্ছা তুমি যদি আমার অনুসরণ করই, তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবে না, যতক্ষণ না আমি সে বিষয়ে তোমাকে কিছু বলি। তারপর তাঁরা সমুদ্রের তীর দিয়ে চলতে লাগলেন। একটি নৌকা তাঁদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল, নৌকার লোকেরা খাযির (‘আ.)-কে দেখে চিনতে পারল। তারা বিনা পারিশ্রমিকে তাঁদের নৌকায় উঠিয়ে নিল। তাঁরা নৌকায় উঠলেন। এ সময় একটি চড়–ই পাখি এসে নৌকার অগ্রভাগে বসলো। পাখিটি সমুদ্রে ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। খাযির (‘আ.) মূসা (‘আ.)-কে বললেন, তোমার, আমার ও সৃষ্টিজগতের জ্ঞান আল্লাহ্র জ্ঞানের তুলনায় অতখানি, যতখানি এ চড়–ই পাখি তার ঠোঁট দিয়ে সমুদ্র থেকে পানি উঠাল। বর্ণনাকারী বলেন, মূসা (‘আ.) স্থান পরিবর্তন করেননি। খাযির (‘আ.) অগ্রসর হতে চাইলেন। এমন সময় খাযির (‘আ.) নৌকা ছিদ্র করে দিলেন। তখন মূসা (‘আ.) তাঁকে বললেন, এরা আমাদেরকে বিনা পারিশ্রমিকে তাদের নৌকায় নিয়ে এল আর আপনি আরোহীদের ডুবানোর জন্য নৌকাটি ছিদ্র করে দিলেন। আপনি তো এক অন্যায় কাজ করেছেন। তারপর তাঁরা আবার চলতে লাগলেন এবং দেখতে পেলেন যে, একটি বালক কতকগুলো বালকের সঙ্গে খেলা করছে। খাযির (‘আ.) সে বালকটির শিরোেদ করে দিলেন। মূসা (‘আ.) তাঁকে বললেন, আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন জীবনের বদলা ব্যতীতই? আপনি তো এক অন্যায় কাজ করে বসলেন। তিনি বললেন, আমি কি বলিনি যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবে না? মূসা (‘আ.) বললেন, এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি, তবে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখবেন না; আমার ওযরের চূড়ান্ত হয়েছে। তারপর তাঁরা দু’জনে চলতে লাগলেন। তাঁরা এক জনবসতির কাছে পৌঁছলেন এবং তাদের কাছে খাদ্য চাইলেন, তারা তাদের আতিথ্য অস্বীকার করল। তারপর সেখানে তাঁরা পতনোদ্যত প্রাচীরটি সোজা করে দিলেন। মূসা (‘আ.) খাযির (‘আ.)-কে বললেন, আমরা যখন এ জনবসতিতে প্রবেশ করছিলাম, তখন তার অধিবাসীরা আমাদের আতিথেয়তা করেনি এবং আমাদের খেতে দেয়নি। এ জন্য আপনি ইচ্ছা করলে পারিশ্রমিক নিতে পারতেন। খাযির (‘আ.) বললেন, এখানেই তোমার এবং আমার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হল। যে ব্যাপারে তুমি ধৈর্য ধরতে পারনি আমি তার রহস্য ব্যাখ্যা করছি। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মূসা (‘আ.) যদি আর একটু ধৈর্য ধরতেন তবে আমরা তাদের দু’জনের ঘটনা সম্পর্কে আরও জানতে পারতাম। সা‘ঈদ বলেন, ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) وَرَأَهُمْ مَلِكُ এর স্থানে اَمَا مَهُمْ مَلُكٌ পড়তেন। অর্থ “তাদের (যাত্রাপথের) সম্মুখে ছিল এক রাজা, যে জোর করে সকল ভাল নৌকা ছিনিয়ে নিত। আর বালকটি ছিল কাফের।” [৭৪] (আ.প্র. ৪৩৬৬, ই.ফা. ৪৩৬৮)
৬৫/১৮/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আপনি বলে দিনঃ আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকদের পরিচয় দেব যারা ‘আমালের দিক দিয়ে সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত? (সূরাহ কাহাফ ১৮/১০৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭২৮
হাদিস নং ৪৭২৮
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ سَأَلْتُ أَبِيْ {قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِيْنَ أَعْمَالًا} هُمْ الْحَرُوْرِيَّةُ قَالَ لَا هُمْ الْيَهُوْدُ وَالنَّصَارَى أَمَّا الْيَهُوْدُ فَكَذَّبُوْا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم وَأَمَّا النَّصَارَى فَكَفَرُوْا بِالْجَنَّةِ وَقَالُوْا لَا طَعَامَ فِيْهَا وَلَا شَرَابَ وَالْحَرُوْرِيَّةُ الَّذِيْنَ يَنْقُضُوْنَ عَهْدَ اللهِ مِنْ بَعْدِ مِيْثَاقِهِ وَكَانَ سَعْدٌ يُسَمِّيْهِمْ الْفَاسِقِيْنَ.
বর্ণনাকারী মুস‘আব (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالأَخْسَرِينَ أَعْمَالاً এ আয়াতে যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা হল “হারূরী” গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বললেন, না, তারা হচ্ছে ইয়াহূদী ও খ্রিস্টান। কেননা, ইয়াহূদীরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছিল এবং খ্রিস্টানরা জান্নাতকে অস্বীকার করত এবং বলত, সেখানে কোন খাদ্য-পানীয় নেই। আর “হারূরী” হল তারা, যারা আল্লাহ্র সঙ্গে ওয়াদা করার পরও তা ভঙ্গ করেছিল। সা‘দ তাদের বলতেন ‘ফাসিক’। (আ.প্র. ৪৩৬৭, ই.ফা. ৪৩৬৯)
[১] সা‘দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস।[2] কুফার নিকট একটি গ্রামের নাম। যেখান থেকে ‘খারিজী সম্প্রদায়ের’ আন্দোলন শুরু হয়।
৬৫/১৮/৬.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ তারা এমন লোক, যারা অস্বীকার করছে স্বীয় রবের আয়াত সমূহকে এবং তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতকে। ফলে তাদের যাবতীয় ‘আমাল নষ্ট হয়েছে। (সূরাহ কাহাফ ১৮/১০৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭২৯
হাদিস নং ৪৭২৯
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سَعِيْدُ بْنُ أَبِيْ مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا الْمُغِيْرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ حَدَّثَنِيْ أَبُو الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّهُ لَيَأْتِي الرَّجُلُ الْعَظِيْمُ السَّمِيْنُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَزِنُ عِنْدَ اللهِ جَنَاحَ بَعُوْضَةٍ وَقَالَ اقْرَءُوْا {فَلَا نُقِيْمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا} وَعَنْ يَحْيَى بْنِ بُكَيْرٍ عَنِ الْمُغِيْرَةِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ مِثْلَهُ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ক্বিয়ামাতের দিন একজন খুব মোটা ব্যক্তি আসবে; কিন্তু সে আল্লাহ্র কাছে মশার পাখার চেয়ে ক্ষুদ্র হবে। তারপর তিনি বলেন, পাঠ করো, “ক্বিয়ামাত দিবসে তাদের কাজের কোন গুরুত্ব দিব না। ইয়াহ্ইয়াহ ইব্নু বুকায়র (রহ.).....আবূ যিনাদ (রহ.) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। [মুসলিম ৫০/হাঃ ২৭৮৫] (আ.প্র. ৪৩৬৮, ই.ফা. ৪৩৭০)
[১] পুণ্য মনে করে তারা যে সকল কর্ম করেছে, সেগুলো কোন কাজে আসবে না।
৬৫/১৯/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আপনি তাদেরকে হুঁশিয়ার করে দিন পরিতাপের দিন সম্পর্কে .......। (সূরাহ মারইয়াম ১৯/৩৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৩০
হাদিস নং ৪৭৩০
عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا أَبُوْ صَالِحٍ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُؤْتَى بِالْمَوْتِ كَهَيْئَةِ كَبْشٍ أَمْلَحَ فَيُنَادِيْ مُنَادٍ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ فَيَشْرَئِبُّوْنَ وَيَنْظُرُوْنَ فَيَقُوْلُ هَلْ تَعْرِفُوْنَ هَذَا فَيَقُوْلُوْنَ نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ وَكُلُّهُمْ قَدْ رَآهُ ثُمَّ يُنَادِيْ يَا أَهْلَ النَّارِ فَيَشْرَئِبُّوْنَ وَيَنْظُرُوْنَ فَيَقُوْلُ هَلْ تَعْرِفُوْنَ هَذَا فَيَقُوْلُوْنَ نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ وَكُلُّهُمْ قَدْ رَآهُ فَيُذْبَحُ ثُمَّ يَقُوْلُ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ خُلُوْدٌ فَلَا مَوْتَ وَيَا أَهْلَ النَّارِ خُلُوْدٌ فَلَا مَوْتَ ثُمَّ قَرَأَ {وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِيْ غَفْلَةٍ} وَهَؤُلَاءِ فِيْ غَفْلَةٍ أَهْلُ الدُّنْيَا {وَهُمْ لَا يُؤْمِنُوْنَ}.
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ক্বিয়ামাত দিবসে মৃত্যুকে একটি ধূসর রঙের মেষের আকারে আনা হবে। তখন একজন সম্বোধনকারী ডাক দিয়ে বলবেন, হে জান্নাতবাসী! তখন তাঁরা ঘাড়-মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে। সম্বোধনকারী বলবে, তোমরা কি একে চিন? তারা বলবেন হ্যাঁ, এ হল মৃত্যু। কেননা সকলেই তাকে দেখেছে। তারপর সম্বোধনকারী আবার ডেকে বলবেন, হে জাহান্নামবাসী! জাহান্নামীরা মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে, তখন সম্বোধনকারী বলবে তোমরা কি একে চিন? তারা বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। কেননা তারা সকলেই তাকে দেখেছে। তারপর (সেটিকে) যবহ করা হবে। আর ঘোষক বলবেন, হে জান্নাতবাসী! স্থায়ীভাবে (এখানে) থাক। তোমাদের আর কোন মৃত্যু নেই। আর হে জাহান্নামবাসী! চিরদিন (এখানে) থাক। তোমাদের আর মৃত্যু নেই। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করলেন “তাদের সতর্ক করে দাও পরিতাপের দিবস সম্বন্ধে, যখন সকল ফয়সালা হয়ে যাবে অথচ এখন তারা গাফিল, তারা অসতর্ক দুনিয়াবাসী-অবিশ্বাসী।” [মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৪৯, আহমাদ ১১০৬৬] (আ.প্র. ৪৩৬৯, ই.ফা. ৪৩৭১)
[১] আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ اَيُّهُمْ اَشَدُّ عَلَى الرَّحْمنِ عِتِيًا যে দয়াময়ের প্রতি সর্বাধিক অবাধ্য। (সূরাহ নাহল ১৬/৬৯)
৬৫/১৯/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ {وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ لَه” مَا بَيْنَ أَيْدِيْنَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَيْنَ ذٰلِكَ}.
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৩১
হাদিস নং ৪৭৩১
أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ قَالَ سَمِعْتُ أَبِيْ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِجِبْرِيْلَ مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَزُوْرَنَا أَكْثَرَ مِمَّا تَزُوْرُنَا فَنَزَلَتْ {وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ لَهُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْنَا وَمَا خَلْفَنَا}.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার জিব্রীলকে বললেন, আপনি আমার সাথে যতবার সাক্ষাৎ করেন, তার চেয়ে অধিক সাক্ষাৎ করতে আপনাকে কিসে বাধা দেয়? তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল, “আমরা আপনার প্রতিপালকের আদেশ ছাড়া অবতরণ করি না, যা আমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে আছে সবই তাঁরই।” [৩২১৮] (আ.প্র. ৪৩৭০, ই.ফা. ৪৩৭২)
[১] কিছু কালের জন্য রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওয়াহী বন্ধ ছিল। এতে রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব পেরেশান হন। পরে জিবরীল (আঃ) হাজির হলে রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন।
৬৫/১৯/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আপনি কি তাকে লক্ষ্য করেছেন, যে আমার আয়াত সমূহকে অবিশ্বাস করে এবং বলেঃ অবশ্যই আমাকে ধন-সম্পত্তি ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবে। (সূরাহ মারইয়াম ১৯/৭৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৩২
হাদিস নং ৪৭৩২
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ سَمِعْتُ خَبَّابًا قَالَ جِئْتُ الْعَاصَ بْنَ وَائِلٍ السَّهْمِيَّ أَتَقَاضَاهُ حَقًّا لِيْ عِنْدَهُ فَقَالَ لَا أُعْطِيْكَ حَتَّى تَكْفُرَ بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لَا حَتَّى تَمُوْتَ ثُمَّ تُبْعَثَ قَالَ وَإِنِّيْ لَمَيِّتٌ ثُمَّ مَبْعُوْثٌ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ إِنَّ لِيْ هُنَاكَ مَالًا وَوَلَدًا فَأَقْضِيْكَهُ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {أَفَرَأَيْتَ الَّذِيْ كَفَرَ بِاٰيٰتِنَا وَقَالَ لَأُوْتَيَنَّ مَالًا وَّوَلَدًا} رَوَاهُ الثَّوْرِيُّ وَشُعْبَةُ وَحَفْصٌ وَأَبُوْ مُعَاوِيَةَ وَوَكِيْعٌ عَنِ الْأَعْمَشِ.
বর্ণনাকারী মাসরূক (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি খাব্বাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি (খাব্বাব) বলেন, আমি আস ইব্নু ওয়ায়েল সাহমীর নিকট গেলাম; তার কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল, তা আদায় করার জন্য। আস ইব্নু ওয়ায়িল বলল, আমি তোমার প্রাপ্য তোমাকে দিব না, যতক্ষণ তুমি মুহাম্মদের প্রতি অবিশ্বাস না কর। তখন আমি বললাম, না, এমনকি তুমি মরে গিয়ে পুনরায় জীবিত হয়ে আসলেও তা হবে না। ‘আস ইব্নু ওয়ায়েল বলল, আমি কি মরে যাবার পরে আবার জীবিত হব? আমি বললাম, হ্যাঁ। আস ইব্নু ওয়ায়েল বলল, অবশ্যই সেখানেও আমার ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি থাকবে, তা থেকে আমি তোমার ঋণ শোধ করব। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় ঃ ‘তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবেই।”এ হাদীসটি সাওরী (রহ.) ... আ’মাশ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন। [২০৯১] (আ.প্র. ৪৩৭১, ই.ফা. ৪৩৭৩)
[১] অর্থাৎ যতক্ষণ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নাবী মানতে অস্বীকার না কর।
৬৫/১৯/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৩৩
হাদিস নং ৪৭৩৩
مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيْرٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ خَبَّابٍ قَالَ كُنْتُ قَيْنًا بِمَكَّةَ فَعَمِلْتُ لِلْعَاصِ بْنِ وَائِلٍ السَّهْمِيِّ سَيْفًا فَجِئْتُ أَتَقَاضَاهُ فَقَالَ لَا أُعْطِيْكَ حَتَّى تَكْفُرَ بِمُحَمَّدٍ قُلْتُ لَا أَكْفُرُ بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يُمِيْتَكَ اللهُ ثُمَّ يُحْيِيَكَ قَالَ إِذَا أَمَاتَنِي اللهُ ثُمَّ بَعَثَنِيْ وَلِيْ مَالٌ وَوَلَدٌ فَأَنْزَلَ اللهُ {أَفَرَأَيْتَ الَّذِيْ كَفَرَ بِاٰيٰتِنَا وَقَالَ لَأُوْتَيَنَّ مَالًا وَّوَلَدًاأَطَّلَعَ الْغَيْبَ أَمِ اتَّخَذَ عِنْدَ الرَّحْمٰنِ عَهْدًا} قَالَ مَوْثِقًا لَمْ يَقُلْ الْأَشْجَعِيُّ عَنْ سُفْيَانَ سَيْفًا وَلَا مَوْثِقًا
বর্ণনাকারী খাব্বাব (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি মাক্কাহ্য় অবস্থানকালে কর্মকারের কাজ করতাম। এ সময় আস্ ইব্নু ওয়ায়েলকে একখানা তলোয়ার বানিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর একদিন আমার সেই পাওনা আদায়ের জন্য তাঁর নিকট আসলাম। সে বলল, মুহাম্মাদকে অস্বীকার না করা পর্যন্ত তোমার পাওনা দেব না। আমি বললাম, মুহাম্মাদকে অস্বীকার করব না। এমনকি আল্লাহ্ তোমাকে মৃত্যু দিবার পর তোমাকে আবার জীবিত করা পর্যন্ত। সে বলল, আল্লাহ্ যখন আমাকে মৃত্যুর পরে আবার জীবিত করবেন, তখন আমার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিও থাকবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন ঃ ‘তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবেই। সে কি অদৃশ্য সম্বন্ধে অবহিত হয়েছে অথবা দয়াময়ের নিকট থেকে প্রতিশ্র“তি লাভ করেছে? বর্ণনাকারী বলেন, عهد এর অর্থ দৃঢ় প্রতিশ্র“তি। আশ্জায়ী (রহ.) সুফ্ইয়ান থেকে বর্ণনার মধ্যে سَيْفًا (তরবারি) শব্দ এবং مَوْثِقًا (প্রতিশ্র“তি) শব্দ উল্লেখ করেননি। [২০৯১] (আ.প্র. ৪৩৭২, ই.ফা. ৪৩৭৪)
৬৫/১৯/৫.অধ্যায়ঃ
‘‘কখনই নয় আমি সে যা বলে তা লিখে রাখব এবং তার শাস্তি বৃদ্ধি করতে থাকব।’’ (সূরাহ মারইয়াম ১৯/৭৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৩৪
হাদিস নং ৪৭৩৪
بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ سَمِعْتُ أَبَا الضُّحَى يُحَدِّثُ عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ خَبَّابٍ قَالَ كُنْتُ قَيْنًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ لِيْ دَيْنٌ عَلَى الْعَاصِ بْنِ وَائِلٍ قَالَ فَأَتَاهُ يَتَقَاضَاهُ فَقَالَ لَا أُعْطِيْكَ حَتَّى تَكْفُرَ بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ وَاللهِ لَا أَكْفُرُ حَتَّى يُمِيْتَكَ اللهُ ثُمَّ يَبْعَثَكَ قَالَ فَذَرْنِيْ حَتَّى أَمُوْتَ ثُمَّ أُبْعَثَ فَسَوْفَ أُوْتَى مَالًا وَوَلَدًا فَأَقْضِيْكَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {أَفَرَأَيْتَ الَّذِيْ كَفَرَ بِاٰيٰتِنَا وَقَالَ لَأُوْتَيَنَّ مَالًا وَّوَلَدًا}.
বর্ণনাকারী খাব্বাব (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি জাহিলীয়াতের যুগে কর্মকার ছিলাম। সে সময় ‘আস ইবনু ওয়ায়েলের কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল। আমি পাওনা আদায় করতে তার কাছে আসলে সে বলল, আমি তোমার পাওনা শোধ করব না, যতক্ষণ না তুমি মুহাম্মাদকে অস্বীকার কর। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্র কসম, আমি অস্বীকার করব না। এমনকি আল্লাহ্ তোমাকে মৃত্যু দেয়ার পর আবার তোমাকে জীবিত করার পরেও নহে। বলল, তাহলে তুমি আমাকে ছেড়ে দাও মৃত্যুর পর আবার জীবিত হয়ে ওঠা পর্যন্ত। তখন তো আমাকে ধন-সন্তান দেয়া হবে। তখন তোমাকে পরিশোধ করে দেব। এ প্রসঙ্গে এ আয়াত অবতীর্ণ হয় ঃ “কি তাকে লক্ষ্য করেছ, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবে” (সূরা মারইয়াম ১৯/৭৭)। [২০৯১] (আ.প্র. ৪৩৭৩, ই.ফা. ৪৩৭৫)
৬৫/১৯/৬.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃআর সে যা বলে তা থাকবে আমার কাছে আসবে একাকী। (সূরাহ মারইয়াম ১৯/৮০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৩৫
হাদিস নং ৪৭৩৫
يَحْيَى حَدَّثَنَا وَكِيْعٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ خَبَّابٍ قَالَ كُنْتُ رَجُلًا قَيْنًا وَكَانَ لِيْ عَلَى الْعَاصِ بْنِ وَائِلٍ دَيْنٌ فَأَتَيْتُهُ أَتَقَاضَاهُ فَقَالَ لِيْ لَا أَقْضِيْكَ حَتَّى تَكْفُرَ بِمُحَمَّدٍ قَالَ قُلْتُ لَنْ أَكْفُرَ بِهِ حَتَّى تَمُوْتَ ثُمَّ تُبْعَثَ قَالَ وَإِنِّيْ لَمَبْعُوْثٌ مِنْ بَعْدِ الْمَوْتِ فَسَوْفَ أَقْضِيْكَ إِذَا رَجَعْتُ إِلَى مَالٍ وَوَلَدٍ قَالَ فَنَزَلَتْ {أَفَرَأَيْتَ الَّذِيْ كَفَرَ بِاٰيٰتِنَا وَقَالَ لَأُوْتَيَنَّ مَالًا وَّوَلَدًاأَطَّلَعَ الْغَيْبَ أَمْ اتَّخَذَ عِنْدَ الرَّحْمٰنِ عَهْدًا كَلَّا سَنَكْتُبُ مَا يَقُوْلُ وَنَمُدُّ لَه” مِنَ الْعَذَابِ مَدًّا وَنَرِثُه” مَا يَقُوْلُ وَيَأْتِيْنَا فَرْدًا}.
বর্ণনাকারী খাব্বাব (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি একজন কর্মকার ছিলাম এবং আস ইব্নু ওয়ায়েলের নিকট আমার কিছু পাওনা ছিল। আমি তাকে তাগিদ দিতে তার কাছে আসলাম। সে বলল, আমি পাওনা পরিশোধ করব না, যতক্ষণ না তুমি মুহাম্মাদকে অস্বীকার করবে। তিনি (খাব্বাব) বললেন, আমি কখনও তাঁকে অস্বীকার করব না, এমনকি তোমার মৃত্যুর পরে জীবিত হওয়া পর্যন্তও না। আস্ বলল, আমি মৃত্যুর পরে আবার জিিবত হব তখন অবিলম্বে আমি সম্পদ ও সন্তানের দিকে ফিরে আসব এবং তোমাকে পরিশোধ করে দেব। এ সময় আল্লাহ্ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন।“তুমি কি তাকে লক্ষ্য করেছ, যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে, আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবেই। সে কি অদৃশ্য সম্বন্ধে অবহিত হয়েছে, অথবা দয়াময়ের নিকট থেকে প্রতিশ্র“তি লাভ করেছে? কখনই না; সে যা বলে অবিলম্বে আমি তা লিখে রাখব এবং তার শাস্তি বৃদ্ধি করতে থাকব। সে যে বিষয়ের কথা বলে তা থাকবে আমার অধিকারে এবং সে আমার নিকট আসবে একা।” [২০৯১] (আ.প্র. ৪৩৭৪, ই.ফা. ৪৩৭৬)
৬৫/২০/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আর আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য তৈরি করে নিয়েছি। (সূরাহ ত্বহা ২০/৪১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৩৬
হাদিস নং ৪৭৩৬
الصَّلْتُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُوْنٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِيْرِيْنَ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْتَقَى آدَمُ وَمُوْسَى فَقَالَ مُوْسَى لِآدَمَ آنْتَ الَّذِيْ أَشْقَيْتَ النَّاسَ وَأَخْرَجْتَهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ قَالَ آدَمُ أَنْتَ مُوْسَى الَّذِي اصْطَفَاكَ اللهُ بِرِسَالَتِهِ وَاصْطَفَاكَ لِنَفْسِهِ وَأَنْزَلَ عَلَيْكَ التَّوْرَاةَ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَوَجَدْتَهَا كُتِبَ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِيْ قَالَ نَعَمْ فَحَجَّ آدَمُ مُوْسَى. واليَمُّ : البَحْرُ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আদাম (‘আ.) ও মূসা (‘আ.)-এর সাক্ষাৎ ঘটল। মূসা (‘আ.) আদাম (‘আ.)-কে বললেন, আপনি তো সে ব্যক্তি, মানব জাতিকে কষ্টের মধ্যে ফেলেছেন এবং তাদের জান্নাত থেকে বের করিয়েছেন? আদাম (‘আ.) তাঁকে বললেন, আপনি তো সে ব্যক্তি, আপনাকে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর রিসালাতের জন্য নির্বাচিত করেছেন, এবং বাছাই করেছেন আপনাকে নিজের জন্য এবং আপনার ওপর তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন? মূসা (‘আ.) বললেন, হ্যাঁ। আদাম (‘আ.) বললেন, আপনি তাতে অবশ্যই পেয়েছেন যে, আমার সৃষ্টির আগেই আল্লাহ্ তা‘আলা তা আমার জন্য লিখে রেখেছেন। মূসা (‘আ.) বললেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, এভাবে আদাম (‘আ.) মূসা (‘আ.)-এর উপর জয়ী হলেন। اليَمُّ সমুদ্র। [৩৪০৯] (আ.প্র. ৪৩৭৫, ই.ফা. ৪৩৭৭)
৬৫/২০/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৩৭
হাদিস নং ৪৭৩৭
يَعْقُوْبُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُوْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ لَمَّا قَدِمَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِيْنَةَ وَالْيَهُوْدُ تَصُوْمُ يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ فَسَأَلَهُمْ فَقَالُوْا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِيْ ظَهَرَ فِيْهِ مُوْسَى عَلَى فِرْعَوْنَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نَحْنُ أَوْلَى بِمُوْسَى مِنْهُمْ فَصُوْمُوْهُ
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদিনায় এলেন, তখন ইয়াহূদীরা আশুরার দিন সওম পালন করত। তিনি তাদের (সওমের কারণ) জিজ্ঞেস করলেন। তারা বলল, এ দিনে মূসা (‘আ.) ফিরআউনের ওপর জয়ী হয়েছিলেন। তখন নাবী বললেন, আমরাই তো তাদের চেয়ে মূসা (‘আ.)-এর নিকটবর্তী। কাজেই (মুসলিমগণ) তোমরা এ সিয়াম পালন কর। [২০০৪] (আ.প্র. ৪৩৭৬, ই.ফা. ৪৩৭৮)
৬৫/২০/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ সে যেন তোমাদেরকে কিছুতেই জান্নাত থেকে বের করে না দেয়, তাহলে কষ্টে পতিত হবে।(সূরাহ ত্বহা ২০/১১৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৩৮
হাদিস নং ৪৭৩৮
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا أَيُّوْبُ بْنُ النَّجَّارِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِيْ كَثِيْرٍ عَنْ أَبِيْ سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ حَاجَّ مُوْسَى آدَمَ فَقَالَ لَهُ أَنْتَ الَّذِيْ أَخْرَجْتَ النَّاسَ مِنَ الْجَنَّةِ بِذَنْبِكَ وَأَشْقَيْتَهُمْ قَالَ قَالَ آدَمُ يَا مُوْسَى أَنْتَ الَّذِي اصْطَفَاكَ اللهُ بِرِسَالَتِهِ وَبِكَلَامِهِ أَتَلُوْمُنِيْ عَلَى أَمْرٍ كَتَبَهُ اللهُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِيْ أَوْ قَدَّرَهُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِيْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَحَجَّ آدَمُ مُوْسَى.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মূসা (‘আ.) আদম (‘আ.)-এর সঙ্গে যুক্তি দিয়ে বললেন, আপনি তো সে ব্যক্তি, আপনার গুনাহ্রে কারণে মানব জাতিকে জান্নাত থেকে বের করেছেন এবং তাদের দুঃখ-কষ্টে ফেলেছেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আদম (‘আ.) বললেন, হে মূসা (‘আ.)! আপনি তো সে ব্যক্তি, আল্লাহ্ তা‘আলা আপনাকে রিসালাতের জন্য এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য বেছে নিয়েছেন। তবুও কি আপনি আমাকে এমন বিষয়ের জন্য নিন্দাবাদ করবেন, যা আল্লাহ্ আমার সৃষ্টির আগেই আমার সম্পর্কে লিখে রেখেছেন, অথবা বললেন, আমার সৃষ্টির পূর্বেই তা আমার ব্যাপারে নির্ধারণ করে রেখেছেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আদাম (‘আ.) মূসা (‘আ.)-এর উপর তর্কে বিজয়ী হলেন। [৩৪০৯] (আ.প্র. ৪৩৭৭, ই.ফা. ৪৩৭৯)
৬৫/২১/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৩৯
হাদিস নং ৪৭৩৯
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَزِيْدَ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ وَالْكَهْفُ وَمَرْيَمُ وَطه وَالأَنْبِيَاءُ هُنَّ مِنَ الْعِتَاقِ الْأُوَلِ وَهُنَّ مِنْ تِلَادِيْ وَقَالَ قَتَادَةُ {جُذَاذًا} قَطَّعَهُنَّ وَقَالَ الْحَسَنُ {فِيْ فَلَكٍ} مِثْلِ فَلْكَةِ الْمِغْزَلِ {يَسْبَحُوْنَ} يَدُوْرُوْنَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ{نَفَشَتْ} رَعَتْ لَيْلًا{يُصْحَبُوْنَ} يُمْنَعُوْنَ {أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَّاحِدَةً} قَالَ دِيْنُكُمْ دِيْنٌ وَاحِدٌ وَقَالَ عِكْرِمَةُ {حَصَبُ} حَطَبُ بِالْحَبَشِيَّةِ وَقَالَ غَيْرُهُ {أَحَسُّوْا} تَوَقَّعُوْا مِنْ أَحْسَسْتُ {خَامِدِيْنَ} هَامِدِيْنَ {حَصِيْدُ} مُسْتَأْصَلٌ يَقَعُ عَلَى الْوَاحِدِ وَالِاثْنَيْنِ وَالْجَمِيْعِ {لَا يَسْتَحْسِرُوْنَ} لَا يُعْيُوْنَ وَمِنْهُ حَسِيْرٌ وَحَسَرْتُ بَعِيْرِيْ {عَمِيْقٌ} بَعِيْدٌ{نُكِّسُوْا} رُدُّوْا {صَنْعَة لَبُوْسٍ} الدُّرُوْعُ {تَقَطَّعُوْآ أَمْرَهُمْ} اخْتَلَفُوا الْحَسِيْسُ وَالْحِسُّ وَالْجَرْسُ وَالْهَمْسُ وَاحِدٌ وَهُوَ مِنْ الصَّوْتِ الْخَفِيِّ {اٰذَنَّاكَ} أَعْلَمْنَاكَ آذَنْتُكُمْ إِذَا أَعْلَمْتَهُ فَأَنْتَ وَهُوَ عَلَى سَوَاءٍ لَمْ تَغْدِرْ وَقَالَ مُجَاهِدٌ {لَعَلَّكُمْ تُسْأَلُوْنَ} تُفْهَمُوْنَ {ارْتَضٰى} رَضِيَ {التَّمَاثِيْلُ} الْأَصْنَامُ {السِّجِلُّ} الصَّحِيْفَةُ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, সূরাহ বানী ইসরাঈল, কাহ্ফ, মারইয়াম, ত্বহা এবং ‘আম্বিয়া’ প্রথমে অবতীর্ণ অতি উত্তম সূরা। এগুলো আমার পুরনো রক্ষিত সম্পদ। [৪৭০৮] ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, جُذَاذًا টুক্রা টুক্রা করা। হাসান বলেন, فِي فَلَكٍ (কক্ষ পথ) সূতা কাটার চরকির মত। يَسْبَحُونَ ঘুরছে। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, نَفَشَتْ মানে চরে খেয়েছিল। يُصْحَبُونَ বাধা দেয়া হবে। أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً অর্থাৎ তোমাদের দ্বীন একই দীন। ইক্বরামাহ বলেন, حَصَبُ অর্থ, হাবশী ভাষায় জ্বালানি কাষ্ঠ। অন্যরা বলেন, أَحَسُّوا তারা অনুভব করেছিল। আর এ শব্দটি أَحْسَسْتُ থেকে উদ্ভূত। خَامِدِينَ নির্বাপিত। حَصِيدُ কর্তিত শস্য। শব্দটি একবচন, দ্বিচন, বহুবচনেও ব্যবহৃত হয়। لاَ يَسْتَحْسِرُونَ ক্লান্তি হয় না। এর থেকে উদ্ভূত حَسَرْتُ بَعِيرِي-حَسِيْرٌ আমি আমার উটকে পরিশ্রান্ত করে দিয়েছি। عَمِيقٌ দূরত্ব। نُكِّسُوا উল্টিয়ে দেয়া হয়েছে। صَنْعَة لَبُوسٍ অর্থাৎ বর্মাদি। تَقَطَّعُوا أَمْرَهُمْ তারা মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। الْجَرْسُ، الْحِسُّ، الْحَسِيسُ، الْهَمْسُ এগুলোর একই অর্থ-মৃদু আওয়াজ। آذَنَّاكَ আমি তোমাকে জানিয়েছি। آذَنْتُكُمْ যখন তুমি তাকে জানিয়ে দিলে তখন তুমি আর সে একই পর্যায়ের। তুমি চুক্তি ভঙ্গ কররে না। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لَعَلَّكُمْ تُسْأَلُونَ অর্থাৎ তোমাদের বুঝিয়ে দেয়া হবে। ارْتَضَى সে রাজী হল। التَّمَاثِيلُ মূর্তিসমূহ। السِّجِلُّ লিপিবদ্ধ কাগজ। (আ.প্র. ৪৩৭৮, ই.ফা. ৪৩৮০)
৬৫/২১/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম। (সূরাহ আম্বিয়া ২১/১০৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৪০
হাদিস নং ৪৭৪০
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْمُغِيْرَةِ بْنِ النُّعْمَانِ شَيْخٌ مِنْ النَّخَعِ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ خَطَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّكُمْ مَحْشُوْرُوْنَ إِلَى اللهِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا {كَمَا بَدَأْنَآ أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيْدُه” وَعْدًا عَلَيْنَآ إِنِّا كُنَّا فَعِلِيْنَ} ثُمَّ إِنَّ أَوَّلَ مَنْ يُكْسَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِبْرَاهِيْمُ أَلَا إِنَّهُ يُجَاءُ بِرِجَالٍ مِنْ أُمَّتِيْ فَيُؤْخَذُ بِهِمْ ذَاتَ الشِّمَالِ فَأَقُوْلُ يَا رَبِّ أَصْحَابِيْ فَيُقَالُ لَا تَدْرِيْ مَا أَحْدَثُوْا بَعْدَكَ فَأَقُوْلُ كَمَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ {وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيْدًا مَّا دُمْتُ فِيْهِمْ} إِلَى قَوْلِهِ {شَهِيْدٌ} فَيُقَالُ إِنَّ هَؤُلَاءِ لَمْ يَزَالُوْا مُرْتَدِّيْنَ عَلَى أَعْقَابِهِمْ مُنْذُ فَارَقْتَهُمْ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ভাষণে বলেন, ক্বিয়ামাতের দিন তোমরা আল্লাহ্ তা‘আলার সম্মুখে বস্ত্রহীন এবং খাতনাহীন অবস্থায় জমায়েত হবে। (এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন) كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ “যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব; আমার উপর এ ওয়াদা রইল; অবশ্যই আমি তা কার্যকর করব।” এরপর ক্বিয়ামাতের দিন সর্বপ্রথম পোশাক পরিধান করানো হবে ইব্রাহীম (‘আ.)-কে। জেনে রাখ, আমার উম্মাতের মধ্য হতে বহু লোককে হাজির করা হবে। এরপর তাদের ধরে বাম দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। আমি বলব, হে রব! এরা তো আমার সঙ্গী-সাথী। এরপর বলা হবে, আপনি জানেন না, আপনার পরে ওরা (ইসলামে) নতুন কাজে লিপ্ত হয়েছে। তখন আমি সে কথা বলব, যেমন আল্লাহ্র নেক বান্দা [ঈসা (‘আ.)] বলেছিলেন ঃ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ ..... شَهِيدٌ “যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম, ততদিন আমি ছিলাম তাদের কার্যাবলীর প্রত্যক্ষদর্শী; কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে, তখন তুমিই তো ছিলে তাদের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষকারী এবং তুমিই সর্ববিষয়ে সাক্ষী।” এরপর বলা হবে, তুমি এদের নিকট হতে চলে আসার পর এরা ধারাবাহিকভাবে উল্টো পথে চলেছে। [৩৩৪৯] (আ.প্র. ৪৩৭৯, ই.ফা. ৪৩৮১)
৬৫/২২/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আর মানুষকে দেখবে নেশাগ্রস্ত সদৃশ। (সূরাহ হাজ্জ ২২/২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৪১
হাদিস নং ৪৭৪১
عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا أَبُوْ صَالِحٍ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَا آدَمُ يَقُوْلُ لَبَّيْكَ رَبَّنَا وَسَعْدَيْكَ فَيُنَادَى بِصَوْتٍ إِنَّ اللهَ يَأْمُرُكَ أَنْ تُخْرِجَ مِنْ ذُرِّيَّتِكَ بَعْثًا إِلَى النَّارِ قَالَ يَا رَبِّ وَمَا بَعْثُ النَّارِ قَالَ مِنْ كُلِّ أَلْفٍ أُرَاهُ قَالَ تِسْعَ مِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِيْنَ فَحِيْنَئِذٍ تَضَعُ الْحَامِلُ حَمْلَهَا وَيَشِيْبُ الْوَلِيْدُ {وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللهِ شَدِيْدٌ}فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَى النَّاسِ حَتَّى تَغَيَّرَتْ وُجُوْهُهُمْ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ يَأْجُوْجَ وَمَأْجُوْجَ تِسْعَ مِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِيْنَ وَمِنْكُمْ وَاحِدٌ ثُمَّ أَنْتُمْ فِي النَّاسِ كَالشَّعْرَةِ السَّوْدَاءِ فِيْ جَنْبِ الثَّوْرِ الْأَبْيَضِ أَوْ كَالشَّعْرَةِ الْبَيْضَاءِ فِيْ جَنْبِ الثَّوْرِ الْأَسْوَدِ وَإِنِّيْ لَأَرْجُوْ أَنْ تَكُوْنُوْا رُبُعَ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَكَبَّرْنَا ثُمَّ قَالَ ثُلُثَ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَكَبَّرْنَا ثُمَّ قَالَ شَطْرَ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَكَبَّرْنَا قَالَ أَبُوْ أُسَامَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ {وَتَرَى النَّاسَ سُكَارٰى وَمَا هُمْ بِسُكَارٰى} وَقَالَ مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَ مِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِيْنَ وَقَالَ جَرِيْرٌ وَعِيْسَى بْنُ يُوْنُسَ وَأَبُوْ مُعَاوِيَةَ سَكْرَى وَمَا هُمْ بِسَكْرَى
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ্ তা‘আলা বলবেন, হে আদম! তিনি বলবেন, হে রব! আমার সৌভাগ্য, আমি হাজির। তারপর তাকে উচ্চৈঃস্বরে ডেকে বলা হবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাকে নির্দেশ দিতেছেন যে, তোমার বংশধর থেকে একদলকে বের করে জাহান্নামের দিকে নিয়ে আস। আদাম (‘আ.) বলবে, হে রব! জাহান্নামী দলের পরিমাণ কী? বলবে, প্রতি হাজার থেকে আমার ধারণা যে, বললেন, নয়শত নিরানব্বই, এ সময় গর্ভবতী মহিলা গর্ভপাত করবে, শিশুরা বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং তুমি মানুষকে দেখবে মাতাল; অথচ তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তুত আল্লাহ্র শাস্তি কঠিন। [পরে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ আয়াতটি পাঠ করলেন] ঃ এ কথা লোকদের কাছে ভয়ানক মনে হল, এমনকি তাদের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন তো ইয়াজুজ-মাজূজ থেকে নেয়া হবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন। আবার মানুষদের মধ্যে তোমাদের তুলনা হবে যেমন সাদা গরুর পার্শ্ব মধ্যে যেন একটি কালো পশম অথবা কালো গরুর পার্শ্বে যেন একটি সাদা পশম। আমি অবশ্য আশা রাখি যে, জান্নাতবাসীদের মধ্যে তোমরাই হবে এক-চতুর্থাংশ। (রাবী বলেন) আমরা সবাই খুশীতে বলে উঠলাম, ‘আল্লাহু আকবার’। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা হবে জান্নাতবাসীদের এক তৃতীয়াংশ। আমরা বলে উঠলাম, ‘আল্লাহু আকবার’। তারপর তিনি বললেন, তোমরা হবে জান্নাতবাসীদের অর্ধেক। আমরা বলে উঠলাম, ‘আল্লাহু আকবার’।আ’মাশ থেকে উসামার বর্ণনায় এসেছে تَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى এবং তিনি বলেন, প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন।জারীর, ঈসা, ইবনু ইউসুফ ও আবূ মু‘আবিয়াহ্র বর্ণনায় سُكَرَى এবং وَمَا هُمْ بِسُكَارَى রয়েছে। [৩৩৪৮] (আ.প্র. ৪৩৮০, ই.ফা. ৪৩৮২)
[১] পবিত্র বাক্য দ্বারা ‘কালিমাহ তাওহীদ’ অথবা ‘কুরআন’কে বোঝানো হয়েছে।
৬৫/২২/২.অধ্যায়ঃ
‘‘আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধা-দ্বনেদ্বর সঙ্গে আল্লাহর ‘ইবাদাত করে। যদি তার কোন পার্থিব স্বার্থ লাভ হয় তবে সে তাতে প্রশান্তি লাভ করে; কিন্তু যদি তার উপর কোন বিপর্যয় ঘটে তবে সে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। এতে সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টাই হারিয়ে বসে। এটাই প্রকাশ্য ক্ষতি। সে আল্লাহ্কে ছেড়ে এমন সব কিছুর উপাসনা করে, যা তার কোন ক্ষতিও করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না। এটাই চরম গোমরাহী।’’ (সূরা হাজ্জ ২২/১১-১২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৪২
হাদিস নং ৪৭৪২
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ الْحَارِثِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِيْ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيْلُ عَنْ أَبِيْ حَصِيْنٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ {وَمِنْ النَّاسِ مَنْ يَعْبُدُ اللهَ عَلَى حَرْفٍ} قَالَ كَانَ الرَّجُلُ يَقْدَمُ الْمَدِيْنَةَ فَإِنْ وَلَدَتْ امْرَأَتُهُ غُلَامًا وَنُتِجَتْ خَيْلُهُ قَالَ هَذَا دِيْنٌ صَالِحٌ وَإِنْ لَمْ تَلِدْ امْرَأَتُهُ وَلَمْ تُنْتَجْ خَيْلُهُ قَالَ هَذَا دِيْنُ سُوْءٍ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি النَّاسِ مَنْ يَعْبُدُ اللهَ عَلَى حَرْفٍ সম্পর্কে বলেন, কোন ব্যক্তি মদিনায় আগমন করতঃ যদি তার স্ত্রী পুত্র-সন্তান প্রসব করত এবং তার ঘোড়ায় বাচ্চা দিত, তখন বলত এ দ্বীন ভাল। আর যদি তার স্ত্রীর গর্ভে পুত্র সন্তান না জন্মাত এবং তার ঘোড়াও বাচ্চা না দিত, তখন বলত, এটা মন্দ দ্বীন। (আ.প্র. ৪৩৮১, ই.ফা. ৪৩৮৩)
৬৫/২২/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ এরা দু’টি কলহরত পক্ষ, তারা তাদের প্রতিপালকের ব্যাপারে বিতর্ক করছে। (সূরাহ হাজ্জ ২২/১৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৪৩
হাদিস নং ৪৭৪৩
حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا أَبُوْ هَاشِمٍ عَنْ أَبِيْ مِجْلَزٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ عَنْ أَبِيْ ذَرٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يُقْسِمُ قَسَمًا إِنَّ هَذِهِ الآيَةَ {هٰذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوْا فِيْ رَبِّهِمْ}نَزَلَتْ فِيْ حَمْزَةَ وَصَاحِبَيْهِ وَعُتْبَةَ وَصَاحِبَيْهِ يَوْمَ بَرَزُوْا فِيْ يَوْمِ بَدْرٍ رَوَاهُ سُفْيَانُ عَنْ أَبِيْ هَاشِمٍ وَقَالَ عُثْمَانُ عَنْ جَرِيْرٍ عَنْ مَنْصُوْرٍ عَنْ أَبِيْ هَاشِمٍ عَنْ أَبِيْ مِجْلَزٍ قَوْلَهُ.
বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ)
তিনি এ আয়াত সম্পর্কে কসম খেয়ে বলেন, এ আয়াত هَذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ (এরা দু’টি বিবদমান পক্ষ। তারা তাদের প্রতিপালকের ব্যাপারে বিতর্ক করে)। হামযা এবং তাঁর দু’সঙ্গী এবং উত্বা ও তার দু’সঙ্গীর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, যেদিন তারা বাদ্রের যুদ্ধে বিপক্ষের সঙ্গে মুকাবালা করেছিল।সুফ্ইয়ান আবূ হাশিম সূত্রে এবং ‘উসমান.....এ বক্তব্যটি আবূ মিজলায এর উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। [৩৯৬৬] (আ.প্র. ৪৩৮২, ই.ফা. ৪৩৮৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৪৪
হাদিস নং ৪৭৪৪
حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ أَبِيْ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُوْ مِجْلَزٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِيْ طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَنَا أَوَّلُ مَنْ يَجْثُوْ بَيْنَ يَدَيْ الرَّحْمَنِ لِلْخُصُوْمَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ قَيْسٌ وَفِيْهِمْ نَزَلَتْ {هٰذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوْا فِيْ رَبِّهِمْ} قَالَ هُمْ الَّذِيْنَ بَارَزُوْا يَوْمَ بَدْرٍ عَلِيٌّ وَحَمْزَةُ وَعُبَيْدَةُ وَشَيْبَةُ بْنُ رَبِيْعَةَ وَعُتْبَةُ بْنُ رَبِيْعَةَ وَالْوَلِيْدُ بْنُ عُتْبَةَ.
বর্ণনাকারী ‘আলী ইব্নু আবূ ত্বলিব (রাঃ)
তিনি বলেন, আমিই সর্বপ্রথম ক্বিয়ামাত দিবসে আল্লাহ্র সমীপে নতজানু হয়ে নালিশ জানাব। কায়েস বলেন, এ ব্যাপারেই هَذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, এরাই বাদ্রের যুদ্ধে সর্বপ্রথম বিপক্ষের সাথে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হয়েছিল। অর্থাৎ ‘আলী, হামযা ও ‘উবাইদাহ, শাইবাহ ইব্নু রাবী‘য়াহ, ‘উত্বাহ ইব্নু রাবী‘য়াহ এবং ওয়ালীদ ইব্নু ‘উত্বাহ। [৩৯৬৫] (আ.প্র. ৪৩৮৩, ই.ফা. ৪৩৮৫)
৬৫/২৪/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৪৫
হাদিস নং ৪৭৪৫
إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ عُوَيْمِرًا أَتَى عَاصِمَ بْنَ عَدِيٍّ وَكَانَ سَيِّدَ بَنِيْ عَجْلَانَ فَقَالَ كَيْفَ تَقُوْلُوْنَ فِيْ رَجُلٍ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُوْنَهُ أَمْ كَيْفَ يَصْنَعُ سَلْ لِيْ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَأَتَى عَاصِمٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَكَرِهَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسَائِلَ فَسَأَلَهُ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَرِهَ الْمَسَائِلَ وَعَابَهَا قَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللهِ لَا أَنْتَهِيْ حَتَّى أَسْأَلَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَجَاءَ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ رَجُلٌ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُوْنَهُ أَمْ كَيْفَ يَصْنَعُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَنْزَلَ اللهُ الْقُرْآنَ فِيْكَ وَفِيْ صَاحِبَتِكَ فَأَمَرَهُمَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمُلَاعَنَةِ بِمَا سَمَّى اللهُ فِيْ كِتَابِهِ فَلَاعَنَهَا ثُمَّ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنْ حَبَسْتُهَا فَقَدْ ظَلَمْتُهَا فَطَلَّقَهَا فَكَانَتْ سُنَّةً لِمَنْ كَانَ بَعْدَهُمَا فِي الْمُتَلَاعِنَيْنِ ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم انْظُرُوْا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَسْحَمَ أَدْعَجَ الْعَيْنَيْنِ عَظِيْمَ الْأَلْيَتَيْنِ خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ فَلَا أَحْسِبُ عُوَيْمِرًا إِلَّا قَدْ صَدَقَ عَلَيْهَا وَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أُحَيْمِرَ كَأَنَّهُ وَحَرَةٌ فَلَا أَحْسِبُ عُوَيْمِرًا إِلَّا قَدْ كَذَبَ عَلَيْهَا فَجَاءَتْ بِهِ عَلَى النَّعْتِ الَّذِيْ نَعَتَ بِهِ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ تَصْدِيْقِ عُوَيْمِرٍ فَكَانَ بَعْدُ يُنْسَبُ إِلَى أُمِّهِ.
বর্ণনাকারী সাহল ইব্নু সা‘দ (রাঃ)
‘উয়াইমির (রাঃ) ‘আসিম ইব্নু আদির নিকট আসলেন। তিনি আজ্লান গোত্রের সর্দার। ‘উয়াইমির তাঁকে বললেন, তোমরা ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে কী বল, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষ দেখতে পায়। সে কি তাকে হত্যা করবে? এরপর তো তোমরা তাকেই হত্যা করবে অথবা সে কী করবে? তুমি আমার পক্ষ হতে এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট জিজ্ঞেস কর। তারপর আসিম নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল .....। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ ধরনের প্রশ্ন অপছন্দ করলেন। তারপর ‘উয়াইমির (রাঃ) তাঁকে প্রশ্ন করলেন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ ধরনের প্রশ্ন না-পছন্দ করেছেন ও দূষণীয় মনে করেছেন। তখন উয়াইমির বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি এ বিষয়টি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত ক্ষান্ত হব না। তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য একটি পুরুষকে দেখতে পেলে সে কি তাকে হত্যা করবে? তখন তো আপনারা তাকে (কিসাস স্বরূপ) হত্যা করে ফেলবেন অথবা, সে কী করবে? তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার ও তোমার স্ত্রী সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বামী-স্ত্রী দু-জনকে ‘লিয়ান’ করার নির্দেশ দিলেন; যেভাবে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তারপর ‘উয়াইমির তার স্ত্রীর সঙ্গে লিয়ান করলেন। এরপরে বললেন, (এরপরও) যদি আমি তাকে রাখি, তবে তার প্রতি আমি যালিম হবো। তারপর তিনি তাকে ত্বলাক দিয়ে দিলেন। অতএব, তাদের পরবর্তী লোকদের জন্য, যারা পরস্পর ‘লিয়ান’ করে এটি সুন্নাতে পরিণত হল। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, লক্ষ্য কর! যদি মহিলাটি একটি কালো ডাগর চক্ষু, বড় পাছা ও বড় পাওয়ালা বাচ্চা জন্ম দেয়, তবে আমি মনে করব, ‘উয়াইমিরই তার সম্পর্কে সত্য বলেছে এবং যদি সে লাল গিরগিটির মত একটি লাল বর্ণের সন্তান প্রসব করে তবে আমি মনে করব, ‘উয়াইমির তার সম্পর্কে মিথ্যা বলেছে। এরপর সে এমন একটি সন্তান প্রসব করল, যার গুণাবলী রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘উয়াইমির সত্যবাদী হওয়ার পক্ষে বলেছিলেন। তারপর সন্তানটিকে মায়ের দিকে সম্পর্কযুক্ত করে পরিচয় দেয়া হত। [৪২৩] (আ.প্র. ৪৩৮৪, ই.ফা. ৪৩৮৬)
৬৫/২৪/২.অধ্যায়ঃ
‘‘এবং পঞ্চমবারে বলবে, সে মিথ্যাচারী হলে তার ওপর নেমে আসবে আল্লাহর লা’নাত।’’ (সূরাহ নূর ২৪/৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৪৬
হাদিস নং ৪৭৪৬
سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ أَبُو الرَّبِيْعِ حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ رَجُلًا أَتَى رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَرَأَيْتَ رَجُلًا رَأَى مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُوْنَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ فَأَنْزَلَ اللهُ فِيْهِمَا مَا ذُكِرَ فِي الْقُرْآنِ مِنْ التَّلَاعُنِ فَقَالَ لَهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ قُضِيَ فِيْكَ وَفِي امْرَأَتِكَ قَالَ فَتَلَاعَنَا وَأَنَا شَاهِدٌ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَفَارَقَهَا فَكَانَتْ سُنَّةً أَنْ يُفَرَّقَ بَيْنَ الْمُتَلَاعِنَيْنِ وَكَانَتْ حَامِلًا فَأَنْكَرَ حَمْلَهَا وَكَانَ ابْنُهَا يُدْعَى إِلَيْهَا ثُمَّ جَرَتْ السُّنَّةُ فِي الْمِيْرَاثِ أَنْ يَرِثَهَا وَتَرِثَ مِنْهُ مَا فَرَضَ اللهُ لَهَا
বর্ণনাকারী সাহল ইব্নু সা‘দ (রাঃ)
এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি আমাকে বলুন তো, এক লোক তার স্ত্রীর সঙ্গে এক লোককে দেখতে পেল। সে কী তাকে হত্যা করবে? যার ফলে আপনারা তাকে হত্যা করবেন অথবা সে আর কী করতে পারে! তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা এ দু’জন সম্পর্কে আয়াত অবতীর্ণ করেন, যা কুরআনে পারস্পরিক লা‘নত করা সম্পর্কে বর্ণিত। তখন তাকে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার ও তোমার স্ত্রী সম্পর্কে ফয়সালা হয়ে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, তারা উভয়ে পরস্পর ‘লিয়ান’ করল। তখন আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তারপর সে তার স্ত্রীকে পৃথক করে দিল। এরপর নিয়ম হয়ে গেল যে,, লিয়ানকারী উভয়কে পৃথক করে দেয়া হবে। মহিলাটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল, তার স্বামী তার গর্ভ অস্বীকার করল। সুতরাং সন্তানটিকে তার মায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত করে ডাকা হত। তারপর উত্তরাধিকার স্বত্বে এ নিয়ম চালু হল যে, সন্তান মায়ের ‘মিরাস’ পাবে। আর মাতাও সন্তানের ‘মিরাস’ পাবে, যা আল্লাহ্ তা‘আলা তার ব্যাপারে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। [৪২৩] (আ.প্র. ৪৩৮৫, ই.ফা. ৪৩৮৭)
৬৫/২৪/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ তবে স্ত্রীর শাস্তি রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামীই মিথ্যাচারী। (সূরাহ নূর ২৪/৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৪৭
হাদিস নং ৪৭৪৭
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِيْ عَدِيٍّ عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ هِلَالَ بْنَ أُمَيَّةَ قَذَفَ امْرَأَتَهُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِشَرِيْكِ ابْنِ سَحْمَاءَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْبَيِّنَةَ أَوْ حَدٌّ فِيْ ظَهْرِكَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِذَا رَأَى أَحَدُنَا عَلَى امْرَأَتِهِ رَجُلًا يَنْطَلِقُ يَلْتَمِسُ الْبَيِّنَةَ فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ الْبَيِّنَةَ وَإِلَّا حَدٌّ فِيْ ظَهْرِكَ فَقَالَ هِلَالٌ وَالَّذِيْ بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنِّيْ لَصَادِقٌ فَلَيُنْزِلَنَّ اللهُ مَا يُبَرِّئُ ظَهْرِيْ مِنَ الْحَدِّ فَنَزَلَ جِبْرِيْلُ وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ {وَالَّذِيْنَ يَرْمُوْنَ أَزْوَاجَهُمْ} فَقَرَأَ حَتَّى بَلَغَ {إنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِيْنَ}فَانْصَرَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا فَجَاءَ هِلَالٌ فَشَهِدَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ إِنَّ اللهَ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْكُمَا تَائِبٌ ثُمَّ قَامَتْ فَشَهِدَتْ فَلَمَّا كَانَتْ عِنْدَ الْخَامِسَةِ وَقَّفُوْهَا وَقَالُوْا إِنَّهَا مُوْجِبَةٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَتَلَكَّأَتْ وَنَكَصَتْ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهَا تَرْجِعُ ثُمَّ قَالَتْ لَا أَفْضَحُ قَوْمِيْ سَائِرَ الْيَوْمِ فَمَضَتْ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَبْصِرُوْهَا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَكْحَلَ الْعَيْنَيْنِ سَابِغَ الْأَلْيَتَيْنِ خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ فَهُوَ لِشَرِيْكِ ابْنِ سَحْمَاءَ فَجَاءَتْ بِهِ كَذَلِكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَوْلَا مَا مَضَى مِنْ كِتَابِ اللهِ لَكَانَ لِيْ وَلَهَا شَأْنٌ
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
হিলাল ইব্নু ‘উমাইয়াহ রসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে শারীক ইব্নু সাহমার সঙ্গে তার স্ত্রীর ব্যভিচারের অভিযোগ করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সাক্ষী (হাযির কর) নতুবা শাস্তি তোমার পিঠে পড়বে। হিলাল বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! যখন আমাদের কেউ তার স্ত্রীর উপর অন্য কাউকে দেখে তখন সে কি সাক্ষী তালাশ করতে যাবে? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে লাগলেন, সাক্ষী, নতুবা শাস্তি তোমার পিঠে। হিলাল বললেন, শপথ সে সত্তার, যিনি আপনাকে সত্য নাবী হিসাবে পাঠিয়েছেন, নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী। অবশ্যই আল্লাহ্ তা‘আলা এমন বিধান অবতীর্ণ করবেন, যা আমার পিঠকে শাস্তি থেকে মুক্ত করে দিবে। তারপর জিবরীল (‘আ.) এলেন এবং রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর অবতীর্ণ করা হল ঃ “যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে” থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করলেন, “যদি সে সত্যবাদী হয়ে থাকে” পর্যন্ত। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিরলেন এবং তার স্ত্রীকে ডেকে আনার জন্য লোক পাঠালেন। হিলাল এসে সাক্ষ্য দিলেন। আর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলছিলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা তো জানেন যে, তোমাদের দু’জনের মধ্যে অবশ্যই একজন মিথ্যাচারী। তবে কি তোমাদের মধ্যে কেউ তওবা করবে? স্ত্রীলোকটি দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিল। সে যখন পঞ্চমবারের কাছে পৌঁছল, তখন লোকেরা তাকে বাধা দিল এবং বলল, নিশ্চয়ই এটি তোমার ওপর অবশ্যম্ভাবী। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে সে দ্বিধাগ্রস্ত হল এবং ইতস্তত করতে লাগল। এমনকি আমরা মনে করতে লাগলাম যে, সে নিশ্চযই প্রত্যাবর্তন করবে। পরে সে বলে উঠল, আমি চিরকালের জন্য আমার বংশকে কলুষিত করব না। সে তার সাক্ষ্য পূর্ণ করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এর প্রতি দৃষ্টি রেখ, যদি সে কাল ডাগর চক্ষু, বড় পাছা ও মোটা নলা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তবে ও সন্তান শারীক ইব্নু সাহমার। পরে সে ঐরূপ সন্তান জন্ম দিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যদি এ বিষয়ে আল্লাহ্র কিতাব কার্যকর না হত, তা হলে অবশ্যই আমার ও তার মধ্যে কী ব্যাপার যে ঘটত। [২৬৭১] (আ.প্র. ৪৩৮৬, ই.ফা. ৪৩৮৮)
[১] খাওলা (রাঃ)।[2] আনীত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে শপথ করলেন।[3] পঞ্চমবার শপথ করল।
৬৫/২৪/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ এবং পঞ্চমবারে বলে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব। (সূরাহ নূর ২৪/৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৪৮
হাদিস নং ৪৭৪৮
مُقَدَّمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَمِّيْ الْقَاسِمُ بْنُ يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللهِ وَقَدْ سَمِعَ مِنْهُ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَجُلًا رَمَى امْرَأَتَهُ فَانْتَفَى مِنْ وَلَدِهَا فِيْ زَمَانِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَتَلَاعَنَا كَمَا قَالَ اللهُ ثُمَّ قَضَى بِالْوَلَدِ لِلْمَرْأَةِ وَفَرَّقَ بَيْنَ الْمُتَلَاعِنَيْنِ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘উমার (রাঃ)
এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে স্বীয় স্ত্রীর উপর (যিনার) অভিযোগ আনে এবং সে স্ত্রীর সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে। রসূল উভয়কে লি’য়ান করতে আদেশ দেন। আল্লাহ্ তাআলা যেভাবে বলেছেন, সেভাবে তারা লিয়ান করে। তারপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ সিদ্ধান্ত দিলেন যে, বাচ্চাটি স্ত্রীর আর তিনি লি’য়ানকারী দু’জনকে আলাদা করে দিলেন। [৫৩০৬, ৫৩১৩, ৫৩১৪, ৫৩১৫, ৬৭৪৮] (আ.প্র. ৪৩৮৭, ই.ফা. ৪৩৮৯)
৬৫/২৪/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৪৯
হাদিস নং ৪৭৪৯
أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا {وَالَّذِيْ تَوَلّٰى كِبْرَه”}قَالَتْ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ ابْنُ سَلُوْلَ
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ “যে এ অপবাদের বড় ভূমিকা নিয়েছিল” এর ব্যাখ্যায় বলেন, সে হল ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাই ইবনু সালূল। [২৫৯৩] (আ.প্র. ৪৩৮৮, ই.ফা. ৪৩৯০)
৬৫/২৪/৬
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৫০
হাদিস নং ৪৭৫০
يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ يُوْنُسَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ وَسَعِيْدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَعَلْقَمَةُ بْنُ وَقَّاصٍ وَعُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُوْدٍ عَنْ حَدِيْثِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِيْنَ قَالَ لَهَا أَهْلُ الإِفْكِ مَا قَالُوْا فَبَرَّأَهَا اللهُ مِمَّا قَالُوْا وَكُلٌّ حَدَّثَنِيْ طَائِفَةً مِنَ الْحَدِيْثِ وَبَعْضُ حَدِيْثِهِمْ يُصَدِّقُ بَعْضًا وَإِنْ كَانَ بَعْضُهُمْ أَوْعَى لَهُ مِنْ بَعْضٍ الَّذِيْ حَدَّثَنِيْ عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ أَقْرَعَ بَيْنَ أَزْوَاجِهِ فَأَيَّتُهُنَّ خَرَجَ سَهْمُهَا خَرَجَ بِهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَعَهُ قَالَتْ عَائِشَةُ فَأَقْرَعَ بَيْنَنَا فِيْ غَزْوَةٍ غَزَاهَا فَخَرَجَ سَهْمِيْ فَخَرَجْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَمَا نَزَلَ الْحِجَابُ فَأَنَا أُحْمَلُ فِيْ هَوْدَجِيْ وَأُنْزَلُ فِيْهِ فَسِرْنَا حَتَّى إِذَا فَرَغَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَزْوَتِهِ تِلْكَ وَقَفَلَ وَدَنَوْنَا مِنَ الْمَدِيْنَةِ قَافِلِيْنَ آذَنَ لَيْلَةً بِالرَّحِيْلِ فَقُمْتُ حِيْنَ آذَنُوْا بِالرَّحِيْلِ فَمَشَيْتُ حَتَّى جَاوَزْتُ الْجَيْشَ فَلَمَّا قَضَيْتُ شَأْنِيْ أَقْبَلْتُ إِلَى رَحْلِيْ فَإِذَا عِقْدٌ لِيْ مِنْ جَزْعِ ظَفَارِ قَدْ انْقَطَعَ فَالْتَمَسْتُ عِقْدِيْ وَحَبَسَنِي ابْتِغَاؤُهُ وَأَقْبَلَ الرَّهْطُ الَّذِيْنَ كَانُوْا يَرْحَلُوْنَ لِيْ فَاحْتَمَلُوْا هَوْدَجِيْ فَرَحَلُوْهُ عَلَى بَعِيْرِي الَّذِيْ كُنْتُ رَكِبْتُ وَهُمْ يَحْسِبُوْنَ أَنِّيْ فِيْهِ وَكَانَ النِّسَاءُ إِذْ ذَاكَ خِفَافًا لَمْ يُثْقِلْهُنَّ اللَّحْمُ إِنَّمَا تَأْكُلُ الْعُلْقَةَ مِنْ الطَّعَامِ فَلَمْ يَسْتَنْكِرْ الْقَوْمُ خِفَّةَ الْهَوْدَجِ حِيْنَ رَفَعُوْهُ وَكُنْتُ جَارِيَةً حَدِيْثَةَ السِّنِّ فَبَعَثُوا الْجَمَلَ وَسَارُوْا فَوَجَدْتُ عِقْدِيْ بَعْدَمَا اسْتَمَرَّ الْجَيْشُ فَجِئْتُ مَنَازِلَهُمْ وَلَيْسَ بِهَا دَاعٍ وَلَا مُجِيْبٌ فَأَمَمْتُ مَنْزِلِي الَّذِيْ كُنْتُ بِهِ وَظَنَنْتُ أَنَّهُمْ سَيَفْقِدُوْنِيْ فَيَرْجِعُوْنَ إِلَيَّ فَبَيْنَا أَنَا جَالِسَةٌ فِيْ مَنْزِلِيْ غَلَبَتْنِيْ عَيْنِيْ فَنِمْتُ وَكَانَ صَفْوَانُ بْنُ الْمُعَطَّلِ السُّلَمِيُّ ثُمَّ الذَّكْوَانِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْجَيْشِ فَأَدْلَجَ فَأَصْبَحَ عِنْدَ مَنْزِلِيْ فَرَأَى سَوَادَ إِنْسَانٍ نَائِمٍ فَأَتَانِيْ فَعَرَفَنِيْ حِيْنَ رَآنِيْ وَكَانَ رَآنِيْ قَبْلَ الْحِجَابِ فَاسْتَيْقَظْتُ بِاسْتِرْجَاعِهِ حِيْنَ عَرَفَنِيْ فَخَمَّرْتُ وَجْهِيْ بِجِلْبَابِيْ وَ وَاللهِ مَا كَلَّمَنِيْ كَلِمَةً وَلَا سَمِعْتُ مِنْهُ كَلِمَةً غَيْرَ اسْتِرْجَاعِهِ حَتَّى أَنَاخَ رَاحِلَتَهُ فَوَطِئَ عَلَى يَدَيْهَا فَرَكِبْتُهَا فَانْطَلَقَ يَقُوْدُ بِي الرَّاحِلَةَ حَتَّى أَتَيْنَا الْجَيْشَ بَعْدَمَا نَزَلُوْا مُوْغِرِيْنَ فِيْ نَحْرِ الظَّهِيْرَةِ فَهَلَكَ مَنْ هَلَكَ.وَكَانَ الَّذِيْ تَوَلَّى الإِفْكَ عَبْدَ اللهِ بْنَ أُبَيٍّ ابْنَ سَلُوْلَ فَقَدِمْنَا الْمَدِيْنَةَ فَاشْتَكَيْتُ حِيْنَ قَدِمْتُ شَهْرًا وَالنَّاسُ يُفِيْضُوْنَ فِيْ قَوْلِ أَصْحَابِ الإِفْكِ لَا أَشْعُرُ بِشَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ وَهُوَ يَرِيْبُنِيْ فِيْ وَجَعِيْ أَنِّيْ لَا أَعْرِفُ مِنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم اللَّطَفَ الَّذِيْ كُنْتُ أَرَى مِنْهُ حِيْنَ أَشْتَكِيْ إِنَّمَا يَدْخُلُ عَلَيَّ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَيُسَلِّمُ ثُمَّ يَقُوْلُ كَيْفَ تِيْكُمْ ثُمَّ يَنْصَرِفُ فَذَاكَ الَّذِيْ يَرِيْبُنِيْ وَلَا أَشْعُرُ بِالشَّرِّ حَتَّى خَرَجْتُ بَعْدَمَا نَقَهْتُ فَخَرَجَتْ مَعِيْ أُمُّ مِسْطَحٍ قِبَلَ الْمَنَاصِعِ وَهُوَ مُتَبَرَّزُنَا وَكُنَّا لَا نَخْرُجُ إِلَّا لَيْلًا إِلَى لَيْلٍ وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ نَتَّخِذَ الْكُنُفَ قَرِيْبًا مِنْ بُيُوْتِنَا وَأَمْرُنَا أَمْرُ الْعَرَبِ الْأُوَلِ فِي التَّبَرُّزِ قِبَلَ الْغَائِطِ فَكُنَّا نَتَأَذَّى بِالْكُنُفِ أَنْ نَتَّخِذَهَا عِنْدَ بُيُوْتِنَا فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَأُمُّ مِسْطَحٍ وَهِيَ ابْنَةُ أَبِيْ رُهْمِ بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ وَأُمُّهَا بِنْتُ صَخْرِ بْنِ عَامِرٍ خَالَةُ أَبِيْ بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ وَابْنُهَا مِسْطَحُ بْنُ أُثَاثَةَ فَأَقْبَلْتُ أَنَا وَأُمُّ مِسْطَحٍ قِبَلَ بَيْتِيْ وَقَدْ فَرَغْنَا مِنْ شَأْنِنَا فَعَثَرَتْ أُمُّ مِسْطَحٍ فِيْ مِرْطِهَا فَقَالَتْ تَعِسَ مِسْطَحٌ فَقُلْتُ لَهَا بِئْسَ مَا قُلْتِ أَتَسُبِّيْنَ رَجُلًا شَهِدَ بَدْرًا قَالَتْ أَيْ هَنْتَاهْ أَوَلَمْ تَسْمَعِيْ مَا قَالَ قَالَتْ قُلْتُ وَمَا قَالَ فَأَخْبَرَتْنِيْ بِقَوْلِ أَهْلِ الإِفْكِ فَازْدَدْتُ مَرَضًا عَلَى مَرَضِيْ فَلَمَّا رَجَعْتُ إِلَى بَيْتِيْ وَدَخَلَ عَلَيَّ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَعْنِيْ سَلَّمَ ثُمَّ قَالَ كَيْفَ تِيْكُمْ فَقُلْتُ أَتَأْذَنُ لِيْ أَنْ آتِيَ أَبَوَيَّ قَالَتْ وَأَنَا حِيْنَئِذٍ أُرِيْدُ أَنْ أَسْتَيْقِنَ الْخَبَرَ مِنْ قِبَلِهِمَا قَالَتْ فَأَذِنَ لِيْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَجِئْتُ أَبَوَيَّ فَقُلْتُ لِأُمِّيْ يَا أُمَّتَاهْ مَا يَتَحَدَّثُ النَّاسُ قَالَتْ يَا بُنَيَّةُ هَوِّنِيْ عَلَيْكِ فَوَاللهِ لَقَلَّمَا كَانَتْ امْرَأَةٌ قَطُّ وَضِيئَةٌ عِنْدَ رَجُلٍ يُحِبُّهَا وَلَهَا ضَرَائِرُ إِلَّا كَثَّرْنَ عَلَيْهَا قَالَتْ فَقُلْتُ سُبْحَانَ اللهِ أَوَلَقَدْ تَحَدَّثَ النَّاسُ بِهَذَا قَالَتْ فَبَكَيْتُ تِلْكَ اللَّيْلَةَ حَتَّى أَصْبَحْتُ لَا يَرْقَأُ لِيْ دَمْعٌ وَلَا أَكْتَحِلُ بِنَوْمٍ حَتَّى أَصْبَحْتُ أَبْكِيْ فَدَعَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيَّ بْنَ أَبِيْ طَالِبٍ وَأُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا حِيْنَ اسْتَلْبَثَ الْوَحْيُ يَسْتَأْمِرُهُمَا فِيْ فِرَاقِ أَهْلِهِ قَالَتْ فَأَمَّا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَأَشَارَ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِالَّذِيْ يَعْلَمُ مِنْ بَرَاءَةِ أَهْلِهِ وَبِالَّذِيْ يَعْلَمُ لَهُمْ فِيْ نَفْسِهِ مِنَ الْوُدِّ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَهْلَكَ وَلَا نَعْلَمُ إِلَّا خَيْرًا وَأَمَّا عَلِيُّ بْنُ أَبِيْ طَالِبٍ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ لَمْ يُضَيِّقْ اللهُ عَلَيْكَ وَالنِّسَاءُ سِوَاهَا كَثِيْرٌ وَإِنْ تَسْأَلْ الْجَارِيَةَ تَصْدُقْكَ.قَالَتْ فَدَعَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَرِيْرَةَ فَقَالَ أَيْ بَرِيْرَةُ هَلْ رَأَيْتِ مِنْ شَيْءٍ يَرِيْبُكِ قَالَتْ بَرِيْرَةُ لَا وَالَّذِيْ بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنْ رَأَيْتُ عَلَيْهَا أَمْرًا أَغْمِصُهُ عَلَيْهَا أَكْثَرَ مِنْ أَنَّهَا جَارِيَةٌ حَدِيْثَةُ السِّنِّ تَنَامُ عَنْ عَجِيْنِ أَهْلِهَا فَتَأْتِي الدَّاجِنُ فَتَأْكُلُهُ فَقَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَعْذَرَ يَوْمَئِذٍ مِنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أُبَيٍّ ابْنِ سَلُوْلَ قَالَتْ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِيْنَ مَنْ يَعْذِرُنِيْ مِنْ رَجُلٍ قَدْ بَلَغَنِيْ أَذَاهُ فِيْ أَهْلِ بَيْتِيْ فَوَاللهِ مَا عَلِمْتُ عَلَى أَهْلِيْ إِلَّا خَيْرًا وَلَقَدْ ذَكَرُوْا رَجُلًا مَا عَلِمْتُ عَلَيْهِ إِلَّا خَيْرًا وَمَا كَانَ يَدْخُلُ عَلَى أَهْلِيْ إِلَّا مَعِيْ فَقَامَ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ الْأَنْصَارِيُّ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنَا أَعْذِرُكَ مِنْهُ إِنْ كَانَ مِنَ الْأَوْسِ ضَرَبْتُ عُنُقَهُ وَإِنْ كَانَ مِنْ إِخْوَانِنَا مِنَ الْخَزْرَجِ أَمَرْتَنَا فَفَعَلْنَا أَمْرَكَ قَالَتْ فَقَامَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ وَهُوَ سَيِّدُ الْخَزْرَجِ وَكَانَ قَبْلَ ذَلِكَ رَجُلًا صَالِحًا وَلَكِنْ احْتَمَلَتْهُ الْحَمِيَّةُ فَقَالَ لِسَعْدٍ كَذَبْتَ لَعَمْرُ اللهِ لَا تَقْتُلُهُ وَلَا تَقْدِرُ عَلَى قَتْلِهِ فَقَامَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ وَهُوَ ابْنُ عَمِّ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فَقَالَ لِسَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ كَذَبْتَ لَعَمْرُ اللهِ لَنَقْتُلَنَّهُ فَإِنَّكَ مُنَافِقٌ تُجَادِلُ عَنِ الْمُنَافِقِيْنَ فَتَثَاوَرَ الْحَيَّانِ الْأَوْسُ وَالْخَزْرَجُ حَتَّى هَمُّوْا أَنْ يَقْتَتِلُوْا وَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ عَلَى الْمِنْبَرِ فَلَمْ يَزَلْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُخَفِّضُهُمْ حَتَّى سَكَتُوْا وَسَكَتَ قَالَتْ فَبَكَيْتُ يَوْمِيْ ذَلِكَ لَا يَرْقَأُ لِيْ دَمْعٌ وَلَا أَكْتَحِلُ بِنَوْمٍ قَالَتْ فَأَصْبَحَ أَبَوَايَ عِنْدِيْ وَقَدْ بَكَيْتُ لَيْلَتَيْنِ وَيَوْمًا لَا أَكْتَحِلُ بِنَوْمٍ وَلَا يَرْقَأُ لِيْ دَمْعٌ يَظُنَّانِ أَنَّ الْبُكَاءَ فَالِقٌ كَبِدِيْ قَالَتْ فَبَيْنَمَا هُمَا جَالِسَانِ عِنْدِيْ وَأَنَا أَبْكِيْ فَاسْتَأْذَنَتْ عَلَيَّ امْرَأَةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ فَأَذِنْتُ لَهَا فَجَلَسَتْ تَبْكِيْ مَعِيْ قَالَتْ فَبَيْنَا نَحْنُ عَلَى ذَلِكَ دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ ثُمَّ جَلَسَ قَالَتْ وَلَمْ يَجْلِسْ عِنْدِيْ مُنْذُ قِيْلَ مَا قِيْلَ قَبْلَهَا وَقَدْ لَبِثَ شَهْرًا لَا يُوْحَى إِلَيْهِ فِيْ شَأْنِيْ قَالَتْ فَتَشَهَّدَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حِيْنَ جَلَسَ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ يَا عَائِشَةُ فَإِنَّهُ قَدْ بَلَغَنِيْ عَنْكِ كَذَا وَكَذَا فَإِنْ كُنْتِ بَرِيئَةً فَسَيُبَرِّئُكِ اللهُ وَإِنْ كُنْتِ أَلْمَمْتِ بِذَنْبٍ فَاسْتَغْفِرِي اللهَ وَتُوْبِيْ إِلَيْهِ فَإِنَّ الْعَبْدَ إِذَا اعْتَرَفَ بِذَنْبِهِ ثُمَّ تَابَ إِلَى اللهِ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ قَالَتْ فَلَمَّا قَضَى رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَقَالَتَهُ قَلَصَ دَمْعِيْ حَتَّى مَا أُحِسُّ مِنْهُ قَطْرَةً فَقُلْتُ لِأَبِيْ أَجِبْ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيْمَا قَالَ قَالَ وَاللهِ مَا أَدْرِيْ مَا أَقُوْلُ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لِأُمِّيْ أَجِيْبِيْ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلمقَالَتْ مَا أَدْرِيْ مَا أَقُوْلُ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ فَقُلْتُ وَأَنَا جَارِيَةٌ حَدِيْثَةُ السِّنِّ لَا أَقْرَأُ كَثِيْرًا مِنَ الْقُرْآنِ إِنِّيْ وَاللهِ لَقَدْ عَلِمْتُ لَقَدْ سَمِعْتُمْ هَذَا الْحَدِيْثَ حَتَّى اسْتَقَرَّ فِيْ أَنْفُسِكُمْ وَصَدَّقْتُمْ بِهِ فَلَئِنْ قُلْتُ لَكُمْ إِنِّيْ بَرِيئَةٌ وَاللهُ يَعْلَمُ أَنِّيْ بَرِيئَةٌ لَا تُصَدِّقُوْنِيْ بِذَلِكَ وَلَئِنْ اعْتَرَفْتُ لَكُمْ بِأَمْرٍ وَاللهُ يَعْلَمُ أَنِّيْ مِنْهُ بَرِيئَةٌ لَتُصَدِّقُنِّيْ وَاللهِ مَا أَجِدُ لَكُمْ مَثَلًا إِلَّا قَوْلَ أَبِيْ يُوْسُفَ قَالَ {فَصَبْرٌ جَمِيْلٌ وَاللهُ الْمُسْتَعَانُ عَلٰى مَا تَصِفُوْنَ} قَالَتْ ثُمَّ تَحَوَّلْتُ فَاضْطَجَعْتُ عَلَى فِرَاشِيْ قَالَتْ وَأَنَا حِيْنَئِذٍ أَعْلَمُ أَنِّيْ بَرِيئَةٌ وَأَنَّ اللهَ مُبَرِّئِيْ بِبَرَاءَتِيْ وَلَكِنْ وَاللهِ مَا كُنْتُ أَظُنُّ أَنَّ اللهَ مُنْزِلٌ فِيْ شَأْنِيْ وَحْيًا يُتْلَى وَلَشَأْنِيْ فِيْ نَفْسِيْ كَانَ أَحْقَرَ مِنْ أَنْ يَتَكَلَّمَ اللهُ فِيَّ بِأَمْرٍ يُتْلَى وَلَكِنْ كُنْتُ أَرْجُوْ أَنْ يَرَى رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي النَّوْمِ رُؤْيَا يُبَرِّئُنِي اللهُ بِهَا قَالَتْ فَوَاللهِ مَا رَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا خَرَجَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْبَيْتِ حَتَّى أُنْزِلَ عَلَيْهِ فَأَخَذَهُ مَا كَانَ يَأْخُذُهُ مِنَ الْبُرَحَاءِ حَتَّى إِنَّهُ لَيَتَحَدَّرُ مِنْهُ مِثْلُ الْجُمَانِ مِنَ الْعَرَقِ وَهُوَ فِيْ يَوْمٍ شَاتٍ مِنْ ثِقَلِ الْقَوْلِ الَّذِيْ يُنْزَلُ عَلَيْهِ قَالَتْ فَلَمَّا سُرِّيَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم سُرِّيَ عَنْهُ وَهُوَ يَضْحَكُ فَكَانَتْ أَوَّلُ كَلِمَةٍ تَكَلَّمَ بِهَا يَا عَائِشَةُ أَمَّا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فَقَدْ بَرَّأَكِ فَقَالَتْ أُمِّيْ قُوْمِيْ إِلَيْهِ قَالَتْ فَقُلْتُ لَا وَاللهِ لَا أَقُوْمُ إِلَيْهِ وَلَا أَحْمَدُ إِلَّا اللهَ عَزَّ وَجَلَّ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ {إِنَّ الَّذِيْنَ جَآءُوْا بِالإِفْكِ عُصْبَةٌ مِّنْكُمْ لَا تَحْسِبُوْهُ} الْعَشْرَ الْآيَاتِ كُلَّهَا فَلَمَّا أَنْزَلَ اللهُ هَذَا فِيْ بَرَاءَتِيْ قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ الصِّدِّيْقُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ وَكَانَ يُنْفِقُ عَلَى مِسْطَحِ بْنِ أُثَاثَةَ لِقَرَابَتِهِ مِنْهُ وَفَقْرِهِ وَاللهِ لَا أُنْفِقُ عَلَى مِسْطَحٍ شَيْئًا أَبَدًا بَعْدَ الَّذِيْ قَالَ لِعَائِشَةَ مَا قَالَ فَأَنْزَلَ اللهُ {وَلَا يَأْتَلِ أُولُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يَّؤْتُوْآ أُوْلِي الْقُرْبٰى وَالْمَسَاكِيْنَ وَالْمُهَاجِرِيْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَلْيَعْفُوْا وَلْيَصْفَحُوْا أَلَا تُحِبُّوْنَ أَنْ يَّغْفِرَ اللهُ لَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ} قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ بَلَى وَاللهِ إِنِّيْ أُحِبُّ أَنْ يَغْفِرَ اللهُ لِيْ فَرَجَعَ إِلَى مِسْطَحٍ النَّفَقَةَ الَّتِيْ كَانَ يُنْفِقُ عَلَيْهِ وَقَالَ وَاللهِ لَا أَنْزِعُهَا مِنْهُ أَبَدًا قَالَتْ عَائِشَةُ وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُ زَيْنَبَ ابْنَةَ جَحْشٍ عَنْ أَمْرِيْ فَقَالَ يَا زَيْنَبُ مَاذَا عَلِمْتِ أَوْ رَأَيْتِ فَقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَحْمِيْ سَمْعِيْ وَبَصَرِيْ مَا عَلِمْتُ إِلَّا خَيْرًا قَالَتْ وَهِيَ الَّتِيْ كَانَتْ تُسَامِيْنِيْ مِنْ أَزْوَاجِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَعَصَمَهَا اللهُ بِالْوَرَعِ وَطَفِقَتْ أُخْتُهَا حَمْنَةُ تُحَارِبُ لَهَا فَهَلَكَتْ فِيْمَنْ هَلَكَ مِنْ أَصْحَابِ الإِفْكِ.
বর্ণনাকারী ইব্নু শিহাব (রাঃ)
তিনি বলেন, আমাকে ‘উরওয়াহ ইব্নু যুবায়র, সা‘ঈদ ইব্নু মুসাইয়্যিব, ‘আলক্বামাহ ইব্নু ওয়াক্কাস, ‘উবাইদুল্লাহ ইব্নু ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উত্বাহ ইব্নু মাস‘উদ (রহ.) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘটনা সম্পর্কে বলেন, যখন অপবাদকারীরা তাঁর প্রতি অপবাদ এনেছিল এবং আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে তাদের অভিযোগ থেকে নির্দোষ হওয়ার বর্ণনা দেন। তাদের প্রত্যেকেই ঘটনার অংশ বিশেষ আমাকে জানান। অবশ্য তাদের পরস্পর পরস্পরের বর্ণনা সমর্থন করে, যদিও তাদের মধ্যে কেউ অন্যের তুলনায় এ ঘটনাটি অধিক সংরক্ষণ করেছে। তবে ‘উরওয়াহ ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে আমাকে এরূপ বলেছিলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোথাও সফরে বের হতেন, তখন তিনি তাঁর স্ত্রীগণের মধ্যে লটারী দিতেন। এতে যার নাম উঠত, তাঁকে সঙ্গে নিয়ে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হতেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, অতএব, কোন এক যুদ্ধে যাওয়ার সময় আমাদের মধ্যে লটারী দিলেন, তাতে আমার নাম উঠল। আমি রসূসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হলাম, পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরে। আমাকে হাওদায় করে উঠানো হতো এবং তাতে করে নামানো হতো। এভাবেই আমরা চললাম। যখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুদ্ধ শেষ করে ফিরলেন এবং ফেরার পথে আমরা মাদীনাহ্র নিকটবর্তী হলাম। একদা রওয়ানা দেয়ার জন্য রাত থাকতেই ঘোষণা দিলেন। এ ঘোষণা হলে আমি উটে চড়ে সৈন্যদের অবস্থান থেকে কিছু দূরে চলে গেলাম। আমার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে যখন সওয়ারীর কাছে এলাম, তখন দেখতে পেলাম যে, জাফারের দানা খচিত আমার হারটি ছিঁড়ে কোথাও পড়ে গেছে। আমি তা খোঁজ করতে লাগলাম। খোঁজ করতে আমার একটু দেরী হয়ে গেল। ইতোমধ্যে এ সকল লোক যারা আমাকে সওয়ার করাতো তারা, আমি আমার হাওদার ভেতরে আছি মনে করে, আমার হাওদা উটের পিঠে রেখে দিল। কেননা এ সময় শরীরের গোশত আমাকে ভারী করেনি। আমরা খুব অল্প-খাদ্য খেতাম। আমি ছিলাম অল্পবয়স্কা এক বালিকা। সুতরাং হাওদা উঠাবার সময় তা যে খুব হালকা, তা তারা টের পায়নি এবং তারা উট হাঁকিয়ে রওয়ানা দিল। সেনাদল চলে যাওয়ার পর আমি আমার হার পেয়ে গেলাম এবং যেখানে তারা ছিল সেখানে ফিরে এলাম। তখন সেখানে এমন কেউ ছিল না, যে ডাকবে বা ডাকে সাড়া দিবে। আমি যেখানে ছিলাম সে স্থানেই থেকে গেলাম। এ ধারণায় বসে থাকলাম যে, যখন কিছুদূর গিয়ে আমাকে দেখতে পাবে না, তখন এ স্থানে অবশ্যই খুঁজতে আসবে। সেখানে বসা অবস্থায় আমার চোখে ঘুম এসে গেল, আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। আর সৈন্যবাহিনীর পিছনে সাফওয়ান ইব্নু মু‘আত্তাল সুলামী যাওকয়ানী ছিলেন। তিনি শেষ রাতে রওয়ানা দিয়ে ভোর বেলা আমার এ স্থানে এসে পৌঁছলেন। তিনি একজন মানুষের আকৃতি নিদ্রিত দেখতে পেলেন। তিনি আমার কাছে এসে আমাকে দেখে চিনতে পারলেন। কেননা, পর্দার হুকুম অবতীর্ণ হবার আগে আমাকে দেখেছিলেন। কাজেই আমাকে চেনার পর উচ্চকন্ঠে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পড়লেন। পড়ার শব্দে আমি উঠে গেলাম এবং আমি আমার চাদর পেচিয়ে চেহারা ঢেকে নিলাম। আল্লাহ্র কসম, তিনি আমার সঙ্গে কোন কথাই বলেননি এবং তাঁর মুখ হতে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” ব্যতীত আর কোন কথা আমি শুনিনি। এরপর তিনি তাঁর উষ্ট্রী বসালেন এবং সামনের দুই পা নিজ পায়ে দাবিয়ে রাখলেন। আর আমি তাতে উঠে গেলাম। তখন সাফওয়ান উষ্ট্রীর লাগাম ধরে চললেন। শেষ পর্যন্ত আমরা সৈন্যবাহিনীর নিকট এ সময় গিয়ে পৌঁছলাম, যখন তারা দুপুরের প্রচণ্ড উত্তাপের সময় অবতরণ করে। (এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে) যারা ধ্বংস হওয়ার তারা ধ্বংস হল।আর যে ব্যক্তি এ অপবাদের নেতৃত্ব দেয়, সে ছিল (মুনাফিক সরদার) ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাই ইব্নু সুলূল। তারপর আমি মদিনায় এসে পৌঁছলাম এবং পৌঁছার পর আমি দীর্ঘ একমাস পর্যন্ত অসুস্থ ছিলাম। আর অপবাদকারীদের কথা নিয়ে লোকেরা রটনা করছিল। আমি এসব কিছুই বুঝতে পারিনি। তবে এতে আমাকে সন্দেহে ফেলেছিল যে, আমার অসুস্থ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে রকম øেহ-ভালবাসা দেখাতেন, এবারে তেমনি ভালবাসা দেখাচ্ছেন না। শুধু এতটুকুই ছিল যে, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কাছে আসতেন এবং সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করতেন, তোমার অবস্থা কী? তারপর তিনি ফিরে যেতেন। এই আচরণই আমাকে সন্দেহে ফেলেছিল; অথচ আমি এই অপপ্রচার সম্বন্ধে জানতেই পারিনি। অবশেষে একটু সুস্থ হওয়ার পর মিসতাহের মায়ের সঙ্গে মানাসের (শহরের বাইরে খোলা ময়দানের) দিকে বের হলাম। সে জায়গাটিই ছিল আমাদের প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার স্থান আর আমরা কেবল রাতের পর রাতেই বাইরে যেতাম। এ ছিল এ সময়ের কথা যখন আমাদের ঘরের পাশে পায়খানা নির্মিত হয়নি। আমাদের অবস্থা ছিল, অনেকটা প্রাচীন আরবদের ন্যায় নিচু ময়দানের দিকে বের হয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারা। কেননা, ঘর-সংলগ্ন পায়খানা নির্মাণ আমরা কষ্টকর মনে করতাম। কাজেই আমি ও মিসতাহের মা বাইরে গেলাম। তিনি ছিলেন আবূ রুহ্ম ইব্নু আব্দ মানাফের কন্যা এবং মিসতাহের মায়ের মা ছিলেন সাখর ইব্নু আমিরের কন্যা, যিনি আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাঃ)-এর খালা ছিলেন। আর তার পুত্র ছিলেন ‘মিসতাহ্ ইব্নু উসাসাহ’। আমি ও উম্মু মিসতাহ্ আমাদের প্রয়োজন সেরে ঘরের দিকে ফিরলাম। তখন মিসতাহের মা তার চাদরে হোঁচট খেয়ে বললেন, ‘মিসতাহ্’ ধ্বংস হোক। আমি তাকে বললাম, তুমি খুব খারাপ কথা বলছ, তুমি কি এমন এক ব্যক্তিকে মন্দ বলছ, যে বাদ্রের যুদ্ধে হাজির ছিল? তিনি বললেন, হায়রে বেখেয়াল! তুমি কি শোননি সে কী বলেছে? আমি বললাম, সে কী বলেছে? তিনি বললেন, এমন এমন। এ বলে তিনি অপবাদকারীদের মিথ্যা অপবাদ সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত খবর দিলেন। এতে আমার অসুখের মাত্রা বৃদ্ধি পেল। যখন আমি ঘরে ফিরে আসলাম এবং রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার ঘরে প্রবেশ করে বললেন, তুমি কেমন আছ? তখন আমি বললাম, আপনি কি আমাকে আমার আব্বা-আম্মার নিকট যেতে অনুমতি দিবেন? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তখন আমার উদ্দেশ্য ছিল যে, আমি তাঁদের কাছে গিয়ে তাঁদের থেকে আমার এ ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জেনে নেই। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে অনুমতি দিলেন। আমি আব্বা-আম্মার কাছে চলে গেলাম এবং আমার আম্মাকে বললাম, ও গো আম্মা! লোকেরা কী বলাবলি করছে? তিনি বললেন, বৎস! তুমি তোমার মন হালকা রাখ। আল্লাহ্র কসম! এমন কমই দেখা যায় যে, কোন পুরুষের কাছে এমন সুন্দরী রূপবতী স্ত্রী আছে, যাকে সে ভালবাসে এবং তার সতীনও আছে; অথচ তার ত্র“টি বের করা হয় না। রাবী বলেন, আমি বললাম, ‘সুবহান আল্লাহ্’! সত্যি কি লোকেরা এ ব্যাপারে বলাবলি করছে? তিনি বলেন, আমি সে রাত কেঁদে কাটালাম, এমন কি ভোর হয়ে গেল, তথাপি আমার কান্না থামল না এবং আমি ঘুমাতেও পারলাম না। আমি কাঁদতে কাঁদতেই ভোর করলাম। যখন ওয়াহী আসতে দেরী হল, তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘আলী ইব্নু আবূ ত্বলিব (রাঃ) ও উসামাহ ইব্নু যায়দ (রাঃ)-কে তাঁর স্ত্রীর বিচ্ছেদের ব্যাপারে তাঁদের পরামর্শের জন্য ডাকলেন। তিনি বলেন, উসামাহ ইব্নু যায়দ তাঁর সহধর্মিণী (‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর পবিত্রতা এবং তাঁর অন্তরে তাঁদের প্রতি তাঁর ভালবাসা সম্পর্কে যা জানেন তার আলোকে তাঁকে পরামর্শ দিতে গিয়ে বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনার পরিবার সম্পর্কে আমরা ভাল ধারণাই পোষণ করি। আর ‘আলী ইব্নু আবূ ত্বলিব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আল্লাহ্ আপনার উপর কোন পথ সংকীর্ণ করে দেননি এবং তিনি ব্যতীত বহু মহিলা রয়েছেন। আর আপনি যদি দাসীকে জিজ্ঞেস করেন, সে আপনার কাছে সত্য ঘটনা বলবে।তিনি [‘আয়িশাহ (রাঃ)] বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বারীরাহ্কে ডাকলেন এবং বললেন, হে বারীরাহ! তুমি কি তার নিকট হতে সন্দেহজনক কিছু দেখেছ? বারীরাহ বললেন, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম! আমি এমন কোন কিছু তাঁর মধ্যে দেখতে পাইনি, যা আমি গোপন করতে পারি। তবে তাঁর মধ্যে সবচাইতে অধিক যা দেখেছি, তা হল, তিনি একজন অল্পবয়স্কা বালিকা। তিনি কখনও তাঁর পরিবারের আটার খামির রেখে ঘুমিয়ে পড়তেন। অর ছাগলের বাচ্চা এসে তা খেয়ে ফেলত। এরপরে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (মিম্বরে) দাঁড়ালেন। ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাই ইব্নু সলুলের বিরুদ্ধে তিনি সমর্থন চাইলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরের উপর থেকে বললেন, হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, ঐ ব্যক্তির মিথ্যা অপবাদ থেকে আমাকে সাহায্য করতে পারে, যে আমার স্ত্রীর ব্যাপারে আমাকে কষ্ট দিয়েছে। আল্লাহ্র কসম! আমি আমার স্ত্রী সম্পর্কে ভালই জানতে পেরেছি এবং তারা এমন এক পুরুষ সম্পর্কে অভিযোগ এনেছে, যার সম্পর্কে আমি ভাল ব্যতীত কিছুই জানি না। সে কখনও আমাকে ব্যতীত আমার ঘরে আসেনি। এ কথা শুনে সা‘দ ইব্নু মু‘আয আনসারী (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! তার বিরুদ্ধে আমি আপনাকে সাহায্য করব, যদি সে আউস গোত্রের হয়, তবে আমি তার গর্দান মেরে দিব। আর যদি আমাদের ভাই খাযরাজ গোত্রের লোক হয়, তবে আপনি নির্দেশ দিলে আমি আপনার নির্দেশ কার্যকর করব। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরপর সা‘দ ইব্নু উবাদা দাঁড়ালেন; তিনি খাযরাজ গোত্রের সর্দার। তিনি পূর্বে একজন নেক্কার লোক ছিলেন। কিন্তু এ সময় স্ব-গোত্রের পক্ষপাতিত্ব তাকে উত্তেজিত করে তোলে। কাজেই তিনি সা‘দকে বললেন, চিরঞ্জীব আল্লাহ্র কসম! তুমি মিথ্যা বলেছ, তুমি তাকে হত্যা করতে পারবে না এবং তাকে হত্যা করার ক্ষমতা তুমি রাখ না। তারপর উসায়দ ইব্নু হুদায়র দাঁড়ালেন, যিনি সা‘দের চাচাতো ভাই। তিনি সা‘দ ইব্নু উবাদাকে বললেন, চিরঞ্জীব আল্লাহ্র কসম! তুমি মিথ্যা বলছ। আমরা অবশ্যই তাকে হত্যা করব। তুমি নিজেও মুনাফিক এবং মুনাফিকের পক্ষে প্রতিবাদ করছ। এতে আউস এবং খাযরাজ উভয় গোত্রের লোকেরা উত্তেজিত হয়ে উঠল, এমনকি তারা পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার উপক্রম হল। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে দাঁড়ানো ছিলেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের থামাতে লাগলেন। অবশেষে তারা থামল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও নীরব হলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি সেদিন এমনভাবে কাটালাম যে, আমার চোখের অশ্র“ও থামেনি এবং চোখেও ঘুমও আসেনি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, সকালবেলা আমার আব্বা-আম্মা আমার কাছে আসলেন, আর আমি দু’রাত এবং একদিন (একাধারে) কাঁদছিলাম। এর মধ্যে না আমার ঘুম হয় এবং না আমার চোখের পানি বন্ধ হয়। তাঁরা ধারণা করছিলেন যে, এ ক্রন্দনে আমার কলজে ফেটে যাবে।‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এর পূর্বে তারা যখন আমার কাছে বসা ছিলেন এবং আমি কাঁদছিলাম, ইত্যবসরে জনৈকা আনসারী মহিলা আমার কাছে আসার জন্য অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি দিলাম। সে বসে আমার সঙ্গে কাঁদতে লাগল। আমাদের এ অবস্থার মধ্যেই রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে প্রবেশ করলেন এবং সালাম দিয়ে বসলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন এর পূর্বে যখন থেকে এ কথা রটনা চলেছে, তিনি আমার কাছে বসেননি। এ অবস্থায় তিনি একমাস অপেক্ষা করেছেন, আমার সম্পর্কে ওয়াহী আসেনি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাশাহুদ পাঠ করলেন। তারপর বললেন, হে ‘আয়িশাহ! তোমার সম্পর্কে এরূপ এরূপ কথা আমার কাছে পৌঁছেছে, তুমি যদি নির্দোষ হয়ে থাক, তবে অচিরেই আল্লাহ্ তা‘আলা তোমার পবিত্রতা ব্যক্ত করে দিবেন। আর যদি তুমি কোন পাপে লিপ্ত হয়ে থাক, তবে আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা চাও এবং তাঁর কাছে তাওবাহ কর। কেননা, বান্দা যখন তার পাপ স্বীকার করে নেয় এবং আল্লাহ্র কাছে তাওবাহ করে, তখন আল্লাহ্ তার তাওবাহ কবূল করেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কথা শেষ করলেন, তখন আমার চোখের পানি এমনভাবে শুকিয়ে গেল যে, এক ফোঁটা পানিও অনুভব করছিলাম না। আমি আমার পিতাকে বললাম, আপনি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে (তিনি যা কিছু বলেছেন তার) জবাব দিন। তিনি বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কী জবাব দিব, তা আমার বুঝে আসছে না। তারপর আমার আম্মাকে বললাম, আপনি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জবাব দিন।তিনি [‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর আম্মা) বললেন ঃ আমি বুঝতে পারছি না, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কি জবাব দিব। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তখন আমি নিজেই জবাব দিলাম, অথচ আমি একজন অল্প বয়স্কা বালিকা, কুরআন খুব অধিক পড়িনি। আল্লাহ্র কসম! আমি জানি, আপনারা এ ঘটনা শুনেছেন, এমনকি তা আপনাদের অন্তরে বসে গেছে এবং সত্য বলে বিশ্বাস করে নিয়েছেন। এখন যদি আমি বলি যে, আমি নির্দোষ এবং আল্লাহ্ ভালভাবেই জানেন যে, আমি নির্দোষ; তবে আপনারা তা বিশ্বাস করবেন না। আর আমি যদি আপনাদের কাছে এ বিষয় স্বীকার করে নেই, অথচ আল্লাহ্ জানেন, আমি তা থেকে নির্দোষ; তবে আপনারা আমার এই উক্তি বিশ্বাস করে নিবেন। আল্লাহ্র কসম! এ ক্ষেত্রে আমি আপনাদের জন্য ইউসুফ (‘আ.)-এর পিতার উক্তি ব্যতীত আর কোন দৃষ্টান্ত পাচ্ছি না। তিনি বলেছিলেন, فَصَبْرٌ جَمِيلٌ وَاللهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ “পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্র কাছেই সাহায্য চাওয়া যায়। তিনি বলেন, এরপর আমি আমার চেহারা ঘুরিয়ে নিলাম এবং কাত হয়ে আমার বিছানায় শুয়ে পড়লাম। তিনি বলেন, এ সময় আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি নির্দোষ এবং আল্লাহ্ তা‘আলা আমার নির্দোষিতা প্রকাশ করে দিবেন। কিন্তু আল্লাহ্র কসম! আমি তখন এ ধারণা করতে পারিনি যে, আল্লাহ্ আমার সম্পর্কে এমন ওয়াহী অবতীর্ণ করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। আমার দৃষ্টিতে আমার মর্যাদা এর চাইতে অনেক নিচে ছিল। বরং আমি আশা করেছিলাম যে, হয়ত রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিদ্রায় কোন স্বপ্ন দেখবেন, যাতে আল্লাহ্ তা‘আলা আমার নির্দোষিতা জানিয়ে দেবেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র কসম! রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়াননি এবং ঘরের কেউ বের হননি। এমন সময় রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হতে লাগল এবং তাঁর শরীর ঘামতে লাগল। এমনকি যদিও শীতের দিন ছিল, তবুও তাঁর উপর যে ওয়াহী অবতীর্ণ হচ্ছিল এর বোঝার ফলে মুক্তার মত তাঁর ঘাম ঝরছিল। যখন ওয়াহী শেষ হল, তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসছিলেন। তখন তিনি প্রথম যে বাক্যটি বলেছিলেন, তা হলে ঃ হে ‘আয়িশাহ! আল্লাহ্ তোমার নির্দেষিতা প্রকাশ করেছেন। এ সময় আমার মা আমাকে বললেন, তুমি উঠে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আমি বললাম, আল্লাহ্র কসম! আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব না, আল্লাহ্ ব্যতীত আর কারো প্রশংসা করব না। আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন পূর্ণ দশ আয়াত পর্যন্ত। إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالإِفْكِ عُصْبَةٌ যারা এ অপবাদ রচনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি দল। যখন আল্লাহ্ তা‘আলা আমার নির্দোষিতার আয়াত অবতীর্ণ করলেন, তখন আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) যিনি মিস্তাহ্ ইব্নু উসাসাকে নিকটবর্তী আত্মীয়তা এবং দারিদ্র্যের কারণে আর্থিক সাহায্য করতেন, তিনি বললেন, আল্লাহ্র কসম! মিস্তাহ্ ‘আয়িশাহ সম্পর্কে যা বলেছে, এরপর আমি তাকে কখনই কিছুই দান করব না। তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা আয়াত অবতীর্ণ করলেন, “তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে, তার আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে এবং আল্লাহ্র রাস্তায় যারা গৃহত্যাগ করেছে তাদের কিছুই দেবে না। তারা যেন তাদের ক্ষমা করে এবং তাদের দোষত্র“টি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তোমাদের ক্ষমা করেন? এবং আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আবূ বকর (রাঃ) এ সময় বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমি অবশ্যই পছন্দ করি যে আল্লাহ্ আমাকে ক্ষমা করেন। তারপর তিনি মিস্তাহ্কে সাহায্য আগের মত দিতে লাগলেন এবং বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমি এ সাহায্য কখনও বন্ধ করব না। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জয়নব বিন্ত জাহশকেও আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, হে জয়নব! (‘আয়িশাহ সম্পর্কে) কী জান আর কী দেখেছ? তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমি আমার কান ও চোখকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। আমি তাঁর সম্পর্কে ভাল ব্যতীত অন্য কিছু জানি না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণীদের মধ্যে তিনি আমার প্রতিদ্বন্দি¡তা করতেন। কিন্তু আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁকে পরহেযগারীর কারণে রক্ষা করেন। আর তাঁর বোন হাম্না তাঁর পক্ষ অবলম্বন করে দ্বন্দ্ব করে এবং অপবাদ দানকারী যারা ধ্বংস হয়েছিল তাদের মধ্যে সেও ধ্বংস হল। [২৫৯৩] (আ.প্র. ৪৩৮৯, ই.ফা. ৪৩৯১)
৬৫/২৪/৭.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৫১
হাদিস নং ৪৭৫১
مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيْرٍ أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ أُمِّ رُوْمَانَ أُمِّ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ لَمَّا رُمِيَتْ عَائِشَةُ خَرَّتْ مَغْشِيًّا عَلَيْهَا.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মা উম্মু রূমান (রাঃ)
তিনি বলেন, যখন ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর উপর মিথ্যা অপবাদ দেয়া হল তখন তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। [৩৩৮৮] (আ.প্র. ৪৩৯০, ই.ফা. ৪৩৯২)
৬৫/২৪/৮.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৫২
হাদিস নং ৪৭৫২
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوْسُفَ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُمْ قَالَ ابْنُ أَبِيْ مُلَيْكَةَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقْرَأُ {إِذْ تَلِقُوْنَه” بِأَلْسِنَتِكُمْ}.
বর্ণনাকারী ইব্নু আবূ মুলাইকাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ) إِذْ تَلِقُونَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ পড়েছেন। অর্থাৎ (تَلِقُونَهُ এর ل এর মধ্যে কাসরা বা যের এবং ق এর উপর যুম্মা বা পেশ দিয়ে পড়েছেন) । [৪১৪৪] (আ.প্র. ৪৩৯১, ই.ফা. ৪৩৯৩)
৬৫/২৪/৯.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৫৩
হাদিস নং ৪৭৫৩
مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيْدِ بْنِ أَبِيْ حُسَيْنٍ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِيْ مُلَيْكَةَ قَالَ اسْتَأْذَنَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَبْلَ مَوْتِهَا عَلَى عَائِشَةَ وَهِيَ مَغْلُوْبَةٌ قَالَتْ أَخْشَى أَنْ يُثْنِيَ عَلَيَّ فَقِيْلَ ابْنُ عَمِّ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَمِنْ وُجُوْهِ الْمُسْلِمِيْنَ قَالَتْ ائْذَنُوْا لَهُ فَقَالَ كَيْفَ تَجِدِيْنَكِ قَالَتْ بِخَيْرٍ إِنْ اتَّقَيْتُ قَالَ فَأَنْتِ بِخَيْرٍ إِنْ شَاءَ اللهُ زَوْجَةُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَنْكِحْ بِكْرًا غَيْرَكِ وَنَزَلَ عُذْرُكِ مِنْ السَّمَاءِ وَدَخَلَ ابْنُ الزُّبَيْرِ خِلَافَهُ فَقَالَتْ دَخَلَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَأَثْنَى عَلَيَّ وَوَدِدْتُ أَنِّي{كُنْتُ نِسْيًا مَّنْسِيًّا}.
বর্ণনাকারী ইব্নু আবূ মুলাইকাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ওফাতের পূর্বে তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইলেন। এ সময় তিনি [‘আয়িশাহ (রাঃ)] মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিলেন। তিনি বললেন, আমি ভয় করছি, তিনি আমার কাছে এসে আমার সুখ্যাতি করবেন। তখন তাঁর [‘আয়িশাহ (রাঃ)]-এর কাছে বলা হল, তিনি হলেন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাচাতো ভাই এবং সম্মানিত মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বললেন, তবে তাঁকে অনুমতি দাও। তিনি (এসে) জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কাছে আপনার অবস্থা কেমন লাগছে? তিনি বললেন, আমি যদি নেক হই তবে ভালই আছি। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ চাহেত আপনি নেকই আছেন। আপনি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী এবং তিনি আপনাকে ব্যতীত আর কোন কুমারীকে বিবাহ করেননি এবং আপনার নির্দোষিতা আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর তাঁর পেছনে ইব্নু যুবায়র (রাঃ) প্রবেশ করলেন। তখন ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমার সুখ্যাতি করেছেন। কিন্তু আমি এ-ই পছন্দ করি যে, আমি যেন লোকের স্মৃতির পাতা থেকে পুরোপুরি মুছে যায়। [৩৭৭১] (আ.প্র. ৪৩৯২, ই.ফা. ৪৩৯৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৫৪
হাদিস নং ৪৭৫৪
مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيْدِ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنِ الْقَاسِمِ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ اسْتَأْذَنَ عَلَى عَائِشَةَ نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ {نِسْيًا مَّنْسِيًّا}.
বর্ণনাকারী কাসিম (রাঃ)
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইলেন। পরবর্তী অংশ উক্ত হাদীসের অনুরূপ। এতে نِسْيًا مَنْسِيًّا (স্মৃতি থেকে বিস্মৃত হয়ে যেতাম) অংশটি নেই। [৩৭৭১] (আ.প্র. ৪৩৯৩, ই.ফা. ৪৩৯৫)
৬৫/২৪/১০.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আল্লাহ্ তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন (তোমরা যদি মু’মিন হও তবে) কখনও অনুরূপ আচরণের পুনরাবৃত্তি করো না। (সূরাহ নূর ২৪/১৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৫৫
হাদিস নং ৪৭৫৫
مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ جَاءَ حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ يَسْتَأْذِنُ عَلَيْهَا قُلْتُ أَتَأْذَنِيْنَ لِهَذَا قَالَتْ أَوَلَيْسَ قَدْ أَصَابَهُ عَذَابٌ عَظِيْمٌ قَالَ سُفْيَانُ تَعْنِيْ ذَهَابَ بَصَرِهِ فَقَالَ :حَصَانٌ رَزَانٌ مَا تُزَنُّ بِرِيْبَةٍ وَتُصْبِحُ غَرْثَى مِنْ لُحُوْمِ الْغَوَافِلِقَالَتْ : لَكِنْ أَنْتَ.
বর্ণনাকারী মাসরূক (রাঃ)
তিনি বলেন, হাসান ইব্নু সাবিত এসে (তাঁর ঘরে প্রবেশের) অনুমতি চাইলেন। আমি বললাম, এ লোককে কি আপনি অনুমতি প্রদান করবেন? তিনি (‘আয়িশাহ) (রাঃ) বললেন, তার উপর কি কঠোর শাস্তি নেমে আসেনি? সুফ্ইয়ান (রাঃ) বলেন, এর দ্বারা ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাঁর দৃষ্টিশক্তি লোপ পাওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। হাসান ইব্নু সাবিত ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর প্রশংসা করে নিুের ছন্দ দু’টি পাঠ করলেন,একজন পবিত্র মহিলা যার চরিত্রে কোন সন্দেহ করা হয় না।তিনি সতীসাধ্বী মহিলাদের গোশ্ত ভক্ষণ থেকে মুক্ত অবস্থায় ভোরে ওঠে। [৪১৪৬] (আ.প্র. ৪৩৯৪, ই.ফা. ৪৩৯৬)
৬৫/২৪/১১.অধ্যায়ঃ
‘‘আল্লাহ্ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করেন। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’’ (সূরাহ নূর ২৪/১৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৫৬
হাদিস নং ৪৭৫৬
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِيْ عَدِيٍّ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ دَخَلَ حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ عَلَى عَائِشَةَ فَشَبَّبَ وَقَالَ :حَصَانٌ رَزَانٌ مَا تُزَنُّ بِرِيْبَةٍ وَتُصْبِحُ غَرْثَى مِنْ لُحُوْمِ الْغَوَافِلِقَالَتْ : لَسْتَ كَذَاكَ قُلْتُ تَدَعِيْنَ مِثْلَ هَذَا يَدْخُلُ عَلَيْكِ وَقَدْ أَنْزَلَ اللهُ وَالَّذِيْ تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ فَقَالَتْ وَأَيُّ عَذَابٍ أَشَدُّ مِنَ الْعَمَى وَقَالَتْ وَقَدْ كَانَ يَرُدُّ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم
বর্ণনাকারী মাসরূক (রাঃ)
তিনি বলেন, হাস্সান ইব্নু সাবিত ‘আয়িশাহ (রাঃ) কাছে এসে নিচের শ্লোকটি আবৃত্তি করলেন। তিনি একজন পবিত্র মহিলা যার চরিত্রে কোন সন্দেহ করা হয় না। তিনি সতীসাধ্বী মহিলাদের গোশ্ত ভক্ষণ থেকে মুক্ত অবস্থায় ভোরে ওঠে। ‘আয়িশাহ (রহ.) বললেন, ‘তুমি তো এরূপ নও।’ (মাসরূক বললেন) আমি বললাম, আপনি এমন এক ব্যক্তিকে কেন আপনার কাছে আসতে দিলেন, যার সম্পর্কে আল্লাহ্ অবতীর্ণ করেছেন। আর যে ব্যক্তি এর বড় অংশ নিজের উপর নিয়েছে, তার জন্য তো রয়েছে কঠিন শাস্তি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, ‘দৃষ্টিহীনতার চেয়ে কঠিন শাস্তি আর কী হতে পারে? তিনি আরও বললেন, তিনি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ হতে জবাব দিতেন। [৪১৪৬] (আ.প্র. ৪৩৯৫, ই.ফা. ৪৩৯৭)
৬৫/২৪/১২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৫৭
হাদিস নং ৪৭৫৭
وَقَالَ أَبُوْ أُسَامَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ قَالَ أَخْبَرَنِيْ أَبِيْ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا ذُكِرَ مِنْ شَأْنِي الَّذِيْ ذُكِرَ وَمَا عَلِمْتُ بِهِ قَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيَّ خَطِيْبًا فَتَشَهَّدَ فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ أَشِيْرُوْا عَلَيَّ فِيْ أُنَاسٍ أَبَنُوْا أَهْلِيْ وَايْمُ اللهِ مَا عَلِمْتُ عَلَى أَهْلِيْ مِنْ سُوْءٍ وَأَبَنُوْهُمْ بِمَنْ وَاللهِ مَا عَلِمْتُ عَلَيْهِ مِنْ سُوْءٍ قَطُّ وَلَا يَدْخُلُ بَيْتِيْ قَطُّ إِلَّا وَأَنَا حَاضِرٌ وَلَا غِبْتُ فِيْ سَفَرٍ إِلَّا غَابَ مَعِيْ فَقَامَ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فَقَالَ ائْذَنْ لِيْ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنْ نَضْرِبَ أَعْنَاقَهُمْ وَقَامَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي الْخَزْرَجِ وَكَانَتْ أُمُّ حَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ مِنْ رَهْطِ ذَلِكَ الرَّجُلِ فَقَالَ كَذَبْتَ أَمَا وَاللهِ أَنْ لَوْ كَانُوْا مِنَ الْأَوْسِ مَا أَحْبَبْتَ أَنْ تُضْرَبَ أَعْنَاقُهُمْ حَتَّى كَادَ أَنْ يَكُوْنَ بَيْنَ الْأَوْسِ وَالْخَزْرَجِ شَرٌّ فِي الْمَسْجِدِ وَمَا عَلِمْتُ فَلَمَّا كَانَ مَسَاءُ ذَلِكَ الْيَوْمِ خَرَجْتُ لِبَعْضِ حَاجَتِيْ وَمَعِيْ أُمُّ مِسْطَحٍ فَعَثَرَتْ وَقَالَتْ تَعِسَ مِسْطَحٌ فَقُلْتُ أَيْ أُمِّ تَسُبِّيْنَ ابْنَكِ وَسَكَتَتْ ثُمَّ عَثَرَتْ الثَّانِيَةَ فَقَالَتْ تَعَسَ مِسْطَحٌ فَقُلْتُ لَهَا أَيْ أُمِّ أَتَسُبِّيْنَ ابْنَكِ فَسَكَتَتْ ثُمَّ عَثَرَتْ الثَّالِثَةَ فَقَالَتْ تَعَسَ مِسْطَحٌ فَانْتَهَرْتُهَا فَقَالَتْ وَاللهِ مَا أَسُبُّهُ إِلَّا فِيْكِ فَقُلْتُ فِيْ أَيِّ شَأْنِيْ قَالَتْ فَبَقَرَتْ لِي الْحَدِيْثَ.فَقُلْتُ وَقَدْ كَانَ هَذَا قَالَتْ نَعَمْ وَاللهِ فَرَجَعْتُ إِلَى بَيْتِيْ كَأَنَّ الَّذِيْ خَرَجْتُ لَهُ لَا أَجِدُ مِنْهُ قَلِيْلًا وَلَا كَثِيْرًا وَوُعِكْتُ فَقُلْتُ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسِلْنِيْ إِلَى بَيْتِ أَبِيْ فَأَرْسَلَ مَعِي الْغُلَامَ فَدَخَلْتُ الدَّارَ فَوَجَدْتُ أُمَّ رُوْمَانَ فِي السُّفْلِ وَأَبَا بَكْرٍ فَوْقَ الْبَيْتِ يَقْرَأُ فَقَالَتْ أُمِّيْ مَا جَاءَ بِكِ يَا بُنَيَّةُ فَأَخْبَرْتُهَا وَذَكَرْتُ لَهَا الْحَدِيْثَ وَإِذَا هُوَ لَمْ يَبْلُغْ مِنْهَا مِثْلَ مَا بَلَغَ مِنِّيْ فَقَالَتْ يَا بُنَيَّةُ خَفِّفِيْ عَلَيْكِ الشَّأْنَ فَإِنَّهُ وَاللهِ لَقَلَّمَا كَانَتْ امْرَأَةٌ حَسْنَاءُ عِنْدَ رَجُلٍ يُحِبُّهَا لَهَا ضَرَائِرُ إِلَّا حَسَدْنَهَا وَقِيْلَ فِيْهَا وَإِذَا هُوَ لَمْ يَبْلُغْ مِنْهَا مَا بَلَغَ مِنِّيْ قُلْتُ وَقَدْ عَلِمَ بِهِ أَبِيْ قَالَتْ نَعَمْ قُلْتُ وَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ نَعَمْ وَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتَعْبَرْتُ وَبَكَيْتُ فَسَمِعَ أَبُوْ بَكْرٍ صَوْتِيْ وَهُوَ فَوْقَ الْبَيْتِ يَقْرَأُ فَنَزَلَ فَقَالَ لِأُمِّيْ مَا شَأْنُهَا قَالَتْ بَلَغَهَا الَّذِيْ ذُكِرَ مِنْ شَأْنِهَا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ قَالَ أَقْسَمْتُ عَلَيْكِ أَيْ بُنَيَّةُ إِلَّا رَجَعْتِ إِلَى بَيْتِكِ فَرَجَعْتُ وَلَقَدْ جَاءَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَيْتِيْ فَسَأَلَ عَنِّيْ خَادِمَتِيْ فَقَالَتْ لَا وَاللهِ مَا عَلِمْتُ عَلَيْهَا عَيْبًا إِلَّا أَنَّهَا كَانَتْ تَرْقُدُ حَتَّى تَدْخُلَ الشَّاةُ فَتَأْكُلَ خَمِيْرَهَا أَوْ عَجِيْنَهَا وَانْتَهَرَهَا بَعْضُ أَصْحَابِهِ فَقَالَ اصْدُقِيْ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَسْقَطُوْا لَهَا بِهِ فَقَالَتْ سُبْحَانَ اللهِ وَاللهِ مَا عَلِمْتُ عَلَيْهَا إِلَّا مَا يَعْلَمُ الصَّائِغُ عَلَى تِبْرِ الذَّهَبِ الْأَحْمَرِ وَبَلَغَ الْأَمْرُ إِلَى ذَلِكَ الرَّجُلِ الَّذِيْ قِيْلَ لَهُ فَقَالَ سُبْحَانَ اللهِ وَاللهِ مَا كَشَفْتُ كَنَفَ أُنْثَى قَطُّ.قَالَتْ عَائِشَةُ فَقُتِلَ شَهِيْدًا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ قَالَتْ وَأَصْبَحَ أَبَوَايَ عِنْدِيْ فَلَمْ يَزَالَا حَتَّى دَخَلَ عَلَيَّ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ صَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَخَلَ وَقَدْ اكْتَنَفَنِيْ أَبَوَايَ عَنْ يَمِيْنِيْ وَعَنْ شِمَالِيْ فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ يَا عَائِشَةُ إِنْ كُنْتِ قَارَفْتِ سُوْءًا أَوْ ظَلَمْتِ فَتُوْبِيْ إِلَى اللهِ فَإِنَّ اللهَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ مِنْ عِبَادِهِ قَالَتْ وَقَدْ جَاءَتْ امْرَأَةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ فَهِيَ جَالِسَةٌ بِالْبَابِ فَقُلْتُ أَلَا تَسْتَحْيِ مِنْ هَذِهِ الْمَرْأَةِ أَنْ تَذْكُرَ شَيْئًا فَوَعَظَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَالْتَفَتُّ إِلَى أَبِيْ فَقُلْتُ لَهُ أَجِبْهُ قَالَ فَمَاذَا أَقُوْلُ فَالْتَفَتُّ إِلَى أُمِّيْ فَقُلْتُ أَجِيْبِيْهِ فَقَالَتْ أَقُوْلُ مَاذَا فَلَمَّا لَمْ يُجِيْبَاهُ تَشَهَّدْتُ فَحَمِدْتُ اللهَ وَأَثْنَيْتُ عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قُلْتُ أَمَّا بَعْدُ فَوَاللهِ لَئِنْ قُلْتُ لَكُمْ إِنِّيْ لَمْ أَفْعَلْ وَاللهُ عَزَّ وَجَلَّ يَشْهَدُ إِنِّيْ لَصَادِقَةٌ مَا ذَاكَ بِنَافِعِيْ عِنْدَكُمْ لَقَدْ تَكَلَّمْتُمْ بِهِ وَأُشْرِبَتْهُ قُلُوْبُكُمْ وَإِنْ قُلْتُ إِنِّيْ قَدْ فَعَلْتُ وَاللهُ يَعْلَمُ أَنِّيْ لَمْ أَفْعَلْ لَتَقُوْلُنَّ قَدْ بَاءَتْ بِهِ عَلَى نَفْسِهَا وَإِنِّيْ وَاللهِ مَا أَجِدُ لِيْ وَلَكُمْ مَثَلًا وَالْتَمَسْتُ اسْمَ يَعْقُوْبَ فَلَمْ أَقْدِرْ عَلَيْهِ إِلَّا أَبَا يُوْسُفَ حِيْنَ قَالَ {فَصَبْرٌ جَمِيْلٌ وَّاللهُ الْمُسْتَعَانُ عَلٰى مَا تَصِفُوْنَ} وَأُنْزِلَ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ سَاعَتِهِ فَسَكَتْنَا فَرُفِعَ عَنْهُ وَإِنِّيْ لَأَتَبَيَّنُ السُّرُوْرَ فِيْ وَجْهِهِ وَهُوَ يَمْسَحُ جَبِيْنَهُ وَيَقُوْلُ أَبْشِرِيْ يَا عَائِشَةُ فَقَدْ أَنْزَلَ اللهُ بَرَاءَتَكِ قَالَتْ وَكُنْتُ أَشَدَّ مَا كُنْتُ غَضَبًا فَقَالَ لِيْ أَبَوَايَ قُوْمِيْ إِلَيْهِ فَقُلْتُ لَا وَاللهِ لَا أَقُوْمُ إِلَيْهِ وَلَا أَحْمَدُهُ وَلَا أَحْمَدُكُمَا وَلَكِنْ أَحْمَدُ اللهَ الَّذِيْ أَنْزَلَ بَرَاءَتِيْ لَقَدْ سَمِعْتُمُوْهُ فَمَا أَنْكَرْتُمُوْهُ وَلَا غَيَّرْتُمُوْهُ وَكَانَتْ عَائِشَةُ تَقُوْلُ أَمَّا زَيْنَبُ ابْنَةُ جَحْشٍ فَعَصَمَهَا اللهُ بِدِيْنِهَا فَلَمْ تَقُلْ إِلَّا خَيْرًا وَأَمَّا أُخْتُهَا حَمْنَةُ فَهَلَكَتْ فِيْمَنْ هَلَكَ وَكَانَ الَّذِيْ يَتَكَلَّمُ فِيْهِ مِسْطَحٌ وَحَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ وَالْمُنَافِقُ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ وَهُوَ الَّذِيْ كَانَ يَسْتَوْشِيْهِ وَيَجْمَعُهُ وَهُوَ الَّذِيْ تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ هُوَ وَحَمْنَةُ قَالَتْ فَحَلَفَ أَبُوْ بَكْرٍ أَنْ لَا يَنْفَعَ مِسْطَحًا بِنَافِعَةٍ أَبَدًا فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ {وَلَا يَأْتَلِ أُولُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ} إِلَى آخِرِ الْآيَةِ يَعْنِيْ أَبَا بَكْرٍ {وَالسَّعَةِ أَنْ يُّؤْتُوْآ أُوْلِي الْقُرْبٰى وَالْمَسَاكِيْنَ} يَعْنِيْ مِسْطَحًا إِلَى قَوْلِهِ {أَلَا تُحِبُّوْنَ أَنْ يَّغْفِرَ اللهُ لَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ} حَتَّى قَالَ أَبُوْ بَكْرٍ بَلَى وَاللهِ يَا رَبَّنَا إِنَّا لَنُحِبُّ أَنْ تَغْفِرَ لَنَا وَعَادَ لَهُ بِمَا كَانَ يَصْنَعُ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, যখন আমার সম্পর্কে আলোচনা চলছিল যা রটনা হয়েছে এবং আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। তখন আমার ব্যাপারে ভাষণ দিতে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়ালেন। তিনি প্রথমে কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করলেন। তারপর আল্লাহ্র প্রতি যথাযোগ্য হাম্দ ও সানা পাঠ করলেন। এরপরে বললেন, হে মুসলিমগণ! যে সকল লোক আমার স্ত্রী সম্পর্কে অপবাদ দিয়েছে, তাদের ব্যাপারে আমাকে পরামর্শ দাও। আল্লাহ্র কসম! আমি আমার পরিবারের ব্যাপারে মন্দ কিছুই জানি না। তাঁরা এমন এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে, আল্লাহ্র কসম, তার ব্যাপারেও আমি কখনও খারাপ কিছু জানি না এবং সে কখনও আমার অনুপস্থিতিতে আমার ঘরে প্রবেশ করে না এবং আমি যখন কোন সফরে গিয়েছি সেও আমার সঙ্গে সফরে গিয়েছে। সা‘দ ইব্নু উবাদা দাঁড়িয়ে বললেন, আমাকে তাদের শিরোচ্ছেদ করার অনুমতি দিন। এর মধ্যে বানী খাযরাজ গোত্রের এক ব্যক্তি, যে হাস্সান ইব্নু সাবিতের মাতার আত্মীয় ছিল, সে দাঁড়িয়ে বলল, তুমি মিথ্যা বলেছ, জেনে রাখ, আল্লাহ্র কসম! যদি সে (অপবাদকারী) ব্যক্তিরা আউস্ গোত্রের হত, তাহলে তুমি শিরোচ্ছেদ করতে পছন্দ করতে না। আউস ও খাযরাজের মধ্যে মসজিদেই একটা দুর্ঘটনা ঘটার অবস্থা দেখা দিল। আর আমি এ বিষয় কিছুই জানি না। সেদিন সন্ধ্যায় যখন আমি আমার প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেলাম, তখন উম্মু মিসতাহ্ আমার সঙ্গে ছিলেন এবং তিনি হোঁচট খেয়ে বললেন, ‘মিস্তাহ্ ধ্বংস হোক’! আমি বললাম, হে উম্মু মিসতাহ! তুমি তোমার সন্তানকে গালি দিচ্ছ? তিনি নীরব থাকলেন। তারপর দ্বিতীয় হোঁচট খেয়ে বললেন, ‘মিসতাহ্ ধ্বংস হোক’। আমি তাকে বললাম, ‘তুমি তোমার সন্তানকে গালি দিচ্ছ?’ তিনি (উম্মু মিসতাহ্) তৃতীয়বার পড়ে গিয়ে বললেন, ‘মিসতাহ্ ধ্বংস হোক’। আমি এবারে তাঁকে ধমক দিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমি তাকে তোমার কারণেই গালি দিচ্ছি। আমি বললাম আমার ব্যাপারে? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তখন তিনি আমার কাছে সব ঘটনা বিস্তারিত বললেন। আমি বললাম, তাই হচ্ছে নাকি? তিনি বললেন, হাঁ আল্লাহ্র কসম! এরপর আমি আমার ঘরে ফিরে এলাম এবং যে প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলাম তা একেবারেই ভুলে গেলাম। এরপর আমি আরও অসুস্থ হয়ে পড়লাম এবং রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললাম যে, আমাকে আমার পিতার বাড়িতে পাঠিয়ে দিন। তিনি একটি ছেলেকে আমার সঙ্গে দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। আমি যখন ঘরে প্রবেশ করলাম, তখন উম্মু রূমানকে নিচে দেখতে পেলাম এবং আবূ বাক্র (রাঃ) ঘরের ওপরে পড়ছিলেন। আমার আম্মা জিজ্ঞেস করলেন, হে বৎস! কিসে তোমাকে নিয়ে এসেছে? আমি তাকে সংবাদ দিলাম এবং তাঁর কাছে ঘটনা বললাম। এ ঘটনা তার ওপর তেমন প্রভাব বিস্তার করেনি, যেমন আমার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। তিনি বললেন, হে বৎস! এটাকে তুমি হাল্কাভাবে গ্রহণ কর, কেননা, এমন সুন্দরী নারী কমই আছে, যার স্বামী তাঁকে ভালবাসে আর তার সতীনরা তার প্রতি ঈর্ষানি¦ত হয় না এবং তার বিরুদ্ধে কিছু বলে না। বস্তুত তার ওপর ঘটনাটি অতখানি প্রভাব বিস্তার করেনি যতখানি আমার উপর করেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমার আব্বা [আবূ বাক্র (রাঃ)] কি এ ঘটনা জেনেছেন? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও কি? তিনি জবাব দিলেন হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)ও এ ঘটনা জানেন। তখন আমি অশ্র“ ঝরিয়ে কাঁদতে লাগলাম। আবূ বকর (রাঃ) আমার কান্না শুনতে পেলেন। তখন তিনি ঘরের ওপরে পড়ছিলেন। তিনি নিচে নেমে আসলেন এবং আমার আম্মাকে জিজ্ঞেস করলেন, তার কী হয়েছে? তিনি বললেন, তার সম্পর্কে যা রটেছে তা তার গোচরীভূত হয়েছে। এতে আবূ বাক্রের চোখের পানি ঝরতে লাগল। তিনি বললেন, হে বৎস! আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি, তুমি তোমার ঘরে ফিরে যাও। আমি আমার ঘরে ফিরে এলাম। তারপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার ঘরে আসলেন। তিনি আমার খাদিমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল, আল্লাহ্র কসম, আমি এ ব্যতীত তাঁর কোন দোষ জানি না যে, তিনি ঘুমিয়ে পড়তেন এবং ছাগল এসে তাঁর খামির অথবা বললেন, গোলা আটা খেয়ে যেত। তখন কয়েকজন সহাবী তাকে ধমক দিয়ে বললেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে সত্য কথা বল। এমনকি তাঁরা তার নিকট ঘটনা খুলে বললেন। তখন সে বলল, সুবহান আল্লাহ্, আল্লাহ্র কসম! আমি তাঁর ব্যাপারে এর চেয়ে অধিক কিছু জানি না, যা একজন স্বর্ণকার তার এক টুকরা লাল খাঁটি স্বর্ণ সম্পর্কে জানে। এ ঘটনা সে ব্যক্তির কাছেও পৌঁছল যার সম্পর্কে এ অভিযোগ উঠেছে। তখন তিনি বললেন, সুবহান আল্লাহ্! আল্লাহ্র কসম, আমি কখনও কোন মহিলার পর্দা খুলিনি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, পরবর্তী সময়ে এ (অভিযুক্ত) লোকটি আল্লাহ্র রাস্তায় শহীদ রূপে নিহত হন। তিনি বলেন, ভোর বেলায় আমার আব্বা ও আম্মা আমার কাছে এলেন। তাঁরা এতক্ষণ থাকলেন যে, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসরের সলাত আদায় করে আমার কাছে এলেন। এ সময় আমার ডানে ও বামে আমার আব্বা আমাকে ঘিরে বসা ছিলেন। তিনি [রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] আল্লাহ্ তা‘আলার হাম্দ ও সানা পাঠ করে বললেন, হে ‘আয়িশাহ! তুমি যদি কোন গুনাহ্র কাজ বা অন্যায় করে থাক তবে আল্লাহ্র কাছে তাওবা কর, কেননা, আল্লাহ্ তাঁর বান্দার তাওবা কবূল করে থাকেন। তখন জনৈকা আনসারী মহিলা দরজার কাছে বসা ছিল। আমি বললাম, আপনি কি এ মহিলাকেও লজ্জা করছেন না, এসব কিছু বলতে? তবুও রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে নাসীহাত করলেন। তখন আমি আমার আব্বার দিকে লক্ষ্য করে বললাম, আপনি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জবাব দিন। তিনি বললেন, আমি কী বলব? এরপরে আমি আম্মার দিকে লক্ষ্য করে বললাম, আপনি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জবাব দিন। তিনিও বললেন, আমি কী বলব? যখন তাঁরা কেউই রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কোন জবাব দিলেন না, তখন আমি কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করে আল্লাহ্র যথোপযুক্ত হাম্দ ও সানা পাঠ করলাম। এরপর বললাম, আল্লাহ্র কসম! আমি যদি বলি যে, আমি এ কাজ করিনি এবং আমি যে সত্যবাদী এ সম্পর্কে আল্লাহ্ই সাক্ষী, তবে তা আপনাদের নিকট আমার কোন উপকারে আসবে না। কেননা, এ ব্যাপারটি আপনারা পরস্পরে বলাবলি করেছেন এবং তা আপনাদের অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে গেছে। আর আমি যদি আপনাদের বলি, আমি তা করেছি অথচ আল্লাহ্ জানেন যে আমি এ কাজ করিনি, তবে আপনারা অবশ্যই বলবেন যে, সে তার নিজের দোষ নিজেই স্বীকার করেছে। আল্লাহ্র কসম! আমি আমার এবং আপনাদের জন্য আর কোন দৃষ্টান্ত পাচ্ছি না। তখন আমি ইয়াকূব (আ.)-এর নাম স্মরণ করার চেষ্টা করলাম কিন্তু পারিনি-তাই বললাম, যখন ইউসুফ (‘আ.)-এর পিতার অবস্থা ব্যতীত, যখন তিনি বলেছিলেন, (তোমরা ইউসুফ সম্পর্কে যা বলছ তার প্রেক্ষিতে) পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই আমার সাহায্যকারী। ঠিক এ সময়ই রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ওয়াহী অবতীর্ণ হল। আমরা সবাই নীরব রইলাম। ওয়াহী শেষ হলে আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারায় খুশীর নমুনা দেখতে পেলাম। তিনি তাঁর কপাল থেকে ঘাম মুছতে মুছতে বলছিলেন, হে ‘আয়িশাহ! তোমার জন্য খোশখবর! আল্লাহ্ তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এ সময় আমি অত্যন্ত রাগানি¦ত ছিলাম। আমার আব্বা ও আম্মা বললেন, ‘তুমি উঠে তাঁর কাছে যাও’, (এবং তার শুকরিয়া আদায় কর)। আমি বললাম, আল্লাহ্র কসম! আমি তাঁর দিকে যাব না এবং তাঁর শুক্রিয়া আদায় করব না। আর আপনাদেরও শুক্রিয়া আদায় করব না। কিন্তু আমি একমাত্র আল্লাহ্র প্রশংসা করব, যিনি আমার পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। আপনারা (অপবাদ রটনা) শুনছেন কিন্তু তা অস্বীকার করেননি এবং তার পাল্টা ব্যবস্থাও গ্রহণ করেননি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) আরও বলেন, জয়নাব বিন্তে জাহাশকে আল্লাহ্ তাঁর দীনদারীর কারণে তাঁকে রক্ষা করেছেন। তিনি (আমার ব্যাপারে) ভাল ব্যতীত কিছুই বলেননি। কিন্তু তার বোন হামনা ধ্বংসপ্রাপ্তদের সঙ্গে নিজেও ধ্বংস হল। যারা এই ব্যাপারে কটুক্তি করত তাদের মধ্যে ছিল মিস্তাহ্, হাস্সান ইব্নু সাবিত এবং মুনাফিক ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাই। সে-ই এ সংবাদ সংগ্রহ করে ছড়াত। আর পুরুষদের মধ্যে সে এবং হামনাই এ ব্যাপারে বিরাট ভূমিকা পালন করত। রাবী বলেন, তখন আবূ বাক্র (রাঃ) কখনও মিসতাহ্কে কোন প্রকার উপকার করবেন না বলে কসম খেলেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা আয়াত অবতীর্ণ করলেন, “তোমাদের মধ্যে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী অর্থাৎ (আবূ বাক্র) তারা যেন কসম না করে যে তারা আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে অর্থাৎ মিসতাহ্কে কিছুই দেবে না। তোমরা কি চাও না আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন? এবং আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” আবূ বাক্র (রাঃ) বললেন, হাঁ আল্লাহ্র কসম! হে আমাদের রব! আমরা অবশ্যই এ চাই যে, আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। তারপর আবূ বাক্র (রাঃ) আবার মিস্তাহকে আগের মত আচরণ করতে লাগলেন। [২৫৯৩]
৬৫/২৪/১৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ এবং তারা যেন নিজেদের বক্ষদেশের ওপর ওড়নার আবরণ ফেলে রাখে। (সূরাহ নূর ২৪/৩১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৫৮
হাদিস নং ৪৭৫৮
وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ شَبِيْبٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ عَنْ يُوْنُسَ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ يَرْحَمُ اللهُ نِسَاءَ الْمُهَاجِرَاتِ الْأُوَلَ لَمَّا أَنْزَلَ اللهُ {وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰى جُيُوْبِهِنَّ} شَقَّقْنَ مُرُوْطَهُنَّ فَاخْتَمَرْنَ بِهَا
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
আল্লাহ্ তা‘আলা প্রাথমিক যুগের মুহাজির মহিলাদের উপর রহম করুন, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা এ আয়াত “তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন ওড়না দ্বারা আবৃত করে” অবতীর্ণ করলেন, তখন তারা নিজ চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে মুখমণ্ডল ঢাকল। [৪৭৫৯] (আ.প্র. অনুচ্ছেদ, ই.ফা. অনুচ্ছেদ)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৫৯
হাদিস নং ৪৭৫৯
أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ نَافِعٍ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا كَانَتْ تَقُوْلُ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰى جُيُوْبِهِنَّ} أَخَذْنَ أُزْرَهُنَّ فَشَقَّقْنَهَا مِنْ قِبَلِ الْحَوَاشِيْ فَاخْتَمَرْنَ بِهَا.
বর্ণনাকারী সফীয়্যাহ বিন্তে শাইবাহ (রহ.)
‘আয়িশাহ (রাঃ) বলতেন, যখন এ আয়াত “তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন ওড়না দ্বারা আবৃত করে” অবতীর্ণ হল তখন মুহাজির মহিলারা তাদের তহবন্দের পার্শ্ব ছিঁড়ে তা দিয়ে মুখমণ্ডল ঢাকতে লাগল। [৪৭৫৮] (আ.প্র. ৪৩৯৬, ই.ফা. ৪৩৯৮)
৬৫/২৫/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৬০
হাদিস নং ৪৭৬০
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يُوْنُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغْدَادِيُّ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ قَتَادَةَ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَا نَبِيَّ اللهِ يُحْشَرُ الْكَافِرُ عَلَى وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ أَلَيْسَ الَّذِيْ أَمْشَاهُ عَلَى الرِّجْلَيْنِ فِي الدُّنْيَا قَادِرًا عَلَى أَنْ يُمْشِيَهُ عَلَى وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ قَتَادَةُ بَلَى وَعِزَّةِ رَبِّنَا.
বর্ণনাকারী আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)
এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্র নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! ক্বিয়ামাতের দিন কাফেরদের মুখে ভর করে চলা অবস্থায় একত্রিত করা হবে? তিনি বললেন, যিনি এ দুনিয়ায় তাকে দু’পায়ের উপর চালাতে পারছেন, তিনি কি ক্বিয়ামাতের দিন মুখে ভর করে তাকে চালাতে পারবেন না? ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, নিশ্চয়ই, আমার রবের ইজ্জতের কসম! [৬৫২৩; মুসলিম ৫০/১১, হাঃ ২৮০৬] (আ.প্র. ৪৩৯৭, ই.ফা. ৪৩৯৯)
৬৫/২৫/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৬১
হাদিস নং ৪৭৬১
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَنْصُوْرٌ وَسُلَيْمَانُ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ أَبِيْ مَيْسَرَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ ح قَالَ وَحَدَّثَنِيْ وَاصِلٌ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَأَلْتُ أَوْ سُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الذَّنْبِ عِنْدَ اللهِ أَكْبَرُ قَالَ أَنْ تَجْعَلَ للهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ ثُمَّ أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ خَشْيَةَ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ أَنْ تُزَانِيَ بِحَلِيْلَةِ جَارِكَ قَالَ وَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ تَصْدِيْقًا لِقَوْلِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ {وَسَلَّمَ وَالَّذِيْنَ لَا يَدْعُوْنَ مَعَ اللهِ إِلَهًا اٰخَرَ وَلَا يَقْتُلُوْنَ النَّفْسَ الَّتِيْ حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُوْنَ}
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, অথবা অন্য কেউ জিজ্ঞেস করলো, আল্লাহ্র নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ্ কোন্টি? তিনি বললেন, কাউকে আল্লাহ্র সমকক্ষ স্থির করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোন্টি? তিনি জবাব দিলেন, তোমার সন্তানকে এ আশংকায় হত্যা করা যে, তারা তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে। আমি বললাম, এরপর কোন্টি? তিনি বললেন,এরপর হচ্ছে তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এ কথার সমর্থনে এ আয়াত অবতীর্ণ হয় “এবং তারা আল্লাহ্র সঙ্গে কোন ইলাহ্কে আহ্বান করে না। আল্লাহ্ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না।” [৪৪৭৭] (আ.প্র. ৪৩৯৮, ই.ফা. ৪৪০০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৬২
হাদিস নং ৪৭৬২
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ يُوْسُفَ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنِي الْقَاسِمُ بْنُ أَبِيْ بَزَّةَ أَنَّهُ سَأَلَ سَعِيْدَ بْنَ جُبَيْرٍ هَلْ لِمَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا مِنْ تَوْبَةٍ فَقَرَأْتُ {عَلَيْهِ وَلَا يَقْتُلُوْنَ النَّفْسَ الَّتِيْ حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ} فَقَالَ سَعِيْدٌ قَرَأْتُهَا عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ كَمَا قَرَأْتَهَا عَلَيَّ فَقَالَ هَذِهِ مَكِّيَّةٌ نَسَخَتْهَا آيَةٌ مَدَنِيَّةٌ الَّتِيْ فِيْ سُوْرَةِ النِّسَاءِ.
বর্ণনাকারী কাসিম ইব্নু আবূ বাযযা (রাঃ)
তিনি সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, যদি কেউ কোন মু’মিন ব্যক্তিকে ইচ্ছাবশতঃ হত্যা করে, তবে কি তার জন্য তাওবা আছে? আমি তাঁকে এ আয়াত পাঠ করে শোনালাম عَلَيْهِ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ “আল্লাহ্ যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না।” সা‘ঈদ (রাঃ) বললেন, তুমি যে আয়াত আমার সামনে পড়লে, আমিও এমনিভাবে ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর সামনে এ আয়াত পড়েছিলাম। তখন তিনি বললেন, এ আয়াতটি মাক্কী। সূরাহ নিসার মধ্যে মাদানী আয়াতটি একে রহিত করে দিয়েছে। [৩৮৫৫] (আ.প্র. ৪৩৯৯, ই.ফা. ৪৪০১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৬৩
হাদিস নং ৪৭৬৩
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْمُغِيْرَةِ بْنِ النُّعْمَانِ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْكُوْفَةِ فِيْ قَتْلِ الْمُؤْمِنِ فَرَحَلْتُ فِيْهِ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ نَزَلَتْ فِيْ آخِرِ مَا نَزَلَ وَلَمْ يَنْسَخْهَا شَيْءٌ.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রহ.)
তিনি বলেন, মু’মিনের হত্যার ব্যাপারে কূফাবাসী মতভেদে লিপ্ত হল। আমি (এ ব্যাপারে) ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, (মু’মিনের হত্যা সম্পর্কিত) এ আয়াত সর্বশেষে অবতীর্ণ হয়েছে। একে অন্য কিছু রহিত করেনি। [৩৮৫৫] (আ.প্র. ৪৪০০, ই.ফা. ৪৪০২)
[১] শির্কের চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের যে কোন গুনাহ আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছে করলে ক্ষমা করে থাকেন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদাহ হচ্ছে-শিরকের চেয়ে নিম্নমানের গুনাহর কারণে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না। উল্লেখ্য যে, শিরকের চেয়েও উপরের স্তরের গুনাহ রয়েছে যেগুলো চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবার আরও শক্ত কারণ। আর সেগুলো হচ্ছে, কুফর তথা আল্লাহকে অস্বীকার করা, তাকযীব তথা মিথ্যা প্রতিপন্ন করা, আল্লাহকে মিথ্যাবাদী বলা, তাঁর অস্তিত্ব অস্বীকার করা ইত্যাদি কাজগুলো শিরকের চেয়েও বড় গুনাহ। (তাফসীর ইবনু উসাইমিন ও তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থ ১২নং খন্ড ১৩৫-১৩৬ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৬৪
হাদিস নং ৪৭৬৪
آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا مَنْصُوْرٌ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى {فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ} قَالَ لَا تَوْبَةَ لَهُ وَعَنْ قَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ {لَا يَدْعُوْنَ مَعَ اللهِ إِلَهًا اٰخَرَ} قَالَ كَانَتْ هَذِهِ فِي الْجَاهِلِيَّةِ.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রহ.)
তিনি বলেন, আমি ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে আল্লাহ্ তা‘আলার বাণী ঃ فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ (তাদের পরিণতি জাহান্নাম) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তার জন্য তাওবাহ্র সুযোগ নেই। এরপরে আমি আল্লাহ্ তা‘আলার বাণী ঃ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ আয়াত মুশরিকদের ব্যাপারে (নাযিল হয়েছে)। [৩৮৫৫] (আ.প্র. ৪৪০১, ই.ফা. ৪৪০৩)
৬৫/২৫/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ক্বিয়ামাতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং তথায় সে চিরকাল আপমানিত অবস্থায় থাকবে। (সূরাহ ফুরক্বান ২৫/৬৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৬৫
হাদিস নং ৪৭৬৫
سَعْدُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ مَنْصُوْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ قَالَ ابْنُ أَبْزَى سَلْ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى {وَمَنْ يَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيْهَا} وَقَوْلِهِ {وَلَا يَقْتُلُوْنَ النَّفْسَ الَّتِيْ حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ} حَتَّى بَلَغَ {إِلَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ} فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ لَمَّا نَزَلَتْ قَالَ أَهْلُ مَكَّةَ فَقَدْ عَدَلْنَا بِاللهِ وَقَدْ قَتَلْنَا النَّفْسَ الَّتِيْ حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَتَيْنَا الْفَوَاحِشَ فَأَنْزَلَ اللهُ {إِلَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا}إِلَى قَوْلِهِ {غَفُوْرًا رَّحِيْمًا}.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রাঃ)
তিনি বলেন, ইব্নু আবযা (রাঃ) বলেন, ইব্নু ‘আব্বাসকে জিজ্ঞেস করা হল, আল্লাহ্ তা‘আলার বাণী ঃ “কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম” এবং আল্লাহ্র এ বাণী ঃ “এবং আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতীত, তারা তাকে হত্যা করে না” এবং “কিন্তু যারা তাওবাহ করে” পর্যন্ত সম্পর্কে। আমিও তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি উত্তরে বললেন, যখন এ আয়াত নাযিল হল তখন মাক্কাহ্বাসী বলল, আমরা আল্লাহ্র সাথে শারীক করেছি, আল্লাহ্ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করেছি এবং আমরা অশ্লীল কার্যে লিপ্ত হয়েছি। তারপর আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, “যারা তওবাহ করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে।” إِلاَّ مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلاً صَالِحًا থেকে غَفُورًا رَحِيمًا পর্যন্ত। [৩৮৫৫; মুসলিম ৫৪/হাঃ ৩০২৩] (আ.প্র. ৪৪০২, ই.ফা. ৪৪০৪)
৬৫/২৫/৪.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৬৬
হাদিস নং ৪৭৬৬
عَبْدَانُ أَخْبَرَنَا أَبِيْ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مَنْصُوْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ أَمَرَنِيْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبْزَى أَنْ أَسْأَلَ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ هَاتَيْنِ الآيَتَيْنِ {وَمَنْ يَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا} فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ لَمْ يَنْسَخْهَا شَيْءٌ وَعَنْ {وَالَّذِيْنَ لَا يَدْعُوْنَ مَعَ اللهِ إِلَهًا اٰخَرَ} قَالَ نَزَلَتْ فِيْ أَهْلِ الشِّرْكِ.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রহ.)
তিনি বলেন, ‘আবদুর রহমান ইব্নু আব্যা (রাঃ) আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে এ দু’টি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا আমি তাকে (এ আয়াত সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, এ আয়াতকে অন্য কিছু মানসূখ করেনি এবং وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করলাম, তিনি [‘আব্বাস (রাঃ)] বললেন, এ আয়াত মুশরিকদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। [৩৮৫৫] (আ.প্র. ৪৪০৩, ই.ফা. ৪৪০৫)
৬৫/২৫/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ অতএব, অচিরেই নেমে আসবে অনিবার্য শাস্তি। (সূরাহ ফুরক্বান ২৫/৭৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৬৭
হাদিস নং ৪৭৬৭
عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ خَمْسٌ قَدْ مَضَيْنَ الدُّخَانُ وَالْقَمَرُ وَالرُّوْمُ وَالْبَطْشَةُ وَاللِّزَامُ {فَسَوْفَ يَكُوْنُ لِزَامًا}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, পাঁচটি ঘটনা ঘটে গেছে ধূম্রাচ্ছন্ন, চন্দ্র খণ্ডিত হওয়া, রোমানদের পরাজিত হওয়া, প্রবলভাবে পাকড়াও এবং ধ্বংস হওয়া। لِزَامًا ধ্বংস। [১০০৭] (আ.প্র. ৪৪০৪, ই.ফা. ৪৪০৬)
৬৫/২৬/১.অধ্যায়ঃ
‘‘আমাকে লাঞ্ছিত করো না পুনরুত্থান দিবসে।’’ (সূরাহ শু‘আরা ২৬/৮৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৬৮
হাদিস নং ৪৭৬৮
وَقَالَ إِبْرَاهِيْمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنْ ابْنِ أَبِيْ ذِئْبٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ إِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ يَرَى أَبَاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ الْغَبَرَةُ وَالْقَتَرَةُ الْغَبَرَةُ هِيَ الْقَتَرَةُ
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ক্বিয়ামাত দিবসে ইব্রাহীম (‘আ.) তাঁর পিতাকে ধূলি-মলিন অবস্থায় দেখতে পাবেন।الْغَبَرَةُ ধূলি-ময়লা। [৩৩৫০] (আ.প্র. অনুচ্ছেদ, ই.ফা. অনুচ্ছেদ)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৬৯
হাদিস নং ৪৭৬৯
إِسْمَاعِيْلُ حَدَّثَنَا أَخِيْ عَنْ ابْنِ أَبِيْ ذِئْبٍ عَنْ سَعِيْدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَلْقَى إِبْرَاهِيْمُ أَبَاهُ فَيَقُوْلُ يَا رَبِّ إِنَّكَ وَعَدْتَنِيْ أَنْ لَا تُخْزِيَنِيْ يَوْمَ يُبْعَثُوْنَ فَيَقُوْلُ اللهُ إِنِّيْ حَرَّمْتُ الْجَنَّةَ عَلَى الْكَافِرِيْنَ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, (হাশরের ময়দানে ইব্রাহীম (‘আ.) তাঁর পিতার সাক্ষাৎ পেয়ে বলবেন, ইয়া রব! আপনি আমার সঙ্গে ওয়া‘দা করেছেন যে, ক্বিয়ামাতের দিন আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আল্লাহ্ তা’আলা বলবেন, আমি কাফিরদের উপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। [৩৩৫০] (আ.প্র. ৪৪০৫, ই.ফা. ৪৪০৭)
৬৫/২৬/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ তোমার নিকট আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও এবং (মু’মিনদের প্রতি) বিনয়ী হও। (সূরাহ শু‘আরা ২৬/২১৪-২১৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৭০
হাদিস নং ৪৭৭০
عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ قَالَ حَدَّثَنِيْ عَمْرُوْ بْنُ مُرَّةَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ {وَأَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِيْنَ} صَعِدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الصَّفَا فَجَعَلَ يُنَادِيْ يَا بَنِيْ فِهْرٍ يَا بَنِيْ عَدِيٍّ لِبُطُوْنِ قُرَيْشٍ حَتَّى اجْتَمَعُوْا فَجَعَلَ الرَّجُلُ إِذَا لَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يَخْرُجَ أَرْسَلَ رَسُوْلًا لِيَنْظُرَ مَا هُوَ فَجَاءَ أَبُوْ لَهَبٍ وَقُرَيْشٌ فَقَالَ أَرَأَيْتَكُمْ لَوْ أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّ خَيْلًا بِالْوَادِيْ تُرِيْدُ أَنْ تُغِيْرَ عَلَيْكُمْ أَكُنْتُمْ مُصَدِّقِيَّ قَالُوْا نَعَمْ مَا جَرَّبْنَا عَلَيْكَ إِلَّا صِدْقًا قَالَ فَإِنِّيْ نَذِيْرٌ لَكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيْدٍ فَقَالَ أَبُوْ لَهَبٍ تَبًّا لَكَ سَائِرَ الْيَوْمِ أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا فَنَزَلَتْ {تَبَّتْ يَدَآ أَبِيْ لَهَبٍ وَّتَبَّ ط (1) مَآ أَغْنٰى عَنْهُ مَالُه” وَمَا كَسَبَ ط}.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, যখন وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ এ আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাফা (পর্বতে) আরোহণ করলেন এবং আহ্বান জানালেন, হে বানী ফিহ্র! হে বানী আদী! কুরাইশদের বিভিন্ন গোত্রকে। অবশেষে তারা জমায়েত হল। যে নিজে আসতে পারল না, সে তার প্রতিনিধি পাঠাল, যাতে দেখতে পায়, ব্যাপার কী? সেখানে আবূ লাহাব ও কুরাইশগণও আসল। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, বল তো, আমি যদি তোমাদের বলি যে, শত্র“সৈন্য উপত্যকায় চলে এসেছে, তারা তোমাদের উপর হঠাৎ আক্রমণ করতে প্রস্তুত, তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা বলল, হাঁ আমরা আপনাকে সর্বদা সত্য পেয়েছি। তখন তিনি বললেন, “আমি তোমাদেরকে কঠিন শাস্তির ভয় প্রদর্শন করছি।” আবূ লাহাব [রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে] বলল, সারাদিন তোমার উপর ধ্বংস নামুক! এজন্যই কি তুমি আমাদের জমায়েত করেছ? তখন অবতীর্ণ হল, “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের হস্ত দু’টি এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার ধন-সম্পদ ও তার অর্জন তার কোন উপকারে লাগেনি।” [১৩৯৪] (আ.প্র. , ই.ফা. ৪৪০৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৭১
হাদিস নং ৪৭৭১
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ سَعِيْدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَأَبُوْ سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ قَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حِيْنَ أَنْزَلَ اللهُ {وَأَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِيْنَ} قَالَ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا اشْتَرُوْا أَنْفُسَكُمْ لَا أُغْنِيْ عَنْكُمْ مِنْ اللهِ شَيْئًا يَا بَنِيْ عَبْدِ مَنَافٍ لَا أُغْنِيْ عَنْكُمْ مِنْ اللهِ شَيْئًا يَا عَبَّاسُ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَا أُغْنِيْ عَنْكَ مِنْ اللهِ شَيْئًا وَيَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُوْلِ اللهِ لَا أُغْنِيْ عَنْكِ مِنْ اللهِ شَيْئًا وَيَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَلِيْنِيْ مَا شِئْتِ مِنْ مَالِيْ لَا أُغْنِيْ عَنْكِ مِنْ اللهِ شَيْئًا تَابَعَهُ أَصْبَغُ عَنْ ابْنِ وَهْبٍ عَنْ يُوْنُسَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, যখন وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ (তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক কর) এ আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন রসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়! অথবা অনুরূপ বাক্য, নিজেদের কিনে নাও। আমি আল্লাহ্র নিকট তোমাদের কোন উপকারে আসব না। হে বানী আব্দে মানাফ! আল্লাহ্র নিকট আমি তোমাদের কোন উপকারে আসব না। হে ‘আব্বাস ইব্নু আবদুল মুত্তালিব! আমি আল্লাহ্র নিকট তোমার কোনই উপকারে আসব না। হে আল্লাহ্র রসূলের ফুফু সফীয়্যাহ! আমি তোমার কোনই উপকার করতে পারব না। হে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমা! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা ইচ্ছে চাও, কিন্তু আল্লাহ্র নিকট আমি তোমার কোনই উপকারে আসব না।আস্বাগ (রহ.).....ইব্নু শিহাব (রহ.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। [২৭৫৩] (আ.প্র. ৪৪০৬, ই.ফা. ৪৪০৯)
৬৫/২৮/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আপনি যাকে ভালোবাসেন, ইচ্ছা করলেই তাকে হিদায়াত করতে পারবেন না; তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত করে থাকেন। (সূরাহ ক্বাসাস ২৮/৫৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৭২
হাদিস নং ৪৭৭২
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ سَعِيْدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ لَمَّا حَضَرَتْ أَبَا طَالِبٍ الْوَفَاةُ جَاءَهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدَ عِنْدَهُ أَبَا جَهْلٍ وَعَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِيْ أُمَيَّةَ بْنِ الْمُغِيْرَةِ فَقَالَ أَيْ عَمِّ قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ كَلِمَةً أُحَاجُّ لَكَ بِهَا عِنْدَ اللهِ فَقَالَ أَبُوْ جَهْلٍ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِيْ أُمَيَّةَ أَتَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَلَمْ يَزَلْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَعْرِضُهَا عَلَيْهِ وَيُعِيْدَانِهِ بِتِلْكَ الْمَقَالَةِ حَتَّى قَالَ أَبُوْ طَالِبٍ آخِرَ مَا كَلَّمَهُمْ عَلَى مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَأَبَى أَنْ يَقُوْلَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَاللهِ لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ مَا لَمْ أُنْهَ عَنْكَ فَأَنْزَلَ {اللهُ مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا أَنْ يَّسْتَغْفِرُوْا لِلْمُشْرِكِيْنَ} وَأَنْزَلَ اللهُ فِيْ أَبِيْ طَالِبٍ فَقَالَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ {وَسَلَّمَ إِنَّكَ لَا تَهْدِيْ مَنْ أَحْبَبْتَ وَلٰكِنَّ اللهَ يَهْدِيْ مَنْ يَّشَآءُ}قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ {أُولِي الْقُوَّة}لَا يَرْفَعُهَا الْعُصْبَةُ مِنْ الرِّجَالِ {لَتَنُوْءُ}لَتُثْقِلُ {فَارِغًا} إِلَّا مِنْ ذِكْرِ مُوْسَى {الْفَرِحِيْنَ} الْمَرِحِيْنَ {قُصِّيْهِ} اتَّبِعِيْ أَثَرَهُ وَقَدْ يَكُوْنُ أَنْ يَقُصَّ الْكَلَامَ {نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ عَنْ جُنُبٍ} عَنْ بُعْدٍ عَنْ جَنَابَةٍ وَاحِدٌ وَعَنْ اجْتِنَابٍ أَيْضًا {يَبْطِشُ} وَيَبْطُشُ {يَأْتَمِرُوْنَ}يَتَشَاوَرُوْنَ {الْعُدْوَانُ} وَالْعَدَاءُ وَالتَّعَدِّيْ وَاحِدٌ {آنَسَ} أَبْصَرَ {الْجِذْوَةُ} قِطْعَةٌ غَلِيْظَةٌ مِنَ الْخَشَبِ لَيْسَ فِيْهَا لَهَبٌ وَالشِّهَابُ فِيْهِ لَهَبٌ ....... وَالْحَيَّاتُ أَجْنَاسٌ الْجَانُّ وَالأَفَاعِيْ وَالأَسَاوِدُ {رِدْءًا} مُعِيْنًا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ يُصَدِّقُنِيْ وَقَالَ غَيْرُهُ {سَنَشُدُّ} سَنُعِيْنُكَ كُلَّمَا عَزَّزْتَ شَيْئًا فَقَدْ جَعَلْتَ لَهُ عَضُدًا {مَقْبُوْحِيْنَ} مُهْلَكِيْنَ {وَصَّلْنَا} بَيَّنَّاهُ وَأَتْمَمْنَاهُ {يُجْبَى} يُجْلَبُ {بَطِرَتْ} أَشِرَتْ {فِيْ أُمِّهَا رَسُوْلًا} أُمُّ الْقُرَى مَكَّةُ وَمَا حَوْلَهَا {تُكِنُّ}تُخْفِيْ أَكْنَنْتُ الشَّيْءَ أَخْفَيْتُهُ وَكَنَنْتُهُ أَخْفَيْتُهُ وَأَظْهَرْتُهُ {وَيْكَأَنَّ اللهَ} مِثْلُ {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللهَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَّشَآءُ وَيَقْدِر} يُوَسِّعُ عَلَيْهِ وَيُضَيِّقُ عَلَيْهِ.
বর্ণনাকারী মুসাইয়্যাব (রাঃ)
তিনি বলেন, যখন আবূ ত্বলিবের মৃত্যু নিকটবর্তী হল, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কাছে আসলেন। তিনি সেখানে আবূ জাহ্ল এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু আবূ ‘উমাইয়াহ ইব্নু মুগীরাহ্কে পেলেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে চাচা! আপনি বলুন “লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ।” এ ‘কালেমা’ দ্বারা আমি আপনার জন্য (ক্বিয়ামাতে) আল্লাহ্র কাছে ওযর পেশ করতে পারব। আবূ জাহ্ল এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু আবূ ‘উমাইয়াহ বলল, তুমি কি ‘আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করবে? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বারবার তার কাছে এ ‘কালিমা’ পেশ করতেই থাকলেন। আর তারা তাদের কথা বারবার বলেই চলল। অবশেষে আবূ ত্বলিব তাঁদের সঙ্গে সর্বশেষ এ কথা বললেন, আমি ‘আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাতের উপর আছি, এবং কালিমা “লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ” পাঠ করতে অস্বীকৃতি জানালেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমাকে নিষেধ না করা অবধি আপনার জন্য ক্ষমা চাইতেই থাকব। তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, নাবী ও মু’মিনদের জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর আল্লাহ্ তা‘আলা আবূ ত্বলিব সম্পর্কে অবতীর্ণ করেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সম্বোধন করে আল্লাহ্ তা‘আলা বললেন, “তুমি যাকে ভালবাস তাকেই সৎপথে আনতে পারবে না। তবে আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন।”ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন أُولِي الْقُوَّة লোকের একটি দল সে চাবিগুলো বহন করতে সক্ষম ছিল না। لَتَنُوءُ বহন করা কষ্টসাধ্য ছিল। فَارِغًا মূসা (‘আ.)-এর স্মরণ ব্যতীত সব কিছু থেকে খালি ছিল। الْفَرِحِينَ দম্ভকারীরা! قُصِّيهِ তার চিহ্ন অনুসরণ কর। কথার বর্ণনা অর্থেও প্রয়োগ হয়। نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ عَنْ جُنُبٍ এখানে جُنُبٍ অর্থ দূর থেকে। عَنْ جَنَابَةٍ، عَنْ اجْتِنَابٍ এর একই অর্থবোধক।يَبْطِشُ ـ يَبْطُشُ উভয়ই পড়া হয়। يَأْتَمِرُونَ পরস্পর পরামর্শ করছে। الْعُدْوَانُ ـ وَالْعَدَاءُ وَالتَّعَدِّي (শব্দ তিনটির) অর্থ একই ; সীমা অতিক্রম করা। آنَسَ দেখা الْجِذْوَةُ কাঠের মোটা টুকরা যাতে শিখা নেই। الشِّهَابُ যাতে শিখা আছে। الْحَيَّاتُ বহু প্রকার সাপ; যেমন, চিকন জাতি, অজগর, কালনাগ (ইত্যাদি) رِدْءًا সাহায্যকারী। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, يُصَدِّقُنِي (তিনি قاف-কে পেশ দিয়ে পড়েন। অন্য হতে বর্ণিত سَنَشُدُّ আমরা শীঘ্র তোমাকে সাহায্য করব। যখন তুমি কোন জিনিসকে শক্তিশালী করলে, তখন তুমি যেন তার জন্য বাহুবল প্রদান করলে। যখন আরবগণ কাউকে সাহায্য করেন তখন বলে থাকেন جَعَلْتَ لَهُ عَضُدًا (বাহুবল প্রদান করলে) مَقْبُوحِينَ ধ্বংসপ্রাপ্ত। وَصَّلْنَا আমি বর্ণনা করেছি; আমি তা পূর্ণ করেছি। يُجْبَى আমদানি করা হয়। بَطِرَتْ দম্ভ করল। فِي أُمِّهَا رَسُولاً মক্কা এবং তার চতুষ্পার্শকে বলা হয়। تُكِنُّ গোপন করছ। আরবগণ বলে থাকেন أَكْنَنْتُ الشَّيْءَ আমি তা গোপন করেছি। كَنَنْتُهُআমি তা লুকিয়েছি; আমি প্রকাশ করেছি। وَيْكَأَنَّ اللهَ আর أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللهَ সমার্থক (তারা কি দেখেনি?) يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِر আল্লাহ্ যার জন্য চান খাদ্য প্রসারিত করে দেন, আর যার থেকে চান সংকুচিত করে দেন। [১৩৬০] (আ.প্র. ৪৪০৮, ই.ফা. ৪৪১০)
[১] অট্টালিকার ইট-পাথরের গাঁথুনি ও প্রয়োজনীয় উপাদান। [১] ইমাম বুখারী যে তাফসীর করেছেন সেটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আকীদাহ অনুপাতে হয়নি। প্রকৃতপক্ষে এখানে وجهه থেকে আহলুসসুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত وجهه শব্দের ব্যাখায় ‘‘তার সত্ত্বা’’ কথাটিই গ্রহণ করেছেন। যেমন সূরা আর রহমানে বলা হয়েছে। كُلُّمَنْعَلَيْهَافَانٍ - وَيَبْقَىوَجْهُرَبِّكَذُوالْجَلَالِوَالْإِكْرَامِ (২৭-২৬) سورةالرحمن ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবই ধ্বংস হবে। শুধুমাত্র মহিমাময় মহানুভব প্রতিপালকের চেহারা (সত্ত্বা) অবশিষ্ট থাকবে। (সূরাহ আর-রহমানঃ ২৬-২৭)
৬৫/২৮/২.অধ্যায়ঃ
যে আল্লাহ্ আপনার প্রতি কুরআনকে ফরয করেছেন।’’ (সূরাহ ক্বাসাস ২৮/৮৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৭৩
হাদিস নং ৪৭৭৩
مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الْعُصْفُرِيُّ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ {لَرَآدُّكَ إِلٰى مَعَادٍ} قَالَ إِلَى مَكَّةَ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, لَرَادُّكَ إِلَى مَعَادٍ এর অর্থ মাক্কাহ্র পানে। (আ.প্র. ৪৪০৯, ই.ফা. ৪৪১১)
৬৫/২৯.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৭৪
হাদিস নং ৪৭৭৪
مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيْرٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا مَنْصُوْرٌ وَالأَعْمَشُ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ يُحَدِّثُ فِيْ كِنْدَةَ فَقَالَ يَجِيْءُ دُخَانٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَأْخُذُ بِأَسْمَاعِ الْمُنَافِقِيْنَ وَأَبْصَارِهِمْ و يَأْخُذُ الْمُؤْمِنَ كَهَيْئَةِ الزُّكَامِ فَفَزِعْنَا فَأَتَيْتُ ابْنَ مَسْعُوْدٍ وَكَانَ مُتَّكِئًا فَغَضِبَ فَجَلَسَ فَقَالَ مَنْ عَلِمَ فَلْيَقُلْ وَمَنْ لَمْ يَعْلَمْ فَلْيَقُلْ اللهُ أَعْلَمُ فَإِنَّ مِنَ الْعِلْمِ أَنْ يَقُوْلَ لِمَا لَا يَعْلَمُ لَا أَعْلَمُ فَإِنَّ اللهَ قَالَ لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْ مَآ أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَّمَآ أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِيْنَ} وَإِنَّ قُرَيْشًا أَبْطَئُوْا عَنِ الإِسْلَامِ فَدَعَا عَلَيْهِمْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اللهُمَّ أَعِنِّيْ عَلَيْهِمْ بِسَبْعٍ كَسَبْعِ يُوْسُفَ فَأَخَذَتْهُمْ سَنَةٌ حَتَّى هَلَكُوْا فِيْهَا وَأَكَلُوا الْمَيْتَةَ وَالْعِظَامَ وَيَرَى الرَّجُلُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ كَهَيْئَةِ الدُّخَانِ فَجَاءَهُ أَبُوْ سُفْيَانَ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ جِئْتَ تَأْمُرُنَا بِصِلَةِ الرَّحِمِ وَإِنَّ قَوْمَكَ قَدْ هَلَكُوْا فَادْعُ اللهَ فَقَرَأَ {فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ} إِلَى قَوْلِهِ {عَائِدُوْنَ} أَفَيُكْشَفُ عَنْهُمْ عَذَابُ الْآخِرَةِ إِذَا جَاءَ ثُمَّ عَادُوْا إِلَى كُفْرِهِمْ فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى {يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرٰى} يَوْمَ بَدْرٍ وَ {لِزَامًا} يَوْمَ بَدْرٍ {الم غُلِبَتْ الرُّوْمُ} إِلَى {سَيَغْلِبُوْنَ} وَالرُّوْمُ قَدْ مَضَى.
বর্ণনাকারী মাসরূক (রহ.)
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি কিন্দাবাসীদের সামনে বলছিল, ক্বিয়ামাতের দিন ধোঁয়া আসবে এবং মুনাফিকদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দেবে। আর মু’মিনের কাছে মনে হবে সর্দি লেগে থাকা অবস্থার ন্যায়। এ কথা শুনে আমরা ভীত হয়ে গেলাম। এরপর আমি ইব্নু মাস‘উদ (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসেছিলেন। এ সব কথা শুনে তিনি রাগানি¦ত হয়ে উঠে বসলেন এবং বললেন, যার জানা আছে সেও যেন তা বলে, আর যে না জানে সে যেন বলে, আল্লাহ্ তা‘আলাই ভাল জানেন। জ্ঞানের মধ্যে এটাও একটা জ্ঞান যে, যার যে বিষয় জানা নেই সে বলবে “আমি এ বিষয়ে জানি না।” আল্লাহ্ তা‘আলা নাবীকে বলেছেন, হে নাবী! আপনি বলুন, “আমি আল্লাহ্র দ্বীনের দিকে ডাকার জন্য তোমাদের নিকট কোন পারিশ্রমিক চাই না এবং যারা মিথ্যা দাবী করে আমি তাদের মধ্যে নই। কুরায়শগণ ইসলাম গ্রহণে দেরী করতে লাগল, সুতরাং রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জন্য এই বলে বদদু‘আ করলেন। “হে আল্লাহ্! আপনি তাদের উপর ইউসুফ (‘আ.)-এর মত সাত বছর (দুর্ভিক্ষ) দিয়ে আমাকে সাহায্য করুন।” তারপর তারা এমন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে পতিত হলো যে, তারা তাতে ধ্বংস হয়ে গেল এবং মরা জন্তু ও তার হাড় খেতে বাধ্য হলো। তারা (দুর্ভিক্ষের কারণে) আকাশও পৃথিবীর মধ্যস্থলে ধোঁয়ার মত দেখতে পেল। তারপর আবূ সুফ্ইয়ান তাঁর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! তুমি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার আদেশ দিচ্ছ, অথচ তোমার গোত্রের লোকেরা এখন ধ্বংস হয়ে গেল। সুতরাং আমাদের (এ দুর্ভিক্ষ থেকে) বাঁচার জন্য দু‘আ কর। তখন তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ إِلَى قَوْلِهِ عَائِدُونَ “অতএব, তুমি অপেক্ষা কর সেদিনের, যেদিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ..... তোমরা তো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে।” অবশেষে দুর্ভিক্ষের অবসান ঘটল কিন্তু তারা কুফরীর দিকে ফিরে গেল। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা এদের ব্যাপারেই অবতীর্ণ করলেন, যেদিন আমি তোমাদের শক্তভাবে পাকড়াও করব। الْبَطْشَةَ এবং لِزَامًا দ্বারা বাদ্রের যুদ্ধ বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ্ তা‘আলার বাণী ঃ আলিফ, লাম, মীম। রোমানরা পরাজিত হয়েছে। .....এবং পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে। রোমানদের ঘটনা অতিক্রান্ত হয়েছে। [১০০৭] (আ.প্র. ৪৪১০, ই.ফা. ৪৪১২)
৬৫/৩০/২.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
৬৫/৩১/১.অধ্যায়ঃ
‘‘আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শারীক কর না। নিশ্চয়ই শিরক তো মহাপাপ।’’ (সূরাহ লুক্বমান ৩১/১৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৭৬
হাদিস নং ৪৭৭৬
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ {الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَلَمْ يَلْبِسُوْآ إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} شَقَّ ذَلِكَ عَلَى أَصْحَابِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالُوْا أَيُّنَا لَمْ يَلْبِسْ إِيْمَانَهُ بِظُلْمٍ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّهُ لَيْسَ بِذَاكَ أَلَا تَسْمَعُ إِلَى قَوْلِ لُقْمَانَ لِابْنِهِ {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيْمٌ}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হল (আল্লাহ্র বাণী) ঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুল্ম দ্বারা কলুষিত করেনি। এটি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহাবীদের উপর খুবই কঠিন মনে হল। তখন তাঁরা বললেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, তারা তাদের ঈমানকে যুল্ম দ্বারা কলুষিত করেনি? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ আয়াত দ্বারা এ অর্থ বুঝানো হয়নি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি যা তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন? إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ নিশ্চয় র্শিক হচ্ছে বড় যুল্ম। [৩২] (আ.প্র. ৪৪১২, ই.ফা. ৪৪১৪)
৬৫/৩১/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ নিশ্চয় আল্লাহরই কাছে রয়েছে ক্বিয়ামাত সম্বন্ধীয় জ্ঞান (অর্থাৎ কখন ঘটবে)। (সূরাহ লুক্বমান ৩১/৩৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৭৭
হাদিস নং ৪৭৭৭
إِسْحَاقُ عَنْ جَرِيْرٍ عَنْ أَبِيْ حَيَّانَ عَنْ أَبِيْ زُرْعَةَ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَوْمًا بَارِزًا لِلنَّاسِ إِذْ أَتَاهُ رَجُلٌ يَمْشِيْ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا الإِيْمَانُ قَالَ الإِيْمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَلِقَائِهِ وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ الآخِرِ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا الإِسْلَامُ قَالَ الإِسْلَامُ أَنْ تَعْبُدَ اللهَ وَلَا تُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيْمَ الصَّلَاةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوْضَةَ وَتَصُوْمَ رَمَضَانَ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا الإِحْسَانُ قَالَ الإِحْسَانُ أَنْ تَعْبُدiَ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَتَى السَّاعَةُ قَالَ مَا الْمَسْئُوْلُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنْ السَّائِلِ وَلَكِنْ سَأُحَدِّثُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا إِذَا وَلَدَتْ الْمَرْأَةُ رَبَّتَهَا فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا وَإِذَا كَانَ الْحُفَاةُ الْعُرَاةُ رُءُوْسَ النَّاسِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا فِيْ خَمْسٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا اللهُ {إِنَّ اللهَ عِنْدَه” عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنْزِلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ} ثُمَّ انْصَرَفَ الرَّجُلُ فَقَالَ رُدُّوْا عَلَيَّ فَأَخَذُوْا لِيَرُدُّوْا فَلَمْ يَرَوْا شَيْئًا فَقَالَ هَذَا جِبْرِيْلُ جَاءَ لِيُعَلِّمَ النَّاسَ دِيْنَهُمْ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
একদিন রসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকদের সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলেন। এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, ঈমান কী? তিনি বললেন, “আল্লাহ্তে ঈমান আনবে এবং তাঁর মালায়িকাহ, তাঁর নাবী-রসূলগণের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহ্র দর্শন ও পুনরুত্থানের ওপর ঈমান আনবে।” লোকটি জিজ্ঞেস করল, ইসলাম কী? তিনি বললেন, ইসলাম (হল) আল্লাহ্র ‘ইবাদাত করবে ও তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করবে না এবং সলাত কায়িম করবে, ফারয্ যাকাত দিবে ও রমাযানের সিয়াম পালন করবে। লোকটি জিজ্ঞেস করল, ইহ্সান কী? তিনি বললেন, ইহ্সান হচ্ছে আল্লাহ্র ‘ইবাদাত এমন নিষ্ঠার সঙ্গে করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে (জানবে) আল্লাহ্ তোমাকে দেখছেন। লোকটি আরও জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্র রসূল! কখন ক্বিয়ামাত ঘটবে? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ ব্যাপারে প্রশ্নকারীর চেয়ে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, সে অধিক জানে না। তবে আমি তোমার কাছে এর কতগুলো নিদর্শন বলছি। তা হল, যখন দাসী তার মনিবকে জন্ম দিবে, এটা তার একটি নিদর্শন। আর যখন দেখবে, নগ্নপদ ও নগ্নদেহ বিশিষ্ট লোকেরা মানুষের নেতা হবে, এও তার একটি নিদর্শন। এটি ঐ পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানেন না ঃ (১) ক্বিয়ামাত সম্পর্কিত জ্ঞান কেবল আল্লাহ্র নিকটই রয়েছে। (২) তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, (৩) তিনিই জানেন, মাতৃগর্ভে কী আছে। এরপরে সে লোকটি চলে গেল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাঁকে আমার নিকট ফিরিয়ে আন। সহাবীগণ তাঁকে ফিরিয়ে আনতে গেলেন, কিন্তু কিছুই দেখতে পেলেন না। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তিনি হলেন জিব্রীল, লোকেদেরকে শিক্ষা দেয়ার জন্য এসেছিলেন। [৫০] (আ.প্র. ৪৪১৩, ই.ফা. ৪৪১৫)র
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৭৮
হাদিস নং ৪৭৭৮
يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَفَاتِيْحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ ثُمَّ قَرَأَ {إِنَّ اللهَ عِنْدَه” عِلْمُ السَّاعَةِ}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, গায়বের চাবি পাঁচটি। এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন ঃ ক্বিয়ামাত সম্পর্কিত জ্ঞান কেবল আল্লাহ্ তা‘আলারই আছে। [১০৩৯] (আ.প্র. ৪৪১৪, ই.ফা. ৪৪১৬)
৬৫/৩২/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন জুড়ানো কী কী সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে .....? (সূরাহ আস্-সাজদাহ ৩২/১৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৭৯
হাদিস নং ৪৭৭৯
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِيْنَ مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ قَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ اقْرَءُوْا إِنْ شِئْتُمْ {فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّآ أُخْفِيَ لَهُمْ مِّنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ}و حَدَّثَنَا عَلِيٌّ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ اللهُ مِثْلَهُ قِيْلَ لِسُفْيَانَ رِوَايَةً قَالَ فَأَيُّ شَيْءٍ؟ قَالَ أَبُوْ مُعَاوِيَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِيْ صَالِحٍ قَرَأَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ قُرَّاتِ
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তু বানিয়ে রেখেছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ চিন্তা করেনি। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন, তোমরা চাইলে এ আয়াত তিলাওয়াত কর ঃ “কেউ জানে না তাদের জন্য চোখ জুড়ানো কোন্ বিষয় লুকিয়ে রাখা হয়েছে” (আস্-সাজদাহ ৩২/১৭)। (আ.প্র. ৪৪১৫)সুফ্ইয়ান (রহ.).....আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, পরের অংশ আগের হাদীসের মত। আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কি এ হাদীস রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, তা ছাড়া আর কী?আবূ মু‘আবীয়াহ (রহ.).....আবূ সালিহ্ (রহ.) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) قُرَاتِ “আলিফ” এবং লম্বা ‘তা’ সহ) পড়েছিলেন। [৩২৪৪] (ই.ফা. ৪৪১৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৮০
হাদিস নং ৪৭৮০
إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ حَدَّثَنَا أَبُوْ أُسَامَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ حَدَّثَنَا أَبُوْ صَالِحٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ اللهُ تَعَالَى أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِيْنَ مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ ذُخْرًا بَلْهَ مَا أُطْلِعْتُمْ عَلَيْهِ ثُمَّ قَرَأَ {فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّآ أُخْفِيَ لَهُمْ مِّنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍجَزَآءًمبِمَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ}.قَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ قَرَأَ أَبُو هُرَيْرَةَ قُرَّاتِ أَعْيُنٍ
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তুরাজি তৈরি করে রেখেছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি এবং কোন ব্যক্তির মন কল্পনা করেনি। এসব ছাড়া যা কিছুই তোমরা দেখছ, তার কোন মূল্যই নেই। তারপর এ আয়াত পাঠ করলেন, কেউ জানে না তাদের জন্য নয়ন তৃপ্তিকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের পারিতোষিক হিসেবে। [৩২৪৪] (আ.প্র. ৪৪১৬, ই.ফা. ৪৪১৮)
৬৫/৩৩/১.অধ্যায়ঃ
নাবী মু’মিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা ঘনিষ্ঠতর এবং তার পত্নীগণ তাদের মাতা। (সূরা আহযাব ৩৩/৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৮১
হাদিস নং ৪৭৮১
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ عَنْ هِلَالِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِيْ عَمْرَةَ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا مِنْ مُؤْمِنٍ إِلَّا وَأَنَا أَوْلَى النَّاسِ بِهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ اقْرَءُوْا إِنْ شِئْتُمْ {النَّبِيُّ أَوْلٰى بِالْمُؤْمِنِيْنَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ} فَأَيُّمَا مُؤْمِنٍ تَرَكَ مَالًا فَلْيَرِثْهُ عَصَبَتُهُ مَنْ كَانُوْا فَإِنْ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضَيَاعًا فَلْيَأْتِنِيْ فَأَنَا مَوْلَاهُ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, দুনিয়া ও আখিরাতে সকল মানুষের চেয়ে মু’মিনের জন্য আমিই ঘনিষ্ঠতম। তোমরা ইচ্ছা করলে এ আয়াত পাঠ করতে পার “নাবী মু’মিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়ে অধিক ঘনিষ্ঠ।” সুতরাং কোন মু’মিন কোন ধন-সম্পদ রেখে গেলে তার নিকটআত্মীয় সে যে-ই হোক, তার উত্তরাধিকারী হবে, আর যদি ঋণ অথবা অসহায় সন্তানাদি রেখে যায় সে যেন আমার কাছে আসে, আমি তার অভিভাবক। [২২৯৮] (আ.প্র. ৪৪১৭, ই.ফা. ৪৪১৯)
৬৫/৩৩/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ তোমরা তাদেরকে ডাক তাদের প্রকৃত পিতৃ পরিচয়ে। (সূরাহ আহযাব ৩৩/৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৮২
হাদিস নং ৪৭৮২
مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ الْمُخْتَارِ حَدَّثَنَا مُوْسَى بْنُ عُقْبَةَ قَالَ حَدَّثَنِيْ سَالِمٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ مَوْلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا كُنَّا نَدْعُوْهُ إِلَّا زَيْدَ بْنَ مُحَمَّدٍ حَتَّى نَزَلَ الْقُرْآنُ {اُدْعُوْهُمْ لِاٰبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللهِ}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আযাদকৃত গোলাম যায়দ ইব্নু হারিসাহ্কে আমরা “যায়দ ইব্নু মুহাম্মদ-ই” ডাকতাম, যে পর্যন্ত না এ আয়াত নাযিল হয়। তোমরা তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক, আল্লাহ্র দৃষ্টিতে এটিই অধিক ন্যায়সঙ্গত। [মুসলিম ৪৪/১০, হাঃ ২৪২৫, আহমাদ ৫৪৮০] (আ.প্র. ৪৪১৮, ই.ফা. ৪৪২০)
৬৫/৩৩/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ মু’মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি। (সূরাহ আহযাব ৩৩/২৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৮৩
হাদিস নং ৪৭৮৩
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ حَدَّثَنِيْ أَبِيْ عَنْ ثُمَامَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ نُرَى هَذِهِ الْآيَةَ نَزَلَتْ فِيْ أَنَسِ بْنِ النَّضْرِ {مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ رِجَالٌ صَدَقُوْا مَا عَاهَدُوا اللهَ عَلَيْهِ}.
বর্ণনাকারী আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এ আয়াত আনাস ইব্নু নায্র সম্পর্কে নাযিল হয়েছে ঃ “মু’মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহ্র সঙ্গে তাদের কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে।” [২৮০৫] (আ.প্র. ৪৪১৯, ই.ফা. ৪৪২১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৮৪
হাদিস নং ৪৭৮৪
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ خَارِجَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ قَالَ لَمَّا نَسَخْنَا الصُّحُفَ فِي الْمَصَاحِفِ فَقَدْتُ آيَةً مِنْ سُوْرَةِ الْأَحْزَابِ كُنْتُ كَثِيْرًا أَسْمَعُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَؤُهَا لَمْ أَجِدْهَا مَعَ أَحَدٍ إِلَّا مَعَ خُزَيْمَةَ الْأَنْصَارِيِّ الَّذِيْ جَعَلَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم شَهَادَتَهُ شَهَادَةَ رَجُلَيْنِ {مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ رِجَالٌ صَدَقُوْا مَا عَاهَدُوا اللهَ عَلَيْهِ}.
বর্ণনাকারী যায়দ ইব্নু সাবিত (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা যখন সহীফা থেকে কুরআন লিপিবদ্ধ করছিলাম তখন সূরাহ আহযাবের একটি আয়াত পেলাম না, যা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তিলাওয়াত করতে শুনেছি। শেষে সেটি খুযায়মা আনসারী ছাড়া অন্য কারও কাছে পেলাম না; যার সাক্ষ্য রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’জন পুরুষ সাক্ষীর সমান গণ্য করেছেন। (আয়াতটি হল) مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللهَ عَلَيْهِ [২৮০৭] (আ.প্র. ৪৪২০, ই.ফা. ৪৪২২)
৬৫/৩৩/৪.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৮৫
হাদিস নং ৪৭৮৫
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
বর্ণনাকারী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কাছে এলেন, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর সহধর্মিণীগণকে দু’টি পন্থার মধ্যে একটি পন্থা বেছে নেয়ার নির্দেশ দিলেন, তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বপ্রথম আমা হতে শুরু করলেন এবং বললেন, আমি তোমার কাছে একটি কথা উল্লেখ করছি। তাড়াহুড়ো না করে তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ করে উত্তর দেবে। তিনি এ কথা ভালভাবেই জানতেন যে, আমার আব্বা-আম্মা তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরামর্শ কখনও দিবেন না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি [রসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] বললেন, আল্লাহ্ বলছেন, “হে নাবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর.....। তখন আমি তাঁকে বললাম, এ ব্যাপারে আমার আব্বা-আম্মা থেকে পরামর্শ নেবার কী আছে? আমি তো আল্লাহ্ তাঁর রসূল এবং আখিরাতের জীবনই কামনা করি। [৪৭৮৬; মুসলিম ১৮/৪, হাঃ ১৪৭৫] (আ.প্র. ৪৪২১, ই.ফা. ৪৪২৩)
[১] খায়বারের যুদ্ধের পর রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ তাদের ভরণ-পোষণে অর্থ বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। এ বিষয়ের প্রতি এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৬৫/৩৩/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৮৬
হাদিস নং ৪৭৮৬
وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِيْ يُوْنُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ أَبُوْ سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ لَمَّا أُمِرَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِتَخْيِيْرِ أَزْوَاجِهِ بَدَأَ بِيْ فَقَالَ إِنِّيْ ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا فَلَا عَلَيْكِ أَنْ لَا تَعْجَلِيْ حَتَّى تَسْتَأْمِرِيْ أَبَوَيْكِ قَالَتْ وَقَدْ عَلِمَ أَنَّ أَبَوَيَّ لَمْ يَكُوْنَا يَأْمُرَانِيْ بِفِرَاقِهِ قَالَتْ ثُمَّ قَالَ إِنَّ اللهَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ قَالَ {وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللهَ وَرَسُوْلَه” وَالدَّارَ الْاٰخِرَةَ فَإِنَّ اللهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنٰتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيْمًا} قَالَتْ فَقُلْتُ فَفِيْ أَيِّ هَذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَيَّ فَإِنِّيْ أُرِيْدُ اللهَ وَرَسُوْلَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ قَالَتْ ثُمَّ فَعَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ مَا فَعَلْتُ تَابَعَهُ مُوْسَى بْنُ أَعْيَنَ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ أَبُوْ سَلَمَةَ وَقَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ وَأَبُوْ سُفْيَانَ الْمَعْمَرِيُّ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ
বর্ণনাকারী লায়স (রহ.)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর সহধর্মিণীদের ব্যাপারে দু’টি পন্থার একটি পন্থা বেছে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হল, তখন তিনি প্রথমে আমাকে বললেন, তোমাকে একটি বিষয় সম্পর্কে বলব। তাড়াহুড়ো না করে তুমি তোমার আব্বা ও আম্মার সঙ্গে পরামর্শ করে নিবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি অবশ্যই জানতেন, আমার আব্বা-আম্মা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা বলবেন না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেনঃ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا إِلَى أَجْرًا عَظِيمًا “হে নাবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর.....মহা প্রতিদান পর্যন্ত। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এ ব্যাপারে আমার আব্বা-আম্মার সঙ্গে পরামর্শের কী আছে? আমি তো আল্লাহ্, তাঁর রসূল এবং আখিরাতের জীবন কামনা করি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন ঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্যান্য সহধর্মিণী আমার মতই জবাব দিলেন। [৪৭৮৫] (আ.প্র. অনুচ্ছেদ. ই.ফা. অনুচ্ছেদ)
৬৫/৩৩/৬.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৮৭
হাদিস নং ৪৭৮৭
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيْمِ حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُوْرٍ عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ حَدَّثَنَا ثَابِتٌ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ هَذِهِ الْآيَةَ {وَتُخْفِيْ فِيْ نَفْسِكَ مَا اللهُ مُبْدِيْهِ} نَزَلَتْ فِيْ شَأْنِ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ وَزَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ.
বর্ণনাকারী আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, এ আয়াতটি, “(তুমি তোমার অন্তরে যা গোপন করছ, আল্লাহ্ তা প্রকাশ করে দিচ্ছেন।)” যায়নাব বিনতে জাহ্শ এবং যায়দ ইব্নু হারিসাহ্ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। [৭৪২০] (আ.প্র. ৪৪২২, ই.ফা. ৪৪২৪)
৬৫/৩৩/৭.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৮৯
হাদিস নং ৪৭৮৯
حِبَّانُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا عَاصِمٌ الْأَحْوَلُ عَنْ مُعَاذَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَسْتَأْذِنُ فِيْ يَوْمِ الْمَرْأَةِ مِنَّا بَعْدَ أَنْ أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ {تُرْجِئُ مَنْ تَشَآءُ مِنْهُنَّ وَتُؤْوِيْٓ إِلَيْكَ مَنْ تَشَآءُ وَمَنِ ابْتَغَيْتَ مِمَّنْ عَزَلْتَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكَ} فَقُلْتُ لَهَا مَا كُنْتِ تَقُوْلِيْنَ قَالَتْ كُنْتُ أَقُوْلُ لَهُ إِنْ كَانَ ذَاكَ إِلَيَّ فَإِنِّيْ لَا أُرِيْدُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنْ أُوْثِرَ عَلَيْكَ أَحَدًا تَابَعَهُ عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ سَمِعَ عَاصِمًا.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্ত্রীদের সঙ্গে অবস্থানের পালার ব্যাপারে আমাদের থেকে অনুমতি চাইতেন এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরও, আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট হতে দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা আপনার নিকট স্থান দিতে পারেন এবং আপনি যাকে দূরে রেখেছেন তাকে কামনা করলে আপনার কোন অপরাধ নেই। এ আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর মু‘আয বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি এর উত্তরে কী বলতেন? তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতাম, এ বিষয়ের অধিকার যদি আমার থেকে থাকে তাহলে হে আল্লাহ্র রসূল! আমি আপনার ব্যাপারে অন্য কাউকে অগ্রাধিকার দিতে চাই না। ‘আব্বাদ বিন আব্বাদ ‘আসেম থেকে এরূপ শুনেছেন। [মুসলিম ১৮/৪, হাঃ ১৪৭৬] (আ.প্র. ৪৪২৪, ই.ফা. ৪৪২৬)
৬৫/৩৩/৮.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৯০
হাদিস নং ৪৭৯০
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ يَدْخُلُ عَلَيْكَ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ فَلَوْ أَمَرْتَ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ بِالْحِجَابِ فَأَنْزَلَ اللهُ آيَةَ الْحِجَابِ.
বর্ণনাকারী ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি বললাম, আপনার কাছে ভাল ও মন্দ লোক আসে। আপনি যদি উম্মাহাতুল মু’মিনীদের ব্যাপারে পর্দার নির্দেশ দিতেন। তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা পর্দার আয়াত অবতীর্ণ করলেন। [৪০২] (আ.প্র. ৪৪২৫, ই.ফা. ৪৪২৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৯১
হাদিস নং ৪৭৯১
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ أَبِيْ يَقُوْلُ حَدَّثَنَا أَبُوْ مِجْلَزٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا تَزَوَّجَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ دَعَا الْقَوْمَ فَطَعِمُوْا ثُمَّ جَلَسُوْا يَتَحَدَّثُوْنَ وَإِذَا هُوَ كَأَنَّهُ يَتَهَيَّأُ لِلْقِيَامِ فَلَمْ يَقُوْمُوْا فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ قَامَ فَلَمَّا قَامَ قَامَ مَنْ قَامَ وَقَعَدَ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيَدْخُلَ فَإِذَا الْقَوْمُ جُلُوْسٌ ثُمَّ إِنَّهُمْ قَامُوْا فَانْطَلَقْتُ فَجِئْتُ فَأَخْبَرْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُمْ قَدْ انْطَلَقُوْا فَجَاءَ حَتَّى دَخَلَ فَذَهَبْتُ أَدْخُلُ فَأَلْقَى الْحِجَابَ بَيْنِيْ وَبَيْنَهُ فَأَنْزَلَ اللهُ {يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَدْخُلُوْا بُيُوْتَ النَّبِيِّ}الْآيَةَ
বর্ণনাকারী আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)
বর্ণিত। তিনি বলেন, যয়নাব বিন্ত জাহশ্কে যখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিয়ে করেন, তখন তিনি লোকদের দাওয়াত করলেন। লোকেরা আহারের পর বসে কথাবার্তা বলতে লাগল। তিনি উঠে যেতে চাচ্ছিলেন, কিন্তু লোকেরা উঠছিল না। এ অবস্থা দেখে তিনি উঠে দাঁড়ালেন। তিনি উঠে যাওয়ার পর যারা উঠবার তারা উঠল। কিন্তু তিন ব্যক্তি বসেই থাকল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘরে প্রবেশের জন্য ফিরে এসে দেখেন, তারা তখনও বসে রয়েছে। অতঃপর তারাও উঠে গেল। আমি গিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাদের চলে যাওয়ার সংবাদ দিলাম। তারপর তিনি এসে প্রবেশ করলেন। এরপরও আমি প্রবেশ করতে চাইলে তিনি আমার ও তার মাঝে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন ঃ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ “হে মু’মিনগণ! তোমরা নাবীর গৃহে প্রবেশ করো না.....শেষ পর্যন্ত। [৪৭৯২, ৪৭৯৩, ৪৭৯৪, ৫১৫৪, ৫১৬৩, ৫১৬৬, ৫১৬৮, ৫১৭০, ৫১৭১, ৫৪৬৬, ৬২৩৮, ৬২৩৯, ৬২৭১, ৭৪২১; মুসলিম ১৬/১৪, হাঃ ১৪২৮, আহমাদ ১৩৪৭৮] (আ.প্র. ৪৪২৬, ই.ফা. ৪৪২৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৯২
হাদিস নং ৪৭৯২
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوْبَ عَنْ أَبِيْ قِلَابَةَ قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَا أَعْلَمُ النَّاسِ بِهَذِهِ الْآيَةِ آيَةِ الْحِجَابِ لَمَّا أُهْدِيَتْ زَيْنَبُ بِنْتُ جَحْشٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ مَعَهُ فِي الْبَيْتِ صَنَعَ طَعَامًا وَدَعَا الْقَوْمَ فَقَعَدُوْا يَتَحَدَّثُوْنَ فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ ثُمَّ يَرْجِعُ وَهُمْ قُعُوْدٌ يَتَحَدَّثُوْنَ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَىيٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَدْخُلُوْا بُيُوْتَ النَّبِيِّ إِلَّآ أَنْ يُّؤْذَنَ لَكُمْ إِلٰى طَعَامٍ غَيْرَ نٰظِرِيْنَ إِنٰهُ} إِلَى قَوْلِهِ {مِنْ وَّرَآءِ حِجَابٍ} فَضُرِبَ الْحِجَابُ وَقَامَ الْقَوْمُ.
বর্ণনাকারী আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি পর্দার আয়াত সম্বন্ধে লোকদের চেয়ে অধিক জানি। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট যাইনাবকে বাসর যাপনের জন্য পাঠানো হয় এবং তিনি তাঁর ঘরে তাঁর সঙ্গে অবস্থান করেন, তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাবার তৈরি করে লোকদের দাওয়াত করলেন। তারা (খাওযার পর) বসে কথাবার্তা বলতে লাগল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাইরে গিয়ে আবার ঘরে ফিরে এলেন, তখনও তারা বসে কথাবার্তা বলছিল। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন, “হে মু’মিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা আহার্য প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা না করে আহারের জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গৃহে প্রবেশ করবে না।”.....পর্দার আড়াল থেকে’ পর্যন্ত। এরপর পর্দার বিধান কার্যকর হল এবং লোকেরা নিস্ক্রান্ত হল। [৪৭৯১] (আ.প্র. ৪৪২৭, ই.ফা. ৪৪২৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৯৩
হাদিস নং ৪৭৯৩
أَبُوْ مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ صُهَيْبٍ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بُنِيَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِزَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ بِخُبْزٍ وَلَحْمٍ فَأُرْسِلْتُ عَلَى الطَّعَامِ دَاعِيًا فَيَجِيْءُ قَوْمٌ فَيَأْكُلُوْنَ وَيَخْرُجُوْنَ ثُمَّ يَجِيْءُ قَوْمٌ فَيَأْكُلُوْنَ وَيَخْرُجُوْنَ فَدَعَوْتُ حَتَّى مَا أَجِدُ أَحَدًا أَدْعُوْ فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللهِ مَا أَجِدُ أَحَدًا أَدْعُوْهُ قَالَ ارْفَعُوْا طَعَامَكُمْ وَبَقِيَ ثَلَاثَةُ رَهْطٍ يَتَحَدَّثُوْنَ فِي الْبَيْتِ فَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَانْطَلَقَ إِلَى حُجْرَةِ عَائِشَةَ فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ وَرَحْمَةُ اللهِ فَقَالَتْ وَعَلَيْكَ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ كَيْفَ وَجَدْتَ أَهْلَكَ بَارَكَ اللهُ لَكَ فَتَقَرَّى حُجَرَ نِسَائِهِ كُلِّهِنَّ يَقُوْلُ لَهُنَّ كَمَا يَقُوْلُ لِعَائِشَةَ وَيَقُلْنَ لَهُ كَمَا قَالَتْ عَائِشَةُ ثُمَّ رَجَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا ثَلَاثَةٌ مِنْ رَهْطٍ فِي الْبَيْتِ يَتَحَدَّثُوْنَ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَدِيْدَ الْحَيَاءِ فَخَرَجَ مُنْطَلِقًا نَحْوَ حُجْرَةِ عَائِشَةَ فَمَا أَدْرِيْ آخْبَرْتُهُ أَوْ أُخْبِرَ أَنَّ الْقَوْمَ خَرَجُوْا فَرَجَعَ حَتَّى إِذَا وَضَعَ رِجْلَهُ فِيْ أُسْكُفَّةِ الْبَابِ دَاخِلَةً وَأُخْرَى خَارِجَةً أَرْخَى السِّتْرَ بَيْنِيْ وَبَيْنَهُ وَأُنْزِلَتْ آيَةُ الْحِجَابِ.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
যায়নাব বিনতে জাহ্শের সাথে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাসর যাপন উপলক্ষে কিছু গোশত ও রুটির ব্যবস্থা করা হল। তারপর খানা খাওয়ানোর জন্য আমাকে লোকদের ডেকে আনতে পাঠালেন। একদল লোক এসে খেয়ে চলে গেল। তারপর আর একদল এসে খেয়ে চলে গেল। এরপর আবার আমি ডাকতে গেলাম, কিন্তু কাউকে আর ডেকে পেলাম না। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আর কাউকে ডেকে পাচ্ছি না। তিনি বললেন, খানা উঠিয়ে নাও। তখন তিন ব্যক্তি ঘরে রয়ে গেল, তারা কথাবার্তা বলছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হয়ে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরের দিকে গেলেন এবং বললেন, আস্সালামু ‘আলায়কুম ইয়া আহলাল বায়ত ওয়া রহমাতুল্লাহ্! ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, ওয়া আলায়কাস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্। আল্লাহ্ আপনাকে বারাকাত দিন, আপনার স্ত্রীকে কেমন পেলেন? এভাবে তিনি পর্যায়ক্রমে সব স্ত্রীর ঘরে গেলেন এবং ‘আয়িশাহ্কে যেমন বলেছিলেন তাদেরও তেমনি বললেন। আর তাঁরা তাঁকে সে জবাবই দিয়েছিলেন, যেমন ‘আয়িশাহ (রাঃ) দিয়েছিলেন। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিরে এসে সে তিন ব্যক্তিকেই ঘরে কথাবার্তা বলতে দেখতে পেলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুব লাজুক ছিলেন। (লজ্জা পেয়ে) আবার ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরের দিকে গেলেন। তখন, আমি স্মরণ করতে পারছি না, অন্য কেউ না আমি তঁ াকে লোকদের বের হয়ে যাওয়ার খবর দিলাম। তিনি ফিরে এসে দরজার চৌকাঠের ভিতরে এক পা ও বাইরে এক পা রেখে আমার ও তাঁর মধ্যে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন এবং আল্লাহ্ তা‘আলা পর্দার আয়াত অবতীর্ণ করলেন। [৪৭৯১] (আ.প্র. ৪৪২৮, ই.ফা. ৪৪৩০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৯৪
হাদিস নং ৪৭৯৪
إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُوْرٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَوْلَمَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حِيْنَ بَنَى بِزَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ فَأَشْبَعَ النَّاسَ خُبْزًا وَلَحْمًا ثُمَّ خَرَجَ إِلَى حُجَرِ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ كَمَا كَانَ يَصْنَعُ صَبِيْحَةَ بِنَائِهِ فَيُسَلِّمُ عَلَيْهِنَّ وَيُسَلِّمْنَ عَلَيْهِ وَيَدْعُوْ لَهُنَّ وَيَدْعُوْنَ لَهُ فَلَمَّا رَجَعَ إِلَى بَيْتِهِ رَأَى رَجُلَيْنِ جَرَى بِهِمَا الْحَدِيْثُ فَلَمَّا رَآهُمَا رَجَعَ عَنْ بَيْتِهِ فَلَمَّا رَأَى الرَّجُلَانِ نَبِيَّ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَجَعَ عَنْ بَيْتِهِ وَثَبَا مُسْرِعَيْنِ فَمَا أَدْرِيْ أَنَا أَخْبَرْتُهُ بِخُرُوْجِهِمَا أَمْ أُخْبِرَ فَرَجَعَ حَتَّى دَخَلَ الْبَيْتَ وَأَرْخَى السِّتْرَ بَيْنِيْ وَبَيْنَهُ وَأُنْزِلَتْ آيَةُ الْحِجَابِ وَقَالَ ابْنُ أَبِيْ مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى حَدَّثَنِيْ حُمَيْدٌ سَمِعَ أَنَسًا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
বর্ণনাকারী আনাস্ (রাঃ)
যয়নাব বিন্ত জাহ্শের সঙ্গে বাসর উদ্যাপনের সময় রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওয়ালীমা করলেন। লোকদের তিনি গোশ্ত-রুটি তৃপ্তি সহকারে খাওয়ালেন। তারপর তিনি উম্মুল মু’মিনীনদের কক্ষে যাওয়ার জন্য বের হলেন। যেমন বাসর রাত্রির ভোরে তার অভ্যাস ছিল যে, তিনি তাঁদের সালাম দিতেন ও তাঁদের জন্য দু‘আ করতেন এবং তাঁরাও তাঁকে সালাম করতেন, তাঁর জন্য দু‘আ করতেন। তারপর ঘরে ফিরে এসে দু’ব্যক্তিকে কথাবার্তায় রত দেখতে পেলেন। তাদের দেখে তিনি ঘর থেকে ফিরে চলে গেলেন। সে দু’জন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ঘর থেকে ফিরে যেতে দেখে জলদি বের হয়ে গেল। এরপরে, আমার মনে নেই যে আমি তাঁকে তাদের বের হয়ে যাওয়ার খবর দিলাম, না অন্য কেউ দিল। তখন তিনি ফিরে এসে ঘরে প্রবেশ করলেন এবং আমার ও তাঁর মধ্যে পর্দা লটকিয়ে দিলেন এবং পর্দার আয়াত নাযিল হল। [৪৭৯১] (আ.প্র. ৪৪২৯, ই.ফা. ৪৪৩১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৯৫
হাদিস নং ৪৭৯৫
زَكَرِيَّاءُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا أَبُوْ أُسَامَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ خَرَجَتْ سَوْدَةُ بَعْدَمَا ضُرِبَ الْحِجَابُ لِحَاجَتِهَا وَكَانَتْ امْرَأَةً جَسِيْمَةً لَا تَخْفَى عَلَى مَنْ يَعْرِفُهَا فَرَآهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقَالَ يَا سَوْدَةُ أَمَا وَاللهِ مَا تَخْفَيْنَ عَلَيْنَا فَانْظُرِيْ كَيْفَ تَخْرُجِيْنَ قَالَتْ فَانْكَفَأَتْ رَاجِعَةً وَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيْ بَيْتِيْ وَإِنَّهُ لَيَتَعَشَّى وَفِيْ يَدِهِ عَرْقٌ فَدَخَلَتْ فَقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّيْ خَرَجْتُ لِبَعْضِ حَاجَتِيْ فَقَالَ لِيْ عُمَرُ كَذَا وَكَذَا قَالَتْ فَأَوْحَى اللهُ إِلَيْهِ ثُمَّ رُفِعَ عَنْهُ وَإِنَّ الْعَرْقَ فِيْ يَدِهِ مَا وَضَعَهُ فَقَالَ إِنَّهُ قَدْ أُذِنَ لَكُنَّ أَنْ تَخْرُجْنَ لِحَاجَتِكُنَّ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পর সাওদাহ প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেলেন। সাওদাহ এমন স্থূল শরীরের অধিকারিণী ছিলেন যে, পরিচিত লোকদের থেকে তিনি নিজেকে গোপন রাখতে পারতেন না। ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) তাঁকে দেখে বললেন, হে সাওদাহ! জেনে রাখ, আল্লাহ্র কসম! আমাদের নযর থেকে গোপন থাকতে পারবে না। এখন দেখ তো, কীভাবে বাইরে যাবে? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, সাওদাহ (রাঃ) ফিরে আসলেন। আর এ সময় রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার ঘরে রাতের খানা খাচ্ছিলেন। তাঁর হাতে ছিল টুকরা হাড়। সাওদাহ (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করে বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলাম। তখন ‘উমার (রাঃ) আমাকে এমন এমন কথা বলেছে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এ সময় আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নিকট ওয়াহী অবতীর্ণ করেন। ওয়াহী অবতীর্ণ হওয়া শেষ হল, হাড় টুকরা তখনও তাঁর হাতেই ছিল, তিনি তা রেখে দেননি। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, অবশ্য দরকার হলে তোমাদেরকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। [১৪৬; মুসলিম ৩৯/৭, হাঃ ২১৭০, আহমাদ ২৪৩৪৪] (আ.প্র. ৪৪৩০, ই.ফা. ৪৪৩২)
৬৫/৩৩/৯.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৯৬
হাদিস নং ৪৭৯৬
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ اسْتَأْذَنَ عَلَيَّ أَفْلَحُ أَخُوْ أَبِي الْقُعَيْسِ بَعْدَمَا أُنْزِلَ الْحِجَابُ فَقُلْتُ لَا آذَنُ لَهُ حَتَّى أَسْتَأْذِنَ فِيْهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ أَخَاهُ أَبَا الْقُعَيْسِ لَيْسَ هُوَ أَرْضَعَنِيْ وَلَكِنْ أَرْضَعَتْنِي امْرَأَةُ أَبِي الْقُعَيْسِ فَدَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لَهُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ أَفْلَحَ أَخَا أَبِي الْقُعَيْسِ اسْتَأْذَنَ فَأَبَيْتُ أَنْ آذَنَ لَهُ حَتَّى أَسْتَأْذِنَكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَمَا مَنَعَكِ أَنْ تَأْذَنِيْ عَمُّكِ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ الرَّجُلَ لَيْسَ هُوَ أَرْضَعَنِيْ وَلَكِنْ أَرْضَعَتْنِي امْرَأَةُ أَبِي الْقُعَيْسِ فَقَالَ ائْذَنِيْ لَهُ فَإِنَّهُ عَمُّكِ تَرِبَتْ يَمِيْنُكِ قَالَ عُرْوَةُ فَلِذَلِكَ كَانَتْ عَائِشَةُ تَقُوْلُ حَرِّمُوْا مِنْ الرَّضَاعَةِ مَا تُحَرِّمُوْنَ مِنْ النَّسَبِ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর, আবুল কু’আয়স এর ভাই-আফ্লাহ আমার কাছে প্রবেশ করার অনুমতি চায়। আমি বললাম, এ ব্যাপারে যতক্ষণ রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুমতি না দিবেন, ততক্ষণ আমি অনুমতি দিতে পারি না। কেননা তার ভাই আবূ কু‘আয়স নিজে আমাকে দুধ পান করাননি। কিন্তু আবুল কু’আয়সের স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে আসলেন। আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আবুল কু’আয়সের ভাই-আফরাহ্ আমার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চাইছিল। আমি এ বলে অস্বীকার করেছি যে, যতক্ষণ আপনি এ ব্যাপারে অনুমতি না দিবেন, ততক্ষণ আমি অনুমতি দিব না। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার চাচাকে (দেখা করার) অনুমতি দিতে কিসে বাধা দিয়েছে? আমি বললাম, সে ব্যক্তি তো আমাকে দুধ পান করাননি; কিন্তু আবুল কু’আয়াসের স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছে। এরপর তিনি [রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] বললেন, তোমার হাত ধুলায় ধূসরিত হোক, তাকে অনুমতি দাও, কেননা, সে তোমার চাচা। ‘উরওয়াহ বলেন, এ কারণে ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলতেন বংশ সম্বন্ধের কারণে যাকে তোমরা হারাম জান, দুগ্ধ-পানের কারণেও তাকে হারাম জানবে। [২৬৪৪; মুসলিম ১৭/২, হাঃ ১৪৪৫, আহমাদ ২৪১০৯] (আ.প্র. ৪৪৩১, ই.ফা. ৪৪৩৩)
৬৫/৩৩/১০.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৯৭
হাদিস নং ৪৭৯৭
سَعِيْدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ ابْنِ أَبِيْ لَيْلَى عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قِيْلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَمَّا السَّلَامُ عَلَيْكَ فَقَدْ عَرَفْنَاهُ فَكَيْفَ الصَّلَاةُ عَلَيْكَ قَالَ قُوْلُوا اللهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ اللهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ.
বর্ণনাকারী কা‘ব ইব্নু উজরাহ (রাঃ)
বলা হল, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনার উপর সালাম (সম্পর্কে) আমরা অবগত হয়েছি; কিন্তু সলাত কীভাবে? তিনি বললেন, তোমরা বলবে, “হে আল্লাহ্! তুমি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের উপর রহমাত নাযিল কর, যেমনিভাবে ইব্রাহীম-এর পরিবারবর্গের উপর তুমি রহমাত নাযিল করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত, মর্যাদাবান। হে আল্লাহ্! তুমি মুহাম্মদ-এর উপর এবং মুহাম্মাদ-এর পরিবারবর্গের প্রতি বারাকাত নাযিল কর। যেমনিভাবে তুমি বারাকাত নাযিল করেছ ইব্রাহীমের পরিবারবর্গের প্রতি। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত, মর্যাদাবান। [৩৩৭০] (আ.প্র. ৪৪৩২, ই.ফা. ৪৪৩৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৯৮
হাদিস নং ৪৭৯৮
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ الْهَادِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ خَبَّابٍ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قُلْنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ هَذَا التَّسْلِيْمُ فَكَيْفَ نُصَلِّيْ عَلَيْكَ قَالَ قُوْلُوا اللهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ قَالَ أَبُوْ صَالِحٍ عَنْ اللَّيْثِ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِيْ حَازِمٍ وَالدَّرَاوَرْدِيُّ عَنْ يَزِيْدَ وَقَالَ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَآلِ إِبْرَاهِيْمَ
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা বললাম, এ তো হল সালাম পাঠ; কিন্তু কেমন করে আমরা আপনার প্রতি দরূদ পড়ব? তিনি বললেন, তোমরা বলবে, “হে আল্লাহ্! আপনার বান্দা ও আপনার রসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি রাহমাত নাযিল করুন, যেভাবে রহমাত নাযিল করেছেন ইব্রাহীমের পরিবারবর্গের প্রতি এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি ও মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের প্রতি বারকাত নাযিল করুন, যেভাবে বারকাত অবতীর্ণ করেছেন ইব্রাহীম (‘আ.)-এর প্রতি। তবে বর্ণনাকারী আবূ সালিহ লায়স থেকে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ও তার পরিবারবর্গের প্রতি বারাকাত নাযিল করুন যেমন আপনি বারকাত নাযিল করেছেন ইব্রাহীমের পরিবারবর্গের প্রতি। (আ.প্র. ৪৪৩৩, ই.ফা. ৪৪৩৫)ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি (এমনিভাবে) বলেন, যেমনভাবে ইব্রাহীম (‘আ.)-এর উপর রহমাত অবতীর্ণ করেছেন। আর বারাকাত অবতীর্ণ করুন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি এবং মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের প্রতি, যেভাবে বারাকাত নাযিল করেছেন ইব্রাহীম (‘আ.)-এর প্রতি এবং ইব্রাহীমের পরিবারের প্রতি। [৬৩৫৮] (আ.প্র. ৪৪৩৪)
৬৫/৩৩/১১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা মূসা (আঃ)-কে কষ্ট দিয়েছে। (সুরাহ আহযাব ৩৩/৬৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৭৯৯
হাদিস নং ৪৭৯৯
إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ أَخْبَرَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ حَدَّثَنَا عَوْفٌ عَنِ الْحَسَنِ وَمُحَمَّدٍ وَخِلَاسٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ مُوْسَى كَانَ رَجُلًا حَيِيًّا وَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى {يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِيْنَ اٰذَوْا مُوْسٰى} فَبَرَّأَهُ اللهُ مِمَّا قَالُوْا {وَكَانَ عِنْدَ اللهِ وَجِيْهًا}.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মূসা (‘আ.) ছিলেন খুব লজ্জাশীল”। আর এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ্র এ বাণী, হে মু’মিনগণ! তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা মূসা (‘আ.)-কে কষ্ট দিয়েছে। তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁকে ওদের অভিযোগ থেকে পবিত্র করেছেন। আর তিনি ছিলেন আল্লাহ্র কাছে অতি সম্মানিত। [২৭৮[ (আ.প্র. ৪৪৩৫, ই.ফা. ৪৪৩৬)
৬৫/৩৪/১.অধ্যায়ঃ
অধ্যায়: আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ এমনকি, যখন তাদের অন্তর থেকে ভয় দূর হবে তখন তারা একে অন্যকে বলবে- তোমাদের রব কী বললেন? তারা বলবে, সত্য বলেছেন। তিনিই সমুন্নত, সুমহান। (সূরাহ সাবা ৩৪/২৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮০০
হাদিস নং ৪৮০০
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَمْرٌو قَالَ سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ يَقُوْلُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُوْلُ إِنَّ نَبِيَّ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا قَضَى اللهُ الْأَمْرَ فِي السَّمَاءِ ضَرَبَتْ الْمَلَائِكَةُ بِأَجْنِحَتِهَا خُضْعَانًا لِقَوْلِهِ كَأَنَّهُ سِلْسِلَةٌ عَلَى صَفْوَانٍ {إِذَا فُزِّعَ عَنْ قُلُوْبِهِمْ قَالُوْا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ} قَالُوْا لِلَّذِيْ قَالَ الْحَقَّ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيْرُ فَيَسْمَعُهَا مُسْتَرِقُ السَّمْعِ وَمُسْتَرِقُ السَّمْعِ هَكَذَا بَعْضُهُ فَوْقَ بَعْضٍ وَوَصَفَ سُفْيَانُ بِكَفِّهِ فَحَرَفَهَا وَبَدَّدَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ فَيَسْمَعُ الْكَلِمَةَ فَيُلْقِيْهَا إِلَى مَنْ تَحْتَهُ ثُمَّ يُلْقِيْهَا الآخَرُ إِلَى مَنْ تَحْتَهُ حَتَّى يُلْقِيَهَا عَلَى لِسَانِ السَّاحِرِ أَوِ الْكَاهِنِ فَرُبَّمَا أَدْرَكَ الشِّهَابُ قَبْلَ أَنْ يُلْقِيَهَا وَرُبَّمَا أَلْقَاهَا قَبْلَ أَنْ يُدْرِكَهُ فَيَكْذِبُ مَعَهَا مِائَةَ كَذْبَةٍ فَيُقَالُ أَلَيْسَ قَدْ قَالَ لَنَا يَوْمَ كَذَا وَكَذَا كَذَا وَكَذَا فَيُصَدَّقُ بِتِلْكَ الْكَلِمَةِ الَّتِيْ سَمِعَ مِنْ السَّمَاءِ.
বর্ণনাকারী ‘ইকরিমাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা যখন আকাশে কোন ফায়সালা করেন তখন মালায়িকাহ আল্লাহ্র নির্দেশের প্রতি অতি নম্রভাবে তাদের ডানা ঝাড়তে থাকে; যেন মসৃণ পাথরের উপর শিকলের আওয়াজ। যখন তাদের মনের ভয়-ভীতি দূর হয় তারা (একে অপরকে) জিজ্ঞেস করে, তোমাদের প্রতিপালক কী বলেছেন? তারা বলেন, তিনি যা বলেছেন, সত্যই বলেছেন। তিনি মহান উচ্চ। যে সময়ে লুকোচুরিকারী (শায়ত্বন) তা শোনে, আর লুকোচুরিকারী এরূপ একের ওপর এক। সুফ্ইয়ান তাঁর হাত উপরে উঠিয়ে আঙ্গুলগুলো ফাঁক করে দেখান। তারপর শয়তান কথাগুলো শুনে নেয় এবং প্রথমজন তার নিচের জনকে এবং সে তার নিচের জনকে জানিয়ে দেয়। এমনিভাবে এ খবর দুনিয়ার জাদুকর ও জ্যোতিষের কাছে পৌঁছে দেয়। কোন কোন সময় কথা পৌঁছানোর আগে তার উপর অগ্নিশিখা নিক্ষিপ্ত হয় আবার অগ্নিশিখা নিক্ষিপ্ত হওয়ার আগে সে কথা পৌঁছিয়ে দেয় এবং এর সাথে শত মিথ্যা মিশিয়ে বলে। এরপর লোকেরা বলাবলি করে সে কি অমুক দিন অমুক অমুক কথা আমাদের বলেনি? এবং সেই কথা যা আসমান থেকে শুনে এসেছে তার জন্য সব কথা সত্য বলে মনে করে। [৪৭০১] (আ.প্র. ৪৪৩৬, ই.ফা. ৪৪৩৭)
৬৫/৩৪/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ সে তো পরবর্তী কঠিন আযাব সম্পর্কে তোমাদের একজন সতর্ককারী মাত্র। (সূরাহ সাবা ৩৪/৪৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮০১
হাদিস নং ৪৮০১
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ صَعِدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الصَّفَا ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ يَا صَبَاحَاهْ فَاجْتَمَعَتْ إِلَيْهِ قُرَيْشٌ قَالُوْا مَا لَكَ قَالَ أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّ الْعَدُوَّ يُصَبِّحُكُمْ أَوْ يُمَسِّيْكُمْ أَمَا كُنْتُمْ تُصَدِّقُوْنِيْ قَالُوْا بَلَى قَالَ فَإِنِّيْ {نَذِيْرٌ لَّكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيْدٍ} فَقَالَ أَبُوْ لَهَبٍ تَبًّا لَكَ أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا فَأَنْزَلَ اللهُ {تَبَّتْ يَدَآ أَبِيْ لَهَبٍ}.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে ‘ইয়া সাবাহাহ’ বলে সবাইকে ডাক দিলেন। কুরাইশগণ তাঁর কাছে জমায়েত হয়ে বলল, তোমার ব্যাপার কী? তিনি বললেন, তোমরা বল তো, আমি যদি তোমাদের বলি যে, শত্র“বাহিনী সকাল বা সন্ধ্যায় তোমাদের উপর আক্রমণ করতে প্রস্তুত, তবে কি তোমরা আমার এ কথা বিশ্বাস করবে? তারা বলল, নিশ্চয়ই। তিনি বললেন, আমি তোমাদের জন্য এক আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করছি। এ কথা শুনে আবূ লাহাব বলল, তোমার ধ্বংস হোক। এই জন্যই কি আমাদেরকে জমায়েত করেছিলে? তখন আল্লাহ্ নাযিল করেন ঃ تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ “আবূ লাহাবের হাত দু’টো ধ্বংস হোক।” [১৩৯৪] (আ.প্র. ৪৪৩৭, ই.ফা. ৪৪৩৮)
৬৫/৩৬/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আর সূর্য নিজ গন্তব্য স্থানের দিকে চলতে থাকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। (সূরাহ ইয়াসীন ৩৬/৩৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮০২
হাদিস নং ৪৮০২
أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ أَبِيْ ذَرٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ عِنْدَ غُرُوْبِ الشَّمْسِ فَقَالَ يَا أَبَا ذَرٍّ أَتَدْرِيْ أَيْنَ تَغْرُبُ الشَّمْسُ قُلْتُ اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّهَا تَذْهَبُ حَتَّى تَسْجُدَ تَحْتَ الْعَرْشِ فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى{وَالشَّمْسُ تَجْرِيْ لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ذٰلِكَ تَقْدِيْرُ الْعَزِيْزِ الْعَلِيْمِ}.
বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ)
তিনি বলেন, একদা সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে মাসজিদে ছিলাম। তিনি বললেন, হে আবূ যার! তুমি কি জান সূর্য কোথায় ডুবে? আমি বললাম, আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূল সবচেয়ে ভাল জানেন। তিনি বললেন, সূর্য চলে, অবশেষে আরশের নিচে গিয়ে সাজদাহ করে। নিুবর্ণিত وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ এ আয়াতের কথাই বর্ণনা করা হয়েছে, অর্থাৎ সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের পানে, এ হল পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। [৩১৯৯] (আ.প্র. ৪৪৩৮, ই.ফা. ৪৪৩৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮০৩
হাদিস নং ৪৮০৩
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا وَكِيْعٌ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ أَبِيْ ذَرٍّ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى {وَالشَّمْسُ تَجْرِيْ لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا} قَالَ مُسْتَقَرُّهَا تَحْتَ الْعَرْشِ.
বর্ণনাকারী আবূ যার গিফারী (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আল্লাহ্র বাণী ঃ وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেছেন, সূর্যের গন্তব্যস্থল আরশের নিচে। [৩১৯৯] (আ.প্র. ৪৪৩৯, ই.ফা. ৪৪৪০)
৬৫/৩৭/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ইউনুস ছিল রসূলদের অন্তর্গত। (সূরাহ সাফ্ফাত ৩৭/১৩৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮০৪
হাদিস নং ৪৮০৪
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِيْ وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا يَنْبَغِيْ لِأَحَدٍ أَنْ يَكُوْنَ خَيْرًا مِنْ يُوْنُسَ بْنِ مَتَّى
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ (ইউনুস) ইব্নু মাত্তার চেয়ে উত্তম বলে মনে করা কারো জন্য শোভনীয় নয়। [৩৪১২] (আ.প্র. ৪৪৪০, ই.ফা. ৪৪৪১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮০৫
হাদিস নং ৪৮০৫
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ أَبِيْ عَنْ هِلَالِ بْنِ عَلِيٍّ مِنْ بَنِيْ عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُوْنُسَ بْنِ مَتَّى فَقَدْ كَذَبَ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে বলল, আমি ইউনুস ইব্নু মাত্তার চেয়ে উত্তম, সে মিথ্যা বলল। [৩৪১৫] (আ.প্র. ৪৪৪১, ই.ফা. ৪৪৪২)
৬৫/৩৮/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮০৬
হাদিস নং ৪৮০৬
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْعَوَّامِ قَالَ سَأَلْتُ مُجَاهِدًا عَنْ السَّجْدَةِ فِيْ ص قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقَالَ {أُوْلَئِكَ الَّذِيْنَ هَدَى اللهُ فَبِهُدَاهُمْ اقْتَدِهْ} وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَسْجُدُ فِيْهَا.
বর্ণনাকারী ‘আও্ওয়াম (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি মুজাহিদকে সূরাহ সাদ-এর সাজদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, (এ বিষয়ে) ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি পাঠ করলেন, أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللهُ فَبِهُدَاهُمْ اقْتَدِهْ ‘তাদেরকেই আল্লাহ্ সৎপথে পরিচালিত করেছেন, সুতরাং তাঁদের পথের অনুসরণ কর। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) এতে সাজদাহ্ করতেন।” [৩৪২১] (আ.প্র. ৪৪৪২, ই.ফা. ৪৪৪৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮০৭
হাদিস নং ৪৮০৭
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيُّ عَنِ الْعَوَّامِ قَالَ سَأَلْتُ مُجَاهِدًا عَنْ سَجْدَةٍ فِيْ ص فَقَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ مِنْ أَيْنَ سَجَدْتَ فَقَالَ أَوَ مَا تَقْرَأُ {وَمِنْ ذُرِّيَّتِهٰ دَاو”دَ وَسُلَيْمَانَ أُولٰٓئِكَ الَّذِيْنَ هَدَى اللهُ فَبِهُدَاهُمْ اقْتَدِهْ} فَكَانَ دَاوُدُ مِمَّنْ أُمِرَ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَقْتَدِيَ بِهِ فَسَجَدَهَا دَاوُدُ عَلَيْهِ السَّلَام فَسَجَدَهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم{عُجَابٌ} عَجِيْبٌ {الْقِطُّ}الصَّحِيْفَةُ هُوَ هَا هُنَا صَحِيْفَةُ الْحِسَابِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ {فِيْ عِزَّةٍ} مُعَازِّيْنَ {الْمِلَّةِالْاٰخِرَةِ} مِلَّةُ قُرَيْشٍ الاخْتِلَاقُ : الْكَذِبُ {الْأَسْبَابُ} طُرُقُ السَّمَاءِ فِيْ أَبْوَابِهَا قَوْلُهُ {جُنْدٌمَاهُنَالِكَمَهْزُوْمٌ} يَعْنِيْ قُرَيْشًا {أُولٰٓ ئِكَ الْأَحْزَابُ} الْقُرُوْنُ الْمَاضِيَةُ {فَوَاقٍ} رُجُوْعٍ {قِطَّنَا}عَذَابَنَا {اتَّخَذْنَاهُمْ سُخْرِيًّا} أَحَطْنَا بِهِمْ {أَتْرَابٌ} أَمْثَالٌ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْأَيْدُ الْقُوَّةُ فِي الْعِبَادَةِ {الْأَبْصَارُ} الْبَصَرُ فِيْ أَمْرِ اللهِ {حُبَّ الْخَيْرِ عَنْ ذِكْرِ رَبِّي} مِنْ ذِكْرِ {طَفِقَ مَسْحًا} يَمْسَحُ أَعْرَافَ الْخَيْلِ وَعَرَاقِيْبَهَا {الأَصْفَادِ} الْوَثَاقِ.
বর্ণনাকারী ‘আও্ওয়াম (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি মুজাহিদকে সূরাহ সাদ-এর সাজদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, (এ সূরায়) সাজদা কোত্থেকে? তিনি বললেন, তুমি কি কুরআনের এ আয়াত পড়নি। وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ دَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللهُ فَبِهُدَاهُمْ اقْتَدِهْ “আর তার বংশধর দাউদ ও সুলায়মান- তাদেরই আল্লাহ্ সৎপথে পরিচালিত করেছেন, সুতরাং তাঁদের পথের অনুসরণ কর। দাঊদ তাঁদের একজন, তোমাদের নাবীকে যাদের অনুসরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই নাবী এ সূরায় সাজ্দাহ করেছেন।عُجَابٌ অত্যাশ্চর্য। الْقِطُّ লিপি। এখানে صَحِيفَةُ দ্বারা নেক লিপি বোঝানো হয়েছে। মুজাহিদ বলেছেন, فِي عِزَّةٍ ঔদ্ধত্য। الْمِلَّةِ الْآخِرَةِ কুরাইশদের ধর্ম। الاخْتِلاَقُ মিথ্যা। الأَسْبَابُ আকাশের পথসমূহ جُنْدٌ مَا هُنَالِكَ مَهْزُومٌ এ বাহিনীও সে ক্ষেত্রে অবশ্যই পরাজিত হবে অর্থাৎ কুরাইশ সম্প্রদায়। أُولَئِكَ الأَحْزَابُ অতীতকাল। فَوَاقٍ প্রত্যাবর্তন। قِطَّنَا আমাদের শাস্তি। اتَّخَذْنَاهُمْ سُخْرِيًّا আমি তাদের বেষ্টন করে রেখেছি। أَتْرَابٌ সমবয়স্কা। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘ইবাদাতে শক্তিশালী ব্যক্তি। الأَبْصَارُ আল্লাহ্র কাছে সূক্ষ্মদর্শী ব্যক্তি। حُبَّ الْخَيْرِ عَنْ ذِكْرِ رَبِّي আল্লাহ্র স্মরণ থেকে। طَفِقَ مَسْحًا তিনি ঘোড়াগুলোর পা ও গলায় হাত বুলাতে লাগলেন। الأَصْفَادِ শৃংখল (বাঁধন)। [৩৪২১] (আ.প্র. ৪৪৪৩, ই.ফা. ৪৪৪৪)
৬৫/৩৮/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন রাজ্য দান করুন, যা আমি ব্যতীত আর কারও ভাগ্যে যেন না জোটে। নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা। (সূরাহ স-দ ৩৮/৩৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮০৮
হাদিস নং ৪৮০৮
إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا رَوْحٌ وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ عِفْرِيْتًا مِنَ الْجِنِّ تَفَلَّتَ عَلَيَّ الْبَارِحَةَ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا لِيَقْطَعَ عَلَيَّ الصَّلَاةَ فَأَمْكَنَنِي اللهُ مِنْهُ وَأَرَدْتُ أَنْ أَرْبِطَهُ إِلَى سَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ حَتَّى تُصْبِحُوْا وَتَنْظُرُوْا إِلَيْهِ كُلُّكُمْ فَذَكَرْتُ قَوْلَ أَخِيْ سُلَيْمَانَ {رَبِّ هَبْ لِيْ مُلْكًا لَّا يَنْبَغِيْ لِأَحَدٍ مِّنْمبَعْدِي} قَالَ رَوْحٌ فَرَدَّهُ خَاسِئًا.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, গতরাতে অবাধ্য জিনের একটি দৈত্য আমার কাছে এসেছিল অথবা এ ধরনের কিছু কথা তিনি বললেন, আমার সলাত নষ্ট করার উদ্দেশে। তখন আল্লাহ্ আমাকে তার উপর আধিপত্য দিলেন। আমি ইচ্ছা করলাম, মসজিদের খুঁটিগুলোর একটির সঙ্গে ওকে বেঁধে রাখতে, যাতে ভোরে তোমরা সকলে ওটা দেখতে পাও। তখন আমার ভাই সুলায়মান (‘আ.)-এর দু‘আ স্মরণ হল, رَبِّ هَبْ لِي مُلْكًا لاَ يَنْبَغِي لِأَحَدٍ مِنْ بَعْدِي “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দান কর এমন এক রাজ্য যার অধিকারী আমি ব্যতীত আর কেউ না হয়।” রাবী রাওহ্ বলেন, এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেন। [৪৬১] (আ.প্র. ৪৪৪৪, ই.ফা. ৪৪৪৫)
৬৫/৩৮/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আমি নকল লৌকিকতাকারীও নই। (সূরাহ সোয়াদ ৩৮/৮৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮০৯
হাদিস নং ৪৮০৯
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ عَلِمَ شَيْئًا فَلْيَقُلْ بِهِ وَمَنْ لَمْ يَعْلَمْ فَلْيَقُلْ اللهُ أَعْلَمُ فَإِنَّ مِنَ الْعِلْمِ أَنْ يَقُوْلَ لِمَا لَا يَعْلَمُ اللهُ أَعْلَمُ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لِنَبِيِّهِ {قُلْ مَآ أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَّمَآ أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِيْنَ} وَسَأُحَدِّثُكُمْ عَنْ الدُّخَانِ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم دَعَا قُرَيْشًا إِلَى الإِسْلَامِ فَأَبْطَئُوْا عَلَيْهِ فَقَالَ اللهُمَّ أَعِنِّيْ عَلَيْهِمْ بِسَبْعٍ كَسَبْعِ يُوْسُفَ فَأَخَذَتْهُمْ سَنَةٌ فَحَصَّتْ كُلَّ شَيْءٍ حَتَّى أَكَلُوا الْمَيْتَةَ وَالْجُلُوْدَ حَتَّى جَعَلَ الرَّجُلُ يَرَى بَيْنَهُ وَبَيْنَ السَّمَاءِ دُخَانًا مِنَ الْجُوْعِ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ {فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ لا - يَّغْشَى النَّاسَ ط هٰذَا عَذَابٌ أَلِيْمٌ (11)} قَالَ فَدَعَوْا {رَبَّنَا اكْشِفْ عَنَّا الْعَذَابَ إِنَّا مُؤْمِنُوْنَ - أَنّٰى لَهُمُ الذِّكْرٰى وَقَدْ جَآءَهُمْ رَسُوْلٌ مُّبِيْنٌ لا - ثُمَّ تَوَلَّوْا عَنْهُ وَقَالُوْا مُعَلَّمٌ مَّجْنُوْنٌ ﻣ- إِنَّا كَاشِفُوا الْعَذَابِ قَلِيْلًا إِنَّكُمْ عَآئِدُوْنَ ﻣ} أَفَيُكْشَفُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ فَكُشِفَ ثُمَّ عَادُوْا فِيْ كُفْرِهِمْ فَأَخَذَهُمْ اللهُ يَوْمَ بَدْرٍ قَالَ اللهُ تَعَالَى {يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرٰى ج إِنَّا مُنْتَقِمُوْنَ}.
বর্ণনাকারী মাসরূক (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাসঊদ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, হে লোকসকল! যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে অবগত সে তা বর্ণনা করবে। আর যে না জানে, তার বলা উচিত, আল্লাহ্ই ভাল জানেন। কেননা অজানা বিষয় সম্বন্ধে আল্লাহ্ই ভাল জানেন, এ কথা বলাও জ্ঞানের নিদর্শন। আল্লাহ্ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছেন, ‘বল, এর (কুরআন বা তাওহীদ প্রচারের) জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না এবং আমি বানোয়াটকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।” (কুরআনে উল্লেখিত) ধূম্র সম্পর্কে শীঘ্র আমি তোমাদের বলব। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরাইশদেরকে ইসলামের প্রতি দাওয়াত দিলে তারা (সাড়া দিতে) বিলম্ব করল। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্! ইউসুফ (‘আ.)-এর জীনবকালের দুর্ভিক্ষের সাত বছরের মত দুর্ভিক্ষ দ্বারা তুমি আমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য কর। এরপর দুর্ভিক্ষ তাদেরকে ঘিরে ফেলল। শেষ হয়ে গেল সমস্ত কিছু। অবশেষে তারা মৃত জন্তু ও চামড়া খেতে লাগল। তখন তাদের কেউ আকাশের দিকে তাকালে ক্ষুধার জ্বালায় চোখে আকাশ ও তার মধ্যে ধূম্র দেখত। আল্লাহ্ বললেন, “অতএব তুমি সেদিনের অপেক্ষা কর, যেদিন ধূম্র হবে আকাশে, এবং তা ঘিরে ফেলবে সকল মানুষ। এ তো মর্মন্তুদ শাস্তি।” রাবী বলেন, তারপর তারা দু‘আ করল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এ আযাব থেকে নাজাত দাও, আমরা ঈমান আনব। তারা কীভাবে নাসীহাত মানবে? তাদের কাছে তো এসেছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাদাতা এক রসূল। তারপর তারা মুখ ঘুরিয়ে নিল তাঁর থেকে এবং বলল, সে তো শিখানো কথা বলে, সে তো এক উন্মাদ। আমি তোমাদের শাস্তি কিছুকালের জন্য রহিত করছি। তোমরা তো অবশ্য তোমাদের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। (ইব্নু মাসউদ বলেন), ক্বিয়ামাতের দিনও কি তাদের থেকে ‘আযাব রহিত করা হবে? তিনি (ইব্নু মাসউদ) বলেন, ‘আযাব সরানো হলে তারা পুনরায় কুফ্রীর দিকে ফিরে গেল। তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা বদর যুদ্ধের দিন তাদের পাকড়াও করলেন। আল্লাহ্ বলেন, যেদিন আমি তোমাদের কঠিনভাবে ধরব, সেদিন আমি তোমাদের শাস্তি দেবই। [১০০৭] (আ.প্র. ৪৪৪৫, ই.ফা. ৪৪৪৬)
৬৫/৩৯/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮১০
হাদিস নং ৪৮১০
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ يُوْسُفَ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُمْ قَالَ يَعْلَى إِنَّ سَعِيْدَ بْنَ جُبَيْرٍ أَخْبَرَهُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ نَاسًا مِنْ أَهْلِ الشِّرْكِ كَانُوْا قَدْ قَتَلُوْا وَأَكْثَرُوْا وَزَنَوْا وَأَكْثَرُوْا فَأَتَوْا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فَقَالُوْا إِنَّ الَّذِيْ تَقُوْلُ وَتَدْعُوْ إِلَيْهِ لَحَسَنٌ لَوْ تُخْبِرُنَا أَنَّ لِمَا عَمِلْنَا كَفَّارَةً {وَالَّذِيْنَ لَا يَدْعُوْنَ مَعَ اللهِ إلٰهًا اٰخَرَ وَلَا يَقْتُلُوْنَ النَّفْسَ الَّتِيْ حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُوْنَ} وَنَزَلَتْ {قُلْ يٰعِبَادِيَ الَّذِيْنَ أَسْرَفُوْا عَلٰٓى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا مِنْ رَّحْمَةِ اللهِ ط إِنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعًا ط إِنَّه” هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ}.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, মুশরিকদের কিছু লোক বহু হত্যা করে এবং বেশি বেশি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। তারপর তারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এল এবং বলল, আপনি যা বলেন এবং আপনি যেদিকে আহ্বান করেন, তা অতি উত্তম। আমাদের যদি অবগত করতেন, আমরা যা করেছি, তার কাফ্ফারা কী? এর প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয় ‘এবং যারা আল্লাহ্র সঙ্গে অন্য কোন ইলাহ্কে ডাকে না, আল্লাহ্ যাকে হত্যা করা নিষেধ করেছেন, তাকে না-হক হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আরো অবতীর্ণ হল ঃ “হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অন্যায় করে ফেলেছ, আল্লাহ্র অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না।” [মুসলিম ১/৫৪, হাঃ ১২২] (আ.প্র. ৪৪৪৬, ই.ফা. ৪৪৪৭)
৬৫/৩৯/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহর প্রতি যতটুকু মর্যাদা দেয়া উচিত ছিল, তারা তা দেয়নি। (সূরাহ যুমার ৩৯/৬৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮১১
হাদিস নং ৪৮১১
آدَمُ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ مَنْصُوْرٍ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَبِيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ حَبْرٌ مِنَ الْأَحْبَارِ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّا نَجِدُ أَنَّ اللهَ يَجْعَلُ السَّمَوَاتِ عَلَى إِصْبَعٍ وَالأَرَضِيْنَ عَلَى إِصْبَعٍ وَالشَّجَرَ عَلَى إِصْبَعٍ وَالْمَاءَ وَالثَّرَى عَلَى إِصْبَعٍ وَسَائِرَ الْخَلَائِقِ عَلَى إِصْبَعٍ فَيَقُوْلُ أَنَا الْمَلِكُ فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ تَصْدِيْقًا لِقَوْلِ الْحَبْرِ ثُمَّ قَرَأَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم {وَمَا قَدَرُوا اللهَ حَقَّ قَدْرِهٰ}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, ইয়াহূদী আলিমদের থেকে এক আলিম রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমরা (তাওরাতে দেখতে) পাই যে, আল্লাহ্ তা‘আলা আকাশসমূহকে এক আঙ্গুলের উপর স্থাপন করবেন। যমীনকে এক আঙ্গুলের উপর, বৃক্ষসমূহকে এক আঙ্গুলের উপর, পানি এক আঙ্গুলের উপর, মাটি এক আঙ্গুলের উপর এবং অন্যান্য সৃষ্টি জগত এক আঙ্গুলের উপর স্থাপন করবেন। তারপর বলবেন, আমিই বাদশাহ। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা সমর্থনে হেসে ফেললেন; এমনকি তাঁর সামনের দাঁত প্রকাশ হয়ে পড়ে। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করলেন, তারা আল্লাহ্কে যথোচিত মর্যাদা দান করে না। [৭৪১৪, ৭৪১৫, ৭৪৫১, ৭৫১৩; মুসলিম ৫০/হাঃ ২৭৮৬, আহমাদ ৪৩৬৮] (আ.প্র. ৪৪৪৭, ই.ফা. ৪৪৪৮)
[১] আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদাহ হলো, আল্লাহর সিফাতকে তাঁর কোন মাখ্লুকের সাথে সাদৃশ্য না করে তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। অতএব আল্লাহ তা‘আলাকে নিরাকার বলা বা বিশ্বাস করা ঠিক নয়। যেমন উক্ত হাদীসে আল্লাহর আঙ্গুলের কথা এসেছে এবং পরের অধ্যায়ের আয়াতে তাঁর ডান হাত ও মুঠের কথাও বলা হয়েছে। সর্বপরি আল্লাহ নিরাকার কথাটি কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। বরং হিন্দু সংস্কৃতি থেকে আমদানীকৃত বটে। যারা আল্লাহকে নিরাকার বলেন, তারা কুরআন ও হাদীসে অনেক প্রমাণের দাবী করলেও তা কখনই পেশ করেন না। যেহেতু বিষয়টি আকীদাহর সাথে সম্পৃক্ত সেহেতু এ বিষয়টি আরো পরিষ্কার করার জন্য কিছু দলীল উপস্থাপন করা হলোঃ কুরআন মাজীদের বিভিন্ন আয়াত ও হাদীসে আল্লাহ তা‘আলার চেহারা, হাত, পা, চক্ষু, যাত বা সত্ত্বা, সূরাত বা আকারের কথা উল্লেখ হয়েছে যার অর্থ স্পষ্ট। এর মাধ্যমে আল্লাহর নির্দিষ্ট আকার-আকৃতি আছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। কারণ যিনি নিরাকার তার এ সব কিছু থাকার কথা নয়। তবে হ্যাঁ, আকার আকৃতি কেমন তা তিনি ছাড়া কেউ জানেন না। মু’মিনগণ কিয়ামাতের দিন তাঁকে দেখতে পাবে। জান্নাতের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ নি‘মাত হবে আল্লাহর দীদার। আর দীদারযোগ্য কোন কিছু নিরাকার হতে পারে না। তেমনি ভাবে নিরাকার কখনও দীদারযোগ্য হতে পারে না। আর এমন নয় যে, তিনি এখন নিরাকার তবে কিয়ামতের দিন অবয়ব বিশিষ্ট হয়ে যাবেন। কারণ আল্লাহকে পরিবর্তনশীল মনে করাটাও আকীদাহ বিরোধী। সুতরাং আল্লাহকে নিরাকার বলা শুধু ভ্রান্তই নয় বরং বোকামী ও অজ্ঞতাও বটে। এ ভ্রান্ত ধারণা সালাফদের যুগে ছিলনা। এটা ভারতবর্ষের অধিকাংশ মুসলিমদের আকীদাহ যা হিন্দু ধর্ম থেকে আমদানীকৃত। শিখরাও এ ধারণা পোষণ করে থাকে। কুরআন মাজীদের যে সকল আয়াতে আল্লাহর অবয়বের প্রমাণ পাওয়া যায় তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃসূরা স-দের ৭৫ নং আয়াতে আল্লাহর দু’হাতের কথা বলা হয়েছে। সূরা আল-মায়িদাহ ৬৪ নং আয়াতেও হাতের কথা বলা হয়েছে। সূরা আর-রহমান এর ২৭ নং আয়াত, বাকারাহ ১১৫, ২৭২, সূরা রূম এর ৩৮ নং আয়াত, সূরা দাহর ৯ আয়াত ও সূরা লাইল ২০ নং আয়াতে আল্লাহর চেহারার প্রমাণ পাওয়া যায়। সূরা ক্বলম এর ১৬৪ নং আয়াতে আল্লাহর পায়ের গোছার প্রমাণ পাওয়া যায়। সূরা যুমার এর ৬৭ নং আয়াতে আল্লাহর মুষ্ঠির প্রমাণ পাওয়া যায়। মুসনাদ আহমাদ এর বরাতে মিশকাতের হাদীসে আল্লাহর হাতের তালুর প্রমাণ পাওয়া যায়।যদি আল্লাহ নিরাকার হতেন তাহলে সূরা আ‘রাফের ১৪৩ নং আয়াতে বর্ণিত তূর পাহাড়ে মূসা (আঃ) আল্লাহকে দেখতে চাইতেন না। জবাবে আল্লাহ তা‘আলা বললেন لن تراني অর্থাৎ তুমি আমাকে দেখতে পাবে না। এখানে তিনি বলেননি যে, তুমি আমাকে কখনই দেখতে পাবে না। বরং বললেন, যদি পাহাড় স্থির থাকতে পারে তাহলে তুমি আমাকে দেখতে পাবে।এমনি ভাবে সূরা আশ-শূরার ৫১ নং আয়াতে বর্ণিত, আল্লাহ যদি নিরাকারই হবেন তাহলে পর্দার আড়ালের কথাই বা কেন বলবেন। এরকম আরো অসংখ্য প্রমাণ থাকার পরেও যারা আল্লাহ তা‘আলাকে নিরাকার সাব্যস্ত করার চেষ্টা করবেন নিঃসন্দেহে তারা উক্ত আয়াতকে অস্বীকারকারীদের দলভুক্ত হবেন।হাফিয ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) আল্লাহর হাত ও চেহারার বিষয়ে নিরাকার ও নির্গুণবাদীদের বিভিন্ন গৌণ ও রূপক অর্থের প্রতিবাদে যথাক্রমে ২০টি ও ২৬টি যুক্তি পেশ করেছেন।
৬৫/৩৯/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮১২
হাদিস নং ৪৮১২
سَعِيْدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِيْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَالِدِ بْنِ مُسَافِرٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِيْ سَلَمَةَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ يَقْبِضُ اللهُ الْأَرْضَ وَيَطْوِي السَّمَوَاتِ بِيَمِيْنِهِ ثُمَّ يَقُوْلُ أَنَا الْمَلِكُ أَيْنَ مُلُوْكُ الْأَرْضِ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ্ তা‘আলা যমীনকে নিজ মুষ্ঠিতে নিবেন এবং আকাশমণ্ডলীকে ভাঁজ করে তাঁর ডান হাতে নিবেন, তারপর বলবেন, আমিই মালিক, দুনিয়ার বাদশারা কোথায়? [৬৫১৯, ৭৩৮২, ৭৪১৩; মুসলিম ৫০/হাঃ ২৭৮৭, আহমাদ ৮৮৭২] (আ.প্র. ৪৪৪৮, ই.ফা. ৪৪৪৯)
৬৫/৩৯/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮১৩
হাদিস নং ৪৮১৩
الْحَسَنُ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيْلُ بْنُ خَلِيْلٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحِيْمِ عَنْ زَكَرِيَّاءَ بْنِ أَبِيْ زَائِدَةَ عَنْ عَامِرٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنِّيْ أَوَّلُ مَنْ يَرْفَعُ رَأْسَهُ بَعْدَ النَّفْخَةِ الآخِرَةِ فَإِذَا أَنَا بِمُوْسَى مُتَعَلِّقٌ بِالْعَرْشِ فَلَا أَدْرِيْ أَكَذَلِكَ كَانَ أَمْ بَعْدَ النَّفْخَةِ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, শেষবার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার পর যে সবার আগে মাথা উঠাবে, সে আমি। তখন আমি মূসা (‘আ.)-কে দেখব আরশের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায়। আমি জানি না, তিনি আগে থেকেই এভাবে ছিলেন, না শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার পর। [২৪১১] (আ.প্র. ৪৪৪৯, ই.ফা. ৪৪৫০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮১৪
হাদিস নং ৪৮১৪
عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ قَالَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا صَالِحٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَيْنَ النَّفْخَتَيْنِ أَرْبَعُوْنَ قَالُوْا يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَرْبَعُوْنَ يَوْمًا قَالَ أَبَيْتُ قَالَ أَرْبَعُوْنَ سَنَةً قَالَ أَبَيْتُ قَالَ أَرْبَعُوْنَ شَهْرًا قَالَ أَبَيْتُ وَيَبْلَى كُلُّ شَيْءٍ مِنَ الإِنْسَانِ إِلَّا عَجْبَ ذَنَبِهِ فِيْهِ يُرَكَّبُ الْخَلْقُ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, দু’বার ফুঁৎকারের মাঝে ব্যবধান চল্লিশ। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আবূ হুরাইরাহ! চল্লিশ দিন? তিনি বললেন, আমার জানা নেই। তারপর তারা জিজ্ঞেস করল, চল্লিশ বছর? তিনি বললেন, আমার জানা নেই। এরপর তাঁরা আবার জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে কি চল্লিশ মাস। তিনি বললেন, আমার জানা নেই এবং বললেন, শিরদাঁড়ার হাড় বাদে মানুষের সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। এ দ্বারাই সৃষ্টি জগত আবার সৃষ্টি করা হবে। [৪৯৩৫; মুসলিম ৫২/২৭, হাঃ ৯৫৫, আহমাদ ৯৫৩৩] (আ.প্র. ৪৪৫০, ই.ফা. ৪৪৫১)
৬৫/৪০/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮১৫
হাদিস নং ৪৮১৫
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا الْوَلِيْدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ حَدَّثَنِيْ يَحْيَى بْنُ أَبِيْ كَثِيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ التَّيْمِيُّ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَخْبِرْنِيْ بِأَشَدِّ مَا صَنَعَ الْمُشْرِكُوْنَ بِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَيْنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيْ بِفِنَاءِ الْكَعْبَةِ إِذْ أَقْبَلَ عُقْبَةُ بْنُ أَبِيْ مُعَيْطٍ فَأَخَذَ بِمَنْكِبِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَلَوَى ثَوْبَهُ فِيْ عُنُقِهِ فَخَنَقَهُ بِهِ خَنْقًا شَدِيْدًا فَأَقْبَلَ أَبُوْ بَكْرٍ فَأَخَذَ بِمَنْكِبِهِ وَدَفَعَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ {أَتَقْتُلُوْنَ رَجُلًا أَنْ يَّقُوْلَ رَبِّـِيَ اللهُ وَقَدْ جَآءَكُمْ بِالْبَيِّنٰتِ مِنْ رَّبِّكُمْ}.
বর্ণনাকারী ‘উরওয়াহ ইব্নু যুবায়র (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু আম্র ইবনুল আ‘স (রাঃ)-কে বললাম, মুশরিকরা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে কঠোরতম কী আচরণ করেছে, সে সম্পর্কে আপনি আমাকে বলুন। তিনি বললেন, একদা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কা‘বার আঙ্গিণায় সলাত আদায় করছিলেন। এমন সময় ‘উকবাহ ইব্নু আবূ মু’আইত আসল এবং সে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘাড় ধরল এবং তার কাপড় দিয়ে তাঁর গলায় পেচিয়ে খুব শক্ত করে চিপা দিল। এ সময় আবূ বকর (রাঃ) হাজির হয়ে তার ঘাড় ধরে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তাকে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন, তোমরা কি এ ব্যক্তিকে এ জন্য হত্যা করবে যে সে বলে ‘আমার রব আল্লাহ্’; অথচ তিনি তোমাদের রবের নিকট থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে তোমাদের কাছে এসেছেন। [৩৬৭৮] (আ.প্র. ৪৪৫১, ই.ফা. ৪৪৫২)
৬৫/৪১/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮১৬
হাদিস নং ৪৮১৬
الصَّلْتُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يَزِيْدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ رَوْحِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ مَنْصُوْرٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِيْ مَعْمَرٍ عَنْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ {وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُوْنَ أَنْ يَّشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ} وَلَا أَبْصَارُكُمْ الْآيَةَ قَالَ كَانَ رَجُلَانِ مِنْ قُرَيْشٍ وَخَتَنٌ لَهُمَا مِنْ ثَقِيْفَ أَوْ رَجُلَانِ مِنْ ثَقِيْفَ وَخَتَنٌ لَهُمَا مِنْ قُرَيْشٍ فِيْ بَيْتٍ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ أَتُرَوْنَ أَنَّ اللهَ يَسْمَعُ حَدِيْثَنَا قَالَ بَعْضُهُمْ يَسْمَعُ بَعْضَهُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَئِنْ كَانَ يَسْمَعُ بَعْضَهُ لَقَدْ يَسْمَعُ كُلَّهُ فَأُنْزِلَتْ {وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُوْنَ أَنْ يَّشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلَآ أَبْصَارُكُمْ}.
বর্ণনাকারী ইব্নু মাস‘ঊদ (রাঃ)
আল্লাহ্র বাণী ঃ “তোমাদের কর্ণ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে- এ থেকে তোমরা কখনো নিজেদের লুকাতে পারবে না।” আয়াত সম্পর্কে বলেন, কুরাইশ গোত্রের দু’ ব্যক্তি ছিল, যাদের জামাতা ছিল বানী সাকীফ গোত্রের অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) দু’ ব্যক্তি ছিল বানী সাকীফ গোত্রের আর তাদের জামাতা ছিল কুরাইশ গোত্রের। তারা সকলেই একটি ঘরে ছিল। তারা পরস্পর বলল, তোমার কী ধারণা, আল্লাহ্ কি আমাদের কথা শুনতে পাচ্ছেন? একজন বলল, তিনি আমাদের কিছু কথা শুনছেন। এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, তিনি যদি আমাদের কিছু কথা শুনতে পান, তাহলে সব কথাও শুনতে পাবেন। তখন নাযিল হল ঃ “তোমাদের কান ও তোমাদের চোখ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, এ থেকে তোমরা কখনো নিজেদের লুকাতে পারবে না।.....আয়াতের শেষ পর্যন্ত। [৪৮১৭, ৭৫২১; মুসলিম ৫০/২৭৭৫, আহমাদ ৩৮৭৫] (আ.প্র. ৪৪৫২, ই.ফা. ৪৪৫৩)
৬৫/৪১/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আর তোমাদের এ ধারণাই যা তোমরা স্বীয় রব সম্বন্ধে করতে, তোমাদের সর্বনাশ করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের শামিল হয়ে গেছ। (সূরাহ হা-মীম আস্-সাজদাহ ৪২/২৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮১৭
হাদিস নং ৪৮১৭
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا مَنْصُوْرٌ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِيْ مَعْمَرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ اجْتَمَعَ عِنْدَ الْبَيْتِ قُرَشِيَّانِ وَثَقَفِيٌّ أَوْ ثَقَفِيَّانِ وَقُرَشِيٌّ كَثِيْرَةٌ شَحْمُ بُطُوْنِهِمْ قَلِيْلَةٌ فِقْهُ قُلُوْبِهِمْ فَقَالَ أَحَدُهُمْ أَتُرَوْنَ أَنَّ اللهَ يَسْمَعُ مَا نَقُوْلُ قَالَ الآخَرُ يَسْمَعُ إِنْ جَهَرْنَا وَلَا يَسْمَعُ إِنْ أَخْفَيْنَا وَقَالَ الْآخَرُ إِنْ كَانَ يَسْمَعُ إِذَا جَهَرْنَا فَإِنَّهُ يَسْمَعُ إِذَا أَخْفَيْنَا فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ {وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُوْنَ أَنْ يَّشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلَآ أَبْصَارُكُمْ وَلَا جُلُوْدُكُمْ}.وَكَانَ سُفْيَانُ يُحَدِّثُنَا بِهَذَا فَيَقُوْلُ حَدَّثَنَا مَنْصُوْرٌ أَوْ ابْنُ أَبِيْ نَجِيْحٍ أَوْ حُمَيْدٌ أَحَدُهُمْ أَوْ اثْنَانِ مِنْهُمْ ثُمَّ ثَبَتَ عَلَى مَنْصُوْرٍ وَتَرَكَ ذَلِكَ مِرَارًا غَيْرَ مَرَّةٍ وَاحِدَةٍ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
বর্ণিত। তিনি বলেন, কা‘বার কাছে দু’জন কুরাইশী এবং একজন সাকাফী অথবা দু’জন সাকাফী ও একজন কুরাইশী একত্রিত হয়। তাদের পেটের মেদ ছিল অধিক; কিন্তু অন্তরে বুদ্ধি ছিল কম। তাদের একজন বলল, তোমাদের কী ধারণা, আমরা যা বলছি তা কি আল্লাহ্ শুনছেন? উত্তরে অপর এক ব্যক্তি বলল, আমরা যদি জোরে বলি, তাহলে তিনি শুনতে পান। আর যদি চুপে চুপে বলি, তাহলে তিনি শুনতে পান না। তৃতীয় ব্যক্তি বলল, আমরা জোরে বললে যদি তিনি শুনতে পান, তাহলে চুপে চুপে বললেও তিনি শুনতে পাবেন। তখন আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেন, ‘তোমাদের চোখ, কান এবং তোমাদের চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, এ থেকে তোমরা কখনো নিজেদের লুকাতে পারবে না..... (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।হুমাইদী বলেন, সুফ্ইয়ান এ হাদীস বর্ণনার সময় বলতেন, মানসুর বলেছেন, অথবা ইব্নু আবূ নাজীহ্ অথবা হুমায়দ তাঁদের একজন বা দু’জন। এরপর তিনি মানসূরের উপরই নির্ভর করেছেন এবং একাধিকবার তিনি সন্দেহ বর্জন করে বর্ণনা করেছেন। [৪৮১৬] (আ.প্র. ৪৪৫৩, ই.ফা. ৪৪৫৪)
৬৫/৪২/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আত্মীয়ের সৌহার্দ ব্যতীত। (সূরাহ শূরা ৪২/২৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮১৮
হাদিস নং ৪৮১৮
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ قَالَ سَمِعْتُ طَاوُسًا عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ قَوْلِهِ {إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبٰى} فَقَالَ سَعِيْدُ بْنُ جُبَيْرٍ قُرْبَى آلِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَجِلْتَ إِنَّ النَّبِيَّ لَمْ يَكُنْ بَطْنٌ مِنْ قُرَيْشٍ إِلَّا كَانَ لَهُ فِيْهِمْ قَرَابَةٌ فَقَالَ إِلَّا أَنْ تَصِلُوْا مَا بَيْنِيْ وَبَيْنَكُمْ مِنَ الْقَرَابَةِ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
একদা তাকে إِلاَّ الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর (কাছে উপস্থিত) সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রাঃ) বললেন, এর অর্থ নাবী পরিবারের আত্মীয়তার বন্ধন। (এ কথা শুনে) ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, তুমি তাড়াহুড়া করে ফেললে। কেননা কুরাইশের এমন কোন শাখা ছিল না যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আত্মীয়তা ছিল না। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বলেছেন, আমার এবং তোমাদের মাঝে যে আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে তার ভিত্তিতে তোমরা আমার সঙ্গে আত্মীয়সুলভ আচরণ কর। এই আমি তোমাদের থেকে কামনা করি। [৩৪৯৭] (আ.প্র. ৪৪৫৪, ই.ফা. ৪৪৫৬)
৬৫/৪৩/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তারা চীৎকার করে বলবে, হে মালিক! তোমার প্রতিপালক যেন আমাদের নিঃশেষ করে দেন। (সূরাহ যুখরুফ ৪৩/৭৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮১৯
হাদিস নং ৪৮১৯
حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ يَعْلَى عَنْ أَبِيْهِ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ عَلَى الْمِنْبَرِ {وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ} وَقَالَ قَتَادَةُ {مَثَلًا لِّلْاٰخِرِيْنَ} عِظَةً لِمَنْ بَعْدَهُمْ وَقَالَ غَيْرُهُ {مُقْرِنِيْنَ} ضَابِطِيْنَ يُقَالُ فُلَانٌ مُقْرِنٌ لِفُلَانٍ ضَابِطٌ لَهُ. وَالأَكْوَابُ الْأَبَارِيْقُ الَّتِيْ لَا خَرَاطِيْمَ لَهَا. وَقَالَ قَتَادَةُ {فِيْ أُمِّ الْكِتَابِ} جُمْلَةِ الْكِتَابِ أَصْلِ الْكِتَابِ. {أَوَّلُالْعَابِدِيْنَ} أَيْ مَا كَانَ فَأَنَا أَوَّلُ الآنِفِيْنَ وَهُمَا لُغَتَانِ رَجُلٌ عَابِدٌ وَعَبِدٌ وَقَرَأَ عَبْدُ اللهِ وَقَالَ الرَّسُوْلُ يَا رَبِّ وَيُقَالُ أَوَّلُ الْعَابِدِيْنَ الْجَاحِدِيْنَ مِنْ عَبِدَ يَعْبَد
বর্ণনাকারী ইয়া‘লা (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মিম্বরে পড়তে শুনেছি وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ (তারা চীৎকার করে বলবে, হে মালিক! তোমার প্রতিপালক যেন আমাদের নিঃশেষ করে দেন।) ক্বাতাদাহ বলেন, مَثَلاً لِلْآخِرِينَ এর অর্থ পরবর্তী লোকদের জন্য নাসীহাত।ক্বাতাদাহ (রহ.) ব্যতীত অন্যান্য মুফাস্সির বলেছেন, مُقْرِنِينَ নিয়ন্ত্রণকারী। বলা হয় فُلاَنٌ مُقْرِنٌ لِفُلاَنٍ অর্থাৎ তার নিয়ন্তা। َالأَكْوَابُ অর্থ হাতল বিহীন পানপাত্র। ক্বাতাদাহ (রহ.) أُمِّ الْكِتَابِ সম্পর্কে বলেন, তা হচ্ছে মূল কিতাব ও সারাংশ। أَوَّلُ الْعَابِدِينَ অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ্র কোন সন্তান নেই- এ কথা প্রত্যাখ্যানকারী সর্বপ্রথম আমি নিজেই। رَجُلٌ عَابِدٌ وَعَبِدٌ দু’ ধরনের ব্যবহার রয়েছে। ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস‘উদ (রাঃ) وَقَالَ الرَّسُولُ يَا رَبِّ পাঠ করতেন। কোন কোন মুফাস্সির বলেন, أَوَّلُ الْعَابِدِينَ -এ বর্ণিত الْعَابِدِينَ শব্দটি عَبِدَ يَعْبَد এর ওজনে এসেছে; যার অর্থ অস্বীকারকারী। [৩২৩০] (আ.প্র. ৪৪৫৫, ই.ফা. ৪৪৫৭)
৬৫/৪৩/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আমি কি তোমাদের থেকে নাসীহাতপূর্ণ কুরআন এজন্য প্রত্যাহার করে নেব যে, তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী লোক? (সূরাহ যুখরুফ ৪৩/৫)
৬৫/৪৪/১.অধ্যায়ঃ
‘‘অতএব, তুমি অপেক্ষা কর সেদিনের, যেদিন ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ।’’ (সূরাহ আদ্ দুখান ৪৪/১০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮২০
হাদিস নং ৪৮২০
عَبْدَانُ عَنْ أَبِيْ حَمْزَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ مَضَى خَمْسٌ الدُّخَانُ وَالرُّوْمُ وَالْقَمَرُ وَالْبَطْشَةُ وَاللِّزَامُ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, পাঁচটি নিদর্শনই বাস্তবায়িত হয়ে গেছে। ধোঁয়া (দুর্ভিক্ষ), রোম (পরাজয়), চন্দ্র (দ্বিখণ্ডিত হওয়া), পাকড়াও (বদর যুদ্ধে) এবং ধ্বংস। [১০০৭] (আ.প্র. ৪৪৫৬, ই.ফা. ৪৪৫৮)
৬৫/৪৪/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তা আবৃত করে ফেলবে মানব জাতিকে, এ হবে মর্মন্তুদ শাস্তি। (সূরাহ আদ্ দুখান ৪৪/১১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮২১
হাদিস নং ৪৮২১
يَحْيَى حَدَّثَنَا أَبُوْ مُعَاوِيَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ إِنَّمَا كَانَ هَذَا لِأَنَّ قُرَيْشًا لَمَّا اسْتَعْصَوْا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دَعَا عَلَيْهِمْ بِسِنِيْنَ كَسِنِيْ يُوْسُفَ فَأَصَابَهُمْ قَحْطٌ وَجَهْدٌ حَتَّى أَكَلُوا الْعِظَامَ فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَنْظُرُ إِلَى السَّمَاءِ فَيَرَى مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا كَهَيْئَةِ الدُّخَانِ مِنَ الْجَهْدِ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ لا - يَّغْشَى النَّاسَ ط هٰذَا عَذَابٌ أَلِيْمٌ} قَالَ فَأُتِيَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقِيْلَ لَهُ يَا رَسُوْلَ اللهِ اسْتَسْقِ اللهَ لِمُضَرَ فَإِنَّهَا قَدْ هَلَكَتْ قَالَ لِمُضَرَ إِنَّكَ لَجَرِيْءٌ فَاسْتَسْقَى لَهُمْ فَسُقُوْا فَنَزَلَتْ {إِنَّكُمْ عَآئِدُوْنَ} فَلَمَّا أَصَابَتْهُمْ الرَّفَاهِيَةُ عَادُوْا إِلَى حَالِهِمْ حِيْنَ أَصَابَتْهُمْ الرَّفَاهِيَةُ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ {يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرٰى إِنَّا مُنْتَقِمُوْنَ} قَالَ يَعْنِيْ يَوْمَ بَدْرٍ.
বর্ণনাকারী মাসরূক (রহ.)
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেছেন, এ অবস্থা এ জন্য যে, কুরাইশরা যখন রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নাফরমানী করল, তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে এমন দুর্ভিক্ষের দু‘আ করলেন, যেমন দুর্ভিক্ষ হয়েছিল ইউসুফ (‘আ.)-এর সময়ে। তারপর তাদের উপর দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধার কষ্ট এমনভাবে আপতিত হ’ল যে, তারা হাড্ডি খেতে আরম্ভ করল। তখন মানুষ আকাশের দিকে তাকালে ক্ষুধার তাড়নায় তারা আকাশ ও তাদের মাঝে শুধু ধোঁয়ার মত দেখতে পেত। এ সম্পর্কেই আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেন, “অতএব তুমি অপেক্ষা কর সেদিনের, যেদিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ এবং তা ছেয়ে ফেলবে মানব জাতিকে। এ হবে মর্মন্তুদ শাস্তি।” বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট (কাফিরদের পক্ষ থেকে) এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! মুদার গোত্রের জন্য বৃষ্টির দু‘আ করুন। তারা তো ধ্বংস হয়ে গেল। তিনি [রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] বললেন, মুদার গোত্রের জন্য দু‘আ করতে বলছ। তুমি তো খুব সাহসী। তারপর তিনি বৃষ্টির জন্য দু‘আ করলেন এবং বৃষ্টি হল। তখন অবতীর্ণ হল, তোমরা তো তোমাদের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। যখন তাদের সচ্ছলতা ফিরে এলো, তখন আবার নিজেদের আগের অবস্থায় ফিরে গেল। তারপর আল্লাহ্ নাযিল করলেন, “যেদিন আমি তোমাদের প্রবলভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি তোমাদের প্রতিশোধ নেই। বর্ণনাকারী বলেন, অর্থাৎ বদর যুদ্ধের দিন। [১০০৭; মুসলিম ৫০/৭, হাঃ ২৭৯৮, আহমাদ ৪২০৬] (আ.প্র. ৪৪৫৭, ই.ফা. ৪৪৫৯)
৬৫/৪৪/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তখন তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এ শাস্তি থেকে মুক্তি দান কর, নিশ্চয়ই আমরা ঈমান আনব। (সূরাহ আদ্ দুখান ৪৪/১২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮২২
হাদিস নং ৪৮২২
يَحْيَى حَدَّثَنَا وَكِيْعٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللهِ فَقَالَ إِنَّ مِنَ الْعِلْمِ أَنْ تَقُوْلَ لِمَا لَا تَعْلَمُ اللهُ أَعْلَمُ إِنَّ اللهَ قَالَ لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم {قُلْ مَآ أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَّمَآ أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِيْنَ} إِنَّ قُرَيْشًا لَمَّا غَلَبُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَاسْتَعْصَوْا عَلَيْهِ قَالَ اللهُمَّ أَعِنِّيْ عَلَيْهِمْ بِسَبْعٍ كَسَبْعِ يُوْسُفَ فَأَخَذَتْهُمْ سَنَةٌ أَكَلُوْا فِيْهَا الْعِظَامَ وَالْمَيْتَةَ مِنَ الْجَهْدِ حَتَّى جَعَلَ أَحَدُهُمْ يَرَى مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ السَّمَاءِ كَهَيْئَةِ الدُّخَانِ مِنَ الْجُوْعِ قَالُوْا {رَبَّنَا اكْشِفْ عَنَّا الْعَذَابَ إِنَّا مُؤْمِنُوْنَ} فَقِيْلَ لَهُ إِنْ كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَادُوْا فَدَعَا رَبَّهُ فَكَشَفَ عَنْهُمْ فَعَادُوْا فَانْتَقَمَ اللهُ مِنْهُمْ يَوْمَ بَدْرٍ فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى فَارْتَقِبْ {يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ} إِلَى قَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ {إِنَّا مُنْتَقِمُوْنَ}.
বর্ণনাকারী মাসরূক (রহ.)
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, সে সম্পর্কে ‘আল্লাহ্ই ভাল জানেন’ একথা বলাও জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয় আল্লাহ্ তার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছেন, “বল, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না এবং আমি বানোয়াটকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।” কুরাইশরা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে বাড়াবাড়ি করল এবং বিরোধিতা করল, তখন তিনি দু‘আ করলেন, হে আল্লাহ্! ইউসুফ (‘আ.)-এর সময়কার সাত বছরের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষের দ্বারা তুমি আমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য কর। তারপর দুর্ভিক্ষ তাদেরকে পাকড়াও করল। ক্ষুধার জ্বালায় তারা হাড্ডি এবং মরা খেতে আরম্ভ করল। এমনকি তাদের কোন ব্যক্তি আকাশের দিকে তাকালে ক্ষুধার জ্বালায় তার ও আকাশের মাঝে শুধু ধোঁয়ার মতই দেখতে পেত। তখন তারা বলল, “হে আমাদের রব! আমাদের থেকে এ শাস্তি সরিয়ে নাও, নিশ্চয়ই আমরা ঈমান আনব।” তাঁকে বলা হল, যদি তাদের থেকে শাস্তি সরিয়ে দেই, তাহলে তারা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। তারপর তিনি তাঁর রবের নিকট দু‘আ করলেন। আল্লাহ্ তাদের থেকে শাস্তি সরিয়ে দিলেন; কিন্তু তারা আবার আগের অবস্থায় ফিরে এল। তাই আল্লাহ্ বদর যুদ্ধের দিন তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলেন। নিুোক্ত আয়াতসমূহে এ কথাই বর্ণনা করা হয়েছে। আয়াত إِنَّا مُنْتَقِمُونَ পর্যন্ত। [১০০৭] (আ.প্র. ৪৪৫৮, ই.ফা. ৪৪৬০)
৬৫/৪৪/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তারা কী করে নাসীহাত গ্রহণ করবে? তাদের নিকট তো এসেছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দানকারী এক রসূল। (সূরাহ আদ্ দুখান ৪৪/১৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮২৩
হাদিস নং ৪৮২৩
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا جَرِيْرُ بْنُ حَازِمٍ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللهِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا دَعَا قُرَيْشًا كَذَّبُوْهُ وَاسْتَعْصَوْا عَلَيْهِ فَقَالَ اللهُمَّ أَعِنِّيْ عَلَيْهِمْ بِسَبْعٍ كَسَبْعِ يُوْسُفَ فَأَصَابَتْهُمْ سَنَةٌ حَصَّتْ يَعْنِيْ كُلَّ شَيْءٍ حَتَّى كَانُوْا يَأْكُلُوْنَ الْمَيْتَةَ فَكَانَ يَقُوْمُ أَحَدُهُمْ فَكَانَ يَرَى بَيْنَهُ وَبَيْنَ السَّمَاءِ مِثْلَ الدُّخَانِ مِنَ الْجَهْدِ وَالْجُوْعِ ثُمَّ قَرَأَ {فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ لا - يَّغْشَى النَّاسَ ط هٰذَا عَذَابٌ أَلِيْمٌ} أَلِيْمٌ حَتَّى بَلَغَ إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيْلًا إِنَّكُمْ عَائِدُوْنَ قَالَ عَبْدُ اللهِ أَفَيُكْشَفُ عَنْهُمْ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ وَالْبَطْشَةُ الْكُبْرَى يَوْمَ بَدْرٍ.
বর্ণনাকারী মাসরূক
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্র কাছে গেলাম। তারপর তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কুরাইশদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং তারা তাঁকে মিথ্যাচারী বলল ও তার নাফরমানী করল, তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্! ইউসুফ (‘আ.)-এর সময়কার সাত বছরের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষের দ্বারা তুমি আমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য কর। ফলে দুর্ভিক্ষ তাদের এমনভাবে গ্রাস করল যে, নির্মূল হয়ে গেল সমস্ত কিছু; অবশেষে তারা মৃতদেহ খেতে আরম্ভ করল। তাদের কেউ দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকালে ক্ষুধার জ্বালায় সে তার ও আকাশের মাঝে ধোঁয়ার মতই দেখতে পেত। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “অতএব তুমি অপেক্ষা কর সে দিনের, যেদিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ এবং তা ছেয়ে ফেলবে মানব জাতিকে। এ হবে মর্মন্তুদ শাস্তি। আমি তোমাদের শাস্তি কিছুকালের জন্য সরিয়ে দিচ্ছি, তোমরা তো তোমাদের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।” পর্যন্ত ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, ক্বিয়ামাতের দিনও কি তাদের থেকে শাস্তি সরিয়ে ফেলা হবে? তিনি বলেন, وَالْبَطْشَةُ الْكُبْرَى দ্বারা বাদরের দিনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। [১০০৭] (আ.প্র. ৪৪৫৯, ই.ফা. ৪৪৬১)
৬৫/৪৪/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ এরপর তারা তাকে অমান্য করে বলে সে তো শিখানো বুলি বলছে, সে এক পাগল। (সূরাহ আদ্ দুখান ৪৪/১৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮২৪
হাদিস নং ৪৮২৪
بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ وَمَنْصُوْرٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ إِنَّ اللهَ بَعَثَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم وَقَالَ {قُلْ مَآ أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَّمَآ أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِيْنَ} فَإِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا رَأَى قُرَيْشًا اسْتَعْصَوْا عَلَيْهِ فَقَالَ اللهُمَّ أَعِنِّيْ عَلَيْهِمْ بِسَبْعٍ كَسَبْعِ يُوْسُفَ فَأَخَذَتْهُمْ السَّنَةُ حَتَّى حَصَّتْ كُلَّ شَيْءٍ حَتَّى أَكَلُوا الْعِظَامَ وَالْجُلُوْدَ فَقَالَ أَحَدُهُمْ حَتَّى أَكَلُوا الْجُلُوْدَ وَالْمَيْتَةَ وَجَعَلَ يَخْرُجُ مِنَ الْأَرْضِ كَهَيْئَةِ الدُّخَانِ فَأَتَاهُ أَبُوْ سُفْيَانَ فَقَالَ أَيْ مُحَمَّدُ إِنَّ قَوْمَكَ قَدْ هَلَكُوْا فَادْعُ اللهَ أَنْ يَكْشِفَ عَنْهُمْ فَدَعَا ثُمَّ قَالَ تَعُوْدُوْنَ بَعْدَ هَذَا فِيْ حَدِيْثِ مَنْصُوْرٍ ثُمَّ قَرَأَ {فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ} إِلَى {عَآئِدُوْنَ} أَنَكْشِفُ عَنْهُمْ عَذَابَ الآخِرَةِ فَقَدْ مَضَى الدُّخَانُ وَالْبَطْشَةُ وَاللِّزَامُ وَقَالَ أَحَدُهُمْ الْقَمَرُ وَقَالَ الْآخَرُ وَالرُّوْمُ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পাঠিয়ে বলেছেন, “বল, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না এবং যারা মিথ্যা দাবী করে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই।” রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন দেখলেন যে, কুরাইশরা তাঁর নাফরমানী করছে, তখন তিনি ললেন, ইউসুফ (‘আ.)-এর সময়কার সাত বছরের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষের দ্বারা তুমি আমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য কর। ফলে দুর্ভিক্ষ তাদের পেয়ে বসল। নিঃশেষ করে দিল তাদের সমস্ত কিছু, এমনকি তারা হাড় এবং চামড়া খেতে আরম্ভ করল। আর একজন রাবী বলেছেন, তারা চামড়া ও মরা খেতে লাগল। তখন যামীন থেকে ধোঁয়ার মত বের হতে লাগল। এ সময় আবূ সুফ্ইয়ান নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! তোমার কওম তো ধ্বংস হয়ে গেল। আল্লাহ্র কাছে দু‘আ কর, যেন তিনি তাদের থেকে এ অবস্থা দূর করে দেন। তখন তিনি দু‘আ করলেন, এবং বললেন, এরপর তারা আবার নিজেদের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। মানসুর হতে বর্ণিত হাদীসে আছে, তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন, “অতএব, তুমি অপেক্ষা কর সে দিনের, যে দিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ, তোমরা তো আগের অবস্থায় ফিরে যাবেই.....পর্যন্ত। (তিনি বলেন) আখিরাতের শাস্তিও কি দূর হয়ে যাবে? ধোঁয়া, প্রবল পাকড়াও এবং ধ্বংস তো অতিক্রান্ত হয়েছে। এক রাবী চন্দ্র এবং অন্য রাবী রোমের পরাজয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন। [১০০৭] (আ.প্র. ৪৪৬০, ই.ফা. ৪৪৬২)
৬৫/৪৪/৬.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ যে দিন আমি তোমাদেরকে প্রবলভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি তোমাদেরকে শাস্তি দেবই। (সূরাহ আদ্ দুখান ৪৪/১৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮২৫
হাদিস নং ৪৮২৫
يَحْيَى حَدَّثَنَا وَكِيْعٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ خَمْسٌ قَدْ مَضَيْنَ اللِّزَامُ وَالرُّوْمُ وَالْبَطْشَةُ وَالْقَمَرُ وَالدُّخَانُ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, পাঁচটি বিষয় ঘটে গেছে ঃ ধ্বংস, রূম, পাকড়াও, চন্দ্র ও ধোঁয়া। [১০০৭] (আ.প্র. ৪৪৬১, ই.ফা. ৪৪৬৩)
৬৫/৪৫/১.অধ্যায়ঃ
‘‘আমরা মরি ও বাঁচি আর কাল-ই আমাদেরকে ধ্বংস করে।’’ (সূরাহ জাসিয়া ৪৫/২৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮২৬
হাদিস নং ৪৮২৬
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ يُؤْذِيْنِي ابْنُ آدَمَ يَسُبُّ الدَّهْرَ وَأَنَا الدَّهْرُ بِيَدِي الْأَمْرُ أُقَلِّبُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্ বলেন, আদাম সন্তানরা আমাকে কষ্ট দেয়। তারা যামানাকে গালি দেয়; অথচ আমিই যামানা। আমার হাতেই সকল ক্ষমতা; রাত ও দিন আমিই পরিবর্তন করি। [৬১৮১,৭৪৯১; মুসলিম ৪০/১, হাঃ ২২৪৬] (আ.প্র. ৪৪৬২, ই.ফা. ৪৪৬৪)
৬৫/৪৬/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮২৭
হাদিস নং ৪৮২৭
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ أَبِيْ بِشْرٍ عَنْ يُوْسُفَ بْنِ مَاهَكَ قَالَ كَانَ مَرْوَانُ عَلَى الْحِجَازِ اسْتَعْمَلَهُ مُعَاوِيَةُ فَخَطَبَ فَجَعَلَ يَذْكُرُ يَزِيْدَ بْنَ مُعَاوِيَةَ لِكَيْ يُبَايَعَ لَهُ بَعْدَ أَبِيْهِ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِيْ بَكْرٍ شَيْئًا فَقَالَ خُذُوْهُ فَدَخَلَ بَيْتَ عَائِشَةَ فَلَمْ يَقْدِرُوْا فَقَالَ مَرْوَانُ إِنَّ هَذَا الَّذِيْ أَنْزَلَ اللهُ فِيْهِ {وَالَّذِيْ قَالَ لِوَالِدَيْهِ أُفٍّ لَّكُمَآ أَتَعِدَانِنِيْ} فَقَالَتْ عَائِشَةُ مِنْ وَرَاءِ الْحِجَابِ مَا أَنْزَلَ اللهُ فِيْنَا شَيْئًا مِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا أَنَّ اللهَ أَنْزَلَ عُذْرِي.
বর্ণনাকারী ইউসুফ ইব্নু মাহাক
তিনি বলেন, মারওয়ান ছিলেন হিজাযের গভর্নর। তাকে নিয়োগ করেছিলেন মু‘আবিয়াহ (রাঃ)। তিনি একদা খুতবা দিলেন এবং তাতে ইয়াযীদ ইব্নু মু‘আবিয়ার কথা বারবার বলতে লাগলেন, যেন তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তার বায়‘আত গ্রহণ করা হয়। এ সময় তাকে ‘আবদুর রহমান ইব্নু আবূ বাক্র কিছু কথা বললেন। মারওয়ান বললেন, তাঁকে পাকড়াও কর। তৎক্ষণাৎ তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরে চলে গেলেন। তারা তাঁকে ধরতে পারল না। তারপর মারওয়ান বললেন, এ তো সেই লোক যার সম্বন্ধে আল্লাহ্ অবতীর্ণ করেছেন, “আর এমন লোক আছে যে, মাতাপিতাকে বলে, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাতে চাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব যদিও আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়েছে, তখন তার মাতাপিতা আল্লাহ্র নিকট ফরিয়াদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার জন্য। বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহ্র প্রতিশ্র“তি অবশ্যই সত্য। কিন্তু সে বলে এ তো অতীতকালের উপকথা ব্যতীত কিছুই নয়।” (আ.প্র. ৪৪৬৩, ই.ফা. ৪৪৬৫)
৬৫/৪৬/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮২৮
হাদিস নং ৪৮২৮
বর্ণনাকারী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এভাবে কখনো হাসতে দেখিনি, যাতে তাঁর কন্ঠনালীর আলাজিভ দেখা যায়। তিনি মুচকি হাসতেন। [৬০৯২] (আ.প্র. ৪৪৬৪ প্রথমাংশ, ই.ফা. ৪৪৬৬ প্রথমাংশ)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮২৯
হাদিস নং ৪৮২৯
قَالَتْ وَكَانَ إِذَا رَأَى غَيْمًا أَوْ رِيْحًا عُرِفَ فِيْ وَجْهِهِ قَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوْا الْغَيْمَ فَرِحُوْا رَجَاءَ أَنْ يَكُوْنَ فِيْهِ الْمَطَرُ وَأَرَاكَ إِذَا رَأَيْتَهُ عُرِفَ فِيْ وَجْهِكَ الْكَرَاهِيَةُ فَقَالَ يَا عَائِشَةُ مَا يُؤْمِنِّيْ أَنْ يَكُوْنَ فِيْهِ عَذَابٌ عُذِّبَ قَوْمٌ بِالرِّيْحِ وَقَدْ رَأَى قَوْمٌ الْعَذَابَ {فَقَالُوْا هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا}.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
যখনই তিনি মেঘ অথবা ঝড়ো হাওয়া দেখতেন, তখনই তাঁর চেহারায় তা পরিলক্ষিত হত। তিনি বললেন, মানুষ যখন মেঘ দেখে তখন বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হয়। কিন্তু আপনি যখন মেঘ দেখেন, তখন আমি আপনার চেহারায় আতংকের ছাপ পাই। তিনি বললেন, হে ‘আয়িশাহ! এতে ‘আযাব না থাকার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। বাতাস দিয়েই তো এক কওমকে ‘আযাব দেয়া হয়েছে। সে কওম ‘আযাব দেখে বলেছিল, এ তো মেঘ, আমাদেরকে বৃষ্টি দিবে। [৩২০৬] (আ.প্র. ৪৪৬৪, ই.ফা. ৪৪৬৬)
৬৫/৪৭/১.অধ্যায়ঃ
‘‘এবং আত্মীয়ের বন্ধন ছিন্ন করবে।’’ (সূরাহ মুহাম্মাদ ৪৭/২২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৩০
হাদিস নং ৪৮৩০
خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ قَالَ حَدَّثَنِيْ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِيْ مُزَرِّدٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ خَلَقَ اللهُ الْخَلْقَ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْهُ قَامَتْ الرَّحِمُ فَأَخَذَتْ بِحَقْوِ الرَّحْمَنِ فَقَالَ لَهُ مَهْ قَالَتْ هَذَا مَقَامُ الْعَائِذِ بِكَ مِنَ الْقَطِيْعَةِ قَالَ أَلَا تَرْضَيْنَ أَنْ أَصِلَ مَنْ وَصَلَكِ وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ قَالَتْ بَلَى يَا رَبِّ قَالَ فَذَاكِ قَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ اقْرَءُوْا إِنْ شِئْتُمْ {فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوْا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوْآ أَرْحَامَكُمْ}.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করেন। এ থেকে তিনি নিস্ক্রান্ত হলে ‘রাহিম’ (রক্ত সম্পর্কে) দাঁড়িয়ে পরম করুণাময়ের আঁচল টেনে ধরল। তিনি তাকে বললেন, থামো। সে বলল, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী লোক থেকে আশ্রয় চাওয়ার জন্যই আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। আল্লাহ্ বললেন, যে তোমাকে সম্পর্কযুক্ত রাখে, আমিও তাকে সম্পর্কযুক্ত রাখব; আর যে তোমার হতে থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আমিও তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করব এতে কি তুমি খুশী নও? সে বলল, নিশ্চয়ই, হে আমার প্রভু। তিনি বললেন, যাও তোমার জন্য তাই করা হল। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, ইচ্ছে হলে তোমরা পড়, “ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বাঁধন ছিন্ন করবে।” [৪৮৩১, ৪৮৩২, ৫৯৮৭, ৭৫০২; মুসলিম ৪৫/৬, হাঃ ২৫৫৪] (আ.প্র. ৪৪৬৫, ই.ফা. ৪৪৬৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৩১
হাদিস নং ৪৮৩১
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنَا حَاتِمٌ عَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ حَدَّثَنِيْ عَمِّيْ أَبُو الْحُبَابِ سَعِيْدُ بْنُ يَسَارٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ بِهَذَا ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم اقْرَءُوْا إِنْ شِئْتُمْ {فَهَلْ عَسَيْتُمْ}.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
(এরপর তিনি বলেন) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ইচ্ছে হলে তোমরা পড় (ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বাঁধন ছিন্ন করবে।) [৪৮৩০] (আ.প্র. ৪৪৬৬, ই.ফা. ৪৪৬৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৩২
হাদিস নং ৪৮৩২
بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي الْمُزَرَّدِ بِهَذَا قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَاقْرَءُوْا إِنْ شِئْتُمْ {فَهَلْ عَسَيْتُمْ}. آسِنٍ مُتَغَيِّرٍ.
বর্ণনাকারী মু‘আবিয়াহ ইব্নু মুর্যারাদ (রাঃ)
(আবূ হুরাইরাহ বলেন) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ইচ্ছে হলে তোমরা পড়, (ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে)। অর্থাৎ آسِنٍঅর্থ পরিবর্তনশীল বা ময়লাযুক্ত। [৪৮৩০] (আ.প্র. ৪৪৬৭, ই.ফা. ৪৪৬৯)
৬৫/৪৮/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয় আমি আপনাকে এক প্রকাশ্য বিজয় দান করেছি (সূরাহ আল-ফাত্হ ৪৮/১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৩৩
হাদিস নং ৪৮৩৩
عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ عَنْ مَالِكٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَسِيْرُ فِيْ بَعْضِ أَسْفَارِهِ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَسِيْرُ مَعَهُ لَيْلًا فَسَأَلَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عَنْ شَيْءٍ فَلَمْ يُجِبْهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ سَأَلَهُ فَلَمْ يُجِبْهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَلَمْ يُجِبْهُ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ثَكِلَتْ أُمُّ عُمَرَ نَزَرْتَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثَ مَرَّاتٍ كُلَّ ذَلِكَ لَا يُجِيْبُكَ قَالَ عُمَرُ فَحَرَّكْتُ بَعِيْرِيْ ثُمَّ تَقَدَّمْتُ أَمَامَ النَّاسِ وَخَشِيْتُ أَنْ يُنْزَلَ فِيَّ قُرْآنٌ فَمَا نَشِبْتُ أَنْ سَمِعْتُ صَارِخًا يَصْرُخُ بِيْ فَقُلْتُ لَقَدْ خَشِيْتُ أَنْ يَكُوْنَ نَزَلَ فِيَّ قُرْآنٌ فَجِئْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ لَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيَّ اللَّيْلَةَ سُوْرَةٌ لَهِيَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ ثُمَّ قَرَأَ {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِيْنًا}.
বর্ণনাকারী আসলাম (রাঃ)
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতের বেলা কোন এক সফরে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ)-ও চলছিলেন। ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) তাঁকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করলেন, কিন্তু রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে কোন উত্তর দিলেন না। তিনি আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না। তারপর তিনি আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, এবারও তিনি কোন উত্তর দিলেন না। তখন ‘উমার (রাঃ) (নিজেকে) বললেন, উমরের মা হারিয়ে যাক। তুমি তিনবার রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রশ্ন করলে, কিন্তু একবারও তিনি তোমার জবাব দিলেন না। ‘উমার (রাঃ) বলেন, তারপর আমি আমার উটটি দ্রুতবেগে চালিয়ে লোকদের আগে চলে গেলাম এবং আমার ব্যাপারে কুরআন নাযিলের আশংকা করলাম। অধিকক্ষণ হয়নি, তখন শুনলাম এক আহ্বানকারী আমাকে ডাকছে। আমি (মনে মনে) বললাম, আমি তো আশংকা করছিলাম যে, আমার ব্যাপারে কোন আয়াত অবতীর্ণ হতে পারে। তারপর আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, আজ রাতে আমার উপর এমন একটি সূরাহ নাযিল হয়েছে, যা আমার কাছে, এই পৃথিবী, যার ওপর সূর্য উদিত হয়,তা থেকেও অধিক প্রিয়। তারপর তিনি পাঠ করলেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়। [৪১৭৭] (আ.প্র. ৪৪৬৮, ই.ফা. ৪৪৭০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৩৪
হাদিস নং ৪৮৩৪
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ سَمِعْتُ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِيْنًا} قَالَ الْحُدَيْبِيَةُ.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا “এর দ্বারা হুদাইবিয়াহ্র সন্ধি বোঝানো হয়েছে। [৪১৭২] (আ.প্র. , ই.ফা. ৪৪৭১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৩৫
হাদিস নং ৪৮৩৫
مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ قُرَّةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ قَرَأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ سُوْرَةَ الْفَتْحِ فَرَجَّعَ فِيْهَا قَالَ مُعَاوِيَةُ لَوْ شِئْتُ أَنْ أَحْكِيَ لَكُمْ قِرَاءَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَفَعَلْتُ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মুগাফ্ফাল (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাক্কাহ বিজয়ের দিন সূরাহ ফাতহ্ সমধুর কণ্ঠে পাঠ করেন। মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ) বলেন, আমি ইচ্ছে করলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কিরাআত তোমাদের নকল করে শোনাতে পারি। [৪২৮১] (আ.প্র. ৪৪৬৯, ই.ফা. ৪৪৭২)
৬৫/৪৮/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৩৬
হাদিস নং ৪৮৩৬
صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا زِيَادٌ هُوَ ابْنُ عِلَاقَةَ أَنَّهُ سَمِعَ الْمُغِيْرَةَ يَقُوْلُ قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى تَوَرَّمَتْ قَدَمَاهُ فَقِيْلَ لَهُ غَفَرَ اللهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ أَفَلَا أَكُوْنُ عَبْدًا شَكُوْرًا.
বর্ণনাকারী মুগীরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এত অধিক সলাত আদায় করতেন যে, তাঁর পদযুগল ফুলে যেতো। তাঁকে বলা হলো, আল্লাহ্ তো আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের ত্র“টিসমূহ মার্জনা করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না? [১১৩০] (আ.প্র. ৪৪৭০, ই.ফা. ৪৪৭৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৩৭
হাদিস নং ৪৮৩৭
الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيْزِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ سَمِعَ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُوْمُ مِنْ اللَّيْلِ حَتَّى تَتَفَطَّرَ قَدَمَاهُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ لِمَ تَصْنَعُ هَذَا يَا رَسُوْلَ اللهِ وَقَدْ غَفَرَ اللهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ أَفَلَا أُحِبُّ أَنْ أَكُوْنَ عَبْدًا شَكُوْرًا فَلَمَّا كَثُرَ لَحْمُهُ صَلَّى جَالِسًا فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ فَقَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আল্লাহ্র নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাতে এত অধিক সলাত আদায় করতেন যে, তাঁর পদযুগল ফেটে যেতো। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আল্লাহ্ তো আপনার আগের ও পরের ত্র“টিসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন? তবু আপনি কেন তা করছেন? তিনি বললেন, আমি কি আল্লাহ্র কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়া পছন্দ করব না? তাঁর মেদ বর্ধিত হলে তিনি বসে সলাত আদায় করতেন। যখন রুকু করার ইচ্ছে করতেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়তেন, তারপর রুকূ‘ করতেন। [১১১৮] (আ.প্র. ৪৪৭১, ই.ফা. ৪৪৭৪)
[১] অর্থাৎ তিনি বার্ধক্যে পৌঁছলে।
৬৫/৪৮/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আমি তো আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্য প্রদানকারী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। (সূরাহ আল-ফাত্হ ৪৮/৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৩৮
হাদিস নং ৪৮৩৮
عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ أَبِيْ سَلَمَةَ عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِيْ هِلَالٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ هَذِهِ الْآيَةَ الَّتِيْ فِي الْقُرْآنِ {يٰٓأَيُّهَا النَّبِيُّإِنَّآ أَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْرًا لا} قَالَ فِي التَّوْرَاةِ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَحِرْزًا لِلْأُمِّيِّيْنَ أَنْتَ عَبْدِيْ وَرَسُوْلِيْ سَمَّيْتُكَ الْمُتَوَكِّلَ لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غَلِيْظٍ وَلَا سَخَّابٍ بِالأَسْوَاقِ وَلَا يَدْفَعُ السَّيِّئَةَ بِالسَّيِّئَةِ وَلَكِنْ يَعْفُوْ وَيَصْفَحُ وَلَنْ يَقْبِضَهُ اللهُ حَتَّى يُقِيْمَ بِهِ الْمِلَّةَ الْعَوْجَاءَ بِأَنْ يَقُوْلُوْا لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ فَيَفْتَحَ بِهَا أَعْيُنًا عُمْيًا وَآذَانًا صُمًّا وَقُلُوْبًا غُلْفًا
বর্ণনাকারী ‘আম্র ইব্নু আস (রাঃ)
কুরআনের এ আয়াত, “আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে” তাওরাতে আল্লাহ্ এভাবে বলেছেন, হে নাবী, আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও উম্মী লোকদের মুক্তি দাতারূপে। তুমি আমার বান্দা ও রসূল। আমি তোমার নাম রেখেছি নির্ভরকারী যে রূঢ় ও কঠোরচিত্ত নয়, বাজারে শোরগোলকারী নয় এবং মন্দ মন্দ দ্বারা প্রতিহতকারীও নয়; বরং তিনি ক্ষমা করবেন এবং উপেক্ষা করবেন। বক্র জাতিকে সোজা না করা পর্যন্ত আল্লাহ্ তাঁর জান কবয করবেন না। তা এভাবে যে, তারা বলবে, আল্লাহ্ ব্যতীত ইলাহ নেই। ফলে খুলে যাবে অন্ধ চোখ, বধির কান এবং পর্দায় ঢাকা অন্তরসমূহ। [২১২৫] (আ.প্র. ৪৪৭২, ই.ফা. ৪৪৭৫)
৬৫/৪৮/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তিনি মু’মিনদের অন্তরে প্রশান্তি দান করেন। (সূরাহ আল-ফাত্হ ৪৮/৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৩৯
হাদিস নং ৪৮৩৯
عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوْسَى عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ وَفَرَسٌ لَهُ مَرْبُوْطٌ فِي الدَّارِ فَجَعَلَ يَنْفِرُ فَخَرَجَ الرَّجُلُ فَنَظَرَ فَلَمْ يَرَ شَيْئًا وَجَعَلَ يَنْفِرُ فَلَمَّا أَصْبَحَ ذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ السَّكِيْنَةُ تَنَزَّلَتْ بِالْقُرْآنِ.
বর্ণনাকারী বারাআ (রহ.)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জনৈক সহাবী কিরাআত করছিলেন। তাঁর একটি ঘোড়া ঘরে বাঁধা ছিল। হঠাৎ তা পালাতে লাগলো। সে ব্যক্তি বেরিয়ে এসে দৃষ্টিপাত করলেন; কিন্তু কিছুই দেখতে পেলেন না। ঘোড়াটি পালিয়েই যাচ্ছিল। যখন ভোর হলো তখন তিনি ঘটনাটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ব্যক্ত করলে তিনি বললেন, এ হলো সেই প্রশান্তি, যা কুরআন তিলাওয়াত করার সময় অবতীর্ণ হয়ে থাকে। [৩৬১৪] (আ.প্র. ৪৪৭৩, ই.ফা. ৪৪৭৬)
[১] কুরআন তিলাওয়াতের কারণে মালায়িকাহ নাযিল হয়েছিল যাঁদের দেখে ঘোড়া পালাচ্ছিল।
৬৫/৪৮/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করল। (সূরাহ আল-ফাত্হ ৪৮/১৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৪০
হাদিস নং ৪৮৪০
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ جَابِرٍ قَالَ كُنَّا يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ أَلْفًا وَأَرْبَعَ مِائَةٍ
বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)
তিনি বলেন, হুদাইবিয়াহ্র (সন্ধির) দিন আমরা এক হাজার চারশ’ লোক ছিলাম। [৩৫৭৬] (আ.প্র. ৪৪৭৪, ই.ফা. ৪৪৭৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৪১
হাদিস নং ৪৮৪১
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا شَبَابَةُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ صُهْبَانَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ الْمُزَنِيِّ إِنِّيْ مِمَّنْ شَهِدَ الشَّجَرَةَ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْخَذْفِ
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাগাফ্ফাল মুযানী (রাঃ)
(যিনি সন্ধির সময় উপস্থিত ছিলেন) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই আঙ্গুলের মাঝে কাঁকর নিয়ে নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন। [৫৪৭৯, ৬২২০] (আ.প্র. ৪৪৭৫, ই.ফা. ৪৪৭৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৪২
হাদিস নং ৪৮৪২
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ صُهْبَانَ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ مُغَفَّلٍ الْمُزَنِيَّ فِي الْبَوْلِ فِي الْمُغْتَسَلِ
বর্ণনাকারী ‘উক্বাহ ইব্নু সুহ্বান (রহ.)
আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মুগাফ্ফাল মুযানী (রাঃ)-কে গোসলখানায় প্রস্রাব করা সম্পর্কে বর্ণনা করতে শুনেছি। (আ.প্র. ৪৪৭৫, ই.ফা. ৪৪৭৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৪৩
হাদিস নং ৪৮৪৩
مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيْدِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خَالِدٍ عَنْ أَبِيْ قِلَابَةَ عَنْ ثَابِتِ بْنِ الضَّحَّاكِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ.
বর্ণনাকারী সাবিত ইব্নু দাহ্হাক (রাঃ)
তিনিও বৃক্ষতলে বায়আতকারী সহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। [১৩৬৩] (আ.প্র. ৪৪৭৬, ই.ফা. ৪৪৭৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৪৪
হাদিস নং ৪৮৪৪
أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ السُّلَمِيُّ حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ سِيَاهٍ عَنْ حَبِيْبِ بْنِ أَبِيْ ثَابِتٍ قَالَ أَتَيْتُ أَبَا وَائِلٍ أَسْأَلُهُ فَقَالَ كُنَّا بِصِفِّيْنَ فَقَالَ رَجُلٌ أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ يُدْعَوْنَ إِلَى كِتَابِ اللهِ فَقَالَ عَلِيٌّ نَعَمْ فَقَالَ سَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ اتَّهِمُوْا أَنْفُسَكُمْ فَلَقَدْ رَأَيْتُنَا يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ يَعْنِي الصُّلْحَ الَّذِيْ كَانَ بَيْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالْمُشْرِكِيْنَ وَلَوْ نَرَى قِتَالًا لَقَاتَلْنَا فَجَاءَ عُمَرُ فَقَالَ أَلَسْنَا عَلَى الْحَقِّ وَهُمْ عَلَى الْبَاطِلِ أَلَيْسَ قَتْلَانَا فِي الْجَنَّةِ وَقَتْلَاهُمْ فِي النَّارِ قَالَ بَلَى قَالَ فَفِيْمَ نُعْطِي الدَّنِيَّةَ فِيْ دِيْنِنَا وَنَرْجِعُ وَلَمَّا يَحْكُمِ اللهُ بَيْنَنَا فَقَالَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ إِنِّيْ رَسُوْلُ اللهِ وَلَنْ يُضَيِّعَنِي اللهُ أَبَدًا فَرَجَعَ مُتَغَيِّظًا فَلَمْ يَصْبِرْ حَتَّى جَاءَ أَبَا بَكْرٍ فَقَالَ يَا أَبَا بَكْرٍ أَلَسْنَا عَلَى الْحَقِّ وَهُمْ عَلَى الْبَاطِلِ قَالَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ إِنَّهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَلَنْ يُضَيِّعَهُ اللهُ أَبَدًا فَنَزَلَتْ سُوْرَةُ الْفَتْحِ.
বর্ণনাকারী হাবীব ইব্নু আবূ সাবিত (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি আবূ ওয়ায়িল (রাঃ)-এর কাছে কিছু জিজ্ঞেস করার জন্য এলে, তিনি বললেন, আমরা সিফ্ফীনের ময়দানে ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি বললেন, তোমরা কি সে লোকদেরকে দেখতে পাচ্ছ না, যাদের আল্লাহ্র কিতাবের দিকে আহ্বান করা হচ্ছে? ‘আলী (রাঃ) বললেন, হাঁ। তখন সাহ্ল ইব্নু হুনায়ফ (রাঃ) বললেন, প্রথমে তোমরা নিজেদের খবর নাও। হুদায়বিয়াহ্র দিন অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং মাক্কাহ্র মুশরিকদের মধ্যে যে সন্ধি হয়েছিল, আমরা সেটা দেখেছি। যদি আমরা একে যুদ্ধ মনে করতাম, তাহলে অবশ্যই আমরা যুদ্ধ করতাম। সেদিন ‘উমার (রাঃ) রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে) এসে বলেছিলেন, আমরা কি হাকের উপর নই, আর তারা কি বাতিলের উপর নয়? আমাদের নিহত ব্যক্তিরা জান্নাতে, আর তাদের নিহত ব্যক্তিরা কি জাহান্নামে যাবে না? তিনি বললেন, হাঁ। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, তাহলে কেন আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অপমানজনক শর্তারোপ করা হবে এবং আমরা ফিরে যাব? অথচ আল্লাহ্ আমাদেরকে এ সন্ধির ব্যাপারে হুকুম করেননি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! আমি আল্লাহ্র রসূল। আল্লাহ্ কখনো আমাকে ধ্বংস করবেন না। ‘উমার রাগে মনে দুঃখ নিয়ে ফিরে গেলেন। তিনি ধৈর্য ধরতে পারলেন না। তারপর তিনি আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাঃ)-এর কাছে গেলেন এবং বললেন, হে আবূ বাক্র! আমরা কি হাকের উপর নই এবং তারা কি বাতিলের উপর নয়? তিনি বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহ্র রসূল। আল্লাহ্ কক্ষণো তাঁকে ধ্বংস করবেন না। এ সময় সূরাহ ফাতহ্ অবতীর্ণ হয়। [৩১৮১] (আ.প্র. ৪৪৭৭, ই.ফা. ৪৪৮০)
৬৫/৪৯/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা উঁচু করো না তোমাদের কণ্ঠস্বর নাবীর কণ্ঠস্বরের উপর। (সূরাহ হুজুরাত ৪৯/২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৪৫
হাদিস নং ৪৮৪৫
يَسَرَةُ بْنُ صَفْوَانَ بْنِ جَمِيْلٍ اللَّخْمِيُّ حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ قَالَ كَادَ الْخَيِّرَانِ أَنْ يَهْلِكَا أَبُوْ بَكْرٍ وَعُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا رَفَعَا أَصْوَاتَهُمَا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِيْنَ قَدِمَ عَلَيْهِ رَكْبُ بَنِيْ تَمِيْمٍ فَأَشَارَ أَحَدُهُمَا بِالأَقْرَعِ بْنِ حَابِسٍ أَخِيْ بَنِيْ مُجَاشِعٍ وَأَشَارَ الْآخَرُ بِرَجُلٍ آخَرَ قَالَ نَافِعٌ لَا أَحْفَظُ اسْمَهُ فَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ لِعُمَرَ مَا أَرَدْتَ إِلَّا خِلَافِيْ قَالَ مَا أَرَدْتُ خِلَافَكَ فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا فِيْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللهُ {يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَرْفَعُوْآ أَصْوَاتَكُمْ} الْآيَةَ قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ فَمَا كَانَ عُمَرُ يُسْمِعُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ هَذِهِ الْآيَةِ حَتَّى يَسْتَفْهِمَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ ذَلِكَ عَنْ أَبِيْهِ يَعْنِيْ أَبَا بَكْرٍ.
বর্ণনাকারী ইব্নু আবূ মুলায়কাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, উত্তম দু’ ব্যক্তি- আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে কণ্ঠস্বর উঁচু করে ধ্বংস হওয়ার দ্বার প্রান্তে উপনীত হয়েছিলেন। যখন বানী তামীম গোত্রের একদল লোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসেছিল। তাদের একজন বানী মাজাশে গোত্রের আকরা ইব্নু হাবিসকে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তাব করল এবং অপরজন অন্য জনের নাম প্রস্তাব করল। নাফি বলেন, এ লোকটির নাম আমার মনে নেই। তখন আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাঃ) ‘উমার (রাঃ)-কে বললেন, আপনার ইচ্ছে হলো কেবল আমার বিরোধিতা করা। তিনি বললেন, না, আপনার বিরোধিতা করার ইচ্ছে আমার নেই। এ ব্যাপারটি নিয়ে তাঁদের আওয়াজ উঁচু হয়ে গেল। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, “হে মু’মিনগণ! তোমরা নাবীর গলার আওয়াজের উপর নিজেদের গলার আওয়াজ উঁচু করবে না”.....শেষ পর্যন্ত।ইব্নু যুবায়র (রাঃ) বলেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর ‘উমার (রাঃ) এ তো আস্তে কথা বলতেন যে, দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা শুনতে পেতেন না। তিনি আবূ বাক্র (রাঃ) সম্পর্কে এমন কথা বর্ণনা করেননি। [৪৩৬৭] (আ.প্র. ৪৪৭৮, ই.ফা. ৪৪৮১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৪৬
হাদিস নং ৪৮৪৬
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ سَعْدٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ قَالَ أَنْبَأَنِيْ مُوْسَى بْنُ أَنَسٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم افْتَقَدَ ثَابِتَ بْنَ قَيْسٍ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنَا أَعْلَمُ لَكَ عِلْمَهُ فَأَتَاهُ فَوَجَدَهُ جَالِسًا فِيْ بَيْتِهِ مُنَكِّسًا رَأْسَهُ فَقَالَ لَهُ مَا شَأْنُكَ فَقَالَ شَرٌّ كَانَ يَرْفَعُ صَوْتَهُ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَأَتَى الرَّجُلُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ قَالَ كَذَا وَكَذَا فَقَالَ مُوْسَى فَرَجَعَ إِلَيْهِ الْمَرَّةَ الْآخِرَةَ بِبِشَارَةٍ عَظِيْمَةٍ فَقَالَ اذْهَبْ إِلَيْهِ فَقُلْ لَهُ إِنَّكَ لَسْتَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ وَلَكِنَّكَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ.
বর্ণনাকারী আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাবিত ইব্নু কায়স (রাঃ)-কে খুঁজে পেলেন না। একজন সহাবী বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমি আপনার কাছে তাঁর সংবাদ নিয়ে আসছি। তারপর লোকটি তাঁর কাছে গিয়ে দেখলেন যে, তিনি তাঁর ঘরে মাথা নীচু করে বসে আছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কী অবস্থা? তিনি বললেন, খারাপ। কারণ এই (অধম) তার আওয়াজ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আওয়াজের চেয়ে উঁচু করে কথা বলত। ফলে, তার ‘আমাল বরবাদ হয়ে গেছে এবং সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। তারপর লোকটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ফিরে এসে খবর দিলেন যে, তিনি এমন এমন কথা বলছেন। মূসা বলেন, এরপর লোকটি এক মহাসুসংবাদ নিয়ে তাঁর কাছে ফিরে গেলেন (এবং বললেন) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেন, তুমি যাও এবং তাকে বল, তুমি জাহান্নামী নও, বরং তুমি জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত। [৩৬১৩] (আ.প্র. ৪৪৭৮, ই.ফা. ৪৪৮২)
৬৫/৪৯/২.অধ্যায়ঃ
‘‘যারা ঘরের পেছন থেকে আপনাকে চিৎকার করে ডাকে, তাদের অধিকাংশই অবুঝ।’’ (সূরাহ আল-হুজুরাত ৪৯/৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৪৭
হাদিস নং ৪৮৪৭
الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِيْ مُلَيْكَةَ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ أَخْبَرَهُمْ أَنَّهُ قَدِمَ رَكْبٌ مِنْ بَنِيْ تَمِيْمٍ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ أَمِّرْ الْقَعْقَاعَ بْنَ مَعْبَدٍ وَقَالَ عُمَرُ بَلْ أَمِّرْ الْأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ فَقَالَ أَبُوْ بَكْرٍ مَا أَرَدْتَ إِلَى أَوْ إِلَّا خِلَافِيْ فَقَالَ عُمَرُ مَا أَرَدْتُ خِلَافَكَ فَتَمَارَيَا حَتَّى ارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا فَنَزَلَ فِيْ ذَلِكَ {يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تُقَدِّمُوْا بَيْنَ يَدَيْ اللهِ وَرَسُوْلِهٰ}حَتَّى انْقَضَتْ الآيَةُ.
বর্ণনাকারী ইব্নু আবূ মুলাইকাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, “আবদুল্লাহ্ ইব্নু যুবায়র (রাঃ) তাদেরকে জানিয়েছেন যে, একবার বানী তামীম গোত্রের একদল লোক সাওয়ার হয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলেন। আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাঃ) বললেন, কা’কা ইব্নু মাবাদ (রাঃ)-কে ‘আমীর বানানো হোক এবং ‘উমার (রাঃ) বললেন, আকরা ইব্নু হাবিস (রাঃ)-কে আমীর নিয়োগ করা হোক। তখন আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাঃ) বললেন, আপনার ইচ্ছে হলো কেবল আমার বিরোধিতা করা। উত্তরে ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি আপনার বিরোধিতা করার ইচ্ছে করিনি। এ নিয়ে তাঁরা পরস্পর তর্ক-বিতর্ক করতে লাগলেন, এক পর্যায়ে তাদের আওয়াজ উঁচু হয়ে গেল। এ উপলক্ষে আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেন, “হে মু’মিনগণ! আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের সমক্ষে তোমরা কোন বিষয়ে অগ্রণী হয়ো না.....আয়াত শেষ। [৪৩৬৭] (আ.প্র. ৪৪৮০, ই.ফা. ৪৪৮৩)
৬৫/৪৯/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ যদি তারা ধৈর্যধারণ করত তাদের কাছে আপনার বের হয়ে আসা পর্যন্ত, তবে তা হত তাদের জন্যে উত্তম। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরাহ আল-হুজুরাত ৪৯/৫)
৬৫/৫০/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ সে বলবে, আরও কিছু আছে কি? (সূরাহ ক্বাফ ৫০/৩০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৪৮
হাদিস নং ৪৮৪৮
عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي الْأَسْوَدِ حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ يُلْقَى فِي النَّارِ وَتَقُوْلُ هَلْ مِنْ مَزِيْدٍ حَتَّى يَضَعَ قَدَمَهُ فَتَقُوْلُ قَطْ قَطْ.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হলে জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? শেষে আল্লাহ্ তাঁর পা সেখানে রাখবেন, তখন সে বলবে, আর না, আর না। [৬৬৬১, ৭৩৮৪] (আ.প্র. ৪৪৮১, ই.ফা. ৪৪৮৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৪৯
হাদিস নং ৪৮৪৯
مُحَمَّدُ بْنُ مُوْسَى الْقَطَّانُ حَدَّثَنَا أَبُوْ سُفْيَانَ الْحِمْيَرِيُّ سَعِيْدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا عَوْفٌ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَفَعَهُ وَأَكْثَرُ مَا كَانَ يُوْقِفُهُ أَبُوْ سُفْيَانَ يُقَالُ لِجَهَنَّمَ هَلْ امْتَلَأْتِ وَتَقُوْلُ هَلْ مِنْ مَزِيْدٍ فَيَضَعُ الرَّبُّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَدَمَهُ عَلَيْهَا فَتَقُوْلُ قَطْ قَطْ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তবে আবূ সুফ্ইয়ান এ হাদীসটিকে অধিকাংশ সময় মওকূফ হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জাহান্নামকে বলা হবে, তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? তখন আল্লাহ্ রব্বুল ‘আলামীন নিজ পা তাতে রাখবেন। তখন জাহান্নাম বলবে, আর নয়, আর নয়। [১৪৪৯, ৪৮৫০] (আ.প্র. ৪৪৮২, ই.ফা. ৪৪৮৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৫০
হাদিস নং ৪৮৫০
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم تَحَاجَّتْ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَقَالَتْ النَّارُ أُوْثِرْتُ بِالْمُتَكَبِّرِيْنَ وَالْمُتَجَبِّرِيْنَ وَقَالَتْ الْجَنَّةُ مَا لِيْ لَا يَدْخُلُنِيْ إِلَّا ضُعَفَاءُ النَّاسِ وَسَقَطُهُمْ قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لِلْجَنَّةِ أَنْتِ رَحْمَتِيْ أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِيْ وَقَالَ لِلنَّارِ إِنَّمَا أَنْتِ عَذَابِيْ أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِيْ وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا مِلْؤُهَا فَأَمَّا النَّارُ فَلَا تَمْتَلِئُ حَتَّى يَضَعَ رِجْلَهُ فَتَقُوْلُ قَطْ قَطْ قَطْ فَهُنَالِكَ تَمْتَلِئُ وَيُزْوَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ وَلَا يَظْلِمُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ خَلْقِهِ أَحَدًا وَأَمَّا الْجَنَّةُ فَإِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يُنْشِئُ لَهَا خَلْقًا.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পর বিতর্ক করে। জাহান্নাম বলে দাম্ভিক ও পরাক্রমশালীদের দ্বারা আমাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। জান্নাত বলে, আমার কী হলো? আমাতে কেবল মাত্র দুর্বল এবং নিরীহ ব্যক্তিরাই প্রবেশ করছে। তখন আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা জান্নাতকে বলবেন, তুমি আমার রহমাত। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছে আমি অনুগ্রহ করব। আর তিনি জাহান্নামকে বলবেন, তুমি হলে আযাব। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছে শাস্তি দেব। জান্নাত ও জাহান্নাম প্রত্যেকের জন্যই রয়েছে পূর্ণতা। তবে জাহান্নাম পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না তিনি তাঁর পা তাতে রাখবেন। তখন সে বলবে, বাস, বাস, বাস। তখন জাহান্নাম পূর্ণ হয়ে যাবে এবং এর এক অংশ অপর অংশের সঙ্গে মুড়িয়ে দেয়া হবে। আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্টির কারো প্রতি যুল্ম করবেন না। অবশ্য আল্লাহ্ তা‘আলা জান্নাতের জন্য অন্য মাখলূক সৃষ্টি করবেন। [৪৮৪৯; মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৪৬, আহমাদ ৮১৭০] (আ.প্র. ৪৪৮৩, ই.ফা. ৪৪৮৬)
৬৫/৫০/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আপনার রবের প্রশংসা পবিত্রতা-মহিমা বর্ণনা করতে থাকুন সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে।(সূরাহ ক্বাফ ৫০/৩৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৫১
হাদিস নং ৪৮৫১
إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ جَرِيْرٍ عَنْ إِسْمَاعِيْلَ عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِيْ حَازِمٍ عَنْ جَرِيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ كُنَّا جُلُوْسًا لَيْلَةً مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَنَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ أَرْبَعَ عَشْرَةَ فَقَالَ إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا لَا تُضَامُوْنَ فِيْ رُؤْيَتِهِ فَإِنْ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوْا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوْعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوْبِهَا فَافْعَلُوْا ثُمَّ قَرَأَ {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوْعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوْبِ}.
বর্ণনাকারী জারীর ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একরাতে আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি চৌদ্দ তারিখের রাতের চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা যেমন এ চাঁদটি দেখতে পাচ্ছ, তেমনিভাবে তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে এবং তাঁকে দেখার ব্যাপারে বাধা বিঘœ হবে না। তাই তোমাদের সামর্থ্য থাকলে সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগের সলাতের ব্যাপারে প্রভাবিত হবে না। তারপর তিনি পাঠ করলেন, “আপনার রবের প্রশংসা, পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের পূর্বে” (সূরাহ ক্বাফ ৫০/৩৯)। [৫৫৪] (আ.প্র. ৪৪৮৪, ই.ফা. ৪৪৮৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৫২
হাদিস নং ৪৮৫২
آدَمُ حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ عَنْ ابْنِ أَبِيْ نَجِيْحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَمَرَهُ أَنْ يُسَبِّحَ فِيْ أَدْبَارِ الصَّلَوَاتِ كُلِّهَا يَعْنِيْ قَوْلَهُ {وَإِدْبَارَ السُّجُوْدِ}.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রত্যেক সলাতের পর তাঁর পবিত্রতা ঘোষণার আদেশ করেছেন। আল্লাহ্র বাণী ঃ وَإِدْبَارَ السُّجُودِ “এর দ্বারা তিনি এ অর্থ করেছেন।” (আ.প্র. ৪৪৮৫, ই.ফা. ৪৪৮৮)
৬৫/৫২/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৫৩
হাদিস নং ৪৮৫৩
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِيْ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ شَكَوْتُ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنِّيْ أَشْتَكِيْ فَقَالَ طُوْفِيْ مِنْ وَرَاءِ النَّاسِ وَأَنْتِ رَاكِبَةٌ فَطُفْتُ وَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيْ إِلَى جَنْبِ الْبَيْتِ يَقْرَأُ بِالطُّوْرِ وَكِتَابٍ مَسْطُوْرٍ.
বর্ণনাকারী উম্মু সালামাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে নিবেদন করলাম যে, আমি অসুস্থ। তিনি বললেন, তুমি সওয়ার হয়ে লোকদের পেছনে তাওয়াফ করে নাও। তখন আমি তাওয়াফ করলাম। এ সময় রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কা‘বার এক পার্শ্বে দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করছিলেন এবং وَاطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ তিলাওয়াত করছিলেন। [৪৬৪] (আ.প্র. ৪৪৮৬, ই.ফা. ৪৪৮৯)
৬৫/৫২/২.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৫৪
হাদিস নং ৪৮৫৪
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ حَدَّثُوْنِيْ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيْهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِالطُّوْرِ فَلَمَّا بَلَغَ هَذِهِ الْآيَةَ {أَمْ خُلِقُوْا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخٰلِقُوْنَ ط (35) أَمْ خَلَقُوا السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ ج بَلْ لَّا يُوْقِنُوْنَ ط (36) أَمْ عِنْدَهُمْ خَزَآئِنُ رَبِّكَ أَمْ هُمُ الْمُصَيْطِرُوْنَ ط (37)} قَالَ كَادَ قَلْبِيْ أَنْ يَطِيْرَ قَالَ سُفْيَانُ فَأَمَّا أَنَا فَإِنَّمَا سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيْهِ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِالطُّوْرِ وَلَمْ أَسْمَعْهُ زَادَ الَّذِيْ قَالُوْا
বর্ণনাকারী যুবায়র ইব্নু মুত‘ইম (রাঃ)
বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মাগরিবে সূরাহ তূর পাঠ করতে শুনেছি। যখন তিনি এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছেন তারা কি স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়েছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? আসমান-যমীন কি তারাই সৃষ্টি করেছে? আসলে তারা অবিশ্বাসী। আমার প্রতিপালকের ধনভাণ্ডার কি তাদের কাছে রয়েছে, না তারাই এ সমূদয়ের নিয়ন্তা তখন আমার অন্তর প্রায় উড়ে যাবার অবস্থা হয়েছিল। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, আমি যুহরীকে মুহাম্মদ ইব্নু জুবায়ির ইব্নু মুত‘ইমকে তার পিতার বর্ণনা করতে শুনেছি তার পিতা যুবায়র বলেছেন যে, যা আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মাগরিবে সূরাহ তূর পাঠ করতে শুনেছি। কিন্তু এর অতিরিক্ত আমি শুনিনি যা তাঁরা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। [৭৬৫] (আ.প্র. ৪৪৮৭, ই.ফা. ৪৪৯০)
৬৫/৫৩/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৫৫
হাদিস নং ৪৮৫৫
يَحْيَى حَدَّثَنَا وَكِيْعٌ عَنْ إِسْمَاعِيْلَ بْنِ أَبِيْ خَالِدٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ مَسْرُوْقٍ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا يَا أُمَّتَاهْ هَلْ رَأَى مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم رَبَّهُ فَقَالَتْ لَقَدْ قَفَّ شَعَرِيْ مِمَّا قُلْتَ أَيْنَ أَنْتَ مِنْ ثَلَاثٍ مَنْ حَدَّثَكَهُنَّ فَقَدْ كَذَبَ مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ كَذَبَ ثُمَّ قَرَأَتْ {لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ زوَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ جوَهُوَ اللَّطِيْفُ الْخَبِيْرُوَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُّكَلِّمَهُ اللهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِنْ وَّرَآءِ حِجَابٍ} وَمَنْ حَدَّثَكَ أَنَّهُ يَعْلَمُ مَا فِيْ غَدٍ فَقَدْ كَذَبَ ثُمَّ قَرَأَتْ {وَمَا تَدْرِيْ نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا} وَمَنْ حَدَّثَكَ أَنَّهُ كَتَمَ فَقَدْ كَذَبَ ثُمَّ قَرَأَتْ {يَٰٓأَيُّهَا الرَّسُوْلُ بَلِّغْ مَآ أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَّبِّكَ} الْآيَةَ وَلَكِنَّهُ رَأَى جِبْرِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَام فِيْ صُوْرَتِهِ مَرَّتَيْنِ.
বর্ণনাকারী মাসরূক (রহ.)
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আম্মা! মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি তাঁর রবকে দেখেছিলেন তিনি বললেন, তোমার কথায় আমার গায়ের পশম কাঁটা দিয়ে খাড়া হয়ে গেছে। তিনটি কথা সম্পর্কে তুমি কি জান না যে তোমাকে এ তিনটি কথা বলবে সে মিথ্যা বলবে। যদি কেউ তোমাকে বলে যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন, তাহলে সে মিথ্যাচারী। তারপর তিনি পাঠ করলেন, তিনি দৃষ্টিশক্তির অধিগম্য নহেন কিন্তু দৃষ্টিশক্তি তাঁর অধিগত; এবং তিনিই সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত” “মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ্ তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন, ওয়াহীর মাধ্যম ব্যতীত অথবা পর্দার আড়াল ছাড়া”। আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলবে যে, আগামীকাল কী হবে সে তা জানে, তাহলে সে মিথ্যাচারী। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, “কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে।” এবং তোমাকে যে বলবে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন কথা গোপন রেখেছেন, তাহলেও সে মিথ্যাচারী। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “হে রসূল! তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা প্রচার কর। হ্যাঁ, তবে রসূল জিব্রীল (‘আ.)-কে তাঁর নিজস্ব আকৃতিতে দু’বার দেখেছেন। [৩২৩৪] (আ.প্র. ৪৪৮৮, ই.ফা. ৪৪৯১)
৬৫/৫৩/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ অবশেষে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের দূরত্ব রইল অথবা আরও কম। (সূরাহ আন্-নাজম ৫৩/৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৫৬
হাদিস নং ৪৮৫৬
أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا الشَّيْبَانِيُّ قَالَ سَمِعْتُ زِرًّا عَنْ عَبْدِ اللهِ {فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنٰى (9) فَأَوْحٰىٓ إِلٰى عَبْدِهٰ مَآ أَوْحٰى ط} قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ مَسْعُوْدٍ أَنَّهُ رَأَى جِبْرِيْلَ لَهُ سِتُّ مِائَةِ جَنَاحٍ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى আয়াত দু’টোর ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইব্নু মাস‘উদ (রাঃ) বলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিব্রীল (‘আ.)-কে দেখেছেন। তাঁর ছয়’শ ডানা ছিল। [৩২৩২] (আ.প্র. ৪৪৮৯, ই.ফা. ৪৪৯২)
৬৫/৫৩/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তখন আল্লাহ স্বীয় বান্দার প্রতি যা ওয়াহী করার ছিল, তা ওয়াহী করলেন। (সূরাহ আন্-নাজম ৫৩/১০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৫৭
হাদিস নং ৪৮৫৭
طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ الشَّيْبَانِيِّ قَالَ سَأَلْتُ زِرًّا عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى {فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنٰى ج (9) فَأَوْحٰىٓ إِلٰى عَبْدِهٰ مَآ أَوْحٰى ط} قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم رَأَى جِبْرِيْلَ لَهُ سِتُّ مِائَةِ جَنَاحٍ.
বর্ণনাকারী শাইবানী (রহ.)
তিনি বলেন, আমি র্যির (রহ.)-কে আল্লাহ্র বাণী ঃ فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى فَأَوْحَى এর ব্যাখ্যার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমাকে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিব্রীল (‘আ.)-কে দেখেছেন। এ সময় তাঁর ডানা ছিল ছ’শ। [৩২৩২] (আ.প্র. ৪৪৯০, ই.ফা. ৪৪৯৩)
৬৫/৫৩/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তিনি তো স্বীয় রবের মহান নিদর্শনসমূহ দর্শন করেছেন। (সূরাহ আন্-নাজম ৫৩/১৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৫৮
হাদিস নং ৪৮৫৮
قَبِيْصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ {لَقَدْ رَاٰى مِنْ اٰيٰتِ رَبِّهِ الْكُبْرٰى} قَالَ رَأَى رَفْرَفًا أَخْضَرَ قَدْ سَدَّ الْأُفُقَ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি لَقَدْ رَأَى مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَى আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সবুজ একটি ‘রফরফ’ দেখেছিলেন যা পুরো আকাশ জুড়ে রেখেছিল। [৩২৩৩] (আ.প্র. ৪৪৯১, ই.ফা. ৪৪৯৪)
৬৫/৫৩/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উয্যা সম্বন্ধে। (সূরাহ আন্-নাজম ৫৩/১৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৫৯
হাদিস নং ৪৮৫৯
مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَشْهَبِ حَدَّثَنَا أَبُو الْجَوْزَاءِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فِيْ قَوْلِهِ {اللَّاتَ وَالْعُزّٰى} كَانَ اللَّاتُ رَجُلًا يَلُتُّ سَوِيْقَ الْحَاجِّ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি আল্লাহ্র বাণী اللاَّتَ وَالْعُزَّى এর ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে ‘লাত’ বলে এ ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যে হাজীদের জন্য ছাতু গুলত। (আ.প্র. ৪৪৯২, ই.ফা. ৪৪৯৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৬০
হাদিস নং ৪৮৬০
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ يُوْسُفَ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ حَلَفَ فَقَالَ فِيْ حَلِفِهِ وَاللَّاتِ وَالْعُزَّى فَلْيَقُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَمَنْ قَالَ لِصَاحِبِهِ تَعَالَ أُقَامِرْكَ فَلْيَتَصَدَّقْ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি কসম করে বলে যে, লাত ও উয্যার কসম, সে যেন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে। আর যে ব্যক্তি তার সাথীকে বলে, এসো আমি তোমার সঙ্গে জুয়া খেলব, তার সদাকাহ দেয়া কর্তব্য। [৬১০৭, ৬৩০১, ৬৬৫০; মুসলিম ২৭/২, হাঃ ১৬৪৭, আহমাদ ৮০৯৩] (আ.প্র. ৪৪৯৩, ই.ফা. ৪৪৯৬)
৬৫/৫৩/৬.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্বন্ধে? (সূরাহ আন্-নাজম ৫৩/২০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৬১
হাদিস নং ৪৮৬১
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ سَمِعْتُ عُرْوَةَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا فَقَالَتْ إِنَّمَا كَانَ مَنْ أَهَلَّ بِمَنَاةَ الطَّاغِيَةِ الَّتِيْ بِالْمُشَلَّلِ لَا يَطُوْفُوْنَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللهِ} فَطَافَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَالْمُسْلِمُوْنَ قَالَ سُفْيَانُ مَنَاةُ بِالْمُشَلَّلِ مِنْ قُدَيْدٍ وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَالِدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ نَزَلَتْ فِي الْأَنْصَارِ كَانُوْا هُمْ وَغَسَّانُ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمُوْا يُهِلُّوْنَ لِمَنَاةَ مِثْلَهُ وَقَالَ مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ كَانَ رِجَالٌ مِنَ الْأَنْصَارِ مِمَّنْ كَانَ يُهِلُّ لِمَنَاةَ وَمَنَاةُ صَنَمٌ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِيْنَةِ قَالُوْا يَا نَبِيَّ اللهِ كُنَّا لَا نَطُوْفُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ تَعْظِيْمًا لِمَنَاةَ نَحْوَهُ.
বর্ণনাকারী ‘উরওয়াহ (রহ.)
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, মুশাল্লাল নামক স্থানে অবস্থিত মানাত দেবীর নামে যারা ইহ্রাম বাঁধতো, তারা সাফা ও মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করতো না। তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, “সাফা ও মারওয়া আল্লাহ্র নিদর্শনসমূহের অন্যতম।” এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও মুসলিমগণ তাওয়াফ করলেন। সুফ্য়ান (রহ.) বলেন, ‘মানাত’ কুদায়দ-এর মুশাল্লাল-এ অবস্থিত ছিল। অপর এক বর্ণনায় আবদুর রহমান ইব্নু খালিদ (রহ.).....‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াতটি আনসারদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। ইসলাম গ্রহণের আগে আনসার ও গাস্সান গোত্রের লোকেরা মানাতের নামে ইহ্রাম বাঁধতো। হাদীসের বাকী অংশ সুফ্য়ানের বর্ণনার মতই। অপর এক সূত্রে মা‘মার (রহ.).....‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারদের কতক লোক মানাতের নামে ইহ্রাম বাঁধতো, মানাত মাক্কাহ ও মাদীনাহ্র মাঝে রাখা একটি দেবমূর্তি। তারা বললেন, হে আল্লাহ্র নাবী! মানাতের সম্মানার্থে আমরা সাফা ও মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করতাম না। এ হাদীসটি আগের হাদীসেরই মত। [১৬৪৩] (আ.প্র. ৪৪৯৪, ই.ফা. ৪৪৯৭)
৬৫/৫৩/৭.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ অতএব আল্লাহ্কে সাজদাহ্ কর এবং তাঁরই ‘ইবাদাত কর। (সূরাহ আন্-নাজম ৫৩/৬২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৬২
হাদিস নং ৪৮৬২
أَبُوْ مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا أَيُّوْبُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ سَجَدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالنَّجْمِ وَسَجَدَ مَعَهُ الْمُسْلِمُوْنَ وَالْمُشْرِكُوْنَ وَالْجِنُّ وَالإِنْسُ تَابَعَهُ إِبْرَاهِيْمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنْ أَيُّوْبَ وَلَمْ يَذْكُرِ ابْنُ عُلَيَّةَ ابْنَ عَبَّاسٍ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূরাহ নাজমের মধ্যে সাজদাহ্ করলেন এবং তাঁর সঙ্গে মুসলিম, মুশরিক, জিন ও মানব সবাই সাজদাহ্ করল। আইয়ুব (রহ.)-এর সূত্রে ইব্রাহীম ইব্নু তাহ্মান (রহ.) উপরোক্ত বর্ণনার অনুসরণ করেছেন; তবে ইব্নু উলাইয়াহ (রহ.) আইয়ূব (রহ.)-এর সূত্রে ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কথা উল্লেখ করেননি। [১০৭১] (আ.প্র. ৪৪৯৫, ই.ফা. ৪৪৯৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৬৩
হাদিস নং ৪৮৬৩
نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ أَخْبَرَنِيْ أَبُوْ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيْلُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيْدَ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَوَّلُ سُوْرَةٍ أُنْزِلَتْ فِيْهَا سَجْدَةٌ وَالنَّجْمِ قَالَ فَسَجَدَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَسَجَدَ مَنْ خَلْفَهُ إِلَّا رَجُلًا رَأَيْتُهُ أَخَذَ كَفًّا مِنْ تُرَابٍ فَسَجَدَ عَلَيْهِ فَرَأَيْتُهُ بَعْدَ ذَلِكَ قُتِلَ كَافِرًا وَهُوَ أُمَيَّةُ بْنُ خَلَفٍ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, সাজদাহ্র আয়াত সম্বলিত অবতীর্ণ হওয়া সর্বপ্রথম সূরাহ হলো আন-নাজম। এ সূরার মধ্যে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাজদাহ্ করলেন এবং সাজদাহ্ করল তাঁর পেছনের সকল লোক। তবে এক ব্যক্তিকে আমি দেখলাম, এক মুঠ মাটি হাতে তুলে তাতে সাজদাহ্ করছে। এরপর আমি তাকে কাফের অবস্থায় নিহত হতে দেখেছি। সে হল ‘উমাইয়াহ ইব্নু খাল্ফ। [১০৬৭] (আ.প্র. ৪৪৯৬, ই.ফা. ৪৪৯৯)
৬৫/৫৪/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হয়ে গেছে। তারা যদি কোন মু‘জিযা দেখে, তবে মুখ ফিরিয়ে নেয়। (সূরাহ আল-কামার ৫৪/১-২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৬৪
হাদিস নং ৪৮৬৪
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ وَسُفْيَانَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ أَبِيْ مَعْمَرٍ عَنْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ انْشَقَّ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِرْقَتَيْنِ فِرْقَةً فَوْقَ الْجَبَلِ وَفِرْقَةً دُوْنَهُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم اشْهَدُوْا.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইব্নু মাসউদ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সময় চাঁদ খণ্ডিত হয়েছে। এর এক খণ্ড পর্বতের উপর এবং অপর খণ্ড পর্বতের নিচে পড়েছিল। তখন রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমরা সাক্ষী থাক। [৩৬৩৬] (আ.প্র. ৪৪৯৭, ই.ফা. ৪৫০০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৬৫
হাদিস নং ৪৮৬৫
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِيْ نَجِيْحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِيْ مَعْمَرٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ انْشَقَّ الْقَمَرُ وَنَحْنُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَصَارَ فِرْقَتَيْنِ فَقَالَ لَنَا اشْهَدُوا اشْهَدُوْا.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, চন্দ্র বিদীর্ণ হল। এ সময় আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। তা দু’টুকরো হয়ে গেল। তখন তিনি আমাদের বললেন, তোমরা সাক্ষী থাক, তোমরা সাক্ষী থাক। [৩৬৩৬] (আ.প্র. ৪৪৯৮, ই.ফা. ৪৫০১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৬৬
হাদিস নং ৪৮৬৬
يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ بَكْرٌ عَنْ جَعْفَرٍ عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُوْدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ انْشَقَّ الْقَمَرُ فِيْ زَمَانِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কালে চাঁদ খণ্ডিত হয়েছিল। [৩৬৩৮] (আ.প্র. ৪৪৯৯, ই.ফা. ৪৫০২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৬৭
হাদিস নং ৪৮৬৭
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يُوْنُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَأَلَ أَهْلُ مَكَّةَ أَنْ يُرِيَهُمْ آيَةً فَأَرَاهُمْ انْشِقَاقَ الْقَمَرِ.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, মাক্কাহ্বাসীরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে একটি নিদর্শন দেখাতে বলল। তখন তিনি তাদেরকে চাঁদ খণ্ডিত করে দেখালেন। [৩৬৩৭] (আ.প্র. ৪৫০০, ই.ফা. ৪৫০৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৬৮
হাদিস নং ৪৮৬৮
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ انْشَقَّ الْقَمَرُ فِرْقَتَيْنِ
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, চন্দ্র দু’ খণ্ডে খণ্ডিত হয়েছিল। [৩৬৩৭] (আ.প্র. ৪৫০১, ই.ফা. ৪৫০৪)
৬৫/৫৪/২. .অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ যা চলত আমার চোখের সামনে। এটা ছিল তার জন্য পুরস্কার, যাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। আর আমি একে এক নিদর্শনরূপে রেখে দিয়েছি, অতএব কোন নাসীহাত গ্রহণকারী আছে কি? (সূরাহ আল-কামার ৫৪/১৪-১৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৬৯
হাদিস নং ৪৮৬৯
حَفْصُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ {فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍ}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ পড়তেন। [৩৩৪১; মুসলিম ৫০/হাঃ ৮২৩, আহমাদ ৩৮৫৩] (আ.প্র. ৪৫০২, ই.ফা. ৪৫০৫)
৬৫/৫৪/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আর আমি তো কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি নাসীহাত গ্রহণের জন্য; অতএব কোন নাসীহাত গ্রহণকারী আছে কি? (সূরাহ আল-কামার ৫৪/১৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৭০
হাদিস নং ৪৮৭০
مُسَدَّدٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّه كَانَ يَقْرَأُ {فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍ}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ পড়তেন। [৩৩৪১] (আ.প্র. ৪৫০৩, ই.ফা. ৪৫০৬)
৬৫/৫৪/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ উৎপাটিত খেজুর বৃক্ষের কান্ড। অতএব কেমন কঠোর ছিল আমার আযাব ও আমার ভীতিপ্রদর্শন! (সূরাহ আল-কামার ৫৪/২০-২১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৭১
হাদিস নং ৪৮৭১
أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ أَنَّهُ سَمِعَ رَجُلًا سَأَلَ الْأَسْوَدَ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ أَوْ مُذَّكِرٍ فَقَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ يَقْرَؤُهَا {فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍ} قَالَ وَسَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَؤُهَا {فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍ} دَالًا.
বর্ণনাকারী আবূ ইসহাক (রহ.)
তিনি এক ব্যক্তিকে আসওয়াদ (রহ.)-এর নিকট জিজ্ঞেস করতে শুনেছেন যে, আয়াতের মধ্যে فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ না مُدَّكِرٍ । তিনি বললেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্কে আয়াতখানা فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ পড়তে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আয়াতখানা ‘দাল’ দিয়ে পড়তে শুনেছি। [৩৩৪১] (আ.প্র. ৪৫০৪, ই.ফা. ৪৫০৭)
৬৫/৫৪/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ফলে তারা হয়ে গেল খোঁয়াড় নির্মাণকারীর দলিত শুষ্ক তৃণ ও বৃক্ষের প্রশাখার ন্যায়। আর আমি তো কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি নাসীহাত গ্রহণের জন্য, অতএব কোন নাসীহাত গ্রহণকারী আছে কি? (সূরাহ আল-কামার ৫৪/৩১-৩২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৭২
হাদিস নং ৪৮৭২
عَبْدَانُ أَخْبَرَنَا أَبِيْ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ {فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍ} الآيَةَ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস‘উদ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ পড়েছেন। [৩৩৪১] (আ.প্র. ৪৫০৫, ই.ফা. ৪৫০৮)
৬৫/৫৪/৬.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আর অতি প্রত্যুষে তাদের উপর আঘাত হানল বিরামহীন শাস্তি। বলা হলঃ আস্বাদন কর আমার আযাব এবং আমার সতর্কবাণীর মজা। (সূরাহ আল-কামার ৫৪/৩৮-৩৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৭৩
হাদিস নং ৪৮৭৩
مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللهِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَرَأَ {فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍ}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ পড়েছেন। [৩৩৪১] (আ.প্র. ৪৫০৬, ই.ফা. ৪৫০৯)
৬৫/৫৪/৭.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আমি তো ধ্বংস করেছি তোমাদের সমপন্থী দলগুলোকে, অতএব এ থেকে নাসীহাত গ্রহণকারী কেউ আছে কি? (সূরাহ আল-কামার ৫৪/৫১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৭৪
হাদিস নং ৪৮৭৪
يَحْيَى حَدَّثَنَا وَكِيْعٌ عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيْدَ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَهَلْ مِنْ مُذَّكِرٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم{فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍ}.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ পড়ার পর তিনি বললেন ঃ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ। [৩৩৪১] (আ.প্র. ৪৫০৭, ই.ফা. ৪৫১০)
৬৫/৫৪/৮.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ অচিরেই এ দল পরাভূত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালাবে। (সূরাহ আল-কামার ৫৪/৪৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৭৫
হাদিস নং ৪৮৭৫
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ حَوْشَبٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ ح و مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ وُهَيْبٍ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ فِيْ قُبَّةٍ يَوْمَ بَدْرٍ اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَنْشُدُكَ عَهْدَكَ وَوَعْدَكَ اللهُمَّ إِنْ تَشَأْ لَا تُعْبَدْ بَعْدَ الْيَوْمِ فَأَخَذَ أَبُوْ بَكْرٍ بِيَدِهِ فَقَالَ حَسْبُكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَلْحَحْتَ عَلَى رَبِّكَ وَهُوَ يَثِبُ فِي الدِّرْعِ فَخَرَجَ وَهُوَ يَقُوْلُ {سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّوْنَ الدُّبُرَ}.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদর যুদ্ধের দিন একটি ছোট্ট তাঁবুতে অবস্থান করে এ দু‘আ করেছিলেন- হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট তোমার ওয়াদা ও অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কামনা করছি! হে আল্লাহ্! তুমি যদি চাও, আজকের দিনের পর তোমার ‘ইবাদাত না কর হোক....ঠিক এ সময়ই আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাঃ) তাঁর হস্ত ধারণ পূর্বক বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! যথেষ্ট হয়েছে। আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট অনুনয়-বিনয়ের সঙ্গে বহু দু‘আ করেছেন। এ সময় রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বর্ম পরিহিত অবস্থায় উঠে দাঁড়ালেন। তাই তিনি আয়াত দু’টো পড়তে পড়তে তাঁবু থেকে বেরিয়ে এলেন, “এ দল তো শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ পৃদর্শন করবে” (সূরাহ আল-কামার ৫৪/৫১)। [২৯১৫] (আ.প্র. ৪৫০৮, ই.ফা. ৪৫১১)
৬৫/৫৪/৯.অধ্যায়ঃ
‘‘অধিকন্তু ক্বিয়ামাতে তাদের শাস্তির প্রতিশ্রুতিকাল এবং ক্বিয়ামাত বড়ই কঠোর ও তিক্ততর।’’ (সূরাহ আল-কামার ৫৪/৪৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৭৬
হাদিস নং ৪৮৭৬
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوْسُفَ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنِيْ يُوْسُفُ بْنُ مَاهَكٍ قَالَ إِنِّيْ عِنْدَ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ قَالَتْ لَقَدْ أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ وَإِنِّيْ لَجَارِيَةٌ أَلْعَبُ {بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهٰى وَأَمَرُّ}.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, بَلْ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ আয়াতটি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি মাক্কাহ্য় অবতীর্ণ হয়েছে। আমি তখন কিশোরী ছিলাম, খেলাধূলা করতাম। [৪৯৯৩] (আ.প্র. ৪৫০৯, ই.ফা. ৪৫১২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৭৭
হাদিস নং ৪৮৭৭
إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ خَالِدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ فِيْ قُبَّةٍ لَهُ يَوْمَ بَدْرٍ أَنْشُدُكَ عَهْدَكَ وَوَعْدَكَ اللَّهُمَّ إِنْ شِئْتَ لَمْ تُعْبَدْ بَعْدَ الْيَوْمِ أَبَدًا فَأَخَذَ أَبُوْ بَكْرٍ بِيَدِهِ وَقَالَ حَسْبُكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَقَدْ أَلْحَحْتَ عَلَى رَبِّكَ وَهُوَ فِي الدِّرْعِ فَخَرَجَ وَهُوَ يَقُوْلُ {) سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّوْنَ الدُّبُرَ - بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهٰى وَأَمَرُّ}.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছোট্ট একটি তাঁবুতে অবস্থান করে এ দু‘আ করছিলেন, আয় আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে তোমার ওয়াদা ও অঙ্গীকার পূরণ কামনা করছি। হে আল্লাহ্! যদি তুমি চাও, আজকের পর আর কখনো তোমার ‘ইবাদাত না করা হোক.....। ঠিক এ সময় আবূ বাক্র (রাঃ) রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাত ধরে বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! যথেষ্ট হয়েছে। আপনি আপনার প্রতিপালকের কাছে অনুনয়-বিনয়ের সঙ্গে বহু দু‘আ করেছেন। এ সময় তিনি লৌহবর্ম পরে ছিলেন। এরপর তিনি এ আয়াত পড়তে পড়তে তাঁবু থেকে বের হয়ে এলেন ঃ একদল তো শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে। অধিকন্তু ক্বিয়ামাত তাদের শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং ক্বিয়ামাত হবে কঠিনতর ও তিক্ততর”। (সূরাহ আল-কামার ৫৪/৪৫-৪৬) [২৯১৫] (আ.প্র. ৪৫১০, ই.ফা. ৪৫১৩)
৬৫/৫৫/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ সেখানে এ দু’টি ব্যতীত আরও দু’টি বাগান রয়েছে। (সূরাহ আর্ রহমান ৫৫/৬২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৭৮
হাদিস নং ৪৮৭৮
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ الْعَمِّيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " جَنَّتَانِ مِنْ فِضَّةٍ، آنِيَتُهُمَا وَمَا فِيهِمَا وَجَنَّتَانِ مِنْ ذَهَبٍ آنِيَتُهُمَا وَمَا فِيهِمَا، وَمَا بَيْنَ الْقَوْمِ وَبَيْنَ أَنْ يَنْظُرُوا إِلَى رَبِّهِمْ إِلاَّ رِدَاءُ الْكِبْرِ عَلَى وَجْهِهِ فِي جَنَّةِ عَدْنٍ ".
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (রাঃ)
তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, (জান্নাতের মধ্যে) দু’টি বাগান থাকবে। এ দু’টির সকল পাত্র এবং এর ভিতরে সকল বস্তু রৌপ্য নির্মিত হবে এবং (জান্নাতে) আরো দু’টি উদ্যান থাকবে। এ দু’টির সকল পাত্র এবং ভিতরের সকল বস্তু সোনার তৈরী হবে। জান্নাতে আদনের মধ্যে জান্নাতী লোকেরা তাদের প্রতিপালকের দর্শন লাভ করবে। এ জান্নাতবাসী এবং তাদের প্রতিপালকের এ দর্শনের মাঝে আল্লাহ্র সত্তার ওপর জড়ানো তাঁর বিরাটত্বের চাদর ছাড়া আর কোন জিনিস থাকবে না। [৪৮৮০, ৭৪৪৪; মুসলিম ১/৮০, হাঃ ১৮০, আহমাদ ৮৪২৭] (আ.প্র. ৪৫১১, ই.ফা. ৪৫১৪)
৬৫/৫৫/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তারা তাঁবুতে সুরক্ষিত গৌর বর্ণের হুর। (সূরাহ আর্ রহমান ৫৫/৭২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৭৯
হাদিস নং ৪৮৭৯
مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ حَدَّثَنِيْ عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا أَبُوْ عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ عَنْ أَبِيْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ خَيْمَةً مِنْ لُؤْلُؤَةٍ مُجَوَّفَةٍ عَرْضُهَا سِتُّوْنَ مِيْلًا فِيْ كُلِّ زَاوِيَةٍ مِنْهَا أَهْلٌ مَا يَرَوْنَ الآخَرِيْنَ يَطُوْفُ عَلَيْهِمْ الْمُؤْمِنُوْنَ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, জান্নাতের মধ্যে ফাঁপা মোতির একটি তাঁবু থাকবে। এর প্রশস্ততা হবে ষাট মাইল। এর প্রতি কোণে থাকবে হুর-বালা। এদের এক কোণের জন অপর কোণের জনকে দেখতে পাবে না। ঈমানদার লোকেরা তাদের কাছে যাবে। এতে থাকবে দু’টি বাগান, যার সকল পাত্র এবং ভেতরের সকল বস্তু হবে রূপার তৈরী। [৩২৪৩] (আ.প্র. ৪৫১২, ই.ফা. ৪৫১৫)
৬৫/৫৬/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ সুবিস্তৃত ছায়া। (সূরাহ ওয়াকি‘আহ ৫৬/৩০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৮১
হাদিস নং ৪৮৮১
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةً يَسِيْرُ الرَّاكِبُ فِيْ ظِلِّهَا مِائَةَ عَامٍ لَا يَقْطَعُهَا وَاقْرَءُوْا إِنْ شِئْتُمْ {وَظِلٍّ مَّمْدُوْدٍ}.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, জান্নাতের মধ্যে এমন একটি বৃক্ষ আছে, যার ছায়ায় একজন সওয়ারী একশত বছর চলতে থাকবে, তবুও সে এ ছায়া অতিক্রম করতে পারবে না। তোমার ইচ্ছে হলে তুমি (সম্প্রসারিত ছায়া) পাঠ কর। [৩২৫২] (আ.প্র. ৪৫১৩, ই.ফা. ৪৫১৬)
৬৫/৫৯/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৮২
হাদিস নং ৪৮৮২
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيْمِ حَدَّثَنَا سَعِيْدُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا أَبُوْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ سُوْرَةُ التَّوْبَةِ قَالَ التَّوْبَةُ هِيَ الْفَاضِحَةُ مَا زَالَتْ تَنْزِلُ وَمِنْهُمْ وَمِنْهُمْ حَتَّى ظَنُّوْا أَنَّهَا لَنْ تُبْقِيَ أَحَدًا مِنْهُمْ إِلَّا ذُكِرَ فِيْهَا قَالَ قُلْتُ سُوْرَةُ الْأَنْفَالِ قَالَ نَزَلَتْ فِيْ بَدْرٍ قَالَ قُلْتُ سُوْرَةُ الْحَشْرِ قَالَ نَزَلَتْ فِيْ بَنِي النَّضِيْرِ.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে সূরাহ তাওবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ তো লাঞ্ছনাকারী সূরা। وَمِنْهُمْ وَمِنْهُمْ অর্থাৎ তাদের একদল এই করেছে, আরেক দল ওই করেছে, এ বলে একাধারে এ সূরাহ অবতীর্ণ হতে থাকলে লোকেরা ধারণা করতে লাগলো যে, এ সূরায় উল্লেখ করা হবে না, এমন কেউ আর তাদের মধ্যে বাকী থাকবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে সূরাহ আনফাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ সূরাটি বদর যুদ্ধের সময় অবতীর্ণ হয়েছে। আমি তাকে সূরাহ হাশর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটি বানু নযীর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। [৪০২৯; মুসলিম ৫৪/৬, হাঃ ৩০৩১] (আ.প্র. ৪৫১৪, ই.ফা. ৪৫১৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৮৩
হাদিস নং ৪৮৮৩
الْحَسَنُ بْنُ مُدْرِكٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ أَخْبَرَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ أَبِيْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدٍ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا سُوْرَةُ الْحَشْرِ قَالَ قُلْ سُوْرَةُ النَّضِيْرِ.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে ‘সূরাহ হাশ্র’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ সুরাকে ‘সূরাহ বানী নাযীর’ বল। [৪০২৯] (আ.প্র. ৪৫১৫, ই.ফা. ৪৫১৮)
৬৫/৫৯/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তোমরা যে খর্জুর বৃক্ষগুলো কর্তন করেছ বা যেগুলো কান্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে; এতো এ জন্য যে, আল্লাহ্ পাপাচারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন- (সূরাহ আল-হাশর ৫৯/৫)।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৮৪
হাদিস নং ৪৮৮৪
قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا لَيْثٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَرَّقَ نَخْلَ بَنِي النَّضِيْرِ وَقَطَعَ وَهِيَ الْبُوَيْرَةُ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِيْنَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوْهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُوْلِهَا فَبِإِذْنِ اللهِ وَلِيُخْزِيَ الْفَاسِقِيْنَ}.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বানী নযীর গোত্রের খেজুর গাছ জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং কেটে ফেলেছিলেন। এ গাছগুলো ছিল ‘বুয়াইরা’ নামক জায়গায়। এরপর অবতীর্ণ করেছেন আল্লাহ্ তা‘আলা ঃ তোমরা যে খর্জুর বৃক্ষগুলো কর্তন করেছ বা যেগুলোকে কাণ্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহ্রই অনুমতিক্রমে; এ এজন্য যে, আল্লাহ্ পাপাচারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন। [২৩২৬] (আ.প্র. ৪৫১৬, ই.ফা. ৪৫১৯)
৬৫/৫৯/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ্ এই জনপদবাসীদের নিকট হতে তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যা কিছু দিয়েছেন। (সূরাহ আল-হাশর ৫৯/৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৮৫
হাদিস নং ৪৮৮৫
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ غَيْرَ مَرَّةٍ عَنْ عَمْرٍو عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَتْ أَمْوَالُ بَنِي النَّضِيْرِ مِمَّا أَفَاءَ اللهُ عَلَى رَسُوْلِهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّا لَمْ يُوْجِفْ الْمُسْلِمُوْنَ عَلَيْهِ بِخَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ فَكَانَتْ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ مِنْهَا نَفَقَةَ سَنَتِهِ ثُمَّ يَجْعَلُ مَا بَقِيَ فِي السِّلَاحِ وَالْكُرَاعِ عُدَّةً فِيْ سَبِيْلِ اللهِ
বর্ণনাকারী ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, বনু নযীরের বিষয়-সম্পত্তি ঐ সমস্ত বস্তুর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা আল্লাহ্ তাঁর রসূলকে ‘ফাই’ হিসেবে দিয়েছেন এ জন্য যে মুসলিমরা অশ্বে কিংবা উষ্ট্রে অরোহণ করে যুদ্ধ করেনি। সুতরাং এটা খাস ছিল রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য। এর থেকে তিনি তাঁর পরিবারের জন্য এক বছরের খরচ দান করতেন। এরপর বাকিটা তিনি অস্ত্রশস্ত্র এবং ঘোড়া সংগ্রহের পিছনে ব্যয় করতেন আল্লাহ্র পথে জিহাদের প্রস্তুতি হিসেবে। [২৯০৪] (আ.প্র. ৪৫১৭, ই.ফা. ৪৫২০)
৬৫/৫৯/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ রসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা তোমরা গ্রহণ কর (এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা হতে বিরত থাক)। (সূরাহ আল-হাশর ৫৯/৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৮৬
হাদিস নং ৪৮৮৬
مُحَمَّدُ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُوْرٍ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ لَعَنَ اللهُ الْوَاشِمَاتِ وَالْمُوْتَشِمَاتِ وَالْمُتَنَمِّصَاتِ وَالْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللهِ فَبَلَغَ ذَلِكَ امْرَأَةً مِنْ بَنِيْ أَسَدٍ يُقَالُ لَهَا أُمُّ يَعْقُوْبَ فَجَاءَتْ فَقَالَتْ إِنَّهُ بَلَغَنِيْ عَنْكَ أَنَّكَ لَعَنْتَ كَيْتَ وَكَيْتَ فَقَالَ وَمَا لِيْ أَلْعَنُ مَنْ لَعَنَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ هُوَ فِيْ كِتَابِ اللهِ فَقَالَتْ لَقَدْ قَرَأْتُ مَا بَيْنَ اللَّوْحَيْنِ فَمَا وَجَدْتُ فِيْهِ مَا تَقُوْلُ قَالَ لَئِنْ كُنْتِ قَرَأْتِيْهِ لَقَدْ وَجَدْتِيْهِ أَمَا قَرَأْتِ {وَمَآ اٰتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ ج وَمَا نَهٰكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْا ج} قَالَتْ بَلَى قَالَ فَإِنَّهُ قَدْ نَهَى عَنْهُ قَالَتْ فَإِنِّيْ أَرَى أَهْلَكَ يَفْعَلُوْنَهُ قَالَ فَاذْهَبِيْ فَانْظُرِيْ فَذَهَبَتْ فَنَظَرَتْ فَلَمْ تَرَ مِنْ حَاجَتِهَا شَيْئًا فَقَالَ لَوْ كَانَتْ كَذَلِكَ مَا جَامَعْتُهَا.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আল্লাহ্ লা’নাত করেছেন ঐ সমস্ত নারীর প্রতি যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকণ করে, নিজ শরীরে উল্কি অংকণ করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভূরু-চুল উপড়িয়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। সে সব নারী আল্লাহ্র সৃষ্টিতে বিকৃতি আনয়ন করে। এরপর বানী আসাদ গোত্রের উম্মু ইয়াকূব নামের এক মহিলার কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে সে এসে বলল, আমি জানতে পারলাম, আপনি এ ধরনের মহিলাদের প্রতি লা‘নত করেছেন। তিনি বললেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যার প্রতি লা‘নাত করেছেন, আল্লাহর কিতাবে যার প্রতি লা‘নাত করা হয়েছে, আমি তার প্রতি লা‘নাত করব না কেন? তখন মহিলা বলল, আমি দুই ফলকের মাঝে যা আছে তা (পূর্ণ কুরআন) পড়েছি। কিন্তু আপনি যা বলেছেন, তা তো এতে পাইনি। ‘আবদুল্লাহ্ বললেন, যদি তুমি কুরআন পড়তে তাহলে অবশ্যই তা পেতে, তুমি কি পড়নি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাক। মহিলাটি বলল, হাঁ নিশ্চয়ই পড়েছি। ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বললেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তখন মহিলা বলল, আমার মনে হয় আপনার পরিবারও এ কাজ করে তিনি বললেন, তুমি যাও এবং ভালমত দেখে এসো। এরপর মহিলা গেল এবং ভালভাবে দেখে এলো। কিন্তু তার দেখার কিছুই দেখতে পেলো না। তখন ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বললেন, যদি আমার স্ত্রী এমন করত, তবে সে আমার সঙ্গে একত্র থাকতে পারত না। [৪৮৮৭, ৫৯৩১, ৫৯৩৯, ৫৯৪৩, ৫৯৪৮; মুসলিম ৩৭/৩৩, হাঃ ২১২৫, আহমাদ ৪৩৪৩] (আ.প্র. ৪৫১৮, ই.ফা. ৪৫২১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৮৭
হাদিস নং ৪৮৮৭
عَلِيٌّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ سُفْيَانَ قَالَ ذَكَرْتُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ حَدِيْثَ مَنْصُوْرٍ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَعَنَ اللهُ الْوَاصِلَةَ فَقَالَ سَمِعْتُهُ مِنْ امْرَأَةٍ يُقَالُ لَهَا أُمُّ يَعْقُوْبَ عَنْ عَبْدِ اللهِ مِثْلَ حَدِيْثِ مَنْصُوْرٍ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, যে নারী নকল চুল লাগায়, তার প্রতি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লা‘নাত করেছেন। রাবী (রহ.) বলেন, আমি উম্মু ইয়াকূব নামক মহিলার নিকট হতে হাদীসটি শুনেছি, তিনি ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, মানসূরের হাদীসের মতই। [৪৮৮৬] (আ.প্র. ৪৫১৯, ই.ফা. ৪৫২২)
৬৫/৫৯/৫.অধ্যায়ঃ
‘‘আনসারদের যারা এ নগরীতে বসবাস করে আসছে ও ঈমান এনেছে, (তাঁরা মুহাজিরদেরকে ভালবাসে এবং মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তার জন্য তাঁরা অন্তরে আকাঙক্ষা পোষণ করে না)।’’ (সূরাহ আল-হাশর ৫৯/৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৮৮
হাদিস নং ৪৮৮৮
أَحْمَدُ بْنُ يُوْنُسَ حَدَّثَنَا أَبُوْ بَكْرٍ يَعْنِي ابْنَ عَيَّاشٍ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُوْنٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أُوْصِي الْخَلِيْفَةَ بِالْمُهَاجِرِيْنَ الْأَوَّلِيْنَ أَنْ يَعْرِفَ لَهُمْ حَقَّهُمْ وَأُوْصِي الْخَلِيْفَةَ بِالأَنْصَارِ {وَالَّذِيْنَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيْمَانَ} مِنْ قَبْلِ أَنْ يُهَاجِرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَقْبَلَ مِنْ مُحْسِنِهِمْ وَيَعْفُوَ عَنْ مُسِيئِهِمْ.
বর্ণনাকারী ‘আম্র ইব্নু মায়মূন (রহ.)
তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, আমি আমার পরবর্তী খালীফাকে ওসীয়াত করেছি, প্রথম যুগের মুহাজিরদের হাক আদায় করার জন্য এবং আমি পরবর্তী খালীফাকে আনসারদের ব্যাপারে ওসীয়াত করছি, যারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর হিজরাতের পূর্বে এ নগরীতে বসবাস করতেন এবং ঈমান এনেছিলেন যেন তিনি তাদের পুণ্যবানদের সৎকর্মকে গ্রহণ করেন এবং দোষ-ত্র“টিকে ক্ষমা করে দেন। [১৩৯২] (আ.প্র. ৪৫২০, ই.ফা. ৪৫২৩)
৬৫/৫৯/৬.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ এবং তাঁরা তাঁদের নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয় (নিজেরা অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও) শেষ পর্যন্ত। (সূরাহ আল-হাশর ৫৯/৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৮৯
হাদিস নং ৪৮৮৯
يَعْقُوْبُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ كَثِيْرٍ حَدَّثَنَا أَبُوْ أُسَامَةَ حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ غَزْوَانَ حَدَّثَنَا أَبُوْ حَازِمٍ الْأَشْجَعِيُّ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَتَى رَجُلٌ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَصَابَنِي الْجَهْدُ فَأَرْسَلَ إِلَى نِسَائِهِ فَلَمْ يَجِدْ عِنْدَهُنَّ شَيْئًا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَلَا رَجُلٌ يُضَيِّفُهُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ يَرْحَمُهُ اللهُ فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَ أَنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ فَذَهَبَ إِلَى أَهْلِهِ فَقَالَ لِامْرَأَتِهِ ضَيْفُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا تَدَّخِرِيْهِ شَيْئًا قَالَتْ وَاللهِ مَا عِنْدِيْ إِلَّا قُوْتُ الصِّبْيَةِ قَالَ فَإِذَا أَرَادَ الصِّبْيَةُ الْعَشَاءَ فَنَوِّمِيْهِمْ وَتَعَالَيْ فَأَطْفِئِي السِّرَاجَ وَنَطْوِيْ بُطُوْنَنَا اللَّيْلَةَ فَفَعَلَتْ ثُمَّ غَدَا الرَّجُلُ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَقَدْ عَجِبَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَوْ ضَحِكَ مِنْ فُلَانٍ وَفُلَانَةَ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ {وَيُؤْثِرُوْنَ عَلٰٓى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ}.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, আমি খুব ক্ষুধার্ত। তখন তিনি তাঁর সহধর্মিণীদের নিকট পাঠালেন; কিন্তু তিনি তাদের কাছে কিছুই পেলেন না। এরপর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এমন কেউ আছে কি, যে আজ রাতে এ লোকটিকে মেহমানদারী করতে পারে? আল্লাহ্ তাঁর প্রতি রহমাত করবেন। তখন আনসারদের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, আমি আছি, হে আল্লাহ্র রসূল! এরপর তিনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে গেলেন এবং নিজ স্ত্রীকে বললেন, ইনি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মেহমান। কোন জিনিস জমা করে রাখবে না। মহিলা বলল, আল্লাহ্র কসম! আমার কাছে ছেলে-মেয়েদের খাবার ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি বললেন, ছেলেমেয়েরা রাতের খাবার চাইলে তুমি তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দিও, (খাবার নিয়ে) আমার কাছে আসিও, অতঃপর বাতিটি নিভিয়ে দিও। আজ রাতে আমরা ভুখা থাকব। সুতরাং মহিলা তা-ই করল। পরদিন সকালে আনসারী সহাবী রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খিদমাতে আসলেন। তিনি বললেন, অমুক ব্যক্তি ও তার স্ত্রীর প্রতি আল্লাহ্ সন্তুষ্ট হয়েছেন অথবা অমুক অমুকের কাজে আল্লাহ্ হেসেছেন। এরপর আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেন ঃ “এবং তাঁরা তাদের নিজেদের উপর অন্যদের প্রাধান্য দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও।” [৩৭৯৮] (আ.প্র. ৪৫২১, ই.ফা. ৪৫২৪)
৬৫/৬০/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ (হে মু’মিনগণ!) আমার শত্রু তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। (সূরাহ আল-মুমতাহিনাহ ৬০/১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৯০
হাদিস নং ৪৮৯০
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَمْرُوْ بْنُ دِيْنَارٍ قَالَ حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ أَنَّهُ سَمِعَ عُبَيْدَ اللهِ بْنَ أَبِيْ رَافِعٍ كَاتِبَ عَلِيٍّ يَقُوْلُ سَمِعْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُوْلُ بَعَثَنِيْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَا وَالزُّبَيْرَ وَالْمِقْدَادَ فَقَالَ انْطَلِقُوْا حَتَّى تَأْتُوْا رَوْضَةَ خَاخٍ فَإِنَّ بِهَا ظَعِيْنَةً مَعَهَا كِتَابٌ فَخُذُوْهُ مِنْهَا فَذَهَبْنَا تَعَادَى بِنَا خَيْلُنَا حَتَّى أَتَيْنَا الرَّوْضَةَ فَإِذَا نَحْنُ بِالظَّعِيْنَةِ فَقُلْنَا أَخْرِجِي الْكِتَابَ فَقَالَتْ مَا مَعِيْ مِنْ كِتَابٍ فَقُلْنَا لَتُخْرِجِنَّ الْكِتَابَ أَوْ لَنُلْقِيَنَّ الثِّيَابَ فَأَخْرَجَتْهُ مِنْ عِقَاصِهَا فَأَتَيْنَا بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا فِيْهِ مِنْ حَاطِبِ بْنِ أَبِيْ بَلْتَعَةَ إِلَى أُنَاسٍ مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ مِمَّنْ بِمَكَّةَ يُخْبِرُهُمْ بِبَعْضِ أَمْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَا هَذَا يَا حَاطِبُ قَالَ لَا تَعْجَلْ عَلَيَّ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّيْ كُنْتُ امْرًَا مِنْ قُرَيْشٍ وَلَمْ أَكُنْ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَكَانَ مَنْ مَعَكَ مِنَ الْمُهَاجِرِيْنَ لَهُمْ قَرَابَاتٌ يَحْمُوْنَ بِهَا أَهْلِيْهِمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِمَكَّةَ فَأَحْبَبْتُ إِذْ فَاتَنِيْ مِنْ النَّسَبِ فِيْهِمْ أَنْ أَصْطَنِعَ إِلَيْهِمْ يَدًا يَحْمُوْنَ قَرَابَتِيْ وَمَا فَعَلْتُ ذَلِكَ كُفْرًا وَلَا ارْتِدَادًا عَنْ دِيْنِيْ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّهُ قَدْ صَدَقَكُمْ فَقَالَ عُمَرُ دَعْنِيْ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَأَضْرِبَ عُنُقَهُ فَقَالَ إِنَّهُ شَهِدَ بَدْرًا وَمَا يُدْرِيْكَ لَعَلَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ اعْمَلُوْا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ قَالَ عَمْرٌو وَنَزَلَتْ فِيْهِ {يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوْا عَدُوِّيْ وَعَدُوَّكُمْ} أَوْلِيَاءَ قَالَ لَا أَدْرِي الآيَةَ فِي الْحَدِيْثِ أَوْ قَوْلُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا عَلِيٌّ قَالَ قِيْلَ لِسُفْيَانَ فِيْ هَذَا فَنَزَلَتْ {لَا تَتَّخِذُوْا عَدُوِّي} وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ الآيَةَ قَالَ سُفْيَانُ هَذَا فِيْ حَدِيْثِ النَّاسِ حَفِظْتُهُ مِنْ عَمْرٍو مَا تَرَكْتُ مِنْهُ حَرْفًا وَمَا أُرَى أَحَدًا حَفِظَهُ غَيْرِي.
বর্ণনাকারী ‘আলী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুবায়র (রাঃ), মিকদাদ (রাঃ) ও আমাকে পাঠালেন এবং বললেন, তোমরা ‘রওযা খাখ’ নামক স্থানে যাও। সেখানে এক উষ্ট্রারোহিণী মহিলা পাবে। তার সঙ্গে একখানা পত্র আছে, তোমরা তার থেকে সে পত্রখানা নিয়ে নিবে। এরপর আমরা রওয়ানা হলাম। আমাদের ঘোড়া আমাদেরকে নিয়ে ছুটে চলল। যেতে যেতে আমরা রওযায় গিয়ে পৌঁছলাম। সেখানে পৌঁছেই আমরা উষ্ট্রারোহিণীকে পেয়ে গেলাম। আমরা বললাম, পত্রখানা বের কর সে বলল, আমার সঙ্গে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, অবশ্যই তুমি পত্রখানা বের করবে, অন্যথায় তোমাকে বিবস্ত্র করে ফেলা হবে। এরপর সে তার চুলের বেনী থেকে পত্রখানা বের করল। আমরা পত্রখানা নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এলাম। দেখা গেল, পত্রখানা হাতিব ইব্নু আবূ বাল্তাআহ্ (রাঃ)-এর পক্ষ হতে মক্কার কতিপয় মুশরিকের কাছে লেখা যাতে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিষয় তাদের কাছে ব্যক্ত করে দিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, হাতিব কী ব্যাপার? তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমার ব্যাপারে ত্বড়িৎ কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। আমি কুরাইশ বংশীয় লোকদের সঙ্গে বসবাসকারী এক ব্যক্তি; কিন্তু তাদের সঙ্গে আমার কোন বংশগত সম্পর্ক নেই। আপনার সঙ্গে যত মুহাজির আছেন, তাদের সবারই সেখানে আত্মীয়-স্বজন আছে। এসব আত্মীয়-স্বজনের কারণে মাক্কাহ্য় তাদের পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদ রক্ষা পাচ্ছে। আমি চেয়েছিলাম, যেহেতু তাদের সঙ্গে আমার বংশীয় কোন সম্পর্ক নেই,তাই এবার যদি আমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করি, তাহলে হয়তো তারাও আমার আত্মীয়-স্বজনের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াবে। কুফ্র ও স্বীয় ধর্ম ত্যাগ করার মনোভাব নিয়ে আমি এ কাজ করিনি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে তোমাদের কাছে সত্য কথাই বলেছে। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমাকে অনুমতি দিন এক্ষুণি আমি তাঁর গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি কি জান না, আল্লাহ্ অবশ্যই বাদ্রে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেছেনঃ “তোমরা যা চাও কর, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি।” আমর বলেন, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছে ঃ “হে ঈমানদারগণ! আমার শত্র“ ও তোমাদের শত্র“কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না।” সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, আয়াতটি হাদীসের অংশ না আম্র (রাঃ)-এর কথা, তা আমি জানি না। [৩০০৭] (আ.প্র. ৪৫২২, ই.ফা. ৪৫২৫)‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, সুফ্ইয়ান ইব্নু ‘উয়াইনাহ (রহ.)-কে “হে মু’মিনগণ! আমার শত্র“কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না” আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সুফ্ইয়ান বলেন, মানুষের বর্ণনার মাঝে তো এ রকমই পাওয়া যায়। আমি এ হাদীসটি আম্র ইব্নু দীনার (রহ.) থেকে মুখস্থ করেছি। এর থেকে একটি অক্ষরও আমি বাদ দেইনি। আমার ধারণা, আম্র ইব্নু দীনার (রহ.) থেকে আমি ছাড়া আর কেউ এ হাদীস মুখস্থ করেনি। (ই.ফা. ৪৫২৬)
৬৫/৬০/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ (হে মু’মিনগণ!) যখন তোমাদের কাছে মু’মিন নারীরা দেশত্যাগী হয়ে আসে। (সূরাহ আল-মুমতাহিনাহ ৬০/১০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৯১
হাদিস নং ৪৮৯১
إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا يَعْقُوْبُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَمِّهِ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَمْتَحِنُ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ بِهَذِهِ الآيَةِ بِقَوْلِ اللهِ {يٰٓأَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَآءَكَ الْمُؤْمِنٰتُ يُبَايِعْنَكَ} إِلَى قَوْلِهِ {غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ}قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ فَمَنْ أَقَرَّ بِهَذَا الشَّرْطِ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ قَالَ لَهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ بَايَعْتُكِ كَلَامًا وَلَا وَاللهِ مَا مَسَّتْ يَدُهُ يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ فِي الْمُبَايَعَةِ مَا يُبَايِعُهُنَّ إِلَّا بِقَوْلِهِ قَدْ بَايَعْتُكِ عَلَى ذَلِكِ تَابَعَهُ يُوْنُسُ وَمَعْمَرٌ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ رَاشِدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ وَعَمْرَةَ.
বর্ণনাকারী ‘উরওয়াহ (রহ.)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাকে বলেছেন, কোন মু’মিন মহিলা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে হিজরাত করে এলে, তিনি তাকে আল্লাহ্র এই আয়াতের ভিত্তিতে পরীক্ষা করতেন- অর্থ ঃ “হে নাবী! মু’মিন নারীগণ যখন তোমার কাছে এ মর্মে বায়‘আত করতে আসে যে, তারা আল্লাহ্র সঙ্গে কোন শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, তারা সজ্ঞানে কোন অপবাদ রচনা করে রটাবে না, এবং সৎকার্যে তোমাকে অমান্য করবে না, তখন তাদের বায়‘আত গ্রহণ করবে এবং তাদের জন্য আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।) আল্লাহ্ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” (সূরাহ আল-মুমতাহিনাহ ৬০/১২)। ‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, যে মু’মিন মহিলা এসব শর্ত মেনে নিত, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বলতেন, আমি কথার মাধ্যমে তোমাকে বায়‘আত করে নিলাম। আল্লাহ্র কসম! বায়‘আত কালে কোন নারীর হাত নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতকে স্পর্শ করেনি। নারীদেরকে তিনি শুধু এ কথার দ্বারাই বায়‘আত করতেনقَدْ بَايَعْتُكِ عَلَى ذَلِكِ অর্থাৎ আমি তোমাকে এ কথার ওপর বায়‘আত করলাম।ইউনুস, মা‘মার ও ‘আবদুর রহমান ইব্নু ইসহাক (রহ.) যুহরীর মাধ্যমে উক্ত বর্ণনার সমর্থন করেছেন।ইসহাক ইব্নু রাশিদ, যুহরী থেকে এবং যুহরী ‘উরওয়াহ ও ‘আম্র (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। [২৭১৩] (আ.প্র. ৪৪২৩, ই.ফা. ৪৫২৭)
৬৫/৬০/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ হে নাবী! মু‘মিন নারীরা যখন আপনার কাছে এসে এই মর্মে আনুগত্যের শপথ করে। (সূরাহ আল-মুমতাহিনাহ ৬০/১২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৯২
হাদিস নং ৪৮৯২
أَبُوْ مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا أَيُّوْبُ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيْرِيْنَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ بَايَعْنَا رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَ عَلَيْنَا {أَنْ لَّا يُشْرِكْنَ بِاللهِ شَيْئًا} وَنَهَانَا عَنْ النِّيَاحَةِ فَقَبَضَتْ امْرَأَةٌ يَدَهَا فَقَالَتْ أَسْعَدَتْنِيْ فُلَانَةُ أُرِيْدُ أَنْ أَجْزِيَهَا فَمَا قَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا فَانْطَلَقَتْ وَرَجَعَتْ فَبَايَعَهَا.
বর্ণনাকারী উম্মি ‘আতিয়্যাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বায়‘আত গ্রহণ করেছি। এরপর তিনি আমাদের সামনে পাঠ করলেন, “তারা আল্লাহ্র সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক স্থির করবে না।” এরপর তিনি আমাদেরকে মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কাঁদতে নিষেধ করলেন। এ সময় এক মহিলা তার হাত টেনে নিয়ে বলল, অমুক মহিলা আমাকে বিলাপে সহযোগিতা করেছে, আমি তাকে এর বিনিময় দিতে ইচ্ছা করেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে কিছুই বলেননি। এরপর মহিলাটি উঠে চলে গেল এবং আবার ফিরে আসলো, তখন রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বায়‘আত করলেন। [১৩০৬] (আ.প্র. ৪৫২৪, ই.ফা. ৪৫২৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৯৩
হাদিস নং ৪৮৯৩
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِيْ قَالَ سَمِعْتُ الزُّبَيْرَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيْ قَوْلِهِ تَعَالَى {وَلَا يَعْصِيْنَكَ فِيْ مَعْرُوْفٍ} قَالَ إِنَّمَا هُوَ شَرْطٌ شَرَطَهُ اللهُ لِلنِّسَاءِ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি আল্লাহ্র বাণী, وَلاَ يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ -এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, এটা একটা শর্ত, যা আল্লাহ্ তা‘আলা নারীদের প্রতি আরোপ করেছেন। (আ.প্র. ৪৫২৫, ই.ফা. ৪৫২৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৯৪
হাদিস নং ৪৮৯৪
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنَاهُ قَالَ حَدَّثَنِيْ أَبُوْ إِدْرِيْسَ سَمِعَ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَتُبَايِعُوْنِيْ عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوْا بِاللهِ شَيْئًا وَلَا تَزْنُوْا وَلَا تَسْرِقُوْا وَقَرَأَ آيَةَ النِّسَاءِ وَأَكْثَرُ لَفْظِ سُفْيَانَ قَرَأَ الْآيَةَ فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللهِ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوْقِبَ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ وَمَنْ أَصَابَ مِنْهَا شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَسَتَرَهُ اللهُ فَهُوَ إِلَى اللهِ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ تَابَعَهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ فِي الآيَةِ.
বর্ণনাকারী ‘উবাদাহ ইব্নু সামিত (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ছিলাম, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি এসব শর্তে আমার কাছে বায়‘আত গ্রহণ করবে যে, তোমরা আল্লাহ্র সঙ্গে অন্য কিছুকে শরীক করবে না, যিনা করবে না এবং চুরি করবে না। এরপর তিনি নারীদের শর্ত সম্পর্কিত আয়াত পাঠ করলেন। বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান প্রায়ই বলতেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়াতটি পাঠ করেছেন। এরপর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের যে ব্যক্তি এসব শর্ত পূরণ করবে, আল্লাহ্ তার প্রতিফল দেবেন। আর যে ব্যক্তি এ সবের কোন একটি করে ফেলবে এবং তাকে শাস্তিও দেয়া হবে। এ শাস্তি তার জন্য কাফ্ফারা হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি এ সবের কোন একটি করে ফেলল এবং আল্লাহ্ তা লুকিয়ে রাখলেন, তাহলে এ বিষয়টি আল্লাহ্র কাছে থাকল। তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন, আর তিনি যদি চান তাহলে তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন। আবদুর রায্যাক (রহ.) মা‘মার (রহ.)-এর সূত্রে এ রকম বর্ণনা করেছেন। [১৮] (আ.প্র. ৪৫২৬, ই.ফা. ৪৫৩০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৯৫
হাদিস নং ৪৮৯৫
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيْمِ حَدَّثَنَا هَارُوْنُ بْنُ مَعْرُوْفٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ قَالَ وَأَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ أَنَّ الْحَسَنَ بْنَ مُسْلِمٍ أَخْبَرَهُ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ شَهِدْتُ الصَّلَاةَ يَوْمَ الْفِطْرِ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِيْ بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ فَكُلُّهُمْ يُصَلِّيْهَا قَبْلَ الْخُطْبَةِ ثُمَّ يَخْطُبُ بَعْدُ فَنَزَلَ نَبِيُّ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَكَأَنِّيْ أَنْظُرُ إِلَيْهِ حِيْنَ يُجَلِّسُ الرِّجَالَ بِيَدِهِ ثُمَّ أَقْبَلَ يَشُقُّهُمْ حَتَّى أَتَى النِّسَاءَ مَعَ بِلَالٍ فَقَالَ {يٰٓأَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَآءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلٰٓى أَنْ لَّا يُشْرِكْنَ بِاللهِ شَيْئًا وَّلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِيْنَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِيْنَ بِبُهْتَانٍ يَّفْتَرِيْنَه” بَيْنَ أَيْدِيْهِنَّ وَأَرُجُلِهِنَّ} حَتَّى فَرَغَ مِنَ الآيَةِ كُلِّهَا ثُمَّ قَالَ حِيْنَ فَرَغَ أَنْتُنَّ عَلَى ذَلِكَ فَقَالَتْ امْرَأَةٌ وَاحِدَةٌ لَمْ يُجِبْهُ غَيْرُهَا نَعَمْ يَا رَسُوْلَ اللهِ لَا يَدْرِي الْحَسَنُ مَنْ هِيَ قَالَ فَتَصَدَّقْنَ وَبَسَطَ بِلَالٌ ثَوْبَهُ فَجَعَلْنَ يُلْقِيْنَ الْفَتَخَ وَالْخَوَاتِيْمَ فِيْ ثَوْبِ بِلَالٍ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি ঈদুল ফিত্রের দিন ঈদের সলাতে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সঙ্গে সঙ্গে হাজির ছিলাম এবং আবূ বাক্র (রাঃ), ‘উমার (রাঃ) এবং ‘উসমান (রাঃ)-ও সঙ্গে ছিলেন। তাঁরা সকলেই খুত্বার আগে সলাত আদায় করেছেন। সলাত আদায়ের পর তিনি খুতবা দিয়েছেন। এরপর আল্লাহ্র নাবী মিম্বর থেকে নেমেছেন। তখন তিনি যে লোকজনকে হাতের ইশারায় বসাচ্ছিলেন, এ দৃশ্য আমি এখনো যেন দেখতে পাচ্ছি। এরপর তিনি লোকদের দু’ভাগ করে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং মহিলাদের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। তাঁর সঙ্গে বিলাল (রাঃ)-ও ছিলেন। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “হে নাবী! মু’মিন নারীগণ যখন তোমার কাছে এসে বায়‘আত করে এ মর্মে যে, তারা আল্লাহ্র সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক স্থির করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানকে হত্যা করবে না এবং তারা সজ্ঞানে কোন অপবাদ রচনা করে রটাবে না।” তিনি পূর্ণ আয়াত তিলাওয়াত করে সমাপ্ত করলেন। এরপর তিনি আয়াত শেষ করে বললেন, এ শর্ত পূরণে তোমরা রাজি আছ কি? একজন মহিলা বলল, হাঁ, হে আল্লাহ্র রসূল! এ ব্যতীত আর কোন মহিলা কোন উত্তর দেয়নি। এ মহিলাটি কে ছিল, হাসান (রাঃ) তা জানতেন না। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা দান করো। বিলাল (রাঃ) তাঁর কাপড় বিছিয়ে দিলেন। তখন মহিলারা তাদের রিং ও আংটি বিলাল (রাঃ)-এর কাপড়ে ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলতে লাগলেন। [৯৮] (আ.প্র. ৪৫২৭, ই.ফা. ৪৫৩১)
৬৫/৬১/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম ‘আহমাদ’। (সূরাহ আসসাফ ৬১/৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৯৬
হাদিস নং ৪৮৯৬
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيْهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ إِنَّ لِيْ أَسْمَاءً أَنَا مُحَمَّدٌ وَأَنَا أَحْمَدُ وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِيْ يَمْحُو اللهُ بِيَ الْكُفْرَ وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِيْ يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى قَدَمِيْ وَأَنَا الْعَاقِبُ.
বর্ণনাকারী যুবায়র ইব্নু মুত’ইম (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, আমার অনেকগুলো নাম আছে। আমি মুহাম্মাদ, আমি আহ্মাদ এবং আমি মাহী। আমার দ্বারা আল্লাহ্ তা‘আলা সমস্ত কুফরী দূর করবেন। আমি হাশির, আমার পেছনে সমস্ত মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং আমি ‘আকিব, সকলের শেষে আগমনকারী। [৩৫৩২] (আ.প্র. ৪৫২৮, ই.ফা. ৪৫৩২)
৬৫/৬২/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তাকে প্রেরণ করা হয়েছে তাদের অন্যান্য লোকদের জন্যও, যারা এখনও তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি। (সূরাহ আল-জুমু‘আহ ৬২/৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৯৭
হাদিস নং ৪৮৯৭
عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِيْ سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ ثَوْرٍ عَنْ أَبِي الْغَيْثِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا جُلُوْسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُوْرَةُ الْجُمُعَةِ {وَاٰخَرِيْنَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوْا بِهِمْ} قَالَ قُلْتُ مَنْ هُمْ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَلَمْ يُرَاجِعْهُ حَتَّى سَأَلَ ثَلَاثًا وَفِيْنَا سَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ وَضَعَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ عَلَى سَلْمَانَ ثُمَّ قَالَ لَوْ كَانَ الإِيْمَانُ عِنْدَ الثُّرَيَّا لَنَالَهُ رِجَالٌ أَوْ رَجُلٌ مِنْ هَؤُلَاءِ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বসেছিলাম। এমন সময় তাঁর উপর অবতীর্ণ হলো সূরাহ জুমু‘আহ, যার একটি আয়াত হলো ঃ “এবং তাদের অন্যান্যের জন্যও যারা এখনও তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি।” তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারা কারা? তিনবার এ কথা জিজ্ঞেস করা সত্ত্বেও তিনি কোন উত্তর দিলেন না। আমাদের মাঝে সালমান ফারসী (রাঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালমান (রাঃ)-এর উপর হাতে রেখে বললেন, ঈমান সুরাইয়া নক্ষত্রের নিকট থাকলেও আমাদের কতক লোক অথবা তাদের এক ব্যক্তি তা অবশ্যই পেয়ে যাবে। [৪৮৯৮; মুসলিম ৪৪/৫৯, হাঃ ২৫৪৬, আহমাদ ৯৪১০] (আ.প্র. ৪৫২৯, ই.ফা. ৪৫৩৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৯৮
হাদিস নং ৪৮৯৮
عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيْزِ أَخْبَرَنِيْ ثَوْرٌ عَنْ أَبِي الْغَيْثِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَنَالَهُ رِجَالٌ مِنْ هَؤُلَاءِ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণিত যে, আমাদের লোক অথবা তাদের কতক লোক অবশ্যই তা পেয়ে যাবে। [৪৮৯৭] (আ.প্র. ৪৫৩০, ই.ফা. ৪৫৩৪)
৬৫/৬২/২.অধ্যায়ঃ
‘‘আর যখন তারা কোন ব্যবসায়ের কিংবা কোন ক্রীড়াকৌতুকের বস্তু দেখে।’’ (সূরাহ আল-জুমু‘আহ ৬২/১১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৮৯৯
হাদিস নং ৪৮৯৯
حَفْصُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ وَعَنْ أَبِيْ سُفْيَانَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أَقْبَلَتْ عِيْرٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَنَحْنُ مَعَ النَّبِيِّصلى الله عليه وسلم فَثَارَ النَّاسُ إِلَّا اثْنَيْ عَشَرَ رَجُلًا فَأَنْزَلَ اللهُ {وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوْآ إِلَيْهَا}.
বর্ণনাকারী জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একবার জুমু‘আহ্র দিন একটি বাণিজ্য দল আসল, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। বারজন লোক ছাড়া সকলেই সেদিকে ছুটে গেল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেন ঃ “এবং যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুক, তখন তারা (তোমাকে দাঁড়ান অবস্থায় রেখে) তার দিকে ছুটে গেল” (সূরাহ আল-জুমু‘আহ ৬২/১১)। [৯৩৬] (আ.প্র. ৪৫৩১, ই.ফা. ৪৫৩৫)
৬৫/৬৩/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ মুনাফিকরা যখন আপনার কাছে আসে তখন তারা বলেঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রসূল। আর আল্লাহ্ জানেন যে, নিশ্চয় আপনি তো তাঁর রসূল এবং আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাচারী। (সূরাহ মুনাফিকুন ৬৩/১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯০০
হাদিস নং ৪৯০০
عَبْدُ اللهِ بْنُ رَجَاءٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيْلُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ كُنْتُ فِيْ غَزَاةٍ فَسَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أُبَيٍّ يَقُوْلُ لَا تُنْفِقُوْا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ حَتَّى يَنْفَضُّوْا مِنْ حَوْلِهِ وَلَئِنْ رَجَعْنَا مِنْ عِنْدِهِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَمِّيْ أَوْ لِعُمَرَ فَذَكَرَهُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَعَانِيْ فَحَدَّثْتُهُ فَأَرْسَلَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ أُبَيٍّ وَأَصْحَابِهِ فَحَلَفُوْا مَا قَالُوْا فَكَذَّبَنِيْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَصَدَّقَهُ فَأَصَابَنِيْ هَمٌّ لَمْ يُصِبْنِيْ مِثْلُهُ قَطُّ فَجَلَسْتُ فِي الْبَيْتِ فَقَالَ لِيْ عَمِّيْ مَا أَرَدْتَ إِلَى أَنْ كَذَّبَكَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَمَقَتَكَ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {إِذَا جَآءَكَ الْمُنٰفِقُوْنَ} فَبَعَثَ إِلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَ فَقَالَ إِنَّ اللهَ قَدْ صَدَّقَكَ يَا زَيْدُ.
বর্ণনাকারী যায়দ ইব্নু আরকাম (রাঃ)
তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমি শারীক হয়েছিলাম। তখন ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাইকে বলতে শুনলাম, আল্লাহ্র রসূলের সঙ্গীদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে সরে পড়ে এবং সে এও বলল, আমরা মদিনায় ফিরলে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদেরকে অবশ্যই বের করে দিবে। এ কথা আমি আমার চাচা কিংবা ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে বলে দিলাম। তিনি তা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে জানালেন। ফলে তিনি আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁকে বিস্তারিত এ সব কথা বলে দিলাম। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাই এবং তার সাথী-সঙ্গীদের কাছে খবর পাঠালেন, তারা সকলেই কসম করে বলল, এমন কথা তারা বলেননি। ফলে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কথাকে মিথ্যা ও তার কথাকে সত্য বলে মেনে নিলেন। এতে আমি এমন মনে কষ্ট পেলাম, যেরূপ কষ্ট আর কখনও পাইনি। আমি (মনের দুঃখে) ঘরে বসে গেলাম। আমার চাচা আমাকে বললেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাকে মিথ্যাচারী মনে করেছেন এবং তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে তুমি কী করে মনে করলে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, “যখন মুনাফিকগণ তোমার কাছে আসে।” নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কাছে লোক পাঠালেন এবং এ সূরাহ পাঠ করলেন। এরপর বললেন, হে যায়দ! আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা দিয়েছেন। [৪৯০১, ৪৯০২, ৪৯০৩, ৪৯০৪; মুসলিম ৫০/হাঃ ২৭৭২, আহমাদ ১৯৩০৫] (আ.প্র. ৪৫৩২, ই.ফা. ৪৫৩৬)
৬৫/৬৩/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তারা নিজেদের শপথসমূহকে ঢালরূপে ব্যবহার করে। (সূরাহ মুনাফিকূন ৬৩/২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯০১
হাদিস নং ৪৯০১
آدَمُ بْنُ أَبِيْ إِيَاسٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيْلَ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَمِّيْ فَسَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أُبَيٍّ ابْنَ سَلُوْلَ يَقُوْلُ لَا تُنْفِقُوْا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ حَتَّى يَنْفَضُّوْا وَقَالَ أَيْضًا لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِيْنَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَمِّيْ فَذَكَرَ عَمِّيْ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَرْسَلَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ أُبَيٍّ وَأَصْحَابِهِ فَحَلَفُوْا مَا قَالُوْا فَصَدَّقَهُمْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَذَّبَنِيْ فَأَصَابَنِيْ هَمٌّ لَمْ يُصِبْنِيْ مِثْلُهُ قَطُّ فَجَلَسْتُ فِيْ بَيْتِيْ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ {إِذَا جَآءَكَ الْمُنٰفِقُوْنَ} إِلَى قَوْلِهِ {هُمُ الَّذِيْنَ يَقُوْلُوْنَ لَا تُنْفِقُوْا عَلٰى مَنْ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ} إِلَى قَوْلِهِ {لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ} فَأَرْسَلَ إِلَيَّ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَهَا عَلَيَّ ثُمَّ قَالَ إِنَّ اللهَ قَدْ صَدَّقَكَ.
বর্ণনাকারী যায়দ ইব্নু আরকাম (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সঙ্গে ছিলাম। এ সময় আমি ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাই ইব্নু সালূলকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গীদের জন্য ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা তার থেকে সরে পড়ে এবং সে এও বলল যে, আমরা মদিনায় ফিরলে সেখান থেকে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদেরকে অবশ্যই বের করে দিবে। এ কথা আমি আমার চাচার কাছে বলে দিলাম। আমার চাচা তা (রসূল) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বললেন। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাই এবং তার সাথী-সঙ্গীদেরকে ডেকে পাঠালেন। তারা সকলেই কসম করে বলল, তারা এ কথা বলেনি। ফলে, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের কথাকে সত্য এবং আমার কথাকে মিথ্যা মনে করলেন। এতে আমার এমন দুঃখ হল যেমন দুঃখ আর কখনও হয়নি। এমনকি আমি ঘরে বসে গেলাম। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন ঃ “যখন মুনাফিকরা তোমার কাছে আসে।” থেকে “তারা বলে আল্লাহ্র রসূলের সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না, যতক্ষণ না তারা সরে পড়ে” এবং “তথা থেকে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদেরকে বহিষ্কৃত করবেই।” এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং আমার সামনে তা তিনি পাঠ করলেন। তারপর বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা করেছেন। [৪৯০০] (আ.প্র. ৪৫৩৩, ই.ফা. ৪৫৩৭)
৬৫/৬৩/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ এটা এ কারণে যে, তারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে, ফলে তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে, তাই তারা বোঝে না। (সূরাহ মুনাফিকুন ৬৩/৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯০২
হাদিস নং ৪৯০২
آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْحَكَمِ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ كَعْبٍ الْقُرَظِيَّ قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ لَا تُنْفِقُوْا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ وَقَالَ أَيْضًا لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِيْنَةِ أَخْبَرْتُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَلَامَنِي الْأَنْصَارُ وَحَلَفَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ مَا قَالَ ذَلِكَ فَرَجَعْتُ إِلَى الْمَنْزِلِ فَنِمْتُ فَدَعَانِيْ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُهُ فَقَالَ إِنَّ اللهَ قَدْ صَدَّقَكَ وَنَزَلَ {هُمُ الَّذِيْنَ يَقُوْلُوْنَ لَا تُنْفِقُوْا} الْآيَةَ وَقَالَ ابْنُ أَبِيْ زَائِدَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ عَمْرٍو عَنْ ابْنِ أَبِيْ لَيْلَى عَنْ زَيْدٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
বর্ণনাকারী যায়দ ইব্নু আরকাম (রাঃ)
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাই যখন বলল, “আল্লাহ্র রসূলের সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না” এবং এ-ও বলল যে, “যদি আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করি.....।” তখন এ খবর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জানিয়ে দিলাম। এ কারণে আনসারগণ আমাকে ভর্ৎসনা করলেন এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাই কসম করে বলল, এমন কথা সে বলেনি। এরপর আমি আমার অবস্থানে ফিরে আসলাম এবং ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে সত্য বলে ঘোষণা করেছেন এবং অবতীর্ণ করেছেন- “তারা বলে তোমরা ব্যয় করবে না....শেষ পর্যন্ত। ইব্নু আবূ যায়িদাহ (রহ.) উক্ত হাদীস যায়দ ইব্নু আরকামের মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। [৪৯০০] (আ.প্র. ৪৫৩৪, ই.ফা. ৪৫৩৮)
৬৫/৬৩/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আর যখন আপনি তাদেরকে দেখবেন, তখন তাদের দৈহিক গঠন আপনাকে চমৎকৃত করবে। আর যদি তারা কথা বলতে থাকে, আপনি তাদের কথা শুনবেন, যদিও তারা দেয়ালে ঠেস লাগানো কাঠ সদৃশ। তারা প্রত্যেকটি শোরগোলকে নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। তারাই শত্রু, আপনি এদের থেকে সতর্ক থাকুন। আল্লাহ্ এদেরকে বিনাশ করুন। এরা বিভ্রান্ত হয়ে কোন্ দিকে যাচ্ছে? (সূরাহ মুনাফিকূন ৬৩/৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯০৩
হাদিস নং ৪৯০৩
عَمْرُوْ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا أَبُوْ إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيْ سَفَرٍ أَصَابَ النَّاسَ فِيْهِ شِدَّةٌ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ لِأَصْحَابِهِ لَا تُنْفِقُوْا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ حَتَّى يَنْفَضُّوْا مِنْ حَوْلِهِ وَقَالَ لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِيْنَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ فَأَرْسَلَ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ أُبَيٍّ فَسَأَلَهُ فَاجْتَهَدَ يَمِيْنَهُ مَا فَعَلَ قَالُوْا كَذَبَ زَيْدٌ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَوَقَعَ فِيْ نَفْسِيْ مِمَّا قَالُوْا شِدَّةٌ حَتَّى أَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ تَصْدِيْقِيْ فِيْ {إِذَا جَآءَكَ الْمُنٰفِقُوْنَ} فَدَعَاهُمْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيَسْتَغْفِرَ لَهُمْ فَلَوَّوْا رُءُوْسَهُمْ وَقَوْلُهُ {خُشُبٌ مُّسَنَّدَةٌ} قَالَ كَانُوْا رِجَالًا أَجْمَلَ شَيْءٍ.
বর্ণনাকারী যায়দ ইব্নু আরকাম (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা কোন এক সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হলাম। সফরে এক কঠিন অবস্থা লোকদেরকে গ্রাস করে নিল। তখন ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাই তার সাথী-সঙ্গীদেরকে বলল, “আল্লাহ্র রসূলের সহচরদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না যতক্ষণ তারা সরে পড়ে যারা তার আশে পাশে আছে।” সে এও বলল, “আমরা মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে তথা হতে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদের বহিষ্কৃত করবেই।” (এ কথা শুনে) আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এলাম এবং তাঁকে এ সম্পর্কে জানালাম। তখন তিনি ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাইকে ডেকে পাঠালেন। সে অতি জোর দিয়ে কসম খেয়ে বলল, এ কথা সে বলেনি। তখন লোকেরা বলল, যায়দ রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে মিথ্যা কথা বলেছে। তাদের এ কথায় আমার খুব দুঃখ হল। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্ তা‘আলা আমার সত্যতার পক্ষে আয়াত অবতীর্ণ করলেন ঃ “যখন মুনাফিকরা তোমার কাছে আসে।” এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে ডাকলেন, যাতে তিনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, “কিন্তু তারা তাদের মাথা ফিরিয়ে নিল।” (আ.প্র. ৪৫৩৫, ই.ফা. ৪৫৩৯)আল্লাহ্র বাণী ঃ “দেয়ালে ঠেস লাগানো কাঠ সদৃশ” (সূরাহ মুনাফিকূন ৬৩/৪)। রাবী বলেন, লোকগুলো দেখতে খুব সুন্দর ছিল। [৪৯০০] (আ.প্র. অনুচ্ছেদ, ই.ফা. অনুচ্ছেদ)
৬৫/৬৩/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯০৪
হাদিস নং ৪৯০৪
عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوْسَى عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَمِّيْ فَسَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ أُبَيٍّ ابْنَ سَلُوْلَ يَقُوْلُ لَا تُنْفِقُوْا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ حَتَّى يَنْفَضُّوْا وَلَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِيْنَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَمِّيْ فَذَكَرَ عَمِّيْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَعَانِيْ فَحَدَّثْتُهُ فَأَرْسَلَ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ أُبَيٍّ وَأَصْحَابِهِ فَحَلَفُوْا مَا قَالُوْا وَكَذَّبَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَصَدَّقَهُمْ فَأَصَابَنِيْ غَمٌّ لَمْ يُصِبْنِيْ مِثْلُهُ قَطُّ فَجَلَسْتُ فِيْ بَيْتِيْ وَقَالَ عَمِّيْ مَا أَرَدْتَ إِلَى أَنْ كَذَّبَكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَمَقَتَكَ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُوْنَ قَالُوْا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُوْلُ اللهِ} وَأَرْسَلَ إِلَيَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَهَا وَقَالَ إِنَّ اللهَ قَدْ صَدَّقَكَ
বর্ণনাকারী যায়দ ইব্নু আরকাম (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সঙ্গে ছিলাম। এ সময় শুনলাম, ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাই ইব্নু সালূল বলছে, “আল্লাহ্র রসূলের সঙ্গীদের জন্য তোমরা ব্যয় করবে না যতক্ষণ না তারা সরে পড়ে” এবং “আমরা মদিনায় ফিরলে সেখান থেকে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদেরকে অবশ্যই বের করে দিবে”। এ কথা আমি আমার চাচার কাছে জানালাম। আমার চাচা তা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে জানালেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ডাকলেন। আমি বিস্তারিতভাবে এ কথা তাঁর কাছে বললাম। তখন তিনি ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাই ও তার সাথী-সঙ্গীদেরকে ডেকে পাঠালেন। তারা সকলেই কসম করে বলল, এ কথা তারা বলেনি। ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে মিথ্যাচারী ও তাদেরকে সত্যবাদী মনে করলেন। এতে আমি এমন দুঃখ পেলাম যে, এমন দুঃখ আর কখনও পাইনি। এরপর আমি ঘরে বসে গেলাম। তখন আমার চাচা আমাকে বললেন, এমন কাজের কেন ইচ্ছে করলে, যার ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাকে মিথ্যাচারী স্থির করলেন এবং তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন? এ সময় আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন ঃ “যখন মুনাফিকরা তোমার কাছে আসে তারা বলে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহ্র রসূল” তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কাছে লোক পাঠালেন এবং সূরাটি আমার সামনে তিলাওয়াত করলেন ও বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা করেছেন। [৪৯০০] (আ.প্র. ৪৫৩৬, ই.ফা. ৪৫৪০)
৬৫/৬৩/৬.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করেন উভয়ই তাদের জন্য সমান। আল্লাহ্ তাদেরকে কখনও ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ্ তো পাপাচারী লোকদেরকে হিদায়াতের তাওফীক দান করেন না। (সূরাহ মুনাফিকুন ৬৩/৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯০৫
হাদিস নং ৪৯০৫
عَلِيٌّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كُنَّا فِيْ غَزَاةٍ قَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً فِيْ جَيْشٍ فَكَسَعَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِيْنَ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَ الْأَنْصَارِيُّ يَا لَلْأَنْصَارِ وَقَالَ الْمُهَاجِرِيُّ يَا لَلْمُهَاجِرِيْنَ فَسَمِعَ ذَلِكَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا بَالُ دَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ كَسَعَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِيْنَ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَ دَعُوْهَا فَإِنَّهَا مُنْتِنَةٌ فَسَمِعَ بِذَلِكَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ فَقَالَ فَعَلُوْهَا أَمَا وَاللهِ لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِيْنَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ فَبَلَغَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ عُمَرُ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ دَعْنِيْ أَضْرِبْ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دَعْهُ لَا يَتَحَدَّثُ النَّاسُ أَنَّ مُحَمَّدًا يَقْتُلُ أَصْحَابَهُ وَكَانَتْ الْأَنْصَارُ أَكْثَرَ مِنَ الْمُهَاجِرِيْنَ حِيْنَ قَدِمُوا الْمَدِيْنَةَ ثُمَّ إِنَّ الْمُهَاجِرِيْنَ كَثُرُوْا بَعْدُ قَالَ سُفْيَانُ فَحَفِظْتُهُ مِنْ عَمْرٍو قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ جَابِرًا كُنَّا مَعَ النَّبِيِ صلى الله عليه وسلم
বর্ণনাকারী জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা উপস্থিত ছিলাম। বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান (রহ.) একবার جَيْشٍ এর স্থলে غَزَاةٍ বর্ণনা করেছেন। এ সময় জনৈক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করলেন। তখন আনসারী হে আনসারী ভাইগণ! বলে সাহায্য প্রার্থনা করলেন এবং মুহাজির সহাবী, ওহে মুহাজির ভাইগণ! বলে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা শুনে বললেন, কী খবর, জাহিলী যুগের মত ডাকাডাকি করছ কেন? তখন উপস্থিত লোকেরা বললেন, এক মুহাজির এক আনসারীর নিতম্বে আঘাত করেছে। তিনি বললেন, এমন ডাকাডাকি পরিত্যাগ কর। এটা অত্যন্ত গন্ধময় কথা। এরপর ঘটনাটি ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবায়র কানে পৌঁছল, সে বলল, আচ্ছা, মুহাজিররা এমন কাজ করেছে? “আল্লাহ্র কসম! আমরা মদিনায় ফিরলে সেখান থেকে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকেদেরকে অবশ্যই বের করে দিবে।” এ কথা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছল। তখন ‘উমার (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি আমাকে অনুমতি দিন। আমি এক্ষুণি এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিচ্ছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এ কথা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সঙ্গী-সাথীদেরকে হত্যা করেন। জাবির (রাঃ) বলেন, মুহাজিররা যখন মদিনায় হিজরাত করে আসেন, তখন মুহাজিরদের তুলনায় আনসাররা সংখ্যায় বেশি ছিলেন। অবশ্য পরে মুহাজিররা সংখ্যায় বেশি হয়ে যান। সুফ্ইয়ান (রহ.).....বলেন, এ হাদীসটি আমি আম্র (রহ.) থেকে মুখস্থ করেছি। ‘আম্র (রহ.) বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। [৩৫১৮] (আ.প্র. ৪৫৩৭. ই.ফা. ৪৫৪১)
৬৫/৬৩/৭.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ‘‘এরাই তারা যারা বলে, আল্লাহর রাসূলের সাহচর্যে যারা রয়েছে তাদের জন্য ব্যয় করো না, যতক্ষণ না তারা সরে পড়ে। আসমান ও যমীনের ধনভান্ডার তো আল্লাহরই। কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না।’’ (সূরাহ মুনাফিকূন ৬৩/৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯০৬
হাদিস নং ৪৯০৬
. إِسْمَاعِيْلُ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِيْ إِسْمَاعِيْلُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ عُقْبَةَ عَنْ مُوْسَى بْنِ عُقْبَةَ قَالَ حَدَّثَنِيْ عَبْدُ اللهِ بْنُ الْفَضْلِ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُوْلُ حَزِنْتُ عَلَى مَنْ أُصِيْبَ بِالْحَرَّةِ فَكَتَبَ إِلَيَّ زَيْدُ بْنُ أَرْقَمَ وَبَلَغَهُ شِدَّةُ حُزْنِيْ يَذْكُرُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ اللهُمَّ اغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَلِأَبْنَاءِ الْأَنْصَارِ وَشَكَّ ابْنُ الْفَضْلِ فِيْ أَبْنَاءِ أَبْنَاءِ الْأَنْصَارِ فَسَأَلَ أَنَسًا بَعْضُ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ فَقَالَ هُوَ الَّذِيْ يَقُوْلُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا الَّذِيْ أَوْفَى اللهُ لَهُ بِأُذُنِهِ.
বর্ণনাকারী আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, র্হারায় যাদেরকে শহীদ করা হয়েছিল তাদের খবর শুনে শোকে মুহ্যমান হয়েছিলাম। আমার এ শোকের সংবাদ যায়দ ইব্নু আরকাম (রাঃ)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি আমার কাছে পত্র লিখেন। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি রসূলকে বলতে শুনেছেন, হে আল্লাহ্! আনসার ও আনসারদের সন্তানদেরকে তুমি ক্ষমা করে দাও। এ দু‘আয় রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনসারদের সন্তানদের সন্তানদের জন্য দু‘আ করেছেন কিনা এ ব্যাপারে ইব্নু ফায্ল (রাঃ) সন্দেহ করেছেন। এ ব্যাপারে আনাস (রাঃ) তার কাছে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাউকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যায়দ ইব্নু আরকাম (রাঃ) ঐ ব্যক্তি যার শ্রবণকে আল্লাহ্ তা‘আলা সত্য বলে ঘোষণা দিয়েছেন। [মুসলিম ৪৪/৪৩, হাঃ ২৫০৬, আহমাদ ১৯৬৬২] (আ.প্র. ৪৫৩৮, ই.ফা. ৪৫৪২)
৬৫/৬৩/৮.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তারা বলে: আমরা যদি মদীনায় ফিরে যাই, তবে প্রতিপত্তিশালীরা সেখান থেকে হীন লোকদের অবশ্যই বের করে দিবে। তাদের জেনে রাখা উচিত যে, ইজ্জত ও প্রতিপত্তি তো একমাত্র আল্লাহরই এবং তাঁর রাসূলের ও মু‘মিনদের। কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না। (সূরাহ মুনাফিকূন ৬৩/৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯০৭
হাদিস নং ৪৯০৭
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ حَفِظْنَاهُ مِنْ عَمْرِو بْنِ دِيْنَارٍ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا يَقُوْلُ كُنَّا فِيْ غَزَاةٍ فَكَسَعَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِيْنَ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَ الْأَنْصَارِيُّ يَا لَلْأَنْصَارِ وَقَالَ الْمُهَاجِرِيُّ يَا لَلْمُهَاجِرِيْنَ فَسَمَّعَهَا اللهُ رَسُوْلَهُ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا هَذَا فَقَالُوْا كَسَعَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِيْنَ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ فَقَالَ الْأَنْصَارِيُّ يَا لَلْأَنْصَارِ وَقَالَ الْمُهَاجِرِيُّ يَا لَلْمُهَاجِرِيْنَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دَعُوْهَا فَإِنَّهَا مُنْتِنَةٌ قَالَ جَابِرٌ وَكَانَتْ الْأَنْصَارُ حِيْنَ قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَكْثَرَ ثُمَّ كَثُرَ الْمُهَاجِرُوْنَ بَعْدُ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أُبَيٍّ أَوَقَدْ فَعَلُوْا وَاللهِ لَئِنْ رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِيْنَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ دَعْنِيْ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَضْرِبْ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دَعْهُ لَا يَتَحَدَّثُ النَّاسُ أَنَّ مُحَمَّدًا يَقْتُلُ أَصْحَابَهُ.
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা যোগদান করেছিলাম। জনৈক মুহাজির আনসারদের এক ব্যক্তির নিতম্বে আঘাত করলেন। তখন আনসারী সহাবী “আনসারী ভাইগণ!” বলে এবং মুহাজির সহাবী “হে মুহাজির ভাইগণ!” বলে ডাক দিলেন। আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের কানে এ কথা পৌঁছিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, এটা কেমন ডাকাডাকি? উপস্থিত লোকেরা বললেন, জনৈক মুহাজির ব্যক্তি এক আনসারী ব্যক্তির নিতম্বে আঘাত করেছে। আনসারী ব্যক্তি “হে আনসারী ভাইগণ!” বলে এবং মুহাজির ব্যক্তি “হে মুহাজির ভাইগণ!” বলে নিজ নিজ গোত্রকে ডাক দিলেন। এ কথা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ রকম ডাকাডাকি ত্যাগ কর। এগুলো অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত কথা। জাবির (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদিনায় হিজরাত করে আসেন তখন আনসার সহাবীগণ ছিলেন সংখ্যায় বেশি। পরে মুহাজিরগণ সংখ্যায় বেশি হয়ে যান। এ সব কথা শুনার পর ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু উবাই বলল, সত্যিই তারা কি এমন করেছে? আল্লাহ্র কসম! আমরা মদিনায় ফিরলে সেখান হতে প্রবল লোকেরা দুর্বল লোকদেরকে বের করে দিবেই। তখন ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি আমাকে অনুমতি দিন। আমি এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘উমার! তাকে ছেড়ে দাও, যাতে লোকেরা এমন কথা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাথীদের হত্যা করছেন। [৩৫১৮] (আ.প্র. ৪৫৩৯, ই.ফা. ৪৫৪৩)
৬৫/৬৫/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯০৮
হাদিস নং ৪৯০৮
يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ سَالِمٌ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَخْبَرَهُ أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَذَكَرَ عُمَرُ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَتَغَيَّظَ فِيْهِ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ لِيُرَاجِعْهَا ثُمَّ يُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيْضَ فَتَطْهُرَ فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يُطَلِّقَهَا فَلْيُطَلِّقْهَا طَاهِرًا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا فَتِلْكَ الْعِدَّةُ كَمَا أَمَرَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমার (রাঃ)
তিনি তাঁর ঋতুবতী স্ত্রীকে ত্বলাক দেয়ার পর ‘উমার (রাঃ) তা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে উল্লেখ করলেন। এতে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অত্যন্ত নাখোশ হলেন। এরপর তিনি বললেন, সে যেন তাকে ফিরিয়ে নেয়। এরপর পবিত্রাবস্থা না আসা পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রেখে দিক। এরপর ঋতু এসে আবার পবিত্র হলে তখন যদি ত্বলাক দিতে চায় তাহলে পবিত্রাবস্থায় স্পর্শ করার পূর্বে সে যেন তাকে ত্বলাক দেয়। এটি সেই ইদ্দত যেটি পালনের নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন। [৫২৫১, ৫২৫২, ৫২৫৩, ৫২৫৮, ৫২৬৪, ৫৩৩২, ৫৩৩৩, ৭১৬০] (আ.প্র. ৪৫৪০, ই.ফা. ৪৫৪৪)
৬৫/৬৫/২.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯০৯
হাদিস নং ৪৯০৯
سَعْدُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ يَحْيَى قَالَ أَخْبَرَنِيْ أَبُوْ سَلَمَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبُوْ هُرَيْرَةَ جَالِسٌ عِنْدَهُ فَقَالَ أَفْتِنِيْ فِي امْرَأَةٍ وَلَدَتْ بَعْدَ زَوْجِهَا بِأَرْبَعِيْنَ لَيْلَةً فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ آخِرُ الْأَجَلَيْنِ قُلْتُ أَنَا {وَأُوْلَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} قَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ أَنَا مَعَ ابْنِ أَخِيْ يَعْنِيْ أَبَا سَلَمَةَ فَأَرْسَلَ ابْنُ عَبَّاسٍ غُلَامَهُ كُرَيْبًا إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ يَسْأَلُهَا فَقَالَتْ قُتِلَ زَوْجُ سُبَيْعَةَ الْأَسْلَمِيَّةِ وَهِيَ حُبْلَى فَوَضَعَتْ بَعْدَ مَوْتِهِ بِأَرْبَعِيْنَ لَيْلَةً فَخُطِبَتْ فَأَنْكَحَهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ أَبُو السَّنَابِلِ فِيْمَنْ خَطَبَهَا.
বর্ণনাকারী আবূ সালামাহ (রহ.)
তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে এলেন এবং বললেন, এক মহিলা তাঁর স্বামীর মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর বাচ্চা প্রসব করেছে। সে এখন কীভাবে ইদ্দত পালন করবে, এ বিষয়ে আমাকে ফতোয়া দিন। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, ইদ্দত সম্পর্কিত হুকুম্ দু’টির যেটি দীর্ঘ, তাকে সেটি পালন করতে হবে। আবূ সালামাহ (রহ.) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ্র হুকুম তো হল ঃ গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, আমি আমার ভ্রাতুষ্পুত্র অর্থাৎ আবূ সালামাহ্র সঙ্গে আছি। তখন ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁর ক্রীতদাস কুরায়বকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করার জন্য উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর কাছে পাঠালেন। তিনি বললেন, সুবায়‘আ আসলামিয়া (রাঃ)-এর স্বামীকে হত্যা করা হল, তিনি তখন গর্ভবতী ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর তিনি সন্তান প্রসব করলেন। এরপরই তার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বিয়ে করিয়ে দিলেন। যারা তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন আবুস্ সানাবিল তাদের মধ্যে একজন। [৫৩১৮] (আ.প্র. ৪৫৪১, ই.ফা. ৪৫৪৫)
৬৫/৬৬/১.অধ্যায়ঃ
‘‘হে নাবী! আল্লাহ্ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন, আপনি তা হারাম করেছেন কেন? আপনি আপনার স্ত্রীদের খুশী করতে চাইছেন। আল্লাহ্ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়াল।’’ (সূরাহ আত্-তাহরীম ৬৬/১)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯১১
হাদিস নং ৪৯১১
مُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ ابْنِ حَكِيْمٍ هُوَ يَعْلَى بْنُ حَكِيْمٍ الثَّقَفِيُّ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ فِي الْحَرَامِ يُكَفَّرُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيْ رَسُوْلِ اللهِ إِسْوَةٌ حَسَنَةٌ}.
বর্ণনাকারী সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রাঃ)
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, এরূপ হারাম করে নেয়া হলে কাফ্ফারা দিতে হবে। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) এ-ও বলেছেন যে, “রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।” [৫২৬৬; মুসলিম ১৮/৩, হাঃ ১৪৭৩, আহমাদ ১৯৭৬] আ.প্র. ৪৫৪২, ই.ফা. ৪৫৪৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯১২
হাদিস নং ৪৯১২
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ يُوْسُفَ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَشْرَبُ عَسَلًا عِنْدَ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ وَيَمْكُثُ عِنْدَهَا فَوَاطَيْتُ أَنَا وَحَفْصَةُ عَلَى أَيَّتُنَا دَخَلَ عَلَيْهَا فَلْتَقُلْ لَهُ أَكَلْتَ مَغَافِيْرَ إِنِّيْ أَجِدُ مِنْكَ رِيْحَ مَغَافِيْرَ قَالَ لَا وَلَكِنِّيْ كُنْتُ أَشْرَبُ عَسَلًا عِنْدَ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ فَلَنْ أَعُوْدَ لَهُ وَقَدْ حَلَفْتُ لَا تُخْبِرِيْ بِذَلِكَ أَحَدًا.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যয়নব বিন্ত জাহ্শ (রাঃ)-এর কাছে মধু পান করতেন এবং সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন। তাই আমি এবং হাফ্সাহ স্থির করলাম যে, আমাদের যার ঘরেই রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসবেন, সে তাঁকে বলবে, আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? আপনার মুখ থেকে মাগাফীরের গন্ধ পাচ্ছি। তিনি বললেন, না, বরং আমি যয়নব বিন্ত জাহ্শ (রাঃ)-এর নিকট মধু পান করেছি। আমি কসম করলাম, আর কখনও মধু পান করব না। তুমি এ ব্যাপারে অন্য কাউকে জানাবে না। [৫২১৬, ৫২৬৭, ৫২৬৮, ৫৪৩১, ৫৫৯৯, ৫৬১৪, ৫৬৮২, ৬৬৯১, ৬৯৭২] (আ.প্র. ৪৫৪৩, ই.ফা. ৪৫৪৭)
৬৫/৬৬/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯১৩
হাদিস নং ৪৯১৩
عَبْدُ الْعَزِيْزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ بْنِ حُنَيْنٍ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا يُحَدِّثُ أَنَّهُ قَالَ مَكَثْتُ سَنَةً أُرِيْدُ أَنْ أَسْأَلَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَنْ آيَةٍ فَمَا أَسْتَطِيْعُ أَنْ أَسْأَلَهُ هَيْبَةً لَهُ حَتَّى خَرَجَ حَاجًّا فَخَرَجْتُ مَعَهُ فَلَمَّا رَجَعْنَا وَكُنَّا بِبَعْضِ الطَّرِيْقِ عَدَلَ إِلَى الْأَرَاكِ لِحَاجَةٍ لَهُ قَالَ فَوَقَفْتُ لَهُ حَتَّى فَرَغَ ثُمَّ سِرْتُ مَعَهُ فَقُلْتُ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ مَنْ اللَّتَانِ تَظَاهَرَتَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَزْوَاجِهِ فَقَالَ تِلْكَ حَفْصَةُ وَعَائِشَةُ قَالَ فَقُلْتُ وَاللهِ إِنْ كُنْتُ لَأُرِيْدُ أَنْ أَسْأَلَكَ عَنْ هَذَا مُنْذُ سَنَةٍ فَمَا أَسْتَطِيْعُ هَيْبَةً لَكَ قَالَ فَلَا تَفْعَلْ مَا ظَنَنْتَ أَنَّ عِنْدِيْ مِنْ عِلْمٍ فَاسْأَلْنِيْ فَإِنْ كَانَ لِيْ عِلْمٌ خَبَّرْتُكَ بِهِ قَالَ ثُمَّ قَالَ عُمَرُ وَاللهِ إِنْ كُنَّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ مَا نَعُدُّ لِلنِّسَاءِ أَمْرًا حَتَّى أَنْزَلَ اللهُ فِيْهِنَّ مَا أَنْزَلَ وَقَسَمَ لَهُنَّ مَا قَسَمَ قَالَ فَبَيْنَا أَنَا فِيْ أَمْرٍ أَتَأَمَّرُهُ إِذْ قَالَتْ امْرَأَتِيْ لَوْ صَنَعْتَ كَذَا وَكَذَا قَالَ فَقُلْتُ لَهَا مَا لَكَ وَلِمَا هَا هُنَا وَفِيْمَ تَكَلُّفُكِ فِيْ أَمْرٍ أُرِيْدُهُ فَقَالَتْ لِيْ عَجَبًا لَكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ مَا تُرِيْدُ أَنْ تُرَاجَعَ أَنْتَ وَإِنَّ ابْنَتَكَ لَتُرَاجِعُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَظَلَّ يَوْمَهُ غَضْبَانَ فَقَامَ عُمَرُ فَأَخَذَ رِدَاءَهُ مَكَانَهُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى حَفْصَةَ فَقَالَ لَهَا يَا بُنَيَّةُ إِنَّكِ لَتُرَاجِعِيْنَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَظَلَّ يَوْمَهُ غَضْبَانَ فَقَالَتْ حَفْصَةُ وَاللهِ إِنَّا لَنُرَاجِعُهُ فَقُلْتُ تَعْلَمِيْنَ أَنِّيْ أُحَذِّرُكِ عُقُوْبَةَ اللهِ وَغَضَبَ رَسُوْلِهِ صلى الله عليه وسلم يَا بُنَيَّةُ لَا يَغُرَّنَّكِ هَذِهِ الَّتِيْ أَعْجَبَهَا حُسْنُهَا حُبُّ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِيَّاهَا يُرِيْدُ عَائِشَةَ قَالَ ثُمَّ خَرَجْتُ حَتَّى دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ لِقَرَابَتِيْ مِنْهَا فَكَلَّمْتُهَا فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ عَجَبًا لَكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ دَخَلْتَ فِيْ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى تَبْتَغِيَ أَنْ تَدْخُلَ بَيْنَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَزْوَاجِهِ فَأَخَذَتْنِيْ وَاللهِ أَخْذًا كَسَرَتْنِيْ عَنْ بَعْضِ مَا كُنْتُ أَجِدُ فَخَرَجْتُ مِنْ عِنْدِهَا وَكَانَ لِيْ صَاحِبٌ مِنَ الْأَنْصَارِ إِذَا غِبْتُ أَتَانِيْ بِالْخَبَرِ وَإِذَا غَابَ كُنْتُ أَنَا آتِيْهِ بِالْخَبَرِ وَنَحْنُ نَتَخَوَّفُ مَلِكًا مِنْ مُلُوْكِ غَسَّانَ ذُكِرَ لَنَا أَنَّهُ يُرِيْدُ أَنْ يَسِيْرَ إِلَيْنَا فَقَدْ امْتَلَأَتْ صُدُوْرُنَا مِنْهُ فَإِذَا صَاحِبِي الْأَنْصَارِيُّ يَدُقُّ الْبَابَ فَقَالَ افْتَحْ افْتَحْ فَقُلْتُ جَاءَ الْغَسَّانِيُّ فَقَالَ بَلْ أَشَدُّ مِنْ ذَلِكَ اعْتَزَلَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَزْوَاجَهُ فَقُلْتُ رَغَمَ أَنْفُ حَفْصَةَ وَعَائِشَةَ فَأَخَذْتُ ثَوْبِيْ فَأَخْرُجُ حَتَّى جِئْتُ فَإِذَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيْ مَشْرُبَةٍ لَهُ يَرْقَى عَلَيْهَا بِعَجَلَةٍ وَغُلَامٌ لِرَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلمأَسْوَدُ عَلَى رَأْسِ الدَّرَجَةِ فَقُلْتُ لَهُ قُلْ هَذَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَأَذِنَ لِيْ قَالَ عُمَرُ فَقَصَصْتُ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا الْحَدِيْثَ فَلَمَّا بَلَغْتُ حَدِيْثَ أُمِّ سَلَمَةَ تَبَسَّمَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّهُ لَعَلَى حَصِيْرٍ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ شَيْءٌ وَتَحْتَ رَأْسِهِ وِسَادَةٌ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيْفٌ وَإِنَّ عِنْدَ رِجْلَيْهِ قَرَظًا مَصْبُوْبًا وَعِنْدَ رَأْسِهِ أَهَبٌ مُعَلَّقَةٌ فَرَأَيْتُ أَثَرَ الْحَصِيْرِ فِيْ جَنْبِهِ فَبَكَيْتُ فَقَالَ مَا يُبْكِيْكَ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ كِسْرَى وَقَيْصَرَ فِيْمَا هُمَا فِيْهِ وَأَنْتَ رَسُوْلُ اللهِ فَقَالَ أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُوْنَ لَهُمْ الدُّنْيَا وَلَنَا الآخِرَةُ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ)-কে এ আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য আমি এক বছর অপেক্ষা করেছি। কিন্তু তাঁর ব্যক্তি প্রভাবের ভয়ে আমি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে পারিনি। অবশেষে তিনি হাজ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হলে, আমিও তাঁর সঙ্গে গেলাম। ফেরার পথে আমরা যখন কোন একটি রাস্তা অতিক্রম করছিলাম, তখন তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য একটি পিলু গাছের আড়ালে গেলেন। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি প্রয়োজন সেরে না আসা পর্যন্ত আমি সেখানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলাম। এরপর তাঁর সঙ্গে পথ চলতে চলতে বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীদের কোন্ দু’জন তার বিপক্ষে একমত হয়ে পরস্পর একে অন্যকে সহযোগিতা করেছিলেন? তিনি বললেন, তাঁরা দু’জন হল হাফসাহ ও ‘আয়িশাহ (রাঃ)। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ্র শপথ! আমি আপনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য এক বছর যাবৎ ইচ্ছে করেছিলাম। কিন্তু আপনার ভয়ে আমার পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, এ রকম করবে না। যে বিষয়ে তুমি মনে করবে যে, আমি তা জানি, তা আমাকে জিজ্ঞেস করবে। এ বিষয়ে আমার জানা থাকলে আমি তোমাকে জানিয়ে দেব। তিনি বলেন, এরপর ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র শপথ! জাহিলী যুগে মহিলাদের কোন অধিকার আছে বলে আমরা মনে করতাম না। অবশেষে আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের সম্পর্কে যে বিধান অবতীর্ণ করার ছিল তা অবতীর্ণ করলেন এবং তাদের হক হিসাবে যা নির্দিষ্ট করার ছিল তা নির্দিষ্ট করলেন। তিনি বলেন, একদিন আমি কোন এক ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করছিলাম, এমন সময় আমার স্ত্রী আমাকে বললেন, কাজটি যদি তুমি এভাবে এভাবে করতে। আমি বললাম, তোমার কী প্রয়োজন? এবং আমার কাজে তোমার এ অনধিকার চর্চা কেন। সে আমাকে বলল, হে খাত্তাবের বেটা! কি আশ্চর্য, তুমি চাও না যে, আমি তোমার কথার উত্তর দান করি অথচ তোমার কন্যা হাফ্সাহ (রাঃ) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথার পৃষ্ঠে কথা বলে থাকে। এমনকি একদিন তো সে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে রাগানি¦ত করে ফেলে। এ কথা শুনে ‘উমার (রাঃ) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং চাদরখানা নিয়ে তার বাড়িতে চলে গেলেন। তিনি তাকে বললেন, বেটী! তুমি নাকি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথার প্রতি-উত্তর করে থাক। ফলে তিনি দিনভর দুঃখিত থাকেন। হাফ্সাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র কসম! আমরা তো অবশ্যই তাঁর কথার জবাব দিয়ে থাকি। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, জেনে রাখ! আমি তোমাকে আল্লাহ্র শাস্তি এবং রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসন্তুষ্টি সম্পর্কে সতর্ক করছি। রূপ-সৌন্দর্যের কারণে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভালবাসা যাকে গর্বিতা করে রেখেছে, সে যেন তোমাকে প্রতারিত না করতে পারে। এ কথা বলে ‘উমার (রাঃ) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বোঝাচ্ছিলেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, এরপর আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আসলাম এবং উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করলাম ও এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করলাম। কারণ, তাঁর সঙ্গে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। তখন উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, হে খাত্তাবের বেটা! কি আশ্চর্য, তুমি প্রত্যেক ব্যাপারেই নাক গলাচ্ছ, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তার স্ত্রীদের ব্যাপারেও হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছ। আল্লাহ্র কসম! তিনি আমাকে এমন শক্তভাবে ধরলেন যে, আমার রাগ খতম হয়ে গেল। এরপর আমি তাঁর নিকট হতে চলে আসলাম। আমার একজন আনসার বন্ধু ছিল। যদি আমি কোন মাজলিসে অনুপস্থিত থাকতাম তাহলে সে এসে মাজলিসের খবর আমাকে জানাত। আর সে যদি অনুপস্থিত থাকত তাহলে আমি এসে তাকে মাজলিসের খবর জানাতাম। সে সময় আমরা গাস্সানী বাদশাহ্র আক্রমণের আশংকা করছিলাম। আমাদেরকে বলা হয়েছিল যে, সে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য রওয়ানা হয়েছে। তাই আমাদের হৃদয়-মন এ ভয়ে শংকিত ছিল। এমন সময় আমার আনসার বন্ধু এসে দরজায় আঘাত করে বললেন, দরজা খুলুন, দরজা খুলুন। আমি বললাম, গাস্সানীরা চলে এসেছে নাকি? তিনি বললেন, বরং এর চেয়েও কঠিন ব্যাপার ঘটে গেছে। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সহধর্মিণীদের থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছেন। তখন আমি বললাম, হাফ্সাহ ও ‘আয়িশাহর নাক ধূলায় ধূসরিত হোক। এরপর আমি কাপড় নিয়ে বেরিয়ে গেলাম। গিয়ে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি উঁচু কক্ষে অবস্থান করছেন। সিঁড়ি বেয়ে সেখানে পৌঁছতে হয়। সিঁড়ির মুখে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একজন কালো গোলাম বসা ছিল। আমি বললাম, বলুন, ‘উমার ইব্নু খাত্তাব এসেছেন। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে অনুমতি দিলেন, আমি তাঁকে সব কথা বললাম, আমি যখন উম্মু সালামাহ্র কপোপকথন পর্যন্ত পৌঁছলাম তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুচকি হাসলেন। এ সময় তিনি একটা চাটাইয়ের উপর শুয়ে ছিলেন। চাটাই এবং রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে আর কিছুই ছিল না। তাঁর মাথার নিচে ছিল খেজুরের ছালভর্তি চামড়ার একটি বালিশ এবং পায়ের কাছে ছিল সল্ম বৃক্ষের পাতার একটি স্তূপ ও মাথার উপর লটকানো ছিল চামড়ার একটি মশক। আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এক পার্শ্বে চাটাইয়ের দাগ দেখে কেঁদে ফেললে তিনি বললেন, তুমি কেন কাঁদছ? আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! কিসরা ও কায়সার পার্থিব ভোগ-বিলাসের মধ্যে ডুবে আছে, অথচ আপনি আল্লাহ্র রসূল। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তারা দুনিয়া লাভ করুক, আর আমরা আখিরাত লাভ করি। [৮৯; মুসলিম ১৮/৫, হাঃ ১৪৭৯] (আ.প্র. ৪৫৪৪, ই.ফা. ৪৫৪৮)
৬৫/৬৬/৩.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯১৪
হাদিস নং ৪৯১৪
عَلِيٌّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ حُنَيْنٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُوْلُ أَرَدْتُ أَنْ أَسْأَلَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فَقُلْتُ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ مَنْ الْمَرْأَتَانِ اللَّتَانِ تَظَاهَرَتَا عَلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَمَا أَتْمَمْتُ كَلَامِيْ حَتَّى قَالَ عَائِشَةُ وَحَفْصَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا. قُوْا {أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيْكُمْ} قَالَ مُجَاهِدٌ أَوْصُوْا.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করতে চাইলাম। আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণীদের কোন্ দু’জন তাঁর ব্যাপারে একমত হয়ে পরস্পর একে অন্যকে সহযোগিতা করেছিলেন? আমি আমার কথা শেষ করার আগেই তিনি বললেন, ‘আয়িশাহ এবং হাফসাহ (রাঃ)। (আ.প্র. ৪৫৪৫, ই.ফা. ৪৫৪৯)
৬৫/৬৬/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তোমাদের অন্তর অন্যায়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, তাই তোমরা উভয়ে তাওবা করলে ভাল হয়। (সূরাহ আত্-তাহরীম ৬৬/৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯১৫
হাদিস নং ৪৯১৫
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ حُنَيْنٍ يَقُوْلُ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُوْلُ كُنْتُ أُرِيْدُ أَنْ أَسْأَلَ عُمَرَ عَنِ الْمَرْأَتَيْنِ اللَّتَيْنِ تَظَاهَرَتَا عَلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَمَكَثْتُ سَنَةً فَلَمْ أَجِدْ لَهُ مَوْضِعًا حَتَّى خَرَجْتُ مَعَهُ حَاجًّا فَلَمَّا كُنَّا بِظَهْرَانَ ذَهَبَ عُمَرُ لِحَاجَتِهِ فَقَالَ أَدْرِكْنِيْ بِالْوَضُوْءِ فَأَدْرَكْتُهُ بِالإِدَاوَةِ فَجَعَلْتُ أَسْكُبُ عَلَيْهِ الْمَاءَ وَرَأَيْتُ مَوْضِعًا فَقُلْتُ يَا أَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ مَنْ الْمَرْأَتَانِ اللَّتَانِ تَظَاهَرَتَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَمَا أَتْمَمْتُ كَلَامِيْ حَتَّى قَالَ عَائِشَةُ وَحَفْصَةُ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, যে দু’জন মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে পরস্পর একে অন্যকে সাহায্য করেছিল, তাদের সম্পর্কে ‘উমার (রাঃ)-কে আমি জিজ্ঞেস করার ইচ্ছে করছিলাম। কিন্তু জিজ্ঞেস করার সুযোগ না পেয়ে আমি এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। শেষে একবার হজ্জ করার জন্য তাঁর সঙ্গে আমি যাত্রা করলাম। আমরা ‘যাহ্রান’ নামক স্থানে পৌঁছলে ‘উমার (রাঃ) প্রাকৃতিক প্রয়োজনে গেলেন। এরপর আমাকে বললেন, আমার জন্য ওযুর পানির ব্যবস্থা কর। আমি পাত্র ভরে পানি নিয়ে আসলাম এবং ঢেলে দিতে লাগলাম। সুযোগ মনে করে আমি তাঁকে বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! ঐ দু’জন মহিলা কে কে, যারা একে অন্যকে সাহায্য করেছিল? ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি আমার কথা শেষ করার আগেই তিনি বললেন, ‘আয়িশাহ ও হাফ্সাহ (রাঃ)। [৮৯] (আ.প্র. ৪৫৪৬, ই.ফা. ৪৫৫০)
৬৫/৬৬/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯১৬
হাদিস নং ৪৯১৬
عَمْرُوْ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ اجْتَمَعَ نِسَاءُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْغَيْرَةِ عَلَيْهِ فَقُلْتُ لَهُنَّ {عَسٰى رَبُّه”ٓ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُّبْدِلَهٓ” أَزْوَاجًا خَيْرًا مِّنْكُنَّ} فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সতর্কতা দানের জন্য তাঁর সহধর্মিণীগণ একত্রিত হয়েছিলেন। আমি তাঁদেরকে বললাম, যদি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন তবে তাঁর প্রতিপালক সম্ভবত তাঁকে দেবেন তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্ত্রী। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল। [৪০২] (আ.প্র. ৪৫৪৭, ই.ফা. ৪৫৫১)
৬৫/৬৮/১.অধ্যায়ঃ
‘‘যে রুক্ষ স্বভাব, এতদ্ব্যতীত জারজ।’’ (সূরাহ আল-ক্বলাম ৬৮/১৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯১৭
হাদিস নং ৪৯১৭
مَحْمُوْدٌ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوْسَى عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ أَبِيْ حَصِيْنٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عُتُلٍّ بَعْدَ ذَلِكَ زَنِيْمٍ قَالَ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ لَهُ زَنَمَةٌ مِثْلُ زَنَمَةِ الشَّاةِ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি عُتُلٍّ بَعْدَ ذَلِكَ زَنِيمٍ (রূঢ় স্বভাব এবং তদুপরি কুখ্যাত) আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, এ লোকটি হলো কুরাইশ গোত্রের এমন এক লোক, যার স্কন্ধে ছাগলের চিহ্নের মত একটি বিশেষ চিহ্ন ছিল। (আ.প্র. ৪৫৪৮, ই.ফা. ৪৫৫২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯১৮
হাদিস নং ৪৯১৮
أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَعْبَدِ بْنِ خَالِدٍ قَالَ سَمِعْتُ حَارِثَةَ بْنَ وَهْبٍ الْخُزَاعِيَّ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ الْجَنَّةِ كُلُّ ضَعِيْفٍ مُتَضَعِّفٍ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللهِ لَأَبَرَّهُ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ النَّارِ كُلُّ عُتُلٍّ جَوَّاظٍ مُسْتَكْبِرٍ.
বর্ণনাকারী হারিস ইব্নু ওয়াহাব খুযাঈ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী লোকদের পরিচয় বলব না? তারা দুর্বল এবং অসহায়; কিন্তু তাঁরা যদি কোন ব্যাপারে আল্লাহ্র নামে কসম করে বসেন, তাহলে তা পূরণ করে দেন। আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামী লোকদের পরিচয় বলব না? তারা রূঢ় স্বভাব, অধিক মোটা এবং অহংকারী তারাই জাহান্নামী। [৬০৭১, ৬৬৫৭; মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৫৩, আহমাদ ১৮৭৫৩] (আ.প্র. ৪৫৪৯, ই.ফা. ৪৫৫৩)
৬৫/৬৮/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ পায়ের গোছা পর্যন্ত উন্মুক্ত করার দিনের কথা স্মরণ কর। (সূরাহ আল-ক্বলাম ৬৮/৪২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯১৯
হাদিস নং ৪৯১৯
آدَمُ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيْدَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ أَبِيْ هِلَالٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ يَقُوْلُ يَكْشِفُ رَبُّنَا عَنْ سَاقِهِ فَيَسْجُدُ لَهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ وَمُؤْمِنَةٍ فَيَبْقَى كُلُّ مَنْ كَانَ يَسْجُدُ فِي الدُّنْيَا رِيَاءً وَسُمْعَةً فَيَذْهَبُ لِيَسْجُدَ فَيَعُوْدُ ظَهْرُهُ طَبَقًا وَاحِدًا.
বর্ণনাকারী আবূ সা‘ঈদ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আমাদের প্রতিপালক যখন তাঁর পায়ের গোড়ালির জ্যোতি বিকীর্ণ করবেন, তখন ঈমানদার নারী ও পুরুষ সবাই তাকে সাজ্দাহ করবে। কিন্তু যারা দুনিয়াতে লোক দেখানো ও প্রচারের জন্য সাজ্দাহ করত, তারা কেবল বাকী থাকবে। তারা সাজদাহ করতে ইচ্ছে করলে তাদের পিঠ একখণ্ড কাঠের ন্যায় শক্ত হয়ে যাবে। [২২] (আ.প্র. ৪৫৫০, ই.ফা. ৪৫৫৪)
৬৫/৭১/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তোমরা ত্যাগ করো না ওয়াদ, সূওয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক ও নাসারকে। (সূরাহ নূহ ৭১/২৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯২০
হাদিস নং ৪৯২০
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ مُوْسَى أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ وَقَالَ عَطَاءٌ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا صَارَتْ الْأَوْثَانُ الَّتِيْ كَانَتْ فِيْ قَوْمِ نُوْحٍ فِي الْعَرَبِ بَعْدُ أَمَّا وَدٌّ كَانَتْ لِكَلْبٍ بِدَوْمَةِ الْجَنْدَلِ وَأَمَّا سُوَاعٌ كَانَتْ لِهُذَيْلٍ وَأَمَّا يَغُوْثُ فَكَانَتْ لِمُرَادٍ ثُمَّ لِبَنِيْ غُطَيْفٍ بِالْجَوْفِ عِنْدَ سَبَإٍ وَأَمَّا يَعُوْقُ فَكَانَتْ لِهَمْدَانَ وَأَمَّا نَسْرٌ فَكَانَتْ لِحِمْيَرَ لِآلِ ذِي الْكَلَاعِ أَسْمَاءُ رِجَالٍ صَالِحِيْنَ مِنْ قَوْمِ نُوْحٍ فَلَمَّا هَلَكُوْا أَوْحَى الشَّيْطَانُ إِلَى قَوْمِهِمْ أَنْ انْصِبُوْا إِلَى مَجَالِسِهِمْ الَّتِيْ كَانُوْا يَجْلِسُوْنَ أَنْصَابًا وَسَمُّوْهَا بِأَسْمَائِهِمْ فَفَعَلُوْا فَلَمْ تُعْبَدْ حَتَّى إِذَا هَلَكَ أُوْلَئِكَ وَتَنَسَّخَ الْعِلْمُ عُبِدَتْ
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, যে প্রতিমার পূজা নূহ্ (‘আ.)-এর কওমের মাঝে চালু ছিল, পরবর্তী সময়ে আরবদের মাঝেও তার পূজা প্রচলিত হয়েছিল। ওয়াদ “দুমাতুল জান্দাল” নামক জায়গার কাল্ব গোত্রের একটি দেবমূর্তি, সূওয়া‘আ, হল, হুযায়ল গোত্রের একটি দেবমূর্তি এবং ইয়াগুছ ছিল মুরাদ গোত্রের, অবশ্য পরবর্তীতে তা গাতীফ গোত্রের হয়ে যায়। এর আস্তানা ছিল কওমে সাবার নিকটবর্তী ‘জাওফ’ নামক স্থান। ইয়া‘উক ছিল হামাদান গোত্রের দেবমূর্তি, নাস্র ছিল যুলকালা‘ গোত্রের হিময়ার শাখার মূর্তি। নূহ (‘আ.)-এর সম্প্রদায়ের কতিপয় নেক লোকের নাম নাস্র ছিল। তারা মারা গেলে, শয়তান তাদের কওমের লোকদের অন্তরে এ কথা ঢেলে দিল যে, তারা যেখানে বসে মাজলিস করত, সেখানে তোমরা কতিপয় মূর্তি স্থাপন কর এবং ঐ সমস্ত পুণ্যবান লোকের নামেই এগুলোর নামকরণ কর। কাজেই তারা তাই করল, কিন্তু তখনও ঐ সব মূর্তির পূজা করা হত না। তবে মূর্তি স্থাপনকারী লোকগুলো মারা গেলে এবং মূর্তিগুলোর ব্যাপারে সত্যিকারের জ্ঞান বিলুপ্ত হলে লোকজন তাদের পূজা আরম্ভ করে দেয়। (আ.প্র. ৪৫৫১, ই.ফা. ৪৫৫৫)
৬৫/৭২/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯২১
হাদিস নং ৪৯২১
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ أَبِيْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ انْطَلَقَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيْ طَائِفَةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ عَامِدِيْنَ إِلَى سُوْقِ عُكَاظٍ وَقَدْ حِيْلَ بَيْنَ الشَّيَاطِيْنِ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ وَأُرْسِلَتْ عَلَيْهِمْ الشُّهُبُ فَرَجَعَتْ الشَّيَاطِيْنُ فَقَالُوْا مَا لَكُمْ فَقَالُوْا حِيْلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ وَأُرْسِلَتْ عَلَيْنَا الشُّهُبُ قَالَ مَا حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ إِلَّا مَا حَدَثَ فَاضْرِبُوْا مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا فَانْظُرُوْا مَا هَذَا الْأَمْرُ الَّذِيْ حَدَثَ فَانْطَلَقُوْا فَضَرَبُوْا مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا يَنْظُرُوْنَ مَا هَذَا الْأَمْرُ الَّذِيْ حَالَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ قَالَ فَانْطَلَقَ الَّذِيْنَ تَوَجَّهُوْا نَحْوَ تِهَامَةَ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِنَخْلَةَ وَهُوَ عَامِدٌ إِلَى سُوْقِ عُكَاظٍ وَهُوَ يُصَلِّيْ بِأَصْحَابِهِ صَلَاةَ الْفَجْرِ فَلَمَّا سَمِعُوا الْقُرْآنَ تَسَمَّعُوْا لَهُ فَقَالُوْا هَذَا الَّذِيْ حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ خَبَرِ السَّمَاءِ فَهُنَالِكَ رَجَعُوْا إِلَى قَوْمِهِمْ فَقَالُوْا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا يَهْدِيْ إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا وَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم{قُلْ أُوْحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ} وَإِنَّمَا أُوْحِيَ إِلَيْهِ قَوْلُ الْجِنِّ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদল সহাবীকে নিয়ে উকায বাজারের দিকে রওয়ানা হলেন। এ সময়ই জিনদের আসমানী খবরাদি শোনার ব্যাপারে বাধা সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে এবং ছুঁড়ে মারা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে লেলিহান অগ্নিশিখা। ফলে জিন শায়ত্বনরা ফিরে আসলে অন্য জিনরা তাদেরকে বলল, তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলল, আসমানী খবরাদি সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে আমাদের উপর বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমাদের প্রতি লেলিহান অগ্নিশিখা ছুঁড়ে মারা হয়েছে। তখন শয়তান বলল, আসমানী খবরাদি সংগ্রহের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি যে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, অবশ্যই তা কোন নতুন ঘটনা ঘটার কারণেই হয়েছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত সফর কর এবং দেখ ব্যাপারটা কী ঘটেছে? তাই আসমানী খবরাদি সংগ্রহের ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে, এর কারণ খুঁজে বের করার জন্য তারা সকলেই পৃথিবীর পূর্ব এবং পশ্চিমে অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়ল। ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, যারা তিহামার উদ্দেশে বেরিয়েছিল, তারা ‘নাখলা’ নামক স্থানে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে উপস্থিত হল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এখান থেকে উকায বাজারের দিকে যাওয়ার মনস্থ করেছিলেন। এ সময় রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহাবীদেরকে নিয়ে ফাজ্রের সলাত আদায় করছিলেন। জিনদের ঐ দলটি কুরআন মাজীদ শুনতে পেয়ে আরো বেশি মনোযোগ দিয়ে তা শুনতে লাগল এবং বলল, আসমানী খবর আর তোমাদের মাঝে এটাই সত্যিকারে বাধা সৃষ্টি করেছে। এরপর তারা তাদের কওমের কাছে ফিরে এসে বলল, হে আমাদের কওম! আমরা এক আশ্চর্যজনক কুরআন শ্রবণ করেছি, যা সঠিক পথ নির্দেশ করে। এতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা কখনও আমাদের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থির করব না। এরপর আল্লাহ তাঁর নাবীর প্রতি অবতীর্ণ করলেন ঃ বল, আমার প্রতি ওয়াহী প্রেরিত হয়েছে যে জিনদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে শুনেছে। জিনদের উপরোক্ত কথা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ওয়াহীর মারফত জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। [৭৭৩] (আ.প্র. ৪৫৫২, ই.ফা. ৪৫৫৬)
৬৫/৭৪/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯২২
হাদিস নং ৪৯২২
يَحْيَى حَدَّثَنَا وَكِيْعٌ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِيْ كَثِيْرٍ سَأَلْتُ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَوَّلِ مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ قَالَ {يٰٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} قُلْتُ يَقُوْلُوْنَ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ} فَقَالَ أَبُوْ سَلَمَةَ سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنْ ذَلِكَ وَقُلْتُ لَهُ مِثْلَ الَّذِيْ قُلْتَ فَقَالَ جَابِرٌ لَا أُحَدِّثُكَ إِلَّا مَا حَدَّثَنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ جَاوَرْتُ بِحِرَاءٍ فَلَمَّا قَضَيْتُ جِوَارِيْ هَبَطْتُ فَنُوْدِيْتُ فَنَظَرْتُ عَنْ يَمِيْنِيْ فَلَمْ أَرَ شَيْئًا وَنَظَرْتُ عَنْ شِمَالِيْ فَلَمْ أَرَ شَيْئًا وَنَظَرْتُ أَمَامِيْ فَلَمْ أَرَ شَيْئًا وَنَظَرْتُ خَلْفِيْ فَلَمْ أَرَ شَيْئًا فَرَفَعْتُ رَأْسِيْ فَرَأَيْتُ شَيْئًا فَأَتَيْتُ خَدِيْجَةَ فَقُلْتُ دَثِّرُوْنِيْ وَصُبُّوْا عَلَيَّ مَاءً بَارِدًا قَالَ فَدَثَّرُوْنِيْ وَصَبُّوْا عَلَيَّ مَاءً بَارِدًا قَالَ فَنَزَلَتْ{يٰٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ}.
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়াহ ইব্নু কাসীর (রহ.)
তিনি বলেন, আমি আবূ সালামাহ ইব্নু আবদুর রহমান (রহ.)-কে কুরআন মাজীদের কোন্ আয়াতটি সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম, লোকেরা তো বলে اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। তখন আবূ সালামাহ বললেন, আমি এ বিষয়ে জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম এবং তুমি যা বললে আমিও তাকে হুবহু তাই বলেছিলাম। জবাবে জাবির (রাঃ) বলেছিলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে যা বলেছিলেন, আমিও হুবহু তাই বলব। তিনি বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ই’তিকাফ করতে লাগলাম। আমার ই’তিকাফ শেষ হলে আমি সেখান থেকে নামলাম। তখন আমাকে আওয়াজ দেয়া হল। আমি ডানে তাকালাম; কিন্তু কিছু দেখতে পেলাম না, বামে তাকালাম, কিন্তু এদিকেও কিছু দেখলাম না। এরপর সামনে তাকালাম, এদিকেও কিছু দেখলাম না। এরপর পেছনে তাকালাম, কিন্তু এদিওক আমি কিছু দেখলাম না। শেষে আমি উপরের দিকে তাকালাম, এবার একটা বস্তু দেখতে পেলাম। এরপর আমি খাদীজা (রাঃ)-এর কাছে এলাম এবং তাকে বললাম, আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত কর এবং আমার শরীরে ঠাণ্ডা পানি ঢাল। তিনি বলেন, তারপর তারা আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত করে এবং ঠাণ্ডা পানি ঢালে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, এরপর অবতীর্ণ হল ঃ ‘হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠ, সতর্কবাণী প্রচার কর এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। [৪] (আ.প্র. ৪৫৫৩, ই.ফা. ৪৫৫৭)
৬৫/৭৪/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ উঠুন, সতর্ক করুন। (সূরাহ আল-মুদ্দাস্সির ৭৪/২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯২৩
হাদিস নং ৪৯২৩
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ وَغَيْرُهُ قَالَا حَدَّثَنَا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِيْ كَثِيْرٍ عَنْ أَبِيْ سَلَمَةَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ جَاوَرْتُ بِحِرَاءٍ مِثْلَ حَدِيْثِ عُثْمَانَ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ.
বর্ণনাকারী জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ইতিকাফ করেছিলাম। ‘উসমান ইব্নু ‘উমার ‘আলী ইব্নু মুবারক (রহ.) থেকে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তিনিও একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। [৪] (আ.প্র. ৪৫৫৪, ই.ফা. ৪৫৫৮)
৬৫/৭৪/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। (সূরাহ আল-মুদ্দাস্সির ৭৪/৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯২৪
হাদিস নং ৪৯২৪
إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُوْرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا حَرْبٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى قَالَ سَأَلْتُ أَبَا سَلَمَةَ أَيُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ أَوَّلُ فَقَالَ {يٰٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} فَقُلْتُ أُنْبِئْتُ أَنَّهُ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ} فَقَالَ أَبُوْ سَلَمَةَ سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ أَيُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ أَوَّلُ فَقَالَ {يٰٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} فَقُلْتُ أُنْبِئْتُ أَنَّهُ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ} فَقَالَ لَا أُخْبِرُكَ إِلَّا بِمَا قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم جَاوَرْتُ فِيْ حِرَاءٍ فَلَمَّا قَضَيْتُ جِوَارِيْ هَبَطْتُ فَاسْتَبْطَنْتُ الْوَادِيَ فَنُوْدِيْتُ فَنَظَرْتُ أَمَامِيْ وَخَلْفِيْ وَعَنْ يَمِيْنِيْ وَعَنْ شِمَالِيْ فَإِذَا هُوَ جَالِسٌ عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ فَأَتَيْتُ خَدِيْجَةَ فَقُلْتُ دَثِّرُوْنِيْ وَصُبُّوْا عَلَيَّ مَاءً بَارِدًا وَأُنْزِلَ عَلَيَّ {يٰٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ}.
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়াহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি আবূ সালামাহ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কুরআনের কোন্ আয়াতটি প্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল? তিনি বললেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ প্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল। আমি বললাম, আমাকে বলা হয়েছে اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ প্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল। এ কথা শুনে আবূ সালামাহ (রহ.) বললেন, কুরআনের কোন্ আয়াতটি প্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল, এ সম্পর্কে আমি জাবির (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বলেছেন يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ প্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল। তখন আমি বললাম, আমাকে বলা হয়েছে যে اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ প্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল। তখন তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বলেছেন, আমি তোমাকে তাই বলছি। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ইতিকাফ করেছিলাম। ইতিকাফ শেষ হলে আমি সেখান থেকে নেমে উপত্যকার মাঝে পৌঁছলে আমাকে আওয়াজ দেয়া হল। আমি তখন সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে তাকালাম। দেখলাম, সে আসমান ও যমীনের মধ্যস্থলে রক্ষিত একটি আসনে উপবিষ্ট আছে। এরপর আমি খাদীজা (রাঃ)-এর কাছে এসে বললাম, আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত কর এবং আমার শরীরে ঠাণ্ডা পানি ঢাল। তখন আমার প্রতি অবতীর্ণ করা হল ঃ “হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! সতর্কবাণী প্রচার কর এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।” [৪] (আ.প্র. ৪৫৫৫, ই.ফা. ৪৫৫৯)
৬৫/৭৪/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ এবং স্বীয় পরিধেয় বস্ত্র পবিত্র রাখুন। (সূরাহ আল-মুদ্দাস্সির ৭৪/৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯২৫
হাদিস নং ৪৯২৫
يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ ح و حَدَّثَنِيْ عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ قَالَ الزُّهْرِيُّ فَأَخْبَرَنِيْ أَبُوْ سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الْوَحْيِ فَقَالَ فِيْ حَدِيْثِهِ فَبَيْنَا أَنَا أَمْشِيْ إِذْ سَمِعْتُ صَوْتًا مِنْ السَّمَاءِ فَرَفَعْتُ رَأْسِيْ فَإِذَا الْمَلَكُ الَّذِيْ جَاءَنِيْ بِحِرَاءٍ جَالِسٌ عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ فَجَئِثْتُ مِنْهُ رُعْبًا فَرَجَعْتُ فَقُلْتُ زَمِّلُوْنِيْ زَمِّلُوْنِيْ فَدَثَّرُوْنِيْ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {يٰٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} إِلَى {وَالرِّجْزَفَاهْجُرْ} قَبْلَ أَنْ تُفْرَضَ الصَّلَاةُ وَهِيَ الْأَوْثَانُ.
বর্ণনাকারী জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি। তিনি ওয়াহী বন্ধ থাকার সময়কাল সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তিনি তাঁর আলোচনার মাঝে বললেন, একদা আমি চলছিলাম, এমন সময় আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। মাথা উঠাতেই আমি দেখলাম, যে মালাক হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিল সে আসমান-যমীনের মাঝে একটি কুসরীতে বসা আছে। আমি তাঁর ভয়ে ভীত হয়ে পড়লাম। এরপর আমি বাড়িতে ফিরে বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর; আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। তাঁরা আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। তখন আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেন, “হে বস্ত্রাবৃত! উঠ.....অপবিত্রতা হতে দূরে থাক।” এ আয়াতগুলো সলাত ফরয হওয়ার পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছিল। الرِّجْزَ মূর্তিসমূহ। [৪] (আ.প্র. ৪৫৫৬, ই.ফা. ৪৫৬০)
৬৫/৭৪/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ وَالرِّجْزَ فَاهْجُرْ এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন- (সূরাহ আল-মুদ্দাস্সির ৭৪/৫)।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯২৬
হাদিস নং ৪৯২৬
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ قَالَ أَخْبَرَنِيْ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الْوَحْيِ فَبَيْنَا أَنَا أَمْشِيْ سَمِعْتُ صَوْتًا مِنْ السَّمَاءِ فَرَفَعْتُ بَصَرِيْ قِبَلَ السَّمَاءِ فَإِذَا الْمَلَكُ الَّذِيْ جَاءَنِيْ بِحِرَاءٍ قَاعِدٌ عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ فَجَئِثْتُ مِنْهُ حَتَّى هَوَيْتُ إِلَى الْأَرْضِ فَجِئْتُ أَهْلِيْ فَقُلْتُ زَمِّلُوْنِيْ زَمِّلُوْنِيْ فَزَمَّلُوْنِيْ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {يٰٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ} إِلَى قَوْلِهِ {فَاهْجُرْ} قَالَ أَبُوْ سَلَمَةَ وَالرِّجْزَ الْأَوْثَانَ ثُمَّ حَمِيَ الْوَحْيُ وَتَتَابَعَ
বর্ণনাকারী জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ওয়াহী বন্ধ হওয়া সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছেন। তিনি বলেছেন, একদা আমি পথ চলছিলাম, এমন সময় আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। এরপর আমি আকাশের দিকে চোখ তুলে দেখলাম, যে ফেরেশতা হেরা গুহায় আমার কাছে আসত, সে আসমান-যমীনের মাঝে একটি কুরসীতে উপবিষ্ট আছে। তাকে দেখে আমি ভীষণ ভয় পেলাম। এমনকি যমীনে পড়ে গেলাম। তারপর আমি আমার স্ত্রীর কাছে গেলাম এবং বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। তারা আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। এরপর আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেন ঃ “হে বস্ত্রাবৃত!.....অপবিত্রতা হতে দূরে থাক।” আবূ সালামাহ (রহ.) বলেন, الرِّجْزَ মূর্তিসমূহ। এরপর অধিক হারে ওয়াহী অবতীর্ণ হতে লাগল এবং লাগাতার ওয়াহী আসতে থাকল। [৪] (আ.প্র. ৪৫৫৭, ই.ফা. ৪৫৬১)
৬৫/৭৫/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ওয়াহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনি ওয়াহী অবতীর্ণ হওয়ার সময় আপনার জিহবা নাড়বে না। (সূরাহ আল-ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯২৭
হাদিস নং ৪৯২৭
الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا مُوْسَى بْنُ أَبِيْ عَائِشَةَ وَكَانَ ثِقَةً عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا نَزَلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ حَرَّكَ بِهِ لِسَانَهُ وَوَصَفَ سُفْيَانُ يُرِيْدُ أَنْ يَحْفَظَهُ فَأَنْزَلَ اللهُ {لَا تُحَرِّكْ بِهٰ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهٰ}.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি যখন ওয়াহী অবতীর্ণ করা হত, তখন তিনি দ্রুত তাঁর জিহ্বা নাড়তেন। রাবী সুফ্ইয়ান বলেন, এভাবে করার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ওয়াহী মুখস্থ করা। তারপর আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেন ঃ তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তুমি তোমার জিহ্বা সঞ্চালন করবে না। [৫] (আ.প্র. ৪৫৫৮, ই.ফা. ৪৫৬২)
৬৫/৭৫/২.অধ্যায়ঃ
‘‘নিশ্চয় এর একত্রীকরণ ও পাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার।’’ (সূর আল-ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯২৮
হাদিস নং ৪৯২৮
عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوْسَى عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ مُوْسَى بْنِ أَبِيْ عَائِشَةَ أَنَّهُ سَأَلَ سَعِيْدَ بْنَ جُبَيْرٍ عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى {لَا تُحَرِّكْ بِهٰ لِسَانَكَ} قَالَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَانَ يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ إِذَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ فَقِيْلَ لَهُ {لَا تُحَرِّكْ بِهٰ لِسَانَكَ} يَخْشَى أَنْ يَنْفَلِتَ مِنْهُ {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَه” وَقُرْاٰنَه} أَنْ نَجْمَعَهُ فِيْ صَدْرِكَ وَقُرْآنَهُ أَنْ تَقْرَأَهُ {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ} يَقُوْلُ أُنْزِلَ عَلَيْهِ {فَاتَّبِعْ قُرْاٰنَه” ج -ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَه”} أَنْ نُبَيِّنَهُ عَلَى لِسَانِكَ.
বর্ণনাকারী মূসা ইব্নু আবূ ‘আয়িশাহ (রহ.)
তিনি لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ আল্লাহ্র এই বাণী সম্পর্কে সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি যখন ওয়াহী অবতীর্ণ করা হত, তখন তিনি তাঁর ঠোঁট দু’টো দ্রুত নাড়তেন। তখন তাঁকে বলা হল, তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তুমি তোমার জিহ্বা নাড়বে না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওয়াহী ভুলে যাবার আশংকায় এমন করতেন। নিশ্চয়ই এ কুরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই। অর্থাৎ আমি নিজেই তাকে তোমার স্মৃতিতে সংরক্ষণ করব। তাই আমি যখন তা পাঠ করব অর্থাৎ যখন তোমার প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হতে থাকবে, তখন তুমি তার অনুসরণ করবে। এরপর তা বর্ণনা করার দাযিত্ব আমারই অর্থাৎ এ কুরআনকে তোমার মুখ দিয়ে বর্ণনা করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার। [৫] (আ.প্র. ৪৫৫৯, ই.ফা. ৪৫৬৩)
৬৫/৭৫/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। (সূরাহ আল-ক্বিয়ামাহ ৭৫/১৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯২৯
হাদিস নং ৪৯২৯
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ عَنْ مُوْسَى بْنِ أَبِيْ عَائِشَةَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيْ قَوْلِهِ {لَا تُحَرِّكْ بِهٰ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهٰ} قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا نَزَلَ جِبْرِيْلُ بِالْوَحْيِ وَكَانَ مِمَّا يُحَرِّكُ بِهِ لِسَانَهُ وَشَفَتَيْهِ فَيَشْتَدُّ عَلَيْهِ وَكَانَ يُعْرَفُ مِنْهُ فَأَنْزَلَ اللهُ الْآيَةَ الَّتِيْ فِيْ {لَآ أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيٰمَةِ لَا تُحَرِّكْ بِهٰ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهٰط- إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَه” وَقُرْاٰنَه} قَالَ عَلَيْنَا أَنْ نَجْمَعَهُ فِيْ صَدْرِكَ وَقُرْآنَهُ {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} فَإِذَا أَنْزَلْنَاهُ فَاسْتَمِعْ {) ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَه”} عَلَيْنَا أَنْ نُبَيِّنَهُ بِلِسَانِكَ قَالَ فَكَانَ إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيْلُ أَطْرَقَ فَإِذَا ذَهَبَ قَرَأَهُ كَمَا وَعَدَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ {أَوْلٰى لَكَ فَأَوْلٰى} تَوَعُّدٌ
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি আল্লাহ্র বাণী ঃ لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন যে, জিবরীল (‘আ.) যখন ওয়াহী নিয়ে আসতেন তখন রসূল তাঁর জিহ্বা ও ঠোঁট দু’টো দ্রুত নাড়তেন। এটা তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য হত এবং তাঁর চেহারা দেখেই বোঝা যেত। তাই আল্লাহ্ তা‘আলা ঃ “তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তোমার জিহ্বা সঞ্চালন করবে না; এ কুরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই” অবতীর্ণ করলেন। এতে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন ঃ এ কুরআনকে আপনার বক্ষে সংরক্ষিত করা ও পড়িয়ে দেয়ার ভার আমার উপর। সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তুমি সে পাঠের অনুসরণ কর, অর্থাৎ আমি যখন ওয়াহী অবতীর্ণ করি তখন তুমি মনোযোগ দিয়ে শুন। তারপর এর বিস্তারিত ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই। অর্থাৎ তোমার মুখে তা বর্ণনা করার দায়িত্ব আমারই। রাবী বলেন, এরপর জিব্রীল (‘আ.) চলে গেলে আল্লাহ্র ওয়াদা ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ মুতাবিক তিনি তা পাঠ করতেন। أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى দুর্ভোগ তোমার জন্য, দুর্ভোগ! تَوَعُّدٌ এ আয়াতে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। [৫; মুসলিম ৪/৩২, হাঃ ৪৪৮, আহমাদ ৩১৯১] (আ.প্র. ৪৫৬০, ই.ফা. ৪৫৬৪)
৬৫/৭৭/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৩০
হাদিস নং ৪৯৩০
مَحْمُوْدٌ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ مَنْصُوْرٍ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأُنْزِلَتْ عَلَيْهِ {وَالْمُرْسَلَاتِ} وَإِنَّا لَنَتَلَقَّاهَا مِنْ فِيْهِ فَخَرَجَتْ حَيَّةٌ فَابْتَدَرْنَاهَا فَسَبَقَتْنَا فَدَخَلَتْ جُحْرَهَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وُقِيَتْ شَرَّكُمْ كَمَا وُقِيْتُمْ شَرَّهَا.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হল সূরাহ মুরসলাত। আমরা তাঁর মুখে শুনে সেটি শিখছিলাম। তখন একটি সাপ বেরিয়ে এল। আমরা ওদিকে দৌড়ে গেলাম, কিন্তু সাপটি আমাদের থেকে দ্রুত চলে গিয়ে গর্তে ঢুকে পড়ল। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ওটাও তোমাদের অনিষ্ট হতে বেঁচে গেল, তোমরা যেন ওটার অনিষ্ট হতে রক্ষা পেলে। [১৮৩০; মুসলিম ৩৯/৩৭, হাঃ ২২৩৪, আহমাদ ৪৩৫৭] (আ.প্র. ৪৫৬১, ই.ফা. ৪৫৬৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৩১
হাদিস নং ৪৯৩১
عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللهِ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ عَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنْ مَنْصُوْرٍ بِهَذَا وَعَنْ إِسْرَائِيْلَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ مِثْلَهُ وَتَابَعَهُ أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ إِسْرَائِيْلَ وَقَالَ حَفْصٌ وَأَبُوْ مُعَاوِيَةَ وَسُلَيْمَانُ بْنُ قَرْمٍ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنِ الْأَسْوَدِ قَالَ يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ أَخْبَرَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ مُغِيْرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ وَقَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ.حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنِ الْأَسْوَدِ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ بَيْنَا نَحْنُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيْ غَارٍ إِذْ نَزَلَتْ عَلَيْهِ {وَالْمُرْسَلَاتِ} فَتَلَقَّيْنَاهَا مِنْ فِيْهِ وَإِنَّ فَاهُ لَرَطْبٌ بِهَا إِذْ خَرَجَتْ حَيَّةٌ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْكُمْ اقْتُلُوْهَا قَالَ فَابْتَدَرْنَاهَا فَسَبَقَتْنَا قَالَ فَقَالَ وُقِيَتْ شَرَّكُمْ كَمَا وُقِيْتُمْ شَرَّهَا.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
ইসরাঈল সূত্রে আসওয়াদ ইব্নু ‘আমির পূর্বের হাদীসটির অনুসরণ করেছেন। (অন্য সানাদে) হাফ্স, আবূ মু‘আবীয়াহ এবং সুলাইমান ইব্নু কারম (রহ.)....‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (অপর এক সানাদে) ইব্নু ইসহাক (রহ.)....‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে ঠিক এমনি বর্ণনা করেছেন। [১৮৩০] (ই.ফা. ৪৫৬৬)‘আবদুল্লাহ্ (ইব্নু মাস‘ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, এক গুহার মধ্যে আমরা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হল সূরাহ ওয়াল মুরসলাত। আমরা তাঁর মুখ থেকে সেটা গ্রহণ করছিলাম। এ সুরার তিলাওয়াতে তখনও রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুখ সিক্ত ছিঁঁল, হঠাৎ একটি সাপ বেরিয়ে এল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “তোমরা ওটাকে মেরে ফেল।” ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, আমরা সেদিকে দৌড়ে গেলাম, কিন্তু সাপটি আমাদের আগে চলে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ওটা তোমাদের অনিষ্ট হতে বেঁচে গেল যেমনি তোমরা এর অনিষ্ট হতে বেঁচে গেলে। (আ.প্র. ৪৫৬২, ই.ফা. ৪৫৬৭)
৬৫/৭৭/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ যা অট্টালিকা সদৃশ বড় বড় স্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপ করবে। (সূরাহ আল-মুরসলাত ৭৭/৩২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৩২
হাদিস নং ৪৯৩২
مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيْرٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَابِسٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ {إِنَّهَا تَرْمِيْ بِشَرَرٍ كَالْقَصَرِ} قَالَ كُنَّا نَرْفَعُ الْخَشَبَ بِقَصَرٍ ثَلَاثَةَ أَذْرُعِ أَوْ أَقَلَّ فَنَرْفَعُهُ لِلشِّتَاءِ فَنُسَمِّيْهِ الْقَصَرَ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুর রহমান ইব্নু আবিস (রহ.)
তিনি বলেন, আমি ঐ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমরা তিন গজ বা এর চেয়ে ছোট কাঠের খণ্ড জোগাড় করে শীতকালের জন্য উঠিয়ে রাখতাম। এটাকেই আমরা বলতাম الْقَصَرَ। [৪৯৩৩] (আ.প্র. ৪৫৬৩, ই.ফা. ৪৫৬৮)
৬৫/৭৭/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ যেন তা পীত বর্ণের বড় বড় উট। (সূরাহ আল-মুরসলাত ৭৭/৩৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৩৩
হাদিস নং ৪৯৩৩
عَمْرُوْ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا يَحْيَى أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنِيْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَابِسٍ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا {تَرْمِيْ بِشَرَرٍ كَالْقَصَرِ} قَالَ كُنَّا نَعْمِدُ إِلَى الْخَشَبَةِ ثَلَاثَةَ أَذْرُعٍ أَوْ فَوْقَ ذَلِكَ فَنَرْفَعُهُ لِلشِّتَاءِ فَنُسَمِّيْهِ الْقَصَرَ كَأَنَّهُ جِمَالَاتٌ صُفْرٌ حِبَالُ السُّفُنِ تُجْمَعُ حَتَّى تَكُوْنَ كَأَوْسَاطِ الرِّجَالِ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুর রহমান ইব্নু আবিস (রহ.)
তিনি বলেন, আমি এ আয়াত সম্পর্কে ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমরা তিন গজ বা তার চেয়ে অধিক লম্বা কাষ্ঠ জড়ো করে শীতকালের জন্য উঠিয়ে রাখতাম। এটাকেই আমরা বলতাম الْقَصَرَ। جِمَالاَتٌ صُفْرٌ জাহাজের রশি, যা জমা করে রাখা হত। এমনকি তা মাঝারি গড়নের মানুষের সমান উঁচু হয়ে যেত। [৪৯৩২] (আ.প্র. ৪৫৬৪, ই.ফা. ৪৫৬৯)
৬৫/৭৭/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ এটা এমন দিন, যে দিন তারা কথা বলতে পারবে না। (সূরাহ আল-মুরসলাত ৭৭/৩৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৩৪
হাদিস নং ৪৯৩৪
عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنِيْ إِبْرَاهِيْمُ عَنِ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيْ غَارٍ إِذْ نَزَلَتْ عَلَيْهِ {وَالْمُرْسَلَاتِ} فَإِنَّهُ لَيَتْلُوْهَا وَإِنِّيْ لَأَتَلَقَّاهَا مِنْ فِيْهِ وَإِنَّ فَاهُ لَرَطْبٌ بِهَا إِذْ وَثَبَتْ عَلَيْنَا حَيَّةٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اقْتُلُوْهَا فَابْتَدَرْنَاهَا فَذَهَبَتْ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وُقِيَتْ شَرَّكُمْ كَمَا وُقِيْتُمْ شَرَّهَا قَالَ عُمَرُ حَفِظْتُهُ مِنْ أَبِيْ فِيْ غَارٍ بِمِنًى.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, এক গুহায় আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হল ‘সূরাহ ওয়াল মুরসলাত’। তিনি তা তিলাওয়াত করছিলেন, আর আমি তাঁর মুখ থেকে তা শিখছিলাম। তিলাওয়াতে তখনো তাঁর মুখ সিক্ত ছিল। হঠাৎ আমাদের সামনে একটি সাপ বেরিয়ে এলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ওটাকে মেরে ফেল। আমরা ওদিকে দৌড়িয়ে গেলাম। কিন্তু সাপটি চলে গেল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ওটা তোমাদের অনিষ্ট থেকে বেঁচে গেল তোমরা যেমন তার অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেলে। ‘উমার ইব্নু হাফস্ বলেন, এ হাদীসটি আমি আমার পিতার নিকট হতে শুনে মুখস্থ করেছি। গুহাটি মিনায় অবস্থিত বলে উল্লেখ আছে। [১৮৩০] (আ.প্র. ৪৫৬৫, ই.ফা. ৪৫৭০)
৬৫/৭৮/১.অধ্যায়ঃ
‘‘সে দিন শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে, তখন তোমরা দলে দলে আসবে।’’ (সূরাহ আন্নাবা ৭৮/১৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৩৫
হাদিস নং ৪৯৩৫
مُحَمَّدٌ أَخْبَرَنَا أَبُوْ مُعَاوِيَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِيْ صَالِحٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا بَيْنَ النَّفْخَتَيْنِ أَرْبَعُوْنَ قَالَ أَرْبَعُوْنَ يَوْمًا قَالَ أَبَيْتُ قَالَ أَرْبَعُوْنَ شَهْرًا قَالَ أَبَيْتُ قَالَ أَرْبَعُوْنَ سَنَةً قَالَ أَبَيْتُ قَالَ ثُمَّ يُنْزِلُ اللهُ مِنْ السَّمَاءِ مَاءً فَيَنْبُتُوْنَ كَمَا يَنْبُتُ الْبَقْلُ لَيْسَ مِنَ الإِنْسَانِ شَيْءٌ إِلَّا يَبْلَى إِلَّا عَظْمًا وَاحِدًا وَهُوَ عَجْبُ الذَّنَبِ وَمِنْهُ يُرَكَّبُ الْخَلْقُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, প্রথম ও দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুৎকারের মধ্যে চল্লিশের ব্যবধান হবে। [আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)]-এর জনৈক ছাত্র বললেন, চল্লিশ বলে-চল্লিশ দিন বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, আমি অস্বীকার করলাম। তারপর পুনরায় তিনি জিজ্ঞেস করলেন, চল্লিশ বলে চল্লিশ মাস বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, এবারও অস্বীকার করলাম। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, চল্লিশ বছর বোঝানো হয়েছে কি? তিনি বলেন, এবারও আমি অস্বীকার করলাম। এরপর আল্লাহ্ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করবেন। এতে মৃতরা জীবিত হয়ে উঠবে, যেমন বৃষ্টির পানিতে উদ্ভিদরাজি উৎপন্ন হয়ে থাকে। তখন শিরদাঁড়ার হাড় ছাড়া মানুষের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পচে গলে শেষ হয়ে যাবে। ক্বিয়ামাতের দিন ঐ হাড়খণ্ড থেকেই আবার মানুষকে সৃষ্টি করা হবে। [৪৮১৪] (আ.প্র. ৪৫৬৬, ই.ফা. ৪৫৭১)
৬৫/৭৯/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৩৬
হাদিস নং ৪৯৩৬
أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا أَبُوْ حَازِمٍ حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بِإِصْبَعَيْهِ هَكَذَا بِالْوُسْطَى وَالَّتِيْ تَلِي الإِبْهَامَ بُعِثْتُ وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ.
বর্ণনাকারী সাহল ইব্নু সা‘দ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি দেখেছি, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মধ্যমা ও বুড়ো আঙ্গুলের নিকটবর্তী অঙ্গুলিদ্বয় এভাবে একত্র করে বললেন, ক্বিয়ামাত ও আমাকে এমনিভাবে পাঠানো হয়েছে। [৫৩০১, ৬৫০৩; মুসলিম ৫২/২৬, হাঃ ২৯৫০, আহমাদ ২২৮৬০] (আ.প্র. ৪৫৬৭, ই.ফা. ৪৫৭২)
৬৫/৮০/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৩৭
হাদিস নং ৪৯৩৭
آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ قَالَ سَمِعْتُ زُرَارَةَ بْنَ أَوْفَى يُحَدِّثُ عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَثَلُ الَّذِيْ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَهُوَ حَافِظٌ لَهُ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ وَمَثَلُ الَّذِيْ يَقْرَأُ وَهُوَ يَتَعَاهَدُهُ وَهُوَ عَلَيْهِ شَدِيْدٌ فَلَهُ أَجْرَانِ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, কুরআনের হাফিয পাঠক লিপিকর সম্মানিত মালাকের মত। খুব কষ্টদায়ক হওয়া সত্ত্বেও যে বারবার কুরআন মাজীদ পাঠ করে, সে দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে। [মুসলিম ৬/৩৮, হাঃ ৭৯৮, আহমাদ ২৪৭২১] (আ.প্র. ৪৫৬৮, ই.ফা. ৪৫৭৩)
৬৫/৮৩/১.অধ্যায়ঃ
যেদিন সব মানুষ জগতসমূহের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে। (সূরাহ মুতাফ্ফিফীন ৮৩/৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৩৮
হাদিস নং ৪৯৩৮
إِبْرَاهِيْمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا مَعْنٌ قَالَ حَدَّثَنِيْ مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ {يَوْمَ يَقُوْمُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعٰلَمِيْنَ} حَتَّى يَغِيْبَ أَحَدُهُمْ فِيْ رَشْحِهِ إِلَى أَنْصَافِ أُذُنَيْهِ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমার (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) “যেদিন সব মানুষ জগতসমূহের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে” (সূরাহ মুতাফ্ফিফীন ৮৩/৬)-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তির কানের লতা পর্যন্ত ঘামে ডুবে যাবে। [৬৫৩১; মুসলিম ৫১/১৫, হাঃ ২৮৬২, আহমাদ ৬০৭২] (আ.প্র. ৪৫৬৯, ই.ফা. ৪৫৭৪)
৬৫/৮৪/১.অধ্যায়ঃ
তার হিসাব-নিকাশ সহজেই নেয়া হবে। (সূরা আল-ইন্শিকাক ৮৪/৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৩৯
হাদিস নং ৪৯৩৯
عَمْرُوْ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْأَسْوَدِ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِيْ مُلَيْكَةَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ح وحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوْبَ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح وحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِيْ يُوْنُسَ حَاتِمِ بْنِ أَبِيْ صَغِيْرَةَ عَنْ ابْنِ أَبِيْ مُلَيْكَةَ عَنِ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ أَحَدٌ يُحَاسَبُ إِلَّا هَلَكَ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ جَعَلَنِي اللهُ فِدَاءَكَ أَلَيْسَ يَقُوْلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ {فَأَمَّا مَنْ أُوْتِيَ كِتٰبَه” بِيَمِيْنِهٰلا - فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَّسِيْرًا} قَالَ ذَاكَ الْعَرْضُ يُعْرَضُوْنَ وَمَنْ نُوْقِشَ الْحِسَابَ هَلَكَ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, ক্বিয়ামাতের দিন যে ব্যক্তিরই হিসাব নেয়া হবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহ্ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। আল্লাহ্ কি বলেননি, فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا “যার ‘আমালনামা তার ডান হস্তে দেয়া হবে, তার হিসাব নিকাশ সহজেই নেয়া হবে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ আয়াতে ‘আমালনামা কীভাবে দেয়া হবে সে ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুবা যার খুঁটিনাটি হিসাব নেয়া হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। [১০৩] (আ.প্র. ৪৫৭০, ই.ফা. ৪৫৭৫)
৬৫/৮৪/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ অবশ্যই তোমরা এক অবস্থা থেকে অন্যাবস্থায় উপনীত হবে। (সূরাহ আল-ইন্শিকাক ৮৪/১৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৪০
হাদিস নং ৪৯৪০
سَعِيْدُ بْنُ النَّضْرِ أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا أَبُوْ بِشْرٍ جَعْفَرُ بْنُ إِيَاسٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ {لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَنْ طَبَقٍ} حَالًا بَعْدَ حَالٍ قَالَ هَذَا نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَنْ طَبَقٍ এর অর্থ হচ্ছে, এক অবস্থার পর আরেক অবস্থা। তোমাদের নাবীই (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটা বলেছেন। (আ.প্র. ৪৫৭১, ই.ফা. ৪৫৭৬)
৬৫/৮৭/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৪১
হাদিস নং ৪৯৪১
عَبْدَانُ قَالَ أَخْبَرَنِيْ أَبِيْ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَوَّلُ مَنْ قَدِمَ عَلَيْنَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ وَابْنُ أُمِّ مَكْتُوْمٍ فَجَعَلَا يُقْرِئَانِنَا الْقُرْآنَ ثُمَّ جَاءَ عَمَّارٌ وَبِلَالٌ وَسَعْدٌ ثُمَّ جَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فِيْ عِشْرِيْنَ ثُمَّ جَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَمَا رَأَيْتُ أَهْلَ الْمَدِيْنَةِ فَرِحُوْا بِشَيْءٍ فَرَحَهُمْ بِهِ حَتَّى رَأَيْتُ الْوَلَائِدَ وَالصِّبْيـَانَ يَقُوْلُوْنَ هَـذَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ جَاءَ فَمَا جَاءَ حَتَّى قَرَأْتُ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلٰى} فِيْ سُوَرٍ مِثْلِهَا.
বর্ণনাকারী বারাআ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহাবীদের মধ্যে সর্ব প্রথম হিজরাত করে আমাদের কাছে এসেছিলেন, তাঁরা হলেন মুস‘আব ইব্নু ‘উমায়র (রাঃ) ও ইব্নু উম্মু মাকতূম (রাঃ)। তাঁরা দু’জন এসেই আমাদেরকে কুরআন পড়াতে শুরু করেন। এরপর এলেন, আম্মার, বিলাল ও সা‘দ (রাঃ)। অতঃপর আসলেন বিশজন সহাবীসহ ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ)। অতঃপর এলেন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। বারাআ (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনে মাদীনাহ্বাসীকে এত অধিক খুশী হতে দেখেছি যে, অন্য কোন বিষয়ে তাদেরকে ততটা খুশী হতে আর কখনো দেখিনি। এমনকি আমি দেখেছি, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা পর্যন্ত বলছিল যে, ইনিই তো আল্লাহ্র সেই রসূল, যিনি আগমন করেছেন। বারাআ ইব্নু ‘আযিব (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় আসার আগেই আমি سَبِّحْ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى এবং ও রকম আরো কিছু সূরাহ শিখে নিয়েছিলাম। (আ.প্র. ৪৫৭২, ই.ফা. ৪৫৭৭)
৬৫/৯১/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৪২
হাদিস নং ৪৯৪২
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ زَمْعَةَ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ وَذَكَرَ النَّاقَةَ وَالَّذِيْ عَقَرَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم{إِذْمانْبَعَثَ أَشْقَاهَا} انْبَعَثَ لَهَا رَجُلٌ عَزِيْزٌ عَارِمٌ مَنِيْعٌ فِيْ رَهْطِهِ مِثْلُ أَبِيْ زَمْعَةَ وَذَكَرَ النِّسَاءَ فَقَالَ يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ فَيَجْلِدُ امْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ فَلَعَلَّهُ يُضَاجِعُهَا مِنْ آخِرِ يَوْمِهِ ثُمَّ وَعَظَهُمْ فِيْ ضَحِكِهِمْ مِنْ الضَّرْطَةِ وَقَالَ لِمَ يَضْحَكُ أَحَدُكُمْ مِمَّا يَفْعَلُ وَقَالَ أَبُوْ مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَمْعَةَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِثْلُ أَبِيْ زَمْعَةَ عَمِّ الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ.
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু যাম‘আহ (রাঃ)
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে খুতবাহ দিতে শুনেছেন, খুতবায় তিনি কওমে সামূদের প্রতি প্রেরিত উষ্ট্রী ও তার পা কাটার কথা উল্লেখ করলেন। তারপর রসূল إِذْ انْبَعَثَ أَشْقَاهَا-এর ব্যাখ্যায় বললেন, ঐ উষ্ট্রীটিকে হত্যা করার জন্য এক হতভাগ্য শক্তিশালী ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠ যে সে সমাজের মধ্যে আবূ যাম‘আর মত প্রভাবশালী ও অত্যন্ত শক্তিধর ছিল। এ খুতবায় তিনি মেয়েদের সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যে তার স্ত্রেিক ক্রীতদাসের মত মারপিট করে; কিন্তু ঐ দিনের শেষেই সে আবার তার সঙ্গে এক বিছানায় মিলিত হয়। তারপর তিনি বায়ু নিঃসরণের পর হাসি দেয়া সম্পর্কে বললেন, তোমাদের কেউ কেউ হাসে সে কাজটির জন্য যে কাজটি সে নিজেও করে। (অন্য সনদে) আবূ মু‘আবীয়াহ (রহ.)....‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু আবূ যাম‘আ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যুবায়র ইব্নু আওআমের চাচা আবূ যাম‘আর মত। [৩৩৭৭; মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৫৫, আহমাদ ১৬২২২] (আ.প্র. ৪৫৭৩, ই.ফা. ৪৫৭৮)
৬৫/৯২/১.অধ্যায়ঃ
‘‘শপথ দিবাভাগের, যখন তা উদ্ভাসিত হয়।’’ (সূরাহ আল-লাইল ৯২/২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৪৩
হাদিস নং ৪৯৪৩
قَبِيْصَةُ بْنُ عُقْبَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ دَخَلْتُ فِيْ نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ عَبْدِ اللهِ الشَّأْمَ فَسَمِعَ بِنَا أَبُو الدَّرْدَاءِ فَأَتَانَا فَقَالَ أَفِيْكُمْ مَنْ يَقْرَأُ فَقُلْنَا نَعَمْ قَالَ فَأَيُّكُمْ أَقْرَأُ فَأَشَارُوْا إِلَيَّ فَقَالَ اقْرَأْ فَقَرَأْتُ {وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشٰى لا - وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلّٰى لا - وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْأُنْثٰٓى لا} قَالَ أَنْتَ سَمِعْتَهَا مِنْ فِيْ صَاحِبِكَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ وَأَنَا سَمِعْتُهَا مِنْ فِي النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهَؤُلَاءِ يَأْبَوْنَ عَلَيْنَا.
বর্ণনাকারী ‘আলক্বামাহ (রহ.)
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর একদল সাথীর সঙ্গে সিরিয়া গেলাম। আবূদ্ দারদা আমাদের কাছে এসে বললেন, কুরআন পাঠ করতে পারেন, এমন কেউ আছেন কি? আমরা বললাম, হাঁ, আছে। এরপর তিনি বললেন, তাহলে আপনাদের মাঝে উত্তম কারী কে? লোকেরা ইশারা করে আমাকে দেখিয়ে দিলে তিনি আমাকে বললেন, পড়–ন, আমি পড়লাম وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى তিলাওয়াত শুনে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি এ সূরাহ আপনার উস্তাদ ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস‘উদের মুখে শুনেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, আমি এ সূরাটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুখে শুনেছি। কিন্তু তারা (সিরিয়াবাসী) তা অস্বীকার করছে। [৩২৮৭] (আ.প্র. ৪৫৭৪, ই.ফা. ৪৫৭৯)
৬৫/৯২/২.অধ্যায়ঃ
‘‘এবং শপথ তাঁর, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন।’’ (সূরাহ আল-লায়ল ৯৩/৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৪৪
হাদিস নং ৪৯৪৪
عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ قَالَ قَدِمَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللهِ عَلَى أَبِي الدَّرْدَاءِ فَطَلَبَهُمْ فَوَجَدَهُمْ فَقَالَ أَيُّكُمْ يَقْرَأُ عَلَى قِرَاءَةِ عَبْدِ اللهِ قَالَ كُلُّنَا قَالَ فَأَيُّكُمْ أَحْفَظُ فَأَشَارُوْا إِلَى عَلْقَمَةَ قَالَ كَيْفَ سَمِعْتَهُ يَقْرَأُ {وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشٰى} قَالَ عَلْقَمَةُ {وَالذَّكَرِ وَالْأُنْثٰى} قَالَ أَشْهَدُ أَنِّيْ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ هَكَذَا وَهَؤُلَاءِ يُرِيْدُوْنِيْ عَلَى أَنْ أَقْرَأَ {وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْأُنْثٰى} وَاللهِ لَا أُتَابِعُهُمْ.
বর্ণনাকারী ইব্রাহীম (রহ.)
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর কতক সঙ্গী আবুদ্ দারদা (রাঃ)-এর কাছে আসলেন। তিনিও তাদেরকে তালাশ করে পেয়ে গেলেন। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর কিরাআত অনুযায়ী কে কুরআন পাঠ করতে পারে। ‘আলক্বামাহ (রহ.) বললেন, আমরা সকলেই। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস কররেন, তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল হাফিয কে? সকলেই ‘আলক্বামাহ্র প্রতি ইশারা করলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস‘ঊদকে وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى কীভাবে পড়তে শুনেছেন? ‘আলক্বামাহ (রহ.) বললেন, আমি তাকে وَالذَّكَرِ وَالْأُنْثَى পড়তে শুনেছি। এ কথা শুনে আবুদ্ দারদা (রাঃ) বললেন, তোমরা সাক্ষী থাক, আমিও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এভাবেই পড়তে শুনেছি। অথচ এসব (সিরিয়াবাসী) লোকেরা চাচ্ছে, আমি যেন আয়াতটি وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْأُنْثَى পড়ি। আল্লাহ্র কসম! আমি তাদের কথা মানবো না। [৩২৮৭] (আ.প্র. ৪৫৭৫, ই.ফা. ৪৫৮০)
৬৫/৯২/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ সুতরাং কেউ দান করলে মুত্তাকী হলে। (সূরাহ আল-লাইল ৯২/৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৪৫
হাদিস নং ৪৯৪৫
أَبُوْ نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِيْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيْ بَقِيْعِ الْغَرْقَدِ فِيْ جَنَازَةٍ فَقَالَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَمَقْعَدُهُ مِنْ النَّارِ فَقَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ أَفَلَا نَتَّكِلُ فَقَالَ اعْمَلُوْا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ ثُمَّ قَرَأَ {فَأَمَّا مَنْ أَعْطٰى وَاتَّقٰى لا (5) وَصَدَّقَ بِالْـحُسْنٰى لا (6) فَسَنُيَسِّرُه” لِلْيُسْرٰى}. إلى قَوْلِهِ : {لِلْعُسْرٰى}.
বর্ণনাকারী ‘আলী (রাঃ)
তিনি বলেন, বাকীউল গারকাদ নামক স্থানে এক জানাযায় আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। সে সময় তিনি বলেছিলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যক্তি নেই, যার স্থান জান্নাত বা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়নি। এ কথা শুনে সকলেই বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! তাহলে কি আমরা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকব? উত্তরে তিনি বললেন, তোমরা ‘আমাল করতে থাক। কারণ, যাকে যে ‘আমালের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে ‘আমাল সহজ করে দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি পাঠ কররেন, সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ এবং কেউ কার্পণ্য করলেও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, যার যা উত্তম তা ত্যাগ করলে, তার জন্য আমি সহজ করে দেব কঠোর পরিণামের পথ। [১৩৬২] (আ.প্র. ৪৫৪৭৬, ই.ফা. ৪৫৮১)
৬৫/৯২/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ এবং যা উত্তম তা সত্য বলে গ্রহণ করলে। (সূরাহ আল-লাইল ৯২/৬)
৬৫/৯২/৫.অধ্যায়ঃ
‘‘আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ।’’ (সূরাহ আল-লাইল ৯২/৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৪৬
হাদিস নং ৪৯৪৬
بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِيْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ فِيْ جَنَازَةٍ فَأَخَذَ عُوْدًا يَنْكُتُ فِي الْأَرْضِ فَقَالَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ مِنْ النَّارِ أَوْ مِنَ الْجَنَّةِ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ أَفَلَا نَتَّكِلُ قَالَ اعْمَلُوْا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ {فَأَمَّا مَنْ أَعْطٰى وَاتَّقٰى لا (5) وَصَدَّقَ بِالْـحُسْنٰى} الْآيَةَ قَالَ شُعْبَةُ وَحَدَّثَنِيْ بِهِ مَنْصُوْرٌ فَلَمْ أُنْكِرْهُ مِنْ حَدِيْثِ سُلَيْمَانَ.
বর্ণনাকারী ‘আলী (রাঃ)
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কোন একটি জানাযায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরপর তিনি একটি কাঠি হাতে নিয়ে এর দ্বারা মাটি খোঁচাতে খোঁচাতে বললেন, তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই, যার স্থান জান্নাতে বা জাহান্নামে নির্দিষ্ট হয়নি। এ কথা শুনে সকলেই বললেন, তাহলে কি আমরা ভাগ্যের উপর ভরসা করে বসে থাকব? উত্তরে তিনি বললেন, তোমরা ‘আমাল করতে থাক। কারণ, যাকে যে ‘আমালের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে ‘আমালকে সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, সুতরাং কেউ দান করলে, মুতআকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজপথ। আর কেউ কার্পণ্য কররে, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে ও যার যা উত্তম তা ত্যাগ করলে তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ। শু‘বাহ (রহ.) বলেন, উপরোক্ত হাদীসটি আমার কাছে মানসূর বর্ণনা করেছেন। তাকে আমি সুলায়মানের হাদীসের উল্টো মনে করেনি। [১৩৬২] (আ.প্র. ৪৫৭৮, ই.ফা. ৪৫৮৩)
৬৫/৯২/৬.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ এবং কেউ কার্পণ্য করলে ও নিজকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে। (সূরাহ আল-লাইল ৯২/৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৪৭
হাদিস নং ৪৯৪৭
يَحْيَى حَدَّثَنَا وَكِيْعٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِيْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلَام قَالَ كُنَّا جُلُوْسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَمَقْعَدُهُ مِنْ النَّارِ فَقُلْنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ أَفَلَا نَتَّكِلُ قَالَ لَا اعْمَلُوْا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ ثُمَّ قَرَأَ {فَأَمَّا مَنْ أَعْطٰى وَاتَّقٰى لا (5) وَصَدَّقَ بِالْـحُسْنٰى لا (6) فَسَنُيَسِّرُه” لِلْيُسْرٰى} إِلَى قَوْلِهِ {فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرٰى}.
বর্ণনাকারী ‘আলী (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার স্থান জান্নাতে বা জাহান্নামে নির্দিষ্ট হয়নি। এ কথা শুনে আমরা বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! তাহলে কি আমরা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকব? তিনি বললেন, না তোমরা ‘আমাল করতে থাক। কারণ, যাকে যে ‘আমালের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য সে ‘আমালকে সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, কাজেই কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ এবং কেউ কার্পণ্য করলে, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, আর যা উত্তম তা ত্যাগ করলে, তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ। [১৩৬২] (আ.প্র. ৪৫৭৯, ই.ফা. ৪৫৮৪)
৬৫/৯২/৭.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আর যা উত্তম তা অস্বীকার করলে। (সূরাহ আল-লাইল ৯২/৯)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৪৮
হাদিস নং ৪৯৪৮
عُثْمَانُ بْنُ أَبِيْ شَيْبَةَ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ عَنْ مَنْصُوْرٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِيْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنَّا فِيْ جَنَازَةٍ فِيْ بَقِيْعِ الْغَرْقَدِ فَأَتَانَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَعَدَ وَقَعَدْنَا حَوْلَهُ وَمَعَهُ مِخْصَرَةٌ فَنَكَّسَ فَجَعَلَ يَنْكُتُ بِمِخْصَرَتِهِ ثُمَّ قَالَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ وَمَا مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوْسَةٍ إِلَّا كُتِبَ مَكَانُهَا مِنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَإِلَّا قَدْ كُتِبَتْ شَقِيَّةً أَوْ سَعِيْدَةً قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَفَلَا نَتَّكِلُ عَلَى كِتَابِنَا وَنَدَعُ الْعَمَلَ فَمَنْ كَانَ مِنَّا مِنْ أَهْلِ السَّعَادَةِ فَسَيَصِيْرُ إِلَى عَمَلِ أَهْلِ السَّعَادَةِ وَمَنْ كَانَ مِنَّا مِنْ أَهْلِ الشَّقَاءِ فَسَيَصِيْرُ إِلَى عَمَلِ أَهْلِ الشَّقَاوَةِ قَالَ أَمَّا أَهْلُ السَّعَادَةِ فَيُيَسَّرُوْنَ لِعَمَلِ أَهْلِ السَّعَادَةِ وَأَمَّا أَهْلُ الشَّقَاوَةِ فَيُيَسَّرُوْنَ لِعَمَلِ أَهْلِ الشَّقَاءِ ثُمَّ قَرَأَ {فَأَمَّا مَنْ أَعْطٰى وَاتَّقٰى لا (5) وَصَدَّقَ بِالْـحُسْنٰى}الْآيَةَ.
বর্ণনাকারী ‘আলী (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা বাকীউল গারকাদ নামক স্থানে একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে এসে বসলেন। আমরাও তাঁর চারপাশে গিয়ে বসলাম। এ সয় তাঁর হাতে একটি ছড়ি ছিল। তিনি তার মাতাখানা নামিয়ে, এর দ্বারা মাটি খুঁড়তে শুরু করলেন। এরপর বললেন, তোমাদের কেউ এমন নেই অথবা বললেন, কোন সৃষ্টি এমন নেই) জান্নাতে বা জাহান্নামে যার স্থান নির্দিষ্ট হয়নি। কিংবা তাকে ভাগ্যবান বা হতভাগা লেখা হয়নি। এ কথা শুনে এক সহাবী বললেন, আমরা তাহলে ‘আমাল ত্যাগ করে আমাদের লিখিত ভাগ্যের উপর কি নির্ভয় করে বসব? আমাদের মধ্যে যে সৌভাগ্যবান, সে তো সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের মাঝেই শামিল হয়ে যাবে, আর আমাদের মাঝে যে হতভাগ্য, সে তো হতভাগা লোকদের আমলের দিকেই এগিয়ে যাবে। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সৌভাগ্যের অধিকারী লোকদের জন্য সৌভাগ্য লাভ করার মত ‘আমাল সহজ করে দেয়া হবে। আর দুর্ভাগ্যের অধিকারী লোকদের জন্য দুর্ভাগ্য লাভ করার মত ‘আমাল সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে।” [১৩৬২] (আ.প্র. ৪৫৮০, ই.ফা. ৪৫৮৫)
৬৫/৯২/৮.অধ্যায়ঃ
‘‘আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ।’’ (সূরাহ আল-লাইল ৯২/৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৪৯
হাদিস নং ৪৯৪৯
آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْأَعْمَشِ قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ عُبَيْدَةَ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِيْ جَنَازَةٍ فَأَخَذَ شَيْئًا فَجَعَلَ يَنْكُتُ بِهِ الْأَرْضَ فَقَالَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهُ مِنْ النَّارِ وَمَقْعَدُهُ مِنَ الْجَنَّةِ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ أَفَلَا نَتَّكِلُ عَلَى كِتَابِنَا وَنَدَعُ الْعَمَلَ قَالَ اعْمَلُوْا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ أَمَّا مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ السَّعَادَةِ فَيُيَسَّرُ لِعَمَلِ أَهْلِ السَّعَادَةِ وَأَمَّا مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الشَّقَاءِ فَيُيَسَّرُ لِعَمَلِ أَهْلِ الشَّقَاوَةِ ثُمَّ قَرَأَ {فَأَمَّا مَنْ أَعْطٰى وَاتَّقٰى لا (5) وَصَدَّقَ بِالْـحُسْنٰى} الْآيَةَ.
বর্ণনাকারী ‘আলী (রাঃ)
তিনি বলেন, এক জানাযাহ্য় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি কিছু একটা হাতে নিয়ে তা দিয়ে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যক্তি নেই, যার স্থান হয় জান্নাতে বা জাহান্নামে নির্দিষ্ট করে রাখা হয়নি। এ কথা শুনে সবাই বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমরা তাহলে ‘আমাল বাদ দিয়ে আমাদের লিখিত ভাগ্যের উপর কি ভরসা করব? উত্তরে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা ‘আমাল করতে থাক, কারণ, যাকে যে ‘আমালের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে ‘আমালকে সহজ করে দেয়া হবে। যে ব্যক্তি সৌভাগ্যের অধিকারী হবে, তার জন্য সৌভাগ্যের অধিকারী লোকদের ‘আমালকে সহজ করে দেয়া হবে। আর যে দুর্ভাগ্যের অধিকারী হবে, তার জন্য দুর্ভাগা লোকদের ‘আমালকে সহজ করে দেয়া হবে। এরপর তিনি পাঠ করলেন, সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ। এবং কেউ কার্পণ্য করলে, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, আর যা উত্তম তা ত্যাগ করলে, তার জন্য আমি সুগম করে দেব কঠোর পরিণামের পথ)। (আ.প্র. ৪৫৮১, ই.ফা. ৪৫৮৬)
৬৫/৯৩/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আপনার রব আপনাকে ত্যাগও করেননি এবং আপনার সঙ্গে দুশমনীও করেননি। (সূরাহ ওয়াদ্ দুহা ৯৩/৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৫০
হাদিস নং ৪৯৫০
أَحْمَدُ بْنُ يُوْنُسَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ سَمِعْتُ جُنْدُبَ بْنَ سُفْيَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ اشْتَكَى رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَقُمْ لَيْلَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا فَجَاءَتْ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ يَا مُحَمَّدُ إِنِّيْ لَأَرْجُوْ أَنْ يَكُوْنَ شَيْطَانُكَ قَدْ تَرَكَكَ لَمْ أَرَهُ قَرِبَكَ مُنْذُ لَيْلَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةٍ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ {وَالضُّحٰى لا (1) وَاللَّيْلِ إِذَا سَجٰى لا (2) مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلٰى}.
বর্ণনাকারী জুনদুব ইব্নু সুফ্ইয়ান (রাঃ)
তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুই বা তিন রাত তাহাজ্জুদের জন্য উঠতে পারেননি। এ সময় এক মহিলা এসে বলল, হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমার মনে হয়, তোমার শয়তান তোমাকে ত্যাগ করেছে। দুই কিংবা তিনদিন যাবৎ তাকে আমি তোমার কাছে আসতে দেখতে পাচ্ছি না। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, শপথ পূর্বাহ্নের, “শপথ রজনীর যখন তা হয় নিঝুম, তোমার প্রতিপালক তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হননি” (সূরাহ ওয়াদ্ দুহা ৯৩/৩)। [১১২৪; মুসলিম ৩২/৩৯, হাঃ ১৭৯৭, আহমাদ ১৮৮২৪] (আ.প্র. ৪৫৮২, ই.ফা. ৪৫৮৭)
৬৫/৯৩/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আপনার রব আপনাকে ত্যাগও করেননি এবং আপনার সঙ্গে দুশমনীও করেননি। (সূরাহ ওয়াদ্ দুহা ৯৩/৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৫১
হাদিস নং ৪৯৫১
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ سَمِعْتُ جُنْدُبًا الْبَجَلِيَّ قَالَتْ امْرَأَةٌ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا أُرَى صَاحِبَكَ إِلَّا أَبْطَأَكَ فَنَزَلَتْ {مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلٰى}.
বর্ণনাকারী জুনদুব বাজালী (রাঃ)
তিনি বলেন, এক মহিলা এসে বলল, আমি দেখছি, আপনার সঙ্গী আপনার কাছে ওয়াহী নিয়ে আসতে দেরী করে ফেলছে। তখনই অবতীর্ণ হল ঃ তোমার প্রতিপালক তোমাকে ত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি মনোক্ষুণœও হননি। [১১২৪] (আ.প্র. ৪৫৮৩, ই.ফা. ৪৫৮৮)
৬৫/৯৫/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৫২
হাদিস নং ৪৯৫২
حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عَدِيٌّ قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِيْ سَفَرٍ فَقَرَأَ فِي الْعِشَاءِ فِيْ إِحْدَى الرَّكْعَتَيْنِ بِالتِّيْنِ وَالزَّيْتُوْنِ تَقْوِيْمٍ الْخَلْقِ.
বর্ণনাকারী বারাআ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফরে থাকাকালীন ‘ইশার সলাতের দুই রাকআতের কোন এক রাকআতে ‘সূরাহ তীন’ পাঠ করেছেন। [৭৬৭] (আ.প্র. ৪৫৮৪, ই.ফা. ৪৫৮৯)
৬৫/৯৬/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৫৩
হাদিস নং ৪৯৫৩
يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ ح و حَدَّثَنِيْ سَعِيْدُ بْنُ مَرْوَانَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيْزِ بْنِ أَبِيْ رِزْمَةَ أَخْبَرَنَا أَبُوْ صَالِحٍ سَلْمَوَيْهِ قَالَ حَدَّثَنِيْ عَبْدُ اللهِ عَنْ يُوْنُسَ بْنِ يَزِيْدَ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ أَوَّلَ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الرُّؤْيَا الصَّادِقَةُ فِي النَّوْمِ فَكَانَ لَا يَرَى رُؤْيَا إِلَّا جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الْخَلَاءُ فَكَانَ يَلْحَقُ بِغَارِ حِرَاءٍ فَيَتَحَنَّثُ فِيْهِ قَالَ وَالتَّحَنُّثُ التَّعَبُّدُ اللَّيَالِيَ ذَوَاتِ الْعَدَدِ قَبْلَ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى أَهْلِهِ وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى خَدِيْجَةَ فَيَتَزَوَّدُ بِمِثْلِهَا حَتَّى فَجِئَهُ الْحَقُّ وَهُوَ فِيْ غَارِ حِرَاءٍ فَجَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ اقْرَأْ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَنَا بِقَارِئٍ قَالَ فَأَخَذَنِيْ فَغَطَّنِيْ حَتَّى بَلَغَ مِنِّيْ الْجُهْدَ ثُمَّ أَرْسَلَنِيْ فَقَالَ اقْرَأْ قُلْتُ مَا أَنَا بِقَارِئٍ فَأَخَذَنِيْ فَغَطَّنِي الثَّانِيَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّيْ الْجُهْدَ ثُمَّ أَرْسَلَنِيْ فَقَالَ اقْرَأْ قُلْتُ مَا أَنَا بِقَارِئٍ فَأَخَذَنِيْ فَغَطَّنِي الثَّالِثَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّيْ الْجُهْدَ ثُمَّ أَرْسَلَنِيْ فَقَالَ {اِقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ ج - خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ ج - اِقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ لا - الَّذِيْ عَلَّمَ بِالْقَلَمِ} الْآيَاتِ إِلَى قَوْلِهِ {عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} فَرَجَعَ بِهَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَرْجُفُ بَوَادِرُهُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى خَدِيْجَةَ فَقَالَ زَمِّلُوْنِيْ زَمِّلُوْنِيْ فَزَمَّلُوْهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ قَالَ لِخَدِيْجَةَ أَيْ خَدِيْجَةُ مَا لِيْ لَقَدْ خَشِيْتُ عَلَى نَفْسِيْ فَأَخْبَرَهَا الْخَبَرَ قَالَتْ خَدِيْجَةُ كَلَّا أَبْشِرْ فَوَاللهِ لَا يُخْزِيْكَ اللهُ أَبَدًا فَوَاللهِ إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ وَتَصْدُقُ الْحَدِيْثَ وَتَحْمِلُ الْكَلَّ وَتَكْسِبُ الْمَعْدُوْمَ وَتَقْرِي الضَّيْفَ وَتُعِيْنُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ فَانْطَلَقَتْ بِهِ خَدِيْجَةُ حَتَّى أَتَتْ بِهِ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلٍ وَهُوَ ابْنُ عَمِّ خَدِيْجَةَ أَخِيْ أَبِيْهَا وَكَانَ امْرًَا تَنَصَّرَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ يَكْتُبُ الْكِتَابَ الْعَرَبِيَّ وَيَكْتُبُ مِنَ الإِنْجِيْلِ بِالْعَرَبِيَّةِ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَكْتُبَ وَكَانَ شَيْخًا كَبِيْرًا قَدْ عَمِيَ فَقَالَتْ خَدِيْجَةُ يَا ابْنَ عَمِّ اسْمَعْ مِنْ ابْنِ أَخِيْكَ قَالَ وَرَقَةُ يَا ابْنَ أَخِيْ مَاذَا تَرَى فَأَخْبَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَبَرَ مَا رَأَى فَقَالَ وَرَقَةُ هَذَا النَّامُوْسُ الَّذِيْ أُنْزِلَ عَلَى مُوْسَى لَيْتَنِيْ فِيْهَا جَذَعًا لَيْتَنِيْ أَكُوْنُ حَيًّا ذَكَرَ حَرْفًا قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَوَمُخْرِجِيَّ هُمْ قَالَ وَرَقَةُ نَعَمْ لَمْ يَأْتِ رَجُلٌ بِمَا جِئْتَ بِهِ إِلَّا أُوْذِيَ وَإِنْ يُدْرِكْنِيْ يَوْمُكَ حَيًّا أَنْصُرْكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا ثُمَّ لَمْ يَنْشَبْ وَرَقَةُ أَنْ تُوُفِّيَ وَفَتَرَ الْوَحْيُ فَتْرَةً حَتَّى حَزِنَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم
বর্ণনাকারী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, ঘুমের অবস্থায় সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওয়াহী শুরু করা হয়েছিল। ঐ সময় তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন, তা সকালের আলোর মতই সুস্পষ্ট হত। এরপর নির্জনতা তার কাছে প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় চলে যেতেন এবং পরিবার-পরিজনের কাছে আসার পূর্বে সেখানে লাগাতার কয়েকদিন পর্যন্ত তাহানন্নুছ করতেন। তাহান্নুছ মানে বিশেষ পদ্ধতিতে ‘ইবাদাত করা। এ জন্য তিনি কিছু খাবার নিয়ে যেতেন। এরপর তিনি খাদীজাহ (রাঃ)-এর কাছে ফিরে এসে আবার ওরকম কিছু কিছু খাবার নিয়ে যেতেন। শেষে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ তার কাছে সত্যবাণী এসে পৌঁছল। ফেরেশতা তাঁর কাছে এসে বললেন, পড়–ন। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি পড়তে পারি না। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, এরপর তিনি আমাকে ধরে খুব জোরে আলিঙ্গণ করলেন। এতে আমি প্রাণান্তকর কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়–ন। আমি বললাম, আমি তো পড়তে পারি না। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, এরপর তিনি আমাকে ধরে দ্বিতীয়বার খুব জোরে আলিঙ্গণ করলেন। এতেও আমি ভীষণ কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়–ন। আমি বললাম, আমি পড়তে পারি না। এরপর তিনি আমাকে দরে তৃতীয়বার খুব জোরে আলিঙ্গণ করলেন। এবারও আমি খুব কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পাঠ কর তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক হতে। পাঠ কর, আর তোমার প্রতিপালক মহিমানি¦ত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে যা সে জানত না। এরপর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ আয়াতগুলো নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। এ সময় তাঁর কাঁধের গোশ্ত ভয়ে থরথর করে কাঁপছিল। খাদীজার কাছে পৌঁছেই তিনি বললেন, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। তখন সকলেই তাঁকে বস্ত্রাবৃত করে দিল। অবশেষে তার ভীতিভাব দূর হলে তিনি খাদীজাকে বললেন, খাদীজা আমার কী হল? আমি আমার নিজের সম্পর্কে আশংকাবোধ করছি। এরপর তিনি তাঁকে সব কথা খুলে বললেন। এ কথা শুনে খাদীজাহ (রাঃ) বললেন, কখনো নয়। আপনি সুসংবাদ নিন। আল্লাহ্র শপথ, আল্লাহ্ কখনো আপনাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি আত্মীয়দের খোঁজ-খবর নেন, সত্য কথা বলেন, সহায়হীন লোকদের বোঝা লাঘব করে দেন, নিঃস্ব লোকদেরকে উপার্জন করে দেন, মেহমানদের আপ্যায়ন করেন এবং হকের পথে আসা বিপদাপদে পতিত লোকদেরকে সাহায্য করে থাকে। তারপর খাদীজাহ তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাত ভাআরাকা ইব্নু নাওফালের কাছে গেলেন। তিনি জাহিলী যুগে খৃস্ট ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরবী ভাষায় কিতাব লিখতেন। আর তিনি আল্লাহ্র ইচ্ছা মাফিক আরবী ভাষায় ইনজীল কিতাব অনুবাদ করে লিখতেন। তিনি খুব বৃদ্ধ ও অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদীজাহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে আমার চাচাত ভাই। আপনার ভাতিজা কী বলেন একটু শুনুন। তখন ওয়ারাকা বললেন, ভাতিজা, কী হয়েছে তোমার? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা দেখেছিলেন, সব কিছুর ব্যাপারে তাকে জানালেন। সব কথা শুনে ওয়ারাকা বললেন, ইনিই সেই ফেরেশতা, যাকে মূসার কাছে পাঠানো হয়েছিল। আহ! সে সময় আমি যদি যুবক হতাম। আহ্! সে সময় আমিযদি জীবিত থাকতাম। তারপর তিনি একটি গুরুতর বিষয় উল্লেখ করলে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সত্যিই তারা কি আমাকে বের করে দেবে? ওয়ারাকা বললেন, হ্যাঁ, তারা তোমাকে বের করে দেবে। তুমি যে দাওয়াত নিয়ে এসেছ, এ দাওয়াত যে-ই নিয়ে এসেছে তাকেই কষ্ট দেয়া হয়েছে। তোমার নবুয়তকালে আমি জীবিত থাকলে অবশ্যই আমি তোমাকে প্রবল ও সর্বতোভাবে সাহায্য করতাম। এরপর ওয়ারাকা অধিক দিন বাঁচেননি; বরং অল্পদিনের মধ্যেই তিনি মারা গেলেন। দীর্ঘ সময়ের জন্য ওয়াহী বন্ধ হয়ে গেল। এতে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুবই চিন্তাযুক্ত হয়ে পড়লেন। [৩] (আ.প্র. ৪৫৮৫, ই.ফা. ৪৫৯০)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৫৪
হাদিস নং ৪৯৫৪
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِيْ أَبُوْ سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ الْأَنْصَارِيَّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الْوَحْيِ قَالَ فِيْ حَدِيْثِهِ بَيْنَا أَنَا أَمْشِيْ سَمِعْتُ صَوْتًا مِنْ السَّمَاءِ فَرَفَعْتُ بَصَرِيْ فَإِذَا الْمَلَكُ الَّذِيْ جَاءَنِيْ بِحِرَاءٍ جَالِسٌ عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ فَفَرِقْتُ مِنْهُ فَرَجَعْتُ فَقُلْتُ زَمِّلُوْنِيْ زَمِّلُوْنِيْ فَدَثَّرُوْهُ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى {يٰٓأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ لا - قُمْ فَأَنْذِرْ لا - وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ لا - وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ لا - وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ} قَالَ أَبُوْ سَلَمَةَ وَهِيَ الْأَوْثَانُ الَّتِيْ كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَعْبُدُوْنَ قَالَ ثُمَّ تَتَابَعَ الْوَحْيُ.
বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইব্নু শিহাব (রহ.)
আবূ সালামাহ ইব্নু ‘আবদুর রহমান (রাঃ)-এর মাধ্যমে জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওয়াহী বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন, এক সময় আমি পথ চলছিলাম। হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি মাথা তুলে তাকালাম। দেখলাম, যে ফেরেশতা আমার কাছে হেরা গুহায় আসতেন, তিনিই আসমান ও যমীনের মাঝে বিদ্যমান কুরসীতে বসে আছেন। এতে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। তাই বাড়িতে ফিরে বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। সুতরাং সকলেই আমাকে বস্ত্রাবৃত করল। তখন আল্লাহ্ তা’আলা অবতীর্ণ করলেন, “হে বস্ত্রাবৃত রসূল! উঠুন, সতর্ক করুন, আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন, এবং স্বীয় পরিধেয় বস্ত্র পবিত্র রাখুন এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন” (সূরাহ আল-মুদ্দাস্সির ৭৪/১-৫)। আবূ সালামাহ (রাঃ) বলেন, আরবরা জাহিলী যুগে যে সব মূর্তির পূজা করত الرِّجْزَ বলে ঐ সব মূর্তিকেই বোঝানো হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর থেকে ওয়াহীর ধারা চলতে থাকে। [৪] (আ.প্র. ৪৫৮৫, ই.ফা. ৪৫৯০)
৬৫/৯৬/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত পিন্ড থেকে। (সূরাহ ‘আলাক ৯৬/২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৫৫
হাদিস নং ৪৯৫৫
ابْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ فَجَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ {اِقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ ج (1) خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ ج (2) اِقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ}.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, প্রথমত রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওয়াহী আরম্ভ হয়েছিল সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। এরপর তাঁর কাছে ফেরেশতা এসে বললেন, পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত পিণ্ড থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার রব অতিশয় দয়ালু” (সূরাহ আলাক ৯৬/১-৫)। [৩] (আ.প্র. ৪৫৮৬, ই.ফা. ৪৫৯১)
৬৫/৯৬/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ পাঠ করুন, আর আপনার রব অতিশয় দয়ালু। (সূরাহ আলাক ৯৬/৫)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৫৬
হাদিস নং ৪৯৫৬
عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ ح وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِيْ عُقَيْلٌ قَالَ مُحَمَّدٌ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الرُّؤْيَا الصَّادِقَةُ جَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ {اِقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ ج (1) خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ ج (2) اِقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ لا (3) الَّذِيْ عَلَّمَ بِالْقَلَمِ}.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে ওয়াহীর শুরু হয়। এরপর তাঁর কাছে ফেরেশতা এসে বললেন, “পাঠ কর, তোমার প্রতিপালকের নামে , যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক হতে। পাঠ কর, আর তোমার প্রতিপালকমহা মহিমানি¦ত” (সূরাহ আলাক ৯৬/১-৫)। [৩] (আ.প্র. ৪৫৮৭, ই.ফা. ৪৫৯২)
৬৫/৯৫/৪.অধ্যায়ঃ
‘‘যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলমের সাহায্যে।’’ (সূরাহ আলাক ৯৬/৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৫৭
হাদিস নং ৪৯৫৭
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوْسُفَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ سَمِعْتُ عُرْوَةَ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا فَرَجَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى خَدِيْجَةَ فَقَالَ زَمِّلُوْنِيْ زَمِّلُوْنِيْ فَذَكَرَ الْحَدِيْثَ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, এরপর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদজী (রাঃ)-এর কাছে ফিরে এসে বললেন, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর, আমাকে বস্ত্রাবৃত কর। এরপর রাবী সম্পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করলেন। [৩] (আ.প্র. ৪৫৮৮, ই.ফা. ৪৫৯৩)
৬৫/৯৬/৫.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ তার এরূপ করা কখনই উচিত নয়, যদি সে এরূপ করা থেকে ফিরিয়ে না আসে, তবে আমি অবশ্যই তাকে কপালের কেশগুচ্ছ ধরে হিঁচড়ে নিয়ে যাবো। যে কেশগুচ্ছ মিথ্যাচারী, পাপাচারীর। (সূরাহ আলাক ৯৬/১৫-১৬)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৫৮
হাদিস নং ৪৯৫৮
يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيْمِ الْجَزَرِيِّ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ أَبُوْ جَهْلٍ لَئِنْ رَأَيْتُ مُحَمَّدًا يُصَلِّيْ عِنْدَ الْكَعْبَةِ لَأَطَأَنَّ عَلَى عُنُقِهِ فَبَلَغَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَوْ فَعَلَهُ لَأَخَذَتْهُ الْمَلَائِكَةُ تَابَعَهُ عَمْرُوْ بْنُ خَالِدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيْمِ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, আবূ জাহ্ল বলেছিল, আমি যদি মুহাম্মাদকে কা‘বার পাশে সলাত আদায় করতে দেখি তাহলে অবশ্যই আমি তার ঘাড় পদদলিত করব। এ খবর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছার পর তিনি বললেন, সে যদি তা করে তাহলে অবশ্যই ফেরেশতা তাকে পাকড়াও করবে। ‘উবাইদুল্লাহ্র মাধ্যমে ‘আবদুল থেকে আমর ইব্নু খালিদ এ হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। (আ.প্র. ৪৫৮৯, ই.ফা. ৪৫৯৪)
৬৫/৯৮/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৫৯
হাদিস নং ৪৯৫৯
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ سَمِعْتُ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِأُبَيٍّ إِنَّ اللهَ أَمَرَنِيْ أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ {لَمْ يَكُنِ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا} قَالَ وَسَمَّانِيْ قَالَ نَعَمْ فَبَكَى.
বর্ণনাকারী আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ) বলেছিলেন, তোমাকে لَمْ يَكُنْ الَّذِينَ كَفَرُوا (সূরা) পড়ে শোনানোর জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে আদেশ করেছেন। উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা কি আমার নাম উল্লেখ করে বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ; এ কথা শুনে উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ) কাঁদতে লাগলেন। [৩৮০৯] (আ.প্র. ৪৫৯০, ই.ফা. ৪৫৯৫)
৬৫/৯৮/২.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৬০
হাদিস নং ৪৯৬০
حَسَّانُ بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِأُبَيٍّ إِنَّ اللهَ أَمَرَنِيْ أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ قَالَ أُبَيٌّ أَاللهُ سَمَّانِيْ لَكَ قَالَ اللهُ سَمَّاكَ لِيْ فَجَعَلَ أُبَيٌّ يَبْكِيْ قَالَ قَتَادَةُ فَأُنْبِئْتُ أَنَّهُ قَرَأَ عَلَيْهِ {لَمْ يَكُنِ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ}.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ)-কে বলেছিলেন, তোমাকে কুরআন পড়ে শোনানোর জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে আদেশ করেছেন। উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমার নাম উল্লেখ করেছেন। এ কথা শুনে উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ) কাঁদতে বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমার নাম উল্লেখ করেছেন। এ কথা শুনে উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ) কাঁদতে শুরু করলেন। ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে لَمْ يَكُنْ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ পাঠ করে শুনিয়েছিলেন। [৩৮০৯] (আ.প্র. ৪৫৯১, ই.ফা. ৪৫৯৬)
৬৫/৯৮/৩.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৬১
হাদিস নং ৪৯৬১
إحمد بن أبي داؤد، أَبُوْ جَعْفَرٍ الْمُنَادِيْ حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا سَعِيْدُ بْنُ أَبِيْ عَرُوْبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ إِنَّ اللهَ أَمَرَنِيْ أَنْ أُقْرِئَكَ الْقُرْآنَ قَالَ أَاللهُ سَمَّانِيْ لَكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ وَقَدْ ذُكِرْتُ عِنْدَ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ قَالَ نَعَمْ فَذَرَفَتْ عَيْنَاهُ.
বর্ণনাকারী আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, আল্লাহ্র নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ)-কে বলেছিলেন, তোমাকে কুরআন পাঠ করে শোনানোর জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে আদেশ করেছেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, আল্লাহ তা‘আলা কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন,হ্যাঁ। তখন উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ) বিস্মিত হয়ে আবার জিজ্ঞেস করলেন, বিশ্বজাহাজেন প্রতিপালকের কাছে কি আমার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে? উত্তরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। এ কথা শুনে তা দু’চোখ অশ্র“তে ভরে উঠল। [৩৮০৯] (আ.প্র. ৪৫৯২, ই.ফা. ৪৫৯৭)
৬৫/৯৯/১.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ অতএব, কেউ অণূ পরিমাণ নেক কাজ করে থাকলে, সে তা দেখতে পাবে। (সূরাহ যিলযাল ৯৯/৭)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৬২
হাদিস নং ৪৯৬২
إِسْمَاعِيْلُ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيْ صَالِحٍ السَّمَّانِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْخَيْلُ لِثَلَاثَةٍ لِرَجُلٍ أَجْرٌ وَلِرَجُلٍ سِتْرٌ وَعَلَى رَجُلٍ وِزْرٌ فَأَمَّا الَّذِيْ لَهُ أَجْرٌ فَرَجُلٌ رَبَطَهَا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ فَأَطَالَ لَهَا فِيْ مَرْجٍ أَوْ رَوْضَةٍ فَمَا أَصَابَتْ فِيْ طِيَلِهَا ذَلِكَ فِي الْمَرْجِ وَالرَّوْضَةِ كَانَ لَهُ حَسَنَاتٍ وَلَوْ أَنَّهَا قَطَعَتْ طِيَلَهَا فَاسْتَنَّتْ شَرَفًا أَوْ شَرَفَيْنِ كَانَتْ آثَارُهَا وَأَرْوَاثُهَا حَسَنَاتٍ لَهُ وَلَوْ أَنَّهَا مَرَّتْ بِنَهَرٍ فَشَرِبَتْ مِنْهُ وَلَمْ يُرِدْ أَنْ يَسْقِيَ بِهِ كَانَ ذَلِكَ حَسَنَاتٍ لَهُ فَهِيَ لِذَلِكَ الرَّجُلِ أَجْرٌ وَرَجُلٌ رَبَطَهَا تَغَنِّيًا وَتَعَفُّفًا وَلَمْ يَنْسَ حَقَّ اللهِ فِيْ رِقَابِهَا وَلَا ظُهُوْرِهَا فَهِيَ لَهُ سِتْرٌ وَرَجُلٌ رَبَطَهَا فَخْرًا وَرِئَاءً وَنِوَاءً فَهِيَ عَلَى ذَلِكَ وِزْرٌ فَسُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْحُمُرِ قَالَ مَا أَنْزَلَ اللهُ عَلَيَّ فِيْهَا إِلَّا هَذِهِ الْآيَةَ الْفَاذَّةَ الْجَامِعَةَ {فَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَّرَه” وَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَّرَه”}.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তিন শ্রেণীর মানুষের ঘোড়া থাকে। এক শ্রেণীর মানুষের জন্য তা সওয়াব ও পুরস্কারের কারণ হয়, এক শ্রেণীর মানুষের জন্য তা (গুনাহ্ থেকে) আবরণস্বরূপ এবং এক শ্রেণীর মানুষের প্রতি তা হয় গুনাহ্র কারণ। যার জন্য তা সওয়াবের কারণ হয়, তারা সেসব লোক, যারা আল্লাহ্র পথে জিহাদের জন্য তা প্রস্তুত করে রাখে এবং কোন চারণ ক্ষেত্রে বা বাগানে লম্বা দড়ি দিয়ে তাকে বেঁধে রাখে। দড়ির আওতায় চারণ ক্ষেত্রে বা বাগানে সে যা কিছু খায় তা ঐ ব্যক্তির জন্য নেকী হিসাবে গণ্য হয়। যদি ঘোড়াটি দড়ি ছিঁড়ে ফেলে এবং নিজ স্থান পার হয়ে এক/দু’ উঁচু স্থানে চলে যায়, তাহলে তার পদচিহ্ন ও গোবরের বিনিময়েও ঐ ব্যক্তি সওয়াব লাভ করবে। আর ঘোড়াটি যদি কোন নহরের কিনারায় গিয়ে নিজে নিজেই পানি পান করে নেয়-মালিকের সেখান থেকে পানি পান করানোর ইচ্ছা না থাকলেও সে ব্যক্তি এর বিনিময়ে সওয়াবের অধিকারী হবে। এ ঘোড়া এ ব্যক্তির জন্য হল সওয়াবের কারণ; আরেক শ্রেণীর লোক যাদের জন্য এ ঘোড়া (গুনাহ্ হতে) আড়াল, তারা ঐ ব্যক্তি যারা মানুষের থেকে মুখাপেক্ষী না থাকার জন্য এবং মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে বেঁচে থাকার জন্য তা পালন করে থাকে। কিন্তু তাতে আল্লাহ্র যে হক রয়েছেতা দিয়ে ভুলে যায় না। এ শ্রেণীর মানুষের জন্য এ ঘোড়া হচ্ছে পর্দা। আরেক শ্রেণীর ঘোড়ার মালিক যারা গর্ব দেখানোর মনোভাব ও দুশমনির উদ্দেশে ঘোড়া রাখে। এ ঘোড়া হচ্ছে গুনাহ্র কারণ। এরপর রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, একক ও ব্যাপক অর্থবোধক এ একটি মাত্র আয়াত ব্যতীত এ বিষয়ে আল্লাহ্ তা‘আলা আমার প্রতি আর কোন আয়াত অবতীর্ণ করেননি। আয়াতটি এই ঃ “কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখবে এবং অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে সে তাও দেখবে” (সূরাহ যিলযাল ৯৯/৭-৮)। [২৩৭১] (আ.প্র. ৪৫৯৩, ই.ফা. ৪৫৯৮)
৬৫/৯৯/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আর কেউ অণু পরিমাণ বদ কাজ করে থাকলে, সে তাও দেখতে পাবে। (সূরাহ যিলযাল ৯৯/৮)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৬৩
হাদিস নং ৪৯৬৩
يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ مَالِكٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيْ صَالِحٍ السَّمَّانِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْحُمُرِ فَقَالَ لَمْ يُنْزَلْ عَلَيَّ فِيْهَا شَيْءٌ إِلَّا هَذِهِ الْآيَةُ الْجَامِعَةُ الْفَاذَّةُ {فَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَّرَه” وَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَّرَه”}.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, এ বিষয়ে একক ও ব্যাপক অর্থবোধক এই আয়াতটি ছাড়া আমার প্রতি আর কোন আয়াতই অবতীর্ণ করা হয়নি। আয়াতটি হচ্ছে এই ঃ “কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে সে তাও দেখবে” (সূরাহ যিলযাল ৯৯/৭-৮)। [২৩৭১] (আ.প্র. ৪৫৯৪, ই.ফা. ৪৫৯৯)
৬৫/১০৮/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৬৪
হাদিস নং ৪৯৬৪
آدَمُ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا عُرِجَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى السَّمَاءِ قَالَ أَتَيْتُ عَلَى نَهَرٍ حَافَتَاهُ قِبَابُ اللُّؤْلُؤِ مُجَوَّفًا فَقُلْتُ مَا هَذَا يَا جِبْرِيْلُ قَالَ هَذَا الْكَوْثَرُ.
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, আকাশের দিকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মি‘রাজ হলে তিনি বলেন, আমি একটি নহরের ধারে পৌঁছলাম, যার উভয় তীরে ফাঁপা মোতির তৈরি গম্বুজসমূহ রয়েছে। আমি বললাম, হে জিব্রীল! এটা কী? তিনি বললেন, এটাই (হাওযে) কাউছার। [৩৫৭০] (আ.প্র. ৪৫৯৫, ই.ফা. ৪৬০০)
৬৫/১০৮/২.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৬৫
হাদিস নং ৪৯৬৫
خَالِدُ بْنُ يَزِيْدَ الْكَاهِلِيُّ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيْلُ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ عَنْ أَبِيْ عُبَيْدَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَ سَأَلْتُهَا عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى {إِنَّآ أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ} قَالَتْ نَهَرٌ أُعْطِيَهُ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم شَاطِئَاهُ عَلَيْهِ دُرٌّ مُجَوَّفٌ آنِيَتُهُ كَعَدَدِ النُّجُوْمِ رَوَاهُ زَكَرِيَّاءُ وَأَبُو الْأَحْوَصِ وَمُطَرِّفٌ عَنْ أَبِيْ إِسْحَاقَ.
বর্ণনাকারী আবূ ‘উবাইদাহ (রহ.)
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে আল্লাহ্ তা‘আলার বাণী إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ-এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেন, কাউছার একটি নহর যা তোমার নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রদান করা হয়েছে। এর দু’টো পাড় রয়েছে। উভয় পাড়ে বিছানো আছে ফাঁপা মোতি। এর পাত্রের সংখ্যা তারকারাজির মত। (অন্য সানাদে) যাকারিয়া (রহ.).....আবূ ইসহাক (রহ.) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (আ.প্র. ৪৫৯৬, ই.ফা. ৪৬০১)
৬৫/১০৮/৩.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৬৬
হাদিস নং ৪৯৬৬
يَعْقُوْبُ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا أَبُوْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ قَالَ فِي الْكَوْثَرِ هُوَ الْخَيْرُ الَّذِيْ أَعْطَاهُ اللهُ إِيَّاهُ قَالَ أَبُوْ بِشْرٍ قُلْتُ لِسَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ فَإِنَّ النَّاسَ يَزْعُمُوْنَ أَنَّهُ نَهَرٌ فِي الْجَنَّةِ فَقَالَ سَعِيْدٌ النَّهَرُ الَّذِيْ فِي الْجَنَّةِ مِنَ الْخَيْرِ الَّذِيْ أَعْطَاهُ اللهُ إِيَّاهُ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি কাউসার সম্পর্কে বলেছেন যে, এটা এমন একটি কল্যাণ যা আল্লাহ্ তাঁকে দান করেছেন। বর্ণনাকারী আবূ বিশর (রহ.) বলেন, আমি সা‘ঈদ ইব্নু যুবায়র (রহ.)-কে বললাম, লোকেরা ধারণা করে যে, কাউসার হল জান্নাতের একটি নহর। এ কথা শুনে সা‘ঈদ (রহ.) বললেন, জান্নাতের নহরটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেয়া কল্যাণের একটি। [৬৫৭৮] (আ.প্র. ৪৫৯৭, ই.ফা. ৪৬০২)
৬৫/১১০/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৬৭
হাদিস নং ৪৯৬৭
الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيْعِ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَلَاةً بَعْدَ أَنْ نَزَلَتْ عَلَيْهِ {إِذَا جَآءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ} إِلَّا يَقُوْلُ فِيْهَا سُبْحَانَكَ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللهُمَّ اغْفِرْ لِي .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ সূরাহ অবতীর্ণ হবার পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (রুকু‘ ও সাজদাহতে) নিুোক্ত দু‘আটি পাঠ ব্যতীত (রুকু‘ ও সাজদাহতে অন্য কোন দু‘আ দ্বারা) সলাত আদায় করেন নি।১ (আর তা হচ্ছে) ঃ سُبْحَانَكَ اللهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللهُمَّ اغْفِرْ لِي “হে আল্লাহ্! তুমি পবিত্র, তুমিই আমার রব। সকল প্রশংসা তোমারই জন্য নির্ধারিত। হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে ক্ষমা কর।” [৭৯৪] (আ.প্র. ৪৫৯৮, ই.ফা. ৪৬০৩)
১. আধুনিক প্রকাশনীর ৭৫০ নম্বর হাদীসের টীকায় লিখা হয়েছে “রুকূ‘ ও সাজদাহ্য় এ দু‘আ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসলামের প্রথম দিকে পড়তেন। তখন রুকু‘তে সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম ও সাজদাহ্য় সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা পড়ার নির্দেশ হয়নি। পরে এ দু’টি দু‘আ নাযিল হলে এবং তা পড়বার আদেশ হলে পূর্বে উল্লেখিত দু‘আ মানসূখ বা বাতিল হয়ে যায়।”এটি একেবারেই মনগড়া ও হাদীস বিরোধী কথা যার কোন দলীল নেই। ইমাম ইবনু কাইয়্যিম যাদুল মা‘আদে এবং নাসিরউদ্দিন আলবানী স্বীয় সিফাত গ্রন্থে রুকু‘ ও সাজদাহর দু‘আর অর্থের পর লিখেছেনঃ “তিনি কুরআনের উপর ‘আমাল করতঃ রুকু‘ ও সাজদাহ্তে এ দু‘আটি বেশী বেশী করে পড়তেন।” (বুখারী হাদীস নং ৮১৭) আর এ সূরাহ্টি নাযিল হয়েছে আল্লাহর রসূলের ইন্তিকালের অল্প কিছুদিন পূর্বে। সূরা নাসর হচ্ছে সর্বশেষ নাযিলকৃত সূরাহ্। তাই উক্ত টীকার দাবী সম্পূর্ণ অসত্য ও অজ্ঞতাপূর্ণ। অত্র হাদীস হতেও বোঝা যায় যে, অত্র আয়াতটি অবতীর্ণ হবার পর তিনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত উপরোক্ত দু‘আটিই পাঠ, করেছেন অন্য কোন দু‘আ নয়।
৬৫/১১০/২.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৬৮
হাদিস নং ৪৯৬৮
عُثْمَانُ بْنُ أَبِيْ شَيْبَةَ حَدَّثَنَا جَرِيْرٌ عَنْ مَنْصُوْرٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوْقٍ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُكْثِرُ أَنْ يَقُوْلَ فِيْ رُكُوْعِهِ وَسُجُوْدِهِ سُبْحَانَكَ اللهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللهُمَّ اغْفِرْ لِيْ يَتَأَوَّلُ الْقُرْآنَ.
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, সূরাহ নাস্র অবতীর্ণ হবার পর রসূল سُبْحَانَكَ اللهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللهُمَّ اغْفِرْ لِي (হে আল্লাহ্! তুমি পবিত্র, তুমিই আমার রব, সমস্ত প্রশংসা তোমারই জন্য নির্দিষ্ট। তুমি আমাকে করে দাও।) দু‘আটি রুকূ-সাজদাহ্র মধ্যে অধিক অধিক পাঠ করতেন। [৭৯৪] (আ.প্র. ৪৫৯৯, ই.ফা. ৪৬০৪)
৬৫/১১০/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ এবং আপনি লোকদেরকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন। (সূরাহ নাসর ১১০/২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৬৯
হাদিস নং ৪৯৬৯
عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِيْ شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَبِيْبِ بْنِ أَبِيْ ثَابِتٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ سَأَلَهُمْ عَنْ قَوْلِهِ تَعَالَى {إِذَا جَآءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ} قَالُوْا فَتْحُ الْمَدَائِنِ وَالْقُصُوْرِ قَالَ مَا تَقُوْلُ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ أَجَلٌ أَوْ مَثَلٌ ضُرِبَ لِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم نُعِيَتْ لَهُ نَفْسُهُ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) লোকদেরকে আল্লাহ্র বাণী إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ -এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা বললেন, এ আয়াতে শহর এবং প্রাসাদসমূহের বিজয় গাঁথা বর্ণিত হয়েছে। এ কথা শুনে ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে ইব্নু ‘আব্বাস! তুমি কী বল? তিনি বললেন, এ আয়াতে ওফাত অথবা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দৃষ্টান্ত এবং তাঁর শান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। [৩৬২৭] (আ.প্র. ৪৬০০, ই.ফা. ৪৬০৫)
৬৫/১১০/৪.অধ্যায়ঃ
তখন আপনি আপনার রবের প্রশংসার সহিত পবিত্রতা-মহিমা বর্ণনা করতে থাকুন এবং তাঁর সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকুন। বস্তুতঃ তিনি তো অতিশয় তাওবা ক্বুবূলকারী।’’ (সূরাহ নাসর ১১০/৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৭০
হাদিস নং ৪৯৭০
مُوْسَى بْنُ إِسْمَاعِيْلَ حَدَّثَنَا أَبُوْ عَوَانَةَ عَنْ أَبِيْ بِشْرٍ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ عُمَرُ يُدْخِلُنِيْ مَعَ أَشْيَاخِ بَدْرٍ فَكَأَنَّ بَعْضَهُمْ وَجَدَ فِيْ نَفْسِهِ فَقَالَ لِمَ تُدْخِلُ هَذَا مَعَنَا وَلَنَا أَبْنَاءٌ مِثْلُهُ فَقَالَ عُمَرُ إِنَّهُ مَنْ قَدْ عَلِمْتُمْ فَدَعَاهُ ذَاتَ يَوْمٍ فَأَدْخَلَهُ مَعَهُمْ فَمَا رُئِيْتُ أَنَّهُ دَعَانِيْ يَوْمَئِذٍ إِلَّا لِيُرِيَهُمْ قَالَ مَا تَقُوْلُوْنَ فِيْ قَوْلِ اللهِ تَعَالَى {إِذَا جَآءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ} فَقَالَ بَعْضُهُمْ أُمِرْنَا أَنْ نَحْمَدَ اللهَ وَنَسْتَغْفِرَهُ إِذَا نُصِرْنَا وَفُتِحَ عَلَيْنَا وَسَكَتَ بَعْضُهُمْ فَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا فَقَالَ لِيْ أَكَذَاكَ تَقُوْلُ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ فَقُلْتُ لَا قَالَ فَمَا تَقُوْلُ قُلْتُ هُوَ أَجَلُ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَعْلَمَهُ لَهُ قَالَ {إِذَا جَآءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ} وَذَلِكَ عَلَامَةُ أَجَلِكَ {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ط ل إِنَّه” كَانَ تَوَّابًا} فَقَالَ عُمَرُ مَا أَعْلَمُ مِنْهَا إِلَّا مَا تَقُوْلُ.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) বদর যুদ্ধে যোগদানকারী প্রবীণ সহাবীদের সঙ্গে আমাকেও শামিল করতেন। এ কারণে কারো কারো মনে প্রশ্ন দেখা দিল। একজন বললেন, আপনি তাকে আমাদের সঙ্গে কেন শামিল করছেন। আমাদের তো তার মত সন্তানই রয়েছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এর কারণ তো আপনারাও অবগত আছেন। সুতরাং একদিন তিনি তাঁকে ডাকলেন এবং তাঁদের সঙ্গে বসালেন। ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি বুঝতে পারলাম, আজকে তিনি আমাকে ডেকেছেন এজন্য যে, তিনি আমার প্রজ্ঞা তাঁদেরকে দেখাবেন। তিনি তাদেরকে বললেন ঃ-আল্লাহ্র বাণী ঃ إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে আপনারা কী বলেন, তখন তাঁদের কেউ বললেন, আমরা সাহায্য প্রাপ্ত হলে এবং আমরা বিজয় লাভ করলে এ আয়াতে আমাদেরকে আল্লাহ্র প্রশংসা এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য আদেশ করা হয়েছে। আবার কেউ কিছু না বলে চুপ করে থাকলেন। এরপর তিনি আমাকে বললেন, হে ইব্নু ‘আব্বাস! তুমিও কি তাই বল? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি কী চলতে চাও? উত্তরে আমি বললাম, এ আয়াতে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর ইন্তিকালের সংবাদ জানিয়েছেন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন, ‘আল্লাহ্র সাহায্য ও বিজয় আসলে’ এটিই হবে তোমার মৃত্যুর নিদর্শন। فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا “তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি তো তাওবাহ কবূলকারী।” এ কথা শুনে ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি যা বলছ, এ আয়াতের ব্যাখ্যা আমিও তা-ই জানি। [৩৬২৭] (আ.প্র. ৪৬০১, ই.ফা. ৪৬০৬)
৬৫/১১১/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৭১
হাদিস নং ৪৯৭১
يُوْسُفُ بْنُ مُوْسَى حَدَّثَنَا أَبُوْ أُسَامَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا عَمْرُوْ بْنُ مُرَّةَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ {وَأَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِيْنَ} وَرَهْطَكَ مِنْهُمْ الْمُخْلَصِيْنَ خَرَجَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى صَعِدَ الصَّفَا فَهَتَفَ يَا صَبَاحَاهْ فَقَالُوْا مَنْ هَذَا فَاجْتَمَعُوْا إِلَيْهِ فَقَالَ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّ خَيْلًا تَخْرُجُ مِنْ سَفْحِ هَذَا الْجَبَلِ أَكُنْتُمْ مُصَدِّقِيَّ قَالُوْا مَا جَرَّبْنَا عَلَيْكَ كَذِبًا قَالَ فَإِنِّيْ {نَذِيْرٌ لَّكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيْدٍ} قَالَ أَبُوْ لَهَبٍ تَبًّا لَكَ مَا جَمَعْتَنَا إِلَّا لِهَذَا ثُمَّ قَامَ فَنَزَلَت{تَبَّتْ يَدَآ أَبِيْ لَهَبٍ وَّتَبَّ} وَقَدْ تَبَّ هَكَذَا قَرَأَهَا الْأَعْمَشُ يَوْمَئِذٍ
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ “তুমি তোমার কাছে আত্মীয়-স্বজনকে সতর্ক করে দাও” আয়াতটি অবতীর্ণ হলে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হয়ে সাফা পর্বতে গিয়ে উঠলেন এবং يَا صَبَاحَاهْ (সকাল বেলার বিপদ সাবধান) বলে উচ্চৈঃস্বরে ডাক দিলেন। আওয়াজ শুনে তারা বলল, এ কে? তারপর সবাই তাঁর কাছে গিয়ে সমবেত হল। তিনি বললেন, আমি যদি তোমাদেরকে বলি, একটি অশ্বারোহী সেনাবাহিনী এ পর্বতের পেছনে তোমাদের উপর আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, তাহলে কি তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করবে? সকলেই বলল, আপনার মিথ্যা বলার ব্যাপারে আমাদের অভিজ্ঞতা নেই। তখন তিনি বললেন, نَذِيرٌ لَكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيدٍ “আমি তোমাদের আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সাবধান করছি।” (সূরাহ (৩৪) ঃ সাবা ৪৬) এ কথা শুনে আবূ লাহাব বলল, তোমার ধ্বংস হোক। তুমি কি এ জন্যই আমাদেরকে একত্র করেছ? অতঃপর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়ালেন। তারপর অবতীর্ণ হল ঃ تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ ‘ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দু’ হাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও।” আমাশ (রহ.) আয়াতটি تَبَّ শব্দের পূর্বে وَقَدْ সংযোগ করে وَقَدْ تَبَّ পড়েছেন। [১৩৯৪] (আ.প্র. ৪৬০২, ই.ফা. ৪৬০৭)
৬৫/১১১/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের হাত দু’টি এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার মাল-দৌলাত এবং সে যা উপার্জন করেছে তার কোন কাজে আসেনি। (সূরাহ লাহাব ১১১/১-২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৭২
হাদিস নং ৪৯৭২
مُحَمَّدُ بْنُ سَلَامٍ أَخْبَرَنَا أَبُوْ مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى الْبَطْحَاءِ فَصَعِدَ إِلَى الْجَبَلِ فَنَادَى يَا صَبَاحَاهْ فَاجْتَمَعَتْ إِلَيْهِ قُرَيْشٌ فَقَالَ أَرَأَيْتُمْ إِنْ حَدَّثْتُكُمْ أَنَّ الْعَدُوَّ مُصَبِّحُكُمْ أَوْ مُمَسِّيْكُمْ أَكُنْتُمْ تُصَدِّقُوْنِيْ قَالُوْا نَعَمْ قَالَ فَإِنِّيْ {نَذِيْرٌ لَكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيْدٍ} فَقَالَ أَبُوْ لَهَبٍ أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا تَبًّا لَكَ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ {تَبَّتْ يَدَآ أَبِيْ لَهَبٍ وَّتَبَّ} إِلَى آخِرِهَا.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাত্হা প্রান্তরের দিকে চলে গেলেন এবং পর্বতে উঠে يَا صَبَاحَاهْ বলে উচ্চৈঃস্বরে ডাকলেন। কুরাইশরা তাঁর কাছে জমায়েত হল। তিনি বললেন, আমি যদি তোমাদেরকে বলি, শত্র“ সৈন্যরা সকালে বা সন্ধ্যায় তোমাদের উপর আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, তাহলে কি তোমরা আমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেবে? তারা সকলেই বলল, হাঁ, আমরা বিশ্বাস করব। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সাবধান করছি। এ কথা শুনে আবূ লাহাব বলল, তুমি কি এজন্যই আমাদেরকে একত্রিত করেছ? তোমার ধ্বংস হোক। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সূরাহ লাহাব অবতীর্ণ করলেন, ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দুই হস্ত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার ধন-সম্পদ এবং উপার্জন তার কোন কাজে আসেনি। অচিরে সে দগ্ধ হবে লেলিহান অগ্নিতে এবং তার স্ত্রীও, যে ইন্ধন বহন করে, তার গলায় পাকান দড়ি। [১৩৯৪] (আ.প্র. ৪৬০৩, ই.ফা. ৪৬০৮)
৬৫/১১১/৩.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ শীঘ্রই সে দগ্ধ হবে লেলিহান আগুনে। (সূরাহ লাহাব ১১১/৩)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৭৩
হাদিস নং ৪৯৭৩
عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنِيْ عَمْرُوْ بْنُ مُرَّةَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أَبُوْ لَهَبٍ تَبًّا لَكَ أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا فَنَزَلَتْ {تَبَّتْ يَدَآ أَبِيْ لَهَبٍ وَّتَبَّ} إِلَى آخِرِهَا.عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنِيْ عَمْرُوْ بْنُ مُرَّةَ عَنْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أَبُوْ لَهَبٍ تَبًّا لَكَ أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا فَنَزَلَتْ {تَبَّتْ يَدَآ أَبِيْ لَهَبٍ وَّتَبَّ} إِلَى آخِرِهَا.
বর্ণনাকারী ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, আবূ লাহাব নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললো, তোমার ধ্বংস হোক, তুমি কি এ জন্যই আমাদেরকে একত্রিত করেছ? তখন تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ সূরাটি অবতীর্ণ হলো। [১৩৯৪] (আ.প্র. ৪৬০৪, ই.ফা. ৪৬০৯)
৬৫/১১১/৪.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ এবং তার স্ত্রীও যে কাঠের বোঝা বহন করে। (সূরাহ লাহাব ১১/৪)
৬৫/১১২/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৭৪
হাদিস নং ৪৯৭৪
أَبُو الْيَمَانِ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ اللهُ كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ وَشَتَمَنِيْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ فَأَمَّا تَكْذِيْبُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ لَنْ يُعِيْدَنِيْ كَمَا بَدَأَنِيْ وَلَيْسَ أَوَّلُ الْخَلْقِ بِأَهْوَنَ عَلَيَّ مِنْ إِعَادَتِهِ وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ{اتَّخَذَ اللهُ وَلَدًا} وَأَنَا الْأَحَدُ الصَّمَدُ لَمْ أَلِدْ وَلَمْ أُوْلَدْ وَلَمْ يَكُنْ لِيْ كُفْئًا أَحَدٌ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেন, “বানী আদম আমার প্রতি মিথ্যারোপ করেছে; অথচ এরূপ করা তার জন্য সঠিক হয়নি। বানী আদম আমাকে গালি দিয়েছে; অথচ এমন করা তার জন্য উচিত হয়নি। আমার প্রতি মিথ্যারোপ করার অর্থ হচ্ছে এই যে, সে বলে, আল্লাহ্ আমাকে যে রকম প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তেমনি তিনি আমাকে দ্বিতীয়বার জীবিত করবেন না। অথচ তাকে আবার জীবিত করা অপেক্ষা প্রথমবার সৃষ্টি করা আমার জন্য সহজ ছিল না। আমাকে তার গালি দেয়ার অর্থ হল, সে বলে, আল্লাহ্ তা‘আলা সন্তান গ্রহণ করেছেন; অথচ আমি একক, কারো মুখাপেক্ষী নই। আমি কাউকে জন্ম দেইনি, আমাকেও জন্ম দেয়া হয়নি এবং কেউ আমার সমকক্ষ নয়।” [৩১৯৩] (আ.প্র. ৪৬০৫, ই.ফা. ৪৬১০)
৬৫/১১২/২.অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ্ কারো মুখাপেক্ষী নন। (সূরাহ ইখলাস ১১২/২)
৬৫/১১২/৩.অধ্যায়ঃ
তিনি কাউকেও জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নাই। (সূরাহ ইখলাস ১১২/৩-৪)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৭৫
হাদিস নং ৪৯৭৫
إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُوْرٍ قَالَ وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ اللهُ كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ وَشَتَمَنِيْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ أَمَّا تَكْذِيْبُهُ إِيَّايَ أَنْ يَقُوْلَ إِنِّيْ لَنْ أُعِيْدَهُ كَمَا بَدَأْتُهُ وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّايَ أَنْ يَقُوْلَ اتَّخَذَ اللهُ وَلَدًا وَأَنَا الصَّمَدُ الَّذِيْ لَمْ أَلِدْ وَلَمْ أُوْلَدْ وَلَمْ يَكُنْ لِيْ كُفُؤًا أَحَدٌ{لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ لا (3) وَلَمْ يَكُنْ لَّه” كُفُوًا} وَكَفِيئًا وَكِفَاءً وَاحِدٌ.
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্ রাব্বুল ‘আলামীন বলেছেন, আদাম সন্তান আমার প্রতি মিথ্যারোপ করেছে; অথচ এরূপ করা তার জন্য সঠিক হয়নি। সে আমাকে গালি দিয়েছে; অথচ এমন করা তার পক্ষে উচিত হয়নি। আমার প্রতি তার মিথ্যারোপ করার অর্থ হচ্ছে, সে বলে, আমি আবার জীবিত করতে সক্ষম নই যেমনিভাবে আমি তাকে প্রথমে সৃষ্টি করেছি। আমাকে তার গালি দেয়া হচ্ছে এই যে, সে বলে, আল্লাহ্ তা‘আলা সন্তান গ্রহণ করেছেন; অথচ আমি কারো মুখাপেক্ষী নই। আমি এমন এক সত্তা যে, আমি কাউকে জন্ম দেইনি, আমাকেও কেউ জন্ম দেয়নি এবং আমার সমতুল্য কেউ নেই। ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, كَفِيئًاএবং كِفَاءًএকই অর্থবোধক শব্দ। [৩১৯৩] (আ.প্র. ৪৬০৬, ই.ফা. ৪৬১১)
৬৫/১১৩/১.অধ্যায়ঃ
পরিচ্ছেদ নাই।
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৭৬
হাদিস নং ৪৯৭৬
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَاصِمٍ وَعَبْدَةَ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ قَالَ سَأَلْتُ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ عَنِ الْمُعَوِّذَتَيْنِ فَقَالَ سَأَلْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ قِيْلَ لِيْ فَقُلْتُ فَنَحْنُ نَقُوْلُ كَمَا قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم.
বর্ণনাকারী যির ইব্নু হুবাইশ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি উবাই ইব্নু কা‘বকে الْمُعَوِّذَتَيْنِ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, এ বিষয়ে আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেন, আমাকে বলা হয়েছে, তাই আমি বলছি। উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে রকম বলেছেন, আমরাও ঠিক সে রকম বলছি। [৪৯৭৭] (আ.প্র. ৪৬০৭, ই.ফা. ৪৬১২)
সহিহ বুখারীসহিহ বুখারী : ৪৯৭৭
হাদিস নং ৪৯৭৭
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ أَبِيْ لُبَابَةَ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ ح وَحَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ زِرٍّ قَالَ سَأَلْتُ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ قُلْتُ يَا أَبَا الْمُنْذِرِ إِنَّ أَخَاكَ ابْنَ مَسْعُوْدٍ يَقُوْلُ كَذَا وَكَذَا فَقَالَ أُبَيٌّ سَأَلْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِيْ قِيْلَ لِيْ فَقُلْتُ قَالَ فَنَحْنُ نَقُوْلُ كَمَا قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم.
বর্ণনাকারী যির ইব্নু হুবাইশ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবুল মুনযির! আপনার ভাই ইব্নু মাস‘উদ (রাঃ) তো এ রকম কথা বলে থাকেন। তখন উবাই (রাঃ) বললেন, আমি এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বললেন, আমাকে বলা হয়েছে তাই আমি বলেছি। উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ) বলেন, কাজেই রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বলেছেন আমরাও তাই বলি। [৪৯৭৬] (আ.প্র. ৪৬০৮, ই.ফা. ৪৬১৩)