শপথের কাফফারা
৮৪/১. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণী: এরপর কাফফারা দশজন দরিদ্রকে খাওয়ানো-(সূরা আল-মায়িদা ৫/৮৯)।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৭০৮
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ أَتَيْتُهُ يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " ادْنُ ". فَدَنَوْتُ فَقَالَ " أَيُؤْذِيكَ هَوَامُّكَ ". قُلْتُ نَعَمْ. قَالَ " فِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ ". وَأَخْبَرَنِي ابْنُ عَوْنٍ عَنْ أَيُّوبَ قَالَ صِيَامُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ، وَالنُّسُكُ شَاةٌ، وَالْمَسَاكِينُ سِتَّةٌ.
বর্ণনাকারী কা’ব ইব্নু উজরা (রাঃ)
আমি একবার নবী (ﷺ)-এর নিকট হাজির হলাম। তখন তিনি বললেনঃ কাছে এসো। তখন আমি তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমাকে কি তোমার উকুন কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ সাওম অথবা সদকা অথবা কুরবানি করে ফিদয়া আদায় কর।ইবন আউন আইউব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, সাওম তিন দিন, কুরবানি একটি বকরী আর মিসকিনের সংখ্যা হচ্ছে ছয়জন। [৮৩]
(আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫১)[৮৩] শপথ ভঙ্গের কাফ্ফারা হল দশজন মিস্কিনকে খানা খাওয়ানো অথবা তিন দিন সিয়াম পালন অথবা একটি ছাগল কুরবানী (সাদাক্বাহ) করা। (ফাতহুল বারী)
৮৪/২. অধ্যায়ঃ
আর ধনী ও গরিব কখন কার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৭০৯
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ سَمِعْتُهُ مِنْ فِيهِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ هَلَكْتُ قَالَ وَمَا شَأْنُكَ قَالَ وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ قَالَ تَسْتَطِيعُ تُعْتِقُ رَقَبَةً قَالَ لاَ قَالَ فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ لاَ قَالَ فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُطْعِمَ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ لاَ قَالَ اجْلِسْ فَجَلَسَ فَأُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِعَرَقٍ فِيهِ تَمْرٌ وَالْعَرَقُ الْمِكْتَلُ الضَّخْمُ قَالَ خُذْ هَذَا فَتَصَدَّقْ بِهِ قَالَ أَعَلَى أَفْقَرَ مِنَّا فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ قَالَ أَطْعِمْهُ عِيَالَكَ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর কাছে এক লোক এসে বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেন: তোমার কী হয়েছে? লোকটি বলল, রমজানে (দিনের বেলা) আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করেছি। তিনি বললেন: তুমি কি একটি গোলাম আজাদ করতে পার? লোকটি বলল, না। তিনি বললেন: তাহলে তুমি কি একনাগাড়ে দু’ মাস সিয়াম পালন করতে পার? সে বলল, না। তিনি বললেন: তাহলে কি তুমি ষাটজন মিসকিনকে খানা খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেন: বস। লোকটি বসল।তারপর নবী (ﷺ)-এর কাছে এক ‘আরক’ আনা হলো যাতে ছিল খেজুর। আর ‘আরক’ হল মাপ করার জন্য বড় ধরণের পাত্র। তিনি বললেন: এটা নিয়ে যাও এবং তা সদকা করে দাও। লোকটি বলল, আমার চেয়েও অভাবীকে (তা দান করব)? তখন নবী (ﷺ) হেসে ফেললেন; এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা গেল। তিনি বললেন: এটা তোমার পরিজনকেই খাওয়াও।
(আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫২)[৮৪] ইসলামের পথ যে কত প্রশস্ত, কত উদার ও সংকীর্ণতামুক্ত-অত্র হাদিসটি তার স্পষ্ট প্রমাণ।
৮৪/৩. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি কাফফারা আদায়ে দরিদ্রকে সাহায্য করে।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৭১০
مُحَمَّدُ بْنُ مَحْبُوبٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ هَلَكْتُ فَقَالَ وَمَا ذَاكَ قَالَ وَقَعْتُ بِأَهْلِي فِي رَمَضَانَ قَالَ تَجِدُ رَقَبَةً قَالَ لاَ قَالَ هَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ لاَ قَالَ فَتَسْتَطِيعُ أَنْ تُطْعِمَ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ لاَ قَالَ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ الأَنْصَارِ بِعَرَقٍ وَالْعَرَقُ الْمِكْتَلُ فِيهِ تَمْرٌ فَقَالَ اذْهَبْ بِهَذَا فَتَصَدَّقْ بِهِ قَالَ أَعَلَى أَحْوَجَ مِنَّا يَا رَسُولَ اللهِ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا أَهْلُ بَيْتٍ أَحْوَجُ مِنَّا ثُمَّ قَالَ اذْهَبْ فَأَطْعِمْهُ أَهْلَكَ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
এক লোক রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ সেটা কী? লোকটি বলল, রমজানে (দিনের বেলা) আমি স্ত্রী সহবাস করেছি। তিনি বললেনঃ তুমি কি একটি গোলাম আজাদ করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে কি তুমি দুই মাস লাগাতার সাওম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তাহলে কি তুমি ষাটজন মিসকিনকে খাদ্য খাওয়াতে পারবে? লোকটি বলল, না।রাবী বলেন, এমন সময় এক আনসার লোক একটি ‘আরক’ নিয়ে আসল। আর আরক হচ্ছে পরিমাপ পাত্র; তার মাঝে খেজুর ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটা নিয়ে গিয়ে সদকা করে দাও। সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার চেয়ে অভাবী লোককে কি তা দান করব? যিনি আপনাকে হকের সাথে পাঠিয়েছেন সেই সত্তার কসম! মদিনার দুই উপত্যকার মাঝে আমার চেয়ে বেশি অভাবী আর কেউ নেই। এরপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যাও, এগুলো নিয়ে তোমার পরিবারকে খাওয়াও।
আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫৩
৮৪/৪. অধ্যায়ঃ
দশজন মিসকীনকে কাফফারা প্রদান করা; তারা নিকটাত্মীয়ই হোক বা দূরেরই হোক।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৭১১
عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ هَلَكْتُ قَالَ وَمَا شَأْنُكَ قَالَ وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ قَالَ هَلْ تَجِدُ مَا تُعْتِقُ رَقَبَةً قَالَ لاَ قَالَ فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ لاَ قَالَ فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُطْعِمَ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ لاَ أَجِدُ فَأُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِعَرَقٍ فِيهِ تَمْرٌ فَقَالَ خُذْ هَذَا فَتَصَدَّقْ بِهِ فَقَالَ أَعَلَى أَفْقَرَ مِنَّا مَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا أَفْقَرُ مِنَّا ثُمَّ قَالَ خُذْهُ فَأَطْعِمْهُ أَهْلَكَ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। নবী (ﷺ) বললেন: তোমার কী হয়েছে? লোকটি বলল, রমজানে (দিনের বেলায়) আমি স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি বললেন: একটি গোলাম আজাদ করার মতো তুমি কিছু পাবে কি? সে বলল, না। তিনি বললেন: তাহলে তুমি একনাগাড়ে দু মাস সাওম পালন করতে পারবে কি? সে বলল, না। তিনি বললেন: তাহলে তুমি ষাটজন মিসকিনকে খাওয়াতে পারবে কি? সে বলল, আমার কাছে কিছুই নেই।এমন সময় নবী (ﷺ)-এর কাছে একটি 'আরক' আনা হল, যাতে খেজুর ছিল। তখন তিনি বললেন: এটা নাও এবং গিয়ে তা সদকা করে দাও। সে বলল, আমার চেয়ে বেশি অভাবীকে কি দেব? এখানকার দুই উপত্যকার মাঝে আমাদের চেয়ে অভাবী তো কেউ নেই। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: এটা নিয়ে যাও এবং তোমার পরিবারকে খাওয়াও।
আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫৪
৮৪/৫. অধ্যায়ঃ
মদীনার সা’ ও নবী (ﷺ)-এর মুদ্দ এবং এর বরকত। আর মদীনাবাসী এ থেকে যুগ যুগ ধরে ওয়ারিশসূত্রে যা লাভ করেছেন
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৭১২
عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مَالِكٍ الْمُزَنِيُّ حَدَّثَنَا الْجُعَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ كَانَ الصَّاعُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُدًّا وَثُلُثًا بِمُدِّكُمْ الْيَوْمَ فَزِيدَ فِيهِ فِي زَمَنِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ
বর্ণনাকারী সায়িব ইব্নু ইয়াযীদ (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর যুগে সা’ ছিল তোমাদের এখনকার মুদ্দের এক মুদ্দ ও এক মুদ্দের তৃতীয়াংশ পরিমাণ। অতঃপর উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-এর যুগে তার পরিমাণ বর্ধিত করা হয়েছে।
আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫৫
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৭১৩
مُنْذِرُ بْنُ الْوَلِيدِ الْجَارُودِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو قُتَيْبَةَ وَهْوَ سَلْمٌ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يُعْطِي زَكَاةَ رَمَضَانَ بِمُدِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْمُدِّ الأَوَّلِ وَفِي كَفَّارَةِ الْيَمِينِ بِمُدِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو قُتَيْبَةَ قَالَ لَنَا مَالِكٌ مُدُّنَا أَعْظَمُ مِنْ مُدِّكُمْ وَلاَ نَرَى الْفَضْلَ إِلاَّ فِي مُدِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ لِي مَالِكٌ لَوْ جَاءَكُمْ أَمِيرٌ فَضَرَبَ مُدًّا أَصْغَرَ مِنْ مُدِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِأَيِّ شَيْءٍ كُنْتُمْ تُعْطُونَ قُلْتُ كُنَّا نُعْطِي بِمُدِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَفَلاَ تَرَى أَنَّ الأَمْرَ إِنَّمَا يَعُودُ إِلَى مُدِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
বর্ণনাকারী নাফি’ (রহঃ)
ইবনু উমর (রাঃ) রমজানের ফিতরা আদায় করতেন নবী (ﷺ)-এর মুদ্দ তথা প্রথম মুদ্দ-এর দ্বারা। আর কসমের কাফ্ফারায়ও তিনি নবী (ﷺ)-এর মুদ্দ ব্যবহার করতেন।আবূ কুতাইবা বলেন, মালিক (রহঃ) আমাদেরকে বলেছেন যে, আমাদের মুদ্দ তোমাদের মুদ্দের চেয়ে বড়। আর আমরা নবী (ﷺ)-এর মুদ্দেই ফজিলত দেখতে পাই। রাবী বলেন, আমাকে মালিক (রহঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কাছে কোন শাসক এসে যদি নবী (ﷺ)-এর মুদ্দ থেকে তোমাদের মুদ্দকে ছোট করে দেন, তাহলে তোমরা কিসের মাধ্যমে (ওজন করে) মানুষদেরকে দিতে? আমি বললাম, নবী (ﷺ)-এর মুদ্দ দিয়েই দিতাম। তিনি বললেন, তোমরা কি দেখছ না যে, সাম্প্রতিককালে লেনদেনের বিষয়টি নবী (ﷺ)-এর মুদ্দের দিকে ফিরে যাচ্ছে।
আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫৬
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৭১৪
عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ اللهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِي مِكْيَالِهِمْ وَصَاعِهِمْ وَمُدِّهِمْ
বর্ণনাকারী আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) দোয়া করেছেন: হে আল্লাহ! তুমি তাদের পরিমাপে সা-এ এবং মুদ্দে বরকত দান কর।
আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫৭
৮৪/৬. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণী: অথবা গোলাম আযাদ করা-(সূরা আল-মায়িদা ৫/৮৯)। এবং কোন প্রকারে গোলাম আযাদ করা উত্তম।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৭১৫
مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي غَسَّانَ مُحَمَّدِ بْنِ مُطَرِّفٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَرْجَانَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً مُسْلِمَةً أَعْتَقَ اللهُ بِكُلِّ عُضْوٍ مِنْهُ عُضْوًا مِنْ النَّارِ حَتَّى فَرْجَهُ بِفَرْجِهِ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
যে লোক একটি মুসলিম গোলাম আজাদ করবে আল্লাহ সে গোলামের প্রত্যেকটি অঙ্গের বিনিময়ে জাহান্নামের আগুন হতে তার প্রত্যেকটি অঙ্গকে মুক্ত করবেন। এমনকি গোলামের গুপ্তাঙ্গের বিনিময়ে তার গুপ্তাঙ্গকেও। [৮৫]
[৮৫](আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫৮)
৮৪/৭. অধ্যায়ঃ
কাফফারা আদায়ের ক্ষেত্রে মুদাব্বার, উম্মু ওয়ালাদ, মুকাতাব এবং যিনার সন্তান আযাদ করা। এবং তাউস বলেছেন, (কাফফারায়) উম্মু ওয়ালাদ এবং মুদাব্বার আযাদ করা যাবে।
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৭১৬
أَبُو النُّعْمَانِ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرٍو عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَجُلاً مِنْ الأَنْصَارِ دَبَّرَ مَمْلُوكًا لَهُ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُ فَبَلَغَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَنْ يَشْتَرِيهِ مِنِّي فَاشْتَرَاهُ نُعَيْمُ بْنُ النَّحَّامِ بِثَمَانِ مِائَةِ دِرْهَمٍ فَسَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ يَقُولُ عَبْدًا قِبْطِيًّا مَاتَ عَامَ أَوَّلَ
বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)
আনসার গোত্রের এক লোক তার গোলামকে মুদাব্বির বানালো (মনিবের মৃত্যু হলে গোলাম মুক্ত হয়ে যাবে)। ঐ গোলাম ছাড়া তার আর কোন মাল ছিল না। খবরটি নবী (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছল। তিনি বললেনঃ গোলামটিকে আমার নিকট হতে কে কিনে নেবে? নুয়াইম ইবন নাহহাম (রাঃ) তাকে আটশো দিরহামের বিনিময়ে কিনে নিল। রাবি আমর (রাঃ) বলেন, আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, গোলামটি ছিল কিবতি আর (আজাদ করার) প্রথম বর্ষেই সে মারা গিয়েছিল।
আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৫৯
৮৪/৮. অধ্যায়ঃ
যখন কেউ এমন গোলাম আযাদ করে যার উপর তার ও অন্যের মালিকানা আছে অথবা কাফফারার ক্ষেত্রে গোলাম আযাদ করলে উক্ত গোলামের পরিত্যক্ত সম্পদ কে পাবে?
সহিহ বুখারী
হাদিস নং ৬৭১৭
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ بَرِيرَةَ فَاشْتَرَطُوا عَلَيْهَا الْوَلاَءَ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اشْتَرِيهَا فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ
বর্ণনাকারী ‘আয়িশা (রাঃ)
তিনি বারীরা নামক বাঁদীকে কিনতে চাইলে তার মালিকগণ শর্ত আরোপ করল যে, এর পরিত্যক্ত সম্পদের মালিক তারাই হবে। আয়েশা (রাঃ) বিষয়টি নবী (ﷺ)-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ তুমি তাকে কিনে নাও। কেননা আযাদকৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদের মালিকানা ঐ ব্যক্তির জন্য যে তাকে আযাদ করে।
আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৬০