পরিচ্ছেদঃ

সলাত পরিচিতি

সলাত শব্দটি স্থানভেদে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়। যেমন : (১) আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত হলে এর অর্থ হবে : অনুগ্রহ, দয়া (২) বান্দার সাথে সম্পর্কিত হলে এ অর্থ হবে : প্রার্থনা, দু’আ (৩) ফিরিশতার সাথে সম্পর্কিত হলে এর অর্থ হবে : ক্ষমা প্রার্থনা (৪) নাবীর সাথে সম্পর্কিত হলে এর অর্থ হবে : দরূদ পড়া (৫) পশু পাখির সাথে সম্পর্কিত হলে এর অর্থ হবে : তাসবীহ পাঠ করা (৬) সলাত আদায় করা- যা একটি বিশেষ ‘ইবাদাত’ আলোচ্য অনুচ্ছেদে এটাই উদ্দেশ্যে। পরিভাষায় সলাত হলো : কতিপয় নির্দ্দিষ্ট আরকান ও আহকামের সমষ্টি একটি নির্দ্দিষ্ট ‘ইবাদাত। ইসলামী শরীয়তে এর নিদ্দিষ্ট সময়সীমা বর্ণিত হয়েছে। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের উপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় ফরয। সলাত ইসলামের শ্রেষ্ঠতম ‘ইবাদাত এবং ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : “তোমরা সলাত আদায় করো ঠিক ঐভাবে যেভাববে আমাকে আদায় করতে দেখো।” (সহীহুল বুখারী)

পরিচ্ছেদঃ

ফাযায়িলে ত্বাহারাত - উযূ করার ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৭৩

বর্ণনাকারী আবু মালিক আল-আশ’আরী (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৫৫৬, আহমান শাকির বলেন (হা/২২৮০০, ২২৮০৬) : সানাদ সহীহ।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৭৪

বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)

নাবী (সাঃ) বলেছেন : পবিত্রতা ছাড়া সলাত কবুল হয় না।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৫৫৭

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৭৫

বর্ণনাকারী ‘আলী (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : পবিত্রতা (উযূ) হলো সলাতের চাবি।

হাসান সহীহ : তিরমিযী হা/৩, শায়খ আলবানী বলেন : হাসান সহীহ।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৭৬

বর্ণনাকারী ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি এভাবে (উত্তমরূপে) উযূ করে, তার পূর্বেকার সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হয়। ফলে তার সলাত ও মাসজিদে যাওয়া অতিরিক্ত ‘আমল বলে গণ্য হয়।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৫৬৬

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৭৭

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃ)- কে বলতে শুনেছি : ক্বিয়ামাতের দিন আমার উম্মাতকে এমন অবস্থায় আহবান করা হবে যে, পূর্ণাঙ্গরূপে উযূ করার কারণে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে। কাজেই তোমরা যারা সক্ষম তারা অধিক উজ্জ্বলতাসহ উঠতে চেষ্টা করো।

হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/১৩৩

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৭৮

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : আমার উম্মাত (ক্বিয়ামাতের দিন) আমার নিকট উপস্থিত হবে। আর আমি লোকদেরকে তা (হাওয) থেকে এমনভাবে বিতাড়িত করবো, যেভাবে কোন ব্যক্তি তার উটের পাল থেকে অন্যের উটকে বিতাড়িত করে থাকে। লোকেরা বললো, যে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাদেরকে চিনতে পারবেন? জবাবে তিনি (সাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তোমাদের এক নিদর্শন হবে যা অন্য কারো হবে না। উযুর প্রভাবে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত-পায়ের উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে পড়বে। উজ্জ্বল জ্যোতি বিচ্ছুরিত অবস্থায় তোমরা আমার নিকট উপস্থিত হবে। আর তোমাদের একদল লোককে জোড় করে আমার থেকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। ফলে তারা আমার কাছে পৌঁছতে পারবে না। তখন আমি বলবো, হে আমার রব! এরা তো আমার লোক। জবাবে ফিরিশতারা আমাকে বলবে, আপনি জানেন না আপনার অবর্তমানে তারা কি কি নতুন কাজ (বিদ’আত) করেছে।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৬০৫

পরিচ্ছেদঃ

উযূর পানির সাথে গুনাহ্সমূহ ঝরে যায়

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৭৯

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : কোন মুসলিম বান্দা উযূর সময় যখন মুখমণ্ডল ধুয়ে ফেলে তখন তার চোখ দিয়ে অর্জিত গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায়। যখন সে দুই হাত ধৌত করে তখন তার দুই হাতের স্পর্শের মাধ্যমে সব গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায়। অতঃপর যখন সে তার পা দু’খানা ধৌত করে তখন তার দুই পা দিয়ে হাঁটার মাধ্যমে অর্জিত সব গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে ঝরে যায়, এভাবে সে যাবতীয় গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যায়।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৬০০

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৮০

বর্ণনাকারী ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : উযূ করার সময় কেউ যদি উত্তমরূপে উযূ করে তাহলে তার শরীরের সমস্ত গুনাহ ঝরে যায়। এমনকি তার নখের নীচের গুনাহও বের হয়ে যায়।৪৮

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৬০১

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৮১

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : আমি কি তোমাদেরকে এমন কাজের কথা জানাবো না, যা করলে আল্লাহ্ (বান্দার) গুনাহ্ ক্ষমা করেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। লোকেরা বললো, হে আল্লাহর রাসূল আপনি বলুন। তিনি (সাঃ) বললেন : কষ্টকর অবস্থায় থেকেও পূর্ণাঙ্গরূপে উযূ করা, সলাতের জন্য বারবার মাসজিদে যাওয়া এবং এক সলাতের পর আরেক সলাতের জন্য অপেক্ষায় থাকা। আর এ কাজগুলোই হলো প্রস্তুতি (রিবাত)।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৬১০

পরিচ্ছেদঃ

উযূ করে সলাত আদায়ের ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৮২

বর্ণনাকারী ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ)

তিনি বলেন একদা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) পূর্ণাঙ্গরূপে উযূ করার পর বললেন। যে ব্যক্তি আমার ও উযূর ন্যায় উযূ করার পর একাগ্রচিত্তে দু’ রাক’আত সলাত আদায় করবে এবং এ সময় অন্য কোন ধারণা তার অন্তরে উদয় হবে না। তাহলে তার পূর্বেকার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/১৫৫

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৮৩

বর্ণনাকারী ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)- কে বলতে শুনেছি : কোন মুসলিম উত্তমরূপে উযূ করে সলাত আদায় করলে পরবর্তী ওয়াক্তের সলাত পর্যন্ত তার সমস্ত গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হয়।৫১

৫১ হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৫৬২শির্‌ক

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৮৪

বর্ণনাকারী ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : যখন কোন মুসলিমের ফরয সলাতের সময় উপস্থিত হয়, তখন যদি কোন মুসলিম উত্তমরূপে উযূ করে এবং একান্ত বিনীতভাবে সলাতের রুকূ’ সাজদাহ্ ইত্যাদি আদায় করে তাহলে সে পুনরায় কবীরা গুনাহে লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তার পূর্বেকার সমস্ত গুনাহ্-ক্ষমা হয়ে যায়। আর এরূপ সারা বছরই হতে থাকে।

৫২ হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৫৬৫, হাদীসের শব্দাবলী তার।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৮৫

বর্ণনাকারী ‘উসমান ইবনু ‘আফ্ফান (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : মহান আল্লাহ্ যেভাবে আদেশ করেছেন যদি কোন ব্যক্তি সেইভাবে উযূ করে এবং ফরয সলাতসমূহ আদায় করে তাহলে তার ফরয সলাতসমূহের মধ্যবর্তী সকল গুনাহ্ ক্ষমা হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৫৬৯- হাদীসের শব্দাবলী তার, আহমাদ হা/৪০৬- শু’আইব আরনাউত্ব বলেন : এর সানাদ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৮৬

বর্ণনাকারী ‘উসমান ইবনু ‘আফ্ফান (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি উযূ করে সলাতের জন্য মাসজিদের দিকে যায় এবং তার মাসজিদে যাওয়া যদি সলাত ছাড়া অন্য কোন কারণে না হয় তবে তার অতীত জীবনের সব গুনাহ্ মাফ করে দেয়া হবে।

৫৪ হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৫৭০

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৮৭

বর্ণনাকারী ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : কোন মুসলিম যখন উত্তমরূপে উযূ করে একাগ্রচিত্তে আল্লাহর দিকে রুজু হয়ে দাঁড়িয়ে দুই রাক’আত সলাত আদায় করে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়।

৫৫ হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৫৭৬

পরিচ্ছেদঃ

উযূর শেষে যে দু’আ পড়া ফাযীলাতপূর্ণ

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৮৮

বর্ণনাকারী ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : তোমাদের মধ্যকার কেউ যদি উত্তমরূপে উযূ করার পর বলে : “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।” তাহলে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয় সে ইচ্ছে করলে এর যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।৫৬

৫৬ হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৫৭৬

পরিচ্ছেদঃ

উযূ করে মাসজিদে যাওয়ার ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৮৯

বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : “যে ব্যক্তি উযূ করার পর বলবে : “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়াবিহামাদিক আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লা আনতা আসতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইক্”- তার জন্য এটি একটি সাদা পাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়। অতঃপর তা সীল করে দেয়া হয় যা কিয়ামাতের দিন পর্যন্ত নষ্ট করা হয় না।”

ত্বাবারানী আওসাত ২/১২৩, নাসায়ীর সুনানুল কুবরা ৬/২৫, হাকিম, সহীহ আত্-তারগীব হা/১৪৭। আলবানী হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহি বলেছেন

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৯০

বর্ণনাকারী সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

তিনি বলেন, জনৈক আনসারী সাহাবীর মৃত্যু আসন্ন হলে তিনি বলেন, আমি তোমাদের নিকট কেবল সাওয়াব লাভের আশায় একটি হাদীস বর্ণনা করবো। আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)- কে বলতে শুনেছি। তোমাদের কেউ যখন উত্তমরূপে উযূ করে সলাতের উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন সে তার ডান পা উঠাতেই মহান আল্লাহ্ তার জন্য একটি সাওয়াব লিখে দেন। এরপর বাম পা ফেলার সাথে সাথেই মহা সম্মানিত আল্লাহ্ তার একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেন। এখন তোমাদের ইচ্ছা হলে মাসজিদের নিকটে থাকবে অথবা দূরে।অতঃফর সে যখন মাসজিদে গিয়ে জামা’আতে সলাত আদায় করে তখন তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। যদি জামা’আত শুরু হয়ে যাওয়ার পর মাসজিদে উপস্থিত হয় এবং অবশিষ্ট সলাতে শামিল হয়ে সলাতের ছুটে যাওয়া অংশ পূর্ণ করে, তাহলেও তাকে অনুরূপ (জামা’আতে পূর্ণ সলাত আদায়কারীর সমান সাওয়াব) দেয়া হয়। আর যদি সে (মাসজিদে এসে) জামা’আত সমাপ্ত দেখে একাকী সলাত আদায় করে নেয়, তবুও তাকে ঐরূপ (ক্ষমা করে) দেয়া হয়।

হাদীস সহীহ : আবূ দাঊদ হা/৫৬৩- তাহক্বীক্ব আলবানী : হাদীস সহীহ।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৯১

বর্ণনাকারী আবূ সুমামাহ্ আল-হান্নাত

একদা মাসজিদে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে কা’ব ইবনু ‘উজরাহর (রাঃ) সাথে তার সাক্ষাত হয়। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমাকে আমার দু’ হাতের আঙ্গুলসমূহ পরস্পরের মধ্যে ঢুকিয়ে মটকাতে দেখতে পেয়ে আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। তিনি আরো বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : তোমাদের কেউ উত্তমরূপে উযূ করে মাসজিদের উদ্দেশ্যে বের হলে সে যেন তার দু’ হাতের আঙ্গুল না মটকায়। কেননা সে তখন সলাতের মধ্যেই থাকে (অর্থাৎ উযূ করা অবস্থায় তাকে সলাত আদায়কারী হিসেবেই গণ্য করা হয়)।৫৮

৫৮ হাদীস সহীহ : আবূ দাঊদ হা/৫৬২- হাদীসের শব্দাবলী তার, তিরমিযী হা/৩৮৬- তাহক্বীক্ব আলবানী : হাদীস সহীহ।

পরিচ্ছেদঃ

উযূসহ রাতে ঘুমানোর ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৯২

বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন : কেউ উযূ করে রাত্রি যাপন করলে তার কাছাকাছি একজন ফিরিশতা রাত্রি যাপন করেন। সে জাগ্রত হওয়ার আগ পর্যন্ত (বা জাগ্রত হলে) ঐ ফিরিশতা তার জন্য এই বলে দু’আ করেন : হে আল্লাহ! আপনার এই বান্দাকে ক্ষমা করে দিন, কেননা সে পবিত্রতা অর্জন করে রাত্রি যাপন করেছে।৫৯

৫৯ হাসান সহীহ : ইবনু হিব্বান হা/১০৫৭- শায়খ আলবানী বলেন : হাদীসটি হাসান সহীহ।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৯৩

বর্ণনাকারী মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ)

নাবী (সাঃ) বলেছেন : কোন মুসলিম যদি পবিত্র অবস্থায় রাত্রি যাপন করে, অতঃপর রাতে উঠে আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ্ তাই দান করেন।৬০

৬০ হাসীদ সহীহ : আবূ দাঊদ হা/৫০৪২- আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৯৪

বর্ণনাকারী বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ)

তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেন : যখন তুমি বিছানায় যাবে তখন সলাতের উযূর মতো উযূ করে নেবে। তারপর ডান পাশে শুয়ে বলবে : “হে আল্লাহ্! আমার জীবন আপনার কাছে সমর্পণ করলাম। আমার সকল কাজ আপনার কাছে সমর্পণ করলাম এবং আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করলাম আপনার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে। আপনি ছাড়া প্রকৃত কোন আশ্রয়স্থান ও পরিত্রাণের স্থান নেই। হে আল্লাহ্! আমি ঈমান আনলাম আপনার অবতীর্ণ কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নাবীর উপর।”-অতঃপর যদি সেই রাতেই তোমার মৃত্যু হয় তবে ইসলামের উপর মৃত্যু হবে। কাজেই এ কথাগুলো তোমার সর্বশেষ পরিণত করো।

হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/২৩৯

পরিচ্ছেদঃ

মিশওয়াক করার ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৯৫

বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)

তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেন : মিসওয়াক হচ্ছে মুখের পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম এবং প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের উপায়।৬২

হাদীস সহীহ : আহমাদ হা/২৪২০৩, ইমাম ইবনু হিব্বান, শু’আইব আরনাউত্ব ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৯৬

বর্ণনাকারী ‘আলী (রাঃ)

তিনি মিসওয়াক করার আদেশ দিয়ে বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেন : বান্দা যখন মিসওয়াক করে, অতঃপর দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করে, তখন তার পিছনে একজন ফিরিশতা দাঁড়ায় এবং মনোযোগ দিয়ে তার ক্বিরাআত শুনে। অতঃপর ফিরিশতা তার অতি নিকটবর্তী হয় এমনকি ফিরিশতার নিজের মুখ তার মুখের উপর রাখেন। তখন তার মুখ থেকে কুরআনের যা কিছুই তিলাওয়াত বের হয় তা ফিরিশতার উদরে প্রবেশ করে। কাজেই তোমরা তোমাদের মুখকে পবিত্র রাখো কুরআনের জন্য।৬৩

৬৩ হাদীস সহীহ : বাযযার হা/৬০৩- শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৯৭

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : “আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হবার সম্ভাবনা না থাকলে আমি প্রত্যেক সলাতের জন্য মিসওয়াক করার আদেশ দিতাম।”

৬৪ হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/৮৩৮

পরিচ্ছেদঃ

ফাযায়িলে আযান - আযান ও ইক্বামাতের ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৯৮

বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)- কে বলতে শুনেছি : শয়তান সলাতের আযানের শব্দ শুনে পলায়ন করতে করতে রাওহা পর্যন্ত ভেগে যায়। আ’মাশ বলেন, আমি আবূ সুফিয়ানকে রাওহা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এ স্থানটি মাদীনাহ্ হতে ছত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত।

৬৫ হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৮৭৮

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ৯৯

বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)- কে বলতে শুনেছি : শয়তান সলাতের আযানের শব্দ শুনে পলায়ন করতে করতে রাওহা পর্যন্ত ভেগে যায়। আ’মাশ বলেন, আমি আবূ সুফিয়ানকে রাওহা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এ স্থানটি মাদীনাহ্ হতে ছত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত।৬৬

৬৬ হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৮৮০শির্‌ক

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১০০

বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)- কে বলতে শুনেছি : যেকোন মানুষ, জ্বিন অথবা যে কোন বস্তুই যতদূর পর্যন্ত মুয়াজ্জিনের আওয়ায শুনবে, সে ক্বিয়ামাতের দিন তার জন্য সাক্ষ্য দিবে।৬৭

৬৭ হাদীস সহীহ ; সহীহুল বুখারী হা/৩০৫৩

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১০১

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : যখন সলাতের আযান দেয়া হল, তখন শয়তান পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে বাতকর্ম করতে করতে (দ্রুত) পলায়ন করে, যেন সে আযানের শব্দ শুনতে না পায়। আযান শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে। আবার যখন ইক্বামাত দেয়া হয় তখন সে পলায়ন করে। ইক্বামাত শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে আসে এবং মুসল্লীর মনে সংশয় সৃষ্টি করতে থাকে। সে তাকে বলে, এটা স্মরণ করো, ওটা স্মরণ করো। অথচ এ কথাগুলো সলাতের পূর্বে তার স্মরণও ছিলো না। শেষ পর্যন্ত মুসল্লী এমন এক বিভ্রাটে পড়ে যে, সে বলতেও পারে না, সে কত রাক’আত সলাত আদায় করেছে।৬৮

৬৮ হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/৫৭৩

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১০২

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

“মুয়াজ্জিনের আযানের আওয়ায যেকোন জ্বিন, ইনসান, গাছ এমনকি পাথরও শুনবে সে ক্বিয়ামাতের দিন তার জন্য সাক্ষ্য দিবে।”

ইবনু মাজাহ্, সহীহ আত-তারগীব হা/২২৫। শায়খ আলবানী বলেন : হাদীসটি সহীহ

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১০৩

বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি বার বছর আযান দেয় তার জন্য জান্নাতে নির্ধারিত হয়ে যায় এবং তার জন্য তার প্রত্যেক আযানের বিনিময়ে লিখা হয় ষাট নেকী এবং প্রত্যেক ইক্বামাতের বিনিময়ে লিখা হয় ত্রিশ নেকী।

হাদীস সহীহ : ইবনু মাজাহ্ হা/৭২৮- শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১০৪

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

নাবী (সাঃ) বলেছেন ; মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর যতদূর পর্যন্ত যায় তাকে ততদূর ক্ষমা করে দেয়া হয় তাজা ও শুষ্ক প্রতিটি জিনিসই (ক্বিয়ামাতের দিন) তার জন্য সাক্ষী হয়ে যাবে। আর কেউ জামাআতে হাজির হলে তার জন্য পঁচিশ ওয়াক্ত সলাতের সাওয়াব লিখা হয় এবং এক সলাত থেকে আরেক সলাতের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

হাদীস সহীহ ; আবূ দাউদ হা/৫১৫, শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১০৫

বর্ণনাকারী বারাআ ইবনু ‘আযিব্ (রাঃ)

নাবী (রাঃ) বলেছেন : মুয়াজ্জিন ঐ ব্যক্তির সমপরিমাণ সাওয়াব পায় যে তার সাথে সলাত আদায় করে।

হাদীস সহীহ : নাসায়ী হা/৬৪৬, তাহক্বীক্ব আলবানী : সহীহ।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১০৬

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : ইমাম হচ্ছে যিম্মাদার এবং মুয়াজ্জিন (ওয়াক্তের) আমানতদার। ‘হে আল্লাহ্! ইমামদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা করে দিন।

হাদীস সহীহ : আবূ দাঊদ হা/৫১৭, তিরমিযী হা/২০৭, শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১০৭

বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : “তাজা ও শুষ্ক প্রতিটি জিনিসই মুয়াজ্জিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।” (আহমাদ হা/৬২০২, ইবনু মাজাহ্ হা/৭২৪, সহীহ আত-তারগীব হা/২৩৪। তাহক্বীক্ব আলবানী : হাসান সহীহ

পরিচ্ছেদঃ

মুয়াজ্জিনের আযানের জবাবে যা বলা ফাযীলাতপূর্ণ

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১০৮

বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ)

তিনি নাবী (সাঃ)- কে বলতে শুনেছেন। তোমরা আযান শুনতে পেলে মুয়াজ্জিন যেরূপ বলে তোমরাও তদ্রুপ বলবে। তারপর আমার উপর দরূদ পাঠ করবে। কেননা কেউ আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করলে আল্লাহ্ তার প্রতি দশবার রহমাত বর্ষণ করেন। অতঃপর তোমরা আল্লাহর নিকট আমার জন্য ওয়াসিলাহ প্রার্থনা করবে। ওয়াসিলাহ্ হচ্ছে জান্নাতের একটি বিশেস মর্যাদার আসন, যার অধিকারী হবেন আল্লাহর একজন বিশিষ্ট বান্দা। আমি আশা করছি, আমিই হবো সেই বান্দা। কেউ আল্লাহর নিকট আমার জন্য ওয়াসিলাহ্ প্রার্থনা করলে সে আমার শাফা’আত পাবে।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৮৭৫

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১০৯

বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি আযান শুনে দু’আ করে : (অর্থ) : “ হে আল্লাহ্ যে পরিপূর্ণ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সলাতের রব! মুহাম্মাদ (সাঃ)- কে ওয়াসিলাহ্ ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সেই মাকামে মাহমুদে পৌঁছে দিন যার অঙ্গীকার আপনি করেছেন”- ক্বিয়ামাতের দিন সে আমার শাফা’আত লাভের অধিকারী হবে।

হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/৫৭৯

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১১০

বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাঃ)

এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহ্ রাসূল! মুয়াজ্জিনরা তো আমাদের উপর মর্যাদার অধিকারী হয়ে যাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন : মুয়াজ্জিনরা যেরূপ বলে থাকে তোমরাও সেরূপ বলবে। অতঃপর আযান শেষ হলে (আল্লাহর নিকট) দু’আ করবে। তখন তোমাকে তাই দেয়া হবে (তোমার দু’আ ক্বুবুল হবে)।

হাসান সহীহ : আবূ দাঊদ হা/৫২৪- হাদীসের শব্দাবলী তার- তাহক্বীক্ব আলবানী : হাসান সহীহ।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১১১

বর্ণনাকারী সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি আযান শুনে বলে : “এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ্ নেই। তাঁর কোন শরীক নেই, মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, মুহাম্মাদ (সাঃ)- কে রাসূল হিসেবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট”- তার গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৮৭৭- শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১১২

বর্ণনাকারী ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : তোমাদের কেউ যদি মুয়াজ্জিনের আল্লাহ্ আকবার আল্লাহু আকবার-এর জওয়াবে আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার বলে এবং আশহাদু আল্-লা ইলাহা- ইল্লাল্লাহ-এর জওওয়াবে আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলে এবং আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্ এর জওয়াবে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্ বলে, অতঃপর হাইয়্যা ‘আলাস্-সলাহ্ এর জওয়াবে যদি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্ বলেত, তারপর হাইয়্যা ‘আলাল-ফালাহ্-এর জওয়াবে যদি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্ বলে, তাপর যদি আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার এর জওয়াতে আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/৮৭৬

পরিচ্ছেদঃ

আযান ও ইক্বামাতের মধ্যবর্তী সময়ে দু’আর ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১১৩

বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : আযান ও ইক্বামাতের মধ্যবর্তী সময়ের দু’আ কখনো প্রত্যাখ্যাত হয় না।৭৮

৭৮ হাদীস সহীহ : আবূ দাঊদ হা/৫২১- হাদীসের শব্দাবলী তার, আহমাদ হা/১২২০০, তিরমিযী হা/২১২, শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১১৪

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

অন্যবর্ণায় রয়েছে: “যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে মুয়াজ্জিন যা বলে তাই বলবে সে জান্নাতের প্রবেশ করবে।”

নাসায়ী, ইবনু হিব্বান, হাকিম। শায়খ আলবানী বলেন : হাদীসটি হাসান। তা’লীক্বাতুল হাস্সান ‘আলা সহীহ ইবনে হিব্বান হা/১৬৬৫।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১১৫

বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : যখন সলাতের ইক্বামাত দেয়া হয় তখন আকাশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং দু’আ কবুল করা হয়।

হাদীস হাসান : আহমাদ হা/১৪৬৮৯- হাদীসের শব্দাবলী তার, সহীহ আত-তারগীব হা/২৬০, শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ লিগাইরিহি বলেছেন।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১১৬

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : “আযান ইক্বামাতের মধ্যবর্তী সময়ের দু’আ কবুল হয় । সুতরাং তোমরা দু’আ করো।” -(ইবনু খুযাইমাহ হা/৪২৫, তা’লীক্বাতুল হাস্সান ‘আলা ইবনে হিব্বান হা/১৬৯৪, তাহক্বীক্ব আলবানী : সহীহ)

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১১৭

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

“দুই সময়ে দু’আকারী দু’আ করলে তা প্রত্যাখ্যাত হয় না। যখন সলাতের ইক্বামাত দেয়া হয় এবং আল্লাহর পথে (জিহাদের) কাতারে।” (ইবনু হিব্বান, হাকিম। ইমাম হাকিম ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সহী আত-তারগীব হা/২৫৪, ২৬০। মালিক হাদীসটি মাওকুফভাবে বর্ণনা করেছেন)

পরিচ্ছেদঃ

ফাযায়িলে মাসাজিদ - মাসজিদ নির্মাণের ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১১৮

বর্ণনাকারী ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)- কে শুনেছি : যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য একটি মাসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ্ তার জন্য জান্ন তে একটি ঘর নির্মাণ করেন।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/১২১৭শির্‌ক

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১১৯

বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রা)

নাবী (সাঃ) বলেছেন: যে ব্যক্তি মাসজিদ নির্মাণ করলো এবং মাসজিদ নির্মাণে তার লোক দেখানো বা সুনাম অর্জনের কোন ইচ্ছা না থাকলে আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন। [১]“আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর নির্মাণ করেন।” (সহীহুল বুখারী সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য)“আল্লাহ্ জান্নাতে তার জন্য ঐ মাসজিদ ঘরের চাইতেও অধিক প্রশন্ত ঘর নির্মাণ করেন।” (আহমাদ হা/২৭৬১২, সহীহ আত-তারগীব হা/২৬৮। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন : শু’আইব আরনাউত্ব বলেন : সহীহ লিগাইরিহি)“আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাতে এর চাইতে অতি উত্তম ঘর তৈরি করেন।” (আহমাদ হা/১৬০০৫, ত্বাবারানী, সহীহ আত-তারগীব হা/২৬৯। শু’আইব আরনাউত্ব বলেন : সানাদে দুর্বলতা আছে তবে হাদীস সহীহ। শায়খ আলবানী একে হাসান বলেছেন)

[১] হাসান লিগাইরিহি : ত্বাবারানী, মাজমাউয যাওয়ায়িদ হা/১৯৪২, সহীহ আত-তারগীব হা/২৭৪। শায়খ আলবানী বলেন : হাদীসটি হাসান লিগাইরিহি।

পরিচ্ছেদঃ

সকাল সন্ধ্যায় মাসজিদে যাওয়ার ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১২০

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

নাবী (সাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি সকালে এবং সন্ধ্যায় সালাত আদায় করতে মাসজিদে যায় এবং যতবার যায় আল্লাহ্ তা’আলা ততবারই তার জন্য জান্নাতের মধ্যে মেহমানদারীর উপকরণ প্রস্তুত করেন।

হাদীস সহীহ ; সহীহুল বুখারী হা/৬২২

পরিচ্ছেদঃ

মাসজিদে লেগে থাকার ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১২১

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

নাবী (সাঃ) বলেছেন : আল্লাহ্ সাত শ্রেণীর লোককে ক্বিয়ামাতের দিন তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দিবেন। যে দিন তাঁর ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না। (১) ন্যায়পরায়ণ শাসক, (২) যে যুবক আল্লাহর ‘ইবাদাতে রত থাকে, (৩) যার অন্তর মাসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে, (৪) এমন দু’ব্যক্তি যারা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরকে ভালবাসে এবং আল্লাহর জন্য কেবল পরস্পরে ভালবাসায় মিলিত অথবা পৃথক হয়, (৫) ঐ ব্যক্তি, যাকে কোন সুন্দরী উচ্চ বংশীয় ভদ্র মহিলা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য নিজের দিকে আকৃষ্ট করে আর সে বলে, আমি আল্লাহর ‘আযাবকে ভয় করি, (৬) যে ব্যক্তি গোপনে সদাক্বাহ করে। এমন কি তার বাম হাত জানে না ডান হাত কি খরচ করছে, (৭) যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহর স্মরণকালে তার দু'চোখ অশ্রুসিক্ত হয়।

হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/৬২০

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১২২

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)

নাবী (সাঃ) বলেছেন : যতক্ষণ কোন মুসলিম ব্যক্তি মাসজিদে সলাত ও যিকিরে মশগুল থাকে,আল্লাহ্ তার প্রতি এরূপ সন্তোষ প্রকাশ করে থাকেন, যেরূপ প্রবাসী তার প্রবাস থেকে ফিরে এলে তার ঘরের লোকেরা তাকে পেয়ে খুশি হয়ে থাকে।৮৪

৮৪ হাদীস সহীহ : ইবনু মাজাহ হা/৮০০- শায়খ আলবানী বলেন হাদীসটি সহীহ এবং তা বুখারী ও মুসলিমের শর্তে, যেমনটি হাকিম বলেছেন।

পরিচ্ছেদঃ

মাসজিদ ঝাড়– দেয়ার ফযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১২৩

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

একজন কালো বর্ণের পুরুষ অথবা কালো বর্ণের মহিলা মাসজিদ ঝাড়ু দিতো। অতঃপর সে মারা গেলো। কিন্তু নবী (সাঃ) তা জানতেন না। একদা নাবী (সাঃ) তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে বললেন, তার খবর কি? সাহাবীগণ বলেন, সে মারা গেছে, হে আল্লাহর রাসূল! নবী (সাঃ) বললেন : তোমরা আমাকে খবর দিলে না কেন? তারা লোকটির কাহিনী বলে বললো, সে তো এরূপ এরূপ ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা তাকে যেন খাটো করলো। আমাকে তার কবরটা দেখিয়ে দাও। অতঃপর তিনি (সাঃ) তার কবরের নিকট গেলেন এবং তার জানাযার সলাত আদায় করলেন।

হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/১২৫১- হাদীসের শব্দাবলী তার, ইবনু মাজাহ হা/১৫৩০।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১২৪

বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আদেশ করেছেন মহল্লায় মাসজিদ নির্মাণ ও মাসজিদকে পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় করে রাখতে।

হাদীস সহীহ : আবূ দাঊদ হা/৪৫৫, তিরমিযী হা/৫৯৪- হাদীসের শব্দাবলী উভয়ের, শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

পরিচ্ছেদঃ

মাসজিদে বসে থাকার ফযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১২৫

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত সলাত আদায়রত ব্যক্তি হিসেবেই গণ্য হবে, যতক্ষণ সালাত (অর্থাৎ সলাতের অপেক্ষা) তাকে আটকে রাখবে। তাকে তো তার পরিবার পরিজনদের নিকট ফিরে যেতে কেবল সালাতই বারণ করছে।

হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/৬১৯, সহীহ মুসলিম হা/১৫৪২- হাদীসের শব্দাবলী উভয়ের, আবূ দাউদ হা/৪৭০, আহমাদ হা/৮২৪৬, ১০৩০৮।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১২৬

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রা)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : কোন বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত সালাত আদায়ের স্থানে (জায়নামাযে) সলাতের অপেক্ষায় থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত পুরো সময় সে সলাতেই থাকে। তার প্রত্যাবর্তন না করা অথবা উযূ টুটে না যাওয়া পর্যন্ত মালায়িকাহ্ (ফিরিশতারা) তার জন্য এই বলে দু’আ করতে থাকে : হে আল্লাহ্! তাকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ্! তার প্রতি রহম করুন।’ আমি বললাম, উযূ টুটে যাওয়ার অর্থ কী? তিনি বললেন। (পায়খানার রাস্তা দিয়ে) নিঃশব্দে অথবা সশব্দে বায়ু নির্গত হওয়া।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/১৫৪১

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১২৭

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

অন্য বর্ণনায় রয়েছে : সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) বলেন : “ রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আমাদেরকে আদেশ করেছেন মহল্লায় মাসজিদ নির্মাণ করতে এবং আমাদেরকে আদেশ করেছেন মাসজিদ পরিচ্ছন্ন রাখতে।” (আহমাদ ও তিরমিযী। ইমাম তিরমিযী বলেন : হাদীসটি সহীহ। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১২৮

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : কেউ কোন উদ্দেশ্যে মাসজিদে এলে, সে ঐ উদ্দেশ্য অনুপাতেই (প্রতিদান) পাবে।

হাদীস সহীহ : আবূ দাঊদ হা/৪৭২, হাদীসের শব্দাবলী তার, বায়হাক্বী। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।

পরিচ্ছেদঃ

সলাত আদায়ের জন্য পায়ে হেঁটে মাসজিদে যাওয়ার ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১২৯

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : মাসজিদ থেকে যার (বাসস্থান) যত বেশী দূরে, সে তত বেশি সাওয়াবের অধিকারী।

হাদীস সহীহ : ইবনু মাজাহ্ হা/৭৮২, অনুরূপ ইমাম যাহাবী এবং শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৩০

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

অন্য বর্ণনায় রয়েছে : “যার হাটার পথ মাসজিদ থেকে বেশি দূরে সে সলাতের অধিক সাওয়াব লাভের হকদার।” (সহীহ মুসলিম)

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৩১

বর্ণনাকারী উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)

তিনি বলেন, আমার জানা মতে মাদীনাহর সালাত আদায়কারীদের মধ্যে এক ব্যক্তির বাসস্থান মাসজিদ থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে অবস্থিত ছিল। এ সত্ত্বেও তিনি সর্বদা পায়ে হেঁটে জামা’আতে উপস্থিত হতেন। আমি তাকে বললাম, আপনি একটি গাধা খরিদ করে নিলে গরম ও অন্ধকারে তাতে সাওয়ার হয়ে আসতে পারতেন। তিনি বললেন, আমার ঘর মাসজিদের নিকটবর্তী হোক, তা আমি অপছন্দ করি। একথা রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) পর্যন্ত পৌঁছলে তিনি তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি মাসজিদে আসা ও মাসজিদ থেকে ঘরে ফেরার বিনিময়ে সাওয়াব লাভের প্রত্যাশা করি (তাই এরূপ বলেছি)। তিনি (সা:) বললেন : তুমি যা পাওয়ার আশা করেছ, আল্লাহ্ তোমাকে তাই দিয়েছেন : তুমি যা সাওয়াবের প্রত্যাশা করেছ আল্লাহ তা পূর্ণরূপেই তোমার জন্য মঞ্জুর করেছেন।

হাদীস সহীহ : আবূ দাউদ হা/৫৫৭- হাদীসের শব্দাবলী তার, সহীহ মুসলিম হা/১৫৪৬, ইবনু মাজাহ্ হা/৭৮৩, দারিমা। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৩২

বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)

তিনি বলেন, আমাদের বাড়ি মাসজিদ থেকে দূরে অবস্থিত ছিল। আমরা মাসজিদের আশেপাশে বাড়ি নির্মাণের জন্য ঐ বাড়ি-ঘর বিক্রি করার মনস্থ করলে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তা করতে নিষেধ করলেন। তিনি (আমাদেরকে) বললেন : (সলাতের উদ্দেশ্যে মাসজিদে আসার) প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে মর্যাদা ও সাওয়াব বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/১৫৫০শির্‌ক

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৩৩

বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)

তিনি বলেন, একদা বনু সালিম গোত্রের লোকেরা মাসজিদের সামনে বসতি স্থাপন করতে মনস্থ করলে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তাদেরকে বললেন : হে বনু সালিম গোত্রের লোকেরা! তোমরা তোমাদের ঐ বাড়িতেই থাকো। কারণ তোমাদের সালাতের জন্য মাসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়। (অন্য বর্ণনায় রয়েছে) এ কথা শুনে তারা বললো : আমরা এতে এতো খুশি হলাম যে, আমাদের বাড়ি-ঘর স্থানান্তরিত করে মাসজিদের কাছে আসলে এতোটা খুশি হতাম না।উল্লেখ্য, যে যতদূর থেকে মাসজিদে সলাতের জন্য আসবে তার সাওয়াব ততো বেশি হবে- এ মর্মে বহু সহীহ হাদীসাবলী বর্ণিত আছে সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/১৫৫১, ১৫৫২শির্‌ক

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৩৪

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে পাক পবিত্র হয় (উযূ করে) তারপর কোন ফরয সলাত আদায়ের জন্য আল্লাহর কোন ঘরে (মাসজিদে) যায় তার প্রতিটি পদক্ষেপের একটিতে গুনাহ্ ঝরে পড়ে এবং অপরটিতে মর্যাদা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়।

হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/১৫৫৩শির্‌ক

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৩৫

বর্ণনাকারী ‘উক্ববাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন: যখন কোন ব্যক্তি পবিত্রতা হাসিল করে সালাতের জন্য মাসজিদে আসে, তখন তার জন্য দু’জন কিংবা একজন লিখক (ফিরিশতা) মাসজিদের উদ্দেশ্যে প্রতিটি কদমের বিনিময়ে দশটি করে নেকী লিপিবদ্ধ করেন।

হাদীস সহীহ : আহমাদ হা/১৭৪৪০- শায়খ আলবানী ও শু’আইব আরনাউত্ব হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৩৬

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

অন্য বর্ণনায় রয়েছে : “তার প্রতি কদমের একটিতে নেকী লিখা হয় এবং অপরটিতে গুনাহ মুছে ফেলা হয়।” (নাসায়ী হাকিম, ইবনু হিব্বান, মালিক, সহীহ আত-তারগীব হা/২৯৩। ইমাম হাকিম বলেন : মুসলিমের শর্তে সহীহ। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৩৭

বর্ণনাকারী আবূ উমামাহ্ আল-বাহিলী (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন : তিন প্রকার লোকের প্রত্যেকেই মহান আল্লাহর দায়িত্বে থাকে। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য বের হয়, তার মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহ্ তার দায়িত্বশীল। অতঃপর আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন কিংবা তাকে নিরাপদে তার নেকী ও গনীমাতসহ তার বাড়িতে ফিরিয়ে আনবেন । দ্বিতীয়ত, যে ব্যক্তি আগ্রহ সহকারে মাসজিদে যায়, আল্লাহ্ তার দায়িত্বশীল। এমনকি তার মৃত্যুর পর আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন কিংবা তাকে নিরাপদে তার নেকী ও গনীমাতসহ তার বাড়িতে ফিরিয়ে আনবেন। তৃতীয়ত, যে ব্যক্তি নিজ পরিবার-পরিজনের সাথে মিলিত হয়ে সালাম বিনিময় করে, আল্লাহ্ তার জিম্মাদার।

হাদীস সহীহ : আবূ দাঊদ হা/২৪৯৪- হাদীসের শব্দাবলী তার, মিশকাত, হা/৭২৭। শায়খ আলাবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৩৮

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

“যে ব্যক্তি জামা’আতের সাথে ফরয সলাত আদায়ের জন্য সন্ধ্যা বেলায় পায়ে হেঁটে মাসজিদে যায় তার একটি পদক্ষেপে একটি গুনাহ্ মোচন হয় এবং আরেক পদক্ষেপে একটি নেকী লিপিবদ্ধ হয়, তার আসা ও যাওয়া উভয়টিতেই এরূপ হয়ে থাকে।” (আহমাদ- হাসান সানাদে এবং ত্বাবারানী ও ইবনু হিব্বান। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহ আত-তারগীব হা/২৯৫)

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৩৯

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

“যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযূ করে কোন ফরয সলাত আদায়ের জন্য মাসজিদে যায়, অতঃপর ইমামের সাথে সালাত আদায় করে, তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়।” (ইবনু খুযাইমাহ। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন সহীহ আত-তারগীব হা/২৯৬)

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৪০

বর্ণনাকারী সালমান (রাঃ)

নাবী (সাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে সুন্দরভাবে উযূ করে মাসজিদে আসে সে আল্লাহর যিয়ারাতকারী। আর যাকে যিয়ারাত করা হয় তার উপর হক যে, তিনি যিয়ারাতকারীকে সম্মানিত করবেন।

হাদীস সহীহ : ত্বাবারানী কাবীর হা/৬১৩৯- হাদীসের শব্দাবলী তার, সহীহ আত-তারগীব হা/৩১৭। শায়খ আলবানী বলেন : হাদীসটি হাসান।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৪১

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

অন্য বর্ণনায় রয়েছে : “তিন ব্যক্তির প্রত্যেকেরই জিম্মাদারী আল্লাহর উপর। তারা বেঁচে থাকা অবস্থায় আল্লাহ্ তাদের রিযিকের ব্যবস্থা করবেন এবং তাদের জন্য তিনিই যথেষ্ট হবেন। আর যদি তারা মারা যায় তাহলে আল্লাহ্ তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তারা হলোঃ যে ব্যক্তি নিজ বাড়িতে সালাম দিয়ে প্রবেশ করে সে আল্লাহর জিম্মায়, যে ব্যক্তি মাসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয় সে আল্লাহর জিম্মায় এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (জিহাদে) বের হয় সে আল্লাহর জিম্মায়।”

ইবনু হিব্বান হা/৪৯৯-তাহক্বীক্ব আলবানী, সহীহ আত-তারগীব হা/৩১৬। শু’আইব আরনাউত্ব ও শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন

পরিচ্ছেদঃ

মহিলাদের বাড়িতে সলাত আদায়ের ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৪২

বর্ণনাকারী উম্মু হুমাইদ (রাঃ)

একদা তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সাথে সালাত আদায় করতে ভালবাসি। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : আমি জানি যে, তুমি আমার সাথে সালাত আদায় করতে ভালোবাসো। কিন্তু (জেনে রেখো), তোমার ঘরে সালাত আদায় তোমার কক্ষে সালাত আদায়ের চাইতে উত্তম, তোমার কক্ষে সলাত আদায় তোমার বাড়িতে সলাত আদায় হতে উত্তম এবং তোমার বাড়িতে সালাত আদায় আমার এ মাসজিদে সালাত আদায় হতে উত্তম। অতঃপর ঐ মহিলার নির্দেশে তার বাড়ি থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী ও অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গাতে একটি মাসজিদ নির্মাণ করা হলো। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি ঐ মাসজিদে সালাত আদায় করতেন।

হাদীস সহীহ : আহমাদ হা/২৭০৯০

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৪৩

বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)

নবী (সাঃ) বলেছেন: কোন নারী তার বাড়ির সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে বসে যে সালাত আদায় করে, সেই সালাত আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।

হাসান লিগাইরিহি : ইবনু খুযাইমাহ হা/১৬৯১, ১৬৯২- হাদীসের শব্দাবলী তার, ত্বাবারানী, সহীহ আত-তারগীব হা/৩৪৩। তাহক্বীক্ব আলবানী : হাসান লিগাইরিহি।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৪৪

বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : তোমরা তোমাদের নারীদেরকে মাসজিদে যেতে নিষেধ করবে না। অবশ্য তাদের ঘর তাদের জন্য উত্তম।

হাদীস সহীহ : আবূ দাউদ হা/৫৬৭- হাদীসের শব্দাবলী তার, সহীহ আত-তারগীব হা/৩৩৮। শায়খ আলবানী বলেন : হাদীস সহীহ। উল্লেখ্য, মহিলারা মাসজিদে গিয়ে সলাত আদায় করতে পারবে। যা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। নাবী (সাঃ)-এর যুগে মহিলা সাহাবীরা মাসজিদে গিয়ে সলাত আদায় করতেন এমনকি অন্ধকার রাতে ফজরের সলাতও তারা মাসজিদে গিয়ে আদায় করেছেন। তবে মহিলাদের জন্য সলাত আদায়ে মাসজিদে যাওয়া আবশ্যক করা হয়নি। আবশ্যক করলে হয়তো তা পালন করা তাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে যেতো।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৪৫

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

অন্য বর্ণনায় রয়েছে : “মহিলারা পর্দার আড়ালে থাকার যোগ্য। সে যখন বাড়ি থেকে বের হয়, তখন শয়তান তার উপর প্রবল হয়ে যায়।” (ত্বাবারানী আওসাত। এর রিজাল সহীহ রিজাল। শায়খ আলবানী বলেন : হাদীসটি সহীহ। সহীহ আত-তারগীব হা/৩৩৯, ৩৪১। হাদীসটি প্রমাণ করে, মহিলাদের বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যাওয়া অপছন্দনীয়। তাদের জন্য বাড়িতে বসেই অনেক ‘ইবাদাত বন্দেগী করার সুযোগ রয়েছে)

পরিচ্ছেদঃ

মাসজিদুল হারামে সলাত আদায়ের ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৪৬

বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : মাসজিদুল হারামে সালাত আদায়ে অন্য যে কোন মাসজিদে সালাতের চেয়ে একলক্ষ গুণ বেশি ফাযীলাত রয়েছে।

হাদীস সহীহ : আহমাদ হা/১৫২৭১, ইবনু মাজাহ্ হা/১৪০৬- শব্দাবলী উভয়ের, ইরওয়াউল গালীল হা/১১২৯। আল্লামা মুনযিরী, আল্লামা বুসয়রী , ইবনু ‘আবদুল হাদী, শু’আইব আরনাউত্ব, শায়খ আলবানী এবং একদল মুহাদ্দিস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

পরিচ্ছেদঃ

মাসজিদে নাববীতে সলাত আদায়ের ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৪৭

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : আমার এই মাসজিদ (মাসজিদে নাববীতে) এক রাক’আত সালাত আদায় অন্য মাসজিদে এক হাজার রাক’আত সালাত আদায়ের চাইতেও উত্তম। কিন্তু মাসজিদুল হারাম ব্যতীত।

১০২ হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/১১১৬- শু’আইব আরনাউত্ব, শায়খ আলবানী ও একদল মুহাদ্দিস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

পরিচ্ছেদঃ

বাইতুল মুকাদ্দাসে সলাত আদায়ের ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৪৮

বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর (রাঃ)

নবী (সাঃ) বলেছেন: সুলাইমান ইবনু দাঊদ বাইতুল মাকদিস মাসজিদের কাজ সম্পন্ন করে আল্লাহর কাছে তিনটি বিষয় প্রার্থনা করেন: আল্লাহর বিধানের অনুরূপ সুবিচার, এমন রাজত্ব যা তার পরে আর কাউকে দেয়া হবে না, এবং যে ব্যক্তি বাইতুল মুকাদ্দাসে শুধুমাত্র সলাত আদায়ের জন্য আসবে, সে তার গুনাহ্ হতে সদ্য প্রসূত সন্তানের মত নিস্পাপ অবস্থায় বের হবে। অতঃপর নাবী (সাঃ) বলেন: প্রথম দু’টি তাঁকে দেয়া হয়েছে। আর আমি আশা করি তৃতীয়টি আমাকে দান করা হবে।

হাদীস সহীহ : ইবনু মাজাহ্ হা/১৪০৮- হাদীসের শব্দাবলী তার, নাসায়ী, আহমাদ হা/৬৬৪৪, ইবনু খুযাইমাহ হা/১৩৩৪, ইবনু হিব্বান হা/৪৪২০, মুস্তাদরাক হাকিম হা/৩৬২৪, তা’লীকুম রাগীব ২/১৩। আল্লামা বুসয়রী ‘মিসবাহুয যুজাজাহ’ গ্রন্থে হা/৫০২, এবং ডক্টর মুস্তফা আ’যমী ইবনু খুযাইমাহর তাহক্বীক্বে বলেন : সানাদ যঈফ।শায়খ আলবানী বলেন : মুসনাদ আহমাদ ও অন্যত্র এর ভিন্ন একটি সহীহ সানাদ রয়েছে। ইমাম হাকিম বলেন : বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ, এর কোন ক্রটি আছে বলে জানা নেই। ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। শু’আইব আরনাউত্ব ইবনু হিব্বান ও আহমাদের তাহক্বীক্ব গ্রন্থে বলেন : সানাদ সহীহ। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে : “বাইতুল মাকদিসে সলাত আদায়ের মর্যাদা মাসজিদে নাববীর সলাতের এক চতুর্থাংশ।” (বায়হাক্বী- সহীহ সানাদে। দেখুন, শায়খ আলবানী প্রণীত ‘তাহজীরুল সাজিদ’- হাদীসের শব্দ তার থেকে গৃহীত)

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৪৯

বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)

নাবী (সাঃ) বলেছেন : তিনটি মাসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও (সাওয়াবের উদ্দেশে) সফর করা যাবে না। এ মাসজিদগুলো হলো : মাসজিদুল হারাম, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর মাসজিদ এবং মাসজিদুল আকসা।

হাদীস সহীহ ; সহীহুল বুখারী হা/১১৫

পরিচ্ছেদঃ

মাসজিদে কুবায় সলাত আদায়ের ফাযীলাত

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৫০

বর্ণনাকারী সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি নিজের ঘরে পবিত্রতা অর্জন করার পর মাসজিদে কুবায় এসে সলাত আদায় করে, তার জন্য একটি ‘উমরাহর সাওয়াব রয়েছে।

হাসীস সহীহ : ইবনু মাজাহ্ হা/১৪১২- হাদীসের শব্দাবলী তার, তা’লীকুর রাগীব। শায়খ আলবানী বলেন : হাদীস সহীহ।

সহিহ ফাযায়েলে আমল

হাদিস নং ১৫১

বর্ণনাকারী বর্ণনাকারী

অন্য বর্ণনায় রয়েছে : “কুবার মাসজিদে সলাত আদায় করা ‘উমরাহ্ করার সমতুল্য।” (ইবনু মাজাহ্ হা/১৪১১, আহমাদ হা/১৫৯৮১, ত্বাবারানী, হাকিম, তা’লীকুর রাগীব ২/১৩৮, ১৩৯। ইমাম হাকিম, ইমাম যাহাবী ও হাফিয ইরাক্বী বলেন। সানাদ সহীহ। শু’আইব আরনাউত্ব ও আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)

সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

32

ট্রানসলেশন ফন্ট সাইজ

18