১. অধ্যায়ঃ

মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৫৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنِ ابْنِ سَلاَمَةَ السُّلَمِيِّ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أُوصِي امْرَأً بِأُمِّهِ أُوصِي امْرَأً بِأُمِّهِ أُوصِي امْرَأً بِأُمِّهِ - ثَلاَثًا - أُوصِي امْرَأً بِأَبِيهِ أُوصِي امْرَءًا بِمَوْلاَهُ الَّذِي يَلِيهِ وَإِنْ كَانَ عَلَيْهِ مِنْهُ أَذًى يُؤْذِيهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু সালামাহ (উপনাম) আবূ সালামা আস-সুলামী (রাঃ)

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি লোককে তার মায়ের সাথে সদাচারের উপদেশ দিচ্ছি, আমি লোককে তার মায়ের সাথে সদাচারের উপদেশ দিচ্ছি, আমি লোককে তার মায়ের সাথে সদাচারের উপদেশ দিচ্ছি, আমি মানুষকে তার অধীন দাসের সাথে সদাচারের উপদেশ দিচ্ছি , যদিও সে তার সাথে কষ্টদায়ক আচরণ করে। [২৯৮৯]

[২৯৮৯] আহমাদ ১৮৩১২। ইরওয়া’ ৮৩৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৫৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ مَيْمُونٍ الْمَكِّيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَبَرُّ قَالَ ‏"‏ أُمَّكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ‏"‏ أُمَّكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ‏"‏ أَبَاكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ‏"‏ الأَدْنَى فَالأَدْنَى ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কার সাথে সদাচরণ করবো? তিনি বলেনঃ তোমার মায়ের সাথে। তারা বলেন, অতঃপর কার সাথে? তিনি বলেনঃ তোমার পিতার সাথে। তিনি বলেন, অতঃপর কার সাথে? তিনি বলেন, অতঃপর পর্যায়ক্রমে নিকটবর্তীদের সাথে। [২৯৯০]

[২৯৯০] বুখারী ৫৯৭১, মুসলিম ৪৬২১, আহমাদ ৮১৪৪,৮৮৩৮,৮৯৬৫।ইরওয়া’ ২১৬৯,গায়াতুল মারাম ২৭৬, রাওদুন নাদীর ৮৬৫।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৫৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ يَجْزِي وَلَدٌ وَالِدَهُ إِلاَّ أَنْ يَجِدَهُ مَمْلُوكًا فَيَشْتَرِيَهُ فَيُعْتِقَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বলেছেনঃ কোন সন্তান তার পিতার হক আদায় করতে সক্ষম নয়। তবে সে যদি তাকে দাসরূপে পায় এবং তাকে খরিদ করে আযাদ করে দেয় (তাহলে কিছু হক আদায় হয়)। [২৯৯১]

[২৯৯১] মুসলিম ১৫১০, তিরমিযী ১৯০৬,আবূ দাউদ ৫১৩৭, আহমাদ ৭১০৩,৭৫১৬,৮৬৭৬,৯৪৫২। ইরওয়া’ ১৭৪৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৬০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ الْقِنْطَارُ اثْنَا عَشَرَ أَلْفَ أُوقِيَّةٍ كُلُّ أُوقِيَّةٍ خَيْرٌ مِمَّا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنَّ الرَّجُلَ لَتُرْفَعُ دَرَجَتُهُ فِي الْجَنَّةِ فَيَقُولُ أَنَّى هَذَا فَيُقَالُ بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ এক কিনতার হলো বারো হাজার উকিয়ার সমান এবং উকিয়া হলো আসমান-যমিনের মাঝখানে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। রাসূলু্ল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেনঃ জান্নাতে মানুষের মর্যাদা অবশ্যই বৃদ্ধি করা হবে। সে বলবে, এটা (মর্যাদা বৃদ্ধি) কীভাবে হলো? বলা হবে, তোমার জন্য তোমার সন্তানের ক্ষমা প্রার্থনার বদৌলতে। [২৯৯২]তাহকীক আলবানী : (আরবী) হাদীসটি দুর্বল। (আরবী) হাদীসটি হাসান। ..........

[২৯৯২] আহমাদ ৮৫৪০,দারিমী ৩৪৬৪। (আরবি লেখা) হাদীসটি হাসান।(আরবি লেখা) দঈফা ৪০৭৬, দঈফ আল-জামি‘ ৪১৪১,(আরবি লেখা) সহীহাহ ১৫৯৮, মিশকাত ২৩৫৪।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৬১

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ يُوصِيكُمْ بِأُمَّهَاتِكُمْ - ثَلاَثًا - إِنَّ اللَّهَ يُوصِيكُمْ بِآبَائِكُمْ إِنَّ اللَّهَ يُوصِيكُمْ بِالأَقْرَبِ فَالأَقْرَبِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী মিকদাম বিন মা‘দীকারিব (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের মায়েদের সম্পর্কে তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন। একথা তিনি তিনবার বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের পিতাদের সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছেন। নিশ্চয় আল্লাহ পর্যায়ক্রমে তোমাদের নিকটবর্তীদের সম্পর্কে তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন (সদাচারের)। [২৯৯৩]

[২৯৯৩] আহমাদ ১৬৭৩৩,১৬৭৩৬।সহীহাহ ১৬৬৬।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৬২

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي الْعَاتِكَةِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَقُّ الْوَالِدَيْنِ عَلَى وَلَدِهِمَا قَالَ ‏ "‏ هُمَا جَنَّتُكَ وَنَارُكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ উমামাহ (রাঃ)

এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! সন্তানের উপর মাতা-পিতার কী অধিকার আছে? তিনি বলেনঃ তারা তোমার জান্নাত এবং তোমার জাহান্নাম। [২৯৯৪]

[২৯৯৪] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।মিশকাত ৪৯৪১, আর রাদ্দু আলাল বালীক ১২২, দঈফ আল-জামি‘ ৬০৯৮।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৬৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، سَمِعَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ الْوَالِدُ أَوْسَطُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ فَأَضِعْ ذَلِكَ الْبَابَ أَوِ احْفَظْهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ দারদা’ (রাঃ)

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন : পিতা হলো জান্নাতের দরজাসমূহের মধ্যবর্তী দরজা। অতএব তুমি ঐ দরজা নষ্টও করতে পারো অথবা তার হেফাজতও করতে পারো। [২৯৯৫]

[২৯৯৫] তিরমিযী ১৯০০, আহমাদ ২১২১০,২৬৯৬৫,২৬৯৮০,২৭০০৪।

২. অধ্যায়ঃ

যার সাথে তোমার পিতা সম্পর্ক রেখেছেন তুমিও তার সাথে সেই সম্পর্ক বজায় রাখো

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৬৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَسِيدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عُبَيْدٍ، مَوْلَى بَنِي سَاعِدَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ، مَالِكِ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَبَقِيَ مِنْ بِرِّ أَبَوَىَّ شَىْءٌ أَبَرُّهُمَا بِهِ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِمَا قَالَ ‏ "‏ نَعَمْ الصَّلاَةُ عَلَيْهِمَا وَالاِسْتِغْفَارُ لَهُمَا وَإِيفَاءٌ بِعُهُودِهِمَا مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِمَا وَإِكْرَامُ صَدِيقِهِمَا وَصِلَةُ الرَّحِمِ الَّتِي لاَ تُوصَلُ إِلاَّ بِهِمَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ উসায়দ মালিক বিন রাবীআহ (রাঃ)

তিনি বলেন, একদা আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন সালামা গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাদের সাথে সদাচারের কিছু অবশিষ্ট আছে কি, যা আমি তাদের সাথে করতে পারি? তিনি বলেনঃ হাঁ, তাদের জন্য দুআ’ করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাদের মৃত্যুর পর তাদের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পালন করা, তাদের বন্ধুদের সম্মান করা এবং (অপরের সাথে) তাদের গড়ে তোলা সম্পর্ক উজ্জীবিত রাখা। [২৯৯৬]

[২৯৯৬] আবূ দাউদ ৫১৪২। মিশকাত ৪৯৩৬।

৩. অধ্যায়ঃ

কন্যা সন্তানদের সাথে পিতার সদাচরণ ও দয়া প্রদর্শন

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৬৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَدِمَ نَاسٌ مِنَ الأَعْرَابِ عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالُوا أَتُقَبِّلُونَ صِبْيَانَكُمْ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ فَقَالُوا لَكِنَّا وَاللَّهِ مَا نُقَبِّلُ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ وَأَمْلِكُ أَنْ كَانَ اللَّهُ قَدْ نَزَعَ مِنْكُمُ الرَّحْمَةَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, কতক বেদুঈন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললো, আপনারা কি আপনাদের শিশুদের চুমু দেন? সাহাবীগণ বলেন, হাঁ। তারা বললো, কিন্তু আল্লাহর শপথ! আমরা চুমু দেই না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তর থেকে দয়ামায়া তুলে নিয়ে থাকেন তাহলে আমি আর কী করতে পারি। [২৯৯৭]

[২৯৯৭] সহীহুল বুখারী ৫৯৯৮, মুসলিম ২৩১৭, আহমাদ ২৩৭৭০,২৩৮৮৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৬৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي رَاشِدٍ، عَنْ يَعْلَى الْعَامِرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ يَسْعَيَانِ إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَضَمَّهُمَا إِلَيْهِ وَقَالَ ‏ "‏ إِنَّ الْوَلَدَ مَبْخَلَةٌ مَجْبَنَةٌ ‏"‏ ‏.

বর্ণনাকারী ইয়া‘লা আল-আমিরী (রাঃ)

তিনি বলেন, হাসান ও হোসাইন (রাঃ) দৌড়াতে দৌড়াতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। তিনি তাদের কে বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেনঃ সন্তান মানুষকে কাপুরুষ ও দুর্বল বানিয়ে দেয়। [২৯৯৮]

[২৯৯৮] আহমাদ ১৭১১১। মিশকাত ৪৬৯১,৪৬৯২।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৬৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىٍّ، سَمِعْتُ أَبِي يَذْكُرُ، عَنْ سُرَاقَةَ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَفْضَلِ الصَّدَقَةِ ابْنَتُكَ مَرْدُودَةً إِلَيْكَ لَيْسَ لَهَا كَاسِبٌ غَيْرُكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী সুরাকাহ বিন মালিক (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমি কি তোমাদেরকে সর্বোত্তম দান-খয়রাতের পথ নির্দেশ করবো না? তোমার যে কন্যা তোমার নিকট ফিরে এসেছে এবং তুমি ছাড়া তার আর কোন উপার্জনকারী নেই, তার জন্য কৃত দান-খয়রাত সর্বোত্তম। [২৯৯৯]

[২৯৯৯] আহমাদ ১৭১৩৬। মিশকাত ৫০০২, দঈফাহ ৪৮২২।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৬৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، أَخْبَرَنِي سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ صَعْصَعَةَ، عَمِّ الأَحْنَفِ قَالَ دَخَلَتْ عَلَى عَائِشَةَ امْرَأَةٌ مَعَهَا ابْنَتَانِ لَهَا فَأَعْطَتْهَا ثَلاَثَ تَمَرَاتٍ فَأَعْطَتْ كُلَّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا تَمْرَةً ثُمَّ صَدَعَتِ الْبَاقِيَةَ بَيْنَهُمَا ‏.‏ قَالَتْ فَأَتَى النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَحَدَّثْتُهُ فَقَالَ ‏ "‏ مَا عَجَبُكِ لَقَدْ دَخَلَتْ بِهِ الْجَنَّةَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

(সা’সাআহ) বলেন, এক মহিলা তার দু’ কন্যা সন্তানসহ আয়িশাহ (রাঃ)-এর নিকট এলো। তিনি তাকে তিনটি খেজুর দিলেন। সে তাদের প্রত্যেককে একটি করে খেজুর দিলো এবং অবশিষ্ট খেজুরটিও দু’ টুকরা করে তাদের মাঝে বণ্টন করলো। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলে আমি তাঁর নিকট ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি বলেনঃ তুমি তো অবাক হচ্ছো, এর ফলে সে অবশ্যি জান্নাতে প্রবেশ করেছে। [৩০০০]

[৩০০০] সহীহুল বুখারী ১৪১৮, ৫৯৯৫, মুসলিম ২৬২৯, ২৬৩০, তিরমিযী ১৯১৫, আহমাদ ২৩৫৩৫, ২৪০৫১, ২৫৫২৯।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৬৯

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ حَرْمَلَةَ بْنِ عِمْرَانَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عُشَّانَةَ الْمَعَافِرِيَّ، قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ كَانَ لَهُ ثَلاَثُ بَنَاتٍ فَصَبَرَ عَلَيْهِنَّ وَأَطْعَمَهُنَّ وَسَقَاهُنَّ وَكَسَاهُنَّ مِنْ جِدَتِهِ - كُنَّ لَهُ حِجَابًا مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী উকবাহ বিন আমির (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : কারো তিনটি কন্যা সন্তান থাকলে এবং সে তাদের ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করলে, যথাসাধ্য তাদের পানাহার করালে ও পোশাক-আশাক দিলে, তারা কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নাম থেকে অন্তরায় হবে। [৩০০১]

[৩০০১] আহমাদ ১৬৯৫০। সহীহাহ ৩৯৪।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৭০

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ فِطْرٍ، عَنْ أَبِي سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا مِنْ رَجُلٍ تُدْرِكُ لَهُ ابْنَتَانِ فَيُحْسِنُ إِلَيْهِمَا مَا صَحِبَتَاهُ أَوْ صَحِبَهُمَا إِلاَّ أَدْخَلَتَاهُ الْجَنَّةَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির দু’টি কন্যা সন্তান থাকলে এবং সে তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করলে যত দিন তারা একত্রে বসবাস করবে, তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। [৩০০২]

[৩০০২] আহমাদ ২১০৫, ৩৪১৪। সহীহাহ ২৭৭৫।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৭১

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُمَارَةَ، أَخْبَرَنِي الْحَارِثُ بْنُ النُّعْمَانِ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ قَالَ ‏ "‏ أَكْرِمُوا أَوْلاَدَكُمْ وَأَحْسِنُوا أَدَبَهُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস বিন মালিক (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাথে উত্তম আচরন করো এবং তাদেরকে উত্তমরূপে সদাচার শিক্ষা দাও। [৩০০৩]

[৩০০৩] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আত তা’লীকুর রাগীব ৩/৮৭। দঈফাহ ১৬৪৯, দঈফ আল-জামি ১১৩৩।

৪. অধ্যায়ঃ

প্রতিবেশীর অধিকার

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৭২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، سَمِعَ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ، يُخْبِرُ عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُحْسِنْ إِلَى جَارِهِ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَسْكُتْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ শুরায়হ আল-খুযাঈ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীর সাথে সদাচরন করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সমাদর করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে, অন্যথায় নীরব থাকে। [৩০০৪]

[৩০০৪] মাজাহ ৩২৭৫, সহীহুল বুখারী ৬০১৯, ৬১৩৫, ৬৪৭৬, মুসলিম ৪৮, তিরমিযী ১৯৬৭, ১৯৬৮, আবূ দাউদ ৩৭৪৮, আহমাদ ১৫৯৩৫, ২৬৬১৮, ২৬৬২০, মুওয়াত্তা মালিক ১৭২৮, দারিমী ২০৩৫, ২০৩৬।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৭৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، وَعَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، جَمِيعًا عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ ‏"‏ ‏.

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জিবরাঈল (আঃ) আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অবিরত উপদেশ দিচ্ছিলেন, এমনকি আমার ধারনা হলো যে, অচিরেই তিনি তাকে হয়তো ওয়ারিস বানাবেন। [৩০০৫]

[৩০০৫] সহীহুল বুখারী ৬০১৪, মুসলিম ২৬২৪, তিরমিযী ১৯৪২, আবূ দাউদ ৫১৫১, আহমাদ ২৩৭৩৯, ২৪০৭৯, ২৪৪২১, ২৫০১২, ২৫৪৮২। ইরওয়া’ ৮৯১।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৭৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا زَالَ جِبْرَائِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জিবরাঈল (আঃ) আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অবিরত উপদেশ দিচ্ছিলেন, এমনকি আমার মনে হলো যে, অচিরেই তিনি হয়ত তাকে ওয়ারিস বানাবেন। [৩০০৬]

[৩০০৬] আহমাদ ৭৪৭০, ৭৯৮৫, ৯৪৫৩, ১০২৯৭।

৫. অধ্যায়ঃ

মেহমানের অধিকার

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৭৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ وَجَائِزَتُهُ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ وَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَثْوِيَ عِنْدَ صَاحِبِهِ حَتَّى يُحْرِجَهُ الضِّيَافَةُ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ وَمَا أَنْفَقَ عَلَيْهِ بَعْدَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ فَهُوَ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ শুরায়হ আল-খুযাঈ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। আর মেহমানের অধিকার হলো এক দিন ও এক রাত। আপ্যায়নকারীর কষ্ট হতে পারে এরূপ দীর্ঘ সময় তার নিকট মেহমানের অবস্থান বৈধ নয়। আপ্যায়ন তিন দিন। তিন দিনের অতিরিক্ত সময়ের জন্য যা সে ব্যয় করবে তা তার জন্য দান হিসেবে গণ্য হবে। [৩০০৭]

[৩০০৭] সহীহুল বুখারী ৬০১৯, ৬১৩৫, ৬৪৭৬, মুসলিম ৪৮, তিরমিযী ১৯৬৭, ১৯৬৮, আবূ দাউদ ৩৭৪৮, আহমাদ ১৫৯৩৫, ২৬৬১৮, ২৬৬২০, মুওয়াত্তা মালিক ১৭২৮, দারিমী২০৩৫, ২০৩৬। ইরওয়া’ ২৫২৩।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৭৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّهُ قَالَ قُلْنَا لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِنَّكَ تَبْعَثُنَا فَنَنْزِلُ بِقَوْمٍ فَلاَ يَقْرُونَا فَمَا تَرَى فِي ذَلِكَ ‏.‏ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنْ نَزَلْتُمْ بِقَوْمٍ فَأَمَرُوا لَكُمْ بِمَا يَنْبَغِي لِلضَّيْفِ فَاقْبَلُوا وَإِنْ لَمْ يَفْعَلُوا فَخُذُوا مِنْهُمْ حَقَّ الضَّيْفِ الَّذِي يَنْبَغِي لَهُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী উকবাহ বিন আমির (রাঃ)

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বললাম, আপনি আমাদেরকে বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে থাকেন। আমরা এমন সব জনপদে যাত্রাবিরতি করি যারা আমাদের আপ্যায়ন করে না। এ ব্যাপারে আপনার কি অভিমত? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বলেনঃ যদি তোমরা কোন বসতি এলাকায় যাত্রাবিরতি করো এবং তারা মেহমানের আপ্যায়নযোগ্য ব্যবস্থা করলে তা তোমরা গ্রহণ করো। আর যদি তারা তা না করে, তবে তাদের থেকে তাদের সামর্থ্য অনুসারে মেহমানদারির ন্যায্য দাবি আদায় করো। [৩০০৮]

[৩০০৮] সহীহুল বুখারী ২৪৬১, ৬১৩৭, মুসলিম ১৭২৭, তিরমিযী ১৫৮৯, আবূ দাউদ ৩৭৫২, ১৬৮৯৪। ইরওয়া’ ২৫২৪।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৭৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ الْمِقْدَامِ أَبِي كَرِيمَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لَيْلَةُ الضَّيْفِ وَاجِبَةٌ فَإِنْ أَصْبَحَ بِفِنَائِهِ فَهُوَ دَيْنٌ عَلَيْهِ فَإِنْ شَاءَ اقْتَضَى وَإِنْ شَاءَ تَرَكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী মিকদাম আবূ কারীমাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, রাতে আগত মেহমানকে আপ্যায়ন করা বাধ্যতামূলক। কারো বাড়ির আঙ্গিনায় মেহমান (অভুক্ত) রাত কাটালে সেটা (বাড়ির মালিকের জন্য) ঋণস্বরূপ। মেহমান ইচ্ছা করলে এ ঋণ উসুল করতেও পারে, অথবা ত্যাগও করতে পারে। [৩০০৯]

[৩০০৯] আবূ দাউদ ৩৭৫০, ৩৭৫১, আহমাদ ১৬৭২০, ১৬৭৪৪, ১৮৭৪৪। আত তা’লীকুর রাগীব ৩/২৪২, সহীহাহ ২২০৪

৬. অধ্যায়ঃ

ইয়াতীমের অধিকার

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৭৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ اللَّهُمَّ إِنِّي أُحَرِّجُ حَقَّ الضَّعِيفَيْنِ الْيَتِيمِ وَالْمَرْأَةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আমি দু’ দুর্বলের অর্থাৎ ইয়াতীম ও নারীর অধিকার (নস্যাৎ করা) নিষিদ্ধ করেছি। [৩০১০]

[৩০১০] আহমাদ ৯৩৭৪। সহীহাহ ১০১৫।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৭৯

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي عَتَّابٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ خَيْرُ بَيْتٍ فِي الْمُسْلِمِينَ بَيْتٌ فِيهِ يَتِيمٌ يُحْسَنُ إِلَيْهِ وَشَرُّ بَيْتٍ فِي الْمُسْلِمِينَ بَيْتٌ فِيهِ يَتِيمٌ يُسَاءُ إِلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মুসলমানদের ঘরসমূহের মধ্যে যে ঘরে ইয়াতীম থাকে এবং তার সাথে সদয় ব্যবহার করা হয়, সেই ঘরই সর্বোত্তম। পক্ষান্তরে মুসলমানদের ঘরসমূহের মধ্যে যে ঘরে ইয়াতীম থাকে এবং তার সাথে নির্দয় ব্যবহার করা হয়, সেই ঘরই সর্বাধিক নিকৃষ্ট। [৩০১১]

[৩০১১] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। দঈফাহ ১৬৩৭, আত তা’লীকুর রাগীব ৩/২৩০, আর রাদ্দু আলাল বালীক ২৩৪, দঈফ আল-জামি’ ২৯০৫।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৮০

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكَلْبِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ عَالَ ثَلاَثَةً مِنَ الأَيْتَامِ كَانَ كَمَنْ قَامَ لَيْلَهُ وَصَامَ نَهَارَهُ وَغَدَا وَرَاحَ شَاهِرًا سَيْفَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَكُنْتُ أَنَا وَهُوَ فِي الْجَنَّةِ أَخَوَيْنِ كَهَاتَيْنِ أُخْتَانِ ‏"‏ ‏.‏ وَأَلْصَقَ إِصْبَعَيْهِ السَّبَّابَةَ وَالْوُسْطَى ‏.‏

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তিনজন ইয়াতীমের ভরণপোষণ করে, সে ঐ ব্যক্তি সমতূল্য যে রাতভর ইবাদতরত থাকে, দিনভর রোযা রাখে এবং সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর রাস্তায় সশস্ত্র জিহাদ করে। জান্নাতে আমি ও সেই ব্যক্তি এই দু’ বোনের মত দু’ ভাইরূপে বসবাস করবো, (এই বলে) তিনি তর্জনি ও মধ্যমা আঙ্গুল একত্র করে দেখান। [৩০১২]

[৩০১২] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। দঈফ আল-জামি ৫৬৯৩।

৭. অধ্যায়ঃ

যাতায়াতের রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৮১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أَبَانَ بْنِ صَمْعَةَ، عَنْ أَبِي الْوَازِعِ الرَّاسِبِيِّ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ أَنْتَفِعُ بِهِ ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ اعْزِلِ الأَذَى عَنْ طَرِيقِ الْمُسْلِمِينَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ বারযাহ আল-আসলামী (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি কাজের পথনির্দেশ দিন যার দ্বারা আমি উপকৃত হতে পারি। তিনি বলেনঃ মুসলমানদের যাতায়াতের পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলো। [৩০১৩]

[৩০১৩] মুসলিম ২৬১৮, আহমাদ ১৯২৬৯, ১৯২৮৬। সহীহাহ ২৩৭২।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৮২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ كَانَ عَلَى الطَّرِيقِ غُصْنُ شَجَرَةٍ يُؤْذِي النَّاسَ فَأَمَاطَهَا رَجُلٌ فَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এক রাস্তার উপর একটি ডাল এসে পড়েছিল যা মানুষকে কষ্ট দিতো। এক ব্যক্তি তা সরিয়ে ফেললে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। [৩০১৪]

[৩০১৪] সহীহুল বুখারী ৬৫৪, ২৪৭২, মুসলিম ১৯১৪, তিরমিযী ১৯৫৮, আবূ দাউদ ৫২৪৫, আহমাদ ৭৭৮২, ৭৯৭৯, ৮২৯৩, ৮৩১৫, ৮৯৯৩, ৯১১৫, ২৭২৯২, ১০৩৭৪, ১০৫১৫, মালিক ২৯৫।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৮৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ وَاصِلٍ، مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ عُقَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ عُرِضَتْ عَلَىَّ أُمَّتِي بِأَعْمَالِهَا حَسَنِهَا وَسَيِّئِهَا فَرَأَيْتُ فِي مَحَاسِنِ أَعْمَالِهَا الأَذَى يُنَحَّى عَنِ الطَّرِيقِ وَرَأَيْتُ فِي سَيِّئِ أَعْمَالِهَا النُّخَاعَةَ فِي الْمَسْجِدِ لاَ تُدْفَنُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ যার্র (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমার উম্মাতের ভালো ও মন্দ কার্যাবলী আমার সামনে পেশ করা হলে, আমি তাদের ভালো কার্যাবলীর মধ্যে যাতায়াতের পথ থেকে তাদের কষ্টদায়ক বস্তু সরানোও অন্তর্ভুক্ত দেখতে পেলাম এবং তাদের নিকৃষ্ট কার্যাবলীর মধ্যে মসজিদে থুথু ফেলাও অন্তর্ভুক্ত দেখতে পেলাম যা (মাটি দিয়ে) ঢেকে দেয়া হয়নি। [৩০১৫]

[৩০১৫] মুসলিম ৫৫৩, আহমাদ ২১০৩৯, ২১০৫৭।

৮. অধ্যায়ঃ

পানি দান করার ফাদীলাত

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৮৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ، صَاحِبِ الدَّسْتَوَائِيِّ عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ ‏ "‏ سَقْىُ الْمَاءِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী সা’দ বিন উবাদাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন প্রকারের দান সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ পানি পান করানো। [৩০১৬]

[৩০১৬] নাসায়ী ৩৬৬৪, ৩৬৬৫, ৩৬৬৬, আবূ দাউদ ১৬৭৯। আত তা’লীকুর রাগীব ২/৫৩, সহীহ আবূ দাউদ ১৪৭৪।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৮৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ يَصُفُّ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صُفُوفًا - وَقَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ أَهْلُ الْجَنَّةِ - فَيَمُرُّ الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ عَلَى الرَّجُلِ فَيَقُولُ يَا فُلاَنُ أَمَا تَذْكُرُ يَوْمَ اسْتَسْقَيْتَ فَسَقَيْتُكَ شَرْبَةً قَالَ فَيَشْفَعُ لَهُ وَيَمُرُّ الرَّجُلُ فَيَقُولُ أَمَا تَذْكُرُ يَوْمَ نَاوَلْتُكَ طَهُورًا فَيَشْفَعُ لَهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ ‏"‏ وَيَقُولُ يَا فُلاَنُ أَمَا تَذْكُرُ يَوْمَ بَعَثْتَنِي فِي حَاجَةِ كَذَا وَكَذَا فَذَهَبْتُ لَكَ فَيَشْفَعُ لَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস বিন মালিক (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, লোকেরা বা জান্নাতবাসীরা কিয়ামতের দিন কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়াবে। তখন জাহান্নামী এক জান্নাতীর নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় বলবে, হে অমুক! তোমার কি মনে পড়ে, এক দিন তুমি পানি পান করতে চেয়েছিলে এবং আমি তোমাকে শরবত পান করিয়েছিলাম? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জান্নাতী লোকটি তার জন্য শাফা’য়াত করবে। আরেক ব্যক্তি যাওয়ার সময় বলবে, তোমার কি মনে আছে, এক দিন আমি তোমাকে ওযুর পানি দিয়েছিলাম? তখন সে তার জন্য শাফা’য়াত করবে। বিন নুমাইর (রাঃ)-র বর্ণনায় আরো আছে : আরেক ব্যক্তি বলবে, হে অমুক! তোমার কি মনে আছে, এক দিন তুমি আমাকে অমুক অমুক প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলে এবং আমি তোমার প্রয়োজন সমাধা করতে গিয়েছিলাম? তখন সে তার জন্য শাফা’য়াত করবে। [৩০১৭]

[৩০১৭] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মিশকাত ৫৬০৪, আত তা’লীকুর রাগীব ২/৫০, দঈফাহ ৯৩, ৫১৮৬।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৮৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُعْشُمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمِّهِ، سُرَاقَةَ بْنِ جُعْشُمٍ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنْ ضَالَّةِ الإِبِلِ تَغْشَى حِيَاضِي قَدْ لُطْتُهَا لإِبِلِي فَهَلْ لِي مِنْ أَجْرٍ إِنْ سَقَيْتُهَا فَقَالَ ‏ "‏ نَعَمْ فِي كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ حَرَّى أَجْرٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী সুরাকাহ বিন জু’শুম (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি আমার উটের জন্য পানির যে চৌবাচ্চা তৈরি করে রেখেছি, পথ ভুলে আসা উটও তার পানি পান করে। আমি যে সেটিকে পানি পান করতে দিলাম, তাতে কি আমার সওয়াব হবে? তিনি বলেনঃ হাঁ, প্রতিটি কলিজাধারী বা প্রাণধারীর বেলায় সওয়াব রয়েছে। [৩০১৮]

[৩০১৮] আহমাদ ১৭১৩১। আত তা’লীকুর রাগীব ২/৫২, সহীহাহ ২১৫২।

৯. অধ্যায়ঃ

নম্র ব্যবহার

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৮৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هِلاَلٍ الْعَبْسِيِّ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ يُحْرَمِ الرِّفْقَ يُحْرَمِ الْخَيْرَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী জারীর বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালী (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নম্র স্বভাব বঞ্চিত, সে যাবতীয় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। [৩০১৯]

[৩০১৯] মুসলিম ২৫৯২, আবূ দাঊদ ৪৮০৯, আহমাদ ২৭৮২৯, ১৮৭৬৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৮৮

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ حَفْصٍ الأُبُلِّيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ وَيُعْطِي عَلَيْهِ مَا لاَ يُعْطِي عَلَى الْعُنْفِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ হলেন রফীক (নম্র), তিনি নম্রতা পছন্দ করেন। তিনি নম্রতার সাথে (দ্বীনের) দাওয়াত দানকারীকে যে পরিমাণ সওয়াব দান করেন, কঠোরতা প্রদর্শনকারীকে তদ্রূপ দান করেন না। [৩০২০]

[৩০২০] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৮৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، ح وَحَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الأَمْرِ كُلِّهِ ‏"‏ ‏.

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ হলেন নম্র ও দয়ার্দ্র, তিনি প্রতিটি কাজে নম্রতা ও দয়ার্দ্রতা প্রদর্শন পছন্দ করেন। [৩০২১]

[৩০২১] সহীহুল বুখারী ৬০২৪, ৬২৫৬, ৬৯৩৫, মুসলিম ২১৬৫, ২৫৯৩, তিরমিযী ২৭০১, আহমাদ ৩৩৫৭০, ২৪০৩২, ২৫১০৫, দারিমী ২৭৯৪। রাওদুন নাদীর ৩৬, ৭৬৪।

১০. অধ্যায়ঃ

দাস-দাসীর সাথে দয়ার্দ্র ব্যবহার

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৯০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنِ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِخْوَانُكُمْ جَعَلَهُمُ اللَّهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ فَأَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ وَأَلْبِسُوهُمْ مِمَّا تَلْبَسُونَ وَلاَ تُكَلِّفُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ فَإِنْ كَلَّفْتُمُوهُمْ فَأَعِينُوهُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (এরা) তোমাদের ভাই, আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করেছেন। অতএব তোমরা যা খাও, তাদেরকে তা খাওয়াও, তোমরা যা পরিধান করো, তাদেরকেও তা পরিধান করাও এবং তাদের উপর তাদের সাধ্যাতীত কাজ চাপিও না, যদি চাপাও তবে তোমরা (সেই কাজে) তাদের সাহায্য করো। [৩০২২]

[৩০২২] সহীহুল বুখারী ৩০, মুসলিম ১৬৬১, তিরমিযী ১৯৪৫, আবূ দাঊদ ৫১৫৭, ৫১৫৮, আহমাদ ২০৯০০, ২০৯২১। ইরওয়া’ ২১৭৬।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৯১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُغِيرَةَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ فَرْقَدٍ السَّبَخِيِّ، عَنْ مُرَّةَ الطَّيِّبِ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ سَيِّئُ الْمَلَكَةِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَيْسَ أَخْبَرْتَنَا أَنَّ هَذِهِ الأُمَّةَ أَكْثَرُ الأُمَمِ مَمْلُوكِينَ وَيَتَامَى قَالَ ‏"‏ نَعَمْ فَأَكْرِمُوهُمْ كَكَرَامَةِ أَوْلاَدِكُمْ وَأَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا فَمَا يَنْفَعُنَا فِي الدُّنْيَا قَالَ ‏"‏ فَرَسٌ تَرْتَبِطُهُ تُقَاتِلُ عَلَيْهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَمْلُوكُكَ يَكْفِيكَ فَإِذَا صَلَّى فَهُوَ أَخُوكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ বাক্‌র সিদ্দীক (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অধীনস্থদের সাথে দুর্ব্যবহারকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি কি আমাদের অবহিত করেননি যে, এ উম্মাতের অধিকাংশ হবে গোলাম ও ইয়াতীম? তিনি বলেনঃ হাঁ, অতএব তোমরা তোমাদের সন্তানের মত তাদের সাথে ব্যবহার করো এবং তোমরা যা আহার করো তা তাদেরকে আহার করাও। সাহাবীগণ বলেন, দুনিয়াতে কোন জিনিস আমাদের উপকারে আসবে? তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করার উদ্দেশ্যে তুমি যে ঘোড়া প্রতিপালন করো এবং যে গোলাম তোমার দায়িত্ব পালন করে। সে যদি নামায পড়ে, তবে সে তোমার ভাই। [৩০২৩]

[৩০২৩] তিরমিযী ১৯৪৬, আহমাদ ১৪, ৩২, ৭৬। আত তা’লীকুর রাগীব ৩/১৬১, দঈফ আল-জামি’ ৬৩৪০।

১১. অধ্যায়ঃ

সালামের প্রসার ঘটানো

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৯২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهُ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا ‏.‏ أَوَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى شَىْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ أَفْشُوا السَّلاَمَ بَيْنَكُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং তোমরা পরস্পরকে মহব্বত না করা পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি জিনিসের প্রতি পথনির্দেশ দিবো না যা করলে তোমরা পরস্পরকে মহব্বত করবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও। [৩০২৪]

[৩০২৪] মুসলিম ৮১, তিরমিযী ২৬৮৮, আহমাদ ৮৮৪১, ৯৪১৬, ২৭৩১৪, ১০২৭২। ইরওয়া’ ৭৭৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৯৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ أَمَرَنَا نَبِيُّنَا ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ نُفْشِيَ السَّلاَمَ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ উমামাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা যেন সালামের প্রসার ঘটাই। [৩০২৫]

[৩০২৫] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৯৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ اعْبُدُوا الرَّحْمَنَ وَأَفْشُوا السَّلاَمَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা দয়াময় রহমানের ইবাদত করো এবং সালামের প্রসার ঘটাও। [৩০২৬]

[৩০২৬] তিরমিযী ১৮৫৫, আহমাদ ৬৫৫১, ৬৮০৯, দারিমী ২০৮১। ইরওয়া’ ৩/২৩৯, সহীহাহ ৫৭১।

১২. অধ্যায়ঃ

সালামের উত্তর দেয়া

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৯৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَرَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ جَالِسٌ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ فَقَالَ ‏ "‏ وَعَلَيْكَ السَّلاَمُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলো এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন মসজিদের এক কোণে উপবিষ্ট ছিলেন। সে নামায পড়ার পর এসে সালাম করলো। তিনি উত্তরে বলেনঃ তোমার প্রতিও সালাম। [৩০২৭]

[৩০২৭] বুখারী ৭৫৭, ৭৯৩, ৬২৫১, ৬৬৬৭, মুসলিম ৬০২, তিরমিযী ৩০৩, নাসায়ী ৮৮৪, আবূ দাঊদ ৮৫৬, আহমাদ ৯৩৫২।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৯৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ زَكَرِيَّا، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، حَدَّثَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ لَهَا ‏ "‏ إِنَّ جِبْرَائِيلَ يَقْرَأُ عَلَيْكِ السَّلاَمَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, জিবরাঈল (আঃ) তোমাকে সালাম দিচ্ছেন। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তাঁর প্রতিও সালাম এবং আল্লাহর রহমত। [৩০২৮]

[৩০২৮] সহীহুল বুখারী ৩২১৭, ৩৭৬৮, ৬২০১, ৬২৪৯, ৬২৫৩, মুসলিম ২৪৪৭, তিরমিযী ২৬৯৩,৩৮৮১, ৩৮৮২, নাসায়ী ৩৯৫২, ৩৯৫৩, ৩৯৫৪, আবূ দাঊদ ৫৩৩২, আহমাদ ২৩৭৬০, ২৩৯৪১, ২৪০৫৩, ২৪২৯৪, ২৪৩৩৬, ২৪৬০৭, ২৪৬৪৭, ২৫৩৫২

১৩. অধ্যায়ঃ

যিম্মীদের সালামের উত্তর দেয়া

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৯৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَقُولُوا وَعَلَيْكُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস বিন মালিক (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আহলে কিতাবের কেউ তোমাদের সালাম দিলে তোমরা বলবে, ওয়া আলায়কুম (তোমাদের প্রতিও)। [৩০২৯]

[৩০২৯] সহীহুল বুখারী ৬২৫৮, ৬৯২৬, মুসলিম ২১৬৩, তিরমিযী ৩৩০১, আবূ দাঊদ ৫২০৭, আহমাদ ১১৫৩৭, ১২০১৯, ১২০৫৮, ১২৭৯৯, ১২৮২৮, ১৩০৪৭, ১৩৩৫৫। ইরওয়া’ ৫/১১৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৯৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَاسٌ مِنَ الْيَهُودِ فَقَالُوا السَّامُ عَلَيْكَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ ‏.‏ فَقَالَ ‏ "‏ وَعَلَيْكُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট একদল ইহুদী এসে বললো, আস-সামু আলায়কা ইয়া আবুল কাসিম! (হে আবুল কাসিম! তোমার মৃত্যু হোক)। তিনি উত্তরে বলেনঃ ওয়া আলাইকুম (তোমাদের মৃত্যু হোক)। [৩০৩০]

[৩০৩০] সহীহুল বুখারী ২৯৩৫,৬০২৪, ৬২৫৬, ৬৩৯৫, ৬৯২৭, মুসলিম ২১৬৫, তিরমিযী ২৭০১, আহমাদ ২৩৫৭০, ২৪৩৩০, ২৪৫০৮, ২৫১০৫, ২৫৩৯৩।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৬৯৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْيَزَنِيِّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُهَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنِّي رَاكِبٌ غَدًا إِلَى الْيَهُودِ فَلاَ تَبْدَءُوهُمْ بِالسَّلاَمِ فَإِذَا سَلَّمُوا عَلَيْكُمْ فَقُولُوا وَعَلَيْكُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ আবদুর রহমান আল-জুহানী (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আগামী কাল আমি জন্তুযানে করে ইহুদীদের লোকালয়ে যাবো। তোমরা আগে তাদের সালাম করো না। তারা তোমাদেরকে সালাম করলে তোমরা বলবে, ওয়া আলায়কুম (তোমাদের প্রতি)। [৩০৩১]

[৩০৩১] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়া’ ৫/১১২, ১১৩, ১২৭৫।

১৪. অধ্যায়ঃ

শিশু ও নারীদের সালাম করা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭০০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَنَحْنُ صِبْيَانٌ فَسَلَّمَ عَلَيْنَا ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এখানে আসলেন, আমরা ছিলাম বালক। তিনি আমাদের সালাম দিলেন। [৩০৩২]

[৩০৩২] সহীহুল বুখারী ৬২৪৭, মুসলিম ২১৬৮, তিরমিযী ২৬৯৬, আবূ দাঊদ ৫২০২, ৫২০৩, আহমাদ ১১৯২৮, ১২৩১৩, ১২৬১০, দারিমী ২৬৩৬।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭০১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، سَمِعَهُ مِنْ، شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ يَقُولُ أَخْبَرَتْهُ أَسْمَاءُ بِنْتُ يَزِيدَ، قَالَتْ مَرَّ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي نِسْوَةٍ فَسَلَّمَ عَلَيْنَا ‏.‏

বর্ণনাকারী আসমা’ বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মহিলাদের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের সালাম দিয়েছেন। [৩০৩৩]

[৩০৩৩] তিরমিযী ২৬৯৭, আবূ দাঊদ ৫২০৪, আহমাদ ২৭০১৪, দারিমী ২৬৩৭। সহীহাহ ৮২৩, হিজাবুল মাবআহ ৯৯, ১০০।

১৫. অধ্যায়ঃ

মুসাফাহা (করমর্দন) করা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭০২

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّدُوسِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَنْحَنِي بَعْضُنَا لِبَعْضٍ قَالَ ‏"‏ لاَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا أَيُعَانِقُ بَعْضُنَا بَعْضًا قَالَ ‏"‏ لاَ وَلَكِنْ تَصَافَحُوا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস বিন মালিক (রাঃ)

তিনি বলেন, আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি (পারস্পরিক সাক্ষাতে) একে অপরের সামনে মাথা ঝুঁকাবো? তিনি বলেনঃ না। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আমরা কি পরস্পর মু’আনাকা (আলিঙ্গন) করবো? তিনি বলেনঃ না, বরং তোমরা পরস্পর মুসাফাহা করো। [৩০৩৪]

[৩০৩৪] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহাহ ১৬০।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭০৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنِ الأَجْلَحِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ يَلْتَقِيَانِ فَيَتَصَافَحَانِ إِلاَّ غُفِرَ لَهُمَا قَبْلَ أَنْ يَتَفَرَّقَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী বারা’ বিন আযিব (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দু’জন মুসলমান পারস্পরিক সাক্ষাতে মুসাফাহা করলে তারা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই তাদের ক্ষমা করা হয়। [৩০৩৫]

[৩০৩৫] তিরমিযী ২৭২৭, আবূ দাঊদ ৫২১১। সহীহাহ ৫২৫,৫২৬।

১৬. অধ্যায়ঃ

একে অপরের হাতে চুমা দেয়া

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭০৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَبَّلْنَا يَدَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনূ উমার (রাঃ)

তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে চুমা দিয়েছি। [৩০৩৬]

৩০৩৬. আবূ দাউদ ৫২২৩, আহমাদ ৫৩৬১।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭০৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، وَغُنْدَرٌ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلِمَةَ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ، أَنَّ قَوْمًا، مِنَ الْيَهُودِ قَبَّلُوا يَدَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَرِجْلَيْهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী সাফওয়ান বিন আসসাল (রাঃ)

একদল ইহুদী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে ও পদদ্বয়ে চুমা দিয়েছিল। [৩০৩৭]

[৩০৩৭] তিরমিযী ২৭৩৩।

১৭. অধ্যায়ঃ

অনুমতি প্রার্থনা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭০৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ أَبَا مُوسَى، اسْتَأْذَنَ عَلَى عُمَرَ ثَلاَثًا فَلَمْ يُؤْذَنْ لَهُ فَانْصَرَفَ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ عُمَرُ مَا رَدَّكَ قَالَ اسْتَأْذَنْتُ الاِسْتِئْذَانَ الَّذِي أَمَرَنَا بِهِ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ثَلاَثًا فَإِنْ أُذِنَ لَنَا دَخَلْنَا وَإِنْ لَمْ يُؤْذَنْ لَنَا رَجَعْنَا ‏.‏ قَالَ فَقَالَ لَتَأْتِيَنِّي عَلَى هَذَا بِبَيِّنَةٍ أَوْ لأَفْعَلَنَّ ‏.‏ فَأَتَى مَجْلِسَ قَوْمِهِ فَنَاشَدَهُمْ فَشَهِدُوا لَهُ فَخَلَّى سَبِيلَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)

আবূ মুসা (রাঃ) উমার (রাঃ) এর নিকট তিনবার অনুমতি চাইলেন, কিন্তু তিনি অনুমতি পেলেন না। তাই তিনি ফিরে গেলেন। উমার (রাঃ) তার নিকট লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার ফিরে যাওয়ার কারন কী? তিনি বলেন, আমি অনুমতি প্রার্থনা করেছি যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদেরকে অনুমতি দেয়া হলে আমরা প্রবেশ করেছি এবং অনুমতি না দেয়া হলে ফিরে গেছি। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) বলেন, উমার (রাঃ) বললেন, এ বিষয়ে অবশ্যই আপনাকে আমার নিকট সাক্ষী পেশ করতে হবে। অন্যথায় আমি অবশ্যই একটা কিছু করবো (আপনাকে শাস্তি দিবো)। আবূ মুসা (রাঃ) তার সম্প্রদায়ের সভাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের সাক্ষ্য তলব করেন। তারা তার পক্ষে সাক্ষ্য দিলে উমার (রাঃ) তার পথ ছেড়ে দেন। [৩০৩৮]

[৩০৩৮] সহীহুল বুখারী ২০৬২, মুসলিম ২১৫৪, তিরমিযী ২৬৯০, আবূ দাঊদ ৫১৮০, ৫১৮১, ১০৬৪৬, ১০৬৬১, ১৯০১৬, ১৯০৬২, ১৯০৮৪, ১৯১১৪, ১৯১৭৮, ১৯২৫১, মুওয়াত্তা মালিক ১৭৯৮, দারিমী ২৬২৯।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭০৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ وَاصِلِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي سَوْرَةَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا السَّلاَمُ فَمَا الاِسْتِئْنَاسُ قَالَ ‏ "‏ يَتَكَلَّمُ الرَّجُلُ تَسْبِيحَةً وَتَكْبِيرَةً وَتَحْمِيدَةً وَيَتَنَحْنَحُ وَيُؤْذِنُ أَهْلَ الْبَيْتِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ আইউব আল-আনসারী (রাঃ)

তিনি বলেন, আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই সালাম তো বুঝলাম, কিন্তু অনুমতি প্রার্থনা কী? তিনি বলেনঃ আগন্তুক মুখে আল্লাহর গুণগান, মহত্ব ও প্রশংসাবাক্য উচ্চারণ করে বা গলা খাকারি দিয়ে বাড়ির লোকজনের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করবে। [৩০৩৯]

[৩০৩৯] নাসায়ী ১২১১, ১২১২, ১২১৩, আহমাদ ২০৯, ৬৪৮।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭০৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُجَىٍّ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ كَانَ لِي مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مُدْخَلاَنِ مُدْخَلٌ بِاللَّيْلِ وَمُدْخَلٌ بِالنَّهَارِ فَكُنْتُ إِذَا أَتَيْتُهُ وَهُوَ يُصَلِّي يَتَنَحْنَحُ لِي ‏.‏

বর্ণনাকারী আলী (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট আমার হাজির হওয়ার দু’টি সময় নির্দিষ্ট ছিলো : রাতে একবার এবং দিনে একবার। আমি তাঁর নিকট তাঁর নামাযরত অবস্থায় উপস্থিত হলে তিনি আমার উদ্দেশে গলা খাঁকারি দিতেন। [৩০৪০]

[৩০৪০] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭০৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ اسْتَأْذَنْتُ عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏"‏ مَنْ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ أَنَا فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ أَنَا أَنَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন : কে? আমি বললাম, আমি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি! আমি (নাম বলতে পারো না)! [৩০৪১]

[৩০৪১] সহীহুল বুখারী ৬২৫০, মুসলিম ২১৫৫, তিরমিযী ২৭১১, আবূ দাউদ ৫১৮৭, আহমাদ ১৩৭৭৩, ১৪০৩০, ১৪৪৯৩, দারিমী ২৬৩০।

১৮. অধ্যায়ঃ

কোন ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার রাত কেমন গেলো?

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭১০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قُلْتُ كَيْفَ أَصْبَحْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏ "‏ بِخَيْرٍ مِنْ رَجُلٍ لَمْ يُصْبِحْ صَائِمًا وَلَمْ يَعُدْ سَقِيمًا ‏"

বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার রাত কেমন গেলো? তিনি বলেনঃ ভালোভাবেই কেটেছে, সেই লোকের চেয়ে যে রোযা অবস্থায় প্রভাত করেনি এবং রুগ্ন ব্যক্তিকেও দেখতে যায়নি। [৩০৪২]

[৩০৪২] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭১১

حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْهَرَوِيُّ، إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَاتِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، حَدَّثَنِي جَدِّي أَبُو أُمِّي، مَالِكُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ السَّاعِدِيُّ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي أُسَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لِلْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَدَخَلَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ ‏"‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا وَعَلَيْكَ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ كَيْفَ أَصْبَحْتُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا بِخَيْرٍ نَحْمَدُ اللَّهَ فَكَيْفَ أَصْبَحْتَ بِأَبِينَا وَأُمِّنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ أَصْبَحْتُ بِخَيْرٍ أَحْمَدُ اللَّهَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ উসাইদ মালিক বিন রাবীআহ আস-সাইদী (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ)-র ওখানে প্রবেশ করে তাঁকে বলেনঃ আসসালামু আলায়কুম। তারা উত্তরে বলেন, ওয়া আলাইকাস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন : তোমাদের রাত কেমন গেলো? তারা বলেন, ভালোভাবেই কেটেছে, আল্লাহর প্রশংসা করছি। হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক। আপনার রাত কেমন কেটেছে? তিনি বলেনঃ আল্লাহর প্রশংসা করছি, আমার রাতও ভালোই কেটেছে। [৩০৪৩]

[৩০৪৩] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

১৯. অধ্যায়ঃ

তোমাদের নিকট কোন সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তি এলে তোমরা তার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭১২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سَعِيدُ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِذَا أَتَاكُمْ كَرِيمُ قَوْمٍ فَأَكْرِمُوهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের নিকট কোন সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তি এলে তোমরা তাকে যথাযথ সম্মান করো। [৩০৪৪]

[৩০৪৪] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহাহ ১২০৫, রাওদুন নাদীর ২৬৮।

২০. অধ্যায়ঃ

হাঁচির জবাব দেয়া

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭১৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ عَطَسَ رَجُلاَنِ عِنْدَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَشَمَّتَ أَحَدَهُمَا - أَوْ سَمَّتَ - وَلَمْ يُشَمِّتِ الآخَرَ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَطَسَ عِنْدَكَ رَجُلاَنِ فَشَمَّتَّ أَحَدَهُمَا وَلَمْ تُشَمِّتِ الآخَرَ فَقَالَ ‏ "‏ إِنَّ هَذَا حَمِدَ اللَّهَ وَإِنَّ هَذَا لَمْ يَحْمَدِ اللَّهَ ‏"‏ ‏.

বর্ণনাকারী আনাস বিন মালিক (রাঃ)

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে দু’ ব্যক্তি হাঁচি দিলে, তিনি তাদের একজনের হাঁচির জবাব দিলেন এবং অপর জনের জবাব দেননি। তাঁকে বলা হলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার নিকট দু’ ব্যক্তি হাঁচি দিয়েছে। আপনি তাদের একজনের জবাব দিলেন এবং অপরজনের জবাব দেননি। তিনি বলেনঃ এই ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করেছে এবং ঐ ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করেনি। [৩০৪৫]

[৩০৪৫] সহীহুল বুখারী ৬২২১, ৬২২৫, মুসলিম ২৯৯১, তিরমিযী ২৭৪২, আবূ দাউদ ৫০৩৯, আহমাদ ১১৫৫১, ১১৭৫৭, ১২৩৮৭, দারিমী ২৬৬০।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭১৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يُشَمَّتُ الْعَاطِسُ ثَلاَثًا فَمَا زَادَ فَهُوَ مَزْكُومٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী সালামা ইবনুল আকওয়া’ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হাঁচিদাতার উত্তর দিতে হবে তিনবার, এর অধিকবার হাঁচি দিলে সে ঠান্ডায় আক্রান্ত। [৩০৪৬]

[৩০৪৬] মুসলিম ২৯৯৩, তিরমিযী ২৭৪৩, আবূ দাউদ ৫০৩৭, আহমাদ ১৬০৬৬, দারিমী ২৬৬১। মিশকাত ৪৭৪৩।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭১৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عِيسَى، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ ‏.‏ وَلْيَرُدَّ عَلَيْهِ مَنْ حَوْلَهُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ ‏.‏ وَلْيَرُدَّ عَلَيْهِمْ يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আলী (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ হাঁচি দিলে যেন বলে, আলহামদু লিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর)। তার আশেপাশে উপস্থিত ব্যক্তিগণ যেন বলে, ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমায় অনুগ্রহ করুন)। প্রতি উত্তরে হাঁচিদাতা যেন বলে, ইয়াহদীকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম (আল্লাহ তোমাদের সৎপথ প্রদর্শন করুন এবং তোমাদের অবস্থার সংশোধন করুন)। [৩০৪৭]

[৩০৪৭] তিরমিযী ২৭৪১, দারিমী ২৬৫৯। ৭৮০, ৩/২৪৫, ২৪৬।

২১. অধ্যায়ঃ

যে কেউ নিজ সহযোগীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭১৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أَبِي يَحْيَى الطَّوِيلِ، - رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ - عَنْ زَيْدٍ الْعَمِّيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا لَقِيَ الرَّجُلَ فَكَلَّمَهُ لَمْ يَصْرِفْ وَجْهَهُ عَنْهُ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يَنْصَرِفُ وَإِذَا صَافَحَهُ لَمْ يَنْزِعْ يَدَهُ مِنْ يَدِهِ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الَّذِي يَنْزِعُهَا وَلَمْ يُرَ مُتَقَدِّمًا بِرُكْبَتَيْهِ جَلِيسًا لَهُ قَطُّ ‏.

বর্ণনাকারী আনাস বিন মালিক (রাঃ)

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করতেন এবং কথা বলতেন, তখন সে মুখ ফিরিয়ে না নেয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর মুখ ফিরিয়ে নিতেন না এবং যখন কারো সাথে মুসাফাহা করতেন, তখন সে তার হাত সরিয়ে না নেয়া পর্যন্ত তিনি তার থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিতেন না। তাঁর সাথে উপবিষ্ট লোকেদের দিকে পা ছড়িয়ে দিয়ে তাঁকে কখনো বসতে দেখা যায় নি। [৩০৪৮] তাহকীক আলবানী : মুসাফাহার কথা ব্যতীত দুর্বল। কেননা মুসাফাহার কথাটি প্রমাণিত।

[৩০৪৮] তিরমিযী ২৪৯০। সহীহাহ ২৪৮৫।

২২. অধ্যায়ঃ

কোন ব্যক্তি মজলিসে নিজ স্থান থেকে উঠে গিয়ে আবার ফিরে এলে সে-ই উক্ত স্থানের অধিক হকদার

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭১৭

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ عَنْ مَجْلِسِهِ ثُمَّ رَجَعَ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের কেউ তার বসার স্থান থেকে উঠে গিয়ে আবার ফিরে এলে সে-ই উক্ত স্থানের অধিক হকদার। [৩০৪৯]

[৩০৪৯] মুসলিম ২১৭৯, আবূ দাউদ ৪৮৫৩, আহমাদ ৭৫১৪, ৭৭৫১, ৮৩০৪, ৮৮১০, ৯৪৬৩, ৯৪৮২, ৯৮৯৪, ১০৪৪২, ১১৫৫৯, দারিমী ২৬৫৪।

২৩. অধ্যায়ঃ

ওযর বা অপারগতা প্রকাশ

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭১৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ مِينَاءَ، عَنْ جَوْدَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنِ اعْتَذَرَ إِلَى أَخِيهِ بِمَعْذِرَةٍ فَلَمْ يَقْبَلْهَا كَانَ عَلَيْهِ مِثْلُ خَطِيئَةِ صَاحِبِ مَكْسٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী জূওদান (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের নিকট ওযর বা অপারগতা প্রকাশ করলে এবং সে তা গ্রহণ না করলে, সে কর আদায়কারীর অপরাধের সমান অপরাধী গণ্য হবে।[উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হয়েছে, অপর সানাদটি হলোঃ]২/৩৭১৮ (১). জূওদান (রাঃ), নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। [৩০৫০]

[৩০৫০] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। গায়াতুল মারাম ২৩৬ নং পৃষ্ঠা।

২৪. অধ্যায়ঃ

রসিকতা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭১৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَمْعَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ وَهْبِ بْنِ عَبْدِ بْنِ زَمْعَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا زَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبِ بْنِ زَمْعَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ خَرَجَ أَبُو بَكْرٍ فِي تِجَارَةٍ إِلَى بُصْرَى قَبْلَ مَوْتِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِعَامٍ وَمَعَهُ نُعَيْمَانُ وَسُوَيْبِطُ بْنُ حَرْمَلَةَ وَكَانَا شَهِدَا بَدْرًا وَكَانَ نُعَيْمَانُ عَلَى الزَّادِ وَكَانَ سُوَيْبِطٌ رَجُلاً مَزَّاحًا فَقَالَ لِنُعَيْمَانَ أَطْعِمْنِي ‏.‏ قَالَ حَتَّى يَجِيءَ أَبُو بَكْرٍ ‏.‏ قَالَ فَلأُغِيظَنَّكَ ‏.‏ قَالَ فَمَرُّوا بِقَوْمٍ فَقَالَ لَهُمْ سُوَيْبِطٌ تَشْتَرُونَ مِنِّي عَبْدًا لِي قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ إِنَّهُ عَبْدٌ لَهُ كَلاَمٌ وَهُوَ قَائِلٌ لَكُمْ إِنِّي حُرٌّ ‏.‏ فَإِنْ كُنْتُمْ إِذَا قَالَ لَكُمْ هَذِهِ الْمَقَالَةَ تَرَكْتُمُوهُ فَلاَ تُفْسِدُوا عَلَىَّ عَبْدِي ‏.‏ قَالُوا لاَ بَلْ نَشْتَرِيهِ مِنْكَ ‏.‏ فَاشْتَرَوْهُ مِنْهُ بِعَشْرِ قَلاَئِصَ ثُمَّ أَتَوْهُ فَوَضَعُوا فِي عُنُقِهِ عِمَامَةً أَوْ حَبْلاً ‏.‏ فَقَالَ نُعَيْمَانُ إِنَّ هَذَا يَسْتَهْزِئُ بِكُمْ وَإِنِّي حُرٌّ لَسْتُ بِعَبْدٍ ‏.‏ فَقَالُوا قَدْ أَخْبَرَنَا خَبَرَكَ ‏.‏ فَانْطَلَقُوا بِهِ فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ فَأَخْبَرُوهُ بِذَلِكَ ‏.‏ قَالَ فَاتَّبَعَ الْقَوْمَ وَرَدَّ عَلَيْهِمُ الْقَلاَئِصَ وَأَخَذَ نُعَيْمَانَ ‏.‏ قَالَ فَلَمَّا قَدِمُوا عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَخْبَرُوهُ ‏.‏ قَالَ فَضَحِكَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَصْحَابُهُ مِنْهُ حَوْلاً ‏.‏

বর্ণনাকারী উম্মু সালামাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তিকালের এক বছর পূর্বে আবূ বকর (রাঃ) ব্যবসা উপলক্ষে বুসরা যান। নুআয়মান (রাঃ) এবং হারমালাহ’র পুত্র সুয়ায়বিত (রাঃ) তার সাথে ছিলেন। তারা উভয়ে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। নুআয়মান (রাঃ) রসদপত্রের দায়িত্বে ছিলেন। সুয়ায়বিত (রাঃ) ছিলেন কৌতুকপ্রিয়। তিনি নুআয়মান (রাঃ) কে বলেন, আমাকে কিছু আহার দিন। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তিনি বলেন, না, আমি আপনাকে পেরেশান করে ছাড়বো। রাবী বলেন, অতঃপর তারা একদল লোককে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। সুয়ায়বিত (রাঃ) তাদের বলেন, তোমরা কি আমার নিকট থেকে আমার একটি গোলাম খরিদ করবে? তারা বলেন, হাঁ। তিনি বলেন, সে এমন গোলাম যার একটা কথা আছে। সে তোমাদের বলবে, আমি স্বাধীন। তোমরা তার এ কথায় বিশ্বাস করে তাকে ছেড়ে দিয়ে আমাকে কিন্তু আমার এ গোলামের ব্যাপারে ফ্যাসাদে ফেলো না যেন। তারা বললো, না, আমরা বরং তাকে তোমার থেকে ক্রয় করবো। তারা তার থেকে তাকে দশটি উটের বিনিময়ে ক্রয় করে তার নিকট এলো। তারা তার গলায় পাগড়ি অথবা রশি বাঁধলো। নুআয়মান (রাঃ) বলেন, এই লোক কিন্তু তোমাদের সাথে উপহাস করেছে, সত্যি আমি স্বাধীন, গোলাম নই। তারা বললো, তোমার ব্যাপারটা আমাদের অবহিত করা হয়েছে। তারা তাঁকে নিয়ে চলে গেল। ইতোমধ্যে আবূ বকর (রাঃ) এসে গেলে তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলেন। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি তাদের নিকট গেলেন এবং তাদের উট তাদেরকে ফেরত দিয়ে নুআয়মান (রাঃ) কে ছাড়িয়ে আনলেন। রাবী বলেন, তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এসে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করেন। রাবী বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ তাকে নিয়ে (এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে) প্রায় এক বছর হাসি-তামাশা করেন। [৩০৫১]

[৩০৫১] আহমাদ ২৬১৪৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭২০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُخَالِطُنَا حَتَّى يَقُولَ لأَخٍ لِي صَغِيرٍ ‏ "‏ يَا أَبَا عُمَيْرٍ مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَكِيعٌ يَعْنِي طَيْرًا كَانَ يَلْعَبُ بِهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সাথে মেলামেশা করতেন, এমনকি তিনি আমার এক ছোট ভাইকে বলতেন : হে আবূ উমায়র! কী করেছে নুগায়র? ওয়াকী’ (রাঃ) বলেন, অর্থাৎ যে পাখিটি নিয়ে আবূ উমাইর খেলা করতো। [৩০৫২]

[৩০৫২] বুখারী ৬১২৯, ৬২০৩, মুসলিম ৪০০৩, তিরমিযী ৩৩৩, ১৯৮৯, আবূ দাঊদ ৬৫৮, ৪৯৫৯, আহমাদ ১১৭২৭, ১১৭৮৯, ১২৩৪২, ১২৫৪৫, ১২৬৬৪, ১২৭৯৭, ১২৯১২। মুখতাসরুশ শামাইল ২০১।

২৫. অধ্যায়ঃ

সাদা চুল উপড়ানো

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭২১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنْ نَتْفِ الشَّيْبِ وَقَالَ ‏ "‏ هُوَ نُورُ الْمُؤْمِنِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাদা চুল উপড়াতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ এটা মুমিনের নূর। [৩০৫৩]

[৩০৫৩] নাসায়ী ৫০৬৮, আবূ দাউদ ৪২০২। আত তা’লীকুর রাগীব ৩/১১৩, মিশকাত ৪৪৫৮।

২৬. অধ্যায়ঃ

ছায়া ও রোদের মাঝামাঝি বসা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭২২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ أَبِي الْمُنِيبِ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَهَى أَنْ يُقْعَدَ بَيْنَ الظِّلِّ وَالشَّمْسِ ‏.‏

বর্ণনাকারী বুরায়দাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছায়া ও রোদের মাঝামাঝি বসতে নিষেধ করেছেন। [৩০৫৪]

[৩০৫৪] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহাহ ৮৩৮।

২৭. অধ্যায়ঃ

উপুড় হয়ে শোয়া নিষেধ

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭২৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ طِخْفَةَ الْغِفَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَصَابَنِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَائِمًا فِي الْمَسْجِدِ عَلَى بَطْنِي فَرَكَضَنِي بِرِجْلِهِ وَقَالَ ‏ "‏ مَا لَكَ وَلِهَذَا النَّوْمِ هَذِهِ نَوْمَةٌ يَكْرَهُهَا اللَّهُ أَوْ يُبْغِضُهَا اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী তিখফাহ বিন কায়স আল-গিফারী (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে মসজিদে উপুড় হয়ে শোয়া অবস্থায় পেলেন। তিনি তাঁর পা দ্বারা আমাকে খোঁচা মেরে বলেনঃ তোমার এ ধরণের শোয়া কিরূপ। এ ধরণের শোয়া তো আল্লাহ অপছন্দ করেন বা ঘৃণা করেন। [৩০৫৫]

[৩০৫৫] তিরমিযী ২৭৬৮, আবূ দাউদ ৫০৪০, আহমাদ ১৫১১৫, ১৫১১৭, ২৩১০৩। মিশকাত ৪৭১৮, ৪৭১৯, ৪৭৩১।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭২৪

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ طِخْفَةَ الْغِفَارِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ مَرَّ بِيَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَنَا مُضْطَجِعٌ عَلَى بَطْنِي فَرَكَضَنِي بِرِجْلِهِ وَقَالَ ‏ "‏ يَا جُنَيْدِبُ إِنَّمَا هَذِهِ ضِجْعَةُ أَهْلِ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা অবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার পাশ দিয়ে গেলেন। তিনি আমাকে তাঁর পা দ্বারা খোঁচা মেরে বলেনঃ হে জুনাইদিব! এটা তো জাহান্নামের শয়ন। [৩০৫৬]

[৩০৫৬] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭২৫

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ رَجَاءٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ جَمِيلٍ الدِّمَشْقِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ الْقَاسِمَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَلَى رَجُلٍ نَائِمٍ فِي الْمَسْجِدِ مُنْبَطِحٍ عَلَى وَجْهِهِ فَضَرَبَهُ بِرِجْلِهِ وَقَالَ ‏ "‏ قُمْ وَاقْعُدْ فَإِنَّهَا نَوْمَةٌ جَهَنَّمِيَّةٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ উমামাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে উপুড় হয়ে শায়িত এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যেতে তাঁর পা দ্বারা তাকে খোঁচা মেরে বলেনঃ দাঁড়াও অথবা বসো। কেননা এটা জাহান্নামীর শয়ন। [৩০৫৭]

[৩০৫৭] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

২৮. অধ্যায়ঃ

জ্যোতিষ বিষয়ক জ্ঞান অর্জন

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭২৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنِ اقْتَبَسَ عِلْمًا مِنَ النُّجُومِ اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِنَ السِّحْرِ زَادَ مَا زَادَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্যোতিষ বিদ্যার কিছু শিক্ষা করলো, সে যেন যাদু বিদ্যার একটা শাখা আয়ত্ত করলো, এখন তা যত বাড়ায় বাড়াক। [৩০৫৮]

[৩০৫৮] আবূ দাউদ ৩৯০৫, আহমাদ ২০০১, ২৮৩৬। সহীহাহ ৭৯৩।

২৯. অধ্যায়ঃ

বাতাসকে গালি দেয়া নিষেধ

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭২৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الزُّرَقِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ تَسُبُّوا الرِّيحَ فَإِنَّهَا مِنْ رَوْحِ اللَّهِ تَأْتِي بِالرَّحْمَةِ وَالْعَذَابِ وَلَكِنْ سَلُوا اللَّهَ مِنْ خَيْرِهَا وَتَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ شَرِّهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা বাতাসকে গালি দিও না। কারণ তা আল্লাহর রহমাতের অন্তর্ভুক্ত, তা রহমাত ও শাস্তি বয়ে আনে। তোমরা আল্লাহর নিকট এর মধ্যে নিহিত কল্যাণের প্রার্থনা করো এবং তার মধ্যে নিহিত অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো। [৩০৫৯]

[৩০৫৯] আবূ দাউদ ৫০৯৭, আহমাদ ৭৩৬৫, ৯৩৪৬। মিশকাত ১৫১৬, তাখরীজুল কালিমুত তায়্যিব ১৫৩, সহীহাহ ২৭৫৭।

৩০. অধ্যায়ঃ

যেসব নাম পছন্দনীয়

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭২৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا الْعُمَرِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ أَحَبُّ الأَسْمَاءِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ عَبْدُ اللَّهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ মহান আল্লাহর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় নাম হলো আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান। [৩০৬০]

[৩০৬০] মুসলিম ২১৩২, তিরমিযী ২৮৩৩, আবূ দাউদ ৪৯৪৯, আহমাদ ৪৭৬০, ৬০৮৭, দারিমী ২৬৯৫। ইরওয়া ১১৭৬।

৩১. অধ্যায়ঃ

যেসব নাম অপছন্দনীয়

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭২৯

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لَئِنْ عِشْتُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لأَنْهَيَنَّ أَنْ يُسَمَّى رَبَاحٌ وَنَجِيحٌ وَأَفْلَحُ وَنَافِعٌ وَيَسَارٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইনশাআল্লাহ আমি বেঁচে থাকলে রাবাহ, নাজীহ, আফলাহ, নাফে‘ ও ইয়াসার নাম রাখতে নিষেধ করবো। [৩০৬১]

[৩০৬১] তিরমিযী ২৮৩৫। সহীহাহ ২১৪৩।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৩০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ الرُّكَيْنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ نُسَمِّيَ رَقِيقَنَا أَرْبَعَةَ أَسْمَاءٍ أَفْلَحُ وَنَافِعٌ وَرَبَاحٌ وَيَسَارٌ ‏.‏

বর্ণনাকারী সামুরাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের দাসদের চারটি নামে নামকরণ করতে নিষেধ করেছেন : আফলাহ, নাফে‘, রাবাহ ও ইয়াসার। [৩০৬২]

[৩০৬২] মুসলিম ২১৩৬, ২১৩৭, তিরমিযী ২৮৩৬, আবূ ৪৯৫৮, ৪৯৫৯, আহমাদ ১৯৫৭৪, ১৯৬০১, ১৯৬১৮, ১৯৬২৫, ১৯৭৩২, দারিমী ২৬৯৬। ইরওয়া ১১৭৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৩১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَقِيلٍ، حَدَّثَنَا مُجَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ لَقِيتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقَالَ مَنْ أَنْتَ فَقُلْتُ مَسْرُوقُ بْنُ الأَجْدَعِ ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ الأَجْدَعُ شَيْطَانٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)

(মাসরূক) বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করলে তিনি বলেন, তুমি কে? আমি বললাম, মাসরূক ইবনুল আজদা‘। উমার (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : আজদা‘ এক শয়তানের নাম। [৩০৬৩]

[৩০৬৩] আবূ দাউদ ৪৯৫৭, আহমাদ ২১১। মিশকাত ৪৭৬৭।উক্ত হাদীসের রাবী মুজালিদ বিন সাঈদ সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও ইয়া‘কূব বিন সুফিয়ান বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসায়ী বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তিনি দঈফ বা দুর্বল। ইবনু মাঈন বলেন, তার হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যাবে না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৭৮০, ২৭/২১৯ নং পৃষ্ঠা)

৩২. অধ্যায়ঃ

নাম পরিবর্তন করা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৩২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا رَافِعٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ زَيْنَبَ، كَانَ اسْمُهَا بَرَّةَ فَقِيلَ لَهَا تُزَكِّي نَفْسَهَا فَسَمَّاهَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ زَيْنَبَ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

যায়নাব (রাঃ) এর নাম ছিলো বাররাহ (পুণ্যবতী)। এতে বলাবলি হলো যে, তিনি নিজেই নিজের পবিত্রতা প্রকাশ করছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নাম রাখলেন যায়নাব। [৩০৬৪]

[৩০৬৪] সহীহুল বুখারী ৬১৯২, মুসলিম ২১৪১, আহমাদ ৯২৭৬, ৯৫৯৮, দারিমী ২৬৯৮। সহীহাহ ২১১।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৩৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ ابْنَةً لِعُمَرَ، كَانَ يُقَالُ لَهَا عَاصِيَةُ فَسَمَّاهَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ جَمِيلَةَ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু উমর (রাঃ)

উমার (রাঃ) এর এক কন্যাকে আসিয়াহ (গুনাহগার) নামে ডাকা হতো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নাম রাখলেন জামীলাহ (সুন্দরী)। [৩০৬৫]

[৩০৬৫] মুসলিম ২১৩৯, তিরমিযী ২৮৩৮, আবূ দাউদ ৪৯৫২, আহমাদ ৪৬৬৮, দারিমী ২৬৯৭। সহীহাহ ২১৩।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৩৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى أَبُو الْمُحَيَّاةِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، حَدَّثَنَى ابْنُ أَخِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ، قَالَ قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَلَيْسَ اسْمِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَلاَمٍ فَسَمَّانِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَلاَمٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি এসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, তখন আমার নাম রাখেন আবদুল্লাহ বিন সালাম। [৩০৬৬]

[৩০৬৬] আবূ দাউদ ২৩২৮০।

৩৩. অধ্যায়ঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নাম ও তাঁর উপনাম একত্র করা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৩৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ تَسَمَّوْا بِاسْمِي وَلاَ تَكَنَّوْا بِكُنْيَتِي ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রেখো, কিন্তু আমার উপনামে নাম রেখো না। [৩০৬৭]

[৩০৬৭] সহীহুল বুখারী ১১০, ৬১৮৮, মুসলিম ২১৩৪, তিরমিযী ২২৮০, ২৮৪১, আবূ দাউদ ৪৯৬৫, আহমাদ ৭৩৩০, ৭৪৭৯, ৭৫৯৭, ৭৬৭১, ৮০৪৭, ৮৮৫০, ৮৮৮৬, ৯৫৫৪, ৯৫৮০, ৯৭২৭, ৯৮৩৫, ৯৯৯৯, ১০১০৪, ১০২৪৯

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৩৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ تَسَمَّوْا بِاسْمِي وَلاَ تَكَنَّوْا بِكُنْيَتِي ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখো, কিন্তু আমার উপনামে নাম রেখো না। [৩০৬৮]

৩০৬৮. সহীহুল বুখারী ৩১১৪, মুসলিম ২১৩৩, তিরমিযী ২৮৪২, আহমাদ ১৩৭৭১, ১৩৮৩৭, ১৩৯৪৭, ১৪৫৪৬, ১৪৭১০।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৩৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِالْبَقِيعِ فَنَادَى رَجُلٌ رَجُلاً يَا أَبَا الْقَاسِمِ فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ إِنِّي لَمْ أَعْنِكَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ تَسَمَّوْا بِاسْمِي وَلاَ تَكْتَنُوا بِكُنْيَتِي ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘বাকী‘’ নামক স্থানে ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে ডাক দিয়ে বললো, হে আবুল কাসিম! এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার দিকে ফিরে তাকালেন। সে বললো, আমি আপনাকে ডাকিনি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখো, কিন্তু আমার উপনামে নাম রেখো না। [৩০৬৯]

[৩০৬৯] সহীহুল বুখারী ২১২০, ২১২১, ৩৫৩৭, মুসলিম ২১৩১, তিরমিযী ২৮৪১, আহমাদ ১১৭২০, ১১৮০৮, ১২৩২০, ১২৫৪৯।

৩৪. অধ্যায়ঃ

সন্তান ভূমিষ্ঠ না হতেই কোন ব্যক্তির উপনাম গ্রহণ

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৩৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ صُهَيْبٍ، أَنَّ عُمَرَ، قَالَ لِصُهَيْبٍ مَا لَكَ تَكْتَنِي بِأَبِي يَحْيَى وَلَيْسَ لَكَ وَلَدٌ ‏.‏ قَالَ كَنَّانِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِأَبِي يَحْيَى ‏.‏

বর্ণনাকারী উমার (রাঃ)

উমার (রাঃ) সুহায়ব (রাঃ) কে বললেন, ব্যাপার কী, তুমি যে আবূ ইয়াহইয়া উপনাম গ্রহণ করেছো, অথচ তোমার কোন সন্তান নেই? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার উপনাম রেখেছেন আবূ ইয়াহইয়া। [৩০৭০]

[৩০৭০] আহমাদ ২৩৪০৮। সহীহাহ ৪৪। উক্ত হাদীসের রাবী যুহায়র বিন মুহাম্মাদ সম্পর্কে আবূ হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় ভুল ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদীস বর্ণনা করেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু আবদুল বার আল-আন্দালাসী বলেন, তিনি সকলের নিকট দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২০১৭, ৯/৪১৪ নং পৃষ্ঠা) ২. আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আকীল সম্পর্কে আবূ আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবূ আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তার থেকে হাদীস গ্রহণ করা যায়। আবূ হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি যাচাই বাছাই ছাড়া হাদীস গ্রহণ করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবূ দাউদ আস সাজিসতানী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় শিথিল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫৪৩, ১৬/৭৮ নং পৃষ্ঠা)

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৩৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ مَوْلًى، لِلزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ، ‏.‏ أَنَّهَا قَالَتْ لِلنَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كُلُّ أَزْوَاجِكَ كَنَّيْتَهُ غَيْرِي ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ فَأَنْتِ أُمُّ عَبْدِ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলেন, আমি ছাড়া আপনার সকল স্ত্রীর উপনাম রেখেছেন। তিনি বলেনঃ তাহলে তুমি উম্মু আবদুল্লাহ। [৩০৭১]

৩০৭১. আবূ দাউদ ৪৯৭০। সহীহাহ ১৩২।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৪০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَأْتِينَا فَيَقُولُ لأَخٍ لِي وَكَانَ صَغِيرًا ‏ "‏ يَا أَبَا عُمَيْرٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এখানে আসতেন এবং আমার এক ছোট্ট ভাইকে আবূ উমাইর বলে ডাকতেন। [৩০৭২]

[৩০৭২] বুখারী ৬১২৯, ৬২০৩, মুসলিম ৪০০৩, তিরমিযী ৩৩৩, ১৯৮৯, আবূ দাউদ ৬৫৮, ৪৯৫৯, আহমাদ ১১৭২৭, ১১৭৮৯, ১২৩৪২, ১২৫৪৫, ১২৬৬৪, ১২৭৯৭, ১২৯১২।

৩৫. অধ্যায়ঃ

উপাধি

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৪১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ دَاوُدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي جَبِيرَةَ بْنِ الضَّحَّاكِ، قَالَ فِينَا نَزَلَتْ مَعْشَرَ الأَنْصَارِ ‏{وَلاَ تَنَابَزُوا بِالأَلْقَابِ‏)‏ قَدِمَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَالرَّجُلُ مِنَّا لَهُ الاِسْمَانِ وَالثَّلاَثَةُ فَكَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رُبَّمَا دَعَاهُمْ بِبَعْضِ تِلْكَ الأَسْمَاءِ فَيُقَالُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ يَغْضَبُ مِنْ هَذَا ‏.‏ فَنَزَلَتْ ‏{وَلاَ تَنَابَزُوا بِالأَلْقَابِ}‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ জাবীরাহ ইবনুদ দাহ্‌হাক (রাঃ)

তিনি বলেন, “তোমরা একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না” (সূরা হুজুরাত : ১১) আয়াতটি আমাদের আনসারদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এখানে আসলেন। আমাদের কারো কারো দু’-তিনটি নাম ছিলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো কখনো সে সব নামের কোন কোনটি ধরে ডাকতেন। তাঁকে বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ নামে সে চটে যায়। তখন “তোমরা পরস্পরকে মন্দ নামে ডেকো না” শীর্ষক আয়াত নাযিল হয়। [৩০৭৩]

[৩০৭৩] তিরমিযী ৩২৬৮।

৩৬. অধ্যায়ঃ

প্রশংসা বা চাটুকারিতা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৪২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ نَحْثُوَ فِي وُجُوهِ الْمَدَّاحِينَ التُّرَابَ ‏.‏

বর্ণনাকারী মিকদাদ বিন আমর (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে চাটুকারদের মুখে ধুলা নিক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। [৩০৭৪]

[৩০৭৪] মুসলিম ৩০০২, তিরমিযী ২৩৯৩, আবূ দাউদ ৪৮০৪, আহমাদ ২৩৩১১। সহীহাহ ৯১১।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৪৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ مَعْبَدٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ مُعَاوِيَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ إِيَّاكُمْ وَالتَّمَادُحَ فَإِنَّهُ الذَّبْحُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী মুআবিয়াহ (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : তোমরা পরস্পরের সামনাসামনি প্রশংসা করো না, কেননা তা হত্যার সমতুল্য। [৩০৭৫]

[৩০৭৫] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহাহ ১১৯৬, ১২৮৪।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৪৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مَدَحَ رَجُلٌ رَجُلاً عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ وَيْحَكَ قَطَعْتَ عُنُقَ صَاحِبِكَ ‏"‏ ‏.‏ مِرَارًا ثُمَّ قَالَ ‏"‏ إِنْ كَانَ أَحَدُكُمْ مَادِحًا أَخَاهُ فَلْيَقُلْ أَحْسِبُهُ وَلاَ أُزَكِّي عَلَى اللَّهِ أَحَدًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ বাকরাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে আরেক ব্যক্তির প্রশংসা করলো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমার জন্য আমার দুঃখ হয়, তুমি তোমার সাথীকে হত্যা করলে। তিনি কথাটি কয়েকবার বললেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যদি তার ভাইয়ের প্রশংসা করতে চায়, তবে সে যেন বলে, আমি এরূপ ধারণা করি। আমি আল্লাহর নিকট কারো সাফাই গাওয়ার অধিকারী নই। [৩০৭৬]

[৩০৭৬] সহীহুল বুখারী ২৬৬২, ৬১৬২, মুসলিম ৩০০০, আবূ দাউদ ৪৮০৫, আহমাদ ১৯৯০৯।

৩৭. অধ্যায়ঃ

পরামর্শদাতা আমানতদার

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৪৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْمُسْتَشَارُ مُؤْتَمَنٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পরামর্শদাতা হলো আমানতদার। [৩০৭৭]

[৩০৭৭] তিরমিযী ২৮২২, আবূ দাউদ ৫১২৮। সহীহাহ ১৬৪১।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৪৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْمُسْتَشَارُ مُؤْتَمَنٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ মাসঊদ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যার কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়, তাকে বিশ্বস্ততা রক্ষা করতে হবে। [৩০৭৮]

[৩০৭৮] আহমাদ ২১৮৫৫, দারিমী ২৪৪৯।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৪৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ هَاشِمٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِذَا اسْتَشَارَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُشِرْ عَلَيْهِ ‏"‏ ‏.

বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের নিকট পরামর্শ চাইলে সে যেন তাকে সঠিক পরামর্শ দেয়। [৩০৭৯]

[৩০৭৯] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। দঈফাহ ২৩১৬, ২৩১৭, দঈফ আল-জামি’ ৩৫৫।

৩৮. অধ্যায়ঃ

গোসলখানায় প্রবেশ করা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৪৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا خَالِي، يَعْلَى وَجَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ الإِفْرِيقِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ تُفْتَحُ لَكُمْ أَرْضُ الأَعَاجِمِ وَسَتَجِدُونَ فِيهَا بُيُوتًا يُقَالُ لَهَا الْحَمَّامَاتُ فَلاَ يَدْخُلْهَا الرِّجَالُ إِلاَّ بِإِزَارٍ وَامْنَعُوا النِّسَاءَ أَنْ يَدْخُلْنَهَا إِلاَّ مَرِيضَةً أَوْ نُفَسَاءَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কতক অনারব ভূমি তোমাদের করায়ত্ত হবে। সেখানে তোমরা হাম্মাম (গোসলখানা) নামে কিছু ঘর দেখতে পাবে। তোমাদের পুরুষরা যেন লুঙ্গি ব্যতীত সেখানে প্রবেশ না করে এবং নারীদেরকে তাতে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখবে, তবে অসুস্থ কিংবা হায়েয-নিফাসগ্রস্ত হলে ঢুকতে পারবে। [৩০৮০]

[৩০৮০] আবু দাউদ ৪০১১। গায়াতুল মারাম ১৯২।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৪৯

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَدَّادٍ، عَنْ أَبِي عُذْرَةَ، - قَالَ وَكَانَ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ - عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَهَى الرِّجَالَ وَالنِّسَاءَ مِنَ الْحَمَّامَاتِ ثُمَّ رَخَّصَ لِلرِّجَالِ أَنْ يَدْخُلُوهَا فِي الْمَيَازِرِ وَلَمْ يُرَخِّصْ لِلنِّسَاءِ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুরুষ ও নারীদের গোসলখানায় প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন। পরে তিনি পুরুষদেরকে লুঙ্গিসহ প্রবেশের অনুমতি দেন কিন্তু নারীদের অনুমতি দেননি। [৩০৮১]

[৩০৮১] তিরমিযী ২৮০২, আহমাদ ৪০০৯। গায়াতুল মারাম ১৯১, নাকদুত তাজ আল-জামি ৬০, আত তা’লীকুর রাগীব ১৮/৮৯।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৫০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ الْهُذَلِيِّ، أَنَّ نِسْوَةً، مِنْ أَهْلِ حِمْصَ اسْتَأْذَنَّ عَلَى عَائِشَةَ فَقَالَتْ لَعَلَّكُنَّ مِنَ اللَّوَاتِي يَدْخُلْنَ الْحَمَّامَاتِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ أَيُّمَا امْرَأَةٍ وَضَعَتْ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِ زَوْجِهَا فَقَدْ هَتَكَتْ سِتْرَ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

(আবুল মালীহ) থেকে বর্ণিত। হিম্‌স নিবাসী কতক নারী আয়িশাহ (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাত প্রার্থনা করলো। তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা গোসলখানায় প্রবেশকারিণিদের অন্তর্ভুক্ত। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : যে কোন নারী স্বামীগৃহ ব্যতীত অন্যত্র তার পরিধেয় বস্ত্র খোলে, সে তার ও আল্লাহর মধ্যকার পর্দা ছিন্ন করলো। [৩০৮২]

[৩০৮২] তিরমিযী ২৮০৩, আবূ দাউদ ৪০১০, আহমাদ ২৩৬২০, ২৪৮৭৯, ২৫০৯৯, ২৫৭৭২, দারিমী ২৬৫১। আত তা’লীকুর রাগীব ১/৯০, ৯১, সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ১৬৪, ১৬৫।

৩৯. অধ্যায়ঃ

চুনা ব্যবহার করা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৫১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ الرُّمَّانِيِّ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا اطَّلَى بَدَأَ بِعَوْرَتِهِ فَطَلاَهَا بِالنُّورَةِ وَسَائِرَ جَسَدِهِ أَهْلُهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী উম্মু সালামাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুনা ব্যবহারকালে প্রথমে তাঁর লজ্জাস্থানে তা লাগাতেন, অতঃপর সমস্ত শরীরে তাঁর স্ত্রীগণ চুনা লাগিয়ে দিতেন। [৩০৮৩]

[৩০৮৩] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৫২

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ كَامِلٍ أَبِي الْعَلاَءِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ اطَّلَى وَوَلِيَ عَانَتَهُ بِيَدِهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী উম্মু সালামাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুনা ব্যবহার করছেন এবং নাভির নীচে নিজ হাতে তা লাগিয়েছেন। [৩০৮৪]

[৩০৮৪] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইসহাক বিন মানসূর সম্পর্কে আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ তবে তিনি শীয়া মতাবলম্বী। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার শীয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮৪, ১/১০৩ নং পৃষ্ঠা) ২. কামিল আবুল আলা’ সম্পর্কে আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৯৩৪, ২৪/৯৯ নং পৃষ্ঠা)

৪০. অধ্যায়ঃ

কিসসা-কাহিনী

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৫৩

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْهِقْلُ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرٍ الأَسْلَمِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لاَ يَقُصُّ عَلَى النَّاسِ إِلاَّ أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُرَاءٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ শাসক অথবা তার অধিনস্থ কর্মচারী অথবা ফেরেববাজরাই মানুষের মধ্যে কিচ্ছা-কাহিনী বলে বেড়ায়। [৩০৮৫]

[৩০৮৫] আহমাদ ৬৬২৩, ৬৬৭৬ দারিমী ২৭৭৯। রাওদুন নাদীর ৫৯৬, মিশকাত ২৪১, ২৪২।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৫৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْعُمَرِيِّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ لَمْ يَكُنِ الْقَصَصُ فِي زَمَنِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَلاَ زَمَنِ أَبِي بَكْرٍ وَلاَ زَمَنِ عُمَرَ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর যুগে এবং আবূ বাক্‌র ও উমার (রাঃ)–র যুগে কিসসা-কাহিনী বর্ণনার প্রচলন ছিলো না। [৩০৮৬]

[৩০৮৬] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

৪১ অধ্যায়ঃ

কবিতা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৫৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ مِنَ الشِّعْرِ لَحِكْمَةً ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী উবাই বিন কা’ব (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, নিশ্চয় কোন কোন কবিতায় প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা আছে। [৩০৮৭]

[৩০৮৭] সহীহুল বুখারী ৬১৪৫, আবূ দাউদ ৫০১০, আহমাদ ২০৬৫১, দারিমী ২৭০৪।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৫৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنِ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَقُولُ ‏ "‏ إِنَّ مِنَ الشِّعْرِ حِكَمًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু আব্বাস (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন : কোন কোন কবিতায় অবশ্যই প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা থাকে। [৩০৮৮]

[৩০৮৮] তিরমিযী ২৮৪৫। সহীহাহ ১৭৩১।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৫৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ أَصْدَقُ كَلِمَةٍ قَالَهَا الشَّاعِرُ كَلِمَةُ لَبِيدٍ أَلاَ كُلُّ شَىْءٍ مَا خَلاَ اللَّهَ بَاطِلُ وَكَادَ أُمَيَّةُ بْنُ أَبِي الصَّلْتِ أَنْ يُسْلِمَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ সবচাইতে সত্য কথা যা কোন কবি বলেছে, তা হলো লাবীদের কথা : “জেনে রাখো ! আল্লাহ ছাড়া সবই নশ্বর। আর উমাইয়া বিন আবুস সাল্‌ত তো প্রায় মুসলমান হয়েই গিয়েছিল”। [৩০৮৯]

[৩০৮৯] সহীহুল বুখারী ৩৮৪১, মুসলিম ২২৫৬, তিরমিযী ২৮৪৯, আহমাদ ৭৩৩৬, ৮৮৪০, ৮৮৬৬, ৯৪৪৪, ৯৫৯০, ৯৭২৪। মুখতাসরুশ শামাইল ২০৭, তাখরীজু ফিকহুস সায়রাহ ২৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৫৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْلَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَنْشَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِائَةَ قَافِيَةٍ مِنْ شِعْرِ أُمَيَّةَ بْنِ أَبِي الصَّلْتِ يَقُولُ بَيْنَ كُلِّ قَافِيَةٍ ‏"‏ هِيهِ ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ ‏"‏ كَادَ أَنْ يُسْلِمَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আশ-শারীদ বিন সুওয়ায়দ (রাঃ)

তিনি বলেন, উমাইয়্যাহ বিন আবুস সালতের কবিতা থেকে এক শত পংক্তি আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আবৃত্তি করে শুনেয়েছি। প্রতিটি পংক্তির পরেই তিনি বলতেন : সেতো মুসলমান হয়েই গিয়েছিল। [৩০৯০]

[৩০৯০] মুসলিম ২২৫৫, আহমাদ ১৮৯৬৩, ১৮৯৭০। আল-মুখতাসার ২১২।

৪২. অধ্যায়ঃ

মন্দ কবিতা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৫৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ وَوَكِيعٌ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لأَنْ يَمْتَلِئَ جَوْفُ الرَّجُلِ قَيْحًا حَتَّى يَرِيَهُ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمْتَلِئَ شِعْرًا ‏"‏ ‏.‏ إِلاَّ أَنَّ حَفْصًا لَمْ يَقُلْ يَرِيَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কারো উদর দুর্গন্ধময় বমিতে পূর্ণ হওয়া কবিতায় পূর্ণ হওয়ার চেয়ে উত্তম। হাফ্‌সা-এর বর্ণনায় “দুর্গন্ধময়” শব্দটি উক্ত হয়নি। [৩০৯১]

[৩০৯১] সহীহুল বুখারী ৬১৫৫, মুসলিম ২২৫৭, তিরমিযী ২৮৫১, আবূ দাউদ ৫০০৯, আহমাদ ৭৮১৪, ৮৮৪২, ৯৮৪১, ৯৮৬৩। সহীহাহ ৩৬৬।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي قَتَادَةُ، عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لأَنْ يَمْتَلِئَ جَوْفُ أَحَدِكُمْ قَيْحًا حَتَّى يَرِيَهُ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمْتَلِئَ شِعْرًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের কারো উদর দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজে পূর্ণ হয়ে যাওয়া তা কবিতায় পূর্ণ হওয়ার চেয়ে উত্তম। [৩০৯২]

[৩০৯২] মুসলিম ২২৫৮, তিরমিযী ২৮৫২, আহমাদ ১৫০৯, ১৫৩৮, ১৫৭৩।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৬১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ شَيْبَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ أَعْظَمَ النَّاسِ فِرْيَةً لَرَجُلٌ هَاجَى رَجُلاً فَهَجَا الْقَبِيلَةَ بِأَسْرِهَا وَرَجُلٌ انْتَفَى مِنْ أَبِيهِ وَزَنَّى أُمَّهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন লোকের বিরুদ্ধে কুৎসামূলক কবিতা বলতে গিয়ে তার গোটা গোত্রের কুৎসা করে এবং যে ব্যক্তি নিজের পিতাকে বাদ দিয়ে অন্যকে পিতৃপরিচয়ে নিজের মাকে ব্যভিচারিণী বানায়, তারা হলো মানুষের মধ্যে সর্বাধিক ঘৃণ্য। [৩০৯৩]

[৩০৯৩] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহাহ ৭৬৩, ১৪৮৭।

৪৩. অধ্যায়ঃ

দাবা ও পাশা খেলা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৬২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি দাবা বা পাশা খেলে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যাচরণ করে। [৩০৯৪]

[৩০৯৪] আবূ দাউদ ৪৯৩৮, আহমাদ ১৯০২৭, ১৯০৫৭, ১৯০৮৩, মুওয়াত্তা’ মালিক ১৭৮৬। ইরওয়া’ ২৬৭০।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৬৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدَشِيرِ فَكَأَنَّمَا غَمَسَ يَدَهُ فِي لَحْمِ خِنْزِيرٍ وَدَمِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী বুরায়দাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি দাবা বা পাশা খেললো, সে যেন শুকরের গোশত ও রক্তের মধ্যে হাত ডুবিয়ে দিলো। [৩০৯৫]

[৩০৯৫] মুসলিম ২২৬০, আবূ দাউদ ৪৯৩৯, আহমাদ ২২৪৭০, ২২৫১৬, ২২৫৪৭। ইরওয়া’ ৮/২৮৬।

৪৪. অধ্যায়ঃ

কবুতর খেলা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৬৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَظَرَ إِلَى إِنْسَانٍ يَتْبَعُ طَائِرًا فَقَالَ ‏ "‏ شَيْطَانٌ يَتْبَعُ شَيْطَانًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে একটি পাখির অনুসরণ করতে দেখে বলেনঃ এক শয়তান আরেক শয়তানের পিছে লেগেছে। [৩০৯৬]

[৩০৯৬] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মিশকাত ৪৫০৬।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৬৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَأَى رَجُلاً يَتْبَعُ حَمَامَةً فَقَالَ ‏ "‏ شَيْطَانٌ يَتْبَعُ شَيْطَانَةً ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে একটি কবুতরের পিছু ধাওয়া করতে দেখে বলেনঃ এক শয়তান আরেক শয়তানীর পিছু নিয়েছে। [৩০৯৭]

[৩০৯৭] আহমাদ ৮৩৩৮। মিশকাত ৪৫০৬।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৬৬

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ الطَّائِفِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَأَى رَجُلاً وَرَاءَ حَمَامَةٍ فَقَالَ ‏ "‏ شَيْطَانٌ يَتْبَعُ شَيْطَانَةً ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী উসমান বিন আফফান (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে একটি কবুতরের পিছে পিছে যেতে দেখে বলেনঃ এক শয়তান আরেক শয়তানীর পিছে লেগেছে। [৩০৯৮]

[৩০৯৮] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৬৭

حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ الْعَسْقَلاَنِيُّ حَدَّثَنَا رَوَّادُ بْنُ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا أَبُو سَعْدٍ السَّاعِدِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَجُلاً يَتْبَعُ حَمَامًا فَقَالَ ‏ "‏ شَيْطَانٌ يَتْبَعُ شَيْطَانًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস বিন মালিক (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে একটি কবুতরের অনুসরণ করতে দেখে বলেনঃ এক শয়তান আরেক শয়তানের পিছে লেগেছে। [৩০৯৯]

[২৯৯৮] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

৪৫. অধ্যায়ঃ

একাকীত্ব অপছন্দনীয়

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৬৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لَوْ يَعْلَمُ أَحَدُكُمْ مَا فِي الْوَحْدَةِ مَا سَارَ أَحَدٌ بِلَيْلٍ وَحْدَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি জানতো যে, একাকীত্বের মধ্যে কী (বিপদ) আছে, তবে সে রাতে একা চলাচল করতো না। [৩১০০]

[২৯৯৯] সহীহুল বুখারী ২৯৯৮, তিরমিযী ১৬৭৩, আহমাদ ৪৭৩৪, ৫২৩০, ৫৫৫৬, ৫৮৭৩, ৫৯৭৩, ৫৯৭৮, দারিমী ২৬৭৯। সহীহাহ ৬১।

৪৬. অধ্যায়ঃ

শয়নকালে আলো নিভিয়ে দেয়া

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৬৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لاَ تَتْرُكُوا النَّارَ فِي بُيُوتِكُمْ حِينَ تَنَامُونَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমরা (রাতে) ঘুমানোর সময় তোমাদের ঘরে আগুন জ্বালিয়ে রেখো না। [৩১০১]

[৩০০০] সহীহুল বুখারী ৬২৯৩, মুসলিম ২০১৫, তিরমিযী ১৮১৩, আবূ দাউদ ৫২৪৬, আহমাদ ৪৫০১, ৪৫৩২, ৫০০৮।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৭০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ احْتَرَقَ بَيْتٌ بِالْمَدِينَةِ عَلَى أَهْلِهِ فَحُدِّثَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِشَأْنِهِمْ فَقَالَ ‏ "‏ إِنَّمَا هَذِهِ النَّارُ عَدُوٌّ لَكُمْ فَإِذَا نِمْتُمْ فَأَطْفِئُوهَا عَنْكُمْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ)

তিনি বলেন, মদীনায় একটি পরিবারের ঘরে আগুন লেগে পুড়ে যায়। তাদের বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জানানো হলে তিনি বলেনঃ নিশ্চয় এ আগুন তোমাদের শত্রু। অতএব তোমরা ঘুমানোর সময় তা নিভিয়ে দাও। [৩১০২]

[৩০০১] সহীহুল বুখারী ৬২৯৪, মুসলিম ২০১৬, আহমাদ ২৭৬৮০।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৭১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَنَهَانَا فَأَمَرَنَا أَنْ نُطْفِئَ سِرَاجَنَا ‏.

বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে আদেশও দিলেন এবং নিষেধও করলেন। তিনি আমাদের নির্দেশ দিলেন, আমরা যেন (ঘুমানোর সময়) আমাদের বাতি নিভিয়ে রাখি। [৩১০৩]

[৩০০২] সহীহুল বুখারী ৬২৯৫, ৬২৯৬, মুসলিম ২০১২, আবূ দাউদ ৩৭৩১, ৩৭৩৩, আহমাদ ১৪০২৫।

৪৭. অধ্যায়ঃ

রাস্তায় অবস্থান করা নিষেধ

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৭২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا هِشَامٌ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ تَنْزِلُوا عَلَى جَوَادِّ الطَّرِيقِ وَلاَ تَقْضُوا عَلَيْهَا الْحَاجَاتِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা রাস্তার উপর অবস্থান করো না এবং তাতে পেশাব-পায়খানায় করো না। [৩১০৪]

[৩০০৩] আহমাদ ২৫৬৯। সহীহাহ ২৪৩৩।

৪৮. অধ্যায়ঃ

একই জন্তুযানে তিনজনের আরোহণ

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৭৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا مُوَرِّقٌ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ تُلُقِّيَ بِنَا ‏.‏ قَالَ فَتُلُقِّيَ بِي وَبِالْحَسَنِ أَوْ بِالْحُسَيْنِ ‏.‏ قَالَ فَحَمَلَ أَحَدَنَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَالآخَرَ خَلْفَهُ حَتَّى قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন জা‘ফর (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফর থেকে ফিরে এসে আমাদের সাথে মিলিত হতেন। আমরা তাকে স্বাগতম জানাতে এগিয়ে গেলে তিনি আমার ও হাসান বা হুসাইনের সাথে মিলিত হন। রাবী বলেন, তিনি আমাদের একজনকে বাহনে তাঁর সামনে এবং অপর জনকে তাঁর পিছনে বসালেন, এভাবে আমরা মদীনায় উপনীত হলাম। [৩১০৫]

[৩০০৪] মুসলিম ২৪২৮, আবূ দাউদ ২৫৬৬, আহমাদ ১৭৪৪, দারিমী ২৬৬৬৫। সহীহ আবূ দাউদ ২৩১২।

৪৯. অধ্যায়ঃ

চিঠিতে মাটি লাগানো

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৭৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا بَقِيَّةُ، أَنْبَأَنَا أَبُو أَحْمَدَ الدِّمَشْقِيُّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ تَرِّبُوا صُحُفَكُمْ أَنْجَحُ لَهَا إِنَّ التُّرَابَ مُبَارَكٌ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমরা তোমাদের লেখার উপর ধুলা মাটি ছড়িয়ে দাও। সেগুলোর জন্য তা অধিক সফলতার কারণ। কেননা মাটি বরকতপূর্ণ। [৩১০৬]

[৩০০৫] তিরমিযী ২৭১৩। দঈফাহ ১৭৩৯, দঈফ আল-জামি‘ ২৪২১।

৫০. অধ্যায়ঃ

তৃতীয় জনকে বাদ দিয়ে দু’জনে যেন কান পরামর্শ না করে

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৭৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِذَا كُنْتُمْ ثَلاَثَةً فَلاَ يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ صَاحِبِهِمَا فَإِنَّ ذَلِكَ يُحْزِنُهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ (বিন মাসঊদ) (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তিনজন একত্র হলে একজনকে বাদ দিয়ে যেন দু’জনে কান পরামর্শ না করে। কেননা তাতে সে চিন্তিত হতে পারে। [৩১০৭]

[৩০০৬] সহীহুল বুখারী ৬২৯০, মুসলিম ২১৮৪, তিরমিযী ২৮২৫, আবূ দাউদ ৪৮৫১, আহমাদ ৩৫৫০, ৪০২৯, ৪০৮২, ৪০৯৫, ৪১৬৪, ৪১৭৯, ৪৩৮১, ৪৩৯৩, ৪৪১০, ৪৪২২, দারিমী ২৬৫৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৭৬

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الثَّالِثِ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তৃতীয় জনকে বাদ দিয়ে দু’জনে কান পরামর্শ করতে নিষেধ করেছেন। [৩১০৮]

[৩০০৭] সহীহুল বুখারী ৬২৮৮, মুসলিম ২১৮৩, আবূ দাউদ ৪৮৫১, আহমাদ ৪৫৫০, ৪৬৫০, ৪৮৫৬, ৫০০৩, ৫০২৬, ৫২৩৬, ৫৪০২, ৫৪৭৭, ৫৯১৩, ৫৯৮৮, ৬০২১, ৬০৪৯, ৬১৯০, ৬২২৮, ৬৩০২,

৫১. অধ্যায়ঃ

কারো সাথে তীর থাকলে সে যেন তার ফলা হাতের মুঠোয় রাখে

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৭৭

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفَيْانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ قُلْتُ لِعَمْرِو بْنِ دِينَارٍ سَمِعْتَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ مَرَّ رَجُلٌ بِسِهَامٍ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أَمْسِكْ بِنِصَالِهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏

বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)

সুফইয়ান বিন উইয়ায়নাহ বলেন, আমি আমর বিন দীনারকে বললাম, আপনি কি জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন, “এক ব্যক্তি তীরসহ মসজিদ অতিক্রম করলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তীরের ‘ফলা’ মুষ্টিবন্ধ রাখো”। তিনি বলেন, হাঁ। [৩১০৯]

[৩০০৮] সহীহুল বুখারী ৪৫১, ৭০৭৩, ৭০৭৪, মুসলিম ২৬১৪, নাসায়ী ৭১৮, আবূ দাউদ ২৫৮৬, আহমাদ ১৩৮৯৮, দারিমী ৬৩৩, ১৪০২। সহীহ আবূ দাউদ ২৩২৯।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৭৮

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِذَا مَرَّ أَحَدُكُمْ فِي مَسْجِدِنَا أَوْ فِي سُوقِنَا وَمَعَهُ نَبْلٌ فَلْيُمْسِكْ عَلَى نِصَالِهَا بِكَفِّهِ أَنْ تُصِيبَ أَحَدًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ بِشَىْءٍ أَوْ فَلْيَقْبِضْ عَلَى نِصَالِهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমাদের কেউ তীরসহ আমাদের মসজিদ অথবা আমাদের বাজার অতিক্রম করলে সে যেন তার তীরের ফলার অংশটুকু মুষ্ঠিবন্ধ করে রাখে, যাতে তা কোন মুসলমানের গায়ে না লাগতে পারে। [৩১১০]

[৩০০৯] সহীহুল বুখারী ৪৫২, ৭০৭৫, মুসলিম ২৬১৫, আবূ দাউদ ২৫৮৭, আহমাদ ১৯০০৬, ১৯০৮০, ১৯১৭৫, ১৯২০৪, ১৯২৫৫।

৫২. অধ্যায়ঃ

কুরআন অধ্যয়নের সওয়াব

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৭৯

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ وَالَّذِي يَقْرَؤُهُ يَتَتَعْتَعُ فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ لَهُ أَجْرَانِ اثْنَانِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কুরআন মজীদে দক্ষ ব্যক্তি (আখেরাতে) সম্মানিত নেককার লিপিকার ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। যে ব্যক্তি ঠেকে ঠেকে কষ্ট করে কুরআন পড়ে সে দু’টি পুরস্কার পাবে। [৩১১১]

[৩০১০] সহীহুল বুখারী ৪৯৩৭, মুসলিম ৭৯৮, তিরমিযী ২৯০৪, আবূ দাউদ ১৪৫৪, আহমাদ ২৩২৯১, ২৪১১৩, ২৪১৪৬, ২৪২৬৭, ২৪৮৩৭, দারিমী ৩৩৬৮। আত তা‘লীকুর রাগীব ২/২০৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৮০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَنْبَأَنَا شَيْبَانُ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ إِذَا دَخَلَ الْجَنَّةَ اقْرَأْ وَاصْعَدْ ‏.‏ فَيَقْرَأُ وَيَصْعَدُ بِكُلِّ آيَةٍ دَرَجَةً حَتَّى يَقْرَأَ آخِرَ شَىْءٍ مَعَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কুরআনের বাহককে জান্নাতে প্রবেশকালে বলা হবে, তুমি পাঠ করতে থাকো এবং উপরে আরোহণ করতে থাকো। অতঃপর সে পড়তে থাকবে এবং প্রতিটি আয়াত পড়ার সাথে সাথে একটি স্তর অতিক্রম করবে। এভাবে সে তার জ্ঞাত শেষ আয়াতটি পর্যন্ত পড়বে। [৩১১২]

[৩০১১] আহমাদ ১০৯৬৮। আত তা‘লীকুর রাগীব ২/২০৮, সহীহাহ ২২৪০, সহীহ আবূ দাউদ ১৩১৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৮১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يَجِيءُ الْقُرْآنُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَالرَّجُلِ الشَّاحِبِ فَيَقُولُ أَنَا الَّذِي أَسْهَرْتُ لَيْلَكَ وَأَظْمَأْتُ نَهَارَكَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী বুরায়দাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন কুরআন পর্যুদস্ত লোকের অবয়বে উপস্থিত হয়ে বলবে, আমিই তোমাকে রাতে বিনিদ্র এবং দিনে পিপাসার্ত করেছি। [৩১১৩]

[৩০১১] দারিমী ৩৩৯১। তাখরীজু শারহুল আকীদাতুত তাহাবীয়াহ ৫৯, দঈফ আল-জামি‘ ৬৪১৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৮২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ إِذَا رَجَعَ إِلَى أَهْلِهِ أَنْ يَجِدَ فِيهِ ثَلاَثَ خَلِفَاتٍ عِظَامٍ سِمَانٍ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَثَلاَثُ آيَاتٍ يَقْرَؤُهُنَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ ثَلاَثِ خَلِفَاتٍ سِمَانٍ عِظَامٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন : তোমাদের কেউ কি তার ঘরে ফিরে এসে সেখানে তিনটি হৃষ্টপুষ্ট গর্ভবতী উষ্ট্রী পেতে পছন্দ করে? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ তার নামাযে তিনটি আয়াত পড়লে তার জন্য হৃষ্টপুষ্ট তিনটি গর্ভবতী উষ্ট্রীর চেয়ে উত্তম। [৩১১৪]

[৩০১২] মুসলিম ৮০২, আহমাদ ৯৬৮৭, ১০০৬৯, দারিমী ৩৩১৪। আত তা‘লীকুর রাগীব ২/২০৬।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৮৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الأَزْهَرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَثَلُ الْقُرْآنِ مَثَلُ الإِبِلِ الْمُعَقَّلَةِ إِنْ تَعَاهَدَهَا صَاحِبُهَا بِعُقُلِهَا أَمْسَكَهَا عَلَيْهِ وَإِنْ أَطْلَقَ عُقُلَهَا ذَهَبَتْ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কুরআনের উদাহরণ হল বেঁধে রাখা উটের (উদাহরণ) তুল্য। উটের মালিক তাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখলে সে তাকে আয়ত্তাধীনে রাখতে পারে, সে যদি তার রশির বাঁধন খুলে দেয় তবে তা ভেগে যায়। [৩১১৫]

[৩০১৩] সহীহুল বুখারী ৫০৩১, মুসলিম ৭৮৯, নাসায়ী ৯৪২, আহমাদ ৪৬৫১, ৪৭৪৫, ৪৮৩০, ৫২৯৩, ৫৮৮৭, মুওয়াত্তা‘ মালিক ৪৭৩। আত তা‘লীকুর রাগীব ২/২১৪।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৮৪

حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏"‏ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ قَسَمْتُ الصَّلاَةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي شَطْرَيْنِ فَنِصْفُهَا لِي وَنِصْفُهَا لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ اقْرَءُوا يَقُولُ الْعَبْدُ ‏{الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ}‏ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ حَمِدَنِي عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ ‏.‏ فَيَقُولُ ‏{الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}‏ فَيَقُولُ أَثْنَى عَلَىَّ عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ ‏.‏ يَقُولُ ‏{مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ }‏ فَيَقُولُ اللَّهُ مَجَّدَنِي عَبْدِي فَهَذَا لِي وَهَذِهِ الآيَةُ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ يَقُولُ الْعَبْدُ ‏{إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ}‏ يَعْنِي فَهَذِهِ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ وَآخِرُ السُّورَةِ لِعَبْدِي يَقُولُ الْعَبْدُ ‏{اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ}‏ فَهَذَا لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : মহামহিম আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি নামাযকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে আধাআধি ভাগ করে নিয়েছি। সলাতের অর্ধেক আমার এবং অর্ধেক আমার বান্দার। আমার বান্দা যা প্রার্থনা করে তাই তাকে দেয়া হয়। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা পড়ো। বান্দা বলে, আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন : (সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের রব আল্লাহর)। তখন মহামহিম আল্লাহ বলেন আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করেছে, তাই তাকে দেয়া হবে। সে বলে, আর-রহমানির রাহীম (তিনি দয়াময় পরম দয়ালু)। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার গুনগান করেছে। আমার বান্দা যা প্রার্থনা করেছে তা পাবে। সে বলে, মালিকি ইয়াওমিদ্দীন (প্রতিফল দিবসের মালিক)। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার মর্যাদা বর্ণনা করেছে। বান্দা বলে : ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন (আমরা কেবল তোমারই ইবাদাত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য চাই)। এটা আমার ও আমার বান্দার জন্য। বান্দা বলে : ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলায়হিম। গায়রিল মাগদূবি আলায়হিম ওয়ালাদ দোয়া-ল্লী-ন (আমাদেরকে সরল ও মজবুত পথ দেখাও। সেই লোকেদের পথ যাদের তুমি নিআমাত দিয়েছো, যারা অভিশপ্ত হয়নি, যারা পথভ্রষ্ট হয়নি)। এটা আমার বান্দার জন্য। আমার বান্দা যা প্রার্থনা করেছে, তাই সে পাবে। [৩১১৬]

[৩০১৪] মুসলিম ৩৯৫, তিরমিযী ২৯৫৩, নাসায়ী ৯০৯, ৮২১, আহমাদ ৭২৪৯, ৭৭৭৭, ৯৬১৬, মুওয়াত্তা‘ মালিক ১৮৯। আত তা‘লীকুর রাগীব ২/২১৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৮৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدِ بْنِ الْمُعَلَّى، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ أَلاَ أُعَلِّمُكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَذَهَبَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لِيَخْرُجَ فَأَذْكَرْتُهُ فَقَالَ ‏"‏ ‏{‏ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ}‏ وَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُوتِيتُهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ ইবনুল মুআল্লা (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ আমি কি মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতম সূরা শিক্ষা দিবো না? রাবী বলেনঃ অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হওয়ার জন্য অগ্রসর হলেন। তখন আমি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেনঃ সূরা আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন (সূরা ফাতিহা)। এটা হলো “সাবউল মাছানী” (বারবার পঠিত সপ্তক) ও মহান কুরআন, যা আমাকে দান করা হয়েছে। [৩১১৭]

[৩০১৫] সহীহুল বুখারী ৪৪৭৪, ৪৬৪৭, ৫০০৬, নাসায়ী ৯১৩, আবূ দাউদ ১৪৫৮, আহমাদ ১৫৩০৩, ১৭৩৯৫, দারিমী ১৪৯২, ৩৩৭১। আত তা‘লীকুর রাগীব ২/২১৬, সহীহ আবূ দাউদ ১৩১১।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৮৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبَّاسٍ الْجُشَمِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ إِنَّ سُورَةً فِي الْقُرْآنِ ثَلاَثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِصَاحِبِهَا حَتَّى غُفِرَ لَهُ ‏{تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ}‏ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কুরআন মজীদে তিরিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা আছে, যা তার তিলাওয়াতকারীর জন্য শাফাআত করবে, শেষে তাকে ক্ষমা করা হবে। তা হলো : তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল “মুলক” (সূরা মুলক)। [৩১১৮]

[৩০১৬] তিরমিযী ২৮৯১, আবূ দাউদ ১৪০০। রাওদুন নাদীর ৬৪, তা‘লীকুর রাগীব ২/২২২, ২২৩, সহীহ আবূ দাউদ ১২৬৫।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৮৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، حَدَّثَنِي سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ ‏{قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}‏ تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ” সূরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য। [৩১১৯]

৩১১৯.মুসলিম ৮১২,তিরমিযী ২৮৯৯,২৯০০,আহমাদ ৯২৫১,দারিমী ৩৪৩২। আত তা’লিকুর রাগিব ২/২৫,সহিহাহ ১৩১৪।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৮৮

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ ‏{قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}‏ تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস বিন মালিক (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ” সূরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য। [৩১২০]

[৩১২০] মুসলিম ২৬১৫,তিরমিযী ২৮৯৮,দারিমী ৩৪৩৮।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৮৯

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ الأَوْدِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ اللَّهُ أَحَدٌ الْوَاحِدُ الصَّمَدُ تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবু মাসউদ আল আনসারী (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “আল-আহাদুল ওয়াহিদুস সামাদ” (ইখলাস) সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য। [৩১২১]

[৩১২১] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। রাওদূন নাদীর ১০২৪।

৫৩. অধ্যায়ঃ

যিকিরের ফাদীলাত

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৯০

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، مَوْلَى ابْنِ عَيَّاشٍ عَنْ أَبِي بَحْرِيَّةَ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِخَيْرِ أَعْمَالِكُمْ وَأَرْضَاهَا عِنْدَ مَلِيكِكُمْ وَأَرْفَعِهَا فِي دَرَجَاتِكُمْ وَخَيْرٍ لَكُمْ مِنْ إِعْطَاءِ الذَّهَبِ وَالْوَرِقِ وَمِنْ أَنْ تَلْقَوْا عَدُوَّكُمْ فَتَضْرِبُوا أَعْنَاقَهُمْ وَيَضْرِبُوا أَعْنَاقَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا وَمَا ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ ذِكْرُ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ مَا عَمِلَ امْرُؤٌ بِعَمَلٍ أَنْجَى لَهُ مِنْ عَذَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ দারদা’ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমি কি তোমাদের আমলসমূহের সর্বোত্তমটি সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করবো না, যা তোমাদের প্রভুর নিকট সরবাধিক প্রিয়, তোমাদের মর্যাদা অধিক উন্নীতকারী, তোমাদের সোনা-রুপা দান করার চেয়ে এবং যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে তোমাদের শত্রুদের হত্যা করা এবং তোমাদের নিহত হওয়ার চেয়ে উত্তম? সাহাবীগণ বলেনঃ ‘ইয়া রাসূলআল্লাহ! সেটি কি? তিনি বলেনঃ আল্লাহর যিকির। মুআয বিন জাবাল (রাঃ) বলেন, কোনো মানুষের জন্য আল্লাহর যিকিরের চেয়ে উত্তম আমল নাই, যা তাকে মহামহিম আল্লাহর শাস্তি থেকে রেহাই দিতে পারে। [৩১২২]

[৩১২২] তিরমিযী ৩৩৭৭,আহমাদ ২১১৯৫, ২৬৯৭৭, মুওয়াত্তা’ মালিক ৪৯০। তাখরিজুল কালিমুত তায়িব ১,মিশকাত ২২৬৯,আত তালিকুব রাগীব ২/২২৮।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৯১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ رُزَيْقٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَغَرِّ أَبِي مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبِي، سَعِيدٍ يَشْهَدَانِ بِهِ عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِسًا يَذْكُرُونَ اللَّهَ فِيهِ إِلاَّ حَفَّتْهُمُ الْمَلاَئِكَةُ وَتَغَشَّتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَتَنَزَّلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ ও আবূ সাঈদ (রাঃ)

তারা উভয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি বলেছেনঃ লোকজন কোন মজলিসে সমবেত হয়ে আল্লাহর যিকিরে রত হলে ফেরেশতাগণ তাদের বেষ্টন করে রাখেন, আল্লাহর রহমত তাদের ঢেকে নেয়, তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল হতে থাকে এবং আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাগণের সামনে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করেন। [৩১২৩]

৩১২৩.তিরমিযী ৩৩৭৮। সহিহাহ ৭৫।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৯২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ أَنَا مَعَ عَبْدِي إِذَا هُوَ ذَكَرَنِي وَتَحَرَّكَتْ بِي شَفَتَاهُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ মহান আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা যখন আমার যিকির করে এবং আমার যিকিরে তার দু’ ঠোঁট নড়াচড়া করে তখন আমি তার সঙ্গে থাকি। [৩১২৪]

[৩১২৪] আহমাদ ১০৫৮৫।আত তা’লীকুর রাগীব ২/২২৭, তাখরিজুল মিশকাত ২২৮৫।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৯৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ قَيْسٍ الْكِنْدِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِنَّ شَرَائِعَ الإِسْلاَمِ قَدْ كَثُرَتْ عَلَىَّ فَأَنْبِئْنِي مِنْهَا بِشَىْءٍ أَتَشَبَّثُ بِهِ ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ لاَ يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন বুসর (রাঃ)

এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বললো, ইসলামের বিধিবিধান আমার জন্য অনেক বেশি হয়ে গেছে। আমাকে তার মধ্যে এমন কিছু বলে দিন যা আমি আঁকড়ে থাকবো। তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহর যিকিরে তোমার জিহ্বা সর্বদা যেন সজীব থাকে। [৩১২৫]

[৩১২৫] তিরমিযী ৩৩৭৫,আহমাদ ১৭২২৭,১৭২৪৫। তাখরিজুল কালিমুত তায়্যিব ৩,আত তা’লীকুর রাগীব ২/২২৭।

৫৪. অধ্যায়ঃ

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর ফাদীলাত

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৯৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ حَمْزَةَ الزَّيَّاتِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَغَرِّ أَبِي مُسْلِمٍ، أَنَّهُ شَهِدَ عَلَى أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ أَنَّهُمَا شَهِدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِذَا قَالَ الْعَبْدُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ ‏.‏ قَالَ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ صَدَقَ عَبْدِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنَا وَأَنَا أَكْبَرُ ‏.‏ وَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ ‏.‏ قَالَ صَدَقَ عَبْدِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنَا وَحْدِي ‏.‏ وَإِذَا قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ‏.‏ قَالَ صَدَقَ عَبْدِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنَا وَلاَ شَرِيكَ لِي ‏.‏ وَإِذَا قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ ‏.‏ قَالَ صَدَقَ عَبْدِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنَا لِيَ الْمُلْكُ وَلِيَ الْحَمْدُ ‏.‏ وَإِذَا قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ ‏.‏ قَالَ صَدَقَ عَبْدِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنَا وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو إِسْحَاقَ ثُمَّ قَالَ الأَغَرُّ شَيْئًا لَمْ أَفْهَمْهُ ‏.‏ قَالَ فَقُلْتُ لأَبِي جَعْفَرٍ مَا قَالَ فَقَالَ مَنْ رُزِقَهُنَّ عِنْدَ مَوْتِهِ لَمْ تَمَسَّهُ النَّارُ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ ও আবূ সাঈদ (রাঃ)

আবূ হুরায়রাহ ও আবূ সাঈদ (রাঃ) সাক্ষ্য দেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দা যখন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর” (আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নাই, আল্লাহ মহান) বলেন, তখন মহান আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নাই এবং আমিই মহান। বান্দা যখন বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু” (আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নাই, তিনি এক), তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে, আমি একা ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নাই। বান্দা যখন বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লা শারীকা লাহু” (আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নাই, তাঁর কোনো শরীক নাই), তখন তিনি বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নাই এবং আমার কোনো শরীক নাই। বান্দা যখন বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হামদু” (আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নাই, তিনিই সার্বভৌমত্বের মালিক এবং সকল প্রশংসা তাঁর), তখন তিনি বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে, আমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই, সার্বভৌমত্ব আমারই এবং সকল প্রশংসা আমারই। যখন সে বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” (আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নাই, আল্লাহ ভিন্ন ক্ষতি রোধ করার এবং কল্যাণ হাসিলের কোনো শক্তি নাই), তখন তিনি বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নাই এবং আমি ভিন্ন ক্ষতি রোধ করার এবং কল্যাণ হাসিলের কোনো শক্তি নাই। আবূ ইসহাক (রাঃ) বলেন, আল-আগার (রাঃ) আরও কিছু বলেছিলেন, যা আমি হৃদয়ঙ্গম করতে পারিনি। তাই আমি আবূ জাফর (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম যে, তিনি কি বলেছিলেন? তিনি বলেন, আল্লাহ যাকে মৃত্যুর সময় এই বাক্য বলার সৌভাগ্য দান করবেন, জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। [৩১২৬]

৩১২৬.তিরমিযী ৩৪৩০। আত তা’লিকুর রাগীব ৪/১৬৫।সহিহাহ ১৩৯০। উক্ত হাদিসের রাবী হামজাহ আয যায়্যাত সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল আযাদী বলেন,তিনি সত্যবাদী তবে তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল।আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সিকাহ।ইবনু আজার আল-আসকালানী বলেন,তিনি সত্যবাদী তবে কখনো কখনো হাদীস বর্ণনায় সন্দেহ করেন।যাকারিয়্যা বিন ইয়াহহিয়া আস সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার স্মৃতি শক্তি দুর্বল। ইয়াহহিয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বলেন।।(তাহযিবুল কামালঃ রাবী নং ১৫০১,৭/৩১৪ নং পৃষ্ঠা )

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৯৫

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ أُمِّهِ، سُعْدَى الْمُرِّيَّةِ قَالَتْ مَرَّ عُمَرُ بِطَلْحَةَ بَعْدَ وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ مَا لَكَ مُكْتَئِبًا أَسَاءَتْكَ إِمْرَةُ ابْنِ عَمِّكَ قَالَ لاَ وَلَكِنْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ إِنِّي لأَعْلَمُ كَلِمَةً لاَ يَقُولُهَا أَحَدٌ عِنْدَ مَوْتِهِ إِلاَّ كَانَتْ نُورًا لِصَحِيفَتِهِ وَإِنَّ جَسَدَهُ وَرُوحَهُ لَيَجِدَانِ لَهَا رَوْحًا عِنْدَ الْمَوْتِ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمْ أَسْأَلْهُ حَتَّى تُوُفِّيَ ‏.‏ قَالَ أَنَا أَعْلَمُهَا هِيَ الَّتِي أَرَادَ عَمَّهُ عَلَيْهَا وَلَوْ عَلِمَ أَنَّ شَيْئًا أَنْجَى لَهُ مِنْهَا لأَمَرَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী তালহা বিন উবায়দুল্লাহ (রাঃ)

(সু’দা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ইনতিকালের পর উমার (রাঃ) তালহা (রাঃ)-র নিকট দিয়ে জেতে তাকে বলেন, তোমার কী হয়েছে? তুমি বিষণ্ণ কেন? তোমার চাচাতো ভাই এর খেলাফত কি তোমার অপছন্দ হয়েছে? তালহা (রাঃ) বলেন, না। বরং আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : আমার এমন একটি বাক্য জানা আছে, যা কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর সময় বললে সেটা তার আমলনামার জন্য নূর হবে এবং নিশ্চয়ই তার দেহ ও আত্মা মৃত্যুর সময় তাকে স্বস্তি দিবে। সেটি আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করিনি, এরই মধ্যে তিনি ইন্তিকাল করেন। উমার (রাঃ) বলেন, আমি সেটি জানি। তা হল সেই কলেমা যা তিনি তাঁর চাচার নিকট পেশ করেছিলেন। যদি তিনি জানতেন যে, সেই কলেমার চেয়েও অধিক নাজাত দানকারী কিছু আছে, তবে অবশ্যই সেটি তিনি সেটি তার চাচার নিকট পেশ করতেন। [৩১২৭]

৩১২৭.আহমাদ ১৩৮৭। তাখরিজুল মুখতার ১১৪,১১৯,২৩৮,২৩৯,আল-আহকাম ৩৪।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৯৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَيَانٍ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ هِصَّانَ بْنِ الْكَاهِلِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا مِنْ نَفْسٍ تَمُوتُ تَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَرْجِعُ ذَلِكَ إِلَى قَلْبٍ مُوقِنٍ إِلاَّ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী মুআয বিন জাবাল (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে কোন ব্যক্তি সর্বান্তঃকরণে এ সাক্ষ্য দিয়ে মারা গেলো, “আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই এবং আমি আল্লাহর রাসূল”, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। [৩১২৮]

৩১২৮.আহমাদ ২১৪৯৩, ২১৫০৪, ২১৫৫৫। সহিহাহঃ ২২৭৮।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৯৭

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ مَنْظُورٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ أُمِّ هَانِئٍ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ لاَ يَسْبِقُهَا عَمَلٌ وَلاَ تَتْرُكُ ذَنْبًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী উম্মু হানী (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (বান্দার) কোন আমলই “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” -কে অতিক্রম করতে পারে না এবং তা কোন গুনাহকেই মাফ না করিয়ে ছাড়ে না। [৩১২৯]

[৩১২৯] হাদীসটি ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।তাখরিজু কালিমাতুল ইখলাস ৫৬ নং পৃষ্ঠা।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৯৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، أَخْبَرَنِي سُمَىٌّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ قَالَ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ كَانَ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ وَكُنَّ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ سَائِرَ يَوْمِهِ إِلَى اللَّيْلِ وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا أَتَى بِهِ إِلاَّ مَنْ قَالَ أَكْثَرَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনে একশত বার বলে, “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তাঁর কোন শরীক নাই, রাজত্ব তাঁরই ও সমস্ত প্রশংসা তাঁর, তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান”, তার জন্য দশটি গোলাম আযাদ করার সমান সওয়াব লেখা হয়, একশত নেকী লেখা হয় এবং তার একশত গুনাহ বিলোপ করা হয়, তার এ শব্দগুলো সারা দিন রাত পর্যন্ত তার জন্য শয়তান থেকে প্রতিবন্ধক হয় এবং তাকে যা দান করা হয় তার চেয়ে উত্তম কিছু নিয়ে অপর কেউ হাজির হতে পারবে না। তবে যে ব্যক্তি এ বাক্য তার চেয়ে অধিক সংখ্যায় পরে তার কথা স্বতন্ত্র। [৩১৩০]

[৩১৩০] সহিহুল বুখারি ৩২৯৩,৬৪০৫,মুসলিম ২৬৯১,২৬৯৩,তিরমিজী ৩৪৬৮,আহমাদ৭৯৪৮,৮৫০২,৮৬১৭,৮৬৫৬,মুয়াত্তা মালিক ৪৮৬,৪৮৮।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৭৯৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ الْمُخْتَارِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَطِيَّةَ الْعَوْفِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ قَالَ فِي دُبُرِ صَلاَةِ الْغَدَاةِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ - كَانَ كَعَتَاقِ رَقَبَةٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ ‏"‏ ‏.

বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজর সালাতের পর বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু বিয়াদিহিল খাইরু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর” (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই, সার্বভৌমত্ব তাঁর, সমস্ত প্রশংসা তাঁর, তাঁর হাতেই সমস্ত কল্যাণ নিহিত এবং তিনিই সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান , সে ঈসমাইলের (আঃ) বংশের একটি গোলাম আজাদ করার সমান সওয়াব পাবে। [৩১৩১]

[৩১৩১] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

৫৫. অধ্যায়ঃ

প্রশংসাকারীদের ফাদীলাত

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮০০

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ كَثِيرِ بْنِ بَشِيرِ بْنِ الْفَاكِهِ، قَالَ سَمِعْتُ طَلْحَةَ بْنَ خِرَاشٍ ابْنَ عَمِّ، جَابِرٍ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ أَفْضَلُ الذِّكْرِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَفْضَلُ الدُّعَاءِ الْحَمْدُ لِلَّهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ)

তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির হল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই) এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দুআ’ হলো “আলহামদু লিল্লাহ” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর)। [৩১৩২]

[৩১৩২] তিরমিজী ৩৩৮৩।১৪৯৭,মিশকাত ২৩০৬। আত তা’লীকুর রাগীব ২/২২৯।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮০১

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ بَشِيرٍ، مَوْلَى الْعُمَرِيِّينَ قَالَ سَمِعْتُ قُدَامَةَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ الْجُمَحِيَّ، يُحَدِّثُ أَنَّهُ كَانَ يَخْتَلِفُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَهُوَ غُلاَمٌ وَعَلَيْهِ ثَوْبَانِ مُعَصْفَرَانِ قَالَ فَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حَدَّثَهُمْ ‏ "‏ أَنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِ اللَّهِ قَالَ يَا رَبِّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا يَنْبَغِي لِجَلاَلِ وَجْهِكَ وَلِعَظِيمِ سُلْطَانِكَ فَعَضَّلَتْ بِالْمَلَكَيْنِ فَلَمْ يَدْرِيَا كَيْفَ يَكْتُبَانِهَا فَصَعِدَا إِلَى السَّمَاءِ وَقَالاَ يَا رَبَّنَا إِنَّ عَبْدَكَ قَدْ قَالَ مَقَالَةً لاَ نَدْرِي كَيْفَ نَكْتُبُهَا ‏.‏ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا قَالَ عَبْدُهُ مَاذَا قَالَ عَبْدِي قَالاَ يَا رَبِّ إِنَّهُ قَالَ يَا رَبِّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا يَنْبَغِي لِجَلاَلِ وَجْهِكَ وَعَظِيمِ سُلْطَانِكَ ‏.‏ فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُمَا اكْتُبَاهَا كَمَا قَالَ عَبْدِي حَتَّى يَلْقَانِي فَأَجْزِيَهُ بِهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর বান্দাগণের মধ্যকার এক বান্দা বললো, “হে প্রভু! আপনার মহিমান্বিত চেহারার এবং আপনার রাজত্বের উপযোগী প্রশংসা আপনার জন্য”। দু’জন ফেরেশতা একথা শুনে হতবাক হলেন এবং তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারলেন না যে, তা কিভাবে লিপিবদ্ধ করবেন। তাই তারা আসমানে আরোহণ করে বলেন, হে আমাদের প্রভু! আপনার এক বান্দা এমন এক বাক্য বলেছে, যা আমরা কিভাবে লিখবো তা বুঝে উঠতে পারছি না। মহান আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, যদিও তাঁর বান্দা যা বলেছে তা তিনি সম্যক অবগত,- আমার বান্দা কি বলেছে? ফেরেশতাদ্বয় বলেন, হে আমাদের প্রভু! সে বলেছে, “হে প্রভু! তোমার মহিমান্বিত চেহারার এবং তোমার মহান রাজত্বের উপযোগী প্রশংসা তোমার জন্য”। মহান আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বলেন, আমার বান্দা যেভাবে বলেছে তদ্রূপই লিখে রাখো। আমার সাথে সাক্ষাত লাভের সময় আমি তাকে তার বিনিময় দান করবো। [৩১৩৩]

[৩১৩৩] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।আত’তালীকুর রাগীব ২/২৫৩।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮০২

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ رَجُلٌ الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ ‏.‏ فَلَمَّا صَلَّى النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ مَنْ ذَا الَّذِي قَالَ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ الرَّجُلُ أَنَا وَمَا أَرَدْتُ إِلاَّ الْخَيْرَ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ لَقَدْ فُتِحَتْ لَهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ فَمَا نَهْنَهَهَا شَىْءٌ دُونَ الْعَرْشِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী ওয়াইল বিন হুজর (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে নামায পড়লাম। এক ব্যক্তি বললো, “আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাসীরান তায়্যিবান মুবারাকান ফীহি” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, পর্যাপ্ত, পবিত্র ও বরকতপূর্ণ প্রশংসা)। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ একথা যে বলেছে, সে কে? লোকটি বললো, আমি, তবে ভালো ছাড়া অন্য কিছু আমার উদ্দেশ্য নয়। তিনি বলেনঃ এই কথাগুলোর জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়েছে এবং আরশে উপনীত হওয়ার পথে কোন কিছুই তার প্রতিবন্ধক হয়নি। [৩১৩৪]

[৩১৩৪] আহমাদ ১৮৩৮১। দঈফ আবু দাউদ ১৩৩। সানাদের সকল রাবী সিকাহ। তবে সানাদে ইনকিতা রয়েছে অর্থাৎ আবদুল জাব্বার বিন ওয়াইল বিন হুজর থেকে হাদীসটি শ্রবণ করেননী। (আশ শাসি ২/৯৩২-৯৩৩)

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮০৩

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ خَالِدٍ الأَزْرَقُ أَبُو مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أُمِّهِ، صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا رَأَى مَا يُحِبُّ قَالَ ‏"‏ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ ‏"‏ ‏.‏ وَإِذَا رَأَى مَا يَكْرَهُ قَالَ ‏"‏ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পছন্দনীয় কিছু দেখলে বলতেন : “আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী বিনিয়’মাতিহি তাতিমুসসালিহাত” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যার করুণায় নেক কাজসমূহ পূর্ণতা লাভ করে)। তিনি অপছন্দনীয় কিছু দেখলে বলতেন : “আলহামদু লিল্লাহি আলা কুল্লি হাল” (সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য)। [৩১৩৫]

[৩১৩৫] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।সহিহাহ ২৬৫।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮০৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَقُولُ ‏ "‏ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ حَالِ أَهْلِ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন : “আলহামদু লিল্লাহি আলা কুল্লি হাল, রব্বি আউযুবিকা মিন হালি আহলিন্‌-নার” (সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার নিকট জাহান্নামীদের অবস্থা থেকে আশ্রয় পার্থনা করি)। [৩১৩৬]

[৩১৩৬] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহিহাহ ২৬৫।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮০৫

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ شَبِيبِ بْنِ بِشْرٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَى عَبْدٍ نِعْمَةً فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ ‏.‏ إِلاَّ كَانَ الَّذِي أَعْطَاهُ أَفْضَلَ مِمَّا أَخَذَ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ কোন বান্দাকে যখন যে নিয়ামতই দান করেন, তাতে সে যদি বলে, “আলহামদু লিল্লাহ”, তবে তা (প্রশংসা) তাকে প্রদত্ত জিনিসের চেয়ে উত্তম। [৩১৩৭]

[৩১৩৭] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

৫৬. অধ্যায়ঃ

তাসবীহ-এর ফাদীলাত

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮০৬

حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ ثَقِيلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দু’টি বাক্য আছে যা উচ্চারণ করতে সহজ, তুলাদণ্ডে পরিমাপে খুবই ভারী এবং করুণাময়ের নিকট খুবই প্রিয় : ‘সুবহানাল্লাহিল ওয়াবিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম’’ (মহাপবিত্র আল্লাহ, তাঁর জন্য সমস্ত প্রশংসা। মহাপবিত্র আল্লাহ, তিনি মহান)। [৩১৩৮]

[৩১৩৮] সহিহুল বুখারী ৬৪০৬,তিরমিযী ৩৪৬৬,৩৪৬৭,৩৯৫৬,আহমাদ ৭১২৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮০৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سَوْدَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَرَّ بِهِ وَهُوَ يَغْرِسُ غَرْسًا فَقَالَ ‏"‏ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ مَا الَّذِي تَغْرِسُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ غِرَاسًا لِي ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى غِرَاسٍ خَيْرٍ لَكَ مِنْ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ قُلْ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ يُغْرَسْ لَكَ بِكُلِّ وَاحِدَةٍ شَجَرَةٌ فِي الْجَنَّةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি একটি চারাগাছ রোপণরত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নিকট দিয়ে যেতে জিজ্ঞেস করলেন : আবূ হুরায়রাহ! কী রোপণ করছো? আমি বললাম, আমার একটি চারা রোপণ করছি। তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাকে এমন কিছু রোপণের কথা বলে দিবো না, যা তোমার জন্য এর চেয়েও উত্তম? তিনি বলেন, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বলেনঃ তুমি বলো, “সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” (সমস্ত পবিত্রতা আল্লাহর, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান)। প্রতিবারে বিনিময়ে তোমার জন্য জান্নাতে একটি করে গাছ রোপিত হবে। [৩১৩৯]

[৩১৩৯] সহীহুল বুখারী ৬৪০৪, তিরমিযী ৩৪৬৬,৩৪৬৭,৩৯৫৬, আহমাদ ৭১২৭। আত তা’লীকুর রাগীব ২/২৪৪।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮০৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي رِشْدِينَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ جُوَيْرِيَةَ، قَالَتْ مَرَّ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حِينَ صَلَّى الْغَدَاةَ أَوْ بَعْدَ مَا صَلَّى الْغَدَاةَ وَهِيَ تَذْكُرُ اللَّهَ فَرَجَعَ حِينَ ارْتَفَعَ النَّهَارُ - أَوْ قَالَ انْتَصَفَ - وَهِيَ كَذَلِكَ فَقَالَ ‏ "‏ لَقَدْ قُلْتُ مُنْذُ قُمْتُ عَنْكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ هِيَ أَكْثَرُ وَأَرْجَحُ - أَوْ أَوْزَنُ - مِمَّا قُلْتِ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ رِضَا نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ ‏"‏ ‏.

বর্ণনাকারী জুওয়ায়রিয়াহ (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের নামায শেষে তার নিকট গেলেন। তখন তিনি (জুয়ায়রিয়াহ) আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত ছিলেন। বেলা বাড়লে বা দিনের অর্ধেক অতিবাহিত হলে তিনি পুনরায় ফিরে এসে জুয়ায়রিয়াহ (রাঃ) কে একই অবস্থায় দেখলেন। তিনি বলেনঃ তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর আমি চারটি কথা তিনবার বলেছি এবং তা তুমি এতক্ষণ যা বলেছ তার চেয়ে ওজনে অনেক বেশি। “সুবহানাল্লাহি আদাদা খালকিহি” (আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর সৃষ্টি সংখ্যার সমান), সুবহানাল্লাহি রিদা নাফসিহী (আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর সন্তুষ্টি মোতাবেক), সুবহানাল্লাহি যিনাতা আরশিহি (আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর আরশের ওজনের সমপরিমাণ) এবং সুবহানাল্লাহি মিদাদা কালিমাতিহি (আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর কালাম সমুহের সমপরিমাণ)। [৩১৪০]

[৩১৪০] মুসলিম ২৭২৬, তিরমিযী ৩৫৫৫, নাসায়ী ১৩৫২, আহমাদ ২৬২১৮,২৬৮৭৫,। সহীহ আবূ দাঊদ ১৩৪৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮০৯

حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عِيسَى الطَّحَّانِ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَوْ عَنْ أَخِيهِ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ مِمَّا تَذْكُرُونَ مِنْ جَلاَلِ اللَّهِ التَّسْبِيحَ وَالتَّهْلِيلَ وَالتَّحْمِيدَ يَنْعَطِفْنَ حَوْلَ الْعَرْشِ لَهُنَّ دَوِيٌّ كَدَوِيِّ النَّحْلِ تُذَكِّرُ بِصَاحِبِهَا أَمَا يُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكُونَ لَهُ - أَوْ لاَ يَزَالَ لَهُ - مَنْ يُذَكِّرُ بِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী নু’মান বিন বাশীর (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাহমীদের (আলহামদু লিল্লাহ)-এর মাধ্যমে তোমরা আল্লাহর যে মহিমা বর্ণনা কর তা মৌমাছির গুঞ্জনের ন্যায় শব্দ করে আরশের চারপাশে ঘুরতে থাকে। সেগুলো নিজ নিজ প্রেরকের কথা উল্লেখ করতে থাকে। তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করে না যে, আল্লাহর নিকট অনবরত তার উল্লেখকারী কেউ থাকুক? [৩১৪১]

[৩১৪১] আহমাদ ১৭৮৯৮,১৭৯২১। মুখতাসারুল উলু ৩২/২৪।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮১০

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى، زَكَرِيَّا بْنُ مَنْظُورٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُقْبَةَ بْنِ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ أُمِّ هَانِئٍ، قَالَتْ أَتَيْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ فَإِنِّي قَدْ كَبِرْتُ وَضَعُفْتُ وَبَدَّنْتُ ‏.‏ فَقَالَ ‏ "‏ كَبِّرِي اللَّهَ مِائَةَ مَرَّةٍ وَاحْمَدِي اللَّهَ مِائَةَ مَرَّةٍ وَسَبِّحِي اللَّهَ مِائَةَ مَرَّةٍ خَيْرٌ مِنْ مِائَةِ فَرَسٍ مُلْجَمٍ مُسْرَجٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَخَيْرٌ مِنْ مِائَةِ بَدَنَةٍ وَخَيْرٌ مِنْ مِائَةِ رَقَبَةٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী উম্মু হানী (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললাম, হে রাসূলাল্লাহ! আমাকে একটা আমল বলে দিন। কেননা এখন তো আমি বৃদ্ধ হয়ে পড়েছি, দুর্বল হয়ে গেছি এবং আমার দেহও ভারী হয়ে গেছে। তিনি বলেনঃ তুমি শতবার আল্লাহু আকবার, শতবার আলহামদু লিল্লাহ এবং শতবার সুবহানাল্লাহ পড়ো। তা জিনপোষ ও লাগামসহ একশত ঘোড়া আল্লাহর পথে (জিহাদে) দান করার চেয়ে উত্তম, একশত উটের চেয়ে উত্তম এবং একশত গোলাম আজাদ করার চেয়ে উত্তম। [৩১৪২]

[৩১৪২] আহমাদ ২৭৭২৩, ২৬৮৪৭। সহীহাহ ১৩১৬।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮১১

حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ، حَفْصُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ أَرْبَعٌ أَفْضَلُ الْكَلاَمِ لاَ يَضُرُّكَ بِأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী সামুরাহ বিন জুনদুব (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ চারটি শ্রেষ্ঠ বাক্য আছে তার যে কোনোটি দিয়ে শুরু করাতে তোমার ক্ষতি নেই, সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ মহাপবিত্র), ওয়ালহামদু লিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর) ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু (আল্লাহ ব্যাতিত কোন ইলাহ নাই) এবং ওয়াল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান)। [৩১৪৩]

[৩১৪৩] মুসলিম ২১৩৭। সহীহাহ ৩৪৬।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮১২

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْوَشَّاءُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ مِائَةَ مَرَّةٍ غُفِرَتْ لَهُ ذُنُوبُهُ وَلَوْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” শতবার বললো, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার ন্যায় (অধিক) হয়। [৩১৪৪]

[৩১৪৪] সহিহুল বুখারী ৬৪০৬, তিরমিযী ৩৪৬৬, ৩৪৬৭, ৩৯৫৬, আহমাদ ৭১২৭। তাখরীজুল কালিমুৎ তায়্যিব ৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮১৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ رَاشِدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ عَلَيْكَ بِسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ فَإِنَّهَا - يَعْنِي - يَحْطُطْنَ الْخَطَايَا كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ দারদা’ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তুমি অবশ্যই “সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” পড়তে থাকো। কারণ তা গুনাহ সমূহঝরিয়ে দেয়, যেমন গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়। [৩১৪৫]

[৩১৪৫] আহমাদ ২১২৩৪। আত তা’লীকুর রাগীব ২/২৪৮, দঈফ আল-জামি ‘৩৭৫০।

৫৭. অধ্যায়ঃ

ক্ষমা প্রার্থনা

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮১৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، وَالْمُحَارِبِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ إِنْ كُنَّا لَنَعُدُّ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي الْمَجْلِسِ يَقُولُ ‏ "‏ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَىَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ‏"‏ ‏.‏ مِائَةَ مَرَّةٍ ‏.‏

বর্ণনাকারী ইবনু উমার (রাঃ)

তিনি বলেন, আমরা গণনা করে দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই মজলিশে শতবার বলতেন, “রব্বিগফির লী ওয়াতুব আলাইয়্যা ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রহীম” (প্রভু! আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার তওবা কবুল কর। কেননা তুমিই তওবা কবুলকারী ও করুণাময়)। [৩১৪৬]

[৩১৪৬] তিরমিযী ৩৪৩৪, আবূ দাউদ ১৫১৬। সহীহাহ ৫৫৬, সহীহ আবূ দাউদ ১৩৫৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮১৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আমি দৈনিক শতবার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তওবা করি। [৩১৪৭]

[৩১৪৭] আহমাদ ৭৭৩৪,৮২৮৮।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮১৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مُغِيرَةَ بْنِ أَبِي الْحُرِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةً ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ মুসা আল-আশাআরী (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আমি দৈনিক সত্তরবার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তওবা করি। [৩১৪৮]

[৩১৪৮] আহমাদ ২২৮২৯।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮১৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْمُغِيرَةِ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ كَانَ فِي لِسَانِي ذَرَبٌ عَلَى أَهْلِي وَكَانَ لاَ يَعْدُوهُمْ إِلَى غَيْرِهِمْ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏ "‏ أَيْنَ أَنْتَ مِنَ الاِسْتِغْفَارِ تَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةً ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী হুযায়ফাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাগে আমার জিহ্বা আমার পরিবারের উপর অসংযত হয়ে যেতো, তবে তা তাদের অতিক্রম করে অন্যদের স্পর্শ করতো না। বিষয়টা আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেনঃ তুমি তোমার ক্ষমা প্রার্থনা থেকে কোথায় আছো? দৈনিক সত্তরবার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। [৩১৪৯]

[৩১৪৯] আহমাদ ২২৮২৯,২২৮৫৩,২২৮৬২,২২৯১২, দারিমী ২৭২৩। রাওদুন নাদীর ২৮০।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮১৮

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرِ بْنِ دِينَارٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عِرْقٍ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ بُسْرٍ، يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ طُوبَى لِمَنْ وَجَدَ فِي صَحِيفَتِهِ اسْتِغْفَارًا كَثِيرًا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন বুসর (রাঃ)

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি তার আমলনামায় অধিক পরিমাণ “ক্ষমা প্রার্থনা” যোগ করতে পেরেছে, তার জন্য সুসংবাদ, আনন্দ। [৩১৫০]

[৩১৫০] হাদীস টি ইমাম ইবনু মাজাহ একক ভাবে বর্ণনা করেছেন। মিশকাত ২৩৬, আত তা’লীকুর রাগীব ২/২৬৮।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮১৯

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُصْعَبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَمِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি সদাসর্বদা ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আল্লহ তাকে প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথ ও প্রতিটি সংকট থেকে উদ্ধারের পথ বের করে দিবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিযিক দান করবেন। [৩১৫১]

[৩১৫১] আবূ দাউদ ১৫১৮। দঈফাহ ৭০৬, দঈফ আবূ দাউদ ২৬৮, আত তালীকুর রাগীব ২/২৬৮, দঈফ আল জামি ৫৮২৯।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮২০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَلَىِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَقُولُ ‏ "‏ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوا وَإِذَا أَسَاءُوا اسْتَغْفَرُوا ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন : হে আল্লাহ! যারা উত্তম কাজ করে আনন্দিত হয় এবং নিকৃষ্ট কাজ করলে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করো। [৩১৫২]

[৩১৫২] আহমাদ ২৪৪৫৯,২৪৫৯৬,২৫০২৩,২৫৪৯০। মিশকাত ২৩৫৭।

৫৮ অধ্যায়ঃ

আমলের ফাদীলাত

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮২১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا وَأَزِيدُ وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَجَزَاءُ سَيِّئَةٍ مِثْلُهَا أَوْ أَغْفِرُ وَمَنْ تَقَرَّبَ مِنِّي شِبْرًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ ذِرَاعًا وَمَنْ تَقَرَّبَ مِنِّي ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ بَاعًا وَمَنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً وَمَنْ لَقِيَنِي بِقِرَابِ الأَرْضِ خَطِيئَةً ثُمَّ لاَ يُشْرِكُ بِي شَيْئًا لَقِيتُهُ بِمِثْلِهَا مَغْفِرَةً ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, যে ব্যাক্তি একটি নেকি আমল করলো, তার জন্য রয়েছে তার দশ গুণ। আমি অবশ্য বাড়াতেও পারি। যে ব্যক্তি কোন পাপ কাজ করলো, তার পাপের শাস্তি হবে তার সম-পরিমাণ অথবা আমি তা ক্ষমাও করতে পারি। যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। আর যে ব্যক্তি এক হাত আমার দিকে অগ্রগামী হয়, আমি এক বাহু তার দিকে অগ্রগামী হই। যে ব্যক্তি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। কোন ব্যক্তি আমার সাথে কোন কিছু শরীক না করা অবস্থায় পৃথিবীপূর্ণ গুনাহ নিয়ে আমার সাথে মিলিত হলেও আমি অনুরূপ পরিমাণ ক্ষমাসহ তার সাথে মিলিত হবো। [৩১৫৩]

[৩১৫৩] মুসলিম ২৬৮৭, আহমাদ ২০৮০৮, ২০৮৫৩,২০৮৬৬,২০৯৬১, ২০৯৭৭, ২১০৫৫, দারিমী ২৭৮৮। রাওদুন নাদীর ৯৫৫, সহীহাহ ৫৮১, ২২৮৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮২২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يَقُولُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي وَأَنَا مَعَهُ حِينَ يَذْكُرُنِي فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلإٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلإٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ وَإِنِ اقْتَرَبَ إِلَىَّ شِبْرًا اقْتَرَبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার সম্পর্কে আমার বান্দার ধারণা মোতাবেক আচরণ করি। সে যখন আমাকে স্মরণ করে, তখন আমি তার সাথেই থাকি। সে যদি মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। সে যদি কোন মজলিসে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে তার আলোচনা করি। সে যদি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই। [৩১৫৪]

[৩১৫৪] সহীহুল বুখারী ৭৪০৫, মুসলিম ২৬৭৫, তিরমিযী ৩৬০৩, আহমাদ ৭৩৭৪, ২৭৪০৯,৮৪৩৬,৯০০১, ৯০৮৭,৯৩৩৪,২৭২৭৯,২৭২৮৩,১০১২০,১০২৪১,১০৪০৩,১০৫২৬। সহীহাহ ২২৮৭।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮২৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ لَهُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ ‏.‏ قَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ إِلاَّ الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আদম-সন্তানের প্রতিটি কাজের সওয়াব দশ থেকে সাতশত গুন পর্যন্ত বর্ধিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, তবে রোযা ব্যতীত। কেননা তা শুধু আমার জন্য এবং আমিই তার পুরষ্কার দিবো। [৩১৫৫]

[৩১৫৫] সহীহুল বুখারী ১৮৯৪, ১৯০৪, ৫৯২৭, ৭৪৯২,৭৫৩৮, মুসলিম ১১৫১, তিরমিযী ৭৬৪, নাসায়ী ২২১৫, ২২১৬, ২২১৭, ২২১৮, ২২১৯, আহমাদ ৭৪৪২, ৭৬৩৬, ২৭৩৪৫, ২৭২৪৮।

৫৯. অধ্যায়ঃ

“লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”-এর ফাদীলাত

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮২৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ سَمِعَنِي النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَنَا أَقُولُ، لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى كَلِمَةٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ قُلْ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ মুসা আল আশআরী (রাঃ)

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে “লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” বলতে শুনে বললেনঃ হে আবদুল্লাহ বিন কায়স! আমি কি তোমাকে এমন এক বাক্যের সন্ধান দিবো না, যা জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের অন্তর্ভুক্ত? আমি বললাম, হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ তুমি বলো “লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”। [৩১৫৬]

[৩১৫৬] সহীহুল বুখারী ৪২০৫, মুসলিম ২৭০৪, তিরমিযী ৩৩৭৪, ২৪৬১, আবূ দাউদ ১৫২৬, আহমাদ ১৯০২৬, ১৯১০২,১৯১৫১,১৯২৪৬,১৯২৫৬। রাওদুন নাদইরঃ ১০৪১।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮২৫

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী আবূ যার্র (রাঃ)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ আমি কি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের একটির সন্ধান দিবো না? আমি বললাম, হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”। [৩১৫৭]

[৩১৫৭] আহমাদ ২০৮২৯, ২০৮৪২, ২০৮৭৯। রাওদুন নাদীর ১০৪১, আত তা’লীকুর রাগীব ২/২৫৬।

সুনানে ইবনে মাজাহ

হাদিস নং ৩৮২৬

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدٍ الْمَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْنٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي زَيْنَبَ، مَوْلَى حَازِمِ بْنِ حَرْمَلَةَ عَنْ حَازِمِ بْنِ حَرْمَلَةَ، قَالَ مَرَرْتُ بِالنَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ لِي ‏ "‏ يَا حَازِمُ أَكْثِرْ مِنْ قَوْلِ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী হাযিম বিন হারমালাহ (রাঃ)

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে বলেনঃ হে হাযিম! তুমি অধিক সংখ্যায় “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” বাক্যটি পড়ো। কেননা তা হলো জান্নাতের গুপ্তধন। [৩১৫৮]

[৩১৫৮] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।মিশকাত ২৩১৯।

সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

32

ট্রানসলেশন ফন্ট সাইজ

18