১. অধ্যায়ঃ
রমাযান মাসের ফাযীলাত
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৮৫
হাদিস নং ২৩৮৫
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রমাযান মাস আসলে জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শাইত্বনগুলোকে শিকলে বন্দী করা হয়। (ই. ফা. ২৩৬২, ই. সে. ২৩৬৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৮৬
হাদিস নং ২৩৮৬
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَنَسٍ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রমাযান মাস উপস্থিত হলে রহমাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শাইত্বনগুলোকে শিকলে আবদ্ধ করা হয়। (ই. ফা. ২৩৬৩, ই. সে. ২৩৬৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৮৭
হাদিস নং ২৩৮৭
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَالْحُلْوَانِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي نَافِعُ بْنُ أَبِي أَنَسٍ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ " . بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন রমাযান মাস আসে ... এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৩৬৪, ই.সে. ২৩৬৫)
২. অধ্যায়ঃ
চাঁদ দেখে সিয়াম পালন করা, চাঁদ দেখে ইফতার করা এবং মাসের প্রথম বা শেষ দিন মেঘাছন্ন থাকলে ত্রিশ দিনে মাস পুরা করা।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৮৮
হাদিস নং ২৩৮৮
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ذَكَرَ رَمَضَانَ فَقَالَ " لاَ تَصُومُوا حَتَّى تَرَوُا الْهِلاَلَ وَلاَ تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ فَإِنْ أُغْمِيَ عَلَيْكُمْ فَاقْدِرُوا لَهُ " .
বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাস প্রসঙ্গে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, তোমরা (রমাযানের) চাঁদ না দেখে রোযা শুরু করবে না এবং চাঁদ (শাও্ওয়াল মাসের চাঁদ) না দেখা পর্যন্ত ইফতারও করো না। আর আকাশ মেঘাছন্ন থাকলে ত্রিশদিন পূর্ণ কর। (ই.ফা. ২৩৬৫, ই.সে. ২৩৬৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৮৯
হাদিস নং ২৩৮৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضى الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ رَمَضَانَ فَضَرَبَ بِيَدَيْهِ فَقَالَ " الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا - ثُمَّ عَقَدَ إِبْهَامَهُ فِي الثَّالِثَةِ - فَصُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ أُغْمِيَ عَلَيْكُمْ فَاقْدِرُوا لَهُ ثَلاَثِينَ " .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি এক হাতের উপর অন্য হাত মেরে (ইঙ্গিত করে) বললেন, মাস এ রকম, এ রকম এবং তৃতীয়বারে বুড়ো আঙ্গুলটি বন্ধ করে হাত মারলেন (অর্থাৎ মাস ঊনত্রিশ দিনে)। তিনি পুনরায় বললেন, তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম পালন কর এবং চাঁদ দেখে ইফতার কর (অর্থাৎ ‘ঈদ কর)। আর যদি আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে তাহলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর। [১] (ই.ফা. ২৩৬৬, ই.সে. ২৩৬৭)
[১] অর্থাৎ ২৯শে শা’বান ঝড় বৃষ্টির কারণে চাঁদ না দেখা যায় তবে শা’বান মাস ত্রিশ পূর্ণ করে পরের দিন থেকে সওম পালন শুরু করবে। অনুরূপভাবে ২৯শে রমাযানে আকাশ মেঘলা থাকার ফলে যদি চন্দ্র দৃষ্টিগোচর না হয় তবে রমাযান ৩০ পূর্ণ করে পরের দিন ‘ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে। অধিকাংশ মুহাদ্দিস এ হাদীসের এই অর্থ করেছেন এবং অন্যান্য হাদীস ও বর্ণনা এ অর্থের পৃষ্টপোষকতা করে।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৯০
হাদিস নং ২৩৯০
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدِرُوا ثَلاَثِينَ " . نَحْوَ حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ .
বর্ণনাকারী ‘উবায়দুল্লাহ (রাঃ) থেকে এ সূত্র
আবূ উসামাহ্ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এতে আছেঃ মাস এরূপ, এরূপ এবং এরূপ। তিনি আরো বলেন, যদি আকাশ মেঘাচছন্ন থাকে তাহলে ত্রিশদিন পূর্ণ কর। হাদীসটি আবূ উসামাহ্ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ই.ফা. ২৩৬৭, ই.সে. ২৩৬৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৯১
হাদিস নং ২৩৯১
وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَمَضَانَ فَقَالَ " الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا " . وَقَالَ " فَاقْدِرُوا لَهُ " . وَلَمْ يَقُلْ " ثَلاَثِينَ " .
বর্ণনাকারী ’উবায়দুল্লাহ (রহঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসের কথা আলোচনা করে বললেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়। এ সময় তিনি তাঁর হস্তদ্বয়ের আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করে বললেন, মাস এতো দিনে হয়, মাস এতো দিনে হয়। তারপর বললেন, তোমরা পূর্ণ কর। কিন্ত ত্রিশ দিনের কথা উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ২৩৬৮, ই.সে. ২৩৬৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৯২
হাদিস নং ২৩৯২
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ فَلاَ تَصُومُوا حَتَّى تَرَوْهُ وَلاَ تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدِرُوا لَهُ " .
বর্ণনাকারী ‘উবায়দুল্লাহ (রাঃ) থেকে এ সূত্র
উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাস সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেনঃ মাস (কোন কোন সময়) ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে। মাস এরূপ, এরূপ এবং এরূপ। তিনি পুনরায় বলেন, মাস গণনা কর। কিন্তু তিনি ত্রিশ দিনের কথা বলেননি। (ই.ফা. ২৩৬৯, ই.সে. ২৩৭০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৯৩
হাদিস নং ২৩৯৩
وَحَدَّثَنِي حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، - وَهُوَ ابْنُ عَلْقَمَةَ - عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ فَإِذَا رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدِرُوا لَهُ " .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সাধারণত মাস ঊনত্রিশ দিনে হয়ে থাকে। তাই (রমাযানের) চাঁদ না দেখে সিয়াম পালন করো না এবং ইফতারও করো না। আর আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলে মাসের ত্রিশদিন পূর্ণ কর। (ই.ফা. ২৩৭০, ই.সে. ২৩৭১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৯৪
হাদিস নং ২৩৯৪
حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدِرُوا لَهُ " .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মাস ঊনত্রিশ দিনে হয়ে থাকে। তাই তোমরা নতুন চাঁদ দেখে সিয়াম রাখা শুরু করো এবং নতুন চাঁদ (শাও্ওয়ালের চাঁদ) দেখে ইফতার কর (ঈদ কর)। আর আকশ মেঘে ঢাকা থাকলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর”। (ই.ফা. ২৩৭১, ই.সে. ২৩৭২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৯৫
হাদিস নং ২৩৯৫
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ، دِينَارٍ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ لَيْلَةً لاَ تَصُومُوا حَتَّى تَرَوْهُ وَلاَ تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ إِلاَّ أَنْ يُغَمَّ عَلَيْكُمْ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدِرُوا لَهُ ".
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম পালন কর (রাখা শুরু কর) এবং চাঁদ দেখে ইফতার কর। আর যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তাহলে ত্রিশ দিনে মাস পূর্ণ কর। (ই.ফা. ২৩৭২, ই.সে. ২৩৭৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৯৬
হাদিস নং ২৩৯৬
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا " . وَقَبَضَ إِبْهَامَهُ فِي الثَّالِثَةِ .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ এত দিনে, এত দিনে এবং এত দিনে মাস হয়। তৃতীয়বার তিনি তাঁর বৃব্ধাঙ্গুলটি বন্ধ করে রাখলেন। (ই.ফা. ২৩৭৩, ই.সে. ২৩৭৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৯৭
হাদিস নং ২৩৯৭
وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا حَسَنٌ الأَشْيَبُ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، قَالَ وَأَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ " .
বর্ণনাকারী ইবনু’ উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, ঊনত্রিশ দিনেও মাস (পূর্ণ) হয়। (ই.ফা. ২৩৭৪, ই.সে. ২৩৭৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৯৮
হাদিস নং ২৩৯৮
وَحَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَكَّائِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا عَشْرًا وَعَشْرًا وَتِسْعًا " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তিনি বলেন, মাস এতো দিনে, এতো দিনে ও এতো দিনে হয়ে থাকে। এ সময় তিনি প্রথমে দশ আঙ্গুলে, দ্বিতীয়বার দশ আঙ্গুলে এবং তৃতীয়বার নয় আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করলেন। (ই.ফা. ২৩৭৫, ই.সে. ২৩৭৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৩৯৯
হাদিস নং ২৩৯৯
وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ جَبَلَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ، عُمَرَ - رضى الله عنهما - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّهْرُ كَذَا وَكَذَا وَكَذَا " . وَصَفَّقَ بِيَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ بِكُلِّ أَصَابِعِهِمَا وَنَقَصَ فِي الصَّفْقَةِ الثَّالِثَةِ إِبْهَامَ الْيُمْنَى أَوِ الْيُسْرَى .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এত এত এবং এত দিনেও মাস হয়। তিনি দু’বার হাত মেরে তাঁর সব আঙ্গুলগুলো খুলে ধরলেন এবং তৃতীয়বার তিনি বাম অথবা ডান হাতের বৃব্ধাঙ্গুলটি বন্ধ করে রাখলেন (অর্থাৎ ইঙ্গিত করে দেখালেন, কোন কোন মাস ঊনত্রিশ দিনে হয়)। (ই.ফা. ২৩৭৬, ই.সে. ২৩৭৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪০০
হাদিস নং ২৪০০
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عُقْبَةَ، - وَهُوَ ابْنُ حُرَيْثٍ - قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ " . وَطَبَّقَ شُعْبَةُ يَدَيْهِ ثَلاَثَ مِرَارٍ وَكَسَرَ الإِبْهَامَ فِي الثَّالِثَةِ . قَالَ عُقْبَةُ وَأَحْسِبُهُ قَالَ " الشَّهْرُ ثَلاَثُونَ " وَطَبَّقَ كَفَّيْهِ ثَلاَثَ مِرَارٍ .
বর্ণনাকারী ‘উক্কবাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ) - কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ঊনত্রিশ দিনেও মাস হয়। শু’বাহ এ হাদীস বর্ণনা করার সময় তাঁর দু’হাত তিনবার বন্ধ করে দেখালেন এবং তৃতীয়বার তাঁর বুড়ো আঙ্গুলটি বাঁকা (নীচু) করে রাখলেন।‘উক্কবাহ্ (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, মাস ত্রিশ দিনেও হয় এবং দু’হাত তিনবার বন্ধ করেছিলেন। (ই.ফা. ২৩৭৭, ই.সে. ২৩৭৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪০১
হাদিস নং ২৪০১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّا أُمَّةٌ أُمِّيَّةٌ لاَ نَكْتُبُ وَلاَ نَحْسُبُ الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا - وَعَقَدَ الإِبْهَامَ فِي الثَّالِثَةِ - وَالشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا " . يَعْنِي تَمَامَ ثَلاَثِينَ .
বর্ণনাকারী সা’ঈদ ইবনু ‘আমর ইবনু সা’ঈদ (রাঃ)
তিনি ইবনু ‘উমারকে বলতে শুনেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমরা উম্মী (নিরক্ষর) জাতি। আমরা লেখিনা এবং হিসাবও করি না। মাসে দিনের সংখ্যা এত, এত এবং এত। তৃতীয়বার তিনি নিজ হাতের বুড়ো আঙ্গুলটি বন্ধ করে দু’হাত দিয়ে ইঙ্গিত করলেন (অর্থাৎ তিনবার ইঙ্গিতে ঊনত্রিশ দিন প্রমাণ করলেন)। আর কোন কোন মাস এত, এত এবং এত দিনেও হয় (অর্থাৎ পূর্ণ ত্রিশ দিন হয়ে থাকে)। (ই.ফা. ২৩৭৮,ই.সে. ২৩৭৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪০২
হাদিস নং ২৪০২
وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرْ لِلشَّهْرِ الثَّانِي ثَلاَثِينَ .
বর্ণনাকারী আসওয়াদ ইবনু কায়স থেকে এ সূত্র
হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্ত এ সূত্রে “দ্বিতীয় মাসের ত্রিশদিন” এ কথা উল্লেখ নেই। (ই.ফা. ২৩৭৯, ই.সে. ২৩৮০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪০৩
হাদিস নং ২৪০৩
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُبَيْدِ، اللَّهِ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، قَالَ سَمِعَ ابْنُ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - رَجُلاً يَقُولُ اللَّيْلَةَ لَيْلَةُ النِّصْفِ فَقَالَ لَهُ مَا يُدْرِيكَ أَنَّ اللَّيْلَةَ النِّصْفُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا " . وَأَشَارَ بِأَصَابِعِهِ الْعَشْرِ مَرَّتَيْنِ " وَهَكَذَا " . فِي الثَّالِثَةِ وَأَشَارَ بِأَصَابِعِهِ كُلِّهَا وَحَبَسَ أَوْ خَنَسَ إِبْهَامَهُ " .
বর্ণনাকারী সা’দ ইবনু ‘উবায়দাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, “আজ রাতে মাসের অর্ধেক হয়ে গেছে”। অতঃপর ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কবে জানলে আজ রাতে মাসের অর্ধেক হয়ে গেছে? অথচ আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দশটি আঙ্গুলের মাধ্যমে ইঙ্গিত করে দু’বার বলতে শুনেছিঃ “মাস এত দিনে ও এত দিনে হয়। তিনি দু’বার আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন। তৃতীয়বারও তিনি তাই করলেন এবং সবগুলো আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন এবং বুড়ো আঙ্গুলটি বন্ধ রাখলেন অথবা নিচু করে রাখলেন। (অর্থাৎ মাস কখনো ঊনত্রিশ দিনে আবার কখনো ত্রিশ দিনে হয়। কাজেই মাস শেষ না হলে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না যে মাসের মধ্যরাত কোন্টি)। (ই.ফা. ২৩৮০, ই.সে. ২৩৮১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪০৪
হাদিস নং ২৪০৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ، الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَصُومُوا ثَلاَثِينَ يَوْمًا " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন; যখন তোমরা চাঁদ দেখবে তখন সওম আরম্ভ করবে এবং যখন চাঁদ দেখবে তখন ইফতার করবে। যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তবে ত্রিশদিন সিয়াম পালন করবে। (ই.ফা. ২৩৮১, ই.সে. ২৩৮২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪০৫
হাদিস নং ২৪০৫
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَلاَّمٍ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ، - يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ - عَنْ مُحَمَّدٍ، - وَهُوَ ابْنُ زِيَادٍ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ غُمِّيَ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا الْعَدَدَ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা (রমাযানের) চাঁদ দেখে সিয়াম পালন শুরু কর এবং (শাও্ওয়ালের) চাঁদ দেখে ইফতার (অর্থাৎ ঈদ) কর। আর যদি (নতুন চাঁদ উদয়ের দিন) আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তাহলে ত্রিশ দিন পূর্ণ কর। (ই.ফা. ২৩৮২, ২৩৮৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪০৬
হাদিস নং ২৪০৬
وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ غُمِّيَ عَلَيْكُمُ الشَّهْرُ فَعُدُّوا ثَلاَثِينَ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম পালন কর এবং চাঁদ দেখে ইফতার কর। আর আকাশ মেঘাছন্ন থাকলে দিনের সংখ্যা (ত্রিশ দিন) পূর্ণ কর। (ই.ফা. ২৩৮৩, ই.সে. ২৩৮৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪০৭
হাদিস নং ২৪০৭
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ، عُمَرَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْهِلاَلَ فَقَالَ " إِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ أُغْمِيَ عَلَيْكُمْ فَعُدُّوا ثَلاَثِينَ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ চাঁদ দেখে সিয়াম পালন কর এবং চাঁদ দেখে ইফত্বার কর (অর্থাৎ সিয়াম সমাপ্ত কর)। আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারণে তোমরা যদি মাসের আরম্ভ বা শেষ সম্পর্কে সন্দিহান হও তাহলে ঐ মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর। (ই.ফা. ২৩৮৪, ই.সে. ২৩৮৫)
৩. অধ্যায়ঃ
রমাযানের এক বা দু’দিন পূর্বে সিয়াম পালন না করা
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪০৮
হাদিস নং ২৪০৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَلِيِّ، بْنِ مُبَارَكٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقَدَّمُوا رَمَضَانَ بِصَوْمِ يَوْمٍ وَلاَ يَوْمَيْنِ إِلاَّ رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صَوْمًا فَلْيَصُمْهُ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রমাযানের একদিন কিংবা দু’দিন পূর্বে তোমরা (নাফ্ল) সওম পালন করো না, তবে যে পূর্ব থেকেই এ সময়ের রোযায় অভ্যস্ত সে সওম পালন করতে পারে। (ই.ফা. ২৩৮৫, ই.সে. ২৩৮৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪০৯
হাদিস নং ২৪০৯
وَحَدَّثَنَاهُ يَحْيَى بْنُ بِشْرٍ الْحَرِيرِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ، مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، كُلُّهُمْ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা রমাযান মাস শুরু হওয়ার একদিন বা দু’দিন পূর্ব থেকে সিয়াম পালন করো না। কিন্তু যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট একদিনে সর্বদাই সিয়াম পালন করে থাকে, আর ঐ নির্দিষ্ট দিনটি যদি চাঁদ উঠার দিন (বা তার আগের দিন) হয় তাহলে সে ঐ দিন সিয়াম পালন করতে পারে। (ই.ফা. ২৩৮৬, ই.সে. ২৩৮৭)
৪. অধ্যায়ঃ
মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪১০
হাদিস নং ২৪১০
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَقْسَمَ أَنْ لاَ يَدْخُلَ عَلَى أَزْوَاجِهِ شَهْرًا - قَالَ الزُّهْرِيُّ - فَأَخْبَرَنِي عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - قَالَتْ لَمَّا مَضَتْ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ لَيْلَةً أَعُدُّهُنَّ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَتْ بَدَأَ بِي - فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ أَقْسَمْتَ أَنْ لاَ تَدْخُلَ عَلَيْنَا شَهْرًا وَإِنَّكَ دَخَلْتَ مِنْ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ أَعُدُّهُنَّ فَقَالَ " إِنَّ الشَّهْرَ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ " .
বর্ণনাকারী যুহরী (রহঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (একবার) এক মাসের জন্য তার স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরে থাকার শপথ করলেন। যুহরী বলেন, ‘উরওয়াহ্ আমাকে এটা ‘আয়িশাহ (রহঃ)-এর সূত্রে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, শপথের পর আমি দিন গণনা করছিলাম, ঊনত্রিশ রাত অতিবাহিত হওয়ার পর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বপ্রথম আমার কাছে আসলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো একমাস আমাদের সান্নিধ্য থেকে দূরে থাকার শপথ করেছেন, অথচ আপনি ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত করে এসেছেন। আমি তো দিনগুলোর পূর্ণ হিসাব রেখেছি। (অর্থাৎ একমাসের একদিন বাকী আছে) তিনি বললেনঃমাস তো ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে। (ই.ফা. ২৩৮৭, ই.সে. ২৩৮৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪১১
হাদিস নং ২৪১১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، - رضى الله عنه - أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اعْتَزَلَ نِسَاءَهُ شَهْرًا فَخَرَجَ إِلَيْنَا فِي تِسْعٍ وَعِشْرِينَ فَقُلْنَا إِنَّمَا الْيَوْمُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ . فَقَالَ " إِنَّمَا الشَّهْرُ " . وَصَفَّقَ بِيَدَيْهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ وَحَبَسَ إِصْبَعًا وَاحِدَةً فِي الآخِرَةِ .
বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক মাসের জন্য তাঁর স্ত্রীদের সান্নিধ্য ত্যাগ করেছিলেন। তিনি ঊনত্রিশতম দিনে আমাদের কাছে আসলেন। আমরা বললাম, আজ তো ঊনত্রিশ দিন? তখন তিনি বললেনঃঊনত্রিশ দিনেও মাস হয়। তিনি তার উভয় হাত তিনবার একত্রে মিলিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন। তৃতীয়বার তিনি একটি আঙ্গুল বন্ধ রাখলেন। (ই.ফা. ২৩৮৮, ই.সে. ২৩৮৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪১২
হাদিস নং ২৪১২
حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَحَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، - رضى الله عنهما - يَقُولُ اعْتَزَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ شَهْرًا فَخَرَجَ إِلَيْنَا صَبَاحَ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا أَصْبَحْنَا لِتِسْعٍ وَعِشْرِينَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الشَّهْرَ يَكُونُ تِسْعًا وَعِشْرِينَ " . ثُمَّ طَبَّقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدَيْهِ ثَلاَثًا مَرَّتَيْنِ بِأَصَابِعِ يَدَيْهِ كُلِّهَا وَالثَّالِثَةَ بِتِسْعٍ مِنْهَا .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের থেকে একমাস বিচ্ছিন্ন থাকলেন। অতঃপর তিনি ঊনত্রিশতম দিনের সকালে আমাদের কাছে আসলেন। উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আজ তো আমরা ঊনত্রিশতম দিনের সকালে উপনীত হয়েছি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ মাস তো ঊনত্রিশ দিনেও হয়। এরপর তিনি তিনবার উভয় হাত মিলালেন। প্রথম দু’বার উভয় হাতের সব আঙ্গুলগুলো একত্রে মিলালেন এবং তৃতীয়বার নয়টি আঙ্গুল একত্রে মিলালেন ও ইঙ্গিতে ঊনত্রিশ দিনে মাস বললেন। (ই.ফা. ২৩৮৯, ই.সে. ২৩৯০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪১৩
হাদিস নং ২৪১৩
حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ صَيْفِيٍّ، أَنَّ عِكْرِمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ - رضى الله عنها - أَخْبَرَتْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَلَفَ أَنْ لاَ يَدْخُلَ عَلَى بَعْضِ أَهْلِهِ شَهْرًا فَلَمَّا مَضَى تِسْعَةٌ وَعِشْرُونَ يَوْمًا غَدَا عَلَيْهِمْ - أَوْ رَاحَ - فَقِيلَ لَهُ حَلَفْتَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَنْ لاَ تَدْخُلَ عَلَيْنَا شَهْرًا . قَالَ " إِنَّ الشَّهْرَ يَكُونُ تِسْعَةً وَعِشْرِينَ يَوْمًا " .
বর্ণনাকারী উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার তাঁর স্ত্রীদের সান্নিধ্য থেকে একমাস দূরে থাকার শপথ করলেন। অতঃপর ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হলে তিনি সকালে অথবা বিকালে তাঁদের কাছে আসলেন। তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহর নাবী! আপনি এক মাস আমাদের কাছে না আসার শপথ করেছেন! তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ঊনত্রিশ দিনেও মাস হয়। (ই.ফা. ২৩৯০, ই.সে. ২৩৯১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪১৪
হাদিস নং ২৪১৪
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا رَوْحٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ، - يَعْنِي أَبَا عَاصِمٍ - جَمِيعًا عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .
বর্ণনাকারী ইবনু জুরায়জ (রহঃ)
এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ২৩৯১, ই.সে. ২৩৯২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪১৫
হাদিস নং ২৪১৫
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، - رضى الله عنه - قَالَ ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ عَلَى الأُخْرَى فَقَالَ " الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا " . ثُمَّ نَقَصَ فِي الثَّالِثَةِ إِصْبَعًا .
বর্ণনাকারী সা’দ ইবনু ওয়াক্কাস (রাঃ)
বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর এক হাত দিয়ে অপর হাতের উপর আঘাত করলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মাস এভাবে এবং এভাবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তৃতীয়বারে একটি আঙ্গুল নীচু করে রাখলেন। (ই.ফা. ২৩৯২, ই.সে. ২৩৯৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪১৬
হাদিস নং ২৪১৬
وَحَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا " . عَشْرًا وَعَشْرًا وَتِسْعًا مَرَّةً .
বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবুন সা’দ থেকে তার পিতার সূত্র
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ মাস এরূপ, এরূপ এবং এরূপ অর্থাৎ দশ দিন, দশ দিন এবং নয় দিন। (ই.ফা. ২৩৯৩, ই.সে. ২৩৯৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪১৭
হাদিস নং ২৪১৭
وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُهْزَاذَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، وَسَلَمَةُ، بْنُ سُلَيْمَانَ قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُبَارَكِ - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ بِمَعْنَى حَدِيثِهِمَا .
বর্ণনাকারী ইসমা’ঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহঃ)
এ সানাদে উপরোক্ত দুটি হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ২৩৯৪, ই.সে. ২৩৯৫)
৫. অধ্যায়ঃ
নিজ নিজ শহরে চন্দ্রোদয়ের হিসাব অনুযায়ী কাজ করতে হবে, এক শহরের চন্দ্রোদয়ের হুকুম উল্লেখযোগ্য দূরত্বে অবস্থিত অন্য শহরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪১৮
হাদিস নং ২৪১৮
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنْ مُحَمَّدٍ، - وَهُوَ ابْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ - عَنْ كُرَيْبٍ، أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ بِنْتَ الْحَارِثِ، بَعَثَتْهُ إِلَى مُعَاوِيَةَ بِالشَّامِ قَالَ فَقَدِمْتُ الشَّامَ فَقَضَيْتُ حَاجَتَهَا وَاسْتُهِلَّ عَلَىَّ رَمَضَانُ وَأَنَا بِالشَّامِ فَرَأَيْتُ الْهِلاَلَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِي آخِرِ الشَّهْرِ فَسَأَلَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - ثُمَّ ذَكَرَ الْهِلاَلَ فَقَالَ مَتَى رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَقُلْتُ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ . فَقَالَ أَنْتَ رَأَيْتَهُ فَقُلْتُ نَعَمْ وَرَآهُ النَّاسُ وَصَامُوا وَصَامَ مُعَاوِيَةُ . فَقَالَ لَكِنَّا رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ السَّبْتِ فَلاَ نَزَالُ نَصُومُ حَتَّى نُكْمِلَ ثَلاَثِينَ أَوْ نَرَاهُ . فَقُلْتُ أَوَلاَ تَكْتَفِي بِرُؤْيَةِ مُعَاوِيَةَ وَصِيَامِهِ فَقَالَ لاَ هَكَذَا أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَشَكَّ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى فِي نَكْتَفِي أَوْ تَكْتَفِي .
বর্ণনাকারী কুরায়ব (রাঃ)
হারিসের কন্যা উম্মুল ফায্ল তাকে সিরিয়ায় মু’আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। কুরায়ব বলেন, অতঃপর আমি সিরিয়া পৌঁছে তার প্রয়োজনীয় কাজ সমাপন করলাম। আমি সিরিয়ায় থাকতেই রমাযান এসে গেল। আমি জুমু’আর রাতে রমাযানের চাঁদ দেখতে পেলাম। অতঃপর মাসের শেষদিকে আমি মাদীনায় ফিরে এলাম। ‘আবদুল্লাহ ইবুন ‘আব্বাস (রাঃ) সিয়াম সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কখন চাঁদ দেখেছ? আমি বললাম, আমি তো জুমু’আর রাতেই চাঁদ দেখেছি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তুমি নিজেই কি তা দেখেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ, অন্যান্য লোকেরাও দেখেছে এবং তারা সিয়াম পালন করেছে। এমনকি মু’আবিয়াহ্ (রাঃ)-ও সিয়াম পালন করেছে। তিনি বলেন, আমরা তো শনিবার রাতে চাঁদ দেখেছি, আমরা পূর্ণ ত্রিশটি রোযা রাখব অথবা এর আগে যদি চাঁদ দেখতে পাই তাহলে তখন ইফত্বার করব। আমি বললাম, আপনি কি মু’আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর চাঁদ দেখা ও সিয়াম পালন করাকে (রমাযান মাস শুরু হওয়ার জন্য) যথেষ্ট মনে করেন না?তিনি বলরেন : না, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এভাবেই (চাঁদ দেখে সিয়াম পালন করা ও ইফত্বার করার জন্য) নির্দেশ দিয়েছেন। (ই.ফা. ২৩৯৫, ই.সে. ২৩৯৬)
৬. অধ্যায়ঃ
চাঁদের আকারে (ত্রিশতম রাতে) ছোট বা বড় দেখা গেলে তাতে হুকুমের কোন পার্থক্য হবে না, আল্লাহ তা’আলা চাঁদকে দৃষ্টিগোচর হওয়ার উপযোগী করে দেন, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে মাসের ত্রিশদিন পূর্ণ করতে হবে
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪১৯
হাদিস নং ২৪১৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ، مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، قَالَ خَرَجْنَا لِلْعُمْرَةِ فَلَمَّا نَزَلْنَا بِبَطْنِ نَخْلَةَ - قَالَ - تَرَاءَيْنَا الْهِلاَلَ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ هُوَ ابْنُ ثَلاَثٍ . وَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ هُوَ ابْنُ لَيْلَتَيْنِ قَالَ فَلَقِينَا ابْنَ عَبَّاسٍ فَقُلْنَا إِنَّا رَأَيْنَا الْهِلاَلَ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ هُوَ ابْنُ ثَلاَثٍ وَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ هُوَ ابْنُ لَيْلَتَيْنِ . فَقَالَ أَىَّ لَيْلَةٍ رَأَيْتُمُوهُ قَالَ فَقُلْنَا لَيْلَةَ كَذَا وَكَذَا . فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ مَدَّهُ لِلرُّؤْيَةِ فَهُوَ لِلَيْلَةِ رَأَيْتُمُوهُ " .
বর্ণনাকারী আবুল বাখতারী (রহঃ)
তিনি বলেন, একবার আমরা ‘উমরাহ্ করার জন্য বের হলাম। যখন আমরা (মাক্কাহ ও তায়িফের মাঝামাঝি অবস্থিত) “বাত্বনে নাখলাহ্” নামক স্থানে অবতরণ করলাম সকলে মিলে চাঁদ দেখতে লাগলাম। লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, এ তো তিনদিনের চাঁদ, আবার কেউ বলল দু’দিনের। বর্ণনাকারী বলেন, পরে আমরা ইবুন ‘আব্বাস (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, আমরা চাঁদ দেখেছি। কিন্তু লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছে, এ তো দু’দিনের চাঁদ আবার কেউ কেউ বলেছে এতো তিন দিনের চাঁদ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোন্ রাতে চাঁদ দেখেছো? আমর বললাম, অমুক দিন, অমুক রাতে। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেদিন রাতে চাঁদ দেখতেন ঐ দিনেরই তারিখ ধরতেন। সুতরাং চাঁদ সে রাতেই উঠেছে যে রাতে তোমরা দেখেছো। (ই.ফা. ২৩৯৬, ই.সে. ২৩৯৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪২০
হাদিস নং ২৪২০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْبَخْتَرِيِّ، قَالَ أَهْلَلْنَا رَمَضَانَ وَنَحْنُ بِذَاتِ عِرْقٍ فَأَرْسَلْنَا رَجُلاً إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - يَسْأَلُهُ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَمَدَّهُ لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ أُغْمِيَ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ " .
বর্ণনাকারী আবুল বাখতারী (রহঃ)
তিনি বলেন, “আমরা যখন যাতু ‘ইর্ক্ব নামক স্থানে অবস্থান করছিলাম তখন রমাযানের চাঁদ দেখেতে পেলাম। অতঃপর আমরা এক ব্যক্তিকে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠালাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনেঃ আল্লাহ তা’আলা চাঁদ দেখার সাথে মাস নির্ধারণ করেছেন, যদি তোমাদের নিকট অপ্রকাশিত থাকে (মেঘের কারণে) তাহলে তোমরা (ত্রিশ দিনে) মাস পূর্ণ কর। (ই.ফা. ২৩৯৭, ই.সে. ২৩৯৮)
৭. অধ্যায়ঃ
মহানাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী : “ঈদের দু’মাস অসম্পূর্ণ হয় না”
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪২১
হাদিস নং ২৪২১
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِيهِ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " شَهْرَا عِيدٍ لاَ يَنْقُصَانِ رَمَضَانُ وَذُو الْحِجَّةِ " .
বর্ণনাকারী 'আব্দুর রহমান ইবুন আবূ বাক্রাহ্ তার পিতা (রাঃ)
বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘ঈদের দু’মাস অসম্পূর্ণ হয় না। সে মাস দু’টি হলো রমাযান ও যিলহাজ্জ। [৪] (ই.ফা. ২৩৯৮, ই.সে. ২৩৯৮[ক])
[৪] সহীহ ও গ্রহণযোগ্য কথা হলো, এ উভয় মাসের সাওয়াব কোন অবস্থায় ঘাটতি পড়বে না ত্রিশ দিনে হোক বা ঊনত্রিশ দিনে। ফলকথা এই যে, একদিন কম হওয়ার কারণে যে, সাওয়াবও কম হবে তা নয়; আবার কেউ বলেছেন, একই বছরে উভয় মাস ঊনত্রিশ দিনে হয় না। যদি এক মাস ঊনত্রিশ দিনে হয় তবে অন্য মাস ত্রিশ দিনে। আবার কেউ বলেছেন, সাওয়াবের দিক দিয়ে উভয় মাস সমান অর্থাৎ রমাযানে সওম পালন আছে অন্য দিকে যিলহাজ্জ মাসে আছে হাজ্জ পালন। কিন্তু এ সকল অভিমত সঠিক নয় দুর্বল বরং সঠিক কথা তাই যা প্রথমে বলা হয়েছে।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪২২
হাদিস নং ২৪২২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ سُوَيْدٍ، وَخَالِدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " شَهْرَا عِيدٍ لاَ يَنْقُصَانِ " . فِي حَدِيثِ خَالِدٍ " شَهْرَا عِيدٍ رَمَضَانُ وَذُو الْحِجَّةِ " .
বর্ণনাকারী আবূ বাক্রাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ঈদের দু’মাস অসম্পূর্ণ হয় না। খালিদের বর্ণিত হাদীসে আছেঃ ঈদের দু’মাস হচ্ছে রমাযান এবং যিলহাজ্জ। (ই.ফা. ২৩৯৯, ই.সে. ২৩৯৯)
৮. অধ্যায়ঃ
সুবহে সাদিকের পূর্বে পানাহার করা বৈধ, তবে সুবহে সাদিকের সাথে সাথেই সওম আরম্ভ হয়ে যায়, কুরআনে বর্ণিত ‘ফাজ্র’ শব্দের অর্থ হচ্ছে সুব্হি সাদিক, এ সময় হতেই সওম আরম্ভ হয় এবং ফাজ্বরের সলাতের সময় শুরু হয়, সওমের বিধি-বিধানের সাথে সুব্হি কাযিবের কোন সম্পর্ক নেই
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪২৩
হাদিস নং ২৪২৩
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، - رضى الله عنه - قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ { حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ} قَالَ لَهُ عَدِيُّ بْنُ حَاتِمٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَجْعَلُ تَحْتَ وِسَادَتِي عِقَالَيْنِ عِقَالاً أَبْيَضَ وَعِقَالاً أَسْوَدَ أَعْرِفُ اللَّيْلَ مِنَ النَّهَارِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ وِسَادَتَكَ لَعَرِيضٌ إِنَّمَا هُوَ سَوَادُ اللَّيْلِ وَبَيَاضُ النَّهَارِ " .
বর্ণনাকারী ‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ)
তিনি বলেছেন, যখন এ আয়াত (আরবী) “তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ তোমাদের সামনে কালো রেখা থেকে সাদা রেখা সুস্পষ্ট হয়ে না উঠে”- (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ : ১৮৭) নাযিল হলো, তখন ‘আদী (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার বালিশের নীচে একটি কালো ও একটি সাদা রংয়ের রশি রেখে দিয়েছি। এগুলোর দ্বারা আমি রাত ও দিনের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে থাকি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (হাসি-ঠাট্টাচ্ছলে) বললেন, তোমার বালিশ তো খুবই চওড়া। জেনে রাখো, এ-তো রাতের অন্ধকার ও দিনের শুভ্রতা। (ই.ফা. ২৪০০, ই.সে. ২৪০০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪২৪
হাদিস নং ২৪২৪
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ { وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ} قَالَ كَانَ الرَّجُلُ يَأْخُذُ خَيْطًا أَبْيَضَ وَخَيْطًا أَسْوَدَ فَيَأْكُلُ حَتَّى يَسْتَبِينَهُمَا حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { مِنَ الْفَجْرِ} فَبَيَّنَ ذَلِكَ .
বর্ণনাকারী সাহ্ল ইবনু সা’দ (রাঃ)
তিনি বলেন, (আরবী) “তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ তোমাদের সামনে কালো রেখা থেকে সাদা রেখা সুস্পষ্ট হয়ে না উঠে”- (সূরাহ আল বাক্বারাহ্ ২ : ১৮৭) নাযিল হ’ল, তখন লোকেরা একটি কালো এবং একটি সাদা রশি রাখত। তারা উভয় রশি সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত না হওয়া পর্যন্ত খেতে থাকত। এরপর মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তা’আলা (আরবী) (ফাজরের) কথাটি নাযিল করে বিষয়টির অস্পষ্টতা ও জটিলতা দূরীভূত হলো। (ই.ফা. ২৪০১, ই.সে. ২৪০১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪২৫
হাদিস নং ২৪২৫
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلٍ التَّمِيمِيُّ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو غَسَّانَ، حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، - رضى الله عنه - قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ { وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ} قَالَ فَكَانَ الرَّجُلُ إِذَا أَرَادَ الصَّوْمَ رَبَطَ أَحَدُهُمْ فِي رِجْلَيْهِ الْخَيْطَ الأَسْوَدَ وَالْخَيْطَ الأَبْيَضَ فَلاَ يَزَالُ يَأْكُلُ وَيَشْرَبُ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُ رِئْيُهُمَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ بَعْدَ ذَلِكَ { مِنَ الْفَجْرِ} فَعَلِمُوا أَنَّمَا يَعْنِي بِذَلِكَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ .
বর্ণনাকারী সাহ্ল ইবনু সা’দ (রাঃ)
তিনি বলেন, যখন এ আয়াত- (আরবী) “তোমরা সাদা রেখা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত পানাহার কর” অবতীর্ণ হলো- কোন ব্যক্তি সিয়াম পালন করার ইচ্ছা করত এবং নিজের উভয় পায়ে সাদা ও কালো দু’টি সূতা বেঁধে নিত। অতঃপর সাদা ও কালো বর্ণ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত পানাহার করতে থাকত। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা “ফাজ্রের” কথাটি অবতীর্ণ করলেন। তখন তারা সকলেই জানতে পারল যে, সাদা ও কালো রেখার অর্থ হলো রাত (রাতের অন্ধকার) ও দিন (দিনের আলো)। (ই.ফা. ২৪০২, ই.সে. ২৪০২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪২৬
হাদিস নং ২৪২৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ، سَعِيدٍ حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، - رضى الله عنه - عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " إِنَّ بِلاَلاً يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى تَسْمَعُوا تَأْذِينَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “বিলাল রাত থাকতে আযান দেয়। তাই তোমরা ইবনু মাকতূমের আযান শুনতে না পাওয়া পর্যন্ত পানাহার করতে থাক”। (ই.ফা. ২৪০৩, ই.সে. ২৪০৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪২৭
হাদিস নং ২৪২৭
حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ بِلاَلاً يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى تَسْمَعُوا أَذَانَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “বিলাল রাত থাকতে আযান দেয়। তাই তোমরা ইবনু মাকতূমের আযান না শুনা পর্যন্ত পানাহার করতে থাক”। (ই.ফা. ২৪০৪, ই.সে. ২৪০৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪২৮
হাদিস নং ২৪২৮
حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - قَالَ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُؤَذِّنَانِ بِلاَلٌ وَابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ الأَعْمَى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ بِلاَلاً يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُؤَذِّنَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ " . قَالَ وَلَمْ يَكُنْ بَيْنَهُمَا إِلاَّ أَنْ يَنْزِلَ هَذَا وَيَرْقَى هَذَا .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দু’জন মুয়ায্যিন ছিলেন, তারা হলেন, বিলাল (রাঃ) ও উম্মু মাকতূমের অন্ধ ছেলে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ বিলাল (রাঃ) রাতেই আযান দেয়। অতএব ইবনু উম্মু মাকতূম আযান না দেয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার কর। বর্ণনাকারী বলেনঃ দু’জনের আযানের ব্যবধান ছিল যে, একজন আযান দিয়ে নামত অপরজন আযান দিতে আরোহন করত। (ই.ফা. ২৪০৫, ই.সে. ২৪০৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪২৯
হাদিস নং ২৪২৯
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৪০৬, ই.সে. ২৪০৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৩০
হাদিস নং ২৪৩০
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ مَسْعَدَةَ، كُلُّهُمْ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، بِالإِسْنَادَيْنِ كِلَيْهِمَا . نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ نُمَيْرٍ .
বর্ণনাকারী আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্, ইসহাক্ব, ইবনুল মুসান্না এরা ‘উবায়দুল্লাহ (রাঃ)-এর বরাত
ইবনু নুমায়রের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৪০৭, ই.সে. ২৪০৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৩১
হাদিস নং ২৪৩১
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي، عُثْمَانَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَمْنَعَنَّ أَحَدًا مِنْكُمْ أَذَانُ بِلاَلٍ - أَوْ قَالَ نِدَاءُ بِلاَلٍ - مِنْ سَحُورِهِ فَإِنَّهُ يُؤَذِّنُ - أَوْ قَالَ يُنَادِي - بِلَيْلٍ لِيَرْجِعَ قَائِمَكُمْ وَيُوقِظَ نَائِمَكُمْ " . وَقَالَ " لَيْسَ أَنْ يَقُولَ هَكَذَا وَهَكَذَا - وَصَوَّبَ يَدَهُ وَرَفَعَهَا - حَتَّى يَقُولَ هَكَذَا " . وَفَرَّجَ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ .
বর্ণনাকারী ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কাউকেই যেন বিলালের আযান অবশ্যই তার সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে। কেননা সে রাতেই আযান দেয়, যাতে তোমাদের ক্বিয়ামকারীগণ সাহরী খেতে শুরু করে এবং ঘুমন্ত ব্যক্তি সাহ্রী খাওয়ার জন্য জাগে। তিনি তাঁর হাতে আঙ্গুল ফাঁকা করে দু’জনের আযানের সময়ের ব্যবধান বুঝালেন। (ই.ফা. ২৪০৮, ই.সে. ২৪০৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৩২
হাদিস নং ২৪৩২
حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، - يَعْنِي الأَحْمَرَ - عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " إِنَّ الْفَجْرَ لَيْسَ الَّذِي يَقُولُ هَكَذَا " . وَجَمَعَ أَصَابِعَهُ ثُمَّ نَكَسَهَا إِلَى الأَرْضِ " وَلَكِنِ الَّذِي يَقُولُ هَكَذَا " . وَوَضَعَ الْمُسَبِّحَةَ عَلَى الْمُسَبِّحَةِ وَمَدَّ يَدَيْهِ .
বর্ণনাকারী সুলায়মান আত্ তায়মী (রহঃ)
এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেনঃ এটাকে ফজর বলে না- এ বলে তিনি তার আঙ্গুলগুলো একত্র করলেন অতঃপর তা মাটির (পৃথিবীর) দিকে উল্টালেন। বরং ফজর এটাকে বলে- এ বলে তাসবীহ পাঠের আঙ্গুলের উপর আরেক তাসবীহ পাঠের আঙ্গুল স্থাপন করে তার দু’হাত সম্প্রসারণ করলেন। (ই.ফা. ২৪০৯, ই.সে. ২৪০৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৩৩
হাদিস নং ২৪৩৩
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ، إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، وَالْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، كِلاَهُمَا عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَانْتَهَى حَدِيثُ الْمُعْتَمِرِ عِنْدَ قَوْلِهِ " يُنَبِّهُ نَائِمَكُمْ وَيَرْجِعُ قَائِمَكُمْ " . وَقَالَ إِسْحَاقُ قَالَ جَرِيرٌ فِي حَدِيثِهِ " وَلَيْسَ أَنْ يَقُولَ هَكَذَا وَلَكِنْ يَقُولُ هَكَذَا " . يَعْنِي الْفَجْرَ هُوَ الْمُعْتَرِضُ وَلَيْسَ بِالْمُسْتَطِيلِ .
বর্ণনাকারী আবূ বাকর ইবনু শায়বাহ্, ইসহাক্ব ইবনু ইবরাহীম, জারীর ও মু’তামির উভয়েই সুলায়মান আত্ তায়মী (রহঃ)-এর বরাতে অত্র সানাদ
অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। মু’তামির-এর হাদীস এ পর্যন্ত শেষ হয়েছে “তোমাদের ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগিয়ে দেন বরং ক্বিয়ামকারীদেরকে ফিরিয়ে দেন। জারীরের হাদীসে এ কথাও আছে যে, লম্বা রেখাকে ফজর বলে না বরং ফজর বলে প্রশস্ত আলোকে”। (ই.ফা. ২৪১০, ই.সে. ২৪১০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৩৪
হাদিস নং ২৪৩৪
حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَوَادَةَ الْقُشَيْرِيِّ، حَدَّثَنِي وَالِدِي، أَنَّهُ سَمِعَ سَمُرَةَ بْنَ جُنْدُبٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ مُحَمَّدًا، صلى الله عليه وسلم يَقُولُ
বর্ণনাকারী সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, বিলালের আহ্বান যেন তোমাদেরকে সাহরী খাওয়া থেকে ধোঁকায় না ফেলে এবং এ শুভ্র রেখাও; যতক্ষণ পর্যন্ত তা বিস্তৃত হয়ে প্রতিভাত হয়। (ই.ফা. ২৪১১, ই.সে. ২৪১১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৩৫
হাদিস নং ২৪৩৫
وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَوَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَغُرَّنَّكُمْ أَذَانُ بِلاَلٍ وَلاَ هَذَا الْبَيَاضُ - لِعَمُودِ الصُّبْحِ - حَتَّى يَسْتَطِيرَ هَكَذَا ".
বর্ণনাকারী সামুরাহ্ ইবুন জুনদুব (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে এবং এ শুভ্র রেখা ও যা স্তম্ভের ন্যায় দেখা যায়, যতক্ষণ না তা বিস্তৃত উদ্ভাসিত হবে। (ই.ফা. ২৪১২, ই.সে. ২৪১২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৩৬
হাদিস নং ২৪৩৬
وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، بْنُ سَوَادَةَ الْقُشَيْرِيُّ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَغُرَّنَّكُمْ مِنْ سَحُورِكُمْ أَذَانُ بِلاَلٍ وَلاَ بَيَاضُ الأُفُقِ الْمُسْتَطِيلُ هَكَذَا حَتَّى يَسْتَطِيرَ هَكَذَا " . وَحَكَاهُ حَمَّادٌ بِيَدَيْهِ قَالَ يَعْنِي مُعْتَرِضًا .
বর্ণনাকারী সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বিলালের আযান এবং আকাশ প্রান্তে এ লম্বা রেখা যেন তোমাদেরকে সাহরী খাওয়ার ব্যাপারে ধোঁকায় না ফেলে যতক্ষণ পর্যন্ত না এ শুভ্র রেখা পূর্বাকাশে এভাবে বিস্তৃত হয়। হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, এ সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উভয় হাত দ্বারা আড়াআড়ি হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। (ই.ফা. ২৪১৩, ই.সে. ২৪১৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৩৭
হাদিস নং ২৪৩৭
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَوَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ سَمُرَةَ، بْنَ جُنْدَبٍ - رضى الله عنه - وَهُوَ يَخْطُبُ يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ يَغُرَّنَّكُمْ نِدَاءُ بِلاَلٍ وَلاَ هَذَا الْبَيَاضُ حَتَّى يَبْدُوَ الْفَجْرُ - أَوْ قَالَ - حَتَّى يَنْفَجِرَ الْفَجْرُ " .
বর্ণনাকারী সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ বিলালের আযান এবং এ শুভ্র রেখা যেন তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে যতক্ষণ পর্যন্ত না সুবহে সাদিক সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয়। (ই.ফা. ২৪১৪, ই.সে. ২৪১৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৩৮
হাদিস নং ২৪৩৮
وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي سَوَادَةُ بْنُ حَنْظَلَةَ، الْقُشَيْرِيُّ قَالَ سَمِعْتُ سَمُرَةَ بْنَ جُنْدَبٍ، - رضى الله عنه - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَذَكَرَ هَذَا .
বর্ণনাকারী সামুরাহ্ ইবুন জুনদুব (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুরূপ আলোচনা করেছেন। (ই.ফা. ২৪১৫, ই.সে. ২৪১৪[ক])
৯. অধ্যায়ঃ
সাহরীর ফাযীলাত, সাহরী খাওয়া মুস্তাহাব, এর প্রতি গুরুত্বারোপ এবং সাহরী বিলম্বে খাওয়া ও ইফত্বার তাড়াতাড়ি করা মুস্তাহাব
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৩৯
হাদিস নং ২৪৩৯
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، ح . وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه ح . وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، وَعَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السُّحُورِ بَرَكَةً " .
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা সাহ্রী খাও, সাহ্রীতে বারাকাত রয়েছে। (ই.ফা. ২৪১৬, ই.সে. ২৪১৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৪০
হাদিস নং ২৪৪০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، مَوْلَى عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فَصْلُ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ أَكْلَةُ السَّحَرِ " .
বর্ণনাকারী ‘আম্র ইবনু ‘আস (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমাদের ও কিতাবীদের সিয়ামের মধ্যে পার্থক্য হ’ল সাহরি খাওয়া। (ই.ফা. ২৪১৭, ই.সে. ২৪১৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৪১
হাদিস নং ২৪৪১
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ جَمِيعًا عَنْ وَكِيعٍ، ح وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، كِلاَهُمَا عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىٍّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .
বর্ণনাকারী মূসা ইবনু ‘উলাইয়্যা (রহঃ)-এর সূত্র
এ সানাদে হাদীস বর্ণিত আছে। (ই.ফা. ২৪১৮, ই.সে. ২৪১৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৪২
হাদিস নং ২৪৪২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، - رضى الله عنه - قَالَ تَسَحَّرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قُمْنَا إِلَى الصَّلاَةِ . قُلْتُ كَمْ كَانَ قَدْرُ مَا بَيْنَهُمَا قَالَ خَمْسِينَ آيَةً .
বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সাহ্রী খেয়ে সালাতে দাঁড়ালাম। [রাবী আনাস (রাঃ) বলেন] আমি যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, সাহ্রী ও আযানের মধ্যে কত সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বলরেন, পঞ্চাশ আয়াত পড়ার মতো সময়ের। (ই.ফা. ২৪১৯, ই.সে. ২৪১৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৪৩
হাদিস নং ২৪৪৩
وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ نُوحٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَامِرٍ، كِلاَهُمَا عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .
বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)
এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৪২০, ই.সে. ২৪১৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৪৪
হাদিস নং ২৪৪৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَهْلِ، بْنِ سَعْدٍ - رضى الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ " .
বর্ণনাকারী সাহ্ল ইবনু সা’দ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যতদিন মানুষ বিলম্ব না করে ইফত্বার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। (ই.ফা. ২৪২১, ই.সে. ২৪২০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৪৫
হাদিস নং ২৪৪৫
وَحَدَّثَنَاهُ قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ سُفْيَانَ، كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৪২২, ই.সে. ২৪২১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৪৬
হাদিস নং ২৪৪৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ قَالاَ أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي عَطِيَّةَ، قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ، عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْنَا يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ رَجُلاَنِ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم أَحَدُهُمَا يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلاَةَ وَالآخَرُ يُؤَخِّرُ الإِفْطَارَ وَيُؤَخِّرُ الصَّلاَةَ . قَالَتْ أَيُّهُمَا الَّذِي يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلاَةَ قَالَ قُلْنَا عَبْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ مَسْعُودٍ . قَالَتْ كَذَلِكَ كَانَ يَصْنَعُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . زَادَ أَبُو كُرَيْبٍ وَالآخَرُ أَبُو مُوسَى .
বর্ণনাকারী আবূ ‘আতিয়্যাহ্ (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ও মাসরূক (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট গেলাম এবং তাঁকে বললাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবীবৃন্দের দু’ ব্যক্তির মধ্যে এক ব্যক্তি ইফত্বার ও সলাত ত্বরান্বিত করে এবং অন্য এক ব্যক্তি ইফত্বার ও সলাত বিলম্ব করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সে কোন ব্যক্তি যে ইফত্বার ও সালাত ত্বরান্বিত করে? আমরা বললাম, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ)। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপই করতেন। আবূ কুরায়ব বলেন, অপরজনে হলেন, আবূ মূসা (রাঃ) (ই.ফা. ২৪২৩, ই.সে. ২৪২২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৪৭
হাদিস নং ২৪৪৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي عَطِيَّةَ، قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ، عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - فَقَالَ لَهَا مَسْرُوقٌ رَجُلاَنِ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم كِلاَهُمَا لاَ يَأْلُو عَنِ الْخَيْرِ أَحَدُهُمَا يُعَجِّلُ الْمَغْرِبَ وَالإِفْطَارَ وَالآخَرُ يُؤَخِّرُ الْمَغْرِبَ وَالإِفْطَارَ . فَقَالَتْ مَنْ يُعَجِّلُ الْمَغْرِبَ وَالإِفْطَارَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ . فَقَالَتْ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ .
বর্ণনাকারী আবূ ‘আতিয়্যাহ্ (রহঃ)
তিন বলেন, আমি ও মাসরূক ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। এরপর মাসরূক তাঁকে বললেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের মধ্যে দু’ ব্যক্তি যারা কল্যাণজনক কাজে কোন প্রকার অবহেলা প্রদর্শন করেন না, তাঁদের একজন মাগরিব এবং ইফত্বারের মধ্যে ত্বরা করেন। আর অপরজন মাগরিব ও ইফত্বারে বিলম্ব করেন। তিনি বললেন যে, কোন ব্যক্তি সে মাগরিব ও ইফত্বারে ত্বরা করেন? তিনি বললেন, তিনি ‘আবদুল্লাহ। তখন ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপই করতেন। (ই.ফা. ২৪২৪, ই.সে. ২৪২৩)
১০. অধ্যায়ঃ
সওমের সময় পূর্ণ হওয়া এবং দিবস সমাপ্ত হওয়া
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৪৮
হাদিস নং ২৪৪৮
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَابْنُ نُمَيْرٍ - وَاتَّفَقُوا فِي اللَّفْظِ - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَقَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَقَالَ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، جَمِيعًا عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ وَأَدْبَرَ النَّهَارُ وَغَابَتِ الشَّمْسُ فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ " . لَمْ يَذْكُرِ ابْنُ نُمَيْرٍ " فَقَدْ " .
বর্ণনাকারী ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যখন রাত আসে, দিন চলে যায় এবং সূর্য অদৃশ্য হয়ে যায়, তখন সিয়াম পালনকারী ইফত্বার করবে। [৫]ইবনু নুমায়র (রহঃ) (আরবী) শব্দটি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ২৪২৫, ই.সে. ২৪২৪)
[৫] অর্থাৎ সূর্যাস্তের পর আর দেরী করবে না, যেমন কত কত সন্দেহ পোষণকারী বলে যে, আর কিছু দেরী করলে কী হবে এত বেখবর কেন। অথচ তারা এটা জানে না যে, প্রথম সূর্যাস্তের সময়েই ইফত্বার করা সুন্নাত। আর সূর্যাস্ত যাওয়া, রাতের আগমন ও দিনের প্রস্থান এ তিনটি একই সময়ে সংঘটিত হয়। বরং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিষয়টাকে পরিস্কার করার জন্য তিনটিকে এভাবে উল্লেখ করেছেন। হ্যাঁ, যে স্থানে সূর্যাস্ত বুঝা যায় না, তখায় একটু আঁধার করে ইফত্বার করা যায়।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৪৯
হাদিস নং ২৪৪৯
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ أَبِي أَوْفَى - رضى الله عنه - قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ فَلَمَّا غَابَتِ الشَّمْسُ قَالَ " يَا فُلاَنُ انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ عَلَيْكَ نَهَارًا . قَالَ " انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا " . قَالَ فَنَزَلَ فَجَدَحَ فَأَتَاهُ بِهِ فَشَرِبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ بِيَدِهِ " إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ مِنْ هَا هُنَا وَجَاءَ اللَّيْلُ مِنْ هَا هُنَا فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু আওফা (রাঃ)
তিনি বলেন, রমাযান মাসে কোন এক সফরে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গী ছিলাম। সূর্য ডুবে গেলে তিনি বললেন, হে অমুক! অবতরণ কর এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আনো। সে বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! এখনো দিন রয়ে গেছে। পুনরায় তিনি বললেন, অবতরণ কর এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আনো। তখন সে অবতরণ করল এবং ছাতু গুলে তার নিকট পেশ করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পান করলেন এবং হাত দ্বারা ইঙ্গিত করে বললেন, সূর্য এদিক থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং রাত্র যখন এদিক থেকে ঘনিয়ে আসবে, তখন সিয়াম পালনকারী ইফত্বার করবে। (ই.ফা. ২৪২৬, ই.সে. ২৪২৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৫০
হাদিস নং ২৪৫০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، وَعَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، - رضى الله عنه - قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَلَمَّا غَابَتِ الشَّمْسُ قَالَ لِرَجُلٍ " انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ أَمْسَيْتَ . قَالَ " انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا " . قَالَ إِنَّ عَلَيْنَا نَهَارًا . فَنَزَلَ فَجَدَحَ لَهُ فَشَرِبَ ثُمَّ قَالَ " إِذَا رَأَيْتُمُ اللَّيْلَ قَدْ أَقْبَلَ مِنْ هَا هُنَا - وَأَشَارَ بِيَدِهِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ - فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ " .
বর্ণনাকারী ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)
তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। যখন সূর্য অদৃশ্য হয়ে গেল তখন তিনি এক ব্যক্তিকে বললেন, অবতরণ কর এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আনো। সে বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! সন্ধ্যা হতে দিন। পুনরায় তিনি বললেন, অবতরণ কর এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আনো। সে বলল, দিন আমাদের আরো বাকী রয়েছে। এরপর সে অবতরণ করে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য ছাতু গুলে আনলো। তিনি পান করলেন এবং হাত দ্বারা পূর্বদিকে ইঙ্গিত করে বললেন, যখন তোমরা দেখবে যে, এদিক থেকে রাত্র ঘনিয়ে আসছে, তখন সিয়াম পালনকারীর ইফত্বারের সময় হবে। (ই.ফা. ২৪২৭, ই.সে. ২৪২৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৫১
হাদিস নং ২৪৫১
وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ، اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى - رضى الله عنه - يَقُولُ سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ صَائِمٌ فَلَمَّا غَرَبَتِ الشَّمْسُ قَالَ " يَا فُلاَنُ انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا " . مِثْلَ حَدِيثِ ابْنِ مُسْهِرٍ وَعَبَّادِ بْنِ الْعَوَّامِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ভ্রমণ করলাম। এ সময় তিনি সওমরত ছিলেন। যখন সূর্য অদৃশ্য হয়ে গেল তখন তিনি বললেন, হে অমুক! তুমি অবতরণ কর এবং আমাদের জন্য ছাতু গুলে আনো। এরপর তিনি ইবনু মুসহির এবং ‘আব্বাস ইবনু ‘আও্ওয়াম-এর অনুরূপ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৪২৮, ই.সে. ২৪২৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৫২
হাদিস নং ২৪৫২
وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، كِلاَهُمَا عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، ح . وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ، جَعْفَرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِ ابْنِ مُسْهِرٍ وَعَبَّادٍ وَعَبْدِ الْوَاحِدِ وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ أَحَدٍ مِنْهُمْ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ وَلاَ قَوْلُهُ " وَجَاءَ اللَّيْلُ مِنْ هَا هُنَا " . إِلاَّ فِي رِوَايَةِ هُشَيْمٍ وَحْدَهُ .
বর্ণনাকারী ইবনু আবূ আওফা (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
ইবনু মুসহির, ‘আব্বাস ও ‘আবদুল ওয়াহিদ (রহঃ)-এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁদের কারো হাদীসের মধ্য রমাযান মাসের উল্লেখ নেই। অনুরূপভাবে হুশায়ম ব্যতীত তাদের বর্ণনায় “এবং যখন রাত্র এদিক থেকে ঘনিয়ে আসে” এ কথাটিও উল্লেখ নেই। (ই.ফা. ২৪২৯, ই.সে. ২৪২৮)
১১. অধ্যায়ঃ
সওমে বিসাল বা বিরতিহীনভাবে সওম পালন করা নিষিদ্ধ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৫৩
হাদিস নং ২৪৫৩
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْوِصَالِ قَالُوا إِنَّكَ تُوَاصِلُ . قَالَ " إِنِّي لَسْتُ كَهَيْئَتِكُمْ إِنِّي أُطْعَمُ وَأُسْقَى " .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমে বিসাল করতে নিষেধ করেছেন। এতে সাহাবীগণ বললেন, আপনি তো সওমে বিসাল করে থাকেন। তিন বললেন, আমার অবস্থা তোমাদের মতো নয়। আমাকে খাওয়ানো ও পান করানো হয়। (ই.ফা. ২৪৩০, ই.সে. ২৪২৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৫৪
হাদিস নং ২৪৫৪
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاصَلَ فِي رَمَضَانَ فَوَاصَلَ النَّاسُ فَنَهَاهُمْ . قِيلَ لَهُ أَنْتَ تُوَاصِلُ قَالَ " إِنِّي لَسْتُ مِثْلَكُمْ إِنِّي أُطْعَمُ وَأُسْقَى " .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসে সওমে বিসাল আরম্ভ করলেন। তা দেখে সাহাবীগণও সওমে বিসাল আরম্ভ করলেন। এরপর তিনি তাদেরকে সওমে বিসাল করতে নিষেধ করলেন। এতে তাঁকে প্রশ্ন করা হ’ল, আপনি তো সওমে বিসাল করছেন। উত্তরে তিনি বললেন, আমি তোমাদের মতো নই। আমাকে তো খাওয়ানো হয় এবং পান করানো হয়। (ই.ফা. ২৪৩১, ই.সে. ২৪৩০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৫৫
হাদিস নং ২৪৫৫
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রমাযান মাসের কথা উল্লেখ নেই। (ই.ফা. ২৪৩২, ই.সে. ২৪৩১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৫৬
হাদিস নং ২৪৫৬
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমে বিসাল করতে নিষেধ করেছেন। তখন মুসলিমদের এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো সওমে বিসাল করে থাকেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের মধ্যে আমার মতো কে আছে? আমি রাত্রি যাপন করি এমতাবস্থায় যে, আমার প্রতিপালক আমাকে খাওয়ান এবং আমাকে পান করান। সাহাবীগণ সওমে বিসাল থেকে বিরত থাকতে অস্বীকার করলে তিনি তাদের সাথে একদিন এবং পরে আরেক দিন সওমে বিসাল করলেন। এরপর তারা চাঁদ দেখলেন, তখন তিনি বললেন, চাঁর আরো দেরীতে দেখা দিলে আমিও সওমে বিসাল দির্ঘায়িত করতাম। তাঁরা সওমে বিসাল থেকে বিরত থাকতে অস্বীকার করলে তিনি শাস্তি স্বরূপ এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। (ই.ফা. ২৪৩৩, ই.সে. ২৪৩২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৫৭
হাদিস নং ২৪৫৭
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা সওমে বিসাল থেকে বিরত থাক। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি তো সওমে বিসাল করে থাকেন? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে তোমরা তো আমার মত নও। আমি এমতাবস্থায় রাত্রি যাপন করি যে, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান। তাই তোমরা তোমাদের সামর্থ্যে যতটুকু কুলায়, ততটুকু ‘আমাল কর। (ই.ফা. ২৪৩৪, ই.সে. ২৪৩৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৫৮
হাদিস নং ২৪৫৮
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)- এর সূত্রে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (হাদীসের শেষে কয়েকটি শব্দ পরিবর্তন হলেও অর্থ একই)। (ই.ফা. ২৪৩৫, ই.সে. ২৪৩৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৫৯
হাদিস নং ২৪৫৯
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)- এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তিনি সওমে বিসাল করতে নিষেধ করেছেন। এরপর বর্ণনাকারী আবূ যুর’আহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৪৩৬, ই.সে. ২৪৩৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৬০
হাদিস নং ২৪৬০
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রমাযান মাসে একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করছিলেন। আমি তাঁর পাশে এসে দাঁড়ালাম। এরপর অন্য এক ব্যক্তি এসেও তাঁর পাশে দাঁড়ালেন। এভাবে আমরা এক দল লোক হয়ে গেলাম। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন বুঝতে পারলেন যে, আমরা তাঁর পেছনে আছি, তখন তিনি সালাত সংক্ষেপ করে ফেললেন। তারপর তিনি আপন গৃহে চলে গেলেন এবং এমন (দীর্ঘ) সালাত আদায় করলেন যে, এভাবে তিনি আমাদের সাথে সালাত আদায় করতেন না। সকালে আমরা তাঁকে বললাম, রাত্রে আপনি আমাদের সম্পর্কে বুঝতে পেরেছিলেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাই তো আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে ঐ কাজের, যা আমি করেছি। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযানের শেষভাগে আবার সওমে বিসাল করতে আরম্ভ করলেন। এ দেখে কতিপয় সহাবীও সওমে বিসাল শুরু করলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, লোকদের কী হ’ল, তারা যে সওমে বিসাল আরম্ভ করেছে! তোমরা আমার মত নও। আল্লাহর শপথ! যদি মাস দীর্ঘায়িত হতো, তবে আমি এমনভাবে সওমে বিসাল করতাম যার ফরে সীমালঙ্ঘনকারীগণ সওমে বিসাল করা ছেড়ে দিত। (ই.ফা. ২৪৩৭, ই.সে. ২৪৩৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৬১
হাদিস নং ২৪৬১
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রমাযান মাসের প্রথমাংশে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমে বিসাল আরম্ভ করলেন। এ দেখে মুসলিমদের কতিপয় লোক সওমে বিসাল আরম্ভ করে দিলেন। এ সংবাদ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছার পর তিনি বললেন, যদি আমাদের জন্য মাস দীর্ঘায়িত করে দেয়া হতো তবে আমি এমনভাবে সওমে বিসাল করতাম যাতে সীমালঙ্ঘনকারীরা সীমালংঘন করা ছেড়ে দিত। এরপর তিনি বললেন, তোমরা তো আমার মতো নও অথবা বললেন, আমি তো তোমাদের মতো নই। কারণ আমার প্রতিপালক তো আমাকে পানাহার করান। (ই.ফা. ২৪৩৮, ই.সে. ২৪৩৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৬২
হাদিস নং ২৪৬২
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، جَمِيعًا عَنْ عَبْدَةَ، - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، - عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ نَهَاهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْوِصَالِ رَحْمَةً لَهُمْ . فَقَالُوا إِنَّكَ تُوَاصِلُ . قَالَ " إِنِّي لَسْتُ كَهَيْئَتِكُمْ إِنِّي يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِي " .
বর্ণনাকারী আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দয়াবশতঃ সবাইকে সওমে বিসাল করতে নিষেধ করেছেন। সাহাবীগণ বললেন, আপনি তো সওমে বিসাল করেন। তিনি বললেন, আমি তো তোমাদের মতো নই। আমাকে তো আমার প্রতিপালক পানাহার করান। (ই.ফা. ২৪৩৯, ই.সে. ২৪৩৮)
১২. অধ্যায়ঃ
কামোদ্দীপনা যাকে নাড়া দেয় না, সওমের অবস্থায় স্ত্রীকে চুমু দেয়া তার জন্য হারাম নয়
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৬৩
হাদিস নং ২৪৬৩
حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ إِحْدَى نِسَائِهِ وَهُوَ صَائِمٌ . ثُمَّ تَضْحَكُ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমের অবস্থায় তাঁর কোন কোন স্ত্রীকে চুমু দিতেন। তারপর তিনি হেসে দিলেন। (ই.ফা. ২৪৪০, ই.সে. ২৪৩৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৬৪
হাদিস নং ২৪৬৪
حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ أَسَمِعْتَ أَبَاكَ يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُقَبِّلُهَا وَهُوَ صَائِمٌ فَسَكَتَ سَاعَةً ثُمَّ قَالَ نَعَمْ .
বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুর রহমান ইবনুল ক্বাসিম (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি তোমার আব্বাকে ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে এ কথা বর্ণনা করতে শুনেছ যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমের অবস্থায় তাঁকে চুমু দিতেন? তিনি কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললেন, হ্যাঁ, শুনেছি। (ই.ফা. ২৪৪১, ই.সে. ২৪৪০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৬৫
হাদিস নং ২৪৬৫
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُنِي وَهُوَ صَائِمٌ وَأَيُّكُمْ يَمْلِكُ إِرْبَهُ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْلِكُ إِرْبَهُ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমের অবস্থায় আমাকে চুমু দিতেন। তোমাদের মধ্যে কে এমন আছে যে, নিজের কামোদ্দীপনাকে আয়ত্বে রাখতে পারে, যেমন আয়ত্বে রাখতে সক্ষম ছিলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কামোদ্দীপনাকে। (ই.ফা. ২৪৪২, ই.সে. ২৪৪১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৬৬
হাদিস নং ২৪৬৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، وَعَلْقَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها ح . وَحَدَّثَنَا شُجَاعُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ وَيُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ وَلَكِنَّهُ أَمْلَكُكُمْ لإِرْبِهِ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমের অবস্থায় (স্ত্রীদেরকে) চুম্বন ও স্পর্শ করতেন। তবে প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ রাখায় তোমাদের সবার চেয়ে তিনি অধিকরত শক্তিশালী ছিলেন। (ই.ফা. ২৪৪৩, ই.সে. ২৪৪২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৬৭
হাদিস নং ২৪৬৭
حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ وَكَانَ أَمْلَكَكُمْ لإِرْبِهِ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমের অবস্থায় চুমু দিতেন। তিনি তাঁর প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে তোমাদের সকলের চেয়ে অধিকতর ক্ষমতাবান ছিলেন। (ই.ফা. ২৪৪৪, ই.সে. ২৪৪৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৬৮
হাদিস নং ২৪৬৮
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমের অবস্থায় (স্ত্রীদেরকে) স্পর্শ করতেন। (ই.ফা. ২৪৪৫, ই.সে. ২৪৪৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৬৯
হাদিস নং ২৪৬৯
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَوْنٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، قَالَ انْطَلَقْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ، إِلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - فَقُلْنَا لَهَا أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ قَالَتْ نَعَمْ وَلَكِنَّهُ كَانَ أَمْلَكَكُمْ لإِرْبِهِ أَوْ مِنْ أَمْلَكِكُمْ لإِرْبِهِ . شَكَّ أَبُو عَاصِمٍ .
বর্ণনাকারী আসওয়াদ (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ও মাসরূক (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট গেলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম যে, সওমের অবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি তাঁর স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, করতেন। তবে তিনি তাঁর প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে তোমাদের সকলের চেয়ে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন ছিলেন অথবা বললেন, তোমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম? এ ব্যাপারে আবূ ‘আসিম সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। (ই.ফা. ২৪৪৬, ই.সে. ২৪৪৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৭০
হাদিস নং ২৪৭০
وَحَدَّثَنِيهِ يَعْقُوبُ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، وَمَسْرُوقٍ أَنَّهُمَا دَخَلاَ عَلَى أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ يَسْأَلاَنِهَا . فَذَكَرَ نَحْوَهُ .
বর্ণনাকারী আসওয়াদ এবং মাসরূক (রহঃ)
একদা তাঁরা দু’জন এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট গমন করলেন। এরপর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৪৪৭, ই.সে. ২৪৪৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৭১
হাদিস নং ২৪৭১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ - رضى الله عنها - أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُقَبِّلُهَا وَهُوَ صَائِمٌ .
বর্ণনাকারী উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমের অবস্থায় তাঁকে চুমু দিতেন। (ই.ফা. ২৪৪৮, ই.সে. ২৪৪৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৭২
হাদিস নং ২৪৭২
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِشْرٍ الْحَرِيرِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - عَنْ يَحْيَى، بْنِ أَبِي كَثِيرٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইবনু কাসীর (রহঃ)-এর সূত্র
এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৪৪৯, ই.সে. ২৪৪৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৭৩
হাদিস নং ২৪৭৩
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ فِي شَهْرِ الصَّوْمِ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিয়ামের মাসেও (স্ত্রীদেরকে) চুমু দিতেন। (ই.ফা. ২৪৫০, ই.সে. ২৪৪৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৭৪
হাদিস নং ২৪৭৪
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ النَّهْشَلِيُّ، حَدَّثَنَا زِيَادُ، بْنُ عِلاَقَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ فِي رَمَضَانَ وَهُوَ صَائِمٌ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রমাযান মাসে সওমের অবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদেরকে চুমু দিতেন। (ই.ফা. ২৪৫১, ই.সে. ২৪৫০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৭৫
হাদিস নং ২৪৭৫
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমের অবস্থায় (স্ত্রীদেরকে) চুমু দিতেন। (ই.ফা. ২৪৫২, ই.সে. ২৪৫১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৭৬
হাদিস নং ২৪৭৬
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ شُتَيْرِ بْنِ شَكَلٍ، عَنْ حَفْصَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ .
বর্ণনাকারী হাফসাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমের অবস্থায় চুমু দিতেন। (ই.ফা. ২৪৫৩, ই.সে. ২৪৫২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৭৭
হাদিস নং ২৪৭৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ جَرِيرٍ، كِلاَهُمَا عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ شُتَيْرِ بْنِ شَكَلٍ، عَنْ حَفْصَةَ، - رضى الله عنها - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী হাফসাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৪৫৪, ই.সে. ২৪৫৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৭৮
হাদিস নং ২৪৭৮
حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، - وَهُوَ ابْنُ الْحَارِثِ - عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ الْحِمْيَرِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَيُقَبِّلُ الصَّائِمُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سَلْ هَذِهِ " . لأُمِّ سَلَمَةَ فَأَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ ذَلِكَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لأَتْقَاكُمْ لِلَّهِ وَأَخْشَاكُمْ لَهُ " .
বর্ণনাকারী ‘উমার ইবনু আবূ সালামাহ্ (রাঃ)
একদা তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, সওম পালনকারী ব্যক্তি চুম্বন করতে পারে কি? তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, কথাটি উম্মু সালামাকে জিজ্ঞেস কর। (তাঁকে জিজ্ঞেস করার পর) তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ করেন। এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তো আপনার পূর্বাপর সমূদয় গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, শোন, আল্লাহর শপথ! আমি আল্লাহ তা’আলাকে তোমাদের সকলের চেয়ে অধিক ভয় করি। (ই.ফা. ২৪৫৫, ই.সে. ২৪৫৪)
১৩. অধ্যায:
জানাবাত অবস্থায় কারো প্রভাত হলে তার সওম শুদ্ধ হবে
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৭৯
হাদিস নং ২৪৭৯
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ، بْنُ رَافِعٍ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ، بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - يَقُصُّ يَقُولُ فِي قَصَصِهِ مَنْ أَدْرَكَهُ الْفَجْرُ جُنُبًا فَلاَ يَصُمْ . فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ - لأَبِيهِ - فَأَنْكَرَ ذَلِكَ . فَانْطَلَقَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَانْطَلَقْتُ مَعَهُ حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ - رضى الله عنهما - فَسَأَلَهُمَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ ذَلِكَ - قَالَ - فَكِلْتَاهُمَا قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ غَيْرِ حُلُمٍ ثُمَّ يَصُومُ - قَالَ - فَانْطَلَقْنَا حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى مَرْوَانَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ . فَقَالَ مَرْوَانُ عَزَمْتُ عَلَيْكَ إِلاَّ مَا ذَهَبْتَ إِلَى أَبِي هُرَيْرَةَ فَرَدَدْتَ عَلَيْهِ مَا يَقُولُ - قَالَ - فَجِئْنَا أَبَا هُرَيْرَةَ وَأَبُو بَكْرٍ حَاضِرُ ذَلِكَ كُلِّهِ - قَالَ - فَذَكَرَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَهُمَا قَالَتَاهُ لَكَ قَالَ نَعَمْ . قَالَ هُمَا أَعْلَمُ . ثُمَّ رَدَّ أَبُو هُرَيْرَةَ مَا كَانَ يَقُولُ فِي ذَلِكَ إِلَى الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ سَمِعْتُ ذَلِكَ مِنَ الْفَضْلِ وَلَمْ أَسْمَعْهُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ فَرَجَعَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَمَّا كَانَ يَقُولُ فِي ذَلِكَ . قُلْتُ لِعَبْدِ الْمَلِكِ أَقَالَتَا فِي رَمَضَانَ قَالَ كَذَلِكَ كَانَ يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ غَيْرِ حُلُمٍ ثُمَّ يَصُومُ .
বর্ণনাকারী আবূ বাক্র (রাঃ)
তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) তাঁর আলোচনায় বললেন, জানাবাত অবস্থায় কারো ভোর হলে তার সওম হবে না। এরপর এ কথাটি আমি ‘আবদুর রহমান ইবনু হারিস (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। তরপর ‘আবদুর রহমান চললেন। আমিও তাঁর সাথে সাথে চললাম। আমরা ‘আয়িশাহ্ এবং উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। এরপর ‘আবদুর রহমান তাঁদের উভয়কে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন। তাঁরা বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহতিলাম ব্যতিরেকে জানাবাতের অবস্থায় ভোর করতেন এবং সওম পালন করতেন। তারপর আমরা মারওয়ানের নিকট আসলাম এবং ‘আবদুর রহমান তার সাথে এ নিয়ে আলোচনা করলেন। এরপর মারওয়ান বললেন, আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি, তুমি আবূ হুরায়রার নিকট যাও এবং তার কথাটি রদ করে দাও। এরপর আমি আবূ হুরায়রার নিকট গেলাম। এ সময় আবূ বকর (রাঃ) ‘আবদুর রহমানের সাথে ছিলেন। ‘আবদুর রহমান এ নিয়ে আবূ হুরায়রার সঙ্গে আলোচনা করলেন। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বললেন, তোমার নিকট তাঁরা উভয়েই কি এ কথা বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাঁরা উভয়েই এ কথা বলেছেন। তখন আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বললেন, বস্তুত তাঁরাই সর্বাধিক অবগত। তারপর আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) তাঁর এ কথাটিকে ফায্ল ইবনু ‘আব্বাসের প্রতি সম্পর্কিত করে বললেন, আমি এ কথাটি ফায্লের (ইবনু আব্বাস) থেকে শুনেছিলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনিনি। রাবী বলেন, এরপর আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) এ বিষয়ে তাঁর মত পরিবর্তন করেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ‘আবদুল মালিককে জিজ্ঞেস করলাম, তারা রমাযানের কথা বলেছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ অনুরূপই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহতিলাম ব্যতিরেকেও জানাবাত অবস্থায় ভোর করতেন। এরপর সওম পালন করতেন। (ই.ফা. ২৪৫৬, ই.সে. ২৪৫৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৮০
হাদিস নং ২৪৮০
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَأَبِي، بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ قَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُدْرِكُهُ الْفَجْرُ فِي رَمَضَانَ وَهُوَ جُنُبٌ مِنْ غَيْرِ حُلُمٍ فَيَغْتَسِلُ وَيَصُومُ .
বর্ণনাকারী নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রমাযান মাসে ইহতিলাম ছাড়াই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জানাবাত অবস্থায় ফাজ্রের সলাতের সময় হয়ে যেত। তখন তিনি গোসল করতেন এবং সওম পালন করতেন। (ই.ফা. ২৪৫৭, ই.সে. ২৪৫৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৮১
হাদিস নং ২৪৮১
حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، - وَهُوَ ابْنُ الْحَارِثِ - عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ الْحِمْيَرِيِّ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ مَرْوَانَ أَرْسَلَهُ إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ - رضى الله عنها - يَسْأَلُ عَنِ الرَّجُلِ يُصْبِحُ جُنُبًا أَيَصُومُ فَقَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ جِمَاعٍ لاَ مِنْ حُلُمٍ ثُمَّ لاَ يُفْطِرُ وَلاَ يَقْضِي .
বর্ণনাকারী আবূ বাক্র (রাঃ)
তিনি বলেন, একদা মারওয়ান তাকে উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য যার জানাবাতের অবস্থায় ভোর হলো, সে সওম পালন করতে পারবে কি? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইহতিলাম ব্যতিরেকে স্ত্রী সহবাসের কারণে গোসল ফরয হওয়া অবস্থায় ভোর হতো। এরপর তিনি সওম ভঙ্গও করতেন না এবং সওমের কাযাও করতেন না। (ই.ফা. ২৪৫৮, ই.সে. ২৪৫৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৮২
হাদিস নং ২৪৮২
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي، بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ عَائِشَةَ، وَأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجَىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُمَا قَالَتَا إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ جِمَاعٍ غَيْرِ احْتِلاَمٍ فِي رَمَضَانَ ثُمَّ يَصُومُ .
বর্ণনাকারী নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ এবং উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)
তাঁরা উভয়ই বলেন, রমাযান মাসে ইহ্তিলাম ছাড়াই স্ত্রী সহবাসের কারণে জানাবাতের অবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ভোর হতো, এরপর তিনি সওম পালন করতেন। (ই.ফা. ২৪৫৯, ই.সে. ২৪৫৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৮৩
হাদিস নং ২৪৮৩
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ، جَعْفَرٍ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - وَهُوَ ابْنُ مَعْمَرِ بْنِ حَزْمٍ الأَنْصَارِيُّ أَبُو طُوَالَةَ - أَنَّ أَبَا يُونُسَ، مَوْلَى عَائِشَةَ أَخْبَرَهُ عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَفْتِيهِ وَهِيَ تَسْمَعُ مِنْ وَرَاءِ الْبَابِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تُدْرِكُنِي الصَّلاَةُ وَأَنَا جُنُبٌ أَفَأَصُومُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَأَنَا تُدْرِكُنِي الصَّلاَةُ وَأَنَا جُنُبٌ فَأَصُومُ " . فَقَالَ لَسْتَ مِثْلَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ . فَقَالَ " وَاللَّهِ إِنِّي لأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَخْشَاكُمْ لِلَّهِ وَأَعْلَمَكُمْ بِمَا أَتَّقِي " .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, ফাতাওয়া জিজ্ঞেস করার জন্য এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলো। এ সময় তিনি দরজার পেছন থেকে কথাগুলো শুনছিলেন। লোকটি বলল, ইয়া রসূলুল্লাহ! জানাবাতের অবস্থায় আমার ফাজরের সময় হয়ে যায়, এমতাবস্থায় আমি সওম পালন করতে পারি কি? উত্তরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, জানাবাতের অবস্থায় আমারও ফাজরের সলাতের সময় হয়ে যায়, আমি তো সওম পালন করি। এরপর লোকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো আমাদের মতো নন। আল্লাহ তা’আলা আপনার পূর্বাপর সমূদয় গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমার আশা, আমি আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে সর্বাধিক ভয় করি এবং আমি সর্বাধিক অবগত ঐ বিষয় সম্পর্কে, যা থেকে আমার বিরত থাকা আবশ্যক। (ই.ফা. ২৪৬০, ই.সে. ২৪৫৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৮৪
হাদিস নং ২৪৮৪
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ النَّوْفَلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ سَأَلَ أُمَّ سَلَمَةَ - رضى الله عنها - عَنِ الرَّجُلِ يُصْبِحُ جُنُبًا أَيَصُومُ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ غَيْرِ احْتِلاَمٍ ثُمَّ يَصُومُ .
বর্ণনাকারী সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রাঃ)
তিনি উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলেন, জানাবাতের অবস্থায় যার ভোর হয়, সে সওম পালন করবে কি? তিনি বললেন, ইহতিলাম ছাড়াই জানাবাতের অবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ভোর হতো এবং তিনি সওম পালন করতেন। (ই.ফা. ২৪৬১, ই.সে. ২৪৬০)
১৪. অধ্যায়ঃ
রমাযানের দিনে সওমরত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা কঠোর হারাম, কেউ যদি এ ধরনের কাজ করে তবে তার উপর বড় ধরনের কাফ্ফারাহ্ ওয়াজিব- সে বিত্তশালী হোক বা বিত্তহীন, তবে বিত্তহীন ব্যক্তির পক্ষে যখন সম্ভব হয়, তখন এ কাফ্ফারাহ আদায় করতে হবে
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৮৫
হাদিস নং ২৪৮৫
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ وَابْنُ نُمَيْرٍ كُلُّهُمْ عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ، الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ هَلَكْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " وَمَا أَهْلَكَكَ " . قَالَ وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ . قَالَ " هَلْ تَجِدُ مَا تُعْتِقُ رَقَبَةً " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَهَلْ تَجِدُ مَا تُطْعِمُ سِتِّينَ مِسْكِينًا " . قَالَ لاَ - قَالَ - ثُمَّ جَلَسَ فَأُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِعَرَقٍ فِيهِ تَمْرٌ . فَقَالَ " تَصَدَّقْ بِهَذَا " . قَالَ أَفْقَرَ مِنَّا فَمَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا أَهْلُ بَيْتٍ أَحْوَجُ إِلَيْهِ مِنَّا . فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ ثُمَّ قَالَ " اذْهَبْ فَأَطْعِمْهُ أَهْلَكَ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। তিনি বলরেন, কিসে তোমাকে ধ্বংস করেছে? সে বলল, আমি রমাযানে সওমরত অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি বললেন, তোমার কোন ক্রীতদাস আছে কি যাকে তুমি আযাদ করে দিতে পার? সে বলল, না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি ক্রমাগত দু’মাস সওম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। পুনরায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াতে পারবে কি? সে বলল, না। তারপর সে বসে গেল। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এক টুকরি খেজুর আনা হ’ল। তিনি লোকটিকে বললেন, এগুলো সদাক্বাহ করে দাও। তখন সে বলল, আমার চেয়েও অভাবী লোককে সদাক্বাহ করে দিব? (মাদীনার) দু’টি কংকরময় ভূমির মধ্যস্থিত স্থানে আমার পরিবারের চেয়ে অভাবী আর একটিও নেই। এ কথা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেসে দিলেন। এমনকি তাঁর সামনের দাঁতগুলো প্রকাশ হয়ে পড়ল। তখন তিনি বললেন, তাহলে যাও এবং তোমার পরিবারকে খেতে দাও। (ই.ফা. ২৪৬২, ই.সে. ২৪৬১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৮৬
হাদিস নং ২৪৮৬
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَ رِوَايَةِ ابْنِ عُيَيْنَةَ وَقَالَ بِعَرَقٍ فِيهِ تَمْرٌ - وَهُوَ الزِّنْبِيلُ - وَلَمْ يَذْكُرْ فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ .
বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম আয্ যুহরী (রাঃ)-এর সানাদে ইবনু ‘উয়ায়নাহ্ (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসের মধ্যে (আরবী) এরপর (আরবী) শব্দটি উল্লেখ রয়েছে এবং এতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাসির কথা উল্লেখ নেই। (ই.ফা. ২৪৬৩, ই.সে. ২৪৬২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৮৭
হাদিস নং ২৪৮৭
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - أَنَّ رَجُلاً، وَقَعَ بِامْرَأَتِهِ فِي رَمَضَانَ فَاسْتَفْتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " هَلْ تَجِدُ رَقَبَةً " . قَالَ لاَ . قَالَ " وَهَلْ تَسْتَطِيعُ صِيَامَ شَهْرَيْنِ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَأَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
বর্ণিত। এক ব্যক্তি রমাযান মাসে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এবং এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রশ্ন করল। তখন তিনি বললেন, তোমার কোন ক্রীতদাস আছে কি? সে বলল, না। তিনি আবার বললেন, তুমি দু’মাস সওম পালন করতে পারবে কি? সে বলল, না। তখন তিনি বললেন, তাহলে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাও। (ই.ফা. ২৪৬৪, ই.সে. ২৪৬৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৮৮
হাদিস নং ২৪৮৮
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ أَنَّ رَجُلاً، أَفْطَرَ فِي رَمَضَانَ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُكَفِّرَ بِعِتْقِ رَقَبَةٍ . ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ عُيَيْنَةَ .
বর্ণনাকারী যুহরী (রহঃ)
এ সানাদে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি রমাযানের সওম ভেঙ্গে ফেলার কারণে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে এর কাফ্ফারাহ হিসেবে একটি গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি ইবনু ‘উয়ায়নার অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। (ই.ফা. ২৪৬৫, ই.সে. ২৪৬৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৮৯
হাদিস নং ২৪৮৯
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ رَجُلاً أَفْطَرَ فِي رَمَضَانَ أَنْ يُعْتِقَ رَقَبَةً أَوْ يَصُومَ شَهْرَيْنِ أَوْ يُطْعِمَ سِتِّينَ مِسْكِينًا .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রমাযানের সওম ভেঙ্গে ফেলার কারণে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নির্দেশ দিলেন, হয় তো সে একটি গোলাম আযাদ করবে অথবা দু’মাস সওম পালন করবে অথবা ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়াবে। (ই.ফা. ২৪৬৬, ই.সে. ২৪৬৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৯০
হাদিস নং ২৪৯০
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ عُيَيْنَةَ .
বর্ণনাকারী যুহরী (রহঃ)
এ সানাদে ইবনু ‘উয়ায়নার অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৪৬৭, ই.সে. ২৪৬৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৯১
হাদিস নং ২৪৯১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ، الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ احْتَرَقْتُ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِمَ " . قَالَ وَطِئْتُ امْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ نَهَارًا . قَالَ " تَصَدَّقْ تَصَدَّقْ " . قَالَ مَا عِنْدِي شَىْءٌ . فَأَمَرَهُ أَنْ يَجْلِسَ فَجَاءَهُ عَرَقَانِ فِيهِمَا طَعَامٌ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَصَدَّقَ بِهِ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, আমি জ্বলে গিয়েছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কেন? সে বলল, রমাযানের দিনে আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি বললেন, তাহলে সদাক্বাহ দাও, সদাক্বাহ দাও। সে বলল, আমার নিকট কিছুই নেই। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বসার জন্য নির্দেশ দিলেন। এমতাবস্থায় দু’ টুকরি ভর্তি খাদ্য আসল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে এগুলো সদাক্বাহ করে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। (ই.ফা. ২৪৬৮, ই.সে. ২৪৬৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৯২
হাদিস নং ২৪৯২
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، يَقُولُ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبَّادَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - تَقُولُ أَتَى رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَلَيْسَ فِي أَوَّلِ الْحَدِيثِ " تَصَدَّقْ تَصَدَّقْ " . وَلاَ قَوْلُهُ نَهَارًا .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী হাদীসটি বর্ণনা করলেন। তবে এ হাদীসের প্রথমে “সদাক্বাহ করো, সদাক্বাহ করে” শব্দ দু’টো উল্লেখ নেই এবং এতে “দিনের বেলায়” কথাটিও উল্লেখ নেই। (ই.ফা. ২৪৬৯, ই.সে. ২৪৬৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৯৩
হাদিস নং ২৪৯৩
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ، بْنَ الْقَاسِمِ حَدَّثَهُ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ أَنَّ عَبَّادَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَقُولُ أَتَى رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ فِي رَمَضَانَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ احْتَرَقْتُ احْتَرَقْتُ . فَسَأَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا شَأْنُهُ " . فَقَالَ أَصَبْتُ أَهْلِي . قَالَ " تَصَدَّقْ " . فَقَالَ وَاللَّهِ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا لِي شَىْءٌ وَمَا أَقْدِرُ عَلَيْهِ . قَالَ " اجْلِسْ " . فَجَلَسَ فَبَيْنَا هُوَ عَلَى ذَلِكَ أَقْبَلَ رَجُلٌ يَسُوقُ حِمَارًا عَلَيْهِ طَعَامٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيْنَ الْمُحْتَرِقُ آنِفًا " . فَقَامَ الرَّجُلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَصَدَّقْ بِهَذَا " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغَيْرَنَا فَوَاللَّهِ إِنَّا لَجِيَاعٌ مَا لَنَا شَىْءٌ . قَالَ " فَكُلُوهُ " .
বর্ণনাকারী নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রমাযানের মাসে মসজিদের মধ্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো জ্বলে গিয়েছি, আমি তো জ্বলে গিয়েছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার, কী হয়েছে তার? সে বলল, আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি বললেন, তাহলে সদাক্বাহ কর। সে বলল, আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর নাবী! আমার কিছুই নেই এবং এ ব্যাপারে আমি সক্ষম নই। তিনি বললেন, বসো। সে বসল, লোকটি বসা থাকতেই এক ব্যক্তি গাধা হাঁকিয়ে আসল। এর উপর ছিল খাদ্য। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ঐ অগ্নিদদ্ধ লোকটি কোথায়, যে কিছুক্ষণ পূর্বে এসেছিল? লোকটি দাঁড়াল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এগুলো সদাক্বাহ্ করে দাও। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের ছাড়া অন্য লোকদের সদাক্বাহ করে দিব? আল্লাহর শপথ আমরা অত্যন্ত ক্ষুধার্ত, আমাদের কিছুই নেই। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাহলে ওগুলো তোমরা খেয়ে ফেল। (ই.ফা. ২৪৭০, ই.সে. ২৪৬৯)
১৫. অধ্যায়ঃ
অবৈধ নয় এমন কাজে রমাযান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা এবং ইফত্বার করা উভয়ই জায়িয যদি দু’ বা ততোধিক মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সফর করা হয়, অবশ্য ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা উত্তম এবং অক্ষম ব্যক্তির জন্য সওম ভঙ্গ করা উত্তম
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৯৪
হাদিস নং ২৪৯৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ، سَعِيدٍ حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَامَ الْفَتْحِ فِي رَمَضَانَ فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ الْكَدِيدَ ثُمَّ أَفْطَرَ وَكَانَ صَحَابَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَّبِعُونَ الأَحْدَثَ فَالأَحْدَثَ مِنْ أَمْرِهِ .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
১১১৩) ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়াহ্ইয়া, মুহাম্মাদ ইবনু রুম্হ ও কুতায়বাহ্ ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) ... ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, (মাক্কাহ) বিজয়ের বছর রমাযান মাসে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমরত অবস্থায় সফরে বের হলেন। অতঃপর কাদীদ নামক স্থানে পৌঁছাবার পর তিনি সওম ভেঙ্গে ফেললেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যখনই কোন নতুন বিষয় প্রকাশ পেত, তাঁর সাহাবীগণ তা অনুসরণ করতেন। [৬] (ই.ফা. ২৪৭১, ই.সে. ২৪৭০)
[৬] রমাযান মাসে সফর তথা ভ্রমণ করা অবস্থায় সওম পালন করা বিষয়ে বিভিন্নভাবে রিওয়ায়াতে আছে এবং ইমামদের মাঝেও মতবিরোধ আছে। তবে সঠিক কথা হলো- কোন অসুবিধার আশংকা না থাকলে সওম পালন উত্তম এবং সমস্যা হলে সওম না রাখাই উত্তম। কেননা সওম পালনের দ্বারা বান্দার উপর যে দায়িত্বের বোঝা চেপেছিল তা দূর হয়ে যায়।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৯৫
হাদিস নং ২৪৯৫
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَمْرٌو النَّاقِدُ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ . قَالَ يَحْيَى قَالَ سُفْيَانُ لاَ أَدْرِي مِنْ قَوْلِ مَنْ هُوَ يَعْنِي وَكَانَ يُؤْخَذُ بِالآخِرِ مِنْ قَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী যুহরী (রহঃ)
এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইয়াহ্ইয়া বলেন, সুফ্ইয়ান (রহঃ) বলেছেন যে, আমি জানি না এ কার কথা অর্থাৎ তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শেষোক্ত কথাটি গ্রহণ করতেন। (ই.ফা. ২৪৭২, ই.সে. ২৪৭১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৯৬
হাদিস নং ২৪৯৬
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ الزُّهْرِيُّ وَكَانَ الْفِطْرُ آخِرَ الأَمْرَيْنِ وَإِنَّمَا يُؤْخَذُ مِنْ أَمْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالآخِرِ فَالآخِرِ . قَالَ الزُّهْرِيُّ فَصَبَّحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ لِثَلاَثَ عَشْرَةَ لَيْلَةً خَلَتْ مِنْ رَمَضَانَ .
বর্ণনাকারী যুহরী (রহঃ)
এ সানাদের সাথে বর্ণনা করেছেন। যুহরী (রহঃ) বলেন, সওম পালন না করা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সর্বশেষ কাজ। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শেষোক্ত কাজকেই গ্রহণ করা হতো। তিনি বলেন, রমাযানের তের দিন অতিবাহিত হবার পর ভোরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কাহ্ প্রবেশ করেন। (ই.ফা. ২৪৭৩, ই.সে. ২৪৭২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৯৭
হাদিস নং ২৪৯৭
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَ حَدِيثِ اللَّيْثِ . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَكَانُوا يَتَّبِعُونَ الأَحْدَثَ فَالأَحْدَثَ مِنْ أَمْرِهِ وَيَرَوْنَهُ النَّاسِخَ الْمُحْكَمَ .
বর্ণনাকারী ইবনু শিহাব (রহঃ)
এ সানাদে লায়স-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, সাহাবীগণ প্রত্যেক নতুন বিষয়ের অনুসরণ করতেন। যে বিষয়টি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছ থেকে পেতেন সাহাবীগণ একে রহিতকারী ও অধিকতর বলিষ্ঠ মনে করতেন। (ই.ফা. ২৪৭৪, ই.সে. ২৪৭৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৯৮
হাদিস নং ২৪৯৮
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - قَالَ سَافَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ عُسْفَانَ ثُمَّ دَعَا بِإِنَاءٍ فِيهِ شَرَابٌ فَشَرِبَهُ نَهَارًا لِيَرَاهُ النَّاسُ ثُمَّ أَفْطَرَ حَتَّى دَخَلَ مَكَّةَ . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - فَصَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَفْطَرَ فَمَنْ شَاءَ صَامَ وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, এক সময় রমাযান মাসে সওমরত অবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফরে বের হলেন। যখন তিনি ‘উসফান নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন তিনি পানি ভর্তি পাত্র আনার জন্য বললেন এবং লোকদেরকে দেখাবার জন্য দিনেই তা পান করে সওম ভেঙ্গে ফেললেন এবং এ অবস্থায় তিনি মক্কা প্রবেশ করলেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, যেহেতু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (সফরে কখনো) সওম পালন করেছেন আবার কখনো ইফত্বার করেছেন, তাই কেউ ইচ্ছা করলে সওম পালন করতে পারে আবার কেউ ইচ্ছা করলে সওম ছেড়ে দিতে পারে। (ই.ফা. ২৪৭৫, ই.সে. ২৪৭৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৪৯৯
হাদিস নং ২৪৯৯
وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ، عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - قَالَ لاَ تَعِبْ عَلَى مَنْ صَامَ وَلاَ عَلَى مَنْ أَفْطَرَ قَدْ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ وَأَفْطَرَ .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সওম পালন করে তার প্রতি দোষারোপ করো না এবং তার প্রতিও না যে সওম ছেড়ে দেয়। কেননা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফরের অবস্থায় (কখনো) সিয়াম পালন করেছেন (আবার কখনও) সওম ছেড়ে দিয়েছেন। (ই.ফা. ২৪৭৬, ই.সে. ২৪৭৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫০০
হাদিস নং ২৫০০
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْمَجِيدِ - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، - رضى الله عنهما - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَامَ الْفَتْحِ إِلَى مَكَّةَ فِي رَمَضَانَ فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ كُرَاعَ الْغَمِيمِ فَصَامَ النَّاسُ ثُمَّ دَعَا بِقَدَحٍ مِنْ مَاءٍ فَرَفَعَهُ حَتَّى نَظَرَ النَّاسُ إِلَيْهِ ثُمَّ شَرِبَ فَقِيلَ لَهُ بَعْدَ ذَلِكَ إِنَّ بَعْضَ النَّاسِ قَدْ صَامَ فَقَالَ " أُولَئِكَ الْعُصَاةُ أُولَئِكَ الْعُصَاةُ " .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
বর্ণিত। মাক্কাহ বিজয়ের বছর রমাযান মাসে সওমরত অবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কার উদ্দেশে বের হলেন। এরপর যখন তিনি “কুরা’উল গামীম” নামক স্থান পৌঁছলেন, তখন লোকেরাও সওমরত ছিল। এরপর তিনি একটি পানির পাত্র চাইলেন। এমনকি লোকেরা তাঁর দিকে তাকাতে লাগল। এরপর তিনি পানি পান করলেন। তখন তাঁকে বলা হ’ল, কতিপয় লোক সওমরত রয়েছে। তিনি বললেন, তারা অবাধ্য, তারা অবাধ্য। (ই.ফা. ২৪৭৭, ই.সে. ২৪৭৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫০১
হাদিস নং ২৫০১
وَحَدَّثَنَاهُ قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي الدَّرَاوَرْدِيَّ - عَنْ جَعْفَرٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَزَادَ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ شَقَّ عَلَيْهِمُ الصِّيَامُ وَإِنَّمَا يَنْظُرُونَ فِيمَا فَعَلْتَ . فَدَعَا بِقَدَحٍ مِنْ مَاءٍ بَعْدَ الْعَصْرِ .
বর্ণনাকারী জা’ফার (রহঃ)
এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর তাঁকে বলা হ’ল, মানুষের সওম পালন করা কষ্টাতীত হয়ে পড়েছে। আপনি কী করেন, তারা সেদিকে তাকিয়ে আছে। এ কথা শুনে তিনি ‘আসরের পর এক পাত্র পানি চাইলেন। (ই.ফা. ২৪৭৮, ই.সে. ২৪৭৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫০২
হাদিস নং ২৫০২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ جَمِيعًا عَنْ مُحَمَّدِ، بْنِ جَعْفَرٍ - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، - عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، - رضى الله عنهما - قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَرَأَى رَجُلاً قَدِ اجْتَمَعَ النَّاسُ عَلَيْهِ وَقَدْ ظُلِّلَ عَلَيْهِ فَقَالَ " مَا لَهُ " . قَالُوا رَجُلٌ صَائِمٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ أَنْ تَصُومُوا فِي السَّفَرِ " .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন এক সফরে ছিলেন। এ সময় তিনি এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন, লোকেরা তার কাছে জটলা করে আছে এবং তাকে ছায়া করে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তার কী হয়েছে? তারা বললেন, লোকটি সিয়াম পালনকারী। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সফরে তোমাদের সওম পালন করা কোন নেকীর কাজ নয়। (ই.ফা. ২৪৭৯, ই.সে. ২৪৭৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫০৩
হাদিস নং ২৫০৩
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْحَسَنِ، يُحَدِّثُ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، - رضى الله عنهما - يَقُولُ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে দেখলেন। এরপর তিনি অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৪৮০, ই.সে. ২৪৭৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫০৪
হাদিস নং ২৫০৪
وَحَدَّثَنَاهُ أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ النَّوْفَلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ وَزَادَ قَالَ شُعْبَةُ وَكَانَ يَبْلُغُنِي عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ أَنَّهُ كَانَ يَزِيدُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَفِي هَذَا الإِسْنَادِ أَنَّهُ قَالَ " عَلَيْكُمْ بِرُخْصَةِ اللَّهِ الَّذِي رَخَّصَ لَكُمْ " . قَالَ فَلَمَّا سَأَلْتُهُ لَمْ يَحْفَظْهُ .
বর্ণনাকারী শু’বাহ (রাঃ)
এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। শু’বাহ্ বলেন, এ সানাদে ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসীরের মাধ্যমে অতিরিক্ত এ কথাও আমার নিকট পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে যে সুবিধা দিয়েছেন তা গ্রহণ করা তোমাদের জন্য অপরিহার্য। আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তখন সে মুখস্থ বলতে পারেনি। (ই.ফা. ২৪৮১, ই.সে. ২৪৮০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫০৫
হাদিস নং ২৫০৫
حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، - رضى الله عنه - قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِسِتَّ عَشْرَةَ مَضَتْ مِنْ رَمَضَانَ فَمِنَّا مَنْ صَامَ وَمِنَّا مَنْ أَفْطَرَ فَلَمْ يَعِبِ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ وَلاَ الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ .
বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেন, রমাযানের ষোল দিন অতিবাহিত হবার পর আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এ সময় আমাদের কেউ সিয়াম পালন করছিলেন, আবার কেউ তা ছেড়ে দিচ্ছিলন। কিন্তু এতে সওম পালনকারী সওম ভঙ্গকারীকে কোন দোষারোপ করেনি এবং সওম ভঙ্গকারীও সওম পালনকারীকে কোন প্রকার দোষারোপ করেনি। (ই.ফা. ২৪৮২, ই.সে. ২৪৮১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫০৬
হাদিস নং ২৫০৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ التَّيْمِيِّ، ح وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، وَقَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، وَقَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ نُوحٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ يَعْنِي ابْنَ عَامِرٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدٍ، كُلُّهُمْ عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَ حَدِيثِ هَمَّامٍ غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ التَّيْمِيِّ وَعُمَرَ بْنِ عَامِرٍ وَهِشَامٍ لِثَمَانَ عَشْرَةَ خَلَتْ وَفِي حَدِيثِ سَعِيدٍ فِي ثِنْتَىْ عَشْرَةَ . وَشُعْبَةَ لِسَبْعَ عَشْرَةَ أَوْ تِسْعَ عَشْرَةَ .
বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)
এ সানাদে হাম্মামের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।তবে আত্ তায়মী, ‘উমার উবনু ‘আমির ও হিশামের বর্ণনায় রমাযানের আঠার দিন অতিবাহিত হয়েছে কথাটি বর্ণিত আছে। সা’ঈদের বর্ণনায় বারোই রমাযান এবং শু’বার বর্ণনায় সতের অথবা ঊনিশ রমাযানের কথা উল্লেখ রয়েছে। (ই.ফা. ২৪৮৩, ই.সে. ২৪৮২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫০৭
হাদিস নং ২৫০৭
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُفَضَّلٍ - عَنْ أَبِي مَسْلَمَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، - رضى الله عنه - قَالَ كُنَّا نُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَمَا يُعَابُ عَلَى الصَّائِمِ صَوْمُهُ وَلاَ عَلَى الْمُفْطِرِ إِفْطَارُهُ .
বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে রমাযান মাসে সফর করতাম কিন্ত সওম পালনকারীকে তার সওমের কারণে দোষারোপ করা হতো না এবং সওম ভঙ্গকারীকেও তার সওম ভঙ্গের কারণে দোষারোপ করা হতো না। ( ই. ফা. ২৪৮৪, ই.সে. ২৪৮৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫০৮
হাদিস নং ২৫০৮
حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، - رضى الله عنه - قَالَ كُنَّا نَغْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَمِنَّا الصَّائِمُ وَمِنَّا الْمُفْطِرُ فَلاَ يَجِدُ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ وَلاَ الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ يَرَوْنَ أَنَّ مَنْ وَجَدَ قُوَّةً فَصَامَ فَإِنَّ ذَلِكَ حَسَنٌ وَيَرَوْنَ أَنَّ مَنْ وَجَدَ ضَعْفًا فَأَفْطَرَ فَإِنَّ ذَلِكَ حَسَنٌ .
বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ (রাঃ)
তিনি বলেন, রমাযান মাসে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহন করতাম। এ সময় আমাদের কেউ সওম পালন করেছেন, আবার কেউ সওম ছেড়েও দিয়েছেন। কিন্ত সওম পালনকারী সওম ভঙ্গকারীকে খারাপ মনে করতেন না এবং সওম ভঙ্গকারীও সওম পালনকারীকে খারাপ মনে করতেন না। তারা মনে করতেন যার সামর্থ্য আছে সে-ই সওম পালন করছে, এটা তার জন্য উত্তম। আর যে দুর্বল সে সওম ছেড়ে দিয়েছে, এটা তার জন্য উত্তম। (ই. ফা.২৪৮৫, ই.সে. ২৪৮৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫০৯
হাদিস নং ২৫০৯
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الأَشْعَثِيُّ، وَسَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، وَحُسَيْنُ، بْنُ حُرَيْثٍ كُلُّهُمْ عَنْ مَرْوَانَ، - قَالَ سَعِيدٌ أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، - عَنْ عَاصِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا نَضْرَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، - رضى الله عنهم - قَالاَ سَافَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَصُومُ الصَّائِمُ وَيُفْطِرُ الْمُفْطِرُ فَلاَ يَعِيبُ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ .
বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) ও জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)
তাঁরা উভয়ই বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সফর করেছি। এমতাবস্থায় সওম পালনকারী সওম পালন করেছেন এবং সওম যারা ছাড়তে চেয়েছেন, তারা ছেড়ে দিয়েছেন কিন্ত এতে কেউ একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করেননি। (ই.ফা.২৪৮৬, ই.সে. ২৪৮৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫১০
হাদিস নং ২৫১০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، قَالَ سُئِلَ أَنَسٌ - رضى الله عنه - عَنْ صَوْمِ رَمَضَانَ فِي السَّفَرِ فَقَالَ سَافَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَلَمْ يَعِبِ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ وَلاَ الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ .
বর্ণনাকারী হুমায়দ (রহঃ)
তিনি বলেন, রমাযান মাসে সফরকালে সওমের বিধান কী? এ সম্বন্ধে আনাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, রমাযান মাসে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সফর করেছি। এ সময় সওম পালনকারী ব্যক্তি সওম ভঙ্গকারী ব্যক্তির কোন নিন্দা করেনি এবং সওম ভঙ্গকারী ব্যক্তিও সওম পালনকারীর কোন নিন্দা করেনি। (ই. ফা.২৪৮৭, ই.সে. ২৪৮৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫১১
হাদিস নং ২৫১১
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ حُمَيْدٍ، قَالَ خَرَجْتُ فَصُمْتُ فَقَالُوا لِي أَعِدْ . قَالَ فَقُلْتُ إِنَّ أَنَسًا أَخْبَرَنِي أَنَّ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانُوا يُسَافِرُونَ فَلاَ يَعِيبُ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ وَلاَ الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ . فَلَقِيتُ ابْنَ أَبِي مُلَيْكَةَ فَأَخْبَرَنِي عَنْ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী হুমায়দ (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি সফরের উদ্দেশে বের হলাম এবং সিয়াম পালন করলাম। লোকেরা আমাকে বলল, তুমি পুনরায় সওম পালন কর। তখন আমি বললাম, আনাস (রাঃ) আমাকে বলেছেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবীগন সফরকালে সওম পালনকারী সওম ভঙ্গকারীকে কোন দোষারোপ করেনি। অনুরূপভাবে সওম ভঙ্গকারীও সওম পালনকারীকে কোন প্রকার দোষারোপ করেনি। অতঃপর আমি ইবনু আবূ মুলায়কাহ্ (রহঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে আমাকে অনুরূপ হাদীস শুনালেন। (ই. ফা.২৪৮৮, ই.সে. ২৪৮৭)
১৬. অধ্যায়ঃ
সফরের কোন কাজের দায়িত্ব পেলে সিয়াম ভঙ্গকারীর প্রতিদান প্রসঙ্গে
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫১২
হাদিস নং ২৫১২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ مُوَرِّقٍ، عَنْ أَنَسٍ، - رضى الله عنه - قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ فَمِنَّا الصَّائِمُ وَمِنَّا الْمُفْطِرُ - قَالَ - فَنَزَلْنَا مَنْزِلاً فِي يَوْمٍ حَارٍّ أَكْثَرُنَا ظِلاًّ صَاحِبُ الْكِسَاءِ وَمِنَّا مَنْ يَتَّقِي الشَّمْسَ بِيَدِهِ - قَالَ - فَسَقَطَ الصُّوَّامُ وَقَامَ الْمُفْطِرُونَ فَضَرَبُوا الأَبْنِيَةَ وَسَقَوُا الرِّكَابَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ذَهَبَ الْمُفْطِرُونَ الْيَوْمَ بِالأَجْرِ " .
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে আমরা সফরে ছিলাম। আমাদের কেউ সওম পালন করেছেন, আবার কেউ ছেড়ে দিয়েছেন। এরপর প্রচন্ড গরমের সময় আমরা এক প্রান্তরে অবতরণ করলাম। চাদর বিশিষ্ট লোকেরাই আমাদের মধ্যে সর্বাধিক ছায়া লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের কেউ কেউ নিজ হাত দ্বারা সূর্যের কিরণ থেকে নিজেকে রক্ষা করছিলেন। অবশেষে সওম পালনকারীরা ক্লান্ত হয়ে পড়ল এবং সওম ত্যাগকারীরা সুস্থ থাকল। এবপর তারা তাঁবু খাটালো এবং উটকে পানি পান করালো তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আজ সওম পরিত্যাগকারীরা সওয়াব অর্জন করে নিল। (ই. ফা.২৪৮৯, ই.সে. ২৪৮৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫১৩
হাদিস নং ২৫১৩
وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ مُوَرِّقٍ، عَنْ أَنَسٍ، - رضى الله عنه - قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَصَامَ بَعْضٌ وَأَفْطَرَ بَعْضٌ فَتَحَزَّمَ الْمُفْطِرُونَ وَعَمِلُوا وَضَعُفَ الصُّوَّامُ عَنْ بَعْضِ الْعَمَلِ - قَالَ - فَقَالَ فِي ذَلِكَ " ذَهَبَ الْمُفْطِرُونَ الْيَوْمَ بِالأَجْرِ " .
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন এক সফরে ছিলেন। তখন কেউ কেউ সওম পালন করলেন, আবার কেউ কেউ সওম ছেড়ে দিলেন। এরপর যারা সওম ছেড়ে দিয়েছিলেন তারা শক্তিমত্তার সাথে কাজ করলেন এবং সওম পালনকারী ব্যক্তিগন কাজে দুর্বল হয়ে পড়লেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আজ সওম পরিত্যাগকারীরা নেকী অর্জন করে নিল। (ই. ফা.২৪৯০, ই.সে. ২৪৮৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫১৪
হাদিস নং ২৫১৪
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ رَبِيعَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي قَزَعَةُ، قَالَ أَتَيْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ - رضى الله عنه - وَهُوَ مَكْثُورٌ عَلَيْهِ فَلَمَّا تَفَرَّقَ النَّاسُ عَنْهُ قُلْتُ إِنِّي لاَ أَسْأَلُكَ عَمَّا يَسْأَلُكَ هَؤُلاَءِ عَنْهُ . سَأَلْتُهُ عَنِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ فَقَالَ سَافَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَكَّةَ وَنَحْنُ صِيَامٌ قَالَ فَنَزَلْنَا مَنْزِلاً فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكُمْ قَدْ دَنَوْتُمْ مِنْ عَدُوِّكُمْ وَالْفِطْرُ أَقْوَى لَكُمْ " . فَكَانَتْ رُخْصَةً فَمِنَّا مَنْ صَامَ وَمِنَّا مَنْ أَفْطَرَ ثُمَّ نَزَلْنَا مَنْزِلاً آخَرَ فَقَالَ " إِنَّكُمْ مُصَبِّحُو عَدُوِّكُمْ وَالْفِطْرُ أَقْوَى لَكُمْ فَأَفْطِرُوا " . وَكَانَتْ عَزْمَةً فَأَفْطَرْنَا ثُمَّ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُنَا نَصُومُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ فِي السَّفَرِ .
বর্ণনাকারী কাযা’আহ্ (রহঃ)
তিনি বলেন, একদা আমি আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) এর নিকট গেলাম। তাঁর নিকট মানুষের খুব ভীড় ছিল। যখন লোকজন পৃথক হয়ে এদিক ওদিক চলে গেল, তখন আমি বললাম, আমি আপনার নিকট ঐসব কথা জিজ্ঞেস করব না যা লোকেরা জিজ্ঞেস করেছে। আমি তাঁকে সফরের অবস্থায় সওম পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সওমরত অবস্থায় মক্কার দিকে রওনা করলাম। এরপর একস্থানে আমরা অবতরণ করলাম। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন এখন তোমরা শত্রুদের নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছ। এখন সওম ভঙ্গ করাই তোমাদের জন্য শক্তিশালী থাকার উপায় এবং এটা তোমাদের জন্য বিশেষ এক অবকাশ। তখন আমাদের কতক লোক সওম পালন করল, আবার কতক লোক ইফত্বার কলল। এরপর আমরা অন্য এক স্থানে অবতরণ করলাম। তখন তিনি বললেন, ভোরেই তোমরা শত্রুর মুকাবিলা করব। সুতরাং ইফত্বারই তোমাদের জন্য শক্তি বর্ধক। তাই তোমরা ইফত্বার কর। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর এ নির্দেশ অবশ্য পালনীয় ছিল। তাই আমরা সকলেই সওম ভঙ্গ করলাম। এরপর আমরা দেখেছি, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সফরের অবস্থায় সওম পালন করতাম। (ই. ফা.২৪৯১, ই.সে. ২৪৯০)
১৭. অধ্যায়ঃ
ভ্রমণকালে সিয়াম রাখা ও না রাখার ইখতিয়ার প্রসঙ্গে
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫১৫
হাদিস নং ২৫১৫
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ سَأَلَ حَمْزَةُ بْنُ عَمْرٍو الأَسْلَمِيُّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصِّيَامِ فِي السَّفَرِ فَقَالَ " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " .
বর্ণনাকারী আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, হামযাহ্ ইবনু আমর আল আসলামী (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে সফরের অবস্থায় সওম পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সওম পালন কর, আর যদি ইচ্ছা হয় তবে সওম ছেড়ে দাও। (ই. ফা.২৪৯২, ই.সে. ২৪৯১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫১৬
হাদিস নং ২৫১৬
وَحَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - وَهُوَ ابْنُ زَيْدٍ - حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو الأَسْلَمِيَّ، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ أَسْرُدُ الصَّوْمَ . أَفَأَصُومُ فِي السَّفَرِ قَالَ " صُمْ إِنْ شِئْتَ وَأَفْطِرْ إِنْ شِئْتَ " .
বর্ণনাকারী আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, হামযাহ্ ইবনু আম্র আল আসলামী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ! আমি তো অনবরত সওম পালন করি। সফরের অবস্থায়ও সওম পলন করব কি? তিনি বললেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয়, তবে সওম পালন কর, আর যদি ইচ্ছা হয়, তবে সওম ছেড়ে দাও। (ই. ফা. ২৪৯৩, ই.সে. ২৪৯২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫১৭
হাদিস নং ২৫১৭
وَحَدَّثَنَاهُ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ إِنِّي رَجُلٌ أَسْرُدُ الصَّوْمَ .
বর্ণনাকারী হিশাম (রহঃ)
এ সানাদে হাম্মাদ ইবনু যায়দের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমি সর্বদা সওম পালন করি। (ই.ফা. ২৪৯৪, ই.সে. ২৪৯৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫১৮
হাদিস নং ২৫১৮
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، كِلاَهُمَا عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ أَنَّ حَمْزَةَ، قَالَ إِنِّي رَجُلٌ أَصُومُ أَفَأَصُومُ فِي السَّفَرِ.
বর্ণনাকারী হিশাম (রহঃ)
এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। হামযাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি সর্বদা সওম পালন করি। সুতরাং সফরে আমি কি সওম পালন করব? (ই. ফা. ২৪৯৫, ই.সে. ২৪৯৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫১৯
হাদিস নং ২৫১৯
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَهَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، - قَالَ هَارُونُ حَدَّثَنَا وَقَالَ أَبُو الطَّاهِرِ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي مُرَاوِحٍ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ، - رضى الله عنه - أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَجِدُ بِي قُوَّةً عَلَى الصِّيَامِ فِي السَّفَرِ فَهَلْ عَلَىَّ جُنَاحٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هِيَ رُخْصَةٌ مِنَ اللَّهِ فَمَنْ أَخَذَ بِهَا فَحَسَنٌ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَصُومَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ " . قَالَ هَارُونُ فِي حَدِيثِهِ " هِيَ رُخْصَةٌ " . وَلَمْ يَذْكُرْ مِنَ اللَّهِ .
বর্ণনাকারী হামযাহ্ ইবনু আমর আল আসলামী (রাঃ)
তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! সফরের অবস্থায় সিয়াম পালনের ক্ষমতা আমার রয়েছে। এ সময় সিয়াম পালন করলে আমার কোন গুনাহ হবে কি? তিনি বললেন, এটা আল্লাহর পক্ষ হতে এক বিশেষ অবকাশ, যে তা গ্রহন করবে, তা তার জন্য উত্তম। আর যদি কেউ সিয়াম পালন করতে চায়, তবে তার কোন গুনাহ হবে না। হারূন তার হাদীসের মধ্যে (আরবি) (এটা ছাড়) কথাটি উল্লেখ করেছেন। কিন্ত (আরবি) (আল্লাহর পক্ষ থেকে) কথাটি উল্লেখ করেননি। (ই. ফা.২৪৯৬, ই.সে. ২৪৯৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫২০
হাদিস নং ২৫২০
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، - رضى الله عنه - قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَهْرِ رَمَضَانَ فِي حَرٍّ شَدِيدٍ حَتَّى إِنْ كَانَ أَحَدُنَا لَيَضَعُ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ مِنْ شِدَّةِ الْحَرِّ وَمَا فِينَا صَائِمٌ إِلاَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ .
বর্ণনাকারী আবূ দারদা (রহঃ)
তিনি বলেন, এক প্রচন্ড গরমের দিনে রমাযান মাসে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সফরে বের হলাম। গরম এত প্রচন্ড ছিল যে, আমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ হাত মাথার উপর তুলে ধরেছিল। আর মাত্র রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আব্দুল্লাহ ইবনু রওয়াহাহ্ (রাঃ) ব্যতীত আমাদের মাঝে কেউই সওম পালনকারী ছিল না। (ই. ফা. ২৪৯৭, ই.সে. ২৪৯৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫২১
হাদিস নং ২৫২১
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَيَّانَ، الدِّمَشْقِيِّ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، قَالَتْ قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ لَقَدْ رَأَيْتُنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ فِي يَوْمٍ شَدِيدِ الْحَرِّ حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ لَيَضَعُ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ مِنْ شِدَّةِ الْحَرِّ وَمَا مِنَّا أَحَدٌ صَائِمٌ إِلاَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ .
বর্ণনাকারী উম্মু দারদা (রাঃ)
আবূ দারদা (রাঃ) বলেছেন যে প্রচন্ড গরমের দিনে কোন এক সফরে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ছিলাম। গরম এতো প্রচন্ড ছিল যে, লোকেরা নিজ নিজ হাত মাথার উপরে রেখে দিয়েছিল। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আব্দুল্লাহ ইবনু রওয়াহাহ্ (রাঃ) ব্যতীত আমাদের মাঝে কেউই সওম পালনকারী ছিল না। (ই. ফা.২৪৯৮, ই.সে. ২৪৯৭)
১৮. অধ্যায়ঃ
হাজীদের জন্য ‘আরাফার দিন ‘আরাফার ময়দানে সিয়াম পালন না করা মুস্তাহাব
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫২২
হাদিস নং ২৫২২
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ بِنْتِ الْحَارِثِ، أَنَّ نَاسًا، تَمَارَوْا عِنْدَهَا يَوْمَ عَرَفَةَ فِي صِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ بَعْضُهُمْ هُوَ صَائِمٌ وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَيْسَ بِصَائِمٍ . فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ بِقَدَحِ لَبَنٍ وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى بَعِيرِهِ بِعَرَفَةَ فَشَرِبَهُ .
বর্ণনাকারী উম্মুল ফায্ল বিনতু হারিস (রাঃ)
লোকেরা ‘আরাফার দিন তার নিকট রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সিয়াম পালন (করা না করা) সম্পর্কে আলোচনা করছিল। তাদের কেউ কেউ বলল তিনি সওমরত নন। এরপর আমি তাঁর নিকট এক পেয়ালা দুধ পাঠালাম, তিনি আরাফাতে উটের উপর বসা অবস্থায় ছিলেন। দুধটুকু তিনি তখনি পান করে নিলেন। (ই.ফা. ২৪৯৯, ই.সে. ২৪৯৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫২৩
হাদিস নং ২৫২৩
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَلَمْ يَذْكُرْ وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى بَعِيرِهِ . وَقَالَ عَنْ عُمَيْرٍ مَوْلَى أُمِّ الْفَضْلِ .
বর্ণনাকারী আবূ নাযর (রাঃ)
এ সানাদে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি (আরবী) (অর্থাৎ তিনি উটের উড়রে বসা অবস্থায় ছিলেন) বাক্যটি উল্লেখ করেননি। অধিকন্ত এতে তিনি উম্মুল ফায্লের আযাদকৃত গোলাম ‘উমায়র থেকে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেন। (ই.ফা.২৫০০, ই.সে. ২৪৯৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫২৪
হাদিস নং ২৫২৪
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سَالِمٍ أَبِي، النَّضْرِ بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ عُيَيْنَةَ وَقَالَ عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى أُمِّ الْفَضْلِ .
বর্ণনাকারী সালিম আবূ আন্ নাযর (রাঃ)
এ সানাদে ইবনু ‘উয়ায়নার অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন এখানেও উম্মুল ফাযলের আযাদকৃত গোলাম ‘উমায়র থেকে বর্ণিত। (ই.ফা. ২৫০১, ই.সে. ২৫০০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫২৫
হাদিস নং ২৫২৫
وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ أَبَا النَّضْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّ عُمَيْرًا مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أُمَّ الْفَضْلِ، - رضى الله عنها - تَقُولُ شَكَّ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صِيَامِ يَوْمِ عَرَفَةَ وَنَحْنُ بِهَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ بِقَعْبٍ فِيهِ لَبَنٌ وَهُوَ بِعَرَفَةَ فَشَرِبَهُ .
বর্ণনাকারী উম্মুল ফায্ল (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কতিপয় সাহাবী ‘আরাফার দিন তাঁর সিয়াম পালনের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করলেন। উম্মুল ফায্ল (রাঃ) বলেন আমরাও সেখানে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ছিলাম। এ সময়ে আমি তাঁর নিকট এক পেয়ালা দুধ পাঠিয়ে দিলাম। তখন তিনি আরাফার ময়দানে ছিলেন। এরপর তিনি তা পান করে নিলেন। (ই.ফা. ২৫০২, ই.সে. ২৫০১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫২৬
হাদিস নং ২৫২৬
وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ، الأَشَجِّ عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - عَنْ مَيْمُونَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ إِنَّ النَّاسَ شَكُّوا فِي صِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَرَفَةَ فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ مَيْمُونَةُ بِحِلاَبِ اللَّبَنِ وَهُوَ وَاقِفٌ فِي الْمَوْقِفِ فَشَرِبَ مِنْهُ وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ .
বর্ণনাকারী নাবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী মায়মূনাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, লোকেরা আরাফার দিন নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সওম পালন করার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করলেন। এরপর মায়মূনাহ্ (রাঃ) তাঁর নিকট এক পেয়ালা দুধ পাঠিয়ে দিলেন, এ সময় তিনি ‘মাওকাফ’ এর মধ্যে অবস্থান করছিলেন। তখন তিনি তা পান করে নিলেন। আর লোকেরা তাঁর দিকে তাকিয়ে রইল। (ই.ফা. ২৫০৩, ই.সে. ২৫০২)
১৯. অধ্যায়ঃ
‘আশুরা দিবসে সিয়াম পালন করা
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫২৭
হাদিস নং ২৫২৭
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصُومُ عَاشُورَاءَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُهُ فَلَمَّا هَاجَرَ إِلَى الْمَدِينَةِ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا فُرِضَ شَهْرُ رَمَضَانَ قَالَ " مَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ " .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, কুরায়শরা জাহিলী যুগে ‘আশূরার দিন সিয়াম পালন করত। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও এ দিন সওম পালন করতেন। এরপর যখন তিনি মাদীনায় হিজরত করলেন, তখনও তিনি ‘আশূরার সওম পালন করেছেন এবং লোকদেরকেও তা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর যখন রমাযানের সিয়ামকে ফরয করা হলো, তখন যার ইচ্ছা, সে ‘আশূরা সওম পালন করত আর যার ইচ্ছা, সে তা ছেড়ে দিত। (ই.ফা. ২৫০৪, ই.সে. ২৫০৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫২৮
হাদিস নং ২৫২৮
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِي أَوَّلِ الْحَدِيثِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُهُ . وَقَالَ فِي آخِرِ الْحَدِيثِ وَتَرَكَ عَاشُورَاءَ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ . وَلَمْ يَجْعَلْهُ مِنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَرِوَايَةِ جَرِيرٍ .
বর্ণনাকারী হিশাম (রাঃ)
এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে প্রথমাংশে “রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও এ সওম পালন করতেন” এ কথাটির উল্লেখ করেন। অবশ্য এ হাদীসে শেষাংশে রয়েছেঃ “এরপর ‘আশূরার দিন সওম পালন করা ছেড়ে দেয়া হ’ল” সুতরাং যার ইচ্ছা সে এ দিন সওম পালন করত এবং যার ইচ্ছা সে তা ছেড়ে দিত এবং বর্ণনাকারী জারীরের বর্ণনামতে এ কথাটিকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর অন্তর্ভুক্ত করেননি। (ই.ফা. ২৫০৫, ই.সে. ২৫০৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫২৯
হাদিস নং ২৫২৯
حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّ يَوْمَ، عَاشُورَاءَ كَانَ يُصَامُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا جَاءَ الإِسْلاَمُ مَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
জাহিলী যুগে ‘আশূরার দিন সওম পালন করা হত। এরপর যখন ইসলামের আবির্ভাব হ’ল, তখন যার ইচ্ছা সে এদিন সওম পালন করত, আর যার ইচ্ছা সে তা ছেড়ে দিত। (ই.ফা. ২৫০৬, ই.সে. ২৫০৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৩০
হাদিস নং ২৫৩০
حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُ بِصِيَامِهِ قَبْلَ أَنْ يُفْرَضَ رَمَضَانُ فَلَمَّا فُرِضَ رَمَضَانُ كَانَ مَنْ شَاءَ صَامَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রমাযানের সিয়াম ফরয হওয়ার পূর্বে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আশূরার দিনে সিয়াম পালন করার নির্দেশ দিতেন। যখন রমাযানের সিয়াম ফরয করা হল তখন যার ইচ্ছা সে ‘আশূরার দিনে সওম পালন করত, আর যার ইচ্ছা সে তা ছেড়ে দিত। (ই.ফা. ২৫০৭, ই.সে. ২৫০৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৩১
হাদিস নং ২৫৩১
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، جَمِيعًا عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، - قَالَ ابْنُ رُمْحٍ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، - عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ عِرَاكًا، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُرْوَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ قُرَيْشًا كَانَتْ تَصُومُ عَاشُورَاءَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ ثُمَّ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِصِيَامِهِ حَتَّى فُرِضَ رَمَضَانُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ شَاءَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ شَاءَ فَلْيُفْطِرْهُ " .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, কুরায়শরা জাহিলী যুগে, ‘আশূরার দিন সওম পালন করত। রমাযানের সিয়াম ফরয হওয়ার পূর্বে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যার ইচ্ছা সে এদিন সওম পালন করবে, আর যার ইচ্ছা, সে তা ছেড়ে দিবে। (ই.ফা. ২৫০৮, ই.সে. ২৫০৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৩২
হাদিস নং ২৫৩২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، رضى الله عنهما أَنَّ أَهْلَ، الْجَاهِلِيَّةِ كَانُوا يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَامَهُ وَالْمُسْلِمُونَ قَبْلَ أَنْ يُفْتَرَضَ رَمَضَانُ فَلَمَّا افْتُرِضَ رَمَضَانُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ عَاشُورَاءَ يَوْمٌ مِنْ أَيَّامِ اللَّهِ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
জাহিলী যুগে লোকেরা ‘আশূরার দিন সিয়াম পালন করত। রমাযানের সিয়াম ফরয হওয়ার পূর্বে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও এদিন সিয়াম পালন করেছেন এবং মুসলিমগণও। যখন রমাযানের সিয়াম ফরয হ’ল তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘আশূরার দিন আল্লাহর দিনসমূহের একটি দিন। সুতরাং যার ইচ্ছা সে এ দিন সিয়াম পালন করবে, আর যার ইচ্ছা সে তা ছেড়ে দিবে। (ই.ফা. ২৫০৯, ই.সে. ২৫০৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৩৩
হাদিস নং ২৫৩৩
وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، وَهُوَ الْقَطَّانُ ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، كِلاَهُمَا عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، . بِمِثْلِهِ فِي هَذَا الإِسْنَادِ .
বর্ণনাকারী ‘উবায়দুল্লাহ (রাঃ)
এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৫১০, ই.সে. ২৫০৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৩৪
হাদিস নং ২৫৩৪
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضى الله عنهما أَنَّهُ ذُكِرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمُ عَاشُورَاءَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَانَ يَوْمًا يَصُومُهُ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَصُومَهُ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَرِهَ فَلْيَدَعْهُ " .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
আশূরার দিন সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আলোচনা করা হলে তিনি বললেন, এ দিনে জাহিলী যুগে লোকেরা সিয়াম পালন করত। তোমাদের মধ্যে যে এ দিনে সিয়াম পালন করতে আগ্রহী, সে এ দিনে সিয়াম পালন করতে পারে। আর যে অপছন্দ করে, সে ছেড়ে দিতে পারে। (ই.ফা. ২৫১১, ই.সে. ২৫১০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৩৫
হাদিস নং ২৫৩৫
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ، - يَعْنِي ابْنَ كَثِيرٍ - حَدَّثَنِي نَافِعٌ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ " إِنَّ هَذَا يَوْمٌ كَانَ يَصُومُهُ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَصُومَهُ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَتْرُكَهُ فَلْيَتْرُكْهُ " . وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ - رضى الله عنه - لاَ يَصُومُهُ إِلاَّ أَنْ يُوَافِقَ صِيَامَهُ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি ‘আশূরার দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, জাহিলী যুগে এ দিনে লোকেরা সিয়াম সাধনা করত। যদি কেউ এদিনে সওম পালন করতে চায়, সে এদিনে সিয়াম পালন করবে। আর কেউ যদি এদিনে সওম পালন করতে না চায়, সে সওম পালন করবে না। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁর অভ্যস্ত দিনে না হলে ‘আশূরার সওম পালন করতেন না। (ই.ফা. ২৫১২, ই.সে. ২৫১১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৩৬
হাদিস নং ২৫৩৬
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مَالِكٍ، عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الأَخْنَسِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - قَالَ ذُكِرَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَوْمُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ . فَذَكَرَ مِثْلَ حَدِيثِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ سَوَاءً .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ‘আশূরার দিনের সিয়াম সম্পর্কে কথা তোলা হ’ল। তারপর তিনি লায়স ইবনু সা’দ (রাঃ)-এর অনুরূপই বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৫১৩, ই.সে. ২৫১২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৩৭
হাদিস নং ২৫৩৭
وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ النَّوْفَلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ، زَيْدٍ الْعَسْقَلاَنِيُّ حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - قَالَ ذُكِرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمُ عَاشُورَاءَ فَقَالَ " ذَاكَ يَوْمٌ كَانَ يَصُومُهُ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ‘আশূরার দিবস সম্পর্কে কথা তোলা হলে তিনি বললেন, এ দিনে জাহিলী যুগে লোকেরা সিয়াম পালন করত। যার ইচ্ছা সে এ দিনে সওম পালন করবে, আর যার ইচ্ছা সে এ দিনে সওম পালন করবে না। (ই.ফা. ২৫১৪, ই.সে. ২৫১৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৩৮
হাদিস নং ২৫৩৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ جَمِيعًا عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ دَخَلَ الأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ وَهُوَ يَتَغَدَّى فَقَالَ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ ادْنُ إِلَى الْغَدَاءِ . فَقَالَ أَوَلَيْسَ الْيَوْمُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ قَالَ وَهَلْ تَدْرِي مَا يَوْمُ عَاشُورَاءَ قَالَ وَمَا هُوَ قَالَ إِنَّمَا هُوَ يَوْمٌ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُهُ قَبْلَ أَنْ يَنْزِلَ شَهْرُ رَمَضَانَ فَلَمَّا نَزَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ تُرِكَ . وَقَالَ أَبُو كُرَيْبٍ تَرَكَهُ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ)
তিনি বলেন, আশ’আস ইবনু ক্বায়স (রাঃ) ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট গেলেন। তখন তিনি দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, হে আবূ মুহাম্মাদ! তুমি খাওয়ার জন্য কাছে এসো। তিনি বললেন, আজ কি ‘আশূরার দিন নয়? তিনি বললেন, তুমি কি জান ‘আশূরা দিন কী? আশ’আস (রাঃ) বললেন, সে আবার কী? তিনি বললেন, রমাযানের সিয়াম ফরয হওয়ার পূর্বে এ দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিয়াম পালন করতেন। যখন রমাযানের সিয়াম ফরয হ’ল তখন তা ছেড়ে দেয়া হ’ল। রাবী আবূ কুরায়ব (রাঃ) (আরবী) এর স্থলে (আরবী) বলেছেন। (ই.ফা. ২৫১৫, ই.সে. ২৫১৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৩৯
হাদিস নং ২৫৩৯
وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالاَ فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ تَرَكَهُ .
বর্ণনাকারী আ’মাশ (রাঃ)
এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁরা বলেছেন, (আরবী) “যখন রমাযানের বিধান নাযিল হ’ল তখন তা ছেড়ে দেয়া হয়।” (ই.ফা. ২৫১৬, ই.সে. ২৫১৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৪০
হাদিস নং ২৫৪০
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ سُفْيَانَ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي زُبَيْدٌ الْيَامِيُّ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ سَكَنٍ، أَنَّ الأَشْعَثَ بْنَ قَيْسٍ، دَخَلَ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَهُوَ يَأْكُلُ فَقَالَ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ ادْنُ فَكُلْ . قَالَ إِنِّي صَائِمٌ . قَالَ كُنَّا نَصُومُهُ ثُمَّ تُرِكَ .
বর্ণনাকারী ক্বায়স ইবনু সাকান
তিনি বলেন, ‘আশূরার দিন আশ’আস ইবনু ক্বায়স (রাঃ) ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর কাছে এলেন। এ সময় তিনি আহার করছিলেন। তিনি আশ’আসকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবূ মুহাম্মাদ! নিকটে এসো্, খানা খাও। তিনি বললেন, আমি তো সওম পালন করছি। এ কথা শুনে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, আমরা এ সওম পালন করতাম। পরে তা ছেড়ে দেয়া হয়েছে। (ই.ফা. ২৫১৭,ই.সে. ২৫১৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৪১
হাদিস নং ২৫৪১
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ دَخَلَ الأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ عَلَى ابْنِ مَسْعُودٍ وَهُوَ يَأْكُلُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّ الْيَوْمَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ . فَقَالَ قَدْ كَانَ يُصَامُ قَبْلَ أَنْ يَنْزِلَ رَمَضَانُ فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ تُرِكَ فَإِنْ كُنْتَ مُفْطِرًا فَاطْعَمْ .
বর্ণনাকারী ‘আলক্বামাহ্ (রহঃ)
তিনি বলেন, আশ’আস ইবনু ক্বায়স (রহঃ) ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ)-এর নিকট গেলেন। সেটা ‘আশূরার দিন ছিল। তখন তিনি খানা খাচ্ছিলেন। এ দেখে আশ’আস (রহঃ) বললেন, হে ‘আবদুর রহমানের পিতা! আজ তো ‘আশূরার দিন। তিনি বললেন, রমাযানের সিয়াম ফরয হওয়ার পূর্বে এ দিনে সিয়াম পালন করা হতো। কিন্ত রমাযানের সিয়াম ফরয হলে এ দিনের সিয়াম পালন ছেড়ে দেয়া হয়। এখন তুমি যদি সওম না রেখে থাক তবে খাও। (ই.ফা. ২৫১৮,ই.সে. ২৫১৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৪২
হাদিস নং ২৫৪২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا شَيْبَانُ، عَنْ أَشْعَثَ، بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا بِصِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ وَيَحُثُّنَا عَلَيْهِ وَيَتَعَاهَدُنَا عِنْدَهُ فَلَمَّا فُرِضَ رَمَضَانُ لَمْ يَأْمُرْنَا وَلَمْ يَنْهَنَا وَلَمْ يَتَعَاهَدْنَا عِنْدَهُ .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আশূরার দিন আমাদেরকে সিয়াম পালনের নির্দেশ দিতেন। তিনি এ ব্যাপারে আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করতেন এবং এ বিষয়ে তিনি আমাদের খোঁজ-খবর নিতেন। কিন্ত যখন রমাযানের সিয়াম ফরয হ’ল তখন তিনি আমাদেরকে আদেশও করেননি, বাধ্যও করেননি এবং কোন খোঁজ-খবর আর নেননি। (ই.ফা. ২৫১৯, ই.সে. ২৫১৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৪৩
হাদিস নং ২৫৪৩
حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، خَطِيبًا بِالْمَدِينَةِ - يَعْنِي فِي قَدْمَةٍ قَدِمَهَا - خَطَبَهُمْ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ يَا أَهْلَ الْمَدِينَةِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِهَذَا الْيَوْمِ " هَذَا يَوْمُ عَاشُورَاءَ وَلَمْ يَكْتُبِ اللَّهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ وَأَنَا صَائِمٌ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَصُومَ فَلْيَصُمْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُفْطِرَ فَلْيُفْطِرْ " .
বর্ণনাকারী হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহঃ)
তিনি একদিন মু’আবিয়াহ্ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ)-কে মাদীনায় খুত্বায় বলতে শুনলেন অর্থাৎ যখন তিনি মাদীনায় এসেছিলেন, তখন ‘আশূরার দিবসে তিনি তাদের উদ্দেশে খুতবাহ্ দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, হে মাদীনাবাসী! তোমাদের ‘আলিমগণ কোথায়? আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ দিন সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, এ হ’ল ‘আশূরা দিবস। আল্লাহ তোমাদের উপর এ দিনের সওম ফরয করেননি। তবে আমি সওম পালন করছি। তাই তোমাদের মধ্যে যে সওম পালন করতে পছন্দ করে, সে পালন করবে আর যে পছন্দ করেনি, সে করবে না। (ই.ফা. ২৫২০, ই.সে. ২৫১৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৪৪
হাদিস নং ২৫৪৪
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ فِي هَذَا الإِسْنَادِ بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী ইবনু শিহাব (রহঃ)
এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ২৫২১, ই.সে.২৫২০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৪৫
হাদিস নং ২৫৪৫
وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي مِثْلِ هَذَا الْيَوْمِ " إِنِّي صَائِمٌ فَمَنْ شَاءَ أَنْ يَصُومَ فَلْيَصُمْ " . وَلَمْ يَذْكُرْ بَاقِيَ حَدِيثِ مَالِكٍ وَيُونُسَ .
বর্ণনাকারী যুহরী (রহঃ)
এ সানাদে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ দিন সম্পর্কে বলতে শুনেছেন যে, আমি সওম পালনকারী। যে সওম পালনের ইচ্ছা করে, সে যেন সওম পালন করে, অতঃপর তিনি মালিক এবং ইউনুস বর্ণিত হাদীসের অবশিষ্ট অংশ উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ২৫২২, ই.সে.২৫২১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৪৬
হাদিস নং ২৫৪৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ، عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَسُئِلُوا عَنْ ذَلِكَ فَقَالُوا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي أَظْهَرَ اللَّهُ فِيهِ مُوسَى وَبَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى فِرْعَوْنَ فَنَحْنُ نَصُومُهُ تَعْظِيمًا لَهُ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " نَحْنُ أَوْلَى بِمُوسَى مِنْكُمْ " . فَأَمَرَ بِصَوْمِهِ .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (হিজরত করে) মাদীনায় এলেন এবং তিনি ইয়াহূদীদেরকে ‘আশূরার দিন সিয়াম পালন করতে দেখতে পেলেন। এরপর তাদেরকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর তারা বলল, এ সে দিন যে দিন আল্লাহ মূসা (‘আঃ) ও বাণী ইসরাঈলকে ফির‘আওনের উপর বিজয়ী করেছেন। তাঁর সম্মানার্থে আমরা সওম পালন করে থাকি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমরা তোমাদের চেয়েও মূসা (‘আঃ)-এর অধিক নিকটবর্তী। এরপর তিনি এ দিনে সওম পালন করার নির্দেশ দিলেন। (ই.ফা. ২৫২৩, ই.সে. ২৫২২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৪৭
হাদিস নং ২৫৪৭
وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ بَشَّارٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ جَمِيعًا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ فَسَأَلَهُمْ عَنْ ذَلِكَ، .
বর্ণনাকারী আবূ বিশর (রহঃ)
এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে হাদীসে (আরবী) (তারা এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করল) এ স্থলে (আরবী) (তিনি তাদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন) বাক্যটি বর্ণিত আছে। (ই. ফা. ২৫২৪, ই. সে. ২৫২৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৪৮
হাদিস নং ২৫৪৮
وَحَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ صِيَامًا يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي تَصُومُونَهُ " . فَقَالُوا هَذَا يَوْمٌ عَظِيمٌ أَنْجَى اللَّهُ فِيهِ مُوسَى وَقَوْمَهُ وَغَرَّقَ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ فَصَامَهُ مُوسَى شُكْرًا فَنَحْنُ نَصُومُهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَنَحْنُ أَحَقُّ وَأَوْلَى بِمُوسَى مِنْكُمْ " . فَصَامَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনায় হিজরত করে ইয়াহূদীদেরকে ‘আশূরার দিন সওম পালনরত দেখতে পেলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তোমারা কোন দিনের সওম পালন করছ, তারা বলল, মহান দিনে আল্লাহ তা’আলা মূসা (‘আঃ) ও তাঁর সম্প্রদায়কে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফির‘আওন ও তার কওমকে ডুবিয়ে দিয়েছেন। এরপর মূসা (আঃ) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার লক্ষ্যে এ দিনে সওম পালন করেছেন। তাই আমরাও এ দিনে সওম পালন করছি। তারপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমরা তো তোমাদের থেকে মূসা (আঃ)- এর অধিক নিকটবর্তী এবং হাক্বদার। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওম পালন করলেন এবং সওম পালন করার জন্য সকলকে নির্দেশ দিলেন। (ই. ফা. ২৫২৫, ই. সে. ২৫২৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৪৯
হাদিস নং ২৫৪৯
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ عَنِ ابْنِ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، لَمْ يُسَمِّهِ .
বর্ণনাকারী আইয়ূব (রহঃ)
এ সানাদের সাথে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, ইবনু সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) এ হাদীস সরাসরি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেননি। (ই. ফা. ২৫২৬, ই. সে. ২৫২৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৫০
হাদিস নং ২৫৫০
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ أَبِي عُمَيْسٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، - رضى الله عنه - قَالَ كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ يَوْمًا تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَتَتَّخِذُهُ عِيدًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صُومُوهُ أَنْتُمْ " .
বর্ণনাকারী আবূ মূসা (রাঃ)
তিনি বলেন, ইয়াহূদী সম্প্রদায় ‘আশূরা দিবসের সম্মান প্রদর্শন করত এবং তারা এ দিনকে ঈদ বলে গন্য করত। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরাও এ দিনে সওম পালন কর। (ই. ফা. ২৫২৭, ই. সে. ২৫২৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৫১
হাদিস নং ২৫৫১
وَحَدَّثَنَاهُ أَحْمَدُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعُمَيْسِ، أَخْبَرَنِي قَيْسٌ، فَذَكَرَ بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ وَزَادَ قَالَ أَبُو أُسَامَةَ فَحَدَّثَنِي صَدَقَةُ بْنُ أَبِي عِمْرَانَ عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي مُوسَى - رضى الله عنه - قَالَ كَانَ أَهْلُ خَيْبَرَ يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ يَتَّخِذُونَهُ عِيدًا وَيُلْبِسُونَ نِسَاءَهُمْ فِيهِ حُلِيَّهُمْ وَشَارَتَهُمْ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَصُومُوهُ أَنْتُمْ " .
বর্ণনাকারী ক্বায়স (রহঃ)-এর সূত্র
এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বারের ইয়াহূদীরা ‘আশূরার দিন সওম পালন করত, তারা এ দিনকে ঈদরূপে বরণ করত এবং তারা তাদের মহিলাদেরকে অলংকার ও উত্তম পোশাকে সুসজ্জিত করত। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরাও এ দিনে সওম পালন কর। (ই. ফা. ২৫২৮ ই. সে. ২৫২৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৫২
হাদিস নং ২৫৫২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، جَمِيعًا عَنْ سُفْيَانَ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - وَسُئِلَ عَنْ صِيَامِ، يَوْمِ عَاشُورَاءَ . فَقَالَ مَا عَلِمْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَامَ يَوْمًا يَطْلُبُ فَضْلَهُ عَلَى الأَيَّامِ إِلاَّ هَذَا الْيَوْمَ وَلاَ شَهْرًا إِلاَّ هَذَا الشَّهْرَ يَعْنِي رَمَضَانَ .
বর্ণনাকারী ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু আবূ ইয়াযীদ (রহঃ)
তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে ‘আশূরার দিনে সিয়াম পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, এ দিন ব্যতীত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন মাসকে অন্য মাসের তুলনায় শ্রেষ্ঠ মনে করে সিয়াম পালন করেছেন করেও আমার জানা নেই। (ই. ফা. ২৫২৯, ই. সে. ২৫২৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৫৩
হাদিস নং ২৫৫৩
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ، اللَّهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ فِي هَذَا الإِسْنَادِ بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু আবূ ইয়াযীদ (রহঃ) এর সূত্র
এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই. ফা. ২৫৩০, ই. সে. ২৫২৯)
২০. অধ্যায়ঃ
‘আশুরা উপলক্ষে কোন দিন সিয়াম রাখা হবে
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৫৪
হাদিস নং ২৫৫৪
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ حَاجِبِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ الأَعْرَجِ، قَالَ انْتَهَيْتُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - وَهُوَ مُتَوَسِّدٌ رِدَاءَهُ فِي زَمْزَمَ فَقُلْتُ لَهُ أَخْبِرْنِي عَنْ صَوْمِ عَاشُورَاءَ . فَقَالَ إِذَا رَأَيْتَ هِلاَلَ الْمُحَرَّمِ فَاعْدُدْ وَأَصْبِحْ يَوْمَ التَّاسِعِ صَائِمًا . قُلْتُ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُهُ قَالَ نَعَمْ .
বর্ণনাকারী হাকাম ইবনু আ‘রাজ (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)- এর কাছে পৌছলাম। এ সময় তিনি যমযমের কাছে চাদর বিছানো অবস্থায় বসা ছিলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, আমাকে ‘আশূরা দিবসের সিয়াম পালন সম্পর্কে সংবাদ দিন। উত্তরে তিনি বললেন, মুহাররম মাসের চাঁদ দেখার পর তুমি এর তারিখগুলো গুণে রাখবে। এরপর নবম তারিখে সওম অবস্থায় তোমার যেন ভোর হয়। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি সেদিন সিয়াম পালন করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা, করেছেন। (ই.ফা. ২৫৩১, ই.সে. ২৫৩০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৫৫
হাদিস নং ২৫৫৫
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي الْحَكَمُ بْنُ الأَعْرَجِ، قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - وَهُوَ مُتَوَسِّدٌ رِدَاءَهُ عِنْدَ زَمْزَمَ عَنْ صَوْمِ عَاشُورَاءَ . بِمِثْلِ حَدِيثِ حَاجِبِ بْنِ عُمَرَ .
বর্ণনাকারী হাকাম ইবনু আ‘রাজ (রহঃ)
তিনি বলেন, যমযমের কাছে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) চাদর বিছিয়ে বসে থাকা অবস্থায় আমি তাঁকে ‘আশূরার দিবসে সওম পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। এরপর তিনি হাজিব ইবনু ‘উমার (রহঃ)-এর হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই ফা ২৫৩২, ই সে ২৫৩১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৫৬
হাদিস নং ২৫৫৬
وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا غَطَفَانَ بْنَ طَرِيفٍ الْمُرِّيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ، بْنَ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - يَقُولُ حِينَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ - إِنْ شَاءَ اللَّهُ - صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ " . قَالَ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ‘আশূরার দিন সিয়াম পালন করেন এবং লোকদের সিয়াম পালনের নির্দেশ দেন, তখন সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়াহুদ এবং নাসারা এই দিনের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করে থাকে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা নবম তারিখেও সিয়াম পালন করব। বর্ণনাকারী বললেন, এখনো আগামী বছর আসেনি, এমতাবস্হায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকাল হয়ে যায়। (ই. ফা. ২৫৩৩ ই. সে. ২৫৩২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৫৭
হাদিস নং ২৫৫৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرٍ، - لَعَلَّهُ قَالَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِلٍ لأَصُومَنَّ التَّاسِعَ " . وَفِي رِوَايَةِ أَبِي بَكْرٍ قَالَ يَعْنِي يَوْمَ عَاشُورَاءَ .
বর্ণনাকারী ‘আবদল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তবে মুহাররমের নবম তারিখেও সিয়াম পালন করব। আবূ বাক্র (রহঃ) বলেন, নবম তারিখই হচ্ছে ‘আশূরার দিন। (ই. ফা. ২৫৩৪ ই. সে. ২৫৩৩)
২১ অধ্যায়ঃ
যে ‘আশুরার দিন কিছু খেয়ে ফেলল সে যেন দিনের বাকী অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকে
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৫৮
হাদিস নং ২৫৫৮
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي، عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، - رضى الله عنه - أَنَّهُ قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً مِنْ أَسْلَمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَأَمَرَهُ أَنْ يُؤَذِّنَ فِي النَّاسِ " مَنْ كَانَ لَمْ يَصُمْ فَلْيَصُمْ وَمَنْ كَانَ أَكَلَ فَلْيُتِمَّ صِيَامَهُ إِلَى اللَّيْلِ " .
বর্ণনাকারী সালামাহ্ ইবনু আকওয়া’ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আশুরার দিন আসলাম গোত্রের এক ব্যাক্তিকে নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন, সে যেন লোকদের মধ্যে এ কথা ঘোষণা করে যে, যে সিয়াম পালন করেনি, সে যেন সিয়াম পালন করে এবং যে আহার করেছে, সে যেন রাত পর্যন্ত তার সওম পূর্ণ করে। (ই. ফা. ২৫৩৫ ই. সে. ২৫৩৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৫৯
হাদিস নং ২৫৫৯
وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ بْنِ لاَحِقٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ، بْنُ ذَكْوَانَ عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ، قَالَتْ أَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَدَاةَ عَاشُورَاءَ إِلَى قُرَى الأَنْصَارِ الَّتِي حَوْلَ الْمَدِينَةِ " مَنْ كَانَ أَصْبَحَ صَائِمًا فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ وَمَنْ كَانَ أَصْبَحَ مُفْطِرًا فَلْيُتِمَّ بَقِيَّةَ يَوْمِهِ " . فَكُنَّا بَعْدَ ذَلِكَ نَصُومُهُ وَنُصَوِّمُ صِبْيَانَنَا الصِّغَارَ مِنْهُمْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ وَنَذْهَبُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَنَجْعَلُ لَهُمُ اللُّعْبَةَ مِنَ الْعِهْنِ فَإِذَا بَكَى أَحَدُهُمْ عَلَى الطَّعَامِ أَعْطَيْنَاهَا إِيَّاهُ عِنْدَ الإِفْطَارِ .
বর্ণনাকারী রুবায়’ই বিনতু মু'আব্বিয ইবনু ‘আফরা (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আশুরার দিন ভোরে এক ব্যাক্তিকে মাদীনার পার্শ্ববর্তী আনসারী সাহাবীগণের জনপদে এ নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন, সে যেন করে ঘোষনা করে দেয় যে, সিয়ামরত অবস্হায় যার ভোর হয়েছে, সে যেন তার সওমকে পূর্ণ করে। আর যার ইফত্বার অবস্হায় ভোর হয়েছে, সে যেন তার দিনের অবশিষ্ট অংশ পানাহার থেকে বিরত অবস্হায় পূর্ণ করে। এরপর আমরা এ দিন সাওম পালন করতাম এবং আমাদের ছোট ছোট সন্তানদেরকেও আল্লাহ চাহে তো সওম পালনে অভ্যস্ত করে তুলতাম। আমরা তাদেরকে মাসজিদে নিয়ে যেতাম এবং তাদের জন্য পশমের খেলনা বানিয়ে দিতাম। যখন তারা খাওয়ার জন্য কাঁদত, তখন আমরা তাদেরকে সে খেলনা প্রদান করতাম। এমনি করে ইফত্বারের সময় হয়ে যেত। (ই. ফা. ২৫৩৬ ই. সে. ২৫৩৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৬০
হাদিস নং ২৫৬০
وَحَدَّثَنَاهُ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو مَعْشَرٍ الْعَطَّارُ، عَنْ خَالِدِ بْنِ ذَكْوَانَ، قَالَ سَأَلْتُ الرُّبَيِّعَ بِنْتَ مُعَوِّذٍ عَنْ صَوْمِ، عَاشُورَاءَ قَالَتْ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رُسُلَهُ فِي قُرَى الأَنْصَارِ . فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ بِشْرٍ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ وَنَصْنَعُ لَهُمُ اللُّعْبَةَ مِنَ الْعِهْنِ فَنَذْهَبُ بِهِ مَعَنَا فَإِذَا سَأَلُونَا الطَّعَامَ أَعْطَيْنَاهُمُ اللُّعْبَةَ تُلْهِيهِمْ حَتَّى يُتِمُّوا صَوْمَهُمْ .
বর্ণনাকারী খালিদ ইবনু যাক্ওয়ান (রাঃ)
তিনি বলেছেন, আমি রুবায়’ই বিনতু মু’আব্বিয (রাঃ)-কে ‘আশুরার দিন সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বার্তাবাহককে আনসারদের গ্রামে পাঠালেন .... হাদিসের বাকী অংশ বিশ্র বর্ণিত হাদিসের অনুরুপ। শুধু এতটুকু ব্যতিক্রম রয়েছে, আমরা এদের জন্য পশম দিয়ে খেলনা তৈরি করতাম, এবং এগুলো আমাদের সাথেই নিয়ে যেতাম। এরা আমাদের কাছে খাবার চাইলে আমরা এ খেলনা এদের হাতে দিতাম। এটা তাদেরকে সিয়াম পূর্ণ করা পর্যন্ত ভুলিয়ে রাখত। (ই. ফা. ২৫৩৭ ই. সে. ২৫৩৬)
২২ অধ্যায়ঃ
‘ঈদুল ফিতর ও ‘ঈদুল আযহার দিনে সিয়াম পালন করা হারাম
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৬১
হাদিস নং ২৫৬১
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ مَوْلَى ابْنِ أَزْهَرَ أَنَّهُ قَالَ: شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَجَاءَ فَصَلَّى ثُمَّ انْصَرَفَ فَخَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ إِنَّ هَذَيْنِ يَوْمَانِ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صِيَامِهِمَا يَوْمُ فِطْرِكُمْ مِنْ صِيَامِكُمْ وَالْآخَرُ يَوْمٌ تَأْكُلُونَ فِيهِ مِنْ نُسُكِكُمْ
বর্ণনাকারী ইবনু আযহারের মুক্ত গোলাম আবূ ‘উবায়দ
তিনি বলেন, আমি ঈদের দিন ‘উমার ইবনু খাত্ত্বাব (রাঃ)–এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। তিনি সালাত আদায় সমাপ্ত করে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন। এতে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দু’দিন সিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন। ‘ঈদুল ফিতরের দিন, আর দ্বিতীয় হলো যেদিল তোমরা কুরবানীর গোশ্ত খেয়ে থাক। [৭] (ই. ফা. ২৫৩৮ ই. সে. ২৫৩৭)
[৭] ঈদুল ফিত্র এবং ঈদুল আযহার দিন সওম পালন করা হারাম। চাই তা মানসা করা বা নযর মানার সওম বা নাফ্ল সওমই হোক অথবা কাফ্ফারার সওম বা অন্যান্য সওম হোক। আর যদি বিশেষ করে ইচ্ছাকৃতভাবে ঐ দিনসমূহে মানসা করে তবে ইমাম শাফি’ঈ এবং অধিকাংশ ‘উলামার মতে তার ঐ মানসা সাব্যাস্তই হবে না। সওম পালন করা না করা পরের কথা, ফলে তার উপর কাযা করাও আবশ্যক নয়। অন্য পক্ষে ইমাম আবূ হানীফার মতে মানসা কার্যকর হবে এবং তার কাযা আদায় ওয়াজিব। ফলে অন্য কোন দিন সওম পালনে তা পূর্ণ হবে। কিন্তু এ কথা সকল ইমামের ব্যতিক্রম, ইমাম নাবাবীও এমনই বলেছেন ।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৬২
হাদিস নং ২৫৬২
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ صِيَامِ يَوْمَيْنِ يَوْمِ الأَضْحَى وَيَوْمِ الْفِطْرِ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’দিন সিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন – কুরবানীর ঈদের দিন আর ‘ঈদুল ফিত্রের দিন। (ই. ফা. ২৫৩৯ ই. সে. ২৫৩৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৬৩
হাদিস নং ২৫৬৩
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، - وَهُوَ ابْنُ عُمَيْرٍ - عَنْ قَزَعَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، - رضى الله عنه - قَالَ سَمِعْتُ مِنْهُ، حَدِيثًا فَأَعْجَبَنِي فَقُلْتُ لَهُ آنْتَ سَمِعْتَ هَذَا، مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَأَقُولُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَمْ أَسْمَعْ قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ " لاَ يَصْلُحُ الصِّيَامُ فِي يَوْمَيْنِ يَوْمِ الأَضْحَى وَيَوْمِ الْفِطْرِ مِنْ رَمَضَانَ " .
বর্ণনাকারী ক্বাযা’আহ্ থেকে আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)-এর সূত্র
তিনি বললেন, আমি তাঁর (আবূ সা’ঈদ) কাছে একটি হাদীস শুনলাম যা আমার অত্যন্ত পছন্দ হলো। আমি তাঁকে বললাম, আপনি এ হাদীস রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে শুনেছেন। তিনি বললেন, আমি যা শুনিনি এমন কথা তাঁর নামে চালিয়ে দিতে পারি? এবার তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ দু’দিন সিয়াম পালন করা সমীচীন নয়। কুরবানীর ঈদের দিন আর রমযানের ‘ঈদুল ফিতরের দিন। (ই. ফা. ২৫৪০ ই. সে. ২৫৩৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৬৪
হাদিস নং ২৫৬৪
وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، - رضى الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ صِيَامِ يَوْمَيْنِ يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ النَّحْرِ .
বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’টি দিন সিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেনঃ ‘ঈদুল ফিত্রের দিন এবং কুরবানীর ঈদের দিন। (ই. ফা. ২৫৪১ ই. সে. ২৫৪০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৬৫
হাদিস নং ২৫৬৫
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابْنِ عُمَرَ - رضى الله عنهما - فَقَالَ إِنِّي نَذَرْتُ أَنْ أَصُومَ يَوْمًا فَوَافَقَ يَوْمَ أَضْحَى أَوْ فِطْرٍ . فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ رضى الله عنهما أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى بِوَفَاءِ النَّذْرِ وَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَوْمِ هَذَا الْيَوْمِ .
বর্ণনাকারী যিয়াদ ইবনু জুবায়র (রহঃ)
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে এসে বলল, আমি একদিন সিয়াম পালন করব বলে মানৎ করেছি। ঘটনাক্রমে ঐ দিনই ‘ঈদুল আযহা বা ‘ঈদুল ফিত্রের দিন পড়েছে। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তা’আলা মানৎ পূর্ণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দিন সিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন। (ই. ফা. ২৫৪২ ই. সে. ২৫৪১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৬৬
হাদিস নং ২৫৬৬
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ، أَخْبَرَتْنِي عَمْرَةُ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَوْمَيْنِ يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الأَضْحَى .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’টি দিন সিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন। ‘ঈদুল ফিত্রের দিন এবং ‘ঈদুল আযহার দিন। (ই. ফা. ২৫৪৩ ই. সে. ২৫৪২)
২৩. অধ্যায়ঃ
আইয়্যামে তাশরীক্বে সিয়াম পালন করা হারাম
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৬৭
হাদিস নং ২৫৬৭
وَحَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ نُبَيْشَةَ، الْهُذَلِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيَّامُ التَّشْرِيقِ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ " .
বর্ণনাকারী নুবায়শাহ্ আল হুযালী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আইয়্যামে তাশরীক্ব হচ্ছে পানাহার করার দিন। (ই.ফা. ২৫৪৪, ই.সে. ২৫৪৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৬৮
হাদিস নং ২৫৬৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عُلَيَّةَ - عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، حَدَّثَنِي أَبُو قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ نُبَيْشَةَ، قَالَ خَالِدٌ فَلَقِيتُ أَبَا الْمَلِيحِ فَسَأَلْتُهُ فَحَدَّثَنِي بِهِ، فَذَكَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ هُشَيْمٍ وَزَادَ فِيهِ " وَذِكْرٍ لِلَّهِ " .
বর্ণনাকারী নুবায়শাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, খালিদ বলেছেন, আমি আবুল মালীহি এর সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করি, তিনি আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হুশায়মের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসের মধ্যে অতিরিক্ত রয়েছে যে, “এ দিন আল্লাহ্কে স্মরণ করার দিন।” (ই.ফা. ২৫৪৫, ই.সে. ২৫৪৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৬৯
হাদিস নং ২৫৬৯
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنِ ابْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَهُ وَأَوْسَ بْنَ الْحَدَثَانِ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ فَنَادَى " أَنَّهُ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلاَّ مُؤْمِنٌ . وَأَيَّامُ مِنًى أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ " .
বর্ণনাকারী ইবনু কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে এবং আওস ইবনু হাদাসান (রাঃ) –কে আইয়্যানে তাশরীক্বে একটি ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠালেন। অতঃপর তারা রসূলের বাণী ঘোষনা করে শুনিয়ে দিলেনঃ “মু’মিন ব্যক্তি ছাড়া কেউই জান্নাতে প্রবেশ করবে না, আর মিনায় অবস্থানের দিনগুলো হচ্ছে পানাহার করার দিন।” (ই.ফা. ২৫৪৬, ই.সে. ২৫৪৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৭০
হাদিস নং ২৫৭০
وَحَدَّثَنَاهُ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، بْنُ طَهْمَانَ بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَنَادَيَا .
বর্ণনাকারী ইব্রাহীম ইবনু ত্বহমান (রহঃ) থেকে এ সূত্র
উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে উল্লেখ আছে তারা উভয়ে ঘোষণা করলেন। (ই.ফা. ২৫৪৭, ই.সে. ২৫৪৬)
২৪. অধ্যায়ঃ
কেবলমাত্র জুমু’আর দিন সিয়াম পালন করা মাকরূহ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৭১
হাদিস নং ২৫৭১
حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ، بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ - رضى الله عنهما - وَهُوَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ أَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صِيَامِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَقَالَ نَعَمْ وَرَبِّ هَذَا الْبَيْتِ .
বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু ‘আব্বাস ইবনু জা’ফার (রাঃ)
তিনি বলেন, জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) যখন কা’বাহ্ ঘর প্রদক্ষিণ করছিলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি জুমু’আর দিন সিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, কা’বাহ্ ঘরের প্রভুর শপথ! হ্যাঁ, তিনি নিষেধ করেছেন। (ই.ফা. ২৫৪৮, ই.সে. ২৫৪৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৭২
হাদিস নং ২৫৭২
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْحَمِيدِ، بْنُ جُبَيْرِ بْنِ شَيْبَةَ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ، أَنَّهُ سَأَلَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ - رضى الله عنهما - بِمِثْلِهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ) থেকেও এ সূত্র
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একই হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ২৫৪৯, ই.সে. ২৫৪৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৭৩
হাদিস নং ২৫৭৩
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَصُمْ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلاَّ أَنْ يَصُومَ قَبْلَهُ أَوْ يَصُومَ بَعْدَهُ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “জুমু’আর দিন কেউ যেন সিয়াম পালন না করে। কিন্তু যদি কেউ জুমু’আর দিনের আগে বা পরে একদিন সিয়াম পালন করে তাহলে সে জুমু’আর দিন সিয়াম পালন করতে পারে।” (ই.ফা, ২৫৫০, ই.সে. ২৫৪৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৭৪
হাদিস নং ২৫৭৪
وَحَدَّثَنِي أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، - يَعْنِي الْجُعْفِيَّ - عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَخْتَصُّوا لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ بِقِيَامٍ مِنْ بَيْنِ اللَّيَالِي وَلاَ تَخُصُّوا يَوْمَ الْجُمُعَةِ بِصِيَامٍ مِنْ بَيْنِ الأَيَّامِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ فِي صَوْمٍ يَصُومُهُ أَحَدُكُمْ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা রাতগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র জুমু’আর রাতকে জাগরণের (নৈশ ‘ইবাদাতের) জন্য নির্দিষ্ট করে নিও না, আর দিনগুলোর মধ্যে শুধু জুমু’আর দিনকে সিয়ামের জন্য নির্দিষ্ট করে নিও না। তবে যদি তোমাদের কেউ সর্বদা (নাফ্ল) সিয়াম পালন করে আর এ সিয়ামের (ধারাবাহিকতার) মধ্যে জুমু’আর দিন এসে যায় তাহলে ভিন্ন কথা। অর্থাৎ সে ঐদিন (নাফ্ল) সিয়াম পালন করতে পারে।” (ই.ফা. ২৫৫১, ই.সে. ২৫৫০)
২৫. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর বাণী –“আর যারা সিয়াম পালন করতে সক্ষম তারা ফিদ্ইয়াহ্ হিসেবে একজন মিসকীনকে খাদ্য দিবে” – এ হুকুম মানসূখ হয়ে গেছে
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৭৫
হাদিস নং ২৫৭৫
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بَكْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُضَرَ - عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ يَزِيدَ، مَوْلَى سَلَمَةَ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، - رضى الله عنه - قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ { وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ} كَانَ مَنْ أَرَادَ أَنْ يُفْطِرَ وَيَفْتَدِيَ . حَتَّى نَزَلَتِ الآيَةُ الَّتِي بَعْدَهَا فَنَسَخَتْهَا .
বর্ণনাকারী সালমাহ্ ইবনু আকওয়া’ (রাঃ)
তিনি বলেন, “যারা সিয়াম পালন করতে সক্ষম (অথচ সিয়াম পালন করতে চায় না) তারা ফিদইয়াহ্ হিসেবে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে” যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল, কেউ যদি রামাদানে সিয়াম পালন করতে না চাইতো সে সিয়াম ভাঙ্গত এবং তার পরিবর্তে ফিদইয়াহ্ আদায় করে দিত। অতঃপর এর পরবর্তি আয়াত অবতীর্ণ হলো এবং তা পূর্ববর্তী আয়াতের হুকুমকে মানসূখ (রহিত) করে দিল।” (ই.ফা. ২৫৫২, ই.সে. ২৫৫১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৭৬
হাদিস নং ২৫৭৬
حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ الْعَامِرِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ، الْحَارِثِ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ يَزِيدَ، مَوْلَى سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، - رضى الله عنه - أَنَّهُ قَالَ كُنَّا فِي رَمَضَانَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ شَاءَ صَامَ وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ فَافْتَدَى بِطَعَامِ مِسْكِينٍ حَتَّى أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ { فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ}
বর্ণনাকারী সালমাহ্ ইবনু আকওয়া’ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে রমাযান মাসে আমাদের মধ্যে যার ইচ্ছা হত সিয়াম পালন করত আর যে চাইত ভঙ্গ করত এবং এর বিনিময়ে ফিদইয়াহ্ হিসেবে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করত। অবশেষে এ আয়াত নাযিল হল, “কাজেই আজ হতে যে ব্যক্তিই এ মাসের সম্মুখিন হবে তার জন্য এ পূর্ণ মাসের সিয়াম পালন করা একান্ত কর্তব্য।” (ই.ফা. ২৫৫৩, ই.সে. ২৫৫২)
২৬. অধ্যায়ঃ
শা’বান মাসে রামাদানের সিয়ামের ক্বাযা
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৭৭
হাদিস নং ২৫৭৭
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي، سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - تَقُولُ كَانَ يَكُونُ عَلَىَّ الصَّوْمُ مِنْ رَمَضَانَ فَمَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقْضِيَهُ إِلاَّ فِي شَعْبَانَ الشُّغُلُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী আবূ সালামাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশা (রাঃ)–কে বলতে শুনেছি, “আমার রামাযান মাসের সিয়াম অবশিষ্ট থেকে যেত। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর খিদমতে ব্যস্ত থাকার কারণে আমি শা’বান মাস ছাড়া অন্য কোন সময়ে তা আদায় করার সুযোগ পেতাম না।” (ই.ফা. ২৫৫৪, ই.সে. ২৫৫৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৭৮
হাদিস নং ২৫৭৮
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، بْنُ بِلاَلٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ وَذَلِكَ لِمَكَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) থেকে এ সূত্র
উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় পার্থক্য এতটুকু যে, তিনি বলেছেন, আর রামাযানের সিয়ামের ক্বাযা আদায়ের ব্যাপারে শা’বান পর্যন্ত বিলম্ব করার কারণ হল, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খিদমতে নিযুক্ত থাকা। (ই.ফা. ২৫৫৫, ই.সে. ২৫৫৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৭৯
হাদিস নং ২৫৭৯
وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى، بْنُ سَعِيدٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ فَظَنَنْتُ أَنَّ ذَلِكَ لِمَكَانِهَا مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . يَحْيَى يَقُولُهُ .
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ (রহঃ)
এ সানাদেও উপরের হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে তিনি আরো বলেছেন, আমার এরুপ দেরি করার কারণ ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর খিদমতে ব্যস্ত থাকা। (ই.ফা. ২৫৫৬, ই.সে. ২৫৫৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৮০
হাদিস নং ২৫৮০
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، كِلاَهُمَا عَنْ يَحْيَى، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرَا فِي الْحَدِيثِ الشُّغْلُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া (রহঃ) থেকে এ সানাদ
উপরের হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এ বর্ণনায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খিদমতে তার ব্যস্ত থাকার কথা উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ২৫৫৭, ই.সে. ২৫৫৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৮১
হাদিস নং ২৫৮১
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ إِنْ كَانَتْ إِحْدَانَا لَتُفْطِرُ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَا تَقْدِرُ عَلَى أَنْ تَقْضِيَهُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يَأْتِيَ شَعْبَانُ .
বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমাদের (রসূলের স্ত্রীগণের) মধ্যে কেউ যদি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ে সিয়াম ভঙ্গ করত তাহলে সে শা’বান মাস আসার পূর্বে কোন সময়ই রোযা করার সুযোগ পেত না। (ই.ফা. ২৫৫৮, ই.সে. ২৫৫৭)
২৭. অধ্যায়ঃ
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সিয়াম পালন করার বর্ণনা
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৮২
হাদিস নং ২৫৮২
وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ " .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “কোন মৃত ব্যক্তির উপর ক্বাযা সিয়াম থাকলে তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে সিয়াম পূর্ণ করবে। (ই.ফা. ২৫৫৯, ই.সে. ২৫৫৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৮৩
হাদিস নং ২৫৮৩
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ مُسْلِمٍ، الْبَطِينِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - أَنَّ امْرَأَةً، أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ . فَقَالَ " أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَيْهَا دَيْنٌ أَكُنْتِ تَقْضِينَهُ " . قَالَتْ نَعَمْ . قَالَ " فَدَيْنُ اللَّهِ أَحَقُّ بِالْقَضَاءِ " .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
এক মহিলা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, আমার মা মারা গেছেন। তার এক মাসের সিয়াম বাকি আছে। তিনি বলেন, মনে কর তার (তোমার মায়ের) উপর যদি কোন ঋণ থাকত তাহলে কি তুমি তা পরিশোধ করতে? সে বলল, হ্যাঁ। এবার তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহর ঋণ (বা পাওনা) পরিশোধিত হবার সবচেয়ে বেশি হক্ব রয়েছে। (ই.ফা. ২৫৬০, ই.সে. ২৫৫৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৮৪
হাদিস নং ২৫৮৪
وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ الْوَكِيعِيُّ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ أَفَأَقْضِيهِ عَنْهَا فَقَالَ " لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكَ دَيْنٌ أَكُنْتَ قَاضِيَهُ عَنْهَا " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَدَيْنُ اللَّهِ أَحَقُّ أَنْ يُقْضَى " . قَالَ سُلَيْمَانُ فَقَالَ الْحَكَمُ وَسَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ جَمِيعًا وَنَحْنُ جُلُوسٌ حِينَ حَدَّثَ مُسْلِمٌ بِهَذَا الْحَدِيثِ فَقَالاَ سَمِعْنَا مُجَاهِدًا يَذْكُرُ هَذَا عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ.
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা মারা গেছেন এবং তাঁর এক মাসের সিয়াম বাকি আছে। আমি কি তার পক্ষ থেকে এটা আদায় করে দিব? তখন তিনি বললেন, যদি তোমার মায়ের উপর ঋণ থাকত তাহলে তুমি কি তা তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করে দিতে? সে বলল, হ্যাঁ। এবার তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহর ঋণ তো পরিশোধিত হবার সবচেয়ে বেশি দাবীদার।সুলায়মান বলেন, হাকাম ও সালামাহ্ ইবনু কুহায়ল উভয়ই বলেছেন, যখন মুসলিম আল্ বাতীন এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তখন আমরা উভয়ই সেখানে বসা ছিলাম। অতঃপর তারা উভয়ই বলেন, আমরা মুজাহিদকে এ হাদীসটি ইবনু ‘আব্বাসের সুত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি। (ই.ফা. ২৫৬১, ই.সে. ২৫৬০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৮৫
হাদিস নং ২৫৮৫
وَحَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَلَمَةَ، بْنِ كُهَيْلٍ وَالْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ وَمُسْلِمٍ الْبَطِينِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، وَمُجَاهِدٍ، وَعَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ، عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে এ সুত্র
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একই হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ২৫৬২, ই.সে. ২৫৬১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৮৬
হাদিস নং ২৫৮৬
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَابْنُ أَبِي خَلَفٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، جَمِيعًا عَنْ زَكَرِيَّاءَ، بْنِ عَدِيٍّ - قَالَ عَبْدٌ حَدَّثَنِي زَكَرِيَّاءُ بْنُ عَدِيٍّ، - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ زَيْدِ، بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ عُتَيْبَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ نَذْرٍ أَفَأَصُومُ عَنْهَا قَالَ " أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ فَقَضَيْتِيهِ أَكَانَ يُؤَدِّي ذَلِكِ عَنْهَا " . قَالَتْ نَعَمْ . قَالَ " فَصُومِي عَنْ أُمِّكِ " .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, এক মহিলা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! আমার মা তার মানতের সওম বাকি রেখেই মারা গেছেন। এখন আমি কি তার পক্ষ থেকে এটা পূর্ণ করবো?। তিনি বললেন, মনে কর তোমার মায়ের পক্ষ থেকে ঋণ বাকি ছিল। তুমি তা পরিশোধ করে দিলে। এতে কি তোমার মায়ের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ হয়ে যেত? সে (মহিলা) বলল, হ্যাঁ। এবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি তোমার মায়ের পক্ষ থেকে সওম রেখে দাও। (ই.ফা. ২৫৬৩, ই.সে. ২৫৬২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৮৭
হাদিস নং ২৫৮৭
وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ أَبُو الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ عَطَاءٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، - رضى الله عنه - قَالَ بَيْنَا أَنَا جَالِسٌ، عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ أَتَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ إِنِّي تَصَدَّقْتُ عَلَى أُمِّي بِجَارِيَةٍ وَإِنَّهَا مَاتَتْ - قَالَ - فَقَالَ " وَجَبَ أَجْرُكِ وَرَدَّهَا عَلَيْكِ الْمِيرَاثُ " . قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ كَانَ عَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ أَفَأَصُومُ عَنْهَا قَالَ " صُومِي عَنْهَا " . قَالَتْ إِنَّهَا لَمْ تَحُجَّ قَطُّ أَفَأَحُجُّ عَنْهَا قَالَ " حُجِّي عَنْهَا " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুরায়দাহ্ (রাঃ) থেকে পিতার সূত্র
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় এক মহিলা তাঁর কাছে এসে বলল, আমার মাকে একটি দাসী দান করেছিলাম, আমার মা মারা গেছেন। তখন তিনি বললেন, তুমি তোমার সাওয়াবের অধিকারী হয়ে গেছ এবং ঐ দাসী উত্তরাধিকার সূত্রে পুনরায় তোমার মালিকানাধীনে ফিরে আসবে। সে (মহিলা) আবার বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! তাঁর এক মাসের সিয়াম বাকি আছে। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে এ সিয়াম পালন করতে পারি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাঁর পক্ষ থেকে তুমি সিয়াম পালন কর। আবার সে বলল, তিনি কখনো হাজ্জ করেননি। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হাজ্জ করব? তিনি বললেন, তার পক্ষ থেকে হাজ্জও কর। (ই.ফা. ২৫৬৪, ই.সে. ২৫৬৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৮৮
হাদিস নং ২৫৮৮
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، - رضى الله عنه - قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ مُسْهِرٍ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ صَوْمُ شَهْرَيْنِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুরায়দাহ্ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্র
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর কাছে বসা ছিলাম। ...ইবনু মুসহিরের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সূত্রে দু’ মাসের সওমের কথা উল্লেখ আছে। (ই.ফা. ২৫৬৫, ই.সে. ২৫৬৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৮৯
হাদিস নং ২৫৮৯
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، - رضى الله عنه - قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . فَذَكَرَ بِمِثْلِهِ وَقَالَ صَوْمُ شَهْرٍ .
বর্ণনাকারী ইবনু বুরায়দাহ্ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্র
তিনি বলেন, একজন স্ত্রীলোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকটে আসল। ... উপরের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সূত্রে এক মাসের সিয়ামের কথা উল্লেখ আছে। (ই.ফা. ২৫৬৬, ই.সে. ২৫৬৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৯০
হাদিস নং ২৫৯০
وَحَدَّثَنِيهِ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ سُفْيَانَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ صَوْمُ شَهْرَيْنِ .
বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান থেকে এ সূত্র
উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে দু’মাসের সিয়ামের কথা উল্লেখ রয়েছে। (ই.ফা. ২৫৬৭, ই.সে. ২৫৬৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৯১
হাদিস নং ২৫৯১
وَحَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَطَاءٍ الْمَكِّيِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، - رضى الله عنه - قَالَ أَتَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمْ وَقَالَ صَوْمُ شَهْرٍ .
বর্ণনাকারী সুলায়মান ইবনু বুরায়দাহ্ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্র
তিনি (বুরায়দাহ্) বলেন, এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে আসল। ... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সূত্রে এক মাসের সিয়ামের কথা উল্লেখ আছে। (ই.ফা. ২৫৬৮, ই.সে. ২৫৬৭)
২৮. অধ্যায়ঃ
সিয়াম অবস্থায় আমন্ত্রণ গ্রহণ করার বর্ণনা
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৯২
হাদিস নং ২৫৯২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ رِوَايَةً وَقَالَ عَمْرٌو يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ زُهَيْرٌ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى طَعَامٍ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ ".
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ সিয়াম অবস্থায় আহার করার জন্য আমন্ত্রিত হয়, তখন সে যেন বলে, আমি সিয়াম পালনকারী। (ই.ফা. ২৫৬৯, ই.সে. ২৫৬৮)
২৯. অধ্যায়ঃ
সিয়াম পালনকারীর জিহ্বার হিফাযাত
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৯৩
হাদিস নং ২৫৯৩
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - رِوَايَةً قَالَ " إِذَا أَصْبَحَ أَحَدُكُمْ يَوْمًا صَائِمًا فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَجْهَلْ فَإِنِ امْرُؤٌ شَاتَمَهُ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ إِنِّي صَائِمٌ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
যখন তোমাদের কেউ কোনদিন সিয়াম অবস্থায় ভোরে উপনীত হয়, সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা ও জাহিলী আচরণ না করে। যদি কেউ তাকে গালাগালি করে বা তার সাথে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হতে উদ্যত হয় তখন সে যেন বলে, আমি সিয়াম পালনকারী, আমি সিয়াম পালনকারী। (ই.ফা. ২৫৭০, ই.সে. ২৫৬৯)
৩০. অধ্যায়ঃ
সিয়ামের ফাযীলাত
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৯৪
হাদিস নং ২৫৯৪
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلاَّ الصِّيَامَ هُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخِلْفَةُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ “মহান আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, মানব সন্তানের যাবতীয় কাজ তার নিজের জন্য। কিন্ত সিয়াম, এটা আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দিব।” সে মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতের মুঠায় মুহাম্মাদের জীবন! নিশ্চয়ই সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহ্র কাছে কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়। (ই.ফা. ২৫৭১, ই.সে. ২৫৭০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৯৫
হাদিস নং ২৫৯৫
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - وَهُوَ الْحِزَامِيُّ - عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الصِّيَامُ جُنَّةٌ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সিয়াম ঢাল স্বরূপ। (ই.ফা. ২৫৭২, ই.সে. ২৫৭১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৯৬
হাদিস নং ২৫৯৬
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ الزَّيَّاتِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلاَّ الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ يَوْمَئِذٍ وَلاَ يَسْخَبْ فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ . وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ بِفِطْرِهِ وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ فَرِحَ بِصَوْمِهِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “মানব সন্তানের প্রতিটি নেক কাজের সওয়াব দশ গুন থেকে সাতশ’ গুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়।” মহান আল্লাহ্ বলেন, “আদম সন্তানের যাবতীয় ‘আমাল তার নিজের জন্য কিন্ত সিয়াম বিশেষ করে আমার জন্যই রাখা হয়। আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব।” সুতরাং যখন তোমাদের কারো সওমের দিন আসে সে যেন ঐ দিন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং অনর্থক শোরগোল না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে বিবাদ করতে চায়, সে যেন বলে, “আমি একজন সিয়াম পালনকারী”। সে মহান আল্লাহ্র শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন! সিয়াম পালনকারীদের মুখের দুর্গন্ধ ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ্র কাছে কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়েও উত্তম হবে। আর সিয়াম পালনকারীদের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। এর মাধ্যমে সে অনাবিল আনন্দ লাভ করে। একটি হল যখন সে ইফত্বার করে তখন ইফত্বারীর মাধ্যমে আনন্দ পায় আর দ্বিতীয়টি হলো যখন সে তার প্রভুর সাথে মিলিত হবে তখন সে তার সিয়ামের জন্য আনন্দিত হবে।” (ই.ফা. ২৫৭৩, ই.সে. ২৫৭২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৯৭
হাদিস নং ২৫৯৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلاَّ الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ . وَلَخُلُوفُ فِيهِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “মানব সন্তানের প্রতিটি নেক কাজের সাওয়াব দশ গুন থেকে সাতশ’ গুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়। মহান আল্লাহ্ বলেন, “কিন্তু সিয়াম আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিফল দান করব। বান্দা আমারই জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে।” সিয়াম পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দ আছে। একটি তার ইফত্বারের সময় এবং অপরটি তার প্রতিপালক আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাতের সময়। সিয়াম পালনকারীর মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ্ তা’আলার কাছে মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়। (ই.ফা. ২৫৭৪, ই.সে. ২৫৭৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৯৮
হাদিস নং ২৫৯৮
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ، عَنْ أَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبِي، سَعِيدٍ - رضى الله عنهما - قَالاَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ إِنَّ الصَّوْمَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ إِنَّ لِلصَّائِمِ فَرْحَتَيْنِ إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ وَإِذَا لَقِيَ اللَّهَ فَرِحَ . وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ ও আবূ সা’ঈদ (রাঃ)
তাঁরা উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, “সিয়াম আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিফল দান করব।” সিয়াম পালনকারীর জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। একটি হলো যখন সে ইফত্বার করে আনন্দিত হয়, অপরটি হলো যখন সে মহান আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন সে আনন্দিত হবে। সে মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন! নিশ্চয়ই সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহ্ তা’আলার কাছে মিশ্কের সুগন্ধের চেয়েও তীব্র। [৮] (ই.ফা. ২৫৭৫, ই.সে. ২৫৭৪)
[৮] ইফত্বারের সময় খুশির কারণ হলো, মহান আল্লাহ্ তা’আলার অপার অনুগ্রহ সাহায্য এবং তাওফীকের কারণে এ রকম একটি ফাযীলত ও মর্যাদাপূর্ণ কাজ সম্পাদন করতে পেরেছে, আর এ সময় দুনিয়ার যাবতীয় হালাল বস্তু আহার করা তার জন্য হালাল এবং এ সওম পূর্ণ হওয়ার কারণে সে পরকালীন সুখ-শান্তির আশাবাদী হলো।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৫৯৯
হাদিস নং ২৫৯৯
وَحَدَّثَنِيهِ إِسْحَاقُ بْنُ عُمَرَ بْنِ سَلِيطٍ الْهُذَلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ - حَدَّثَنَا ضِرَارُ بْنُ مُرَّةَ، - وَهُوَ أَبُو سِنَانٍ - بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ وَقَالَ " إِذَا لَقِيَ اللَّهَ فَجَزَاهُ فَرِحَ " .
বর্ণনাকারী যিরার ইবনু মুর্রাহ্ (রহঃ) অর্থাৎ আবূ সিমান থেকে এ সানাদ
উপরের হাদীস অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এতে আরো আছে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যখন সিয়াম পালনকারী আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং তিনি তাকে প্রতিদান দিবেন তখন সে আনন্দিত হবে। [৯] (ই.ফা. ২৫৭৬, ই.সে. ২৫৭৫)
[৯] আল্লাহ্ তা’আলার সাথে সাক্ষাতের সময় খুশি এজন্য যে, আল্লাহ্ তার অপার রহমত ও দয়ায় ‘ইবাদাত কবূল করেছেন এবং যে সাওয়াব ও প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি করেছিলেন তা পূর্ণ হয়ে গেল।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬০০
হাদিস নং ২৬০০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، - وَهُوَ الْقَطَوَانِيُّ - عَنْ سُلَيْمَانَ، بْنِ بِلاَلٍ حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ يَدْخُلُ مَعَهُمْ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَدْخُلُونَ مِنْهُ فَإِذَا دَخَلَ آخِرُهُمْ أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ " .
বর্ণনাকারী সাহ্ল ইবনু সা’দ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জান্নাতে ‘রাইয়্যান’ নামক একটি দরজা আছে। ক্বিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে সিয়াম পালনকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর সিয়াম পালনকারীগণ ছাড়া অন্য কেউ তাদের সাথে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ক্বিয়ামতের দিন সিয়াম পালনকারীদের ডেকে বলা হবে, সিয়াম পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা সে দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অতঃপর সিয়াম পালনকারীদের শেষ লোকটি প্রবেশ করার সাথে সাথে তা বন্ধ করে দেয়া হবে। অতঃপর সে দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (ই.ফা. ২৫৭৭, ই.সে. ২৫৭৬)
৩১. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ্র পথে (যুদ্ধক্ষেত্রে) সিয়াম পালন করতে সক্ষম হলে এবং এতে কোনরূপ ক্ষতি হওয়ার বা শক্তিহীন হয়ে যুদ্ধ করতে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা না থাকলে এ ধরনের সিয়ামের ফাযীলত
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬০১
হাদিস নং ২৬০১
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ، أَبِي صَالِحٍ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلاَّ بَاعَدَ اللَّهُ بِذَلِكَ الْيَوْمِ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا " .
বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে বান্দা আল্লাহ্র রাস্তায় (যুদ্ধের সময়) একদিন সিয়াম পালন করবে আল্লাহ্ তা’আলা তার চেহারাকে এ দিনের (সিয়ামের) বারাকাতে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের পথ দূরে রাখবেন। (ই.ফা. ২৫৭৮, ই.সে. ২৫৭৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬০২
হাদিস নং ২৬০২
وَحَدَّثَنَاهُ قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي الدَّرَاوَرْدِيَّ - عَنْ سُهَيْلٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .
বর্ণনাকারী সুহায়ল (রহঃ) থেকে এ সূত্র
উপরের হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ২৫৭৯, ই.সে. ২৫৭৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬০৩
হাদিস নং ২৬০৩
وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرٍ الْعَبْدِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، وَسُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، أَنَّهُمَا سَمِعَا النُّعْمَانَ بْنَ، أَبِي عَيَّاشٍ الزُّرَقِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، - رضى الله عنه - قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بَاعَدَ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا " .
বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, যে বান্দা আল্লাহ্র রাস্তায় একদিন সিয়াম পালন করে, আল্লাহ্ তা’আলা তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের পথ দূরে রাখবেন। (ই.ফা. ২৫৮০, ই.সে. ২৫৭৯)
৩২. অধ্যায়ঃ
দিনের বেলা সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার পূর্ব পর্যন্ত নাফ্ল সিয়ামের নিয়্যাত করা যেতে পারে, নাফ্ল সিয়াম পালনকারীর জন্য কোনরূপ ওজর ছাড়াই সিয়াম ভঙ্গ করা জায়িয, তবে সিয়াম পূর্ণ করাই উত্তম।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬০৪
হাদিস নং ২৬০৪
وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا طَلْحَةُ، بْنُ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ بِنْتُ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ " يَا عَائِشَةُ هَلْ عِنْدَكُمْ شَىْءٌ " . قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا عِنْدَنَا شَىْءٌ . قَالَ " فَإِنِّي صَائِمٌ " . قَالَتْ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُهْدِيَتْ لَنَا هَدِيَّةٌ - أَوْ جَاءَنَا زَوْرٌ - قَالَتْ - فَلَمَّا رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُهْدِيَتْ لَنَا هَدِيَّةٌ - أَوْ جَاءَنَا زَوْرٌ - وَقَدْ خَبَأْتُ لَكَ شَيْئًا . قَالَ " مَا هُوَ " . قُلْتُ حَيْسٌ . قَالَ " هَاتِيهِ " . فَجِئْتُ بِهِ فَأَكَلَ ثُمَّ قَالَ " قَدْ كُنْتُ أَصْبَحْتُ صَائِمًا " . قَالَ طَلْحَةُ فَحَدَّثْتُ مُجَاهِدًا بِهَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ ذَاكَ بِمَنْزِلَةِ الرَّجُلِ يُخْرِجُ الصَّدَقَةَ مِنْ مَالِهِ فَإِنْ شَاءَ أَمْضَاهَا وَإِنْ شَاءَ أَمْسَكَهَا.
বর্ণনাকারী উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, “হে ‘আয়িশাহ্! তোমাদের কাছে কি খাওয়ার মতো কিছু আছে?” আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আমাদের কাছে খাওয়ার মতো কিছুই নেই। তিনি বললেন, আমি সিয়াম পালনকারী। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাইরে চলে গেলেন। পরে আমাদের জন্য হাদিয়্যাহ্ হিসেবে কিছু জিনিস আসলো এবং সাথে সাথে আমাদের কাছে কিছু সংখ্যক মেহমানও আসলো। তিনি আরও বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ফিরে আসলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আমাদের কাছে উপঢৌকন হিসেবে কিছু জিনিস এসেছে এবং কয়েকজন মেহমানও এসেছে (তাই হাদিয়্যার বেশীর ভাগ তাদেরকে খাইয়ে দিয়েছি)। আমি তা থেকে কিছু অংশ আপনার জন্য লুকিয়ে রেখেছি। তিনি বললেন, তা কী? আমি বললাম, তা হলো হায়স (খেজুর, পনির ও আটার সমন্বয়ে তৈরি হালুয়া)। তিনি বলেন, তা নিয়ে এসো। অতঃপর আমি তা নিয়ে আসলাম। তিনি তা খেয়ে বললেন, আমি ভোরে সিয়াম পালন করেছিলাম। ত্বল্হাহ্ বলেন, আমি এ হাদীসটি মুজাহিদের কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বলেন, এটা (এভাবে নাফল সিয়াম ভেঙে ফেলা) এমন ব্যক্তির সাথে তুল্য যে নিজের সম্পদ থেকে সদাক্বাহ্ বের করে। অতঃপর সে ইচ্ছা করলে তা দিতেও পারে আর রেখেও দিতে পারে। (ই.ফা. ২৫৮১, ই.সে. ২৫৮০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬০৫
হাদিস নং ২৬০৫
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ عَمَّتِهِ، عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ " هَلْ عِنْدَكُمْ شَىْءٌ " . فَقُلْنَا لاَ . قَالَ " فَإِنِّي إِذًا صَائِمٌ " . ثُمَّ أَتَانَا يَوْمًا آخَرَ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ . فَقَالَ " أَرِينِيهِ فَلَقَدْ أَصْبَحْتُ صَائِمًا " . فَأَكَلَ .
বর্ণনাকারী উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্
তিনি বলেন, একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কাছে এসে বললেন, তোমাদের কাছে কিছু আছে কি? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে আমি সিয়াম পালন করলাম। আর একদিন তিনি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আমাদেরকে ‘হায়স’ (ঘি বা পনির মিশ্রিত খেজুর) হাদিয়াহ দেয়া হয়েছে। তিনি বললেন, আমাকে তা দেখাও; আবশ্য আমি সকালে সিয়ামের নিয়্যাত করেছি। অতঃপর তিনি তা খেলেন। (ই.ফা. ২৫৮২, ই.সে. ২৫৮১)
৩৩. অধ্যায়ঃ
ভুলে পানাহার করলে বা সঙ্গম করে বসলে তাতে সিয়াম ভঙ্গ হয় না
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬০৬
হাদিস নং ২৬০৬
وَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هِشَامٍ الْقُرْدُوسِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ نَسِيَ وَهُوَ صَائِمٌ فَأَكَلَ أَوْ شَرِبَ فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللَّهُ وَسَقَاهُ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সিয়াম অবস্থায় ভুলে কিছু খেয়েছে বা পান করেছে সে যেন তার সিয়াম পূর্ণ করে। কেননা আল্লাহ্ই তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন। (ই.ফা. ২৫৮৩, ই.সে. ২৫৮২)
৩৪. অধ্যায়ঃ
রমাযান মাস ব্যতীত অন্য মাসে নাবী (সাঃ) এর সিয়াম পালন করার বর্ণনা, প্রত্যেক মাসেই কিছু সিয়াম পালন করা উত্তম
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬০৭
হাদিস নং ২৬০৭
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ شَقِيقٍ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ رضى الله عنها هَلْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَهْرًا مَعْلُومًا سِوَى رَمَضَانَ قَالَتْ وَاللَّهِ إِنْ صَامَ شَهْرًا مَعْلُومًا سِوَى رَمَضَانَ حَتَّى مَضَى لِوَجْهِهِ وَلاَ أَفْطَرَهُ حَتَّى يُصِيبَ مِنْهُ .
বর্ণনাকারী ’আবদুল্লাহ ইবনু শাক্বীক্ব (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি রমাযান মাস ছাড়া অন্য কোন সময় পূর্ণ মাস সিয়াম পালন করতেন? তিনি বললেন, ‘আল্লাহর শপথ! তিনি আজীবন রমাযান ছাড়া অন্য কোন সময় পূর্ণ এক মাস সিয়াম পালন করেননি। আর এমন কোন মাসও অতিবাহিত হয়নি যাতে তিনি অন্তত কিছু সিয়াম পালন করেননি। (ই.ফা. ২৫৮৪, ই.সে. ২৫৮৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬০৮
হাদিস নং ২৬০৮
وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا كَهْمَسٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ - رضى الله عنها - أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَهْرًا كُلَّهُ قَالَتْ مَا عَلِمْتُهُ صَامَ شَهْرًا كُلَّهُ إِلاَّ رَمَضَانَ وَلاَ أَفْطَرَهُ كُلَّهُ حَتَّى يَصُومَ مِنْهُ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী ’আবদুল্লাহ ইবনু শাক্বীক্ব (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশা (রাঃ)- কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি কখনও একটি পূর্ণ মাস (নাফ্ল) সিয়াম পালন করতেন? তিনি বললেন, আমার জানা মতে তাঁর ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি রমাযান মাস ছাড়া অন্য কোন সময়ে পূর্ণ মাস সিয়াম পালন করেননি। আর এমন কোন মাসও কাটেনি যে মাসে তিনি (দু’ একটি) সিয়াম পালন করেননি। (ই.ফা. ২৫৮৫, ই.সে. ২৫৮৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬০৯
হাদিস নং ২৬০৯
وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، وَهِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، - قَالَ حَمَّادٌ وَأَظُنُّ أَيُّوبَ قَدْ سَمِعَهُ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، - قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - عَنْ صَوْمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ قَدْ صَامَ . وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ قَدْ أَفْطَرَ - قَالَتْ - وَمَا رَأَيْتُهُ صَامَ شَهْرًا كَامِلاً مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ رَمَضَانَ .
বর্ণনাকারী ’আবদুল্লাহ ইবনু শাক্বীক্ব (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সিয়াম সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তিনি একাধারে সিয়াম পালন করে যেতেন যাতে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি অনেক সিয়াম পালন করেছেন। আর কখনো তিনি একাধারে পানাহার (সিয়াম পালন না করে) কাটিয়ে দিতেন। যাতে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি অনেক দিন যাবৎ সিয়াম পালন করেননি, তিনি অনেক দিন সিয়াম পালন করেননি। ‘আয়িশা (রাঃ) আরো বলেন, তিনি মাদীনায় আসার পর আমি তাঁকে রমাযান মাস ছাড়া কখনো পূর্ণ একটি মাস সিয়াম পালন করতে দেখিনি। (ই.ফা. ২৫৮৬, ই.সে. ২৫৮৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬১০
হাদিস নং ২৬১০
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - بِمِثْلِهِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِي الإِسْنَادِ هِشَامًا وَلاَ مُحَمَّدًا .
বর্ণনাকারী ’আবদুল্লাহ ইবনু শাক্বীক্ব (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম... উপরের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সানাদে অধঃস্তন রাবী হিশাম ও মুহাম্মাদের নাম উল্লেখ নেই। (ই.ফা. ২৫৮৭, ই.সে.২৫৮৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬১১
হাদিস নং ২৬১১
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يُفْطِرُ . وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يَصُومُ . وَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ قَطُّ إِلاَّ رَمَضَانَ وَمَا رَأَيْتُهُ فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ مِنْهُ صِيَامًا فِي شَعْبَانَ .
বর্ণনাকারী উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একাধারে সিয়াম পালন করতে থাকতেন। ফলে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি আর সিয়াম ভঙ্গ করবেন না। আবার এমনভাবে তিনি ক্রমাগত সিয়াম ছাড়তে থাকতেন যাতে আমরা বলতাম, তিনি বুঝি আর (এ মাসে) সিয়াম পালন করবেন না। আমি তাঁকে কখনো রমাযান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে অধিক সিয়াম পালন করতেও দেখিনি। (ই.ফা. ২৫৮৮, ই.সে. ২৫৮৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬১২
হাদিস নং ২৬১২
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، - عَنِ ابْنِ أَبِي لَبِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ . وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ . وَلَمْ أَرَهُ صَائِمًا مِنْ شَهْرٍ قَطُّ أَكْثَرَ مِنْ صِيَامِهِ مِنْ شَعْبَانَ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ إِلاَّ قَلِيلاً .
বর্ণনাকারী আবূ সালামাহ্ (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, কখনো কখনো একাধারে সিয়াম পালন করে যেতেন যে, আমরা বলতাম, তিনি সিয়াম পালন করে যাচ্ছেন (হয়ত আর বিরত হবেন না)। আবার তিনি কখনো কখনো একাধারে সিয়াম পালন না করে অতিবাহিত করতেন যে, আমরা বলতাম, হয়ত তিনি আর সিয়াম পালন করবেন না। আমি তাকে শা’বান মাসের চেয়ে অন্য কোন মাসে এত অধিক (নাফ্ল) সিয়াম পালন করতে দেখিনি। তিনি পুরো শা’বান মাসেই সিয়াম পালন করতেন। (অর্থাৎ কয়েক দিন ছাড়া পূর্ণ শা’বান মাস সিয়াম পালন করতেন)। (ই.ফা. ২৫৮৯, ই.সে. ২৫৮৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬১৩
হাদিস নং ২৬১৩
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنِ، أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الشَّهْرِ مِنَ السَّنَةِ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ وَكَانَ يَقُولُ " خُذُوا مِنَ الأَعْمَالِ مَا تُطِيقُونَ فَإِنَّ اللَّهَ لَنْ يَمَلَّ حَتَّى تَمَلُّوا " . وَكَانَ يَقُولُ " أَحَبُّ الْعَمَلِ إِلَى اللَّهِ مَا دَاوَمَ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ وَإِنْ قَلَّ " .
বর্ণনাকারী ’আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শা’বান মাসে যত সিয়াম পালন করতেন, সারা বছরে অন্য কোন মাসে তিনি এত অধিক সিয়াম পালন করতেন না। আর তিনি (লোকদের উদ্দেশ্য) বলতেন, “তোমরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী যত বেশী পার ‘আমাল কর।” কেননা, আল্লাহ তা’আলা (তোমাদেরকে সাওয়াব দানে) ক্লান্ত বা বিরক্ত হবেন না যতক্ষণ তোমরা অক্ষম হয়ে না পড়বে। তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তা’আলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ‘আমাল হচ্ছে যা কোন বান্দা অব্যাহতভাবে করে থাকে- যদিও তা পরিমাণে কম হয়। (ই.ফা. ২৫৯০, ই.সে. ২৫৮৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬১৪
হাদিস নং ২৬১৪
حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - رضى الله عنهما - قَالَ مَا صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَهْرًا كَامِلاً قَطُّ غَيْرَ رَمَضَانَ . وَكَانَ يَصُومُ إِذَا صَامَ حَتَّى يَقُولَ الْقَائِلُ لاَ وَاللَّهِ لاَ يُفْطِرُ . وَيُفْطِرُ إِذَا أَفْطَرَ حَتَّى يَقُولَ الْقَائِلُ لاَ وَاللَّهِ لاَ يَصُومُ .
বর্ণনাকারী ’আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাস ছাড়া আর কখনো পূর্ণ মাস সিয়াম পালন করতেন না। তিনি যখন সিয়াম পালন করতেন তখন ক্রমাগত সিয়াম পালন করে যেতেন। ফলে লোকেরা বলত, আল্লাহর ক্বসম! হয়ত তিনি আর সিয়াম ভঙ্গ করবেন না। আবার যখন তিনি সিয়াম ছেড়ে দিতেন একাধারেই বিরতি দিতে থাকতেন। এমনকি লোকেরা বলত আল্লাহর ক্বসম! তিনি হয়ত আর সিয়াম পালন করবেন না। [১০] (ই.ফা. ২৫৯১, ই.সে. ২৫৯০)
[১০] এসব বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, বছরের বারো মাস ধরেই সওম পালন সুন্নাতের খেলাফ এবং একে ভাল মনে করা বিদ’আত এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হিদায়াতের বিপরিত। মুসলিমদেরকে কেবল পূর্ণ রমাযান মাসে সওম পালন করতে বলা হয়েছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি মাসেই কিছু কিছু সওম পালন করতেন, বিশেষ করে শা’বান মাসে তুলনামূলক বেশি কেননা এটা রমাযানের পূর্ব প্রস্তুতি। আর এখানে যে কসম খাওয়া হয়েছে তা স্বভাবগত কসম, যে সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, অর্থাৎ এ ধরনের কসমের কারণে পাকড়াও হবে না।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬১৫
হাদিস নং ২৬১৫
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ عَنْ غُنْدَرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ بِهَذَا الْإِسْنَادِ وَقَالَ شَهْرًا مُتَتَابِعًا مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ
বর্ণনাকারী আবূ বিশর (রহঃ)-এর সূত্রে এ সানাদ
উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আছে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনাতে আসার পর কখনো একাধারে এক মাস (নাফ্ল) সিয়াম পালন করেননি। (ই.ফা. ২৫৯২, ই.সে. ২৫৯১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬১৬
হাদিস নং ২৬১৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ سَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ عَنْ صَوْمِ، رَجَبٍ - وَنَحْنُ يَوْمَئِذٍ فِي رَجَبٍ - فَقَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يُفْطِرُ . وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يَصُومُ .
বর্ণনাকারী ’উসমান ইবনু হাকীম আল আনসারী (রহঃ)
আমি রজব মাসের সিয়াম সম্পর্কে সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রাঃ)- কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একাধারে সিয়াম পালন করতে থাকতেন যাতে আমরা বলতাম, তিনি হয়ত আর সিয়াম ছাড়বেন না। আবার তিনি এমনভাবে ক্রমাগত সিয়াম না রেখে থাকতেন যাতে আমরা বলতাম, তিনি বুঝি আর (এ মাসে) সিয়াম পালন করবেন না। (ই.ফা. ২৫৯৩, ই.সে. ২৫৯২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬১৭
হাদিস নং ২৬১৭
وَحَدَّثَنِيهِ عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، ح وَحَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، كِلاَهُمَا عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ . بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী ’উসমান ইবনু হাকীম (রহঃ) থেকে এ সূত্র
উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ২৫৯৪, ই.সে.২৫৯৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬১৮
হাদিস নং ২৬১৮
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ أَبِي خَلَفٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه ح. وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ حَتَّى يُقَالَ قَدْ صَامَ قَدْ صَامَ . وَيُفْطِرُ حَتَّى يُقَالَ قَدْ أَفْطَرَ قَدْ أَفْطَرَ .
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিয়াম পালন করে যেতেন, এমনকি বলা হত তিনি অনেক সিয়াম পালন করেছেন, তিনি অনেক সিয়াম পালন করেছেন। আবার তিনি সিয়াম থেকে এমনভাবে বিরত থাকতেন যে, বলা হত তিনি অনেক দিন সিয়াম থেকে বিরত রয়েছেন, অনেক দিন বিরত রয়েছেন। (ই.ফা. ২৫৯৫, ই.সে. ২৫৯৪)
৩৫. অধ্যায়ঃ
সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফাযীলাত
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬১৯
হাদিস নং ২৬১৯
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ وَهْبٍ، يُحَدِّثُ عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ ح وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ أُخْبِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ يَقُولُ لأَقُومَنَّ اللَّيْلَ وَلأَصُومَنَّ النَّهَارَ مَا عِشْتُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " آنْتَ الَّذِي تَقُولُ ذَلِكَ " . فَقُلْتُ لَهُ قَدْ قُلْتُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِنَّكَ لاَ تَسْتَطِيعُ ذَلِكَ فَصُمْ وَأَفْطِرْ وَنَمْ وَقُمْ وَصُمْ مِنَ الشَّهْرِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَإِنَّ الْحَسَنَةَ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا وَذَلِكَ مِثْلُ صِيَامِ الدَّهْرِ " . قَالَ قُلْتُ فَإِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمَيْنِ " . قَالَ قُلْتُ فَإِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا وَذَلِكَ صِيَامُ دَاوُدَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - وَهُوَ أَعْدَلُ الصِّيَامِ " . قَالَ قُلْتُ فَإِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ " . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو رضى الله عنهما لأَنْ أَكُونَ قَبِلْتُ الثَّلاَثَةَ الأَيَّامَ الَّتِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَهْلِي وَمَالِي .
বর্ণনাকারী ’আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র ইবনুল ‘আস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অবহিত করা হলো যে, আমি বলছি, আমি যতদিন বেঁচে থাকব সারা রাতে সলাত আদায় করব এবং সর্বদা দিনের বেলা সিয়াম পালন করব। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আমাকে) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এ কথা বলেছ? আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি এ কথা বলেছি। তিনি বললেন, তুমি এ কাজ করতে পারবে না, কারণ তোমার সে সামর্থ্য নেই। পড়, নিদ্রাও যাও। আর প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন কর। কেননা প্রত্যেক নেক কাজের জন্য দশগুণ সাওয়াব পাওয়া যায়। এতেই সারা জীবন সিয়াম পালন করার সাওয়াব পাওয়া যাবে। রাবী বলেন, আমি আরয করলাম, আমি এর চেয়েও বেশী করার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তবে একদিন সিয়াম পালন কর এবং অতঃপর দু’দিন সিয়াম পালন থেকে বিরত থাক। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! আমি এর চেয়েও বেশী করতে সক্ষম’। তিনি বললেন, তাহলে তুমি একদিন সিয়াম পালন কর এবং একদিন বিরত থাক। এটাই দাউদ (আঃ)-এর সিয়াম। আর এর চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ মত তিন দিনের সিয়াম পালন করাকে যদি আমি গ্রহণ করে নিতাম তাহলে এটা আমার কাছে আমার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের চেয়েও পছন্দনীয় হত। (ই.ফা. ২৫৯৬, ই.সে. ২৫৯৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬২০
হাদিস নং ২৬২০
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الرُّومِيُّ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، - وَهُوَ ابْنُ عَمَّارٍ - حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ انْطَلَقْتُ أَنَا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَتَّى نَأْتِيَ أَبَا سَلَمَةَ فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهِ رَسُولاً فَخَرَجَ عَلَيْنَا وَإِذَا عِنْدَ بَابِ دَارِهِ مَسْجِدٌ - قَالَ - فَكُنَّا فِي الْمَسْجِدِ حَتَّى خَرَجَ إِلَيْنَا . فَقَالَ إِنْ تَشَاءُوا أَنْ تَدْخُلُوا وَإِنْ تَشَاءُوا أَنْ تَقْعُدُوا هَا هُنَا . - قَالَ - فَقُلْنَا لاَ بَلْ نَقْعُدُ هَا هُنَا فَحَدِّثْنَا . قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ - رضى الله عنهما - قَالَ كُنْتُ أَصُومُ الدَّهْرَ وَأَقْرَأُ الْقُرْآنَ كُلَّ لَيْلَةٍ - قَالَ - فَإِمَّا ذُكِرْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَإِمَّا أَرْسَلَ إِلَىَّ فَأَتَيْتُهُ فَقَالَ لِي " أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَصُومُ الدَّهْرَ وَتَقْرَأُ الْقُرْآنَ كُلَّ لَيْلَةٍ " . قُلْتُ بَلَى يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَلَمْ أُرِدْ بِذَلِكَ إِلاَّ الْخَيْرَ . قَالَ " فَإِنَّ بِحَسْبِكَ أَنْ تَصُومَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ " . قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " فَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَلِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَلِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا - قَالَ - فَصُمْ صَوْمَ دَاوُدَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُ كَانَ أَعْبَدَ النَّاسِ " . قَالَ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَمَا صَوْمُ دَاوُدَ قَالَ " كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا " . قَالَ " وَاقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ " . قَالَ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ " فَاقْرَأْهُ فِي كُلِّ عِشْرِينَ " . قَالَ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ " فَاقْرَأْهُ فِي كُلِّ عَشْرٍ " . قَالَ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " فَاقْرَأْهُ فِي كُلِّ سَبْعٍ وَلاَ تَزِدْ عَلَى ذَلِكَ . فَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَلِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَلِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا " . قَالَ فَشَدَّدْتُ فَشُدِّدَ عَلَىَّ . قَالَ وَقَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكَ لاَ تَدْرِي لَعَلَّكَ يَطُولُ بِكَ عُمْرٌ " . قَالَ فَصِرْتُ إِلَى الَّذِي قَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا كَبِرْتُ وَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ قَبِلْتُ رُخْصَةَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ আবূ সালামার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশে রওনা হলাম। অবশেষে আমরা তার বাড়িতে গিয়ে পৌছলাম। তার বাড়ির সামনেই ছিল একটি মাসজিদ। আমরা সেখানে গিয়ে বসলাম এবং তাকে খবর দেয়ার জন্য একটি লোক পাঠালাম। তিনি বাড়ির ভিতর থেকে বের হয়ে আমাদের কাছে এসে বললেন, তোমরা ইচ্ছে করলে ঘরে গিয়েও বসতে পার অথবা এখানেও বসতে পার। আমরা বললাম, অবশ্যই আমরা এখানে বসব। অতঃপর তিনি আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র ইবনুল ‘আস (রাঃ) আমার কাছে বলেছেন, আমি সর্বদা সিয়াম পালন করতাম এবং প্রতি রাতেই (রাতভর) কু্রআন তিলাওয়াত করতাম। পরে হয়ত বা আমার ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আলোচনা করা হয়েছে অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি নিজেই আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। আমি গিয়ে তাঁর কাছে হাজির হলাম। তিনি বললেন, আমি জানতে পারলাম, তুমি নাকি সর্বদা সিয়াম পালন কর এবং প্রতি রাতেই (সারারাত) কুরআন তিয়াওয়াত কর? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর নবী! আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমি কল্যাণ লাভ করার উদ্দেশেই তা করে থাকি। তিনি বললেন, প্রতি মাসে তিনটি করে সিয়াম পালন করাই তোমার জন্য যথেষ্ট। তখন আমি বললাম, আমি এর চেয়েও বেশী করতের সক্ষম। তিনি বললেন, (এরূপ করো না)। কেননা তোমার উপর তোমার স্ত্রীর অধিকার রয়েছে, যারা তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে তাদেরও তোমার উপর অধিকার রয়েছে। আর তোমার উপর তোমার দেহেরও হাক্ব আছে। তাই তুমি আল্লাহর নবী দাউদ (আঃ)-এর সিয়াম অনুসরণ কর। কেননা তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ‘ইবাদাত করতেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! দাউদ (আঃ)-এর সিয়াম কী? তিনি বললেন, দাউদ (‘আঃ) একদিন সিয়াম পালন করতেন এবং একদিন পালন করতেন না (অর্থাৎ একদিন পরপর সিয়াম পালন করতেন)।তিনি (আরো) বললেন, তুমি প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম কর। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমি এর চেয়েও বেশী পড়ার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি প্রতি বিশ দিনে একবার কুরআন খতম কর। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর নবী! আমি এর চেয়েও বেশী করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তাহলে তুমি প্রতি দশ দিনে একবার কুরআন খতম কর। আমি আবার বললাম, হে আল্লাহর নবী এর চেয়েও বেশী পারি। তিনি বললেন, তুমি সাতদিন অন্তর কুরআন খতম কর, তবে এর চেয়ে বেশী পড়ো না। কেননা তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হাক্ব আছে, তোমারে সাক্ষাতপ্রার্থীদেরও তোমার উপর হাক্ব আছে, আর তোমার শরীরেরও তোমার উপর হাক্ব আছে। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি (সর্বদা সিয়াম পালন করে) নিজের উপর কঠোরতা করেছি। ফলে (আমার উপরও) কঠোরতা চেপে বসেছে। তিনি আরো বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছিলেন, তোমার জানা নেই হয়ত বা তুমি দীর্ঘায়ু লাভ করবে। (তখন তোমার পক্ষে এত বেশী ‘আমাল করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।)নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা বলেছিলেন বাস্তবে তাই হলো। আমি যখন বয়োবৃদ্ধ হয়ে পড়লাম তখন অনুশোচনা করে বলতাম, “হায়! আমি যদি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দেয়া অবকাশটুকু গ্রহণ করতাম! (ই.ফা. ২৫৯৭, অ.সে. ২৫৯৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬২১
হাদিস নং ২৬২১
وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ يَحْيَى، بْنِ أَبِي كَثِيرٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَزَادَ فِيهِ بَعْدَ قَوْلِهِ " مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ " " فَإِنَّ لَكَ بِكُلِّ حَسَنَةٍ عَشْرَ أَمْثَالِهَا فَذَلِكَ الدَّهْرُ كُلُّهُ " . وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ قُلْتُ وَمَا صَوْمُ نَبِيِّ اللَّهِ دَاوُدَ قَالَ " نِصْفُ الدَّهْرِ " . وَلَمْ يَذْكُرْ فِي الْحَدِيثِ مِنْ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ شَيْئًا وَلَمْ يَقُلْ " وَإِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا " . وَلَكِنْ قَالَ " وَإِنَّ لِوَلَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا " .
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসীর (রহঃ)
উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে ‘প্রতি মাসে তিনদিন করে সিয়াম পালন করাই যথেষ্ট’- এ কথার পরে আরো আছে, “কেননা প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময়ে তার দশগুণ সাওয়াব পাওয়া যায়, আর এভাবে তা সারা বছরের সিয়ামের সমতুল্য গণ্য হয়”। তিনি তার বর্ণিত হাদীসের আরো উল্লেখ করেছেন, “আমি বললাম, আল্লাহর নবী দাউদ (‘আঃ)- এর সিয়াম কী (ছিল)? তিনি বললেন, বছরের অর্ধেক (অর্থাৎ একদিন সিয়াম পালন করা ও একদিন সিয়াম ভাঙ্গা)। তিনি (এ হাদীসে) কুরআন তিলাওয়াতের প্রসঙ্গে কিছুই উল্লেখ করেননি। এ বর্ণনায় তিনি “তোমার সাক্ষাত-প্রার্থীদেরও তোমার উপর হাক্ব আছে”- এ কথাটি উল্লেখ করেননি। বরং এতে আছেঃ তোমার সন্তানদেরও তোমার উপর হাক্ব আছে। (ই.ফা. ২৫৯৮, ই.সে. ২৫৯৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬২২
হাদিস নং ২৬২২
حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَوْلَى بَنِي زُهْرَةَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ - وَأَحْسِبُنِي قَدْ سَمِعْتُهُ أَنَا مِنْ أَبِي سَلَمَةَ، - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، - رضى الله عنهما - قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ " . قَالَ قُلْتُ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً . قَالَ " فَاقْرَأْهُ فِي عِشْرِينَ لَيْلَةً " . قَالَ قُلْتُ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً . قَالَ " فَاقْرَأْهُ فِي سَبْعٍ وَلاَ تَزِدْ عَلَى ذَلِكَ " .
বর্ণনাকারী ’আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তুমি প্রতি মাসে একবার করে সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ কর। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আরো বেশী পড়ার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি বিশ দিন অন্তর একবার কুরআন খতম কর। রাবী বলেন, আমি আবার আরয করলাম, আমার আরো (বেশী পাঠ করার ) শক্তি আছে। তিনি বললেন, তাহলে তুমি সাত দিন অন্তর একবার সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ কর। তবে এর চেয়ে বেশী (তিলাওয়াত) করো না। (কারণ এর চেয়ে কম সময়ের মধ্যে কুরআন খতম করলে কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা এবং এর মর্ম উপলব্ধি করার সুযোগ হয় না)। [১১] (ই.ফা. ২৫৯৯, ই.সে. ২৫৯৮)
[১১] এ বর্ণনাসমূহ থেকে জানা গেল যে, রমাযান মাসের এক রাত্রিতে পূর্ণাঙ্গ কুরআন মাজীদ খতম করার যে রীতি প্রচলিত আছে এবং কুরআনের হাফিযগণ এতে গর্ববোধ করেন তা সুন্নাতের খেলাফ এবং প্রকৃতপক্ষে বিদ’আত। আর বিশেষ করে এতে হাফিযদের এবং যে সকল ব্যক্তি এতে অংশগ্রহণ করে তাদের গর্ব করা যে, আমি একরাত্রিতে কুরআন খতম করেছি বা এতে অংশগ্রহণ করেছি এটা স্পষ্ট আহমকী ছাড়া আর কিছুই নয়।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬২৩
হাদিস নং ২৬২৩
وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قِرَاءَةً قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنِ ابْنِ الْحَكَمِ بْنِ ثَوْبَانَ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، - رضى الله عنهما - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا عَبْدَ اللَّهِ لاَ تَكُنْ بِمِثْلِ فُلاَنٍ كَانَ يَقُومُ اللَّيْلَ فَتَرَكَ قِيَامَ اللَّيْلِ " .
বর্ণনাকারী ’আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র ইবনুল ‘আস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে ‘আবদুল্লাহ ! (বেশী বেশী রাত জেগে) তুমিও অমুক ব্যক্তির মতো হয়ে যেও না। সে রাত জেগে জেগে সলাত আদায় করত, অতঃপর রাত জেগে ‘ইবাদাত করা ছেড়ে দিয়েছে। (ই.ফা. ২৬০০, ই.সে ২৫৯৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬২৪
হাদিস নং ২৬২৪
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءً، يَزْعُمُ أَنَّ أَبَا الْعَبَّاسِ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، - رضى الله عنهما - يَقُولُ بَلَغَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنِّي أَصُومُ أَسْرُدُ وَأُصَلِّي اللَّيْلَ فَإِمَّا أَرْسَلَ إِلَىَّ وَإِمَّا لَقِيتُهُ فَقَالَ " أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَصُومُ وَلاَ تُفْطِرُ وَتُصَلِّي اللَّيْلَ فَلاَ تَفْعَلْ فَإِنَّ لِعَيْنِكَ حَظًّا وَلِنَفْسِكَ حَظًّا وَلأَهْلِكَ حَظًّا . فَصُمْ وَأَفْطِرْ وَصَلِّ وَنَمْ وَصُمْ مِنْ كُلِّ عَشْرَةِ أَيَّامٍ يَوْمًا وَلَكَ أَجْرُ تِسْعَةٍ " . قَالَ إِنِّي أَجِدُنِي أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ . قَالَ " فَصُمْ صِيَامَ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ " . قَالَ وَكَيْفَ كَانَ دَاوُدُ يَصُومُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَالَ " كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَلاَ يَفِرُّ إِذَا لاَقَى " . قَالَ مَنْ لِي بِهَذِهِ يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَالَ عَطَاءٌ فَلاَ أَدْرِي كَيْفَ ذَكَرَ صِيَامَ الأَبَدِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ صَامَ مَنْ صَامَ الأَبَدَ لاَ صَامَ مَنْ صَامَ الأَبَدَ لاَ صَامَ مَنْ صَامَ الأَبَدَ " .
বর্ণনাকারী ’আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র ইবনুল ‘আস (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানতে পারলেন, আমি অনবরত সিয়াম পালন করি এবং রাতভর সলাত আদায় করি। তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন অথবা (রাবীর সন্দেহ) আমি তাঁর সাথে দেখা করি। তিনি বললেন, আমি খবর পেয়েছি, তুমি অনবরত সিয়াম পালন কর, বিরতি দাও না, আর রাত ভর সলাত আদায় কর। এরপর আর এরূপ করবে না। কেননা তোমার উপর তোমার চোখের অংশ (হাক্ব) আছে, তোমার দেহ ও আত্মার অংশ আছে এবং তোমার পরিবার-পরিজনেরও অংশ আছে। কাজেই তুমি সিয়ামও পালন কর, বিরতিও দাও, সলাতও আদায় কর, ঘুমও যাও। তুমি দশ দিনে একদিন সিয়াম পালন কর, তাহলে বাকি নয়টি দিনেরও সাওয়াব পাবে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমি নিজের মধ্যে এর চেয়েও অধিক সিয়াম পালন করার শক্তি রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি দাউদ (আঃ)-এর মত সিয়াম পালন কর। তিনি (‘আবদুল্লাহ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! দাউদ (আঃ) কিভাবে সিয়াম পালন করতেন? তিনি (নবী) বললেন, দাউদ (আঃ) একদিন সিয়াম পালন করতেন এবং একদিন বিরতি দিতেন। এ জন্যেই (দুর্বল হতেন না এবং) দুশমনের সম্মুখীন হলে (ময়দান ছেড়ে) পালাতেন না। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর নবী! এ ব্যাপারে কে আমার দায়িত্ব নিবে? ‘আত্বা বলেন, আমি জানি না, অনবরত সিয়াম পালন করার বিষয়টি কিভাবে আলোচনায় আসল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যে ব্যক্তি অনবরত সিয়াম পালন করল, সে যেন কোন সিয়ামই পালন করেনি। যে ব্যক্তি সব সময় সিয়াম পালন করল সে যেন সিয়ামই পালন করেনি, যে ব্যক্তি সদাসর্বদা সিয়াম পালন করল সে যেন সিয়ামই পালন করেনি। ( ই.ফা. ২৬০১, ই.সে ২৬০০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬২৫
হাদিস নং ২৬২৫
وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ إِنَّ أَبَا الْعَبَّاسِ الشَّاعِرَ أَخْبَرَهُ . قَالَ مُسْلِمٌ أَبُو الْعَبَّاسِ السَّائِبُ بْنُ فَرُّوخَ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ ثِقَةٌ عَدْلٌ .
বর্ণনাকারী ইবনু জুরায়জ (রহঃ)
এ সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি বলেছেন, আবূ ‘আব্বাস শা’ইর (রহঃ) তাকে অবহিত করেছেন।(ইমাম মুসলিম বলেন): তিনি হলেন আবু ‘আব্বাস আস্ সায়িব ইবনু ফার্রূখ। তিনি মাক্কার অধিবাসী এবং বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন। (ই.ফা. ২৬০২, ই.সে.২৬০১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬২৬
হাদিস নং ২৬২৬
وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حَبِيبٍ، سَمِعَ أَبَا الْعَبَّاسِ، سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، - رضى الله عنهما - قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو إِنَّكَ لَتَصُومُ الدَّهْرَ وَتَقُومُ اللَّيْلَ وَإِنَّكَ إِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ هَجَمَتْ لَهُ الْعَيْنُ وَنَهِكَتْ لاَ صَامَ مَنْ صَامَ الأَبَدَ صَوْمُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ صَوْمُ الشَّهْرِ كُلِّهِ " . قُلْتُ فَإِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " فَصُمْ صَوْمَ دَاوُدَ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَلاَ يَفِرُّ إِذَا لاَقَى " .
বর্ণনাকারী ’আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র! তুমি তো একাধারে সওম (রোযা) পালন করে যাচ্ছ। সারারাত ‘ইবাদাতে দাঁড়িয়ে থাক। তুমি এরূপ করলে তাতে তোমার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলবে। যে ব্যক্তি সর্বদা সওম পালন করল, সে মূলত সওম পালন করল না। মাসে তিন দিন সওম পালন করা পূর্ণ মাস পালনের সমতুল্য। আমি বললাম, আমি এর চেয়েও বেশি সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, দাউদ (‘আঃ)-এর ন্যায় সওম পালন কর। তিনি একদিন সওম পালন করতেন এবং একদিন ছেড়ে দিতেন এবং পলায়ন করতেন না যখন শত্রুর সম্মুখীন হতেন। (ই.ফা. ২৬০৩, ই.সে. ২৬০২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬২৭
হাদিস নং ২৬২৭
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ بِشْرٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " وَنَفِهَتِ النَّفْسُ " .
বর্ণনাকারী হাবীব ইবনু আবূ সাবিত (রহঃ) থেকে এ সানাদ
অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এতে আরও আছে, “এবং তুমি শ্রান্ত-ক্লান্ত হয়ে পড়বে।” (ই.ফা. ২৬০৪, ই. সে. ২৬০৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬২৮
হাদিস নং ২৬২৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، - رضى الله عنهما - قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَقُومُ اللَّيْلَ وَتَصُومُ النَّهَارَ " . قُلْتُ إِنِّي أَفْعَلُ ذَلِكَ . قَالَ " فَإِنَّكَ إِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ هَجَمَتْ عَيْنَاكَ وَنَفِهَتْ نَفْسُكَ لِعَيْنِكَ حَقٌّ وَلِنَفْسِكَ حَقٌّ وَلأَهْلِكَ حَقٌّ قُمْ وَنَمْ وَصُمْ وَأَفْطِرْ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, আমাকে তোমার সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে যে, তুমি সারারাত দাঁড়িয়ে সলাত আদায় কর এবং দিনের বেলা সওম রাখ? আমি বললাম, আমি অবশ্য করি। তিনি বলেন, তুমি এরূপ করতে গেলে অনিদ্রার কারণে তোমার চোখ কোটরাগত হবে এবং তুমি দুর্বল হয়ে পড়বে। তোমার চোখের হাক্ব রয়েছে, তোমার দেহের হাক্ব রয়েছে এবং তোমার পরিবার-পরিজনের হাক্ব রয়েছে। অতএব তুমি রাতে ‘ইবাদতও করবে এবং নিদ্রাও যাবে। সওমও পালন করবে, আবার তা বাদও দিবে। (ই. ফা. ২৬০৫, ই. সে. ২৬০৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬২৯
হাদিস নং ২৬২৯
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ، عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، - رضى الله عنهما - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَحَبَّ الصِّيَامِ إِلَى اللَّهِ صِيَامُ دَاوُدَ وَأَحَبَّ الصَّلاَةِ إِلَى اللَّهِ صَلاَةُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ وَيَقُومُ ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ وَكَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: আল্লাহ্র নিকট পছন্দনীয় সওম হচ্ছে দাঊদ (আঃ)-এর সওম এবং তাঁর নিকট পছন্দনীয় সলাত হচ্ছে দাঊদ (আঃ)-এর সলাত। তিনি অর্ধরাত ঘুমাতেন। অতঃপর এক তৃতীয়াংশ রাত ‘ইবাদাতে থাকতেন। অতঃপর এক ষষ্ঠাংশ রাত ঘুমাতেন। তিনি একদিন সওম পালন করতেন এবং একদিন বাদ দিতেন। (ই.ফা. ২৬০৬, ই. সে. ২৬০৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৩০
হাদিস নং ২৬৩০
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو، بْنُ دِينَارٍ أَنَّ عَمْرَو بْنَ أَوْسٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، - رضى الله عنهما - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللَّهِ صِيَامُ دَاوُدَ كَانَ يَصُومُ نِصْفَ الدَّهْرِ وَأَحَبُّ الصَّلاَةِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ صَلاَةُ دَاوُدَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - كَانَ يَرْقُدُ شَطْرَ اللَّيْلِ ثُمَّ يَقُومُ ثُمَّ يَرْقُدُ آخِرَهُ يَقُومُ ثُلُثَ اللَّيْلِ بَعْدَ شَطْرِهِ " . قَالَ قُلْتُ لِعَمْرِو بْنِ دِينَارٍ أَعَمْرُو بْنُ أَوْسٍ كَانَ يَقُولُ يَقُومُ ثُلُثَ اللَّيْلِ بَعْدَ شَطْرِهِ قَالَ نَعَمْ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: আল্লাহ্র নিকট সর্বাধিক প্রিয় সওম হচ্ছে দাঊদ (‘আঃ)-এর সওম। তিনি বছরের অর্ধেক কাল সওম পালন করতেন। মহান আল্লাহ্র নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় সলাত হচ্ছে দাঊদ (আঃ)-এর সলাত। তিনি অর্ধ রাত ঘুমাতেন, অতঃপর সলাতে দাঁড়াতেন, অতঃপর শেষ রাতে ঘুমিয়ে যেতেন। তিনি অর্ধ রাত অতিক্রান্ত হবার পর এক-তৃতীয়াংশ রাত ‘ইবাদাত করতেন। রাবী ইবনু জুয়ায়জ (রহঃ) বলেন, আমি ‘আমর ইবনু দীনারকে বললাম, ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) কি এ কথা বলতেন যে, তিনি অর্ধরাত অতিক্রান্ত হবার পর এক-তৃতীয়াংশ রাত ‘ইবাদাতে থাকতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (ই. ফা. ২৬০৭ ই. সে. ২৬০৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৩১
হাদিস নং ২৬৩১
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الْمَلِيحِ، قَالَ دَخَلْتُ مَعَ أَبِيكَ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فَحَدَّثَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذُكِرَ لَهُ صَوْمِي فَدَخَلَ عَلَىَّ فَأَلْقَيْتُ لَهُ وِسَادَةً مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ فَجَلَسَ عَلَى الأَرْضِ وَصَارَتِ الْوِسَادَةُ بَيْنِي وَبَيْنَهُ فَقَالَ لِي " أَمَا يَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " خَمْسًا " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " سَبْعًا " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " تِسْعًا " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " أَحَدَ عَشَرَ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ صَوْمَ فَوْقَ صَوْمِ دَاوُدَ شَطْرُ الدَّهْرِ صِيَامُ يَوْمٍ وَإِفْطَارُ يَوْمٍ " .
বর্ণনাকারী আবূ ক্বিলাবাহ (রহঃ)
তিনি বলেন, আমাকে আবুল মালীহ (রহঃ) অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি তোমার পিতার সাথে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তিনি আমাদের নিকট বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আমার সওম সম্পর্কে উল্লেখ করা হলে তিনি আমার কাছে এলেন। আমি তাঁর জন্য একটি চামড়ার বালিশ বিছিয়ে দিলাম। তাতে খেজুরের আঁশ ভর্তি ছিল। তিনি মাটির উপর বসে গেলেন এবং বালিশটি তাঁর ও আমার মাঝে পড়ে থাকল। তিনি আমাকে বললেন, প্রতি মাসে তিনদিন সওম পালন করা কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? আমি বললাম: হে আল্লাহ্র রসূল (আমি এর চেয়ে বেশি সামর্থ্য রাখি)! তিনি বললেন, তাহলে পাঁচদিন? আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল (আমি এর চেয়ে বেশি সামর্থ্য রাখি)! তিনি বললেন, তাহলে সাতদিন? আমি বললাম : হে আল্লাহ্র রসূল (আমি এর অধিক সামর্থ্য রাখি)! তিনি বললেন, তাহলে নয়দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল (আমি এর অধিক সামর্থ্য রাখি)! তিনি বললেন, তাহলে এগারদিন। আমি বললাম : হে আল্লাহ্র রসূল (আমি এর অধিক সামর্থ্য রাখি)! নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, দাঊদ (আঃ)-এর সওমের উপর কোন সওম নেই। তিনি বছরের অর্ধেক অর্থাত একদিন যদি এ সওম পালন করতেন, আরেক দিন বাদ দিতেন। (ই.ফা. ২৬০৮, ই. সে. ২৬০৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৩২
হাদিস নং ২৬৩২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ فَيَّاضٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عِيَاضٍ، عَنْ عَبْدِ، اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو - رضى الله عنهما - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ " صُمْ يَوْمًا وَلَكَ أَجْرُ مَا بَقِيَ " . قَالَ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ يَوْمَيْنِ وَلَكَ أَجْرُ مَا بَقِيَ " . قَالَ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَكَ أَجْرُ مَا بَقِيَ " . قَالَ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ أَرْبَعَةَ أَيَّامٍ وَلَكَ أَجْرُ مَا بَقِيَ " . قَالَ إِنِّي أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " صُمْ أَفْضَلَ الصِّيَامِ عِنْدَ اللَّهِ صَوْمَ دَاوُدَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেন, তুমি একদিন সওম পালন করলে পরের দিনের সাওয়াব পাবে। তিনি বলেন, আমি আরও অধিক রাখতে সক্ষম। তিনি বললেন, তুমি দু’দিন সওম পালন কর। তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সাওয়াব পাবে। তিনি বললেন, আমি আরও অধিক সওম পালন করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তুমি তিনদিন সওম পালন কর তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোরও সাওয়াব পাবে। তিনি বললেন, আমি আরও অধিক রাখতে সক্ষম। তিনি বললেন, তুমি চারদিন সওম পালন কর, তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোরও সাওয়াব লাভ করবে। তিনি বললেন, আমি আরও অধিক রাখতে সক্ষম। তিনি বললেন, তুমি দাঊদ (‘আঃ)-এর সওম পালন কর যা আল্লাহ্র কাছে সর্বোত্তম সাওম। তিনি পর্যায়ক্রমে একদিন সওম পালন করতেন এবং পরের দিন বাদ দিতেন। (ই.ফা. ২৬০৯, ই. সে. ২৬০৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৩৩
হাদিস নং ২৬৩৩
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ مَهْدِيٍّ، - قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، - حَدَّثَنَا سَلِيمُ بْنُ حَيَّانَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مِينَاءَ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو بَلَغَنِي أَنَّكَ تَصُومُ النَّهَارَ وَتَقُومُ اللَّيْلَ فَلاَ تَفْعَلْ فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَظًّا وَلِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَظًّا وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَظًّا صُمْ وَأَفْطِرْ صُمْ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَذَلِكَ صَوْمُ الدَّهْرِ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ بِي قُوَّةً . قَالَ " فَصُمْ صَوْمَ دَاوُدَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا " . فَكَانَ يَقُولُ يَا لَيْتَنِي أَخَذْتُ بِالرُّخْصَةِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র! আমি জানতে পেরেছি যে, তুমি দিনের বেলা সওম পালন কর এবং রাতের সলাতে থাক, তুমি এরূপ করো না। কারণ তোমার উপর তোমাদের দেহের একটি অংশ (হাক্ব) রয়েছে, তোমার উপর তোমার চোখের অংশ রয়েছে এবং তোমার উপর তোমার স্ত্রীর অংশ রয়েছে। তুমি সওমও পালন কর এবং বাদও দাও। প্রতি মাসে তিনদিন করে সওম পালন কর এবং এটাই হ’ল সারা বছরের সওম (এর নিয়ম)। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! আমার আরও শক্তি আছে। তিনি বললেন, তাহলে দাঊদ (‘আঃ)-এর সওম-এর মতো সওম পালন কর। পর্যায়ক্রমে একটি সওম পালন কর এবং একদিন বাদ দাও। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলতেন, হায়! আমি যদি সহজটার উপর ‘আমাল করতাম! (ই.ফা. ২৬১০, ই. সে. ২৬০৯)
৩৬. অধ্যায়ঃ
প্রতি মাসে তিনদিন, আরাফাতের দিন, ‘আশুরার দিন, সোম ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ফাযীলাত
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৩৪
হাদিস নং ২৬৩৪
حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ، قَالَ حَدَّثَتْنِي مُعَاذَةُ، الْعَدَوِيَّةُ أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ قَالَتْ نَعَمْ . فَقُلْتُ لَهَا مِنْ أَىِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ كَانَ يَصُومُ قَالَتْ لَمْ يَكُنْ يُبَالِي مِنْ أَىِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ يَصُومُ .
বর্ণনাকারী মু’আযাহ্ আল ‘আদাবিয়্যাহ (রহঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে জানতে চাইলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি প্রতি মাসে তিনদিন সওম পালন করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি পুনরায় তাকে জিজ্ঞেস করলাম, মাসের কোন্ কোন্ দিন তিনি সওম পালন করতেন? ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, তিনি মাসের যে কোন দিন সওম পালন করতে দ্বিধা করতেন না। (ই.ফা. ২৬১১, ই. সে. ২৬১০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৩৫
হাদিস নং ২৬৩৫
وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ الضُّبَعِيُّ، حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ، - وَهُوَ ابْنُ مَيْمُونٍ - حَدَّثَنَا غَيْلاَنُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، - رضى الله عنهما - أَنَّصلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ أَوْ قَالَ لِرَجُلٍ وَهُوَ يَسْمَعُ " يَا فُلاَنُ أَصُمْتَ مِنْ سُرَّةِ هَذَا الشَّهْرِ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَإِذَا أَفْطَرْتَ فَصُمْ يَوْمَيْنِ " .
বর্ণনাকারী ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন অথবা (অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ) তিনি কোন ব্যক্তিকে বলেছেন এবং তিনি তা শুনলেন, হে অমুক! তুমি কি এ মাসের মধ্যভাগে সওম পালন করেছিলে? সে বলল, না। তিনি বললেন, যখন তুমি তা ভঙ্গ করবে, তখন দু’দিন সওম পালন করবে। (ই.ফা. ২৬১২, ই. সে. ২৬১১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৩৬
হাদিস নং ২৬৩৬
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، جَمِيعًا عَنْ حَمَّادٍ، - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، - عَنْ غَيْلاَنَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، رَجُلٌ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَيْفَ تَصُومُ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَأَى عُمَرُ - رضى الله عنه - غَضَبَهُ قَالَ رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ غَضَبِ اللَّهِ وَغَضَبِ رَسُولِهِ . فَجَعَلَ عُمَرُ - رضى الله عنه - يُرَدِّدُ هَذَا الْكَلاَمَ حَتَّى سَكَنَ غَضَبُهُ فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ الدَّهْرَ كُلَّهُ قَالَ " لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ - أَوْ قَالَ - لَمْ يَصُمْ وَلَمْ يُفْطِرْ " . قَالَ كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمَيْنِ وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ " وَيُطِيقُ ذَلِكَ أَحَدٌ " . قَالَ كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ " ذَاكَ صَوْمُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ " . قَالَ كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمَيْنِ قَالَ " وَدِدْتُ أَنِّي طُوِّقْتُ ذَلِكَ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثٌ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ فَهَذَا صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ " .
বর্ণনাকারী আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ)
এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনি কিভাবে সওম পালন করেন? তার এ কথায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসন্তুষ্ট হলেন। ‘উমার (রাঃ) তাঁর অসন্তোষ লক্ষ্য করে বললেন, “আমরা আল্লাহ্র উপর (আমাদের) প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামের উপর (আমাদের) দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর আমাদের নবী হিসেবে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা আল্লাহ্র কাছে তাঁর ও তাঁর রসূলের অসন্তোষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি”। উমার (রাঃ) কথাটি বার বার আওড়াতে থাকলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসন্তোষের ভাব দূরীভূত হ’ল। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! যে ব্যক্তি সারা বছর সওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ? তিনি বললেন, সে সওম পালন করেনি এবং ছেড়েও দেয়নি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, যে ব্যক্তি একদিন পর একদিন সওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ? তিনি বললেন, এটা দাঊদ (আঃ)-এর সওম। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, যে একদিন সওম পালন করে ও একদিন করে না, তার অবস্থা কিরূপ? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি আশা করি যে, আমার এতটা শক্তি হোক। তিনি পুনরায় বললেন, প্রতি মাসে তিনদিন সওম পালন করা এবং রমাযান মাসের সওম এক রমাযান থেকে পরবর্তী রমাযান পর্যন্ত সারা বছর সওম পালনের সমান। আর ‘আরাফাহ্ দিবসের সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহ্র কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে। আর ‘আশুরার সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহ্র কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফ্ফারাহ্ হয়ে যাবে। (ই.ফা. ২৬১৩, ই. সে. ২৬১২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৩৭
হাদিস নং ২৬৩৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيَّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ صَوْمِهِ قَالَ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عُمَرُ رضى الله عنه رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً وَبِبَيْعَتِنَا بَيْعَةً . قَالَ فَسُئِلَ عَنْ صِيَامِ الدَّهْرِ فَقَالَ " لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ " . أَوْ " مَا صَامَ وَمَا أَفْطَرَ " . قَالَ فَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمَيْنِ وَإِفْطَارِ يَوْمٍ قَالَ " وَمَنْ يُطِيقُ ذَلِكَ " . قَالَ وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمٍ وَإِفْطَارِ يَوْمَيْنِ قَالَ " لَيْتَ أَنَّ اللَّهَ قَوَّانَا لِذَلِكَ " . قَالَ وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمٍ وَإِفْطَارِ يَوْمٍ قَالَ " ذَاكَ صَوْمُ أَخِي دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ " . قَالَ وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الاِثْنَيْنِ قَالَ " ذَاكَ يَوْمٌ وُلِدْتُ فِيهِ وَيَوْمٌ بُعِثْتُ أَوْ أُنْزِلَ عَلَىَّ فِيهِ " . قَالَ فَقَالَ " صَوْمُ ثَلاَثَةٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَمَضَانَ إِلَى رَمَضَانَ صَوْمُ الدَّهْرِ " . قَالَ وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ فَقَالَ " يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَالْبَاقِيَةَ " . قَالَ وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ فَقَالَ " يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ " . وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ مِنْ رِوَايَةِ شُعْبَةَ قَالَ وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ فَسَكَتْنَا عَنْ ذِكْرِ الْخَمِيسِ لَمَّا نَرَاهُ وَهْمًا .
বর্ণনাকারী আবূ ক্বাতাদাহ্ আল আনসারী (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। এতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসন্তুষ্ট হলেন। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমরা আল্লাহ্র উপর (আমাদের) প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামের উপর (আমাদের) দ্বীন হিসেবে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর (আমাদের) রসূল হিসেবে এবং আমাদের কৃত বাই’আতের উপর আমরা সন্তুষ্ট। অতঃপর সারা বছর সওম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, সে সওম পালন করেনি, ইফত্বার করেনি, সে সওম পালন করেনি এবং সওমহীনও থাকেনি। অতঃপর একাধারে দুদিন সওম পালন করা ও একদিন সওম পালন না করা সম্পর্কে জিজ্ঞস করা হ’ল। তিনি বললেন, এভাবে সওম পালনের সামর্থ্য কার আছে? অতঃপর একদিন সওম পালন ও দু’দিন সওম ত্যাগ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’ল। তিনি বললেন, আল্লাহ যেন আমাদের এরূপ সওম পালনের সামর্থ্য দান করেন। অতঃপর একদিন সওম পালন করা ও একদিন না করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’ল। তিনি বললেন, তা আমার ভাই দাঊদ (আঃ)-এর সওম। অতঃপর সোমবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, এ দিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং এ দিনই আমি নুবূয়াতপ্রাপ্ত হয়েছি বা আমার উপর (কুরবান) নাযিল করা হয়েছে। তিনি আরও বললেন, প্রতি মাসে তিনদিন এবং গোটা রমাযান সওম পালন করাই হ’ল সারা বছর সওম পালনের সমতূল্য। অতঃপর ‘আরাফাহ্ দিবসের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলেন তিনি বললেন, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফ্ফারা হয়ে যাবে। অতঃপর ‘আশূরার সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, বিগত বছরের গুনাহের কাফ্ফারাহ্ হয়ে যাবে। এ হাদীসে শু’বাহ্-এর বর্ণনায় আরও আছে, “অতঃপর সোমবার ও বৃহস্পতিবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’ল”। কিন্তু আমাদের বৃহস্পতিবারের কথা ভুলবশতঃ বর্ণিত হয়েছে, তাই আমরা তার উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম। (ই.ফা. ২৬১৪, ই. সে. ২৬১৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৩৮
হাদিস নং ২৬৩৮
وَحَدَّثَنَاهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، كُلُّهُمْ عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ.
বর্ণনাকারী শু’বাহ্ (রহঃ)-এর সূত্রে এ সানাদ
উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ২৬১৫, ই. সে. ২৬১৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৩৯
হাদিস নং ২৬৩৯
وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا أَبَانُ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنَا غَيْلاَنُ بْنُ جَرِيرٍ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ بِمِثْلِ حَدِيثِ شُعْبَةَ غَيْرَ أَنَّهُ ذَكَرَ فِيهِ الاِثْنَيْنِ وَلَمْ يَذْكُرِ الْخَمِيسَ .
বর্ণনাকারী গইলান ইবনু জারীর (রহঃ)-এর সূত্রে এ সানাদ
শু’বাহ্-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে তিনি (গইলান) সোমবারের উল্লেখ করেছেন কিন্তু বৃহস্পতিবারের উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ২৬১৬, ই. সে. ২৬১৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৪০
হাদিস নং ২৬৪০
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ غَيْلاَنَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، رضى الله عنه أَنَّرَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ صَوْمِ الاِثْنَيْنِ فَقَالَ " فِيهِ وُلِدْتُ وَفِيهِ أُنْزِلَ عَلَىَّ " .
বর্ণনাকারী আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে সোমবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ঐদিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং ঐদিন আমার উপর (কুরআন) নাযিল হয়েছে। (ই.ফা. ২৬১৭, ই. সে. ২৬১৬)
৩৭. অধ্যায়ঃ
শা’বান মাসের সওম
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৪১
হাদিস নং ২৬৪১
حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ، - وَلَمْ أَفْهَمْ مُطَرِّفًا مِنْ هَدَّابٍ - عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، - رضى الله عنهما - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ أَوْ لآخَرَ " أَصُمْتَ مِنْ سَرَرِ شَعْبَانَ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَإِذَا أَفْطَرْتَ فَصُمْ يَوْمَيْنِ " .
বর্ণনাকারী ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে অথবা অপর কাউকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি শা’বান মাসের মধ্যভাগে সওম পালন করেছিলে? তিনি বললেন, না। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যখন তুমি সওম পালন করনি, তখন দু’দিন সওম পালন করে নিও। (ই.ফা. ২৬১৮, ই. সে. ২৬১৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৪২
হাদিস নং ২৬৪২
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي، الْعَلاَءِ عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، - رضى الله عنهما - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِرَجُلٍ " هَلْ صُمْتَ مِنْ سُرَرِ هَذَا الشَّهْرِ شَيْئًا " . قَالَ لاَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِذَا أَفْطَرْتَ مِنْ رَمَضَانَ فَصُمْ يَوْمَيْنِ مَكَانَهُ " .
বর্ণনাকারী ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এ মাসের মধ্যভাগে কিছু দিন সওম পালন করেছিলে? সে বলল, না। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি তার বদলে রমাযানের সিয়াম শেষ করে দু’দিন সিয়াম পালন করবে। (ই.ফা. ২৬১৯, ই. সে. ২৬১৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৪৩
হাদিস নং ২৬৪৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ ابْنِ أَخِي، مُطَرِّفِ بْنِ الشِّخِّيرِ قَالَ سَمِعْتُ مُطَرِّفًا، يُحَدِّثُ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، - رضى الله عنهما - أَنَّصلى الله عليه وسلم قَالَ لِرَجُلٍ " هَلْ صُمْتَ مِنْ سِرَرِ هَذَا الشَّهْرِ شَيْئًا " . يَعْنِي شَعْبَانَ . قَالَ لاَ . قَالَ فَقَالَ لَهُ " إِذَا أَفْطَرْتَ رَمَضَانَ فَصُمْ يَوْمًا أَوْ يَوْمَيْنِ " . شُعْبَةُ الَّذِي شَكَّ فِيهِ قَالَ وَأَظُنُّهُ قَالَ يَوْمَيْنِ .
বর্ণনাকারী ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি কি এক মাসের অর্থাৎ শা’বান মাসের মধ্যভাগে কিছু দিন সিয়াম পালন করেছ? সে বলল, না। তিনি তাকে বললেন, রমাযানের সওম পালন শেষ করে তুমি একদিন বা দু’দিন সওম পালন কর। এ সম্পর্কে শু’বাহ-এর সন্দেহ রয়েছে এবং রাবী বলেন, আমার ধারণা যে, তিনি দু’দিনের কথা বলেছেন। (ই.ফা. ২৬২০, ই. সে. ২৬১৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৪৪
হাদিস নং ২৬৪৪
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، وَيَحْيَى اللُّؤْلُؤِيُّ، قَالاَ أَخْبَرَنَا النَّضْرُ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ هَانِئِ ابْنِ أَخِي، مُطَرِّفٍ فِي هَذَا الإِسْنَادِ . بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু হানী ইবনু আখী মুতাররিফ
এ সানাদে অনুরূপ হাদীস করেছেন। (ই.ফা. ২৬২১, ই. সে. ২৬২০)
৩৮. অধ্যায়ঃ
মুহার্রমের সওমের ফাযীলাত
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৪৫
হাদিস নং ২৬৪৫
حَدَّثَنِي قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، الْحِمْيَرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ صَلاَةُ اللَّيْلِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: রমাযানের সিয়ামের পর সর্বোত্তম সওম হচ্ছে আল্লাহ্র মাস মুহাররমের সওম এবং ফরয সলাতের পর সর্বোত্তম সলাত হচ্ছে রাতের সলাত। (ই.ফা. ২৬২২, ই. সে. ২৬২১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৪৬
হাদিস নং ২৬৪৬
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ، الْمُنْتَشِرِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - يَرْفَعُهُ قَالَ سُئِلَ أَىُّ الصَّلاَةِ أَفْضَلُ بَعْدَ الْمَكْتُوبَةِ وَأَىُّ الصِّيَامِ أَفْضَلُ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ فَقَالَ " أَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ الصَّلاَةُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ وَأَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ صِيَامُ شَهْرِ اللَّهِ الْمُحَرَّمِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে জিজ্ঞেস করা হ’ল, ফার্য সলাতসমূহের পর কোন্ সলাত এবং রমাযান মাসের সিয়ামের পর কোন্ সওম সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ফরয সলাতসমূহের পর গভীর রাতের সলাত সর্বোত্তম এবং রমাযান মাসের সিয়ামের পর আল্লাহ্র মাস মুহার্রমের সওম সর্বোত্তম। (ই.ফা. ২৬২৩, ই. সে. ২৬২২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৪৭
হাদিস নং ২৬৪৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، بْنِ عُمَيْرٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ فِي ذِكْرِ الصِّيَامِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল মালিক ইবনু ‘উমায়র (রাঃ)
এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ২৬২৪, ই.সে. ২৬২৩)
৩৯. অধ্যায়ঃ
রমাযানের রোযার পর শাও্ওয়াল মাসে ছয়দিন সওম পালনের ফাযীলাত
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৪৮
হাদিস নং ২৬৪৮
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، جَمِيعًا عَنْ إِسْمَاعِيلَ، - قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، - أَخْبَرَنِي سَعْدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عُمَرَ، بْنِ ثَابِتِ بْنِ الْحَارِثِ الْخَزْرَجِيِّ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، - رضى الله عنه - أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ " .
বর্ণনাকারী আবূ আইয়ূব আল আনসারী (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ রমাযান মাসের সিয়াম পালন করে পরে শাও্ওয়াল মাসে ছয়দিন সিয়াম পালন করা সারা বছর সওম পালন করার মত। (ই.ফা. ২৬২৫, ই.সে. ২৬২৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৪৯
হাদিস নং ২৬৪৯
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ، أَخُو يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ ثَابِتٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو أَيُّوبَ الأَنْصَارِيُّ، - رضى الله عنه - قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ . بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী আবূ আইয়ূব আল আনসারী (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ই.ফা. ২৬২৬, ই.সে. ২৬২৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৫০
হাদিস নং ২৬৫০
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ ثَابِتٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أَيُّوبَ، - رضى الله عنه - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী আবূ আইয়ূব (রাঃ)
অনুরূপ বর্ণিত। (ই.ফা. ২৬২৭, ই.সে. ২৬২৬)
৪০. অধ্যায়ঃ
লায়লাতুল ক্বদর-এর ফাযীলাত, এর অনুসন্ধানের প্রতি উৎসাহ প্রদান, তা কখন হবে তার বর্ণনা এবং তার অনুসন্ধানের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক সময়
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৫১
হাদিস নং ২৬৫১
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - أَنَّ رِجَالاً، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُرُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْمَنَامِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيَهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কতিপয় সহাবীকে স্বপ্ন দেখানো হ’ল যে, (রমাযানের) শেষ সাত দিনের মধ্যে ক্বদরের রাত নিহিত রয়েছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি মনে করি যে, শেষের সাতদিন সম্পর্কে তোমাদের সকলের স্বপ্ন পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব যে ব্যক্তি তা অন্বেষণ করবে, সে যেন রমাযানের শেষ সাতদিনের রাতগুলোতে তা অন্বেষণ করে। (ই.ফা. ২৬২৮, ই.সে. ২৬২৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৫২
হাদিস নং ২৬৫২
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ، عُمَرَ - رضى الله عنهما - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তিনি বলেন, (রমাযানের) শেষ সাতদিনের রাতগুলোতে লায়লাতুল ক্বদ্র অন্বেষণ কর। (ই.ফা. ২৬২৯, ই.সে. ২৬২৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৫৩
হাদিস নং ২৬৫৩
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، كِلاَهُمَا عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي، كَثِيرٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ وَفِي حَدِيثِهِمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ انْصَرَفَ وَعَلَى جَبْهَتِهِ وَأَرْنَبَتِهِ أَثَرُ الطِّينِ .
বর্ণনাকারী সালিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত তার পিতার সূত্র
তিনি (পিতা) বলেন, এক ব্যক্তি (রমাযানের) ২৭তম রাতে লায়লাতুল ক্বদ্র দেখতে পেল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমাকেও তোমাদের মত স্বপ্ন দেখানো হয়েছে যে, তা রমাযানের শেষ দশকে নিহিত আছে। অতএব এর বেজোড় রাতগুলোতে তা অনুসন্ধান কর। (ই.ফা. ২৬৩০, ই.সে. ২৬২৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৫৪
হাদিস নং ২৬৫৪
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ أَبَاهُ، - رضى الله عنه - قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِلَيْلَةِ الْقَدْرِ " إِنَّ نَاسًا مِنْكُمْ قَدْ أُرُوا أَنَّهَا فِي السَّبْعِ الأُوَلِ وَأُرِيَ نَاسٌ مِنْكُمْ أَنَّهَا فِي السَّبْعِ الْغَوَابِرِ فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْغَوَابِرِ " .
বর্ণনাকারী সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তাঁর পিতা [আবদুল্লাহ (রাঃ)] বলেছেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে লায়লাতুল ক্বদ্র সম্পর্কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কতিপয় লোককে দেখানো হ’ল যে, তা রমাযানের প্রথম সাতদিনের মধ্যে, আবার কতিপয় লোককে দেখানো হয়েছে যে, তা শেষ সাতদিনের মধ্যে। অতএব (রমাযানের) শেষ দশকের মধ্যে তা অন্বেষণ কর। (ই.ফা. ২৬৩১, ই.সে. ২৬৩০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৫৫
হাদিস নং ২৬৫৫
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عُقْبَةَ، - وَهُوَ ابْنُ حُرَيْثٍ - قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ - يَعْنِي لَيْلَةَ الْقَدْرِ - فَإِنْ ضَعُفَ أَحَدُكُمْ أَوْ عَجَزَ فَلاَ يُغْلَبَنَّ عَلَى السَّبْعِ الْبَوَاقِي " .
বর্ণনাকারী ’উক্ববাহ্ ইবনু হুরায়স (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা (রমাযানের) শেষ দশ দিনে ক্বদ্রের রাত অনুসন্ধান কর। তোমাদের কেউ যদি দূর্বল অথবা অপরাগ হয়ে পড়ে, তবে সে যেন শেষের সাত রাতে অলসতা না করে। (ই.ফা. ২৬৩২, ই.সে. ২৬৩১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৫৬
হাদিস নং ২৬৫৬
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ جَبَلَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَنْ كَانَ مُلْتَمِسَهَا فَلْيَلْتَمِسْهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ " .
বর্ণনাকারী জাবালাহ্ (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি ক্বদ্রের রাত অনুসন্ধান করতে চায়, সে যেন (রমাযানের) শেষ দশকে তা অনুসন্ধান করে। (ই.ফা. ২৬৩৩, ই.সে. ২৬৩২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৫৭
হাদিস নং ২৬৫৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ جَبَلَةَ، وَمُحَارِبٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَحَيَّنُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ " . أَوْ قَالَ " فِي التِّسْعِ الأَوَاخِرِ " .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা (রমাযানের) শেষ দশকে ক্বদ্রের রাত অনুসন্ধান কর অথবা তিনি বলেছেন, শেষের সাত রাতে।(ই.ফা. ২৬৩৪, ই.সে. ২৬৩৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৫৮
হাদিস নং ২৬৫৮
حَدَّثَنَا أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - أَنَّاللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ أَيْقَظَنِي بَعْضُ أَهْلِي فَنُسِّيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْغَوَابِرِ " . وَقَالَ حَرْمَلَةُ " فَنَسِيتُهَا " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমাকে স্বপ্নে ক্বদ্রের রাত দেখানো হয়েছিল। অতঃপর আমার পরিবারের কেউ আমাকে ঘুম থেকে জাগানোর ফলে আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা তা শেষ দশকে অন্বেষণ কর।রাবী হারমালাহ্ (রহঃ) বলেছেনঃ “আমি তা ভুলে গেছি” (ই.ফা. ২৬৩৫, ই.সে. ২৬৩৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৫৯
হাদিস নং ২৬৫৯
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بَكْرٌ، - وَهُوَ ابْنُ مُضَرَ - عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ، بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، - رضى الله عنه - قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُجَاوِرُ فِي الْعَشْرِ الَّتِي فِي وَسَطِ الشَّهْرِ فَإِذَا كَانَ مِنْ حِينِ تَمْضِي عِشْرُونَ لَيْلَةً وَيَسْتَقْبِلُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ يَرْجِعُ إِلَى مَسْكَنِهِ وَرَجَعَ مَنْ كَانَ يُجَاوِرُ مَعَهُ ثُمَّ إِنَّهُ أَقَامَ فِي شَهْرٍ جَاوَرَ فِيهِ تِلْكَ اللَّيْلَةَ الَّتِي كَانَ يَرْجِعُ فِيهَا فَخَطَبَ النَّاسَ فَأَمَرَهُمْ بِمَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ قَالَ " إِنِّي كُنْتُ أُجَاوِرُ هَذِهِ الْعَشْرَ ثُمَّ بَدَا لِي أَنْ أُجَاوِرَ هَذِهِ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ فَمَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعِي فَلْيَبِتْ فِي مُعْتَكَفِهِ وَقَدْ رَأَيْتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ فَأُنْسِيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فِي كُلِّ وِتْرٍ وَقَدْ رَأَيْتُنِي أَسْجُدُ فِي مَاءٍ وَطِينٍ " . قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ مُطِرْنَا لَيْلَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ فَوَكَفَ الْمَسْجِدُ فِي مُصَلَّى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ وَقَدِ انْصَرَفَ مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ وَوَجْهُهُ مُبْتَلٌّ طِينًا وَمَاءً .
বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (রমাযানের) মাঝের দশকে ই’তিকাফ করেন। অতঃপর ২০ তম দিন অতিবাহিত হবার পর এবং ২১ তম দিনের সূচনাতে তিনি নিজ বাসস্থানে ফিরে আসেন এবং তাঁর সঙ্গে যারা ই’তিকাফ করেন, তারাও নিজ নিজ আবাসে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর একবার রমাযান মাসের মাঝের দশকে তিনি ই’তিকাফ করলেন- যে রাতে তাঁর ই’তিকাফ হতে ফিরে আসার কথা, সে রাতে (পুনরায়) ই’তিকাফ আরম্ভ করলেন ও লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, আমি সাধারণত এ (মধ্যম) দশকে ই’তিকাফ করতাম। এরপর শেষ দশকেও ই’তিকাফ করা আমার কাছে সমীচীন মনে হল। অতএব যে ব্যক্তি আমার সাথে ই’তিকাফ করতে চায়, যেন নিজ ই’তিকাফের স্থানে অবস্থান করে। আমি এ (ক্বদ্রের) রাত স্বপ্নে দেখেছিলাম, কিন্তু আমাকে তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তা অনুসন্ধান কর। আমি স্বপ্নে নিজেকে পানি ও কাদার মধ্যে সাজ্দাহ্ করতে দেখেছি। আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, ২১ তম রাতে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়। তিনি যখন ফজরের সলাত থেকে ফিরলেন, তখন আমি তাঁর মুখমণ্ডল কাদা ও পানিতে সিক্ত দেখলাম। (ই.ফা. ২৬৩৬,ই.সে. ২৬৩৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৬০
হাদিস নং ২৬৬০
وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي الدَّرَاوَرْدِيَّ - عَنْ يَزِيدَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، - رضى الله عنه - أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُجَاوِرُ فِي رَمَضَانَ الْعَشْرَ الَّتِي فِي وَسَطِ الشَّهْرِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " فَلْيَثْبُتْ فِي مُعْتَكَفِهِ " . وَقَالَ وَجَبِينُهُ مُمْتَلِئًا طِينًا وَمَاءً .
বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসের মাঝের দশকে ই‘তিকাফ করতেন। অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে, “সে যেন তার ই’তিকাফের স্থানে অবস্থান করে।” তিনি আরো বলেন, “তাঁর কপাল মুবারক কাদা ও পানিতে সিক্ত ছিল।” (ই.ফা. ২৬৩৭, ই.সে. ২৬৩৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৬১
হাদিস নং ২৬৬১
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، - رضى الله عنه - قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اعْتَكَفَ الْعَشْرَ الأَوَّلَ مِنْ رَمَضَانَ ثُمَّ اعْتَكَفَ الْعَشْرَ الأَوْسَطَ فِي قُبَّةٍ تُرْكِيَّةٍ عَلَى سُدَّتِهَا حَصِيرٌ - قَالَ - فَأَخَذَ الْحَصِيرَ بِيَدِهِ فَنَحَّاهَا فِي نَاحِيَةِ الْقُبَّةِ ثُمَّ أَطْلَعَ رَأْسَهُ فَكَلَّمَ النَّاسَ فَدَنَوْا مِنْهُ فَقَالَ " إِنِّي اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الأَوَّلَ أَلْتَمِسُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ ثُمَّ اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الأَوْسَطَ ثُمَّ أُتِيتُ فَقِيلَ لِي إِنَّهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَعْتَكِفَ فَلْيَعْتَكِفْ " . فَاعْتَكَفَ النَّاسُ مَعَهُ قَالَ " وَإِنِّي أُرِيتُهَا لَيْلَةَ وِتْرٍ وَأَنِّي أَسْجُدُ صَبِيحَتَهَا فِي طِينٍ وَمَاءٍ " . فَأَصْبَحَ مِنْ لَيْلَةِ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَقَدْ قَامَ إِلَى الصُّبْحِ فَمَطَرَتِ السَّمَاءُ فَوَكَفَ الْمَسْجِدُ فَأَبْصَرْتُ الطِّينَ وَالْمَاءَ فَخَرَجَ حِينَ فَرَغَ مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ وَجَبِينُهُ وَرَوْثَةُ أَنْفِهِ فِيهِمَا الطِّينُ وَالْمَاءُ وَإِذَا هِيَ لَيْلَةُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ .
বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসের প্রথম দশকে ই’তিকাফ করলেন। এরপর তিনি মাঝের দশকেও একটি তুকী তাঁবুর মধ্যে ই’তিকাফ করলেনে এবং তাঁবুর দরজায় একটি চাটাই ঝুলানো ছিল। রাবী বলেন, তিনি নিজ হাতে চাটাই ধরে তা তাঁবুর কোণে রাখলেন, এরপর নিজের মাথা বাইরে এনে লোকদের সাথে কথা বললেন এবং তারাও তাঁর নিকট এগিয়ে এলো। তিনি বললেন, এ রাতের অনুসন্ধানকল্পে আমি (রমাযানের) প্রথম দশকে ই’তিকাফ করলাম। অতঃপর মাঝের দশকে ই’তিকাফ করলাম। এরপর আমার নিকট একজন আগন্তুক (লোক) এসে আমাকে বলল, ‘লায়লাতুল ক্বদর্ শেষ দশকে নিহিত আছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ই’তিকাফ করতে চায় সে যেন ই’তিকাফ করে। লোকেরা তাঁর সঙ্গে (শেষ দশকে) ই’তিকাফ করল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বললেন, স্বপ্নে আমাকে তা কোন এক বেজোড় রাতে দেখানো হয়েছে এবং আমি যেন সে রাতে কাদা ও পানির মধ্যে ফজরের সাজ্দাহ্ করছি। (রাবী বলেন), তিনি ২১ তম রাতের ভোরে উপনীত হয়ে ফাজ্রের সলাতে দাঁড়ালেন এবং আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হল। ফলে ছাঁদ থেকে মাসজিদে পানি বর্ষিত হল এবং আমি স্বচক্ষে কাদা ও পানি দেখতে পেলাম। তিনি ফজরের সলাত শেষে যখন বের হয়ে এলেন, তখন তাঁর কপাল ও নাকের ডগা সিক্ত ও কর্দমাক্ত ছিল। আর তা ছিল রমাযানের শেষ দশকের ২১তম রাত। (ই.ফা. ২৬৩৮, ই.সে. ২৬৩৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৬২
হাদিস নং ২৬৬২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ تَذَاكَرْنَا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فَأَتَيْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ - رضى الله عنه - وَكَانَ لِي صَدِيقًا فَقُلْتُ أَلاَ تَخْرُجُ بِنَا إِلَى النَّخْلِ فَخَرَجَ وَعَلَيْهِ خَمِيصَةٌ فَقُلْتُ لَهُ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ فَقَالَ نَعَمْ اعْتَكَفْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَشْرَ الْوُسْطَى مِنْ رَمَضَانَ فَخَرَجْنَا صَبِيحَةَ عِشْرِينَ فَخَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنِّي أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ وَإِنِّي نَسِيتُهَا - أَوْ أُنْسِيتُهَا - فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ كُلِّ وِتْرٍ وَإِنِّي أُرِيتُ أَنِّي أَسْجُدُ فِي مَاءٍ وَطِينٍ فَمَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلْيَرْجِعْ " . قَالَ فَرَجَعْنَا وَمَا نَرَى فِي السَّمَاءِ قَزَعَةً قَالَ وَجَاءَتْ سَحَابَةٌ فَمُطِرْنَا حَتَّى سَالَ سَقْفُ الْمَسْجِدِ وَكَانَ مِنْ جَرِيدِ النَّخْلِ وَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْجُدُ فِي الْمَاءِ وَالطِّينِ قَالَ حَتَّى رَأَيْتُ أَثَرَ الطِّينِ فِي جَبْهَتِهِ .
বর্ণনাকারী আবূ সালামাহ্ (রাঃ)
আমরা পরস্পর ক্বদ্রের রাত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। এরপর আমি আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)-এর নিকট এলাম এবং তিনি ছিলেন আমার বন্ধু। আমি তাকে বললাম, আপনি কি আমাদের সাথে খেজুরের বাগানে যাবেন না? তিনি একটি চাদর পরিহিত অবস্থায় বের হলেন। আমি তাকে বললাম, আপনি কি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে লায়লাতুল ক্বদ্র সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমরা রমাযান মাসের মাঝের দশকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ই’তিকাফ করলাম। আমরা ২১তম দিন ভোরে (ই’তিকাফ থেকে) বের হলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে বললেন, আমাকে স্বপ্নযোগে ক্বদ্রের রাত দেখানো হয়েছিল, কিন্তু আমি তা ভুলে গেছি অথবা আমাকে ভুলানো হয়েছে। তোমরা শেষ দশ দিনের প্রতিটি বেজোড় রাতে তা অন্বেষণ কর। আমি আরও দেখেছি যে, আমি কাদা ও পানির মধ্যে সাজ্দাহ্ করছি। অতএব যে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ই’তিকাফ করেছে, সে যেন পুনরায় তার ই’তিকাফে ফিরে যায়। আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন, আমরা (ই’তিকাফের অবস্থায়) ফিরে গেলাম। আমরা আকাশে কোন মেঘ দেখতে পাইনি। ইতিমধ্যে একখণ্ড মেঘ এলো এবং আমাদের উপর বৃষ্টি হল, এমন কি মাসজিদের ছাদ হতে পানি প্রবাহিত হ’ল। মাসজিদের ছাদ খেজুর ডাটার ছাউনিযুক্ত ছিল। ফজরের সলাত আদায় করা হ’ল এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কাদা ও পানির মধ্যে সাজ্দাহ দিতে দেখলাম, এমনকি কি আমি তাঁর কপালে কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম। (ই.ফা. ২৬৩৯, ই.সে. ২৬৩৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৬৩
হাদিস নং ২৬৬৩
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، كِلاَهُمَا عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي، كَثِيرٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ وَفِي حَدِيثِهِمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ انْصَرَفَ وَعَلَى جَبْهَتِهِ وَأَرْنَبَتِهِ أَثَرُ الطِّينِ .
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসীর (রহঃ) থেকে এ সানাদ সূত্র
পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে উভয়ের (মা’মার ও আল আওযা’ঈ) বর্ণনায় আছেঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সলাত শেষ করে ফিরলেন তখন আমি তাঁর কপালে ও নাকের ডগায় কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম।(ই.ফা. ২৬৪০, ই.সে. ২৬৩৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৬৪
হাদিস নং ২৬৬৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، - رضى الله عنه - قَالَ اعْتَكَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَشْرَ الأَوْسَطَ مِنْ رَمَضَانَ يَلْتَمِسُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ قَبْلَ أَنْ تُبَانَ لَهُ فَلَمَّا انْقَضَيْنَ أَمَرَ بِالْبِنَاءِ فَقُوِّضَ ثُمَّ أُبِينَتْ لَهُ أَنَّهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فَأَمَرَ بِالْبِنَاءِ فَأُعِيدَ ثُمَّ خَرَجَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهَا كَانَتْ أُبِينَتْ لِي لَيْلَةُ الْقَدْرِ وَإِنِّي خَرَجْتُ لأُخْبِرَكُمْ بِهَا فَجَاءَ رَجُلاَنِ يَحْتَقَّانِ مَعَهُمَا الشَّيْطَانُ فَنُسِّيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ الْتَمِسُوهَا فِي التَّاسِعَةِ وَالسَّابِعَةِ وَالْخَامِسَةِ " . قَالَ قُلْتُ يَا أَبَا سَعِيدٍ إِنَّكُمْ أَعْلَمُ بِالْعَدَدِ مِنَّا . قَالَ أَجَلْ . نَحْنُ أَحَقُّ بِذَلِكَ مِنْكُمْ . قَالَ قُلْتُ مَا التَّاسِعَةُ وَالسَّابِعَةُ وَالْخَامِسَةُ قَالَ إِذَا مَضَتْ وَاحِدَةٌ وَعِشْرُونَ فَالَّتِي تَلِيهَا ثِنْتَيْنِ وَعِشْرِينَ وَهْىَ التَّاسِعَةُ فَإِذَا مَضَتْ ثَلاَثٌ وَعِشْرُونَ فَالَّتِي تَلِيهَا السَّابِعَةُ فَإِذَا مَضَى خَمْسٌ وَعِشْرُونَ فَالَّتِي تَلِيهَا الْخَامِسَةُ . وَقَالَ ابْنُ خَلاَّدٍ مَكَانَ يَحْتَقَّانِ يَخْتَصِمَانِ .
বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্বদ্রের রাত অন্বেষণের উদ্দেশ্যে তা তাঁর কাছে সুস্পষ্ট হবার পূর্বে রমাযানের মধ্যেই দশদিন ই’তিকাফ করলেন। দশদিন অতিবাহিত হবার পর তিনি তাঁবু তুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। অতএব তা গুটিয়ে ফেলা হ’ল। অতঃপর তিনি জানতে পারলেন যে, তা শেষ দশ দিনের মধ্যে আছে। তাই তিনি পুনরায় তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন। তা খাঁটানো হ’ল। এরপর তিনি লোকদের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, হে লোক সকল! আমাকে ক্বদ্রের রাত সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল এবং আমি তোমাদের তা জানানোর জন্য বের হয়ে এলাম। কিন্তু দু’ ব্যক্তি পরস্পর ঝগড়া করতে করতে উপস্থিত হ’ল এবং তাদের সাথে ছিল শাইত্বান। তাই আমি তা ভুলে গেছি। অতএব তোমরা রমাযান মাসের শেষ দশ দিনে অন্বেষণ কর। তোমরা তা ৯ম, ৭ম ও ৫ম রাতে অন্বেষণ কর। রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবূ সা’ঈদ! আপনি সংখ্যা সম্পর্কে আমাদের তুলনায় অধিক জ্ঞানী। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমরাই এ বিষয়ে তোমাদের চেয়ে অধিক হাক্বদার। আমি বললাম ৯ম, ৭ম, ৫ম সংখ্যাগুলো কী? তিনি বললেন, যখন ২১তম রাত অতিবাহিত হয়ে যায় এবং ২২তম রাত শুরু হয়-তখন তা হচ্ছে ৯ম তারিখ, ২৩তম রাত অতিক্রান্ত হবার পরবর্তী রাত হচ্ছে ৭ম তারিখ এবং ২৫তম রাত অতিবাহিত হবার পরের দিনটি হচ্ছে ৫ম তারিখ।ইবনু খাল্লাদের বর্ণনায়……. (আরবি)………-এর শব্দের স্থলে …… (আরবি)……শব্দের উল্লেখ আছে (অর্থ একই, অর্থাৎ তারা ঝগড়া করে)। (ই.ফা. ২৬৪১, ই.সে. ২৬৪০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৬৫
হাদিস নং ২৬৬৫
وَحَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَهْلِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ، الْكِنْدِيُّ وَعَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو ضَمْرَةَ، حَدَّثَنِي الضَّحَّاكُ بْنُ عُثْمَانَ، - وَقَالَ ابْنُ خَشْرَمٍ عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ، - عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ بُسْرِ بْنِ، سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ أُنْسِيتُهَا وَأَرَانِي صُبْحَهَا أَسْجُدُ فِي مَاءٍ وَطِينٍ " . قَالَ فَمُطِرْنَا لَيْلَةَ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ فَصَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْصَرَفَ وَإِنَّ أَثَرَ الْمَاءِ وَالطِّينِ عَلَى جَبْهَتِهِ وَأَنْفِهِ . قَالَ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُنَيْسٍ يَقُولُ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ .
বর্ণনাকারী ’আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমাকে ক্বদ্রের রাত দেখানো হয়েছিল। অতঃপর তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাকে ঐ রাতের ভোর সম্পর্কে স্বপ্ন আরও দেখানো হয়েছে যে, আমি পানি ও কাদার মধ্যে সাজ্দাহ্ করছি। রাবী বলেন, অতএব ২৩ তম রাতে বৃষ্টি হ’ল এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সাথে (ফজরের) সলাত আদায় করে যখন ফিরলেন, তখন আমরা তাঁর কপাল ও নাকের ডগায় কাদা ও পানির চিহ্ন দেখতে পেলাম। রাবী ‘আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স (রাঃ) বলতেন, তা ছিল ২৩ তম। (ই.ফা. ২৬৪২, ই.সে. ২৬৪১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৬৬
হাদিস নং ২৬৬৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، وَوَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ " الْتَمِسُوا - وَقَالَ وَكِيعٌ - تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ " .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রমাযান মাসের শেষ দশ দিনে তোমরা ক্বদ্রের রাত (ইবনু নুমায়রের বর্ণনায়) অন্বেষণ কর এবং (ওয়াকী’-এর বর্ণনায়) সন্ধানে সচেষ্ট হও।( ই.ফা. ২৬৪৩, ই.সে. ২৬৪২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৬৭
হাদিস নং ২৬৬৭
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، - قَالَ ابْنُ حَاتِمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، - عَنْ عَبْدَةَ، وَعَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، سَمِعَا زِرَّ بْنَ حُبَيْشٍ، يَقُولُ سَأَلْتُ أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ - رضى الله عنه - فَقُلْتُ إِنَّ أَخَاكَ ابْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ مَنْ يَقُمِ الْحَوْلَ يُصِبْ لَيْلَةَ الْقَدْرِ . فَقَالَ رَحِمَهُ اللَّهُ أَرَادَ أَنْ لاَ يَتَّكِلَ النَّاسُ أَمَا إِنَّهُ قَدْ عَلِمَ أَنَّهَا فِي رَمَضَانَ وَأَنَّهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ وَأَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ . ثُمَّ حَلَفَ لاَ يَسْتَثْنِي أَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ فَقُلْتُ بِأَىِّ شَىْءٍ تَقُولُ ذَلِكَ يَا أَبَا الْمُنْذِرِ قَالَ بِالْعَلاَمَةِ أَوْ بِالآيَةِ الَّتِي أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا تَطْلُعُ يَوْمَئِذٍ لاَ شُعَاعَ لَهَا .
বর্ণনাকারী যির ইবনু হুবায়শ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)-কে বললাম, আপনার ভাই ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি গোটা বছর রাত জাগরণ করে- সে ক্বদ্রের রাতের সন্ধান পাবে। তিনি (উবাই) বললেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন, এর দ্বারা তিনি এ কথা বুঝাতে চাচ্ছেন যে, লোকেরা যেন কেবল একটি রাতের উপর ভরসা করে বসে না থাকে। অথচ তিনি অবশ্যই জানেন যে, তা রমাযান মাসে শেষের দশ দিনের মধ্যে এবং ২৭ তম রজনী। অতঃপর তিনি দৃঢ় শপথ করে বললেন, তা ২৭ তম রজনী। আমি (যির) বললাম, হে আবুল মুনযির! আপনি কিসের ভিত্তিতে তা বলেছেন? তিনি বললেন, বিভিন্ন আলামত ও নিদর্শনের ভিত্তিতে-যে সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে অবহিত করেছেন। যেমন, সেদিন সূর্য উদয় হবে। কিন্তু তাতে আলোকরশ্নি থাকবে না। (ই.ফা. ২৬৪৪, ই.সে. ২৬৪৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৬৮
হাদিস নং ২৬৬৮
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَةَ، بْنَ أَبِي لُبَابَةَ يُحَدِّثُ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ أُبَىٌّ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْلَمُهَا - قَالَ شُعْبَةُ وَأَكْبَرُ عِلْمِي - هِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقِيَامِهَا هِيَ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ . وَإِنَّمَا شَكَّ شُعْبَةُ فِي هَذَا الْحَرْفِ هِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي أَمَرَنَا بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ وَحَدَّثَنِي بِهَا صَاحِبٌ لِي عَنْهُ .
বর্ণনাকারী উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)
ক্বদরের রাত সম্পর্কে বলেন, আল্লাহর শপথ! ক্বদরের রাত সম্পর্কে আমি খুব ভাল করেই জানি। শু‘বাহ্ বলেন, আমার জানামতে তা হচ্ছে, সে রাত যে রাতে জেগে ‘ইবাদাত করার জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তা হচ্ছে রমাযানের ২৭তম রজনী। “তা হচ্ছে সে রাত, যে রাতে ‘ইবাদাত করার জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।” এ বাক্যটুকু সম্পর্কে শু‘বাহ্ সন্দেহে পতিত হয়েছেন এবং বলেছেন, আমার এক বন্ধু তার শায়খের সূত্রে আমার নিকট ঐ কথা বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা.২৬৪৫, ই.সে.২৬৪৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ২৬৬৯
হাদিস নং ২৬৬৯
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - وَهُوَ الْفَزَارِيُّ - عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ كَيْسَانَ - عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ تَذَاكَرْنَا لَيْلَةَ الْقَدْرِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَيُّكُمْ يَذْكُرُ حِينَ طَلَعَ الْقَمَرُ وَهُوَ مِثْلُ شِقِّ جَفْنَةٍ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সামনে ক্বদরের রাত সম্পর্কে আলাপ আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কে সে (রাত) স্মরণ রাখবে, যখন চাঁদ উদিত হবে থালার একটি টুকরার ন্যায়। (ই.ফা. ২৬৪৬, ই.সে ২৬৪৫)