১. অধ্যায়ঃ
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মসজিদ নির্মাণ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৪৮
হাদিস নং ১০৪৮
حَدَّثَنِي أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ مَسْجِدٍ وُضِعَ فِي الأَرْضِ أَوَّلُ قَالَ " الْمَسْجِدُ الْحَرَامُ " . قُلْتُ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ " الْمَسْجِدُ الأَقْصَى " . قُلْتُ كَمْ بَيْنَهُمَا قَالَ " أَرْبَعُونَ سَنَةً وَأَيْنَمَا أَدْرَكَتْكَ الصَّلاَةُ فَصَلِّ فَهُوَ مَسْجِدٌ " . وَفِي حَدِيثِ أَبِي كَامِلٍ " ثُمَّ حَيْثُمَا أَدْرَكَتْكَ الصَّلاَةُ فَصَلِّهْ فَإِنَّهُ مَسْجِدٌ " .
বর্ণনাকারী আবু যার (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রসুল! পৃথিবীতে কোন্ মসজিদটি সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছিল? তিনি বললেন, মাসজিদুল হারাম। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম এরপর কোনটি (মসজিদটি)। তিনি বললেন, আল মাসজিদুল আক্বসা বা বায়তুল মাক্বদিস। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, এ দুটি মাসজিদের নির্মাণকালের মধ্যে ব্যবধান কত? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। (তিনি আরো বললেনঃ) যে স্হানেই সলাতের সময় উপস্হিত হবে, তুমি সেখানেই সলাত আদায় করে নিবে। কারণ সে জায়গাটাও মসজিদ।আবু কামিল বর্ণিত হাদীসে আছে, তাই যেখানেই সলাতের সময় হবে, তুমি সেখানেই সলাত আদায় করে নিবে। কারণ সেটিও মসজিদ। (ইসলামিক ফাঊন্ডেশন বাংলাদেশ ১০৪২, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার ১০৫২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৪৯
হাদিস নং ১০৪৯
حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَزِيدَ التَّيْمِيِّ، قَالَ كُنْتُ أَقْرَأُ عَلَى أَبِي الْقُرْآنَ فِي السُّدَّةِ فَإِذَا قَرَأْتُ السَّجْدَةَ سَجَدَ فَقُلْتُ لَهُ يَا أَبَتِ أَتَسْجُدُ فِي الطَّرِيقِ قَالَ إِنِّي سَمِعْتُ أَبَا ذَرٍّ يَقُولُ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَوَّلِ مَسْجِدٍ وُضِعَ فِي الأَرْضِ قَالَ " الْمَسْجِدُ الْحَرَامُ " . قُلْتُ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ " الْمَسْجِدُ الأَقْصَى " . قُلْتُ كَمْ بَيْنَهُمَا قَالَ " أَرْبَعُونَ عَامًا ثُمَّ الأَرْضُ لَكَ مَسْجِدٌ فَحَيْثُمَا أَدْرَكَتْكَ الصَّلاَةُ فَصَلِّ " .
বর্ণনাকারী ইবরাহীম ইবনু ইয়াযীদ আত্ তায়মী (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে “সাদ্দাহ” অর্থাৎ মাসজিদের দরজার বাইরে কুরআন মাজীদ পাঠ করে শুনাতাম। আমি সাজদার আয়াত পড়লে তিনি তখন সাজদাহ্ করতেন। আমি তাকে বলতাম, আব্বাজান! আপনি রাস্তায় সাজদাহ করছেন? তিনি বলতেন, আমি আবূ যার-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পৃথিবীতে নির্মিত সর্বপ্রথম মসজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, মাসজিদুল হারাম (সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছিল) আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এর পর কোন মসজিদ (নির্মিত হয়েছিল?) তিনি বললেন, মাসজিদুল আক্বসা। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, এ দু’টি মাসজিদের (নির্মিত কাজের) মধ্যে কতদিনের ব্যবধান? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর। এছাড়া গোটা পৃথিবীইতো মসজিদ। সুতরাং যেখানেই সলাতের সময় হবে, সেখানেই সলাত আদায় করে নিবে। (ই. ফা. ১০৪৩ ই. সে. ১০৫৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৫০
হাদিস নং ১০৫০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ سَيَّارٍ، عَنْ يَزِيدَ الْفَقِيرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ قَبْلِي كَانَ كُلُّ نَبِيٍّ يُبْعَثُ إِلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً وَبُعِثْتُ إِلَى كُلِّ أَحْمَرَ وَأَسْوَدَ وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ وَلَمْ تُحَلَّ لأَحَدٍ قَبْلِي وَجُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ طَيِّبَةً طَهُورًا وَمَسْجِدًا فَأَيُّمَا رَجُلٍ أَدْرَكَتْهُ الصَّلاَةُ صَلَّى حَيْثُ كَانَ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ بَيْنَ يَدَىْ مَسِيرَةِ شَهْرٍ وَأُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ " .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাঃ)
সূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাকে এমন পাঁচটি বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে যা অন্য কোন নাবীকে দেয়া হয়নি, প্রত্যেক নাবীকে শুধু তার কাওমের জন্য পাঠানো হতো। কিন্তু আমাকে সাদা ও কালো সবার জন্য নবী করে পাঠানো হয়েছে। আমার জন্য গণীমাত বা যুদ্ধলব্ধ অর্থ-সম্পদ হালাল করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমার পূর্বে আর কারো (কোন নাবীর) জন্য তা হালাল ছিল না। আমার জন্য গোটা পৃথিবী পাক-পবিত্র ও মসজিদ করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং সলাতের সময় হলে যে কোন লোক যে কোন স্হানে সলাত আদায় করে নিতে পারে। আমাকে একমাসের পথের দূরত্ব পর্যন্ত অত্যন্ত শান শাওকাত সহকারে (শত্রু ও অন্তর ভীতি দ্বারা) সাহায্য করা হয়েছে। আর আমাকে শাফা’আতের সুযোগ দান করা হয়েছে। (ই. ফা. ১০৪৪ ই. সে. ১০৫৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৫১
হাদিস নং ১০৫১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا سَيَّارٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ الْفَقِيرُ، أَخْبَرَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ . فَذَكَرَ نَحْوَهُ .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)
নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন..... অতঃপর তিনি উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ই. ফা. ১০৪৫ ই. সে. ১০৫৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৫২
হাদিস নং ১০৫২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فُضِّلْنَا عَلَى النَّاسِ بِثَلاَثٍ جُعِلَتْ صُفُوفُنَا كَصُفُوفِ الْمَلاَئِكَةِ وَجُعِلَتْ لَنَا الأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدًا وَجُعِلَتْ تُرْبَتُهَا لَنَا طَهُورًا إِذَا لَمْ نَجِدِ الْمَاءَ " . وَذَكَرَ خَصْلَةً أُخْرَى .
বর্ণনাকারী হুযায়ফাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অন্য সব লোকের চেয়ে তিনটি বিষয়ে আমাদেরকে (উম্মাতে মুহাম্মাদীকে) মর্যাদা দান করা হয়েছে। আমাদের (সলাতের) কাতার বা সারি মালাকগণের (ফেরেশতাগণের) কাতার বা সারির মত করা হয়েছে। সমগ্র পৃথিবী আমাদের জন্য মসজিদ করে দেয়া হ্যেছে। আর পানি না পেলে পৃথিবীর মাটিকে আমাদের পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ করে দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি আরেকটি বিষয়ও উল্লেখ করলেন। (ই. ফা. ১০৪৬ ই. সে. ১০৫৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৫৩
হাদিস নং ১০৫৩
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ طَارِقٍ، حَدَّثَنِي رِبْعِيُّ بْنُ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী হুযায়ফাহ্ (রাঃ)
তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ........ এরপর এ কথা বলে তিনি পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করলেন। (ই. ফা. ১০৪৭ ই. সে. ১০৫৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৫৪
হাদিস নং ১০৫৪
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فُضِّلْتُ عَلَى الأَنْبِيَاءِ بِسِتٍّ أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ وَجُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ طَهُورًا وَمَسْجِدًا وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً وَخُتِمَ بِيَ النَّبِيُّونَ " .
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অন্য সব নাবীদের চাইতে আমাকে ছয়টি বিশেষ মর্যাদা দান করা হয়েছে। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আমাকে অত্যন্ত প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আমার জন্য গণীমাতের (যুদ্ধলব্ধ) অর্থ সম্পদ হালাল করা হয়েছে। আমার জন্য গোটা পৃথিবীর ভূমি বা মাটি পবিত্রতা হাসিলকারী বা মসজিদ করা হয়েছে। আমাকে সমগ্র সৃষ্টির জন্য (নাবী করে) পাঠানো হয়েছে। আর আমাকে দিয়ে নাবীদের আগমন-ধারা সমাপ্ত করা হয়েছে। (ই. ফা. ১০৪৮ ই. সে. ১০৫৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৫৫
হাদিস নং ১০৫৫
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بُعِثْتُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَبَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ بِمَفَاتِيحِ خَزَائِنِ الأَرْضِ فَوُضِعَتْ فِي يَدَىَّ " . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَذَهَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنْتُمْ تَنْتَثِلُونَهَا .
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আমাকে অত্যন্ত প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। একদিন ঘুমের মাঝে স্বপ্নে আমার কাছে পৃথিবীর ধনভান্ডারের চাবিসমূহ এনে আমার হাতে দেয়া হলো। আবু হুরায়রাহ্...... (এর ব্যাখ্যা করে) বলেছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছেন, আর তোমরা তা আহরণ [১] করে চলেছ। (ই. ফা. ১০৪৯ ই. সে. ১০৫৮)
[১] দুনিয়ার দিক-দিগন্ত বিজিত হওয়া এবং ধনরাজী আহরণ করা। (শারহে নাবাবী – ১ম খন্ড, ১৯৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৫৬
হাদিস নং ১০৫৬
وَحَدَّثَنَا حَاجِبُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ . مِثْلَ حَدِيثِ يُونُسَ .
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি যে, অতঃপর ইউনুছ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ই. ফা. ১০৫০ ই. সে. ১০৫৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৫৭
হাদিস নং ১০৫৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)
আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) -এর মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। (ই. ফা. ১০৫১ ই. সে. ১০৬০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৫৮
হাদিস নং ১০৫৮
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي يُونُسَ، مَوْلَى أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ عَلَى الْعَدُوِّ وَأُوتِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَبَيْنَمَا أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ بِمَفَاتِيحِ خَزَائِنِ الأَرْضِ فَوُضِعَتْ فِي يَدَىَّ " .
বর্ণনাকারী আবুত্ ত্বহির (রহঃ)
তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমাকে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রবল প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দান করা হয়েছে। আর একদিন ঘুমের মাঝে স্বপ্নে আমার কাছে পৃথিবীর ধন-ভান্ডারের চাবিসমুহ এনে আমার হাতে দেয়া হয়েছে। (ই. ফা. ১০৫২ ই. সে. ১০৬১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৫৯
হাদিস নং ১০৫৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُوتِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ " .
বর্ণনাকারী হাম্মাদ ইবনু মুনাববিহ (রহঃ)
আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) ... রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কিছু সংখ্যক হাদিস বর্ণনা করে আমাদের শুনালেন। তার মধ্যে একটি হাদিস হলো, তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাকে প্রবল প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। (ই. ফা. ১০৫৩ ই. সে. ১০৬২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৬০
হাদিস নং ১০৬০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَشَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، كِلاَهُمَا عَنْ عَبْدِ الْوَارِثِ، - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ الضُّبَعِيِّ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَنَزَلَ فِي عُلْوِ الْمَدِينَةِ فِي حَىٍّ يُقَالُ لَهُمْ بَنُو عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ . فَأَقَامَ فِيهِمْ أَرْبَعَ عَشْرَةَ لَيْلَةً ثُمَّ إِنَّهُ أَرْسَلَ إِلَى مَلإِ بَنِي النَّجَّارِ فَجَاءُوا مُتَقَلِّدِينَ بِسُيُوفِهِمْ - قَالَ - فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى رَاحِلَتِهِ وَأَبُو بَكْرٍ رِدْفُهُ وَمَلأُ بَنِي النَّجَّارِ حَوْلَهُ حَتَّى أَلْقَى بِفِنَاءِ أَبِي أَيُّوبَ - قَالَ - فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي حَيْثُ أَدْرَكَتْهُ الصَّلاَةُ وَيُصَلِّي فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ ثُمَّ إِنَّهُ أَمَرَ بِالْمَسْجِدِ قَالَ فَأَرْسَلَ إِلَى مَلإِ بَنِي النَّجَّارِ فَجَاءُوا فَقَالَ " يَا بَنِي النَّجَّارِ ثَامِنُونِي بِحَائِطِكُمْ هَذَا " . قَالُوا لاَ وَاللَّهِ لاَ نَطْلُبُ ثَمَنَهُ إِلاَّ إِلَى اللَّهِ . قَالَ أَنَسٌ فَكَانَ فِيهِ مَا أَقُولُ كَانَ فِيهِ نَخْلٌ وَقُبُورُ الْمُشْرِكِينَ وَخِرَبٌ . فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالنَّخْلِ فَقُطِعَ وَبِقُبُورِ الْمُشْرِكِينَ فَنُبِشَتْ وَبِالْخِرَبِ فُسُوِّيَتْ - قَالَ - فَصَفُّوا النَّخْلَ قِبْلَةً وَجَعَلُوا عِضَادَتَيْهِ حِجَارَةً - قَالَ - فَكَانُوا يَرْتَجِزُونَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَهُمْ وَهُمْ يَقُولُونَ اللَّهُمَّ إِنَّهُ لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُ الآخِرَهْ فَانْصُرِ الأَنْصَارَ وَالْمُهَاجِرَهْ
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরাত করে মদিনায় আগমন করলেন, মাদিনার উচ্চভূমিতে ‘বানী আমর ইবনু ‘আওফ গোত্রের এলাকায় অবতরণ করলেন, এবং সেখানে চৌদ্দ রাত অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি বানী নাজ্জার গোত্রের লোকজনকে ডেকে পাঠালেন তারা সবাই (খোলা) তরবারিসহ আগমন করলো। হাদীসের বর্ণনাকারী আনাস বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে তাঁর সওয়ারী বা বাহনের উপর দেখতে পাচ্ছি। আবূ বাকর তাঁর পেছনে বসে আছেন এবং বানী নাজ্জারের লোকজন তাকে ঘিরে আছেন। অবশেষে তিনি আবূ আইয়ুবের (আনসারী) বাড়ীর আঙীনায় অবতরণ করলেন। বর্ণনাকারী আনাস বলেছেন, সলাতের সময় হলেই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করে নিতেন। এমনকি তিনি বকরীর খোঁয়াড়েও সলাত আদায় করতেন। পরে তিনি মসজিদ নির্মাণ করতে আদিষ্ট হলে বানী নাজ্জার গোত্রের নেতৃস্হায়ী লোকদের ডেকে পাঠালেন। তারা উপস্হিত হলে তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, হে বানী নাজ্জার! তোমরা তোমাদের এ বাগানটি অর্থের বিনিময়ে আমার কাছে বিক্রি কর। তারা বললো না, আল্লাহর শপথ, আমরা আল্লাহর নিকট ছাড়া আপনার কাছে এর মূল্য দাবী করব না। আনাস বলেন, ঐ বাগানটিতে যা ছিল তা আমি বর্ণনা করছি, ঐ বাগানে ছিল খেজুর গাছ, মুশরিকের কিছু কবর এবং কিছু ঘর-বাড়ির ধ্বংস স্তুপ। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নির্দেশে খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হলো, মুশরিকদের কবরগুলো খুঁড়ে ফেলা হলো এবং ধ্বংসাবশেষ গুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হলো। তারা (কর্তিত) খেজুর গাছের গুড়িসমুহ ক্বিবলার দিকে সারি করে রাখল এবং দরজার দু’পাশে পাথর স্হাপন করল। আনাস ইবনু মালিক বর্ণনা করেছেন। এসব কাজ করার সময় তারা একসুরে কবিতা আবৃতি করছিল। আর তাদের সাথে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একসুরে কবিতা আবৃতি করছিলেন। তারা বলছিল,‘হে আল্লাহ ! আখিরাতের কল্যান ছাড়া প্রকৃত কোন কল্যান নেই।তুমি আনসার ও মুহাজিরদের সাহায্য করো’’ (ই. ফা. ১০৫৪ ই. সে. ১০৬৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৬১
হাদিস নং ১০৬১
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي أَبُو التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ قَبْلَ أَنْ يُبْنَى الْمَسْجِدُ .
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, মসজিদ নির্মাণের পূর্বে বকরীর খোঁয়াড়েও সলাত আদায় করতেন। (ই. ফা. ১০৫৫ ই. সে. ১০৬৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৬২
হাদিস নং ১০৬২
وَحَدَّثَنَاهُ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপরে বর্ণিত হাদীসটির বিষয়বস্তুর অনুরূপ করতেন। (ই. ফা. ১০৫৫ ই. সে. ১০৬৪)
২. অধ্যায়ঃ
বায়তুল মুকাদ্দাস হতে কা’বার দিকে ক্বিবলাহ্ পরিবর্তন
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৬৩
হাদিস নং ১০৬৩
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا حَتَّى نَزَلَتِ الآيَةُ الَّتِي فِي الْبَقَرَةِ { وَحَيْثُمَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ} فَنَزَلَتْ بَعْدَ مَا صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَانْطَلَقَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَمَرَّ بِنَاسٍ مِنَ الأَنْصَارِ وَهُمْ يُصَلُّونَ فَحَدَّثَهُمْ فَوَلَّوْا وُجُوهَهُمْ قِبَلَ الْبَيْتِ .
বর্ণনাকারী বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ)
তিনি বলেন, কুরআন মাজীদের আয়াত ‘’ওয়া হায়সু মা কুনতুম ফাওয়ালু উজূহাকুম শাত্বরাহ্’’ (অর্থাৎ - এখন যেখানেই তোমরা অবস্হান করো না কেন, ঐ (কা’বাহ ঘরের) দিকে মুখ করে সলাত আদায় করো) অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমরা ষোল মাস যাবৎ বায়তুল মাক্বদিসের দিকে মুখ করে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পিছনে সলাত আদায় করেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায়ের পর এ আয়াত অবতীর্ণ হলো। তখন সবার মধ্য হতে জনৈক ব্যাক্তি উঠে রওয়ানা হলো। সে সলাতরত একদল আনসারের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাদের কাছে হাদীসটি বর্ণনা করলেন। তারা সবাই (সলাতরত অবস্থায়ই) মুখ ফিরিয়ে বায়তুল্লাহ বা কা’বাহ্ ঘরের দিকে করে নিলো। (ই. ফা. ১০৫৭ ই. সে. ১০৬৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৬৪
হাদিস নং ১০৬৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ جَمِيعًا عَنْ يَحْيَى، - قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، - عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ، يَقُولُ صَلَّيْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا أَوْ سَبْعَةَ عَشَرَ شَهْرًا ثُمَّ صُرِفْنَا نَحْوَ الْكَعْبَةِ .
বর্ণনাকারী বারা ইবনু ‘আযিয (রাঃ
আমরা বায়তুল মাক্বদিসের দিকে মুখ করে ষোল কিংবা সতের মাস পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পেছনে সলাত আদায় করেছি। এরপর আমাদেরকে কা’বার দিকে মুখ ফিরিয়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ - ষোল কিংবা সতের মাস পরে আমরা কা’বার দিকে মুখ করে সলাত আদায়ের নির্দেশ লাভ করি। (ই. ফা. ১০৫৮ ই. সে. ১০৬৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৬৫
হাদিস নং ১০৬৫
حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ بَيْنَمَا النَّاسُ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ بِقُبَاءٍ إِذْ جَاءَهُمْ آتٍ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ اللَّيْلَةَ . وَقَدْ أُمِرَ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْكَعْبَةَ فَاسْتَقْبِلُوهَا . وَكَانَتْ وُجُوهُهُمْ إِلَى الشَّامِ فَاسْتَدَارُوا إِلَى الْكَعْبَةِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (র
তিনি বলেছেন, ‘কুবা’ নামক মাসজিদে লোকজন ফাজরের সলাত আদায় করছিল। ঠিক তখনই একজন আগন্তুক এসে তাদেরকে বলল,আজ রাতে কা’বার দিকে মুখ ফিরিয়ে সলাত আদায়ের নির্দেশ দিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ওপর একটি আয়াত অবর্তীণ হয়েছে। তখন তাদের (মাসজিদে কুবায় সলাত আদায়কারী মুসল্লীদের) মুখ ছিল শামের (বায়তুল মাক্বদিস বা মাসজিদে আক্বসার, বা যা বর্তমানে ফিলিস্তীনে অবস্হিত) দিকে। অতঃপর (সলাতরত অবস্হায়) তারা কা’বার দিকে ঘুরে দাঁড়ালো। (ই. ফা. ১০৫৯ ই. সে. ১০৬৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৬৬
হাদিস নং ১০৬৬
حَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ بَيْنَمَا النَّاسُ فِي صَلاَةِ الْغَدَاةِ إِذْ جَاءَهُمْ رَجُلٌ . بِمِثْلِ حَدِيثِ مَالِكٍ .
বর্ণনাকারী সুওয়াইদ ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) ইবনু ‘উমার ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু দীনার-এর মাধ্যমে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেছেন, লোকজন ফাজ্বরের সলাত আদায় করছিল। ঠিক তখন একজন সেখানে এসে হাজির হলো ... এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু বর্ণনা করলেন। (ই. ফা. ১০৬০ ই. সে. ১০৬৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৬৭
হাদিস নং ১০৬৭
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَنَزَلَتْ { قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} فَمَرَّ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ وَهُمْ رُكُوعٌ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ وَقَدْ صَلَّوْا رَكْعَةً فَنَادَى أَلاَ إِنَّ الْقِبْلَةَ قَدْ حُوِّلَتْ . فَمَالُوا كَمَا هُمْ نَحْوَ الْقِبْلَةِ .
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বায়তুল মাক্বদিসের দিকে মুখ করে সলাত আদায় করতেন। তারপর এক সময় এ আয়াত অবর্তীর্ণ হলো (আরবি) অর্থাৎ- “আমি বার বার তোমাকে আসমানের দিকে তাকানো দেখছিলাম। এখন আমি তোমাকে তোমার পছন্দনীয় ক্বিবলার দিকে ফিরিয়ে দিলাম। সুতরাং তুমি তোমার মুখ মাসজিদে হারামের দিকে ফিরিয়ে নাও”- (সূরাহ আল বাক্বারাহ্ ২ : ১৩৩)। এরপর জনৈক ব্যক্তি ভোরবেলা বানী সালমাহ্ গোত্রের এলাকা দিয়ে অতিক্রম করছিল। সে দেখতে পেলো তারা ফজর সলা্তের এক রাক’আত আদায় করেছে এবং দ্বিতীয় রাক’আতে রুকূ’রত আছে। তখন সে ডেকে বলল, ক্বিবলাহ্ কিন্তু পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে। (এ কথা শুনার পর) তারা সলাতরত অবস্থায়ই (নতুন) ক্বিবলার দিকে ঘুরে গেল। (ই.ফা. ১০৬১, ই.সে. ১০৬৯)
৩. অধ্যায়ঃ
ক্ববরের উপর মসজিদ নির্মাণ, মাসজিদে ছবি বানানো, ক্ববরকে সাজদার স্থান নির্ধারণ করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৬৮
হাদিস নং ১০৬৮
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ، وَأُمَّ سَلَمَةَ ذَكَرَتَا كَنِيسَةً رَأَيْنَهَا بِالْحَبَشَةِ - فِيهَا تَصَاوِيرُ - لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أُولَئِكِ إِذَا كَانَ فِيهِمُ الرَّجُلُ الصَّالِحُ فَمَاتَ بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا وَصَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّوَرَ أُولَئِكِ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
উম্মু হাবীবাহ্ ও উম্মু সালামাহ্ (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দু’ স্ত্রী) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে এমন একটি গীর্জার বর্ণনা দিলো যার মধ্যে মূর্তি বা ছবি যা তারা হাবশায় দেখেছিলেন। তাদের কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তারা এরূপই করে থাকে। তাদের মধ্যেকার কোন নেক লোক মারা গেলে তারা তার ক্ববরের উপর মসজিদ নির্মাণ করে এবং তার মধ্যে ছবি বা মূর্তি স্থাপন করে। ক্বিয়ামাতের দিন এরা হবে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট সৃষ্টি। (ই.ফা. ১০৬২, ই.সে. ১০৭০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৬৯
হাদিস নং ১০৬৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهُمْ تَذَاكَرُوا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَرَضِهِ فَذَكَرَتْ أُمُّ سَلَمَةَ وَأُمُّ حَبِيبَةَ كَنِيسَةً . ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَهُ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
(তিনি বলেছেনঃ ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন পীড়িত তখন সাহাবীগণ তাঁর কাছে কাথা-বার্তা বললেন। তখন উম্মু সালামাহ্ ও উম্মু হাবীবাহ্ গীর্জার কথা বর্ণনা করলেন। এরপর বর্ণনাকারী হাদীসটিতে পূর্বে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু বর্ণনা করলেন। (ই.ফা. ১০৬৩, ই.সে. ১০৭১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৭০
হাদিস নং ১০৭০
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ ذَكَرْنَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَنِيسَةً رَأَيْنَهَا بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ يُقَالُ لَهَا مَارِيَةُ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمْ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্ত্রীগণ আবিসিনিয়ায় (যা বর্তমানে ইথিওপিয়া) ‘মারিয়াহ্’ নামক যে এক রকম গীর্জা দেখেছিলেন তার আলোচনা করলেন। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর বর্ণনাকারী হাদীসটির অবশিষ্টাংশ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। (ই.ফা. ১০৬৪ ই.সে. ১০৭২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৭১
হাদিস নং ১০৭১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، قَالاَ حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي حُمَيْدٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَرَضِهِ الَّذِي لَمْ يَقُمْ مِنْهُ " لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ " . قَالَتْ فَلَوْلاَ ذَاكَ أُبْرِزَ قَبْرُهُ غَيْرَ أَنَّهُ خُشِيَ أَنْ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا . وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ وَلَوْلاَ ذَاكَ لَمْ يَذْكُرْ قَالَتْ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রোগ-শয্যায় বলেছিলেন, আল্লাহ ইয়াহূদ ও নাসারাদের (খৃস্টানদের) প্রতি লা’নাত বর্ষণ করুন। কারণ তারা তাদের নাবীদের ক্ববরকে মসজিদ বা সাজদার স্থান করে নিয়েছেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেছেনঃ যদি এরূপ করার আশঙ্কা না থাকতো তাহলে তাকে উন্মুক্ত স্থানে ক্ববর দেয়া হত।কিন্তু যেহেতু তিনি আশংকা করতেন যে, তাঁর ক্ববরকে মসজিদ বা সাজদার স্থান করা হতে পারে তাই উন্মুক্ত স্থানে ক্ববর করতে দেননি। বরং ‘আয়িশাহ (রাঃ) -এর কক্ষে তাঁর ক্ববর করা হয়েছে।তবে ইবনু আবূ শায়বাহ্-এর বর্ণিত হাদীসে (আরবি) স্থানে (আরবি) কথাটি বর্ণনা করা হয়েছে। আর তিনি ক্বালাত শব্দটি বর্ণনা করেননি। (ই.ফা. ১০৬৫ ই.সে. ১০৭৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৭২
হাদিস নং ১০৭২
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، وَمَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ ইয়াহূদদের ধ্বংস করুন। তারা তাদের নাবীদের ক্ববরকে মসজিদ বা সাজদার স্থান বানিয়ে নিয়েছে। (ই.ফা. ১০৬৬, ই.সে. ১০৭৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৭৩
হাদিস নং ১০৭৩
وَحَدَّثَنِي قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْفَزَارِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الأَصَمِّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ الأَصَمِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ ইয়াহূদ ও নাসারাদের (খৃষ্টানদের) ওপর অভিসম্পাত বর্ষণ করুন। কারণ তারা তাদের নাবীদের ক্ববরসমূহকে মসজিদ বা সাজদার স্থান করে নিয়েছে। (ই.ফা. ১০৬৭, ই.সে. ১০৭৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৭৪
হাদিস নং ১০৭৪
وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَرْمَلَةُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ، هَارُونُ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَائِشَةَ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، قَالاَ لَمَّا نَزَلَتْ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَفِقَ يَطْرَحُ خَمِيصَةً لَهُ عَلَى وَجْهِهِ فَإِذَا اغْتَمَّ كَشَفَهَا عَنْ وَجْهِهِ فَقَالَ وَهُوَ كَذَلِكَ " لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ " . يُحَذِّرُ مِثْلَ مَا صَنَعُوا .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তারা উভয়েই বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ওয়াফাতের সময় ঘনিয়ে আসলে তিনি চাদর টেনে টেনে মুখমন্ডলের উপর দিচ্ছিলেন। কিন্তু আবার যখন অস্বস্তিবোধ করছিলেন তখন তা সরিয়ে দিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় তিনি বলছিলেন ইয়াহূদ (ইয়াহূদী) ও নাসারাদের (খৃষ্টানদের) ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত বর্ষিত হোক। তারা তাদের নাবীদের ক্ববরসমূহকে মসজিদ বা সাজদার স্থান করে নিয়েছে (অর্থাৎ-সেখানে তারা সাজদাহ্ করে)। আর ইয়াহূদ ও নাসারাদের মতো না করতে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বার বার হুঁশিয়ার করে দিচ্ছিলেন। (ই.ফা. ১০৬৮, ই.সে. ১০৭৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৭৫
হাদিস নং ১০৭৫
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ عَدِيٍّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ النَّجْرَانِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي جُنْدَبٌ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ بِخَمْسٍ وَهُوَ يَقُولُ " إِنِّي أَبْرَأُ إِلَى اللَّهِ أَنْ يَكُونَ لِي مِنْكُمْ خَلِيلٌ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدِ اتَّخَذَنِي خَلِيلاً كَمَا اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا مِنْ أُمَّتِي خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلاً أَلاَ وَإِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ وَصَالِحِيهِمْ مَسَاجِدَ أَلاَ فَلاَ تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ إِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ " .
বর্ণনাকারী জুনদুব (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে তাঁকে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের মধ্যে থেকে আমার কোন খলীল বা একান্ত বন্ধু থাকার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে মুক্ত। কারণ মহান আল্লাহ ইব্রাহীমকে যেমন খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন, সে রকমভাবে আমাকেও খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আমি আমার উম্মাতের মধ্যে থেকে কাউকে খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলে আবূ বকরকেই তা করতাম। সাবধান থেকো তোমাদের পূর্বের যুগের লোকেরা তাদের নবী ও নেককার লোকদের ক্ববরসমূহকে মসজিদ (সাজদার স্থান) হিসেবে গ্রহণ করত। সাবধান তোমরা ক্ববরসমূহকে সাজদার স্থান বানাবে না। আমি এরূপ করতে তোমাদেরকে নিষেধ করে যাচ্ছি। (ই.ফা. ১০৬৯, ই.সে. ১০৭৭)
৪. অধ্যায়ঃ
মসজিদ নির্মাণের ফাযীলত এবং তার প্রতি উৎসাহ প্রদান
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৭৬
হাদিস নং ১০৭৬
حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ بُكَيْرًا، حَدَّثَهُ أَنَّ عَاصِمَ بْنَ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عُبَيْدَ اللَّهِ الْخَوْلاَنِيَّ، يَذْكُرُ أَنَّهُ سَمِعَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، عِنْدَ قَوْلِ النَّاسِ فِيهِ حِينَ بَنَى مَسْجِدَ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم . إِنَّكُمْ قَدْ أَكْثَرْتُمْ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلَّهِ تَعَالَى - قَالَ بُكَيْرٌ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ - يَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّهِ - بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ " . وَقَالَ ابْنُ عِيسَى فِي رِوَايَتِهِ " مِثْلَهُ فِي الْجَنَّةِ " .
বর্ণনাকারী ‘উবায়দুল্লাহ আল খাওলানী (রহঃ)
তিনি বলেন, ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ) যে সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মসজিদ নির্মাণ করলেন এবং এ কারণে লোকজন তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করতে শুরু করলো তখন ‘উবায়দুল্লাহ খাওলানী ‘উসমানকে বলতে শুনেছেন, তোমরা আমার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে ফেলেছ। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করবে, হাদীস বর্ণনাকারী বুকায়র বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন এর মাধ্যমে (মসজিদ নির্মাণ) যদি সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যাশা করে তাহলে মহান আল্লাহ তা’আলাও তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি ঘর নির্মাণ করেন বলে উল্লেখ করেছেন।ইবনু ‘ঈসা তাঁর বর্ণনায় (জান্নাতের মধ্যে অনুরূপ) শব্দ ব্যবহার করেছেন। (ই.ফা. ১০৭০, ই.সে. ১০৭৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৭৭
হাদিস নং ১০৭৭
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، أَرَادَ بِنَاءَ الْمَسْجِدِ فَكَرِهَ النَّاسُ ذَلِكَ فَأَحَبُّوا أَنْ يَدَعَهُ عَلَى هَيْئَتِهِ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلَّهِ بَنَى اللَّهُ لَهُ فِي الْجَنَّةِ مِثْلَهُ " .
বর্ণনাকারী মাহমূদ ইবনু লাবীদ (রহঃ)
(তিনি বলেছেন) ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ) মসজিদ নির্মাণ করতে মনস্থ করলে লোকজন তা করা পছন্দ করলো না। বরং মসজিদ যেমন আছে তেমন রেখে দেয়াই তারা ভাল মনে করলো। তখন ‘উসমান বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কেউ মসজিদ নির্মাণ করলে আল্লাহ তা’আলাও তার জন্য জান্নাতের মধ্যে অনুরূপ একখানা ঘর তৈরি করেন। (ই.ফা. ১০৭১, ই.সে. ১০৭৯)
৫. অধ্যায়ঃ
রুকূর সময় দু’হাত হাঁটুতে রাখা উত্তম হওয়া এবং তাত্ববীক্ব(দু’ হাত জোড় করে দু’পায়ের মাঝখানে) রাখা রহিত হওয়া
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৭৮
হাদিস নং ১০৭৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، وَعَلْقَمَةَ، قَالاَ أَتَيْنَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ فِي دَارِهِ فَقَالَ أَصَلَّى هَؤُلاَءِ خَلْفَكُمْ فَقُلْنَا لاَ . قَالَ فَقُومُوا فَصَلُّوا . فَلَمْ يَأْمُرْنَا بِأَذَانٍ وَلاَ إِقَامَةٍ - قَالَ - وَذَهَبْنَا لِنَقُومَ خَلْفَهُ فَأَخَذَ بِأَيْدِينَا فَجَعَلَ أَحَدَنَا عَنْ يَمِينِهِ وَالآخَرَ عَنْ شِمَالِهِ - قَالَ - فَلَمَّا رَكَعَ وَضَعْنَا أَيْدِيَنَا عَلَى رُكَبِنَا - قَالَ - فَضَرَبَ أَيْدِيَنَا وَطَبَّقَ بَيْنَ كَفَّيْهِ ثُمَّ أَدْخَلَهُمَا بَيْنَ فَخِذَيْهِ - قَالَ - فَلَمَّا صَلَّى قَالَ إِنَّهُ سَتَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ يُؤَخِّرُونَ الصَّلاَةَ عَنْ مِيقَاتِهَا وَيَخْنُقُونَهَا إِلَى شَرَقِ الْمَوْتَى فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمْ قَدْ فَعَلُوا ذَلِكَ فَصَلُّوا الصَّلاَةَ لِمِيقَاتِهَا وَاجْعَلُوا صَلاَتَكُمْ مَعَهُمْ سُبْحَةً وَإِذَا كُنْتُمْ ثَلاَثَةً فَصَلُّوا جَمِيعًا وَإِذَا كُنْتُمْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَلْيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ وَإِذَا رَكَعَ أَحَدُكُمْ فَلْيَفْرِشْ ذِرَاعَيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ وَلْيَجْنَأْ وَلْيُطَبِّقْ بَيْنَ كَفَّيْهِ فَلَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى اخْتِلاَفِ أَصَابِعِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَرَاهُمْ .
বর্ণনাকারী আসওয়াদ ও ‘আলক্বামাহ্ (রহঃ)
তারা (উভয়ে) বলেছেন, আমরা ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) -এর বাড়িতে তার কাছে গেলাম। তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এসব আমীর-উমারাহ্ এবং তাদের অনুসারীগণ যারা তোমাদের পেছনে রয়েছে তারা কি সলাত আদায় করেছে? জবাবে আমরা বললাম, না। তখন তিনি বললেন, তাহলে উঠে সলাত আদায় করে নাও। (কারণ সলাতের সময় হয়ে গিয়েছে)। কিন্তু তিনি আমাদেরকে আযান কিংবা একামত দিতে বললেন না। [২] বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে, সলাত আদায়ের জন্য আমরা তার পিছনে দাঁড়াতে গেলে তিনি আমাদের একজনকে ধরে তার ডানপাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন এবং অপরজনকে বাঁ পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। [৩] তিনি রুকূ’তে গেলে আমরাও রুকূতে গিয়ে হাঁটুর উপর আমাদের হাত রাখলাম। তখন তিনি আমাদের হাত ধরলেন এবং হাতের দু’তালু একত্রিত করে দু’উরুর মাঝখানে স্থাপন করলেন। পরে সলাত শেষে বললেন, অচিরেই এমন সব আমীর –উমারাহ্ ও ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের আবির্ভাব ঘটবে যারা সময়মত সলাত না পড়ে বিলম্ব করবে এবং সলাতের সময় এত সংকীর্ণ করে ফেলবে যে, সূর্য অস্তমিত প্রায় হয়ে যাবে। তাদেরকে এরূপ করতে দেখলে তোমরা সময়মত সলাত আদায় করে নিবে। আর তাদের সাথে পুনরায় নফল হিসেবে পড়ে নিবে (ইমামকে মাঝখানে রেখে)। তিনের অধিকজন থাকলে একজন ইমাম হবে (সামনে দাঁড়াবে) আর রুকূ’ করার সময় দু’হাত উরুর উপর রেখে রুকূ’তে যাবে এবং উভয় (হাতের) তালু একত্রিত করে দু’ উরুর মাঝখানে রাখবে। (এসব কথা বলার পর তিনি বললেন, এ মুহূর্তে) আমি যেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর এক হাতের অঙ্গুলি অপর হাতের অঙ্গুলিতে ঢুকাতে দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তিনি তা তাদেরকে দেখালেন। (ই.ফা. ১০৭২, ই.সে. ১০৮০)
[২] একাকী ফাজ্র সলাত আদায় কালে আযান ও ইক্বামাতের বিধান সম্পর্কে ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জমহুর উলামাগণ মত দিয়েছেন যে, এক্ষেত্রে ইক্বামাত বলা সুন্নাত, বড় জামা’আতের ইক্বামাতে এটা যথেষ্ট হবে না। আর আযানের ব্যাপারে আমাদের সঠিক মত হল-জামা’আতের আযান শুনা না গেলে আযান দিয়ে নিতে হবে। (শারহে মুসলিম-১ম, ২০২ পৃঃ) [৩] ইবনু মাস’ঊদ ও তাঁর সাথীদ্বয় ব্যতীত সহাবীগণের সকল উলামাহ্ এবং অদ্যাবধি কালের সকল ‘আলিমের মতে ইমামের সাথে দু’জন থাকলেই তারা ইমামের পিছনে দাড়াবে। এ মর্মে জাবির... থেকে সহীহ্ মুসলিমের অন্যত্র হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (শারহে মুসলিম-১ম, ২০২ পৃঃ)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৭৯
হাদিস নং ১০৭৯
وَحَدَّثَنَا مِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ مُسْهِرٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا مُفَضَّلٌ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، أَنَّهُمَا دَخَلاَ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ . بِمَعْنَى حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ . وَفِي حَدِيثِ ابْنِ مُسْهِرٍ وَجَرِيرٍ فَلَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى اخْتِلاَفِ أَصَابِعِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ رَاكِعٌ .
বর্ণনাকারী মিনজাব ইবনুল হারিস আত্ তামীমী, ‘উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ্ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ‘আলক্বামাহ্ ও আসওয়াদ (রহঃ)
তারা (উভয়ে) ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস’ঊদ) -এর কাছে গেলেন। এরপর তারা মু’আবিয়াহ্ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে ইবনু মুসহির ও জারীর বর্ণিত হাদীসে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করা হয়েছে যে, এ মুহূর্তে আমি যেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পরস্পর বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে রাখা আঙ্গুলগুলো দেখতে পাচ্ছি এবং তিনি রুকূ‘ অবস্থায় আছেন। (ই.ফা. ১০৭৩, ই.সে. ১০৮১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৮০
হাদিস নং ১০৮০
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، أَنَّهُمَا دَخَلاَ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ أَصَلَّى مَنْ خَلْفَكُمْ قَالاَ نَعَمْ . فَقَامَ بَيْنَهُمَا وَجَعَلَ أَحَدَهُمَا عَنْ يَمِينِهِ وَالآخَرَ عَنْ شِمَالِهِ ثُمَّ رَكَعْنَا فَوَضَعْنَا أَيْدِيَنَا عَلَى رُكَبِنَا فَضَرَبَ أَيْدِيَنَا ثُمَّ طَبَّقَ بَيْنَ يَدَيْهِ ثُمَّ جَعَلَهُمَا بَيْنَ فَخِذَيْهِ فَلَمَّا صَلَّى قَالَ هَكَذَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান আদ্ দারিমী (রহঃ) ‘আলক্বামাহ্ ও আসওয়াদ (রহঃ)
তারা (‘আলকামাহ্ ও আসওয়াদ) এক সময়ে ‘আবদুল্লাহর কাছে গেলে ‘আবদুল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, যারা (‘আমীর-উমারাগণ) থেকে গেল তারা কি সলাত আদায় করেছে? তারা বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি (‘আবদুল্লাহ) তাদের দু’জনের মাঝখানে দাঁড়ালেন। তখন তিনি তাদের দু’জনের একজনকে ডানে এবং অপরজনকে বামে দাঁড় করালেন। এরপর আমরা (তার সাথে) রুকূ’ করলাম। এতে তিনি আমাদের হাত আমাদের হাঁটুর উপর রাখলেন। তিনি আমাদের হাত ধরে তা পরস্পর মিলিয়ে (একত্রিত করে) দিয়ে দু’উরুর মাঝখানে স্থাপন করলেন। সলাত শেষে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ করেছেন। (ই.ফা. ১০৭৪, ই.সে. ১০৮২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৮১
হাদিস নং ১০৮১
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ - وَاللَّفْظُ لِقُتَيْبَةَ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ صَلَّيْتُ إِلَى جَنْبِ أَبِي قَالَ وَجَعَلْتُ يَدَىَّ بَيْنَ رُكْبَتَىَّ فَقَالَ لِي أَبِي اضْرِبْ بِكَفَّيْكَ عَلَى رُكْبَتَيْكَ . قَالَ ثُمَّ فَعَلْتُ ذَلِكَ مَرَّةً أُخْرَى فَضَرَبَ يَدَىَّ وَقَالَ إِنَّا نُهِينَا عَنْ هَذَا وَأُمِرْنَا أَنْ نَضْرِبَ بِالأَكُفِّ عَلَى الرُّكَبِ .
বর্ণনাকারী মুস’আব ইবনু সা’দ (রহঃ)
তিনি বলেছেন, আমি আমার পিতার পাশে দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করেছি। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, ঐ সময় (পিতার সাথে সলাত আদায়ের সময়) আমি আমার হাত দু’টি দু’ হাঁটুর মাঝখানে রাখলে আমার পিতা আমাকে বললেন, তোমার হাত দু’টি হাঁটুর উপর রাখো। কিন্তু আবারও ঐ রকম করলে তিনি আমার হাত দু’টি ধরে বললেন, আমাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং হাতের তালু হাঁটুর উপর রাখার আদেশ দেয়া হয়েছে। (ই.ফা. ১০৭৫, ই.সে. ১০৮৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৮২
হাদিস নং ১০৮২
حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ إِلَى قَوْلِهِ فَنُهِينَا عَنْهُ . وَلَمْ يَذْكُرَا مَا بَعْدَهُ .
বর্ণনাকারী আবূ ইয়া’ফুর (রহঃ)
তিনি এ একই সানাদে (উপরে বর্ণিত হাদীসটি) “ফানুহীনা ‘আনহু” পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তবে তারা উভয়েই (ফানুহীনা ‘আনহু) পরবর্তী অংশটুকু বর্ণনা করেননি। (ই.ফা. ১০৭৬, ই.সে. ১০৮৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৮৩
হাদিস নং ১০৮৩
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ رَكَعْتُ فَقُلْتُ بِيَدَىَّ هَكَذَا - يَعْنِي طَبَّقَ بِهِمَا وَوَضَعَهُمَا بَيْنَ فَخِذَيْهِ - فَقَالَ أَبِي قَدْ كُنَّا نَفْعَلُ هَذَا ثُمَّ أُمِرْنَا بِالرُّكَبِ .
বর্ণনাকারী মুস’আব ইবনু সা’দ (রহঃ)
তিনি বলেন, (কোন এক সময়ে সলাত আদায় করতে) আমি রুকূ’তে গিয়ে হাত দু’টি একত্রে মিলিয়ে দু’ উরুর মাঝে রাখলাম। তখন আমার পিতা আমাকে বললেন, আমরাও এরূপ করতাম। কিন্তু এরপর আমাদেরকে হাঁটুর উপর হাত রাখতে আদেশ করা হয়েছে। (ইফা ১০৭৭, ইসে ১০৮৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৮৪
হাদিস নং ১০৮৪
حَدَّثَنِي الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنِ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ صَلَّيْتُ إِلَى جَنْبِ أَبِي فَلَمَّا رَكَعْتُ شَبَّكْتُ أَصَابِعِي وَجَعَلْتُهُمَا بَيْنَ رُكْبَتَىَّ فَضَرَبَ يَدَىَّ فَلَمَّا صَلَّى قَالَ قَدْ كُنَّا نَفْعَلُ هَذَا ثُمَّ أُمِرْنَا أَنْ نَرْفَعَ إِلَى الرُّكَبِ .
বর্ণনাকারী মুস’আব ইবনু সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি আমার পিতা [সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) ]-এর পাশে দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করেছি। রুকূ’তে গিয়ে আমি এক হাতের আঙ্গুলসমূহ অন্য হাতের আঙ্গুলসমূহের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে হাত দু’টি হাঁটুর মাঝে রাখলে তিনি আমার হাতে মৃদু আঘাত করলেন। সলাত শেষে তিনি বললেন, প্রথমে আমরা এরূপই করতাম। কিন্তু পরে আমাদেরকে হাঁটুর উপর রাখার নির্দেশ করা হয়েছে। (ই.ফা. ১০৭৮, ই.সে. ১০৮৬)
৬. অধ্যায়ঃ
গোড়ালির উপর নিতম্ব রেখে বসা
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৮৫
হাদিস নং ১০৮৫
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا حَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - قَالاَ جَمِيعًا أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ طَاوُسًا يَقُولُ قُلْنَا لاِبْنِ عَبَّاسٍ فِي الإِقْعَاءِ عَلَى الْقَدَمَيْنِ فَقَالَ هِيَ السُّنَّةُ . فَقُلْنَا لَهُ إِنَّا لَنَرَاهُ جَفَاءً بِالرَّجُلِ . فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ بَلْ هِيَ سُنَّةُ نَبِيِّكَ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী ত্বাউস (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) -কে দু’পায়ের উপর নিতম্ব রেখে বসা (ইক্ব’আ করা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এরূপ করা সুন্নাত। (এ কথা শুনে) আমি তাকে বললাম, এভাবে বসা তো মানুষের জন্য কষ্টকর। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস বললেন, এটা তো বরং তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সুন্নাত। (ই.ফা. ১০৭৯, ই.সে. ১০৮৭)
৭. অধ্যায়ঃ
সলাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৮৬
হাদিস নং ১০৮৬
حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ - وَتَقَارَبَا فِي لَفْظِ الْحَدِيثِ - قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ بَيْنَا أَنَا أُصَلِّي، مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ عَطَسَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَقُلْتُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ . فَرَمَانِي الْقَوْمُ بِأَبْصَارِهِمْ فَقُلْتُ وَاثُكْلَ أُمِّيَاهْ مَا شَأْنُكُمْ تَنْظُرُونَ إِلَىَّ . فَجَعَلُوا يَضْرِبُونَ بِأَيْدِيهِمْ عَلَى أَفْخَاذِهِمْ فَلَمَّا رَأَيْتُهُمْ يُصَمِّتُونَنِي لَكِنِّي سَكَتُّ فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبِأَبِي هُوَ وَأُمِّي مَا رَأَيْتُ مُعَلِّمًا قَبْلَهُ وَلاَ بَعْدَهُ أَحْسَنَ تَعْلِيمًا مِنْهُ فَوَاللَّهِ مَا كَهَرَنِي وَلاَ ضَرَبَنِي وَلاَ شَتَمَنِي قَالَ " إِنَّ هَذِهِ الصَّلاَةَ لاَ يَصْلُحُ فِيهَا شَىْءٌ مِنْ كَلاَمِ النَّاسِ إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ " . أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ وَقَدْ جَاءَ اللَّهُ بِالإِسْلاَمِ وَإِنَّ مِنَّا رِجَالاً يَأْتُونَ الْكُهَّانَ . قَالَ " فَلاَ تَأْتِهِمْ " . قَالَ وَمِنَّا رِجَالٌ يَتَطَيَّرُونَ . قَالَ " ذَاكَ شَىْءٌ يَجِدُونَهُ فِي صُدُورِهِمْ فَلاَ يَصُدَّنَّهُمْ " . قَالَ ابْنُ الصَّبَّاحِ " فَلاَ يَصُدَّنَّكُمْ " . قَالَ قُلْتُ وَمِنَّا رِجَالٌ يَخُطُّونَ . قَالَ " كَانَ نَبِيٌّ مِنَ الأَنْبِيَاءِ يَخُطُّ فَمَنْ وَافَقَ خَطَّهُ فَذَاكَ " . قَالَ وَكَانَتْ لِي جَارِيَةٌ تَرْعَى غَنَمًا لِي قِبَلَ أُحُدٍ وَالْجَوَّانِيَّةِ فَاطَّلَعْتُ ذَاتَ يَوْمٍ فَإِذَا الذِّيبُ قَدْ ذَهَبَ بِشَاةٍ مِنْ غَنَمِهَا وَأَنَا رَجُلٌ مِنْ بَنِي آدَمَ آسَفُ كَمَا يَأْسَفُونَ لَكِنِّي صَكَكْتُهَا صَكَّةً فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَظَّمَ ذَلِكَ عَلَىَّ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلاَ أُعْتِقُهَا قَالَ " ائْتِنِي بِهَا " . فَأَتَيْتُهُ بِهَا فَقَالَ لَهَا " أَيْنَ اللَّهُ " . قَالَتْ فِي السَّمَاءِ . قَالَ " مَنْ أَنَا " . قَالَتْ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ . قَالَ " أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ " .
বর্ণনাকারী মু’আবিয়াহ্ ইবনুল হাকাম আস্ সুলামী (রাঃ)
তিনি বলেন, কোন এক সময় আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সলাত আদায় করছিলামভ। ইতোমধ্যে (সলাত আদায়কারীদের মধ্যে) কোন একজন লোক হাঁচি দিলে (জবাবে) আমি “ইয়ার্হামুকাল্ল-হ” (অর্থাৎ- আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন) বললাম। এতে সবাই রুষ্ট দৃষ্টিতে আমার প্রতি তাকাতে থাকল। তা দেখে আমি বললামঃ আমার মা আমার বিয়োগ ব্যথায় কাতর হোক। (অর্থাৎ-এভাবে আমি নিজেকে ভৎসনা করলাম)। কি ব্যাপার! তোমরা আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছ যে? তখন তারা নিজ নিজ উরুতে হাত চাপড়াতে থাকল। (আমার খুব রাগ হওয়া সত্ত্বেও) আমি যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চায় তখন আমি চুপ করে রইলাম। পরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত শেষ করলে আমি তাঁকে সবকিছু বললাম। আমার পিতা ও মাতা তাঁর জন্য কুরবান হোক। আমি ইতোপূর্বে বা এর পরে আর কখনো অন্য কোন শিক্ষককে তাঁর চেয়ে উত্তম পন্থায় শিক্ষা দিতে দেখিনি। আল্লাহর শপথ করে বলছি, তিনি আমাকে ধমকালেন না বা মারলেন না কিংবা বকাঝকাও করলেন না। বরং বললেনঃ সলাতের মধ্যে কথাবার্তা ধরণের কিছু বলা যথোচিত নয়। বরং প্রয়োজনবশতঃ তাসবীহ, তাকবীর বা কুরআন পাঠ করতে হবে অথবা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেরূপ বলেছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! আমি সবেমাত্র জাহিলিয়াত বর্জন করেছি এবং এরপর আল্লাহ আমাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা গণকদের কথায় বিশ্বাস করে। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (এ কথা শুনে) বললেনঃ তুমি গণকদের কাছে যেয়ো না। সে বললঃ আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা শুভ অশুভ লক্ষণ নির্ধারণ করে থাকে। তিনি বললেনঃ এটা তাদের হৃদয়ের বদ্ধমূল বিশ্বাস। এটি তাদেরকে (ভাল কাজ করতে) বাধা না দেয়। হাদীস বর্ণনাকারী সাববাহ বলেছেন, তা যেন তোমাকে বাধা না দেয়। লোকটি বর্ণনা করেছেন- আমি আবারও বললামঃ আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা রেখা টেনে শুভ-অশুভ নির্ধারণ করে থাকে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ একজন নবী এভাবে রেখা টানতেন। সুতরাং কারো রেখা যদি (নাবীর রেখা) অনুরূপ হয় তাহলে তা ঠিক হবে।[৪]বর্ণনাকারী মু’আবিয়াহ্ বলেন, আমার এক দাসী ছিল সে উহুদ ও জাও্ওয়ানিয়্যাহ্ এলাকায় আমার বকরীপাল চরাত। একদিন আমি হঠাৎ সেখানে গিয়ে দেখলাম তার বকরীপাল থেকে বাঘে একটি বকরী নিয়ে গিয়েছে। আমি তো অন্যান্য আদম সন্তানের মত একজন মানুষ। তাদের মত আমিও ক্ষোভ ও চপেটাঘাত করলাম। এরপর আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে আসলাম (এবং সব কথা বললাম) কেননা বিষয়টি আমার কাছে খুবই গুরুতর মনে হলো। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তাকে (দাসী) মুক্ত করে দিব? তিনি বললেনঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। সুতরাং আমি তাকে এনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে হাজির করলাম। তিনি তাঁকে (দাসীকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ (বলো তো) আল্লাহ কোথায়? সে বলল- আকাশে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, (বলো তো) আমি কে? সে বললঃ আপনি আল্লাহর রসূল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তুমি তাকে মুক্ত করে দাও, সে একজন মু’মিনাহ্ নারী। (ই.ফা. ১০৮০, ই.সে. ১০৮৮)
[৪] খাত্ত্বাবী (রহঃ) বলেন, সে নাবীর জন্য রেখা বিদ্যা ‘ইল্মে নবূওয়্যাতের একটা অংশ ছিল। হাদীসের মর্মানুসারে তার সাথে সামঞ্জস্য হতে হবে ‘ইল্মুল ইয়াকীন বা সুদৃঢ় অবগতির মাধ্যমে কোন ধারণার ভিত্তিতে নয়। আর এ শর্ত পাওয়া অসম্ভবপর বিধায় প্রকারান্তরে এটা হারামের হুকুমভুক্ত হয়েছে। এমনকি রেখা বিদ্যা মুবাহ হওয়া আমাদের শারী’আতে রহিত হয়ে গেছে- এ ব্যাপারে আলিমগণের ঐকমত্য রয়েছে। (শারহে মুসলিম-১ম খন্ড ২০৩ পৃষ্ঠা)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৮৭
হাদিস নং ১০৮৭
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসীর
একই সানাদে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১০৮১, ই.সে. ১০৮৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৮৮
হাদিস নং ১০৮৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ - وَأَلْفَاظُهُمْ مُتَقَارِبَةٌ - قَالُوا حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا نُسَلِّمُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ فَيَرُدُّ عَلَيْنَا فَلَمَّا رَجَعْنَا مِنْ عِنْدِ النَّجَاشِي سَلَّمْنَا عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْنَا فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ كُنَّا نُسَلِّمُ عَلَيْكَ فِي الصَّلاَةِ فَتَرُدُّ عَلَيْنَا . فَقَالَ " إِنَّ فِي الصَّلاَةِ شُغُلاً " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করতেন সে অবস্থায় আমরা তাঁকে সালাম দিলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জবাব দিতেন কিন্তু (হাবশায় হিজরাতের পর) নাজাশীর কাছ থেকে আমরা ফিরে এসে তাঁকে (সলাতরত অবস্থায়) সালাম দিলে তিনি জবাব দিলেন না। তখন (সলাত শেষে) আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আপনি সলাত আদায় করতেন এমন অবস্থায় আমরা আপনাকে সালাম দিলে তার জবাব দিতেন। (কিন্তু আজকে আমাদের সালামের জবাব দিলেন না!) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সলাতের মধ্যে নির্ধারিত করণীয় থাকে।[৫] (ই.ফা. ১০৮২, ই.সে. ১০৯০)
[৫] ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ সলাতরত অবস্থায় শব্দ বিনিময়ে সালামের জবাব দান নিষিদ্ব, তবে ইশারা দ্বারা জবাব্দান নিষিদ্ব নয়; বরং মুস্তাহাব। জাবির (রাঃ) -এর হাদীসে এর সাবিত রয়েছে। (শারহে মুসলিম-১ম খণ্ড ২০৪ পৃষ্ঠা)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৮৯
হাদিস নং ১০৮৯
حَدَّثَنِي ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ السَّلُولِيُّ، حَدَّثَنَا هُرَيْمُ بْنُ سُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ .
বর্ণনাকারী আ’মাশ (রহঃ)
একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১০৮৩, ই.সে. ১০৯১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৯০
হাদিস নং ১০৯০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ شُبَيْلٍ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ كُنَّا نَتَكَلَّمُ فِي الصَّلاَةِ يُكَلِّمُ الرَّجُلُ صَاحِبَهُ وَهُوَ إِلَى جَنْبِهِ فِي الصَّلاَةِ حَتَّى نَزَلَتْ { وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوتِ وَنُهِينَا عَنِ الْكَلاَمِ .
বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা সলাতরত অবস্থায় কথা বলতাম। লোকে সলাতরত অবস্থায় তার পাশে (সলাতে) দাঁড়ানো অপর ব্যক্তির সাথে কথা বলত। এরপর আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ (আরবি) “আর তোমরা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ অনুগত ও একনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়াও” – (সূরাহ্ আল বাকারাহ্ ২ : ২৩৮)। এ হুকুম অবতীর্ণ হওয়ার পর আমাদেরকে সলাতের মধ্যে চুপ থাকতে আদেশ দেয়া হলো এবং কথা বলতে নিষেধ করা হলো। (ই.ফা. ১০৮৪, ই.সে. ১০৯২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৯১
হাদিস নং ১০৯১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَوَكِيعٌ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، كُلُّهُمْ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .
বর্ণনাকারী ইসমা’ঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহঃ)
অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১০৮৫, ই.সে. ১০৯৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৯২
হাদিস নং ১০৯২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَنِي لِحَاجَةٍ ثُمَّ أَدْرَكْتُهُ وَهُوَ يَسِيرُ - قَالَ قُتَيْبَةُ يُصَلِّي - فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَأَشَارَ إِلَىَّ فَلَمَّا فَرَغَ دَعَانِي فَقَالَ " إِنَّكَ سَلَّمْتَ آنِفًا وَأَنَا أُصَلِّي " . وَهُوَ مُوَجِّهٌ حِينَئِذٍ قِبَلَ الْمَشْرِقِ .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনূ ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, এক সময়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে কোন একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখলাম সওয়ারীতে আরোহণ করে (নাফ্ল সলাত আদায়রত) অতিক্রম করেছেন। কুতায়বাহ্ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করছিলেন। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ বলেনঃ আমি (ফিরে আসার পর ঐ অবস্থায়) তাঁকে সালাম দিলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ইশারা করলেন (ইশারা দ্বারা সালামের জবাব দিলেন)। সলাত শেষ করে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ডেকে বললেনঃ তুমি এইমাত্র আমাকে সালাম দিয়েছ। তখন আমি সলাত আদায় করছিলাম। ঐ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পূর্ব দিকে মুখ করে ছিলেন। (ই.ফা. ১০৮৬, ই.সে. ১০৯৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৯৩
হাদিস নং ১০৯৩
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُنْطَلِقٌ إِلَى بَنِي الْمُصْطَلِقِ فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ يُصَلِّي عَلَى بَعِيرِهِ فَكَلَّمْتُهُ فَقَالَ لِي بِيَدِهِ هَكَذَا - وَأَوْمَأَ زُهَيْرٌ بِيَدِهِ - ثُمَّ كَلَّمْتُهُ فَقَالَ لِي هَكَذَا - فَأَوْمَأَ زُهَيْرٌ أَيْضًا بِيَدِهِ نَحْوَ الأَرْضِ - وَأَنَا أَسْمَعُهُ يَقْرَأُ يُومِئُ بِرَأْسِهِ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ " مَا فَعَلْتَ فِي الَّذِي أَرْسَلْتُكَ لَهُ فَإِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أُكَلِّمَكَ إِلاَّ أَنِّي كُنْتُ أُصَلِّي " . قَالَ زُهَيْرٌ وَأَبُو الزُّبَيْرِ جَالِسٌ مُسْتَقْبِلَ الْكَعْبَةِ فَقَالَ بِيَدِهِ أَبُو الزُّبَيْرِ إِلَى بَنِي الْمُصْطَلِقِ فَقَالَ بِيَدِهِ إِلَى غَيْرِ الْكَعْبَةِ .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, বানী মুস্ত্বালিক্ব গোত্রের দিকে যাওয়ার সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখলাম তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উটের পিঠে বসে সলাত আদায় করছেন। আমি তাঁকে বললাম (অর্থাৎ- যে কাজে পাঠিয়েছিলেন সে সম্পর্কে) কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে হাত দ্বারা এভাবে ইশারা করলেন। বর্ণনাকারী যুহায়র ইবনু হারয্ তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে [তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ] কিভাবে ইশারা করেছিলেন তা দেখালেন। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ বলেনঃ আমি তখন শুনেছিলাম রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু পড়ছেন এবং মাথা দ্বারা ইশারা করছেন। সলাত শেষ হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি তোমাকে যে জন্য পাঠিয়েছিলাম তার কি করেছ? আমি শুধু এ কারনে তোমার সাথে কথা বলিনি যে, আমি তখন সলাত আদায় করেছিলাম।হাদীসটির বর্ণনাকারী যুহ্য়র ইবনু হার্ব (রহঃ) বলেনঃ কথাগুলো বলার সময় আবুয্ যুবায়র কা’বার দিকে মুখ করে বসে ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি (আবুয্ যুবায়র) হাত দিয়ে ইশারা দেখাচ্ছিলেন তখন কা’বার দিকে মুখ না করে বানী মুস্তালিকের দিকে মুখ করে বলছিলেন। (ই.ফা. ১০৮৭, ই.সে. ১০৯৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৯৪
হাদিস নং ১০৯৪
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ كَثِيرٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَبَعَثَنِي فِي حَاجَةٍ فَرَجَعْتُ وَهُوَ يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ وَوَجْهُهُ عَلَى غَيْرِ الْقِبْلَةِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَىَّ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " إِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرُدَّ عَلَيْكَ إِلاَّ أَنِّي كُنْتُ أُصَلِّي " .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে ছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখতে পেলাম তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সওয়ারীর পিছে বসে কিবলাহ্ ছাড়া অন্যদিকে মুখ করে সলাত আদায় করছেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সালামের কোন জবাব দিলেন না। সলাত শেষ করে বললেনঃ আমি সলাত আদায় করছিলাম তাই তোমার সালামের কোন জবাব দিতে পারিনি। এছাড়া আর কিছুই আমাকে তোমার সালামের জবাব দেয়া থেকে বিরত রাখেনি। (ই.ফা. ১০৮৮, ই.সে. ১০৯৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৯৫
হাদিস নং ১০৯৫
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ شِنْظِيرٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَاجَةٍ . بِمَعْنَى حَدِيثِ حَمَّادٍ .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, (এক সময়ে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে কোন একটি কাজে পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনি হাম্মাদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ই.ফা. ১০৮৯, ই.সে. ১০৯৬)
৮. অধ্যায়ঃ
সলাতে শায়ত্বনকে লা’নাত করা, শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং ‘আমালে ক্বালীল’ (সামান্য কাজ) করা বৈধ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৯৬
হাদিস নং ১০৯৬
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - وَهُوَ ابْنُ زِيَادٍ - قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ عِفْرِيتًا مِنَ الْجِنِّ جَعَلَ يَفْتِكُ عَلَىَّ الْبَارِحَةَ لِيَقْطَعَ عَلَىَّ الصَّلاَةَ وَإِنَّ اللَّهَ أَمْكَنَنِي مِنْهُ فَذَعَتُّهُ فَلَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَرْبِطَهُ إِلَى جَنْبِ سَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ حَتَّى تُصْبِحُوا تَنْظُرُونَ إِلَيْهِ أَجْمَعُونَ - أَوْ كُلُّكُمْ - ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَ أَخِي سُلَيْمَانَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لاَ يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ بَعْدِي . فَرَدَّهُ اللَّهُ خَاسِئًا " . وَقَالَ ابْنُ مَنْصُورٍ شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ গত রাতে এক দুষ্ট জিন আমার সলাত নষ্ট করার জন্য আমার উপর আক্রমন করতে শুরু করল। তবে আল্লাহ তা’আলা আমাকে তাকে কাবু করার শক্তি দান করলেন। আমি তাকে গলা টিপে ধরেছিলাম। আমার ইচ্ছে হলো তাকে মাসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখি যাতে সকাল বেলা তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখনই আমার স্মরণ হল আমার ভাই নবী সুলায়মানের দু’আর কথা। তিনি (‘আঃ) দু’আ করেছিলেনঃ (আরবি) “হে প্রভু; তুমি আমাকে এমন রাজত্ব দান করো যা আমার পরে আর কার জন্য যেন না হয়”- (সূরাহ্ সোয়াদ ৩৮ : ৩৫)। (অর্থাৎ- জিন, বাতাস ও পশু-পাখির ওপর রাজত্ব করার ক্ষমতা। তাই আমি তাকে বেঁধে রাখা থেকে বিরত থাকলাম।) অতঃপর আল্লাহ তা’আলা জিনটিকে (আমার হাতে) লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিলেন। ইবনু মানসূর, শু’বাহ্, মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১০৯০,ই.সে. ১০৯৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৯৭
হাদিস নং ১০৯৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، هُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ ح قَالَ وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، كِلاَهُمَا عَنْ شُعْبَةَ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ ابْنِ جَعْفَرٍ قَوْلُهُ فَذَعَتُّهُ . وَأَمَّا ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ فَقَالَ فِي رِوَايَتِهِ فَدَعَتُّهُ .
বর্ণনাকারী শু’বাহ্ (রহঃ)
উপরোক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মুহাম্মাদ ইবনু জা’ফার বর্ণিত হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথা (আরবি) অর্থাৎ- “আমি তাকে গলা টিপে ধরেছিলাম” বর্ণিত হয়নি। আর আবূ বকর ইবনু আবূ শায়াবাহ্ বর্ণিত হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কথা (আরবি) বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ১০৯১, ই.স.১০৯৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৯৮
হাদিস নং ১০৯৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، يَقُولُ حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَمِعْنَاهُ يَقُولُ " أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ " . ثُمَّ قَالَ " أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللَّهِ " . ثَلاَثًا . وَبَسَطَ يَدَهُ كَأَنَّهُ يَتَنَاوَلُ شَيْئًا فَلَمَّا فَرَغَ مِنَ الصَّلاَةِ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ سَمِعْنَاكَ تَقُولُ فِي الصَّلاَةِ شَيْئًا لَمْ نَسْمَعْكَ تَقُولُهُ قَبْلَ ذَلِكَ وَرَأَيْنَاكَ بَسَطْتَ يَدَكَ . قَالَ " إِنَّ عَدُوَّ اللَّهِ إِبْلِيسَ جَاءَ بِشِهَابٍ مِنْ نَارٍ لِيَجْعَلَهُ فِي وَجْهِي فَقُلْتُ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قُلْتُ أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللَّهِ التَّامَّةِ فَلَمْ يَسْتَأْخِرْ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ أَرَدْتُ أَخْذَهُ وَاللَّهِ لَوْلاَ دَعْوَةُ أَخِينَا سُلَيْمَانَ لأَصْبَحَ مُوثَقًا يَلْعَبُ بِهِ وِلْدَانُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ " .
বর্ণনাকারী আবুদ্ দারদা (রাঃ)
তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করতে দাঁড়ালে আমরা শুনতে পেলাম, তিনি বলেছেনঃ (আরবি) “আউযু বিল্লা-হি মিন্কা” [অর্থাৎ- আমি তোমার (অনিষ্ট) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (আমরা শুনলাম) এরপর তিনি বলছেনঃ (আরবি) “আল্ ‘আনুকা বি লা’নাতিল্লা-হি” (অর্থাৎ-আমি তাকে লা’নাত করছি যেমন আল্লাহ লা’নাত করেছিলেন)। তিনি এ কথাগুলো তিনবার বললেন। এ সময় (যে সময় তিনি লা’নাত করছিলেন) তিনি হাত বাড়ালেন যেন কিছু ধরতে যাচ্ছেন। সলাত শেষ করলে আমরা তাঁকে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! (আজ) আমরা সলাতের মধ্যে আপনাকে এমন কিছু কথা বলতে শুনেছি যা ইতিপূর্বে আর কোন দিন বলতে শুনিনি। আর আমরা দেখলাম যে আপনি হাতও বাড়িয়ে দিলেন। (এর কারন কি?) তিনি বললেনঃ আল্লাহর দুশমন ইবলীশ আমার মুখের উপর নিক্ষেপ করার জন্য দগদগে অগ্নি-শিখা নিয়ে এসেছিল। তাই আমি তিনবারঃ (আরবি) বললাম। এরপর তিনবার (আরবি) বললাম। এ কথাটিও আমি তিনবার বললাম। কিন্তু তবু সে পিছু হটল না। অবশেষে আমি তাকে পাকড়াও করতে ইচ্ছা করলাম | আল্লাহ্র শপথ করে বলছি, আমাদের ভাই নবী সুলায়মান যদি দু’আ না করে থাকতেন তাহলে সে সকাল পর্যন্ত বাঁধা থাকত। আর সকালবেলা মাদীনাবাসীদের ছেলে সন্তানেরা তাকে নিয়ে আনন্দ করত বা মজা করে খেলত। (ই.ফা. ১০৯২, ই.সে. ১১০০)
৯. অধ্যায়ঃ
সলাতের শিশুদেরকে কাঁধে উঠানো যায়
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১০৯৯
হাদিস নং ১০৯৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قُلْتُ لِمَالِكٍ حَدَّثَكَ عَامِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي وَهُوَ حَامِلٌ أُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلأَبِي الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيعِ فَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا وَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِكٌ نَعَمْ .
বর্ণনাকারী আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতরত অবস্থায় তাঁর নাতনী আবুল ‘আস ইবনুর রাবী –এর ঔরশজাত কন্যা উমামাহ্ বিনতু যায়নাবকে কাঁধে উঠিয়ে সলাত আদায় করেছিলেন। তিনি যখন দাঁড়াচ্ছিলেন তাকে (উমামাহ্ বিনতু যায়নাবকে) উঠিয়ে নিচ্ছিলেন। আবার যখন সাজদাতে যাচ্ছিলেন তখন নামিয়ে রাখছিলেন। ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়াহ্ইয়া বলেন, (আমি এ হাদীসটি সম্পর্কে মালিককে জিজ্ঞেস করলে) মালিক বলেনঃ হ্যাঁ। (ই.ফা. ১০৯৩, ই.সে. ১১০১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১০০
হাদিস নং ১১০০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، وَابْنِ، عَجْلاَنَ سَمِعَا عَامِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، يُحَدِّثُ عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَؤُمُّ النَّاسَ وَأُمَامَةُ بِنْتُ أَبِي الْعَاصِ وَهْىَ ابْنَةُ زَيْنَبَ بِنْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى عَاتِقِهِ فَإِذَا رَكَعَ وَضَعَهَا وَإِذَا رَفَعَ مِنَ السُّجُودِ أَعَادَهَا .
বর্ণনাকারী আবূ ক্বাতাদাহ্ আল আনসারী (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে দেখেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতে লোকদের ইমামতি করছেন আর তাঁর নাতনী আবুল ‘আস ইবনুর রাবী’-এর ঔরসজাত কন্যা উমামাহ্-কে (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কন্যা যায়নাবের গর্ভজাত মেয়ে) তাঁর কাধের উপর রেখে ইমামতি করতে দেখেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রুকু‘তে যাচ্ছেন তখন তাকে (কাঁধ থেকে) নামিয়ে রাখছেন, আবার সাজদাহ্ থেকে উঠার পড় পুনরায় কাঁধে উঠিয়ে নিচ্ছেন। (ই.ফা. ১০৯৪, ই.সে. ১১০২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১০১
হাদিস নং ১১০১
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ بُكَيْرٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا قَتَادَةَ الأَنْصَارِيَّ، يَقُولُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي لِلنَّاسِ وَأُمَامَةُ بِنْتُ أَبِي الْعَاصِ عَلَى عُنُقِهِ فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا .
বর্ণনাকারী আবূ ক্বাতাদাহ্ আল আনসারী (রাঃ)
তিনি বলেছেন, আমি দেখেছি, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতে লোকদের ইমামতি করছেন আর (তাঁর নাতনী) আবুল ‘আস্ ইবনু রাবী’-এর কন্যা উমামাহ্ (বিনতু যায়নাব) তাঁর কাঁধে বসে আছে। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাজদাহ্ করার সময় তাকে নামিয়ে রাখছেন। (ই.ফা. ১০৯৫, ই.সে. ১১০৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১০২
হাদিস নং ১১০২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، جَمِيعًا عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، سَمِعَ أَبَا قَتَادَةَ، يَقُولُ بَيْنَا نَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ جُلُوسٌ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . بِنَحْوِ حَدِيثِهِمْ غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ أَنَّهُ أَمَّ النَّاسَ فِي تِلْكَ الصَّلاَةِ .
বর্ণনাকারী আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেছেন, আমরা মাসজিদে বসেছিলাম এমন সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে আসলেন। এরপর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐ সলাতে ইমামতি করছেন সে কথা তিনি এ হাদীসে উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ১০৯৬, ই.সে. ১১০৪)
১০.অধ্যায়ঃ
সলাতে প্রয়োজনবশতঃ দু’ এক কদম চলা যায়
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১০৩
হাদিস নং ১১০৩
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، كِلاَهُمَا عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ نَفَرًا، جَاءُوا إِلَى سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَدْ تَمَارَوْا فِي الْمِنْبَرِ مِنْ أَىِّ عُودٍ هُوَ فَقَالَ أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْرِفُ مِنْ أَىِّ عُودٍ هُوَ وَمَنْ عَمِلَهُ وَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوَّلَ يَوْمٍ جَلَسَ عَلَيْهِ - قَالَ - فَقُلْتُ لَهُ يَا أَبَا عَبَّاسٍ فَحَدِّثْنَا . قَالَ أَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى امْرَأَةٍ قَالَ أَبُو حَازِمٍ إِنَّهُ لَيُسَمِّيهَا يَوْمَئِذٍ " انْظُرِي غُلاَمَكِ النَّجَّارَ يَعْمَلْ لِي أَعْوَادًا أُكَلِّمُ النَّاسَ عَلَيْهَا " . فَعَمِلَ هَذِهِ الثَّلاَثَ دَرَجَاتٍ ثُمَّ أَمَرَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوُضِعَتْ هَذَا الْمَوْضِعَ فَهْىَ مِنْ طَرْفَاءِ الْغَابَةِ . وَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ عَلَيْهِ فَكَبَّرَ وَكَبَّرَ النَّاسُ وَرَاءَهُ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ ثُمَّ رَفَعَ فَنَزَلَ الْقَهْقَرَى حَتَّى سَجَدَ فِي أَصْلِ الْمِنْبَرِ ثُمَّ عَادَ حَتَّى فَرَغَ مِنْ آخِرِ صَلاَتِهِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ " يَا أُيُّهَا النَّاسُ إِنِّي صَنَعْتُ هَذَا لِتَأْتَمُّوا بِي وَلِتَعَلَّمُوا صَلاَتِي " .
বর্ণনাকারী আবু হাযিম (রহঃ)
তিনি (আবূ হাযিম) বলেছেনঃ সাহ্ল ইবনু সা’দ-এর কাছে একদল লোক আসল এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মিম্বার কী কাঠের তৈরি তা নিয়ে ঝগড়া করতে শুরু করল। তখন সাহ্ল ইবনু সা’দ বললেন, আল্লাহর সপথ করে বলছিঃ মিম্বার কী কাঠের তৈরি ছিল এবং কে তা তৈরি করেছিল। তা আমি জানি। আর প্রথম যেদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উক্ত মিম্বারের উপর বসেছিলেন সেদিন আমি তাঁকে দেখেছিলাম। আবূ হাযিম বলেন, আমি তখন তাকে বললামঃ হে আবূ ‘আব্বাস (সাহল ইবনু সা’দ) ! বিষয়টি আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন একজন মহিলাকে বলে পাঠালেন যে, তোমার কাঠ-মিস্ত্রি গোলামকে বল সে আমাকে কিছু কাষ্ঠ-অর্থাৎ কাষ্ঠ-নির্মিত আসন তৈরি করে দিক। এর উপরে উঠে আমি মানুষের সামনে বক্তব্য পেশ করব। সে সময় আবূ হাযিম উক্ত মহিলার নামও উল্ল্যেখ করেছিলেন। সুতরাং ঐ মহিলার গোলাম এ তিন স্তর বিশিষ্ট মিম্বরটি তৈরি করে দিয়েছিল | আসনটি ছিল (মাদীনার) গাবাহ্ নামক বনের বন্য- ঝাউ কাঠ দিয়ে তৈরি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলে তা এ স্থানে (মাসজিদে) স্থাপন করা হলো। সাহল্ ইবনু সা’দ বলেনঃ আমি দেখলাম রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর উপর উঠে দাঁড়ালেন এবং তাকবীর বললেন সলাতের জন্য। তাঁর সাথে সাথে লোকেরাও তাকবীর বলল। এ সময় তিনি মিম্বর এর উপর ছিলেন। এরপর তিনি রুকু’ থেকে মাথা উঠালেন এবং পিছনের দিকে হেঁটে মিম্বার থেকে নামলেন এবং মিম্বারের গোড়াতেই (পাশেই) সাজদাহ্ করলেন। এরপর আবার গিয়ে মিম্বারে উঠলেন এবং এভাবে সলাত শেষ করে লোকদের দিকে ঘুরে বললেনঃ হে লোকজন; আমি এরূপ এজন্য করলাম যাতে তোমরা আমাকে অনুসরণ করতে পারো এবং আমি কিভাবে সলাত আদায় করি তা শিখে নিতে পার। (ই.ফা. ১০৯৭, ই.সে. ১১০৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১০৪
হাদিস নং ১১০৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيُّ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، أَنَّ رِجَالاً، أَتَوْا سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ ح قَالَ وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ أَتَوْا سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ فَسَأَلُوهُ مِنْ أَىِّ شَىْءٍ مِنْبَرُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَسَاقُوا الْحَدِيثَ نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ أَبِي حَازِمٍ .
বর্ণনাকারী আবূ হাযিম (রহঃ)
আবূ হাযিম বলেছেনঃ কিছু সংখ্যক লোক সাহ্ল ইবনু সা’দ-এর কাছে আসলো। (অন্য সানদে) আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্, যুহায়র ইবনু হার্ব ও ইবনু আবূ ‘উমার সুফ্ইয়ান ইবনু ‘উয়াইনাহ্-এর মাধ্যমে আবূ হাযিম থেকে বর্ণনা করেছেন। আবূ হাযিম বলেছেন যে , তারা সাহ্ল ইবনু সা’দ-এর কাছে এসে তাকে জিজ্ঞেস করল, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মিম্বার তৈরি ছিল? এতুকু বর্ণনা করার পর ইবনু আবূ হাযিম পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। (ই.ফা. ১০৯৮, ই.সে. ১১০৬)
১১. অধ্যায়ঃ
কোমরে হাত রেখে সলাত আদায় করা মাকরূহ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১০৫
হাদিস নং ১১০৫
وَحَدَّثَنِي الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى الْقَنْطَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ جَمِيعًا عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى أَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ مُخْتَصِرًا . وَفِي رِوَايَةِ أَبِي بَكْرٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাউকে কোমরে হাত রেখে সলাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। আর আবূ বকরের বর্ণনায় ‘নাবী’ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পরিবর্তে ‘রসূলুল্লাহ’ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শব্দ উল্লেখ আছে , তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাউকে কোমরে হাত রেখে সলাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। (ই.ফা. ১০৯৯, ই.সে. ১১০৭)
১২. অধ্যায়ঃ
সলাতে কঙ্কর সরানো এবং মাটি সমান করা মাকরূহ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১০৬
হাদিস নং ১১০৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ مُعَيْقِيبٍ، قَالَ ذَكَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَسْحَ فِي الْمَسْجِدِ - يَعْنِي الْحَصَى - قَالَ " إِنْ كُنْتَ لاَ بُدَّ فَاعِلاً فَوَاحِدَةً " .
বর্ণনাকারী মু’আয়ক্বীব (রাঃ)
তিনি বলেন, মাসজিদের মধ্যে অর্থাৎ- সলাতরত অবস্থায় পাথর-টুকরা সরানো সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলোচনা করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যদি তোমাকে এরুপ (পাথর-টুকরা সরানোর কাজ) করতেই হয়, তাহলে একবার মাত্র করতে পার। (ই.ফা. ১১০০, ই.সে. ১১০৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১০৭
হাদিস নং ১১০৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ مُعَيْقِيبٍ، أَنَّهُمْ سَأَلُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمَسْحِ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ " وَاحِدَةٌ "
বর্ণনাকারী মু’আয়ক্বীব (রাঃ)
তিনি বলেন, অন্যান্যদের সলাতরত অবস্থায় পাথর টুকরা সরানো সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করছিলেন। জবাবে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছিলেনঃ একবার মাত্র সরাতে পার। (ই.ফা. ১১০১, ই.সে ১১০৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১০৮
হাদিস নং ১১০৮
وَحَدَّثَنِيهِ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا هِشَامٌ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَقَالَ فِيهِ حَدَّثَنِي مُعَيْقِيبٌ، ح
বর্ণনাকারী হিশাম (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ সানাদে বলা হয়েছে যে, আমার নিকট মু’আইক্বীব বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১১০২, ই.সে ১১১০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১০৯
হাদিস নং ১১০৯
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي مُعَيْقِيبٌ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي الرَّجُلِ يُسَوِّي التُّرَابَ حَيْثُ يَسْجُدُ قَالَ " إِنْ كُنْتَ فَاعِلاً فَوَاحِدَةً " .
বর্ণনাকারী মু’আয়ক্বীব (রহঃ)
(তিনি বলেছেন) রাসুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক ব্যক্তিকে সলাতরত অবস্থায় সাজদার জায়গায় (থেকে পাথর-টুকরা ইত্যাদি সরিয়ে) সমান করতে দেখে বললেনঃ তোমাকে যদি এরুপ (পাথর-টুকরা ইত্যাদি সরিয়ে সাজদার জায়গায় সমান) করতেই হয় তাহলে মাত্র একবারের জন্য করতে পার। (ই.ফা. ১১০২, ই.সে ১১১১)
১৩. অধ্যায়ঃ
সলাতে হোক বা সলাতের বাইরে মাসজিদে থুথু নিক্ষেপ করা নিষিদ্ধ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১১০
হাদিস নং ১১১০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى بُصَاقًا فِي جِدَارِ الْقِبْلَةِ فَحَكَّهُ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ " إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي فَلاَ يَبْصُقْ قِبَلَ وَجْهِهِ فَإِنَّ اللَّهَ قِبَلَ وَجْهِهِ إِذَا صَلَّى " .
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, (একদিন) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদের ক্বিবলার দিকে দেয়ালে কাশি লেগে থাকা দেখতে পেলেন। তিনি নখ দিয়ে আঁচড়ে আঁচড়ে উঠালেন। এরপর লোকদের সামনে গিয়ে বললেনঃ তোমরা কেউ যখন সলাত আদায় করো তখন সামনের দিকে থুথু নিক্ষেপ করো না। কারণ কেউ যখন সলাত আদায় করে তখন তার সম্মুখে থাকেন। (ই.ফা. ১১০৩, ই.সে ১১১২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১১১
হাদিস নং ১১১১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي جَمِيعًا، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عُلَيَّةَ - عَنْ أَيُّوبَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، أَخْبَرَنَا الضَّحَّاكُ، - يَعْنِي ابْنَ عُثْمَانَ ح وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، كُلُّهُمْ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ رَأَى نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ . إِلاَّ الضَّحَّاكَ فَإِنَّ فِي حَدِيثِهِ نُخَامَةً فِي الْقِبْلَةِ . بِمَعْنَى حَدِيثِ مَالِكٍ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেছেনঃ (একদিন) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদের ক্বিবলাতে কাশি বা শিকনি দেখতে পেলেন কথাটা উল্লেখিত হয়েছে। এরপর তারা মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১১০৪, ই.সে ১১১৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১১২
হাদিস নং ১১১২
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَمْرٌو النَّاقِدُ جَمِيعًا عَنْ سُفْيَانَ، - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ فَحَكَّهَا بِحَصَاةٍ ثُمَّ نَهَى أَنْ يَبْزُقَ الرَّجُلُ عَنْ يَمِينِهِ أَوْ أَمَامَهُ وَلَكِنْ يَبْزُقُ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ الْيُسْرَى .
বর্ণনাকারী আবু সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
(তিনি বলেছেন:) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্বিবলায় (ক্বিবলার দিকের দেয়ালে গায়ে) কাশি বা থুথু লেগে আছে দেখতে পেলেন। তিনি একটি পাথরের টুকরা দ্বারা ঘষে ঘষে তা উঠিয়ে ফেললেন। এরপর মাসজিদের মধ্যে তিনি কাউকে ডান দিকে কিংবা সামনের দিকে থুথু নিক্ষেপ করতে নিষেধ করলেন এবং বললেনঃ (থুথু নিক্ষেপ প্রয়োজন হলে) সে যেন বা পায়ের নিচে নিক্ষেপ করে। (ই.ফা. ১১০৫, ই.সে ১১১৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১১৩
হাদিস নং ১১১৩
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي كِلاَهُمَا، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، وَأَبَا، سَعِيدٍ أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى نُخَامَةً . بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ عُيَيْنَةَ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ ও আবূ সা’ঈদ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থুথু বা কাশি দেখতে পেলেন। (অবশিষ্ট) ‘উয়াইনাহ্ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ই.ফা. ১১০৬, ই.সে ১১১৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১১৪
হাদিস নং ১১১৪
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى بُصَاقًا فِي جِدَارِ الْقِبْلَةِ أَوْ مُخَاطًا أَوْ نُخَامَةً فَحَكَّهُ .
বর্ণনাকারী আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, (একদিন) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্বিবলার দেয়ালে (মাসজিদের ক্বিবলার দিকের দেয়ালে গাত্রে) থুথু অথবা শ্লেষ্মা অথবা কাশি দেখতে পেলেন এবং ঘষে ঘষে তা উঠিয়ে ফেললেন। (ই.ফা. ১১০৭, ই.সে ১১১৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১১৫
হাদিস নং ১১১৫
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ فَأَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ " مَا بَالُ أَحَدِكُمْ يَقُومُ مُسْتَقْبِلَ رَبِّهِ فَيَتَنَخَّعُ أَمَامَهُ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يُسْتَقْبَلَ فَيُتَنَخَّعَ فِي وَجْهِهِ فَإِذَا تَنَخَّعَ أَحَدُكُمْ فَلْيَتَنَخَّعْ عَنْ يَسَارِهِ تَحْتَ قَدَمِهِ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيَقُلْ هَكَذَا " . وَوَصَفَ الْقَاسِمُ فَتَفَلَ فِي ثَوْبِهِ ثُمَّ مَسَحَ بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ .
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)
(তিনি বলেছেন) , রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন মাসজিদের ক্বিবলার দিকে (ক্বিবলার দিকে দেয়ালে) থুথু দেখতে পেলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন লোকদের কাছে এসে বললেনঃ তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা কেউ তার প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে থুথু নিক্ষেপ করে। কেউ তোমাদের মুখের উপর দাঁড়িয়ে মুখের উপর থুথু নিক্ষেপ করুক এটা কি তোমরা পছন্দ করবে? তোমাদের কাউকে (মাসজিদে) থুথু নিক্ষেপ করতে হলে সে যেন বাঁ দিকে পায়ের নিচে থুথু নিক্ষেপ করে। আর যদি এরুপ করার অবকাশ না পায় তাহলে যেন এরূপ করে। ক্বাসিম ইবনু ইবরাহীম তা এভাবে করে দেখিয়ে দিলেন যে, তিনি কাপড়ে থুথু ফেললেন এবং কাপড়খানা ঘষলেন। (ই.ফা. ১১০৮, ই.সে ১১১৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১১৬
হাদিস নং ১১১৬
وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، كُلُّهُمْ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ عُلَيَّةَ وَزَادَ فِي حَدِيثِ هُشَيْمٍ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرُدُّ ثَوْبَهُ بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে ইবনু ‘উলাইয়্যাহ্ বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে হুশায়ম বর্ণিত হাদীসে কতটুকু কথা অতিরিক্ত আছে, আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বললেনঃ আমি যেন এখনো দেখতে পাচ্ছি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাপড় ঘষছেন। (ই.ফা. ১১০৯, ই.সে ১১১৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১১৭
হাদিস নং ১১১৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَإِنَّهُ يُنَاجِي رَبَّهُ فَلاَ يَبْزُقَنَّ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ وَلَكِنْ عَنْ شِمَالِهِ تَحْتَ قَدَمِهِ " .
বর্ণনাকারী .আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা কেউ যখন সলাত আদায় করো তখন যেন সে তার রব বা প্রভুর সাথে কানে কথা বলে। সুতরাং সে যেন সামনে বা ডান দিকে থুথু নিক্ষেপ না করে। বরং বাঁ দিকে বাঁ পায়ের নীচে থুথু নিক্ষেপ করে। (ই.ফা. ১১১০, ই.সে ১১১৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১১৮
হাদিস নং ১১১৮
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ، قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْبُزَاقُ فِي الْمَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا " .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মাসজিদের মধ্যে থুথু ফেলা পাপের কাজ। আর ঐ থুথু মাটিতে পুঁতে দেয়াই এর কাফফারাহ্। (ই.ফা. ১১১১, ই.সে ১১২০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১১৯
হাদিস নং ১১১৯
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَأَلْتُ قَتَادَةَ عَنِ التَّفْلِ، فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " التَّفْلُ فِي الْمَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا " .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন মাসজিদের মধ্যে থুথু ফেলা পাপের কাজ। আর তা পুঁতে ফেলা হলো এর কাফফারাহ্। (ই.ফা. ১১১২, ই.সে ১১২১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১২০
হাদিস নং ১১২০
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ الضُّبَعِيُّ، وَشَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا وَاصِلٌ، مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ عُقَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ الدِّيلِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عُرِضَتْ عَلَىَّ أَعْمَالُ أُمَّتِي حَسَنُهَا وَسَيِّئُهَا فَوَجَدْتُ فِي مَحَاسِنِ أَعْمَالِهَا الأَذَى يُمَاطُ عَنِ الطَّرِيقِ وَوَجَدْتُ فِي مَسَاوِي أَعْمَالِهَا النُّخَاعَةَ تَكُونُ فِي الْمَسْجِدِ لاَ تُدْفَنُ " .
বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমার উম্মাতের সমস্ত ‘আমাল বা কাজ-কর্ম (ভাল-মন্দ উভয়ই) আমার সামনে পেশ করা হয়েছিল। আমি দেখলাম তাদের সমস্ত উত্তম কাজের মধ্যে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দুরীকরণও একটা উত্তম কাজ। আর আমি এও দেখলাম যে, তাদের খারাপ ‘আমালের মধ্যে রয়েছে মাসজিদের মধ্যে কাশি বা থুথু ফেলা এবং তা মিটিয়ে না ফেলা। (ই.ফা. ১১১৩, ই.সে ১১২২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১২১
হাদিস নং ১১২১
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا كَهْمَسٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَيْتُهُ تَنَخَّعَ فَدَلَكَهَا بِنَعْلِهِ .
বর্ণনাকারী ’আবদুল্লাহ ইবনু শিখখীর (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পিছনে সলাত আদায় করেছি। আমি দেখলাম তিনি কাশি ফেলে তা জুতা দিয়ে ঘষে (মাটির সাথে মিশিয়ে) দিলেন। (ই.ফা. ১১১৪, ই.সে ১১২৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১২২
হাদিস নং ১১২২
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ، يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَتَنَخَّعَ فَدَلَكَهَا بِنَعْلِهِ الْيُسْرَى .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু শিখখীর (রাঃ)
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সলাত আদায় করেছেন। তিনি দেখেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাশি ফেলেছেন এবং তা বাঁ পায়ের জুতা দিয়ে ঘষে দিয়েছেন। (ই.ফা. ১১১৫, ই.সে ১১২৪)
১৪.অধ্যায়ঃ
জুতা পরিধান করে সলাত আদায় করা বৈধ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১২৩
হাদিস নং ১১২৩
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ أَبِي مَسْلَمَةَ، سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ قُلْتُ لأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي النَّعْلَيْنِ قَالَ نَعَمْ .
বর্ণনাকারী আবূ মাসলামাহ্ সা’ঈদ ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) -কে জিজ্ঞাস করলামঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি জুতা পরে সলাত আদায় করতেন? জবাবে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। (ই.ফা. ১১১৬, ই.সে ১১২৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১২৪
হাদিস নং ১১২৪
حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَزِيدَ أَبُو مَسْلَمَةَ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسًا . بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী আবূ মাসলামাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেছেন, আনাস (ইবনু মালিক) (রাঃ) -কে অনুরূপ জিজ্ঞাস করলাম। (ই.ফা. ১১১৭, ই.সে ১১২৬)
১৫. অধ্যায়ঃ
নকশা বিশিষ্ট কাপড়ে সলাত আদায় করা মাকরূহ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১২৫
হাদিস নং ১১২৫
حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ - قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي خَمِيصَةٍ لَهَا أَعْلاَمٌ وَقَالَ " شَغَلَتْنِي أَعْلاَمُ هَذِهِ فَاذْهَبُوا بِهَا إِلَى أَبِي جَهْمٍ وَائْتُونِي بِأَنْبِجَانِيِّهِ " .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একখানা নকশা অঙ্কিত কাপড়ের মধ্যে সলাত আদায় করলেন এবং (সলাত শেষে) বললেন, এ কাপড়ের নকশা ও কারুকার্য আমার মনোযোগ আকর্ষণ করে নিয়েছে। এটা নিয়ে আবূ জাহম-এর কাছে যাও এবং তার সাদামাটা মোটা চাদরখানা আমাকে এনে দাও। (ই.ফা. ১১১৮, ই.সে ১১২৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১২৬
হাদিস নং ১১২৬
حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي خَمِيصَةٍ ذَاتِ أَعْلاَمٍ فَنَظَرَ إِلَى عَلَمِهَا فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ قَالَ " اذْهَبُوا بِهَذِهِ الْخَمِيصَةِ إِلَى أَبِي جَهْمِ بْنِ حُذَيْفَةَ وَائْتُونِي بِأَنْبِجَانِيِّهِ فَإِنَّهَا أَلْهَتْنِي آنِفًا فِي صَلاَتِي " .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একখানা নকশা ও কারুকার্য করা চাদরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। সলাতের মধ্যে তিনি এর নকশার প্রতি দেখতে থাকেলন। (অর্থাৎ--কাপড়খানার নকশা ও কারুকার্য সলাতে তার একাগ্রতা নষ্ট করে দিলো।) তাই সলাত শেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ চাদরখানা নিয়ে আবূ জাহম ইবনু হুযায়ফাহ-এর কাছে যাও। আর আমাকে তার কম্বলখানা এনে দাও। কারণ এ চাদরখানা এখন সলাতের মধ্যে আমাকে অন্যমনস্ক করে ফেলছে। (ই.ফা. ১১১৯, ই.সে ১১২৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১২৭
হাদিস নং ১১২৭
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ لَهُ خَمِيصَةٌ لَهَا عَلَمٌ فَكَانَ يَتَشَاغَلُ بِهَا فِي الصَّلاَةِ فَأَعْطَاهَا أَبَا جَهْمٍ وَأَخَذَ كِسَاءً لَهُ أَنْبِجَانِيًّا .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
(তিনি বলেছেনঃ ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর একখানা নক্শা করা চাদর ছিল। এ চাদর পরে সলাত আদায় করতে তাঁর মন সেদিকে আকৃষ্ট হত। সুতরাং তিনি উক্ত চাদর আবূ জাহ্মকে দিয়ে তাঁর সাদামাটা চাদরখানা নিলেন। (ই.ফা. ১১২০, ই.সে. ১১২৯)
১৬. অধ্যায়ঃ
ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাবার সামনে আসলে এবং তৎক্ষণাৎ খাবার ইচ্ছা থাকলে তা না খেয়ে ও পেশাব-পায়খানার বেগ চেপে রেখে সলাত আদায় করা মাকরূহ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১২৮
হাদিস নং ১১২৮
أَخْبَرَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا حَضَرَ الْعَشَاءُ وَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَابْدَءُوا بِالْعَشَاءِ " .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রাতের খাবার উপস্থিত থাকবে, এমন অবস্থায় যদি সলাতের ইক্বামাতও দেয়া হয় তাহলে প্রথমে খাবার খেয়ে নিবে। (ই.ফা. ১১২১, ই.সে. ১১৩০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১২৯
হাদিস নং ১১২৯
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قُرِّبَ الْعَشَاءُ وَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَابْدَءُوا بِهِ قَبْلَ أَنْ تُصَلُّوا صَلاَةَ الْمَغْرِبِ وَلاَ تَعْجَلُوا عَنْ عَشَائِكُمْ " .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ খাবার যদি সামনে হাজির করা হয় আর মাগরিবের সলাতের সময় হয়ে গেলেও সলাত আদায়ের পূর্বেই খাবার খেয়ে নিবে। খাবার রেখে সলাতের জন্য ব্যস্ত হয়ো না। (ই.ফা. ১১২২, ই.সে. ১১৩১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৩০
হাদিস নং ১১৩০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، وَحَفْصٌ، وَوَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ عُيَيْنَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আনাস (রাঃ) বর্ণিত আনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১১২৩, ই.সে. ১১৩২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৩১
হাদিস নং ১১৩১
حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، قَالَ وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا وُضِعَ عَشَاءُ أَحَدِكُمْ وَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَابْدَءُوا بِالْعَشَاءِ وَلاَ يَعْجَلَنَّ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْهُ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কারো সামনে রাতের খাবার এসে গিয়েছে সলাতের ইক্বামাত হয়ে গিয়েছে। এমন অবস্থা হলে সে খাবার দিয়েই শুরু করবে। (অর্থাৎ- প্রথমে খাবার খেয়ে নিবে) আবার খাবার খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সলাতের জন্য ব্যস্ত হবে না। (ই.ফা. ১১২৪, ই.সে. ১১৩৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৩২
হাদিস নং ১১৩২
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمُسَيَّبِيُّ، حَدَّثَنِي أَنَسٌ، - يَعْنِي ابْنَ عِيَاضٍ - عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ مَسْعَدَةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا الصَّلْتُ بْنُ مَسْعُودٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ مُوسَى، عَنْ أَيُّوبَ، كُلُّهُمْ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১১২৫, ই.সে. ১১৩৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৩৩
হাদিস নং ১১৩৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - هُوَ ابْنُ إِسْمَاعِيلَ - عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَتِيقٍ، قَالَ تَحَدَّثْتُ أَنَا وَالْقَاسِمُ، عِنْدَ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - حَدِيثًا وَكَانَ الْقَاسِمُ رَجُلاً لَحَّانَةً وَكَانَ لأُمِّ وَلَدٍ فَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ مَا لَكَ لاَ تَحَدَّثُ كَمَا يَتَحَدَّثُ ابْنُ أَخِي هَذَا أَمَا إِنِّي قَدْ عَلِمْتُ مِنْ أَيْنَ أُتِيتَ . هَذَا أَدَّبَتْهُ أُمُّهُ وَأَنْتَ أَدَّبَتْكَ أُمُّكَ - قَالَ - فَغَضِبَ الْقَاسِمُ وَأَضَبَّ عَلَيْهَا فَلَمَّا رَأَى مَائِدَةَ عَائِشَةَ قَدْ أُتِيَ بِهَا قَامَ . قَالَتْ أَيْنَ قَالَ أُصَلِّي . قَالَتِ اجْلِسْ . قَالَ إِنِّي أُصَلِّي . قَالَتِ اجْلِسْ غُدَرُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ صَلاَةَ بِحَضْرَةِ الطَّعَامِ وَلاَ وَهُوَ يُدَافِعُهُ الأَخْبَثَانِ " .
বর্ণনাকারী ইবনু আবূ 'আতীক্ব ('আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু 'আবদুর রহ্মান ইবনু আবূ বকর) (রাঃ)
তিনি বলেন, (একদিন) আমি এবং ক্বাসিম (ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বকর) 'আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর কাছে একটি হাদীস বর্ণনা করলাম। তবে ক্বাসিম বর্ণনায় অধিক ভুল-ত্রুটি করতেন। তিনি ছিলেন উম্মু ওয়ালাদ বা দাসীর পুত্র। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) তাকে বললেনঃ কি ব্যাপার ! আমার এ ভাতিজা 'আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু 'আবদুর রহ্মান ইবনু আবূ বকর যেভাবে বর্ণনা করছে সেভাবে বর্ণনা করছ না কেন? তবে আমি জানি এরূপ কি করে হয়েছে। 'আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদকে শিক্ষা দিয়েছে, তার মা (যিনি স্বাধীনা) আর তোমাকে তোমার মা (যিনি ক্রীতদাসী ছিলেন) শিক্ষা দিয়েছে। একথা শুনে ক্বাসিম ইবনু মুহাম্মাদ রাগান্বিত হয়ে উঠলেন এবং 'আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর প্রতি তীব্র ঘৃণা বিদ্বেষ প্রকাশ করলেন। এরপর আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর খাবার (দস্তরখানা) আসা (প্রস্তুতি) দেখে উঠে দাঁড়ালেন। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ কোথা যাচ্ছ? তিনি (ক্বাসিম ইবনু মুহাম্মাদ) বললেন, আমি সলাত আদায় করব। আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেনঃ বসো, অকৃতজ্ঞ কোথাকার। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি খাবার হাজির হলে কোন সলাত আদায় চলবে না। কিংবা পায়খানা-পেশাবের বেগ নিয়ে সলাত আদায় চলবে না। (ই.ফা. ১১২৬, ই.সে. ১১৩৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৩৪
হাদিস নং ১১৩৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - أَخْبَرَنِي أَبُو حَزْرَةَ الْقَاصُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عَتِيقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِي الْحَدِيثِ قِصَّةَ الْقَاسِمِ .
বর্ণনাকারী 'আয়িশাহ্ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে তিনি ক্বাসিম ইবনু মুহাম্মাদ সম্পর্কিত ঘটনাটি বর্ণনা করেননি। (ই.ফা. ১১২৭, ই.সে. ১১৩৬)
১৭. অধ্যায়ঃ
রসুন, পিঁয়াজ, মুলা অথবা এ জাতীয় (দুর্গন্ধযুক্ত) দ্রব্য আহার করে (মাসজিদে প্রবেশ) নিষিদ্ধ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৩৫
হাদিস নং ১১৩৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - وَهُوَ الْقَطَّانُ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي غَزْوَةِ خَيْبَرَ " مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ - يَعْنِي الثُّومَ - فَلاَ يَأْتِيَنَّ الْمَسَاجِدَ " . قَالَ زُهَيْرٌ فِي غَزْوَةٍ . وَلَمْ يَذْكُرْ خَيْبَرَ .
বর্ণনাকারী 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বার যুদ্ধের সময় বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এসব গাছের কোন একটি খায় অর্থাৎ- রসুন বা অনুরূপ স্বাদ ও গন্ধের কোন কিছু খায় [১] সে যেন মাসজিদে না আসে।যুহায়রতার বর্ণনাতে "কোন একটি যুদ্ধের কথা উল্লেখ" করেছেন। তিনি খায়বার যুদ্ধের নাম উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ১১২৮, ই.সে. ১১৩৭)
[১] বিড়ি, সিগারেট ও তামাক জাতীয় সব বস্তু হারাম; আর তাতে রয়েছে উৎকৃষ্ট দুর্গন্ধ- যা পরিত্যাগ করা প্রত্যেক মুসল্লীর অত্যাবশ্যক।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৩৬
হাদিস নং ১১৩৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الْبَقْلَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسَاجِدَنَا حَتَّى يَذْهَبَ رِيحُهَا " . يَعْنِي الثُّومَ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ এসব সব্জি অর্থাৎ- রসুন ইত্যাদি খেলে (মুখ থেকে) তার গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত সে যেন আমার মাসজিদের কাছে না আসে। (ই.ফা. ১১২৯, ই.সে. ১১৩৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৩৭
হাদিস নং ১১৩৭
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عُلَيَّةَ - عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، - وَهُوَ ابْنُ صُهَيْبٍ - قَالَ سُئِلَ أَنَسٌ عَنِ الثُّومِ، فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّا وَلاَ يُصَلِّي مَعَنَا " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল ‘আযীয ইবনু সুহায়ব (রাঃ)
তিনি বলেন, রসুন খাওয়া সম্পর্কে আনাস (ইবনু মালিক) (রাঃ) -কে কিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সে বা যারা এসব সব্জি (দুর্গন্ধ জাতীয় গাছ) খায় সে বা তারা যেন আমাদের কাছে না আসে [১] এবং আমাদের সাথে সলাত আদায় না করে। (ই.ফা. ১১৩০, ই.সে. ১১৩৯)
[১] এ নিষেধাজ্ঞার হুকুম মসজিদ কিংবা মাসজিদের বাইরের যে কোন 'ইবাদাত সভা সম্মেলনেও প্রযোজ্য হবে। (শারহে মুসলিম -২০৯ পৃষ্ঠা)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৩৮
হাদিস নং ১১৩৮
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا وَلاَ يُؤْذِيَنَّا بِرِيحِ الثُّومِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এসব গাছ অর্থাৎ- উদ্ভিদ খাবে সে যেন আমার মাসজিদের নিকটেও না আসে এবং রসুনের গন্ধ দ্বারা আমাদেরকে কষ্ট না দেয়। (ই.ফা. ১১৩১, ই.সে. ১১৪০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৩৯
হাদিস নং ১১৩৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ الْبَصَلِ وَالْكُرَّاثِ . فَغَلَبَتْنَا الْحَاجَةُ فَأَكَلْنَا مِنْهَا فَقَالَ " مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ الْمُنْتِنَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ الإِنْسُ " .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পিঁয়াজ ও গোরসুন [১] খেতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু কোন এক সময় প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়ে তা খেলে তিনি বললেনঃ কেউ এসব দুর্গন্ধযুক্ত গাছ (উদ্ভিদ) খেলে সে যেন আমার মাসজিদের নিকটে না আসে। কেননা মানুষ যেসব জিনিসে কষ্ট পায় মালাকগণও (ফেরেশ্তামণ্ডলী) সেসব জিনিসে কষ্ট পায়। (ই.ফা. ১১৩২, ই.সে. ১১৪১)
[১] দুর্গন্ধযুক্ত শিকড় সমৃদ্ধ একপ্রকার গাছ, যা রসুন সদৃশ, তন্মধ্যে কোনটি ঔষধী এক বছর থাকে, আবার কোনটি কয়েক বছর বেঁচে থাকে, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এরূপ গাছ চাষ করা হয় এবং তা ভেজে পাকিয়ে খাওয়া হয়, প্রস্রাবের সচ্ছতার জন্য উপাদেয়।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৪০
হাদিস নং ১১৪০
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ - وَفِي رِوَايَةِ حَرْمَلَةَ وَزَعَمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَكَلَ ثُومًا أَوْ بَصَلاً فَلْيَعْتَزِلْنَا أَوْ لِيَعْتَزِلْ مَسْجِدَنَا وَلْيَقْعُدْ فِي بَيْتِهِ " . وَأَنَّهُ أُتِيَ بِقِدْرٍ فِيهِ خَضِرَاتٌ مِنْ بُقُولٍ فَوَجَدَ لَهَا رِيحًا فَسَأَلَ فَأُخْبِرَ بِمَا فِيهَا مِنَ الْبُقُولِ فَقَالَ " قَرِّبُوهَا " . إِلَى بَعْضِ أَصْحَابِهِ فَلَمَّا رَآهُ كَرِهَ أَكْلَهَا قَالَ " كُلْ فَإِنِّي أُنَاجِي مَنْ لاَ تُنَاجِي " .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আবুত্ ত্বহির-এর বর্ণনায় (আরবি) এবং হারমালাহ্-এর বর্ণনায় (আরবি) উল্লেখিত হয়েছে। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রসুন ও পিঁয়াজ খায় তার উচিত আমাদের থেকে দূরে থাকা অথবা আমাদের মসজিদ থেকে সরে থাকা কিংবা বাড়ীতে বসে থাকা। কোন এক সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে শাক-সব্জি ভর্তি একটি ডেকচি আনা হলে তিনি তাতে খাবার গন্ধ দেখে তাতে কি আছে জানার জন্য জিজ্ঞেস করলেন। তাতে কি ধরনের সব্জি আছে তাকে তা জানানো হলে তিনি তখন তার কোন তার সহাবীর কাছে তা নিয়ে যেতে বললেন। এ কথা জেনে সহাবীও তা খাওয়া পছন্দ করলেন না। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ তুমি খেতে পার। কারণ আমি যার (মালায়িকাহ্) সাথে কথা বলি তোমাকে তো তার সাথে কথা বলতে হয় না। (ই.ফা. ১১৩৩, ই.সে. ১১৪২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৪১
হাদিস নং ১১৪১
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الْبَقْلَةِ الثُّومِ - وَقَالَ مَرَّةً مَنْ أَكَلَ الْبَصَلَ وَالثُّومَ وَالْكُرَّاثَ - فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تَتَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ بَنُو آدَمَ " .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবুদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে এ রসুন জাতীয় উদ্ভিদ খাবে- কোন কোন সময় আবার তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পিঁয়াজ, রসুন বা মুলা খাবে সে যেন আমার মাসজিদের কাছেও না আসে। কেননা মানুষ যেসব জিনিস দ্বারা কষ্ট পায় মালাকগণও সেসব জিনিস দ্বারা কষ্ট পায়। (ই.ফা. ১১৩৪, ই.সে. ১১৪৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৪২
হাদিস নং ১১৪২
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالاَ جَمِيعًا أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ " مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ - يُرِيدُ الثُّومَ - فَلاَ يَغْشَنَا فِي مَسْجِدِنَا " . وَلَمْ يَذْكُرِ الْبَصَلَ وَالْكُرَّاثَ .
বর্ণনাকারী ইবনু জুরায়জ (রাঃ)
তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এসব সব্জি জাতীয় গাছ অর্থাৎ -রসুন খাবে সে যেন আমার মাসজিদে- আমাদের কাছে না আসে। তবে তিনি (ইবনু জুরায়জ) বর্ণিত হাদিসে পিঁয়াজ ও গো-রসুনের কথা উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ১১৩৫, ই.সে. ১১৪৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৪৩
হাদিস নং ১১৪৩
وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ لَمْ نَعْدُ أَنْ فُتِحَتْ، خَيْبَرُ فَوَقَعْنَا أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي تِلْكَ الْبَقْلَةِ الثُّومِ وَالنَّاسُ جِيَاعٌ فَأَكَلْنَا مِنْهَا أَكْلاً شَدِيدًا ثُمَّ رُحْنَا إِلَى الْمَسْجِدِ فَوَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرِّيحَ فَقَالَ " مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ الْخَبِيثَةِ شَيْئًا فَلاَ يَقْرَبَنَّا فِي الْمَسْجِدِ " . فَقَالَ النَّاسُ حُرِّمَتْ حُرِّمَتْ . فَبَلَغَ ذَاكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لَيْسَ بِي تَحْرِيمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لِي وَلَكِنَّهَا شَجَرَةٌ أَكْرَهُ رِيحَهَا " .
বর্ণনাকারী আবু সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেন, খায়বার বিজিত হল। আমরা এখনো ফিরে আসিনি। ইতোমধ্যে আমরা, অর্থাৎ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবীগণ ঐ সব্জি অর্থাৎ- রসুনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। কারণ লোকজন সবাই ছিল ক্ষুধার্ত। এরপর আমরা মাসজিদে গেলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রসুনের গন্ধ পেয়ে বললেনঃ যে ব্যক্তি এ কদর্য গাছ তথা সব্জি খাবে সে যেন মাসজিদে আমাদের নিকটেও না আসে। এ কথা শুনে সবাই বলতে শুরু করল রসুন হারাম হয়ে গিয়েছে। রসুন হারাম হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে এ খবর পৌঁছলে তিনি লোকজনকে সাক্ষ্য করে বললেনঃ হে লোক সকল! আমার জন্য আল্লাহ তা’আলা যা হালাল করে দিয়েছেন তা হারাম করার ক্ষমতা আমার নেই। তবে রসুন এমন একটি সব্জি (গাছ) যার গন্ধ আমি অপছন্দ করি। (ই.ফা. ১১৩৬, ই.সে. ১১৪৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৪৪
হাদিস নং ১১৪৪
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنِ ابْنِ خَبَّابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى زَرَّاعَةِ بَصَلٍ هُوَ وَأَصْحَابُهُ فَنَزَلَ نَاسٌ مِنْهُمْ فَأَكَلُوا مِنْهُ وَلَمْ يَأْكُلْ آخَرُونَ فَرُحْنَا إِلَيْهِ فَدَعَا الَّذِينَ لَمْ يَأْكُلُوا الْبَصَلَ وَأَخَّرَ الآخَرِينَ حَتَّى ذَهَبَ رِيحُهَا .
বর্ণনাকারী আবু সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি পিঁয়াজের ক্ষেতে গেলেন। সাথে তাঁর সাহাবীগণও ছিলেন। কিছু সংখ্যক সহাবী ঐ ক্ষেতের পিঁয়াজ খেলেন এবং অবশিষ্ট সাহাবী খেলেন না। এরপর আমরা সবাই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে গেলাম। কিন্তু যারা পিঁয়াজ খাননি তিনি তাদেরকে প্রথমে কাছে ডেকে নিলেন। আর অন্যদেরকে যারা পিঁয়াজ খেয়েছিল পিঁয়াজের গন্ধ দূর না হওয়া পর্যন্ত কাছে ডাকলেন না। (ই.ফা. ১১৩৭, ই.সে. ১১৪৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৪৫
হাদিস নং ১১৪৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، خَطَبَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَذَكَرَ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذَكَرَ أَبَا بَكْرٍ قَالَ إِنِّي رَأَيْتُ كَأَنَّ دِيكًا نَقَرَنِي ثَلاَثَ نَقَرَاتٍ وَإِنِّي لاَ أُرَاهُ إِلاَّ حُضُورَ أَجَلِي وَإِنَّ أَقْوَامًا يَأْمُرُونَنِي أَنْ أَسْتَخْلِفَ وَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَكُنْ لِيُضَيِّعَ دِينَهُ وَلاَ خِلاَفَتَهُ وَلاَ الَّذِي بَعَثَ بِهِ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم فَإِنْ عَجِلَ بِي أَمْرٌ فَالْخِلاَفَةُ شُورَى بَيْنَ هَؤُلاَءِ السِّتَّةِ الَّذِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَنْهُمْ رَاضٍ وَإِنِّي قَدْ عَلِمْتُ أَنَّ أَقْوَامًا يَطْعَنُونَ فِي هَذَا الأَمْرِ أَنَا ضَرَبْتُهُمْ بِيَدِي هَذِهِ عَلَى الإِسْلاَمِ فَإِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ فَأُولَئِكَ أَعْدَاءُ اللَّهِ الْكَفَرَةُ الضُّلاَّلُ ثُمَّ إِنِّي لاَ أَدَعُ بَعْدِي شَيْئًا أَهَمَّ عِنْدِي مِنَ الْكَلاَلَةِ مَا رَاجَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَىْءٍ مَا رَاجَعْتُهُ فِي الْكَلاَلَةِ وَمَا أَغْلَظَ لِي فِي شَىْءٍ مَا أَغْلَظَ لِي فِيهِ حَتَّى طَعَنَ بِإِصْبَعِهِ فِي صَدْرِي فَقَالَ " يَا عُمَرُ أَلاَ تَكْفِيكَ آيَةُ الصَّيْفِ الَّتِي فِي آخِرِ سُورَةِ النِّسَاءِ " . وَإِنِّي إِنْ أَعِشْ أَقْضِ فِيهَا بِقَضِيَّةٍ يَقْضِي بِهَا مَنْ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَمَنْ لاَ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أُشْهِدُكَ عَلَى أُمَرَاءِ الأَمْصَارِ وَإِنِّي إِنَّمَا بَعَثْتُهُمْ عَلَيْهِمْ لِيَعْدِلُوا عَلَيْهِمْ وَلِيُعَلِّمُوا النَّاسَ دِينَهُمْ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِمْ صلى الله عليه وسلم وَيَقْسِمُوا فِيهِمْ فَيْئَهُمْ وَيَرْفَعُوا إِلَىَّ مَا أَشْكَلَ عَلَيْهِمْ مِنْ أَمْرِهِمْ ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ تَأْكُلُونَ شَجَرَتَيْنِ لاَ أَرَاهُمَا إِلاَّ خَبِيثَتَيْنِ هَذَا الْبَصَلَ وَالثُّومَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا وَجَدَ رِيحَهُمَا مِنَ الرَّجُلِ فِي الْمَسْجِدِ أَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ إِلَى الْبَقِيعِ فَمَنْ أَكَلَهُمَا فَلْيُمِتْهُمَا طَبْخًا
বর্ণনাকারী মা’দান ইবনু আবু ত্বলহাহ্ (রহঃ)
(তিনি বলেছেনঃ ) কোন এক জুমু’আর দিন ‘উমার ইবনুল খাত্তাব খুতবাহ্ প্রদান করলেন। সে বক্তৃতায় তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবু বকরের কথা উল্লেখ করে বললেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন একটি মোরগ আমাকে তিনটি ঠোকর দিল। আমি মনে করি এ স্বপ্নের অর্থ আমার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়া ছাড়া অন্য কিছু নয়। কিছু সংখ্যক লোক বলছে আমি যেন পরবর্তী খালীফাহ মনোনীত করে যাই (কিন্তু আমি যদি পরবর্তী খালীফাহ্ মনোনীত না করেও যাই তাহলেও কোন ক্ষতি নেই)। কেননা, (আমি বিশ্বাস করি) মহান আল্লাহ এ দ্বীনকে এবং তাঁর খিলাফাত ব্যবস্থাকে বরবাদ করবেন না। কিংবা যা দিয়ে তার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে পাঠিয়েছেন তাও ব্যর্থ করে দিবেন না। খুব শীঘ্রই যদি আমার মৃত্যু হয় তাহলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ইন্তিকালের সময় পর্যন্ত যাদের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন তাদের এ ছয়জনের [১] মধ্য থেকে পরামর্শের ভিত্তিতে খিলাফাতের ব্যাপারে ফায়সালা হবে। আমি জানি কিছু সংখ্যক লোক এ ব্যাপারে ইসলামের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে। আমি তাদের এ জন্য আমার নিজ হাতে শাস্তি দিয়েছি এরপরে আবারও যদি তারা অনুরূপ কাজ করে (এ ব্যাপারে ইসলামের বদনাম করে) তাহলে তারা আল্লাহর শত্রু, কাফির ও গোমরাহ। এছাড়া আরো একটি বিষয় আছে আমার পরে আমার দৃষ্টিতে কালালাহ বা উত্তরাধিকারীবিহীন লোকের পরিত্যক্ত সম্পদের বিষয় ছাড়া সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর কোন বিষয়ই রেখে যাচ্ছি না। (জেনে রেখো!) কালালাহ বা উত্তরাধিকারীবিহীন লোকের পরিত্যক্ত সম্পদ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে যত বেশি জিজ্ঞেস করেছি অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে এত জিজ্ঞেস করিনি আর তিনিও এ বিষয়ে আমাকে যত কঠোরভাবে বলেছেন আর কোন বিষয়েই তত কঠোরভাবে বলেননি। এমনকি তিনি আমার বুকের উপর তাঁর আঙ্গুল ঠেসে ধরে বলেছেনঃ হে ‘উমার ! সূরাহ্ আন্ নিসার শেষের যে আয়াতটি গ্রীষ্মকালে অবতীর্ণ হয়েছিল (এ ব্যাপারে) সে আয়াতটি কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? আমি যদি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতাম তাহলে এ বিষয়ে (কালালাহ) এমন একটি ফায়সালা করতাম যা প্রত্যেকের মনের মত হত। চাই সে কুরআন মাজীদ পড়ে থাকুক বা না পড়ে থাকুক। তিনি [উমার (রাঃ) ] বললেনঃ হে আল্লাহ ! আমি তোমাকে বিভিন্ন জনপদের ‘উমারাদের (শাসনকর্তা) ব্যাপারে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাদের উদ্দেশ্য ঐসব এলাকার লোকদের শাসনকর্তা করে পাঠিয়েছি যে তারা তাদের প্রতি ন্যায় বিচার করবে, লোকদের দ্বীন সম্পর্কে শিক্ষাদান করবে, নাবীর সুন্নত সম্পর্কে অবহিত করবে এবং “ফাই” বা যুদ্ধের ময়দানে বিনাযুদ্ধে লব্ধ সম্পদ (সঠিকভাবে) বণ্টন করে দিবে। আর তাদের কোন ব্যাপার কঠিন বা সমস্যাপূর্ণ হলে তা আমার কাছে জেনে নিবে। হে লোকজন! আরেকটি কথা হল, তোমরা দু’টি (সব্জি জাতীয়) গাছ খেয়ে থাকো; অর্থাৎ পিঁয়াজ ও রসুন। আমি এ দু’টি জিনিসকে অরুচিকর বলে মনে করি। আমি দেখেছি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদের কোন লোকের মুখ থেকে ঐ দু’টি জিনিসের গন্ধ পেলে তাকে বের করে দিতে আদেশ করতেন। আর তাদেরকে বাক্বী’র দিকে বের করে দেয়া হত। তবে কেউ এ দু’টি জিনিস (পিঁয়াজ ও রসুন) খেতে চাইলে যেন রান্না করে গন্ধ দূর করে নেয়। (ই.ফা. ১১৩৮, ই.সে. ১১৪৭)
[১] রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর প্রিয়ভাজনের আশারা মুবাশশারা অন্তর্ভুক্ত সে ছয় ব্যাক্তি হলেন: ‘উসমান, ‘আলী, ত্বলহাহ, যুবায়র, সা‘দ বিন আবি ওয়াক্কাস এবং ‘আবদুর রহমান বিন্ ‘আওফ (রাঃ) | (শারহে মুসলিম-২১০ পৃষ্ঠা)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৪৬
হাদিস নং ১১৪৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، كِلاَهُمَا عَنْ شَبَابَةَ بْنِ سَوَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، جَمِيعًا عَنْ قَتَادَةَ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .
বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ (রাঃ)
(পূর্ব-বর্ণিত হাদীসের) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১১৩৯, ই.সে. ১১৪৮)
১৮. অধ্যায়ঃ
মাসজিদে হারানো বস্তু খোঁজ করা নিষিদ্ধ এবং যে খোঁজ করে তাকে কি বলবে
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৪৭
হাদিস নং ১১৪৭
حَدَّثَنَا أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ حَيْوَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، مَوْلَى شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَمِعَ رَجُلاً يَنْشُدُ ضَالَّةً فِي الْمَسْجِدِ فَلْيَقُلْ لاَ رَدَّهَا اللَّهُ عَلَيْكَ فَإِنَّ الْمَسَاجِدَ لَمْ تُبْنَ لِهَذَا " .
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ কোন লোককে মাসজিদের মধ্যে হারানো জিনিস খোঁজ করতে দেখলে (অর্থাৎ- উচ্চৈঃস্বরে) যেন বলেঃ আল্লাহ করুন! তোমার জিনিস যেন তুমি না পাও। কারণ মসজিদ তো এ উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। (ই.ফা. ১১৪১, ই.সে. ১১৪৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৪৮
হাদিস নং ১১৪৮
وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الأَسْوَدِ، يَقُولُ حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، مَوْلَى شَدَّادٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ . بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি। পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১১৪১, ই.সে. ১১৫০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৪৯
হাদিস নং ১১৪৯
وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، نَشَدَ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ مَنْ دَعَا إِلَى الْجَمَلِ الأَحْمَرِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ وَجَدْتَ . إِنَّمَا بُنِيَتِ الْمَسَاجِدُ لِمَا بُنِيَتْ لَهُ " .
বর্ণনাকারী বুরায়দাহ্ (রাঃ)
তিনি (বুরায়দাহ্) বলেন, জনৈক ব্যক্তি মাসজিদে হারানো জিনিস অনুসন্ধান করল। সে বলল, লাল বর্ণের উটের প্রতি কে ঘোষণা জানাল? অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি যেন তোমার হারানো জিনিস না পাও। কেননা মসজিদ তো মাসজিদের কাজের জন্য বানানো হয়েছে। (ই.ফা. ১১৪২, ই.সে. ১১৫১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৫০
হাদিস নং ১১৫০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا صَلَّى قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ مَنْ دَعَا إِلَى الْجَمَلِ الأَحْمَرِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ وَجَدْتَ إِنَّمَا بُنِيَتِ الْمَسَاجِدُ لِمَا بُنِيَتْ لَهُ " .
বর্ণনাকারী বুরায়দাহ্ (রাঃ)
তিনি (বুরায়দাহ্) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাত আদায় শেষ হলে জনৈক ব্যক্তি দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, লোহিত বর্ণের উটের কথা কে বলল? এ কথা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি যেন তা (তোমার হারানো বস্তুটি) না পাও। কারণ মসজিদ মাসজিদের কাজের জন্য নির্মিত হয়েছে। (ই.ফা. ১১৪৩, ই.সে. ১১৫২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৫১
হাদিস নং ১১৫১
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ شَيْبَةَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ بَعْدَ مَا صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْفَجْرِ . فَأَدْخَلَ رَأْسَهُ مِنْ بَابِ الْمَسْجِدِ فَذَكَرَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا . قَالَ مُسْلِمٌ هُوَ شَيْبَةُ بْنُ نَعَامَةَ أَبُو نَعَامَةَ رَوَى عَنْهُ مِسْعَرٌ وَهُشَيْمٌ وَجَرِيرٌ وَغَيْرُهُمْ مِنَ الْكُوفِيِّينَ .
বর্ণনাকারী বুরায়দাহ্ (রাঃ)
তিনি (বুরায়দাহ্) বলেন, একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজরের সলাত আদায়ের পর এক গ্রাম্য আরব এসে মাসজিদের দরজায় তার মাথা প্রবেশ করল। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি (মুহাম্মাদ ইবনু শায়বাহ) আবূ মিসান ও সাওরী বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু সম্বলিত হাদীস বর্ণনা করেছেন।ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন, শায়বাহ ইবনু না’আমাহ আবূ না’আমাহ (রহঃ)। তাঁর থেকে মিস’আর, হুশায়ম, জারীর সহ অন্যান্য কুফীগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১১৪৪, ই.সে. ১১৫৩)
১৯. অধ্যায়ঃ
সলাতে ভুল-ত্রুটি হওয়া এবং এর জন্য সাহু সাজদাহ্ দেয়া
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৫২
হাদিস নং ১১৫২
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا قَامَ يُصَلِّي جَاءَهُ الشَّيْطَانُ فَلَبَسَ عَلَيْهِ حَتَّى لاَ يَدْرِي كَمْ صَلَّى فَإِذَا وَجَدَ ذَلِكَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ " .
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা কেউ যখন সলাতে দাঁড়াও তখন শাইত্বন তার কাছে এসে তাকে সন্দেহ ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে ফেলে দেয়। এমনকি সে কয় রাকা’আত সলাত আদায় করল তাও স্মরণ করতে পারে না। তোমরা কেউ এরুপ অবস্থা হতে দেখলে যেন বসে বসেই দু’টি (অতিরিক্ত) সাজদাহ্ করে নেয়। (ই.ফা. ১১৪৫, ই.সে. ১১৫৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৫৩
হাদিস নং ১১৫৩
حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، - وَهُوَ ابْنُ عُيَيْنَةَ - ح قَالَ وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، كِلاَهُمَا عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .
বর্ণনাকারী যুহরী (রহঃ)
একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১১৪৬, ই.সে. ১১৫৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৫৪
হাদিস নং ১১৫৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، حَدَّثَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا نُودِيَ بِالأَذَانِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ لَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لاَ يَسْمَعَ الأَذَانَ فَإِذَا قُضِيَ الأَذَانُ أَقْبَلَ فَإِذَا ثُوِّبَ بِهَا أَدْبَرَ فَإِذَا قُضِيَ التَّثْوِيبُ أَقْبَلَ يَخْطُرُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهِ يَقُولُ اذْكُرْ كَذَا اذْكُرْ كَذَا . لِمَا لَمْ يَكُنْ يَذْكُرُ حَتَّى يَظَلَّ الرَّجُلُ إِنْ يَدْرِي كَمْ صَلَّى فَإِذَا لَمْ يَدْرِ أَحَدُكُمْ كَمْ صَلَّى فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ " .
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাতের আযান শুরু হলে শাইত্বন পিঠ ফিরে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালাতে থাকে এবং এত দূরে চলে যায় যে, আর আযান শুনতে পায় না। অতঃপর আযান শেষ হলে সে আবার ফিরে আসে। কিন্তু যে সময় তাকবীর দেয়া হয় তখন পুনরায় পিঠ ফিরে পালায়। কিন্তু তাকবীর শেষ হলে আবার ফিরে আসে এবং মানুষের (মুসল্লীর) মনে সন্দেহ ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে বলে অমুক কথা এবং অমুক কথা স্মরণ কর যেসব কথা কখনো তার স্মরণ করার নয়। অবশেষে সে (মুসল্লী) কত রাকা’আত আদায় করল তা স্মরণ করতে পারে না। এরূপ অবস্থায় তোমরা যখন কেউ স্মরণ করতে পারবে না কত রাকা’আত আদায় করেছ তখন বসে বসেই সর্বশেষ দু’টি সাজদাহ্ করবে। (ই.ফা. ১১৪৭, ই.সে. ১১৫৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৫৫
হাদিস নং ১১৫৫
حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الشَّيْطَانَ إِذَا ثُوِّبَ بِالصَّلاَةِ وَلَّى وَلَهُ ضُرَاطٌ " . فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَزَادَ " فَهَنَّاهُ وَمَنَّاهُ وَذَكَّرَهُ مِنْ حَاجَاتِهِ مَا لَمْ يَكُنْ يَذْكُرُ " .
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে সময় সলাতের তাকবীর বলা হয় সে সময় শাইত্বন বায়ু নিঃসরণ করতে করতে দৌড়ে পালায়। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে এতে এতটুকু কথা অধিক বর্ণনা করলেন যে, সে (শাইত্বন) তাকে উৎসাহিত করে, আশান্বিত করে এবং যা সে কখনো স্মরণ করত না তা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। (ই.ফা. ১১৪৮, ই.সে. ১১৫৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৫৬
হাদিস নং ১১৫৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ، قَالَ صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ مِنْ بَعْضِ الصَّلَوَاتِ ثُمَّ قَامَ فَلَمْ يَجْلِسْ فَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ وَنَظَرْنَا تَسْلِيمَهُ كَبَّرَ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ قَبْلَ التَّسْلِيمِ ثُمَّ سَلَّمَ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুহায়নাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে দু’ রাকা’আত সলাত আদায় করলেন। (দ্বিতীয় রাকা’আতে) তিনি না বসে উঠে দাঁড়ালে লোকজন সবাই তার সাথে উঠে দাঁড়াল। তিনি সলাত শেষ করলে [অর্থাৎ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত প্রায় শেষ করলে] আমরা তার সালাম ফিরানোর অপেক্ষায় ছিলাম। এ সময় তিনি তাকবীর বললেন এবং সালাম ফিরানোর পূর্বেই বসে দু’টি সাজদাহ্ করলেন। এরপর তিনি সালাম ফিরালেন। (ই.ফা. ১১৪৯, ই.সে. ১১৫৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৫৭
হাদিস নং ১১৫৭
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا ابْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ الأَسْدِيِّ، حَلِيفِ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ فِي صَلاَةِ الظُّهْرِ وَعَلَيْهِ جُلُوسٌ فَلَمَّا أَتَمَّ صَلاَتَهُ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ يُكَبِّرُ فِي كُلِّ سَجْدَةٍ وَهُوَ جَالِسٌ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ وَسَجَدَهُمَا النَّاسُ مَعَهُ مَكَانَ مَا نَسِيَ مِنَ الْجُلُوسِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুহায়নাহ্ আল আসদী (রাঃ)
তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাতে (দু’ রাকা’আতের পর) না বসেই দাঁড়িয়ে গেলেন সলাত শেষ করে, অর্থাৎ- সলাতের শেষ পর্যায়ে তিনি সালাম ফিরানোর পূর্বে ভুলে যাওয়া বৈঠকের পরিবর্তে বসে বসেই দু’টি সাজদাহ্ করলেন এবং প্রতিটি সাজদাতেই তাকবীর বললেন। লোকজন সবাই তার সাথে সাথে সাজাদাহ্ দু’টি করলেন। (ই.ফা. ১১৫০, ই.সে. ১১৫৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৫৮
হাদিস নং ১১৫৮
وَحَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ ابْنِ بُحَيْنَةَ الأَزْدِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ فِي الشَّفْعِ الَّذِي يُرِيدُ أَنْ يَجْلِسَ فِي صَلاَتِهِ فَمَضَى فِي صَلاَتِهِ فَلَمَّا كَانَ فِي آخِرِ الصَّلاَةِ سَجَدَ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ ثُمَّ سَلَّمَ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মালিক ইবনু বুহায়নাহ্ আল আযদী (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন সলাতরত অবস্থায় যে দু’রাকা’আত আদায় করে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দাঁড়িয়ে পড়লেন। তিনি সলাত আদায় করতে লাগলেন। অবশেষে সলাতের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে সালাম ফিরানোর পূর্বে দু’টি সাজদাহ্ করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন। (ই.ফা. ১১৫১, ই.সে. ১১৬০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৫৯
হাদিস নং ১১৫৯
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَلَمْ يَدْرِ كَمْ صَلَّى ثَلاَثًا أَمْ أَرْبَعًا فَلْيَطْرَحِ الشَّكَّ وَلْيَبْنِ عَلَى مَا اسْتَيْقَنَ ثُمَّ يَسْجُدُ سَجْدَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ فَإِنْ كَانَ صَلَّى خَمْسًا شَفَعْنَ لَهُ صَلاَتَهُ وَإِنْ كَانَ صَلَّى إِتْمَامًا لأَرْبَعٍ كَانَتَا تَرْغِيمًا لِلشَّيْطَانِ " .
বর্ণনাকারী আবু সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিন রাকা’আত আদায় করা হলো না চার রাকা’আত আদায় করা হলো –সলাতের মধ্যে তোমাদের কারো এরূপ সন্দেহ হলে সে যে কয় রাকা’আত আদায় করেছে বলে নিশ্চিত হবে (তিন রাকা’আত) সে কয় রাকা’আতকে ভিত্তি ধরে অবশিষ্ট করণীয় করবে। এরপর সালাম ফিরানোর পূর্বে দু’টি সাজদাহ্ করবে। (এখন) সে যদি পাঁচ রাকা’আত আদায় করে থাকে তাহলে এ দু’ সাজদাহ্ দ্বারা তার সলাতের জোড়া পূর্ণ হয়ে যাবে। আর যদি তার সলাত চার রাকা’আত হয়ে থাকে তাহলে (এই) সাজদাহ্ দু’টি শাইত্বনের মুখে মাটি নিক্ষেপের শামিল হবে। (ই.ফা. ১১৫২, ই.সে. ১১৬১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৬০
হাদিস নং ১১৬০
حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عَمِّي عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَفِي مَعْنَاهُ قَالَ " يَسْجُدُ سَجْدَتَيْنِ قَبْلَ السَّلاَمِ " . كَمَا قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ .
বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু আসলাম (রহঃ)
একই সানাদে উপরোক্ত অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। অতঃপর সুলাইমান ইবনু বিলাল-এর মতই বর্ণনা করেছেন যে, সালাম ফিরানোর পূর্বে দু’টি সাজদাহ্ করবে। (ই.ফা. ১১৫৩, ই.সে. ১১৬২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৬১
হাদিস নং ১১৬১
وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ، وَأَبُو بَكْرٍ ابْنَا أَبِي شَيْبَةَ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ جَمِيعًا عَنْ جَرِيرٍ، - قَالَ عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، - عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ إِبْرَاهِيمُ زَادَ أَوْ نَقَصَ - فَلَمَّا سَلَّمَ قِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَحَدَثَ فِي الصَّلاَةِ شَىْءٌ قَالَ " وَمَا ذَاكَ " . قَالُوا صَلَّيْتَ كَذَا وَكَذَا - قَالَ - فَثَنَى رِجْلَيْهِ وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَقَالَ " إِنَّهُ لَوْ حَدَثَ فِي الصَّلاَةِ شَىْءٌ أَنْبَأْتُكُمْ بِهِ وَلَكِنْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكِّرُونِي وَإِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَلْيَتَحَرَّ الصَّوَابَ فَلْيُتِمَّ عَلَيْهِ ثُمَّ لْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ)
তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করলেন। বর্ণনাকারী ইবরাহীমের বর্ণনা মতে, এ সলাতে তিনি কিছুই কম বা বেশি করে ফেললেন। সালাম ফিরানোর পর তাঁকে (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে) জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! সলাতের ব্যাপারে কি নতুন কোন হুকুম দেয়া হয়েছে? এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, নতুন হুকুম আবার কেমন? তখন সবাই বললঃ আপনি সলাতে এরূপ করেছেন। এ কথা শুনে তিনি পা দু’খানা ভাঁজ করে ক্বিবলামুখী হয়ে বসলেন এবং দু’টি সিজদা করে তারপর সালাম ফিরালেন। এরপর আমাদের দিকে ঘুরে বললেনঃ সলাতের ব্যাপারে কোন নতুন হুকুম আসলে আমি তোমাদেরকে জানাতাম। (এটা তেমনি কিছু নয়) বরং আমি তো মানুষ বৈ কিছুই না। তোমাদের যেমন ভুল হয় আমারও তেমন ভুল হয়। সুতরাং আমি যদি কোন কিছু ভুলে যাই তাহলে তোমরা আমাকে স্মরণ করে দিও। আর সলাতের মধ্যে তোমাদের কারো কোন সন্দেহ হলে চিন্তা-ভাবনার ভিত্তিতে যেটি সঠিক বলে মনে হবে সেটিই করবে এবং এর উপর ভিত্তি করে সলাত শেষ করবে। অতঃপর দু’টি সাজদাহ্ করবে। (ই.ফা. ১১৫৪, ই.সে. ১১৬৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৬২
হাদিস নং ১১৬২
حَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ بِشْرٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، كِلاَهُمَا عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ بِشْرٍ " فَلْيَنْظُرْ أَحْرَى ذَلِكَ لِلصَّوَابِ " . وَفِي رِوَايَةِ وَكِيعٍ " فَلْيَتَحَرَّ الصَّوَابَ " .
বর্ণনাকারী মানসুর (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।তবে ইবনু বিশর-এর বর্ণনায় (আরবি) এবং ওয়াকী‘ এর বর্ণনায় (আরবি) কথাটি উল্লেখিত আছে। (ই.ফা. ১১৫৫, ই.সে. ১১৬৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৬৩
হাদিস নং ১১৬৩
وَحَدَّثَنَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ مَنْصُورٌ " فَلْيَنْظُرْ أَحْرَى ذَلِكَ لِلصَّوَابِ " .
বর্ণনাকারী মানসুর (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মানসূর বলেছেন, সঠিক হওয়ার ব্যাপারে সর্বাপেক্ষা সঠিক ধারণাটি গ্রহন করতে হবে। (ই.ফা. ১১৫৬, ই.সে. ১১৬৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৬৪
হাদিস নং ১১৬৪
حَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " فَلْيَتَحَرَّ الصَّوَابَ " .
বর্ণনাকারী মানসুর (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, চিন্তা-ভাবনা করে তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে। (ই.ফা. ১১৫৬, ই.সে. ১১৬৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৬৫
হাদিস নং ১১৬৫
حَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " فَلْيَتَحَرَّ أَقْرَبَ ذَلِكَ إِلَى الصَّوَابِ " .
বর্ণনাকারী মানসুর (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে বলেছেন, চিন্তা-ভাবনা করে যেটি সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করবে সেটিই গ্রহন করবে। (ই.ফা. ১১৫৭, ই.সে. ১১৬৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৬৬
হাদিস নং ১১৬৬
وَحَدَّثَنَاهُ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " فَلْيَتَحَرَّ الَّذِي يُرَى أَنَّهُ الصَّوَابُ " .
বর্ণনাকারী মানসুর (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, চিন্তা-ভাবনা করে যেটি সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করবে সেটিই গ্রহন করবে। (ই.ফা. ১১৫৭, ই.সে. ১১৬৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৬৭
হাদিস নং ১১৬৭
وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ، عَنْ مَنْصُورٍ، بِإِسْنَادِ هَؤُلاَءِ وَقَالَ " فَلْيَتَحَرَّ الصَّوَابَ " .
বর্ণনাকারী মানসূর (রহঃ)
তাদের সবার বর্ণিত সানাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। মানসূর (রহঃ) বলেছেনঃ চিন্তা-ভাবনা করে তার ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। (ই.ফা. ১১৫৭, ই.সে. ১১৬৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৬৮
হাদিস নং ১১৬৮
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ خَمْسًا فَلَمَّا سَلَّمَ قِيلَ لَهُ أَزِيدَ فِي الصَّلاَةِ قَالَ " وَمَا ذَاكَ " . قَالُوا صَلَّيْتَ خَمْسًا . فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করলেন। তিনি যখন সালাম ফিরালেন তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, সলাতের সংখ্যা কি বৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে। এ কথা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ আবার কেমন কথা? তখন সবাই বলল, আপনি তো সলাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করলেন। এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’টি সাজদাহ্ করলেন। (ই.ফা. ১১৫৮, ই.সে. ১১৭০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৬৯
হাদিস নং ১১৬৯
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، أَنَّهُ صَلَّى بِهِمْ خَمْسًا .
বর্ণনাকারী ‘আলক্বামাহ্ (রহঃ)
তিনি (‘আলক্বামাহ্) একদিন তাদের সাথে (যুহরের) পাঁচ রাক‘আত সলাত আদায় করলেন। (ই.ফা. ১১৫৯, ই.সে. ১১৭১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৭০
হাদিস নং ১১৭০
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سُوَيْدٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا عَلْقَمَةُ الظُّهْرَ خَمْسًا فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ الْقَوْمُ يَا أَبَا شِبْلٍ قَدْ صَلَّيْتَ خَمْسًا . قَالَ كَلاَّ مَا فَعَلْتُ . قَالُوا بَلَى - قَالَ - وَكُنْتُ فِي نَاحِيَةِ الْقَوْمِ وَأَنَا غُلاَمٌ فَقُلْتُ بَلَى قَدْ صَلَّيْتَ خَمْسًا . قَالَ لِي وَأَنْتَ أَيْضًا يَا أَعْوَرُ تَقُولُ ذَاكَ قَالَ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ فَانْفَتَلَ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَمْسًا فَلَمَّا انْفَتَلَ تَوَشْوَشَ الْقَوْمُ بَيْنَهُمْ فَقَالَ " مَا شَأْنُكُمْ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ زِيدَ فِي الصَّلاَةِ قَالَ " لاَ " . قَالُوا فَإِنَّكَ قَدْ صَلَّيْتَ خَمْسًا . فَانْفَتَلَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ قَالَ " إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ " . وَزَادَ ابْنُ نُمَيْرٍ فِي حَدِيثِهِ " فَإِذَا نَسِيَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ " .
বর্ণনাকারী ইব্রাহীম ইবনু সুওয়াইদ (রহঃ)
তিনি বলেন, সালাম ফিরানোর পর লোকজন তাকে বলল, হে আবূ শিব্ল (‘আলক্বামার উপনাম) ! আপনি সলাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করেছেন। তিনি বললেনঃ আমি কখনো এরূপ করিনি। কিন্তু লোকজন সবাই আবারো বলল, হ্যাঁ, আপনি এরূপ করেছেন। ইব্রাহীম ইবনু সুওয়াইদ বলেছেন, আমি তখন বালক ছিলাম এবং সবার থেকে দূরে এক কোণে ছিলাম আমিও বললাম হ্যাঁ, আপনি সলাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করেছেন। তিনি তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ ওরে কানা, তুমিও তাই বলছ! আমি বললামঃ হ্যাঁ। ইব্রাহীম ইবনু সুওয়াইদ বলেন, তখন তিনি ঘুরে দু’টি সাজদাহ্ করলেন এবং সালাম ফিরানোর পরে বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ বর্ণনা করেছেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন এক সলাত আদায় করতে পাঁচ রাক‘আত আদায় করলেন। সলাত শেষে তিনি ঘুরলে লোকজন পরস্পর কানাঘুষা করতে থাকল। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, ব্যাপার কি? সবাই বলল, হে আল্লাহর রসূল! সলাতের রাক‘আত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ না, তখন সবাই বলল, আপনি তো সলাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করেছেন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুরলেন এবং দু’টি সাজদাহ্ করে তারপর সালাম ফিরালেন। অতঃপর বললেনঃ আমি তোমাদের মতোই মানুষ। আমিও ভুল করি যেমন তোমরা ভুল করো।ইবনু নুমায়র তার বর্ণিত হাদীসে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, (সলাতের মধ্যে) তোমাদের কারো ভুল হয়ে গেলে সে যেন দু’টি সজদাহ্ করে। (ই.ফা. ১১৫৯, ই.সে. ১১৭১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৭১
হাদিস নং ১১৭১
وَحَدَّثَنَاهُ عَوْنُ بْنُ سَلاَّمٍ الْكُوفِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ النَّهْشَلِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَمْسًا فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَزِيدَ فِي الصَّلاَةِ قَالَ " وَمَا ذَاكَ " . قَالُوا صَلَّيْتَ خَمْسًا . قَالَ " إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَذْكُرُ كَمَا تَذْكُرُونَ وَأَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ " . ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন এক সলাত আদায় করতে পাঁচ রাক‘আত আদায় করলেন। আমরা তাঁকে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! সলাত (এর রাক‘আত সংখ্যা) কি বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। (এ কথা শুনে) তিনি বললেনঃ এ আবার কি কথা? তখন সবাই বললঃ আপনি তো সলাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করেছেন, এ কথা শুনে তিনি বললেন আমি তো তোমাদের মতই মানুষ। আমি স্মরণ রাখি যেমন তোমরা স্মরণ রাখো। আবার আমি ভুলে যাই যেমন তোমরা ভুলে যাও। এরপর তিনি দু’টি সাহু সাজদাহ্ দিলেন। (ই.ফা. ১১৬০, ই.সে. ১১৭২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৭২
হাদিস নং ১১৭২
وَحَدَّثَنَا مِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَزَادَ أَوْ نَقَصَ - قَالَ إِبْرَاهِيمُ وَالْوَهْمُ مِنِّي - فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَزِيدَ فِي الصَّلاَةِ شَىْءٌ فَقَالَ " إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ فَإِذَا نَسِيَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ " . ثُمَّ تَحَوَّلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করলেন। কিন্তু তিনি সলাতে কিছু কম বা কিছু বেশী করে ফেললেন। হাদীসের বর্ণনাকারী ইব্রাহীম বলেছেনঃ (তিনি কম করলেন না বেশী করলেন) এ সন্দেহটা আমার নিজের। বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! সলাতে কি কিছু বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে? এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের মতো মানুষ বৈ আর কিছুই নই। আমারও তোমাদের মতো ভুল হয়। সুতরাং সলাতে তোমাদের কেউ কিছু ভুলে গেলে সে যেন বসেই দু’টি সাজদাহ্ করে নেয়। এ কথার পর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুরলেন এবং দু’টি সাজদাহ্ করলেন। (ই.ফা. ১১৬১, ই.সে. ১১৭৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৭৩
হাদিস নং ১১৭৩
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَجَدَ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ بَعْدَ السَّلاَمِ وَالْكَلاَمِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতের সাহু সাজদার দু’টি সাজদাহ্ সালাম ফিরিয়ে কথা বলার পর করেছিলেন |[১] (ই.ফা. ১১৬২, ই.সে. ১১৭৪)
[১] ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসে সলাতে কথা-বার্তা নিষিদ্ধ হওয়ায় পূর্বের, অতএব এ ব্যাপারে অধিক বিশুদ্ধ কথা হ’ল, সালাম ফিরানোর পর কথা-বার্তা ঘটলে আর এদিকে ভুলক্রমে সলাতে কিছু অবশিষ্ট থেকে থাকলে পূর্ব সম্পাদিত সলাতটুকু বাতিল হয়ে যাবে এবং পুনরায় সম্পূর্ণ সলাত আদায় করতে হবে। (শারহে মুসলিম- ১ম খন্ড ২১৩ পৃষ্ঠা)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৭৪
হাদিস নং ১১৭৪
وَحَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ صَلَّيْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِمَّا زَادَ أَوْ نَقَصَ - قَالَ إِبْرَاهِيمُ وَايْمُ اللَّهِ مَا جَاءَ ذَاكَ إِلاَّ مِنْ قِبَلِي - قَالَ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَحَدَثَ فِي الصَّلاَةِ شَىْءٌ فَقَالَ " لاَ " . قَالَ فَقُلْنَا لَهُ الَّذِي صَنَعَ فَقَالَ " إِذَا زَادَ الرَّجُلُ أَوْ نَقَصَ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ " . قَالَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)
তিনি বলেন, (একদিন) আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পিছনে সলাত আদায় করলাম। (এ সলাতে) তিনি কিছু বেশী বা কম করলেন। (হাদীসের বর্ণনাকারী) ইব্রাহীম বলেছেন, আল্লাহর শপথ, এ সন্দেহ (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতে বেশী করলেন না, কম করলেন) আমার নিজের। তিনি (ইব্রাহীম) বলেছেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! সলাতের ব্যাপারে কি নতুন কোন হুকুম অবতীর্ণ হয়েছে? তিনি বললেনঃ না। (নতুন কোন হুকুম অবতীর্ণ হয়নি)। তখন (সলাতে) তিনি যা করেছেন আমরা তাঁকে তা বললাম। তিনি বললেনঃ কোন ব্যক্তি যদি সলাতে কোন কিছু বেশী বা কম করে ফেলে তাহলে (সাজদাহ্-ই সাহুর) দু’টি সাজদাহ্ করবে। বর্ণনাকারী ইব্রাহীম বলেনঃ এর (এ কথা বলার) পর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’টি সাজদাহ্ করলেন। (ই.ফা. ১১৬৩, ই.সে. ১১৭৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৭৫
হাদিস নং ১১৭৫
حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، - قَالَ عَمْرٌو حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، - حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ سِيرِينَ، يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِحْدَى صَلاَتَىِ الْعَشِيِّ إِمَّا الظُّهْرَ وَإِمَّا الْعَصْرَ فَسَلَّمَ فِي رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَتَى جِذْعًا فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ فَاسْتَنَدَ إِلَيْهَا مُغْضَبًا وَفِي الْقَوْمِ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فَهَابَا أَنْ يَتَكَلَّمَا وَخَرَجَ سَرَعَانُ النَّاسِ قُصِرَتِ الصَّلاَةُ فَقَامَ ذُو الْيَدَيْنِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَقُصِرَتِ الصَّلاَةُ أَمْ نَسِيتَ فَنَظَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَمِينًا وَشِمَالاً فَقَالَ " مَا يَقُولُ ذُو الْيَدَيْنِ " . قَالُوا صَدَقَ لَمْ تُصَلِّ إِلاَّ رَكْعَتَيْنِ . فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَسَلَّمَ ثُمَّ كَبَّرَ ثُمَّ سَجَدَ ثُمَّ كَبَّرَ فَرَفَعَ ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ ثُمَّ كَبَّرَ وَرَفَعَ . قَالَ وَأُخْبِرْتُ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّهُ قَالَ وَسَلَّمَ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সাথে দিবাভাগের দু’ ওয়াক্ত সলাতের কোন এক ওয়াক্ত সলাতে অর্থাৎ- যুহর কিংবা ‘আস্রের সলাত আদায় করলেন। কিন্তু দু’ রাক‘আত আদায় করার পরই সালাম ফিরালেন। এরপর তিনি রাগান্বিত মনে মাসজিদের ক্বিবলার দিকে স্থাপিত এক বৃক্ষ শাখার উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন। এ সময় সবার মাঝে আবূ বকর ও ‘উমারও ছিলেন। কিন্তু তারা উভয়েই (এ পরিস্থিতিতে) কথা বলতে সাহস পেল না। আর যাদের তাড়াতাড়ি করে যাওয়ার ছিল তারা এই বলে দ্রুত মসজিদ থেকে বের হয়ে গেল যে, সলাত কমিয়ে দেয়া হয়েছে। অতঃপর যুল ইয়াদায়ন উপনামে পরিচিত জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! সলাত কি কম করে দেয়া হয়েছে- না আপনি ভুলে গিয়েছেন? এ কথা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন যুল ইয়াদায়ন যা বলছে তা কি ঠিক? সবাই জবাব দিলো, হ্যাঁ সে যা বলেছে সত্য বলেছে। আপনি তো সলাত দু’ রাক‘আত মাত্র আদায় করেছেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো দু’ রাক‘আত সলাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। এরপর তাকবীর বলে সাজদাহ্ করলেন এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন।এতটুকু বর্ণনা করার পর মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন বললেন, ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন সম্পর্কে আমাকে বলা হয়েছে যে তিনি বলেছেন, এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাম ফিরালেন। (ই.ফা. ১১৬৪, ই.সে. ১১৭৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৭৬
হাদিস নং ১১৭৬
حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِحْدَى صَلاَتَىِ الْعَشِيِّ . بِمَعْنَى حَدِيثِ سُفْيَانَ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সাথে দিবাভাগের দু’ ওয়াক্ত সলাতের এক ওয়াক্ত সলাত আদায় করলেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি সুফ্ইয়ান বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু সম্বলিত হাদীস বর্ণনা করলেন। (ই.ফা. ১১৬৫, ই.সে. ১১৭৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৭৭
হাদিস নং ১১৭৭
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، مَوْلَى ابْنِ أَبِي أَحْمَدَ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْعَصْرِ فَسَلَّمَ فِي رَكْعَتَيْنِ فَقَامَ ذُو الْيَدَيْنِ فَقَالَ أَقُصِرَتِ الصَّلاَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمْ نَسِيتَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُلُّ ذَلِكَ لَمْ يَكُنْ " . فَقَالَ قَدْ كَانَ بَعْضُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى النَّاسِ فَقَالَ " أَصَدَقَ ذُو الْيَدَيْنِ " . فَقَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَأَتَمَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا بَقِيَ مِنَ الصَّلاَةِ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ بَعْدَ التَّسْلِيمِ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে আস্রের সলাত আদায় করালেন। কিন্তু দু’রাক’আত আদায় করার পর সালাম ফিরালেন। যুল ইয়াদায়ন দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! সলাত কি কমিয়ে দেয়া হয়েছে না আপনি ভুল করেছেন? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এসব কিছুই হয়নি (সলাত কমিয়ে দেয়া বা আমার ভূল করা) কিছুই হয়নি। এ কথা শুনে যুল ইয়াদায়ন বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! কিছু একটা অবশ্যই হয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের দিকে ঘুরে বললেনঃ যুল ইয়াদায়ন-এর কথা কি ঠিক? সবাই বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতের অবশিষ্ঠ অংশ পূর্ন করলেন এবং সালাম ফিরানোর পর বসে বসেই দু’টি সাজদাহ্ (সাহু সাজদাহ্) করলেন। (ই.ফা.১১৬৬, ই.সে. ১১৭৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৭৮
হাদিস নং ১১৭৮
وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْخَزَّازُ، حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، - وَهُوَ ابْنُ الْمُبَارَكِ - حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى رَكْعَتَيْنِ مِنْ صَلاَةِ الظُّهْرِ ثُمَّ سَلَّمَ فَأَتَاهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَقُصِرَتِ الصَّلاَةُ أَمْ نَسِيتَ وَسَاقَ الْحَدِيثَ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাত দু’রাক’আত আদায় করে সালাম ফিরালেন। তখন বানী সুলায়ম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! সলাত সংক্ষিপ্ত করে দেয়া হয়েছে না আপনি ভূল করলেন? এতটুকু বর্ণনা করার পর আবূ সালামাহ্ হাদীসটি পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন। (ই.ফা.১১৬৭, ই.সে. ১১৭৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৭৯
হাদিস নং ১১৭৯
وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَيْنَا أَنَا أُصَلِّي، مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الظُّهْرِ سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ فَقَامَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ . وَاقْتَصَّ الْحَدِيثَ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে যুহরের সলাত আদায় করেছিলাম। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’রাক’আত আদায় করেই সালাম ফিরালে বানী সুলায়ম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল। এরপর তিনি (শায়বান) হাদীসটি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলেন। (ই.ফা.১১৬৮, ই.সে. ১১৮০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৮০
হাদিস নং ১১৮০
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، - قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الْعَصْرَ فَسَلَّمَ فِي ثَلاَثِ رَكَعَاتٍ ثُمَّ دَخَلَ مَنْزِلَهُ فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ الْخِرْبَاقُ وَكَانَ فِي يَدَيْهِ طُولٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَذَكَرَ لَهُ صَنِيعَهُ . وَخَرَجَ غَضْبَانَ يَجُرُّ رِدَاءَهُ حَتَّى انْتَهَى إِلَى النَّاسِ فَقَالَ " أَصَدَقَ هَذَا " . قَالُوا نَعَمْ فَصَلَّى رَكْعَةً ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ .
বর্ণনাকারী ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন ‘আস্রের সলাত আদায় করতে তিন রাক’আত আদায় করার পর সালাম ফিরালেন। এরপর তিনি তার বাড়ীর মধ্যে চলে গেলেন। তখন দীর্ঘ হাত বিশিষ্ট খিরবাক্ব নামক জনৈক ব্যক্তি তাঁর কাছে গিয়ে বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! এরপর সে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা করেছিলেন তা বর্ণনা করল। এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাগান্বিত মনে চাদর হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে আসলেন এবং লোকদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ লোকটি কি ঠিক কথা বলছে? সবাই জবাব দিলো, হ্যাঁ সে ঠিক বলেছে। তখন তিনি আরো এক রাক’আত সলাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরালেন। এরপর দু’টি সাহু সাজদাহ্ দিয়ে আবার সালাম ফিরালেন। (ই.ফা.১১৬৯, ই.সে. ১১৮১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৮১
হাদিস নং ১১৮১
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - وَهُوَ الْحَذَّاءُ - عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ، قَالَ سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ثَلاَثِ رَكَعَاتٍ مِنَ الْعَصْرِ ثُمَّ قَامَ فَدَخَلَ الْحُجْرَةَ فَقَامَ رَجُلٌ بَسِيطُ الْيَدَيْنِ فَقَالَ أَقُصِرَتِ الصَّلاَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَخَرَجَ مُغْضَبًا فَصَلَّى الرَّكْعَةَ الَّتِي كَانَ تَرَكَ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ ثُمَّ سَلَّمَ .
বর্ণনাকারী ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন ‘আস্রের সলাত আদায় করতে তিন রাক’আত আদায় করে সালাম ফিরালেন এবং নিজ কামরার মধ্যে প্রবেশ করলেন। তখন লম্বা দু’টি হাত বিশিষ্ট এক লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! সলাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে? এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাগান্বিত হয়ে বেরিয়ে আসলেন, অতঃপর যে এক রাক’আত সলাত তিনি ছেড়েছিলেন তা আদায় করে সালাম ফিরালেন। এরপর সাহুর দু’টি সাজদাহ্ করলেন এবং আবার সালাম ফিরালেন। (ই.ফা.১১৭০, ই.সে. ১১৮২)
২০. অধ্যায়ঃ
কুরআন তিলওয়াতের সাজদাহ্
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৮২
হাদিস নং ১১৮২
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، كُلُّهُمْ عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، - قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ فَيَقْرَأُ سُورَةً فِيهَا سَجْدَةٌ فَيَسْجُدُ وَنَسْجُدُ مَعَهُ حَتَّى مَا يَجِدُ بَعْضُنَا مَوْضِعًا لِمَكَانِ جَبْهَتِهِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরআন তিলাওয়াত করতেন। এ সময় তিনি এমন সূরাহ্ও তিলাওয়াত করতেন যাতে সাজদার আয়াত আছে। তখন তিনি সাজদাহ্ করতেন, আমরাও তার সাথে সাজদাহ্ করতাম। এমনকি (এ সময়) আমাদের মধ্যে তার কপাল স্থাপনের (সাজদাহ্ করার) জায়গাটুকু পর্যন্ত পেত না। (ই.ফা.১১৭১, ই.সে. ১১৮৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৮৩
হাদিস নং ১১৮৩
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ رُبَّمَا قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقُرْآنَ فَيَمُرُّ بِالسَّجْدَةِ فَيَسْجُدُ بِنَا حَتَّى ازْدَحَمْنَا عِنْدَهُ حَتَّى مَا يَجِدُ أَحَدُنَا مَكَانًا لِيَسْجُدَ فِيهِ فِي غَيْرِ صَلاَةٍ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, কোন সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করলে যখন তিনি সাজদার আয়াত তিলাওয়াত করতেন তখন আমাদের সাথে নিয়ে সাজদাহ্ করতেন। এ সময় খুব ভিড় বা জটলা হত। এমনকি আমাদের অনেকেই (কপাল স্থাপন করে) সাজদাহ্ করার মতো জায়গাটুকু পর্যন্ত পেত না। আর এ অবস্থার সৃষ্টি হত সলাতের বাইরে। (ই.ফা.১১৭২, ই.সে. ১১৮৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৮৪
হাদিস নং ১১৮৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الأَسْوَدَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَرَأَ { وَالنَّجْمِ} فَسَجَدَ فِيهَا وَسَجَدَ مَنْ كَانَ مَعَهُ غَيْرَ أَنَّ شَيْخًا أَخَذَ كَفًّا مِنْ حَصًى أَوْ تُرَابٍ فَرَفَعَهُ إِلَى جَبْهَتِهِ وَقَالَ يَكْفِينِي هَذَا . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُهُ بَعْدُ قُتِلَ كَافِرًا .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক সময় সূরাহ ‘ওয়ান নাজ্মি’ পাঠ করে সাজদাহ্ (তিলাওয়াতের সজদাহ্) করলেন। তাঁর সঙ্গে অন্য সকলেও সাজদাহ্ করল। শুধু এক বৃদ্ধ ব্যক্তি (সাজদাহ্ না করে) এক মুঠো কঙ্কর উঠিয়ে বললঃ আমার জন্য এটাই যথেষ্ট।হাদীসটির বর্ণনাকারী সহাবী ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস’ঊদ) বর্ণনা করেছেন যে, আমি ঐ বৃদ্ধ লোকটিরে পরে কাফির অবস্থায় নিহত হতে দেখেছি। (ই.ফা.১১৭৩, ই.সে. ১১৮৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৮৫
হাদিস নং ১১৮৫
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُصَيْفَةَ، عَنِ ابْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَأَلَ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ عَنِ الْقِرَاءَةِ، مَعَ الإِمَامِ فَقَالَ لاَ قِرَاءَةَ مَعَ الإِمَامِ فِي شَىْءٍ . وَزَعَمَ أَنَّهُ قَرَأَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم { وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى} فَلَمْ يَسْجُدْ .
বর্ণনাকারী ‘আত্বা ইবনু ইয়াসার (রহঃ)
তিনি একবার যায়দ ইবনু সাবিতকে সলাতে ইমামের পিছনে কিরাআত তিলাওয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন জবাবে যায়দ ইবনু সাবিত বলেছিলেনঃ সলাতে ইমামের পিছনে কিরাআতের প্রয়োজন নেই। তিনি এ কথাও বলেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সামনে সূরাহ “ওয়ান্ নাজ্মী ইযা-হাওয়া-” তিলাওয়াত করলেন। কিন্তু (সূরাটি শুনার পরও) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাজদাহ্ করলেন না। (ই.ফা.১১৭৪, ই.সে. ১১৮৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৮৬
হাদিস নং ১১৮৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، مَوْلَى الأَسْوَدِ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَرَأَ لَهُمْ { إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ} فَسَجَدَ فِيهَا فَلَمَّا انْصَرَفَ أَخْبَرَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَجَدَ فِيهَا .
বর্ণনাকারী আবূ সালামাহ্ ইবনু ‘আবদূর রহ্মান (রহঃ)
(তিনি বলেছেন) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) তাদের সামনে “ইযাস্ সামা-উন্ শাক্বক্বাত্” সূরাটি তিলাওয়াত করলেন এবং সাজদাহ্ করলেন। সাজদাহ্ শেষে তিনি তাদেরকে বললেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ সূরাটি তিলাওয়াত করে সাজদাহ্ করেছিলেন। (ই.ফা.১১৭৫, ই.সে. ১১৮৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৮৭
হাদিস নং ১১৮৭
وَحَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عِيسَى، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ هِشَامٍ، كِلاَهُمَا عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে পূর্ব বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা.১১৭৬, ই.সে. ১১৮৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৮৮
হাদিস নং ১১৮৮
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَطَاءِ بْنِ مِينَاءَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَجَدْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي { إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ} وَ { اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ}
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা “ইযাস্ সামা-উন্ শাক্বক্বাত্” এবং “ইক্বরা বিস্মি রাব্বিকা” এ দুটি সূরাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে সাজদাহ্ করেছি [ অর্থাৎ- এ দু’টি সূরাহ তিলাওয়াতকালে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাজদাহ্ করেছেন। আমারাও তাঁর সাথে সাজদাহ্ করেছি ]। (ই.ফা.১১৭৭, ই.সে. ১১৮৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৮৯
হাদিস নং ১১৮৯
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، مَوْلَى بَنِي مَخْزُومٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ سَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي { إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ} وَ { اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ}
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরাহ্ “ইযাস্ সামা-উন্ শাক্কাত্” এবং “ইক্বরা বিস্মি রাব্বিকা” পাঠকালে সাজদাহ্ করেছেন। (ই.ফা.১১৭৮, ই.সে. ১১৯০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৯০
হাদিস নং ১১৯০
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা.১১৭৯, ই.সে. ১১৯১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৯১
হাদিস নং ১১৯১
وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ بَكْرٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ صَلاَةَ الْعَتَمَةِ فَقَرَأَ { إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ} فَسَجَدَ فِيهَا . فَقُلْتُ لَهُ مَا هَذِهِ السَّجْدَةُ فَقَالَ سَجَدْتُ بِهَا خَلْفَ أَبِي الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم فَلاَ أَزَالُ أَسْجُدُ بِهَا حَتَّى أَلْقَاهُ . وَقَالَ ابْنُ عَبْدِ الأَعْلَى فَلاَ أَزَالُ أَسْجُدُهَا .
বর্ণনাকারী আবূ রাফি’ (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) -এর পিছনে ‘ইশার সলাত আদায় করলাম। (এ সলাতে) তিনি সূরাহ্ ‘ইযাস্ সামা-উন্ শাক্ক্বাত” পাঠ করে সাজদাহ্ (তিলাওয়াতের সিজদাহ) করলেন। (সলাত শেষে) আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কিসের জন্য এ সাজদাহ্? তিনি বললেনঃ আবুল ক্বাসিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পিছনে সলাত আদায় করাকালে এ সূরায় আমি সাজদাহ্ করেছি। সুতরাং তাঁর সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত (আমৃত্যু) আমি এ সূরাহ্ তিলাওয়াত করে সাজদাহ্ করতে থাকব। অবশ্য হাদীস বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল আ’লা তারতম্য সহকারে কিছুটা বর্ণনা করে বলেছেনঃ আমি এ সাজদাহ্ পরিত্যাগ করব না। (ই.ফা.১১৮০, ই.সে. ১১৯২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৯২
হাদিস নং ১১৯২
حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - ح قَالَ وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ أَخْضَرَ، كُلُّهُمْ عَنِ التَّيْمِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . غَيْرَ أَنَّهُمْ لَمْ يَقُولُوا خَلْفَ أَبِي الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী ইবনু আখযার (রহঃ) থেকে এবং সকলে সুলায়মান আত্ তায়মী
তবে কেউই আবুল ক্বাসিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পিছনে কথাটি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা.১১৮১, ই.সে. ১১৯৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৯৩
হাদিস নং ১১৯৩
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ رَأَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَسْجُدُ فِي { إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ} فَقُلْتُ تَسْجُدُ فِيهَا فَقَالَ نَعَمْ رَأَيْتُ خَلِيلِي صلى الله عليه وسلم يَسْجُدُ فِيهَا فَلاَ أَزَالُ أَسْجُدُ فِيهَا حَتَّى أَلْقَاهُ . قَالَ شُعْبَةُ قُلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ نَعَمْ .
বর্ণনাকারী আবূ রাফি’ (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) -কে সূরাহ্ “ইযাস্ সামা-উন শাক্বক্বাত” পড়ে সাজদাহ্ করতে দেখেছি। তাই আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি এ সূরাহ্ তিলাওয়াত করে সাজদাহ্ করেন? জবাবে তিনি বললেন, আমি আমার প্রিয়তম বন্ধু (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে এ সূরাহ্ তিলাওয়াত সাজদাহ্ করতে দেখেছি। সুতরাং তাঁর ( (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর) সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত আমি এ সূরাহ্ তিলাওয়াত করে সাজদাহ্ করতে থাকব।হাদীসটি বর্ণনাকারী শু’বাহ্ বলেনঃ আমি ‘আত্বা ইবনু আবূ মায়মূনাকে জিজ্ঞেস করলাম “আমার প্রিয়তম বন্ধু” বলতে কি আবূ হুরায়রাহ্ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (ই.ফা.১১৮২, ই.সে. ১১৯৪)
২১. অধ্যায়ঃ
সলাতে উপবিষ্ট হওয়া ও উরুদ্বয়ের উপর দু’হাত স্থাপন করার নিয়ম পদ্ধতি
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৯৪
হাদিস নং ১১৯৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرِ بْنِ رِبْعِيٍّ الْقَيْسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ الْمَخْزُومِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ، - وَهُوَ ابْنُ زِيَادٍ - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَعَدَ فِي الصَّلاَةِ جَعَلَ قَدَمَهُ الْيُسْرَى بَيْنَ فَخِذِهِ وَسَاقِهِ وَفَرَشَ قَدَمَهُ الْيُمْنَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)
তিনি বলেন, সলাত আদায়ের সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন বৈঠক করতেন তখন বাঁ পা’টি (ডান পায়ের) উরু ও নলার মধ্যে স্থাপন করতেন, ডান পা’টি বিছিয়ে দিতেন, আর বাঁ হাতটি বাঁ হাঁটুর উপর এবং ডান হাতটি ডান উরুর উপর স্থাপন করতেন। আর আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন। (ই.ফা.১১৮৩, ই.সে. ১১৯৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৯৫
হাদিস নং ১১৯৫
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَعَدَ يَدْعُو وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَيَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ وَوَضَعَ إِبْهَامَهُ عَلَى إِصْبَعِهِ الْوُسْطَى وَيُلْقِمُ كَفَّهُ الْيُسْرَى رُكْبَتَهُ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন দু’আ করার জন্য বসতেন তখন ডান হাতটি ডান উরুর উপর এবং বাঁ হাতটি বাঁ উরুর উপর রাখতেন। আর শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। এ সময় তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি মধ্যমার সাথে সংযুক্ত করতেন এবং বাঁ হাতের তালু (বাঁ) হাঁটুর উপর রাখতেন। (ই.ফা.১১৮৪, ই.সে. ১১৯৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৯৬
হাদিস নং ১১৯৬
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا جَلَسَ فِي الصَّلاَةِ وَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَرَفَعَ إِصْبَعَهُ الْيُمْنَى الَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ فَدَعَا بِهَا وَيَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى بَاسِطُهَا عَلَيْهَا .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায়ের সময় যখন বসতেন (বৈঠক করতেন) তখন দু’হাত দু’ হাঁটুর উপর রাখতেন। আর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির পার্শ্ববর্তী (শাহাদাত) আঙ্গুল উঠিয়ে ইশারা করতেন এবং বাঁ হাত বাঁ হাঁটুর উপর ছড়িয়ে রাখতেন। (ই.ফা.১১৮৫, ই.সে. ১১৯৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৯৭
হাদিস নং ১১৯৭
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا قَعَدَ فِي التَّشَهُّدِ وَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُمْنَى وَعَقَدَ ثَلاَثَةً وَخَمْسِينَ وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতের মধ্যে ‘তাশাহ্হুদ’ পড়তে যখন বসতেন তখন বাঁ হাতটি বাঁ হাঁটুর উপর এবং ডান হাত ডান হাঁটুর উপর রাখতেন। আর (হাতের তালু ও আঙ্গুলসমূহ গুটিয়ে আরবী) তিপ্পান্ন সংখ্যার মতো করে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। [১] (ই,ফা, ১১৮৬, ই,সে, ১১৯৮)
[১]হাদীসের তিপ্পান্ন সংখ্যার উদ্দেশ্য বর্ণনায় ‘আবদুল হাক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহঃ) বলেন, তার পদ্ধতি হলোঃ ডান হাতের মধ্যমা, অনামিকা ও শেষের কনিষ্ঠাঙ্গুলি- এ তিনটি মুষ্টিবদ্ধ করা হবে; অতঃপর শাহাদাত অঙ্গুলি (তর্জনী) - কে খুলে রেখে বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা শাহাদাত অঙ্গুলির মাঝ বরাবর ধরা হবে। এ চিত্রটা দেখতে আরবী তিপ্পান্ন (৫৩) - এর মতো হয়। (শারহে মুসলিম- ২১৬ পৃষ্ঠা, পার্শ্বটীকা- ২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৯৮
হাদিস নং ১১৯৮
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُعَاوِيِّ، أَنَّهُ قَالَ رَآنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَأَنَا أَعْبَثُ بِالْحَصَى فِي الصَّلاَةِ فَلَمَّا انْصَرَفَ نَهَانِي فَقَالَ اصْنَعْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ . فَقُلْتُ وَكَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ قَالَ كَانَ إِذَا جَلَسَ فِي الصَّلاَةِ وَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَقَبَضَ أَصَابِعَهُ كُلَّهَا وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ الَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى .
বর্ণনাকারী ‘আলী ইবনু ‘আবদুর রহ্মান আল্ মু’আবী (রহঃ)
তিনি বলেছেনঃ ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) আমাকে দেখলেন যে, আমি সলাতের অবস্থায় ছোট ছোট পাথর টুকরা নিয়ে অনর্থকভাবে নড়াচড়া করছি। সলাত শেষ করে তিনি আমাকে এরূপ কাজ করতে নিষেধ করে বললেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেরূপ করতেন তুমিও তাই করবে। আমি তখন জিজ্ঞেস করলামঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতরত অবস্থায় কী করতেন? তিনি (‘আলী ইবনু ‘আবদুর রহ্মান আল মু’আবী) বললেনঃ তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতে যখন বৈঠক করতেন তখন ডান হাতের তালু ডান উরুর উপর রেখে আঙ্গুলগুলো গুটিয়ে শুধু বৃদ্ধাঙ্গুলির পার্শ্ববর্তী (শাহাদাত) আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। আর বাঁ হাতের তালু বাঁ উরুর উপর স্থাপন করতেন। (ই.ফা. ১১৮৭, ই.সে. ১১৯৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১১৯৯
হাদিস নং ১১৯৯
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُعَاوِيِّ، قَالَ صَلَّيْتُ إِلَى جَنْبِ ابْنِ عُمَرَ . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ مَالِكٍ وَزَادَ قَالَ سُفْيَانُ فَكَانَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا بِهِ عَنْ مُسْلِمٍ ثُمَّ حَدَّثَنِيهِ مُسْلِمٌ .
বর্ণনাকারী ‘আলী ইবনু ‘আবদুর রহমান আল মু’আবী (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমারের পাশে দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করছি। এরপর তিনি মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে তার বর্ণনায় এতটুকু কথা অতিরিক্ত আছে যে, ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ মুসলিমের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১১৮৮, ই.সে. ১২০০)
২২. অধ্যায়ঃ
সলাত সমাপনীর সালাম ও তার পদ্ধতি
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২০০
হাদিস নং ১২০০
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، وَمَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، أَنَّ أَمِيرًا، كَانَ بِمَكَّةَ يُسَلِّمُ تَسْلِيمَتَيْنِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَنَّى عَلِقَهَا قَالَ الْحَكَمُ فِي حَدِيثِهِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَفْعَلُهُ .
বর্ণনাকারী আবূ মা’মার (রহঃ)
তিনি বলেন, মাক্কাতে একজন আমীর ছিলেন। তিনি সলাতে দু’বার সালাম ফিরাতেন (একবার ডানে এবং একবার বামে)। এ কথা শুনে ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ বললেনঃ সে কথা থেকে এ সুন্নাত শিখেছে? হাকাম তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ করতেন। (ই.ফা. ১১৮৯, ই.সে. ১২০১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২০১
হাদিস নং ১২০১
وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، - قَالَ شُعْبَةُ - رَفَعَهُ مَرَّةً - أَنَّ أَمِيرًا أَوْ رَجُلاً سَلَّمَ تَسْلِيمَتَيْنِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَنَّى عَلِقَهَا
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, জনৈক আমির অথবা কোন এক ব্যক্তি দু’বার সালাম ফিরালেন। অতঃপর ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার বললেন, তুমি কোথা থেকে এটা পেয়েছ। (ই.ফা. ১১৯০, ই.সে. নম্বরহীন)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২০২
হাদিস নং ১২০২
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ أَرَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ حَتَّى أَرَى بَيَاضَ خَدِّهِ .
বর্ণনাকারী সা’দ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ডানে এবং বামে সালাম ফিরাতে দেখতাম। এমনকি (তিনি এমনভাবে মুখ ঘুরাতেন যে,) আমি তার গালের শুভ্রতা দেখতে পেতাম। (ই.ফা. ১১৯১, ই.সে. ১২০২)
২৩. অধ্যায়ঃ
সলাতের পর যিক্র
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২০৩
হাদিস নং ১২০৩
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، قَالَ أَخْبَرَنِي بِذَا أَبُو مَعْبَدٍ، - ثُمَّ أَنْكَرَهُ بَعْدُ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كُنَّا نَعْرِفُ انْقِضَاءَ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالتَّكْبِيرِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা তাকবীর (আল্ল-হ আকবার) পাঠ দ্বারা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সলাত শেষ হওয়া জানতে পারতাম। অর্থাৎ - সলাত শেষ হলেই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উচ্চৈঃস্বরে ‘আল্ল-হ আকবর’ বলতেন। তখন আমরা বুঝতে পারতাম। (ই.ফা. ১১৯২, ই.সে. ১২০৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২০৪
হাদিস নং ১২০৪
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يُخْبِرُ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَا كُنَّا نَعْرِفُ انْقِضَاءَ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ بِالتَّكْبِيرِ . قَالَ عَمْرٌو فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لأَبِي مَعْبَدٍ فَأَنْكَرَهُ وَقَالَ لَمْ أُحَدِّثْكَ بِهَذَا . قَالَ عَمْرٌو وَقَدْ أَخْبَرَنِيهِ قَبْلَ ذَلِكَ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সলাত শেষ হওয়া তাকবীর পাঠ ছাড়া আর কিছু দ্বারা জানতে পারতাম না। ‘আমর ইবনু দীনার বলেছেনঃ আমি পরবর্তী সময়ে (‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস-এর নিকট থেকে হাদীসটির বর্ণনাকারী) আবূ মা’বাদ-এর হাদীসটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করলে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়ে বললেনঃ আমি তোমার কাছে এ হাদীস বর্ণনা করিনি। অথচ ইতোপূর্বে তিনি আমার নিকট হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন। [১] (ই.ফা. ১১৯৩, ই.সে. ১২০৪)
[১] ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, উর্ধস্তন রাবীর হাদীস বর্ণনায় বিষয়টি সন্দেহ পতিত হওয়া বা ভুলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নিম্নস্তর রাবী সিকাহ বা নির্ভরযোগ্য হলে হাদীস সহীহ হিসেবেই পরিগণিত হবে – এটা জমহুর উলামাগনের অভিমত। (শারহে মুসলিম- ১ম ২১৭ পৃষ্ঠা)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২০৫
হাদিস নং ১২০৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَنَّ أَبَا مَعْبَدٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَفْعَ الصَّوْتِ بِالذِّكْرِ حِينَ يَنْصَرِفُ النَّاسُ مِنَ الْمَكْتُوبَةِ كَانَ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَأَنَّهُ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كُنْتُ أَعْلَمُ إِذَا انْصَرَفُوا بِذَلِكَ إِذَا سَمِعْتُهُ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে ফরয সলাত শেষে লোকেরা উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর বা অন্য কোন যিক্র পাঠ করত। [১৩]আবূ মা’বাদ বলেন, ‘আবদূল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস আরো বলেছেনঃ ঐ উচ্চৈঃস্বরে শুনেই আমি সলাত শেষ হওয়ার কথা বুঝতে পারতাম। (ই.ফা. ১১৯৪, ই.সে. ১২০৫)
[১৩] ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, কোন কোন সালাফ বা ইবনু হায্ম জাহিরী (রহঃ) -এর মতে সালাম শেষে উচ্চৈঃস্বরে মাসনূন যিক্র পাঠ মুস্তাহাব। আর ইবনু বাত্ত্বল-এর মতে, অনুসরণীয় ইমামগনের নিকট যিক্রসমূহ ও তাকবীর নীরবে পঠনীয়। ইমাম শাফি’ঈ (রহঃ) এর বক্তব্য হলোঃ উচৈস্বরে যিক্র পাঠ সর্বদা ছিল না; তাই ইমাম সাহেব যিক্রসমূহ শিক্ষাদানের জন্য কিছুদিন সালাম ফিরানোর পর জোরে জোরে শোনাতে পারেন। (শারহে মুসলিম- ১ম ২১৭ পৃষ্ঠা) উল্লেখ্য যে, প্রচলিত সমবেত মুনাজাতটা পদ্ধতিগত ও এক্ষেত্রে মাসনূন যিক্র নয় এমন ভিন্ন দু’আ পঠিত হওয়া এসব মিলিয়ে এটা পরিত্যাজ্য বিদ’আত।
২৪. অধ্যায়ঃ
ক্ববরের ‘আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা মুস্তাহাব
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২০৬
হাদিস নং ১২০৬
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ هَارُونُ حَدَّثَنَا وَقَالَ، حَرْمَلَةُ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدِي امْرَأَةٌ مِنَ الْيَهُودِ وَهْىَ تَقُولُ هَلْ شَعَرْتِ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ قَالَتْ فَارْتَاعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " إِنَّمَا تُفْتَنُ يَهُودُ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَلَبِثْنَا لَيَالِيَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ شَعَرْتِ أَنَّهُ أُوحِيَ إِلَىَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدُ يَسْتَعِيذُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাইরে থেকে আমার কাছে আসলেন। তখন আমার কাছে একজন ইয়াহূদ মহিলা উপস্থিত ছিল। সে আমাকে বলছিলঃ তুমি কি জানো ক্ববরে তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হবে? ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ ইয়াহূদ মহিলার এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। তিনি অবশ্য বললেনঃ পরীক্ষা বা ‘আযাব তো হবে ইয়াহূদদের। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আমরা এভাবে কয়েক রাত কাটালাম। পরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি কি জানো আমার কাছে এ মর্মে ওয়াহী পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদেরকে ক্ববরে পরীক্ষা করা হবে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ এর পরবর্তীকালে আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে ক্ববরের ‘আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি। (ই.ফা. ১১৯৫, ই.সে. ১২০৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২০৭
হাদিস নং ১২০৭
وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، وَعَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ، قَالَ حَرْمَلَةُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ يَسْتَعِيذُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, তারপর থেকে আমি রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে ক্ববরের ‘আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি। (ই.ফা. ১১৯৬, ই সে. ১২০৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২০৮
হাদিস নং ১২০৮
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، كِلاَهُمَا عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَتْ عَلَىَّ عَجُوزَانِ مِنْ عُجُزِ يَهُودِ الْمَدِينَةِ فَقَالَتَا إِنَّ أَهْلَ الْقُبُورِ يُعَذَّبُونَ فِي قُبُورِهِمْ . قَالَتْ فَكَذَّبْتُهُمَا وَلَمْ أُنْعِمْ أَنْ أُصَدِّقَهُمَا فَخَرَجَتَا وَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ عَجُوزَيْنِ مِنْ عُجُزِ يَهُودِ الْمَدِينَةِ دَخَلَتَا عَلَىَّ فَزَعَمَتَا أَنَّ أَهْلَ الْقُبُورِ يُعَذَّبُونَ فِي قُبُورِهِمْ فَقَالَ " صَدَقَتَا إِنَّهُمْ يُعَذَّبُونَ عَذَابًا تَسْمَعُهُ الْبَهَائِمُ " . قَالَتْ فَمَا رَأَيْتُهُ بَعْدُ فِي صَلاَةٍ إِلاَّ يَتَعَوَّذُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, মাদীনার দু’জন বৃদ্ধা ইয়াহুদিনী আমার কাছে আসলো। তারা বললঃ ক্ববরে মানুষকে ‘আযাব দেয়া হয়ে থাকে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আমি তাদের কথা মিথ্যা প্রতিপন্ন করলাম। তাদের কথা সত্য বলে বিশ্বাস করা আমার ভাল লাগলো না। পরে তারা চলে গেল। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কাছে আসলে আমি তাঁকে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! মাদীনার দু’জন বৃদ্ধা ইয়াহুদিনী আমার কাছে এসেছিলেন। তারা বলল, ক্ববরে মানুষকে আযাব দেয়া হয় | এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তারা সত্য কথাই বলেছে | কেননা ক্ববরে মানুষকে এমন ‘আযাব দেয়া হয় যা চতুষ্পদ জীব-জন্তু পর্যন্ত শুনতে পায়। এ কথা বলে ‘আয়িশাহ্ বললেনঃ এরপর আমি সব সময় রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে ক্ববরের ‘আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে দেখেছি। (ই.ফা. ১১৯৭, ই. সে. ১২০৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২০৯
হাদিস নং ১২০৯
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ وَفِيهِ قَالَتْ وَمَا صَلَّى صَلاَةً بَعْدَ ذَلِكَ إِلاَّ سَمِعْتُهُ يَتَعَوَّذُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে আছে, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, “এরপর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই সলাত আদায় করেছেন, তখনই তাকে কবরের ‘আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি”। (ই.ফা. ১১৯৮ ই.সে. ১২০৯০)
২৫. অধ্যায়ঃ
সলাতের মধ্যে যে সকল বিষয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২১০
হাদিস নং ১২১০
حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَعِيذُ فِي صَلاَتِهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সলাতে দাজ্জালের ফিতনাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে শুনেছি। (ই.ফা. ১১৯৯, ই.সে. ১২১০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২১১
হাদিস নং ১২১১
وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ وَأَبُو كُرَيْبٍ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ جَمِيعًا عَنْ وَكِيعٍ، - قَالَ أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، - حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَعَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا تَشَهَّدَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنْ أَرْبَعٍ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা কেউ যখন (সলাতে) তাশাহহুদ পড় তখন চারটি জিনিস থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রার্থনা করবে। এ বলে দু’আ করবেঃ “আল্লহুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন ‘আযা-বি জাহান্নাম ওয়ামিন ‘আযা-বিল কবরি ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া- ওয়াল মামা-তি ওয়ামিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল”- (অর্থাৎ, হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে জাহান্নাম ও কবরের ‘আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।) (ই.ফা. ১২০০, ই.সে. ১২১১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২১২
হাদিস নং ১২১২
حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو فِي الصَّلاَةِ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ " . قَالَتْ فَقَالَ لَهُ قَائِلٌ مَا أَكْثَرَ مَا تَسْتَعِيذُ مِنَ الْمَغْرَمِ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ " إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا غَرِمَ حَدَّثَ فَكَذَبَ وَوَعَدَ فَأَخْلَفَ " .
বর্ণনাকারী নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতের মধ্যে এ বলে দু’আ করতেনঃ “আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’উযুবিকা মিন আযা-বিল ক্বব্রি ওয়া আ’ঊযুবিকা মিন ফিত্নাতিল মাসীহিদ্ দাজ্জা-ল ওয়া আ’ঊযুবিকা মিন ফিত্নাতিল মাহ্ইয়া-ওয়াল মামা-তি, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিনাল মা’সামি ওয়াল মাগ্রম” – (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ববরের ‘আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিত্নাহ থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিত্না থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি তোমার কাছে গুনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় চাই।)।‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি বলল - হে আল্লাহর রসূল (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! আপনি ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে এত আশ্রয় প্রার্থনা করেন কেন? (এ কথা শুনে) তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কেউ যখন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন কথা বললে মিথ্যা বলে এবং প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে। (ই.ফা. ১২০১, ই.সে. ১২১২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২১৩
হাদিস নং ১২১৩
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنِي الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَائِشَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنَ التَّشَهُّدِ الآخِرِ فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْ أَرْبَعٍ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ "
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন শেষ তাশাহ্হুদ পাঠ করবে তখন যেন সে চারটি জিনিস থেকে (আল্লাহ্র কাছে) আশ্রয় চায়। জাহান্নামের ‘আযাব থেকে, ক্ববরের ‘আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ্ থেকে এবং মাসীহ্ দাজ্জালের অপকারিতা থেকে। (ই.ফা. ১২০২, ই.সে. ১২১৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২১৪
হাদিস নং ১২১৪
وَحَدَّثَنِيهِ الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا هِقْلُ بْنُ زِيَادٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - جَمِيعًا عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنَ التَّشَهُّدِ " . وَلَمْ يَذْكُرِ " الآخِرَ " .
বর্ণনাকারী আওযা’ঈ (রহঃ)
এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, “তোমাদের কেউ যখন তাশাহ্হুদ পাঠ করবে”। তারা ‘আ-খির বা শেষ তাশাহ্হুদ’ শব্দটি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ১২০৩, ই.সে. ১২১৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২১৫
হাদিস নং ১২১৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَشَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন ‘আযা-বিল ক্ববরি ওয়া ‘আযা-বিন্ না-রি ওয়া ফিত্নাতিল মাহ্ইয়া- ওয়াল মামা-তি ওয়া শার্রিল মাসীহিদ্ দাজ্জা-ল” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ববরের ও জাহান্নামের ‘আযাব থেকে জীবন ও মৃত্যুর ফিত্নাহ্ থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই |)। (ই.ফা. ১২০৪, ই.সে. ১২১৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২১৬
হাদিস নং ১২১৬
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عُوذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ اللَّهِ عُوذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ عُوذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ عُوذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে তার ‘আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আশ্রয় চাও। ক্ববরের ‘আযাব থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। আর জীবন ও মৃত্যুর ফিত্নাহ্ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। (ই.ফা. ১২০৫, ই.সে. ১২১৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২১৭
হাদিস নং ১২১৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১২০৬, ই.সে. ১২১৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২১৮
হাদিস নং ১২১৮
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১২০৭, ই.সে. ১২১৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২১৯
হাদিস নং ১২১৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ بُدَيْلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ جَهَنَّمَ وَفِتْنَةِ الدَّجَّالِ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্ববর ও জাহান্নামের ‘আযাব ও দাজ্জালের ফিত্নাহ্ থেকে আশ্রয় চাইতেন। (ই.ফা. ১২০৮, ই.সে. ১২১৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২২০
হাদিস নং ১২২০
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، - فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ - عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُعَلِّمُهُمْ هَذَا الدُّعَاءَ كَمَا يُعَلِّمُهُمُ السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ يَقُولُ " قُولُوا اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ " . قَالَ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ بَلَغَنِي أَنَّ طَاوُسًا قَالَ لاِبْنِهِ أَدَعَوْتَ بِهَا فِي صَلاَتِكَ فَقَالَ لاَ . قَالَ أَعِدْ صَلاَتَكَ لأَنَّ طَاوُسًا رَوَاهُ عَنْ ثَلاَثَةٍ أَوْ أَرْبَعَةٍ أَوْ كَمَا قَالَ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে যেভাবে কুরআন মাজীদের সূরাহ্ শিখাতেন ঠিক তেমনিভাবে এ দু’আটিও শিখাতেন, দু’আটি হলোঃ “আল্ল-হুম্মা ইন্না- না’ঊযুবিকা মিন আযা-বি জাহান্নাম ওয়া আ’ঊযুবিকা মিন ‘আযা-বিল ক্বব্রি ওয়া আ’ঊযুবিকা মিন ফিত্নাতিল মাসীহিদ্ দাজ্জা-ল, ওয়া আ’ঊযুবিকা মিন ফিত্নাতিল মাহ্ইয়া-ওয়াল মামা-ত” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে জাহান্নামের ‘আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিত্নাহ্ থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিত্নাহ্ থেকে আশ্রয় চাই।)।মুসলিম ইবনু হাজ্জাজা বলেনঃ ত্বাউস (একদিন) তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি সলাত আদায় করার সময় কি এ দু’আটি পড়েছ? সে বলল, ‘না’। এ কথা শুনে ত্বাউস বললেন, তুমি পুনরায় সলাত আদায় কর। কারণ ত্বাউস (তোমার পিতা) তিন, চার বা তার বক্তব্য অনুসারে কম বা বেশী লোকের নিকট থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন অথবা তিনি এরূপ বলেছেন। (ই. ফা. ১২০৯, ই.সে. ১২২০-১২২১)
২৬. অধ্যায়ঃ
সলাতের পর যিকির মুস্তাহাব এবং এর বিবরণ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২২১
হাদিস নং ১২২১
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ أَبِي عَمَّارٍ، - اسْمُهُ شَدَّادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ - عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا انْصَرَفَ مِنْ صَلاَتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلاَثًا وَقَالَ " اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ " . قَالَ الْوَلِيدُ فَقُلْتُ لِلأَوْزَاعِيِّ كَيْفَ الاِسْتِغْفَارُ قَالَ تَقُولُ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ .
বর্ণনাকারী সাওবান (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত শেষ করে তিনবার ইসতিগ্ফার করতেন এবং বলতেন- “আল্লা-হুম্মা আন্তাস্ সালা-মু ওয়া মিনকাস্ সালা-মু তাবা-রক্তা যাল জালা-লি ওয়াল ইকর-ম” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমিই শান্তিময় এবং তোমার থেকে শান্তি আসে। তুমি কল্যাণময় এবং সন্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী |)।হাদীস বর্ণনাকারী ওয়ালীদ বলেন- আমি আওযা’ঈকে জিজ্ঞেস করলাম | তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে ইস্তিগফার করতেন। তিনি বললেন, তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন- ‘আস্তাগ্ফিরুল্ল-হ, আস্তাগ্ফিরুল্ল-হ’ | (ই.ফা. ১২১০, ই.সে. ১২২২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২২২
হাদিস নং ১২২২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَلَّمَ لَمْ يَقْعُدْ إِلاَّ مِقْدَارَ مَا يَقُولُ " اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ " . وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ نُمَيْرٍ " يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ " .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, সলাতে সালাম ফিরানোর পরে নবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ততটুকু সময় বসতেন- “আল্লা-হুম্মা আন্তাস সালাম-মু ওয়া মিনকাস্ সালা-মু তাবা-রক্তা যাল জালা-লি ওয়াল ইকর-ম” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমিই শান্তিময় এবং তোমার থেকে শান্তি আসে। তুমি কল্যাণময় এবং সন্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী।) এ দু’আটা পড়তে যতটুকু সময় লাগে।ইবনু নুমায়র-এর একটি বর্ণনায় (আরবী) -এর স্থলে (আরবী) উল্লেখ আছে। (ই.ফা. ১২১১, ই.সেস. ১২২৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২২৩
হাদিস নং ১২২৩
وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، - يَعْنِي الأَحْمَرَ - عَنْ عَاصِمٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ " .
বর্ণনাকারী ‘আসিম (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি (আরবী) উল্লেখ করেছেন। (ই.ফা. ১২১২, ই.সে. ১২২৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২২৪
হাদিস নং ১২২৪
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، وَخَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، كِلاَهُمَا عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ . بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ " يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ " .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনাতে এ কথাটুকু নেই যে, তিনি (আরবী) (হে শান-শওকাতময়, দয়াবান) বলতেন। (ই.ফা. ১২১৩, ই.সে. ১২২৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২২৫
হাদিস নং ১২২৫
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ وَرَّادٍ، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَتَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ إِلَى مُعَاوِيَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا فَرَغَ مِنَ الصَّلاَةِ وَسَلَّمَ قَالَ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ " .
বর্ণনাকারী মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) কর্তৃক আযাদকৃত ক্রীতদাস ওয়ার্রাদ
তিনি বলেছেন, মুগীরাহ্ বিন শু’বাহ্ মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) -কে লিখে পাঠান যে, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতেন- “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্দাহ্ লা শারীকা লাহু লাহুল মুল্কু ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়াহুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন্ ক্বদীর, আল্ল-হুম্মা লা-মা-নি’আ লিমা- আ’ত্বয়তা ওয়ালা- মু‘ত্বিয়া লিমা- মানা‘তা ওয়ালা- ইয়ান্ফা‘উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ” (অর্থাৎ - আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও শারীক বিহীন। সার্ভৌম ক্ষমতা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট। সব প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তাতে বাধা দেয়ার শক্তি কারো নেই। আর যা দিতে না চাও তার দেবার শক্তিও কারো নেই। আর কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার নিকট থেকে রক্ষা করতে পারে না।) (ই.ফা. ১২১৪, ই.সে. ১২২৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২২৬
হাদিস নং ১২২৬
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَأَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ وَرَّادٍ، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنِ الْمُغِيرَةِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . مِثْلَهُ قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَأَبُو كُرَيْبٍ فِي رِوَايَتِهِمَا قَالَ فَأَمْلاَهَا عَلَىَّ الْمُغِيرَةُ وَكَتَبْتُ بِهَا إِلَى مُعَاوِيَةَ .
বর্ণনাকারী মুগীরাহ্ ইবনু শায়বাহ্ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর একই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ বকর ও আবূ কুরায়ব তাদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, ওয়ার্রাদ বলেছেনঃ মুগীরাহ্ দু’আটি আমাকে শিখিয়েছেন। অতঃপর তা আমি মু’আবিয়াকে লিখে পাঠিয়েছি। (ই.ফা. ১২১৫, ই.সে. ১২২৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২২৭
হাদিস নং ১২২৭
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، أَنَّ وَرَّادًا، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَتَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ إِلَى مُعَاوِيَةَ - كَتَبَ ذَلِكَ الْكِتَابَ لَهُ وَرَّادٌ - إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ سَلَّمَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا . إِلاَّ قَوْلَهُ " وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " . فَإِنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ .
বর্ণনাকারী মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ) কর্তৃক আযাদকৃত ক্রীতদাস ওয়ার্রাদ
মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (আমীর) মু’আবিয়ার কাছে ওয়ার্রাদকে দিয়ে লিখিয়েছিলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে সলাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতে শুনেছি...। তবে এ বর্ণনায় (আরবি) বাক্যটির উল্লেখ নেই, কেননা তিনি তা উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ১২১৬, ই.সে. ১২২৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২২৮
হাদিস নং ১২২৮
وَحَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ عُمَرَ الْبَكْرَاوِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُفَضَّلِ ح قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي أَزْهَرُ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ وَرَّادٍ، كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَتَبَ مُعَاوِيَةُ إِلَى الْمُغِيرَةِ . بِمِثْلِ حَدِيثِ مَنْصُورٍ وَالأَعْمَشِ .
বর্ণনাকারী মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ) - এর কাতিব (সেক্রেটারী) ওয়ার্রাদ (রহঃ)
তিনি বলেছেন, (আমীর) মু’আবিয়াহ্ মুগীরাহ্ - এর কাছে লিখেছিলেন। ... এরপর তিনি মানসূর ও আ’মাশ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ই.ফা.১২১৭, ই.সে.১২২৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২২৯
হাদিস নং ১২২৯
وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، سَمِعَا وَرَّادًا، كَاتِبَ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ يَقُولُ كَتَبَ مُعَاوِيَةُ إِلَى الْمُغِيرَةِ اكْتُبْ إِلَىَّ بِشَىْءٍ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِذَا قَضَى الصَّلاَةَ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ " .
বর্ণনাকারী ‘আব্দাহ্ ইবনু আবূ লুবাবাহ্ ও ‘আবদুল মালিক ইবনু ‘উমায়র (উভয়ে) মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ) - এর কাতিব (সেক্রেটারী) ওয়ার্রাদ
(আমীর) মু’আবিয়াহ্ মুগীরাহ্ ইবনু শুবাহ্-এর কাছে পত্র লিখলেনঃ তুমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে শুনেছ এমন কিছু লিখে পাঠাও। ওয়ার্রাদ বর্ণনা করেনঃ এ পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে মুগীরাহ্ ইবনু শুবাহ্ তাকে লিখে জানালেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি, তিনি সলাত শেষে (এ দু’আটি) বলতেন, “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্দাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুল্ক ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়াহুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন্ ক্বদীর, আল্ল-হুম্মা লা- মা-নি’আ লিমা- আ’ত্বয়তা ওয়ালা- মু’ত্বিয়া লিমা- মানা’তা ওয়ালা- ইয়ান্ফা’উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ” (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও শারীকবিহীন। সার্বভৌম ক্ষমতা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট। সব প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তাতে বাধা দেয়ার শক্তি কারো নেই। আর যা দিতে না চাও তার দেবার শক্তিও কারো নেই। আর কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার নিকট থেকে রক্ষা করতে পারে না।) (ই.ফা.১২১৮, ই.সে.১২৩০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৩০
হাদিস নং ১২৩০
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، قَالَ كَانَ ابْنُ الزُّبَيْرِ يَقُولُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ حِينَ يُسَلِّمُ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ " . وَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُهَلِّلُ بِهِنَّ دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ .
বর্ণনাকারী আবুয্ যুবায়র (রাঃ)
তিনি বলেছেনঃ ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র প্রত্যেক ওয়াক্ত সলাতে সালাম ফিরানোর পর বলতেনঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্দাহূ লা-শারীকা লাহূ লাহুল মুল্কু ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়াহুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বদীর, লা- হাওলা ওয়ালা- কূওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি লা- ইলা- হা ইল্লাল্ল-হু ওয়ালা- না’বুদু ইল্লা- ঈয়্যা-হু লাহুন্ নি’মাতু ওয়ালাহুল ফায্লু ওয়ালাহুস্ সানা-উল হাসানু লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু মুখলিসীনা লাহুদ্দীনা ওয়ালাও কারিহাল কা-ফিরূন” (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি একক ও শারীকবিহীন। তিনিই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সব প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন আশ্রয় এবং শক্তি নেই। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তাঁকে ছাড়া আর কারো ‘ইবাদাত করি না যদিও কাফিরদের তা পছন্দ নয়।) আর তিনি (ইবনুয্ যুবায়র) বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক ওয়াক্ত সলাতের পরে কথাগুলো বলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। (ই.ফা.১২১৯, ই.সে.১২৩১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৩১
হাদিস নং ১২৩১
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، مَوْلًى لَهُمْ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، كَانَ يُهَلِّلُ دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ . بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ نُمَيْرٍ وَقَالَ فِي آخِرِهِ ثُمَّ يَقُولُ ابْنُ الزُّبَيْرِ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُهَلِّلُ بِهِنَّ دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ .
বর্ণনাকারী ‘উরওয়াহ্ তাদের আযাদকৃত দাস আবুয্ যুবায়র (রহঃ)
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনুয্ যুবায়র প্রত্যেক ওয়াক্ত সলাতের শেষে ইবনু নুমায়র - এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ তাহলীল (অর্থাৎ- “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) বলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। হাদীসটির শেষে তিনি এভাবে বলেছেন, অতঃপর ‘আবদুল্লাহ ইবনুয্ যুবায়র বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথাগুলো বলে প্রত্যেক ওয়াক্ত সলাতের পর তাহলীল বা আল্লাহর প্রশংসা করতেন। (ই.ফা.১২২০, ই.সে.১২৩২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৩২
হাদিস নং ১২৩২
وَحَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَبِي عُثْمَانَ، حَدَّثَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، يَخْطُبُ عَلَى هَذَا الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِذَا سَلَّمَ فِي دُبُرِ الصَّلاَةِ أَوِ الصَّلَوَاتِ . فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ .
বর্ণনাকারী আবুয্ যুবায়র (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনুয্ যুবায়রকে এ মিম্বারে দাঁড়িয়ে এই বলে খুত্বাহ্ দিতে শুনেছি যে, সলাতের শেষে সালাম ফিরিয়ে রসূলুল্ললাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন...। অতঃপর তিনি হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ্ বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ই.ফা.১২২১, ই.সে.১২৩৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৩৩
হাদিস নং ১২৩৩
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، أَنَّ أَبَا الزُّبَيْرِ الْمَكِّيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، وَهُوَ يَقُولُ فِي إِثْرِ الصَّلاَةِ إِذَا سَلَّمَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا وَقَالَ فِي آخِرِهِ وَكَانَ يَذْكُرُ ذَلِكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী আবুয্ যুবায়র আল মাক্কী (রহঃ)
তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) - কে প্রতি ওয়াক্ত সলামে ফিরানোর পর বলতে শুনেছেন - হিশাম ও হাজ্জাজ বর্ণিত পূর্বের হাদীসে উল্লেখিত দু’আর অনুরূপ দু’আ করতেন। অবশ্য এ হাদীসের শেষে তিনি এ কথা বলেছেনঃ বিষয়টি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতেন। (ই.ফা.১২২২, ই.সে.১২৩৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৩৪
হাদিস নং ১২৩৪
حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ النَّضْرِ التَّيْمِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، كِلاَهُمَا عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - وَهَذَا حَدِيثُ قُتَيْبَةَ أَنَّ فُقَرَاءَ، الْمُهَاجِرِينَ أَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثُورِ بِالدَّرَجَاتِ الْعُلَى وَالنَّعِيمِ الْمُقِيمِ . فَقَالَ " وَمَا ذَاكَ " . قَالُوا يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَيَتَصَدَّقُونَ وَلاَ نَتَصَدَّقُ وَيُعْتِقُونَ وَلاَ نُعْتِقُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفَلاَ أُعَلِّمُكُمْ شَيْئًا تُدْرِكُونَ بِهِ مَنْ سَبَقَكُمْ وَتَسْبِقُونَ بِهِ مَنْ بَعْدَكُمْ وَلاَ يَكُونُ أَحَدٌ أَفْضَلَ مِنْكُمْ إِلاَّ مَنْ صَنَعَ مِثْلَ مَا صَنَعْتُمْ " . قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " تُسَبِّحُونَ وَتُكَبِّرُونَ وَتَحْمَدُونَ دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ مَرَّةً " . قَالَ أَبُو صَالِحٍ فَرَجَعَ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا سَمِعَ إِخْوَانُنَا أَهْلُ الأَمْوَالِ بِمَا فَعَلْنَا فَفَعَلُوا مِثْلَهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ " . وَزَادَ غَيْرُ قُتَيْبَةَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَنِ اللَّيْثِ عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ قَالَ سُمَىٌّ فَحَدَّثْتُ بَعْضَ أَهْلِي هَذَا الْحَدِيثَ فَقَالَ وَهِمْتَ إِنَّمَا قَالَ " تُسَبِّحُ اللَّهَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَتَحْمَدُ اللَّهَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَتُكَبِّرُ اللَّهَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ " . فَرَجَعْتُ إِلَى أَبِي صَالِحٍ فَقُلْتُ لَهُ ذَلِكَ فَأَخَذَ بِيَدِي فَقَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ حَتَّى تَبْلُغَ مِنْ جَمِيعِهِنَّ ثَلاَثَةً وَثَلاَثِينَ . قَالَ ابْنُ عَجْلاَنَ فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ رَجَاءَ بْنَ حَيْوَةَ فَحَدَّثَنِي بِمِثْلِهِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেনঃ কুতায়বাহ্ও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেছেনঃ একদিন গরীব মুহাজিরগণ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে গিয়ে বললেন, সম্পদশালী লোকেরা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী নি’আমাতসমূহ লুটে নিচ্ছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কিভাবে? তারা বললেনঃ আমরা সলাত আদায় করি তারাও সলাত আদায় করে। আমরা সিয়াম পালন করি তারাও সিয়াম পালন করে। কিন্তু তারা দান করে আমরা দান করতে পারি না। আর তারা দাস মুক্ত করে আমরা দাস মুক্ত করতে পারি না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু শিখিয়ে দিব যা করলে তোমরা তোমাদের চেয়ে অগ্রসর লোকদের সমকক্ষ হতে পারবে? আর যারা তোমাদের পিছনে পড়ে আছে তাদের পিছনে রেখে এগিয়ে যেতে পারবে? আর তোমাদের মতো কাজ না করে কেউ তোমাদের মতো উত্তম হতে পারবে না। তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! তা অবশ্যই বলবেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ প্রত্যেক সলাতের পর তোমরা তেত্রিশবার করে তাসবীহ (সুবহানা-ল্ল-হ) , তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) ও তাহমীদ (আলহাম্দু লিল্লা-হ) বলবে। আবূ সালিহ বর্ণনা করেছেন এরপর গরীব মুহাজিরগণ পুনরায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে এসে বললেনঃ আমরা যা করেছি আমাদের সম্পদশালী ভাইয়েরা তা জেনে ফেলেছে। সুতরাং এখন তারাও এ কাজ করতে শুরু করেছে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ তো আল্লাহর মেহেরবানী। যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। কুতায়বাহ্ ছাড়া এ হাদীসটি লায়স ও ইবনু আজলান - এর মাধ্যমে সুমাই থেকে বর্ণনা করেছেন তারা এতে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, সুমাই (হাদীসটির এক পর্যায়ের বর্ণনাকারী) বলেছনঃ আমি ভুলে গিয়েছি হাদীসটি বরং এভাবে বলা হয়েছেঃ তেত্রিশবার তাসবীহ বর্ণনা করবে, তেত্রিশবার হাম্দ করবে আর তেত্রিশবার তাকবীর বলবে। সুতরাং (এ কথা শুনে) আমি আবূ সালিহ্-এর কাছে গিয়ে এ বিষয়টি বললে, তিনি আমার হাত ধরে বললেনঃ বরং তুমি বলবে- “আল্ল-হু আকবার ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হাম্দুলিল্লা-হি আল্ল-হু আকবার ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হামদুলিল্লা-হ” (অর্থাৎ- আল্লাহ মহান। তিনি পবিত্র, সব প্রশংসা তাঁর। আল্লাহ মহান। তিনি পবিত্র, সব প্রশংসা তাঁর।) এভাবে সবগুলো মোট তেত্রিশবার বলবে। ইবনু ‘আজলান বলেছেনঃ আমি রাজা ইবনু হাওাহ্-এর কাছে হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনিও আমাকে আবূ সালিহ ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) - এর মাধ্যমে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করে শোনালেন। (ই.ফা.১২২৩, ই.সে.১২৩৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৩৫
হাদিস নং ১২৩৫
وَحَدَّثَنِي أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامَ الْعَيْشِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثُورِ بِالدَّرَجَاتِ الْعُلَى وَالنَّعِيمِ الْمُقِيمِ . بِمِثْلِ حَدِيثِ قُتَيْبَةَ عَنِ اللَّيْثِ إِلاَّ أَنَّهُ أَدْرَجَ فِي حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ قَوْلَ أَبِي صَالِحٍ ثُمَّ رَجَعَ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ . إِلَى آخِرِ الْحَدِيثِ وَزَادَ فِي الْحَدِيثِ يَقُولُ سُهَيْلٌ إِحْدَى عَشْرَةَ إِحْدَى عَشْرَةَ فَجَمِيعُ ذَلِكَ كُلِّهُ ثَلاَثَةٌ وَثَلاَثُونَ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন গরীব মুহাজিররা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! সম্পদশালী লোকেরা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী নি’আমাতসমূহ লুটে নিচ্ছে। অর্থাৎ - এভাবে তিনি লায়স থেকে কুতায়বাহ্ বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে তিনি আবূ হুরায়রা বর্ণিত হাদীসে আবূ সালিহ বর্ণিত হাদীসের “অতঃপর গরীব মুহাজিররা ফিরে আসলো” কথাটা শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন? আর হাদীসটির মধ্যে তিনি এতটুকু কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, সুহায়ল বলেন, এগারবার করে সবগুলো মিলিয়ে মোট তেত্রিশবার পড়তে হবে। (ই.ফা.১২২৪, ই.সে.১২৩৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৩৬
হাদিস নং ১২৩৬
وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عِيسَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، قَالَ سَمِعْتُ الْحَكَمَ بْنَ عُتَيْبَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مُعَقِّبَاتٌ لاَ يَخِيبُ قَائِلُهُنَّ - أَوْ فَاعِلُهُنَّ - دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ ثَلاَثٌ وَثَلاَثُونَ تَسْبِيحَةً وَثَلاَثٌ وَثَلاَثُونَ تَحْمِيدَةً وَأَرْبَعٌ وَثَلاَثُونَ تَكْبِيرَةً " .
বর্ণনাকারী কা’ব ইবনু ‘উজ্রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক ফরয সলাতের পরে কিছু দু’আ আছে, যে ব্যক্তি ঐগুলো পড়ে বা কাজে লাগায় কখনো নিরাশ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তা হলোঃ তেত্রিশবার তাসবীহ (আলহাম্দু লিল্লা-হ) পড়া, তেত্রিশবার তাহমীদ (সুবহা-নাল্ল-হ) পাঠ করা এবং চৌত্রিশবার তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) পাঠ করা। (ই.ফা.১২২৫, ই.সে.১২৩৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৩৭
হাদিস নং ১২৩৭
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا حَمْزَةُ الزَّيَّاتُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مُعَقِّبَاتٌ لاَ يَخِيبُ قَائِلُهُنَّ - أَوْ فَاعِلُهُنَّ - ثَلاَثٌ وَثَلاَثُونَ تَسْبِيحَةً وَثَلاَثٌ وَثَلاَثُونَ تَحْمِيدَةً وَأَرْبَعٌ وَثَلاَثُونَ تَكْبِيرَةً فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ " .
বর্ণনাকারী কা’ব ইবনু ‘উজ্রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিছু দু’আ আছে প্রত্যেক ফরযসলাতের পরে যে ব্যক্তি ঐগুলো পড়ে বা ‘আমাল করে সে কখনও নিরাশ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। দু’আগুলো হলোঃ তেত্রিশবার তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ, অর্থাৎ- আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করা) পড়া, তেত্রিশবার তাহমীদ (আলহাম্দুলিল্লা-হ, অর্থাৎ- আল্লহর প্রশংসা করা) পড়া এবং চৌত্রিশবার তাকবীর (আল্ল-হু আকবার, অর্থাৎ- আল্লহর মহত্ব বর্ণনা করা) পড়া। (ই.ফা.১২২৬, ই.সে.১২৩৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৩৮
হাদিস নং ১২৩৮
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ قَيْسٍ الْمُلاَئِيُّ، عَنِ الْحَكَمِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .
বর্ণনাকারী হাকাম
একই সানাদে অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা.১২২৭, ই.সে.১২৩৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৩৯
হাদিস নং ১২৩৯
حَدَّثَنِي عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَيَانٍ الْوَاسِطِيُّ، أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ الْمَذْحِجِيِّ، - قَالَ مُسْلِمٌ أَبُو عُبَيْدٍ مَوْلَى سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ - عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَبَّحَ اللَّهَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَحَمِدَ اللَّهَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَكَبَّرَ اللَّهَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ فَتِلْكَ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ وَقَالَ تَمَامَ الْمِائَةِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক ওয়াক্ত সলাতের শেষে তেত্রিশবার আল্লহর তাসবীহ বা পবিত্রতা বর্ণনা করবে, তেত্রিশবার আল্লাহর তামহীদ বা আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং তেত্রিশবার তাকবীর বা আল্লহর মহত্ব বর্ণনা করবে আর এভাবে নিরানব্বই বার হওয়ার পর শততম পূর্ণ করতে বলবে-“লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্দাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুল্কু ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়াহুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বদীর” (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি একক ও তাঁর কোন অংশীদার নেই। সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র তিনিই। সম প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। তিনি সবকিছু করতে সক্ষম-তার গুনাহসমূহ সমুদ্রের ফেনারাশির মতো অসংখ্য হলেও ক্ষমা করে সেয়া হয়।) (ই.ফা.১২২৮, ই.সে.১২৪০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৪০
হাদিস নং ১২৪০
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এরপর উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা.১২২৯, ই.সে.১২৪০)
২৭. অধ্যায়ঃ
তাকবীরে তাহ্রীমা ও ক্বিরাআতের মধ্যে কি পাঠ করবে
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৪১
হাদিস নং ১২৪১
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَبَّرَ فِي الصَّلاَةِ سَكَتَ هُنَيَّةً قَبْلَ أَنْ يَقْرَأَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَرَأَيْتَ سُكُوتَكَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ مَا تَقُولُ قَالَ " أَقُولُ اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَاىَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَاىَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ "
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত শুরু করলে তাকবীরে তাহরীমা বলে ক্বিরাআত শুরু করার আগে কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন। এ দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনি সলাতের তাকবীরে তাহরীমা ও ক্বিরাআতের মাঝে যখন চুপ থাকেন তখন কি পড়েন? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তখন বলিঃ “আল্ল-হুম্মা বা-‘ইদ বায়নী ওয়াবায়না খত্বা-ইয়া-ইয়া কামা- বা-আদতা বায়নাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিব, আল্লা-হুম্মা নাক্কিনী মিন খত্বা-ইয়া-ইয়া কামা-ইউনাক্কাস্ সাওবুল আব্ইয়াযু মিনাদ্ দানাস, আল্ল-হুম্মাগ সিল্নী মিন খত্বা-ইয়া-ইয়া বিস্সাল্জি ওয়াল মা-য়ি ওয়াল মা-য়ি ওয়াল বারাদ” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার ও আমার পাপের মাঝে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও পশ্চিম ও পূর্বের মধ্যে তুমি যে পরিমাণ দূরত্ব রেখেছ। হে আল্লাহ! আমাকে আমার পাপ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দাও যেমনভাবে সাদা কাপড় থেকে ময়লা পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! তুমি আমার পাপসমূহ বরফ, পানি ও তুষারের শুভ্রতা দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দাও। (ই.ফা.১২৩০, ই.সে.১২৪২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৪২
হাদিস নং ১২৪২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، - يَعْنِي ابْنَ زِيَادٍ - كِلاَهُمَا عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَ حَدِيثِ جَرِيرٍ
বর্ণনাকারী ‘উমরাহ্ ইবনু ক্বা’ক্বা’ (রহঃ)
একই সানাদে জারীর কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা.১২৩১, ই.সে.১২৪৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৪৩
হাদিস নং ১২৪৩
قَالَ مُسْلِمٌ وَحُدِّثْتُ عَنْ يَحْيَى بْنِ حَسَّانَ، وَيُونُسَ الْمُؤَدِّبِ، و غَيْرِهِمَا قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُمَارَةُ بْنُ الْقَعْقَاعِ، حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا نَهَضَ مِنَ الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ اسْتَفْتَحَ الْقِرَاءَةَ بِـ { الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} وَلَمْ يَسْكُتْ .
বর্ণনাকারী ইমাম মুসলিম
ইয়াহ্ইয়া ইবনু হাস্সান এবং ইউনুস আল মুআদ্দিব ও অন্যান্য ‘আবদুল ওয়াহিদ ইবনু যিয়াদ ও উমারাহ্ ইবনু ক্বা’ক্বা’ - এর মাধ্যমে আবূ যুর’আহ্ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে। আবূ যুর’আহ্ বলেছেন, আমি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) - কে বলতে শুনেছিঃ সলাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দ্বিতীয় রাক’আত শেষে উঠে দাঁড়িয়ে “আল হাম্দুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন” বলে শুরু করতেন। চুপ থাকতেন না (অর্থাৎ- দ্বিতীয় রা’আত থেকে উঠা এবং সূরাহ্ ফা-তিহাহ্ পাঠের মাঝখানে কোন বিরতি থাকত না)। (ই.ফা.১২৩১, ই.সে.১২৪৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৪৪
হাদিস নং ১২৪৪
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ، وَثَابِتٌ، وَحُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ فَدَخَلَ الصَّفَّ وَقَدْ حَفَزَهُ النَّفَسُ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ . فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَتَهُ قَالَ " أَيُّكُمُ الْمُتَكَلِّمُ بِالْكَلِمَاتِ " . فَأَرَمَّ الْقَوْمُ فَقَالَ " أَيُّكُمُ الْمُتَكَلِّمُ بِهَا فَإِنَّهُ لَمْ يَقُلْ بَأْسًا " . فَقَالَ رَجُلٌ جِئْتُ وَقَدْ حَفَزَنِي النَّفَسُ فَقُلْتُهَا . فَقَالَ " لَقَدْ رَأَيْتُ اثْنَىْ عَشَرَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَرْفَعُهَا " .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি এসে সলাতের ক্বাতারে ঢুকে পড়ল। তখন সে হাঁপাতে ছিল। এ অবস্থায় সে বলে উঠল- “আল হাম্দুলিল্লা-হি হামদান্ কাসীরান ত্বইয়্যিবাম্ মুবা-রকান ফীহ” (অর্থাৎ- সব প্রশংসাই মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। তাঁর অনেক অনেক প্রশংসা যা পবিত্র কল্যাণময়।) সলাত শেষ করে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেনঃ কথাগুলো কে বলেছ? তখন সবাই চুপ করে রইল। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ ঐ কথাগুলো যে বলেছে সে তো কোন খারাপ কথা বলেনি। তখন জনৈক ব্যক্তি বলে উঠলঃ আমি এসে যখন সলাতে শরীক হই তখন আমি হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। তাই আমি এ কথাগুলো বলেছি। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি দেখলাম, বারোজন মালায়িকাহ্ ঐ কথাগুলোকে আগে উঠিয়ে নেয়ার জন্য পরস্পর প্রতিযোগিতা করছে। (ই.ফা.১২৩২, ই.সে.১২৪৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৪৫
হাদিস নং ১২৪৫
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، أَخْبَرَنِي الْحَجَّاجُ بْنُ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ الْقَائِلُ كَلِمَةَ كَذَا وَكَذَا " . قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " عَجِبْتُ لَهَا فُتِحَتْ لَهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ " . قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَمَا تَرَكْتُهُنَّ مُنْذُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ذَلِكَ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সলাত আদায় করেছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি বলে উঠলঃ “আল্ল-হু আকবার কাবীরা-ওয়াল হাম্দুলিল্লা-হ কাসীরা-ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি বুকরাতান্ ওয়া আসীলা-” (অর্থাৎ- আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, বড়। সব প্রশংসা আল্লাহর। আর সকাল ও সন্ধ্যায় তারই পবিত্রতা বর্ণনা করতে হবে।) (সলাত শেষে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, এ কথাগুলো কে বলল? সবার মধ্যে থেকে জনৈক ব্যক্তি বল্লঃ হে আল্লাহর রসূল আমি ঐ কথাগুলো বলেছি। তখন রসূল্লুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কথাগুলো আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ কথাগুলোর জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়েছিল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে এ কথাগুলো বলতে শোনার পর থেকে তাঁর ওপর ‘আমাল করা কখনো ছাড়িনি। (ই.ফা.১২৩৩, ই.সে.১২৪৫)
২৮. অধ্যায়ঃ
সলাতে ধীরে-সুস্থে আসা উত্তম এবং দৌঁড়িয়ে আসা নিষেধ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৪৬
হাদিস নং ১২৪৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح قَالَ وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ زِيَادٍ، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، وَأَبِي، سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح قَالَ وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَأْتُوهَا تَسْعَوْنَ وَأْتُوهَا تَمْشُونَ وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে বলতে শুনেছি, সলাত শুরু হয়ে গেলে তোমরা তাতে শারীক হওয়ার জন্য দৌড়াবে না বা তাড়াহুড়া করবে না। বরং ধীরস্থিরভাবে হেঁটে হেঁটে যাও। তোমাদেরকে গাম্ভীর্য বজায় রাখতে হবে। এভাবে ইমামের সাথে সলাতের যে অংশ পাবে তাই আদায় করবে। আর যা পাবে না তা পূর্ণ করে নিবে।[১] (ই.ফা.১২৩৪, ই.সে.১২৪৬)
[১] ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, হাদীসে উল্লেখিত “আর যতটুকু পাবে না তা পূরন করে নিবে” | এর সমব্যাখ্যায় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জমহুর উলামা বলেন ,মাসবূক বা পিছনে পড়া ব্যাক্তি ইমামের সাথে যতটুকু পেল তা তার জন্য প্রথম হবে ছুটে যাওয়াটুকু যা সে সালাম ফিরানোর পর পড়ে নিবে তা তার জন্য পরের অংশ হবে |
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৪৭
হাদিস নং ১২৪৭
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ، حُجْرٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ، - قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - أَخْبَرَنِي الْعَلاَءُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا ثُوِّبَ لِلصَّلاَةِ فَلاَ تَأْتُوهَا وَأَنْتُمْ تَسْعَوْنَ وَأْتُوهَا وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا كَانَ يَعْمِدُ إِلَى الصَّلاَةِ فَهُوَ فِي صَلاَةٍ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাতের জন্য ইক্বামত দেয়া হয়ে গেলে তোমরা দৌড়াদৌড়ি বা তাড়াহুড়া করে সলাতে এসো না। বরং প্রশান্তিসহ গাম্ভীর্য রেখে সলাতে শারীক হও। অতঃপর ইমামের সাথে যতটা সলাত পাও তা আদায় করো। আর যতটা না পাবে তা পূরণ করে নাও। কেননা তোমাদের মধ্যে কেউ যখন সলাত আদায়ের সঙ্কল্প করে তখন সে সলাতরত থাকে বলেই গণ্য হয়। (ই.ফা ১২৩৫, ই.সে. ১২৪৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৪৮
হাদিস নং ১২৪৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا نُودِيَ بِالصَّلاَةِ فَأْتُوهَا وَأَنْتُمْ تَمْشُونَ وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا " .
বর্ণনাকারী হাম্মাদ ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ)
তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) আমাদের নিকট রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হাদীস তিনি এ বলেন বর্ণনা করলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন সলাতের জন্য আহবান করা (আযান দেয়া) হয় তখন তোমরা স্বাভাবিকভাবে হেঁটে গিয়ে সলাতে শারীক হও। এ সময় তোমাদের উচিত প্রশান্তভাব ও গাম্ভীর্য বজায় রাখা। এভাবে যতটুকু জামা’আতের সাথে পাবে আদায় করবে। আর যতটুকু পাবে না তা পূরণ করে নিবে। (ই.ফা. ১২৩৬ ই.সে. ১২৪৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৪৯
হাদিস নং ১২৪৯
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ، - يَعْنِي ابْنَ عِيَاضٍ - عَنْ هِشَامٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا ثُوِّبَ بِالصَّلاَةِ فَلاَ يَسْعَ إِلَيْهَا أَحَدُكُمْ وَلَكِنْ لِيَمْشِ وَعَلَيْهِ السَّكِينَةُ وَالْوَقَارُ صَلِّ مَا أَدْرَكْتَ وَاقْضِ مَا سَبَقَكَ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাতের জন্য ইক্বামত দেয়া হয়ে গেলে তোমাদের কেউ যেন দৌড়িয়ে না যায়। বরং প্রশান্তভাবে গাম্ভীর্য বজায় রেখে হেঁটে হেঁটে যেন যায়। জামা’আতে বা ইমামের সাথে যতটুকু পাবে আদায় করবে। আর যা না পাবে তা পূরণ করে নিবে। (ই.ফা. ১২৩৭ ই.সে. ১২৪৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৫০
হাদিস নং ১২৫০
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ الصُّورِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلاَّمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، أَخْبَرَهُ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَمِعَ جَلَبَةً . فَقَالَ " مَا شَأْنُكُمْ " . قَالُوا اسْتَعْجَلْنَا إِلَى الصَّلاَةِ . قَالَ " فَلاَ تَفْعَلُوا إِذَا أَتَيْتُمُ الصَّلاَةَ فَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا سَبَقَكُمْ فَأَتِمُّوا " .
বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, এক সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সাথে সলাত আদায় করছিলাম। ইতোমধ্যে তিনি শোরগোল ও কোলাহল শুনতে পেয়ে (সলাত শেষে) বললেনঃ কি ব্যাপার! তোমরা এরূপ করলে কেন? সবাই বলল, আমরা সলাতের জন্য তাড়াহুড়া করে আসছিলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না, এরূপ করবে না। বরং তোমরা সলাতে আসার সময় শান্তভাবে আসবে এভাবে জামা’আতে সলাতের যে অংশ পাবে তা আদায় করে নিবে আর যে অংশ পাবে না তা পরে পূর্ণ করে নিবে। (ই.ফা. ১২৩৮ ই.সে. ১২৫০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৫১
হাদিস নং ১২৫১
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .
বর্ণনাকারী শায়বান (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১২৩৯ ই.সে. ১২৫১)
২৯. অধ্যায়ঃ
সলাতে মুক্তাদীরা কখন দাঁড়াবে
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৫২
হাদিস নং ১২৫২
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي " . وَقَالَ ابْنُ حَاتِمٍ " إِذَا أُقِيمَتْ أَوْ نُودِيَ
বর্ণনাকারী আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাতের একামত দেয়া হলেও আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাঁড়াবে না। হাদীসে “যখন ইক্বামত দেয়া হয়” বলা হয়েছে না “যখন আহবান করা হয়” বলা হয়েছে - এ ব্যাপারে ইবনু আবূ হাতিম সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ! (ই.ফা. ১২৪০, ই.সে. ১২৫২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৫৩
হাদিস নং ১২৫৩
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مَعْمَرٍ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَحَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ حَجَّاجِ بْنِ أَبِي عُثْمَانَ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، وَقَالَ، إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ شَيْبَانَ، كُلُّهُمْ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَزَادَ إِسْحَاقُ فِي رِوَايَتِهِ حَدِيثَ مَعْمَرٍ وَشَيْبَانَ " حَتَّى تَرَوْنِي قَدْ خَرَجْتُ " .
বর্ণনাকারী আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)
পূর্ব বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে ইসহাক্ব তার বর্ণনায় মা’মার ও শায়বান বর্ণিত হাদীসের “যতক্ষণ আমাকে বের হতে না দেখো” কথাটি বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১২৪১, ই.সে. ১২৫৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৫৪
হাদিস নং ১২৫৪
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَقُمْنَا فَعَدَّلْنَا الصُّفُوفَ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا قَامَ فِي مُصَلاَّهُ قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ ذَكَرَ فَانْصَرَفَ وَقَالَ لَنَا " مَكَانَكُمْ " . فَلَمْ نَزَلْ قِيَامًا نَنْتَظِرُهُ حَتَّى خَرَجَ إِلَيْنَا وَقَدِ اغْتَسَلَ يَنْطِفُ رَأْسُهُ مَاءً فَكَبَّرَ فَصَلَّى بِنَا .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একবার সলাতের জন্য ইক্বামত দেয়া হলো এবং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে পৌঁছার আগেই আমরা দাঁডিয়ে কাতার সোজা করে নিলাম। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে সলাতের স্থানে দাঁড়ালেন। তখনও তাকবীর বলা হয়নি। ইতোমধ্যে তাঁর কিছু স্মরণ হলে তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা নিজ-নিজ স্থানে অপেক্ষা করতে থাকো। এ কথা বলে তিনি ফিরে গেলেন। আমরা তাঁর পুনরায় না আসা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম। ইতোমধ্যে তিনি গোসল করে আসলেন। তখনও তাঁর মাথা থেকে পানি ফোঁটা ফোঁটা ঝড়ে পড়ছিল। এবার তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলে আমাদের সলাত আদায় করালেন। (ই.ফা. ১২৪২, ই.সে. ১২৫৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৫৫
হাদিস নং ১২৫৫
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو، - يَعْنِي الأَوْزَاعِيَّ - حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ وَصَفَّ النَّاسُ صُفُوفَهُمْ وَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ مَقَامَهُ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِمْ بِيَدِهِ أَنْ " مَكَانَكُمْ " . فَخَرَجَ وَقَدِ اغْتَسَلَ وَرَأْسُهُ يَنْطِفُ الْمَاءَ فَصَلَّى بِهِمْ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একবার সলাতের জন্য ইক্বামত দেয়া হলে লোকজন কাতার ঠিক করে দাঁড়াল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জায়গায় দাঁড়িয়ে ইশারা করে তাদের সবাইকে বললেনঃ তোমরা প্রত্যেকে নিজের জায়গায় অপেক্ষা করো। এরপরে তিনি গিয়ে গোসল করে আসলেন। তখন তার মাথার চুল পানি চুইয়ে পড়ছিল। এবার তিনি সবাইকে নিয়ে সলাত আদায় করলেন। (ই.ফা. ১২৪৩, ই.সে. ১২৫৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৫৬
হাদিস নং ১২৫৬
وَحَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ الصَّلاَةَ، كَانَتْ تُقَامُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَأْخُذُ النَّاسُ مَصَافَّهُمْ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَقَامَهُ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর উদ্দেশে সলাতের ইক্বামত দেয়া হত। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের স্থানে দাঁড়ানোর পূর্বেই লোকজন কাতার বেঁধে দাঁড়িয়ে যেত। (ই.ফা. ১২৪৪, ই.সে. ১২৫৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৫৭
হাদিস নং ১২৫৭
وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ بِلاَلٌ يُؤَذِّنُ إِذَا دَحَضَتْ فَلاَ يُقِيمُ حَتَّى يَخْرُجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا خَرَجَ أَقَامَ الصَّلاَةَ حِينَ يَرَاهُ .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, সূর্য ঢলে পড়লেই বিলাল আযান দিতেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হয়ে না আসা পর্যন্ত এবং তাকে না দেখা পর্যন্ত ইক্বামত দিতেন না। বের হয়ে আসার পর তিনি তাকে দেখতেন তখনই কেবল ইক্বামত দিতেন। [১৫] (ই.ফা. ১২৪৫, ই.সে. ১২৫৮)
[১৫] উল্লেখিত হাদীসসমূহের আলোচনায় কাজী আয়াজ (রহঃ) অধিকাংশ ‘উলামার মত সম্বন্ধে বলেন, মুসল্লীগণের জন্য মুয়ায্যিন ইক্বামত শুরু করতেই দণ্ডায়মান হওয়া মুস্তাহাব। ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল জমহুর ‘উলামাত মতে মুয়ায্যিনের ইক্বামত বলে অবসর হলে ইমাম তাকবীর বলবেন। (শারহে মুসলিম- ১ম খণ্ড ২২১ পৃষ্ঠা)
৩০. অধ্যায়ঃ
যে ব্যাক্তি সলাতের এক রাক’আতও পেয়েছে, সে উক্ত সলাত পেয়েছে
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৫৮
হাদিস নং ১২৫৮
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلاَةِ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ যদি (জামা’আতের সাথে) কোন সলাতের এক রাক’আত পেয়ে যায় সে উক্ত সলাত পেয়ে গেল। (ই.ফা. ১২৪৬, ই.সে. ১২৫৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৫৯
হাদিস নং ১২৫৯
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلاَةِ مَعَ الإِمَامِ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের সাথে (জামা’আতে) এক রাক’আত সলাত আদায় করতে পারল সে উক্ত সলাতই ইমামের সাথে আদায় করল। (ই.ফা. ১২৪৭, ই.সে. ১২৬০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৬০
হাদিস নং ১২৬০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، وَالأَوْزَاعِيِّ، وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، وَيُونُسَ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، قَالَ وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، جَمِيعًا عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، كُلُّ هَؤُلاَءِ عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ يَحْيَى عَنْ مَالِكٍ وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ أَحَدٍ مِنْهُمْ " مَعَ الإِمَامِ " . وَفِي حَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ " فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ كُلَّهَا " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মালিক - এর মাধ্যমে ইয়াহ্ইয়া কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে কারোর বর্ণিত হাদীসেই “মা’আল ইমাম” (ইমামের সাথে) কথাটি নেই। তবে ‘উবায়দুল্লাহ বর্ণিত হাদীসে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সে পুরো সলাতই পেয়ে গেল। (ই.ফা. ১২৪৮, ই.সে. ১২৬১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৬১
হাদিস নং ১২৬১
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، وَعَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، وَعَنِ الأَعْرَجِ، حَدَّثُوهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ "
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সূর্যোদয়ের পূর্বে কেউ যদি ফাজ্রের এক রাক’আত সলাত আদায় করতে পারে তাহলে সে ফাজ্রের সলাত আদায় করল। আর তেমনি যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে ‘আস্রের এক রাক’আত সলাত আদায় করতে পারল সে যেন ঠিক ওয়াক্তেই ‘আস্রের সলাত আদায় করল।[১৬]
[১৬] হাদীসের মর্ম হ’ল-প্রথমতঃ কোন কাফির মুসলিম হয়ে, পাগল বা অজ্ঞান ব্যক্তি সুস্থতা লাভ করে, নাবালক-সাবালক হয়ে এবং হায়য বা নিফাসগ্রস্ত মহিলা পবিত্র হয়ে সে সময় চলমান ওয়াক্তের এক রাক’আত পেলেও তার উপর ঐ ওয়াক্তের সলাত অপরিহার্য হবে। সে তা আদায় করবে এবং তাতে সে পূর্ণ সাওয়াবপ্রাপ্ত হবে। দ্বিতীয়তঃ অবহেলা না করে নিতান্ত অপারগ হয়ে কদাচ কোন ওয়াক্তের শেষ সময়ে কেউ এ ওয়াক্তের এক রাক’আত পেলেও ওয়াক্ত পাওয়া বলে গণ্য হবে। তাতে সে সলাতেরই সাওয়াব পাবে। (শরহে মুসলিম -১ম খণ্ড ২২১ পৃষ্ঠা)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৬২
হাদিস নং ১২৬২
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، . بِمِثْلِ حَدِيثِ مَالِكٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ،
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
হাদীসটি যায়দ ইবনু আসলাম মালিক - এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১২৫০, ই.সে. ১২৬৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৬৩
হাদিস নং ১২৬৩
وَحَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا عُرْوَةُ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ح قَالَ وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، - وَالسِّيَاقُ لِحَرْمَلَةَ - قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْعَصْرِ سَجْدَةً قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ أَوْ مِنَ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ فَقَدْ أَدْرَكَهَا " . وَالسَّجْدَةُ إِنَّمَا هِيَ الرَّكْعَةُ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে ‘আস্রের সলাতের একটি সাজদাহ্ করতে পারল কিংবা সূর্যোদয়ের পূর্বে ফাজ্রের সলাতের একটি সাজদাহ্ করতে পারল সে উক্ত সলাত পেয়ে গেল। আর সাজদাহ্ অর্থ রাক’আত। (ই.ফা. ১২৫১, ই.সে. ১২৬৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৬৪
হাদিস নং ১২৬৪
وَحَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْعَصْرِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ وَمَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْفَجْرِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে ‘আস্রের এক রাক’আত সলাত আদায় করল সে ওয়াক্ত মতোই সলাত আদায় করল। আবার যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফাজ্রের এক রাক’আত সলাত আদায় করল সেও ওয়াক্ত মতোই ফাজ্রের সলাত আদায় করল। (ই.ফা. ১২৫২, ই.সে. ১২৬৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৬৫
হাদিস নং ১২৬৫
وَحَدَّثَنَاهُ عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ مَعْمَرًا، بِهَذَا الإِسْنَادِ .
বর্ণনাকারী মা’মার (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১২৫৩, ই.সে. ১২৬৬)
৩১. অধ্যায়ঃ
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সলাতের সময়
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৬৬
হাদিস নং ১২৬৬
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا ابْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَخَّرَ الْعَصْرَ شَيْئًا فَقَالَ لَهُ عُرْوَةُ أَمَا إِنَّ جِبْرِيلَ قَدْ نَزَلَ فَصَلَّى إِمَامَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ لَهُ عُمَرُ اعْلَمْ مَا تَقُولُ يَا عُرْوَةُ . فَقَالَ سَمِعْتُ بَشِيرَ بْنَ أَبِي مَسْعُودٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " نَزَلَ جِبْرِيلُ فَأَمَّنِي فَصَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ " . يَحْسُبُ بِأَصَابِعِهِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ .
বর্ণনাকারী ইবনু শিহাব (রহঃ)
তিনি বলেন, ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) একদিন ‘আস্রের সলাত আদায় করতে দেরী করলে ‘উরওয়াহ্ (রহঃ) তাকে বললেনঃ একদিন জিব্রীল (‘আঃ) এসে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর ইমাম হয়ে সলাত আদায় করলেন। এ কথা শুনে ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয ‘উরওয়াহ্কে বললেনঃ ‘উরওয়াহ্! তুমি যা বলছ তা ভালমতো চিন্তা ভাবনা করে বলো। ‘উরওয়াহ্ বললেনঃ আমি বাশীর ইবনু আবূ মাস’উদকে বলতে শুনেছি। তিনি বলছেনঃ আমি আবূ মাস’উদকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে বলতে শুনেছি। একদিন জিব্রীল (‘আঃ) এসে আমার ইমামতি করলেন। আমি তার সাথে সলাত আদায় করলাম। তারপর আমি তাঁর সাথে সলাত আদায় করলাম। তারপর পুনরায় আমি তাঁর সাথে সলাত আদায় করলাম। এরপর আমি আবার তাঁর সাথে সলাত আদায় করলাম। তারপর আমি আরো একবার তাঁর সাথে সলাত আদায় করলাম। এভাবে তিনি আঙ্গুল গুণে পাঁচ (ওয়াক্ত) সলাতের কথা বললেন। (ই.ফা. ১২৫৪, ই.সে. ১২৬৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৬৭
হাদিস নং ১২৬৭
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ فَأَخْبَرَهُ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا وَهُوَ بِالْكُوفَةِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ مَا هَذَا يَا مُغِيرَةُ أَلَيْسَ قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ جِبْرِيلَ نَزَلَ فَصَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " بِهَذَا أُمِرْتُ " . فَقَالَ عُمَرُ لِعُرْوَةَ انْظُرْ مَا تُحَدِّثُ يَا عُرْوَةُ أَوَإِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ هُوَ أَقَامَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقْتَ الصَّلاَةِ فَقَالَ عُرْوَةُ كَذَلِكَ كَانَ بَشِيرُ بْنُ أَبِي مَسْعُودٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ .
বর্ণনাকারী ইবনু শিহাব (রহঃ)
তিনি বলেছেনঃ ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) একদিন সলাত আদায় করতে (বেশ দেরী করে ফেললেন) তাই ‘উরওয়াহ্ ইবনু মাস’ঊদ তার কাছে গিয়ে বললেন, কুফায় (গভর্নর) থাকাকালীন একদিন মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ (রহঃ) (আস্রের) সলাত আদায় করতে করতে দেরী করে ফেললেন। আবূ মাস’ঊদ আল আনসারী (রাঃ) গিয়ে তাঁকে বললেন, মুগীরাহ্! একি করছ তুমি? তুমি কি জানো না যে, এক সময় জিব্রীল (আঃ) এসে সলাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাথে সলাত আদায় করলেন। তিনি [জিব্রীল (আঃ) ] আবার (আরেক ওয়াক্তের) সলাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাথে আবার সলাত আদায় করলেন। তিনি জিব্রীল (আঃ) পুনরায় (আরেক ওয়াক্তের) সলাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুনরায় এ সলাত তাঁর সাথে আদায় করলেন। তিনি [জিব্রীল (আঃ) ] আবারও (আরেক ওয়াক্তের) সলাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ সলাত তাঁর সাথে আদায় করলেন। এরপর জিব্রীল (আঃ) বললেন, আপনি এভাবে সলাত আদায় করতে আদিষ্ট হয়েছেন। একথা শুনে উমার ইবনু আযীয উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়রকে বললেনঃ ‘উরওয়াহ্! তুমি কি বলছ তা কি চিন্তা করে দেখেছো? জিব্রীল (আঃ) নিজে কি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর জন্য সলাতের সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন? জবাবে উরওয়াহ্ বলেন, বাশীর ইবনু আবূ মাস’ঊদ তাঁর পিতা আবূ মাস’ঊদের নিকট থেকে তা এরূপই (সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া) বর্ণনা করতেন। (ই. ফা. ১২৫৫, ই. সে. ১২৬৮) ’
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৬৮
হাদিস নং ১২৬৮
قَالَ عُرْوَةُ وَلَقَدْ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ، زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ .
বর্ণনাকারী উরওয়াহ্
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্ত্রী আয়িশাহ্ (রাঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন সময় আসরের সলাত আদায় করতেন যখন সূর্য কিরণ তাঁর কামরার মধ্যে আদায় করত। তখনো তা দেয়ালের উপর উঠে যেত না। (ই. ফা. ১২৫৫, ই. সে. ১২৬৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৬৯
হাদিস নং ১২৬৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، قَالَ عَمْرٌو حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ طَالِعَةٌ فِي حُجْرَتِي لَمْ يَفِئِ الْفَىْءُ بَعْدُ . وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ لَمْ يَظْهَرِ الْفَىْءُ بَعْدُ .
বর্ণনাকারী আয়িশাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন সময় আসরের সলাত আদায় করতেন যে, তখনো সূর্য কিরণ আমাদের কামরার মধ্যে ঝলমল করত। বেশ কিছুক্ষণ পরও কামরার মধ্যে ছায়া পড়ত না। আবূ বকর বলছেনঃ এরপরও বেশ কিছুক্ষণ উপরে উঠত না। (ই. ফা. ১২৫৬, ই. সে. ১২৬৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৭০
হাদিস নং ১২৭০
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا لَمْ يَظْهَرِ الْفَىْءُ فِي حُجْرَتِهَا .
বর্ণনাকারী নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর স্ত্রী আয়িশাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সময় আসরের সলাত আদায় করতেন তখন সূর্যের কিরণ তাঁর কামরার মধ্যে থাকত এবং তা কামরার মধ্যে থেকে উপরের দিকে (দেয়ালে) উঠে যেত না। (ই. ফা. ১২৫৭, ই. সে. ১২৭০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৭১
হাদিস নং ১২৭১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ وَاقِعَةٌ فِي حُجْرَتِي .
বর্ণনাকারী আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সময় আসরের সলাত আদায় করতেন সূর্যের কিরণ তখন আমার কামরার মধ্যেই থাকত। (ই. ফা. ১২৫৮, ই. সে. ১২৭১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৭২
হাদিস নং ১২৭২
حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذٌ، - وَهُوَ ابْنُ هِشَامٍ - حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا صَلَّيْتُمُ الْفَجْرَ فَإِنَّهُ وَقْتٌ إِلَى أَنْ يَطْلُعَ قَرْنُ الشَّمْسِ الأَوَّلُ ثُمَّ إِذَا صَلَّيْتُمُ الظُّهْرَ فَإِنَّهُ وَقْتٌ إِلَى أَنْ يَحْضُرَ الْعَصْرُ فَإِذَا صَلَّيْتُمُ الْعَصْرَ فَإِنَّهُ وَقْتٌ إِلَى أَنْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ فَإِذَا صَلَّيْتُمُ الْمَغْرِبَ فَإِنَّهُ وَقْتٌ إِلَى أَنْ يَسْقُطَ الشَّفَقُ فَإِذَا صَلَّيْتُمُ الْعِشَاءَ فَإِنَّهُ وَقْتٌ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ "
বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু আম্র (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা যখন ফজরের সলাত আদায় করবে তখন জেনে রেখো ফজরের সলাতের সময় হলো সূর্যের প্রান্তভাগ বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত। তোমরা যখন যুহরের সলাত আদায় করবে তখন জেনে রেখো যে, এর সময় হলো- ‘আসরের ওয়াক্ত শুরু না হওয়া পর্যন্ত। তোমরা যখন আসরের সলাত আদায় করবে তখন জেনে রেখো ‘আসরের সলাতের সময় হলো সূর্য বিবর্ণ হয়ে হলুদ (সোনালি বা তাম্রবর্ণও বলা যেতে পারে) বর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত। [১৭] তোমরা যখন মাগরিবেরে সলাত আদায় করবে তখন জেনে রেখো যে, মাগরিবের সলাতের সময় থেকে পশ্চিম দিগন্তের রক্তিম আভা বা লালিমা অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। আর তোমরা যখন ঈশার সলাত আদায় করবে তখন জেনে রেখ ইশার সলাতের সময় থাকে অর্ধেক রাত পর্যন্ত। (ই. ফা. ১২৫৯ ই. সে. ১২৭২)
[১৭] এটা হল আসল ও উত্তম ওয়াক্ত, তারপর হবে মাকরূহ ও উযরের ওয়াক্ত। (শারহে মুসলিম-১ম খন্ড ২২২ পৃষ্ঠা)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৭৩
হাদিস নং ১২৭৩
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، - وَاسْمُهُ يَحْيَى بْنُ مَالِكٍ الأَزْدِيُّ وَيُقَالُ الْمَرَاغِيُّ وَالْمَرَاغُ حَىٌّ مِنَ الأَزْدِ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وَقْتُ الظُّهْرِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَوَقْتُ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَسْقُطْ ثَوْرُ الشَّفَقِ وَوَقْتُ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ وَوَقْتُ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘আসরের সলাতের ওয়াক্ত না হওয়া পর্যন্ত যুহরের সলাতের ওয়াক্ত থাকে। আর সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালি বা তাম্রবর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত আসরের সলাতের ওয়াক্ত থাকে। সন্ধ্যাকালীন গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তের রক্তিম আভা অন্তর্হিত না হওয়া পর্যন্ত মাগরিবের সলাতের ওয়াক্ত থাকে। ইশার সলাতের সময় থাকে অর্ধ-রাত্রি পর্যন্ত। আর ফজরের সলাতের সময় থাকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত। (ই. ফা. ১২৬০, ই. সে. ১২৭৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৭৪
হাদিস নং ১২৭৪
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، كِلاَهُمَا عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَفِي حَدِيثِهِمَا قَالَ شُعْبَةُ رَفَعَهُ مَرَّةً وَلَمْ يَرْفَعْهُ مَرَّتَيْنِ .
বর্ণনাকারী আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ও ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) উভয়ই শু’বাহ (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি শু’বাহ মারফূ হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে একের অধিকবার মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেন নি। (ই. ফা. ১২৬১, ই. সে. ১২৭৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৭৫
হাদিস নং ১২৭৫
وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وَقْتُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ وَكَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ كَطُولِهِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَغِبِ الشَّفَقُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ الأَوْسَطِ وَوَقْتُ صَلاَةِ الصُّبْحِ مِنْ طُلُوعِ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ فَأَمْسِكْ عَنِ الصَّلاَةِ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যুহরের সলাতের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন সূর্য (মাথার উপর থেকে পশ্চিম দিকে) হেলে পড়ে এবং মানুষের ছায়া তাঁর দৈর্ঘ্যের সমান হয়। আর আসরের সলাতের সময় না হওয়া পর্যন্ত তা থাকে। আসরের সলাতের সময় থাকে সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালি বা তাম্রবর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত। মাগরিবের সলাতের সময় থাকে সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যা গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তে উদ্ভাসিত লালিমা অন্তর্হিত না হওয়া পর্যন্ত। ইশার সলাতের সময় থাকে অর্ধরাত্রি অর্থাৎ- মধ্যরাত পর্যন্ত। আর ফজরের সলাতের সময় শুরু হয় ফজর বা ঊষার উদয় থেকে শুরু করে সূর্যোদয় পর্যন্ত। অতএব সূর্যোদয়ের সময় সলাত আদায় করা বন্ধ রাখবে। কারণ সূর্য শায়ত্বনের দু’ শিঙয়ের মধ্যখানে উদিত হয়। [১৮] (ই. ফা. ১২৬২, ই. সে. ১২৭৫)
[১৮] এর উৎকৃষ্ট ব্যাখ্যা হ‘লঃ সূর্যের উদয়কালে শাইত্বন তার মাথা সূর্যের নিকটবর্তী করে দেয় যাতে সূর্য পূজারী কাফিরদের পূজা সেও পেতে পারে | এটাই শাইত্বনের দু’শিংয়ের মাঝখানের মাথা থেকে সূর্য উঠা | (শারহে মুসলিম- ১ম খন্ড ২২৩ পৃষ্ঠা)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৭৬
হাদিস নং ১২৭৬
وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَزِينٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ طَهْمَانَ - عَنِ الْحَجَّاجِ، - وَهُوَ ابْنُ حَجَّاجٍ - عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ وَقْتِ الصَّلَوَاتِ فَقَالَ " وَقْتُ صَلاَةِ الْفَجْرِ مَا لَمْ يَطْلُعْ قَرْنُ الشَّمْسِ الأَوَّلُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ عَنْ بَطْنِ السَّمَاءِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَيَسْقُطْ قَرْنُهَا الأَوَّلُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْمَغْرِبِ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ مَا لَمْ يَسْقُطِ الشَّفَقُ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে সলাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বললেনঃ সূর্যের উপর দিকের প্রান্তভাগ দেখা না যাওয়া পর্যন্ত ফজর সলাতের সময় থাকে। যুহরের সলাতের সময় থাকে আকাশের মধ্যভাগ থেকে সূর্য গড়িয়ে আসরের সময় না হওয়া পর্যন্ত। আসরের সলাতের সময় থাকে সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালি বা তাম্রবর্ণ ধারণ করার পর উপরের প্রান্তভাগ অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। মাগরিবের সলাতের সময় থাকে সূর্যাস্ত থেকে সান্ধ্যকালীন গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তের লালিমা অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। আর ইশার সলাতের সময় থাকে অর্ধ-রাত্রি পর্যন্ত। (ই. ফা. ১২৬৩, ই. সে. ১২৭৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৭৭
হাদিস নং ১২৭৭
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ، لاَ يُسْتَطَاعُ الْعِلْمُ بِرَاحَةِ الْجِسْمِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, দৈহিক আরাম উপভোগের সাথে জ্ঞানার্জন কখনও সম্ভব নয়। (ই.ফা. ১২৬৪, ই.সে. ১২৭৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৭৮
হাদিস নং ১২৭৮
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، كِلاَهُمَا عَنِ الأَزْرَقِ، - قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَجُلاً سَأَلَهُ عَنْ وَقْتِ الصَّلاَةِ فَقَالَ لَهُ " صَلِّ مَعَنَا هَذَيْنِ " . يَعْنِي الْيَوْمَيْنِ فَلَمَّا زَالَتِ الشَّمْسُ أَمَرَ بِلاَلاً فَأَذَّنَ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الظُّهْرَ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْفَجْرَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ فَلَمَّا أَنْ كَانَ الْيَوْمُ الثَّانِي أَمَرَهُ فَأَبْرَدَ بِالظُّهْرِ فَأَبْرَدَ بِهَا فَأَنْعَمَ أَنْ يُبْرِدَ بِهَا وَصَلَّى الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ أَخَّرَهَا فَوْقَ الَّذِي كَانَ وَصَلَّى الْمَغْرِبَ قَبْلَ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ وَصَلَّى الْعِشَاءَ بَعْدَ مَا ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ وَصَلَّى الْفَجْرَ فَأَسْفَرَ بِهَا ثُمَّ قَالَ " أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ وَقْتِ الصَّلاَةِ " . فَقَالَ الرَّجُلُ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " وَقْتُ صَلاَتِكُمْ بَيْنَ مَا رَأَيْتُمْ " .
বর্ণনাকারী বুরায়দাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে সলাতের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, তুমি আমাদের সাথে দু’দিন সলাত আদায় কর (লোকটি তাই করল)। সূর্য যখন মাথার উপর থেকে হেলে পড়ল তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে আযান দিতে আদেশ করলেন। বিলাল আযান দিলেন। অতঃপর তিনি তাকে ইক্বামত দিতে বললে তিনি যুহরের সলাতের ইক্বামত দিলাম (অর্থাৎ- তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাত আদায় করলেন)। এরপর (‘আসরের সময় হলে) তিনি তাকে ‘আসরের সলাতের ইক্বামত দিতে বললেন। বিলাল ইক্বামত দিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন ‘আসরের সলাত আদায় করলেন। সূর্য তখনও বেশ উপরে ছিল এবং পরিষ্কার ও আলো ঝলমল দেখাচ্ছিল। তারপর আদেশ দিলে বিলাল মাগরিবের আযান দিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিবের সলাত আদায় করলেন তখন সূর্য ডু্বে গেছে। এরপর তিনি বিলালকে ‘ইশার সলাতের ইক্বামত দিতে বললেন বিলাল ইক্বামত দিলেন এবং সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে যে সান্ধ্যকালীন লালিমা বা রক্তিম আভা দেখা যায় তা অন্তর্হিত হওয়ার পরপরই ‘ইশার সলাত আদায় করলেন। পরে বিলালকে তিনি ফজরের সলাতের ইক্বামত দিতে বললেন এবং উষার অভ্যূদয়ের সাথে সাথেই ফজরের সলাত আদায় করলেন। দ্বিতীয় দিনে তিনি বিলালকে আদেশ করলেন এবং বেশ দেরী করে যুহরের সলাত আদায় করলেন। (দ্বিতীয় দিনে) তিনি এমন সময় ‘আসরের সলাত আদায় করলেন সূর্য তখনও বেশ উপরে ছিল। তবে আগের দিনের তুলনায় বেশ দেরী করে পড়লেন। তিনি সান্ধ্যকালীন গোধূলি বা লালিমা অন্তর্হিত হওয়ার পূর্বক্ষণে মাগরিবের সলাত আদায় করলেন। আর রাতের এক তৃতীয়াংশ অতি বাহিত হওয়ার পর ‘ইশার সলাত আদায় করলেন এবং সর্বশেষ বেশ ফর্সা হয়ে গেলে ফজরের সলাত আদায় করলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেনঃ সলাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেসকারী ব্যক্তি কোথায়? লোকটি তখন বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি উপস্থিত আছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকটিকে বললেনঃ দু’দিন যে দু’টি সময়ে আমি সলাত আদায় করলাম এরই মধ্যবর্তী সময়টুকু হলো সলাতের ওয়াক্তসমূহ। (ই.ফা.১২৬৫, ই.সে.১২৭৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৭৯
হাদিস নং ১২৭৯
وَحَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَرْعَرَةَ السَّامِيُّ، حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ عَنْ مَوَاقِيتِ الصَّلاَةِ فَقَالَ " اشْهَدْ مَعَنَا الصَّلاَةَ " . فَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَذَّنَ بِغَلَسٍ فَصَلَّى الصُّبْحَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ ثُمَّ أَمَرَهُ بِالظُّهْرِ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ عَنْ بَطْنِ السَّمَاءِ ثُمَّ أَمَرَهُ بِالْعَصْرِ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ ثُمَّ أَمَرَهُ بِالْمَغْرِبِ حِينَ وَجَبَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ أَمَرَهُ بِالْعِشَاءِ حِينَ وَقَعَ الشَّفَقُ ثُمَّ أَمَرَهُ الْغَدَ فَنَوَّرَ بِالصُّبْحِ ثُمَّ أَمَرَهُ بِالظُّهْرِ فَأَبْرَدَ ثُمَّ أَمَرَهُ بِالْعَصْرِ وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ لَمْ تُخَالِطْهَا صُفْرَةٌ ثُمَّ أَمَرَهُ بِالْمَغْرِبِ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ الشَّفَقُ ثُمَّ أَمَرَهُ بِالْعِشَاءِ عِنْدَ ذَهَابِ ثُلُثِ اللَّيْلِ أَوْ بَعْضِهِ - شَكَّ حَرَمِيٌّ - فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ " أَيْنَ السَّائِلُ مَا بَيْنَ مَا رَأَيْتَ وَقْتٌ " .
বর্ণনাকারী বুরায়দাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে এসে সলাতের সময় সম্পর্কে এসে জিজ্ঞেস করলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ তুমি আমাদের সাথে সলাত আদায় করো (জানতে পারবে)। অতঃপর ফাজরের সলাতের জন্য বিলালকে আযান দিতে আদেশ করলে তিনি (বিলাল) বেশ কিছু অন্ধকার থাকতে আযান দিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উষার আলো প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে ফাজরের সলাত আদায় করলেন। পরে সূর্য আকাশের মধ্যভাগ থেকে হেলে পড়লে তিনি বিলালকে যুহরের সলাতের আযান দিতে বললেন (এবং যুহরের সলাত আদায় করলেন)। অতঃপর সূর্য কিছু উপরে থাকতেই তিনি বিলালকে ‘আসরের সলাতের আযান দিতে বললেন (এবং আসরের সলাত আদায় করলেন)। তারপর সান্ধ্যকালীন গোধূলি (বা সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে দৃশ্যমান রক্তিম আভা) অন্তর্হিত হওয়ার সাথে সাথে বিলালকে ‘ইশার আযান দিতে বললেন (এবং ‘ইশার সলাত আদায় করলেন)। পরদিন প্রত্যুষে বেশ ফর্সা হয়ে গেলে তিনি বিলালকে ফাজ্বরের সলাতের আযান দিতে বললেন (এবং ফাজরের সলাত আদায় করলেন)। তারপর যুহরের সলাতের আযান দিতে বললেন এবং বেশ দেরী করে (সূর্যের উত্তাপ কমলে) যুহরের সলাত আদায় করলেন। এরপর সূর্য তাম্র বর্ণ ধারণ করার পূর্বেই এর আলো পরিষ্কার এবং ঝলমলে থাকতেই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ‘আসরের সলাতের আযান দিতে বললেন (এবং ‘আসরের সলাত আদায় করলেন) এরপর সন্ধ্যা-গোধূলি অদৃশ্য হওয়ার পূর্বক্ষণে মাগরিবের সলাতের আযান দিতে বললেন (এবং মাগরিবের সলাত আদায় করলেন)। অতঃপর রাতের এক তৃতীয়াংশ অথবা কিছু অংশ (বর্ণনাকারী হারামী ইবনু ‘উমারাহ্ সন্দেহ করেছেন) অতিবাহিত হওয়ার পর ‘ইশার সলাতের আযান দিতে বললেন (এবং ‘ইশার সলাত আদায় করলেন)। পরদিন সকালে তিনি জিজ্ঞেস করলেন (সলাতের সময় সম্পর্কে) প্রশ্নকারী কোথায়? (দু’দিন সলাত আদায়ের) সময়ের মধ্যে তুমি যে ব্যবধান দেখলে তার মাঝখানেই হলো সলাতের সময়। (ই.ফা.১২৬৬, ই.সে.১২৭৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৮০
হাদিস নং ১২৮০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا بَدْرُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ أَتَاهُ سَائِلٌ يَسْأَلُهُ عَنْ مَوَاقِيتِ الصَّلاَةِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ شَيْئًا - قَالَ - فَأَقَامَ الْفَجْرَ حِينَ انْشَقَّ الْفَجْرُ وَالنَّاسُ لاَ يَكَادُ يَعْرِفُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ بِالظُّهْرِ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ وَالْقَائِلُ يَقُولُ قَدِ انْتَصَفَ النَّهَارُ وَهُوَ كَانَ أَعْلَمَ مِنْهُمْ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ بِالْعَصْرِ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ بِالْمَغْرِبِ حِينَ وَقَعَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ ثُمَّ أَخَّرَ الْفَجْرَ مِنَ الْغَدِ حَتَّى انْصَرَفَ مِنْهَا وَالْقَائِلُ يَقُولُ قَدْ طَلَعَتِ الشَّمْسُ أَوْ كَادَتْ ثُمَّ أَخَّرَ الظُّهْرَ حَتَّى كَانَ قَرِيبًا مِنْ وَقْتِ الْعَصْرِ بِالأَمْسِ ثُمَّ أَخَّرَ الْعَصْرَ حَتَّى انْصَرَفَ مِنْهَا وَالْقَائِلُ يَقُولُ قَدِ احْمَرَّتِ الشَّمْسُ ثُمَّ أَخَّرَ الْمَغْرِبَ حَتَّى كَانَ عِنْدَ سُقُوطِ الشَّفَقِ ثُمَّ أَخَّرَ الْعِشَاءَ حَتَّى كَانَ ثُلُثُ اللَّيْلِ الأَوَّلُ ثُمَّ أَصْبَحَ فَدَعَا السَّائِلَ فَقَالَ " الْوَقْتُ بَيْنَ هَذَيْنِ " .
বর্ণনাকারী আবূ মূসা (রাঃ)
জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে এসে সলাতের সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জবাব দিলেন না [তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাজের মাধ্যমে তাকে দেখিয়ে দিতে চাচ্ছিলেন]। বর্ণনাকারী সাহাবী আবূ মূসা বলেন, উষার আগমনের সাথে সাথেই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজরের সলাত আদায় করলেন। তখনও অন্ধকার এতটা ছিল যে, লোকজন একে অপরকে দেখে চিনতে পারছিল না। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আযান দিতে আদেশ করলেন এবং লোকজন বলাবলি করছিল যে, দুপুর হয়েছে। অথচ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এ বিষয়ে তাদের চেয়ে বেশী অবহিত। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আসরের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় ‘আসরের সলাত আদায় করলেন যখন সূর্য আকাশের বেশ উপরের দিকে ছিল। অতঃপর তিনি মাগরিবের সলাতের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় সলাত আদায় করলেন যখন সবেমাত্র সূর্যাস্ত হয়েছে। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘ইশার সলাতের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় ‘ইশার সলাত আদায় করলেন যখন সান্ধ্যকালীন দিগন্ত লালিমা সবেমাত্র অস্তমিত হয়েছে। এরপর দিন সকালে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজরের সলাত দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, যখন সলাত শেষ করলেন তখন লোকজন বলাবলি করছিল- সূর্যোদয় ঘটেছে বা সূর্যোদয়ের উপক্রম হয়েছে। এরপর যুহরের সলাত এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, গত দিনের ‘আসরের সলাত যে সময় আদায় করে ছিলেন প্রায় সে সময় এসে গেল। অতঃপর ‘আসরের সলাতটাও এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, সলাত শেষ করলে লোকজন বলাবলি করতে লাগল - সূর্য রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। তারপর মাগরিবের সলাতও দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করলেন যে সান্ধ্যকালীন দিগন্ত লালিমা তখন অন্তর্হিত হয়ে যাচ্ছিল। এরপর ‘ইশার সলাতও দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়ে গেল এবং অতিক্রান্ত হওয়ার উপক্রম হলো। অতঃপর সকাল বেলা প্রশ্নকারীকে ডেকে বললেনঃ এ দুটি সময়ের মধ্যবর্তী সময়টুকুই সলাতসমূহের সময় (অর্থাৎ- দু’দিনে আমি একই সময়ে সলাত আদায় না করে একই সলাতের সময়ের মধ্যে কিছু তারতম্য করে আদায় করলাম। এ উভয় সময়ের মধ্যকার সময়টুকু প্রত্যেক ওয়াক্তের প্রকৃত সময়)। (ই.ফা.১২৬৭, ই.সে.১২৮০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৮১
হাদিস নং ১২৮১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ بَدْرِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مُوسَى، سَمِعَهُ مِنْهُ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ سَائِلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ عَنْ مَوَاقِيتِ الصَّلاَةِ . بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ نُمَيْرٍ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ قَبْلَ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ فِي الْيَوْمِ الثَّانِي .
বর্ণনাকারী আবূ মূসা আল আশ’আরী (রাঃ)
তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে এসে তাকে সলাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল - পরবর্তী অংশ উপরোক্ত হাদীসের মতো। তবে এ হাদীসের বর্ণনাকারী বলেছেন যে, দ্বিতীয় দিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সান্ধ্যকালীন দিগন্ত লালিমা অন্তর্হিত হওয়ার পূর্বে মাগরিবের সলাত আদায় করলেন। (ই.ফা.১২৬৮, ই.সে.১২৮১)
৩২. অধ্যায়ঃ
জামা’আতে রওনাকারীর জন্য পথিমধ্যে তীব্র গ্রীস্মের সময় তাপ ঠান্ডা হয়ে আসলে যুহর আদায় করা মুস্তাহাব
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৮২
হাদিস নং ১২৮২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخ ْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ গরমের প্রচন্ডতা দেখা দিলে (যুহরের) সলাত দেরী করে গরমের প্রচন্ডতা কমলে আদায় করো। গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়া থেকেই হয়ে থাকে। (ই.ফা.১২৬৯, ই.সে.১২৮২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৮৩
হাদিস নং ১২৮৩
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، وَسَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُمَا سَمِعَا أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ سَوَاءً .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন ……… পরবর্তী অংশ উপরোক্ত হাদীসের মতো। (ই.ফা.১২৭০, ই.সে.১২৮৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৮৪
হাদিস নং ১২৮৪
وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، وَعَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، قَالَ عَمْرٌو أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ بُكَيْرًا، حَدَّثَهُ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، وَسَلْمَانَ الأَغَرِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كَانَ الْيَوْمُ الْحَارُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ " قَالَ عَمْرٌو وَحَدَّثَنِي أَبُو يُونُسَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاَةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ " قَالَ عَمْرٌو وَحَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ ذَلِكَ
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ গরমের দিনে (যুহরের) সলাত (গরমের প্রচন্ডতা হ্রাস পেয়ে ঠান্ডা হলে) আদায় করো। কারণ গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়ানো থেকেই হয়ে থাকে। ‘আমর বলেছেনঃ আবূ ইউনুস আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) - এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা উত্তাপ ঠান্ডা হলে যুহরের সলাত আদায় কর, কেননা গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়ানো থেকেই হয়ে থাকে। ইবনু শিহাব, ইবনু মুসাইয়্যিব এবং আবূ সালামাহ্ ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) - এর মাধ্যমে ‘আমর (রহঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা.১২৭১, ই.সে.১২৮৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৮৫
হাদিস নং ১২৮৫
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ هَذَا الْحَرَّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এ (প্রচন্ডতা) গরম জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়া থেকেই উৎপন্ন হয়ে থাকে। সুতরাং তোমরা (যুহরের) সলাত দেরী করে (গরম কমে গেলে) আদায় কর। (ই.ফা.১২৭২, ই.সে.১২৮৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৮৬
হাদিস নং ১২৮৬
حَدَّثَنَا ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَبْرِدُوا عَنِ الْحَرِّ فِي الصَّلاَةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ " .
বর্ণনাকারী হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ)
তিনি বলেন, আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) আমার কাছে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তীব্র গরমের সময় সলাত আদায় না করে পরে (গরম কমলে) সলাত আদায় কর। কেননা, প্রচন্ড গরম জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার কারণেই সৃষ্টি হয়। (ই.ফা.১২৭৩, ই.সে.১২৮৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৮৭
হাদিস নং ১২৮৭
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ مُهَاجِرًا أَبَا الْحَسَنِ، يُحَدِّثُ أَنَّهُ سَمِعَ زَيْدَ بْنَ وَهْبٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ أَذَّنَ مُؤَذِّنُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالظُّهْرِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَبْرِدْ أَبْرِدْ " . أَوْ قَالَ " انْتَظِرِ انْتَظِرْ " . وَقَالَ " إِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ فَإِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاَةِ " . قَالَ أَبُو ذَرٍّ حَتَّى رَأَيْنَا فَىْءَ التُّلُولِ .
বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ)
তিনি বলেন, (একদিন) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর মুয়াযযিন যুহরের সলাতের আযান দিলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেছেনঃ আরে একটু ঠান্ডা হতে দাও না। অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) বললেনঃ কিছু সময় অপেক্ষা কর। তিনি আরো বললেন যে, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার কারণে হয়ে থাকে। সুতরাং গরম প্রচন্ডতা ধারণ করলে সলাত দেরী করে একটু ঠান্ডা হলে আদায় কর। আবূ যার (হাদীস বর্ণনাকারীর সহাবী) বলেনঃ (প্রচন্ড গরমের সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন সময় সলাত আদায় করতেন যে সময়) আমরা টিলার ছায়া দেখতে পেতাম। (ই.ফা.১২৭৪, ই.সে.১২৮৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৮৮
হাদিস নং ১২৮৮
وَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، - وَاللَّفْظُ لِحَرْمَلَةَ - أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اشْتَكَتِ النَّارُ إِلَى رَبِّهَا فَقَالَتْ يَا رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا . فَأَذِنَ لَهَا بِنَفَسَيْنِ نَفَسٍ فِي الشِّتَاءِ وَنَفَسٍ فِي الصَّيْفِ فَهُوَ أَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الْحَرِّ وَأَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الزَّمْهَرِيرِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জাহান্নাম তার প্রভু আল্লাহর কাছে এ বলে ফরিয়াদ করল যে, তার এক অংশ আরেক অংশকে খেয়ে ফেলছে। সুতরাং আল্লাহ তা’আলা জাহান্নামকে দু’বার শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুমতি দিলেন। একবার শীতকালে এবং আরেক বার গ্রীস্মকালে। তোমরা যে প্রচন্ড গরমের অনুভব করে থাকো তা এ কারণেই। (ই.ফা.১২৭৫, ই.সে.১২৮৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৮৯
হাদিস নং ১২৮৯
وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، مَوْلَى الأَسْوَدِ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَمُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كَانَ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاَةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ " . وَذَكَرَ " أَنَّ النَّارَ اشْتَكَتْ إِلَى رَبِّهَا فَأَذِنَ لَهَا فِي كُلِّ عَامٍ بِنَفَسَيْنِ نَفَسٍ فِي الشِّتَاءِ وَنَفَسٍ فِي الصَّيْفِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ গরমের সময় যুহরের সলাত দেরী করে (গরমের প্রচন্ডতা কমলে) আদায় কর। কেননা, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়াতেই হয়ে থাকে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ জাহান্নাম তার প্রভু আল্লাহর কাছে অভিযোগ করলে মহান আল্লাহ তা’আলা তাকে প্রতি বছর দু’বার শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুমতি দিলেন। শীতকালে একবার এবং গ্রীস্মকালে একবার। (ই.ফা.১২৭৬, ই.সে.১২৮৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৯০
হাদিস নং ১২৯০
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ، قَالَ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُسَامَةَ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَالَتِ النَّارُ رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا فَأْذَنْ لِي أَتَنَفَّسْ . فَأَذِنَ لَهَا بِنَفَسَيْنِ نَفَسٍ فِي الشِّتَاءِ وَنَفَسٍ فِي الصَّيْفِ فَمَا وَجَدْتُمْ مِنْ بَرْدٍ أَوْ زَمْهَرِيرٍ فَمِنْ نَفَسِ جَهَنَّمَ وَمَا وَجَدْتُمْ مِنْ حَرٍّ أَوْ حَرُورٍ فَمِنْ نَفَسِ جَهَنَّمَ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জাহান্নাম অভিযোগ করে আল্লাহর কাছে বলল, হে আমার প্রভু! আমার এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলছে। সুতরাং আমাকে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের অনুমতি দিন। তাই আল্লাহ তা’আলা তাকে দুবার শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুমতি দান করলেন। একবার শীত মৌসুমে আরেকবার গ্রীষ্ম মৌসুমে। তোমরা শীতকালে যে ঠান্ডা অনুভব করে থাকো তা জাহান্নামের শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণ। আবার যে গরমে বা প্রচন্ড উত্তাপ অনুভব করে থাকো তাও জাহান্নামের শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে। (ই.ফা.১২৭৭, ই.সে.১২৯০)
৩৩. অধ্যায়ঃ
প্রচন্ড রোদ না হলে যুহরের সলাত আও্ওয়াল ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৯১
হাদিস নং ১২৯১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، كِلاَهُمَا عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، وَابْنِ، مَهْدِيٍّ - قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، - عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الظُّهْرَ إِذَا دَحَضَتِ الشَّمْسُ .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, সূর্য (মাথার উপর থেকে) হেলে পড়লেই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাত আদায় করতেন। (ই.ফা.১২৭৮, ই.সে.১২৯১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৯২
হাদিস নং ১২৯২
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، سَلاَّمُ بْنُ سُلَيْمٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ خَبَّابٍ، قَالَ شَكَوْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ فِي الرَّمْضَاءِ فَلَمْ يُشْكِنَا .
বর্ণনাকারী খাব্বাব (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা গরমের সময় সলাত আদায় করা সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে গিয়ে অভিযোগ করলে তিনি আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করলেন। (ই.ফা.১২৭৯, ই.সে.১২৯২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৯৩
হাদিস নং ১২৯৩
وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، وَعَوْنُ بْنُ سَلاَّمٍ، - قَالَ عَوْنٌ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ يُونُسَ، وَاللَّفْظُ، لَهُ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، - قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ خَبَّابٍ، قَالَ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَشَكَوْنَا إِلَيْهِ حَرَّ الرَّمْضَاءِ فَلَمْ يُشْكِنَا . قَالَ زُهَيْرٌ قُلْتُ لأَبِي إِسْحَاقَ أَفِي الظُّهْرِ قَالَ نَعَمْ . قُلْتُ أَفِي تَعْجِيلِهَا قَالَ نَعَمْ .
বর্ণনাকারী খাব্বাব (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে গিয়ে প্রচন্ড গরমের (সলাত আদায়ের ব্যাপারে) অভিযোগ করলাম। কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করলেন না। বর্ণনাকারী যুহায়র বললেন, আমি আবূ ইসহাক্বকে জিজ্ঞেস করলামঃ তারা (খাব্বাব ও অন্য সাহাবীগণ) কি যুহরের সলাত (প্রচন্ড গরমের মধ্যে) আদায় করা সম্পর্কে অভিযোগ করেছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।আমি (যুহায়র) আবারও জিজ্ঞেস করলাম (যুহরের সলাত) আগে ভাগে অর্থাৎ- ওয়াক্তের প্রথম দিকে আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন? তিনি এবারও বললেন, হ্যাঁ। (ই.ফা.১২৮০, ই.সে.১২৯৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৯৪
হাদিস নং ১২৯৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ غَالِبٍ الْقَطَّانِ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شِدَّةِ الْحَرِّ فَإِذَا لَمْ يَسْتَطِعْ أَحَدُنَا أَنْ يُمَكِّنَ جَبْهَتَهُ مِنَ الأَرْضِ بَسَطَ ثَوْبَهُ فَسَجَدَ عَلَيْهِ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, প্রচন্ড গরমের সময়ও আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সাথে (যুহরের) সলাত আদায় করতাম। আমাদের কেউ যখন (গরমের প্রচন্ডতার কারণে সাজদার সময়) কপাল মাটিতে স্থাপন করতে পারত না তখন সে কাপড় বিছিয়ে তার উপর সাজদাহ্ করত। (ই.ফা.১২৮১, ই.সে.১২৯৪)
৩৪. অধ্যায়ঃ
‘আসরের সলাত আগে আগে আদায় করা মুস্তাহাব
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৯৫
হাদিস নং ১২৯৫
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ حَيَّةٌ فَيَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى الْعَوَالِي فَيَأْتِي الْعَوَالِيَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ . وَلَمْ يَذْكُرْ قُتَيْبَةُ فَيَأْتِي الْعَوَالِيَ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সময় সলাত আদায় করতেন সূর্য তখনও আকাশের অনেক উপরে অবস্থান করত এবং তখনও তার তেজ বিদ্যমান থাকত। (অর্থাৎ-তেজ কমে বর্ণ পরিবর্তন হত না) সলাত শেষে যার দরকার পড়ত সে মাদীনার ‘আওয়ালী বা শহরতলীর দিকে চলে যেত এবং সেখানে পৌছার পরেও সূর্য আকাশের বেশ উপরে থাকত।[১]তবে বর্ণনাকারী কুতায়বাহ্ তার বর্ণনায় “তারা ‘আওয়ালী বা শহরতলীর দিকে চলে যেত” কথাটা উল্লেখ করেননি। (ই.ফা.১২৮২, ই.সে.১২৯৫)
[১] ‘আওয়ালী মাদীনাহ্ নগরীর চতুস্পার্শ্বস্থ গ্রামসমূহ যেগুলো মাদীনার ২/৩ মাইল থেকে ৮ মাইল পর্যন্ত সীমানায় অবস্থিত। (শারহে মুসলিম- ১ম খন্ড ২২৫ পৃষ্ঠা) ]
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৯৬
হাদিস নং ১২৯৬
وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسٍ، . أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ بِمِثْلِهِ سَوَاءً .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসরের সলাত আদায় করতেন যখন ছায়া প্রতিটি বস্তুর সমান হত। (ই.ফা.১২৮৩, ই.সে.১২৯৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৯৭
হাদিস নং ১২৯৭
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الْعَصْرَ ثُمَّ يَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى قُبَاءٍ فَيَأْتِيهِمْ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা এমন সময় ‘আসরের সলাত আদায় করতাম যে সলাতের পর আমাদের মধ্যে থেকে কেউ চাইলে (মাদীনার শহরতলীর) কুবা নামক স্থানে যেয়ে পৌছত। অথচ সূর্য তখনও অনেক উপরে অবস্থান করত। (ই.ফা. ১২৮৪, ই.সে. ১২৯৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৯৮
হাদিস নং ১২৯৮
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الْعَصْرَ ثُمَّ يَخْرُجُ الإِنْسَانُ إِلَى بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ فَيَجِدُهُمْ يُصَلُّونَ الْعَصْرَ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সাথে এমন সময় ‘আসরের সলাত আদায় করতাম যে তারপর লোকজন বানী ‘আমর ইকনু ‘আওফ গোত্রের এলাকায় গিয়ে দেখতে পেত যে, তারা তখন মাত্র আসরের সলাত আদায় করছে। (ই.ফা.১২৮৫, ই.সে.১২৯৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১২৯৯
হাদিস নং ১২৯৯
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فِي دَارِهِ بِالْبَصْرَةِ حِينَ انْصَرَفَ مِنَ الظُّهْرِ وَدَارُهُ بِجَنْبِ الْمَسْجِدِ فَلَمَّا دَخَلْنَا عَلَيْهِ قَالَ أَصَلَّيْتُمُ الْعَصْرَ فَقُلْنَا لَهُ إِنَّمَا انْصَرَفْنَا السَّاعَةَ مِنَ الظُّهْرِ . قَالَ فَصَلُّوا الْعَصْرَ . فَقُمْنَا فَصَلَّيْنَا فَلَمَّا انْصَرَفْنَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِ يَجْلِسُ يَرْقُبُ الشَّمْسَ حَتَّى إِذَا كَانَتْ بَيْنَ قَرْنَىِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَهَا أَرْبَعًا لاَ يَذْكُرُ اللَّهَ فِيهَا إِلاَّ قَلِيلاً " .
বর্ণনাকারী ‘আলা ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহঃ)
তিনি বলেন, তিনি একদিন আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) - এর বসরাস্থ বাড়ীতে গেলেন। আর বাড়ীটি মসজিদের পাশেই অবস্থিত ছিল। তিনি (‘আলা ইবনু ‘আবদুর রহমান) তখন সবেমাত্র যুহরের সলাত আদায় করছেন। ‘আলা ইবনু ‘আবদুর রহমান বলেনঃ আমরা তাঁর (আনাস ইবনু মালিকের) কাছে গেলে তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি আসরের সলাত আদায় করেছ? আমরা জবাবে তাঁকে বললাম, আমরা এইমাত্র যুহরের সলাত আদায় করে আসলাম। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ যাও ‘আসরের সলাত আদায় করে আসো। এরপর আমরা গিয়ে আসরের সলাত আদায় করে তার কাছে ফিরে আসলে তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ ঐ সলাত হলো মুনাফিকের সলাত যে বসে বসে সূর্যের প্রতি তাকাতে থাকে আর যখন তা অস্তপ্রায় হয়ে যায় তখন উঠে গিয়ে চারবার ঠোকর মেরে আসে।এভাবে সে আল্লাহকে কমই স্মরণ করতে পারে। (ই.ফা.১২৮৬, ই.সে.১২৯৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩০০
হাদিস নং ১৩০০
وَحَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ بْنَ سَهْلٍ، يَقُولُ صَلَّيْنَا مَعَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الظُّهْرَ ثُمَّ خَرَجْنَا حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فَوَجَدْنَاهُ يُصَلِّي الْعَصْرَ فَقُلْتُ يَا عَمِّ مَا هَذِهِ الصَّلاَةُ الَّتِي صَلَّيْتَ قَالَ الْعَصْرُ وَهَذِهِ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله تعالى عليه وسلم الَّتِي كُنَّا نُصَلِّي مَعَهُ .
বর্ণনাকারী আবূ ‘উসামাহ্ ইবনু সাহর (রহঃ)
তিনি বলেন, আমরা একদিন ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) -এর সাথে যুহরের সলাত আদায় করলাম এবং সেখান থেকে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) - এর কাছে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম তিনি ‘আসরের সলাত আদায় করছেন। সলাত শেষে আমি জিজ্ঞেস করলামঃ চাচাজান, এখন আপনি কোন ওয়াক্তের সলাত আদায় করলেন? তিনি বললেনঃ ‘আসর , আর এটিই হচ্ছে রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাত যা আমরা তার সাথে আদায় করতাম। (ই.ফা.১২৮৭, ই.সে.১৩৯৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩০১
হাদিস নং ১৩০১
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ الْعَامِرِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، - وَأَلْفَاظُهُمْ مُتَقَارِبَةٌ - قَالَ عَمْرٌو أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ مُوسَى بْنَ سَعْدٍ الأَنْصَارِيَّ، حَدَّثَهُ عَنْ حَفْصِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَصْرَ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَتَاهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نُرِيدُ أَنْ نَنْحَرَ جَزُورًا لَنَا وَنَحْنُ نُحِبُّ أَنْ تَحْضُرَهَا . قَالَ " نَعَمْ " . فَانْطَلَقَ وَانْطَلَقْنَا مَعَهُ فَوَجَدْنَا الْجَزُورَ لَمْ تُنْحَرْ فَنُحِرَتْ ثُمَّ قُطِّعَتْ ثُمَّ طُبِخَ مِنْهَا ثُمَّ أَكَلْنَا قَبْلَ أَنْ تَغِيبَ الشَّمْسُ . وَقَالَ الْمُرَادِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ وَعَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সাথে আসরের সলাত আদায় করলেন। সলাত শেষে বানী সালামাহ্ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি তার কাছে এসে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! আমরা আমাদের একটা উট যবেহ করতে চাই। আমরা চাই আপনিও সেখানে উপস্থিত থাকুন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আচ্ছা, ঠিক আছে। এরপর তিনি রওয়ানা হলে আমরাও তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা গিয়ে দেখলাম উটটি তখনও যবেহ করা হয়নি। উটটি যবেহ করতে প্রস্তুত করা হলো এবং তার কিছু গোশত রান্না করা হলো। সূর্যাস্তের পূর্বেই আমরা তা খেলাম। (ই.ফা.১২৮৮, ই.সে.১৩০০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩০২
হাদিস নং ১৩০২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ أَبِي النَّجَاشِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ، يَقُولُ كُنَّا نُصَلِّي الْعَصْرَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ تُنْحَرُ الْجَزُورُ فَتُقْسَمُ عَشَرَ قِسَمٍ ثُمَّ تُطْبَخُ فَنَأْكُلُ لَحْمًا نَضِيجًا قَبْلَ مَغِيبِ الشَّمْسِ .
বর্ণনাকারী রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ)
আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে এমন সময় আসরের সলাত আদায় করতাম যে সলাতের পর উট যাবাহ করা হত। [১] তা দশ ভাগে বিভক্ত করা হত। এরপর তা রান্না করে সূর্যাস্তের পূর্বেই সু-সিদ্ধ গোশত খেতাম। (ই.ফা.১২৮৯, ই.সে.১৩০১)
[১] উটকে যাবাহ করা হয় না বরং নাহর করা হয়। সামনের বাম দিকে বেঁধে দাঁড়ানো অবস্থায় কন্ঠনালীর প্রথমে দু’দিকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে, তারপর রক্ত ঝরে নিজে নিজেই পড়ে যায়।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩০৩
হাদিস নং ১৩০৩
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، وَشُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ الدِّمَشْقِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ كُنَّا نَنْحَرُ الْجَزُورَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ الْعَصْرِ . وَلَمْ يَقُلْ كُنَّا نُصَلِّي مَعَهُ .
বর্ণনাকারী আওযা’ঈ (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর যুগে আমরা আসরের সলাতের পর উট যবেহ করতাম। কিন্তু তিনি বলেননি যে, ‘আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে (‘আসরের) সলাত আদায় করতাম’। (ই.ফা.১২৯০, ই.সে.১৩০২)
৩৫. অধ্যায়ঃ
‘আসরের সলাত ছুটে যাওয়া সম্পর্কে
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩০৪
হাদিস নং ১৩০৪
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الَّذِي تَفُوتُهُ صَلاَةُ الْعَصْرِ كَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির ‘আসরের সলাত ক্বাযা হয় তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেল। [১] (ই.ফা.১২৯১, ই.সে.১৩০৩)
[১] অর্থাৎ ‘আসর ছুটে যাওয়ায় তার সওয়াবের অবস্থা এমনিভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় যাতে কেবল আফসোস ও অনুতাপ দেখা দেয়। (শারহে মুসলিম ১ম খন্ড ২২৬পৃষ্ঠা) ]
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩০৫
হাদিস নং ১৩০৫
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، . قَالَ عَمْرٌو يَبْلُغُ بِهِ . وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَفَعَهُ .
বর্ণনাকারী হাদীসটি ইবনু উমার (রাঃ)
তবে ‘আমর শুধু বর্ণনাই করেছেন। আর আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ মারফূ’ হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা.১২৯২, ই.সে.১৩০৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩০৬
হাদিস নং ১৩০৬
وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ فَاتَتْهُ الْعَصْرُ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির আসরের সলাত ক্বাযা হলো তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেল। (ই.ফা.১২৯৩, ই.সে.১৩০৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩০৭
হাদিস নং ১৩০৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ الأَحْزَابِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَلأَ اللَّهُ قُبُورَهُمْ وَبُيُوتَهُمْ نَارًا كَمَا حَبَسُونَا وَشَغَلُونَا عَنِ الصَّلاَةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَابَتِ الشَّمْسُ " .
বর্ণনাকারী ‘আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ)
তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেনঃ আল্লাহ তা’আলা তাদের ক্ববর ও ঘর-বাড়ী যেন আগুন দিয়ে ভরে দেন। কারণ তারা আমাদেরকে যুদ্ধের কাজ-কর্মে ব্যস্ত রেখে ‘সলাতুল উসত্বা’ (আসরের সলাত) থেকে বিরত রেখেছে এবং এ অবস্থায়ই সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল। (ই.ফা.১২৯৪, ই.সে.১৩০৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩০৮
হাদিস নং ১৩০৮
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، ح وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، جَمِيعًا عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .
হিশাম (রহঃ) - এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা.১২৯৫, ই.সে.১৩০৭)
৩৬. অধ্যায়ঃ
যারা বলে মধ্যবর্তী সলাত হচ্ছে ‘আসরের সলাত-তার দলীল
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩০৯
হাদিস নং ১৩০৯
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي حَسَّانَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الأَحْزَابِ " شَغَلُونَا عَنْ صَلاَةِ الْوُسْطَى حَتَّى آبَتِ الشَّمْسُ مَلأَ اللَّهُ قُبُورَهُمْ نَارًا أَوْ بُيُوتَهُمْ أَوْ بُطُونَهُمْ " . شَكَّ شُعْبَةُ فِي الْبُيُوتِ وَالْبُطُونِ .
বর্ণনাকারী ‘আলী (রাঃ)
তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তারা (কাফিররা) আমাদের (যুদ্ধ তৎপরতায়) ব্যস্ত রাখার কারণে আমরা আসরের সলাত আদায় করতে পারিনি এবং এ অবস্থায়ই সূর্য অস্তমিত হয়েছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা যেন তাদের ক্ববর, বাড়ী-ঘর ও পেটসমূহ আগুন দ্বারা ভর্তি করে দেন। বর্ণনাকারী শু‘বাহ্ ঘর-বাড়ী ও পেটসমূহ কথাটি সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন। (ই.ফা.১২৯৬, ই.সে.১৩০৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩১০
হাদিস নং ১৩১০
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " بُيُوتَهُمْ وَقُبُورَهُمْ " . وَلَمْ يَشُكَّ .
বর্ণনাকারী কাতাদাহ্ (রাঃ)
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে ‘বুয়ূতাহুম ও কুবূরাহুম’ তাদের ‘ঘর-বাড়ী ও ক্ববরসমূহ’ সম্পর্কে কোন সন্দেহ পোষণ করেননি। (ই.ফা.১২৯৭, ই.সে.১৩০৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩১১
হাদিস নং ১৩১১
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْجَزَّارِ، عَنْ عَلِيٍّ، ح وَحَدَّثَنَاهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ يَحْيَى، سَمِعَ عَلِيًّا، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الأَحْزَابِ وَهُوَ قَاعِدٌ عَلَى فُرْضَةٍ مِنْ فُرَضِ الْخَنْدَقِ " شَغَلُونَا عَنِ الصَّلاَةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ مَلأَ اللَّهُ قُبُورَهُمْ وَبُيُوتَهُمْ - أَوْ قَالَ قُبُورَهُمْ وَبُطُونَهُمْ - نَارًا " .
বর্ণনাকারী ‘আলী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন খন্দকের একটি খাঁজ বা সংকীর্ণ পথের উপর বসে বললেনঃ তারা (কাফিররা) আমাদেরকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে “সলাতুল উসত্বা” (মধ্যবর্তী সময়ের সলাত বা আসরের সলাত) আদায় করা থেকে বিরত রেখেছে এবং এমনকি এ অবস্থায়ই সূর্য অস্তমিত হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ তা’আলা ওদের ক্ববর ও বাড়ি-ঘর অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) বললেনঃ ক্ববরসমূহ অথবা পেট আগুন দ্বারা যেন ভর্তি করে দেন। (ই.ফা.১২৯৮, ই.সে.১৩১০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩১২
হাদিস নং ১৩১২
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ صُبَيْحٍ، عَنْ شُتَيْرِ بْنِ شَكَلٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الأَحْزَابِ " شَغَلُونَا عَنِ الصَّلاَةِ الْوُسْطَى صَلاَةِ الْعَصْرِ مَلأَ اللَّهُ بُيُوتَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا " . ثُمَّ صَلاَّهَا بَيْنَ الْعِشَاءَيْنِ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ .
বর্ণনাকারী ‘আলী (রাঃ)
তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তারা কাফিররা আমাদেরকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে সলাতুল উসত্বা (মধ্যবর্তীকালীন সলাত, অর্থাৎ- আসরের সলাত) থেকে বিরত রেখেছে। আল্লাহ তা’আলা ওদের ঘর-বাড়ী ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিন। অতঃপর তিনি এ সলাত মাগরিব এবং ইশার সলাতের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করলেন। [১] (ই.ফা.১২৯৯, ই.সে.১৩১১)
[১] নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিওয়াসাল্লাম) আসর সলাত আদায় করার বিলম্ব হওয়া সলাতুল খাওফ বা ভীতিকালীন সলাতের বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বেছিল। কিংবা অতি ব্যস্ততার কারণে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিওয়াসাল্লাম) ভুলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে শত্রুর মুকাবিলা, যুদ্ধক্ষেত্রে এবং ভুলে না গেলে সলাত বিলম্ব করা জায়িয নেই। (শারহে মুসলিম-১ম খন্ড ২২৭ পৃষ্ঠা) ]
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩১৩
হাদিস নং ১৩১৩
وَحَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ سَلاَّمٍ الْكُوفِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ الْيَامِيُّ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَبَسَ الْمُشْرِكُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ حَتَّى احْمَرَّتِ الشَّمْسُ أَوِ اصْفَرَّتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " شَغَلُونَا عَنِ الصَّلاَةِ الْوُسْطَى صَلاَةِ الْعَصْرِ مَلأَ اللَّهُ أَجْوَافَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا " . أَوْ قَالَ " حَشَا اللَّهُ أَجْوَافَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ)
তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন মুশরিকগণ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে সলাত থেকে বিরত রাখল। এমনকি সূর্য লাল অথবা (বলেছেন) তাম্রবর্ণ ধারণ করল। এ অবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তারা (মুশরিকরা) আমাকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে ‘সলাতুল উসত্বা’ (মধ্যবর্তীকালীন সলাত, অর্থাৎ- আসরের সলাত) থেকে বিরত রাখল। আল্লাহ যেন তাদের পেট ও কবরকে আগুন দিয়ে ভরে দেন অথবা তিনি বললেনঃ (আরবী) (এখানে শুধু শাব্দিক তারতম্য দেখানো হয়েছে। অর্থের কোন পার্থক্য নেই)। (ই.ফা.১৩০০, ই.সে.১৩১২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩১৪
হাদিস নং ১৩১৪
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي يُونُسَ، مَوْلَى عَائِشَةَ أَنَّهُ قَالَ أَمَرَتْنِي عَائِشَةُ أَنْ أَكْتُبَ لَهَا مُصْحَفًا وَقَالَتْ إِذَا بَلَغْتَ هَذِهِ الآيَةَ فَآذِنِّي { حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى} فَلَمَّا بَلَغْتُهَا آذَنْتُهَا فَأَمْلَتْ عَلَىَّ حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَصَلاَةِ الْعَصْرِ . وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ . قَالَتْ عَائِشَةُ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) - এর আযাদকৃত ক্রীতদাস আবূ ইউনুস (রাঃ)
তিনি বলেন, এক সময়ে ‘আয়িশাহ্ আমাকে কুরআন মাজীদের এক কপি হাতে লিখে দিতে বললেনঃ লিখতে লিখতে যখন (আরবী) “তোমরা সলাতের প্রতি যত্নবান হবে বিশেষতঃ মধ্যবর্তী সলাতের” এ আয়াত পর্যন্ত পৌছবে তখন আমাকে জানাবে। আবূ ইউনুস বলেন, আমি এ আয়াতের কাছে পৌছলে তাঁকে জানালাম। তখন তিনি আমাকে আয়াতটি এভাবে লিখতে বললেন, (আরবী) “সব সলাতের রক্ষণাবেক্ষণ কর। আর সলাতুল ‘উসত্বা (মধ্যবর্তী সলাতের) ও ‘আসরের সলাতের রক্ষণাবেক্ষণ কর এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে অনুগত ও বিনীত হয়ে দাঁড়াও”।এভাবে লেখানোর পর ‘আয়িশাহ্ বললেনঃ আমি আয়াতটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট থেকে শুনেছি। (ই.ফা.১৩০১, ই.সে.১৩১৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩১৫
হাদিস নং ১৩১৫
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ مَرْزُوقٍ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَصَلاَةِ الْعَصْرِ . فَقَرَأْنَاهَا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نَسَخَهَا اللَّهُ فَنَزَلَتْ { حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى} فَقَالَ رَجُلٌ كَانَ جَالِسًا عِنْدَ شَقِيقٍ لَهُ هِيَ إِذًا صَلاَةُ الْعَصْرِ . فَقَالَ الْبَرَاءُ قَدْ أَخْبَرْتُكَ كَيْفَ نَزَلَتْ وَكَيْفَ نَسَخَهَا اللَّهُ . وَاللَّهُ أَعْلَمُ .قَالَ مُسْلِمٌ وَرَوَاهُ الأَشْجَعِيُّ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ قَرَأْنَاهَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم زَمَانًا . بِمِثْلِ حَدِيثِ فُضَيْلِ بْنِ مَرْزُوقٍ .
বর্ণনাকারী বারা ইবনু আযিব (রাঃ)
তিনি বলেন, এ আয়াতটি এভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল- (আরবী)। যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা ছিল ততদিন এভাবেই আমরা আয়াতটি তিলাওয়াত করতাম। অতঃপর মহান আল্লাহ আয়াতটি ‘মানসূখ’ বা বাতিল ঘোষণা করে এভাবে অবতীর্ণ করলেন, (আরবী) (পূর্বোক্ত আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায় সলাত সমূহের ও আসরের সলাতের রক্ষণাবেক্ষণ করো। পরবর্তীকালে নাযিলকৃত আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায় সলাতসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ করো এবং (আরবী) বা মধ্যবর্তী কালীন সলাতের রক্ষণাবেক্ষণ করো। বর্ণনাকারী শ্বাক্বীক ইবনু ‘উকবাহ্ এর কাছে জনৈক ব্যক্তি বসেছিল। এ কথা শুনে তিনি বারা ইবনু ‘আযিবকে লক্ষ্য করে বললঃ তাহলে তো এ কথা দ্বারা আসরের সলাতই বুঝায়। বারা ইবনু ‘আযিব তাকে বললেনঃ কী পরিস্থিতিতে কেমন করে পূর্বোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে কেমন করে তা ‘মানসূখ’ বা বাতিল হয়েছিল, তা আমি তোমাকে বলে দিয়েছি। আর আল্লাহ তা’আলাই এ সম্পর্কে সমধিক পরিজ্ঞাত। (ই.সে.১৩১৪) ইমাম মুসলিম বলেছেনঃ আশজা’ঈ (রহঃ) …… বারাইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন যাবৎ আমরা ও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াতটি (পূর্বোক্তরূপে) পড়তাম। ফুযায়ল ইবনু মারযূক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ই.ফা.১৩০২, ই.সে.১৩১৪ (ক) )
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩১৬
হাদিস নং ১৩১৬
وَحَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ مُعَاذِ بْنِ هِشَامٍ، - قَالَ أَبُو غَسَّانَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، - حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَوْمَ الْخَنْدَقِ جَعَلَ يَسُبُّ كُفَّارَ قُرَيْشٍ وَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا كِدْتُ أَنْ أُصَلِّيَ الْعَصْرَ حَتَّى كَادَتْ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَوَاللَّهِ إِنْ صَلَّيْتُهَا " . فَنَزَلْنَا إِلَى بُطْحَانَ فَتَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَوَضَّأْنَا فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَصْرَ بَعْدَ مَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى بَعْدَهَا الْمَغْرِبَ .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, খন্দকে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন ‘উমার ইবনুল খাত্তাব কাফির কুরায়শদের ভর্ৎসনা ও গালমন্দ করতে থাকলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! সূর্য এখন ডুবন্ত প্রায়। কিন্তু আজ আমি এখন পর্যন্ত আসরের সলাত আদায় করতে পারিনি। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহর শপথ, আমিও আজ এখন পর্যন্ত আসরের সলাত পড়িনি। এরপর আমরা একটি কংকরময় ভূমিতে গেলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে ওযূ করলেন, আমরাও ওযূ করলাম। এরপর তিনি (আমাদের সাথে নিয়ে) আসরের সলাত আদায় করলেন। তখন সূর্য ডু্বে গিয়েছিল। এর (আসরের সলাত আদায়ের) পর তিনি মাগরিবের সলাত আদায় করলেন। (ই.ফা.১৩০৩, ই.সে.১৩১৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩১৭
হাদিস নং ১৩১৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ، إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসীর
উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা.১৩০৪, ই.সে.১৩১৬)
৩৭. অধ্যায়ঃ
ফজর ও ‘আসর সলাতের ফযীলত এবং এ দু’টির প্রতি যত্নবান হওয়া
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩১৮
হাদিস নং ১৩১৮
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلاَئِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلاَئِكَةٌ بِالنَّهَارِ وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ وَصَلاَةِ الْعَصْرِ ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ فَيَسْأَلُهُمْ رَبُّهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي فَيَقُولُونَ تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রাতের বেলা ও দিনের বেলা মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) এক দলের পর আর এক দল তোমাদের কাছে এসে থাকে এবং তাদের উভয় দল ফজর ও আসর সলাতের সময় একত্রিত হয়। অতঃপর যারা তোমাদের সাথে রাত্রি যাপন করেছে তারা উঠে যায়। তখন তাদের প্রভু মহান আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কিরূপ অবস্থায় রেখে আসলে? যদিও তিনি তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত। মালায়িকাহ্ তখন বলেন, আমরা যখন তাদেরকে ছেড়ে চলে আসলাম তখন তারা সলাত আদায় করছিল। আবার তাদের কাছে আমরা যখন গিয়েছিলাম তখনও তারা সলাত আদায় করছিল। (ই.ফা.১৩০৫, ই.সে.১৩১৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩১৯
হাদিস নং ১৩১৯
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وَالْمَلاَئِكَةُ يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ " . بِمِثْلِ حَدِيثِ أَبِي الزِّنَادِ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মালায়িকাহ্ এক দলের পর আরেক দল তোমাদের কাছে এসে থাকে। এরপর আবুয্ যিনাদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১৩০৬, ই.সে. ১৩১৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩২০
হাদিস নং ১৩২০
وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَرِيرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، وَهُوَ يَقُولُ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ نَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ فَقَالَ " أَمَا إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لاَ تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لاَ تُغْلَبُوا عَلَى صَلاَةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا " . يَعْنِي الْعَصْرَ وَالْفَجْرَ ثُمَّ قَرَأَ جَرِيرٌ { وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا} .
বর্ণনাকারী জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে বসেছিলাম। এক সময় তিনি পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ অচিরেই (জান্নাতে) তো তোমরা তোমাদের প্রভু আল্লাহ তা’আলাকে এমন স্পষ্টভাবে দেখতে পারবে যেন এ চাঁদকে অবাধে দেখতে পাচ্ছ। (সুতরাং যদি এরূপ চাও) তাহলে সাধ্যমত সূর্যোদয়ের পূর্বের সলাত এবং সূর্যাস্তের পূর্বের সলাত উত্তম সময়ে আদায়ের মাধ্যমে আয়ত্তে রাখ। এ কথা দ্বারা তিনি ফজর ও আসরের সলাত বুঝালেন। অতঃপর জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ এ আয়াতটি পাঠ করলেন, (আরবী) “তুমি তোমার প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা ও প্রশংসা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে - (সূরাহ্ ত্ব-হা ২০:১৩০) ”। (ই.ফা.১৩০৭, ই.সে.১৩১৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩২১
হাদিস নং ১৩২১
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ وَوَكِيعٌ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " أَمَا إِنَّكُمْ سَتُعْرَضُونَ عَلَى رَبِّكُمْ فَتَرَوْنَهُ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ " . وَقَالَ ثُمَّ قَرَأَ . وَلَمْ يَقُلْ جَرِيرٌ .
বর্ণনাকারী আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) বলেন, “আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র, আবূ উসামাহ্ ও ওয়াকী’
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এতটুকু কথা অতিরিক্ত বলেছেনঃ তোমাদেরকে তোমাদের প্রভুর দরবারে পেশ করা হবে। তখন তোমরা তাঁকে এমনভাবে স্পষ্ট দেখতে পাবে যেমনভাবে এ চাঁদকে দেখতে পাচ্ছ। তিনি আরো বলেছেনঃ অতঃপর তিনি (আয়াত) পাঠ করলেন। তবে জারীর (পাঠ করলেন) কথাটা উল্লেখ করেননি। (ই.ফা.১৩০৮, ই.সে.১৩২০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩২২
হাদিস নং ১৩২২
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ جَمِيعًا عَنْ وَكِيعٍ، - قَالَ أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، - عَنِ ابْنِ أَبِي خَالِدٍ، وَمِسْعَرٍ، وَالْبَخْتَرِيِّ بْنِ الْمُخْتَارِ، سَمِعُوهُ مِنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُمَارَةَ بْنِ رُؤَيْبَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَنْ يَلِجَ النَّارَ أَحَدٌ صَلَّى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا " . يَعْنِي الْفَجْرَ وَالْعَصْرَ . فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ آنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ . قَالَ الرَّجُلُ وَأَنَا أَشْهَدُ أَنِّي سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ وَوَعَاهُ قَلْبِي .
বর্ণনাকারী আবূ বাকর ইবনু ‘উমারাহ্ ইবনু রুআয়বাহ্ তার পিতা রুআয়বাহ্
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে বলতে শুনেছিঃ এমন কোন ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের পূর্বের এবং সূর্যাস্তের পূর্বের সলাত অর্থাৎ- ফজর ও আসরের সলাত আদায় করে। এ কথা শুনে বাসরার অধিবাসী একটি লোক তাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি কি নিজে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর নিকট থেকে এ কথা শুনেছ? সে বলল, হ্যাঁ। তখন লোকটি বলে উঠল, আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি নিজে এ হাদীসটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট থেকে শুনেছি। আমার দু’কান তা শুনেছে আর মন তা স্মরণ রেখেছে। (ই.ফা.১৩০৯, ই.সে.১৩২১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩২৩
হাদিস নং ১৩২৩
وَحَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عُمَارَةَ بْنِ رُؤَيْبَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَلِجُ النَّارَ مَنْ صَلَّى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا " . وَعِنْدَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ فَقَالَ آنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ أَشْهَدُ بِهِ عَلَيْهِ . قَالَ وَأَنَا أَشْهَدُ لَقَدْ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُهُ بِالْمَكَانِ الَّذِي سَمِعْتَهُ مِنْهُ .
বর্ণনাকারী ‘উমার ইবনু রুআয়বাহ্ (রহঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে সলাত আদায় করবে সে জাহান্নামে যাবে না। এ সময় তার কাছে বাসরার অধিবাসী জনৈক ব্যক্তি বসেছিল। সে বলল, তুমি কি সরাসরি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর নিকট থেকে এ হাদীসটি শুনেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি এ হাদীসটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট থেকে শুনেছি। এ কথা শুনে বাসরার অধিবাসী লোকটি বলল-আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এ হাদীসটি আমিও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট থেকে যে স্থানে তুমি শুনেছ সে স্থানেই শুনেছি। (ই.ফা.১৩১০, ই.সে.১৩২২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩২৪
হাদিস নং ১৩২৪
وَحَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنِي أَبُو جَمْرَةَ الضُّبَعِيُّ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَلَّى الْبَرْدَيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ " .
বর্ণনাকারী আবূ বাকর তার পিতার
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দু’টি ঠান্ডা সময়ের (ফজর ও আসর) সলাত ঠিকমত আদায় করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ই.ফা.১৩১১, ই.সে.১৩২৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩২৫
হাদিস নং ১৩২৫
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ السَّرِيِّ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا ابْنُ خِرَاشٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، قَالاَ جَمِيعًا حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَنَسَبَا أَبَا بَكْرٍ فَقَالاَ ابْنُ أَبِي مُوسَى .
বর্ণনাকারী হাম্মাম (রহঃ)
একই সানাদে উপরে বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনু খিরাশ ও বিশর ইবনুস্ সারী আবূ বাকরকে আবূ মূসার সাথে সম্পর্কিত করে আবূ বাকর ইবনু আবূ মূসা বলে উল্লেখ করেছেন। (ই.ফা.১৩১২, ই.সে.১৩২৪)
৩৮. অধ্যায়ঃ
সূর্যাস্তের পর মূহুর্তেই মাগরিবের প্রথম ওয়াক্ত
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩২৬
হাদিস নং ১৩২৬
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - وَهُوَ ابْنُ إِسْمَاعِيلَ - عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَتَوَارَتْ بِالْحِجَابِ .
বর্ণনাকারী সালামাহ্ ইবনুল আকওয়া‘ (রাঃ)
তিনি বলেন, সূর্য অস্তমিত হয়ে অদৃশ্য হলেই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিবের সলাত আদায় করতেন। (ই.ফা.১৩১৩, ই.সে.১৩২৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩২৭
হাদিস নং ১৩২৭
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو النَّجَاشِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ، يَقُولُ كُنَّا نُصَلِّي الْمَغْرِبَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَنْصَرِفُ أَحَدُنَا وَإِنَّهُ لَيُبْصِرُ مَوَاقِعَ نَبْلِهِ .
বর্ণনাকারী রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে মাগরিবের সলাত আদায় করতাম। অতঃপর আমাদের কেউ তীর ছুঁড়ে তা পতিত হওয়ার জায়গা পর্যন্ত দেখতে পেত (অর্থাৎ-ওয়াক্তের প্রথমেই শীঘ্র শীঘ্র সলাত আদায় করা হত)। (ই.ফা.১৩১৪, ই.সে.১৩২৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩২৮
হাদিস নং ১৩২৮
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو النَّجَاشِيِّ، حَدَّثَنِي رَافِعُ بْنُ خَدِيجٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الْمَغْرِبَ . بِنَحْوِهِ .
বর্ণনাকারী রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা মাগরিবের সলাত আদায় করতাম (উপরে বর্ণিত হাদীসের) অনুরূপ। (ই.ফা.১৩১৫, ই.সে.১৩২৭)
৩৯. অধ্যায়ঃ
‘ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩২৯
হাদিস নং ১৩২৯
وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ الْعَامِرِيُّ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً مِنَ اللَّيَالِي بِصَلاَةِ الْعِشَاءِ وَهِيَ الَّتِي تُدْعَى الْعَتَمَةَ فَلَمْ يَخْرُجْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ نَامَ النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لأَهْلِ الْمَسْجِدِ حِينَ خَرَجَ عَلَيْهِمْ " مَا يَنْتَظِرُهَا أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ غَيْرُكُمْ " . وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يَفْشُوَ الإِسْلاَمُ فِي النَّاسِ . زَادَ حَرْمَلَةُ فِي رِوَايَتِهِ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَذُكِرَ لِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وَمَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تَنْزُرُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الصَّلاَةِ " . وَذَاكَ حِينَ صَاحَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ .
বর্ণনাকারী নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এ র স্ত্রী আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একরাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সলাত- যাকে ‘আতামাহ্ বলা হত - আদায় করতে অনেক দেরী করলেন। অনেক রাত পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন না। এমন কি শেষ পর্যন্ত উমার ইবনুল খাত্তাব যেয়ে বললেন, মেয়ে ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন এবং এসে মসজিদের লোকদেরকে বললেনঃ এ সলাতের জন্য (এত রাতে) তোমরা ছাড়া এ পৃথিবীবাসীদের আর কেউ-ই অপেক্ষা করছে না। এ ঘটনাটি ছিল মানুষের মধ্যে ইসলাম বিস্তার লাভ করার পূর্বের। হারমালাহ্ তার বর্ণনায় এতটুকু উল্লেখ করেছেন যে, ইবনু শিহাব বলেছেনঃ আমার কাছে বলা হয়েছে যে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে বললেনঃ তোমাদের জন্য এটা ঠিক নয় যে, তোমরা আল্লাহর রসূলকে সলাতের জন্য তাকিদ করবে। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব যখন উচ্চৈ স্বরে ডাকলেন তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথাটা বললেন। (ই.ফা.১৩১৬, ই.সে.১৩২৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৩০
হাদিস নং ১৩৩০
وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ . وَلَمْ يَذْكُرْ قَوْلَ الزُّهْرِيِّ وَذُكِرَ لِي . وَمَا بَعْدَهُ .
বর্ণনাকারী ইবনু শিহাব (রহঃ)
উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ সানাদে বর্ণিত হাদীসে তিনি যুহরীর কথা (আরবী) থেকে শুরু করে পরবর্তী অংশটুকু উল্লেখ করেননি। (ই.ফা.১৩১৭, ই.সে.১৩২৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৩১
হাদিস নং ১৩৩১
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، كِلاَهُمَا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بَكْرٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، - وَأَلْفَاظُهُمْ مُتَقَارِبَةٌ - قَالُوا جَمِيعًا عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي الْمُغِيرَةُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ أُمِّ كُلْثُومٍ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَعْتَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ حَتَّى ذَهَبَ عَامَّةُ اللَّيْلِ وَحَتَّى نَامَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى فَقَالَ " إِنَّهُ لَوَقْتُهَا لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي " . وَفِي حَدِيثِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ " لَوْلاَ أَنْ يَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي " .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, এক দিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সলাত আদায় করতে অনেক রাত করলেন। এমনকি রাতের বড় একটা অংশ অতিবাহিত হয়ে গেল এবং মসজিদের লোকজনও ঘুমিয়ে পড়ল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন এবং সলাত আদায় করে বললেনঃ এটাই ইশার সলাতের উত্তম সময়। তারপর তিনি বললেনঃ যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম (তাহলে এ সময়কে ‘ইশার সলাতের সময় হিসেবে নির্দিষ্ট করতাম)।‘আবদুর রাযযাক্ব বর্ণিত হাদীসে কিছুটা বর্ণনার তারতম্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যদি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টদায়ক হয়ে না দাঁড়াত। (ই.ফা.১৩১৮, ই.ফা.১৩৩০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৩২
হাদিস নং ১৩৩২
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ، زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، - عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ مَكَثْنَا ذَاتَ لَيْلَةٍ نَنْتَظِرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - لِصَلاَةِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ فَخَرَجَ إِلَيْنَا حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ أَوْ بَعْدَهُ فَلاَ نَدْرِي أَشَىْءٌ شَغَلَهُ فِي أَهْلِهِ أَوْ غَيْرُ ذَلِكَ فَقَالَ حِينَ خَرَجَ " إِنَّكُمْ لَتَنْتَظِرُونَ صَلاَةً مَا يَنْتَظِرُهَا أَهْلُ دِينٍ غَيْرُكُمْ وَلَوْلاَ أَنْ يَثْقُلَ عَلَى أُمَّتِي لَصَلَّيْتُ بِهِمْ هَذِهِ السَّاعَةَ " . ثُمَّ أَمَرَ الْمُؤَذِّنَ فَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَصَلَّى .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন রাতে ইশার সলাতে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলাম। রাতের একতৃতীয়াংশ অথবা তারও বেশী সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা জানি না তিনি পারিবারিক কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন, না অন্য কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি এসে আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা এমন এক সলাতের জন্য অপেক্ষা করছ যার জন্য তোমরা ছাড়া অন্য কোন দ্বীনের লোকেরা অপেক্ষা করছেনা। (তারপর তিনি বললেন) আমার উম্মাতের জন্য যদি ভাল না হত তাহলে আমি তাদের সাথে প্রতিদিন এসময়েই (ইশার) সলাত আদায় করতাম। এরপর তিনি মুয়াযযিনকে আযান দিতে আদেশ করলেন। এরপর মুয়াযযিন ইক্বামত দিলে তিনি সলাত আদায় করলেন। (ই.ফা.১৩১৯, ই.সে.১৩৩১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৩৩
হাদিস নং ১৩৩৩
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شُغِلَ عَنْهَا لَيْلَةً فَأَخَّرَهَا حَتَّى رَقَدْنَا فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ اسْتَيْقَظْنَا ثُمَّ رَقَدْنَا ثُمَّ اسْتَيْقَظْنَا ثُمَّ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " لَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ اللَّيْلَةَ يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ غَيْرُكُمْ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, এক রাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন কাজে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে ইশার সলাত আদায় করতে খুব দেরী করে ফেললেন। এমনকি আমরা সবাই মসজিদেই ঘুমিয়ে পড়লাম। তারপর জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপর আবার জেগে উঠলাম। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে এসে বললেনঃ আজকের এ রাতে তোমরা ছাড়া পৃথিবীর আর কেউ-ই সলাতের জন্য অপেক্ষা করছে না। (ই.ফা.১৩২০, ই.সে.১৩৩২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৩৪
হাদিস নং ১৩৩৪
وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ الْعَمِّيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، . أَنَّهُمْ سَأَلُوا أَنَسًا عَنْ خَاتَمِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَخَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ذَاتَ لَيْلَةٍ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ أَوْ كَادَ يَذْهَبُ شَطْرُ اللَّيْلِ ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ " إِنَّ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا وَنَامُوا وَإِنَّكُمْ لَمْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرْتُمُ الصَّلاَةَ " . قَالَ أَنَسٌ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ خَاتَمِهِ مِنْ فِضَّةٍ وَرَفَعَ إِصْبَعَهُ الْيُسْرَى بِالْخِنْصَرِ .
বর্ণনাকারী সাবিত (রাঃ)
তিনি বলেন, লোকেরা আনাসকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর আংটি (বা সিল-মোহর) সম্পর্কে জানার জন্য জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এক রাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সলাত আদায় করতে দেরী করলেন। এত দেরী করলেন যে, রাতের অর্ধেক অতিবাহিত হয়ে গেল অথবা প্রায় অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার উপক্রম হল। তখন তিনি আসলেন এবং বললেনঃ অনেক লোক সলাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। (কিন্তু তোমরা সলাতের জন্য অপেক্ষা করছ) যে সময় থেকে তোমরা সলাতের জন্য অপেক্ষা করছ সে সময় থেকে তোমরা সলাতরত আছ। আনাস বলেছেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর রৌপ্য নির্মিত আংটির চাকচিক্য বা উজ্জ্বলতা এখনও দেখতে পাচ্ছি। এ কথা বলে আনাস তার বাঁ হাতের কনিষ্ঠ অঙ্গুলি উঠিয়ে ইশারা করলেন (অর্থাৎ- এর দ্বারা তিনি বুঝালেন যে, আংটিটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর ঐ আঙ্গুলেই পরিহিত ছিল)। (ই.ফা.১৩২১, ই.সে.১৩৩৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৩৫
হাদিস নং ১৩৩৫
وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا أَبُو زَيْدٍ، سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ نَظَرْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً حَتَّى كَانَ قَرِيبٌ مِنْ نِصْفِ اللَّيْلِ ثُمَّ جَاءَ فَصَلَّى ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَكَأَنَّمَا أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ خَاتَمِهِ فِي يَدِهِ مِنْ فِضَّةٍ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, এক রাতে (ইশার সলাত আদায় করতে) আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলাম। এভাবে রাত প্রায় অর্ধেক হয়ে আসল। এরপর তিনি এসে সলাত আদায় করলেন এবং সলাত শেষে আমাদের দিকে ঘুরে বসলেন। আমি যেন এ মূহুর্তেও হাতের আঙ্গুলে পরিহিত আংটির উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি। (ই.ফা.১৩২২, ই.সে.১৩৩৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৩৬
হাদিস নং ১৩৩৬
وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الصَّبَّاحِ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا قُرَّةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرْ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ .
বর্ণনাকারী কুররাহ্ (রহঃ)
উক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।তবে তাঁর বর্ণনাতে ‘পরে তিনি আমাদের দিকে ঘুরালেন’ কথাটি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা.১৩২৩, ই.সে.১৩৩৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৩৭
হাদিস নং ১৩৩৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الأَشْعَرِيُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ كُنْتُ أَنَا وَأَصْحَابِي الَّذِينَ، قَدِمُوا مَعِي فِي السَّفِينَةِ نُزُولاً فِي بَقِيعِ بُطْحَانَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ فَكَانَ يَتَنَاوَبُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ صَلاَةِ الْعِشَاءِ كُلَّ لَيْلَةٍ نَفَرٌ مِنْهُمْ قَالَ أَبُو مُوسَى فَوَافَقْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَا وَأَصْحَابِي وَلَهُ بَعْضُ الشُّغُلِ فِي أَمْرِهِ حَتَّى أَعْتَمَ بِالصَّلاَةِ حَتَّى ابْهَارَّ اللَّيْلُ ثُمَّ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِهِمْ فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ قَالَ لِمَنْ حَضَرَهُ " عَلَى رِسْلِكُمْ أُعْلِمُكُمْ وَأَبْشِرُوا أَنَّ مِنْ نِعْمَةِ اللَّهِ عَلَيْكُمْ أَنَّهُ لَيْسَ مِنَ النَّاسِ أَحَدٌ يُصَلِّي هَذِهِ السَّاعَةَ غَيْرُكُمْ " . أَوْ قَالَ " مَا صَلَّى هَذِهِ السَّاعَةَ أَحَدٌ غَيْرُكُمْ " . لاَ نَدْرِي أَىَّ الْكَلِمَتَيْنِ قَالَ قَالَ أَبُو مُوسَى فَرَجَعْنَا فَرِحِينَ بِمَا سَمِعْنَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী আবূ মূসা (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি এবং আমার সাথে যে সব সঙ্গী-সাথী ও বন্ধু-বান্ধব জাহাজে চড়ে এসেছিল সবাই বাক্বী নামক একটি কঙ্করময় স্থানে অবস্থানরত ছিলাম। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনাতে অবস্থান করছিলেন। প্রতি দিন রাতে ‘ইশার সলাতের সময় পালা করে তাদের (আমার সাথে জাহাজে আগত বন্ধু-বান্ধব) একদল রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে (তাঁর সাথে ইশার সলাত আদায় করার জন্য) যেত। আবূ মূসা বলেন, একদিন (পালাক্রমে) আমি ও আমার সঙ্গী-সাথীরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে গেলাম। তিনি সেদিন কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই ‘ইশার সলাতের জন্য আসতে দেরী করলেন। সলাত শেষ হলে উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্য করে তিনি বললেন, কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর। আমি তোমাদেরকে কিছু অবহিত করছি। তোমরা সু-সংবাদ গ্রহণ কর। কারণ এটা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নি’আমাত যে, এ মূহুর্তে তোমরা ছাড়া অন্য কোন মানুষই সলাত আদায় করছে না। অথবা (আবূ মূসা বলেন,) এ দু’টি কথার মধ্যে কোন কথাটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন তা আমার মনে নেই।আবূ মূসা বর্ণনা করেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে যা শুনলাম তাতে অত্যন্ত খুশী হয়ে ফিরে আসলাম। (ই.ফা.১৩২৪, ই.সে.১৩৩৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৩৮
হাদিস নং ১৩৩৮
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَطَاءٍ أَىُّ حِينٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَنْ أُصَلِّيَ الْعِشَاءَ الَّتِي يَقُولُهَا النَّاسُ الْعَتَمَةَ إِمَامًا وَخِلْوًا قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ أَعْتَمَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ الْعِشَاءَ - قَالَ - حَتَّى رَقَدَ نَاسٌ وَاسْتَيْقَظُوا وَرَقَدُوا وَاسْتَيْقَظُوا فَقَامَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقَالَ الصَّلاَةَ . فَقَالَ عَطَاءٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَخَرَجَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ الآنَ يَقْطُرُ رَأْسُهُ مَاءً وَاضِعًا يَدَهُ عَلَى شِقِّ رَأْسِهِ قَالَ " لَوْلاَ أَنْ يَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ أَنْ يُصَلُّوهَا كَذَلِكَ " . قَالَ فَاسْتَثْبَتُّ عَطَاءً كَيْفَ وَضَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ كَمَا أَنْبَأَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ فَبَدَّدَ لِي عَطَاءٌ بَيْنَ أَصَابِعِهِ شَيْئًا مِنْ تَبْدِيدٍ ثُمَّ وَضَعَ أَطْرَافَ أَصَابِعِهِ عَلَى قَرْنِ الرَّأْسِ ثُمَّ صَبَّهَا يُمِرُّهَا كَذَلِكَ عَلَى الرَّأْسِ حَتَّى مَسَّتْ إِبْهَامُهُ طَرَفَ الأُذُنِ مِمَّا يَلِي الْوَجْهَ ثُمَّ عَلَى الصُّدْغِ وَنَاحِيَةِ اللِّحْيَةِ لاَ يُقَصِّرُ وَلاَ يَبْطِشُ بِشَىْءٍ إِلاَّ كَذَلِكَ . قُلْتُ لِعَطَاءٍ كَمْ ذُكِرَ لَكَ أَخَّرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَيْلَتَئِذٍ قَالَ لاَ أَدْرِي . قَالَ عَطَاءٌ أَحَبُّ إِلَىَّ أَنْ أُصَلِّيَهَا إِمَامًا وَخِلْوًا مُؤَخَّرَةً كَمَا صَلاَّهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَيْلَتَئِذٍ فَإِنْ شَقَّ عَلَيْكَ ذَلِكَ خِلْوًا أَوْ عَلَى النَّاسِ فِي الْجَمَاعَةِ وَأَنْتَ إِمَامُهُمْ فَصَلِّهَا وَسَطًا لاَ مُعَجَّلَةً وَلاَ مُؤَخَّرَةً .
বর্ণনাকারী ইবনু জুরায়জ (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি ‘আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, ইশার সলাত যাকে লোকে ‘আতামাহ্ বলে থাকে- পড়ার জন্য আপনার কাছে কোন সময়টা সবচেয়ে পছন্দনীয়? (তা জানতে পারলে) ইমাম হয়ে বা একাকী থেকে আমিও সে সময় ইশার সলাত আদায় করতাম। এ কথা শুনে আত্বা বললেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাসকে বলতে শুনেছি - নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন ইশার সলাত আদায় করতে বেশ দেরী করে ফেললেন। এমনকি লোকজন (মসজিদে) ঘুমিয়ে পড়ল। পরে জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। এরপর তারা আবার জেগে উঠলে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব উঠে গিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে বললেন, সলাতের সময় হয়েছে। আত্বা বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেছেন - অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন। আমি যেন এ মূহুর্তেও দেখছি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চুল থেকে পানি টপকে পড়ছে। আর তিনি মাথার একপাশে হাত দিয়ে আছেন। তিনি বললেনঃ যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম তাহলে আমি তাদেরকে এ রকম সময়েই (ইশার) সলাত আদায় করার আদেশ করতাম। ইবনু জুরায়জ বলেন- নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মাথার উপর কীভাবে হাত রাখার কথা ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস তাকে বলেছেন আমি তা আত্বাকে দেখাতে বললাম। তখন ‘আত্বা তার আঙ্গুলগুলো কিছুটা ছড়ালেন এবং আঙ্গুলের পার্শ্বদেশ মাথার পার্শ্বভাগে রাখলেন। অতঃপর আঙ্গুলগুলো মাথার উপর দিয়ে টেনে নীচের দিকে নিয়ে আসলেন। এরূপ এমনভাবে করলেন যে, বৃদ্ধাঙ্গুলি মুখমন্ডলের দিকে কানের পার্শ্ব স্পর্শ করল। অতঃপর কপালের পার্শ্বদেশ ও দাড়ির প্রান্তভাগ পর্যন্ত টেনে নিলেন। এ সময় খুব জোরে চাপ দিচ্ছিলেন না আবার আঙ্গুলগুলো খুব শিথিলও করছিলেন না, শুধু আলতোভাবে টেনে নিচ্ছিলেন। ইবনু জুরায়জ বলেন, আমি আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে রাতে ইশার সলাত কত দেরী করেছিলেন বলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস আপনার কাছে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেনঃ আমি জানি না। আত্বা বললেন, ইশার সলাত আমি ইমাম হিসেবে কিংবা একা আদায় করি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐ রাতে যেভাবে দেরী করে আদায় করেছেন সেভাবে দেরী করে আদায় করাই আমার কাছে সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়। তবে লোকের সাথে জামা’আতের ইমাম হয়ে সলাত আদায়কালে কিংবা একাকী আদায়কালে এ সময়টা যদি তোমার জন্য কষ্টকর হয় তাহলে মাঝামাঝি সময়ে আদায় করো। বেশী আগেও আদায় করোনা কিংবা বেশী বিলম্বেও আদায় করোনা। (ই.ফা.১৩২৫, ই.সে.১৩৩৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৩৯
হাদিস নং ১৩৩৯
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُؤَخِّرُ صَلاَةَ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সলাত দেরী করে আদায় করতেন। (ই.ফা.১৩২৬, ই.সে.১৩৩৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৪০
হাদিস নং ১৩৪০
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الصَّلَوَاتِ نَحْوًا مِنْ صَلاَتِكُمْ وَكَانَ يُؤَخِّرُ الْعَتَمَةَ بَعْدَ صَلاَتِكُمْ شَيْئًا وَكَانَ يُخِفُّ الصَّلاَةَ . وَفِي رِوَايَةِ أَبِي كَامِلٍ يُخَفِّفُ .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের মতো করেই সলাত আদায় করতেন। তবে তিনি ইশার সলাত তোমাদের চেয়ে একটু দেরী করে আদায় করতেন। আর তিনি সলাত হালকা করে আদায় করতেন।আবূ কামিল বর্ণিত হাদীসে (আরবী) শব্দটির স্থানে (আরবী) শব্দ উল্লেখ আছে। তবে উভয় শব্দের অর্থ একই। (ই.ফা.১৩২৭, ই.সে.১৩৩৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৪১
হাদিস নং ১৩৪১
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَبِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تَغْلِبَنَّكُمُ الأَعْرَابُ عَلَى اسْمِ صَلاَتِكُمْ أَلاَ إِنَّهَا الْعِشَاءُ وَهُمْ يُعْتِمُونَ بِالإِبِلِ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ গেঁয়ো বেদুঈন লোকেরা যেন তোমাদের সলাতের নামকরণের ব্যাপারে প্রভাব বিস্তার না করে বসে। জেনে রাখো সলাতের নাম হলো ইশা। আর তারা উট দোহন করতে দেরী করে তাই এ সলাতকেও তারা ‘আতামাহ্’ [১] বলে। (ই.ফা.১৩২৮, ই.সে.১৩৪০)
[১] অধিকাংশ গ্রাম্য আরববাসীরা ইশার সলাতকে ‘আতামাহ্’ বলে অভিহিত করে থাকে। অথচ কুরআন মাজীদে রাতের সলাতের নাম ইশা বলে উল্লিখিত হয়েছে। কারণ তারা উট দোহন করতে অনেক সময় দেরী করে। রাতের অন্ধকার গভীর ও গাঢ়তর হলে তারা উট দোহন করে। তাই বলা হয়েছে- তোমরা এ সলাতকে ইশার সলাত বলবে।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৪২
হাদিস নং ১৩৪২
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي لَبِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَغْلِبَنَّكُمُ الأَعْرَابُ عَلَى اسْمِ صَلاَتِكُمُ الْعِشَاءِ فَإِنَّهَا فِي كِتَابِ اللَّهِ الْعِشَاءُ وَإِنَّهَا تُعْتِمُ بِحِلاَبِ الإِبِلِ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ গেঁয়ো বেদুঈন লোকেরা যেন তোমাদেরকে ইশার সলাতের নামকরণের ব্যাপারে প্রভাবান্বিত না করে বসে। কেননা, আল্লাহর কিতাবে এ সলাতের নাম ‘ইশা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত ব্যাপার হলো তারা (গ্রাম্য লোকেরা) উট দোহনে অনেক বিলম্ব করে থাকে। (ই.ফা.১৩২৯, ই.সে.১৩৪১)
৪০. অধ্যায়ঃ
ফজরের সলাত প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব যে সময়কে ‘তাগলীস্’ বলা হয় এবং তাতে কিরাআতের পরিমাণ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৪৩
হাদিস নং ১৩৪৩
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، كُلُّهُمْ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، - قَالَ عَمْرٌو حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ نِسَاءَ الْمُؤْمِنَاتِ، كُنَّ يُصَلِّينَ الصُّبْحَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَرْجِعْنَ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ لاَ يَعْرِفُهُنَّ أَحَدٌ .
বর্ণনাকারী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, মুমিন মহিলারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে ফজরের সলাত আদায় করতেন এবং তা সর্বাঙ্গে কাপড় জড়িয়ে ঘরে ফিরতেন। (তখনও এরূপ অন্ধকার থাকত যে,) তাদেরকে কেউ চিনতে পারত না। (ই.ফা.১৩৩০, ই.সে.১৩৪২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৪৪
হাদিস নং ১৩৪৪
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ لَقَدْ كَانَ نِسَاءٌ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ يَشْهَدْنَ الْفَجْرَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ ثُمَّ يَنْقَلِبْنَ إِلَى بُيُوتِهِنَّ وَمَا يُعْرَفْنَ مِنْ تَغْلِيسِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالصَّلاَةِ .
বর্ণনাকারী নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, ঈমানদার স্ত্রী লোকেরা সর্বাঙ্গে চাদর জড়িয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সাথে ফজরের সলাত আদায় করত। কিন্তু যেহেতু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্ধকার থাকতেই ফজরের সলাত আদায় করতেন তাই সলাত শেষে যখন তারা ঘরে ফিরত তখনও তাদেরকে চেনা যেত না। (ই.ফা.১৩৩১, ই.সে.১৩৪৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৪৫
হাদিস নং ১৩৪৫
وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَعْنٌ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُصَلِّي الصُّبْحَ فَيَنْصَرِفُ النِّسَاءُ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ مَا يُعْرَفْنَ مِنَ الْغَلَسِ . وَقَالَ الأَنْصَارِيُّ فِي رِوَايَتِهِ مُتَلَفِّفَاتٍ .
বর্ণনাকারী ’আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন সময় ফজরের সলাত আাদয় করতেন যে, সলাত শেষে মেয়েরা শরীরে চাদর জড়িয়ে ঘরে ফিরত। কিন্তু তখনও এরূপ অন্ধকার থাকত যে, তাদের কাউকে চেনা যেত না।আনসারী তার বর্ণিত হাদীসে (আরবী) শব্দের স্থানে (আরবী) উল্লেখ করেছেন। (ই.ফা.১৩৩২,ই.সে.১৩৪৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৪৬
হাদিস নং ১৩৪৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ الْحَجَّاجُ الْمَدِينَةَ فَسَأَلْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الظُّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ وَالْعَصْرَ وَالشَّمْسُ نَقِيَّةٌ وَالْمَغْرِبَ إِذَا وَجَبَتْ وَالْعِشَاءَ أَحْيَانًا يُؤَخِّرُهَا وَأَحْيَانًا يُعَجِّلُ كَانَ إِذَا رَآهُمْ قَدِ اجْتَمَعُوا عَجَّلَ وَإِذَا رَآهُمْ قَدْ أَبْطَئُوا أَخَّرَ وَالصُّبْحَ كَانُوا أَوْ - قَالَ - كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيهَا بِغَلَسٍ .
বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনু ‘আমর ইবনু হাসান ইবনু ‘আলী (রহঃ)
তিনি বলেন, হাজ্জাজ মাদীনাতে আসলে আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহকে সলাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাত বেলা গড়িয়ে যাওয়ার পর প্রচন্ড গরম থাকতে, ‘আসরের সলাত সূর্যের আলো উজ্জ্বল থাকতে, মাগরিবের সলাত সূর্য অস্তমিত হতে এবং ইশার সলাত কখনো দেরী করে এবং কখনো আগে ভাগেই আদায় করতেন। কিন্তু লোকজনের আসতে দেরী দেখলে তিনিও দেরী করে আদায় করতেন। আর ফাজরের সলাত বেশ অন্ধকার থাকতেই আদায় করতেন। (ই.ফা.১৩৩৩, ই.সে.১৩৪৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৪৭
হাদিস নং ১৩৪৭
وَحَدَّثَنَاهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدٍ، سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ كَانَ الْحَجَّاجُ يُؤَخِّرُ الصَّلَوَاتِ فَسَأَلْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بِمِثْلِ حَدِيثِ غُنْدَرٍ .
বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনু ‘আমর ইবনুল হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ)
তিনি বলেন, হাজ্জাজ (ইবনু ইউসুফ) সলাত দেরী করে আদায় করতেন। তাই আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। (ই.ফা.১৩৩৪, ই.সে.১৩৪৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৪৮
হাদিস নং ১৩৪৮
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي سَيَّارُ بْنُ سَلاَمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَسْأَلُ أَبَا بَرْزَةَ، عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - قُلْتُ آنْتَ سَمِعْتَهُ قَالَ فَقَالَ كَأَنَّمَا أَسْمَعُكَ السَّاعَةَ - قَالَ - سَمِعْتُ أَبِي يَسْأَلُهُ عَنْ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَانَ لاَ يُبَالِي بَعْضَ تَأْخِيرِهَا - قَالَ يَعْنِي الْعِشَاءَ - إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ وَلاَ يُحِبُّ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَلاَ الْحَدِيثَ بَعْدَهَا . قَالَ شُعْبَةُ ثُمَّ لَقِيتُهُ بَعْدُ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ وَكَانَ يُصَلِّي الظُّهْرَ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ وَالْعَصْرَ يَذْهَبُ الرَّجُلُ إِلَى أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ - قَالَ - وَالْمَغْرِبَ لاَ أَدْرِي أَىَّ حِينٍ ذَكَرَ . قَالَ ثُمَّ لَقِيتُهُ بَعْدُ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ وَكَانَ يُصَلِّي الصُّبْحَ فَيَنْصَرِفُ الرَّجُلُ فَيَنْظُرُ إِلَى وَجْهِ جَلِيسِهِ الَّذِي يَعْرِفُ فَيَعْرِفُهُ . قَالَ وَكَانَ يَقْرَأُ فِيهَا بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ .
বর্ণনাকারী সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি শুনেছি আমার পিতা সালামাহ্ আবূ বারযাহ্-কে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি নিজে কি জিজ্ঞেস করতে শুনেছ? এ কথা শুনে সাইয়্যার বললেনঃ হ্যাঁ। আমার মনে হচ্ছে যেন আমি এখনই জিজ্ঞেস করতে শুনছি। সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ বললেনঃ আমি শুনলাম আমার পিতা তাকে (আবূ বারযাহ্) রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে আবূ বারযাহ্ বললেন- ‘ইশার সলাত আদায় করতে রাত দ্বি-প্রহর পর্যন্ত দেরী করতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মোটেই দ্বিধা করতেন না। তবে ইশার সলাত আদায় না করে ঘুমানো এবং ইশার সলাতের পরে কথাবার্তা বলা তিনি পছন্দ করতেন না। শু’বাহ্ বলেন, পরে এক সময়ে আবার আমি সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, সূর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়লেই যুহরের সলাত আদায় করতেন। আর আসরের সলাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সলাত শেষ করে মাদীনার শহরতলীর দূরবর্তীস্থানে গিয়ে পৌছার পরও সূর্যের তেজ থাকত। এরপর সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ বললেনঃ মাগরিবের সলাত কোন সময় তিনি আদায় করার কথা তিনি বলে ছিলেন তা আমি মনে করতে পারছি না। সালামাহ্ বলেছেনঃ পরে আবার এক সময় আবূ বারযার সাথে সাক্ষাৎ করে আমি তাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাতের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তিনি ফাজরের সলাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সলাত শেষে লোকজন তার পাশের পরিচিত লোকের দিকে তাকিয়ে তাকে চিনতে পারত না। আবূ বারযাহ্ আরো বলেছেন, ফাজরের সলাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ষাট থেকে একশ’ পর্যন্ত আয়াত তিলাওয়াত করতেন। (ই.ফা.১৩৩৫, ই.সে.১৩৪৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৪৯
হাদিস নং ১৩৪৯
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَيَّارِ بْنِ سَلاَمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَرْزَةَ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يُبَالِي بَعْضَ تَأْخِيرِ صَلاَةِ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ وَكَانَ لاَ يُحِبُّ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَلاَ الْحَدِيثَ بَعْدَهَا . قَالَ شُعْبَةُ ثُمَّ لَقِيتُهُ مَرَّةً أُخْرَى فَقَالَ أَوْ ثُلُثِ اللَّيْلِ .
বর্ণনাকারী আবূ বারযাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সলাত দেরী করে মধ্যরাতে আদায় করতে কোন দ্বিধা বা ভ্রূক্ষেপ করতেন না। হাদীসের বর্ণনাকারী শু’বাহ্ বলেছেন, পরবর্তী সময়ে আমি আবার আবূ বারযার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আগের কথার সাথে এ কথাটুকু যোগ করে বলেলনঃ অথবা রাতের এক তৃ্তীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে ‘ইশার সলাত আদায় করতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভ্রূক্ষেপ করতেন না। (ই.ফা.১৩৩৬, ই.সে.১৩৪৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৫০
হাদিস নং ১৩৫০
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ عَمْرٍو الْكَلْبِيُّ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ سَيَّارِ بْنِ سَلاَمَةَ أَبِي الْمِنْهَالِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَرْزَةَ الأَسْلَمِيَّ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُؤَخِّرُ الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ وَيَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا وَكَانَ يَقْرَأُ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ مِنَ الْمِائَةِ إِلَى السِّتِّينَ وَكَانَ يَنْصَرِفُ حِينَ يَعْرِفُ بَعْضُنَا وَجْهَ بَعْضٍ .
বর্ণনাকারী আবূ বারযাহ্ আল আসলামী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সলাত রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে আদায় করতেন। তিনি ইশার সলাতের পূর্বে ঘুমানো এবং কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। আর ফাজরের সলাতে ষাট থেকে একশ’ আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন এবং এমন সময় সলাত শেষ করতেন যখন আমরা পরস্পরকে মুখ দেখে চিনতে পারতাম না। (ই.ফা.১৩৩৭, ই.সে.১৩৪৯)
৪১. অধ্যায়ঃ
নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে সলাত আদায় করা মাকরূহ আর ইমাম বিলম্ব করলে মুক্তাদী কি করবে?
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৫১
হাদিস নং ১৩৫১
حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، وَأَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ " كَيْفَ أَنْتَ إِذَا كَانَتْ عَلَيْكَ أُمَرَاءُ يُؤَخِّرُونَ الصَّلاَةَ عَنْ وَقْتِهَا أَوْ يُمِيتُونَ الصَّلاَةَ عَنْ وَقْتِهَا " . قَالَ قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِي قَالَ " صَلِّ الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ أَدْرَكْتَهَا مَعَهُمْ فَصَلِّ فَإِنَّهَا لَكَ نَافِلَةٌ " . وَلَمْ يَذْكُرْ خَلَفٌ عَنْ وَقْتِهَا .
বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তুমি যদি এমন ইমামের অধীনস্থ হয়ে পড় যে উত্তম সময়ে সলাত আদায় না করে দেরী করে আদায় করবে তাহলে কী করবে? আবূ যার বলেন - এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম (হে আল্লাহর রসূল!) , এরূপ অবস্থায় পতিত হলে আপনি আমাকে কী করতে আদেশ করছেন? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি উত্তম সময়ে সলাত আদায় করে নিবে। তারপরে যদি তাদের সাথে অর্থাৎ- ইমামের সাথে জামাআতে সলাত পাও তাহলে তাদের সাথেও আদায় করবে। এটা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হবে।তবে বর্ণনাকারী খালাফ তার বর্ণনায় (আরবী) কথাটা উল্লেখ করেননি। (ই.ফা.১৩৩৮, ই.সে.১৩৫০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৫২
হাদিস নং ১৩৫২
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا ذَرٍّ إِنَّهُ سَيَكُونُ بَعْدِي أُمَرَاءُ يُمِيتُونَ الصَّلاَةَ فَصَلِّ الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ صَلَّيْتَ لِوَقْتِهَا كَانَتْ لَكَ نَافِلَةً وَإِلاَّ كُنْتَ قَدْ أَحْرَزْتَ صَلاَتَكَ " .
বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ)
তিনি বলেন, আমাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃহে আবূ যার! আমার পরে অচিরেই এমন আমীর বা শাসকদের আবির্ভাব ঘটবে যারা একেবারে শেষ ওয়াক্তে সলাত আদায় করবে। এরূপ হলে তুমি কিন্তু সময় মতো (সলাতের উত্তম সময়ে) সলাত আদায় করে নিবে। পরে যদি তুমি তাদের সাথে সলাত আদায় করো তাহলে তা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তা না হয় তাহলে তুমি অন্তত তোমার সলাত রক্ষা করতে সক্ষম হলে। (ই.ফা.১৩৩৯, ই.সে.১৩৫১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৫৩
হাদিস নং ১৩৫৩
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ إِنَّ خَلِيلِي أَوْصَانِي أَنْ أَسْمَعَ وَأُطِيعَ وَإِنْ كَانَ عَبْدًا مُجَدَّعَ الأَطْرَافِ وَأَنْ أُصَلِّيَ الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا " فَإِنْ أَدْرَكْتَ الْقَوْمَ وَقَدْ صَلَّوْا كُنْتَ قَدْ أَحْرَزْتَ صَلاَتَكَ وَإِلاَّ كَانَتْ لَكَ نَافِلَةً " .
বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ)
তিনি বলেন, আমার বন্ধু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে আমীরের বা নেতার আদেশ শুনতে ও মানতে আদেশ করেছেন যদিও সে একজন হাত-পা কাটা ক্রীতদাস হয়। আর আমি যেন সময় মতো (প্রথম ওয়াক্তে) সলাত আদায় করি। এরপরে তুমি দেখ যে, লোকজন (জামা‘আতে) সলাত আদায় করে নিয়েছে তাহলে তুমি তো আগেই তোমার সলাত হিফাযাত করেছ। অন্যথায় (অর্থাৎ- তাদের সাথে জামা‘আতের সলাত পেলে) তা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হবে। (ই.ফা.১৩৪০, ই.সে.১৩৫২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৫৪
হাদিস নং ১৩৫৪
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ بُدَيْلٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْعَالِيَةِ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَضَرَبَ فَخِذِي " كَيْفَ أَنْتَ إِذَا بَقِيتَ فِي قَوْمٍ يُؤَخِّرُونَ الصَّلاَةَ عَنْ وَقْتِهَا " . قَالَ قَالَ مَا تَأْمُرُ قَالَ " صَلِّ الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا ثُمَّ اذْهَبْ لِحَاجَتِكَ فَإِنْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ وَأَنْتَ فِي الْمَسْجِدِ فَصَلِّ " .
বর্ণনাকারী আবূ যার (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার উরুর উপর সজোরে হাত মেরে বললেনঃ যারা সময় মতো সলাত আদায় না করে দেরী করে আদায় করে, তোমাকে যদি এমন লোকদের মাঝে থাকতে হয় তাহলে কী করবে? বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনুস সাবিত বলেন - আবূ যার জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আপনি আমাকে কী আদেশ করছেন? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি সময় মতো (প্রথম ওয়াক্তে) সলাত আদায় করে নাও এবং নিজের কাজে চলে যাও। তারপর যখন সলাত আদায় করা হবে তখন যদি তুমি মসজিদে উপস্থিত থাক তাহলে (তাদের সাথে জামা‘আতে) সলাত আদায় করে নাও। (ই.ফা.১৩৪১, ই.সে.১৩৫৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৫৫
হাদিস নং ১৩৫৫
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ الْبَرَّاءِ، قَالَ أَخَّرَ ابْنُ زِيَادٍ الصَّلاَةَ فَجَاءَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الصَّامِتِ فَأَلْقَيْتُ لَهُ كُرْسِيًّا فَجَلَسَ عَلَيْهِ فَذَكَرْتُ لَهُ صَنِيعَ ابْنِ زِيَادٍ فَعَضَّ عَلَى شَفَتِهِ وَضَرَبَ فَخِذِي وَقَالَ إِنِّي سَأَلْتُ أَبَا ذَرٍّ كَمَا سَأَلْتَنِي فَضَرَبَ فَخِذِي كَمَا ضَرَبْتُ فَخِذَكَ وَقَالَ إِنِّي سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا سَأَلْتَنِي فَضَرَبَ فَخِذِي كَمَا ضَرَبْتُ فَخِذَكَ وَقَالَ " صَلِّ الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ أَدْرَكَتْكَ الصَّلاَةُ مَعَهُمْ فَصَلِّ وَلاَ تَقُلْ إِنِّي قَدْ صَلَّيْتُ فَلاَ أُصَلِّي " .
বর্ণনাকারী আবুল ‘আলিয়াহ্ আল বাররা (রহঃ)
তিনি বলেন, (একদিন) ‘আবদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ সলাত আদায় করতে দেরী করল। এরপরেই ‘আবদুল্লাহ ইবনুস্ সামিত আমার কাছে আসলেন। আমি তাকে একখানা চেয়ার পেতে দিলে তিনি বসলেন। তখন আমি তার কাছে আবদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ - এর কৃতকর্মের কথা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি ঠোঁট কামড়িয়ে সজোরে আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেন - আমিও এ ব্যাপারে আবূ যারকে জিজ্ঞেস করে ছিলাম, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলে। আর আমি যেভাবে তোমার উরুর উপরে সজোরে হাত মারলাম তেমনি তিনিও আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেন, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলে ঠিক তেমনি আমিও রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। আর আমি যেমন তোমার উরুর উপর সজোরে আঘাত করলাম ঠিক তেমনি তিনিও আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেনঃ তুমি সময় মতো (প্রথম ওয়াক্তে) সলাত আদায় করে নিবে। তবে সবার সাথে জামা‘আতে যদি সলাত আদায় করার সুযোগ হয় তাহলে তাদের সাথেও সলাত আদায় করে নিবে - এক্ষেত্রে বলবে না যে, আমি সলাত আদায় করে নিয়েছি তাই এখন আমি সলাত আদায় করব না। (ই.ফা.১৩৪২, ই.সে.১৩৫৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৫৬
হাদিস নং ১৩৫৬
وَحَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ النَّضْرِ التَّيْمِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي نَعَامَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ " كَيْفَ أَنْتُمْ - أَوْ قَالَ كَيْفَ أَنْتَ - إِذَا بَقِيتَ فِي قَوْمٍ يُؤَخِّرُونَ الصَّلاَةَ عَنْ وَقْتِهَا فَصَلِّ الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا ثُمَّ إِنْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَصَلِّ مَعَهُمْ فَإِنَّهَا زِيَادَةُ خَيْرٍ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনুস সামিত (রহঃ)
তিনি বলেন, আবূ যার তাকে বললেন - তোমরা অথবা বললেন (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তুমি যদি এমন লোকদের মধ্যে অবস্থান করো যারা সময় মতো সলাত আদায় না করে দেরী করে পড়ে তাহলে কী করবে? এরপর আবার নিজেই বললেন, তুমি সময়মত (প্রথম ওয়াক্তে) সলাত আদায় করে নিবে। তারপর জামা‘আতে সলাত হলে তাদের সাথেও সলাত আদায় করে নিবে। কারণ এটি তোমার জন্য বাড়তি সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হবে। (ই.ফা.১৩৪৩, ই.সে.১৩৫৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৫৭
হাদিস নং ১৩৫৭
وَحَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذٌ، - وَهْوَ ابْنُ هِشَامٍ - حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ مَطَرٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ الْبَرَّاءِ، قَالَ قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ نُصَلِّي يَوْمَ الْجُمُعَةِ خَلْفَ أُمَرَاءَ فَيُؤَخِّرُونَ الصَّلاَةَ - قَالَ - فَضَرَبَ فَخِذِي ضَرْبَةً أَوْجَعَتْنِي وَقَالَ سَأَلْتُ أَبَا ذَرٍّ عَنْ ذَلِكَ فَضَرَبَ فَخِذِي وَقَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " صَلُّوا الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا وَاجْعَلُوا صَلاَتَكُمْ مَعَهُمْ نَافِلَةً " . قَالَ وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ ذُكِرَ لِي أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَرَبَ فَخِذَ أَبِي ذَرٍّ .
বর্ণনাকারী আবুল ‘আলিয়াহ্ আল বাররা (রহঃ)
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনুস সামিতকে বললাম, আমি এমন সব আমীর বা নেতার পিছনে জুমু‘আর সলাত আদায় করি যারা দেরী করে সলাত আদায় করে থাকে। মাত্বার বলেনঃ এ কথা শুনে আবুল ‘আলিয়াহ্ আল বাররা আমার উরুর উপরে সজোরে এমনভাবে হাত দিয়ে চাপড়ালেন যে, আমি ব্যথাই পেলাম। এবার তিনি বললেন- এ বিষয়ে আমি আবূ যারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনিও আমার উরুর উপরে সজোরে হাত দিয়ে চাপড়িয়ে বললেন - আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এমতাবস্থায় তোমরা সময়মত (প্রথম ওয়াক্তে) সলাত আদায় করে নিবে। আর তাদের সাথে জামা‘আতের সলাতকে নাফল হিসেবে আদায় করবে। আবুল ‘আলিয়াহ্ আল বাররা আরো বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনুস্ সামিত বলেছেন, আমি জানতে পেরেছি যে, (এ কথা বলার সময়) আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ যার - এর উরুর উপর সজোরে চাপড় দিয়েছিলেন। (ই.ফা.১৩৪৪, ই.সে.১৩৫৬)
৪২. অধ্যায়ঃ
জামা‘আতে সলাত আদায়ের ফযীলত এবং তা পরিত্যাগকারীর প্রতি কঠোরতা
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৫৮
হাদিস নং ১৩৫৮
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلاَةِ أَحَدِكُمْ وَحْدَهُ بِخَمْسَةٍ وَعِشْرِينَ جُزْءًا " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রা (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জামা‘আতে সলাত আদায় করা তোমাদের কারো একাকী সলাত আদায় করার চাইতে পঁচিশ গুণ বেশী উত্তম। (ই.ফা.১৩৪৫, ই.সে.১৩৫৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৫৯
হাদিস নং ১৩৫৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَفْضُلُ صَلاَةٌ فِي الْجَمِيعِ عَلَى صَلاَةِ الرَّجُلِ وَحْدَهُ خَمْسًا وَعِشْرِينَ دَرَجَةً " . قَالَ " وَتَجْتَمِعُ مَلاَئِكَةُ اللَّيْلِ وَمَلاَئِكَةُ النَّهَارِ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ " . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ { وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا}
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জামা‘আতের সাথে সলাত আদায় করা একাকী সলাত আদায় করার চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশী উত্তম। তিনি আরো বলেছেনঃ রাতের কর্তব্যরত মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) এবং দিনের কর্তব্যরত মালায়িকাহ্ ফাজ্বরের সলাতের সময় একত্র হয় | এ কথা বলে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বললেন, এক্ষেত্রে তোমরা ইচ্ছা করলে কুরআনের আয়াতটি পাঠ করো - (আরবী) অর্থাৎ- “ফাজরের ওয়াক্তের কুরআন পাঠে উপস্থিত থাকে”- (সূরাহ্ ইসরা ১৭:৭৮)। (ই.ফা.১৩৪৬, ই.সে.১৩৫৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৬০
হাদিস নং ১৩৬০
وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدٌ، وَأَبُو سَلَمَةَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ . بِمِثْلِ حَدِيثِ عَبْدِ الأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ " بِخَمْسٍ وَعِشْرِينَ جُزْءًا " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি ……। তবে আবূ বাকর ইবনু ইসহাক্ব তার বর্ণিত হাদীসে (আরবী) এর পরিবর্তে (আরবী) কথাটি উল্লেখ করেছেন। (ই.ফা.১৩৪৬, ই.সে.১৩৫৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৬১
হাদিস নং ১৩৬১
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا أَفْلَحُ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ سَلْمَانَ الأَغَرِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ تَعْدِلُ خَمْسًا وَعِشْرِينَ مِنْ صَلاَةِ الْفَذِّ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এক ওয়াক্ত সলাত জামা‘আতের সাথে আদায় করা পঁচিশ ওয়াক্ত একাকী সলাত আদায় করার সমান। (ই.ফা.১৩৪৮, ই.সে.১৩৬০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৬২
হাদিস নং ১৩৬২
حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ عَطَاءِ بْنِ أَبِي الْخُوَارِ، أَنَّهُ بَيْنَا هُوَ جَالِسٌ مَعَ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ إِذْ مَرَّ بِهِمْ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ خَتَنُ زَيْدِ بْنِ زَبَّانٍ مَوْلَى الْجُهَنِيِّينَ فَدَعَاهُ نَافِعٌ فَقَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَلاَةٌ مَعَ الإِمَامِ أَفْضَلُ مِنْ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ صَلاَةً يُصَلِّيهَا وَحْدَهُ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ইমামের সাথে এক ওয়াক্ত সলাত আদায় করা একাকী পঁচিশ ওয়াক্ত সলাত আদায় করার চেয়েও উত্তম। (ই.ফা.১৩৪৯, ই.সে.১৩৬১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৬৩
হাদিস নং ১৩৬৩
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلاَةِ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জামা‘আতের সাথে সলাত আদায় করা সলাত একাকী আদায় করা সলাত থেকে সাতাশ গুণ অধিক মর্যাদা সম্পন্ন। (ই.ফা.১৩৫০, ই.সে.১৩৬২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৬৪
হাদিস নং ১৩৬৪
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ الرَّجُلِ فِي الْجَمَاعَةِ تَزِيدُ عَلَى صَلاَتِهِ وَحْدَهُ سَبْعًا وَعِشْرِينَ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির জামা‘আতে সলাত আদায় করা তার একাকী আদায় করা সলাত থেকে সাতাশ গুণ অধিক (মর্যাদাসম্পন্ন)। (ই.ফা.১৩৫১, ই.সে.১৩৬৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৬৫
হাদিস নং ১৩৬৫
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ ح قَالَ وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالاَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، " بِضْعًا وَعِشْرِينَ " . وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ فِي رِوَايَتِهِ " سَبْعًا وَعِشْرِينَ دَرَجَةً " .
বর্ণনাকারী ইবনু নুমায়র (রহঃ) তার পিতার
যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাতে “বিশগুণের কিছু বেশী” মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন। আর আবূ বাকর (রহঃ) -এর বর্ণনায় “সাতাশগুণ” মর্যাদার কথা উল্লেখ আছে। (ই.ফা.১৩৫২, ই.সে.১৩৬৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৬৬
হাদিস নং ১৩৬৬
وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ رَافِعٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، أَخْبَرَنَا الضَّحَّاكُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بِضْعًا وَعِشْرِينَ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বিশগুণের চেয়ে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন। [১] (ই.ফা.১৩৫৩, ই.সে.১৩৬৫)
[১] মর্যাদা বেশী কম হওয়া বিষয়ে নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষণ হ’ল সলাত আদায়কারী ব্যক্তির বিনয়, নম্রতা ও সুন্দরভাবে পূর্ণরূপে সলাত আদায় করার অবস্থানুপাতে সাওয়াব লাভ করার মর্যাদার পার্থক্য হবে | (শারহে মুসলিম-১ম খন্ড ২৩১ পৃষ্ঠা)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৬৭
হাদিস নং ১৩৬৭
وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَدَ نَاسًا فِي بَعْضِ الصَّلَوَاتِ فَقَالَ " لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ رَجُلاً يُصَلِّي بِالنَّاسِ ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى رِجَالٍ يَتَخَلَّفُونَ عَنْهَا فَآمُرَ بِهِمْ فَيُحَرِّقُوا عَلَيْهِمْ بِحُزَمِ الْحَطَبِ بُيُوتَهُمْ وَلَوْ عَلِمَ أَحَدُهُمْ أَنَّهُ يَجِدُ عَظْمًا سَمِينًا لَشَهِدَهَا " . يَعْنِي صَلاَةَ الْعِشَاءِ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
কোন এক ওয়াক্ত সলাত জামা‘আতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু সংখ্যক লোককে না পেয়ে বললেনঃ আমি ইচ্ছা করেছি যে, কোন জনৈক ব্যক্তিকে আমি সলাতে ইমামাত করার আদেশ করি এবং যারা সলাতে জামা‘আতে আসে না তাদের কাছে যাই এবং কাঠ-খড় দ্বারা আগুন জ্বালিয়ে তাদের বাড়ী-ঘর জ্বালিয়ে দিতে আদেশ করি। তাদের কেউ যদি জানত যে তারা একখন্ড গোশত হাড্ডি পাবে তাহলে তারা তাতে অবশ্যই উপস্থিত হত। অর্থাৎ- ‘ইশার সলাতে (উপস্থিত হত)। (ই.ফা.১৩৫৪, ই.সে.১৩৬৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৬৮
হাদিস নং ১৩৬৮
حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ - وَاللَّفْظُ لَهُمَا - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَثْقَلَ صَلاَةٍ عَلَى الْمُنَافِقِينَ صَلاَةُ الْعِشَاءِ وَصَلاَةُ الْفَجْرِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا وَلَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَتُقَامَ ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً فَيُصَلِّيَ بِالنَّاسِ ثُمَّ أَنْطَلِقَ مَعِي بِرِجَالٍ مَعَهُمْ حُزَمٌ مِنْ حَطَبٍ إِلَى قَوْمٍ لاَ يَشْهَدُونَ الصَّلاَةَ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ بِالنَّارِ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘ইশা ও ফাজরের সলাত আদায় করা মুনাফিক্বদের সর্বাপেক্ষা কঠিন। তারা যদি জানত যে, এ দু’টি সলাতের পুরষ্কার বা সাওয়াব কত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বুক হেঁচড়ে হলেও তারা এ দু’ওয়াক্ত জামাআতে উপস্থিত হত | আমি ইচ্ছা করেছি সলাত আদায় করার আদেশ দিয়ে কাউকে ইমামতি করতে বলি। আর আমি কিছু লোককে নিয়ে জ্বালানী কাঠের বোঝাসহ যারা সলাতের জামা‘আতে আসে না তাদের কাছে যাই এবং আগুন দিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই। (ই.ফা.১৩৫৫, ই.সে.১৩৬৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৬৯
হাদিস নং ১৩৬৯
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ فِتْيَانِي أَنْ يَسْتَعِدُّوا لِي بِحُزَمٍ مِنْ حَطَبٍ ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً يُصَلِّي بِالنَّاسِ ثُمَّ تُحَرَّقُ بُيُوتٌ عَلَى مَنْ فِيهَا " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হলো, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি মনস্থ করেছি যে, লোকজনকে জ্বালানী কাঠের স্তূপ করতে বলি। তারপর একজনকে সলাতে ইমামাত করতে আদেশ করি এবং লোকজনসহ গিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই, যারা জামা‘আতে উপস্থিত হয় না। (ই.ফা.১৩৫৬, ই.সে.১৩৬৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৭০
হাদিস নং ১৩৭০
وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِنَحْوِهِ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা.১৩৫৭, ই.সে.১৩৬৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৭১
হাদিস নং ১৩৭১
وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، سَمِعَهُ مِنْهُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِقَوْمٍ يَتَخَلَّفُونَ عَنِ الْجُمُعَةِ " لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ رَجُلاً يُصَلِّي بِالنَّاسِ ثُمَّ أُحَرِّقَ عَلَى رِجَالٍ يَتَخَلَّفُونَ عَنِ الْجُمُعَةِ بُيُوتَهُمْ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ)
জুমু’আর সলাত আদায় করতে আসে না এমন এক দল লোক সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমার ইচ্ছা হয় যে, জনৈক ব্যক্তিকে সলাতে ইমামত করার নির্দেশ দেই আর আমি গিয়ে যারা জুমু’আর সলাত আদায় করতে আসে না, আগুন লাগিয়ে তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেই। (ই.ফা.১৩৫৮, ই.সে.১৩৭০)
৪৩. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি আযান শুনে তার জন্য মাসজিদে আসা ওয়াজিব
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৭২
হাদিস নং ১৩৭২
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، وَيَعْقُوبُ الدَّوْرَقِيُّ، كُلُّهُمْ عَنْ مَرْوَانَ الْفَزَارِيِّ، - قَالَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا الْفَزَارِيُّ، - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الأَصَمِّ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ الأَصَمِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ أَعْمَى فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ لَيْسَ لِي قَائِدٌ يَقُودُنِي إِلَى الْمَسْجِدِ . فَسَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُرَخِّصَ لَهُ فَيُصَلِّيَ فِي بَيْتِهِ فَرَخَّصَ لَهُ فَلَمَّا وَلَّى دَعَاهُ فَقَالَ " هَلْ تَسْمَعُ النِّدَاءَ بِالصَّلاَةِ " . فَقَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَأَجِبْ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, এক অন্ধ লোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে এসে বলল ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ধরে মাসজিদে নিয়ে আসার মতো কেউ নেই’। অতঃপর তাকে বাড়ীতে সলাত আদায় করার অনুমতি প্রদান করার জন্য সে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) - এর কাছে আবেদন জানাল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বাড়ীতে সলাত আদায় করার অনুমতি দিলেন। কিন্তু যে সময় লোকটি ফিরে যেতে উদ্যত হলো তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন? তুমি কি সলাতের আযান শুনতে পাও? সে বলল, হ্যাঁ (আমি আযান শুনতে পাই)। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাহলে তুমি মাসজিদে আসবে। (ই.ফা.১৩৫৯, ই.সে.১৩৭১)
৪৪. অধ্যায়ঃ
জামা’আতের সাথে সলাত আদায় করা হিদায়াতের শামিল
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৭৩
হাদিস নং ১৩৭৩
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنِ الصَّلاَةِ إِلاَّ مُنَافِقٌ قَدْ عُلِمَ نِفَاقُهُ أَوْ مَرِيضٌ إِنْ كَانَ الْمَرِيضُ لَيَمْشِي بَيْنَ رَجُلَيْنِ حَتَّى يَأْتِيَ الصَّلاَةَ - وَقَالَ - إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَّمَنَا سُنَنَ الْهُدَى وَإِنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى الصَّلاَةَ فِي الْمَسْجِدِ الَّذِي يُؤَذَّنُ فِيهِ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)
আমাদের ধারণা হলো মুনাফিক্ব যার নিফাক্ব স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং রুগ্ন ব্যক্তি ছাড়া কেউই সলাতের জামা’আত পরিত্যাগ করেনা। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) - এর সময় রুগ্ন ব্যক্তিও দু’জন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে সলাতের জামা’আতে উপস্থিত হত। তিনি আরো বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের হিদায়াতের কথা শিখিয়েছেন। আর হিদায়াতের কথা ও পদ্ধতির মধ্যে একটি হলো সে মসজিদে গিয়ে সলাত আদায় করা যে মাসজিদে আযান দেয়া হয়েছে। (ই.ফা.১৩৬০, ই.সে.১৩৭২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৭৪
হাদিস নং ১৩৭৪
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، عَنْ أَبِي الْعُمَيْسِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللَّهَ غَدًا مُسْلِمًا فَلْيُحَافِظْ عَلَى هَؤُلاَءِ الصَّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّ اللَّهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم سُنَنَ الْهُدَى وَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى وَلَوْ أَنَّكُمْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا الْمُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ وَمَا مِنْ رَجُلٍ يَتَطَهَّرُ فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ ثُمَّ يَعْمِدُ إِلَى مَسْجِدٍ مِنْ هَذِهِ الْمَسَاجِدِ إِلاَّ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ خَطْوَةٍ يَخْطُوهَا حَسَنَةً وَيَرْفَعُهُ بِهَا دَرَجَةً وَيَحُطُّ عَنْهُ بِهَا سَيِّئَةً وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلاَّ مُنَافِقٌ مَعْلُومُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يُؤْتَى بِهِ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفِّ .
বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ)
তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আগামীকাল ক্বিয়ামাতের দিন মুসলিম হিসেবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ পেতে আনন্দবোধ করে, সে যেন ঐ সলাতের রক্ষণাবেক্ষণ করে, যেসব সলাতের জন্য আযান দেয়া হয়। কেননা, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের নাবীর জন্য হিদায়াতের পন্থা পদ্ধতি বিধিবদ্ধ করেছেন। আর এসব সলাতও হিদায়াতের পন্থা পদ্ধতি, যেমন জনৈক ব্যক্তি সলাতের জামা’আতে উপস্থিত না হয়ে বাড়ীতে সলাত আদায় করে থাকে, অনুরূপ তোমরাও যদি তোমাদের বাড়ীতে সলাত আদায় করো তাহলে নিঃসন্দেহে তোমরা তোমাদের নাবীর সুন্নাত বা পন্থা-পদ্ধতি পরিত্যাগ করলে। আর তোমরা যদি এভাবে তোমাদের নাবীর সুন্নাত বা পদ্ধতি পরিত্যাগ করো তাহলে অবশ্যই পথ হারিয়ে ফেলবে। কেউ যদি অতি উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সলাত আদায় করার জন্য) কোন একটি মাসজিদে উপস্থিত হয় তাহলে মাসজিদে যেতে সে যতবার পদক্ষেপ ফেলবে তার প্রতিটি পদক্ষেপের পরিবর্তে আল্লাহ তা’আলা তার জন্য একটি নেকী লিখে দেন, তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন এবং একটি করে পাপ দূর করে দেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমরা মনে করি যার মুনাফিক্বী সর্বজনবিদিত এমন মুনাফিক্ব ছাড়া কেউ-ই জামা’আতে সলাত আদায় করা ছেড়ে দেয় না। অথচ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর যামানায় এমন ব্যক্তি জামা’আতে উপস্থিত হত যাকে দু’জন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে এসে সলাতের কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়া হত। (ই.ফা.১৩৬১, ই.সে.১৩৭৩)
৪৫. অধ্যায়ঃ
জামা’আতের সাথে ‘ইশা ও ফাজরের সলাত আদায় করার ফযীলত
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৭৫
হাদিস নং ১৩৭৫
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُهَاجِرِ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، قَالَ كُنَّا قُعُودًا فِي الْمَسْجِدِ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ فَأَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الْمَسْجِدِ يَمْشِي فَأَتْبَعَهُ أَبُو هُرَيْرَةَ بَصَرَهُ حَتَّى خَرَجَ مِنَ الْمَسْجِدِ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَمَّا هَذَا فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী আবুশ্ শা’সা (রহঃ)
তিনি বলেন, আমরা আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) - এর সাথে মাসজিদে বসেছিলাম। ইতোমধ্যে মুয়াযযিন (সলাতের জন্য) আযান দিলো। এ সময়ে জনৈক ব্যক্তি মসজিদ থেকে উঠে চলে যেতে থাকল। আর আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) তার প্রতি তাকিয়ে দেখতে থাকলেন। লোকটি মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেল। এ দেখে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বললেনঃ এ ব্যক্তি তো আবুল ক্বাসিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) - এর নীতি ও পদ্ধতির নাফরমানী করল। (ই.ফা.১৩৬২, ই.সে.১৩৭৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৭৬
হাদিস নং ১৩৭৬
وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، - هُوَ ابْنُ عُيَيْنَةَ - عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ الْمُحَارِبِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، وَرَأَى، رَجُلاً يَجْتَازُ الْمَسْجِدَ خَارِجًا بَعْدَ الأَذَانِ فَقَالَ أَمَّا هَذَا فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী আবুশ্ শা’সা আল মুহারিবী (রহঃ)
তিনি বলেন, আযানের পর জনৈক ব্যক্তিকে মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে দেখে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বললেন, এ লোকটি তো আবুল ক্বাসিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর আদেশ লঙ্ঘন করল। (ই.ফা.১৩৬৩, ই.সে.১৩৭৫)
৪৬. অধ্যায়ঃ
মুয়ায্যিন আযান দিলে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যাওয়া নিষেধ
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৭৭
হাদিস নং ১৩৭৭
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ سَلَمَةَ الْمَخْزُومِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، - وَهُوَ ابْنُ زِيَادٍ - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ، قَالَ دَخَلَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ الْمَسْجِدَ بَعْدَ صَلاَةِ الْمَغْرِبِ فَقَعَدَ وَحْدَهُ فَقَعَدْتُ إِلَيْهِ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا قَامَ نِصْفَ اللَّيْلِ وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا صَلَّى اللَّيْلَ كُلَّهُ " .
বর্ণনাকারী ‘আবদুর রহ্মান ইবনু আবূ ‘আম্রাহ্ (রহঃ)
তিনি বলেন, একদিন মাগরিবের সলাতের পর ‘উসমান ইবনু ‘আফ্ফান মাসজিদে এসে একাকী এক জায়গায় বসলেন। তখন আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বললেন - ভাতিজা, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জামা’আতের সাথে ‘ইশার সলাত আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত সলাত আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফাজ্রের সলাত জামা’আতের সাথে আদায় করল সে যেন সারা রাত জেগে সলাত আদায় করল। (ই.ফা. ১৩৬৪, ই.সে. ১৩৭৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৭৮
হাদিস নং ১৩৭৮
وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَسَدِيُّ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، جَمِيعًا عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي سَهْلٍ، عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ .
বর্ণনাকারী আবূ সাহ্ল ‘উসমান ইবনু হাকীম
একই সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১৩৬৫, ই.সে. ১৩৭৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৭৯
হাদিস নং ১৩৭৯
وَحَدَّثَنِي نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُفَضَّلٍ - عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ سَمِعْتُ جُنْدَبَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ فَلاَ يَطْلُبَنَّكُمُ اللَّهُ مِنْ ذِمَّتِهِ بِشَىْءٍ فَيُدْرِكَهُ فَيَكُبَّهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ " .
বর্ণনাকারী জুনদুব ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফাজ্রের সলাত আদায় করল সে মহান আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হলো। আর আল্লাহ তোমাদের কারো কাছে তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাদানের বিনিময়ে কোন অধিকার দাবী করেন না। যদি করেন তাহলে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করবেন যে, উল্টিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন। (ই.ফা. ১৩৬৬, ই.সে. ১৩৭৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৮০
হাদিস নং ১৩৮০
وَحَدَّثَنِيهِ يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ سَمِعْتُ جُنْدَبًا الْقَسْرِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَلَّى صَلاَةَ الصُّبْحِ فَهْوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ فَلاَ يَطْلُبَنَّكُمُ اللَّهُ مِنْ ذِمَّتِهِ بِشَىْءٍ فَإِنَّهُ مَنْ يَطْلُبْهُ مِنْ ذِمَّتِهِ بِشَىْءٍ يُدْرِكْهُ ثُمَّ يَكُبَّهُ عَلَى وَجْهِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ " .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু সীরীন (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি জুনদুব (ইবনু ‘আবদুল্লাহ) আল ক্বাসরীকে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফাজ্রের সলাত আদায় করল সে আল্লাহর নিরাপত্তা লাভ করল। আর আল্লাহ তা’আলা যদি তাঁর নিরাপত্তা প্রদানের হাক্ব কারো থেকে দাবী করে বসেন তাহলে সে আর রক্ষা পাবে না। তাই তাকে মুখ থুবড়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন। (ই.ফা. ১৩৬৭, ই.সে. ১৩৭৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৮১
হাদিস নং ১৩৮১
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ هَارُونَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ جُنْدَبِ بْنِ سُفْيَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا وَلَمْ يَذْكُرْ " فَيَكُبَّهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ " .
বর্ণনাকারী জুনদুব ইবনু সুফ্ইয়ান (রহঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে তিনি “তাকে উল্টিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন” কথাটি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ১৩৬৮, ই.সে. ১৩৮০)
৪৭. অধ্যায়ঃ
কোন ওযরবশতঃ জামা’আতে শারীক না হওয়া
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৮২
হাদিস নং ১৩৮২
حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ مَحْمُودَ بْنَ الرَّبِيعِ الأَنْصَارِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّ عِتْبَانَ بْنَ مَالِكٍ وَهُوَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مِنَ الأَنْصَارِ أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي قَدْ أَنْكَرْتُ بَصَرِي وَأَنَا أُصَلِّي لِقَوْمِي وَإِذَا كَانَتِ الأَمْطَارُ سَالَ الْوَادِي الَّذِي بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ وَلَمْ أَسْتَطِعْ أَنْ آتِيَ مَسْجِدَهُمْ فَأُصَلِّيَ لَهُمْ وَدِدْتُ أَنَّكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تَأْتِي فَتُصَلِّي فِي مُصَلًّى . فَأَتَّخِذَهُ مُصَلًّى . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سَأَفْعَلُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ " . قَالَ عِتْبَانُ فَغَدَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ حِينَ ارْتَفَعَ النَّهَارُ فَاسْتَأْذَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَذِنْتُ لَهُ فَلَمْ يَجْلِسْ حَتَّى دَخَلَ الْبَيْتَ ثُمَّ قَالَ " أَيْنَ تُحِبُّ أَنْ أُصَلِّيَ مِنْ بَيْتِكِ " . قَالَ فَأَشَرْتُ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنَ الْبَيْتِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَبَّرَ فَقُمْنَا وَرَاءَهُ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ - قَالَ - وَحَبَسْنَاهُ عَلَى خَزِيرٍ صَنَعْنَاهُ لَهُ - قَالَ - فَثَابَ رِجَالٌ مِنْ أَهْلِ الدَّارِ حَوْلَنَا حَتَّى اجْتَمَعَ فِي الْبَيْتِ رِجَالٌ ذَوُو عَدَدٍ فَقَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ أَيْنَ مَالِكُ بْنُ الدُّخْشُنِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ ذَلِكَ مُنَافِقٌ لاَ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُلْ لَهُ ذَلِكَ أَلاَ تَرَاهُ قَدْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . يُرِيدُ بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ " . قَالَ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ فَإِنَّمَا نَرَى وَجْهَهُ وَنَصِيحَتَهُ لِلْمُنَافِقِينَ . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . يَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ ثُمَّ سَأَلْتُ الْحُصَيْنَ بْنَ مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيَّ - وَهُوَ أَحَدُ بَنِي سَالِمٍ وَهُوَ مِنْ سَرَاتِهِمْ - عَنْ حَدِيثِ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ فَصَدَّقَهُ بِذَلِكَ .
বর্ণনাকারী মাহ্মূদ ইবনুর রাবী’ আল আনসারী (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আনসারী সহাবী ‘ইত্বান ইবনু মালিক রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছি। অথচ আমি আমার ক্বওমের লোকদের ইমামাত করি। কিন্তু বৃষ্টি হলে তাদের ও আমার এলাকার মধ্যবর্তী উপত্যকা প্লাবিত হয়ে যায়। তাই আমি মাসজিদে গিয়ে সলাত আদায় করাতে পারি না। (এভাবে আমিও জামা’আতে সলাত আদায় করা থেকে বঞ্চিত হই) হে আল্লাহর রসূল! তাই আমার আকাঙ্ক্ষা হলো, আপনি আমার বাড়ীতে গিয়ে একটি জায়গায় সলাত আদায় করবেন। সে স্থানটিকে আমি আমার সলাতের স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করে নিব। হাদীস বর্ণনাকারী মাহমূদ ইবনুর রাবী’ আল আনসারী বলেন, এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগীর আমি তা করব। ‘ইত্বান ইবনু মালিক আল আনসারী বলেন: পরদিন সকালে কিছুটা বেলা হলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বকর (রাঃ) আসলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আমার বাড়ীতে প্রবেশের) অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি দিলে তিনি বাড়ীর ভিতরে গিয়ে না বসেই সোজা ঘরে প্রবেশ করলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। ঘরের কোন্ স্থানে সলাত আদায় করলে তোমার ভাল হয়? আমি তখন তাকে ঘরের এক কোণের দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দিলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে সলাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমা বললে আমরাও তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি দু’ রাক’আত সলাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। ‘ইত্বান ইবনু মালিক আল আনসারী বলেন - আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর জন্য ছোট ছোট টুকরা করে যে গোশ্ত পাক করেছিলাম তা খাওয়ার জন্য তাঁকে তৎক্ষণাৎ চলে যেতে বাধা দিলাম। ইতোমধ্যে (খবর ছড়িয়ে পড়াতে) আমাদের আশে-পাশের বাড়ীর লোকজন ছুটে আসল। শেষ পর্যন্ত ঘরে বেশ কিছু সংখ্যক লোক জমে গেল। তাদের মধ্যে একজন বলল, মালিক ইবনুদ্ দুখশুন কোথায়? (তাকে তো দেখছি না!) অন্য একজন বলে উঠল, আরে, সে তো মুনাফিক্ব। সে আল্লাহ এবং তাঁর রসূলকে মোটেই পছন্দ করে না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তার সম্পর্কে এভাবে বলো না। তুমি কি মনে করো না যে, সে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” বলেছে। অর্থাৎ- “আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই” বলে বিশ্বাস করেছে। ‘ইত্বান ইবনু মালিক আল আনসারী বলেন, এ কথা শুনে উপস্থিত সবাই বলল, আল্লাহ এবং তাঁর রসূলই এ ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। একজন বলল, আমরা দেখি, সে মুনাফিক্বদের সাথে হাসিমুখে আলাপ করে এবং তাদের (উপদেশ দানের মাধ্যমে) কল্যাণ কামনা করে বা তাদের সাথে সলাপরামর্শ করে। (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নিমিত্তে ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই বলে ঘোষণা করেছে, আল্লাহ তা’আলা তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করেছেন। বর্ণনাকারী ইবনু শিহাব বলেন- পরে আমি বানী সালিম গোত্রের নেতৃস্থানীয় হুসায়ন ইবনু মুহাম্মাদ আনসারীকে মাহমূদ ইবনুর রাবী’ বর্ণিত হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি হাদীসটির সত্যতা স্বীকার করলেন। (ই.ফা. ১৩৬৯, ই.সে. ১৩৮১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৮৩
হাদিস নং ১৩৮৩
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، كِلاَهُمَا عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي مَحْمُودُ بْنُ رَبِيعٍ، عَنْ عِتْبَانَ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ يُونُسَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ أَيْنَ مَالِكُ بْنُ الدُّخْشُنِ أَوِ الدُّخَيْشِنِ وَزَادَ فِي الْحَدِيثِ قَالَ مَحْمُودٌ فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ نَفَرًا فِيهِمْ أَبُو أَيُّوبَ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ مَا أَظُنُّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا قُلْتَ - قَالَ - فَحَلَفْتُ إِنْ رَجَعْتُ إِلَى عِتْبَانَ أَنْ أَسْأَلَهُ - قَالَ - فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ فَوَجَدْتُهُ شَيْخًا كَبِيرًا قَدْ ذَهَبَ بَصَرُهُ وَهُوَ إِمَامُ قَوْمِهِ فَجَلَسْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَحَدَّثَنِيهِ كَمَا حَدَّثَنِيهِ أَوَّلَ مَرَّةٍ . قَالَ الزُّهْرِيُّ ثُمَّ نَزَلَتْ بَعْدَ ذَلِكَ فَرَائِضُ وَأُمُورٌ نُرَى أَنَّ الأَمْرَ انْتَهَى إِلَيْهَا فَمَنِ اسْتَطَاعَ أَنْ لاَ يَغْتَرَّ فَلاَ يَغْتَرَّ .
বর্ণনাকারী ‘ইত্বান ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে গেলাম। তবে এ হাদীসে তিনি এতটুকু অধিক বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি বলে উঠল, মালিক ইবনুদ্ দুখশুন অথবা বলল (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) মালিক ইবনুদ্ দুখায়শিন কোথায়? তিনি হাদীসটিতে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, মাহমূদ ইবনুর রাবী’ বলেছেন, আমি এ হাদীসটি একদল লোকের কাছে বর্ণনা করলাম। তাদের মধ্যে (সহাবা) আবূ আইয়ূব আল আনসারীও ছিলেন। তিনি বললেন, তুমি যা বললে আমার মনে হয় না রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা বলেছেন। মাহমূদ ইবনুর রাবী’ বলেন, এ কথা শুনে আমি এ মর্মে শপথ করলাম যে ‘ইত্বান ইবনু মালিককে আবার জিজ্ঞেস করার জন্য তার কাছে ফিরে যাব। তিনি বলেছেনঃ অতঃপর আমি তার কাছে গেলাম। তখন তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তিও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি ছিলেন তার ক্বওমের ইমাম। আমি গিয়ে পাশে বসে এ হাদীসটি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি আমাকে প্রথমবারের মতো করে হাদীসটি বর্ণনা করে শুনালেন। হাদীসটির বর্ণনাকারী যুহরী বলেছেন, এ ঘটনার পরেও আরো অনেক ফারয ও অন্যান্য বিষয়ে হুকুম আহ্কাম অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা মনে করি যে, (হুকুম-আহ্কামের) বিষয়টি এর পরেই শেষ হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি ধোঁকায় পড়তে না চায়, সে যেন এর দ্বারা ধোঁকায় না পড়ে। (ই.ফা. ১৩৭০, ই.সে. ১৩৮২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৮৪
হাদিস নং ১৩৮৪
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، قَالَ إِنِّي لأَعْقِلُ مَجَّةً مَجَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ دَلْوٍ فِي دَارِنَا . قَالَ مَحْمُودٌ فَحَدَّثَنِي عِتْبَانُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ بَصَرِي قَدْ سَاءَ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ إِلَى قَوْلِهِ فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ وَحَبَسْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى جَشِيشَةٍ صَنَعْنَاهَا لَهُ . وَلَمْ يَذْكُرْ مَا بَعْدَهُ مِنْ زِيَادَةِ يُونُسَ وَمَعْمَرٍ .
বর্ণনাকারী মাহমূদ ইবনুর রাবী (রহঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বাড়ীতে একটি বালতি থেকে পানি নিয়ে যে কুল্লি করেছিলেন তা এখনো আমার মনে আছে। মাহমূদ ইবনুর রাবী বলেন, ‘ইত্বান ইবনু মালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি এভাবে হাদীসটি বর্ণনা করে, “তিনি আমাদের সাথে নিয়ে দু’রাক’আত সলাত আদায় করলেন। আর আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর জন্য পাকানো জাশীশাহ্ নামক খাবার খেতে তাকে ঠেকিয়ে রাখলাম পর্যন্ত” উল্লেখ করলেন। তবে এরপর ইউনুস ও মা’মার বর্ণিত অতিরিক্ত কথাটুকু তিনি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ১৩৭১, ই.সে. ১৩৮৩)
৪৮. অধ্যায়ঃ
জামা’আতে নাফ্ল সলাত এবং চাটাই, মুসল্লা ও কাপড় ইত্যাদি পবিত্র বস্তুর উপর সলাত আদায় জায়িয
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৮৫
হাদিস নং ১৩৮৫
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ جَدَّتَهُ، مُلَيْكَةَ دَعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِطَعَامٍ صَنَعَتْهُ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ قَالَ " قُومُوا فَأُصَلِّيَ لَكُمْ " . قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ فَقُمْتُ إِلَى حَصِيرٍ لَنَا قَدِ اسْوَدَّ مِنْ طُولِ مَا لُبِسَ فَنَضَحْتُهُ بِمَاءٍ فَقَامَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَفَفْتُ أَنَا وَالْيَتِيمُ وَرَاءَهُ وَالْعَجُوزُ مِنْ وَرَائِنَا فَصَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, তাঁর দাদী মুলায়কাহ্ তার নিজের হাতে প্রস্তুত একটি খাবার খেতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে দা’ওয়াত দিলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা খেলেন। খাওয়া শেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা সবাই উঠে দাঁড়াও, আমি তোমাদের (বারাকাত বা শিক্ষাদানের) জন্য সলাত আদায় করব। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেনঃ আমি উঠে গিয়ে আমাদের একটি চাটাইয়ের উপর দাঁড়ালাম যা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ফলে কালো বর্ণ ধারণ করেছিল। আমি সেটির উপর কিছু পানি ছিটিয়ে দিলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐ চাটাইয়ের উপর দাঁড়ালেন। আর বৃদ্ধা মহিলারা দাঁড়ালেন পিছনে। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে সাথে নিয়ে দু’রাক’আত সলাত আদায় করলেন এবং তারপর চলে গেলেন। (ই.ফা. ১৩৭২, ই.সে. ১৩৮৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৮৬
হাদিস নং ১৩৮৬
وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، وَأَبُو الرَّبِيعِ، كِلاَهُمَا عَنْ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ شَيْبَانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحْسَنَ النَّاسِ خُلُقًا فَرُبَّمَا تَحْضُرُ الصَّلاَةُ وَهْوَ فِي بَيْتِنَا فَيَأْمُرُ بِالْبِسَاطِ الَّذِي تَحْتَهُ فَيُكْنَسُ ثُمَّ يُنْضَحُ ثُمَّ يَؤُمُّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَقُومُ خَلْفَهُ فَيُصَلِّي بِنَا وَكَانَ بِسَاطُهُمْ مِنْ جَرِيدِ النَّخْلِ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, আখলাক্ব বা নৈতিক চরিত্রের বিচারে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন সর্বোত্তম মানুষ। অনেক সময় এমন হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ঘরে থাকতেই সলাতের সময় হয়ে গেছে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে বিছানার উপর থাকতেন সেটিই ঝেড়ে ফেলে পানি ছিটিয়ে দিতে বলতেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতের ইমামাত করতেন। আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়াতাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নিয়ে সলাত আদায় করতেন।বর্ণনাকারী (আবূ তাইয়্যাহ্) বলেনঃ তাঁর (আনাস ইবনু মালিক-এর) বাড়ীর বিছানা খেজুর পাতায় তৈরি ছিল। (ই.ফা. ১৩৭৩, ই.সে. ১৩৮৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৮৭
হাদিস নং ১৩৮৭
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْنَا وَمَا هُوَ إِلاَّ أَنَا وَأُمِّي وَأُمُّ حَرَامٍ خَالَتِي فَقَالَ " قُومُوا فَلأُصَلِّيَ بِكُمْ " . فِي غَيْرِ وَقْتِ صَلاَةٍ فَصَلَّى بِنَا . فَقَالَ رَجُلٌ لِثَابِتٍ أَيْنَ جَعَلَ أَنَسًا مِنْهُ قَالَ جَعَلَهُ عَلَى يَمِينِهِ . ثُمَّ دَعَا لَنَا أَهْلَ الْبَيْتِ بِكُلِّ خَيْرٍ مِنْ خَيْرِ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ فَقَالَتْ أُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ خُوَيْدِمُكَ ادْعُ اللَّهَ لَهُ . قَالَ فَدَعَا لِي بِكُلِّ خَيْرٍ وَكَانَ فِي آخِرِ مَا دَعَا لِي بِهِ أَنْ قَالَ " اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ وَبَارِكْ لَهُ فِيهِ " .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বাড়ীতে আসলেন। তখন সেখানে শুধু আমি, আমার মা এবং আমার খালা উম্মু হারাম ছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) [আমাদের লক্ষ্য করে বললেন,] উঠো, আমি তোমাদের নিয়ে সলাত আদায় করব। তখন কোন ফরয সলাতের ওয়াক্ত ছিল না। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে সলাত আদায় করলেন। জনৈক ব্যক্তি (হাদীস বর্ণনাকারী) সাবিতকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনাসকে তাঁর কোন্ পাশে দাঁড় করিয়েছিলেন? তিনি (সাবিত) বললেনঃ তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ডান পাশে দাঁড় করিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের পরিবারের সবার জন্য দুন্ইয়া ও আখিরাতের সব রকম কল্যাণের জন্য দু’আ করলেন। আমার মাতা তখন বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার এ ক্ষুদ্র খাদিমের (আনাসের) জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করুন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার জন্য সব রকমের কল্যাণের দু’আ করলেন। দু’আর শেষভাগে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা বললেন তা হলো : হে আল্লাহ! তার সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দাও এবং এতে তাকে বারাকাত দান করো। (ই.ফা. ১৩৭৪, ই.সে. ১৩৮৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৮৮
হাদিস নং ১৩৮৮
وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُخْتَارِ، سَمِعَ مُوسَى بْنَ أَنَسٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِهِ وَبِأُمِّهِ أَوْ خَالَتِهِ . قَالَ فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ وَأَقَامَ الْمَرْأَةَ خَلْفَنَا .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে এবং তার মা অথবা খালাকে সাথে করে সলাত আদায় করলেন। তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তাঁর ডানে দাঁড় করালেন এবং মেয়েদের পিছনে দাঁড় করালেন। (ই.ফা. ১৩৭৫, ই.সে. ১৩৮৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৮৯
হাদিস নং ১৩৮৯
وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ح وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ - قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .
বর্ণনাকারী শু’বাহ্ (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১৩৭৫, ই.সে. ১৩৮৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৯০
হাদিস নং ১৩৯০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، كِلاَهُمَا عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ، زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَأَنَا حِذَاءَهُ وَرُبَّمَا أَصَابَنِي ثَوْبُهُ إِذَا سَجَدَ وَكَانَ يُصَلِّي عَلَى خُمْرَةٍ .
বর্ণনাকারী নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর স্ত্রী মায়মূনাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করতেন আর আমি তাঁর পাশেই থাকতাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সাজদাহ্ করতেন তখন কোন কোন সময় তাঁর কাপড় আমার শরীর স্পর্শ করত। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাটাইয়ের উপর সলাত আদায় করতেন। (ই.ফা. ১৩৭৬, ই.সে. ১৩৮৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৯১
হাদিস নং ১৩৯১
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، جَمِيعًا عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدَهُ يُصَلِّي عَلَى حَصِيرٍ يَسْجُدُ عَلَيْهِ .
বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
তিনি (একদিন) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে গিয়ে দেখতে পেলেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাটাইয়ের উপর সলাত আদায় করছেন এবং চাটাইয়ের উপরই সাজদাহ্ করছেন। (ই.ফা. ১৩৭৭, ই.সে. ১৩৯০)
৪৯. অধ্যায়ঃ
ফারয সলাত জামা’আতে আদায়ের ফাযীলত এবং সলাতের জন্য অপেক্ষা করা
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৯২
হাদিস নং ১৩৯২
حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - ح قَالَ وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ أَخْضَرَ، كُلُّهُمْ عَنِ التَّيْمِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . غَيْرَ أَنَّهُمْ لَمْ يَقُولُوا خَلْفَ أَبِي الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি মাসজিদে জামা’আতের সাথে সলাত আদায় করলে তা তার বাড়ীতে বা বাজারে সলাত আদায় করার চেয়ে বিশগুণেরও অধিক মর্যাদা সম্পন্ন। কারণ কোন লোক যখন সলাতের জন্য ওযূ করে এবং ভালভাবে ওযূ করে মাসজিদে আসে তাকে সলাত ছাড়া আর কিছুই মাসজিদে আনে না; আর সে সলাত ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যও পোষণ করে না। সুতরাং এ উদ্দেশে সে যখনই পদক্ষেপ করে তখন থেকে মাসজিদে প্রবেশ না করা পর্যন্ত তার প্রতিটি নেকীর বদলে ঐ ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি করে পাপ মিটিয়ে দেয়া হয়। অতঃপর মাসজিদে প্রবেশ করার পর যতক্ষণ সে সলাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ততক্ষণ যেন সে সলাতরত থাকে। আর তোমাদের কেউ যখন সলাত আদায় করার পর সলাতের স্থানেই বসে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত মালায়িকাহ্ (ফেরেশ্তাগণ) তার জন্য এ বলে দু’আ করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি তার তাওবাহ্ ক্ববূল করো। এরূপ দু’আ ততক্ষণ পর্যন্ত করতে থাকে যতক্ষণ না সে কাউকে কষ্ট দেয় এবং যতক্ষণ পর্যন্ত ওযূ নষ্ট না করে। [১] (ই.ফা. ১৩৭৮, ই.সে. ১৩৯১)
[১]হে আল্লাহ! তার প্রতি অনুগ্রহ কর এবং তাকে ক্ষমা কর।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৯৩
হাদিস নং ১৩৯৩
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الأَشْعَثِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْثَرٌ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ الرَّيَّانِ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ بِمِثْلِ مَعْنَاهُ .
বর্ণনাকারী আ’মাশ (রহঃ)
অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১৩৭৯, ই.সে. ১৩৯২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৯৪
হাদিস নং ১৩৯৪
وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مَجْلِسِهِ تَقُولُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ مَا لَمْ يُحْدِثْ وَأَحَدُكُمْ فِي صَلاَةٍ مَا كَانَتِ الصَّلاَةُ تَحْبِسُهُ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত সলাতের পর উক্ত স্থানে বসে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত মালায়িকাহ্ এ বলে তার জন্য দু’আ করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি তাকে রহ্মাত দান করো। আর তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি ততক্ষণ সলাতরত বলেই গণ্য হবে যতক্ষণ সে সলাতের জন্য অপেক্ষামান থাকে। [ই.ফা. ১৩৮০, ই.সে. ১৩৯২ (ক) ]
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৯৫
হাদিস নং ১৩৯৫
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَزَالُ الْعَبْدُ فِي صَلاَةٍ مَا كَانَ فِي مُصَلاَّهُ يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ وَتَقُولُ الْمَلاَئِكَةُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ . حَتَّى يَنْصَرِفَ أَوْ يُحْدِثَ " . قُلْتُ مَا يُحْدِثُ قَالَ يَفْسُو أَوْ يَضْرِطُ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত সলাতের জন্য বসে সলাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সলাতরত থাকে আর মালায়িকাহ্ও ততক্ষণ পর্যন্ত তার জন্য এ বলে দু’আ করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি তাকে রহম করো। (আর মালায়িকাহ্) ততক্ষণ পর্যন্ত এরূপ দু’আ করতে থাকে যতক্ষণ সে সেখান থেকে উঠে চলে না যায় কিংবা যতক্ষণ ওযূ নষ্ট না করে। হাদীস বর্ণনাকারী রাফি’ বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম ‘হাদাস বা ওযূ নষ্ট করা কাকে বলে? তিনি বললেনঃ নিঃশব্দে বা সশব্দে বায়ু নিঃসরণ করা। (ই.ফা. ১৩৮১, ই.সে. ১৩৯৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৯৬
হাদিস নং ১৩৯৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَةٍ مَا دَامَتِ الصَّلاَةُ تَحْبِسُهُ لاَ يَمْنَعُهُ أَنْ يَنْقَلِبَ إِلَى أَهْلِهِ إِلاَّ الصَّلاَةُ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত সলাতের জন্য কোন ব্যক্তি অপেক্ষা করে এবং শুধু সলাতের কারণেই সে ঘরে (পরিবার-পরিজনের কাছে) ফিরে যায় না ততক্ষণ পর্যন্ত সে যেন সলাতরত অবস্থায়ই থাকে (অর্থাৎ- যতক্ষণ পর্যন্ত সে সলাতের জন্য অপেক্ষা করল ততক্ষণ সে সলাত আদায় করল বলেই ধরে নেয়া হবে)। (ই.ফা. ১৩৮২, ই.সে. ১৩৯৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৯৭
হাদিস নং ১৩৯৭
حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ هُرْمُزَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَحَدُكُمْ مَا قَعَدَ يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ فِي صَلاَةٍ مَا لَمْ يُحْدِثْ تَدْعُو لَهُ الْمَلاَئِكَةُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সলাতের জন্য অপেক্ষা করে তখন ওযূ ভঙ্গ না করা পর্যন্ত সে যেন সলাতরত থাকল। এ সময়ে মালাকগণ এ বলে তার জন্য দু’আ করতে থাকো যে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ! তুমি তার প্রতি রহম করো। (ই.ফা. ১৩৮৩, ই.সে. ১৩৯৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৯৮
হাদিস নং ১৩৯৮
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১৩৮৪, ই.সে. ১৩৯৬)
৫০.অধ্যায়ঃ
মাসজিদের দিকে অধিক পদচারণা ও যাতায়াতের ফাযীলত
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৩৯৯
হাদিস নং ১৩৯৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَرَّادٍ الأَشْعَرِيُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَعْظَمَ النَّاسِ أَجْرًا فِي الصَّلاَةِ أَبْعَدُهُمْ إِلَيْهَا مَمْشًى فَأَبْعَدُهُمْ وَالَّذِي يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ حَتَّى يُصَلِّيَهَا مَعَ الإِمَامِ أَعْظَمُ أَجْرًا مِنَ الَّذِي يُصَلِّيهَا ثُمَّ يَنَامُ " . وَفِي رِوَايَةِ أَبِي كُرَيْبٍ " حَتَّى يُصَلِّيَهَا مَعَ الإِمَامِ فِي جَمَاعَةٍ " .
বর্ণনাকারী আবূ মূসা (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যার হাঁটার পথ (অর্থাৎ-ঘর) মসজিদ থেকে বেশী দূরে সে সলাতের অধিক সাওয়াব লাভের হাক্বদ্বার আর যে ব্যক্তি সলাতের জন্য অপেক্ষা করে ইমামের সাথে (জামা’আতে) সলাত আদায় করে সে ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশী সাওয়াবের হাক্বদ্বার যে একাকী সলাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে।আবূ কুরায়ব-এর বর্ণনাতে “জামা‘আতে ইমামের সাথে সলাত আদায় করে” কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে। (ই.ফা. ১৩৮৫, ই.সে. ১৩৯৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪০০
হাদিস নং ১৪০০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا عَبْثَرٌ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ كَانَ رَجُلٌ لاَ أَعْلَمُ رَجُلاً أَبْعَدَ مِنَ الْمَسْجِدِ مِنْهُ وَكَانَ لاَ تُخْطِئُهُ صَلاَةٌ - قَالَ - فَقِيلَ لَهُ أَوْ قُلْتُ لَهُ لَوِ اشْتَرَيْتَ حِمَارًا تَرْكَبُهُ فِي الظَّلْمَاءِ وَفِي الرَّمْضَاءِ . قَالَ مَا يَسُرُّنِي أَنَّ مَنْزِلِي إِلَى جَنْبِ الْمَسْجِدِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ يُكْتَبَ لِي مَمْشَاىَ إِلَى الْمَسْجِدِ وَرُجُوعِي إِذَا رَجَعْتُ إِلَى أَهْلِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ جَمَعَ اللَّهُ لَكَ ذَلِكَ كُلَّهُ " .
বর্ণনাকারী উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি জৈনিক লোক সম্পর্কে জানি যার বাড়ী অপেক্ষা কারো বাড়ী মসজিদ থেকে অধিক দূরে ছিল বলে আমার জানা নেই। জামা’আতের সাথে কোন ওয়াক্তের সলাত আদায় করা তিনি ছাড়তেন না। উবাই ইবনু কা’ব বলেনঃ তাকে বলা হলো অথবা (বর্ণনাকারী আবূ ‘উসমান নাহদীর সন্দেহ) আমি বললামঃ যদি তুমি একটি গাধা কিনে নাও এবং তার পিঠে আরোহণ করে রাতের অন্ধকারে এবং রোদের মধ্যে সলাত আদায় করতে আসো তাহলে তো বেশ ভালই হয়। একথা শুনে সে বললঃ আমার বাড়ী মাসজিদের পাশে হোক তা আমি পছন্দ করি না। আমি চাই মাসজিদে হেঁটে আসা এবং মাসজিদে থেকে ঘরে আমার পরিবার-পরিজনের কাছে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ আমার জন্য (‘আমালনামায়) লিপিবদ্ধ হোক। তার এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ তা’আলা তোমার জন্য অনুরূপ সাওয়াবই একত্রিত করে রেখেছেন। (ই.ফা. ১৩৮৬, ই.সে. ১৩৯৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪০১
হাদিস নং ১৪০১
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، كِلاَهُمَا عَنِ التَّيْمِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . بِنَحْوِهِ .
বর্ণনাকারী আত্ তায়মী (রহঃ)
একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১৩৮৭, ই.সে. ১৩৯৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪০২
হাদিস নং ১৪০২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ كَانَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ بَيْتُهُ أَقْصَى بَيْتٍ فِي الْمَدِينَةِ فَكَانَ لاَ تُخْطِئُهُ الصَّلاَةُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَتَوَجَّعْنَا لَهُ فَقُلْتُ لَهُ يَا فُلاَنُ لَوْ أَنَّكَ اشْتَرَيْتَ حِمَارًا يَقِيكَ مِنَ الرَّمْضَاءِ وَيَقِيكَ مِنْ هَوَامِّ الأَرْضِ . قَالَ أَمَا وَاللَّهِ مَا أُحِبُّ أَنَّ بَيْتِي مُطَنَّبٌ بِبَيْتِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَحَمَلْتُ بِهِ حِمْلاً حَتَّى أَتَيْتُ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ - قَالَ - فَدَعَاهُ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ وَذَكَرَ لَهُ أَنَّهُ يَرْجُو فِي أَثَرِهِ الأَجْرَ . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ لَكَ مَا احْتَسَبْتَ " .
বর্ণনাকারী উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)
তিনি বলেন, এক আনসারী ছিল যার বাড়ী মাদীনার অন্য লোকদের বাড়ীর তুলনায় (মাসজিদে নাবাবী থেকে) দূরে অবস্থিত ছিল। কিন্ত সে জামা’আতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে এক ওয়াক্ত সলাতও ছাড়ত না। উবাই ইবনু কা’ব বলেন, আমরা তার জন্য সমবেদনা অনুভব করলাম। তাই তাকে বললাম, হে অমুক! আপনি যদি একটি গাধা খরিদ করে নিতেন তাহলে সূর্যের খরতাপ থেকে রক্ষা পেতেন এবং বিষাক্ত পোকা-মাকড় থেকেও নিরাপত্তা লাভ করতে পারতেন। সে বলল, আল্লাহ্র শপথ!মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরের সাথেই আমার ঘর হোক তা আমি পছন্দ করি না। তার এ কথা আমার কাছে খুবই দুর্বিষহ মনে হলো। তাই আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে গিয়ে বিষয়টি তাঁকে জানালাম। তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন- সে পুনরায় অনুরূপ কথা বলল। সে এ কথাও বলল যে, এভাবে সে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে সাওয়াব বা পুরস্কার আশা করে। এ কথা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ তুমি যা আশা করেছ তা তুমি অবশ্যই লাভ করবে। (ই.ফা. ১৩৮৮, ই.সে. ১৪০০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪০৩
হাদিস নং ১৪০৩
وَحَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الأَشْعَثِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، ح وَحَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَزْهَرَ الْوَاسِطِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا أَبِي كُلُّهُمْ، عَنْ عَاصِمٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .
বর্ণনাকারী ‘আসিম (রহঃ)
একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১৩৮৯, ই.সে. ১৪০১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪০৪
হাদিস নং ১৪০৪
وَحَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَتْ دِيَارُنَا نَائِيَةً عَنِ الْمَسْجِدِ، فَأَرَدْنَا أَنْ نَبِيعَ، بُيُوتَنَا فَنَقْتَرِبَ مِنَ الْمَسْجِدِ فَنَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّ لَكُمْ بِكُلِّ خُطْوَةٍ دَرَجَةً " .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, আমাদের বাড়ী মসজিদ থেকে দূরে অবস্থিত ছিল। আমরা মাসজিদের আশে-পাশে বাড়ী নির্মাণের জন্য ঐ ঘর-বাড়ী বেঁচে ফেলতে মনস্থ করলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা করতে নিষেধ করেন। তিনি (আমাদের সম্বোধন করে) বললেনঃ (সলাতের জন্য মাসজিদের আসার) প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তোমাদের মর্যাদা ও সাওয়াব বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। (ই.ফা. ১৩৯০, ই.সে. ১৪০২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪০৫
হাদিস নং ১৪০৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، قَالَ حَدَّثَنِي الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ خَلَتِ الْبِقَاعُ حَوْلَ الْمَسْجِدِ فَأَرَادَ بَنُو سَلِمَةَ أَنْ يَنْتَقِلُوا إِلَى قُرْبِ الْمَسْجِدِ فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُمْ " إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّكُمْ تُرِيدُونَ أَنْ تَنْتَقِلُوا قُرْبَ الْمَسْجِدِ " . قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ أَرَدْنَا ذَلِكَ . فَقَالَ " يَا بَنِي سَلِمَةَ دِيَارَكُمْ تُكْتَبْ آثَارُكُمْ دِيَارَكُمْ تُكْتَبْ آثَارُكُمْ " .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, মাসজিদে নাবাবীর পাশে কিছু জায়গা খালি হলে বানূ সাল্যমাহ্ গোত্র সেখানে এসে বসতি স্থাপন করতে মনস্থ করল। বিষয়টি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে পৌছলে তিনি তাদের (বানূ সালিমাহ্ গোত্রের লোকদের) উদ্দেশে বললেনঃ আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা মাসজিদের কাছে চলে আসতে চাও। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তাই মনস্থ করেছি। এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে বানূ সালিমাহ্ গোত্রের লোকেরা! তোমরা তোমাদের ঐ বাড়ীতেই থাকো। কারণ তোমাদের সলাতের জন্য মাসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়। (ই.ফা. ১৩৯১, ই.সে. ১৪০৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪০৬
হাদিস নং ১৪০৬
حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ النَّضْرِ التَّيْمِيُّ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ كَهْمَسًا، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَرَادَ بَنُو سَلِمَةَ أَنْ يَتَحَوَّلُوا، إِلَى قُرْبِ الْمَسْجِدِ . - قَالَ - وَالْبِقَاعُ خَالِيَةٌ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " يَا بَنِي سَلِمَةَ دِيَارَكُمْ تُكْتَبْ آثَارُكُمْ " . فَقَالُوا مَا كَانَ يَسُرُّنَا أَنَّا كُنَّا تَحَوَّلْنَا .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তিনি বলেন, বানূ সালিমাহ্ গোত্রের লোকজন মাসজিদে নাবাবীর কাছে এসে উক্ত খালি স্থানে বসতি স্থাপন করতে মনস্থ করল| মাসজিদের নাবাবীর পাশে কিছু খালি জায়গা ছিল। বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবগত হলে তিনি তাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ হে বানূ সালিমাহ্ গোত্রের লোকজন ! তোমরা তোমাদের বর্তমান ঘর-বাড়ীতেই থাকো | সলাতের জন্য মাসজিদে আসতে তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ (পদক্ষেপের বিনিময়ে সাওয়াব) লিখিত হয় | নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কথা শুনে তারা বললঃ আমরা এতে (এ কথায় এতো খুশী হলাম যে) আমাদের বাড়ী-ঘর স্থানান্তরিত করে মাসজিদের কাছে আসলেও তত খুশী হতাম না। (ই.ফা. ১৩৯২, ই.সে. ১৪০৪)
৫১. অধ্যায়ঃ
সলাতের জন্য পদচারণা করা যদ্বারা পাপ মোচন ও মর্যাদা বৃদ্ধি হয়।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪০৭
হাদিস নং ১৪০৭
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ عَدِيٍّ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَطَهَّرَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ مَشَى إِلَى بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ لِيَقْضِيَ فَرِيضَةً مِنْ فَرَائِضِ اللَّهِ كَانَتْ خَطْوَتَاهُ إِحْدَاهُمَا تَحُطُّ خَطِيئَةً وَالأُخْرَى تَرْفَعُ دَرَجَةً " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বাড়ী থেকে পাক-পবিত্র হয়ে (ওযূ করে) তারপর কোন ফারয সলাত আদায় করার জন্য হেঁটে আল্লাহর কোন ঘরে (মাসজিদে) যায় তার প্রতিটি পদক্ষেপের একটি পাপ ঝরে পড়ে এবং অপরটিতে মর্যাদা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। (ই.ফা. ১৩৯৩, ই.সে. ১৪০৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪০৮
হাদিস নং ১৪০৮
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَقَالَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا بَكْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُضَرَ - كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَفِي حَدِيثِ بَكْرٍ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهْرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ هَلْ يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَىْءٌ " . قَالُوا لاَ يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَىْءٌ . قَالَ " فَذَلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ يَمْحُو اللَّهُ بِهِنَّ الْخَطَايَا " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তবে বকরের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছেনঃ তোমাদের কারো বাড়ীর দরজার সামনেই যদি একটি নদী থাকে আর সে ঐ নদীতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে তাহলে কি তার শরীরে কোন ময়লা থাকতে পারে? এ ব্যাপারে তোমরা কি বলো? সবাই বললঃ না, তার শরীরে কোন প্রকার ময়লা থাকবে না। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটিই পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের দৃষ্টান্ত | এর দ্বারা আল্লাহ তা’আলা সকল পাপ মুছে নিঃশেষ করে দেন। (ই.ফা. ১৩৯৪, ই.সে. ১৪০৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪০৯
হাদিস নং ১৪০৯
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ كَمَثَلِ نَهَرٍ جَارٍ غَمْرٍ عَلَى بَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ " . قَالَ قَالَ الْحَسَنُ وَمَا يُبْقِي ذَلِكَ مِنَ الدَّرَنِ
বর্ণনাকারী জাবির থেকে বর্ণিত, যিনি ‘আবদুল্লাহর পুত্র
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পাঁচ ওয়াক্ত সলাতকে তোমাদের কারোর বাড়ীর দরজার পাশ দিয়ে দু’কূল ছাপিয়ে উঠা প্রবহমান নদীর সাথে উপমা দেয়া যেতে পারে। আর ঐ নদীতে সে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে। বর্ণনাকারী বলেন, হাসান বলেছেনঃ এভাবে (গোসল করলে) কোন ময়লা অবশিস্ট থাকবে না। (ই.ফা. ১৩৯৫, ই.সে. ১৪০৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪১০
হাদিস নং ১৪১০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُطَرِّفٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ أَوْ رَاحَ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُ فِي الْجَنَّةِ نُزُلاً كُلَّمَا غَدَا أَوْ رَاحَ " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে এবং সন্ধ্যায় সলাত আদায় করতে মাসজিদে যায় এবং যতবার যায় আল্লাহ তা’আলা ততবারই তার জন্য জান্নাতের মধ্যে মেহমানদারীর উপকরণ প্রস্তত করেন। (ই.ফা. ১৩৯৬, ই.সে. ১৪০৮)
৫২. অধ্যায়ঃ
ফাজরের সলাতের পর বসে থাকার এবং মসজিদসমূহের ফাযীলত
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪১১
হাদিস নং ১৪১১
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ قُلْتُ لِجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ أَكُنْتَ تُجَالِسُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ كَثِيرًا كَانَ لاَ يَقُومُ مِنْ مُصَلاَّهُ الَّذِي يُصَلِّي فِيهِ الصُّبْحَ أَوِ الْغَدَاةَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ قَامَ وَكَانُوا يَتَحَدَّثُونَ فَيَأْخُذُونَ فِي أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ فَيَضْحَكُونَ وَيَتَبَسَّمُ .
বর্ণনাকারী সিমাক ইবনু হার্ব (রহঃ)
তিনি বলেন,আমি জাবির ইবনু সামুরাহ্-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি (ফাজ্রের সলাতের পর) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে বসতেন? জবাবে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, অনেক দিন বসেছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদের যে জায়গায় ফাজ্রের সলাত (অথবা বলেছেন ভোরের সলাত) আদায় করতেন সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে থেকে উঠতেন না। সূর্য উদিত হওয়ার পর তিনি সেখান থেকে উঠতেন। লোকজন তখন জাহিলী যুগের ঘটনাবলী সম্পর্কে আলোচনা করত। এসব ঘটনা আলোচনা করতে গিয়ে লোকজন হাসত আর তা দেখে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুচকি হাসতেন। (ই.ফা. ১৩৯৭, ই.সে. ১৪০৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪১২
হাদিস নং ১৪১২
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ، كِلاَهُمَا عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ جَلَسَ فِي مُصَلاَّهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَسَنًا .
বর্ণনাকারী জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ)
(তিনি বলেছেনঃ ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজ্রের সলাত আদায়ের পর সূর্য স্পষ্টভাবে উদিত না হওয়া পর্যন্ত সলাতের জায়গায় বসে থাকতেন। (ই.ফা. ১৩৯৮, ই.সে. ১৪১০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪১৩
হাদিস নং ১৪১৩
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، كِلاَهُمَا عَنْ سِمَاكٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَلَمْ يَقُولاَ حَسَنًا .
বর্ণনাকারী সিমাক (রহঃ)
এ সানাদে বর্ণিত। কিন্ত তাতে ‘ভালভাবে’ শব্দটির উল্লেখ নেই। (ই.ফা. ১৩৯৯, ই.সে. ১৪১১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪১৪
হাদিস নং ১৪১৪
وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، - حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي ذُبَابٍ، فِي رِوَايَةِ هَارُونَ - وَفِي حَدِيثِ الأَنْصَارِيِّ حَدَّثَنِي الْحَارِثُ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مِهْرَانَ مَوْلَى أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَحَبُّ الْبِلاَدِ إِلَى اللَّهِ مَسَاجِدُهَا وَأَبْغَضُ الْبِلاَدِ إِلَى اللَّهِ أَسْوَاقُهَا " .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার কাছে সব চাইতে প্রিয় জায়গা হলো মসজিদসমূহ আর সব চাইতে খারাপ জায়গা হলো বাজারসমূহ। (ই.ফা. ১৪০০, ই.সে. ১৪১২)
৫৩. অধ্যায়ঃ
ইমামতির জন্য বেশী যোগ্য কে ?
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪১৫
হাদিস নং ১৪১৫
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانُوا ثَلاَثَةً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَحَدُهُمْ وَأَحَقُّهُمْ بِالإِمَامَةِ أَقْرَؤُهُمْ " .
বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিনজন লোক একত্রিত হলে তাদের একজনকে তাদের ইমাম বা নেতা হতে হবে। আর তাদের মধ্যে ইমামত বা নেতৃত্বের সবচাইতে বেশী হাক্বদ্বার সেই ব্যক্তি যে সবচেয়ে বেশী কুরআন মাজীদ অধ্যয়ন করেছে। (ই.ফা. ১৪০১, ই.সে. ১৪১৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪১৬
হাদিস নং ১৪১৬
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذٌ، - وَهُوَ ابْنُ هِشَامٍ - حَدَّثَنِي أَبِي كُلُّهُمْ، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .
বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)
একই সানাদে পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১৪০২, ই.সে. ১৪১৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪১৭
হাদিস নং ১৪১৭
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ نُوحٍ، ح وَحَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، جَمِيعًا عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
বর্ণনাকারী আবূ সা’ঈদ (রাঃ)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা, ১৪০৩, ই.সে. ১৪১৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪১৮
হাদিস নং ১৪১৮
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي خَالِدٍ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ ضَمْعَجٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ سِلْمًا وَلاَ يَؤُمَّنَّ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فِي سُلْطَانِهِ وَلاَ يَقْعُدْ فِي بَيْتِهِ عَلَى تَكْرِمَتِهِ إِلاَّ بِإِذْنِهِ " . قَالَ الأَشَجُّ فِي رِوَايَتِهِ مَكَانَ سِلْمًا سِنًّا .
বর্ণনাকারী আবূ মাস’ঊদ আল আনসারী (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন আমাদেরকে বললেনঃ যে সর্বাপেক্ষা বেশী কুরাআনের পাঠক ও কুরআনী জ্ঞানের অধিকারী সে-ই ক্বওমের (লোকজনের) ইমামাত করবে। সবাই যদি কুরানের জ্ঞানের সমপর্যায়ের হয় সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সুন্নাত সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত হবে সে-ই ইমামাত করবে। সুন্নাহর জ্ঞানেরও সবাই সমান হলে হিজরাতে যে অগ্রগামী সে ইমামাত করবে। কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির নিজস্ব প্রভাবাধীন এলাকায় ইমামাত করবে না কিংবা তার অনুমতি ছাড়া তার বাড়ীতে তার বিছানায় বসবে না। বর্ণনাকারী আশাজ্জ তার বর্ণনায় (ইসলাম) শব্দের স্হানে (বয়স) শব্দ উল্লেখ করেছেন। (ই.ফা. ১৪০৪, ই.সে. ১৪১৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪১৯
হাদিস নং ১৪১৯
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ ح وَحَدَّثَنَا الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .
বর্ণনাকারী আবূ কুরায়ব, ইসহাক্ব, আশাজ্জ, ইবনু আবূ ‘উমার (রহঃ) ... তারা সকলে আ’মাশ (রাঃ) -এর সূত্রে
পূর্বোক্ত হাদীসের অনূরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা, ১৪০৫, ই.সে. ১৪১৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪২০
হাদিস নং ১৪২০
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَوْسَ بْنَ ضَمْعَجٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ، يَقُولُ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ وَأَقْدَمُهُمْ قِرَاءَةً فَإِنْ كَانَتْ قِرَاءَتُهُمْ سَوَاءً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَكْبَرُهُمْ سِنًّا وَلاَ تَؤُمَّنَّ الرَّجُلَ فِي أَهْلِهِ وَلاَ فِي سُلْطَانِهِ وَلاَ تَجْلِسْ عَلَى تَكْرِمَتِهِ فِي بَيْتِهِ إِلاَّ أَنْ يَأْذَنَ لَكَ أَوْ بِإِذْنِهِ " .
বর্ণনাকারী আবূ মাস’ঊদ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে বললেনঃ আল্লাহর কিতাব কুরআন মাজীদের জ্ঞান যে সবচেয়ে বেশী এবং যে কুরআন তিলাওয়াতও সুন্দরভাবে করতে পারে সে-ই সলাতের জামা’আতে ইমামাত করবে। সুন্দর ক্বিরাআতের ব্যাপারে সবাই যদি সমকক্ষ হয় তাহলে তাদের মধ্যে যে হিজরাতে অগ্রগামী সে ইমামাত করবে। হিজরাতের ব্যাপারেও সবাই যদি সমকক্ষ হয় তাহলে তাদের মধ্যে যে বয়সে প্রবীণ সেই ইমামাত করবে। কোন ব্যক্তি যেন কারো নিজের বাড়ীতে (বাড়ীর কর্তাকে বাদ দিয়ে) কিংবা কারো ক্ষমতাসীন এলাকায় নিজে ইমামাত না করে। আর কেউ যেন কারো বাড়ীতে গিয়ে অনুমতি ছাড়া তার বিছানায় না বসে। (ই.ফা. ১৪০৬, ই.সে. ১৪১৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪২১
হাদিস নং ১৪২১
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَحِيمًا رَقِيقًا فَظَنَّ أَنَّا قَدِ اشْتَقْنَا أَهْلَنَا فَسَأَلَنَا عَنْ مَنْ تَرَكْنَا مِنْ أَهْلِنَا فَأَخْبَرْنَاهُ فَقَالَ " ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ فَأَقِيمُوا فِيهِمْ وَعَلِّمُوهُمْ وَمُرُوهُمْ فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ ثُمَّ لْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ " .
বর্ণনাকারী মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাঃ)
তিনি বলেন, আমরা প্রায় এ বয়সের কিছু যুবক রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে এসে বিশরাত (অর্থাৎ-বিশদিন) অবস্হান করলাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও নম্র হৃদয়। তিনি বুঝতে পারলেন যে, আমরা আমাদের পরিবারের লোকজনের প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েছি। তাই নিজ পরিবারে আমরা কাকে কাকে রেখে গিয়েছি এ বিষয়ে তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলে আমরা তাঁকে সে বিষয়ে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেনঃ ঠিক আছে, তোমরা নিজ পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে অবস্হান করে তাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষাদান করো। আর এ বিষয়ে তাদেরকে বিভিন্ন কাজ করতে আদেশ করো। আর সলাতের সময় হলে তোমাদের কেউ আযান দিবে। তবে বয়সে যে সবার বড় সে ইমামাত করবে। [১] (ই.ফা. ১৪০৭, ই.সে. ১৪১৯)
[১]এক্ষেত্রে বয়সে বড় হওয়াকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে কারণ তাদের হিজরাত, ইসলাম গ্রহণ, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিওয়াসাল্লাম) –এর সাহচর্য এবং বিশদিন অবস্হান - এ সকল বৈশিষ্ঠ্যে তারা সমান ছিল একমাত্র বয়স ব্যতীত।
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪২২
হাদিস নং ১৪২২
وَحَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، وَخَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .
বর্ণনাকারী আইয়ূব (রহঃ)
একই সানাদে বর্ণিত। (ই.ফা. ১৪০৮, ই.সে. ১৪২০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪২৩
হাদিস নং ১৪২৩
وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، عَنْ أَيُّوبَ، قَالَ قَالَ لِي أَبُو قِلاَبَةَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ أَبُو سُلَيْمَانَ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَاسٍ وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ . وَاقْتَصَّا جَمِيعًا الْحَدِيثَ بِنَحْوِ حَدِيثِ ابْنِ عُلَيَّةَ .
বর্ণনাকারী মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস আবূ সুলাইমান (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি আমার সমবয়সী একদল যুবকের সাথে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর কাছে আসলাম। এতটুকু বর্ণনা করার পর তারা সবাই ইবনু ‘উলাইয়্যাহ্ বর্ণিত হাদীসের অনূরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ই.ফা. ১৪০৮, ই.সে. ১৪২০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪২৪
হাদিস নং ১৪২৪
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنَا وَصَاحِبٌ لِي فَلَمَّا أَرَدْنَا الإِقْفَالَ مِنْ عِنْدِهِ قَالَ لَنَا " إِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَأَذِّنَا ثُمَّ أَقِيمَا وَلْيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا " .
বর্ণনাকারী মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাঃ)
তিনি বলেন, আমি এবং আমার এক বন্ধু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে গেলাম। যখন আমরা তাঁর নিকট থেকে ফিরতে চাইলাম তখন তিনি আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃসলাতের সময় হলে আযান দিবে এবং তারপর ইক্বামত দিবে (অর্থাৎ-সলাত আদায় করবে)। তবে তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় হবে সেই যেন ইমামাত করে। (ই.ফা. ১৪০৯, ই.সে. ১৪২১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪২৫
হাদিস নং ১৪২৫
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، - يَعْنِي ابْنَ غِيَاثٍ - حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَزَادَ قَالَ الْحَذَّاءُ وَكَانَا مُتَقَارِبَيْنِ فِي الْقِرَاءَةِ .
বর্ণনাকারী খালিদ আল হায্যা (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে হাফ্সা ইবনু গিয়াস এতটুকু কথা অতিরিক্ত বলেছেন যে, হায্যা (রহঃ) বলেছেন, তারা উভয়ে (মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস এবং তার বন্ধু) ক্বিরাআতের ব্যাপারে সমকক্ষ ছিলেন | (ই.ফা. ১৪১০, ই.সে. ১৪২১)
৫৪. অধ্যায়ঃ
যখন মুসলিমদের ওপর কোন বিপদ আপতিত হয়, তখন সকল সলাতে ‘কুনূ্তে নাযিলাহ্’ পাঠ মুস্তাহাব
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪২৬
হাদিস নং ১৪২৬
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهُمَا سَمِعَا أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ يَفْرُغُ مِنْ صَلاَةِ الْفَجْرِ مِنَ الْقِرَاءَةِ وَيُكَبِّرُ وَيَرْفَعُ رَأْسَهُ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . ثُمَّ يَقُولُ وَهُوَ قَائِمٌ " اللَّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ وَسَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ وَاجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ كَسِنِي يُوسُفَ اللَّهُمَّ الْعَنْ لِحْيَانَ وَرِعْلاً وَذَكْوَانَ وَعُصَيَّةَ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ " . ثُمَّ بَلَغَنَا أَنَّهُ تَرَكَ ذَلِكَ لَمَّا أُنْزِلَ { لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَىْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ} .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজ্রের সলাতে ক্বিরাআত শেষ তাকবীর দিয়ে রুকূ‘তে গিয়ে রুকূ‘ থেকে যখন মাথা উঠাতেন তখন বলতেনঃ “সামি‘আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা-ওয়ালাকাল হাম্দ” - (অর্থাৎ - যে আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তাঁর প্রশংসা শুনেন। হে আমাদের প্রভু ! সকল প্রশংসা তোমারই জন্য নির্দিষ্ট।)। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে বলতেনঃ হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদ, সালামাহ্ ইবনু হিশাম ও ‘আইয়্যাশ ইবনু রবী‘আহ্ এবং দুর্বল ও নিপীড়িত মু‘মিনদের নাযাত দান করো। হে আল্লাহ ! তুমি মুযার গোত্রকে কঠোরহস্তে পাকড়াও করো। আর ইউসুফ (আঃ) -এর সময়ের দুর্ভিক্ষের মতো দুর্ভিক্ষ দিয়ে তাদের শায়েস্তা করো। হে আল্লাহ ! তুমি লিহ্ইয়ান, রি‘লান, যাক্ওয়ান ও ‘উসাইয়্যাহ্ গোত্রের ওপর অভিসম্পাত বর্ষণ করো। কেননা তারা আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের অবাধ্য হয়েছে। অতঃপর আমরা জানতে পারলাম যে, আয়াত- “হে নবী ! এর ব্যাপারে তোমার কোন করণীয় নেই। আল্লাহ তাদের তাওবাহ্ কবূল করুন আর তাদেরকে শাস্তি দান করুন এ ব্যাপারে তিনি পূর্ণ ইখতিয়ারের অধিকারী। কেননা তারা তো যালিম” – (সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরান ৩: ১২৮)। অবতীর্ণ হওয়ার পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এভাবে কুনূত পড়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। (ই.ফা.১৪১১, ই.সে.১৪২২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪২৭
হাদিস নং ১৪২৭
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى قَوْلِهِ " وَاجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ كَسِنِي يُوسُفَ " . وَلَمْ يَذْكُرْ مَا بَعْدَهُ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে ইউসুফের সময়ে দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষের মুখোমুখী করা পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন। পরের অংশটুকু উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ১৪১২, ই.সে. ১৪২২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪২৮
হাদিস নং ১৪২৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، حَدَّثَهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَنَتَ بَعْدَ الرَّكْعَةِ فِي صَلاَةٍ شَهْرًا إِذَا قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . يَقُولُ فِي قُنُوتِهِ " اللَّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ اللَّهُمَّ نَجِّ سَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ اللَّهُمَّ نَجِّ عَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ اللَّهُمَّ نَجِّ الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ " . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ ثُمَّ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَرَكَ الدُّعَاءَ بَعْدُ فَقُلْتُ أُرَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ تَرَكَ الدُّعَاءَ لَهُمْ - قَالَ - فَقِيلَ وَمَا تَرَاهُمْ قَدْ قَدِمُوا
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক সময় একমাস যাবৎ ফাজরের সলাতে দ্বিতীয় রাক‘আতে রুকূ থেকে ওঠার পরে কুনূত পড়েছেন। এতে তিনি যখন রুকূ‘ থেকে উঠে “সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলতেন তখন কুনূত পড়তে গিয়ে বলতেনঃ হে আল্লাহ, ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে মুক্ত করে দাও। হে আল্লাহ ! সালামাহ্ ইবনু হিশামকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ ! ‘আয়িশাহ্ ইবনু আবূ রাবী‘আহ্কে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ ! দুর্বল অসহায় মু‘মিনদেরকেও মুক্তি দাও। হে আল্লাহ ! তুমি মুযার গোত্রকে তোমার কঠোরতা দ্বারা পিষে মারো। হে আল্লাহ ! তুমি তাদের ওপর ইউসুফ (আঃ) -এর সময়ের দুর্ভিক্ষের মতো দুর্ভিক্ষ দান করো। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেছেন, পরে আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে এ দু‘আ পরিত্যাগ করতে দেখেছি। এতে আমি বিস্মিত হয়ে বললামঃ আমি দেখছি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এখন তাদের জন্য দু‘আ করা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ আমাকে তখন বলা হলো তুমি কি দেখছনা যে, তারা সবাই মুক্ত হয়ে চলে এসেছেন? (ই.ফা. ১৪১৩, ই.সে. ১৪২৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪২৯
হাদিস নং ১৪২৯
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَمَا هُوَ يُصَلِّي الْعِشَاءَ إِذْ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . ثُمَّ قَالَ قَبْلَ أَنْ يَسْجُدَ " اللَّهُمَّ نَجِّ عَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ " . ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ الأَوْزَاعِيِّ إِلَى قَوْلِهِ " كَسِنِي يُوسُفَ " . وَلَمْ يَذْكُرْ مَا بَعْدَهُ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘ইশার সলাত আদায় করেছিলেন। সাজদাহ্ করার পূর্বে রুকূ’ থেকে উঠে যখন তিনি “সামি‘আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বললেন তখন এ বলে দু‘আ করলেনঃ “হে আল্লাহ! ‘আইয়্যাশ ইবনু রাবী‘আকে মুক্তিদান করো” এতটুকু বর্ণনা করার পর আবূ হুরায়রাহ্ আওযা‘ঈ বর্ণিত হাদীসের বা সিনী ইউসুফ [অর্থাৎ- ইউসুফ (আঃ) ]-এর যুগের দুর্ভিক্ষের ন্যায় দুর্ভিক্ষ দিয়ে শাস্তিদান করো পর্যন্ত উল্লেখ করলেন। এতে তিনি আওযা‘ঈ বর্ণিত হাদীসের পরের অংশটুকু উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ১৪১৪, ই.সে. ১৪২৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৩০
হাদিস নং ১৪৩০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ وَاللَّهِ لأُقَرِّبَنَّ بِكُمْ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَكَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَقْنُتُ فِي الظُّهْرِ وَالْعِشَاءِ الآخِرَةِ وَصَلاَةِ الصُّبْحِ وَيَدْعُو لِلْمُؤْمِنِينَ وَيَلْعَنُ الْكُفَّارَ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ আমি তোমাদেরকে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর মতো করে (প্রায় অনুরূপ) সলাত আদায় করে দেখাব। এরপর আবূ হুরায়রাহ্ যুহর, ‘ইশা ও ফাজরের সলাতে কুনূত পড়তেন। এতে তিনি মু‘মিনদের জন্য দু‘আ করতেন এবং কাফিরদেরকে অভিসম্পাত করতেন। (ই.ফা. ১৪১৫, ই.সে. ১৪২৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৩১
হাদিস নং ১৪৩১
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الَّذِينَ قَتَلُوا أَصْحَابَ بِئْرِ مَعُونَةَ ثَلاَثِينَ صَبَاحًا يَدْعُو عَلَى رِعْلٍ وَذَكْوَانَ وَلِحْيَانَ وَعُصَيَّةَ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ . قَالَ أَنَسٌ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي الَّذِينَ قُتِلُوا بِبِئْرِ مَعُونَةَ قُرْآنًا قَرَأْنَاهُ حَتَّى نُسِخَ بَعْدُ أَنْ بَلِّغُوا قَوْمَنَا أَنْ قَدْ لَقِينَا رَبَّنَا فَرَضِيَ عَنَّا وَرَضِينَا عَنْهُ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, “বি‘রি মা‘উনাহ্” নামক স্থানে যে মু‘মিনদেরকে হত্যা করা হয়েছিল, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের হত্যাকারীদের জন্য ত্রিশদিন পর্যন্ত ফাজরের সলাতে বদ দু‘আ করেছিলেন। আনাস বর্ণনা করেছেন, “বি‘রি মা‘উনাহ্” নামক স্থানে নিহতদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা আয়াত অবতীর্ণ করে ছিলেন যা আমরা পাঠ করতাম। অবশেষে তা মানসুখ বা রহিত করে দেয়া হয়েছিল। আয়াতটি ছিল-অর্থাৎ“আমাদের ক্বওমকে এ সংবাদ পৌছিয়ে দাও যে, আমরা আমাদের প্রভুর সাক্ষাৎ লাভ করেছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর আমরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছি।” (ই.ফা. ১৪১৬, ই.সে. ১৪২৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৩২
হাদিস নং ১৪৩২
وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ قُلْتُ لأَنَسٍ هَلْ قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ قَالَ نَعَمْ بَعْدَ الرُّكُوعِ يَسِيرًا .
বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি আনাসকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি ফাজ্রের সলাতে কুনূত পড়তেন? জবাবে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, রুকূ‘র পরে সংক্ষিপ্তভাবে পড়তেন। (ই.ফা. ১৪১৭, ই.সে.১৪২৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৩৩
হাদিস নং ১৪৩৩
وَحَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ مُعَاذٍ - حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَهْرًا بَعْدَ الرُّكُوعِ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ يَدْعُو عَلَى رِعْلٍ وَذَكْوَانَ وَيَقُولُ " عُصَيَّةُ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ " .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক মাস যাবৎ ফাজ্রের সলাতে রুকূ’ করার পর কুনূত পড়েছেন। এতে তিনি রি‘ল ও যাক্ওয়ান গোত্রদ্বয়ের জন্য বদ-দু‘আ করতেন। আর ‘উসাইয়্যাহ্ গোত্র সম্পর্কে বলতেন যে, ‘উসায়ইয়্যাহ্ আল্লাহ ও তার রাসূলের অবাধ্য হয়েছে। (ই.ফা. ১৪১৮, ই.সে. ১৪২৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৩৪
হাদিস নং ১৪৩৪
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا أَنَسُ بْنُ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَنَتَ شَهْرًا بَعْدَ الرُّكُوعِ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ يَدْعُو عَلَى بَنِي عُصَيَّةَ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক মাস যাবৎ ফাজ্রের সলাতে রুকূ‘ থেকে উঠার পর কুনূতে বানূ ‘উসাইয়্যাহ্ গোত্রের জন্য বদ-দু‘আ করেছেন। (ই.ফা. ১৪১৯, ই.সে. ১৪২৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৩৫
হাদিস নং ১৪৩৫
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ سَأَلْتُهُ عَنِ الْقُنُوتِ، قَبْلَ الرُّكُوعِ أَوْ بَعْدَ الرُّكُوعِ فَقَالَ قَبْلَ الرُّكُوعِ . قَالَ قُلْتُ فَإِنَّ نَاسًا يَزْعُمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَنَتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ . فَقَالَ إِنَّمَا قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَهْرًا يَدْعُو عَلَى أُنَاسٍ قَتَلُوا أُنَاسًا مِنْ أَصْحَابِهِ يُقَالُ لَهُمُ الْقُرَّاءُ .
বর্ণনাকারী ‘আসিম (রহঃ)
তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) - কে কুনূত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, কুনূত রুকূ’ করার পূর্বে পড়তে হবে না পরে? জবাবে তিনি বললেনঃ রুকূ’ করার পূর্বে পড়তে হবে। তিনি বলেন, এ কথা শুনে আমি আবার বললাম যে, কোন কোন লোক বলে থাকে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকূ’ করার পর কুনূত পড়তেন। আনাস (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (রুকূর পরে) একমাস কুনূত পাঠ করেছেন। তখন তিনি ঐ সব লোকদের জন্য বদ-দু‘আ করতেন যারা তাঁর (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) সহাবীকে হত্যা করেছিল যাদেরকে ‘ক্বারী’ বলে সম্বোধন করা হত। (ই.ফা. ১৪২০, ই.সে. ১৪৩০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৩৬
হাদিস নং ১৪৩৬
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَدَ عَلَى سَرِيَّةٍ مَا وَجَدَ عَلَى السَّبْعِينَ الَّذِينَ أُصِيبُوا يَوْمَ بِئْرِ مَعُونَةَ كَانُوا يُدْعَوْنَ الْقُرَّاءَ فَمَكَثَ شَهْرًا يَدْعُو عَلَى قَتَلَتِهِمْ .
বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ)
তিনি বলেন, বি‘রি মা‘উনাহ্-এর ঘটনায় ‘ক্বারী’ বলে পরিচিত সত্তর জন সহাবীকে হত্যার কারণে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যতখানি বেদনাহত হয়ে ছিলেন এমনটি আর কোন সেনাদলের ক্ষেত্রে হতে দেখিনি। এ ঘটনার পর তিনি একমাস পর্যন্ত (ঐসব সাহাবার) হত্যাকারীদের জন্য বদ-দু‘আ করেছিলেন। (ই.ফা. ১৪২১, ই.সে ১৪৩১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৩৭
হাদিস নং ১৪৩৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، وَابْنُ، فُضَيْلٍ ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، كُلُّهُمْ عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ . يَزِيدُ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে উভয়েই কিছুটা অতিরিক্ত শাব্দিক তারতম্যসহ বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১৪২২, ই.সে.১৪৩২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৩৮
হাদিস নং ১৪৩৮
وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَنَتَ شَهْرًا يَلْعَنُ رِعْلاً وَذَكْوَانَ وَعُصَيَّةَ عَصَوُا اللَّهَ وَرَسُولَهُ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
এক সময়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রি‘ল, যাক্ওয়ান ও ‘উসাইয়্যাহ্ গোত্রসমূহকে লা’নত করে একমাস পর্যন্ত সলাতে কূনূত পড়েছেন। এরা সবাই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে নাফরমানী করেছিল। (ই.ফা. ১৪৩২, ই.সে. ১৪৩৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৩৯
হাদিস নং ১৪৩৯
وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ (অর্থবোধক) হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১৪২৪, ই.সে. ১৪৩৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৪০
হাদিস নং ১৪৪০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَنَتَ شَهْرًا يَدْعُو عَلَى أَحْيَاءٍ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ ثُمَّ تَرَكَهُ .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরবে কিছু গোত্রের জন্য এক সময়ে একমাস যাবৎ বদ-দু‘আ করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি তা পরিত্যাগ করেন। (ই.ফা. ১৪২৫, ই.সে.১৪৩৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৪১
হাদিস নং ১৪৪১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي لَيْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْنُتُ فِي الصُّبْحِ وَالْمَغْرِبِ .
বর্ণনাকারী বারা ইবনু ‘আযিয (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজ্র এবং মাগরিবের সলাতে কুনূত পড়তেন। (ই.ফা. ১৪২৬, ই.সে. ১৪৩৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৪২
হাদিস নং ১৪৪২
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْفَجْرِ وَالْمَغْرِبِ .
বর্ণনাকারী বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজ্র ও মাগরিবের সলাতে কুনূত পড়তেন। (ই.ফা. ১৪২৭, ই.সে. ১৪৩৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৪৩
হাদিস নং ১৪৪৩
حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ الْمِصْرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ اللَّيْثِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ خُفَافِ بْنِ إِيمَاءٍ الْغِفَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةٍ " اللَّهُمَّ الْعَنْ بَنِي لِحْيَانَ وَرِعْلاً وَذَكْوَانَ وَعُصَيَّةَ عَصَوُا اللَّهَ وَرَسُولَهُ غِفَارُ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا وَأَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ " .
বর্ণনাকারী খুফাফ ইবনু ঈমা আল গিফারী (রহঃ)
তিনি বলেন, কোন এক সলাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বলে বদ- দু‘আ করলেনঃ হে আল্লাহ ! তুমি বানী লিহ্ইয়ান, রি‘ল যাক্ওয়ান ও ‘উসাইয়্যাহ্ গোত্রসমূহের ওপর লা‘নাত বর্ষণ করো। তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানী করেছে। আর গিফার গোত্রকে আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করুন এবং আসলাম গোত্রকে নিরাপদ রাখুন। (ই.ফা. ১৪২৮, ই.সে. ১৪৩৮)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৪৪
হাদিস নং ১৪৪৪
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدٌ، - وَهُوَ ابْنُ عَمْرٍو - عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَرْمَلَةَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ خُفَافٍ، أَنَّهُ قَالَ قَالَ خُفَافُ بْنُ إِيمَاءٍ رَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ " غِفَارُ غَفَرَ اللَّهُ لَهَا وَأَسْلَمُ سَالَمَهَا اللَّهُ وَعُصَيَّةُ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ اللَّهُمَّ الْعَنْ بَنِي لِحْيَانَ وَالْعَنْ رِعْلاً وَذَكْوَانَ " . ثُمَّ وَقَعَ سَاجِدًا . قَالَ خُفَافٌ فَجُعِلَتْ لَعْنَةُ الْكَفَرَةِ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ .
বর্ণনাকারী হারিস ইবনু খুফাফ (রহঃ)
তিনি বলেন, খুফাফ ইবনু ঈমা বর্ণনা করেছেন। তিনি (খুফাফ ইবনু ঈমা) বলেন, একদিন সলাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকূ’ করলেন এবং তারপর রুকূ’ থেকে মাথা তুলে বললেনঃ গিফার গোত্রকে আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করুন। আসলাম গোত্রকে আল্লাহ নিরাপদে রাখুন। আর ‘উসাইয়্যাহ্ গোত্র তো আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানী করেছে। এরপর তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ ! তুমি বানী লিহ্ইয়ান গোত্রের ওপর লা‘নাত বর্ষণ করো, রি‘ল ও যাকওয়ান গোত্রদ্বয়ের ওপর লা‘নাত বর্ষণ করো। এরপর তিনি সাজদায় চলে গেলেন। খুফাফ ইবনু ঈমা বলেছেনঃ এ কারণেই কুনূতে কাফিরদের লা‘নাত করা হয়ে থাকে। (ই.ফা. ১৪২৯, ই.সে. ১৪৩৯)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৪৫
হাদিস নং ১৪৪৫
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ وَأَخْبَرَنِيهِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَرْمَلَةَ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الأَسْقَعِ، عَنْ خُفَافِ بْنِ إِيمَاءٍ، . بِمِثْلِهِ إِلاَّ أَنَّهُ لَمْ يَقُلْ فَجُعِلَتْ لَعْنَةُ الْكَفَرَةِ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ .
বর্ণনাকারী খুফাফ ইবনু ঈমা (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি তাতে “এ কারণেই কুনূতে কাফিরদের লা‘নাত করা হয়ে থাকে” কথাটি বলেননি। (ই.ফা. ১৪৩০, ই.সে. নেই)
৫৫. অধ্যায়ঃ
যে সলাত আদায় করা সম্ভব হয়নি এবং তা করার (সম্পাদনের) ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করা মুস্তাহাব
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৪৬
হাদিস নং ১৪৪৬
حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَفَلَ مِنْ غَزْوَةِ خَيْبَرَ سَارَ لَيْلَهُ حَتَّى إِذَا أَدْرَكَهُ الْكَرَى عَرَّسَ وَقَالَ لِبِلاَلٍ " اكْلأْ لَنَا اللَّيْلَ " . فَصَلَّى بِلاَلٌ مَا قُدِّرَ لَهُ وَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ فَلَمَّا تَقَارَبَ الْفَجْرُ اسْتَنَدَ بِلاَلٌ إِلَى رَاحِلَتِهِ مُوَاجِهَ الْفَجْرِ فَغَلَبَتْ بِلاَلاً عَيْنَاهُ وَهُوَ مُسْتَنِدٌ إِلَى رَاحِلَتِهِ فَلَمْ يَسْتَيْقِظْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ بِلاَلٌ وَلاَ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ حَتَّى ضَرَبَتْهُمُ الشَّمْسُ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوَّلَهُمُ اسْتِيقَاظًا فَفَزِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَىْ بِلاَلُ " . فَقَالَ بِلاَلٌ أَخَذَ بِنَفْسِي الَّذِي أَخَذَ - بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ - بِنَفْسِكَ قَالَ " اقْتَادُوا " . فَاقْتَادُوا رَوَاحِلَهُمْ شَيْئًا ثُمَّ تَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ الصَّلاَةَ فَصَلَّى بِهِمُ الصُّبْحَ فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ قَالَ " مَنْ نَسِيَ الصَّلاَةَ فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ اللَّهَ قَالَ { أَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِي} " . قَالَ يُونُسُ وَكَانَ ابْنُ شِهَابٍ يَقْرَؤُهَا لِلذِّكْرَى .
বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বার যুদ্ধ শেষে ফিরে আসার সময় রাতে সফররত ছিলেন। এক সময় রাতের শেষভাগে তাঁকে তন্দ্রায় পেয়ে বসলে তিনি সেখানেই অবতরণ করলেন। আর বিলালকে বললেনঃ ‘তুমি আজ রাতে আমাদের পাহারার কাজ করো। সুতরাং বিলাল যতটা পারলেন রাতের বেলায় সলাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ ঘুমিয়ে পড়লেন। কিন্তু ফাজরের সময় ঘনিয়ে আসলে বিলাল পূর্ব দিকে মুখ করে তার উটের সাথে হেলান দিলেন। এ সময় ঘুমে বিলালের দু‘চোখ বন্ধ হয়ে আসলো। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) , বিলাল কিংবা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাহাবীগণের কারোরই নিদ্রা ভঙ্গ হলো না।এ অবস্থায় তাদের গায়ে সূর্যের আলো এসে পড়ল।প্রথমে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। তিনি জেগে উঠে বিলালকে ডাকলেন, হে বিলাল ! বিলাল বললেন, হে আল্লাহর রসূল ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনি যে কারণে জাগতে পারেন নি আমিও ঐ একই কারণে জাগতে পারিনি। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুকুম দিলেন তাড়াতাড়ি যাত্রা করো। সুতরাং সবাই উটগুলো হাঁকিয়ে কিছু দূরে নিয়ে গেলে এবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওযূ করলেন এবং বিলালকে সলাতের জন্য আদেশ করলেন। বিলাল সলাতের জন্য ইক্বামত দিলে তিনি তাদের সবাইকে সাথে ফাজরের সলাত আদায় করলেন। সলাত শেষে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কেউ সলাত আদায় করতে ভুলে গেলে যখনই স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নিবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন- “ আমার স্মরণের জন্য সলাত আদায় করো” – (সূরাত্ব-হা-২০:১৪)।ইউনুস বলেছেনঃ ইবনু শিহাব (আরবি) (লিযিক্রী) -এর স্থানে (আরবি) (লিয্যিক্রা-) আদায় করলেন। (ই.ফা. ১৪৩১, ই.সে. ১৪৪০)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৪৭
হাদিস নং ১৪৪৭
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَيَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، كِلاَهُمَا عَنْ يَحْيَى، - قَالَ ابْنُ حَاتِمٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ كَيْسَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ عَرَّسْنَا مَعَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ نَسْتَيْقِظْ حَتَّى طَلَعَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لِيَأْخُذْ كُلُّ رَجُلٍ بِرَأْسِ رَاحِلَتِهِ فَإِنَّ هَذَا مَنْزِلٌ حَضَرَنَا فِيهِ الشَّيْطَانُ " . قَالَ فَفَعَلْنَا ثُمَّ دَعَا بِالْمَاءِ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ - وَقَالَ يَعْقُوبُ ثُمَّ صَلَّى سَجْدَتَيْنِ - ثُمَّ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَصَلَّى الْغَدَاةَ .
বর্ণনাকারী আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন , আমরা একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে শেষ রাতে বিশ্রামের জন্য ঘুমালাম। কিন্তু সূর্যোদয়ের পূর্বে আমরা জাগিনি (নিদ্রা থেকে জেগে উঠে) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ প্রত্যেকে নিজের উটের লাগাম টেনে নিয়ে যাও। কারন এই স্তানে আমাদের মাঝে শাইত্বন এসে হাজির হয়েছে। বর্ণনাকারী আবু হুরায়রাহ্ বলেছেন আমরা তাই করলাম। অতঃপর তিনি পানি চেয়ে নিয়ে ওযু করলেন এবং দু‘টি সাজদাহ্ করলেন (অর্থাৎ দু‘ রাকআত সলাত আদায় করলেন) ইয়াকুব বলেছেনঃ অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ফাজরের দুই রাকআত) সুন্নাত আদায় করলেন। অতঃপর সলাতের ইকামত দেওয়া হলে তিনি ফজরের (ফারয) সলাত আদায় করলেন। (ই. ফা. ১৪৩২ , ই. সে. ১৪৪১)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৪৮
হাদিস নং ১৪৪৮
وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُغِيرَةِ - حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّكُمْ تَسِيرُونَ عَشِيَّتَكُمْ وَلَيْلَتَكُمْ وَتَأْتُونَ الْمَاءَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ غَدًا " . فَانْطَلَقَ النَّاسُ لاَ يَلْوِي أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ - قَالَ أَبُو قَتَادَةَ - فَبَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسِيرُ حَتَّى ابْهَارَّ اللَّيْلُ وَأَنَا إِلَى جَنْبِهِ - قَالَ - فَنَعَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَالَ عَنْ رَاحِلَتِهِ فَأَتَيْتُهُ فَدَعَمْتُهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ أُوقِظَهُ حَتَّى اعْتَدَلَ عَلَى رَاحِلَتِهِ - قَالَ - ثُمَّ سَارَ حَتَّى تَهَوَّرَ اللَّيْلُ مَالَ عَنْ رَاحِلَتِهِ - قَالَ - فَدَعَمْتُهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ أُوقِظَهُ حَتَّى اعْتَدَلَ عَلَى رَاحِلَتِهِ - قَالَ - ثُمَّ سَارَ حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ السَّحَرِ مَالَ مَيْلَةً هِيَ أَشَدُّ مِنَ الْمَيْلَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ حَتَّى كَادَ يَنْجَفِلُ فَأَتَيْتُهُ فَدَعَمْتُهُ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ " مَنْ هَذَا " . قُلْتُ أَبُو قَتَادَةَ . قَالَ " مَتَى كَانَ هَذَا مَسِيرَكَ مِنِّي " . قُلْتُ مَا زَالَ هَذَا مَسِيرِي مُنْذُ اللَّيْلَةِ . قَالَ " حَفِظَكَ اللَّهُ بِمَا حَفِظْتَ بِهِ نَبِيَّهُ " . ثُمَّ قَالَ " هَلْ تَرَانَا نَخْفَى عَلَى النَّاسِ " . ثُمَّ قَالَ " هَلْ تَرَى مِنْ أَحَدٍ " . قُلْتُ هَذَا رَاكِبٌ . ثُمَّ قُلْتُ هَذَا رَاكِبٌ آخَرُ . حَتَّى اجْتَمَعْنَا فَكُنَّا سَبْعَةَ رَكْبٍ - قَالَ - فَمَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الطَّرِيقِ فَوَضَعَ رَأْسَهُ ثُمَّ قَالَ " احْفَظُوا عَلَيْنَا صَلاَتَنَا " . فَكَانَ أَوَّلَ مَنِ اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالشَّمْسُ فِي ظَهْرِهِ - قَالَ - فَقُمْنَا فَزِعِينَ ثُمَّ قَالَ " ارْكَبُوا " . فَرَكِبْنَا فَسِرْنَا حَتَّى إِذَا ارْتَفَعَتِ الشَّمْسُ نَزَلَ ثُمَّ دَعَا بِمِيضَأَةٍ كَانَتْ مَعِي فِيهَا شَىْءٌ مِنْ مَاءٍ - قَالَ - فَتَوَضَّأَ مِنْهَا وُضُوءًا دُونَ وُضُوءٍ - قَالَ - وَبَقِيَ فِيهَا شَىْءٌ مِنْ مَاءٍ ثُمَّ قَالَ لأَبِي قَتَادَةَ " احْفَظْ عَلَيْنَا مِيضَأَتَكَ فَسَيَكُونُ لَهَا نَبَأٌ " . ثُمَّ أَذَّنَ بِلاَلٌ بِالصَّلاَةِ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى الْغَدَاةَ فَصَنَعَ كَمَا كَانَ يَصْنَعُ كُلَّ يَوْمٍ - قَالَ - وَرَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَكِبْنَا مَعَهُ - قَالَ - فَجَعَلَ بَعْضُنَا يَهْمِسُ إِلَى بَعْضٍ مَا كَفَّارَةُ مَا صَنَعْنَا بِتَفْرِيطِنَا فِي صَلاَتِنَا ثُمَّ قَالَ " أَمَا لَكُمْ فِيَّ أُسْوَةٌ " . ثُمَّ قَالَ " أَمَا إِنَّهُ لَيْسَ فِي النَّوْمِ تَفْرِيطٌ إِنَّمَا التَّفْرِيطُ عَلَى مَنْ لَمْ يُصَلِّ الصَّلاَةَ حَتَّى يَجِيءَ وَقْتُ الصَّلاَةِ الأُخْرَى فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَلْيُصَلِّهَا حِينَ يَنْتَبِهُ لَهَا فَإِذَا كَانَ الْغَدُ فَلْيُصَلِّهَا عِنْدَ وَقْتِهَا " . ثُمَّ قَالَ " مَا تَرَوْنَ النَّاسَ صَنَعُوا " . قَالَ ثُمَّ قَالَ " أَصْبَحَ النَّاسُ فَقَدُوا نَبِيَّهُمْ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَكُمْ لَمْ يَكُنْ لِيُخَلِّفَكُمْ . وَقَالَ النَّاسُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فَإِنْ يُطِيعُوا أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ يَرْشُدُوا " . قَالَ فَانْتَهَيْنَا إِلَى النَّاسِ حِينَ امْتَدَّ النَّهَارُ وَحَمِيَ كُلُّ شَىْءٍ وَهُمْ يَقُولُونَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكْنَا عَطِشْنَا . فَقَالَ " لاَ هُلْكَ عَلَيْكُمْ " . ثُمَّ قَالَ " أَطْلِقُوا لِي غُمَرِي " . قَالَ وَدَعَا بِالْمِيضَأَةِ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُبُّ وَأَبُو قَتَادَةَ يَسْقِيهِمْ فَلَمْ يَعْدُ أَنْ رَأَى النَّاسُ مَاءً فِي الْمِيضَأَةِ تَكَابُّوا عَلَيْهَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَحْسِنُوا الْمَلأَ كُلُّكُمْ سَيَرْوَى " . قَالَ فَفَعَلُوا فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُبُّ وَأَسْقِيهِمْ حَتَّى مَا بَقِيَ غَيْرِي وَغَيْرُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - ثُمَّ صَبَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي " اشْرَبْ " . فَقُلْتُ لاَ أَشْرَبُ حَتَّى تَشْرَبَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " إِنَّ سَاقِيَ الْقَوْمِ آخِرُهُمْ شُرْبًا " . قَالَ فَشَرِبْتُ وَشَرِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَأَتَى النَّاسُ الْمَاءَ جَامِّينَ رِوَاءً . قَالَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبَاحٍ إِنِّي لأُحَدِّثُ هَذَا الْحَدِيثَ فِي مَسْجِدِ الْجَامِعِ إِذْ قَالَ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ انْظُرْ أَيُّهَا الْفَتَى كَيْفَ تُحَدِّثُ فَإِنِّي أَحَدُ الرَّكْبِ تِلْكَ اللَّيْلَةَ . قَالَ قُلْتُ فَأَنْتَ أَعْلَمُ بِالْحَدِيثِ . فَقَالَ مِمَّنْ أَنْتَ قُلْتُ مِنَ الأَنْصَارِ . قَالَ حَدِّثْ فَأَنْتُمْ أَعْلَمُ بِحَدِيثِكُمْ . قَالَ فَحَدَّثْتُ الْقَوْمَ فَقَالَ عِمْرَانُ لَقَدْ شَهِدْتُ تِلْكَ اللَّيْلَةَ وَمَا شَعَرْتُ أَنَّ أَحَدًا حَفِظَهُ كَمَا حَفِظْتُهُ .
বর্ণনাকারী আবু ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, একদিন (যুদ্ধ থেকে ফেরার সময়) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সামনে বক্তৃতা করলেন। তিনি বললেনঃ আজকের বিকাল থেকে তোমাদের সারারাত পথ চলতে হবে এবং ইনশাআল্লাহ আগামীকাল সকালে পানির কাছে উপস্থিত হবে। সুতরাং লোকজন সেখান থেকে এভাবে যাত্রা করল যে, কেউ কারো দিকে ফিরেও তাকাচ্ছিল না। আবু কাতাদাহ্ বলেন- রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -ও পথ চলছিলেন। এক সময় রাত্রি দ্বিপ্রহর হয়ে গেল। আমি তাঁর পাশে পাশেই চলছিলাম। এ সময় রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তন্দ্রায় ঝিমুচ্ছিলেন। ঘুমের প্রভাবে এক সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সওয়ারির উপর একদিকে ঝূকে পড়লেন। ঠিক সে সময় আমি তাঁর পাশে গিয়ে তাঁকে ঠেলে ধরলাম (অথাৎ-ঠেকনা দিলাম)। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ারীর উপর সোজা হয়ে বসলেন , কিন্তু তাঁকে জাগালাম না। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চলতে থাকলেন এবং এ অবস্তায় রাতের অধিকাংশ সময় অতিক্রান্ত হলে সওয়ারির উপর থেকে আবার একদিকে ঝূকে পড়লেন। তখন আমি আবার তাঁকে সওয়ারির উপর তাঁকে না জাগিয়ে ঠেলে ধরলাম | এভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ারীর উপর সোজা হয়ে বসলেন। আবু ক্বাতাদাহ্ বলেন- এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার চলতে থাকলেন। রাত ভোর হয়ে আসলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবার প্রথম দু'বারের চেয়ে বেশি করে একদিকে ঝুকে পড়লেন এমনকি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হল। তখন আমি পুনরায় ঠেস লাগিয়ে ধরলাম। এবার তিনি মাথা উঠিয়ে জিজ্ঞেস করেন - কে? আমি বললাম - আবু ক্বাতাদাহ্। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, এভাবে আমার পাশে পাশে কতক্ষন চলছ? আমি বললাম , আমি রাতের প্রথ্ম থেকেই এভাবে আপনার সাথে চলছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন বললেনঃ আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করুন। কারন তুমি তাঁর নবী কে দেখাশুনা করেছ। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি কি কাউকে দেখতে পাচ্ছ? আমি বললাম হাঁ এই তো একজন আরোহী | তারপর বললাম, এই তো আরও একজন আরোহী উপস্থিত হল। এভাবে আমরা সাত জন একত্র হলাম। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাস্তা থেকে কিছু সরে গিয়ে মাটিতে মাথা রাখলেন (অর্থাৎ- শুয়ে পড়লেন)। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বললেনঃ সলাতের খেয়াল রেখো। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ই ছিলেন প্রথম ব্যাক্তি যিনি নিদ্রা থেকে জাগ্রত হন আর তখন সূর্যের আলো তাঁর পিঠের উপর এসে পড়েছিল। আবু ক্বাতাদাহ্ বলেন-এরপর আমারা সবাই ব্যতিব্যস্ত হয়ে উটে পড়লাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা সবাই যার যার সওয়ারীতে সওয়ার হও। তাই আমরা সওয়ারীতে চেপে যাত্রা করলাম। সূর্য বেশ কিছু উপরে উঠলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ারী থেকে অবতরন করে আমার কাছে অল্প পানিসহ যে ওযুর পাত্র ছিল তা চেয়ে নিয়ে অন্য সময়ের চেয়ে সংক্ষিপ্ত করে ওযু করলেন। আবু ক্বাতাদাহ্ বললেন- এরপরও ঐ পাত্রে কিছু পানি অবশিষ্ট থাকল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু ক্বাতাদাহ্-কে বললেনঃ পাত্রটি রেখে দাও , দেখবে পরে বিস্ময়কর কাণ্ড ঘটবে। তখন বিলাল সলাতের আযান দিলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে দু’রাক'আত (সুন্নাত) সলাত আদায় করলেন এবং প্রতিদিনের মত করে ফাজরের ফারজ সলাত আদায় করলেন। আবু ক্বাতাদাহ্ বলেন - অতঃপর সওয়ারীতে আরোহণ করলে আমারাও সওয়ারিতে আরোহণ করে তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। এ সময়ে আমারা পরস্পর চুপিসারে বলাবলি করছিলাম যে, আমারা সলাতের ব্যাপারে যে অবহেলা প্রদর্শন করছিলাম তার কাফফারাহ্ বা ক্ষতিপুরন কীভাবে হবে? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমার জীবন ও কাজ-কর্ম কি তোমাদের জন্য অনুসরণীও আদর্শ নয়? এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার বললেনঃ ঘুমানোতে কোন দোষ বা অবহেলা নেই। অবহেলা তখনই বলা হবে যদি কোন ব্যাক্তি সলাত না আদায় করে দেরি করে এবং অন্য সলাতের ওয়াক্ত হয়ে যায়। কোন সময় কারো যদি এরুপ হয়ে যায় সে যখন জাগ্রত হবে তখনই যেন সলাত আদায় করে নেয়। পরদিন সকালে যেন সে সময়মত সলাত আদায় করে। পরে তিনি বললেনঃ অন্য সবাই কী করছে তা কি জান? সকালে লোকজন যখন তাদের নবী কে দেখতে পেল না তখন আবু বাকর ও উমার তাদের বললেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের পিছনে আছেন। তিনি তোমাদের পিছনে ফেলে যেতে পারেন না। কিন্তু লোকজন বললঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের সামনে আছেন। (নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন) এ ব্যাপারে তারা যদি আবু বাকর ও ‘উমার-এর কথা মানতো তাহলে সঠিক কাজ করত।আবু ক্বাতাদাহ্ বলেনঃ যখন বেলা বেড়ে দুপুর হল এবং সবকিছু সূর্যতাপে উপ্তপ্ত হয়ে উঠল তখন আমারা লোকজনের কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। তখন তারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এসে বলছিলঃ হে আল্লাহ্র রাসুল ! আমারা পিপাসায় মরে গেলাম। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না , তোমরা মরবে না। এরপর তিনি বললেনঃ আমার ছোট পেয়ালাটা আনো। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওযুর পাত্রটাও চেয়ে নিলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পেয়ালাতে পানি ঢালতে থাকলেন আর আবু ক্বাতাদাহ্ পান করাতে থাকলেন। লোকজন যখন দেখল যে , পানি মাত্র একপাত্র আর এতগুলো লোক তখন তারা (পানি থেকে বঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে) ভিড় জমিয়ে তুলল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা ধীরে সুস্থে পানি পান করতে থাকো। সবাইকে তৃপ্তি সহকারে পানি পান করানো যাবে। সতরাং লোকজন তাই করল। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পানি ঢালছিলেন আর আমি (আবু ক্বাতাদাহ্) পান করাচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমি এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাড়া পানি পান করেত আর কেউ অবশিষ্ট রইল না। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পেয়ালার পানি ঢেলে আমাকে বললেনঃ পান করো | আমি বললাম- হে আল্লাহ্র রাসুল ! আপনি পান না করা পর্যন্ত আমি পান করব না। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যিনি পান করান তিনি সবার শেষে পান করেন। আবু ক্বাতাদাহ্ বলেনঃ আমি তখন পানি পান করলাম। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পান করলেন। পরে অবশ্য লোকজন পানি পান করার ফলে শান্ত মনে তৃপ্তি সহকারে যেতে থাকল।হাদিসের বর্ণনাকারী সাবিত বলেছেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাবাহ ও এ কথা শুনে বললেনঃ তাহলে তো আপনি এ হাদীসটি সম্পর্কে ভাল জানেন। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কোন কওমের লোক? আমি বললাম, আমি আনসারদের একজন। তিনি বললেন, তাহলে বর্ণনা কর। কেননা, তুমি তোমার হাদিস সম্পর্কে নিশ্চয়ই ভালভাবে অবহিত আছ। ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাবাহ বলেন- আমি ঐ রাতে কাফিলায় শারীক ছিলাম। তবে আমি জানতাম না যে , অন্য কেউও আমার মত হাদীসটি স্মরণ রেখেছেন। (ই. ফা. ১৪৩৩ ই. সে. ১৪৪২)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৪৯
হাদিস নং ১৪৪৯
وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ صَخْرٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ زَرِيرٍ الْعُطَارِدِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيَّ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ كُنْتُ مَعَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسِيرٍ لَهُ فَأَدْلَجْنَا لَيْلَتَنَا حَتَّى إِذَا كَانَ فِي وَجْهِ الصُّبْحِ عَرَّسْنَا فَغَلَبَتْنَا أَعْيُنُنَا حَتَّى بَزَغَتِ الشَّمْسُ - قَالَ - فَكَانَ أَوَّلَ مَنِ اسْتَيْقَظَ مِنَّا أَبُو بَكْرٍ وَكُنَّا لاَ نُوقِظُ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَنَامِهِ إِذَا نَامَ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ عُمَرُ فَقَامَ عِنْدَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ يُكَبِّرُ وَيَرْفَعُ صَوْتَهُ بِالتَّكْبِيرِ حَتَّى اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ وَرَأَى الشَّمْسَ قَدْ بَزَغَتْ قَالَ " ارْتَحِلُوا " . فَسَارَ بِنَا حَتَّى إِذَا ابْيَضَّتِ الشَّمْسُ نَزَلَ فَصَلَّى بِنَا الْغَدَاةَ فَاعْتَزَلَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ لَمْ يُصَلِّ مَعَنَا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا فُلاَنُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تُصَلِّيَ مَعَنَا " . قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَصَابَتْنِي جَنَابَةٌ . فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَيَمَّمَ بِالصَّعِيدِ فَصَلَّى ثُمَّ عَجَّلَنِي فِي رَكْبٍ بَيْنَ يَدَيْهِ نَطْلُبُ الْمَاءَ وَقَدْ عَطِشْنَا عَطَشًا شَدِيدًا . فَبَيْنَمَا نَحْنُ نَسِيرُ إِذَا نَحْنُ بِامْرَأَةٍ سَادِلَةٍ رِجْلَيْهَا بَيْنَ مَزَادَتَيْنِ فَقُلْنَا لَهَا أَيْنَ الْمَاءُ قَالَتْ أَيْهَاهْ أَيْهَاهْ لاَ مَاءَ لَكُمْ . قُلْنَا فَكَمْ بَيْنَ أَهْلِكِ وَبَيْنَ الْمَاءِ . قَالَتْ مَسِيرَةُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ . قُلْنَا انْطَلِقِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَتْ وَمَا رَسُولُ اللَّهِ فَلَمْ نُمَلِّكْهَا مِنْ أَمْرِهَا شَيْئًا حَتَّى انْطَلَقْنَا بِهَا فَاسْتَقْبَلْنَا بِهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهَا فَأَخْبَرَتْهُ مِثْلَ الَّذِي أَخْبَرَتْنَا وَأَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا مُوتِمَةٌ لَهَا صِبْيَانٌ أَيْتَامٌ فَأَمَرَ بِرَاوِيَتِهَا فَأُنِيخَتْ فَمَجَّ فِي الْعَزْلاَوَيْنِ الْعُلْيَاوَيْنِ ثُمَّ بَعَثَ بِرَاوِيَتِهَا فَشَرِبْنَا وَنَحْنُ أَرْبَعُونَ رَجُلاً عِطَاشٌ حَتَّى رَوِينَا وَمَلأْنَا كُلَّ قِرْبَةٍ مَعَنَا وَإِدَاوَةٍ وَغَسَّلْنَا صَاحِبَنَا غَيْرَ أَنَّا لَمْ نَسْقِ بَعِيرًا وَهِيَ تَكَادُ تَنْضَرِجُ مِنَ الْمَاءِ - يَعْنِي الْمَزَادَتَيْنِ - ثُمَّ قَالَ " هَاتُوا مَا كَانَ عِنْدَكُمْ " . فَجَمَعْنَا لَهَا مِنْ كِسَرٍ وَتَمْرٍ وَصَرَّ لَهَا صُرَّةً فَقَالَ لَهَا " اذْهَبِي فَأَطْعِمِي هَذَا عِيَالَكِ وَاعْلَمِي أَنَّا لَمْ نَرْزَأْ مِنْ مَائِكِ " . فَلَمَّا أَتَتْ أَهْلَهَا قَالَتْ لَقَدْ لَقِيتُ أَسْحَرَ الْبَشَرِ أَوْ إِنَّهُ لَنَبِيٌّ كَمَا زَعَمَ كَانَ مِنْ أَمْرِهِ ذَيْتَ وَذَيْتَ . فَهَدَى اللَّهُ ذَاكَ الصِّرْمَ بِتِلْكَ الْمَرْأَةِ فَأَسْلَمَتْ وَأَسْلَمُوا .
বর্ণনাকারী ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)
তিনি বলেন , আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কোন এক সফরে তাঁর সাথে ছিলাম। এক রাতে আমরা রাতের বেলায়ই পথ চলছিলাম | রাতের শেষ দিকে বিশ্রামের জন্য আমরা একস্থানে অবতরন করলে ঘুমের প্রভাবে আমাদের চোখ বন্ধ হয়ে আসলো। এ অবস্তায় সূর্য উদিত হলো। ‘ইমরান ইবনু হুসাইন বলেন, আমাদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি ঘুম থেকে জেগে উটলেন তিনি আবু বাকর। আমাদের নীতি ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমানোর পর নিজে নিজেই যতক্ষণ না জাগতেন ততক্ষন আমারা কেউ তাঁকে নিদ্রা থেকে জাগাতাম না। আবু বকরের পর যিনি প্রথম ঘুম থেকে জাগলেন তিনি ‘উমার। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পাশে গিয়ে দাড়িয়ে উচ্চ শব্দে তাকবীর বলতে শুরু করলেন। এতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জেগে উঠলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথা উটিয়ে দেখতে পেলেন সূর্য আগেই উদিত হয়েছে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সবাইকে বললেনঃ তোমরা এখান থেকে যাত্রা শুরু করো। এরপর তিনিও আমাদের সাথে যাত্রা করলেন। অতঃপর সূর্যের কিরণ আরো পরিস্কারভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে তিনি সওয়ারী থামিয়ে অবতরন করলেন এবং আমাদেরকে সাথে করে ফাজরের সলাত আদায় করলেন। কিন্তু জৈনিক ব্যক্তি সবার থেকে দূরে থাকল এবং আমাদের সাথে সলাত আদায় করলেন না। সলাত শেষ করে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন তুমি কি কারনে আমাদের সাথে সলাত আদায় করলে না? সে বলল , হে আল্লাহ্র নবী , আমার জন্য গোসল ফারয হয়েছে (তাই সলাত আদায় করতে পারলাম না) তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করতে বললেন। অতঃপর সে তায়াম্মুম করে সলাত আদায় করল। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে একদল লোকের সাথে সম্মুখের দিকে আগে আগে পাঠিয়ে দিলেন যাতে আমরা পানি খুঁজে বের করি। আমরা ইতিমধ্যে যার পর নাই তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমরা পথ চলতে চলতে এক স্ত্রী লোককে দেখতে পেলাম। সে তার সওয়ারীর উপর দু’টি চামড়ার মশকের উপর দু'দিকে পা ঝুলিয়ে বসেছিল। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম , এখানে পানি কোথায় পাওয়া যাবে? সে বলে উঠল হায় ! হায় ! এখানে পানি তোমরা কোথায় পাবে? আমরা তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম , তোমার গোত্রের বসতি এলাকা থেকে পানি কত দূরে? সে বললঃ একদিন ও একরাতের পথের ব্যবধান। আমরা তাকে বললাম, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে চলো। সে বললঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার কি? এরপর আমরা আর তাকে নিজের ইচ্ছামত কোন কিছুই করতে দিলাম না। বরং তাকে ধরে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন , সে আমাদেরকে যা বলেছিল তাঁকেও তাই বলল। সে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে আরও জানালেন যে , সে ইয়াতিম শিশুর অভিভাবিকা। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উটকে বসাতে আদেশ করলে সেটাকে বসানো হল এবং তিনি চামড়ার মশকের উপর দিকের মুখ দু'টিতে কুল্লি করে দিলেন। এরপর উটটিকে দাড় করানো হলো। আমরা তৃষ্ণার্ত চল্লিশ জনে সবাই এবার তৃষ্ণা দূর করে পানি পান করলাম। আমরা আমাদের মশক ও পানির পাত্রগুলি ভর্তি করে নিলাম এবং আমাদের সঙ্গী লোকটিকেও গোসল করালাম। তবে কোন উটকে পানি পান করালাম না। অথচ মশক তখনও পানির চাপে ফেটে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছিল। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমাদের যার কাছে যা আছে নিয়ে এসো। সুতরাং আমরা ঐ মহিলার জন্য খেজুর ও খেজুরের টুকরা এনে জমা করলে সেগুলো দিয়ে তার জন্য একটি পুটলি বাঁধা হলো। (এগুলো দিয়ে) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ এবার তুমি গিয়ে তোমার বাচ্চাদের খওয়াও। আর মনে রেখ যে, তোমার পানি আমরা আদৌ নেই নি। সে তার লোকদের নিকট ফিরে গিয়ে বললঃ আমি সবচেয়ে বড় জাদুকরের সাক্ষাৎ পেয়েছি। অথবা সে সম্ববত বলেছিল , একজন নবী র সাক্ষাৎ পেয়েছি। এমন-এমন বিস্ময়কর দেখলাম তার ব্যাপারটা আল্লাহ তাআলা ঐ মহিলার দ্বারা উক্ত জনপদকে হেদায়েত দান করলেন। সুতরাং সেও ইসলাম গ্রহণ করল এবং উক্ত জনপদের লোকেরাও ইসলাম গ্রহণ করল। (ই. ফা. ১৪৩৪ , ই. সে. ১৪৪৩)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৫০
হাদিস নং ১৪৫০
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، حَدَّثَنَا عَوْفُ بْنُ أَبِي جَمِيلَةَ الأَعْرَابِيُّ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيِّ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَسَرَيْنَا لَيْلَةً حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ قُبَيْلَ الصُّبْحِ وَقَعْنَا تِلْكَ الْوَقْعَةَ الَّتِي لاَ وَقْعَةَ عِنْدَ الْمُسَافِرِ أَحْلَى مِنْهَا فَمَا أَيْقَظَنَا إِلاَّ حَرُّ الشَّمْسِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِ حَدِيثِ سَلْمِ بْنِ زَرِيرٍ وَزَادَ وَنَقَصَ . وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَرَأَى مَا أَصَابَ النَّاسَ وَكَانَ أَجْوَفَ جَلِيدًا فَكَبَّرَ وَرَفَعَ صَوْتَهُ بِالتَّكْبِيرِ حَتَّى اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِشِدَّةِ صَوْتِهِ بِالتَّكْبِيرِ فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَكَوْا إِلَيْهِ الَّذِي أَصَابَهُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ ضَيْرَ ارْتَحِلُوا " . وَاقْتَصَّ الْحَدِيثَ
বর্ণনাকারী 'ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)
তিনি বলেন , কোন এক সফরে আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে ছিলাম। আমরা রাতের বেলা পথ চললাম। রাতের শেষভাগে ভোর অল্প কিছু পূর্বে আমরা এমনভাবে পড়লাম (অর্থাৎ ক্লান্তিতে শরীর এলিয়ে দিলাম) যার চেয়ে অন্য কোন পড়াই কোন মুসাফিরের কাছে অধিক পছন্দনীয় বা সুখকর নয়। একমাত্র সূর্যতাপে আমরা জেগে উটলাম। ...... এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি হাদীসটি সালাম ইবনু যারীর বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ করে বর্ণনা করলেন। এ বর্ণনাতে তিনি হ্রাস-বৃদ্ধিও করলেন। হাদীসটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন-‘উমার ইবনু খাত্তাব জেগে উটে যখন লোকদের অবস্থা দেখলেন তখন উচ্চঃস্বরে তাকবীর শুরু করলেন। ‘উমার ছিলেন উচু কন্ঠস্বরের লোক। তাঁর গুরুগম্ভীর শব্দে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জেগে উঠলেন। তিনি জেগে উটলে লোকজন তাঁর কাছে তাদের অবস্তা জানিয়ে অভিযোগ করলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন- এ ঘুমে কোন ক্ষতি নেই। তোমরা এখান থেকে যাত্রা করো। এরপর তিনি হাদীসটি বর্ণনা করলেন। (ই. ফা. ১৪৩৫, ই. সে. ১৪৪৪)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৫১
হাদিস নং ১৪৫১
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ فَعَرَّسَ بِلَيْلٍ اضْطَجَعَ عَلَى يَمِينِهِ وَإِذَا عَرَّسَ قُبَيْلَ الصُّبْحِ نَصَبَ ذِرَاعَهُ وَوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى كَفِّهِ .
বর্ণনাকারী আবু ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন , রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফররত অবস্তায় রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হলে তিনি ডান কাতে শুয়ে থাকতেন। আর ভোরের কাছাকাছি সময়ে জাগ্রত হলে তাঁর বাহু দাঁড় করিয়ে হাতের তালুতে ভর করে শুয়ে থাকতেন। (ই. ফা. নেই, ই. সে. ১৪৪৫)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৫২
হাদিস নং ১৪৫২
حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ نَسِيَ صَلاَةً فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا لاَ كَفَّارَةَ لَهَا إِلاَّ ذَلِكَ " . قَالَ قَتَادَةُ وَأَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِي .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ কোন সলাত করতে ভুলে গেলে যখন স্মরণ হবে তখনই যেন তা আদায় করে নেয়। এ ব্যবস্তা গ্রহণ করা ছাড়া আর কোন কাফফারাহ্ তাকে দিতে হবে না।হাদিসের বর্ণনাকারী ক্বাতাদাহ্ তার বর্ণনায় “আমার স্মরণের জন্য সলাত আদায় করো'” - (সূরা ত্ব-হা ২০ : ১৪) এ আয়াতটি উল্লেখ করেছেন। (ই. ফা. ১৪৩৬ , ই. সে. ১৪৪৬)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৫৩
হাদিস নং ১৪৫৩
وَحَدَّثَنَاهُ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، جَمِيعًا عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرْ " لاَ كَفَّارَةَ لَهَا إِلاَّ ذَلِكَ " .
বর্ণনাকারী আবু আওয়ানাহ্ , ক্বাতাদাহ্ , আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এর বর্ণনাতে “এর কাফফারাহ্ এ (স্মরণ হলেই আদায় করে নেয়া) ছাড়া আর কিছুই নয়”- কথাটি উল্লেখ করা হয়নি। (ই. ফা. ১৪৩৭ , ই. সে. ১৪৪৭)
সহিহ মুসলিমসহিহ মুসলিম : ১৪৫৪
হাদিস নং ১৪৫৪
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ نَسِيَ صَلاَةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا " .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি বলেছেন , কেউ কোন সলাত আদায় করতে ভুলে গেলে অথবা ঘুমিয়ে পড়লে তার কাফফারাহ্ হলো যখনই স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নিবে। (ই. ফা. ১৪৩৮ , ই. সে. ১৪৪৮)-----------------১৪৫৫. নাস্র ইবনু 'আলী আল জাহ্যামী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন , রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ ঘুম থেকে জাগতে না পারার কারনে সলাত আদায় করতে না পারলে অথবা সলাত আদায় করতে ভুলে গেলে যখনই স্মরণ হবে তখনই সলাত আদায় করবে। কেননা, মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেনঃ '' আমার স্মরণের জন্য সলাত আদায় করো ''- (সূরা ত্ব-হা ২০ : ১৪) (ই. ফা. ১৪৩৯ ,ই.সে. ১৪৪৯)[বিঃদ্রঃ হাদিস নং ১৪৫৫ দুইবার এসেছে, তাই প্রথমটি হাদিস নং ১৪৫৪ এর সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া হল।]