পরিচ্ছেদ ১
সন্তানের মীরাস
পরিচ্ছেদ ২
মিরাস বণ্টনে স্বামীর অংশ স্ত্রী হতে এবং স্ত্রীর অংশ স্বামী হতে কি পরিমাণ
পরিচ্ছেদ ৩
সন্তানের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পিতা-মাতার মীরাস
পরিচ্ছেদ ৪
মাতৃপক্ষীয় ভাইয়ের এবং বোনের মীরাসের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ ৫
সহোদর ভাই-বোনদের হিস্যা
পরিচ্ছেদ ৬
বৈমাত্রেয় ভাই-বোনদের মীরাস সম্বন্ধে
পরিচ্ছেদ ৭
দাদার (পিতামহের) অংশ
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৬৭
হাদিস নং ১০৬৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ كَتَبَ إِلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ يَسْأَلُهُ عَنْ الْجَدِّ فَكَتَبَ إِلَيْهِ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ إِنَّكَ كَتَبْتَ إِلَيَّ تَسْأَلُنِي عَنْ الْجَدِّ وَاللهُ أَعْلَمُ وَذَلِكَ مِمَّا لَمْ يَكُنْ يَقْضِي فِيهِ إِلَّا الْأُمَرَاءُ يَعْنِي الْخُلَفَاءَ وَقَدْ حَضَرْتُ الْخَلِيفَتَيْنِ قَبْلَكَ يُعْطِيَانِهِ النِّصْفَ مَعَ الْأَخِ الْوَاحِدِ وَالثُّلُثَ مَعَ الْاثْنَيْنِ فَإِنْ كَثُرَتْ الْإِخْوَةُ لَمْ يُنَقِّصُوهُ مِنْ الثُّلُثِ.
বর্ণনাকারী মালিক (র)
মু‘আবিয়া ইবনু আবূ সুফিয়ান যায়দ ইবনু সাবিত (র)-কে দাদার মীরাস সম্বন্ধে প্রশ্ন করে লিখেছিলেন। যায়েদ উত্তরে লিখলেন, তুমি দাদার মীরাস সম্ভন্ধে জিজ্ঞেস করেছ, ইহা এমন একটি মাসআলা সেই সম্বন্ধে দুই খলীফা [উমার, উসমান (রা)] ফয়সালা করার সময় আমি স্বয়ং এতে উপস্থিত ছিলাম। মৃতের এক ভাই থাকলে দাদাকে অর্ধেক অংশ দিতেন এবং দুই ভাই থাকলে দাদার এক-তৃতীয়াংশ এবং অনেক ভাই-বোন থাকলেও ঐ এক-তৃতীয়াংশই দাদাকে দিতেন, উহা হতে কম দিতেন না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৬৮
হাদিস নং ১০৬৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَرَضَ لِلْجَدِّ الَّذِي يَفْرِضُ النَّاسُ لَهُ الْيَوْمَ.
বর্ণনাকারী মালিক (র)
উমার ইবনু খাত্তাব (রা) দাদাকে এইরূপ হিস্যা দিতেন যেরূপ আজকাল লোকেরা দিয়ে থাকে। মালিক (র) বলেন, সুলায়মান ইবনু ইয়াসার হতেও এইরূপ বর্ণিত আছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৬৯
হাদিস নং ১০৬৯
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُ قَالَ فَرَضَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ لِلْجَدِّ مَعَ الْإِخْوَةِ الثُّلُثَ ১৮৬৭-قَالَ مَالِك وَالْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا وَالَّذِي أَدْرَكْتُ عَلَيْهِ أَهْلَ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا أَنَّ الْجَدَّ أَبَا الْأَبِ لَا يَرِثُ مَعَ الْأَبِ دِنْيَا شَيْئًا وَهُوَ يُفْرَضُ لَهُ مَعَ الْوَلَدِ الذَّكَرِ وَمَعَ ابْنِ الْابْنِ الذَّكَرِ السُّدُسُ فَرِيضَةً وَهُوَ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ مَا لَمْ يَتْرُكْ الْمُتَوَفَّى أُمًّا أَوْ أُخْتًا لِأَبِيهِ يُبَدَّأُ بِأَحَدٍ إِنْ شَرَّكَهُ بِفَرِيضَةٍ مُسَمَّاةٍ فَيُعْطَوْنَ فَرَائِضَهُمْ فَإِنْ فَضَلَ مِنْ الْمَالِ السُّدُسُ فَمَا فَوْقَهُ فُرِضَ لِلْجَدِّ السُّدُسُ فَرِيضَةً ১৮৬৮- قَالَ مَالِك وَالْجَدُّ وَالْإِخْوَةُ لِلْأَبِ وَالْأُمِّ إِذَا شَرَّكَهُمْ أَحَدٌ بِفَرِيضَةٍ مُسَمَّاةٍ يُبَدَّأُ بِمَنْ شَرَّكَهُمْ مِنْ أَهْلِ الْفَرَائِضِ فَيُعْطَوْنَ فَرَائِضَهُمْ فَمَا بَقِيَ بَعْدَ ذَلِكَ لِلْجَدِّ وَالْإِخْوَةِ مِنْ شَيْءٍ فَإِنَّهُ يُنْظَرُ أَيُّ ذَلِكَ أَفْضَلُ لِحَظِّ الْجَدِّ أُعْطِيَهُ الثُّلُثُ مِمَّا بَقِيَ لَهُ وَلِلْإِخْوَةِ أَوْ يَكُونُ بِمَنْزِلَةِ رَجُلٍ مِنْ الْإِخْوَةِ فِيمَا يَحْصُلُ لَهُ وَلَهُمْ يُقَاسِمُهُمْ بِمِثْلِ حِصَّةِ أَحَدِهِمْ أَوْ السُّدُسُ مِنْ رَأْسِ الْمَالِ كُلِّهِ أَيُّ ذَلِكَ كَانَ أَفْضَلَ لِحَظِّ الْجَدِّ أُعْطِيَهُ الْجَدُّ وَكَانَ مَا بَقِيَ بَعْدَ ذَلِكَ لِلْإِخْوَةِ لِلْأَبِ وَالْأُمِّ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ إِلَّا فِي فَرِيضَةٍ وَاحِدَةٍ تَكُونُ قِسْمَتُهُمْ فِيهَا عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ وَتِلْكَ الْفَرِيضَةُ امْرَأَةٌ تُوُفِّيَتْ وَتَرَكَتْ زَوْجَهَا وَأُمَّهَا وَأُخْتَهَا لِأُمِّهَا وَأَبِيهَا وَجَدَّهَا فَلِلزَّوْجِ النِّصْفُ وَلِلْأُمِّ الثُّلُثُ وَلِلْجَدِّ السُّدُسُ وَلِلْأُخْتِ لِلْأُمِّ وَالْأَبِ النِّصْفُ ثُمَّ يُجْمَعُ سُدُسُ الْجَدِّ وَنِصْفُ الْأُخْتِ فَيُقْسَمُ أَثْلَاثًا لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَيَكُونُ لِلْجَدِّ ثُلُثَاهُ وَلِلْأُخْتِ ثُلُثُهُ.১৮৬৯- قَالَ مَالِك وَمِيرَاثُ الْإِخْوَةِ لِلْأَبِ مَعَ الْجَدِّ إِذَا لَمْ يَكُنْ مَعَهُمْ إِخْوَةٌ لِأَبٍ وَأُمٍّ كَمِيرَاثِ الْإِخْوَةِ لِلْأَبِ وَالْأُمِّ سَوَاءٌ ذَكَرُهُمْ كَذَكَرِهِمْ وَأُنْثَاهُمْ كَأُنْثَاهُمْ فَإِذَا اجْتَمَعَ الْإِخْوَةُ لِلْأَبِ وَالْأُمِّ وَالْإِخْوَةُ لِلْأَبِ فَإِنَّ الْإِخْوَةَ لِلْأَبِ وَالْأُمِّ يُعَادُّونَ الْجَدَّ بِإِخْوَتِهِمْ لِأَبِيهِمْ فَيَمْنَعُونَهُ بِهِمْ كَثْرَةَ الْمِيرَاثِ بِعَدَدِهِمْ وَلَا يُعَادُّونَهُ بِالْإِخْوَةِ لِلْأُمِّ لِأَنَّهُ لَوْ لَمْ يَكُنْ مَعَ الْجَدِّ غَيْرُهُمْ لَمْ يَرِثُوا مَعَهُ شَيْئًا وَكَانَ الْمَالُ كُلُّهُ لِلْجَدِّ فَمَا حَصَلَ لِلْإِخْوَةِ مِنْ بَعْدِ حَظِّ الْجَدِّ فَإِنَّهُ يَكُونُ لِلْإِخْوَةِ مِنْ الْأَبِ وَالْأُمِّ دُونَ الْإِخْوَةِ لِلْأَبِ وَلَا يَكُونُ لِلْإِخْوَةِ لِلْأَبِ مَعَهُمْ شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْإِخْوَةُ لِلْأَبِ وَالْأُمِّ امْرَأَةً وَاحِدَةً فَإِنْ كَانَتْ امْرَأَةً وَاحِدَةً فَإِنَّهَا تُعَادُّ الْجَدَّ بِإِخْوَتِهَا لِأَبِيهَا مَا كَانُوا فَمَا حَصَلَ لَهُمْ وَلَهَا مِنْ شَيْءٍ كَانَ لَهَا دُونَهُمْ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ أَنْ تَسْتَكْمِلَ فَرِيضَتَهَا وَفَرِيضَتُهَا النِّصْفُ مِنْ رَأْسِ الْمَالِ كُلِّهِ فَإِنْ كَانَ فِيمَا يُحَازُ لَهَا وَلِإِخْوَتِهَا لِأَبِيهَا فَضْلٌ عَنْ نِصْفِ رَأْسِ الْمَالِ كُلِّهِ فَهُوَ لِإِخْوَتِهَا لِأَبِيْهَا لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَإِنْ لَمْ يَفْضُلْ شَيْءٌ فَلَا شَيْءَ لَهُمْ.
বর্ণনাকারী উমার ইবনু খাত্তাব (রা)
মালিক (র) বলেন : আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারিত মাসআলা এই যে, মৃতের পিতা জীবিত থাকলে দাদা মাহরূম হয়ে যায় কিন্তু মৃতের ছেলে কিংবা নাতি বিদ্যমান থাকলে দাদা যবিল ফুরূয হিসাবে ষষ্ঠাংশ পাবে। যদি মৃতের ছেলে কিংবা নাতি না থাকে এবং সহোদর ভাই-বোন কিংবা বিমাতা ভাই-বোন না থাকে, তবে যবিল ফুরূয থাকলে তাদের হিস্যা দিয়ে যদি ষষ্ঠাং কিংবা ততোধিক মাল অবশিষ্ট থাকে তবে তা দাদা পাবে। আর যদি ষষ্ঠাংশের চেয়ে কম মাল থাকে তবে ষষ্ঠাংশ দাদার জন্য অংশ হিসাবে নির্দিষ্ট হবে।মালিক (র) বলেন : যদি মৃতের দাদা এবং সহোদর ভাই-বোনদের সাথে কোন যবীল ফুরূয থাকে, তবে যবীল ফুরূযের হিস্যা দিয়ে যা কিছু অবশিষ্ট থাকবে এতে নিম্নলিখিত অবস্থায় যা উত্তম হয় তাই কার্যকরী করা হবে। (১) অবশিষ্ট মালের এক-তৃতীয়াংশ দাদাকে দেয়া হবে। (২) দাদাকে মৃতের ভাই ধার্য করে এক ভাইয়ের সমান হিস্যা দেয়া যাবে। (৩) পূর্ণ মালের ষষ্ঠাংশ দাদাকে দেয়ার পর যদি মাল অবশিষ্ট থেকে যায় তবে তা ভাই-বোনদেরকে বোনের দ্বিগুণ ভাইকে বন্টন করে দেওয়া হবে। কিন্তু আর একটি উদাহরণে বন্টন অন্যরূপে হবে। উদাহরণটি হল এই :এক মহিলা মৃত্যুবরণ করেছে তার স্বামী, মাতা, সহোদরা ভগ্নী ও দাদা আছে, তার সম্পদের অর্ধেক পাবে স্বামী, এক-তৃতীয়াংশ মাতা, ষষ্ঠাংশ দাদা আর সহোদরা ভগ্নী অর্ধেক। অতঃপর দাদার ষষ্ঠাংশ ও বোনের অর্ধেক একত্রিত করা হবে, উহাকে এইভাবে বন্টন করা হবে যে, দাদা পাবে দুই-তৃতীয়াংশ ও বোন পাবে এক-তৃতীয়াংশ। (এই মাসআলাটি ‘আওলের [১] একটি উদাহরণ।)মালিক (র) বলেন : যদি মৃত ব্যক্তির দাদার সঙ্গে তার বিমাতা ভাইও থাকে তবে সে সহোদর ভাইয়ের মতো গ্রাহ্য হবে। যদি সহোদরের সঙ্গে বিমাতা ভাই-বোনও থাকে, তবে বিমাতা ভাই শুধু ভাইদের গণনায় ধরা হবে এবং দাদার হিস্যা কম করে দিবে স্বয়ং কোন অংশ পাবে না। হ্যাঁ, যদি সহোদর ভাইদের সঙ্গে বৈপিত্রেয় ভাইও থাকে, তবে তারা ভাইদের শামিলে গণ্য হয়ে দাদার হিস্যায় কম করতে পারবে না। কেননা যদি দাদা থাকে এবং শুধু বৈপিত্রেয় ভাই থাকে তবে দাদা পূর্ণ মাল পাবে এবং বৈপিত্রেয় ভাই মাহরূম হয়ে যাবে। যে অবস্থায় দাদার সঙ্গে সহোদর ভাই এবং বৈমাত্রেয় ভাইবোনও থাকে তখন দাদার হিস্যা দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সহোদর ভাই-বোনদেরই হিস্যা হবে, বৈমাত্রেয় ভাই কিছুই পাবে না। হ্যাঁ, যদি সহোদর মাত্র এক বোন হয় এবং বাকী সকল বিমাতা ভাই-বোন হয় তবে বিমাতাদের কারণে সহোদর বোন দাদার হিস্যা কম করে দিবে এবং এই সহোদর বোন অর্ধেক অংশ পূর্ণ পাবে। তবুও যদি কিছু মাল অবশিষ্ট থেকে যায় তবে বিমাতা ভাই-বোনগণ নিজ নিজ হিস্যা ভাইয়েরা বোনদের দ্বিগুণ হিসেবে পাবে। আর যদি অবশিষ্ট না থাকে তবে বিমাতা ভাই-বোনগণ মাহরূম হয়ে যাবে।
[১] ফরায়েজ এর একটি বণ্টন নীতি।
পরিচ্ছেদ ৮
দাদী ও নানীর অংশ প্রসঙ্গ
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৭০
হাদিস নং ১০৭০
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ إِسْحَقَ بْنِ خَرَشَةَ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ أَنَّهُ قَالَ جَاءَتْ الْجَدَّةُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ لَهَا أَبُو بَكْرٍ مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللهِ شَيْءٌ وَمَا عَلِمْتُ لَكِ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا فَارْجِعِي حَتَّى أَسْأَلَ النَّاسَ فَسَأَلَ النَّاسَ فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ حَضَرْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْطَاهَا السُّدُسَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ هَلْ مَعَكَ غَيْرُكَ فَقَامَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ الْأَنْصَارِيُّ فَقَالَ مِثْلَ مَا قَالَ الْمُغِيرَةُ فَأَنْفَذَهُ لَهَا أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ ثُمَّ جَاءَتْ الْجَدَّةُ الْأُخْرَى إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ لَهَا مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللهِ شَيْءٌ وَمَا كَانَ الْقَضَاءُ الَّذِي قُضِيَ بِهِ إِلَّا لِغَيْرِكِ وَمَا أَنَا بِزَائِدٍ فِي الْفَرَائِضِ شَيْئًا وَلَكِنَّهُ ذَلِكَ السُّدُسُ فَإِنْ اجْتَمَعْتُمَا فَهُوَ بَيْنَكُمَا وَأَيَّتُكُمَا خَلَتْ بِهِ فَهُوَ لَهَا.
বর্ণনাকারী কুরাইসা ইবনু যুয়াইব
এক মৃত ব্যক্তির দাদী তার মীরাসের জন্য আবূ বাকর সিদ্দীক (রা)-এর নিকট আসল। তিনি বললেন, তোমাদের হিস্যা সম্বন্ধে কিতাবুল্লাহতেও কোন উল্লেখ নাই এবং রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেও কোন হাদীস শুনি নাই। এখন তুমি চলে যাও। আমি লোকের নিকট জিজ্ঞেস করে তা বলে দিব। অবশেষে আবূ বাকর সিদ্দীক (রা) সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, মুগীরা ইবনু শু‘বা (রা) বললেন, আমার সম্মুখে রসূল করীম (সা) দাদীকে ষষ্ঠাংশ দিয়েছেন। আবূ বকর (রা) বললেন, তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? তখন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা আনসারী দাঁড়িয়ে মুগীরা যেইরূপ বলেছিলেন তদ্রূপ বললেন। এই সাক্ষীর পর আবূ বকর (রা) দাদীকে ষষ্ঠাং দিয়েছেন। আবূ বকর (রা) বললেন, তোমার কোন সাক্ষী আছে কি? তখন মুহাম্মাদ মাসলামা আনসারী দাঁড়িয়ে মুগীরা যেরূপ বলেছিলেন তদ্রূপ বললেন। এই সাক্ষীর পর আবূ বাকর (রা) দাদীকে এক-ষষ্ঠাংশ দিয়ে দিলেন।অতঃপর উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-এর খিলাফতকালে এক দাদী মীরাসের জন্য তাঁর নিকট এলে। উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বললেন, কুরআনে তোমাদের কোন হিস্যার উল্লেখ নেই। তুমি ব্যতীত অন্যদের সম্বন্ধে কিছু সিদ্ধান্ত পূর্বে হয়েছে আমি স্বীয় পক্ষ হতে কারো জন্য মীরাসের হিস্যা বাড়াতে পারি না। তবে তুমিও ষষ্ঠাংশ নিয়ে নাও। যদি দাদী আরও অথবা নানীও থাকে তবে উভয়ে মিলে ষষ্ঠাংশ বন্টন করে দিও। আর তোমরা কেউ একজন থাকলে সে ষষ্ঠাংশ পাবে। (যয়ীফ, আবূ দাঊদ ২৮৯৪, তিরমিযী ২১০০, ২১০১, ইবনু মাজাহ ২৭২৪, আলবানী হাদীসটি যয়ীফ বলেছেন [ইরওয়া, ১৬৮০])
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৭১
হাদিস নং ১০৭১
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ قَالَ أَتَتْ الْجَدَّتَانِ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ فَأَرَادَ أَنْ يَجْعَلَ السُّدُسَ لِلَّتِي مِنْ قِبَلِ الْأُمِّ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ أَمَا إِنَّكَ تَتْرُكُ الَّتِي لَوْ مَاتَتْ وَهُوَ حَيٌّ كَانَ إِيَّاهَا يَرِثُ فَجَعَلَ أَبُو بَكْرٍ السُّدُسَ بَيْنَهُمَا.
বর্ণনাকারী কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (র)
নানী এবং দাদী মীরাসের জন্য আবূ বাকর সিদ্দীক (রা)-এর নিকট এল। তিনি নানীকে ষষ্ঠাংশ দিতে চাইলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন আপনি এমন ব্যক্তির দাদীর অংশ দিচ্ছেন না যে, যদি সে মৃত হত এবং উক্ত মৃত ব্যক্তি জীবিত হত তবে সে (নাতি) তাঁর ওয়ারিস হত। আর এমন ব্যক্তিকে হিস্যা দিতেছেন যে, যদি সে মৃত হত (অর্থাৎ নানী) এবং উক্ত মৃত ব্যক্তি জীবিত হত তবে সে (মেয়ের ছেলে) তার ওয়ারিস হত না। ইহা শুনে তিনি উভয়কে ষষ্ঠাংশ সমান বন্টন করে দিয়েছিলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৭২
হাদিস নং ১০৭২
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ كَانَ لَا يَفْرِضُ إِلَّا لِلْجَدَّتَيْنِ ১৮৭৪-قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ وَالَّذِي أَدْرَكْتُ عَلَيْهِ أَهْلَ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا أَنَّ الْجَدَّةَ أُمَّ الْأُمِّ لَا تَرِثُ مَعَ الْأُمِّ دِنْيَا شَيْئًا وَهِيَ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ يُفْرَضُ لَهَا السُّدُسُ فَرِيضَةً وَأَنَّ الْجَدَّةَ أُمَّ الْأَبِ لَا تَرِثُ مَعَ الْأُمِّ وَلَا مَعَ الْأَبِ شَيْئًا وَهِيَ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ يُفْرَضُ لَهَا السُّدُسُ فَرِيضَةً فَإِذَا اجْتَمَعَتْ الْجَدَّتَانِ أُمُّ الْأَبِ وَأُمُّ الْأُمِّ وَلَيْسَ لِلْمُتَوَفَّى دُونَهُمَا أَبٌ وَلَا أُمٌّ -قَالَ مَالِك فَإِنِّي سَمِعْتُ أَنَّ أُمَّ الْأُمِّ إِنْ كَانَتْ أَقْعَدَهُمَا كَانَ لَهَا السُّدُسُ دُونَ أُمِّ الْأَبِ وَإِنْ كَانَتْ أُمُّ الْأَبِ أَقْعَدَهُمَا أَوْ كَانَتَا فِي الْقُعْدَدِ مِنْ الْمُتَوَفَّى بِمَنْزِلَةٍ سَوَاءٍ فَإِنَّ السُّدُسَ بَيْنَهُمَا نِصْفَانِ ১৮৭৬-قَالَ مَالِك وَلَا مِيرَاثَ لِأَحَدٍ مِنْ الْجَدَّاتِ إِلَّا لِلْجَدَّتَيْنِ لِأَنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَّثَ الْجَدَّةَ ثُمَّ سَأَلَ أَبُو بَكْرٍ عَنْ ذَلِكَ حَتَّى أَتَاهُ الثَّبَتُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ وَرَّثَ الْجَدَّةَ فَأَنْفَذَهُ لَهَا ثُمَّ أَتَتْ الْجَدَّةُ الْأُخْرَى إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ لَهَا مَا أَنَا بِزَائِدٍ فِي الْفَرَائِضِ شَيْئًا فَإِنْ اجْتَمَعْتُمَا فَهُوَ بَيْنَكُمَا وَأَيَّتُكُمَا خَلَتْ بِهِ فَهُوَ لَهَا قَالَ مَالِك ثُمَّ لَمْ نَعْلَمْ أَحَدًا وَرَّثَ غَيْرَ جَدَّتَيْنِ مُنْذُ كَانَ الْإِسْلَامُ إِلَى الْيَوْمِ .
বর্ণনাকারী মালিক (র)
আবূ বাকর ইবনু আবদুর রহমান ইবনু হারিস ইবনু হিশাম নানী কিংবা দাদীকে হিস্যা দিতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন : আমাদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে ইহা নির্ধারিত মাসআলা যে, মৃত ব্যক্তির মাতা জীবিত থাকলে নানী হিস্যা পাবে না। ইহা ব্যতীত অন্য অবস্থায় নানী ষষ্ঠাং পাবে তার মাতা অথবা পিতা জীবিত থাকাকালীন দাদী মাহরূম হবেন। অন্য অবস্থাতে তার জন্য ষষ্ঠাং। আর যদি দাদীও মৃত ব্যক্তির নিকটের হয় অথবা নৈকট্যের বিবেচনায় দুইজন সমপর্যায়ের হয় তবে দুইজনে (দাদী ও নানী) ষষ্ঠাংশের অর্ধেক হিস্যা প্রাপ্ত হবে।মালিক (র) বলেন : অন্যান্য দাদী-নানীর জন্য কোন মীরাস নাই এই দুই দাদী ও নানী ব্যতীত, যেহেতু আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদীকে মীরাস দিয়েছেন। অতঃপর আবূ বকরকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হল। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদীকে অংশ দিয়েছেন বলে প্রমাণ পেয়ে তিনিও দাদীকে অংশ দিয়েছেন। অতঃপর এক নানী উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-এর নিকট এলে তিনি বলেছেন আমি কারো জন্য মীরাসে নূতন কোন অংশ দিতে পারি না, তবে দাদী ও নানী একত্র হলে ঐ অংশ তাদের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে। আর তাদের যে কেউ একজন শুধু আছে (অন্য দাদী নানী নাই) তবে সে একই ষষ্ঠাংশ পাবে।মালিক (র) বলেন : ইসলামের প্রারম্ভ হতে আজ পর্যন্ত উক্ত নানীগণ এবং দাদীগণ ব্যতীত কেউই অন্য নানী কিংবা দাদীগণকে কোন মীরাস দেয়নি।
পরিচ্ছেদ ৯
‘কালালা’র [১] মীরাস
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৭৩
হাদিস নং ১০৭৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْكَلَالَةِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكْفِيكَ مِنْ ذَلِكَ الْآيَةُ الَّتِي أُنْزِلَتْ فِي الصَّيْفِ آخِرَ سُورَةِ النِّسَاءِ ১৮৭৯-قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ وَالَّذِي أَدْرَكْتُ عَلَيْهِ أَهْلَ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا أَنَّ الْكَلَالَةَ عَلَى وَجْهَيْنِ فَأَمَّا الْآيَةُ الَّتِي أُنْزِلَتْ فِي أَوَّلِ سُورَةِ النِّسَاءِ الَّتِي قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِيهَا { وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوْ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ فَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ }.فَهَذِهِ الْكَلَالَةُ الَّتِي لَا يَرِثُ فِيهَا الْإِخْوَةُ لِلْأُمِّ حَتَّى لَا يَكُونَ وَلَدٌ وَلَا وَالِدٌ وَأَمَّا الْآيَةُ الَّتِي فِي آخِرِ سُورَةِ النِّسَاءِ الَّتِي قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِيْهَا { يَسْتَفْتُونَكَ قُلْ اللهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ إِنْ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ وَهُوَ يَرِثُهَا إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهَا وَلَدٌ فَإِنْ كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ وَإِنْ كَانُوا إِخْوَةً رِجَالًا وَنِسَاءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ يُبَيِّنُ اللهُ لَكُمْ أَنْ تَضِلُّوا وَاللهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ }قَالَ مَالِك فَهَذِهِ الْكَلَالَةُ الَّتِي تَكُونُ فِيهَا الْإِخْوَةُ عَصَبَةً إِذَا لَمْ يَكُنْ وَلَدٌ فَيَرِثُونَ مَعَ الْجَدِّ فِي الْكَلَالَةِ১৮৮০-فَالْجَدُّ يَرِثُ مَعَ الْإِخْوَةِ لِأَنَّهُ أَوْلَى بِالْمِيرَاثِ مِنْهُمْ وَذَلِكَ أَنَّهُ يَرِثُ مَعَ ذُكُورِ وَلَدِ الْمُتَوَفَّى السُّدُسَ وَالْإِخْوَةُ لَا يَرِثُونَ مَعَ ذُكُورِ وَلَدِ الْمُتَوَفَّى شَيْئًا وَكَيْفَ لَا يَكُونُ كَأَحَدِهِمْ وَهُوَ يَأْخُذُ السُّدُسَ مَعَ وَلَدِ الْمُتَوَفَّى فَكَيْفَ لَا يَأْخُذُ الثُّلُثَ مَعَ الْإِخْوَةِ وَبَنُو الْأُمِّ يَأْخُذُونَ مَعَهُمْ الثُّلُثَ فَالْجَدُّ هُوَ الَّذِي حَجَبَ الْإِخْوَةَ لِلْأُمِّ وَمَنَعَهُمْ مَكَانُهُ الْمِيرَاثَ فَهُوَ أَوْلَى بِالَّذِي كَانَ لَهُمْ لِأَنَّهُمْ سَقَطُوا مِنْ أَجْلِهِ وَلَوْ أَنَّ الْجَدَّ لَمْ يَأْخُذْ ذَلِكَ الثُّلُثَ أَخَذَهُ بَنُو الْأُمِّ فَإِنَّمَا أَخَذَ مَا لَمْ يَكُنْ يَرْجِعُ إِلَى الْإِخْوَةِ لِلْأَبِ وَكَانَ الْإِخْوَةُ لِلْأُمِّ هُمْ أَوْلَى بِذَلِكَ الثُّلُثِ مِنْ الْإِخْوَةِ لِلْأَبِ وَكَانَ الْجَدُّ هُوَ أَوْلَى بِذَلِكَ مِنْ الْإِخْوَةِ لِلْأُمِّ.
বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু আসলাম (রর)
উমার ইবনু খাত্তাব (রা) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কালালাহ্ [২] সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, গ্রীষ্ম মওসুমে সূরা নিসার শেষ যেই আয়াত নাযিল হয়েছে তাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। (সহীহ, মুসলিম ১৬১৭, তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)মালিক (র) বলেন : আমাদের নিকট এটা একটি বিরোধবিহীন মাসআলা যে, কালালাহ দুই প্রকার। প্রথম সূরা নিসার প্রারম্ভে নাযিল হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যদি কোন স্ত্রী বা পুরুষ কালালাহ অবস্থায় মারা যায় এবং তার কোন বৈপিত্রেয় ভাই কিংবা বোন থাকে, তবে প্রত্যেক ষষ্ঠাংশ হিস্যা মীরাস পাবে। যদি বেশি ভাই-বোন থাকে, তবে সকলে এক-তৃতীয়াংশ মালে শরীক হবে। এইরূপ কালালাহ যার পিতা এবং সন্তান না থাকে, তবে বৈপিত্রেয় ভাইবোন মীরাস পবে। (সূরা নিসা - ১৭৬)এটা ঐ কালালাহ যার ভাইবোন ‘আসাবা হয়, যখন মৃতের কোন ছেলে না থাকে, তখন তারা দাদার সাথে মিলিয়ে কালালার ওয়ারিস হবে।মালিক (র) বলেন, দাদা ভাইদের সাথে মিলিয়ে এজন্য ওয়ারিস হবে যে. দাদা ভাইদের চেয়ে মৃতের অতি নিকটবর্তী হন। কেননা দাদা ছেলে বিদ্যমান থাকাকালীনও ষষ্ঠাংশের মালিক হয়।আর দাদা ভাইবোনদের সঙ্গে থেকে এক-তৃতীয়াংশ পাবার কারণ হল সহোদর ভাই-বোন থাকাকালীন বৈপিত্রেয় ভাই-বোন এক-তৃতীয়াংশ মাল পায়। বরং দাদা ঐ মালের মীরাস পাবে যা সহোদর এবং বিমাতা ভাই-বোনগণ পায় না। বরং তা বৈপিত্রেয় ভাই-বোনদের হক ছিল। দাদার কারণে তারা মাহরূম হল।
[১] কালালাহ্ বলে ঐ লোককে যার পিতা এবং সন্তানাদি না থাকে। এটাই জামহূরের মাযহাব। কেউ বলেন যে, যার কোন সন্তান নাই তাকে কালালাহ্ বলা হয়।[২] যার ছেলে সন্তান নেই তাকে কালালাহ বলে।
পরিচ্ছেদ ১০
ফুফুর মীরাস
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৭৪
হাদিস নং ১০৭৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَنْظَلَةَ الزُّرَقِيِّ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ مَوْلًى لِقُرَيْشٍ كَانَ قَدِيمًا يُقَالُ لَهُ ابْنُ مِرْسَى أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَلَمَّا صَلَّى الظُّهْرَ قَالَ يَا يَرْفَا هَلُمَّ ذَلِكَ الْكِتَابَ لِكِتَابٍ كَتَبَهُ فِي شَأْنِ الْعَمَّةِ فَنَسْأَلَ عَنْهَا وَنَسْتَخْبِرَ عَنْهَا فَأَتَاهُ بِهِ يَرْفَا فَدَعَا بِتَوْرٍ أَوْ قَدَحٍ فِيهِ مَاءٌ فَمَحَا ذَلِكَ الْكِتَابَ فِيهِ ثُمَّ قَالَ لَوْ رَضِيَكِ اللهُ وَارِثَةً أَقَرَّكِ لَوْ رَضِيَكِ اللهُ أَقَرَّكِ.
বর্ণনাকারী কুরায়শ সম্প্রদায়ের এক স্বাধীন করা গোলাম (যাকে ইবনু মিরসা বলা হত)
আমি উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-এর নিকট বসা ছিলাম, তিনি যুহরের নামায পড়ে য়ারফা নামক সাহাবীকে বললেন, আমার নিকট ঐ কিতাবটি নিয়ে আস, যা ফুফুর মীরাস সম্বন্ধে লেখা হয়েছে। আমি এব্যাপারে লোকের নিকট জিজ্ঞেস করব। অতঃপর উমার (রা) একটি পেয়ালা আনলেন যাতে পানি ছিল। ঐ পানি দ্বারা ঐ কিতাব ধুয়ে ফেললেন এবং বললেন, যদি ফুফুকে অংশ দেয়া আল্লাহর ইচ্ছা থাকত তা হলে স্বীয় কিতাবে উহা উল্লেখ করতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৭৫
হাদিস নং ১০৭৫
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَاهُ كَثِيرًا يَقُولُ كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَقُولُ عَجَبًا لِلْعَمَّةِ تُورَثُ وَلَا تَرِثُ.
বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনু আবূ বাক্র ইবনু হাজম (র)
তিনি তার পিতাকে অনেক বার বলতে শুনেছেন যে, উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বলতেন, ফুফুর ব্যাপার আশ্চর্যজনক, তিনি মীরাস পান না কিন্তু তার মীরাস অন্যরা পায়। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
পরিচ্ছেদ ১১
আসাবা [১] দের অংশ সম্বন্ধে
পরিচ্ছেদ ১২
কে মীরাস পাবে না
পরিচ্ছেদ ১৩
ভিন্ন ধর্মীয় লোকদের মীরাস
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৭৬
হাদিস নং ১০৭৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عُمَرَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ.
বর্ণনাকারী উসামা ইবনু যায়দ (রা)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলমান কাফিরের ওয়ারিস হবে না। (আর কাফিরও মুসলমানের ওয়ারিস হবে না। (বুখারী ৬৭৬৪, মুসলিম ১৬১৪)
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৭৭
হাদিস নং ১০৭৭
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ إِنَّمَا وَرِثَ أَبَا طَالِبٍ عَقِيلٌ وَطَالِبٌ وَلَمْ يَرِثْهُ عَلِيٌّ قَالَ فَلِذَلِكَ تَرَكْنَا نَصِيبَنَا مِنْ الشِّعْبِ.
বর্ণনাকারী আলী ইবনু আবি তালিব (রা)
যখন আবূ তালিবের মৃত্যু হয়েছে তখন তার ছেলে আকীল ও তালিব তার ওয়ারিস হয়েছে। কিন্তু আলী তার ওয়ারিস হয়নি। এজন্য আমরা মক্কার ঘরের নিজের অংশ ছেড়ে দিয়েছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)(কেননা এরা উভয়ে তখন কাফের ছিল, পরে আকীল মুসলমান হয়ে গিয়েছিল আর তালিব নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিল।)
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৭৮
হাদিস নং ১০৭৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ الْأَشْعَثِ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَمَّةً لَهُ يَهُودِيَّةً أَوْ نَصْرَانِيَّةً تُوُفِّيَتْ وَأَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ الْأَشْعَثِ ذَكَرَ ذَلِكَ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَقَالَ لَهُ مَنْ يَرِثُهَا فَقَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَرِثُهَا أَهْلُ دِينِهَا ثُمَّ أَتَى عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ أَتُرَانِي نَسِيتُ مَا قَالَ لَكَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَرِثُهَا أَهْلُ دِينِهَا.
বর্ণনাকারী সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (র)
মুহাম্মদ ইবনু আশ‘আসের এক ফুফু ছিল ইহুদী অথবা খৃস্টান। সে মৃত্যুবরণ করলে মুহাম্মাদ ইবনু আশ‘আস উমার (রা)-এর নিকট তা বললেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, কে তার ওয়ারিস হবে? উমার (রা) বললেন, তার স্বধর্মীয়গণ তার ওয়ারিস হবে। অতঃপর যখন ‘উসমান খলীফা হলেন, তখন তার নিকট জিজ্ঞেস করলেন, ‘উসমান (রা) বললেন, কেন উমার তোমাকে যা বলেছেন তা কি তোমার স্মরণ নাই? অতঃপর তিনি বললেন, তার স্বধর্মের লোকেরাই তার ওয়ারিস হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৭৯
হাদিস নং ১০৭৯
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ أَنَّ نَصْرَانِيًّا أَعْتَقَهُ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ هَلَكَ قَالَ إِسْمَعِيْلُ فَأَمَرَنِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَنْ أَجْعَلَ مَالَهُ فِي بَيْتِ الْمَالِ.
বর্ণনাকারী ইসমাঈল ইবনু আবূ হাকীম (র)
উমার ইবনু আবদীল আযীয (র)-এর এক খৃস্টান গোলাম ছিল। তিনি তাকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন।তার মৃত্যুর পর উমার আমাকে বললেন, তার মাল বায়তুলমালে জমা দিয়ে দাও (কেননা মুসলমান কাফেরের ওয়ারিস হবে না)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৮০
হাদিস নং ১০৮০
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ الثِّقَةِ عِنْدَهُ أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ يَقُولُ أَبَى عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَنْ يُوَرِّثَ أَحَدًا مِنْ الْأَعَاجِمِ إِلَّا أَحَدًا وُلِدَ فِي الْعَرَبِ ১৮৯৬-قَالَ مَالِك وَإِنْ جَاءَتْ امْرَأَةٌ حَامِلٌ مِنْ أَرْضِ الْعَدُوِّ فَوَضَعَتْهُ فِي أَرْضِ الْعَرَبِ فَهُوَ وَلَدُهَا يَرِثُهَا إِنْ مَاتَتْ وَتَرِثُهُ إِنْ مَاتَ مِيرَاثَهَا فِي كِتَابِ اللهِ ১৮৯৭-قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا وَالسُّنَّةُ الَّتِي لَا اخْتِلَافَ فِيهَا وَالَّذِي أَدْرَكْتُ عَلَيْهِ أَهْلَ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا أَنَّهُ لَا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ بِقَرَابَةٍ وَلَا وَلَاءٍ وَلَا رَحِمٍ وَلَا يَحْجُبُ أَحَدًا عَنْ مِيرَاثِهِ قَالَ مَالِك وَكَذَلِكَ كُلُّ مَنْ لَا يَرِثُ إِذَا لَمْ يَكُنْ دُونَهُ وَارِثٌ فَإِنَّهُ لَا يَحْجُبُ أَحَدًا عَنْ مِيرَاثِهِ.
বর্ণনাকারী সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রা)
তিনি বলতেন, উমার ইবনু খাত্তাব (রা) অনারব লোকদেরকে আরবের লোকের ওয়ারিস হতে নিষেধ করতেন। অবশ্য যে আরবে জন্মগ্রহণ করত সে মীরাস পেত। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন : কোন গর্ভবতী স্ত্রীলোক কাফেরদের দেখ হতে এসে আরবে বসতি স্থির করল, তথায় তার সন্তান জন্মাল, এখন সে সন্তানের এবং সন্তান তার ওয়ারিস হবে।মালিক (র) বলেন : আমাদের নিকট এহা একটি সর্বসম্মত বিষয় যে, যে কোন আত্মীয়তার দরুনই হোক না কেন মুসলমান কাফেরের ওয়ারিস হবে না, বংশগত আত্মীয়তা হোক বা অন্য প্রকারের আর সে অন্য কাউকেও তার মীরাস হতে মাহরূম করতে পারবে না।যেমন কোন কাফের মৃত্যুবরণ করলে যার সন্তান মুসলমান, ভাই কাফের। এখন ছেলে মীরাস পাবে না ভাই পাবে। এই ছেলের জন্য ভাই মাহরূম হবে না।মালিক (র) বলেন : এইরূপে যে মীরাস না পায় এবং সে ব্যতীত অন্য ওয়ারিস বর্তমান থাকে তবে সে অন্যকে মাহরূম করতে পারে না।
পরিচ্ছেদ ১৪
যার নিহত হওয়া ইত্যাদি অজ্ঞাত থাকে
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৮১
হাদিস নং ১০৮১
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ عُلَمَائِهِمْ أَنَّهُ لَمْ يَتَوَارَثْ مَنْ قُتِلَ يَوْمَ الْجَمَلِ وَيَوْمَ صِفِّينَ وَيَوْمَ الْحَرَّةِ ثُمَّ كَانَ يَوْمَ قُدَيْدٍ فَلَمْ يُوَرَّثْ أَحَدٌ مِنْ صَاحِبِهِ شَيْئًا إِلَّا مَنْ عُلِمَ أَنَّهُ قُتِلَ قَبْلَ صَاحِبِهِ ১৯قَالَ مَالِك وَذَلِكَ الْأَمْرُ الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ وَلَا شَكَّ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا وَكَذَلِكَ الْعَمَلُ فِي كُلِّ مُتَوَارِثَيْنِ هَلَكَا بِغَرَقٍ أَوْ قَتْلٍ أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ مِنْ الْمَوْتِ إِذَا لَمْ يُعْلَمْ أَيُّهُمَا مَاتَ قَبْلَ صَاحِبِهِ لَمْ يَرِثْ أَحَدٌ مِنْهُمَا مِنْ صَاحِبِهِ شَيْئًا وَكَانَ مِيرَاثُهُمَا لِمَنْ بَقِيَ مِنْ وَرَثَتِهِمَا يَرِثُ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا وَرَثَتُهُ مِنْ الْأَحْيَاء ১৯و قَالَ مَالِك لَا يَنْبَغِي أَنْ يَرِثَ أَحَدٌ أَحَدًا بِالشَّكِّ وَلَا يَرِثُ أَحَدٌ أَحَدًا إِلَّا بِالْيَقِينِ مِنْ الْعِلْمِ وَالشُّهَدَاءِ وَذَلِكَ أَنَّ الرَّجُلَ يَهْلَكُ هُوَ وَمَوْلَاهُ الَّذِي أَعْتَقَهُ أَبُوهُ فَيَقُولُ بَنُو الرَّجُلِ الْعَرَبِيِّ قَدْ وَرِثَهُ أَبُونَا فَلَيْسَ ذَلِكَ لَهُمْ أَنْ يَرِثُوهُ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا شَهَادَةٍ إِنَّهُ مَاتَ قَبْلَهُ وَإِنَّمَا يَرِثُهُ أَوْلَى النَّاسِ بِهِ مِنْ الْأَحْيَاءِ.قَالَ مَالِك وَمِنْ ذَلِكَ أَيْضًا الْأَخَوَانِ لِلْأَبِ وَالْأُمِّ يَمُوتَانِ وَلِأَحَدِهِمَا وَلَدٌ وَالْآخَرُ لَا وَلَدَ لَهُ وَلَهُمَا أَخٌ لِأَبِيهِمَا فَلَا يُعْلَمُ أَيُّهُمَا مَاتَ قَبْلَ صَاحِبِهِ فَمِيرَاثُ الَّذِي لَا وَلَدَ لَهُ لِأَخِيهِ لِأَبِيهِ وَلَيْسَ لِبَنِي أَخِيهِ لِأَبِيهِ وَأُمِّهِ شَيْءٌ.قَالَ مَالِك وَمِنْ ذَلِكَ أَيْضًا أَنْ تَهْلَكَ الْعَمَّةُ وَابْنُ أَخِيهَا أَوْ ابْنَةُ الْأَخِ وَعَمُّهَا فَلَا يُعْلَمُ أَيُّهُمَا مَاتَ قَبْلُ فَإِنْ لَمْ يُعْلَمْ أَيُّهُمَا مَاتَ قَبْلُ لَمْ يَرِثْ الْعَمُّ مِنْ ابْنَةِ أَخِيهِ شَيْئًا وَلَا يَرِثُ ابْنُ الْأَخِ مِنْ عَمَّتِهِ شَيْئًا ِِِِ
বর্ণনাকারী রবীয়া’ ইবনু আবূ আবদুর রহমান (র)
একাধিক আলেম সূত্রে বর্ণনা করেন যে, জামাল যুদ্ধে, সিফফীন যুদ্ধে এবং হাররা দিবসে যারা নিহত হয়েছেন তারা মীরাস পাননি। এরপর ফুদাইদ দিবসে যারা নিহত হয়েছে তারাও একে অপরের মীরাস পাননি।কিন্তু মীরাস পাবে সেই ক্ষেত্রে যেই ক্ষেত্রে নিশ্চিত জানা গিয়েছে যে, তিনি তার সাথির পূর্বে নিহত হয়েছেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)ইয়াহইয়া (র) বলেন : আমি মালিক (র)-কে বলতে শুনেছি, আমাদের ‘উলামায়ে কিরামের মধ্যে এ ব্যাপারে কোন বিরোধ নাই।মালিক (র) বলেন : যদি কয়েকজন পানিতে ডুবে অথবা মাটিতে ধ্বসে মৃত্যুবরণ করে অথবা নিহত হয়, আর কে আগে কে পরে মৃত্যুবরণ করেছে তা অজ্ঞাত থাকে তবে তারা এক অন্যের ওয়ারিস হবে না, বরং প্রত্যেকের মাল তাদের ওয়ারিসগণ পাবে, যারা জীবিত রয়েছে।মালিক (র) বলেন : কেউ সন্দেহস্থলে কারো ওয়ারিস হবে না, ওয়ারিস হওয়ার জন্য নিঃসন্দেহ হওয়া প্রয়োজন। যেমন কেউ মৃত্যুবরণ করলে, আর সে তার যে দাসকে মুক্ত করেছিল সেও মৃত্যুবরণ করল, এখন যদি এই সন্তান বলে যে, আমার পিতা এই দাসের ওয়ারিস হবে তবে তা ততক্ষণ পর্যন্ত সাব্যস্ত হবে না যতক্ষণ না সে সাক্ষী দ্বারা প্রমাণ করবে যে, ঐ দাস তার পিতার পূর্বে মারা গিয়েছে। যদি প্রমাণ করতে না পারে তবে ঐ দাসের জীবিত ওয়ারিসগণ তার মাল পাবে।মালিক (র) বলেন, অনুরূপভাবে যদি দুই সহোদর ভাই মারা যায় যাদের একজনের সন্তান রয়েছে অন্যজন নিঃসন্তান, আর তাদের উভয়ের একজন সৎ ভাইও রয়েছে। কিন্তু এটা জানা যায়নি যে, প্রথমে কোন ভাই মরেছে। এখন নিঃসন্তান ভাই-এর মাল তার সৎ ভাই পাবে, তার ভাতিজারা পাবে না। এইরূপে ফুফু ভাতিজা একত্রে মারা গেলে বা চাচা ভাতিজা একত্রে মারা গেলে আর কে আগে মারা গিয়েছে তা জানা নাই, তবে চাচা স্বীয় ভাতিজার এবং ভাতিজা স্বীয় ফুফুর ওয়ারিস হবে না।
পরিচ্ছেদ ১৫
যে স্ত্রী লি‘আন করেছে তার সন্তানের মীরাস এবং জারজ সন্তানের মীরাস
মুয়াত্তা ইমাম মালিকমুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১০৮২
হাদিস নং ১০৮২
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ كَانَ يَقُولُ فِي وَلَدِ الْمُلَاعَنَةِ وَوَلَدِ الزِّنَا إِنَّهُ إِذَا مَاتَ وَرِثَتْهُ أُمُّهُ حَقَّهَا فِي كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَإِخْوَتُهُ لِأُمِّهِ حُقُوقَهُمْ وَيَرِثُ الْبَقِيَّةَ مَوَالِي أُمِّهِ إِنْ كَانَتْ مَوْلَاةً وَإِنْ كَانَتْ عَرَبِيَّةً وَرِثَتْ حَقَّهَا وَوَرِثَ إِخْوَتُهُ لِأُمِّهِ حُقُوقَهُمْ وَكَانَ مَا بَقِيَ لِلْمُسْلِمِيْنَ قَالَ مَالِك وَبَلَغَنِي عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ مِثْلُ ذَلِكَ. قَالَ مَالِك وَعَلَى ذَلِكَ أَدْرَكْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا.
বর্ণনাকারী মালিক (র)
উরওয়া ইবনু যুবায়র বলতেন, যখন লি‘আন ওয়ালী স্ত্রীলোকের সন্তান অথবা কোন জারজ সন্তান মারা যায়, তখন তার মা আল্লাহর কিতাব মতো তার অংশ পাবে আর তার বৈমাত্রেয় ভাইও অংশ পাবে। অবশিষ্ট মাল তার মাতার মাওলা (প্রভু)-কে দেয়া হবে। যদি তাকে মুক্ত করে দেয়া হয়ে থাকে, যদি সে আরবের হয়, সে তার অংশ পাবে, তার বৈপিত্রেয় ভাই-বোনেরা তাদের অংশ পাবে, আর অবশিষ্ট যা থাকবে তা মুসলিমদের জন্য। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র) বলেন : আমার নিকট সুলায়মান ইবনু ইয়াসার হতে এইরূপই সংবাদ পৌঁছেছে আর আমাদের শহরের আলিমদেরও এই মত। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)