নামাজের সময়সীমা

৬/১. অধ্যায়ঃ

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ৪৯৪

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَخَّرَ الْعَصْرَ شَيْئًا. فَقَالَ لَهُ عُرْوَةُ: أَمَا إِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَدْ نَزَلَ فَصَلَّى إِمَامَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ عُمَرُ: اعْلَمْ مَا تَقُولُ يَا عُرْوَةُ. فَقَالَ: سَمِعْتُ بَشِيرَ بْنَ أَبِي مَسْعُودٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «نَزَلَ جِبْرِيلُ فَأَمَّنِي فَصَلَّيْتُ مَعَهُ، ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ، ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ، ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ، ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ» يَحْسُبُ بِأَصَابِعِهِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ

বর্ণনাকারী ইব্‌ন শিহাব (রাঃ)

উমর ইবনু আবদুল আজিজ (রহঃ) (একদিন) আসরের সালাত একটু বিলম্বে আদায় করলে উরওয়া তাঁকে বললেন, আপনি কি জানেননি যে, জিবরীল (আঃ) নাযিল হন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে সালাত আদায় করেন। উমর (রাঃ) বললেন, হে উরওয়া! তুমি যা বলেছ তা ভালোভাবে চিন্তা করে বল।উরওয়া বললেন, আমি বশীর ইবনু আবু মাসউদ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি (বশীর) বলেন, আমি আবু মাসউদ-কে বলতে শুনেছি; তিনি (আবু মাসউদ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, জিবরীল (আঃ) অবতীর্ণ হয়ে আমার সালাতের ইমামাত করেন। অতঃপর আমি তাঁর সাথে সালাত আদায় করি, পুনরায় তাঁর সাথে সালাত আদায় করি, পুনরায় তাঁর সাথে সালাত আদায় করি, পুনরায় তাঁর সাথে সালাত আদায় করি, পুনরায় তাঁর সাথে সালাত আদায় করি। তিনি তাঁর হাতের আঙ্গুলে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত গণনা করেন।

৬/২. অধ্যায়ঃ

যুহরের প্রথম ওয়াক্ত

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ৪৯৫

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا سَيَّارُ بْنُ سَلَامَةَ قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يَسْأَلُ أَبَا بَرْزَةَ عَنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ: أَنْتَ سَمِعْتَهُ؟ قَالَ: كَمَا أَسْمَعُكَ السَّاعَةَ. فَقَالَ: أَبِي يَسْأَلُ عَنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كَانَ لَا يُبَالِي بَعْضَ تَأْخِيرِهَا - يَعْنِي الْعِشَاءَ - إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ، وَلَا يُحِبُّ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَلَا الْحَدِيثَ بَعْدَهَا». قَالَ شُعْبَةُ: ثُمَّ لَقِيتُهُ بَعْدُ فَسَأَلْتُهُ، قَالَ: " كَانَ يُصَلِّي الظُّهْرَ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ، وَالْعَصْرَ يَذْهَبُ الرَّجُلُ إِلَى أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ، وَالْمَغْرِبَ لَا أَدْرِي أَيَّ حِينٍ ذَكَرَ. ثُمَّ لَقِيتُهُ بَعْدُ فَسَأَلْتُهُ، فَقَالَ: وَكَانَ يُصَلِّي الصُّبْحَ فَيَنْصَرِفُ الرَّجُلُ فَيَنْظُرُ إِلَى وَجْهِ جَلِيسِهِ الَّذِي يَعْرِفُهُ فَيَعْرِفُهُ. قَالَ وَكَانَ يَقْرَأُ فِيهَا بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ "

বর্ণনাকারী সাইয়ার ইব্‌ন সালামা (রাঃ)

আমি আমার পিতাকে আবু বরযাহ (রাঃ)-এর নিকটে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি। (সানাদের একজন রাবী) শু'বাহ (রাঃ) সাইয়ার ইবনু সালামা-কে বললেন, আপনি নিজে তা শুনেছেন কি? (সাইয়ার বলেন,) হ্যাঁ! যেমন তোমার কথা শুনছি। তিনি (সাইয়ার) বলেন, আমার পিতাকে আমি আবু বরযাহ (রাঃ)-এর নিকটে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সালাত সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুনেছি। আবু বরযাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার সালাত কখনো অর্ধরাতে আদায় করতেন এবং সালাতের পূর্বে নিদ্রা যাওয়া ও সালাতের পরে কথা বলা পছন্দ করতেন না।শু'বাহ (রাঃ) বলেন, আমি আবার সাইয়ার ইবনু সালামা-র সঙ্গে দেখা করি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সালাত সম্পর্কে প্রশ্ন করি। তিনি (ﷺ) যুহরের সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য ঢলে পড়ত। আসরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, কোন লোক মদিনার দূরপ্রান্ত পর্যন্ত যেতে পারত এবং সূর্যের আলো তখনো উজ্জ্বল থাকত। মাগরিবের সালাত কোন সময় আদায় করতেন বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন তা আমার জানা নেই।আবার আমি তাঁর সাথে দেখা করি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তিনি বললেন, তিনি (ﷺ) ফজরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, লোকজন সালাত শেষে ফিরে যেত এবং তার পাশে বসা কোন পরিচিত লোকের দিকে তাকালে তাকে চিনতে পারত। রাবী বলেন, তিনি উক্ত সালাতে ষাট হতে একশ আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন।

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ৪৯৬

أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَنَسٌ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ حِينَ زَاغَتِ الشَّمْسُ فَصَلَّى بِهِمْ صَلَاةَ الظُّهْرِ»

বর্ণনাকারী যুহরী (রহঃ)

আনাস (রাঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার সূর্য ঢলে পড়লে বের হলেন এবং তাঁদেরকে নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন।

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ৪৯৭

أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ خَبَّابٍ قَالَ: شَكَوْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَرَّ الرَّمْضَاءِ فَلَمْ يُشْكِنَا " قِيلَ لِأَبِي إِسْحَاقَ فِي تَعْجِيلِهَا؟ قَالَ: نَعَمْ

বর্ণনাকারী খাব্বাব (রাঃ)

আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উত্তপ্ত বালুর অভিযোগ করলাম। তিনি (ﷺ) আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করলেন না।আবু ইসহাক (রহঃ)-কে বলা হলো, সাহাবীরা কি সালাত দ্রুত আদায় করার অভিযোগ করেছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

৬/৩. অধ্যায়ঃ

সফরের সময় যুহরের সলাত তাড়াতাড়ি আদায় করা

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ৪৯৮

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنِي حَمْزَةُ الْعَائِذِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا نَزَلَ مَنْزِلًا لَمْ يَرْتَحِلْ مِنْهُ حَتَّى يُصَلِّيَ الظُّهْرَ» فَقَالَ رَجُلٌ: وَإِنْ كَانَتْ بِنِصْفِ النَّهَارِ؟ قَالَ: «وَإِنْ كَانَتْ بِنِصْفِ النَّهَارِ»

বর্ণনাকারী হামযাতুল আয়িযী (রহঃ)

আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, নাবী (ﷺ) যখন কোন মনযিলে যুহরের পূর্বে অবতরণ করতেন তখন যুহরের সালাত আদায় না করে সে জায়গা ত্যাগ করতেন না।এক ব্যক্তি বলল, অর্ধেক দিন অর্থাৎ ঠিক দুপুর হলেও? তিনি বললেন, ঠিক দুপুর হলেও।

[১] দুপুর অর্থ হচ্ছে দুপুরের কাছাকাছি সময়, অর্থাৎ তিনি দুপুরের সময় আদায় করলেও সূর্য ঢলে পরা পর্যন্ত অপেক্ষা করে সালাত আদায় করে স্থল ত্যাগ করতেন।

৬/৪. অধ্যায়ঃ

ঠাণ্ডার সময়ে যুহরের সলাত তাড়াতাড়ি আদায় করা

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ৪৯৯

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ دِينَارٍ أَبُو خَلْدَةَ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ الْحَرُّ أَبْرَدَ بِالصَّلَاةِ، وَإِذَا كَانَ الْبَرْدُ عَجَّلَ»

বর্ণনাকারী খালিদ ইব্‌ন দীনার আবু খালদাহ্‌ (রহঃ)

আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গরমের সময় (যুহরের সালাত) দেরিতে এবং ঠান্ডার সময় দ্রুত আদায় করতেন।

৬/৫. অধ্যায়ঃ

প্রচণ্ড গরম হলে যুহরের সলাত গরম কমলে আদায় করা

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ৫০০

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلَاةِ؛ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ»

বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: গরম প্রচণ্ড হলে সালাত দেরি করে আদায় কর। কেননা গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের তাপ হতেই হয়ে থাকে।

[১] ‘গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের ভাপ’ অর্থাৎ মৌসুমি তাপের আধিক্য জাহান্নামের গরমেরই নমুনা।

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ৫০১

أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي وَأَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَفْصٌ وَأَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى يَرْفَعُهُ قَالَ: «أَبْرِدُوا بِالظُّهْرِ، فَإِنَّ الَّذِي تَجِدُونَ مِنَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ»

বর্ণনাকারী আবু মুসা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমরা যুহরের সালাত দেরি করে আদায় কর। কারণ তোমরা যে গরম অনুভব কর তা জাহান্নামের তাপ।

৬/৬. অধ্যায়ঃ

যুহরের সলাতের শেষ সময়

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ৫০২

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ جَاءَكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ، فَصَلَّى الصُّبْحَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ، وَصَلَّى الظُّهْرَ حِينَ زَاغَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ حِينَ رَأَى الظِّلَّ مِثْلَهُ، ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَحَلَّ فِطْرُ الصَّائِمِ، ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ حِينَ ذَهَبَ شَفَقُ اللَّيْلِ , ثُمَّ جَاءَهُ الْغَدَ فَصَلَّى بِهِ الصُّبْحَ حِينَ أَسْفَرَ قَلِيلًا، ثُمَّ صَلَّى بِهِ الظُّهْرَ حِينَ كَانَ الظِّلُّ مِثْلَهُ، ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ حِينَ كَانَ الظِّلُّ مِثْلَيْهِ، ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ بِوَقْتٍ وَاحِدٍ حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَحَلَّ فِطْرُ الصَّائِمِ، ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ حِينَ ذَهَبَ سَاعَةٌ مِنَ اللَّيْلِ»، ثُمَّ قَالَ: «الصَّلَاةُ مَا بَيْنَ صَلَاتِكَ أَمْسِ وَصَلَاتِكَ الْيَوْمَ»

বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা (রাঃ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ইনি জিবরীল (আঃ) যিনি তোমাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেয়ার জন্যে এসেছিলেন। তিনি ঊষা উদিত হলে ফজরের সালাত আদায় করেন। যুহরের সালাত আদায় করেন সূর্য ঢলে পড়লে, তারপর আসরের সালাত আদায় করেন যখন ছায়া তাঁর সমান দেখতে পান। অতঃপর যখন সূর্য অস্তমিত হলো, আর সায়িমের (রোজা পালনকারীর) জন্য ইফতার করা হালাল হল তখন মাগরিবের সালাত আদায় করেন। তারপর ইশার সালাত আদায় করেন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর যে লালিমা দেখা যায় তা অদৃশ্য হওয়ার পর।জিবরীল (আঃ) আবার পরেরদিন আসলেন এবং নবী (ﷺ)-কে সাথে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন যখন কিছুটা ফর্সা হলো তখন। পরে তাঁকে নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করেন যখন ছায়া তার সমান হলো। তারপর আসরের সালাত আদায় করেন যখন ছায়া তাঁর দ্বিগুণ হলো। পরে মাগরিবের সালাত একই সময়ে পূর্বের দিনের ন্যায় আদায় করেন। সূর্য যখন অস্তমিত হল এবং সায়িমের জন্য ইফতার করা হালাল হলো। এরপর রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হয়ে গেলে ইশার সালাত আদায় করেন। পরে তিনি বলেন, আপনার আজকের সালাত এবং গতকালকের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ই হল সালাতের সময়।

[১] ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমদ, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহঃ) -এর মতে- অস্তাচলে যে লালিমা দৃষ্ট হয় তাই ‘শফক’। ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) -এর মতে- লালিমা অস্ত যাওয়ার পর যে সাদা বর্ণ দেখা যায়, তাই শফক। এটা অদৃশ্য হলে ইশার সালাতের সময় আরম্ভ হয়।

সুনানে নাসাঈ

হাদিস নং ৫০৩

أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَذْرَمِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْجَعِيِّ سَعْدِ بْنِ طَارِقٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُدْرِكٍ، عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: «كَانَ قَدْرُ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الظُّهْرَ فِي الصَّيْفِ ثَلَاثَةَ أَقْدَامٍ إِلَى خَمْسَةِ أَقْدَامٍ، وَفِي الشِّتَاءِ خَمْسَةَ أَقْدَامٍ إِلَى سَبْعَةِ أَقْدَامٍ»

বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদ (রাঃ)

উবাইদাহ ইবনু হুমাইদ (রহঃ) আবু মালিক আল আশজাঈ সাদ ইবনু তারিক (রহঃ) হতে, তিনি কাসীর ইবনু মুদরিক (রহঃ) হতে, তিনি আল আসওয়াদ ইবনু ইয়াজীদ (রহঃ) হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। গ্রীষ্মকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের সালাত আদায় করতেন যখন কোন ব্যক্তির ছায়া তিন হতে পাঁচ কদমের মধ্যে হত এবং শীতকালে ছায়া যখন পাঁচ হতে সাত কদমের মধ্যে হত।

সেটিংস
আরবি ফন্ট ফেস
আরবি ফন্ট সাইজ

32

অনুবাদের ফন্ট সাইজ

18