ঈমান
৩৮/১. অধ্যায়ঃ
যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” না বলবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কিতাল করতে আমি আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি ।
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬০৬
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَإِذَا قَالُوهَا مَنَعُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلاَّ بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষ “আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন প্রভু নেই”-এর স্বীকারোক্তি না করা পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি। তারা এটা বললে (একত্ববাদে ঈমান আনলে) তাদের রক্ত (জান) ও সম্পদ আমার থেকে নিরাপদ হবে। তবে ইসলামের অধিকার সম্পর্কে ভিন্ন কথা (অর্থাৎ- অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে)। আর তাদের চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহ তা‘আলার দায়িত্বে।
সহীহ মুতাওয়াতিরঃ ইবনু মা-জাহ (৭১), বুখারী ও মুসলিম।জাবির, আবূ সা’ঈদ ও ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবূ ‘ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ ।
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬০৭
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ كَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لأَبِي بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَمَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلاَّ بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَاللَّهِ لأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الزَّكَاةِ وَالصَّلاَةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عِقَالاً كَانُوا يُؤَدُّونَهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهِ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ رَأَيْتُ أَنَّ اللَّهَ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهَكَذَا رَوَى شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَرَوَى عِمْرَانُ الْقَطَّانُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ وَهُوَ حَدِيثٌ خَطَأٌ وَقَدْ خُولِفَ عِمْرَانُ فِي رِوَايَتِهِ عَنْ مَعْمَرٍ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যুর পর আবু বকর (রাঃ) যখন খলীফা নির্বাচিত হন, তখন আরবের কিছু সংখ্যক লোক কাফির হয়ে যায়। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-কে বললেন, আপনি এদের বিরুদ্ধে কিভাবে অস্ত্রধারণ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষ যে পর্যন্ত না “আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্রভু নেই” এই কথার স্বীকৃতি দিবে সেই পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। আর যে ব্যক্তি বললো, “আল্লাহ ব্যতীত আর কোন প্রভু নেই” সে আমার থেকে তার মাল ও রক্ত (জীবন) নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামের অধিকার সম্পর্কে ভিন্ন কথা। আর তাদের প্রকৃত হিসাব-নিকাশ রয়েছে আল্লাহ তা'আলার দায়িত্বে।আбу বকর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! নামাজ ও জাকাতের মধ্যে যে ব্যক্তি পার্থক্য করে আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবই। কেননা জাকাত সম্পদের হক। কেউ উটের একটি রশি দিতেও যদি অস্বীকার করে, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দিত, আল্লাহর কসম! আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবই।তারপর উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি দেখতে পেলাম আল্লাহ যেন যুদ্ধের জন্য আবু বকরের অন্তর উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। অতঃপর আমি বুঝতে পারলাম যে, তার সিদ্ধান্তই যথার্থ।
সহীহঃ সহীহাহ্ (৪০৭), সহীহ আবূ দাঊদ (১৩৯১-১৩৯৩), বুখারী ও মুসলিম।আবূ ‘ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ । শু’আইব ইবনু আবী হামযা (রহঃ) যুহ্রী হতে, তিনি ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আব্দিল্লাহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন । এই হাদীস মামার-যুহ্রী হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে, তিনি আবূ বাক্র (রাঃ) হতে এই সূত্রে ‘ইমরান আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন । এ বর্ণনাটি ভুল । ‘ইমরানের ব্যাপারে মা’মার হতে বর্ণিত বর্ণনাতে বিরোধিতা করা হয়েছে ।
৩৮/২. অধ্যায়ঃ
আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা “লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলবে এবং নামায আদায় করবে
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬০৮
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَعْقُوبَ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَأَنْ يَسْتَقْبِلُوا قِبْلَتَنَا وَيَأْكُلُوا ذَبِيحَتَنَا وَأَنْ يُصَلُّوا صَلاَتَنَا فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ حُرِّمَتْ عَلَيْنَا دِمَاؤُهُمْ وَأَمْوَالُهُمْ إِلاَّ بِحَقِّهَا لَهُمْ مَا لِلْمُسْلِمِينَ وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُسْلِمِينَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ نَحْوَ هَذَا .
বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন প্রভু নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহ তা‘আলার বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং আমাদের কিবলামুখী হয়ে নামাজ আদায় করবে, আমাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাবে এবং আমাদের মতো নামাজ আদায় করবে। তারা এগুলো করলে তাদের জান ও মালে হস্তক্ষেপ করা আমাদের জন্য হারাম হয়ে যাবে। কিন্তু ইসলামের অধিকারের বিষয়টি ভিন্ন। মুসলিমদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা তারাও পাবে এবং মুসলিমদের উপর অর্পিত দায়-দায়িত্ব তাদের উপরও বর্তাবে।
সহীহঃ সহীহাহ্ (৩০৩) ও (১/১৫২), সহীহ আবূ দাঊদ (২৩৭৪), বুখারী অনুরূপ।মু‘আয ইবনু জাবাল ও আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবূ ‘ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব । ইয়াহ্ইয়া (রহঃ),হুমাইদ হতে, তিনি আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন ।
৩৮/৩. অধ্যায়ঃ
পাঁচটি ভিত্তির উপর ইসলাম প্রতিষ্ঠিত
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬০৯
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ سُعَيْرِ بْنِ الْخِمْسِ التَّمِيمِيِّ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامُ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَصَوْمُ رَمَضَانَ وَحَجُّ الْبَيْتِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوُ هَذَا . وَسُعَيْرُ بْنُ الْخِمْسِ ثِقَةٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ .حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ الْجُمَحِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ الْمَخْزُومِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাঁচটি ভিত্তির উপর ইসলাম প্রতিষ্ঠিতঃ (১) এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্রভু নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল, (২) সালাত প্রতিষ্ঠা করা, (৩) যাকাত প্রদান করা, (৪) রমজানের রোজা রাখা ও (৫) বাইতুল্লাহর হজ্জ সম্পাদন করা।
সহীহঃ ইরওয়াহ্ (৭৮১), ঈমান আবী ‘উবাইদ (২), রাওযুন নায়ীর (২৭০)।জারীর ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবূ ‘ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ । ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর বরাতে একাধিক সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে একই রকম হাদীস বর্ণিত আছে । সুআইর ইবনু খিম্স হাদীস বিশারদগণের মতে সিকাহ বর্ণনাকারী । আবূ কুরাইব-ওয়াকী’ হতে, তিনি হানযালা ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান আল-জুমাহী হতে, তিনি ইকরিমাহ্ ইবনু খালিদ আল-মাখযূমী হতে, তিনি ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত আছে । এই সনদে বর্ণিত হাদীসটিও হাসান সহীহ ।
৩৮/৪. অধ্যায়ঃ
জিবরীল (আঃ) কর্তৃক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ঈমান ও ইসলামের পরিচয় প্রদান
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬১০
حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ الْخُزَاعِيُّ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ كَهْمَسِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، قَالَ أَوَّلُ مَنْ تَكَلَّمَ فِي الْقَدَرِ مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ قَالَ فَخَرَجْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيُّ حَتَّى أَتَيْنَا الْمَدِينَةَ فَقُلْنَا لَوْ لَقِينَا رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْنَاهُ عَمَّا أَحْدَثَ هَؤُلاَءِ الْقَوْمُ . قَالَ فَلَقِينَاهُ يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ وَهُوَ خَارِجٌ مِنَ الْمَسْجِدِ قَالَ فَاكْتَنَفْتُهُ أَنَا وَصَاحِبِي قَالَ فَظَنَنْتُ أَنَّ صَاحِبِي سَيَكِلُ الْكَلاَمَ إِلَىَّ فَقُلْتُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّ قَوْمًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ وَيَتَقَفَّرُونَ الْعِلْمَ وَيَزْعُمُونَ أَنْ لاَ قَدَرَ وَأَنَّ الأَمْرَ أُنُفٌ قَالَ فَإِذَا لَقِيتَ أُولَئِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنِّي مِنْهُمْ بَرِيءٌ وَأَنَّهُمْ مِنِّي بُرَآءُ وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا قُبِلَ ذَلِكَ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ . قَالَ ثُمَّ أَنْشَأَ يُحَدِّثُ فَقَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعَرِ لاَ يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ وَلاَ يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَلْزَقَ رُكْبَتَهُ بِرُكْبَتِهِ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ مَا الإِيمَانُ قَالَ " أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ " . قَالَ فَمَا الإِسْلاَمُ قَالَ " شَهَادَةُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَإِقَامُ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَحَجُّ الْبَيْتِ وَصَوْمُ رَمَضَانَ " . قَالَ فَمَا الإِحْسَانُ قَالَ " أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ " . قَالَ فِي كُلِّ ذَلِكَ يَقُولُ لَهُ صَدَقْتَ . قَالَ فَتَعَجَّبْنَا مِنْهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ . قَالَ فَمَتَى السَّاعَةُ قَالَ " مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ " . قَالَ فَمَا أَمَارَتُهَا قَالَ أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ أَصْحَابَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ " . قَالَ عُمَرُ فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ بِثَلاَثٍ فَقَالَ " يَا عُمَرُ هَلْ تَدْرِي مَنِ السَّائِلُ ذَاكَ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ مَعَالِمَ دِينِكُمْ " .حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، عَنْ كَهْمَسٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ . وَفِي الْبَابِ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ نَحْوُ هَذَا عَنْ عُمَرَ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالصَّحِيحُ هُوَ ابْنُ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়ামার (রহঃ)
তাকদীর মতবাদের ব্যাপারে সর্বপ্রথম মা‘বদ আল-জুহানীই কথা বলেন। কোন এক সময় আমি ও হুমাইদ ইবন আবদুর রহমান আল-হিময়ারী মদিনায় আসলাম এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলাম, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোন সাহাবীর সাক্ষাৎ পেলে এসব লোকেরা যে নতুন কথা বের করেছে সেই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করতাম। আমরা আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর দেখা পেলাম। তিনি মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। আমি ও আমার সাথী গিয়ে তার পাশে পাশে চললাম। আমি মনে করলাম আমার সঙ্গী আমার উপর কথা বলার দায়িত্ব দিবেন। তাই আমি বললাম, হে আবূ আব্দুর রহমান! কিছু সংখ্যক লোক কুরআন তিলাওয়াত করে, জ্ঞানও অন্বেষণ করে, কিন্তু তাদের ধারণায় তাকদীর বলতে কিছু নেই, যা কিছু হচ্ছে তা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটে। ইবন উমর (রাঃ) বললেন, তাদের সাথে তোমার দেখা হলে বলবে, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই এবং তারাও আমার হতে সম্পর্ক মুক্ত।তারপর ইবন উমর (রাঃ) আল্লাহ তা‘আলার নামে শপথ করে বলেন, তাদের কেউ উহুদ পাহাড় সমান স্বর্ণ দান-খাইরাত করলেও তা গ্রহণ করা হবে না, তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর যে পর্যন্ত না সে ঈমান আনবে। তারপর তিনি বললেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলেছেনঃ কোন এক সময় আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে বসে ছিলাম। এমন সময় সাদা ধবধবে জামা পরা এবং কালো কুচকুচে চুলধারী এক লোক এসে উপস্থিত। তার মধ্যে সফরের কোন চিহ্নও ছিল না এবং আমাদের মধ্যে কেউই তাকে চিনতে পারলো না। তারপর তিনি নবী (ﷺ)-এর সামনে এসে তাঁর হাঁটুদ্বয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাঁটুদ্বয়ের সাথে মিলিয়ে বসলেন। অতঃপর তিনি প্রশ্ন করেন, হে মুহাম্মাদ! ঈমান কি? তিনি বললেনঃ ঈমান হলো-তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাদের, কিতাবসমূহে, রাসূলগণে, পরকালে এবং তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস স্থাপন কর।আগন্তুক প্রশ্ন করলেন, ইসলাম কি? তিনি বললেনঃ এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন প্রভু নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ্জ আদায় করা এবং রমজানের রোজা রাখা।তিনি আবার প্রশ্ন করেন, ইহসান কি? তিনি বললেনঃ তুমি (এমনভাবে) আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছো। তুমি যদি তাঁকে না দেখ তাহলে অবশ্যই তিনি তোমাকে দেখেন। বর্ণনাকারী বলেন, প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরেই তিনি বলতেন, আপনি সত্যই বলেছেন। তাঁর এই আচরণে আমরা অবাক হলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করছেন আবার তিনিই তা সমর্থন করছেন। তিনি আবার প্রশ্ন করেন, কখন কেয়ামত সংঘটিত হবে? তিনি এবার বললেনঃ জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি এই ব্যাপারে প্রশ্নকারীর চাইতে বেশি কিছু জানে না। তিনি আবার প্রশ্ন করেন, এর নিদর্শনগুলো কি কি? তিনি বললেনঃ(১) যখন দাসী তার মনিবকে জন্ম দেবে এবং(২) খোলা পা, উলঙ্গ শরীরের অভাবী মেষপালক রাখালগণকে বিশাল দালান-কোঠার প্রতিযোগিতায় গর্ব করতে দেখবে।উমর (রাঃ) বলেন, তারপর নবী (ﷺ) তিনদিন পর আমার সাক্ষাৎ পেয়ে প্রশ্ন করেনঃ হে উমর! তুমি কি জানো, ঐ প্রশ্নকারী কে ছিলেন? তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ), তোমাদেরকে ধর্মীয় অনুশাসন শিখাতে এসেছিলেন।
সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৬৩), মুসলিম।উক্ত মর্মে আহ্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ-ইবনুল মুবারাক হতে, তিনি কাহ্মাস ইবনুল হাসান (রহঃ) সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন । মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না-মু‘আয ইবনু হিশাম-কাহ্মাস (রাঃ) সূত্রে উক্ত মর্মে একই রকম বর্ণনা করেছেন । তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ, আনাস ইবনু মালিক ও আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবূ ‘ঈসা বলেন, বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ । এ হাদীসটি একাধিকসূত্রে ‘উমার (রাঃ) হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে । ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে হাদীসটি বর্ণিত হলেও সঠিক সনদসূত্র হলো ইবনু ‘উমার-‘উমার (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে ।
৩৮/৫. অধ্যায়ঃ
ঈমানের মৌলিক বিষয়ের সাথে ফরয কাজসমূহ সংশ্লিষ্ট
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬১১
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيُّ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا إِنَّا هَذَا الْحَىَّ مِنْ رَبِيعَةَ وَلَسْنَا نَصِلُ إِلَيْكَ إِلاَّ فِي أَشْهُرِ الْحَرَامِ فَمُرْنَا بِشَيْءٍ نَأْخُذُهُ عَنْكَ وَنَدْعُو إِلَيْهِ مَنْ وَرَاءَنَا . فَقَالَ " آمُرُكُمْ بِأَرْبَعٍ الإِيمَانِ بِاللَّهِ ثُمَّ فَسَّرَهَا لَهُمْ شَهَادَةَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامَ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءَ الزَّكَاةِ وَأَنْ تُؤَدُّوا خُمْسَ مَا غَنِمْتُمْ " .حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَأَبُو جَمْرَةَ الضُّبَعِيُّ اسْمُهُ نَصْرُ بْنُ عِمْرَانَ . وَقَدْ رَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ أَيْضًا وَزَادَ فِيهِ أَتَدْرُونَ مَا الإِيمَانُ شَهَادَةُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ . سَمِعْتُ قُتَيْبَةَ بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ مَا رَأَيْتُ مِثْلَ هَؤُلاَءِ الأَشْرَافِ الأَرْبَعَةِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَاللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ وَعَبَّادِ بْنِ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيِّ وَعَبْدِ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيِّ . قَالَ قُتَيْبَةُ كُنَّا نَرْضَى أَنْ نَرْجِعَ مِنْ عِنْدِ عَبَّادٍ كُلَّ يَوْمٍ بِحَدِيثَيْنِ وَعَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ هُوَ مِنْ وَلَدِ الْمُهَلَّبِ بْنِ أَبِي صُفْرَةَ .
বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
আব্দুল কাইস বংশের একটি প্রতিনিধিদল এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলে, আমরা রাবীআ বংশের লোক। আমরা আপনার নিকট হারাম মাসগুলো ছাড়া আসতে পারি না। সুতরাং আমাদেরকে এমন কতগুলো বিষয়ের আদেশ করুন, যা আমরা ধারণ করতে পারি এবং যারা আমাদের পিছনে আছে তাদেরকেও সেগুলোর দাওয়াত দিতে পারি। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের আদেশ করছি: আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান আনয়ন, তারপর এই কথার ব্যাখ্যা করে বললেন: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কোনো প্রভু নেই, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ), নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত দেওয়া এবং গনীমাতের সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ (বাইতুল মালে) প্রদান করা।
সহীহঃ ঈমান আবী ‘উবাইদ, পৃষ্ঠা (৫৮-৫৯), মুসলিম।কুতাইবাহ্-হাম্মাদ ইবনু যাইদ হতে, তিনি আবূ হামযা হতে, তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে উপরের হাদীসের মতো বর্ণিত আছে । আবূ ‘ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ । আবূ হামযা আয্-যুবাঈর নাম নাসর ইবনু ‘ইমরান । এই হাদীসটি আবূ হামযার সূত্রে শু‘বাহ (রহঃ)ও বর্ণনা করেছেন । তবে তাতে এভাবে আছে, তোমরা কি অবগত আছো যে, ঈমান কি? এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল..... তারপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন । কুতাইবা ইবনু সা’ঈদ বলেন, আমি নিম্নবর্ণিত চারজন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ফাকীহ্র মতো আর দেখিনিঃ মালিক ইবনু আনাস, আল-লাইস ইবনু সা’দ, ‘আব্বাদ ইবনু আব্বাদ আল-মুহাল্লাবী ও ‘আব্দুল ওয়াহ্হাব আস্-সাকাফী (রহঃ) । কুতাইবাহ্ আরো বলেন, আমরা এতে সন্তুষ্ট যে, আমরা প্রতি দিন আব্বাদ ইবনু ‘আব্বাদের নিকট হতে দুটি করে হাদীস সংগ্রহ করে ফিরবো । ‘আব্বাদ হলেন আল-মুহাল্লাব ইবনু আবূ সুফ্রার বংশধর ।
৩৮/৬. অধ্যায়ঃ
ঈমানের পূর্ণতা ও হ্রাসবৃদ্ধি
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬১২
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مِنْ أَكْمَلِ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا وَأَلْطَفُهُمْ بِأَهْلِهِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَلاَ نَعْرِفُ لأَبِي قِلاَبَةَ سَمَاعًا مِنْ عَائِشَةَ . وَقَدْ رَوَى أَبُو قِلاَبَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ رَضِيعٌ لِعَائِشَةَ عَنْ عَائِشَةَ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ وَأَبُو قِلاَبَةَ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ الْجَرْمِيُّ . حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ ذَكَرَ أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ أَبَا قِلاَبَةَ فَقَالَ كَانَ وَاللَّهِ مِنَ الْفُقَهَاءِ ذَوِي الأَلْبَابِ .
বর্ণনাকারী আইশা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যার চরিত্র ভালো এবং যে নিজ পরিবার-পরিজনের সাথে দয়ার্দ্র ব্যবহার করে সে-ই ঈমানের দিক হতে পরিপূর্ণ মুমিন।
যঈফ, সহীহা (২৮৪) হাদিসের আওতায়এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা ও আনাস (রাঃ) হতেও হাদিস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদিসটি সহীহ। আবূ কিলাবা (রহঃ) আইশা (রাঃ) হতে হাদিস শুনেছেন বলে আমাদের জানা নাই। অবশ্য তিনি আইশা (রাঃ)-এর দুধভাই আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ-আইশা (রাঃ) হতে অন্যান্য হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ কিলাবার নাম আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদ আল-জারমী। ইবনু আবূ উমার-সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন, আইয়ূব আস-সিখতিয়ানী (রহঃ) আবূ কিলাবার আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, আল্লাহ্ তা’আলার শপথ! তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান ফাকীহগণের অন্তর্ভুক্ত।উমারাহ ইবনু গাযিয়্যাহ এই হাদিসটি আবূ সালিহ হতে আবূ হুরাইরার সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন “আল-ঈমানু আরবায়াতুন ওয়া সিত্তুনা বাবান” ঈমানের ৬৪টি দরজা আছে। এ শব্দটি শাজ।
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬১৩
حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، هُرَيْمُ بْنُ مِسْعَرٍ الأَزْدِيُّ التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ النَّاسَ فَوَعَظَهُمْ ثُمَّ قَالَ " يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ فَإِنَّكُنَّ أَكْثَرُ أَهْلِ النَّارِ " . فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ وَلِمَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " لِكَثْرَةِ لَعْنِكُنَّ " . يَعْنِي وَكُفْرَكُنَّ الْعَشِيرَ . قَالَ " وَمَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَغْلَبَ لِذَوِي الأَلْبَابِ وَذَوِي الرَّأْىِ مِنْكُنَّ " . قَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ وَمَا نُقْصَانُ دِينِهَا وَعَقْلِهَا قَالَ " شَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ مِنْكُنَّ بِشَهَادَةِ رَجُلٍ وَنُقْصَانُ دِينِكُنَّ الْحَيْضَةُ تَمْكُثُ إِحْدَاكُنَّ الثَّلاَثَ وَالأَرْبَعَ لاَ تُصَلِّي " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ حَسَنٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
জনতার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাসীহাতপূর্ণ খুতবা প্রদান করেন এবং বলেনঃ “হে নারী সম্প্রদায়! তোমরা বেশি পরিমাণে দান-খয়রাত কর। কেননা, জাহান্নামে তোমাদের সংখ্যাই বেশি হবে।”তাদের মধ্যকার এক মহিলা প্রশ্ন করেন, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তা কেন?” তিনি বললেনঃ “তোমাদের মাঝে অভিশাপ দানের প্রবণতার আধিক্যের কারণে, অর্থাৎ তোমাদের স্বামীদের অনুগ্রহের প্রতি অকৃতজ্ঞ হবার কারণে।”তিনি আরো বলেনঃ “আমি তোমাদের স্বল্পবুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে সংকীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বুদ্ধিমান বিচক্ষণদের উপর বিজয়ী হতে পারঙ্গম আর কাউকে দেখিনি।”জনৈকা মহিলা প্রশ্ন করলো, “তার বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে কমতি হলো কি করে?” তিনি বললেনঃ(১) তোমাদের দুজন স্ত্রীলোকের সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। এটা হলো বুদ্ধির স্বল্পতা।(২) আর তোমাদের হায়েজ (ঋতুস্রাব) হলে তিন-চার দিন তোমরা নামাজ আদায় কর না। এটা হলো দ্বীনের স্বল্পতা।”
সহীহঃ ইরওয়াহ্ (১/২০৫), আয্যিলাল (৯৫৬), মুসলিম।আবূ সা’ঈদ ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ । এই সনদ সূত্রে গারীব ।
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬১৪
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ بَابًا فَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَأَرْفَعُهَا قَوْلُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهَكَذَا رَوَى سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ .وَرَوَى عُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الإِيمَانُ أَرْبَعَةٌ وَسِتُّونَ بَابًا " . قَالَ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
বর্ণনাকারী আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ঈমানের দরজা (স্তর) হলো সত্তরের অধিক। তার সর্বনিম্ন স্তর হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা এবং সর্বোচ্চ স্তর হলো ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা।
সহীহঃ সহীহাহ্ (১৩৬৯), বুখারীর বর্ণনায় ষাটের অধিক এবং মুসলিমের বর্ণনায় সত্তরের অধিক উল্লেখ আছে। আর এটাই অগ্রগণ্য। তাখরীজুল ঈমান (২১/৬৭)।আবূ ‘ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ । সুহাইল ইবনু আবী সালিহ (রহঃ) ‘আব্দুল্লাহ ইবনু দীনার হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন । এ হাদীসটি আবূ সালিহ-আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে ‘উমারাহ্ ইবনু গাযিয়্যাহ্ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন । তাতে আছেঃ “ঈমানের চৌষট্টিটি দরজা (স্তর) আছে” । এই অর্থে হাদীসটি শাজ । কুতাইবা-বাক্র ইবনু মুযার হতে, তিনি ‘উমারাহ্ ইবনু গাযিয়্যাহ্ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে তা বর্ণিত হয়েছে ।
৩৮/৭. অধ্যায়ঃ
লজ্জা ও সম্ভ্রমবোধ ঈমানের অঙ্গ
জামে তিরমিযী
হাদিস নং ২৬১৫
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِرَجُلٍ وَهُوَ يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْحَيَاءُ مِنَ الإِيمَانِ " . قَالَ أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ فِي حَدِيثِهِ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ رَجُلاً يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي بَكْرَةَ وَأَبِي أُمَامَةَ .
বর্ণনাকারী সালিম (রহঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন একজনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তার ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ লজ্জা ও সম্ভ্রমবোধ ঈমানের অঙ্গ।
সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৫৮), বুখারী ও মুসলিম।আহ্মাদ ইনবু মানি‘ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন একজনকে তার ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে উপদেশ দিতে শুনলেন ।এ হাদীসটি হাসান সহীহ । আবূ হুরাইরাহ্, আবূ বাকরাহ্ ও আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে ।