৬ কালেমা
৩য় কালেমা (তামজীদ)
আরবি
سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَآ اِلٰهَ اِلَّااللّٰهُ وَاللّٰهُ اَكْبَرُ ؕ وَلَآ حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللّٰهِ الْعَلِىِّ الْعَظِيْم
বাংলা উচ্চারণ
সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। ওয়া লা-হাওলা ওয়া লা-কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম।
বাংলা অর্থ
আল্লাহ পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহ ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য কোনো মাবুদ নেই এবং আল্লাহ মহান। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত গুনাহ থেকে বাঁচার এবং নেক কাজ করার কোনো শক্তি নেই। তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ও মহান।
ভিডিও তিলাওয়াত
কালেমা তামজীদ পাঠের ফজিলত ও শিক্ষা
- 1
১. ঈমানকে পরিশুদ্ধ করে
“সুবহানাল্লাহ” বলার মাধ্যমে মহান আল্লাহ সম্পর্কে মনের যেকোনো ভুল ধারণা দূর হয়। এটি আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে তিনি সম্পূর্ণ নিখুঁত, যার মাধ্যমে আপনার ঈমান আরও মজবুত হয়।
- 2
২. কৃতজ্ঞতাবোধ বৃদ্ধি করে
“আলহামদুলিল্লাহ” বলার মাধ্যমে আপনি প্রতিদিন আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের চর্চা করতে পারেন। এটি আপনার মনকে সমস্যার দিকে মনযোগী না করে, জীবনের সুন্দর বিষয়গুলোর প্রতি ফোকাস করতে শেখায়।
- 3
৩. মৌলিক বিশ্বাসকে সুরক্ষিত রাখে
এই কালেমা আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কেউ নেই। এটি আপনার ঈমানকে নিরাপদ রাখে এবং শিরক (আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা) থেকে রক্ষা করে।
- 4
৪. আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি বাড়ায়
“আল্লাহু আকবার” বাক্যটি আপনার আত্মায় এক বিরাট প্রশান্তি ও শক্তির সঞ্চার করে। এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আপনার জীবনের যেকোনো সমস্যা, দুশ্চিন্তা বা ভয়ের চেয়েও মহান আল্লাহ অনেক বড় ও শক্তিশালী।
- 5
৫. আল্লাহর ওপর ভরসা বাড়ায়
“লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” পাঠ করার মাধ্যমে আপনি আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে শেখেন। এটি অন্তরে এই গভীর বিশ্বাস তৈরি করে যে, প্রতিটি শক্তি এবং সামর্থ্য সরাসরি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।
- 6
৬. অন্তরে প্রশান্তি নিয়ে আসে
প্রতিদিন এই কালেমা পড়ার অভ্যাস অন্তরে প্রকৃত প্রশান্তি নিয়ে আসে। মহান আল্লাহ কতটা মহান, তা স্মরণ করলে স্বভাবতই সকল মানসিক চাপ ও উদ্বেগ দূর হয়ে যায় এবং মন শান্ত হয়।
- 7
৭. অশেষ সওয়াব ও নেকি লাভ
এই শব্দগুলো মহান আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় কিছু বাক্য। প্রতিদিন বেশি বেশি এগুলো পাঠ করলে খুব সহজেই জীবনে প্রচুর সওয়াব ও বরকত অর্জন করা সম্ভব।
- 8
৮. ধৈর্য ধারণে সাহায্য করে
সবকিছুর ওপর যে আল্লাহর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, এই বিশ্বাস ধৈর্য ধারণ করাকে অনেক সহজ করে দেয়। এটি জীবনের কঠিন সময়ে আপনাকে শক্ত থাকতে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।
- 9
৯. বিনয়ী হতে সাহায্য করে
আপনি যখন সত্যিকার অর্থে মহান আল্লাহর বিশালত্ব উপলব্ধি করবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার অহংকার দূর হবে। এটি মনের অহমিকা ধ্বংস করে এবং আপনাকে মাটির মানুষ বা বিনয়ী হতে শেখায়।
- 10
১০. দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে
এই কালেমা পড়া আপনাকে ইতিবাচক চিন্তা, কৃতজ্ঞতা এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার সুন্দর একটি অভ্যাসে পরিণত করবে। সামগ্রিকভাবে, এটি আপনাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে এবং প্রতিদিনের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।
৬ কালেমার উৎস
তৃতীয় কালেমা (তামজীদ):
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত:
নবী (ﷺ) বলেছেন, "এমন দুটি বাক্য আছে, যা দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, মুখে উচ্চারণ করা খুবই সহজ, কিন্তু (কিয়ামতের দিন) মীজানের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। বাক্য দুটি হলো: 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী' এবং 'সুবহানাল্লাহিল আযীম'।" (হাদিস ৬৬৮২ দেখুন)।
বেশি বরকত লাভের জন্য ৩য় কালেমা তামজীদ পড়ার উত্তম সময়
- 1
ফজরের ফরজ নামাজের পর পরই এটি পাঠ করা।
- 2
আসর বা মাগরিবের নামাজের পরও এই আমলটি করতে পারেন।
- 3
পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর জিকির হিসেবে এটি পড়া।
- 4
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে অবশ্যই এটি পাঠ করা।
- 5
অবসর সময়ে বা প্রতিদিন রাস্তায় হাঁটার সময় পড়া।
- 6
জুমার দিন (শুক্রবার) বেশি বেশি পাঠ করা, কারণ এই দিনে অতিরিক্ত বরকত লাভ হয়।