যুদ্ধলব্ধ মাল বণ্টন
৩৯/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪১৩৩
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَمَّالُ قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ، أَنَّ نَجْدَةَ الْحَرُورِيَّ حِينَ خَرَجَ فِي فِتْنَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ أَرْسَلَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنْ سَهْمِ ذِي الْقُرْبَى لِمَنْ تُرَاهُ؟ قَالَ: «هُوَ لَنَا لِقُرْبَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَسَمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَهُمْ»، وَقَدْ كَانَ عُمَرُ عَرَضَ عَلَيْنَا شَيْئًا رَأَيْنَاهُ دُونَ حَقِّنَا، فَأَبَيْنَا أَنْ نَقْبَلَهُ، وَكَانَ الَّذِي عَرَضَ عَلَيْهِمْ أَنْ يُعِينَ نَاكِحَهُمْ، وَيَقْضِيَ عَنْ غَارِمِهِمْ، وَيُعْطِيَ فَقِيرَهُمْ وَأَبَى أَنْ يَزِيدَهُمْ عَلَى ذَلِكَ
বর্ণনাকারী ইয়াযীদ ইব্ন হুরমুয (রাঃ)
খারিজী নেতা নাজদা আল হারূরী যখন আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর (রাঃ)-এর বিশৃঙ্খলা যুগে আবির্ভূত হয়, তখন সে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট বলে পাঠায় যে, নিকটাত্মীয়দের অংশ কে কে পেতে পারে বলে আপনি ধারণা করেন?তখন ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন: তা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটাত্মীয় তথা আমরাই পাব। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের মধ্যেই তা ভাগ-বণ্টন করেছেন।উমর (রাঃ) আমাদেরকে কিছু দিতে চাইলে আমরা দেখলাম যে, যে প্রাপ্য আমাদের রয়েছে তা তার চাইতে কম। তখন আমরা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করলাম। তিনি যা দিতে চেয়েছিলেন তা এ রকম ছিল যে, তাদের বিবাহকারীকে সাহায্য করবেন ও ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করবেন এবং তাদের মধ্যে যারা গরীব তাদের সাহায্য করবেন, আর এর চেয়ে বেশি দিতে অস্বীকার করেছিলেন।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪১৩৪
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ وَهُوَ ابْنُ هَارُونَ قَالَ: أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ، قَالَ: كَتَبَ نَجْدَةُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنْ سَهْمِ ذِي الْقُرْبَى، لِمَنْ هُوَ؟ - قَالَ يَزِيدُ بْنُ هُرْمُزَ: وَأَنَا كَتَبْتُ كِتَابَ ابْنِ عَبَّاسٍ إِلَى نَجْدَةَ - كَتَبْتُ إِلَيْهِ، «كَتَبْتَ تَسْأَلُنِي عَنْ سَهْمِ ذِي الْقُرْبَى لِمَنْ هُوَ، وَهُوَ لَنَا أَهْلَ الْبَيْتِ، وَقَدْ كَانَ عُمَرُ دَعَانَا إِلَى أَنْ يُنْكِحَ مِنْهُ أَيِّمَنَا، وَيُحْذِيَ مِنْهُ عَائِلَنَا، وَيَقْضِيَ مِنْهُ عَنْ غَارِمِنَا، فَأَبَيْنَا إِلَّا أَنْ يُسَلِّمَهُ لَنَا وَأَبَى ذَلِكَ فَتَرَكْنَاهُ عَلَيْهِ»
বর্ণনাকারী ইয়াযীদ ইব্ন হুরমুয (রাঃ)
নাজদা ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে লিখেন যে, নিকটাত্মীয়দের অংশ কে কে পাবে? ইয়াজিদ ইবন হুরমুজ (রাঃ) বলেন: আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর চিঠিটি নাজদাকে জবাবস্বরূপ লিখলাম:তুমি আমার কাছে জানতে চেয়েছ নিকটাত্মীয়দের অংশ কারা পাবে, আর তা হলো আমাদের আহলে বাইতের জন্য।উমর (রাঃ) আমাদেরকে বলেছিলেন যে, তিনি এর দ্বারা আমাদের মধ্যে যাদের বিবাহ হয়নি, তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করবেন, আমাদের মাঝে যারা গরীব, তাদের সহযোগিতা করবেন এবং আমাদের মাঝে যারা ঋণগ্রস্ত তাদের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন। আমরা তাতে অসম্মতি জানাই এবং তা আমাদের কাছেই সোপর্দ করতে আহ্বান করি। কিন্তু তিনি তা দিতে অস্বীকার করলেন। শেষে আমরা তা তাঁর ওপর ন্যস্ত করি।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪১৩৫
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنَا مَحْبُوبٌ يَعْنِي ابْنَ مُوسَى قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَاقَ وَهُوَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ: كَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْوَلِيدِ كِتَابًا فِيهِ: «وَقَسْمُ أَبِيكَ لَكَ الْخُمُسُ كُلُّهُ، وَإِنَّمَا سَهْمُ أَبِيكَ كَسَهْمِ رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، وَفِيهِ حَقُّ اللَّهِ، وَحَقُّ الرَّسُولِ، وَذِي الْقُرْبَى، وَالْيَتَامَى، وَالْمَسَاكِينِ، وَابْنِ السَّبِيلِ، فَمَا أَكْثَرَ خُصَمَاءَ أَبِيكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَكَيْفَ يَنْجُو مَنْ كَثُرَتْ خُصَمَاؤُهُ، وَإِظْهَارُكَ الْمَعَازِفَ، وَالْمِزْمَارَ بِدْعَةٌ فِي الْإِسْلَامِ، وَلَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَبْعَثَ إِلَيْكَ مَنْ يَجُزُّ جُمَّتَكَ جُمَّةَ السُّوءِ»
বর্ণনাকারী আওযাঈ (রহঃ)
উমর ইবন আবদুল আজিজ (রহঃ) উমর ইবন ওয়ালিদকে চিঠি লিখলেন তাতে উল্লেখ ছিল যে, তোমার পিতার বণ্টন এরূপ ছিল যে, খুমুসের অংশ সম্পূর্ণ তোমার। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তোমার পিতার যে অংশ রয়েছে তা একজন মুসলিম ব্যক্তির অংশের সমান ছিল। আর তাতে আল্লাহর এবং রাসূল (ﷺ)-এর, নিকটাত্মীয়দের, ইয়াতিমদের, মিসকিনদের এবং মুসাফিরের হক ছিল, যে কারণে কেয়ামতের দিন তোমার পিতার কাছে অধিকহারে দাবিদার উপস্থিত হবে? আর যার বিরুদ্ধে এত অধিক দাবিদার হবে, তার মুক্তি কিভাবে সম্ভব হবে। আর তুমি যে বাদ্যযন্ত্র ও সে তার বের করেছ, ইসলামে তা তো বিদআত। আমি চিন্তা করেছি তোমার নিকট একজন লোক পাঠাব, যে তোমার মাথার লম্বা চুলগুলো নিকৃষ্টভাবে কেটে দেবে।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪১৩৬
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، أَنَّ جُبَيْرَ بْنَ مُطْعِمٍ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ جَاءَ هُوَ وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَلِّمَانِهِ فِيمَا قَسَمَ مِنْ خُمُسِ حُنَيْنٍ، بَيْنَ بَنِي هَاشِمٍ، وَبَنِي الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ فَقَالَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَسَمْتَ لِإِخْوَانِنَا بَنِي الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ، وَلَمْ تُعْطِنَا شَيْئًا، وَقَرَابَتُنَا مِثْلُ قَرَابَتِهِمْ، فَقَالَ لَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا أَرَى هَاشِمًا وَالْمُطَّلِبَ شَيْئًا وَاحِدًا» قَالَ جُبَيْرُ بْنُ مُطْعِمٍ: «وَلَمْ يَقْسِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِبَنِي عَبْدِ شَمْسٍ، وَلَا لِبَنِي نَوْفَلٍ مِنْ ذَلِكَ الْخُمُسِ شَيْئًا، كَمَا قَسَمَ لِبَنِي هَاشِمٍ، وَبَنِي الْمُطَّلِبِ»
বর্ণনাকারী জুবায়র ইব্ন মুত‘ইম (রাঃ)
তিনি এবং উসমান (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে হুনায়নের সম্পদের বিষয়ে বললেন, যা তিনি বানু হাশিম এবং বানু মুত্তালিব-এর মাঝে ভাগ-বণ্টন করেছিলেন। তারা দুজন বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাদের ভাই বানু মুত্তালিব-কে দান করলেন এবং আমাদেরকে কিছুই দিলেন না। অথচ তারা যেমন আপনার নিকটাত্মীয় আমরাও তো আপনার সে রকম নিকটাত্মীয়?তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেন: আমি তো বানু হাশিম ও বানু মুত্তালিব-কে একই মনে করি।জুবাইর ইবন মুতইম (রাঃ) বলেন: রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বানু আব্দ শামস ও বানু নওফাল-কে ঐ খুমুস থেকে কিছুই দান করলেন না, যেমন তিনি বানু হাশিম এবং মুত্তালিব-কে দান করলেন।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪১৩৭
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ قَالَ: أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ قَالَ: لَمَّا قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَهْمَ ذِي الْقُرْبَى بَيْنَ بَنِي هَاشِمٍ، وَبَنِي الْمُطَّلِبِ أَتَيْتُهُ أَنَا وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَؤُلَاءِ بَنُو هَاشِمٍ لَا نُنْكِرُ فَضْلَهُمْ لِمَكَانِكَ الَّذِي جَعَلَكَ اللَّهُ بِهِ مِنْهُمْ، أَرَأَيْتَ بَنِي الْمُطَّلِبِ أَعْطَيْتَهُمْ، وَمَنَعْتَنَا، فَإِنَّمَا نَحْنُ وَهُمْ مِنْكَ بِمَنْزِلَةٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهُمْ لَمْ يُفَارِقُونِي فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلَا إِسْلَامٍ، إِنَّمَا بَنُو هَاشِمٍ، وَبَنُو الْمُطَّلِبِ شَيْءٌ وَاحِدٌ»، وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ
বর্ণনাকারী জুবায়র ইব্ন মুত‘ইম (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নিকটাত্মীয়দের অংশ বানু হাশিম এবং বানু মুত্তালিব-এর মধ্যে ভাগ-বণ্টন করলেন তখন আমি ও উসমান ইবন আফফান তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ) এরা হলো বানু হাশিম, আল্লাহ তা’আলা তাদের সাথে আপনার যে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন, সে কারণে তাদের মর্যাদা আমরা অস্বীকার করি না। কিন্তু আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে, আপনি বানু মুত্তালিব-কে দান করলেন এবং আমাদেরকে কিছুই দান করলেন না। অথচ আমরা ও তারা আপনার সমপর্যায়ের আত্মীয়।তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তারা জাহিলিয়্যাত এবং ইসলামে আমাকে ত্যাগ করেনি। আমি তো বানু হাশিম ও বানু মুত্তালিব-কে একই রকম মনে করি- এই বলে তিনি (ﷺ) স্বীয় এক হাতের আঙুলসমূহ অন্য হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ করালেন।
অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কার জীবনে বনূ আবদুল মুত্তালিব ইসলাম গ্রহণ না করলেও কখনও তারা তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেনি; বরং বনূ হাশিমের মত তারাও তাঁর পাশে থেকেছে। এমনকি আবূ তালিব উপত্যকার অন্তরীণ জীবনেও তারা কুরায়শের বিরুদ্ধে এসে স্বেচ্ছায় তাঁর সঙ্গে অন্তরীণ জীবন যাপন করেছে। পক্ষান্তরে বনূ আব্দ শাম্স ও বনূ নাওফালের আচরণ ছিল এর বিপরীত, যদিও তারাও বনূ হাশিম ও বনূ আবদুল মুত্তালিবের মত আব্দ মানাফের বংশধর এবং মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সমপর্যায়ের আত্মীয়। মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের এই অবস্থানগত পার্থক্যের দিকেই ইশারা করেছেন।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪১৩৮
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ قَالَ: حَدَّثَنَا مَحْبُوبٌ يَعْنِي ابْنَ مُوسَى قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَاقَ وَهُوَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ أَبِي سَلَّامٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ حُنَيْنٍ وَبَرَةً مِنْ جَنْبِ بَعِيرٍ، فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّهُ لَا يَحِلُّ لِي مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ قَدْرُ هَذِهِ إِلَّا الْخُمُسُ، وَالْخُمُسُ مَرْدُودٌ عَلَيْكُمْ» قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ: " اسْمُ أَبِي سَلَّامٍ: مَمْطُورٌ، وَهُوَ حَبَشِيٌّ، وَاسْمُ أَبِي أُمَامَةَ: صُدَيُّ بْنُ عَجْلَانَ، وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ "
বর্ণনাকারী উবাদা ইব্ন সাবিত (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুনায়নের দিন একটি উটের পার্শ্বদেশ থেকে কিছু পশম নিয়ে বললেন, “হে লোক সকল! আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে যে গনীমত দিয়েছেন, তা থেকে খুমুস ছাড়া ঐ পশম পরিমাণ নেয়াও আমার জন্য হালাল নয়, আর খুমুসও তোমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেয়া হয়।”আবু আবদুর রহমান [ইমাম নাসাঈ] (রহঃ) বলেন: আবু সাল্লামের আসল নাম হল মামতুর, তিনি হলেন আবিসিনিয়ার অধিবাসী। আর আবু উমামার নাম হল সুদাই ইবনু আজলান। আল্লাহ সম্যক অবগত।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪১৩৯
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَزِيدَ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَى بَعِيرًا فَأَخَذَ مِنْ سَنَامِهِ وَبَرَةً بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّهُ لَيْسَ لِي مِنَ الْفَيْءِ شَيْءٌ وَلَا هَذِهِ إِلَّا الْخُمُسُ، وَالْخُمُسُ مَرْدُودٌ فِيكُمْ»
বর্ণনাকারী আমর ইব্ন শুআয়ব (রাঃ)
আমর ইবন শু‘আইব (রাঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি উটের কাছে এসে তার কুঁজ হতে একটি পশম তাঁর দুই আঙুলের মাঝে রেখে বললেন: যুদ্ধলব্ধ মালের এক-পঞ্চমাংশ ছাড়া আমার জন্য এই চুলের সমপরিমাণ অংশও নেই। আর আমার এক-পঞ্চমাংশও তোমাদের মধ্যে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪১৪০
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ دِينَارٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، عَنْ عُمَرَ قَالَ: «كَانَتْ أَمْوَالُ بَنِي النَّضِيرِ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِمَّا لَمْ يُوجِفِ الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِ بِخَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ، فَكَانَ» يُنْفِقُ عَلَى نَفْسِهِ مِنْهَا قُوتَ سَنَةٍ، وَمَا بَقِيَ جَعَلَهُ فِي الْكُرَاعِ وَالسِّلَاحِ عُدَّةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ "
বর্ণনাকারী উমর (রাঃ)
আল্লাহ তাআলা বনু নযীর-এর সম্পদ তাঁর রসূল (ﷺ)-কে ফায় (বিনা যুদ্ধলব্ধ মাল) হিসেবে দান করেছেন। মুসলিমরা তা অর্জনের জন্য ঘোড়াও হাকায়নি এবং উটও নয়। তিনি (ﷺ) তা থেকে এক বছরের খরচ নিজের জন্য রাখতেন এবং বাকি মাল যুদ্ধের ঘোড়া, অস্ত্র এবং জিহাদের উপকরণ ক্রয়ের জন্য ব্যয় করতেন।
অমুসলিমদের যে সম্পদ বিনাযুদ্ধে মুসলিমদের হাতে আসে তাকে ‘ফায়’ বলে।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪১৪১
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ قَالَ: حَدَّثَنَا مَحْبُوبٌ يَعْنِي ابْنَ مُوسَى قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَاقَ هُوَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ فَاطِمَةَ أَرْسَلَتْ إِلَى أَبِي بَكْرٍ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ صَدَقَتِهِ، وَمِمَّا تَرَكَ مِنْ خُمُسِ خَيْبَرَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا نُورَثُ»
বর্ণনাকারী আয়েশা (রাঃ)
ফাতিমা (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট তাঁর মীরাস চাওয়ার জন্য এক ব্যক্তিকে পাঠান, যা রসূলুল্লাহ (ﷺ) সদকা এবং খায়বারের খুমুস থেকে রেখে যান। আবু বকর (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কেউ আমাদের ওয়ারিস হয় না।
সুনানে নাসাঈ
হাদিস নং ৪১৪২
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنَا مَحْبُوبٌ قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ: {وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى} [الأنفال: 41] قَالَ: خُمُسُ اللَّهِ وَخُمُسُ رَسُولِهِ وَاحِدٌ، «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْمِلُ مِنْهُ، وَيُعْطِي مِنْهُ، وَيَضَعُهُ حَيْثُ شَاءَ، وَيَصْنَعُ بِهِ مَا شَاءَ»---[حكم الألباني] صحيح الإسناد مرسل
বর্ণনাকারী আতা (রাঃ)
মহান ও মহীয়ান আল্লাহ তা'আলা বলেন: জেনে রাখ যে, তোমরা যুদ্ধে যা লাভ কর, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর, আর তাঁর নিকটাত্মীয়দের জন্য। এখানে আল্লাহর এক-পঞ্চমাংশ এবং রাসূল (ﷺ) এর এক-পঞ্চমাংশ একীভূত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা থেকে লোকেদের যানবাহনের ব্যবস্থা করতেন, মানুষদের দান করতেন। যেখানে ইচ্ছা প্রয়োজনে খরচ করতেন এবং তা দ্বারা তিনি যা ইচ্ছা তাই করতেন।