আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
এই সুন্দর ইসলামিক বাক্যের অর্থ, উচ্চারণ এবং ব্যবহার।
আস-সা-লা-মু আ-লাই-কুম ওয়া-রাহ-মা-তুল-লা-হি ওয়া-বা-রা-কা-তুহ
- আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত এবং তাঁর বরকত বর্ষিত হোক
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ এর অর্থ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ হলো বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ব্যবহৃত একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি অভিবাদন বা সালাম। আরবিতে এর অর্থ হলো, আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত এবং তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। এটি কেবল একটি সাধারণ সম্ভাষণ নয়, বরং এটি একটি সুন্দর দোয়া। যখন কোনো মুসলমান এই সালাম দেন, তখন তিনি মূলত অন্য ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি, রহমত এবং বরকত কামনা করেন।
এই বাক্যটি শুরু হয় আসসালামু আলাইকুম দিয়ে, যার অর্থ হলো আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এরপর যুক্ত করা হয় ওয়া রাহমাতুল্লাহি, যার অর্থ এবং আল্লাহর রহমত। সবশেষে যুক্ত হয় ওয়া বারাকাতুহ, যার অর্থ এবং তাঁর বরকত। তাই এই সম্পূর্ণ সালামটির মাধ্যমে অন্যের মঙ্গলের জন্য একটি আন্তরিক ও পূর্ণাঙ্গ দোয়া করা হয়।
এই বাক্যটি শুরু হয় আসসালামু আলাইকুম দিয়ে, যার অর্থ হলো আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এরপর যুক্ত করা হয় ওয়া রাহমাতুল্লাহি, যার অর্থ এবং আল্লাহর রহমত। সবশেষে যুক্ত হয় ওয়া বারাকাতুহ, যার অর্থ এবং তাঁর বরকত। তাই এই সম্পূর্ণ সালামটির মাধ্যমে অন্যের মঙ্গলের জন্য একটি আন্তরিক ও পূর্ণাঙ্গ দোয়া করা হয়।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ এর সঠিক উচ্চারণ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ উচ্চারণ করার একটি সহজ উপায় হলো:
আস-সা-লা-মু আ-লাই-কুম ওয়া-রাহ-মা-তুল-লা-হি ওয়া-বা-রা-কা-তুহ
শব্দটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে উচ্চারণ করতে পারেন:
1. আস-সা-লা-মু: এটি আস-সা-লা-মু এর মতো উচ্চারণ করুন। লা শব্দটি একটু টেনে পড়ুন।
2. আ-লাই-কুম: এটি আ-লাই-কুম এর মতো উচ্চারণ করুন।
3. ওয়া-রাহ-মা-তুল-লা-হি: এটি ধীরে ধীরে ওয়া-রাহ-মা-তুল-লা-হি হিসেবে উচ্চারণ করুন।
4. ওয়া-বা-রা-কা-তুহ: এটি ওয়া-বা-রা-কা-তুহ হিসেবে উচ্চারণ করুন এবং কা অংশটি সামান্য টেনে পড়ুন।
যারা আরবি ভাষাভাষী নন, তাদের জন্য সেরা পরামর্শ হলো প্রথমে ধীরে ধীরে উচ্চারণ করা। তাড়াহুড়ো করে পুরো বাক্যটি একসাথে পড়ার দরকার নেই। অনুশীলনের মাধ্যমে এটি খুব সহজ এবং স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
আস-সা-লা-মু আ-লাই-কুম ওয়া-রাহ-মা-তুল-লা-হি ওয়া-বা-রা-কা-তুহ
শব্দটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে উচ্চারণ করতে পারেন:
1. আস-সা-লা-মু: এটি আস-সা-লা-মু এর মতো উচ্চারণ করুন। লা শব্দটি একটু টেনে পড়ুন।
2. আ-লাই-কুম: এটি আ-লাই-কুম এর মতো উচ্চারণ করুন।
3. ওয়া-রাহ-মা-তুল-লা-হি: এটি ধীরে ধীরে ওয়া-রাহ-মা-তুল-লা-হি হিসেবে উচ্চারণ করুন।
4. ওয়া-বা-রা-কা-তুহ: এটি ওয়া-বা-রা-কা-তুহ হিসেবে উচ্চারণ করুন এবং কা অংশটি সামান্য টেনে পড়ুন।
যারা আরবি ভাষাভাষী নন, তাদের জন্য সেরা পরামর্শ হলো প্রথমে ধীরে ধীরে উচ্চারণ করা। তাড়াহুড়ো করে পুরো বাক্যটি একসাথে পড়ার দরকার নেই। অনুশীলনের মাধ্যমে এটি খুব সহজ এবং স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
কখন আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ বলতে হয়? প্রেক্ষাপট ও ব্যবহার
মুসলমানরা একে অপরের সাথে দেখা হলে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ বলে অভিবাদন জানান। কারও সাথে দেখা হলে, ঘরে প্রবেশ করার সময়, মেসেজ বা বার্তা শুরু করতে, কোনো বক্তব্য শুরু করার আগে বা কোনো মজলিসে যোগ দেওয়ার সময় এই সালাম দেওয়া যায়। এটি আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উভয় পরিবেশেই মানানসই।
সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে সালাম দেওয়া হয়:
1. কারও সাথে দেখা হলে: কোনো মুসলিম বন্ধু, পরিবারের সদস্য, শিক্ষক বা অতিথির সাথে দেখা হলে আপনি আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ বলতে পারেন।
2. ঘরে প্রবেশ করার সময়: নিজের বা অন্যের ঘরে প্রবেশ করার সময় সালাম দেওয়া একটি উত্তম শিষ্টাচার।
3. বক্তব্য বা ক্লাস শুরু করার সময়: অনেক মুসলমান ইসলামি আলোচনা, পাঠদান এবং সমাবেশ এই সালামের মাধ্যমে শুরু করেন।
4. মেসেজ বা ইমেইল লেখার সময়: সম্মানজনক কোনো ইসলামি বার্তা বা চিঠি আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ দিয়ে শুরু করতে পারেন।
5. কাউকে কল করার সময়: ফোন কলের শুরুতে সালাম দেওয়াও একটি প্রচলিত এবং সুন্দর সুন্নাত।
এর উত্তরে সাধারণত বলা হয় ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, যার অর্থ হলো, এবং আপনার ওপরও শান্তি, আল্লাহর রহমত এবং তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।
সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে সালাম দেওয়া হয়:
1. কারও সাথে দেখা হলে: কোনো মুসলিম বন্ধু, পরিবারের সদস্য, শিক্ষক বা অতিথির সাথে দেখা হলে আপনি আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ বলতে পারেন।
2. ঘরে প্রবেশ করার সময়: নিজের বা অন্যের ঘরে প্রবেশ করার সময় সালাম দেওয়া একটি উত্তম শিষ্টাচার।
3. বক্তব্য বা ক্লাস শুরু করার সময়: অনেক মুসলমান ইসলামি আলোচনা, পাঠদান এবং সমাবেশ এই সালামের মাধ্যমে শুরু করেন।
4. মেসেজ বা ইমেইল লেখার সময়: সম্মানজনক কোনো ইসলামি বার্তা বা চিঠি আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ দিয়ে শুরু করতে পারেন।
5. কাউকে কল করার সময়: ফোন কলের শুরুতে সালাম দেওয়াও একটি প্রচলিত এবং সুন্দর সুন্নাত।
এর উত্তরে সাধারণত বলা হয় ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, যার অর্থ হলো, এবং আপনার ওপরও শান্তি, আল্লাহর রহমত এবং তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ এর ফজিলত ও গুরুত্ব
ইসলামে সালামের একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্থান রয়েছে। এটি মুসলমানদের মধ্যে ভালোবাসা, নিরাপত্তা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: আর যখন তোমাদেরকে সালাম দেওয়া হবে, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম সালাম ফেরাবে অথবা তার সমপরিমাণ জবাব দেবে। রেফারেন্স: সূরা আন নিসা ৪:৮৬।
এই আয়াতটি মুসলমানদের শিক্ষা দেয় যে, কেউ সালাম দিলে তার সমান বা তার চেয়ে উত্তম শব্দে উত্তর দেওয়া উচিত। তাই কেউ যদি আসসালামু আলাইকুম বলে, তবে এর উত্তরে ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বা পূর্ণাঙ্গরূপে ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ বলা উত্তম।
নবী মুহাম্মদ (সা.) মুসলমানদের মধ্যে সালাম ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন যে, তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর একে অপরকে ভালো না বাসা পর্যন্ত তোমরা প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না। এরপর তিনি ভালোবাসা বৃদ্ধির একটি উপায় শিখিয়ে বলেছেন: নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও। রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম ৫৪।
সালামে বেশি শব্দ যুক্ত করার সওয়াব সম্পর্কেও হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। এক ব্যক্তি এসে আসসালামু আলাইকুম বললে নবী (সা.) বলেন সে দশটি নেকি পেয়েছে। অন্য একজন এসে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বললে তিনি বলেন সে বিশটি নেকি পেয়েছে। এরপর আরেকজন এসে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ বললে তিনি বলেন সে ত্রিশটি নেকি পেয়েছে। রেফারেন্স: সুনানে আবু দাউদ ৫১৯৫, যা অনেক আলেম কর্তৃক সহিহ হিসেবে স্বীকৃত।
এই রেফারেন্সগুলো প্রমাণ করে যে সালাম কেবল একটি সাধারণ অভিবাদন নয়। এটি একটি ইবাদত, একটি দোয়া এবং হৃদয়কে আরও কাছাকাছি আনার একটি সুন্দর মাধ্যম।
এই আয়াতটি মুসলমানদের শিক্ষা দেয় যে, কেউ সালাম দিলে তার সমান বা তার চেয়ে উত্তম শব্দে উত্তর দেওয়া উচিত। তাই কেউ যদি আসসালামু আলাইকুম বলে, তবে এর উত্তরে ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বা পূর্ণাঙ্গরূপে ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ বলা উত্তম।
নবী মুহাম্মদ (সা.) মুসলমানদের মধ্যে সালাম ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন যে, তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর একে অপরকে ভালো না বাসা পর্যন্ত তোমরা প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না। এরপর তিনি ভালোবাসা বৃদ্ধির একটি উপায় শিখিয়ে বলেছেন: নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও। রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম ৫৪।
সালামে বেশি শব্দ যুক্ত করার সওয়াব সম্পর্কেও হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। এক ব্যক্তি এসে আসসালামু আলাইকুম বললে নবী (সা.) বলেন সে দশটি নেকি পেয়েছে। অন্য একজন এসে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বললে তিনি বলেন সে বিশটি নেকি পেয়েছে। এরপর আরেকজন এসে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ বললে তিনি বলেন সে ত্রিশটি নেকি পেয়েছে। রেফারেন্স: সুনানে আবু দাউদ ৫১৯৫, যা অনেক আলেম কর্তৃক সহিহ হিসেবে স্বীকৃত।
এই রেফারেন্সগুলো প্রমাণ করে যে সালাম কেবল একটি সাধারণ অভিবাদন নয়। এটি একটি ইবাদত, একটি দোয়া এবং হৃদয়কে আরও কাছাকাছি আনার একটি সুন্দর মাধ্যম।
সম্পর্কিত পরিভাষা এবং অন্যান্য রূপ
এই সালামের বেশ কয়েকটি প্রচলিত রূপ এবং বানান রয়েছে। যদিও বাংলা বা ইংরেজিতে লেখার কারণে বানান কিছুটা আলাদা হতে পারে, তবে এর মূল অর্থ একই থাকে।
1. আসসালামু আলাইকুম: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এটি সবচেয়ে ছোট এবং সর্বাধিক ব্যবহৃত রূপ।
2. আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ: আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
3. আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ: আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত এবং তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। এটি সালামের পূর্ণাঙ্গ রূপ।
4. ওয়া আলাইকুমুস সালাম: এবং আপনার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক। এটি সালামের সাধারণ উত্তর।
5. ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ: এবং আপনার ওপরও শান্তি, আল্লাহর রহমত এবং তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। এটি সালামের পূর্ণাঙ্গ উত্তর।
ইংরেজিতে এটি Assalamualaikum, As-salamu alaykum ইত্যাদি বানানে লেখা হলেও, আরবি মূল শব্দটিই সবচেয়ে নির্ভুল ও সঠিক।
1. আসসালামু আলাইকুম: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এটি সবচেয়ে ছোট এবং সর্বাধিক ব্যবহৃত রূপ।
2. আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ: আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
3. আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ: আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত এবং তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। এটি সালামের পূর্ণাঙ্গ রূপ।
4. ওয়া আলাইকুমুস সালাম: এবং আপনার ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক। এটি সালামের সাধারণ উত্তর।
5. ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ: এবং আপনার ওপরও শান্তি, আল্লাহর রহমত এবং তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। এটি সালামের পূর্ণাঙ্গ উত্তর।
ইংরেজিতে এটি Assalamualaikum, As-salamu alaykum ইত্যাদি বানানে লেখা হলেও, আরবি মূল শব্দটিই সবচেয়ে নির্ভুল ও সঠিক।