আকীদাহ-বিশ্বাস
যাদের কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে প্রেরণ করা হয়েছিল, তাদের শির্ক কি ধরণের ছিল ?
০ বার পড়া হয়েছে৩ মিনিটে পড়ুন
উত্তরদাতা আলেম
যাদের নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে প্রেরণ করা হয়েছিল, তারা তাওহীদে রুব্বীয়াতে আল্লাহর সাথে কাউকে শির্ক করত না। কুরআনে কারীমের ভাষ্য অনুযায়ী জানা যায় যে, তারা কেবলমাত্র তাওহীদে উলুহীয়াতে আল্লাহর সাথে শির্ক করত। রুব্বীয়াতের ক্ষেত্রে তাদের বিশ্বাস ছিল যে, আল্লাহই একমাত্র রব বা পালনকর্তা। তিনি অসহায়ের ডাকে সাড়া প্রদানকারী এবং বিপদাপদ দূরকারী। কিন্তু তারা এবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করত। এ ধরণের শির্ক মুসলিমকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। কেননা তাওহীদের অর্থ হল আল্লাহকে এবাদতের ক্ষেত্রে একক করা। আল্লাহর জন্য কতিপয় নির্দিষ্ট হক রয়েছে, যা একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করা ওয়াজিব। এই হকগুলো তিন প্রকারঃ ১) মালিকানার অধিকার ২) এবাদত পাওয়ার অধিকার ৩) নাম ও গুণাবলীর অধিকার। এই জন্যই উলামাগণ তাওহীদকে তিনভাগে বিভক্ত করেছেন। তাওহীদুর রুব্বীয়া, তাওহীদুল আসমা ওয়াস্ সিফাত এবং তাওহীদুল উলুহীয়া। মুশরিকরা শেষ প্রকারের তাওহীদে আল্লাহর সাথে শরীক করত, আল্লাহর সাথে অন্যকে অংশীদার সাব্যস্ত করত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ﴿وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا﴾ “তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না।” (সূরা নিসাঃ ৩৬) আল্লাহ তাআলা বলেন, ﴿إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ﴾ “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন, তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম এবং যালেমদের জন্য কোন সাহায্যকারী থাকবে না।” (সূরা মায়িদাঃ ৭২) আল্লাহ আরো বলেন, ﴿إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ﴾ “নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিক করাকে ক্ষমা করেন না। তবে এর চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের গুনাহ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করে দেন।” (সূরা নিসাঃ ৪৮) আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ﴿وَقَالَ رَبُّكُمْ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ﴾ “এবং তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। নিশ্চয়ই যারা আমার এবাদত করতে অহংকার করবে, তারা অচিরেই অপমানিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (সূরা গাফেরঃ ৬০) আল্লাহ তাআলা সূরা কাফিরুনে বলেন, ﴿قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَا عَبَدْتُمْ وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ﴾ “বল হে কাফিররা! আমি তার এবাদত করি না, যার এবাদত তোমরা কর, এবং তোমরাও তার এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি এবং আমি এবাদতকারী নই তার, যার এবাদত তোমরা করে আসছ।” (সূরা কাফেরনঃ ১-৫) আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মূলনীতি কি?