কথোপকথনের বৈধাবৈধ
অনেক মানুষকে সত্যের দিশা দিতে গেলে বাপ-দাদার দোহাই দেয়। অনেকে কোন বড় আলেম বা নেতার দোহাই দেয়। এমন দোহাই দিয়ে সত্য প্রত্যাখ্যান করা কি উচিত?
০ বার পড়া হয়েছে৩ মিনিটে পড়ুন
উত্তরদাতা আলেম
অবশ্যই না। প্রত্যেকের বাপ-দাদা নিজের কাছে শ্রদ্ধেয়। কিন্তু প্রত্যেকের বাপ-দাদা যে হকপন্থী, তার নিশ্চয়তা কোথায়? হকের মাপকাঠি কোন ব্যক্তিত্ব নয়, হকের মাপকাঠি হল কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ। বাপ-দাদার দোহাই দিয়ে হক প্রত্যাখ্যান করার রোগ বহু পুরাতন। কুরআন মাজীদে বহু জায়গায় সে কথা উল্লিখিত হয়েছে। মহান আল্লাহ দাদুপন্থীদের ব্যাপারে বলেছেন, {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءُنَا أَوْ لَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَفْقَهُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ} (১৭০) سورة البقرة অর্থাৎ, আর যখন তাদের বলা হয়, ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তার তোমরা অনুসরণ করা।’ তারা বলে, ‘(না-না) বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যাতে (মতামত ও ধর্মাদর্শে) পেয়েছি, তার অনুসরণ করবা’ যদিও তাদের পিতৃপুরুষগণ কিছুই বুঝত না এবং তারা সং পথেও ছিল না। (বাক্বারাহঃ ১৭০) {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَىٰ مَا أَنزَلَ اللَّهُ وَإِلَىٰ الرَّسُولِ قَالُوا حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوْ لَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ} (১০৪) سورة المائدة অর্থাৎ, আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে ও রসুলের দিকে এসো’, তখন তারা বলে, ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যাতে পেয়েছি, তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।’ যদিও তাদের পূর্বপুরুষগণ কিছুই জানত না এবং সংপথপ্রাপ্তও ছিল না, তবুও? (মায়িদাহঃ ১০৪) {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ أَتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوْ لَوْ كَانَ الشَّيْطَانُ يَدْعُوهُمْ إِلَىٰ عَذَابِ السَّعِيرِ} (২১) سورة لقمان অর্থাৎ, যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তোমরা তার অনুসরণ কর’, তখন তারা বলে, ‘আমাদের বাপ-দাদাকে যাতে পেয়েছি, আমরা তো তাই মেনে চলবা।’ যদিও শয়তান তাদেরকে দোষখ-যন্ত্রণার দিকে আহ্বান করে (তবুও কি তারা বাপ-দাদারই অনুসরণ করবে)? (লুক্মানঃ ২১) {بَلْ قَالُوا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَىٰ أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَىٰ آثَارِهِم مُّهُتَدُونَ} (২২) وَكَذَلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ فِي قَرْيَةٍ مِّن نَّذِيرٍ إِلَّا قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَىٰ أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَىٰ آثَارِهِم مُّقْتَدُونَ} (২৩) قَالَ أَوْ لَوْ جِئْتُكُم بِأَهْدَىٰ مِمَّا وَجَدْتُمْ عَلَيْهِ آبَاءَكُمْ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ} (২৪) فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ} (২৫) سورة الزخرف অর্থাৎ, বরং ওরা বলে, আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের অনুসারী পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ ক’রে পথপ্রাপ্ত। এভাবে, তোমার পূর্বে কোন জনপদে যখনই কোন সতর্ককারী প্রেরণ করেছি, তখনই ওদের মধ্যে যারা বিভ্রান্ত ছিল তারা বলত, ‘আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের অনুসারী পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।’ (প্রত্যেক সতর্ককারী) বলত, ‘তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষগণকে যার অনুসারী পেয়েছ, আমি যদি তোমাদের জন্য তা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট পথনির্দেশ আনয়ন করি, তবুও কি তোমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে?’ (প্রত্যুত্তরে) তারা বলত, ‘তোমরা যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছ, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।’ সুতরাং আমি ওদের নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম। অতএব দেখ, মিথ্যাচারীদের পরিণাম কি হয়েছে? (যুখরুফঃ ২২-২৫)