নামায
বেহুঁশ এবং স্মৃতি শক্তিহীন ব্যক্তির জন্য শরীয়তের বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করা কি আবশ্যিক ?
০ বার পড়া হয়েছে৩ মিনিটে পড়ুন
উত্তরদাতা আলেম
আল্লাহ তা‘আলা মানুষের উপর আবশ্যিক করেছেন যাবতীয় ইবাদত বাস্তবায়ন করা-যদি তার মধ্যে সে যোগ্যতা ও ক্ষমতা থাকে। যেমন সে বিবেক সম্পন্ন হবে। সবকিছু বুঝতে পারবে। কিন্তু যে লোক বিবেকশূণ্য, সে শরীয়তের বিধি-নিষেধ মেনে চলতে বাধ্য নয়। এ কারণে পাগল, শিশু বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক-বালিকার উপর কোন বাধ্যবাধকতাও নেই। এটা আল্লাহর বিশেষ রহমত। অনুরূপ হচ্ছে আধাপাগল-যার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে কিন্তু পুরোপুরি পাগল হয়নি এবং অতি বয়স্ক হওয়ার কারণে হিতাহীত জ্ঞানশূণ্য ব্যক্তির উপরও নামায-রোযা আবশ্যিক নয়। কেননা সে তো স্মৃতি শক্তিহীন মানুষ। সে ঐ শিশুর মত যার মধ্যে ভাল-মন্দ পার্থক্য করার ক্ষমতা নেই। সুতরাং সমস্ত বিধি-বিধান তার উপর থেকে রহিত, কোন কিছুই তার উপর আবশ্যিক নয়। তবে সম্পদের যাকাত সম্পর্কিত বাধ্যবাধকতা তার উপর বজায় থাকবে। কেননা যাকাতের সম্পর্ক সম্পদের সাথে। তখন ঐ ব্যক্তির অভিভাবক তার পক্ষ থেকে যাকাতের অংশ বের করে দিবেন। কেননা যাকাত ওয়াজিব হয় সম্পদের উপর। এজন্য আল্লাহ বলেন, ﴿خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ﴾ “তাদের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ করুন। উহা তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে।” (সূরা তওবা-১০৩) এখানে আল্লাহ পাক তাদের সম্পদ থেকে যাকাত নিতে বলেছেন, ব্যক্তি থেকে যাকাত নিতে বলেননি। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মু‘আযকে ইয়ামানে প্রেরণ করেন তাকে বলেন, ﴿أَعْلِمُهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ﴾ “তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ তাদের সম্পদে ছাদকা বা যাকাত ফরয করেছেন। তা ধনীদেব থেকে নিয়ে গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হবে।” (বুখারী ও মুসলিম) এ হাদীছের ভিত্তিতে সম্পদের আবশ্যিকতা স্মৃতিহীন লোকের উপর থেকে রহিত হবে না। কিন্তু শারীরিক ইবাদত যেমন ছালাত, রোযা, পবিত্রতা প্রভৃতি রহিত হয়ে যাবে। কেননা সে বিবেকহীন। কিন্তু অসুস্থতা প্রভৃতির কারণে বেহুঁশ হলে অধিকাংশ বিদ্যানের মতে তার উপর নামায আবশ্যিক হবে না। এ রকম অসুস্থ ব্যক্তি যদি একদিন বা দু’দিন বেহুঁশ থাকে তবে তাকে নামায কাযা আদায় করতে হবে না। কেননা বিবেকশূণ্য বেহুঁশ মানুষকে ঘুমন্ত ব্যক্তির সাথে তুলনা করা চলবে না। যার সম্পর্কে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, (إِذَا ذَكَرَهَا) “যে ব্যক্তি নামায আদায় করতে ভুলে যায় অথবা নামায না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে, তার কাফ্ফারা হচ্ছে যখনই স্মরণ হবে, তখনই সে তা আদায় করে নিবে।” ১ কেননা ঘুমন্ত ব্যক্তি হুঁশ সম্পন্ন এ অর্থে যে, তাকে জাগানো হলে জাগ্রত হবে। কিন্তু বেহুঁশকে জাগানো হলেও তার হুঁশ ফিরবে না। এ বিধান হচ্ছে ঐ অবস্থায়, যখন বেহুঁশী কোন কারণ ছাড়াই ঘটবে। কিন্তু কোন কারণ বশতঃ হলে যেমন সংজ্ঞা লোপ করার জন্য ঔষধ ব্যবহার করে, তবে উক্ত বেহুঁশ অবস্থার নামায সমূহ তাকে কাযা আদায় করতে হবে। দীর্ঘকাল সংজ্ঞাহীন থাকার কারণে নামায-রোযা আদায় করতে না পরলে তার হুকুম