অমুসলিমদের সাথে ব্যবহার
কাফেরদের কোন্ ধরনের আনুরূপ্য বা সাদৃশ্য গ্রহণে দোষ আছে?
০ বার পড়া হয়েছে২ মিনিটে পড়ুন
উত্তরদাতা আলেম
৬ : কাফেরদের বাহ্যিক বেশভূষা, পোশাক-পরিচ্ছদ, চাল-চলন ও পানাহারে যে কোন ধরনের সাদৃশ্য গ্রহণে দোষ আছে। যেহেতু শরীয়তের নির্দেশ এ ব্যাপারে ব্যাপক। নবী ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই দলভুক্ত।” (আবু দাউদ, ত্বাবারানীর আউসাতু, সহীহুল জামে’ ৬১৪৯নং) অবশ্য লক্ষণীয় যে, যে জিনিস বিজাতির প্রতীক, যে জিনিস দেখলে তাদেরকে বিজাতি বলে সহজে চিহ্নিত করা যায়, কেবল সেই জিনিসই সাদৃশ্য অবলম্বন নিষেধ। তাছাড়া যে জিনিস মুসলিম-অমুসলিমের মাঝে কোন পার্থক্য নির্ধারণ করে না, বরং সকলের মাঝে ব্যাপক, তাতে সাদৃশ্য অবলম্বনের প্রশ্নই থাকে না। যদিও সে জিনিস মূলতঃ কাফেরদের নিকট থেকে আগত সভ্যতা, কিন্তু ইসলামে তা হারাম নয় এবং জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সর্বসাধারণের মাঝে প্রচলিত হয়ে গেছে। (ইউ) বর্তমানে মেয়েদের সিদুর ও ছেলেদের টাই ব্যবহারে সাদৃশ্য গ্রহণের দোষ আছে। কিন্তু মেয়েদের শাড়ি ও ছেলেদের প্যান্ট ব্যবহারে সেই দোষ নেই। যদিও তা মুসলিমদের পোশাক নয়। আরো স্পষ্ট ক'রে বলা যায় যে, বিজাতির অনুকরণ ও সাদৃশ্য অবলম্বন ও শ্রেণীর কর্মে হতে পারে। প্রথমঃ ইবাদতে বা দ্বীনী বিষয়ে। দ্বিতীয়ঃ আচার-আচরণে। তৃতীয়ঃ পার্থিব আবিষ্কার ও শিল্প বিষয়ে। ইবাদতে বিজাতির অনুকরণ করা কোনক্রমেই বৈধ নয়। কারণ তাতে অনেক সময় মুসলিম ইসলাম থেকে খারিজও হয়ে যেতে পারে। আচার-আচরণ ও লেবাস-পোশাকেও বিজাতির অনুকরণ বৈধ নয়। কারণ তাতে তাদের প্রতি মুগ্ধতা ও আন্তরিক আকর্ষণ প্রকাশ পায়। আবিষ্কার ও শিল্প ক্ষেত্রে তাদের অনুকরণ ক'রে পার্থিব উন্নয়ন সাধন করা দোষাবহ নয়। এ অনুকরণ নিষিদ্ধ অনুকরণের পর্যায়ভুক্ত নয়।