আখলাক ও ব্যবহার
‘কিয়াম’ বৈধ কি?
০ বার পড়া হয়েছে২ মিনিটে পড়ুন
উত্তরদাতা আলেম
‘কিয়াম’ কয়েক প্রকারের। (ক) কারো তা’যীমের উদ্দেশ্যে কিয়াম করা, যেমন রাজা-বাদশাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা হয়। এমন কিয়াম বৈধ নয়। যেহেতু প্রিয় রসূল ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, লোক তার জন্য দন্ডায়মান হোক সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে ক’রে নেয়।” (মুসনাদে আহমাদ) (খ) আগন্তুকের সম্মানার্থে উঠে দাঁড়ানো। তাকে আগে বেড়ে আনার জন্য নয়, তাকে ধরে বসাবার জন্য নয়, তার সাথে মুসাফাহা-মুআনাক্বা করার জন্য নয়। সে প্রবেশ করলে অথবা প্রস্থান করলে তার তা’যীমের উদ্দেশ্যে খাড়া হওয়া অতঃপর বসে যাওয়া। এই শ্রেণীর ‘কিয়াম’ও হারাম না হলে মাকরুহ তো বটেই। যেহেতু আনাস রাসূল ﷺ বলেন, ‘তাদের (সাহাবাদের) নিকট রসূল ﷺ অপেক্ষা অন্য কেউই প্রিয়তম ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁরা যখন তাঁকে দেখতেন, তখন তাঁর জন্য উঠে দাঁড়াতেন না। যেহেতু তাঁরা জানতেন যে, তিনি তা অপছন্দ করেন।’ (তিরমিযী) (গ) আগন্তুককে আগে বেড়ে আনার জন্য, তাকে ধরে বসাবার জন্য, তার সাথে মুসাফাহা-মুআনাক্বা করার জন্য উঠে দাঁড়ানো সুন্নত। রসূল ﷺ-এর কন্যা ফাতেমা তাঁর নিকট এলে তিনি তাঁর প্রতি উঠে গিয়ে তাঁর হাত ধরতেন (মুসাফাহা করতেন), তাকে চুমা দিতেন এবং নিজের আসনে তাঁকে বসাতেন। তদনুরূপ তিনি ফাতেমার নিকট এলে তিনিও পিতার প্রতি উঠে গিয়ে তাঁর হাত ধরতেন (মুসাফাহা করতেন), তাকে চুমা দিতেন এবং নিজের আসনে তাঁকে বসাতেন। (আবু দাউদ ৫২ ১৭, তিরমিযী ৩৮-৭২নং) (খন্দকের যুদ্ধ শেষে) সা’দ রাসূল ﷺ আহত ছিলেন। ইয়াহুদীদের ব্যাপারে বিচার করার উদ্দেশ্যে রসূল ﷺ তাঁকে আহত করেন। তাই তিনি এক গর্দভের পৃষ্ঠে আরোহণ করে যখন তাঁর নিকট পৌঁছলেন তখন রসূল ﷺ আনসারকে লক্ষ্য ক’রে বললেন, “তোমরা তোমাদের সর্দারের প্রতি উঠ এবং ঠুঁকে নামাও।” সুতরাং (কিছু) সাহাবা উঠে গিয়ে তাঁকে গাধার পিঠ থেকে নামালেন। (আহমাদ, আবু দাউদ প্রমুখ, সিলসিলাহ সহীহাহ ৬৭নং) আর এক প্রকার ‘কিয়াম’ আছে, যা মীলাদীরা মীলাদ শেষে ক’রে থাকে। তা বিদআত।