আখলাক ও ব্যবহার
পিতামাতা মারা যাওয়ার পর তাদের আত্মার কল্যাণের জন্য কী কী করা যায়?
০ বার পড়া হয়েছে৩ মিনিটে পড়ুন
উত্তরদাতা আলেম
তাদের জন্য কাজ করা যায় :- ১। তাদের জন্য দুআ করা যায়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যখন কোন মানুষ মারা যায়, তখন তার কর্ম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি জিনিস নয়; (১) সাদকা জারিয়াহ, (২) যে বিদ্যা দ্বারা উপকার পাওয়া যায় অথবা (৩) নেক সন্তান, যে তার জন্য দুআ করে।” (মুসলিম) ২। দান-খায়রাত করা। এক ব্যক্তি নবী ﷺ-কে বলল, ‘আমার মা হঠাৎ মারা গেছে। আমার ধারণা যে, সে কথা বলার সুযোগ পেলে সাদকাহ করত। সুতরাং আমি যদি তার পক্ষ থেকে সাদকাহ করি, তাহলে কি সে নেকী পাবে?’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” (বুখারী ও মুসলিম) আল্লাহর রসূল ﷺ বলেছেন, “মুমিনের মৃত্যুর পর তার আমল ও পুণ্যকর্মসমূহ হতে নিশ্চিতভাবে যা এসে তার সাথে মিলিত হয়, তা হল; সেই ইল্ম, যা সে শিক্ষা ক’রে প্রচার করেছে অথবা নেক সন্তান, যাকে রেখে সে মারা গেছে, অথবা কুরআন শরীফ, যা সে মীরাসরূপে ছেড়ে গেছে, অথবা মসজিদ, যা সে নিজে নির্মাণ ক’রে গেছে, অথবা মুসাফিরখানা, যা সে মুসাফিরদের সুবিধার্থে নির্মাণ ক’রে গেছে, অথবা পানির নালা, যা সে (সেচ ইত্যাদির উদ্দেশ্যে) প্রবাহিত ক’রে গেছে, অথবা সাদকাহ, যা সে নিজের মাল থেকে তার সুস্থ ও জীবিতাবস্থায় বের (দান) ক’রে গেছে। এসব কর্মের সওয়াব তার মৃত্যুর পরও তার সাথে এসে মিলিত হবে।” (ইবনে মাজাহ, বাইহাকী, ইবনে খুজাইমাহ ভিন্ন শব্দে, সহীহ তারগীব ১০৭নং) ৩। হজ্জ-উমরাহ করা। আব্দুল্লাহ বিন আমর বলেন, আস বিন ওয়াইল সাহমী তার তরফ হতে ১০০টি ক্রীতদাস মুক্ত করার অসিয়ত ক’রে মারা যায়। সুতরাং তার ছোট ছেলে হিশাম ৫০টি দাস মুক্ত করে। অতঃপর তার বড় ছেলে আমর বাকী ৫০টি দাস মুক্ত করার ইচ্ছা করলে বললেন, ‘(বাপ তো কাফের অবস্থায় মারা গেছে) তাই আমি এ কাজ আল্লাহর রসূল ﷺ-কে জিজ্ঞাসা না ক’রে করব না।’ সুতরাং তিনি নবী ﷺ-এর নিকট এসে ঘটনা খুলে বলে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কি বাকী ৫০টি দাস তার তরফ থেকে মুক্ত করব?” উত্তরে আল্লাহর রসূল ﷺ বললেন, “সে যদি মুসলিম হতো এবং তোমরা তার তরফ থেকে দাস মুক্ত করতে, অথবা সদকাহ করতে অথবা হজ্জ করতে তাহলে তার সওয়াব তার নিকট পৌঁছত।” (আবু দাউদ ২৮৮৩নং, বাইহাকী ৬/ ২৭৯, আহমাদ ৬৭০৪নং) ৪। তাদের কোন অসিয়ত থাকলে তা পালন করুন। ৫। তাদের কোন বন্ধু থাকলে তার খাতির করুন। ৬। তাদের সম্পর্কের জেরে সকল আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখুন। আর কোন বিদআতী কাজ করবেন না বা বিদআতী অসিয়ত পালন করবেন না। যেমন চালসে-চাহারম, ফাতিহা-খানী, কুল-খানী, কুরআন-খানী, মৌলুদ-পাঠ ইত্যাদি করবেন না। কোন ভোজবাজি বা দুআর অনুষ্ঠান করবেন না। জেনে রাখবেন, যা আপনি তাদের আত্মার কামনার উদ্দেশ্যে আল্লাহর জন্য করবেন, তাই তাদের উপকারে আসবে। পক্ষান্তরে যা নিজের স্বার্থের জন্য করবেন, সুনাম নেওয়ার জন্য করবেন অথবা বদনাম থেকে বাঁচার জন্য করবেন, তা কোন উপকার দেবে না। সবচেয়ে বেশি উপকারী হিসাবে আপনি প্রত্যহ প্রত্যেক ফরয নামাযের শেষাংশে তাদের জন্য দুআ করুন। তাহলেই তাদের হক আদায় করতে পারবেন।