কথোপকথনের বৈধাবৈধ
‘পোড়া কপাল’, ‘কপালে ছিল’, ‘কপালের লেখা’ বা ‘কপাল খারাপ’ ইত্যাদি বলা বৈধ কি? ভাগ্য কি কপালে লেখা হয়?
০ বার পড়া হয়েছে৩ মিনিটে পড়ুন
উত্তরদাতা আলেম
প্রত্যেকের ভাগ্য লেখা আছে ‘লওহে মাহফূয’-এ। সেটাই হল মূল ভাগ্যালিপি। মহান আল্লাহ বলেন, {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ} (سورة الحديد ٢٢) অর্থাৎ, পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে, আমার তা সংঘটিত করার পূর্বেই তা লিপিবদ্ধ থাকে, নিশ্চয় আল্লাহর পক্ষে তা খুবই সহজ। (হাদীদঃ ২২) কিন্তু জীবনের তফসীলী ভাগ্য লেখা হয় মায়ের পেটে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “তোমাদের এক জনের সৃষ্টির উপাদান মায়ের গর্ভে চল্লিশ দিন যাবৎ বীর্যের আকারে থাকে। অতঃপর তা অনুরূপভাবে চল্লিশ দিনে জমাটবদ্ধ রক্তপিণ্ডের রূপ নেয়। পুনরায় তদ্রূপ চল্লিশ দিনে গোশতের টুকরায় রূপান্তরিত হয়। অতঃপর তার নিকট ফিরিশ্তা পাঠানো হয়। সুতরাং তার মাঝে ‘রুহ’ স্থাপন করা হয় এবং চারটি কথা লেখার আদেশ দেওয়া হয়; তার রুযী, মৃত্যু, আমল এবং পাপিষ্ঠ না পুণ্যবান হবে, তা লেখা হয়। সেই সত্তার শপথ, যিনি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই! (জন্মের পর) তোমাদের এক ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের মত কাজ-কর্ম করতে থাকে এবং তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত তফাৎ থেকে যায়। এমতাবস্থায় তার (ভাগ্যের) লিখন এগিয়ে আসে এবং সে জাহান্নামীদের মত আমল করতে লাগে; ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আর তোমাদের অন্য এক ব্যক্তি প্রথমে জাহান্নামীদের মত আমল করে এবং তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত তফাৎ থাকে। এমতাবস্থায় তার (ভাগ্যের) লিখন এগিয়ে আসে। তখন সে জান্নাতীদের মত ক্রিয়াকর্ম আরম্ভ করে; পরিশেষে সে জান্নাতে প্রবেশ করে।” (বুখারী-মুসলিম) কিন্তু লেখা হয় কোথায়? সে কথা অন্য বর্ণনায় পরিষ্কার করা হয়েছে। মহানবী ﷺ বলেছেন, (إِذَا أَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَخْلُقَ نَسْمَةً قَالَ مَلِكُ الْأَرْحَامِ مَعْرُضًا : يَا رَبِّ أَذْكَرُ أَمْ أُنْثَى ؟ فَيَقْضِي اللَّهُ أَمْرَهُ ، ثُمَّ يَقُولُ : يَا رَبِّ أَشَقِي أَمْ سَعِيد ؟ فَيَقْضِي اللَّهُ أَمْرَهُ ، ثُمَّ يَكْتُبُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ مَا هُوَ لَاقٍ حَتَّى النُّكْبَةِ يَنْكِحُهَا) . অর্থাৎ, আল্লাহ যখন কোন (মানব) প্রাণ সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেন, তখন মাতৃগর্ভে নিযুক্ত ফিরিশ্তা আরজ করেন, ‘হে প্রভু! পুরুষ, না স্ত্রী?’ সুতরাং আল্লাহ নিজ ফায়সালা বহাল করেন। অতঃপর বলেন, ‘হে প্রভু! দুর্ভাগ্যবান, না সৌভাগ্যবান?’ সুতরাং আল্লাহ নিজ ফায়সালা বহাল করেন। অতঃপর তার দুই চোখের মাঝখানে তা লিখে দেন, যার সে সম্মুখীন হবে; এমনকি সেই মুসীবতও লিখে দেওয়া হয়, যা তাকে ক্লিষ্ট করবে। (ইবনে হিব্বান ৬১৭৮, আবু ইয়া’লা ৫৭৭৫নং, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৭/১১২) বলা বাহুল্য, দুই চোখের মাঝখানে বা কপালে ভাগ্য লেখার কথা হাদীসে রয়েছে। তাই ‘কপালে ছিল’, ‘কপালের লেখা’ বা ‘কপাল খারাপ’ ইত্যাদি বলা দূষণীয় নয়। তবে ভাগ্য বা কপালকে গালি দেওয়া বৈধ নয়। যেমন ‘পোড়া কপাল, নিষ্ঠুর নিয়তি’ ইত্যাদি বলা বৈধ নয়।