কথোপকথনের বৈধাবৈধ
উপহাসছলে মিথ্যা বলা কি বৈধ?
০ বার পড়া হয়েছে২ মিনিটে পড়ুন
উত্তরদাতা আলেম
মিথ্যা বলা বৈধ নয়। মিথ্যা বললে কাবীরা গোনাহ হয়। রসূল ﷺ বলেছেন, “নিশ্চয় সত্যবাদিতা পুণ্যের পথ দেখায়। আর পুণ্য জন্মাতের দিকে পথ নির্দেশনা করে। আর মানুষ সত্য কথা বলতে থাকে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর নিকট তাকে ‘মহাসত্যবাদী’ রূপে লিপিবদ্ধ করা হয়। আর নিঃসন্দেহে মিথ্যাবাদিতা নির্লজ্জতা ও পাপাচারের দিকে নিয়ে যায়। আর পাপাচার জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর নিকট তাকে ‘মহামিথ্যাবাদী’ রূপে লিপিবদ্ধ করা হয়। (বুখারী ও মুসলিম) উপহাসছলেও মিথ্যা বলা বৈধ নয়। আল্লাহর রসূল ﷺ বলেছেন, “আমি সেই ব্যক্তির জন্য একটি জন্মাতের পার্শ্বদেশে, একটি জন্মাতের মধ্যভাগে এবং অপর আর একটি জন্মাতের উপরিভাগে গৃহের জামিন হচ্ছি; যে ব্যক্তি সত্যাত্মী হওয়া সত্ত্বেও তর্ক পরিহার করে, উপহাসছলে হলেও মিথ্যা কথা বর্ণন করে, আর নিজ চরিত্রকে সুন্দর করে।” (বাযহার, আব্বারানী, সহীহ তারগীব ১৩৪নং) কাউকে হাসাবার উদ্দেশ্যেও কৌতুক ক’রে মিথ্যা বলা বৈধ নয়। মহানবী ﷺ বলেছেন, “সর্বনাশ সেই ব্যক্তির, যে লোককে হাসাবার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলে। তার জন্য সর্বনাশ, তার জন্য সর্বনাশ।” (সহীহুল জামে’ ৭০১৩নং) শিশুদেরকে ভোলাবার জন্যও মিথ্যা বলা বৈধ নয়। আব্দুল্লাহ বিন আমের ؓ বলেন, ‘রসূলুল্লাহ ﷺ একদা আমাদের বাড়িতে এলেন। আমি তখন শিশু ছিলাম। এমতাবস্থায় আমি খেলার জন্য বাড়ির বাইরে বের হতে যাচ্ছিলাম। তা দেখে আমার মা আমার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আব্দুল্লাহ! (বাইরে যেয়ো না, আমার নিকট) এস, তোমাকে একটি মজা দেব। এ কথা শুনে নবী ﷺ বললেন, “তুমি ওকে কী দেবে ইচ্ছা করেছে?” মা বললেন, ‘খেজুর।’ তখন রসূল ﷺ বললেন, “জেনে রাখ, যদি তুমি ওকে কিছু না দাও, তাহলে তোমার উপর একটি মিথ্যা লেখা হবে।” (আবু দাউদ ৪৯৯১, সিলসিলাহ সহীহাহ ৭৪৮নং) তবে তিন ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মিথ্যা বলা বৈধ। উম্মে কুলসুম বিস্তে উক্ববাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, “ঐ ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মধ্যে সন্তাব স্থাপন করার জন্য (বানিয়ে) ভাল কথা পৌঁছে দেয় অথবা ভাল কথা বলে। (বুখারী ও মুসলিম) মুসলিমের এক বর্ণনায় বর্ণিত আকারে আছে, উম্মে কুলসুম (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ‘আমি নবী ﷺ-কে কেবলমাত্র তিন অবস্থায় মিথ্যা বলার অনুমতি দিতে শুনেছিঃ যুদ্ধের ব্যাপারে, লোকের মধ্যে আপোস-মীমাংসা করার সময় এবং স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের (প্রেম) আলাপ-আলোচনায়।’