ইখলাস ও নিয়ত
এক কর্মচারী বেনামাযী ছিল। মালিক বলল, ‘তুমি নামায পড়লে তোমার বেতন ১০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। তখন থেকে সে নামায পড়া শুরু করল। প্রশ্ন হল, তার নামায কি আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য?
০ বার পড়া হয়েছে২ মিনিটে পড়ুন
উত্তরদাতা আলেম
আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে, অর্থ, গদি, সুনাম, সুবিধা ইত্যাদি উপার্জনের উদ্দেশ্যে কোন ইবাদত করলে তা মহান আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রসূল ﷺ বলেছেন, “যাবতীয় কার্য নিয়ত বা সংকল্পের উপর নির্ভরশীল। আর মানুষের জন্য তাই প্রাপ্য হবে, যার সে নিয়ত করবে। অতএব যে ব্যক্তির হিজরত (স্বদেশত্যাগ) আল্লাহর (সন্তোষ লাভের) উদ্দেশ্যে ও তাঁর রসূলের জন্য হবে; তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রসূলের জন্যই হবে। আর যে ব্যক্তির হিজরত পার্থিব সম্পদ অর্জন কিংবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যেই হবে, তার হিজরত যে সংকল্প নিয়ে করবে তারই জন্য হবে।” (বুখারী-মুসলিম) আবু মূসা আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স আশআরী ৷ বলেন, আল্লাহর রসূল ﷺ-কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, যে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, অন্ধ পক্ষপাতিত্বের জন্য যুদ্ধ করে এবং লোক প্রদর্শনের জন্য (সুনাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে) যুদ্ধ করে, এর কোন যুদ্ধটি আল্লাহর পথে হবে? আল্লাহর রসূল ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর কালেমাকে উচ্চ করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে, একমাত্র তারই যুদ্ধ আল্লাহর পথে হয়।” (বুখারী ও মুসলিম) রাসূলুল্লাহ ৷ বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, “আমি সমস্ত অংশীদারদের চাইতে অংশীদারি (শিক) থেকে অধিক অমুখাপেক্ষী। কেউ যদি এমন কাজ করে, যাতে সে আমার সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার স্থাপন করে, তাহলে আমি তাকে তার অংশীদারি (শিক) সহ বর্জন করি।” (অর্থাৎ তার আমলই নষ্ট ক’রে দিই।) (মুসলিম) সুতরাং সেই কর্মচারীর উচিত, নিয়ত পাল্টে নিয়ে কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যে নামায পড়া। বেতন সে গ্রহণ করুক, কিন্তু নামায পড়ুক আল্লাহর ভয়ে। উল্লেখ্য যে, অভিভাবকের ভয়ে নামায পড়া, সমাজে দুর্নামের ভয়ে রোযা রাখা, অর্থ লোভে বদল হস্ত কলা, চাকরির আশায় দ্বীনী ইলম অর্জন করা, বেতনের লোভে ইমামতি করা, খ্যাতির লোভে দান করা, নাম ও অর্থের লোভে দ্বীনী দাওয়াতের কাজ করা ইত্যাদি ‘রিয়া’র বিধান একই।